সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

ছুতমার্গ- ঐক্যবোধের পরিপন্থী।

-->
-->
আমাদের সকলের মাঝেই একটা প্রশ্ন, “হিন্দুদের ঐক্য কিভাবে সম্ভব?”
উত্তর হিসেবে স্বামী বিবেকানন্দ একটা কথা সবার সামনে তুলে ধরছি। তিনি বলেছিলেন, “হিন্দুধর্ম জ্ঞানমার্গেও নয়; বিচারমার্গেও নয়; বরং ছুতমার্গে। আমার ছুঁয়ো না-আমায় ছুঁয়ো না। ছুতমার্গ একপ্রকার মানসিক ব্যাধি। ছুতমার্গ মোটেও হিন্দুর ধর্ম নয়। আমাদের কোন শাস্ত্রেই তার কোন উল্লেখ নেই। এটা একটা কুসংস্কার, যা আমাদের কর্মশক্তিকে সকল ক্ষেত্রে ব্যাহত করছে। বস্তুত, ধর্ম এখন ঢুকেছে আমাদের রন্ধনপাত্রে।” ছুতমার্গ- ঐক্যবোধের পরিপন্থী।

এই মানসিক ব্যাধি যতদিন আমাদের মধ্য থেকে না যাবে, ততদিন আমাদের ঐক্য সম্ভব নয়। আজ “জাত গেল, জাত গেল”, ধর্ম গেল, ধর্ম গেল”- এই শব্দ গুলোর জন্যই আমাদের ধর্মে এক দিকে তৈরি হয়েছে উঁচু সমাজ, অন্য দিকে নিচু সমাজ। আর, এই দুর্বল দিক দিয়েই অন্য ধর্মের প্রচার আমাদের বার বার আঘাত করছে এবং ধ্বংস লীলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই, যতদিন হিন্দুদের মাঝ থাকে জাত-পাত না যাবে, ততদিন আর যাই হোক না কেন,  ঐক্যতা সম্ভব নয়। 


জয় রায়"
 
0 comments

বেদ বেদ বেদ বেদ বেদ বেদ বেদ।


---------------------------------------------------------------------------------------------------
আসুন সবায় নিজে পরি অন্যকে ও পড়তে উৎসাহিত করি। এতদিন যা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রেখেছিলেন জ্ঞান পাপীরা কঠিন বলে, আমরা তা চর্চা করে প্রমান করেদিব সত্যকে চেপে রাখা যায় না। আপনারা আপমাকে আশীর্বাদ করবেন যেন আমি এই কাজে সফল হতে পারি।
----------------------------------------------------------------------------------------------------সংহিতা : প্রথম মন্ডল : ১৮

সুক্ত।। ব্রহ্মণ স্পতি প্রভৃতি দেবতা। কর্ণের পুত্র মেধাতিথি ঋষি। গায়ত্রী ছন্দ।
অনুবাদঃ
১/- হে ব্রহ্মনস্পতি (১) ! সোম রস দাতাকে (অর্থাৎ আমাকে) উশিজ পুত্র কক্ষীবানের (২) ন্যায় দেবগণের নিকট প্রসিধ কর।
২/- যিনি ধনবান, রোগ – হন্তা, ধনদাতা, পুষ্টিবর্ধক ও শীঘ্র ফলপ্রদ, সে ব্রাহ্মণ স্পতি আমাদের অনুগ্রহ করুন।
৩/- উপদ্রপ কারী মানুষের হিংসা যুক্ত নিন্দা আমাদের সেন স্পর্শ না করে, হে ব্রহ্মণস্পতি! আমাদের রক্ষা কর।
৪/- যে মানুষ্যকে ইন্দ্র ও ব্রাহ্মণস্পতি ও সোম বর্ধন করেন সে বীর বিনাশ প্রাপ্ত হয় না।
৫/- হি ব্রাহ্মানস্পতি! তুমি ও সোম ও ইন্দ্র ও দক্ষিণা (৩) সে মানুষ কে পাপ হতে রক্ষা কর।
৬/- বিস্ময়কর, ইন্দ্রপ্রিয় কমনীয় ও ধনদাতা সদসম্পতির নিকট মেধাশক্তি জাঞ্চা করছি।
৭/- যারা প্রসাধ ব্যতীত জ্ঞানমানেরও যজ্ঞ সিদ্ধ হয় না। সে সদসম্পত্তি আমাদের মানসিক প্রবৃত্তি সমূহের যোগ ব্যাপে আছেন।
৮/- পরে তিনি হব্য-সম্পাদক যজমানকে বর্ধন করেন, যজ্ঞ সম্যকরূপে সমাপন করেন, (তাঁর প্রসাদে) আমাদের স্তুতি দেবগণকে প্রাপ্ত হয়।
৯/- বিক্রম শালী সুবিখ্যাত আকাসের ন্যায় প্রাপ্ত তেজা নরশংসকে (৪) আমি দেখছি।

টিকাঃ
(১) - মূলে 'ব্রহ্মাণঃ' আছে। ঋগ্বেদে 'ব্রহ্ম' অর্থে স্তুতি বা প্রার্থনা এবং 'ব্রহ্ম' অর্থে স্তুতিকারী পুরোহিত। সায়ণ এ অর্থ করেছেন, এবং ইউরোপীয় পন্ডিতগণও ঐ অর্থ করেন। পন্ডিতবর রোথ 'ব্রহ্ম' শব্দের সাতটি অর্থ করেছেন, যথা - প্রার্থনা, মন্ত্র, পবিত্রবাক্য, জ্ঞান, সততা, পরমাত্মা, এবং পুরোহিত। মক্ষমূলর বিবেচনা করেন বৃহ ধাতুর একটি অর্থ বর্ধন, আর একটি অর্থ বাক্য এবং ঐ ধাতু হতে 'বৃহস্পতি' ও 'ব্রহ্মণস্পতি' উৎপন্ন হয়েছে। Origin and Growth of Religion (1882) PP. 366, 367 note. ব্রহ্মণস্পতি বা বৃহস্পতি স্তুতিদেব।

(২) মহাভারতের মৎস্য পুরাণে ও বায়ু পুরাণে কক্ষীবানের গল্প আছে। ঋকবেদে কক্ষীবান একজন ঋষি, এ মণ্ডলের ১১৫ ও ১২৫ সুক্ত তাঁর রচিত। কলিঙ্গ রাজ সন্তান আকাঙ্ক্ষায় তাঁর রানীকে দীর্ঘতমা মুনির সঙ্গে সহবাসের আদেশ দিয়েছিলেন। রানী সয়ং না গিয়ে দাসী উশিজকে পাঠিয়ে দিলেন। মুনি টা বুঝতে পারলেন, এবং উশিজের দ্বারা কক্ষীবান নামক সন্তান উৎপাদন করলেন। এ গল্পটি আধুনিক। প্রকৃত কক্ষীবান একজন বৈদিক ঋষি। এ ঋকবেদের প্রথম মণ্ডলের ১৫৫ হতে ১২৫ সূক্তির ঋষি কক্ষীবান।

(৩) যজ্ঞান্তে দান ই দক্ষিণা, এখানে দিবী বলে আহূত করেছেন।

(৪) অগ্নির নাম বিশেষ।


এডমিন (সনাতন)
0 comments

হতাশা কারণ ও প্রতিকার (পর্ব ০১)




হতাশা হলো সমস্ত মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত এবং মারাত্বক। তাই এই সমস্যা এবং এর সমাধান সর্ম্পকে জানা প্রতিটি ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ। কারণ এটি আমাদের নিজের বা আমাদের প্রিয় ব্যক্তির জীবনে আসতে পারে।

কিছু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানঃ ---
১) পৃথিবীর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ মানসিক বির্পযয়ে ভূগছে এবং এর সর্ব প্রধান কারন হল হতাশা। (WHO 2001)
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯ কোটি মানুষ হতাশায় ভূগছে।
২) প্রতি ৫ জন বয়স্কদের মধ্যে ১ জনের হতাশাজনিত সমস্যা রয়েছে।
৩) প্রতি ৮ জন তরুনের মধ্যে ১ জনের হতাশাজনিত সমস্যা রয়েছে।
৪) ১-২ কোটি মানুষ প্রতি বছর আত্মহত্যার চেষ্টা করে যাদের মধ্যে ১০ লাখই সফল হয় এবং এর ৪ ভাগের ৩ অংশ ঘটে হতাশার কারনে ।
৫) ১৯৯০-২০০৩ পর্যন্ত বছরগুলোতে যুব সমাজে আত্মহত্যা প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে । যাদের বয়স মাত্র ১৫-২৫ এবং এর ২০ ভাগ ঘটে হতাশার কারনে ।
৬) হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিদের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৪৩০ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার ব্যয় হয় ।

হতাশার সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উপর্সগঃ ---
অক্সফোর্ড অভিধান অনুসারে, “হতাশা হল চরম বিষন্নতা বা অবসাদগ্রস্থ জৈবিক অবস্থা যার কিছু বৈশিষ্ট্য হল অসহায়ত্ব, অতৃপ্তি, কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন : জীবনি শক্তি, পৌরুষ এবং তেজ হ্রাশ পাওয়া ।
হতাশার কিছু উপর্সগ হল উদ্বিগ্নতা, অপূর্ণতা বা শূন্যতায় ভোগা, অসহায়ত্ব, বিষাদ ইত্যাদি । হতাশা, খাওয়া ও ঘুমানোর অভ্যাসকেও অনিয়মিত, বিশৃঙ্খল করে দেয় । ফলশ্রুতিতে, হতাশাগ্রস্থ মানুষর হয় ওজন বেড়ে যায় না হয় কমে যায় এবং হয় তারা অতিরিক্ত ঘুমায় না হয় মোটেই ঘুমায় না । কেউ যখন নিজেকে দোষী এবং মূল্যহীন মনে করে জীবনের কোনকিছুতেই স্বাদ পায় না ও আত্মহত্যার পরিকল্পনায় রত হয় । তখন তাকে ইউনিপোলার (unipolar) নামক হতাশার শিকার বলে গন্য করা হয়।
কেউ যখন চরম অসহায়ত্বে বিষাদগ্রস্থ হয় এবং বেশিরভাগ সময়ে প্রলাপ বকতে থাকে তখন তাকে বাইপোলার (Bipolar) নামক হতাশার শিকার বলে গন্য করা হয় । এ ধরনের হতাশার প্রধান উপর্সগ হল যে ব্যাক্তি অত্যন্ত দুঃখেও হাসতে থাকে এবং কৃত্রিমভাবে আনন্দ প্রকাশ করে, প্রলাপ বকে । এর সাথে আছে ক্রোধপ্রবনতা, অনিদ্রা, নেশাসক্তি, ভুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা, অত্যাধিক যৌনবাসনা, অত্যাধিক শক্তি ও অস্বাভাবিক আচরন ।

বৈজ্ঞানিক প্রগতি-সমাধান নয়ঃ ---
গত কয়েক দশক ধরে বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে, যা আরাম আয়েশের, সুখ-স্বাচ্ছন্দের সর্বোচ্চ বস্তু সরবরাহ করছে| কিন্তু মানুষের গুণের কোন পরিবর্তন খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্ট্যসাধ্য।

টেলিফোনে আগে ডায়েল করে যোগাযোগ করতে হতো, কিন্ত এখন তা ইন্টারনেট টাচস্ক্রিন মুঠোফোনে পরিনত হয়েছে । পঞ্চাশ এর দশকে টেলিভিশনের কন্ট্রোলের উদ্ভাবন ছিল এক মহান অর্জন । এই রিমোট কন্ট্রোলের মাত্র দুটো বাটন ছিল; একটা চ্যালেন পাল্টানোর জন্য ও অপরটা কাজ করার জন্য এবং টিভি সেটকে সঠক স্থানে বসাতে হত । হয়ত দেখা যেত অর্ধেকের বেশি সময় টা কাজ করত না । কিন্ত বর্তমানে ছোট একটা রিমোট কন্ট্রোল দিয়েই কমপক্ষে দুইশটার মত চ্যালেন অনায়াসে ঘুরে আসা যায় । চিকিৎসা প্রযুক্তি বর্তমানে এতই উন্নত যে ক্যান্স্যার, লেপ্রসির মত মারাত্বক ব্যধিও এখন উপশমযোগ্য । সড়ক এবং আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত । এমনও দিন ছিল যখন সেনাবাহিনীর জেনারেলদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের সম্মুখে অবস্থান করতে হত । কিন্ত আজ সেনাবাহিনীর এমন অবিশ্বাস্য, বৈজ্ঞানিক, উপগ্রহ-নিয়ন্তিত অস্ত্র আছে যে তারা এক দেশ থেকে অন্যদেশে যুদ্ধ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রন করতে পারে।
এখন একটা প্রশ্ন থেকে যায়, “আদৌ কি আনুপাতিক হারে জীবন যাত্রার গুণগত মান বেড়েছে ?” এর উত্তর হল একটা মর্মান্তিক ‘না’ ।

মাদকতা, ধর্ষন, অপরাধ-প্রবনতাও সমান তালেই বেড়েই চলছে । আমেরিকার সর্ববৃহৎ ব্যয়খাত হল অপরাধ দমন কার্যক্রমগুলো । ওখানে ৫০ শতাংশেরও অধিক কয়েদী বড় বড় অপরাধ, সন্ত্রাসের সাথে জড়িত এবং সাজা প্রাপ্ত। কিন্তু এমন এক সময় ছিল যখন মানুষ তাদের দরজা খোলা রেখেই বাইরে যেত এবং নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা মুক্ত থাকত । বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা কখনও শোনা যেত না এবং এরকমের ঘটনা ঘটলে তা গনমাধ্যমগুলোতে সংবাদ আকারে ছড়িয়ে পড়ত । কিন্ত এখন যুক্তরাষ্টের প্রায় ৭০ শতাংশের মত দম্পতি ৩ বছরেই বিচ্ছেদ ঘটায় । চিকিৎসাক্ষেত্রে সবরকম উন্নতি সত্ত্বেও মানুষের গড় আয়ূ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে । ভ্রুণ হত্যা একটি নিয়মে পরিনত হয়েছে । কিছু কিছু দেশে, গড়ে ৩ টি শিশুর ১টিকে মাতৃগর্ভেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয় । শুধু কিছু সংখ্যক মানুষের বিলাসিতার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির সম্মুখিন । যার ফলে ওজন স্তর ধ্বংস হচ্ছে এবং কোটি কোটি মানুষের জীবন ঝুকিপূর্ণ হতে যাচ্ছে ।

যখন প্রভুপাদ (ইসকন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য) বার্কলির (Barkley) ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যান (যা বিশ্বের অন্যতম সর্ব্বোশ্রেষ্ঠ শিক্ষালয়) তিনি সেখানে একটা টাওয়ার দেখতে পান, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ, হতাশা, একাকিত্বের কারনে আত্মহত্যা করে । এইভাবেই বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সকল প্রকার প্রগতি সত্বেও উদ্বেগ এবং হতাশা আমাদের নিত্য সঙ্গী । সকল রাষ্ট্রই আমেরিকাকে অনুসরণ করার প্রয়াস চালাচ্ছে । কারন, এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ধনী রাষ্ট । যদি আমরা একটি পয়সা নিই, তাহলে তাতে দুটো পিঠ দেখতে পাব যার একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি বিবেচনা করতে পারব না । তেমনি বিজ্ঞানের এবং প্রযুক্তির ত্রুটি থেকে মুক্ত নয়, এটি আমাদের চেতনাকে শূন্যতা, মেকি এবং কৃত্রিমতায় পরিপূর্ণ করে দিচ্ছে এবং ভয়ানক দুর্ভোগের দিকে চালিত করছে ।

হতশা-কারনসমূহ:
এখন মানুষের মন উগ্র পারিপার্শ্বিক বস্তুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মানুষকে এখন গভীর চিন্তা ও মননের জন্য অবকাশ দেওয়া হয় না । জীবনযাত্রা এত গতিসম্পন্ন হয়েছে যে সবকিছুই যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে ।
উদাহরন: আগেরকার দিনে মানুষ চলচ্চিত্র দেখতে যেত এবং অভিনেতা এবং অভনেত্রীদের প্রশংসা করত । কিন্তু বর্তমানে চলচ্চিত্রগুলো এতই যান্ত্রিক হয়েছে যে মানুষ তাতে অভিনয় নয়, প্রযুক্তির কারুকাজগুলোই দেখে (বিভিন্ন 3D ইফেক্ট, এনিমেশন ইত্যাদি)।
টেলিভিশনে এখন একদেশে বসে অন্যদেশের অনুষ্ঠান উপভোগ করা যায় । এই ধরনের অনুষ্ঠান এবং খবরাখবর মানুষের মনকে বিক্ষিপ্ত করছে ।
এই ধরনের যান্ত্রিক প্রভাবের ফলে, আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা নিতান্তই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে । যার ফল প্রবল নীতিহীনতা, হতাশা ও একাকিত্ত্বতা এবং এগুলো মনের স্বাভাবিক কার্যকলাপে ভীষনভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করে । এ অবস্থায় কেউ যখন অন্য কারো সাথে ব্যক্তিক সম্পর্ক গড়তে চায় তখন সে ভয়ানক হতাশার মুখোমুখি হয় । কারণ প্রবল যান্ত্রিকতার দরুন জীবন হয়ে দাঁড়ায় অর্থহীন ও শূন্য । সেই বিরক্ত মনের ফল মানসিক বিশৃঙ্খলা, অপরাধ, যুদ্ধ ও গণহত্যা ।

উদাহরণ ১ঃ চিকিৎসাবিদ্যায় সাইকো নিউরো ইমিউনোলজি (Psycho Neuro immunology) নামে একটি শাখা আছে, যা শরীরের ওপর মনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে । মস্তিস্কের নিউরো ট্রান্সমিটারগুলো (Neuro Transmitter) মানসিক চাপ, অতৃপ্তি ও শূন্যতার ফলে শরীরের বিভিন্ন কোষে বার্তা প্রেরণ করে যা পরবর্তীতে মারাত্মক ব্যধি ঘটায় । ১৯৯৫ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০০ জন চিকিৎসকদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । সেখানে “সুস্থতার জন্য পারমার্থিকতা” বিষয়ক একটি সেমিনারে শারীরিক সুস্থতার জন্য মনের সমস্যার সমাধানই একমাত্র উপায় হিসেবে ফুটে উঠে ।

উদাহরণ ২ঃ ধনাঢ্য এবং উন্নত দেশগুলোতে মানুষের মন, মাঝে মাঝে এতই বিরক্ত হয় যে তারা শিশুদেরকে অপহরন ও নির্যাতন করার পর নির্মমভাবে হত্যা করে । ওখানে তাদেরকে ডাকা হয় Serial Killer, এবং এটা এখন একটা রীতিতে (Fashion) পরিণত হয়েছে । এমন কি এখন শিশুদেরকে দেখা যায় তারা তাদের শিক্ষকদের হ্ত্যা করতে অস্ত্র নিয়ে ক্লাসে ঢুকছে ।

উদাহরণ ৩ঃ একটি গবেষনায় এই রোগে আক্রান্ত কিছু রোগীকে দুইটি দলে ভাগ করা হয় । এক দলকে ঔষধি গুণহীন কিছু পিল (Pill) সেবন করতে দেওয় হয় এবং অপরটিকে কোন পিলও দেওয়া হয় না । দেখা যায় যাদেরকে পিল দেওয়া হয়েছিল তাদের অধিকাংশ দ্রুত আরোগ্য লাভ করেছে যদিও পিলগুলো ছিল ঔষধি গুণহীন । কারণ, তাদের বিশ্বাস ছিল যে পিলগুলো তাদেরকে সুস্থ করে তুলবে ।
তাই, দেখা যায় যখন একজন রোগী প্রচন্ড মানসিক চাপ ও হতাশাগ্রস্থ থাকে তখন সবচেয়ে ভালো ওষুধও রোগের নিরাময় ঘটাতে ব্যর্থ হয় ।
ভগবদগীতায় আমাদের মনের সমস্ত সমস্যার মূল কারণ ও তার সমাধান ব্যাখ্যা করা হয়েছে । পরবর্তী পর্বে তা আলোচনা করা হবে ।

(শ্রীমৎ রাধানাথ স্বামী মহারাজের প্রবচন হতে সংক
Shusanta Banda
লিত বাংলা অনুবাদ) (চলবে......)
0 comments

বেদ বেদ বেদ বেদ বেদ বেদ বেদ।


---------------------------------------------------------------------------------------------------
আসুন সবায় নিজে পরি অন্যকে ও পড়তে উৎসাহিত করি। এতদিন যা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রেখেছিলেন জ্ঞান পাপীরা কঠিন বলে, আমরা তা চর্চা করে প্রমান করেদিব সত্যকে চেপে রাখা যায় না। আপনারা আপমাকে আশীর্বাদ করবেন যেন আমি এই কাজে সফল হতে পারি।
-------------------------------------------------------------------------------------------
সংহিতা : প্রথম মন্ডল : ১৯

সুক্ত।। অগ্নি ও মরুৎ দেবতা। কর্ণের পুত্র মেধাতিথি ঋষি। গায়ত্রী ছন্দ।
অনুবাদঃ
১/ - হে অগ্নি! এই চারু যজ্ঞে সোম পানার্থে (১) তুমি আহূত হচ্ছ, অতএব মরুৎগণের সাথে এসো।
২/- হে অগ্নি! তুমি মহৎ তোমার যজ্ঞ উল্লঙ্ঘন করতে পারে এরূপ উৎকৃষ্টতর দেব বা মানুষ নেই, মরুৎ গনের সাথে এস।
৩/- হে অগ্নি! যে দ্যুতিমান ও হিংসারহিত মরুৎগণ মহাবৃষ্টি বর্ষণ করতে জানেন, সে মরুৎ গনের সঙ্গে এস।
৪/- যে উগ্র অধৃস্টবলসম্পন্ন মরুৎগণ জল বর্ষণ করেছিলেন (২) হে অগ্নি! সে মরুৎগনের সাথে এস।
৫/- যারা শোভামান উগ্ররূপধারী, প্রভূত বলসম্পন্ন ও শত্রুবিনাশক, হে অগ্নি! সেই মরুৎ গনের সাথে এস।
৬/- আকাশের উপরি দীপ্যমান, স্বর্গে যে দীপ্যমান মরুতেরা বাস করেন, হে অগ্নি! মরুৎগনের সাথে এস।
৭/- যারা মেঘ সমূহকে সঞ্চালন করেন, জলরাশি সমুদ্রকে উৎক্ষিপ্ত করেন, হে অগ্নি! মরুৎ গনের সাথে এস।
৮/- যারা সূর্য কিরনের সাথে (সমগ্র আকাশ) ব্যপ্ত হন, যারা বলদ্বারা সমুদ্রকে উৎক্ষিপ্ত করেন, হে অগ্নি! সে মরুৎগণের সাথে এস।
৯/- হে অগ্নি! তোমার প্রথম পানার্থে সোম মধু প্রদান করেছি, হে অগ্নি! মরুৎগনের সাথে এস।

টিকাঃ
১/- মূলে “গোপীথায়” আছে। “সোমপানায়”। সায়ণ। কিন্তু মোক্ষমুলয় অনুবাদ করেছেন “For a draught of milk.”
২/- মূলে অর্কং আনৃচুঃ আছে। বর্ষণেন সম্পাদিতবহঃ সায়ণ। কিন্তু মখমূল অনুবাদ করেছেন “Who sign their song”

এডমিন (সনাতন)
0 comments

আমাদের জীবন সত্যকে জানবার জন্য


"আমাদের জীবন সত্যকে জানবার জন্য, ইন্দ্রিয় তৃপ্তির জন্য নয়; ইন্দ্রিয়তৃপ্তি পশুরা করুক, আমরা কখনও তাদের মত ভোগ করতে পারি না। মানুষ মননশীল; মৃত্যূকে সে যতদিন না জয় করে, যতদিন না সে আলোকের সন্ধান পায়, ততদিন সে সংগ্রাম করবেই। নিষ্ফল বৃথা কথাবার্তায় সে নিজের শক্তিক্ষয় করবে না। সামাজিকতা ও লোকমতের পূজাই হচ্ছে পৌত্তলিকতা। আত্মা---লিঙ্গহীন, জাতিহীন, দেশহীন ও কালহীন । সর্বদা নিজের স্বরুপ চিন্তা কর। কুসংস্কারের পারে যাও। ক্রমাগত 'আমি ছোট, আমি ছোট'--এই ভেবে নিজেকে ছোট করে ফেলো না; যতদিন না ব্রহ্মের সঙ্গে অভেদজ্ঞান ( অপরোক্ষানুভূতি) হচ্ছে, ততদিন দিনরাত নিজেকে বলো--তোমার স্বরুপের কথা। ইন্দ্রিয়ের সীমা ছাড়িয়ে যেতে হবে, বুদ্ধিকেও অতিক্রম করতে হবে; আর এ শক্তি আমাদের কাছে আছে "

--স্বামী বিবেকানন্দ।
written by:  Bijoy Narendranath
 
0 comments

শঙ্করাচার্য্যের অদ্বৈতবাদ



আমরা জানি যে, প্রাচীন উপনিষদগুলিকেই ভিত্তি করে বেদান্ত দর্শন গড়ে উঠেছে | যেখানে, মুখ্যতঃ তিনটি মতবাদ প্রচলিত – ১) শঙ্করাচার্য্যের অদ্বৈতবাদ ২) রামানুজাচার্য্যের বিশিষ্ট অদ্বৈতবাদ এবং ৩) মাধবাচার্য্যের দ্বৈতবাদ।




আজ আমি সবার সামনে তুলে ধরবো “শঙ্করাচার্য্যের অদ্বৈতবাদ”। মূলত, শঙ্করাচার্য্য এই বিশ্বসত্তাকে অবিভাজ্য এবং এক কল্পনা করেছেন বলেই তাঁর মতবাদকে অদ্বৈতবাদ বলা হয় | তিনি শিক্ষা দিলেন – ব্রহ্ম সত্য জগন্মিথ্যা জীবো ব্রহ্মৈব নাপরঃ – অর্থাৎ ব্রহ্ম সত্য, এই বিশ্ব মিথ্যা এবং জীবাত্মা ও ব্রহ্ম এক এবং অভিন্ন | এই যে জগৎ প্রত্যক্ষ হচ্ছে যা পরিবর্তনশীল এবং যা নাম ও রূপ এই দুয়ের সমন্বয়ে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা ভ্রম মাত্র | এই ভ্রম ব্রহ্মের মায়াশক্তির প্রভাব | অর্থাৎ আমাদের এই ভ্রম বা ভুলের কারণ হল মায়া | এই মায়া তত্ত্বও অদ্বৈতবাদের একটি অবিভাজ্য অংশ | এইজন্য এই মতবাদকে মায়াবাদ নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে | শঙ্করাচার্য্যের মতে ব্রহ্ম সকল অবস্হাতেই একমেবাদ্বিতীয়ম্ অর্থাৎ ব্রহ্ম এক এবং অদ্বিতীয় | কোন অবস্হাতেই তিনি বহু নন | ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যে জগৎ তা ব্রহ্ম হতে পৃথক নয়; তাকে আমরা ভুল করে বহু আকারে দেখি | শঙ্করাচার্য্যের মতে এই যে দেখার ভুল তার কারণই হল মায়া | মায়া শক্তিটির এমনই ক্ষমতা আছে যা আসল জিনিষটির প্রকৃত রূপকে আবৃত করে রাখে এবং তার বিকৃত রূপটিকে প্রকট করে | সুতরাং দৃশ্যমান বিশ্ব ব্রহ্মের উপরিই প্রতিষ্ঠিত, তাই ব্রহ্ম | কিন্তু তাঁকে দেখার ভুলে আমরা বহুরূপে দেখি | শঙ্করাচার্য্য ব্যাখ্যা করেছেন যে ক্ষর হল জীবজগৎ | এর সর্বদা ক্ষরণ বা ক্ষয় হচ্ছে | আর অক্ষর হল কূটস্হ – জগতের সব কিছুর উৎপত্তির বীজ | শঙ্করাচার্য্যের মতে এটিই মায়া | এই কারণ-রূপিণী মায়া আর কার্য্যরূপী জীবজগতের উপরে আছেন উত্তম পুরুষ যিনি পরমাত্মা | শঙ্করাচার্য্যের মতে অজ্ঞানতাই হল দ্বৈতভাবের উৎপাদক | এই দ্বৈতভাব হতেই সকল কর্ম হয় | দ্বৈতভাব নাশ হলেই নিষ্ক্রিয় আত্মা প্রতিষ্ঠিত হয় আর তাহলেই কর্মসন্ন্যাস হয় | তখনই মানুষের আত্মজ্ঞান লাভ হয় |

হরি ૐ তৎসৎ।




Joy Roy
0 comments

মূর্তি পুজা


সামান্য একটা সহজ মৌলিক ও প্রধান গুরুত্বপুর্ন বিষয় অনেকে যদি না জানে তাহলে মনে করতে হবে ডাল ম্যা কুচ কালা নেহি কিউকে ও পুরাই কালা হ্যায় উস ম্যা কই ডালই নেহি। কথাগুলো বললাম মূর্তি পূজা প্রসঙ্গে। এখনও অনেক হিন্দু মনে করে হিন্দুরা মূর্তি পুজা করে এবং মানুষের বানানো মূর্তিকে প্রনাম করে। প্রথমে বলি, আরে বাবা ওটা মূর্তি নয় ওটা হবে বিগ্রহ। নিন্দুকেরা ওটাকে মূর্তি বলে। মেনে নিলাম শিক্ষা ব্যাবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার অপ্রতুলতার কারনেই এটা হয়েছে কিন্তু যা আছে তাও যদি ঠিক ঠাক মতো না পড়ি তাহলেতো আসলেই বিপদ আর সেই বিপদই বর্তমানে মানবধর্ম, অসুস্থ ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা নিজেকে সনাতনী হিন্দু হিসেবে পরিচয় দিতে বিব্রতবোধ করা ইত্যাদি ইত্যাদির জন্ম হয়েছে। আরে বাবু সোনা ক্লাস সেভেনের বইতে ছিল হিন্দুরা মূর্ত পুজা করে কিনা সেখানে স্বামী বিবেকানন্দের একটি কবিতা ও ছিল "পুতুল পূজা করে নাকো রাজা..............." কিন্তু পরীক্ষা এটা আসবে না বলে পড়া হয়নি। এই ফাঁকি ঝুঁকি শিক্ষার কারনে ধর্মীয় বোধই হারিয়ে যাচ্ছে ।আমি যদি প্রশ্নপত্র তৈরী করতাম তাহলে প্রতি বছর কিছু কমন প্রশ্ন করতাম। যাকগে তাতো আর কখনো হবার নয় তাই ক্ষোভের অংশ আপাতত আলুর দমের মত পেটে টুস করে চালিয়ে দিলাম। এবার আসি শাস্ত্র কি বলে। দেব দেবী কি তা এখন আমরা সবাই জানি কিন্তু এর পুজা করা কেন তাও জানিয়েছি তবুও সংক্ষেপে বলি , শ্রীমাদ্ভাগবত গীতায় আছে ত্রিগুনের প্রভাবে মোহগ্রস্থ হয়ে কামনা বাসনায় মশগুল মূর্খরাই দেব দেবীর পুজা করে এবং এই নির্দেশ আমিই(স্রষ্টা) দিয়েছে আর তা করেই একজন সাধক মুক্তি লাভ করবে ধাপে ধাপে। গীতা ও উপনিষদ এই শিক্ষাই দেয় শুধু মাত্র নিরাকার ঈশ্বরের পুজা করো কিন্তু আমাদের মন কেবল চায় আর চায়। এটা চাই ওটা চাই, সুন্দরী বউ চাই আবার উপঢৌকন হিসেবে আবার কয়েক জোড়া শ্যালিকা হলে মন্দ হয় না। গাড়ি চাই, বাড়ি চাই, টাকা চাই, গহনা চাই আর এই আবদারগুলো করি ভগবানের কাছে কিন্তু নিরাকার ইশ্বরকে নিজের আত্মায় আত্মস্থ করতে চাই না তাহলে কিভাবে নিরাকার ব্রক্ষের পূজা করবো। শ্রীমাদ্ভাগবত শিক্ষাতো এটাই নিষ্কাম কর্ম কর। কিন্তু আমরা এমনই কর্ম করি যার ফলে মন আকামে গাঁজন নষ্ট করে ধুতি ভিজিয়ে ফেলি। তাই সাধনার পারম্ভে এই বিগ্রহ পুজা ছাড়া কোন গতি নেই। বিগ্রহ চোখের সামনে রেখে ভক্তরা পূজা করি তখন ঈশ্বরের এই রুপের ছায়া ভক্ত মনের মাঝে নিয়ে প্রার্থনা করে আর মনে মনে তার আকুতি জানায় সে আকুতি মিনতি কিন্তু কাঠ, মাটি দিয়ে গড়া ঐ মূর্তি কাছে ভক্ত করে না। মুর্তির কাছে ভক্ত তার আকূল আবেদন জানায় না। এটাতো আরও কমন ব্যাপার যে পুজা ও প্রার্থনা মনের ভেতরে হয় এটা কোন বাহ্যিক বিষয় না। ঈশ্বর ভক্তের ভক্তিকে দেখেন কেবল সেখানে মন্ত্র সঠিক ভাবে উচ্চারন করতে না পারলে তিনি মাইন্ড করবেন না। তাই কাঠ, মাটি দিয়ে গড়া ঐ বিগ্রহ নিন্দুকের কাছে মূর্তি আর তারা সেটাকে মূর্তি মনে করেই তারা ভাংগে কিন্তু আমাদের মনের ভেতের সেতো ঈশ্বরের রুপ তা কি করে ভাঙ্গবে। ভক্তি বিষয়টা কি সেটা সহজে বোঝানোর চেষ্টা করি। অন্য কেউ নয় , বাবা মা, ভাই বোন কেউ না ধরুন আপনার হাতে আপনার প্রানপ্রিয় প্রেমিকার ছবির আছে। আপনি কি করেন ঐ ছবিটাতে? আমি কিন্তু চুমু খাই(বিদ্যা বাল্যন, শ্রী দেবী, কাজল আরও মেলা লম্বা লিস্ট) এবং আপনি অবশ্যই রোমাঞ্চিত হন কারন তার প্রতি আপনার যে নিখাদ ভালবাসা এটাই তারই নমূনা মাত্র। এখন ভাবুন আপনার প্রেমিকার ছবিতে আপনার সামনে আপনার বন্ধু চুমু খেলো এমনকি অশ্লীল কিছু করে বসল। আপনি কি নিজেকে সংযত রাখতে পারবেন?? কিন্তু আসলেতো রাগ করার মত কিছুই হয়নি কারন ওটা একটা কাগজের টুকরো মাত্র আর ঐ কাগজের যার ছবি সেতো আপনার প্রেমিকার মত কথা বলে না, চলে না , হাঁটে না আবার মিষ্টি করে হাসেও না আপনার দিল কি ধাড়কন বৃদ্ধি করার জন্য তাহলে কেন চটবেন। চটবেন কারন আপনার প্রবিত্র প্রেমিক মনে সেটা কেবলই ছবি নয় তাই এর অপমান আপনি আপনার প্রেমের অপমানই মনে করেন যা কোন সত্যিকারের প্রেমিক সহ্য করতে পারে না। ঠিক যারা নিন্দুক তাদের বলবেন পারলে তোমার বাবা মায়ের ছবির উপর থু থু দাও বা বাজে কিছু করো। দেখবেন এই কথা কেন বললেন তাই আপনাকে শাকিব খান ঘুষা দেবার জন্য হাতের দলা পাকাবে। আরও কঠিন করলে বলতে পারেন পারলে কাব্বা শরীফের উপর থুথু ফেল। দেখবেন আসমান জমিন এক করে ফেলবে। অথচ এই মানুষই সারাদিন হিন্দুরা মূর্তি পুজা করে, এটা হারাম, এটা মুশরীক এই কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে কিন্তু এই বেলায় ঐ সব কিছু ভূলে যায় যখন নিজের ঘাড়ে আসে। যদি বলেন কেন ক্ষেপছো এটাতো শুধু মাত্র একটা কাগজে টুকরো আর এর চারিদিকে মানুষগুলোর কোন প্রান নেই, হাড় নেই , মাংস নেই, এরা কথাও বলতে পারে না তাহলে এত ক্রোধ কিসের? কারন তার মনে কখনোই এটা কাগজের টুকরা নয় বা কোন ছবিও নয়। তার ভক্তির কাছে এটাই প্রকৃত কাবা শরীফ তাই এর অপমান সে ঐ আসল কাবা শরীফের অপমানই মনে করেন ঠিক যেমন আমাদের মনের মানস পটে তা ঈশ্বরের ছায়া বা রুপ এবং প্রার্থনায় আমরা ঈশ্বরের এই রুপেই ভক্তিতে নিমগ্ন হই। তাই আমরা কখনোই মূর্তি পুজা করি না আর এটা কেবলই ভক্তই জানে অজ্ঞানী, মূর্খ ঐ নিন্দুকেরা জানে না।
Collect from: Hemonto Kumer Mozu রণ।
 
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger