সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

"নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপ"


আমাদের সনাতন ধর্মে একটিই ভগবানতিনি পরমেশ্বরতিনিই ব্রহ্ম, তিনি নিরাকার কিন্তু, আমাদের অনেকের মনে খটকা লাগে যে আমাদের ধর্মে এত দেবদেবী কেন? তাহলে, তাকে সাকার বলি না কেন?  তবে কার পূজো করা বেশি শ্রেয়? তখনি হয় গন্ডোগলসবকিছু গুলিয়ে গিয়ে ভক্তিটাই চলে যায়তার চেয়ে বরং ধীরে ধীরে এগোনই ভালোপ্রকৃত পক্ষে ঈশ্বর নিরাকার।কিন্তু, তিনি নানা রূপে নানা সময় নানা কার্য করেনঠিক যেমন বিদ্যুৎএকই স্থান দিয়ে বাড়িতে এসে নানা কাজে লাগেকখন পাখা, কখন আলো আবার কখন টিভি ইত্যাদিতেআমাদের শাস্ত্রকারগন আমাদের এযুগের মানুষদের থেকে বহুগুনে উন্নত মস্তিষ্কসম্পন্ন ছিলেনতাঁদের চিন্তা ও কল্পনা ও ব্যখ্যাশক্তিও ছিল অসাধারনতাই তাঁরা বিভিন্ন রূপকের মাধ্যমে সমস্ত ধর্মকে ব্যখ্যা করেছিলেনযেমন, ঠাকুর রামকৃষ্ণ মহাত্মা ছিলেনতিনি তাঁর কথাবার্তার মাঝে ও তত্তকথা বোঝাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নানা উপমা দিতেন? কেন জানেন? কারন একমাত্র এতেই সহজে ধর্মকে বোঝা যায়আর ঠিক তেমনই সেই যুগের মুনি ঋষিরা নানান উপমার ব্যবহারে ধর্মকথা শাস্ত্রে লিখে গেছেনকিন্তু এটা মন থেকে মানুন যে তা কিন্তু সবটাই মানুষের উপকারের উদ্দেশ্যেমনে করেন, একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট আছে যেখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়এখন সেই বিদ্যুৎ আপনার বাড়িতে একটি মেন পয়েন্ট থেকে এসে বাড়িতে পাখা চলে, আলো জ্বলেএবার আপনিই বলেন পাখার কারেন্টটা বড়? নাকি আলোরটা? কোনটা আসল?
এই আমাদের ধর্মের আসল কথাগোড়ার কথা  ঈশ্বর একএকটাই শক্তিএকটাই উৎসকিন্তু তার বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ কখন আলো জ্বালাতে চান তো কখন জল গরম করতে চানতেমনি কখনো মা কালী রূপে বা শিব রূপে ধ্বংস করেন, কখনো বা বিষ্ণুরূপে পালন করেনব্রম্মারূপে সৃষ্টি করেন ইত্যাদি রজগুণে যিনি বিষ্ণু তমগুণে তিনি শিব আবার স্বত্ব গুণে তিনিই ব্রহ্মাকিন্তু উৎস একসেই পরব্রম্ম পরমাত্মা তাই, ঈশ্বরকে নিরাকার বলা হয়েছে।

by JOY RAY
0 comments

"ঈশ্বরের তিন গুণ"

ঈশ্বর স্বত্ব , রজঃ ও তম -- এই তিন গুণের দ্বারা জগত রচনা করেছেন । তিনি স্বয়ং এই জগতে অবস্থান করছেন আবার তিনি এই জগতের বহির্দেশেও আছেন ।

উপনিষদে বলা হয়েছে --
অগ্নির্যথৈক ভুবনং প্রবিষ্টো রূপং রূপং প্রতিরূপ বভুব ।
একস্তথা সর্বভূতান্তরাত্মা রূপং রূপং প্রতিরূপো বহিশ্চ ।।
অর্থাৎ যেমন এক অগ্নি এই জগতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে অবস্থান করে , ঠিক তেমনি করে সর্বভূতের সেই এক অন্তরাত্মা বিভিন্ন রূপে এই জগতে অবস্থান করেন , আবার তিনি এই জগতের বহির্দেশেও অবস্থিত ।

ঈশ্বরের এই স্বত্ব রজঃ তম , অর্থাৎ যথাক্রমে সৃষ্টি স্থিতি ও প্রলয়রূপ কার্যের এই ক্রিয়াময় অবস্থাটিকে বলা হয় ' শক্তি ' ।
ঈশ্বরের সাথে শক্তির সম্পর্ক বোঝাতে গিয়ে ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন , '' যেমন অগ্নি আর তার দাহিকা শক্তি । '' অর্থাৎ ঈশ্বর ও শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন । যেমন শিব নিষ্ক্রিয় , তাই নিশ্চেষ্ট হয়ে পড়ে আছেন , তাঁর বুকের উপর নৃত্যরতা কালী হলেন শিবের ক্রিয়াত্মিকা শক্তি বা ক্রিয়াময় রূপ ।

ঈশ্বরের এই স্বত্ব , রজঃ ও তম ত্রিবিধ গুণের প্রতীক হলেন যথাক্রমে ব্রহ্মা , বিষ্ণু ও শিব । এঁরা একই সত্তার ত্রিবিধ প্রকাশ ।

এবার আসি মহামুনি মেধস কথিত শ্রী শ্রী চণ্ডী গ্রন্থের একটি অংশ প্রসঙ্গে। সেখানে বলা হয়েছে, '' দেবী চণ্ডিকা সচেতন চিন্ময়ী , তিনি নিত্যা ... স্বত্ব গুণে তিনি ব্রহ্মার গৃহিণী বাগদেবী , রজ গুণে বিষ্ণুর পত্নী লক্ষী , তমোগুণে শিবের বণিতা পার্বতী । আবার ত্রিগুণাতীত তুরীয়াবস্হায় তিনি অনির্বচনীয়া ( অর্থাৎ বাক্য - মনের অতীত ) ...''

সুতরাং ঈশ্বর ও শক্তির এই সম্পর্ক মোটেই সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয় । আর সাধারণ দম্পতীর মতো তাঁদের ছেলে মেয়ে হওয়ার বিষয়টিও অযৌক্তিক । , সরস্বতী লক্ষ্মী ও পার্বতী একই জগন্মাতৃকা শক্তির ত্রিবিধ রূপ । যেমন ব্রহ্মা বিষ্ণু ও মহেশ্বর বস্তুতঃ অভিন্ন সত্তার ত্রিবিধ রূপ । এই অভিন্ন সত্ত্বাটি ঈশ্বর এবং শক্তি তাঁর সক্রিয় প্রকাশ । লৌকিক অর্থে এই শক্তিকে ' স্ত্রী ' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ।



BY: Tapos Ghosh
0 comments

মৃতদেহ সৎকার


সনাতন ধর্মে মৃতদেহ পোড়াবার তিনটি কারন আছে।

আধ্যাত্মিক কারণঃ আমরা সনাতন ধর্মের অনুসারিরা পুনর্জন্মে বিশ্বাসী। এই ত্রিতাপদগ্ধ সংসারে পুনরায় জন্মগ্রহন করে মানুষ দুঃখজ্বালা ভোগ করুক এটা কেউ চাই না। যে দেহে তিনি এতদিন বাস করেছেন, তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছেন, পৃথিবীর যাবতীয় সুখের স্বাদ তাকে দিয়েছেন সে দেহের প্রতি আকর্ষণ ও মায়া থাকা স্বাভাবিক। দেহের প্রতি আকর্ষণে পুনঃ দেহ ধারনে তার আকাঙ্ক্ষা জাগতে পারে, ঐ আকাঙ্ক্ষা দূর করার উদ্দেশেই আকর্ষণের বস্তু দেহটিকে পোড়ানো হয়।

সামাজিক কারণঃ আর্য ঋষিদের ভবিষ্যৎ চিন্তা এতে প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ সৃষ্টি হবে এবং এমন একদিন আসতে পারে যখন স্থানাভাব দেখা দেবে। মানুষের দেহ না পুড়িয়ে মাটিতে পুঁতে রেখে দিলে ক্রমশ মাটিতে রাখার জায়গার অভাব দেখা দিতে পারে। এই কারনেই দেহ পোড়াবার বাবস্থা।

বৈজ্ঞানিক কারণঃ মানুষ বিভিন্ন কারনে মৃত্যুবরণ করে। এর মধ্য রোগে মৃত্যুই সর্বাধিক। এই সকল মৃতদেহে পচন ধরলে পরিবেশে বিভিন্ন রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব চিন্তা থেকেই আর্য ঋষিগণ শব পোড়াবার বিধি দিয়েছে।

মুখাগ্নি করার কারণঃ আমরা সনাতন ধর্মের অনুসারি বিশ্বাস করি যে, মানুষ মৃত্যুর পর স্বর্গবাসী হয় অথ্যাৎ দেবলোকে যায়। কিন্তু, তিনি স্বর্গে বা দেবলোকে যাবেন কিভাবে? বৈদিক নিয়ম অনুসারে দেবলোকে বা স্বর্গলোকে পাঠাতে হলে দেবতাদের পুরোহিত অগ্নিতে আহুতি দিতে হয়। অগ্নিদেবই সে অর্চনা বা আহুতি দেবলোকে নিয়ে যান। তাই যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন তার প্রাণবায়ু অগ্নিদেবকে আহুতি না দিলে তিনি কি করে স্বর্গবাসী হবেন? প্রানবায়ু মুখ দিয়ে বের হয় বলে মুখে অগ্নি সংযোগ করে মন্ত্র পাঠ করতে হয়-
“ওঁ কৃত্বা তু দুষ্কৃতং কর্মং জানতা বাপ্য জানতা ।
মৃত্যুকাল বশং প্রাপ্য নরং পঞ্চত্বমাগতম্
ধর্মাধর্ম সমাযুক্তং লোভ মোহ সমাবৃতম্
দহেয়ং সর্বগাত্রানি দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু”

অনুবাদঃ তিনি জেনে বা না জেনে অনেক দুষ্কর্ম করে থাকতে পারেন। কালবশে মানুষ মৃত্যুবরণ করে থাকে। এ দেহ ধর্ম, অধর্ম, লোভ, মোহ প্রভিতি দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। হে অগ্নিদেব, আপনি তার সকল দেহ দগ্ধ করে দিব্যলোকে নিয়ে যান। (ক্রিয়াকাণ্ড বারিধি)          


by JOY RAY
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger