সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

"প্রসঙ্গঃ কুমারী পূজা" - শ্রী জয় রায়


ছোট বেলা থেকেই রামায়ন ও মহাভারতে আমরা অনেক বড় বড় যজ্ঞের কথা শুনে এসেছি। কলি যুগের সব থেকে বড় যজ্ঞ হচ্ছে দুর্গোৎসব। এই দুর্গোৎসবের একটি বড় অঙ্গ হচ্ছে কুমারী পূজা। কুমারী পূজা নিয়ে আমাদের মধ্যে যেন কৌতূহলের কমতি নেই।

ভারত ও বাংলাদেশের রামকৃষ্ণ মিশনসহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে অষ্টমীর মহাতিথিতে এই কুমারী পূজা হয়ে থাকে। শাস্ত্রকাররা নারীকে সন্মান ও শ্রদ্ধা করতে এই পূজা করতে বলেছেন। আমাদের সনাতন ধর্মে নারীকে সন্মানের শ্রেষ্ঠ আসনে বসানো হয়েছে। “নিজেদের পশুত্বকে সংযত রেখে নারীকে সন্মান জানাতে হবে”- এটাই কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য।

বৃহদ্ধর্মপুরাণ-এ রামের জন্য ব্রহ্মার দুর্গাপূজার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় তখন শরৎকাল, দক্ষিণায়ণ দেবতাদের নিদ্রার সময়
0 comments

‘সনাতনধর্মে গৌরবের চতুষ্টয়’ - শ্রী গৌরমোহন দাস


ভূমিকা :
   সনাতনধর্মে গৌরব করার মতো বহু কিছু রয়েছেঅথচ আজকাল আমরা অনেকেই আছি আমাদের সনাতনধর্মীয় সাধারণ ধারণাটুকুও রাখতে চেষ্টা করি নাঅথচ অন্যের জিনিসটি আয়ত্ব করতে বা বলতে বেশ ভালই পারি! যুবসমাজের অনেকেই তাদের মোবাইল ফোনট Receive করেন অন্য ধর্মমতের সম্বোধন দিয়েঅপরিচিত কারো সামনে গিয়েও আমাদের ধর্মমতে ঐতিহ্যগত শব্দ (নমস্কার বা আদাব) না বলে সেই সব ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়! আমরা জোড় হাত বুকে রেখে অবনত মস্তকে নমস্কারকরি নমস্কারের তাতপর্য কত চমতকার সে কথা ভাবি না! আচার্য ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারী নমস্কারের সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেনতা হলো- আমার সকল হৃদয়, মন, অঙ্গাদি দিয়ে আপনার মধ্যে যে ঈশ্বর বাস করছেন, তাকে অভিবাদন জানাচ্ছি কারো মৃত্যু সংবাদ শুনলেও অন্যের কথাটি ভাল বলতে দেখা যায়! কিন্তু সনাতনধর্মাবলম্বীগণকে বলতে হয়- দিব্যান লোকান্ স গচ্ছতু’ (তিনি দিব্যলোকে গমন করুন); ঐ কথাটি হয়তো অনেকের জানা নেইএ প্রসঙ্গে স্বামী প্রণবানন্দজীর ভায়ায় বলতে হয়- মানুষের উত্থান-পতন যে কোনো সময় হইতে পারে
0 comments

ঢাকার প্রাচীন ১০ মঠ, মন্দির ও আশ্রমের আদ্যেপান্ত

সেন শাসনামলে রাজা বল্লাল সেনের হাতেই ঢাকায় প্রথম মন্দির নির্মিত হয় মন্দিরটি ঢাকেশ্বরী মন্দির নামে পরিচিতপরবর্তীকালে শঙ্করাচার্যের গিরিধারী অনুসারীরা রমনায় একটি মঠ নির্মাণ করেনপরে তা রমনা কালীমন্দির হিসেবে পরিচিতি লাভ করেঢাকার আদি বাসিন্দা বলে খ্যাত বসাকরা ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীতাঁরা মৈশুণ্ডীতে মন্দির নির্মাণ করে উপাসনা করতেন মৈশুণ্ডীতে প্রাচীন মন্দিরের স্থলে বর্তমানে নির্মিত হয়েছে ইসকন মন্দির

এভাবেই বিচ্ছিন্নভাবে মন্দির নির্মাণ চলছিলতবে সুলতানি আমলে এতে ভাটা পড়েমোগল আমলে আবার মন্দির নির্মাণ শুরু হয়তখন ক্ষুদ্র ভূস্বামীরা নিজ এলাকায় স্বাধীনভাবেই বাস করতেনবিক্রমপুরের অধিপতি চাঁদ রায় ষোল শতকের আশির দশকে ঢাকায় একটি মন্দির নির্মাণ করেনসেটি আজ সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির হিসেবে পরিচিতষোল শতকের শেষ দিকে সম্রাট আকবরের সেনাপতি মান সিংহ ঈশা খাঁকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে বাংলায় আসেনতখন তিনি ঢাকায় একটি দিঘি খনন করেন এবং নামকরণ করেন গঙ্গাসাগরএ দিঘির পাশেই একটি কালীমন্দির নির্মাণ করেন, নাম বরদেশ্বরী কালীমন্দিরসে মন্দির আজও আছে স্বনামেঢাকার যেসব সুবাদার পরধর্মসহিষ্ণু ছিলেন, তাঁদের সময়ও ঢাকায় মন্দির নির্মিত হয়এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্গত শ্রীশ্রী বুড়াশিব ধাম অন্যতম
0 comments

জাতিস্মর


জাতিস্মরদের পূর্বজন্ম মনে রাখার অলৌকিক ক্ষমতা থাকে জাতিস্মরদের অস্তিত্ব মেনে নেওয়া মানে পূর্বজন্ম এবং পুনর্জন্মে বিশ্বাস করা অনেক বৈজ্ঞানিক বলেন যে পুনর্জন্মকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণ করা সম্ভবপৃথিবীর বহু স্থানে ছোট শিশুরা নিজেদের জাতিস্মর হিসাবে ঘোষণা করেএদের বয়স সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছর হয়

অনেক সময় এরা, এদের ব্যবহারে, একরকম ভীতি প্রদর্শন করেদেখা যায় যে ওই শিশুদের পূর্বজন্ম সংক্রান্ত বক্তব্যে ভীতির কারণ পাওয়া যায় বহু ক্ষেত্রে জাতিস্মরের পূর্বজন্মের পরিবারের সঙ্গে বর্তমান জন্মের পরিবারের কোন সম্পর্ক অথবা পরিচয় থাকে নাসাধারণত সাত বছর বয়স অবধি জাতিস্মরেরা পূর্ব জীবন মনে রাখতে পারে
0 comments

প্রসঙ্গঃ 'গণশ্রাদ্ধ-৭১'


গত ১০ সেপ্টেম্বর এর “সমকাল” পত্রিকার উপসম্পাদকীয় তে বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা “বীরেন্দ্রনাথ অধিকারী”র একটি লেখা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। লেখাটিতে তিনি আগামী মহালয়ার দিন শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরে আয়োজিত 'গণশ্রাদ্ধ-৭১' অনুষ্ঠানকে সাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ ও উস্কানিমূলক আখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের জন্য সব অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিশীল শক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা লেখাটির তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এই লেখাটিতে তিনি কয়েকটি শাস্ত্রীয় আপত্তি উল্লেখ করেছেন।

সাধারনত প্রয়াত ব্যক্তির সাথে রক্ত সম্পর্ক হীন কেউ শ্রাদ্ধাদি করতে পারেন না। কিন্তু ওই প্রয়াত ব্যক্তির সাথে যদি কেউ আত্মিক ঐক্য অনুভব করেন ,তাহলে তিনি তার অন্ত্যেষ্টি করতে পারেন। মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান রামচন্দ্র নিজে তা আচরন করে প্রমান দিয়ে গেছেন । সীতা হরন ঠেকাতে গিয়ে পক্ষীরাজ জটায়ু যখন রাবনের হাতে নিহত হন , তখন রাম স্বহস্তে জটায়ুর দাহ সংস্কার করেন। বাল্মিকী রামায়নের ৬৮ সর্গে রাম বলছেন, "এখন এই জটায়ুর বিনাশে আমার যে কষ্ট হচ্ছে, সীতা হরনে তেমনটি হয় নি। ইনি স্রীমান রাজা দশ রথের মত আমার মাননীয় ও পূজ্য ।... মহাবল আমি স্বয়ং তোমার দাহ কর্ম করছি। তুমি এখন-ই উৎকৃষ্ট লোকে যাও। " এরপর রাম ব্রাহ্মনেরা প্রেতের উদ্দেশে যে মন্ত্র জপ করেন , জটায়ুর জন্য সেই স্বর্গ সাধন মন্ত্র জপ করলেন। এবং শেষে পিণ্ড, তর্পণ , জপ করে , জটায়ু যে কুলের জীব অর্থাৎ পক্ষী কুল কে আমন্ত্রন করে শ্রাদ্ধে ভোজন করিয়েছিলেন।

“গণ শ্রাদ্ধ” শব্দটি হিন্দু শাস্ত্রে না থাকলেও, প্রকারন্তরে গণ শ্রাদ্ধ হিন্দু সমাজে বহুদিন ধরেই আছে। কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ সেনা ও বীর জমায়েত হয়েছিল। পঞ্চ পাণ্ডব সমেত অল্প কিছু ব্যক্তি যুদ্ধ শেষে জীবিত ছিলেন। মহাভারতের স্ত্রী পর্বে দেখা যায় যে, ধৃত রাষ্ট্র , ধর্ম পুত্র যুধিষ্ঠির সমেত জীবিত কুরু গণ এইসব প্রয়াত সেনা ও বীরগণের অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করেছিলেন। লীলা পুরুষোত্তম ভগবান কৃষ্ণ, ধর্মাত্মা বিদুর ও অখিল শাস্ত্র প্রনেতা ভগবান ব্যাসের উপস্থিতেই এই মহাভারতীয় গণ শ্রাদ্ধ ও দান ইত্যাদি অন্য ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হয়েছিল।

রাম ও কৃষ্ণ চরিতের মত উৎকৃষ্ট প্রমান যেখানে বিদ্যমান ,সেখানে অযথা বিতর্ক বর্জনীয়।এই 'গণ শ্রাদ্ধ ৭১" বা "পিতৃ যজ্ঞ " কে যারা বিরোধিতা করছেন ,তাঁদের উদ্দেশ্য অসাধু। এ এক মঙ্গলময় অনুষ্ঠান ,যাতে বিদেহী আত্মা ও তাঁদের পরিবার এবং সেই সাথে দেশ ---সকলের মঙ্গল ঘটবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে যেহেতু ওইসব হিন্দু আত্ম বলিদান দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের ও উচিত এই গণ শ্রাদ্ধে ধর্ম পুত্র যুধিষ্ঠির -এর মতই রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রদান করা। কোনও রকম প্ররোচনার ফাঁদে সরকার, রাজনৈতিক দল বা হিন্দুগন যাতে না পড়ে সেজন্য সজাগ থাকুন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত হিন্দুদের অনেকের-ই শাস্ত্রীয় রীতি মেনে দাহ ,অশৌচ, শ্রাদ্ধ ইত্যাদি অন্ত্যেষ্টি করা সম্ভব হয় নি। এর ফলে ওই প্রয়াত ব্যক্তি বর্গ ,যারা প্রেত দশায় কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের উত্তরপুরুষ গণ-এর পরিবারের (বাংলাদেশ বা ভারত যে দেশেই থাকুন না কেন এখন ),পক্ষে পূর্বজদের এই অবস্থা হানিকর। তাই, গণশ্রাদ্ধের জন্য ‘মহালয়া’কে ধার্য করা হয়েছে। এ দিনে তো পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা অবশ্যই কল্যাণ। কুশপত্তলিকা দাহ করে শ্রাদ্ধ করা দোষণীয় নয়। উল্লেখ, সেখানে ষোড়শপিণ্ড দানের মাধ্যমে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে।


পরিশেষে যেসব হিন্দু এই গণ শ্রাদ্ধের আয়োজন করেছেন তাঁদের শ্রদ্ধা জানাই এই জন্য যে বিলম্বে হলেও বাঙালি হিন্দু জাতির পক্ষ থেকে তারা এই জরুরি , আবেগপূর্ণ এবং শাস্ত্র সম্মত সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে। এই অনুষ্ঠান টি সফল করার সময় শাস্ত্রীয় মর্যাদা যেন যথাযথ থাকে সেদিকেও তাঁদের নজর দিতে অনুরোধ করি। পশ্চিম বঙ্গের হিন্দুদের- ও উচিত এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা বা এমন উদ্যোগ কে সমর্থন করা। কারন ৭১-এর যুদ্ধে তাঁদের - ও অনেকের স্বজন নিহত হয়েছিলেন।

ঈশ্বর সকলের মঙ্গল করুন। হরি ওঁ। জয় মা। জয় প্রভু।


বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ
১) শ্রী দেবাশিস সিনহা, কলকাতা
২) শ্রী গৌরমোহন দাশ, ঢাকা
৩) শ্রী জয় রায়, রাজশাহী

"সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি" ব্লগ ও গ্রুপ
0 comments

বেদে কতজন ঈশ্বরের উল্লেখ আছে?


  আমরা শুনেছি বেদে অনেক ঈশ্বরের উল্লেখ আছে।আপনি অবশ্যই ভুল উৎস থেকে শুনে থাকবেন। বেদে সুস্পষ্ট ভাবেই বলা আছে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। এবং বেদে এমন কোন মন্ত্র নেই যা বহু ঈশ্বরবাদকে সমর্থন করে। নিম্নে কিছু উপমা দেয়া হলঃ
বেদে ঈশ্বর= বাইবেলের ঈশ্বর- ট্রিনিটির ধারণা -যীশুর কাছে আত্মসমর্পন করার আবশ্যকতা
বেদের ঈশ্বর= ইসলামের কুরানের আল্লাহ - মুহাম্মদকে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করার আবশ্যকতা
অন্য ভাবেও বলা যায়, যদি কেউ শাহাদার প্রথম অংশটুকু বলে ("লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই) এবং দ্বিতীয় অংশটুকু (মাহাম্মুদুর রাসুল্লাহ অর্থাৎ মুহাম্মদ হচ্ছেন তারা দূত ) অস্বীকার করে তাহলে সেটা বেদের ঈশ্বরবাদের কাছাকাছি হবে। ইসলামে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকিছুকে উপাসনা করা হচ্ছে শিরক অর্থাৎ গুরুতর গুনাহ। তাই কেউ যদি এতটুকু মেনে নেয় এবং মুহাম্মদ অথবা জিবরাইলকে আল্লাহ প্রেরিত পুরুষ ও দূত হিসেবে আবশ্যিক ভাবে মেনে নিতে অস্বীকৃত জানাই তাহলে বেদ অনুসারে তারা শিরককে এড়িয়ে যেতে পারবে।

প্রশ্নঃ তাহলে বেদে উল্লেখিত এই বিভিন্ন ধরনের দেব দেবতা কে? আর ৩৩ কোটি দেবতাগন কি?

উত্তরঃ প্রথমেই বলে নিতে হচ্ছে দেবতা হচ্ছে সত্ত্বা যা আমাদের জন্য উপকারী। কিন্তু বেদে কোথাও এটা উল্লেখ নেই যে আমাদেরকে এই সকল সত্তাকে পূজা করতে হবে। অবশ্যই ঈশ্বরও একজন দেবতা অথবা একাধিক দেবতা এবং সেজন্যই বলা হয় মহাদেবতা। তাই শুধু মাত্র তাকেই উপাসনা করতে হবে।

বেদে ৩৩ মিলিয়ন দেবতার উল্লেখ করেনি কিন্তু ৩৩ ধরনের দেবতার উল্লেখ রিয়েছে। সংস্কৃতিতে দেবতা অর্থ হচ্ছে ধরন বা প্রকার।বিষয়টি শতপথ ব্রাক্ষনে খুবই পরিষ্কার ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই ৩৩ ধরনের দেবতাদের মধ্যে রয়েছে
৮ বসু (পৃথিবী, জল, আগুন, বাতাস, আকাশও, চন্দ্র, সূর্য ও গ্রহ/নক্ষত্রাদি ) যা বিশ্ব ব্রক্ষান্ডের (Universe) অংশীভূত যেখানে আমরা বাস করি।
১০টি দেহের জীবনী শক্তি (প্রান, অপান, বায়ু,উদানা, সামানা, নাগা, কুর্মা, কুকালা এবং দেবাদত্ত)
১টি আত্মা যাকে বলা হয় রুদ্র
১২ টি আদিত্য(বছরের মাস সমুহ)
১ তড়িৎ চুম্বকয়ি শক্তি (Electromagnetic force )
১ যজনা (মানুষ কর্তক স্বার্থহীন পূন্যকর্ম)
এই সকল ৩৩ দেবতার প্রভু হচ্ছে মহাদেবতা অথবা ঈশ্বর যাকে শতপথ ব্রাক্ষনের ১৪ কান্ড অনুযায়ী শুধু মাত্র তাকেই উপাসনা করতে হবে অন্য কাউকে নয়। এই ৩৩ দেবতার ধারণাটি হচ্ছে বিশাল গবেষণার বিষয় এবং বিষয়টিকে যথাযত ভাবে বোঝার জন্য গভীর অধ্যায়ন প্রয়োজন। তা যাই হোক, বিভিন্ন বৈদ্যিক গ্রন্থে আলোকে এই কথাটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে এই সকল সত্ত্বগুলো যাদের আমরা দেবতা বলি তারা কেহই ঈশ্বর নয় এবং উপাসনার যোগ্যও নয়।

ঈশ্বরে বহু গুণাবলীর অধিকারী। শুধু মাত্র মুর্খ মানুষেরাই মনে করে ঈশ্বরের এই ভিন্ন ভিন্ন গুন এক একটি ঈশ্বর। উদাহরন স্বরূপ, আজকের সংবাদ পত্রে দুটি শিরোনাম হয়েছে -একটিতে প্রধান মন্ত্রী আর অপরটি বিরোধী দলের প্রধান। কিন্তু তার অর্থ এই দাঁড়ায় না যে আমাদের দেশে দুটি প্রধান মন্ত্রী আছে !

এই সন্দেহ গুলো দূর করার জন্য বেদে কয়েকটি মন্ত্র আছে যেখানে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করেছে যে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এবং তার কোন সহকারী, দূত, নবী, অবতার অথবা অধিনস্ত কোন কর্মচারী নেই যার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবো। উদাহরন স্বরূপঃ

যর্যুরবেদ ৪০.১: এই সমস্ত বিশ্ব শুধু মাত্র একজন ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্টি ও পরিচালিত হচ্ছে।কখনই অন্যায় করো না অথবা অন্যায় ভাবে সম্পদ অর্জনের ইচ্ছা করো না।
ঋগবেদ ১০.৪৮.১: ঈশ্বর সর্বত্রই বিদ্যমান এবং বিশ্ব ব্রক্ষান্ডকে পরিচালিত করেন। পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই জয় ও শ্বাশত কারন প্রদান কারী। প্রতিটি আত্মা অবশ্যই তাঁকেই সন্ধান করবে যেমন করে একটি শিশু তারা বাবাকে খোঁজে। শুধুমাত্র তিনি আমাদেরকে খাদ্য ও স্বর্গীয় সুখ প্রদান করেন।
ঋগবেদ ১০.৪৮.৫: ঈশ্বর সমস্ত পৃথিবীকে আলোকিত করেন। তিনি অপরাজেয় এবং মৃত্যুহীনও। তিনি এই জগত সৃষ্টিকারী। সকল আত্মার উচিত পরম সুখ সন্ধান করা জ্ঞান অন্বেষণ ও কর্মের মধ্য দিয়ে। তারা কখনই ঈশ্বরের বন্ধুত্ব থেকে নিজেকে পরিহার করবে না।
ঋগবেদ ১০.৪৯.১: ঈশ্বরই সত্যের সন্ধানীদের সত্যজ্ঞান দিয়ে থাকেন। তিনিই শুধু জ্ঞানের প্রর্বতক এবং ধার্মিক ব্যাক্তিদের পরম সুখ লাভের জন্য পবিত্র কর্ম করতে উৎসাহী করেন। তিনিই একমাত্র জগতের সৃষ্টিকারী এবং এর পরিচালক। ঙটাই ঈশ্বর ব্যাতীত অন্য কারো উপাসনা করো না।
যর্যুরবেদ ১৩.৪: সমগ্র বিশ্বে শুধু একজনই হর্তাকর্তা রয়েছেন। শুধুমাত্র তিনিই পৃথিবী, আকাশ, এবং অন্যন্যা দৈব সত্ত্বাকে ধারণ করেন। তিনি নিজেই পরম সুখী! তিনিই শুধু মাত্র তিনিই আমাদের দ্বারা উপাসিত হবেন।
অর্থববেদ ১৩.৪.১৬-২১: তিনি না দুই, না তিন, না চার, না পাঁচ, না ছয়, এমনকি না সাত, না আট, না নয়, না দশ। তিনি একজন এবং শুধুই একজন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ঈশ্বর নন। সকল দেবতাগণ তার মাঝেই থাকেন এবং তার দ্বারাই পরিচালিত হন। তাই তিনি ছাড়া অন্য কেউ উপাস্য নাই।
অর্থববেদ ১০.৭.৩৮: শুধু মাত্র ঈশ্বরই হলেন শ্রেষ্ট এবং একমাত্র উপাস্য। তিনিই সকল জ্ঞানের ও কার্যাবলীর উৎস।
যর্যুরবেদ ৩২.১১: বিশ্ব ব্রক্ষান্ডের সকল স্থানেই তিনি বর্তমান। কোন স্থানই তাকে আড়াল করতে পারে না। তিনি নিজেই নিজের কাজ করেন এবং তাঁর কাজ করার জন্য তাঁর কোন সহায়কের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। যে আত্মা অনুধাবন করতে পারে যে শুধুমাত্র ঈশ্বরই তাকে জয় করতে পারে এবং উপভোগ করতে পারে শর্তহীন অসীম আনন্দ অথবা মকশা।

বেদে এই রকম আরও অসংখ্য মন্ত্র রয়েছে যেখানে এক মাত্র ঈশ্বরকেই ব্যাখ্যা করেছে এবং উপদেশ দিয়েছে অন্য কোন দৈব সত্ত্বাকে ( অবতার, রাসূল, ফেরেশতা, দূত, দেবদেবী) না ডেকে একেবারে সরাসরি শুধু তাকেই ডাকো এবং তারই বন্দনা ও উপাসনা করো।

প্রশ্নঃ কিভাবে আপনি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে প্রতিষ্টা করবেন?
উত্তরঃ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণের দ্বারা।

প্রশ্নঃ কিন্তু ঈশ্বরেরে প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেয়াতো সম্ভব নয়। তাহলে কিভাবে আপনি ঈশ্বরকে প্রতিষ্ঠা করবেন?
উত্তরঃ প্রমাণ অর্থ হচ্ছে স্বচ্ছ জ্ঞান যা ইন্দ্রিয় অঙ্গ গুলো হতে প্রাপ্ত উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়। কিন্তু লক্ষ করুন ইন্দ্রিয় অঙ্গ গুলো শুধ মাত্র গুন সুমহকে ধারণ করতে পারে ঐ সকল গুনের কারন বা হেতুকে নয়। উদারহন স্বরূপ, যখন আপনি এই লেখাটি পড়ছেন তখন কিন্তু আপনি আমার অস্তিত্বকে ধারণ করতে পারছেন না, কিন্তু কতগুলি সাংকেতিক চিহ্ন, বর্ন, বা ছবি যা কম্পিউটার স্ক্রিনে আসছে যা আপনি অর্থপূর্ন জ্ঞানে রূপান্তরিত করছেন। তারপরে আপনি এই সিদ্বান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই লেখাটির কোন লেখক আছে এবং এই লেখকের অস্তিত্বের প্রমান আপনার কাছে আছে বলে আপনি দাবী করেন। ্সুতরাং এটা হচ্ছে একটি পরোক্ষ প্রমাণ যদি প্রত্যক্ষ ভাবেই প্রতীয়মান হয়। ঠিক একই ভাবে এই সমস্ত সৃষ্টি যা আমরা এর বৈশিষ্ট্য দ্বারা পর্যবেক্ষন করি আমাদের ইন্দ্রিয় অঙ্গসমূহ মধ্য দিয়ে তা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে পরোক্ষভাবে প্রকাশ করে।

যখন প্রত্যক্ষভাবে একটি সত্ত্বার সাথে একটি সংবেদনশীল তথ্যের যোগসূত্র ঘটাতে পারবেন তখন আপনি দাবী করতে পারবেন যে আপনার প্রত্যক্ষ প্রমান আছে। উদাহরণ স্বরূপ, যখন আপনি আম খান তখন আপনি এর মিষ্ট গুনকে উপলব্ধি করতে পারেন এবং যে আমটি খেয়েছিলেন তার সাথে এই মিষ্ট গুনটিকে সংশ্লিষ্ট করতে পারছেন। এখানে গুরুত্বপুর্ন দিকটি হচ্ছে আপনি "প্রত্যক্ষ প্রমান" কে শুধু মাত্র সংশ্লিষ্ট করতে পারছে নির্ধারিত কোন ইন্দ্রিয় অঙ্গ দিয়ে যা আপনি ব্যবহার করেছিলেন ঐ গুনটিকে পর্যবেক্ষন করার জন্য। অর্থা আমের এই প্রত্যক্ষ প্রমান আপনি কর্ন ইন্দ্রিয়ের মধ্য দিয়ে পাবেন না। এটা কেবল জিহ্বা, নাসিকা, ও চক্ষু দ্বারাই সম্ভব। ঠিক তেমনি বাস্তবে আমরা "পরোক্ষ প্রমাণ" গুলিও পাই যদিও আমরা এগুলোকে "প্রত্যক্ষ প্রমান" বলে থাকি।

যেহেতু ঈশ্বর হচ্ছেন সবচেয়ে সুক্ষ অতীন্দ্রি়য় সত্ত্বা সেহেতু ঈশ্বরের "প্রত্যক্ষ প্রমান" আমাদের এই অসুক্ষ অশিষ্ট সীমিত শক্তির ইন্দ্রিয় অঙ্গ যেমন নাক, কান, চোখ, জিহ্বা, চর্ম দ্বারা সম্ভব নয়। যেমন আমরা অতি পারমানবিক কণাকে এমনকি অনেক শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে পারি না, আমরা শ্রবণাতীত শব্দ (Ultrasonic Sound ) শুনতে পারি না, আমরা স্বরন্ত্র একটি অণুর স্পর্শ অনুভব করতে পারি না। অর্থাৎ ঈশ্বরকে এই দুর্বল ও অসুক্ষ ইন্দ্রিয় অঙ্গ দ্বারা প্রমাণিত করা যাবে না ঠিক যেমন আমকে কর্ন দ্বারা অথবা অতি পারমানবিক কণাকে কোন ইন্দ্রিয় অঙ্গ দিয়ে ইন্দ্রগ্রাহ্য করা যাবে না।

একমাত্র ইন্দ্র যা ঈশ্বরকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করতে পারে তা হলে মন। যখন মন সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রিত এবং সকল ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদান (যেমন চিন্তা যা সর্বদা জাগ্রত থাকে) থেকে মুক্ত এবং ঈশ্বরের সকল গুন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান যা অধ্যায়ন ও চর্চার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, তাহলেই বুদ্ধিবৃত্তির মধ্যে দিয়েই প্রত্যক্ষভাবে ঈশ্বরকে প্রমান করা যাবে যেমন করে ঐ আমকে এর স্বাদ দ্বারা প্রমান করা হয়েছিল। এটাই হচ্ছে জীবনের উদ্দেশ্য যা একজন যোগী করার চেষ্টা করেন মন নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্বতী প্রয়োগ করেন। এই পদ্ধতি গুলোর মধ্যে রয়েছে অহিংসা, সত্য সন্ধান, পর দুঃখকাতরতা, সকলের জন্য পরম সুখ সন্ধান, উন্নত নৈতিক চরিত্র, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই, মানুষের মাঝে একতা ইত্যাদি, ইত্যাদি।

এভাবে আমাদের প্রাতাহিক জীবনে আমরা ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ প্রমানের ইঙ্গিত পাই। যখন আমরা চুরি, প্রতারণা, পাশবিকতার মত কোন ভুল কাজ করি তখন আমরা ভয়,ভীতি, লজ্জা, সন্দেহের ইত্যাদি আকারের আমরা ক্ষীণ ভেতরকার ক্ষীন কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। আর যখনই আমরা কোন মঙ্গল সূচক কাজ করি যেমন কাউকে সাহায্য করা, কোন শিশুকে আর্শীবাদ করা ইত্যাদি, তখনও আমরা ভেতরকার ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শুনতে পাই ভয়শূন্য, আত্মতৃপ্তি, প্রত্যয়ী ও পরম সুখবোধ আকারে।

এই ভেতরের কণ্ঠস্বরটি আসে ঈশ্বরের কাছ থেকে। আমরা প্রায়শই এর শ্রাব্যতাকে কমিয়ে চুপ করে রাখার চেষ্টা করি আমাদের চারপাশে উচ্চ শব্দের DJ Music এর মত নির্বোধ প্রবণতার মাধ্যমে। কিন্তু তখন আমরা সবাই কোন এক সময়ে ভেতরের কণ্ঠস্বরকে আরও উচ্চ শব্দে শুনতে পাই যখন এই সব কিছু তুলনামূলকভাবে নিঃশ্চুপ।

যখন আত্মা নিজেকে সকল মানসিক বিশৃঙ্খলা থেকে নিজেকে শুদ্ধ করে এবং ঐ DJ ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসে তখন আত্মা নিজেই নিজেকে ও ঈশ্বর প্রত্যক্ষভাবে প্রামানিক হয়। এভাবে আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরকে প্রতিষ্টা করতে পারি পরিষ্কার ভাবে যেভাবে বিভিন্ন সত্ত্বাকে আমরা করতে পারি।

প্রশ্নঃ ঈশ্বর কোথায় থাকেন?
উত্তরঃ
১. ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান সেই জন্যে তিনি সকল স্থানেই বিদ্যমান। ঈশ্বর আকাশে কোন বিশেষ জায়গায় অথবা কোন বিশেষ সিংহাসনের মত কোন নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতেন তাহলে তিনি সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ, সর্ব শক্তিমান, সকল কিছুর পরিচালক, সৃষ্টিকারী ও ধ্বংসকারী হতে পারতেন না। তিনি যেখানে বর্তমান নেই সেখানে তিনি তার কোন ক্ষমতায় প্রয়োগ করতে পারবেন না।

২. যদি তুমি বল ঈশ্বর কোন এক জায়গা থেকে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছেন যেমন করে সুর্য লক্ষ কোটি মাইল দূর থেকে আলো ছাড়ায় অথবা যেমন করে রিমোর্টের মাধ্যমে তুমি টেলিভশনকে নিয়ন্ত্রণ কর, এগুলো সব দুর্বল যুক্তি। কারন সূর্য পৃথিবীকে আলোকিত করা ক্ষমতা রাখে এবং রিমোর্ট কন্ট্রোল টেলিভশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে রশ্মিবিচছুরণ তরঙ্গের (radiation waves) মধ্য দিয়ে যা অর্ন্তবর্তি কাল ও সীমার মধ্যে ( interim space) সীমাবদ্ধ। যেহেতু আমরা তাদের দেখতে পারি না তাই আমরা একে দূর নিয়ন্ত্রক (remote control) বলি। কিন্তু বাস্তবে দূর নিয়ন্ত্রক বলে কিছু নেই। মূল কথাটি হচ্ছে ঈশ্বর কোন কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলতে আমরা বুঝি তিনি সেখানে উপস্থিত থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন।

৩. অধিকন্ত যদি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান হয়ে থাকেন তাহলে কেন তিনি ভীত হয়ে নিজেকে একটি ছোট জায়গায় সীমাবদ্ধ করবেন। এতে করে ঈশ্বর সীমিত শক্তির হয়ে যাবেন। খ্রিষ্টানরা বলে যে ঈশ্বর আছেন ৪০ আসমানে আর মুসলিমরা বলে সাত আসমানে। এবং তাদের অনুসারীরা পরস্পরের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে তার নিজের মতটা সত্য ও যর্থাত বলে প্রমাণ করা জন্য। তার মানে কি GOD এবং আল্লাহ্‌ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা ভিন্ন ভিন্ন আকাশে বাস করবেন যাতে করে তারা তাদের অনুসারীদের মত ঝগড়ায় লিপ্ত না হন?

প্রকৃত পক্ষে এটা একটা শিশু সুলভ বক্তব্য। যেখানে ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান এবং সমস্ত বিশ্ব ব্রক্ষান্ডকে নিয়ন্ত্রণ করেন সেখানে কোন কারনই নেই যে তিনি ভয়ে বিশ্ব ব্রক্ষান্ডের কোন এক ক্ষুদ্র সীমিত জায়গায় আত্মোগোপন করবেন। যদি তিনি তা করে থাকেন তাহলে তাকে সর্বশক্তিমান বলা যাবে না।

প্রশ্নঃ তার মানে কি ঈশ্বর অ্যালকোহল, মূত্র, বিষ্ঠার মত নোংরা জিনিসেও বিদ্যমান?
উত্তরঃ
সমস্ত সৃষ্টি ঈশ্বরের মাঝেই। কারন হলো ঈশ্বর এই সকল জিনিসের বাইরে কিন্তু এই সকল জিনিস ঈশ্বরের বাইরে নয়। সুতরাং পৃথিবীর সমস্ত কিছুতে ঈশ্বর পরিব্যাপ্ত। উপমা স্বরূপ বলতে পারি আমরা ঈশ্বরের মাঝে আছি যেমন করে এক টুকরো কাপড় এক বালতির জলে মধ্যে থাকে। কাপড়টির মধ্যে, বাইরে এবং চারিদিকে জল বিদ্যমান। পুরো কাপড়ের টুকরোটিতে জলে ভিজে গেছে কিন্তু জল কাপড়ে বাইরে।

তাই কোন কিছু ভাল ও মন্দ নির্ভর করে সেটার প্রতি আমাদের দ্বায়িতটা কি রকম তার উপর। এক ধরনের কত গুলো অণু মিলে একটি মিষ্টি আম হিসেবে গড়ে ওঠে যা আমাদের জন্য খুবই কদরের বস্তু। কিন্তু যখন এই অণুগুলোকে আলাদা করা হয়, অন্যন্যা রাসায়নিক পর্দাথের সাথে বিক্রিয়া করা হয় এবং সেগুলোকে মলমূত্রে পরিণত করা হয় তখন তা আমাদের জন্য নোংরা হয়ে যায়।প্রকৃতপক্ষে এই সকল জিনিসের সার হচ্ছে শুধু মাত্র প্রকৃতির বিভিন্ন অণুর সমন্বয় মাত্র। যেহেতু পৃথিবীতে আমাদের একটা মিশন রয়েছে, তাই আমরা সমস্ত কিছুকে আমরা বিশ্লেষণ করি আমাদের মিশন অনুযায়ী এবং কিছু গ্রহন করি আর কিছু পরিত্যাগ করি। যা আমরা ত্যাগ করি তা আমদের জন্য নোংরা আর যা আমরা গ্রহন করি তা আমাদের জন্য ভাল। কিন্ত ঈশ্বরের কাছে এই ধরনের দ্বায়িত নেই এবং তজন্ন তার কাছে কোন কিছুই নোংরা নয়। অন্য ভাবে বলা যায়, তার কর্ম ও দ্বায়িত আমাদের চেয়ে ভিন্ন। তাই জগতের সমস্ত কিছু তার স্পর্শের বাইরে নয়।

আপনি যদি অন্য ভাবে দেখতে চান তাহলে বলব যে ঈশ্বর কোন নাম মাত্র সমাজ কর্মী নন যিনি সশরীরে দুর্দশাগ্রস্থ মানুষদের দুর্দশা পর্যবেক্ষন করার জন্য দুর্গত স্থান পরিদর্শন না করে দূর থেকেই শাতীতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই পরিকল্পনা করতে পছন্দ করেন। বরং ঈশ্বর সকল স্থানের নোংরাগুলির মাঝে বর্তমান থাকেন আমাদের উপকারের জন্য। যেহেতু ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ সেহেতু তিনি সর্বত্র ব্যাপী এবং সমস্ত তার মাঝে বর্তমান হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঐ সকল বিষয় হতে বাইরে ও ভিন্নতর।

প্রশ্নঃ ঈশ্বর কি দয়ালু এবং ন্যায় বিচারক?

উত্তরঃ হ্যাঁ তিনি দয়ালু এবং ন্যায়বিচারক।

প্রশ্নঃ কিন্তু এগুলোতো বিপরীতার্থক লক্ষণ কারন দয়ালুতা মানেইতো অন্যায়কারীদের ক্ষমতা করে দেয়া। এবং ন্যায়বিচার অর্থ হচ্ছে দোষীদের শাস্তি দেয়া। তাহলে কিভাবে এই দুটি বিষয়কে এক সাথে অবস্থান করবে?

উত্তরঃ দয়ালুতা এবং ন্যায়বিচার মূলত এক ও অভিন্ন। কারন দুটির উদ্দেশ্যই এক। দয়ালুতা মানে ওন্যায়কারীকে ক্ষমা করে দেয়া নয়। কারন যদি তাই হয় তাহলে অনেক নিষ্পাপ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এই ভাবে যদি ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অন্যায়কারীদের তাদের প্রাপ্য সাজা না দেয় তাহলে কেউ নিরীহ ও নিষ্পাপ মানুষের প্রতি দয়ালু হতে পারবে না। শুধু তাই নয় এটা অন্যায়কারীদের প্রতি অবিচার হবে কারন তাকে ভবিষ্যতে আরও অন্যায় করা থেকে বিরত করা হচ্ছে না।

যেমন যদি একজন ডাকাতকে ক্ষমা করে দেয়া হয় তাহলে সে আরও মানুষের ক্ষতি করবে। কিন্তু যদি সে কারাদণ্ড ভোগ করে তাহলে সে আর অন্যায় করতে পারছে না। এই ভাবেই ন্যায় বিচার দয়ালুতার মাঝেই সবার জন্য নিহিত থাকে।

প্রকৃত পক্ষে দয়ালুতা, মহানুভবতা বলতে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যকে বুঝায় আর ন্যায় বিচার বলতে তার ধারাকে বুঝায়। যখন ঈশ্বর দোষীদের শাস্তি দেন তখন তিনি অন্যায়কারীদের আর অপরাধ কর্ম করা থেকে বিরত রাখেন। এবং নির্দোষী ব্যাক্তিদের বিরত রাখেন শাস্তি পাবার হাত থেকে কোন অপরাধ না করার জন্য। এই ভাবে ন্যায় বিচারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলের জন্য দয়ালুতা।

বেদ ও প্ররযবেক্ষনাসুরে সকল দুঃখের মূল হচ্ছে অজ্ঞতা যার দরুন মানুষ ভুল কর্ম করে তাকে আমরা বলি অপরাধ, তাই যখন কোন আত্মা এই রকম কোন ভুল কাজ করে তখন ভুল কর্ম না করার জন্য ঈশ্বর তার স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করে দেয়। এবং তাকে সকল অজ্ঞতা ও দুঃখ দূর করার সুযোগও দেন।

শুধু মাত্র দুঃখিত বলে কেউ ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা পাবে না। সমস্ত পাপ ও অন্যায়ের উৎস হচ্ছে অজ্ঞতা এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত তা দূর হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে আত্মা তার কৃত কর্মে জন্য যথাযথ শাস্তি ভোগ করবে তার প্রতিটি জন্মের ও মৃত্যর প্রতিটি মূহুর্তে। এই সকল ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যই হচ্ছে আত্নার প্রতি দয়ালুতা করা পরম সুখ ভোগের পুরুস্কারের মাধ্যমে।

প্রশ্নঃ তার অর্থ এই যে ঈশ্বর আমাকে আমার পাপের জন্য ক্ষমা করবে না? তাহলে ইসলাম অথবা খ্রিষ্ট সম্প্রদায়ই অধিকতর ভালো। কারন আমি যদি আমার অপরাধ স্বীকার করে নেই এবং ক্ষমা চাই তাহলে আমার পূর্বের সমস্ত পাপের তালিকা মুছে (Delete) যাবে। এবং আমাকে একেবারে নতুন করে আবার সুযোগ দেবে।

উত্তরঃ ঈশ্বর আপনার পাপকে ক্ষমা করে দেবে। তার ক্ষমা আপনার কর্মের ফলের উপর নির্ভর করে এবং তিনি তা করে থাকেন পূর্বের পাপকে মুছে না দিয়ে। যদি তিনি আপনার পূর্বের পাপ রেকর্ডকে মুছে দেন তাহলে তিনি আপনার সাথে অনেক বড় অন্যায় করবেন। কারন এক্ষেত্রে তিনি আপনাকে পরবর্তী ধাপে উন্নতি করে দিচ্ছেন যেখানে আপনি যোগ্য নন এমনকি আপনি বর্তমান ধাপেও উর্ত্তীন হননি। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি অন্যদের সাথেও অন্যায় করছেন যারা তার সাথে ছিল।

ক্ষমা করা অর্থ হচ্ছে আপনার উপযোগিতাকে উন্নত করার সুযোগ এবং তোমাকে ১০০% নম্বর না দেয়া যেখানে আপনি ০% পাবার যোগ্য। আর এটাই ঈশ্বর করে থাকেন। মনে রাখবেন যে কোন কিছুর উন্নতি সাথে সাথে হয়ে যায় না অথবা শুধু দুঃখিত বললেই হয়ে যায় না। এর জন্য প্রয়োজন বেশ সময় ধরে ধর্য্যের সাথে আত্নমগ্নময় চর্চা ও প্রচেষ্টা। একমাত্র অলস ব্যক্তিই কোন অধ্যায়ন না করেই ১০০% নাম্বার পাবার জন্য সংক্ষিপ্ত পথ খোঁজে।

দুঃখজনক ভাবে ঐ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ অন্যদের আকৃষ্ট করে এই বলে যে তোমরা যদি আমাদের সম্প্রদায়ের অর্ন্তভূক্ত হও তাহলে আল্লাহ্‌, খোদা তোমাদের সকল পাপ, গুনাহ্‌ মাফ করে দেবে।আসলে তার নিজেরা বোকা এবং অন্যদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। বিষয়টা এমন একজন ডাকাতি করে,অনেক মানুষকে হত্যা করে বিশাল সম্পত্তি বানিয়েছে, কিন্তু সে যদি এখন দুঃখিত বা মাপ চেয়ে তাদের সম্প্রদায়ের অর্ন্তভূক্ত হয় তাহলে আলাহ্‌ খোদা তার সমস্ত ডাকাতি আর খুনের নথিপত্র মুছে ফেলবেন। ্তাহলে আল্লাহ খোদা ঐ সকল ক্ষতিগ্রন্থ মানুষের প্রতি কিভাবে ন্যায়বিচার করে মানবতা প্রতিষ্টা করবেন।

আসলে এই সকল ধারণাগুলি মারাত্মাক ভুল। তারা বিশ্বাস করে জীবন মাত্র একটা এবং পুনজন্ম নেই। তাই তারা তাড়াহুড়ো করে কিছু Artificial Formula তৈরী করেছে অন্যদের আকৃষ্ট করার জন্য। এবং যারা অস্বীকার করবে তাদের দোজখের ভয় দেখায়। আমরা ইতিমধ্যে এক জীবনের তত্ত্বের ছিদ্র ঢেকে দিয়েছি। তাদের কথা শুনে মনে হয় তাদের আল্লাহ্‌ নিশ্চুয়ই উন্মাদ!

বৈদ্যিক দর্শন হচ্ছে একবারে নিরপেক্ষ, যুক্তি সিদ্ধ এবং ন্যায় সঙ্গত। কোথাও কোন নরক বা দোজখ নেই যেখানে ঈশ্বর ছুঁড়ে ফেলবেন অনন্তকাল পোড়ার জন্য। ঈশ্বর যিনি মায়ের মত স্নেহশীল মমতাময়ী। আবার তিনি কাউকে সুযোগ প্রাপ্ত হতে বঞ্চিত করবেন না যা পেয়ে মানুষ ধর্য্য শীল নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার উপযোগিতাকে তুলে ধরবে যা সে পাবার যোগ্য। মোটের উপর আমাদের কোনটি অধিকতর পরিতৃপ্ত করেঃ

ক- পরীক্ষায় নকল, ভুয়া সনদপত্র, নম্বর পত্রের মাধ্যমে প্রথম স্থান অর্জন করা যেখানে কেউ শূন্য পাবার যোগ্য, অথবা
খ-দিন রাত কঠোর সাধনা ও তপস্যা করে, অনেক তেল পুড়ে কঠিন অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে গর্বিত ভাবে প্রথম স্থান অর্জন করা এবং তার সর্বোচ্চ ঢেলে ঐ বিষয়ে পাণ্ডিত্য লাভ করা।

উওর অবশ্যই "খ" হবে। সুতরাং বেদে সফলতা পাওয়ার জন্য কোন সংক্ষিপ্ত অথবা দীর্ঘ রাস্তা নেই। সেখানে একটাই পথ আর তা হলে যথাযত পথ। এবং যারা "খ" এর পন্থা অবলম্বন করে সফলতা প্রাপ্ত হয় তারাই বেশী আত্মতৃপ্তি উপভোগ করেন।

প্রশ্নঃ ঈশ্বর সাকার নাকি নিরাকার?
উত্তরঃ বেদ এবং সাধারন বুদ্ধি অনুসারে তিনি অবশ্যই নিরাকার।
১. তার যদি কোন আকার থাকত তাহলে সর্ব ব্যাপী হতে পারতেন না। কারন আকার বলতে আমরা বুঝায় একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ অবয়ব। এবং সেই জন্য তার যদি কোন আকার থাকে তাহলে সে তার সীমার বাইরে যেতে পারবেন না।

২. যদি ঈশ্বর অশিষ্ট সাধারন নগণ্য হতে তাহলে তার আকার দেখা যেত। কারন কোন বস্তু যা অন্য আরেকটি বস্তু যার আলোক তরঙ্গ প্রতিফলিত হতে পারে, তার চেয়ে সুক্ষতর তাহলে আমরা তা খালি চোখে দেখতে পাই না। ঈশ্বর হচ্ছেন সবচেয়ে সুক্ষতম, ফাঁকহীন, এবং সর্বত্র একরূপ (সূত্রঃ যর্যুরবেদ ৪০.৮) সেজন্য তার কোন আকার হতে পারে না।

৩. যদি ঈশ্বরের আকার থাকে তাহলে কেউ তার আকার সৃষ্টি করেছে। এটা একে বারেই অসম্ভব। যদি আপনি বলেন তিনি নিজেই নিজের আকার তৈরী করেছেন, তাহলে এর অর্থ হচ্ছে তিনি আগে নিরাকার ছিলেন।

৪. যদি আপনি বলেন ঈশ্বর সাকার ও নিরাকার উভয়ই তাহলে এটা পরস্পর বিরোধী হয়ে যাবে।

৫. যদি বলেন তিনি যুগে যুগে বিভিন্ন ঐশ্বরিক আকার (Devine Form) ধারণ করেছেন, তাহলে দয়া করে বলবেন কি ঐশ্বরিক বলতে আপনি কি বুঝেন? ধরুন ঈশ্বর কোন একটি মানুষের ঐশ্বরিক আকার ধারণ করলেন। তাহলে এখন আপনি কিভাবে ঈশ্বরের সীমাবদ্ধ দেহের অণুগুলো ও অঈশ্বরের অণুগুলো নির্ধারন (Define) করবেন। অধিকন্তু তিনি সর্বত্র এক রূপে বিরাজ করেন তাহলে তিনি কিভাবে মানব দেহধারী ঈশ্বর ও পৃথিবীর বাকি অংশের মাঝে আলাদা করবেন? যদি তিনি সবর্ত্র এক রূপে বিরাজ করে থাকেন তাহলে তিনি আমরা কিভাবে তার নির্দিষ্ট অবয়বকে সর্বত্র দেখতে পাবো?

৬. আমরা কি দেখি যে প্রকৃতপক্ষে মানব দেহ হচ্ছে সদা পরিবর্তন শীল। এটা এক্কেবারে অসম্ভব মানব দেহ অথবা পৃথিবীর বাকী অংশের অণুগুলোকে স্বতন্ত্র করা। ঠিক তেমনি মানব ঈশ্বরের দেহকে পৃথক করাও অসম্ভব। উদাহরণ স্বরূপ যদি বলি তাহলে মানব ঈশ্বর দেহ থেকে যে থু থু, মূত্র, ঘাম, মল বা অন্যন্যা যা নির্গত হবে তাও কি ঐশ্বরিক?

৭. বেদে ঈশ্বরের সাকার রূপ ধারণ করার কোন ধারণা নেই। অধিকন্তু সেখানে এমন কিছুর উল্লেখ নেই যে ঈশ্বর আকারহীন হয়ে কিছু করতে পারবে না তাই তাকে অবশ্যই আকার ধারণ করতে হবে।

৮. আমরা সাধারণত শ্রী রামচন্দ্র এবং শ্রী কৃষ্ণ এর মত কাউকে ঐশ্বরিক মানব রূপ বলে গণ্য করি তারা আসলে ঐশ্বরিক ভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। মনে আছে আমি আমরা এখানে ঈশ্বরের ভেতরের কণ্ঠস্বরের কথা বলেছিলাম? এই সকল কাল জয়ী চরিত্রগুলো ছিলেন মনের বিশুদ্ধতা ও উপাস্য ঈশ্বরের সংক্ষিপ্তসার মাত্র। এবং সেজন্য সাধারন মানুষ তাদেরকে ঈশ্বর জ্ঞান করে। কিন্তু বেদ ঈশ্বর ছাড়া অন্য কাউকে উপাসনাকে নিষিদ্ধ করেছে। এইরূপে এই সকল চরিত্রগুলোকে যা সাধারন মানুষ ঈশ্বর মনে করে তাদের পূজা করার বদলে তাদের অনুকরণ করে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারি। এই সকল বীরদের ভক্তদের বেদ অনুযায়ী বলা হয়েছে এখনই সময়! বেদকে জান।

৯. যদি ঈশ্বর আকার ধারণ করবে এবং সেই সকলই আকারের পূজার মাধ্যমে মুক্তিলাভ হবে তাহলে অবশ্যই বেদে এই বিষয়ে বর্নণা থাকত। কিন্তু বেদে এই রকম কোন ইঙ্গিতই দেয়া নেই।

প্রশ্নঃ তার মানে কি সকল মন্দির ও রাম, কৃষ্ণ, দূর্গা, লক্ষি এদের পূজা করা ভুল?

উত্তরঃ ধরুন একজন ধার্মিক মা যিনি একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করেন। একদিন তার ছেলেকে সাপে কেটেছে। সে তার ছেলের জীবন বাঁচানোর এক ঝাড় ফুঁকওয়ালার কাছে ছুটে গেল। এখন আপনি কি তাকে ভুল বলবেন নাকি সঠিক বলবেন?

আজকাল ঈশ্বরের উপাসনা তা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান যাই হোক না কেন সবাই আসলে একই অবস্থায় আছে। তাদের উদ্দেশ্য, ভক্তি, শ্রদ্ধা কিন্তু একেবারে খাঁটি। কিন্তু অজ্ঞতার দরুন তারা ঈশ্বরের উপাসনার ভুল পথকে গ্রহন করেছে। একটা বিষয় নিশ্চিত যে সকল হিন্দুরা যারা বেদ সম্পর্কে সামান্য কিছুটা জ্ঞান রাখে তারা মানতে বাধ্য যে বেদই হচ্ছে সর্ব শ্রেষ্ট। তাই ইতিহাসের কালজয়ী এ সকল মহৎ পুণ্যবানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সঠিক পন্থা হচ্ছে তাদের সকল গুন গুলো আতস্থ করা এবং তাদের ন্যায় মহৎ কর্ম করা। উদাহরণ স্বরূপ, রাবণকে আমরা দেখতে পাই একজন স্বেচ্ছাচারী, পাপাচারী, ধ্বংসকারী, অন্যায়কারী এক রাজা হিসেবে। যদি আমরা এক হয়ে বর্তমানের সকল রাবণের বিরুদ্ধে লড়াই করে সেটাই হবে শ্রী রাম চন্দ্রের যর্থাত মহিমা প্রকাশ ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন। ঠিক একই ভাবে শ্রী কৃষ্ণা, দূর্গা, হনুমান ইত্যাদি।

আমি আমার সারা জীবনে হনুমানের ভক্ত ছিলাম। তাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের আমার পন্থা ছিল নৈতিক চরিত্র গঠন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান হওয়া যাতে আমি সমাজের উপকার করতে পারি। তা না করে যদি আমি হনুমানের ঐ দূর্বল দেহ এবং লাড্ডু খেতে খেতে যে বিশাল ভূরি হয়েছে, ঐ রকম হনুমানকে পূজা করার কি মানে দাঁড়ায় আর কেনই বা করবো।

আমরা এই ভাবে ঐ সকল পুণ্যবান আত্মাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে পারি এবং আমরা সকল সম্প্রদায়ের ভক্তদের প্রতি আন্তরিক ভাবে প্রণাম জানিয়ে তাদের নিকট প্রার্থণা করবো যেন সকল ভক্তরা সে ভাবেই ঈশ্বর উপাসনা করবেন যেভাবে শ্রী রাম চন্দ্র ও শ্রী কৃষ্ণ করেছিলেন তাদের জীবদ্দশায় ।

প্রশ্নঃ ঈশ্বর কি সর্বশক্তিমান ?

উত্তরঃ হ্যাঁ ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি যাই চান তাই করবেন। কেউ যদি যা করতে মন চায় তাই করে তবে সেটা হবে উচ্ছৃঙ্খলতার প্রতীক। কিন্তু উপরন্ত ঈশ্বর হলে সবচেয়ে সুশৃঙ্খল। সর্বশক্তিমান অর্থ হচ্ছে ঈশ্বরের নিজের কাজ করার জন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না যেমন সৃষ্টি, পরিচালনা, ধ্বংস, নাশ করার জন্য তার কারো প্রয়োজন নেই তিনি নিজেই তা করতে সামর্থ রাখেন।

প্রশ্নঃ ঈশ্বরের কি শুরু আছে?

উত্তর ঃ ঈশ্বরের কোন শুরু ও শেষ নেই। তিনি সর্বদা বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও তাই। তার সকল গুনসূমহ সর্বদা একই থাকবে। আত্মা এবং প্রকৃতি এই দুই সত্ত্বার শুরু ও শেষ নেই।

প্রশ্নঃ ঈশ্বর কি চান?

উত্তরঃ ঈশ্বর চান সকলের তরে পরম সুখ। তিনি চান সকলে এই পরম সুখ অর্জন করুক যথাযথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে মেধা অনুসারে।

প্রশ্নঃ আমাদের কি ঈশ্বরের উপাসনা করা উচিত নাকি উচিত না? কেনই বা তার আরাধনা করবো? কারন তিনিতো আমার কখনই ক্ষমা করেন না!

উত্তরঃ এটা সত্য যে ঈশ্বরের আরাধনা করে আপনি বা যে কেউই উর্ত্তীন হবার সনদপত্র পাবে না সংক্ষিপ্ত পন্থা অবলম্বন করে যেখানে আপনি উত্তীর্ণ হবার যোগ্যাতা রাখেন না। শুধু মাত্র অলস এবং প্রতারকরাই অন্যায় ও বিবেকবর্জিত অসদুপায় পন্থা অবলম্বন করে সাফল্য কামনা করে।

ঈশ্বর উপাসনার মাধ্যমে বিবিধ মঙ্গল লাভ করা যায়ঃ
১) ঈশ্বরের উপাসনার মাধ্যেমে একজন মানুষ ঈশ্বরকে এবং তার সৃষ্টিকে শ্রেয়তর ভাবে বুঝতে পারবেন।
২) উপাসনার দ্বারা যখন কেউ ঈশ্বরের গুনসূমুহকে শ্রেয়তর বুঝতে পারবেন তখন তিনি তা নিজের জীবনে গ্রহন করবেন।
৩) উপাসনা দ্বারা যখন কেউ ভেতরের কণ্ঠস্বর (Inner Voice) আরও শ্রেয়তর ভাবে শুনতে পারবেন এবং তিনি আরও স্পষ্টতর ভাবে ঈশ্বর থেকে দিক নির্দেশণা পাবেন।
৪) উপাসনা দ্বারা একজন তার অজ্ঞতা দূর করতে পারবে, শক্তি অর্জন করতে পারবে এবং আত্ম বিশ্বাসের সাথে জীবনের সকল বাধার বিপত্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবে।
৫) পরিশেষে সে যখন সমস্ত অজ্ঞতা দূর করতে পারবে তখন পরম সুখ দ্বারা মুক্তি লাভ করবে।

দয়া করে লক্ষ করুন উপাসনা মানে মনের শূন্যতা অথবা নিয়মানুযায়ী আবৃত্তি করা নয়। এটা হচ্ছে কর্ম, জ্ঞান এবং ধ্যান অনুশীলনের মধ্য দিয়ে ধীশক্তি আত্মাভূত করার একটি প্ররোচক পদ্ধতি বা Proactive Approach ।

প্রশ্নঃ যদি ঈশ্বরের কোন দেহের অঙ্গ এবং ইন্দ্রিয় অঙ্গ থাকে তাহলে কিভাবে তিনি তাহার সকল কর্ম সম্পাদন করেন?

উত্তরঃ তার কর্মের জন্য অসুক্ষ অঙ্গের কোন প্রয়োজন নেই কারন তার কর্ম সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মতম বা অতি আণবীক্ষনতম স্তরে হয়ে থাকে। তিনি এসব করে থাকেন তার প্রকৃতিজাত ক্ষমতা দিয়ে। তিনি চোখ ছাড়াই দেখতে পারেন, কান ছাড়া শুনতে পারেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ সকলের অজ্ঞাতে। ঈশপোনিষদে তা আরও বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করা আছে।

প্রশ্নঃ ঈশ্বরের কি সীমা আছে?

উত্তরঃ ঈশ্বর সকল বিষয়ে সীমাহীন। তিনি সর্বজ্ঞ। এর মানে হচ্ছে তিনি জানেন যা কিছু সত্য সুন্দর। ঈশ্বর জানেন তিনি সীমাহীন অসীম তাই বিষয়টি তার জন্য অজ্ঞতার পরিচায়ক হতো যদি তিনি তার শেষ কোথায় সেটার জানার চেষ্টা করতেন।

প্রশ্নঃ ঈশ্বর স্বগুনা না নির্গুনা?

উত্তরঃ উভয়য়ই। ঈশ্বর স্বগুনা যদি আপনি তাকে দয়ালু, ন্যায়বিচারক, সৃষ্টিকারী, প্রতিপালক ইত্যাদি গুনগুলোকে উল্লেখ করেন। আবার তাকে আপনি নির্গুনা বলতে পারেন কারন কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা ঈশ্বরের মাঝে অনুপস্থিত যেমন অবিবেচক, বিচার বুদ্ধিহীন, ক্রোধ, প্রতারণা, জন্ম, মৃত্যু ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ বেদ অনুসারে ঈশ্বরের প্রধান বৈশিষ্টগুলির সারমর্ম করবেন দয়া করে?

উত্তরঃ তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী অসীম এবং সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এখানে কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

• তিনি বর্তমান
• তিনি জাগ্রত
• তিনি সমস্ত সুখ ও আনন্দের উৎস
• তিনি নিরাকার
• তিনি অপরিবর্তনীয়
• তিনি সর্ব শক্তিমান
• তিনি ন্যায় বিচারক
• তিনি দয়ালু
• তিনি আজন্মা
• তিনি মৃত্যুহীন
• তিনি অসীম
• তিনি সর্বব্যাপী
• তিনি ত্রুটিহীন
• স্থান ও কালে তার শুরু ও শেষ নাই
• তিনি অতুলনীয়
• তিনি সমস্ত বিশ্ব ব্রক্ষান্ড প্রতিপালন করেন
• তিনি সমস্ত বিশ্ব ব্রক্ষান্ড সৃষ্টিকারী
• তিনি সর্বজ্ঞ
• তিনি সর্বদাই সর্বোচ্চতম যর্থাথ
• তিনি ভয়শূন্য
• তিনি পবিত্র
• তাঁর কোন দূত নেই এবং তিনি সকল আত্মার সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করেন
• তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা যাবে না

পরম সুখ লাভের এবং সমস্ত দুঃখ নাশ করার এটাই একমাত্র পথ।


ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

courtesy by : http://agniveerinbanla.com/vedicishwar1.html
0 comments

মনু স্মৃতিতে নারী:

বৈদ্যিক সনাতন ধর্মে যতগুলি শাস্ত্রীয় গ্রন্থ আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত হলো মনু স্মৃতি। এর কারন বিবিধ তবে সারমর্মে বলা যায় তথাকথিত ধর্ম ব্যাবসায়ী ও যবনদের দ্বারা বিকৃত ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিজের মত করে অপব্যাখ্যা সৃষ্টি করাই এর প্রধান কারন। সেই সত্য আমি আমার পরবর্তীতে প্রতিটি লেখাতে তুলে ধরার চেষ্টা করবো প্রকৃত মনু স্মৃতির আলোকে। আজ আলোচনা করবো নারী সম্পর্কে মনু স্মৃতির ভাবনা। অনেক অপপ্রচার কথিত আছে যে মনু ছিলেন নারী বিদ্বেষী এবং বিভিন্ন ভাবে নারীদের হেয় করেছেন। তাহলে আমরা দেখে নেই কিভাবে মিথ্যা ভণ্ড প্রচারকরা মনু স্মৃতিকে হেয় করেছে।

যদি আমরা প্রকৃত অবিকৃত মনু স্মৃতি পর্যালোচনা করি তাহলে যে কেউই গর্বের সাথে বলতে পারবে যে পৃথিবীর অন্য যে কোন ধর্মীয় শাস্ত্রের চাইতে (অবশ্যই বেদের পরে) মনু স্মৃতিতে নারীকে অধিকতর উঁচু মর্যাদা দিয়েছে। এমনকি আধুনিক যুগে নারীবাদীদের গ্রন্থগুলোকে পুনঃ সংকলন করার প্রয়োজন পরে যাবে মনু স্মৃতির সমকক্ষ হওয়ার জন্য।

মনু স্মৃতিতে দ্বের্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করে যে নারী সমাজের কল্যানের ভিত্তি গড়ে দেয়।

৩.৫৬ যে সমাজ নারীকে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে সে সমাজ মর্যাদা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি লাভ করবে। এবং যে সমাজ নারীকে এই রূপ উঁচু স্তম্ভমূলে আসন দেয়নি সে সমাজ যতই উদার ও মহান কর্ম করুক না কেন সে সমাজকে দুঃখ, দূর্দশা ও ব্যার্থতার সম্মুখীন হতেই হবে।

এটা নারীজাতির জন্য তোষামোদি কোন বক্তব্য নয়। এটা চিরন্তন সত্য আর এই সত্য তাদের জন্য কঠোর ও ঝাঁঝালো হবে যারা নারীদের হেয় প্রতিপন্ন করে। কিন্তু যারা মাতৃ শক্তিকে স্তুতি করে, গুন কীর্তিন করে, পূজা করে তাদের জন্য তা সুমিষ্ট অমৃত। প্রকৃতির এই নিয়ম প্রতিটি পরিবার, সমাজ, সম্প্রদায়, দেশ, জাতি অথবা পুরো মানব সমাজের জন্য প্রযোজ্য।আমাদের প্রচুর ধন সম্পত্তি, শক্তি, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও আমরা দাসে পরিণত হব যদি আমরা মহা ঋষির এই উপদেশকে উপেক্ষা করি। শত্রুদের আক্রমণের পরে শতাব্দীর পর শতাব্দী তাঁর উপদেশ আমরা অমান্য করেছি এবং সেজন্য আমাদের অবস্থা মন্দ থেকে মন্দতর হয়েছিল। উনিশ শতকের শেষে এসে আমরা বৈদিক বার্তাটিকে গভীর ভাবে চিন্তা করতে শুরু করি এবং সেই কারনে আমরা অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখতে পারছি। সেজন্য রাজা রাম মোহন রায়, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, এবং স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মত সমাজ সংস্কারকদের তাদের প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ ও প্রণাম জানাই।

 অতীতে ইউরোপেও যুগের পর যুগ নারী সম্পর্কিত হাস্যকর ও ক্ষতিকারক বাইবেলীয় মতবাদ অনুসরণ করেছিল এবং সেজন্যই পৃথিবীর সব চেয়ে কুসংস্কারপূর্ন স্থান গুলোর মধ্যে ইউরোপ ছিল। পরবর্তীতে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং কঠোর ভাবে বাইবেলকে থামানো হয় সেজন্য ধন্যবাদ সংস্কার যুগকে। এর ফল স্বরূপ দ্রুত অগ্রসর হতে পেরেছিল তারা। কিন্তু এখন নারী বলতে সেই ধরা বাঁধা ভোগের সামগ্রী ইন্দ্রিয় সুখের উপকরণ হিসেবে দেখা হয় সম্মানপূর্ন মাতৃ শক্তি রূপে দেখা হয় না। এবং সেজন্য বৈষয়িক বিষয়ে তারা অনেক অধিকতর ও ব্যাপক উন্নতি লাভ করার পরেও পশ্চিমা বিশ্ব আজ অনিরাপত্তা এবং মনের শান্তির অভাব দ্বারা আক্রান্ত।

আসুন মনু স্মৃতির আরও কিছু শ্লোক পর্যালোচনা করি এবং আমাদের সমাজে সেগুলোকে প্রয়োগ করার উদ্যোগ নেইঃ

সুখী নারীর গুরুত্বঃ


৩.৫৫ পিতা, ভ্রাতা, স্বামী অবশ্যই তাদের কন্যা, ভগ্নি, স্ত্রী অথবা পরিবারের অন্যন্যা নারী সদস্যকে সুখে শান্তিতে রাখবে এবং মিষ্ট বাক্য, সম্মানসূচক আচরণ, উপহার ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের খুশী করবে। যারা পরিবারের সমৃদ্ধি ও সুখ শান্তি প্রত্যাশী তাদেরকে অবশ্যই পরিবারের নারী সদস্যদের সুখ শান্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং তারা যেন কোন দুঃখ দুর্দশাগ্রস্থের মুখোমুখি না হয়।

৩.৫৭ যে পরিবারে পুরুষের অপকর্মের জন্য নারীরা অসুখী হয় সেই পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে বাধ্য। এবং যে পরিবারে নারী সদস্যরা সুখী সে পরিবারের সবর্দা সুখ ও সমৃদ্ধি হতে বাধ্য।

৩.৫৮ একটি পরিবারে যেখানে নারী সদস্যদের অপমান অথবা অধিকার বঞ্চিত করা হয় এবং তারা পুরুষ সদস্যদের উপর অভিসম্পাত করে সেই পরিবার ধ্বংস হতে বাধ্য ঠিক যেমন করে বিষ মিশ্রিত খাদ্য এর ভক্ষনকারীকে মেরে ফেলে ঠিক সেই ভাবে।

৩.৫৯ যে গৌরব কামনা করে তাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তার পরিবারে সে সকল নারী সদস্যদের শ্রদ্ধার আসনে রেখেছে এবং গহনা, গুনগত পোষাক, সুখাদ্য দ্বারা তাদের সুখী ও আনন্দে রাখতে পেরেছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে নারীদের সর্বদা সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

৩.৬২ যে ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে সুখী রাখতে পারে না সে পুরো পরিবারের জন্য দুঃখ দুর্দশার কারন হয়। এবং যদি স্ত্রী সুখী থাকে তাহলে পুরো পরিবার সুখী পরিবার রূপে আবির্ভূত হয়।

৯.২৬ নারী পরবর্তী প্রজন্মকে জন্ম দেয়। তারা ঘরকে আলোকিত করে। তারা সৌভাগ্য ও পরম সুখ বয়ে আনে। সেজন্য নারীকুল সুখ সমৃদ্ধির সমার্থক।

এই শ্লোকের উপর ভিত্তি করেই বলা হয় যে নারী হচ্ছে ঘরের লক্ষী অর্থাৎ ঘরের সৌভাগ্যের দেবী। তা আজও পর্যন্ত মানা হয়।
৯.২৮ নারী হচ্ছে সকল যুগের সকল প্রকার সুখের মূল উৎস- সেটা হতে পারে শিশু জন্মদানের মাধ্যমে অথবা কোন মহৎ উদার কর্মের মাধ্যমে অথবা দাম্পত্য সুখের মধ্যে দিয়ে অথবা বড় বয়োজেষ্ঠ্যদের সেবার মধ্য দিয়ে। কথাটা অন্যভাবে বলা যায় যে নারী হচ্ছে সকল সুখের মূল কখন মা হিসেবে, কখনো কন্যা, কখনো স্ত্রী আবার কখনো আধ্যাত্মিক তপস্যার সঙ্গিনী হিসেবে। তার মানে হচ্ছে যে কোন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মে নারীদের অংশ গ্রহন অবশ্যিক।

৯.৯৬ নারী ও পুরুষের একে অপরের বিনা অসম্পূর্ন। তাই প্রাথমিক ধর্মীয় দ্বায়িত পালনে উভয়কেই অংশ গ্রহন করতে হবে।

তাই যারা নারীদের বেদ অথবা বৈদিক যজ্ঞ পালনে নারীদের দূরে রাখে তারা সনাতন ও মানবতা বিরোধী।

৪.১৮০ যিনি জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যাক্তি তিনি কখনই মা, কন্যা এবং স্ত্রী সহ পরিবারের কোন সদস্যদের সাথে লড়াই ও ঝগড়া করবে না।

৯.৪ যে পিতা তার কন্যাকে সুপাত্রে পাত্রস্থ করতে ব্যার্থ হবে সে নিন্দার যোগ্য। যে স্বামী তার স্ত্রী নূন্যতম চাহিদা পূরণ করবে না সে নিন্দার যোগ্য। যে পুত্র তার বিধবা মায়ের সেবা করবে না সে নিন্দার যোগ্য।

বহু বিবাহ হচ্ছে পাপঃ
৯.১০১ স্বামী ও স্ত্রীকে মৃত্যু অবধি এক সঙ্গে থাকা উচিত। তারা অন্য সঙ্গীর সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা করবে না এবং কোন অসদাচার যৌনাচার করবে না। সার কথা হচ্ছে এটাই মানব জাতির ধর্ম।

তাই যে সকল সমাজ ও সম্প্রদায় বহু বিবাহ, যৌনদাসী এবং খন্ড কালীন ( temporary marriage) বিবাহকে সমর্থন করে তারা দুঃখ দূর্দশায় জর্জরিত হবেই কারন তারা ধর্মের অন্তঃসার মতবাদকে উপেক্ষা করেছে, অস্বীকার করেছে, অসমর্থন করেছে।

নারীর স্বায়ত্তশাসনের অধিকারঃ

৯.১১ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়, স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনায়, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন, পুষ্টি এবং গৃহের সকল প্রকার ব্যবস্থাপনায় নারীদের স্বায়ত্তশাসন ও কর্তৃত্ব প্রদান করতে হবে।

এই শ্লোকের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে যারা মনে করত যে কোন বৈদিক ধর্মকর্ম নারীরা করতে পারবে না তা্রা সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা ধারণা পোষণ কারী। উপরন্তু নারী পুরুষ উভয়কেই এই ধর্মীয়নুষ্ঠান পালন করতে হবে। তাই যারা দাবী করে অথবা পরামর্শ দেয় যে নারীদের বেদ অধ্যায়ন ও চর্চা করার অধিকার নেই তারা মনু ও বেদ বিরোধী। এই ধরনের অন্ধ গোঁড়ারা জাতীর দুঃখ দূর্দশার কারন। তাই আমরা এই ধরনের মনোভাবকে কখনোই প্রশয় দেব না যা নারীদের হেয় করে।

৯.১২ পুরুষদের দ্বারা ( পিতা, স্বামী, পুত্র) নারীকে গৃহে আবদ্ধ করে রাখা হলেও সে সুরক্ষিত নয়। নারীদের আবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে বৃথা নিরর্থক। নারীদের নিরাপত্তা শুধুমাত্র তার নিজের ক্ষমতা এবং মনোভাবের মধ্য দিয়ে আসে।

এই শ্লোকে ব্যাখ্যা করেছে যে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য নারীদের গৃহে বন্দী করে রাখার প্রচেষ্টা বৃথা, অনর্থক এবং অসমর্থন যোগ্য। বরং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে যাতে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে এবং অসৎ সঙ্গ দ্বারা ভ্রান্ত হওয়াকে (Mislead) উপেক্ষা বা এড়িয়ে যেতে পারে। তাই ছোট্ট গৃহে নারীকুলকে আবদ্ধ করে রাখার প্রচলিত ধারণা হচ্ছে মনু স্মৃতি বিরোধী।

নারীর নিরাপত্তাঃ
৯.৬ এমনকি দূর্বল স্বামীকেও তার স্ত্রীকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে হবে।

৯.৫ নারী সর্বদা সকল প্রকার অসচ্চরিত্রতা, অনৈতিকতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। কারন নারী যখন চরিত্র হারায় তখন পুরো সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়।

৫.১৪৯ একজন নারীকে সর্বদা নিশ্চিত হতে হবে যে সে নিরাপদে আছে। তাকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদান করার দ্বায়িত তার পিতা, স্বামী ও পুত্রের উপর বর্তায়।

লক্ষ্য করে দেখুন এখানে নিরাপত্তা বলতে কিন্তু বন্দী বা চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ করে রাখার কথা বলা হচ্ছে না। ৯.১২ শ্লোকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে ইংগিত দিয়েছে। যে সমাজ লম্পট, দুষ্কৃতিকারীদের হাত থাকে তাদের নারীকূলকে রক্ষা পারে না তারা নিজের হাতে তাদের ধ্বংস হয়ে যাবার নির্মম ভাগ্য রচনা করছে।

এই অনুপ্রেরণার ফলে অনেক অনেক সাহসী যোদ্ধা পশ্চিমা ও আরবের বর্বরদের হাত থেকে তাদের নারীকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়েছিল। আলহা উদাল ও বীর যোদ্ধা মহারানা প্রতাপের আত্মত্যাগ আমাদের রক্তে আজও গৌরব ও অহংকারের ফিনকি বয়ে আনে।

এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয় যে আমাদের গৌরবের এমন ইতিহাসের ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের নারীরা চার দেয়ালের মাঝে অত্যাচারিত হয় নয়ত লম্পটের লালসার স্বীকার হয়। আমরা যদি আমাদের মা বোনদের সম্ভ্রম রক্ষার দ্বায়িত নেবার পরিবর্তে আমরাই যদি নারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ি অথবা আক্রমণ কারীদের প্রতিহত না করি তাহলে আমাদের কে সাহায্য করতে আসবে!

৯.৯৮ কোন অযোগ্য ব্যক্তির কাছে জোর পূর্বক বিবাহ না দিয়ে বরং কন্যাকে অবিবাহিত রাখাই শ্রেয়।

৯.৯০-৯১ প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পরে নারী তার নিজের জীবন সঙ্গী নিজে পছন্দ করে বেছে নিতে পারবে। যদি তার পিতা মাতা তার জন্য যোগ্য পাত্র সন্ধানে ব্যার্থ হয় তাহলে সে নিজেই নিজের পাত্র বেছে নেবে।

তাই কন্যার জীবন সঙ্গী নির্ধারন করবে তার পিতামাতা এই ধারণা মনু বিরুদ্ধ, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর পূর্ন অধিকার রয়েছে তার জীবন সঙ্গী বেছে নেবার। পিতামাতা বিবাহের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী নয়।

নারীর সম্পত্তির আধিকারঃ
৯.১৩০ একজন কন্যা একজন পুত্রের সমতুল্য। তার বর্তমানে কিভাবে সম্পত্তির উপর তার অধিকার কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে।

৯.১৩১ মায়ের ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর কেবল শুধুমাত্র কন্যারই অধিকার আছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে মনুর মতে একজন কন্যার পিতার সম্পত্তির উপর তার ভাইয়ের মত সমান অধিকার আছে এবং তার মায়ের সম্পত্তির উপর শুধুমাত্র তারই অধিকার আছে অন্য কারো নয়। নারীর প্রতি এই বিশেষ ব্যাবস্থার কারন হচ্ছে যাতে করে নারী কোন অবস্থায় অন্যের উপর নির্ভর করতে না হয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সুখী আলোকিত নারীকুলই সুখী সমাজের ভিত্তি গড়ে দেয়।

৯.২১২-২১৩ যদি কোন ব্যাক্তির স্ত্রী অথবা সন্তান না থাকে তাহলে তার সম্পত্তি তার ভাই-বোনদের মাঝে সমান ভাগে ভাগ করে দেবে। যদি জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা তার ভাই বোনদের মাঝে প্রাপ্য অংশ প্রদান করতে অস্বীকৃত জানায় তাহলে আইন অনুযায়ী সে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

নারীর সুরক্ষা বিধান নিশ্চিত করার জন্য মনু আরও কঠোরতর শাস্তি বিধানের পরামর্শ দিয়েছেন তাদের উপর যারা নারীর সম্পত্তি হনন করার চেষ্টা করবে , এমনিকি সে তাহার নিকট আত্নীয় হলেও তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

৮.২৮-২৯ যদি কোন নারী একা হয় কারন তার কোন সন্তান নেই অথবা তার পরিবারে কোন পুরুষ সদস্য নেই যে তাকে রক্ষা করবে অথবা সে বিধবা অথবা তার স্বামী বিদেশ গমন করেছে অথবা সে অসুস্থ, সেক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দ্বায়িত সরকার ও রাষ্ট্রের। যদি তার সম্পত্তি তার আত্মীয় বা বন্ধু হরন করে তাহলে সরকার দোষীদের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি প্রদান করবে এবং তার সম্পত্তি পুনুরুদ্ধার করে তাকে ফিরেয়ে দেবে।

নিষিদ্ধ পণ প্রথাঃ
৩.৫২ যে আত্মীয়সকল নারী অথবা তার পরিবারের ধন সম্পত্তি, জায়গা জমি, যান বাহন অথবা পোশাক পরিচ্ছদ ছিনিয়ে নেয় বা দখল করে তারা হচ্ছে অতিশয় বন্য প্রকৃতির মানুষ। ( বন্য প্রাণী বলতে আমরা ইতর শ্রেণীকেই বুঝি)

এইভাবেই মনুর পরামর্শ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের পণের প্রতি তীব্রভাবে না না সূচক বলা হয়েছে। তাই কেউ যেন নারীর ধন সম্পত্তি গ্রাস করার সাহস না করে।

ঠিক পরে শ্লোকে এই ধারণাটিকে আরও গভীরতর ভাবে প্রকাশ করেছে যে এমনকি শরীরী যে কোন বস্তুর (Tangible items) সামান্যতম বিনিময় ক্রয়/বিক্রয় বলে গণ্যএবং যা আর্দশ বিবাহের নৈতিক বিরুদ্ধ। এখানে মনু পন/যৌতুক নিয়ে বিয়ে করাকে অসুরী বিবাহ বলে উল্লেখ করেছে। (অসুরী বিবাহ হচ্ছে নিকৃষ্টতম বিবাহ)

নারী ক্ষতিসাধন করা হলে কঠোর শাস্তিঃ
৮.৩২৩ যারা নারী অপহরণ করবে তাদেরকে মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত করতে হবে।

৯.২৩২ যারা নারী, শিশু অথবা জ্ঞানী তপস্যিদের হত্যা করবে তাদের কঠিনতম শাস্তি প্রদান করতে হবে।

৮.৩৫২ যারা নারী ধর্ষন অথবা উৎপীড়ন করবে অথবা যৌন হয়রানি করবে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে যা দেখে অন্যদের মাঝে ভয় জন্মাবে এবং এমন অপরাধ করার চিন্তাও করবে না।

বর্তমানে ভারতের বিচার বিভাগ আশংকা জনক ভাবে বর্ধিত ধর্ষনের হার প্রতিরোধে সব চেয়ে উপযুক্ত শাস্তি হিসেবে খোজাকরনের পরামার্শ দিয়েছে। Refer http://timesofindia.indiatimes.com/india/Castrate-child-rapists-Delhi-judge-suggests/articleshow/8130553.cms
আমরা এই রকম আইনের সমর্থন করি।
৮.২৭৫ যদি কেউ মা, স্ত্রী অথবা কন্যার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনে তাহলে তাকে শাস্তি প্রদান করতে হবে।

৮.৩৮৯ যারা কোন যুক্তি সঙ্গত কারন ছাড়াই তাদের মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের পরিত্যাগ করে তাহলে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে।

নারী সর্বাগ্রে ( Ladies First):

সবার আগে নারী বা Ladies First এই ধারণা মনু স্মৃতি থেকেই এসেছে।

২.১৩৮ কোন যানবাহনে এক জন পুরুষ বৃদ্ধ মানুষ, অসুস্থ ব্যাক্তি, বোঝা বহনকারী, বর, রাজা, ছাত্র এবং নারীকে তার জায়গা ছেড়ে দিবে।

৩.১১৪ নববধু, কন্যা, এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীর খাওয়ার পরে কেউ খাদ্য গ্রহন করবে এমনি মেহমানদের আগেও।

উপরোক্ত এই আলোচনা থেকে এই কথা সুস্পষ্ট যে মনু স্মৃতিতে নারীকে যে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে তা পৃথিবীর অন্য যে কোন গ্রন্থে (অবশ্যই বেদ বাদে কারন মনুর এই ধারণার উৎসই হলো বেদ) তা অনুপস্থিত। এমনকি তার কাছাকাছিও নেই। আশা করি মনু স্মৃতিকে নিয়ে যে নারী বিদ্বেষী অপবাদ আছে তা এখন থেকে অনেকের মন থেকে ঘুচে যাবে চিরতরে। পাশাপাশি আমি আশা করবো আমরা আমাদের মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা, বান্ধবীদের যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা করে মাতৃ শক্তির মহিমা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সমাজে মঙ্গল বয়ে আনবো।






ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
collected from : http://agniveerinbanla.com/manunari1.html
1 comments

বেদ-সনাতন সমাজের মুল ভিত্তি, সর্ব্বোচ্চ এবং অলঙ্ঘনীয় ধর্মগ্রন্থ

হিন্দু আইনশাস্ত্র মতে নিত্য এবং অবশ্যপাঠ্য।কয়েকশতক আগেও বেদ শব্দটি ছিল প্রতিটি হিন্দুর প্রাত্যাহিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।কিন্তু সময়ের বিবর্তনে,অজ্ঞান তার করালগ্রাসে, ঔপনিবেশিকদের চক্রান্তে, তথাকথিত ধর্মপ্রচারক তথা ধর্মব্যবসায়ীদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে আমরা আজ মহান বেদ এর পথ থেকে বিভ্রান্ত।ফলস্ব রুপ আমরা আজ জাতি হিসেবে এক ক্রান্তিকালে দাড়িয়ে।জ্ঞানের অভাবে নিত্যনৈমিত্তিক হিসাবে অন্য ধর্মালম্বীদের কাছে অপমানের স্বীকার তো বটেই,নিজেদের প্রতিদিনকার জীবনযাপনেও অজ্ঞতার গ্লানিবয়ে নিয়ে চলেছি নিরন্তর।তাই আজকে কয়েকটি অপপ্রচার ও ভুল ধারনা নিয়ে কথা বলব।




এই কলিযুগে বেদ সাধারন মানুষের পক্ষে বেদ পরা সম্ভব নয় অথবা বেদ পরার পবিত্রতা মানুষের নেই এরকম একটা কথা অনেকেই প্রচার করেথাকেন।তারা আরও বলেন যে বেদবিহিত কর্মসমুহ কলিযুগের মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব নয়।আসলেই কি তাই?

প্রথমেই দেখি বেদ কি বলেছে-
" পুরো মহাবিশ্ব পাল্টে যেতে পারে,কিন্তু মহাবিশ্বের সংবিধান বেদ সকল কালের জন্য প্রযোজ্য যাসর্বদা অপরিবর্তিত থাকবে"
ঋগবেদ ১/৯০/২

বেদ সকল যুগ ও কালের জন্য প্রযোজ্য।এর বাণী কখনো অপ্রাসঙ্গিক হয়না,অচল হয়না।বেদ মন্ত্র কলিযুগে নিষ্ক্রিয়-এ ধরনের প্রলাপ তাই অনর্থক।সর্বযুগে ই তা আধুনিক।

অংতি সন্তং ন জহাত্যন্তি সন্তং ন পশ্যতি।
দেবস্য পশ্য কাব্যং ন মমার ন জীর্যতি।
অথর্ববেদ ১০.৮.৩২

অংতি সন্তম্- সমপিবর্ত্তী পরমাত্মাকে,ন পশ্যতি-দেখেনা,ন জহাতি-বর্জিত হয়না,দেবস্য কাব্যম-ঈশ্বরের বানী বেদকে,পশ্য-দেখ, ন মমার-অচল হয়না,ন জীর্যতি- অপ্রাসঙ্গিক হয়না,জীর্ন হয়না। অর্থাত্‍,মনুষ্য সমীপবর্ত্তী পরমাত্মাকে দেখেও না আবার তাহাকে ছাড়িতেও পারেনা।পরমাত্মার বানী বেদকে দেখ,কখনও অচল হয়না,কখনও অপ্রাসঙ্গিক বা জীর্ন হয়না। মনিষীরা কি বলেছেন একটু শুনি-

"বেদ হচ্ছে সকল সত্য জ্ঞানের উত্‍স।মহাকর্ষ শক্তি যেমন তা আবিস্কারের আগেও বিদ্যমান ছিল তেমনি মানবজাতি যদি এটা ভুলেও যায় তারপরও এটা অপরিবর্তিতভাবে বিদ্যমান থাকবে।ঠিক তেমনি বেদ" (স্বামী বিবেকানন্দ,Comp lete work,vol 1,paper on Hinduism)

> Maharishi Dayanand Saraswati যিনি কিনা প্রথম বেদের সম্পূর্ন সঠিক আধ্যাত্মিক অনুবাদ এর জন্য খ্যত এবং অপরাজেয় বিতার্কিক তিনি বলেছিলেন-

"বেদ হল একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যা সকল যুগের জন্য একেবারে সুবিধাজনকভাবে প্রযোজ্য।"


যেখানে বেদ বলছে এটা সব যুগের জন্য প্রযোজ্য সেখানে কতিপয় জ্ঞানপাপীর এহেন আচরন সন্দেহজনক। এবার আমরা আসি বাস্তবিক যুক্তি প্রয়োগে।ঈশ্বর হলেন ত্রিকালজ্ঞ অর্থাত্‍ যিনি অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যত্‍ সব জানেন।তাহলে তার পক্ষে কেন সম্ভব হবেনা এমন কোন গ্রন্থ প্রেরন করা যা সর্বযুগের মানুষের জন্য প্রযোজ্য?তাছাড়া এসব অবান্তর যুক্তি যারা পেশ করেন তারা নিজেরা কি কখনও বেদ পড়েছেন তাদের কথার সত্যতা যাচাই এর জন্য?তাদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি,পারলে বেদের এমন কোন নিয়ম দেখান যা বর্তমান যুগের জন্য প্রযোজ্য নয়।বরং এটা কলি যুগে আরও বেশি প্রয়োজন কারন বেদের কর্মকান্ড প্রতিদিনের নিত্যকর্মাদি, বিজ্ঞান,আইন, অর্থনীতি, রাজনীতি ব্যখ্যা করেছে যা সত্য যুগের তুলনায় কলি যুগেই বেশী দরকার।আরেকটি প্রশ্ন করেন তারা বেদের বৃহত্‍ কলেবর নিয়ে যেটা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন।কারন বৈদিক যুগেও এমন খুব কম লোকই ছিলেন যারা সব কটা বেদজানতেন।কেউ বা একটা,কেউ বা দুটা,কেউ তিনটা,কেউবা চারটাই জানতেন যাদের যথাক্রমে একবেদী,দ্বিবেদী,ত্রিবেদী ও চতুর্বেদী বলা হত।তবে ত্রিবেদী ও চতুর্বেদী ছিল হাতে গোনা।একবেদী রা ই ছিল সর্ব্বোচ্চ।আর তাছাড়া কেউ ই আপনাকে বেদ মুখস্ত করতে বলছেনা।আর এ ধরনের প্রচারকারীদের মধ্যে অনেকেই বলেন শ্রীমদভাগবত পড়ার কথা!!!এখন আপনারা ই বলুন,যেখানে যজুর্বেদ এর মন্ত্রসংখ্যা ২০০০ সেখানে এর বদলে এর কয়েকগুন বড় একটাপুরান কলেবরের দোহাই দিয়ে পরতে বলাটা কতটুকু যৌক্তিক?ঈশ্বর ই জানেন।


এখন আসি পবিত্রতার বিষয়ে।অনেকেই বলেন বেদপাঠ করার মত পবিত্রতা কলিযুগের মানুষের নেই।কথাটা যে কি পরিমান ভিত্তিহীন তা একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়।প্রথমেই আসি হিন্দু আইনশাস্ত্র মনুসংহিতা তে।

মনুসংহিতা


১/৮৫
"চারযুগে(সত্য,ত্রেতা, দ্বাপর,কলি)দায়িত্বের রকমভেদ রয়েছে কারন প্রতি যুগে মানুষের আয়ু হ্রাস পাচ্ছে"
১/৮৬
"সত্য যুগে ধ্যন ত্রেতায় জ্ঞান দ্বাপর এ যজ্ঞাদি ও কলিতে মোক্ষ(হরিনাম এর একমাত্র উপায় এ কথা কোথাও ইবলা হয়নি।হরিনাম খুব ই পবিত্র সন্দেহ নেই কিন্তু শুধু হরিনাম করলেই মোক্ষ লাভ হয়না)
১/৮৭
"কিন্তু মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষার্থে সবসময় ই চার ধরনের পেশা ভাগ করা হয়েছে"
১/৮৮
"ব্রাক্ষ্মনরা নিজ স্বার্থত্যগ করে কাজ করবে,বেদ পরবেএবং তা অপরকে শেখাবে"
১/৮৯
"ক্ষত্রিয়রা বেদ পরবে,লোকরক্ষা ও রাজ্যপরিচালনায় নিযুক্ত থাকবে"
১/৯০
"বৈশ্যরা বেদ পরবে,ব্যবসা ওকৃষিকর্মে নিজেদের নিযুক্তকরবে"
১/৯১
"শুদ্ররা বেদ পাঠ করবে এবং সেবামুলক কর্মকান্ডে নিযুক্ত থাকবে"

তাহলে কি স্পষ্ট হল?প্রতিযুগে কর্তব্য পালটাবে ঠিক তবে বেদ সর্বযুগেই পরা আবশ্যক।আর যার বেদপাঠ এর ই পবিত্রতা নেই তার হরিনাম যা সবচেয়ে পবিত্র তা নেয়ার পবিত্রতা থাকবে কি করে?সবচেয়ে খারাপ,অপবিত্র লোকটিও নিজেকে বেদপাঠ এর মাধ্যমে জ্ঞানালোকে পরিপুর্ন করতে পারে।তাই তো পবিত্র বেদ এ ঘোষনা করা হয়েছে
"আমি মানবকল্যানে যে বাণী তোমাদের দিয়েছি তা প্রচার কর ব্রাক্ষ্মন ক্ষত্রিয় বৈশ্য শুদ্র নারী পুরুষ পাপী পুন্যাত্মা নির্বিশেষে সকলকে" যজুর্বেদ ২৬/২



গত কয়েকশবছর এ,যখন বেদজ্ঞান এর অভাব কে কাজে লাগিয়ে স্বার্থান্বেষী ধর্মব্যবসায়ী ও তথাকথিত ব্রাহ্মন পরিচয় ধারী যারা কিনা দস্যু থেকেও অধম তারা তৈরী করেছিল অস্পৃশ্যতা নামক জঘন্য প্রথা।একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া তো দুরের কথা,অনেকেই একে অপরকে নিজেদের বানানো ছোট জাত বিবেচনা করে ছুঁতও না।অথচ পবিত্র বেদ বলেছে-
সমানী প্রপা সহ বোরন্নভাগঃ সমানে যোক্তো সহ বো যুনজমি।
সমঞ্চোহগ্নিং যপর্যতারা নাভি মিবাভিতঃ।।
অথর্ববেদ ৩.৩০.৬


বঃ-তোমাদের,পপা-পান,সমানী-একসঙ্গে একপাত্রে হউক,বঃ অন্নভাগাঃ-তোমাদের আহারও একসাথে হউক,বঃ-তোমাদিঘে,সহ-সঙ্গে,সমানে যোক্ত্রে-এক বন্ধনে,যুনজমি-যুক্ত করেছি,সম্যন্চঃ-সবাই মিলে,অগ্নিং সপর্যত-একসাথে উপাসনা কর(যজ্ঞাদি,ধ্যন),ইব-যেমন,অরাং নাভিং অভিত-যেমন করে রথচক্রের চারপাশে অর থাকে। অর্থাত্‍,হে মনুষ্যগন তোমাদের ভোজন ও আহার হোক একসাথে,একপাত্রে, তোমাদের সকলকে এক পবিত্র বন্ধনে যুক্ত করেছি,তোমরা সকলে এক হয়ে পরমাত্মার উপাসনা(যজ্ঞাদি,ধ্যন) কর ঠিক যেমন করে রথচক্রের চারদিকে অর থাকে!


ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

courtesy by: http://agniveerinbanla.com/misconception2.html
0 comments

৩৩ কোটি দেবতার ভ্রান্ত ধারণা

হিন্দুধর্মের অত্যন্ত প্রচলিত একটা মিসকনসেপসন হল ৩৩কোটি দেবতা।ঈশ্বর এক ো অদ্বিতীয় হলে দেবতান ৩৩ কোটি হয় কি করে! প্রকৃত ব্যপারটা দেখে নেয়া যাক-

দুইটি দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা করব।একটা হল "কোটি" শব্দটির অর্থ নিয়ে।আরেকটা হল "দেবতা" শব্দটা নিয়ে।প্রথমেই কোটি শব্দটি নিয়ে বলি।কোটি অর্থ প্রচলিত বাংলায় Crore হলেও সংস্কৃত ভাষায় তার অর্থ"ধরন" বা "প্রকার"।আর বেদ এ দেবতা বলতে কোন শব্দ নেই।মুল সংস্কৃত শব্দটি হল দেব যার অর্থ শক্তি।অর্থাত্‍ ঈশ্বরের ৩৩ধরনের শক্তি।এ বিষয়ে প্রথমেই যজুর্বেদ এর একটি মন্ত্র দেখে নেয়া যাক-


ত্রয়স্ত্রিং শতাস্তুবত ভুতান্য শাম্যন্ প্রজাপতিঃ।
পরমেষ্ঠ্যধিপতিরাসীত্‍।।
যজুর্বেদ ১৪.৩১


অর্থাত্‍ যাঁহার প্রভাবে গতিশীল প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিতহয়,প্রজার পালক, সর্বব্যপক,অন্তরীক্ষে ব্যপ্ত,,তাঁহার মহাভূতের তেত্রিশ প্রকার গুনের স্তুতি কর। এখন তেত্রিশ ধরনের শক্তির ব্যখ্যা দেখা যাক।শতপথ ব্রাহ্মন ১৪.৫ এ যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি শাকল্যকে বলছেন-দেব ৩৩টি যা পরমেশ্বরের মহিমার প্রকাশক।

৮ বসু,১১রুদ্র,১২ আদিত্য,ইন্দ্র,প্রজাপতি।

শতপথ ব্রাহ্মন,

মনুসংহিতা ও বৃহদারন্যক উপনিষদ এ এর বিস্তারিত বর্ননা দেয়া আছে।

বৃহদারন্যক উপনিষদ ৩.৯.২-১১
"বিদগ্ধ শাকল্য যাজ্ঞবল্ক্যকে জিজ্ঞেস করলেন,হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব(শক্তি) কয়টি? যাজ্ঞবল্ক্য বললেন ৩৩টি।তখন শাকল্য আবার বললেন,হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?তখন তিনি আবার বললেন ৬টি।শাকল্য আবার বললেন,হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?তখন যাজ্ঞবল্ক্য উত্তর দিলেন ৩টি।আবার শাকল্য জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তর দিলেন দুইটি।তখন শাকল্য আবার জিজ্ঞেস করলেন,হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন দেড়টি।শাকল্য আবার জিজ্ঞেসকরলেন হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?তখন তিনি বললেন একটি!তখন শাকল্য জিজ্ঞেস করলেন এই ৩৩টি দেব কি?যাজ্ঞবল্ক্য বললেন ৮বসুযা হল

অগ্নি
পৃথিবী
বায়ু
অন্তরীক্ষ
আদিত্য
দ্যৌ
চন্দ্র
নক্ষত্র

১১ রুদ্র যা হল

প্রান(নিশ্বাস)
অপান(প্রশ্বাস)
ব্যন
সমান
উদাম
নাগ
কুর্ম্ম
কৃকল
দেবদত্ত
ধনন্জয়
এবং জীবাত্মা

১২ আদিত্য হল ১২মাস,ইন্দ্র,প্রজাপতি অর্থাত্‍ মোট ৩৩টি।ইন্দ্র হল বিদ্যুত্‍ আর প্রজাপতি হল যজ্ঞ(যে কোনশুভ কর্ম)।তখন শাকল্য আবার জিজ্ঞেস করলেন তাহলে ৬টা দেব কি কি? তখন তিনি উত্তর দেন অগ্নি,পৃথিবী, বায়ু,অন্তরীক্ষ, আদিত্য,দ্যুঃ।তখন তিনি বললেন তাহলে ৩টি দেব কি?তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন তিনলোক(ভ্যু,দ্যু,অন্তরীক্ষ)।তারপর শাকল্য আবার বললেন সেই দুইটি দেব কি কি?খাদ্য এবং প্রান-উত্তর দিলেন যাজ্ঞবল্ক্য।তখন আবার শাকল্য জিজ্ঞেস করলেন সেই দেড়টি কি?তখন যাজ্ঞবল্ক্য উত্তর দিলেন যিনি প্রবাহিত হন।তখন শাকল্য বললেন সেই এক এবং অদ্বিতীয় যিনি প্রবাহিত হন তাঁকে আপনি কিভাবে দেড় বললেন?তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন যখন তা প্রবাহিত হয় তখন ই সবকিছু উত্‍পন্ন হতে শুরু করে।তাহলে কে সেই এক? প্রান!!!হ্যঁ প্রান(পরমাত্মা) সেই এক এবং অদ্বিতীয় দেব যাকে সবাই তত্‍ বলে জানে"

অসাধারন এই শৈল্পিক ও গভীর দার্শনিক কথোপকথন ব্যখ্যা করছে সেই এক এবং অদ্বিতীয় পরব্রহ্ম থেকে সবকিছু উত্‍পন্ন হতে শুরু করে।একে একে অগ্নি,বায়ু,আদিত্য,ভু,দ্যু এবং অন্তরীক্ষলোক, বিদ্যুত্‍শক্তি সবকিছুই তার থেকে তৈরী হয় যাদেরকে ৩৩টি ভাগে ভাগ করা হয় এবং এদেরকে বলা হয় দেব অর্থাত্‍ শক্তি।আর দিনশেষে শক্তি একটাই যা থেকে সকল কিছু আপাতশক্তিপ্রাপ্ত হয়।আর এই শক্তিই এক এবং অদ্বিতীয় পরমাত্মা। আশা করি এর মাধ্যমে দেবতা এবং ৩৩কোটি দেবতা সম্বন্ধে আপনাদের ভুল ধারনা দুর হবে।

ওঁ শান্তি শান্তি 

courtesy by : http://agniveerinbanla.com/home.html
1 comments

আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী কার্ল সেগান ও সনাতন ধর্ম

আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী কার্ল সেগান সনাতন ধর্ম
সম্পর্কে বলেনঃ "হিন্দু ধর্ম ই একমাত্র ধর্ম যেখানে,মহাবিশ্বের সৃষ্টি-
ধ্বংসের অসংখ্য চক্রের কথা স্বীকার করা হয়েছে।আর
হিন্দুদের সময়-মান ও আধুনিক সময়-মানের কাছাকাছি।পৃথিবী
র দিবা-রাত্রির চব্বিশ ঘন্টার চক্র থেকে শুরু করে ব্রহ্মার
৮.৬৪ বিলিয়ন বছর ব্যাপি দিবা-রাত্রির চক্রের ধারণা ও
এখানে রয়েছে..যা সূর্য ও চন্দ্রের আয়ুস্কালের চেয়ে বেশি,আর বিগ ব্যাঙ বা বৃহত্ বিস্ফোরণ এর সময়কালের চেয়ে দ্বিগুণ।
এমন কি আরো বড় টাইম -স্কেল এর ধারণা হিন্দু
শাস্ত্রে রয়েছে। হিন্দুরা সৃষ্টিজগত কে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর প্রাচীন
বলে জানে।আশ্চর্যের বিষয় এই যে,এসব আধুনিক
ধারণা হিন্দুরা সেই সময় টাতে করেছিল যখন
খ্রিস্টানরা পৃথিবীর ইতিহাস কে মাত্র হাজার বছরের আর
মায়ান রা পৃথিবীর ইতিহাস কে মিলিয়ন বছর
পুরনো বলে ভেবেছিল।" সত্যি ই আমাদের আছে এক সমৃদ্ধ অতীত আর এক সম্ভাবনাময়
বর্তমান।ভবিষ্যত্ কে আলোকিত করতে আমাদের অতীত ঐতিহ্য
কে পাথেয় করেই এগিয়ে যেতে হবে।
নমস্কার।।
ওঁ শান্তি।।
Courtesy by Dhipika chokroborti
1 comments

বহু মত ,এক পথ


আদর্শ পরিবারে প্রতি সদস্যের মত ভিন্ন ,কিন্তু
তারা এক -ই ছাতার তলায়
সুখে দুখে একসাথে কাটায়। মতান্তর ঘটলেও বৃহৎ
আনন্দ বা বড় বিপদের দিনে সেই মতভেদ
কে দূরে সরিয়ে তারা পরস্পরের দিকে সহজগিতার
হাত বাড়িয়ে দেয়। হিন্দু জাতিও
তেমনি একটি পরিবার। এই বৃহৎ
পরিবারে স্বাভাবিক ভাবেই ভিন্ন ভিন্ন মত
থাকবে। থাকবে মতভেদ। কিন্তু সেই মতভেদ যেন
আমাদের মিলনের অন্তরায় না হয়। আজ হিন্দু
জাতি রুপ পরিবারে বড় সঙ্কট। মতান্তরের অতি গন
তান্ত্রিকতায় হিন্দু ঐক্য ধ্বংস হয়ে গেছে। সে জন্য
কেউ কেউ হয়ত বিচলিত হয়ে এক গুরু ,এক মন্ত্র
ইত্যাদি -এর কথা বলেছেন। কিন্তু এইভাবে অহিন্দু
জাতিগুলির মত এক বিশেষ মতবাদ জোর
করে গিলিয়ে এ সমস্যার চট জলদি সমাধান হবার
নয়।
মত ভেদ (অর্থাৎ গুরু ,মন্ত্র ,ইষ্ট, আচার
ইত্যাদি নির্বাচনে স্বাধীনতা ) স্বীকার
করে আমাদের উচিত পথভেদ দূর করা। যার
যেভাবে ইচ্ছা ঈশ্বরকে ডাকুক, কিন্তু সেই ডাকার
অভিমুখ যেন সনাতন হিন্দুত্তের দিকে থাকে।
তা যেন নাস্তিক, মানবতাবাদি (ওরফে হিন্দু
নিন্দুক) , সেকুলারদের কিম্বা ছদ্ম হিন্দুদের মত
অধর্মের সাথে ধর্মের কোলাকুলিতে পরিনত না হয়।
তাই একুশ শতকের হিন্দুদের একটাই পথ হোক ----সেই
পথ সনাতন হিন্দু ধর্ম কে সর্বান্তকরণে অনুসরন
করা। যত মত তত পথ নয়। বহু মত ,এক পথ ।
লিখেছেন : দেবাশিস সিংহ
0 comments

শ্রীকৃষ্ণের ১৬০০০ মহীয়সী !!


যিনি রাধাকৃষ্ণ জানতে পেরেছেন চিনতে পেরেছেন এই তত্ত্ব তাঁকে কোনদিন ভাবায়নি কেন না তিনি অজ্ঞানতার গভীর অন্ধকার থেকে মুক্ত । সৌর জগতে নানা কিছু বিদ্যমান যাহা বিজ্ঞান আমাদের একটি কাল্পনিক ধারণা তৈরি করে বুঝাতে চেষ্টা করে মাত্র । এখনকার অভিজান এই সৌর জগতের বাহিরে কি আছে তাই জানার উদ্দেশ্যে, হয়ত কিছুদিন পর আরেকটি কাল্পনিক ধারণা মাত্র উপস্থাপন করবে ।
আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বী আমাদের প্রবিত্র ধর্ম গ্রন্থ বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। বেদ অর্থে আমরা পরিচিতি পাই "জ্ঞান" ,বেদ শব্দটি এসেছে "বিদ" থেকে যার অর্থ "জানা, পবিত্র জ্ঞান"। এই জ্ঞান আমাদের বর্ননা করে বুঝানো হয়েছে উপনিষদ ও পুরাণের মাধ্যমে । কোন কঠিন বিষয় বুঝানোর জন্য আমরা নানা উদাহরণ যোগ করি যেন যাকে বোঝানো হইতেছে সেযেন বুঝে উঠতে পারে, তাই পূরাণ এখন তাহলে প্রশ্ন আসবে এই সকল চরিত্র কি কাল্পনিক না কাল্পনিক নয়, আমাদের বোঝানের জন্য বিশ্লেষন কারীর অভাব তাই আজ আমরা নানা জনের প্রশ্নের সামনে মাথা নত করে দাঁড়াই । আমি ও একজন সেই দলের মহাত্মা স্বামীবিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র, শ্রীলপ্রভুপাদ, শ্রীধর গোস্বামী সহ নানা ভাগবতের রচিত গ্রন্থ পাঠে আমি কিঞ্চিৎ জানতে পেরেছে, আমার এই সল্প জ্ঞান নিয়েই আমি এত বড় দুঃসাহস দেখাইতেছি,

শ্রীকৃষ্ণের জীবনী সম্বন্ধে একমাত্র গ্রহনযোগ্য গ্রন্থ ব্যসদেব এর মহাভারত।সেই ব্যসদেব মহাভারতে তাঁর সম্বন্ধে কি লেখা আছে দেখা যাক-
"শ্রীকৃষ্ণের একমাত্র স্ত্রী ছিলেন রুক্সিনীদেবী যিনি ছিলেন পরম ধার্মিক,বিদূষী ও পতিব্রতা।সন্তান জন্মদানের পূর্বে তাঁরা উভয়েই বদরিকাশ্রমে যান ও দীর্ঘ বারবছর কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করেন।এরপর রুক্সিনীদেবী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন যার নাম রাখা হয় প্রদ্যুম্ন।"
[ব্যসকৃত মহাভারত,সৌপ্তিকাপর্ব, ২/২৯-৩০,তথ্যসূত্র- শ্রীকৃষ্ণের জীবনী নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ৩৬ বছরের সুদীর্ঘ গবেষনালব্ধ ফলাফল]

পূরাণে যে কত জন মহিয়ষিনীর নাম পাওয়া যায় তত্ত্ববিচার করিলে তাঁহারা সকলেই একজনই । মূলকথা এখনও আমরা শ্রীকৃষ্ণ কে চিনতে পারি নাই তাই আমাদের এই অজ্ঞানতা ।
বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন- ভারতবর্ষের অধিকাংশ হিন্দুর, বাঙ্গালা দেশের সকল হিন্দুর বিশ্বাস যে, শ্রীকৃষ্ণ ঈশ্বরের অবতার। কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ং—ইহা তাঁহাদের দৃঢ় বিশ্বাস। বাঙ্গালা প্রদেশে, কৃষ্ণের উপাসনা প্রায় সর্বব্যাপক। গ্রামে গ্রামে কৃষ্ণের মন্দির, গৃহে গৃহে কৃষ্ণের পূজা, প্রায় মাসে মাসে কৃষ্ণোৎসব, উৎসবে উৎসবে কৃষ্ণযাত্রা, কণ্ঠে কণ্ঠে কৃষ্ণগীতি, সকল মুখে কৃষ্ণনাম। কাহারও গায়ে দিবার বস্ত্রে কৃষ্ণনামাবলি, কাহারও গায়ে কৃষ্ণনামের ছাপ। কেহ কৃষ্ণনাম না করিয়া কোথাও যাত্রা করেন না; কেহ কৃষ্ণনাম না লিখিয়া কোন পত্র বা কোন লেখাপড়া করেন না; ভিখারী “জয় রাধে কৃষ্ণ” না বলিয়া ভিক্ষা চায় না। কোন ঘৃণার কথা শুনিলে “রাধে কৃষ্ণ‌!” বলিয়া আমরা ঘৃণা প্রকাশ করি; বনের পাখী পুষিলে তাহাকে “রাধে কৃষ্ণ” নাম শিখাই। কৃষ্ণ এদেশে সর্বব্যাপক।
কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ং। যদি তাহাই বাঙ্গালীর বিশ্বাস, তবে সর্বসময়ে কৃষ্ণরাধনা, কৃষ্ণনাম, কৃষ্ণকথা ধর্মেরই উন্নতিসাধক। সকল সময়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করার অপেক্ষা মনুষ্যের মঙ্গল আর কি আছে? কিন্তু ইঁহারা ভগবান্‌কে কি রকম ভাবেন? ভাবেন, ইনি বাল্যে চোর—ননী মাখন চুরি করিয়া খাইতেন; কৈশোরে পারদারিক—অসংখ্য গোপনারীকে পাতিব্রত্যধর্ম হইতে ভ্রষ্ট করিয়াছিলেন; পরিণত বয়সে বঞ্চক ও শঠ-বঞ্চনার দ্বারা দ্রোণাদির প্রাণহরণ করিয়াছিলেন। ভগবচ্চরিত্র কি এইরূপ? যিনি কেবল শুদ্ধসত্ত্ব, যাঁহা হইতে সর্বপ্রকার শুদ্ধি, যাঁহার নামে অশুদ্ধি, অপুণ্য দূর হয়, মনুষ্যদেহ ধারণ করিয়া সমস্ত পাপাচরণ কি সেই ভগবচ্চরিত্রসঙ্গত? https://www.facebook.com/gitaschool
ভগবচ্চরিত্রের এইরূপ কল্পনায় ভারতবর্ষের পাপস্রোত বৃদ্ধি পাইয়াছে, সনাতনধর্মদ্বেষিগণ বলিয়া থাকেন। এবং সে কথার প্রতিবাদ করিয়া জয়শ্রী লাভ করিতেও কখনও কাহাকে দেখি নাই। আমি নিজেও কৃষ্ণকে স্বয়ং ভগবান্ বলিয়া দৃঢ় বিশ্বাস করি; পাশ্চাত্য শিক্ষার পরিণাম আমার এই হইয়াছে যে, আমার সে বিশ্বাস দৃঢ়ীভূত হইয়াছে। ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের যথার্থ কিরূপ চরিত্র পুরাণেতিহাসে বর্ণিত হইয়াছে, তাহা জানিবার জন্য, আমার যতদূর সাধ্য, আমি পুরাণ ইতিহাসের আলোচনা করিয়াছি। তাহার ফল এই পাইয়াছি যে, কৃষ্ণসম্বন্ধীয় যে সকল পাপোপাখ্যান জনসমাজে প্রচলিত আছে, তাহা সকলই অমূলক বলিয়া জানিতে পারিয়াছি, এবং উপন্যাসকারকৃত কৃষ্ণসম্বন্ধীয় উপন্যাস সকল বাদ দিলে যাহা বাকি থাকে, তাহা অতি বিশুদ্ধ, পরমপবিত্র, অতিশয় মহৎ, ইহাও জানিতে পারিয়াছি। জানিয়াছি—ঈদৃশ সর্বগুণান্বিত, সর্বপাপসংস্পর্শশূন্য, আদর্শ চরিত্র আর কোথাও নাই। কোন দেশীয় ইতিহাসেও না, কোন দেশীয় কাব্যেও না।
কি প্রকার বিচারে আমি এরূপ সিদ্ধান্তে উপস্থিত হইয়াছি, তাহা বুঝান এই গ্রন্থের একটি উদ্দেশ্য। কিন্তু সে কথা ছাড়িয়া দিলেও এই গ্রন্থের বিশেষ প্রয়োজন আছে। আমার নিজের যাহা বিশ্বাস, পাঠককে তাহা গ্রহণ করিতে বলি না, এবং কৃষ্ণের ঈশ্বরত্ব সংস্থাপন করাও আমার উদ্দেশ্য নহে। এ গ্রন্থে আমি তাঁহার কেবল মানবচরিত্রেরই সমালোচনা করিব। তবে এখন হিন্দুধর্মের আলোচনা কিছু প্রবলতা লাভ করিয়াছে। ধর্মান্দোলনের প্রবলতার এই সময়ে কৃষ্ণচরিত্রের সবিস্তারে সমালোচনা প্রয়োজনীয়।
(চলবে) হয়ত আমার এই অনুসন্ধান সম্পুর্ন নয় তারপরেও আমার প্রত্যাশা আমাদের অজ্ঞানতা একদিন দূরীভূত হবেই হবে আর আমরা এইতত্ত্ব সেইদিন বুঝিয়া উঠিতে পারিব ।

বেদবাণীঃ ঋগবেদ এর তিনটি মন্ত্র যথাক্রমে ১.২৪.৭,৪.৩.২ ও ১০.৭১.৪ এ বলা হয়েছে "যায়েব পত্য উষতে সুভাসহ অর্থাত্‍ যেভাবে জ্ঞানীগন জ্ঞানপ্রাপ্ত হন ঠিক সেভাবে একক পতি-পত্নীযুক্ত সংসার আনন্দ ও সুখ লাভ করে।

ঋগবেদ ১০.৮৫.২৩ এ বলা হয়েছে স্বামী ও স্ত্রীর সবসময় উচিত পুনরায় বিয়ে না করার ব্যপারে সংযমী হওয়া।

অথর্ববেদ ৭.৩৮.৪ বলেছে "স্বামীর উচিত শুধু একমাত্র স্ত্রীর প্রতি অনুরক্ত থাকা।দ্বিতীয় কোন নারীর প্রতি অনুরাগ তো দুরে থাক,অন্যকোন নারী সম্বন্ধে তার আলোচনাও করা উচিত নয়।"
বহুবিবাহ নিষিদ্ধের এর চেয়ে স্পষ্ট নিদর্শন আর কি থাকতে পারে!

ঋগবেদ ১০.১০৫.৮ বলেছে যে একাধিক স্ত্রীর অস্তিত্ব মানেই জাগতিক সকল দুঃখের আনায়ন।

ঋগবেদ ১০.১০১.১১ বলেছে দুই স্ত্রীযুক্ত ব্যক্তিকে সেভাবেই কাঁদতে হয় ঠিক যেভাবে চলমান রথের ঘোড়া উভয় দিক থেকে চাবুক এর আঘাতে হ্রেষা রব করে!

ঋগবেদ ১০.১০১.১১ এও বলেছে যে একাধিক স্ত্রী জীবনকে লক্ষহীন করে তোলে।

অথর্ববেদ ৩.১৮.২ বলেছে একজন নারীর কখনো যেন কোন সতীন(Co-wife) না হয়।

[ঈশ্বর মঙ্গলময়, কৃষ্ণকৃপা হলে ভক্তের কোন তত্ত্বই অজ্ঞাত থাকে না ]

পিতৃদেব ডাঃ সুদেব চন্দ্র দাসের আশির্বাদে,
দাসানুদাস শ্রীমান কৃষ্ণকমল ।
মেহারকালীবাড়ি , শাহ্‌রাস্তি, চাঁদপুর, বাংলাদেশ ।
๑۩๑ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল ๑۩๑
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger