সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

আমাদের ধর্মে নারীকে অনেক উপরে স্থান দেয়া হয়েছে

আমাদের ধর্মে নারীকে অনেক উপরে স্থান দেয়া হয়েছে, ইভেন আমাদের দেবতার সাথে সাথে রয়েছে অনেক দেবীও। সকল দেবীদের রয়েছে অনেক উচ্চ স্থান, যেমন মা দুর্গা শক্তির দেবী, মা সরস্বতী বিদ্যার দেবী, মা লক্ষ্মী ধন সম্পদের দেবী, মা কালী সংহার কারিণী আরও অনেক। তবে আমাদের (হিন্দুদের) দের কিছু নিয়ম নীতির বা আচার ব্যবহার এর জন্যই আজও নারীরা অনেক দিক দিয়ে অবহেলিত। যেমন -
* পুত্র সন্তান না থাকলে পিতৃপুরুষের তর্পণ হয় না। তাই বাবা মা পরিবার পরিজন ছেলে সন্তান কামনা করে। নিজেদের উদ্ধারের আশায়।
* মেয়েদের বেদ পরা নিষিদ্ধ।
* পিতা মাতার ধারনা ছেলেরাই তাদের বৃদ্ধ বয়সে দেখাশুনা করবে। আর মেয়েরা তো অন্য পরিবারে চলে যাবে।
* ছেলে বাবা মায়ের নাম উজ্জ্বল করবে । এক্ষেত্রে মেয়ের কোন ভুমিকাই নেই।
* ছেলের নাম করন ধুম ধাম করে হবে, আর মেয়ের নাম করনে কোন রকম নিয়ম পালন।
* সবাই ছেলে হলে যতটা খুশি মেয়ে হলে তার ২০% খুশি হয়, বরং তার থেকেও কম।
* বিয়ের সময় ছেলেরা যৌতুক নিয়ে বিয়ে করবে, আর মেয়ে পক্ষ যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিবে।
* শিক্ষার অধিকার ছেলেদের বেশি থাকবে, তাদের অনেকদুর পড়াবে, আর মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষাই যথেষ্ট, কারন তারা অন্যের বারি চলে যাবে।
*শ্রাদ্ধ / পুজার অগ্রাধিকার ছেলেদের এ থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি।
এছারা বাবা মা বা পরিবারও অনেক সময় ভুক্তভুগী হবার ভয়ে আগের চেক করে নেয় সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে।ছেলে হলে খুশি মনে রাখবে আর মেয়ে হলে রাখবে কিন্তু এই মনে যে কি আর করা, ঈশ্বরের দান, মেরে তো আর ফেলা যায় না। আবার অনেক সময় মেয়ে সন্তান হলে নষ্ট করেও ফেলে।
আর এ সকল কিছুর জন্য নারীরা আজও অবহেলিত, যতই আমরা বলি নারী পুরুষ সমান অধিকার, তার সত্যতা যে কতটুকু তা চোখ খুললেই চোখে পরে।
যদি কিছু ভুল বলে থাকি ক্ষমা করবেন। আমি শুধু এটুকুই জানি ছেলে হই আর মেয়ে হই, আমি একজন সনাতনী হিন্দু । আর এই হিন্দুত্ব আমার গর্ব, জীবনের চরম পরাজয়ের কারন নয়।

(মৌনতা)
1 comments

শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা (নিজে পড়ুন ও অন্যকে শেয়ার করুন)

শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, শান্তি ও মৈত্রীর
পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই (শ্রী বিগ্রহ ) গণউত্সব লগ্নে মন্দির
ছেড়ে রাজপথে সবাইকে দর্শন দানের জন্য বেরিয়ে আসেন। সব জগতের
পরম প্রভু হচ্ছেন শ্রী জগন্নাথদেব। ভক্তদের প্রেমের
বশবর্তী হয়ে তিনি নিজেকে রাজপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভক্তদের
অনুমতি দিয়েছেন। শ্রী জগন্নাথদেব অত্যন্ত কৃপাশীল। যারা মন্দিরে তাকে দর্শন
করতে আসে না, তাদের সবাইকে কল্যাণ ঐক্য কৃপা আশীর্বাদ
করতে তিনি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। একবার শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবী সূর্যগ্রহণের
কুরুক্ষেত্রে সামন্ত পঞ্চতক তীর্থে স্নান করতে যান। এখনও
কুরুক্ষেত্রে সূর্যগ্রহণের সময় স্নান করতে বহু পুণ্যার্থী গমন করেন।
পাঁচ হাজার বছর আগে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকা থেকে গিয়েছিলেন কুরুক্ষেত্রে।
শুনে সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটলেন কৃষ্ণকে দর্শন করতে। কৃষ্ণ তখন
রথে উঠে বলেছেন, তিনি কুরুক্ষেত্র থেকে তার রাজধানী দ্বারকায় ফিরে যাবেন। সঙ্গে রয়েছেন শ্রী বলরাম ও সুভদ্রা। চারপাশে রাজপুরুষ, সৈনিক, কৃষ্ণের বেশও অন্যরকম। গোপবেশের
পরিবর্তে রাজবেশ। হাতে বাঁশির পরিবর্তে ধনুর্বাণ।
কোমরে তলোয়ার/বর্ম, মাথায় মুকুট।
কৃষ্ণকে এভাবে দেখে গোপাদের মন ভরল না। বিশেষ করে রাধারাণী বললেন, এই কৃষ্ণ আমাদের সেই কৃষ্ণ নয়।
তাকে আমরা চিনতাম, বৃন্দাবনের বনে বনে আমাদের
সঙ্গে সে লীলা খেলা করত। সেই কৃষ্ণের মাথায় ময়ূরের পাখা, তার
পরণে পীত বসন, গলায় বনমালা, হাতে বাঁশি আর এই কৃষ্ণের
পরণে তো রাজবেশ। রাধারাণীর সেই মনোভাব বুঝতে পেরে বাজবাসীরা কৃষ্ণের রথের
দড়ি ধরে। কৃষ্ণের রথের ঘোড়াগুলো ধরে টানতে টানতে নিয়ে চললেন
বৃন্দাবনের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে বলরাম, তিনিও ব্রজবাসীদের শৈশবের,
কৈশোরের সাথী। তাকেও রথে চড়ালেন। সুভদ্রা বোন, তাকেও
তারা নিয়ে চললেন। জগন্নাথপুরীর এই রথযাত্রাটি হচ্ছে গোপাদের সেই
কুরুক্ষেত্র রথযাত্রার দ্যোতিক। রথের সময় জগন্নাথ বা কৃষ্ণকে নিয়ে যাওয়া হয় নীলাচল থেকে সুন্দরাচলে। যেখানে কৃষ্ণ
ব্রজবাসীদের সঙ্গে আট দিন ছিলেন।
শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, শান্তি ও মৈত্রীর পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই (শ্রী বিগ্রহ ) গণউত্সব লগ্নে মন্দির ছেড়ে রাজপথে সবাইকে দর্শন দানের জন্য বেরিয়ে আসেন। সব জগতের পরম প্রভু হচ্ছেন শ্রী জগন্নাথদেব। ভক্তদের প্রেমের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজেকে রাজপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভক্তদের অনুমতি দিয়েছেন। শ্রী জগন্নাথদেব অত্যন্ত কৃপাশীল। যারা মন্দিরে তাকে দর্শন করতে আসে না, তাদের সবাইকে কল্যাণ ঐক্য কৃপা আশীর্বাদ করতে তিনি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। একবার শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবী সূর্যগ্রহণের কুরুক্ষেত্রে সামন্ত পঞ্চতক তীর্থে স্নান করতে যান। এখনও কুরুক্ষেত্রে সূর্যগ্রহণের সময় স্নান করতে বহু পুণ্যার্থী গমন করেন। পাঁচ হাজার বছর আগে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকা থেকে গিয়েছিলেন কুরুক্ষেত্রে। শুনে সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটলেন কৃষ্ণকে দর্শন করতে। কৃষ্ণ তখন রথে উঠে বলেছেন, তিনি কুরুক্ষেত্র থেকে তার রাজধানী দ্বারকায় ফিরে যাবেন। সঙ্গে রয়েছেন শ্রী বলরাম ও সুভদ্রা। চারপাশে রাজপুরুষ, সৈনিক, কৃষ্ণের বেশও অন্যরকম। গোপবেশের পরিবর্তে রাজবেশ। হাতে বাঁশির পরিবর্তে ধনুর্বাণ। কোমরে তলোয়ার/বর্ম, মাথায় মুকুট। কৃষ্ণকে এভাবে দেখে গোপাদের মন ভরল না। বিশেষ করে রাধারাণী বললেন, এই কৃষ্ণ আমাদের সেই কৃষ্ণ নয়। তাকে আমরা চিনতাম, বৃন্দাবনের বনে বনে আমাদের সঙ্গে সে লীলা খেলা করত। সেই কৃষ্ণের মাথায় ময়ূরের পাখা, তার পরণে পীত বসন, গলায় বনমালা, হাতে বাঁশি আর এই কৃষ্ণের পরণে তো রাজবেশ। রাধারাণীর সেই মনোভাব বুঝতে পেরে বাজবাসীরা কৃষ্ণের রথের দড়ি ধরে। কৃষ্ণের রথের ঘোড়াগুলো ধরে টানতে টানতে নিয়ে চললেন বৃন্দাবনের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে বলরাম, তিনিও ব্রজবাসীদের শৈশবের, কৈশোরের সাথী। তাকেও রথে চড়ালেন। সুভদ্রা বোন, তাকেও তারা নিয়ে চললেন। জগন্নাথপুরীর এই রথযাত্রাটি হচ্ছে গোপাদের সেই কুরুক্ষেত্র রথযাত্রার দ্যোতিক। রথের সময় জগন্নাথ বা কৃষ্ণকে নিয়ে যাওয়া হয় নীলাচল থেকে সুন্দরাচলে। যেখানে কৃষ্ণ ব্রজবাসীদের সঙ্গে আট দিন ছিলেন।

Collected from: Sumon Dutt
0 comments

আজ ১৪ আষাঢ়, শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা।

'রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহাধুমধাম 
ভক্তেরা লুটিয়ে পথে করিছে প্রণাম।
রথ ভাবে আমি দেব,
পথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব,
হাসে অন্তর্যামি।'
রথযাত্রা উৎসবের নাম শুনলেই রবীন্দ্রনাথের কণিকা কাব্যগ্রন্থের 'ভক্তিভাজন' কবিতাটির কথাই আমাদের মনে জেগে ওঠে!

আজ ১৪ আষাঢ়, শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে পালিত হবে আমাদের হিন্দুসম্প্রদায়ের একটি মহান ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রাণের উৎসব। রথযাত্রা উৎসব নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে। নীলাচলে বিষ্ণুর জীবন্ত মূর্তি নীল মাধবের অন্তর্ধান ও পুরীর রাজা ইন্দ্রদ্যুগ্ন কর্তৃক পাওয়া দারুবৃক্ষ দিয়ে বিশ্বকর্মার তৈরি জগন্নাথ দেবের প্রতিমা প্রতিষ্ঠার বিস্তারিত বিবরণ আমরা স্কন্দ পুরান থেকে পাই। কথিত আছে পরমপিতা ব্রহ্মা জগন্নাথ দেবের ওই প্রতিমার প্রান প্রতিষ্ঠা করেন। আর জগন্নাথ দেবের এই অসমাপ্ত, অসম্পূর্ণ প্রতিমা, মূলত নিরাকার ব্রহ্মারই প্রতিরূপ।
রথযাত্রা আর্য হিন্দুজাতির একটি প্রাচীন ধর্মোৎসব। একসময় ভারতবর্ষে সৌর, শক্তি, শৈব, বৈষ্ণব, জৈন, বৌদ্ধ সব ধর্ম-সম্প্র্রদায়ের মধ্যে স্ব স্ব উপাস্যদেবের উৎসববিশেষে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এখন রথযাত্রা বললে সাধারণত জগন্নাথদেবের রথযাত্রাকেই বোঝায়। জগন্নাথ অর্থাৎ জগতের নাথ “ঈশ্বর”।
ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু সুবিখ্যাত রথ রয়েছে, যেগুলো আমাদের হিন্দুদের ঐতিহ্য এবং গর্ব। যেমনঃ পুরীর রথের কথা তো আমরা সবাই জানি। সেখানে সমুদ্রকেও ছাপিয়ে ওঠে রথের মেলার জনসমুদ্র। এছাড়াও মেদিনীপুর জেলার প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত মহিষাদলের রাজপরিবারের বিখ্যাত কাঠের রথ, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের অতীত গৌরবের সাক্ষী পাথরের রথ। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিষ্ঠাত্রী রানি রাসমণি ১৮৩৮ সালে এক লাখ ২২ হাজার টাকা খরচ করে তৈরি করেছিলেন রুপার রথ। মেদিনীপুর জেলার রামগড়ের রাজারা রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ নিয়ে টানতেন পিতলের রথ। কাঁঠালপাড়ার ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের পারিবারিক রথ ছিল টিনের। কাঠের কাঠামোয় পাঁচটি স্বর্ণচূড়ামণ্ডিত রথ আছে মধ্য কলকাতার সুরি লেনে মল্লিক পরিবারের। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রথ ছিল মানিকগঞ্জের ধামরাইয়ে। রথটির উচ্চতা ছিল ১৮ মিটার। দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা ওই রথটির দেখাশোনা এবং ব্যয়ভার বহন করতেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা রথটিকে পুড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে ধামরাইয়ে পুরোনো রথটির আদলে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন রথ নির্মাণ করে দেন ভারত সরকার। এখন সেই রথেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রথ উৎসব।
রথযাত্রা উৎসব আমাদেরকে ঈশ্বরমুখী করে। এই উৎসবে ঈশ্বর ভক্তের কাছে চলে আসেন। ঈশ্বর ও ভক্ত একাকার হয়ে যায়। সবাই ছুটে চলে রথের দড়ি ধরতে। এখানে কে শাক্ত, কে বৈষ্ণব, কে সৌর বা গাণপত্য এ নিয়ে কোন বিরোধ নেই। অর্থাৎ, রথযাত্রা উৎসবে আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বহুত্বের মধ্যে একত্বের ধারায় মিলিত হই। অপরদিকে, রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, এর সঙ্গে সামাজিক বন্ধনেরও একটা শিক্ষা রয়েছে। সহস্র মানুষের সমবেত শক্তিতে অচল রথ সচল হয়, এই সত্যটা রথযাত্রার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রথযাত্রার এই দিনে জগন্নাথদেব আমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শনের জন্য বা আমাদের কৃপা দেওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে আসেন। তাই আজকে যে যেই অবস্থায় থাকুন না কেন একটি বার হলেও রথ দর্শন বা রথের দড়ি টানা বা রথে জগন্নাথকে দর্শন করুন। সবাইকে রথযাত্রার প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
“জয় জগন্নাথ, জয় বলরাম, জয় সুভদ্রা।”

Written by: Joy Ray
0 comments

পৃথিবীর ১ম ভাষা

“এটি একটি অত্যন্ত বিশ্ময়কর আবিষ্কার । ভারতবর্ষ, যেখানে অনেক দিগ্বিজয়ী এবং মহান মুনীগন তাদের পদচিহ্ন রেখে গেছেন কিন্তু সময় এবং প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর আদি এই ভাষা এখনও স্বমহিমায় উজ্জ্বল । এই ভাষা সকল ভাষার জনক এবং ইউরোপিয়ানরা যাকে “ক্লাসিক্যাল” এর উৎস নামে জানে । যেটির দর্শন অতি উন্নত, যে ভাষা মহাজাগতিক হিসাব নিকাশ সমাধানের ক্ষমতা রাখে ।” – রয়েল এসিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত উপরোক্ত বক্তব্যে যে ভাষার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে দৈবী ভাষা ‘সংস্কৃত’ । “অরিজিন অব হিউমেন স্পিস এন্ড এফলপাকেট নামক গ্রন্থে বিখ্যাত ভাষাবিদ মরিস ফিলিপ বলেছেন, “ভাষাতত্ত্বের ইতিহাস এবং ধবনিতত্ত্বের উপর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে আমরা এ কথা দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করিতে পারি যে, “ঋগবেদ” হচ্ছে সবচেয়ে প্রাচীন শুধুমাত্র আরিয়ান গোষ্টির জন্য নয়, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য সত্য ।”
সুতরাং উপরোক্ত বক্তব্যে আমরা এই কথা বলতে পারি যে, ঋগবেদ হচ্ছে ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত প্রথম এবং প্রধান ধর্মগ্রন্থ । ঋগবেদ যেহেতু ভগবান প্রদত্ত তাই এটি ত্রুটিহীন । এছাড়া বহু পাশ্চাত্য ভাষাবিদ বিজ্ঞানীগন বেদ এবং সংস্কৃত ভাষাকে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন শাস্ত্রীয় ভাষা বলে স্বীকার করেছেন ।
সর্বপ্রথম ভাষার উৎস সন্ধানে গবেষনা করেন ডেনমার্কের ভাষাতত্ত্ববিদ রাসমাস রাসক(১৮১৮), জার্মানীর ফ্যাঞ্জ বোপ(১৭৯১-১৮৩৭), ফিক এস্ট, জেকব গ্রীম সহ আরো অনেকে । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯১৪ সালে । সে বছর থমাস ইয়ং ঘোষনা করেন যে, পৃথিবীর সকল ভাষা মূলত ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এসেছে । পরবর্তীতে আধুনিক ভাষাবিদদের মতে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা গোষ্টি মূলত একটি মাত্র প্রোটো ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এসেছে এবং তারা গবেষণা করে মত প্রকাশ করেন যে, এই প্রোটো ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার উৎপত্তি এশিয়া তথা এশিয়া মাইনরে এবং এটি ৭০০০ খ্রীষ্টপূর্বেও ব্যবহৃত হত । এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভাষাতত্ত্ববিজ্ঞানীরা কিভাবে বুঝলেন যে , সকল ভাষা মূলত একটি ভাষা হতে এসেছে । প্রথমত বিজ্ঞানীরা সক্ল ভাষার মধ্যে কিছু একই ধরনের শব্দ পরিলিক্ষিত করলেন । এছাড়া তাঁরা শব্দের উৎস, ধ্বনিগত জ্ঞান ও ভাষার চারিত্রিক পরিবর্তন সবকিছু গবেষনা করে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন যে একটি ভাষার ইভালুয়েশনের মাধ্যমে অন্যান্য ভাষা এসেছে ।
গত শতাব্দীতে এশিয়ামাইনরে অবস্থিত তুর্কিস্থানে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি প্রাচীন শাস্ত্রলিপি আবিষ্কার করেন যা আনুমানিক ৬৫০০ খ্রীষ্টপূর্বের । আশ্চর্যের বিষয় ছিল যে, সেসকল শাস্ত্রে চাকা নির্মিত রথ, পশুপালন এর কথা উল্লেখ আছে, যা মূলত বেদের কৃষি-গোরক্ষা-বাণিজ্য নীতির সম্পূরক । পশ্চিমা ভাষাতত্ত্ববিদগণ বলেছেন যে, সংস্কৃত ভাষাই হচ্ছে সেই আদি অর্থাৎ প্রোটো ইন্দোইউরোপিয়ান ভাষা, যা ইন্দো উপত্যকার নিকটবর্তী অঞ্চলের মানুষেরা ব্যবহার করত ।(Source : Dravidian Origin)
গবেষকগণ বলছেন যে, ইন্দোঅঞ্চলের প্রাচীন লোকসমূহ অতি পূর্বে বর্তমান ভারতের স্বরস্বতী নদীর তীরে বাস করতেন । প্রায় ৬০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের তারা সেখানে বৈদিক সমাজ ব্যবস্থা চালুকরে । পরে সমগ্র পৃথীবীতে তাদের বিস্তৃতি ঘটে এবং সেই সাথে ভাষা হিসেবে সংস্কৃত ভাষা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে । বৈদিক যুগের কয়েকটি আর্কিটেকচার দেখে ধারণা করা যায় যে এগুলো ছিল অতি প্রাচীন সময়ের এবং সেই সাথে সেই সব আর্কিটেকচারে সংস্কৃত মন্ত্রসমূহ খোদাই করে দেখে ধারণা করা যায় যে, সংস্কৃত অতি প্রাচীন ভাষা ।
অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, সংস্কৃত ভাষা সর্বস্তরের মানুষ ব্যবহার করত না । কেবল উচ্চ স্তরের ব্রাক্ষ্মণ সম্প্রদায়রাই কেবল এই ভাষা ব্যবহার করত । অন্যান্যরা প্রাকৃত ভাষা ব্যবহার করতেন । ১৯৮০ সালের ৯ জুলাই তারিখের “টাইমস অব ইন্ডিয়া” পত্রিকায় প্রকাশিত পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সকল স্তরের এমনকি সমাজের নিম্নবর্ণের মানুষেরাও তখন সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করত । এখনও হিমালয়ে পাটান উপত্যকার নিকটে “চিনাল” নামক এক আদিবাসী সম্প্রদায় বাস করে যারা বৈদিক যুগ থেকে এখনও শুধুমাত্র সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করছে । এছাড়া “লোহার” নামক অন্য এক কামার সম্প্রদায়ও এখনো সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করছে ।
বিশ্বসেরা “এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটিনিকা” এর সংস্কৃত নামক অধ্যায়ে লেখা রয়েছে যে, উইলিয়াম স্মিথ এবং অন্যান্য গবেষকগণ মন্তব্য করছেন যে, “সংস্কৃতই হচ্ছে প্রথম ভাষা, যা ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত” ।
লেখক ডেবিড ড্রিংগার তার রচিত “দি এলফাবেট” নামক গ্রন্থে দেখিয়েছেন কিভাবে প্রত্যেকটি ভাষার ধ্বনিসমূহ মূলত একটি ধ্বনি বা বর্ণ থেকে এসেছে । এই গ্রন্থে তিনি প্রতিপন্ন করেছেন যে, মূলত সংস্কৃত বর্ণই পরবর্তীতে বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন ভাষায় প্রবেশ করেছে । (Source : Dravidian Origin)
আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (AL) নামক বিখ্যাত ম্যাগাজিনে নাসা গবেষক রিক ব্রিগস বলেছেন, “বিগত ত্রিশ বছর যাবৎ আমরা কম্পিউটার প্রসেসিং করার উদ্দেশ্যে একটি প্রাকৃতিক ভাষার সন্ধানে বহু সময়, অর্থ, শ্রম দিয়েছি । অবশেষে প্রায় ১০০০ বছরের প্রাচীন একমাত্র সংস্কৃত ভাষাই আমাদের প্রচেষ্ঠাকে সফল করেছে । সাম্প্রতিক তথ্যমতে, নাসার বিজ্ঞানীগণ খুব শীঘ্রই ৬ষ্ঠ প্রজন্ম এবং ৭ম প্রজন্মের দ্রুত গতির সুপার কম্পিউটার নির্মাণ করতে যাচ্ছে যেটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করা হবে সংস্কৃত ভাষা দিয়ে । এই প্রজেক্টটি কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে (৬ষ্ঠ প্রজন্ম), এবং ২০৩৪ সালে (৭ম প্রজন্ম), পৃথিবীর বহু ভাষাবিদগণ ধারণা করছেন যে, নাসা এই প্রকল্প শেষ করার পর পৃথিবীতে সংস্কৃত ভাষা তুমুল জনপ্রিয় হবে এবং একটি বৃহৎ পূর্ণজাগরণ ঘটবে । নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, সংস্কৃত ভাষায় তৈরি ঐ সকল বৈদিক শব্দসমূহ জাদুর মত কাজ করবে ।”
এবার আমরা কয়েকটি ইংরেজী শব্দের উৎস সম্পর্কে জানব । যেমন – সংস্কৃত ‘মাতৃ’ শব্দটি গ্রীক ভাষায় ‘মাতির’ রূপ ধারণ করে এবং পরবর্তীতে সেটি ইংরেজী ‘মাদার’ (Mother) এ পরিবর্তিত হয় । এখানে আশ্চর্যের বিষয় এই তিনটি ভাষাতেই মাতৃ, মাতির বা মাদার একই অর্থ প্রকাশ করছে । এছাড়া বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড ডিকশেনারীতে একটি ইংরেজী শব্দ Garish এর অর্থ বলা হয় excessively bright in color, ঠিক একই গৌর (Goudy) সংস্কৃত শব্দটি ও উজ্জ্বলতা অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, এছাড়া সংস্কৃত ‘ভ্রাতা’ শব্দটি পরবর্তীতে ইংরেজীতে ‘ব্রাদার’ শব্দে রূপান্তরিত হয় ।
পরিশেষে বলছি, এখনও যাদের উক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে তারা ফিলোসোপিক্যাল রিসার্স সোসাইটির বিখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ডেন ব্রাউন কর্তৃক পরিবেশিত একটি প্রতিবেদন অবলোকন করতে পারেন ।
ব্রাউজ করুন http: //www.dailymotion.com/video/x44sh thinking-allowed-sanskrit-tradition
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংস্কৃত ভাষাকে নিয়ে বহু বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে । যেমন – আমেরিকান সংস্কৃত ইনস্টিটিউটসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কৃত ভাষা চর্চা করে যাচ্ছেন । তথ্যসূত্র – ইন্টারনেট, জার্নাল ।
শ্রীল প্রভুপাদ - “সংস্কৃত হচ্ছে সকল ভাষার মাতা । স-ং-স-কৃ-ত, শব্দটি অর্থই হচ্ছে ‘ভাষা’ । অতএব এটিই হচ্ছে প্রকৃত ভাষা যা শুধুমাত্র এই গ্রহেই নয়, সমগ্র ব্রক্ষ্মান্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে ।”
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ইংরেজি ভাষার ক্ষুদ্র তালিকা
Matar – মাতা, Mother - মাদার
Pitar – পিতা, Father - ফাদার
Bhrater – ভ্রাতে, Brother - ব্রাদার
Svasar – স্বসা, Sister - সিস্টার
Gyamati – জ্যামিতি, Geometry - জিওমেট্রি
Trikonmati – ত্রিকোণমিতি, Trigonometry – ত্রিগোণমিতি
Dvaar – দ্বার, Door - ডোর
Namaa – নাম, Name - নেইম
Path – পথ, Path - পাথ
Charitra – চরিত্র, Character – ক্যারেক্টার
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত আরবি ভাষার ক্ষুদ্র তালিকা
Namas – নাম, Namaz - নামাজ
Rama-dhyana – রামধন, Ramadan - রমজান
Garbha – গর্ব, Kaba - কাবা
Isa-alayam – ইসা আলাম, Islam - ইসলাম
Shraddhaa – শ্রদ্ধা, Shahada - শাহাদা
Makkheshvar – মক্কাশ্বর, Makkah - মক্কা
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ইংরেজি বার মাসের নাম
The Seventh Month – Saptan, September
The Eight Month – Astan, October
The Ninth Month – Navan, November
The Tenth Month – Dasha, December (চলবে)
www.caitanyasandesh.com

Courtesy by: Susanta Bandan
0 comments

ভগবানের সেবা শত হলেও আগে

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুনে মন ভোর । প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর ।। হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে । পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে ।। সই, কি আর বলিব । বৈষ্ণব কীর্তনে শ্রী রাধার দিব্য প্রেমের ভাব বর্ণনা করা হয়েছে । মাধুর্য প্রেমের পূজারী ছিলেন স্বয়ং শ্রীরাধিকা । বলা হয় শ্রীরাধারানী কৃপা করলেই ভগবান কৃষ্ণ প্রাপ্তি হয় । ‘রাধা’ নামের একটি শব্দ হয় ‘আরাধিকা’। আমরা যারা মাধুর্য ভক্তি দ্বারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করি, আমাদের মধ্যেও থাকে রাধারানীর ভাব । এই প্রেম সর্ব শ্রেষ্ঠ । মহাপ্রভু উৎকল নিবাস কালে রায় রামানন্দের কাছে পাঠ শুনে সর্ব শেষ মাধুর্য রসের কথা শুনে এই রস বা ভক্তিকেই সর্ব শ্রেষ্ঠ ভক্তি বলেছেন । এই রসে ভগবান হল কান্ত, আরাধিকা হলেন কান্তা । বৈষ্ণব শাস্ত্র মতে শ্রীরাধিকা ছিলেন আয়ান ঘোষের পত্নী। জটিলা, কুটিলা নামক দুই হিংসুট সদস্য শ্রীরাধিকার পরিবারে ছিল। রাধারানীকে লোকে “কৃষ্ণকলঙ্কিনী” বলে ডাকতো । কারন তিনি কৃষ্ণ প্রেমের কলঙ্ক মেখেছিলেন । কলঙ্কী বলিয়া ডাকে সব লোকে তাহাতে নাহিক দুখ । তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ ।। জাগতিক লোকের দৃষ্টিতে কলঙ্ক। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে মাধুর্য। শ্রীরাধারানী কৃষ্ণ প্রেমের মাধুর্য মেখেছিলেন । আর সেই দিব্য প্রেম সাধনার পথেই হয়েছিল ভগবানের সাথে রাস ক্রীড়া । শ্রীরাধিকার এই সাধনা ময় জীবনের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য মানব জীবনে দেখা যায় । কলিযুগে আসুরিক ভাবাচ্ছন্ন মানব নামধারী দানবের সংখ্যা বেশী । এরা কখনো মন্দির ভেঙ্গে পূজা অর্চনায় বাধা দেয় , আবার দেখা যায় পরিবারে হিরন্যকশিপুর মানসিকতা সম্পন্ন লোকের সংখ্যা বেশী। হিরণ্যকশিপু নিজের পুত্র প্রহ্লাদ কে হরিনাম করতে নিষেধ করেছিল, বারন না শোনার জন্য বারবার পুত্রস্নেহ কে পদদলিত করে প্রহ্লাদ কে প্রানে মারার চেষ্টা করেছিল। প্রহ্লাদ দমেনি । আবার দেখা যায় কেউ ঈশ্বর ভক্ত হলে তাকে ঘীরে চলে নানান কটূক্তি, ব্যাঙ্গ। আবার কোথাও ভদ্রতার দোহাই দিয়ে পূজা অর্চনা নিষেধ। রাধারানী কিন্তু সকল বাধা বিপত্তি কে তুচ্ছ করে বারবার ঘনশ্যামের চরণে ছুটে গেছেন । লোকলাজ, ভয় তুচ্ছ করে। তেমনই ভক্তকে হতে হয় ভয়শূন্য। এইভাবে লোকলাজ, কটূক্তি তুচ্ছ করে ভগবানের সেবা করা । অন্তিমে বলা যাক- ভগবান নিজে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন- মানুষ কিন্তু ভগবানকে সৃষ্টি করেননি । তাই ভগবানের সেবা শত হলেও আগে ।

Courtesy by:https://www.facebook.com/shonatonsondesh?hc_location=timeline
1 comments

অসৎ ব্যক্তিরা যখন ভগবানের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে বা অবমাননা করেন তখন ভগবান নিজের প্রভাব ও অলৌকিকতা কেন প্রদর্শনকরেন না??

প্রশ্ন-অসৎ ব্যক্তিরা যখন ভগবানের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে বা অবমাননা করেন তখন ভগবান নিজের প্রভাব ও অলৌকিকতা কেন প্রদর্শনকরেন না??

★★★ মূর্তির উপর যার কোনো ভালোবাসা নেই,যার মূর্তিপূজকের উপর হিংসাভাব থাকে,এবং হিংসাভাব নিয়ে যারা মূর্তি ভেঙে ফেলে,তাদের উপর ভগবান তার প্রভাব এবং মহিমা কেনই বা প্রকাশিত করবেন? ভগবানের মহত্ত্ব শ্রদ্ধাভাবের হ্মেত্রেই প্রকাশিত হয়। আমারা যারা মূর্তিপূজাকরি তাদের মূর্তিতে ভগবান আছেন,এই বিশ্বাস পূর্নভাবে না থাকার জন্য অধার্মিক ব্যক্তিমূর্তি ভাঙতে চায় এবং ভগবানো তার মহিমা তাদের কাছে প্রকাশ করেন না। আবার যে সব ভক্তের মূর্তিতে ভগবানআছেন এরুপ দৃঢ় শ্রদ্ধা বিশ্বাস থাকে,সেখানে ভগবান নিজ মহিমা প্রকাশ করেন।

★★★ যেমন গুজরাটে সুরাটের কাছে এক শিবের মন্দির আছে।তাতে যে শিবলিঙ্গ আছে,তার গাত্রে অসংখ্য ছিদ্র,তার কারন যখন মুসলমানেরা সেই শিবলিঙ্গ টি ভাঙতে এসেছিল তখন সেই লিঙ্গ থেকে অসংখ্য বড় বড় ভ্রমর বেরিয়ে দুর্বৃত্তদের তাড়িয়ে দিয়েছিল।

★★★ একবার,দুবার নয়, বারবার মুসলমান দের হাতে বিশ্বনাথ মন্দির ধংস হওয়ায় অনেক শিবভক্তেরই মনের জিঞ্জাসা,,,ওই পাপিষ্ঠদের শাস্তি দিতে কেন শিব রুদ্রমূর্তি ধারন করেননি? কেন শিব রুদ্রমূর্তি ধরেননি,তাবলা না গেলেও জানা যায় গজনীর সুলতান মামুদ থেকে শুরু করে যারাই কাশী বিশ্বনাথের মন্দির নষ্ট করেছেন,পরবর্তীকালে তারা কেউ শান্তিতে থাকতে পারেননি।প্রত্যেককেই শাস্তি পেতে হয়েছে।সুলতান মামুদের সুখভোগ কপালে বেশী দিন জোটেনি। গুপ্তঘাতকের হাতে তার জীবন যায়।মহম্মদ ঘোরী,কুতুবউদ্দিন আইবক,সিকন্দর লোদি এদের প্রত্যেকের জীবন ছিল নানান সমস্যায় জর্জরিত।

আওরঙ্গজেব দীর্ঘ আশি বছরের জীবনের বেশির ভাগ সময়ি কেটেছে দুশ্চিন্তায়।শেষজীবনে অসুস্থ আওরঙ্গজেবের কথাও গিয়েছিল জড়িয়ে।যে মুখেতিনি বারাণসী মন্দির ভেঙ্গে দিয়ে মসজিদ তৈরীর হুকুম দেন,শোনা যায় তার সেই মুখ বেকেও গিয়েছিল।এমনকি ভারতের সর্বশক্তিমান বাদশাহ আওরঙ্গজেবের মৃত্যুকালে তার কোন সন্তানই তার কাছে উপাস্থিত ছিলেন না।। আর সব থেকে বড় চমৎকারি ঘটনা হোল পাপাচারী আওরঙ্গজেব মৃত্যুর পড়েই বিশাল মোঘল সাম্রাজ্যের পতন।(কথায়আছে পাপ বাপকেও ছাড়ে না)

★★★ শ্রীমদ্ভাগবত (৭।১।২৯-৩০) "একজন নয়, অনেক ব্যক্তিই কাম,দ্বেষ,ভয়,স্নেহ দ্বারা মনকে ভগবানে নিবিষ্ট করে নিজের সকল পাপ মুছে সেইভাবেই ভগবানকে লাভ করে,যেমন, ভক্ত ভক্তি দ্বারা লাভ করে,যেমন গোপীরা কাম দ্বারা,কংস ভয়ের দ্বারা,শিশুপাল দন্তবক্ত্র প্রমুখ রাজারা দ্বেষের দ্বারা,যদু বংশীয়রা পারিবারিক সম্পর্কের দ্বারা,যুধিষ্ঠির ইত্যাদি স্নেহের দ্বারা এবং নারদাদি ভক্তি দ্বারা নিজ মন ভগবানে নিবিষ্ট করেছেন।।।"

★★★ এতো গেলো সব তাত্ত্বিক প্রবচন যা প্রকৃত ধর্মিক ব্যক্তিরা বোলেথাকেন,, কিন্তু বর্ত্তমান যুগে যখন কোন দুরাচারী পশু আমাদের ধর্মকে অবমাননাকরে তখন আমাদের মতন ঈশ্বর বিশ্বাসী স্বল্পধার্মিক সনাতনী হিন্দুদের কি কর্তব্য???? আমার ব্যক্তিগত মতামত, যদীও আমার ঞ্জান সীমাবদ্ধ, আমি অতি নগণ্য মানুষ তবুও যখন পশুরা তাদের পশুত্বে নমুনা স্বরুপ আমাদের ভাবাবেগে আঘাত করে তখন কিছু না কোরতে পারার অপরাধ আমাকে কুরে কুরে খায়।

★★★ আমাদের ধর্মাদর্শন কখনই কোন প্রকার হিংসার কথা বলেনা,তাই আমারা ধর্মঞ্জানি না হয়েও জেনিটিক্যালি অন্যদের চাইতে একটু ঠান্ডা এবং ধৈর্যবান।আমাদের পূর্বপুরুষদের অসীম ধৈর্যের ফলেই আজো পৃথিবীর বুকে সনাতন রুপি মানবের প্রকৃত ধর্ম দর্শন টিকে আছে, যুগ যুগ ধরে শত আঘাত সহন কোরেও আজো আমারঅসীম অটল, সে শুধু পূর্বপুরুষদের ধৈর্য আর সুগভীর ধর্মদর্শনেরবুনিয়াদের জন্যি সম্ভবপর হয়েছে। যারা ঈশ্বরের অনুরক্ত নয় কেবলি শরীর সর্বস্য ভোগবাদী তারা তো কবেই বেরিয়ে গেছে।আর ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়েযাচ্ছে আমাদের কে ভূল পথে চালিত করার,আর যে খানে চালিত কোরতে পারছেনা সেখানে মন্দিরভেঙে মূর্তি ভেঙে আমাদের আত্মবিশ্বাসকে চূর্ন কোরতে,কিন্তু পশু গুলো যানেনা যে তাদের আগেয় অনেক বড় মাপের জানোয়ারাও যুগেরপড় যুগ ধরে এই একি প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছিল আর কালে তমসায় তলিয়ে গেছে।।মধ্যযুগে হাজার হাজার মন্দির, মূর্তি ভেঙে লহ্ম লহ্ম ধর্মান্তরিতকরণ কোরিয়েও কোন লাভ হয়নি।

★★★ কিন্তু এখন কেবল ধৈর্য দেখাবার সময় নেই।সকল হিন্দুকে সংঘবদ্ধ হতে হবে,সকল দল-মত- প্রতিষ্ঠান-জাতী-বর্ণ-মঠ-আশ্রম-শৈব-শাক্ত- বৈষ্ণব -সাধু - সংসারী সকলকে একত্রিত হতে হবে, সকল অহং বোধ ত্যাগ কোরে ধর্মের নামে একত্রিত হবে যদী ধর্ম ই কলুসিত হয় তখন কোথায় পাবো নিজের সুবৃহৎ প্রতিষ্ঠান,কোথায় পাবো আমার গুরুর দেখানো শরনাগত হবার মার্গ,,আর কোথায় বা পূজিব আমার আরাদ্ধ দেব কে???

আজ ধর্ম সুধু আমার ধর্মাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সনাতনী হিন্দু আমার পরিচয় আমার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া গৌরব ময়উত্তরঅধিকার।এই উত্তর দায়িত্ব আমৃত্যু আমি বহন কোরবো।কোন রাজনৈতিক দলের পতাকা আমার পরিচয় নয়,কোন মঠ আশ্রম আমার গণ্ডি নয়,সকল সৎ গুরুই আমার গুরু, সকল মূর্তিইআমার উপাস্ব দেব,সকল সনাতনী ধর্ম গ্রন্থ আমার আলোক পথের দিশারি। আমি পরমব্রহ্মের পূজারি,আবার নিজের ইষ্টের ভিতরে পরমব্রহ্ম কে খুজে পাই,আবার সৎগুরুর মধ্যে পরমব্রহ্মকে অনুভব করি। আমি শিবে শক্তি সবে বিশ্বাসী কারন আমি সনাতনি হিন্দু।

★★★ আসুন নিজেদের সনাতনি হিন্দু পরিবারের সকল ভেদাভেদ কে দুরে ঠেলে দিয়ে নিয়ের ধর্মের নামে নিজের পরিচয়ের নামে সকল প্রান্তের হিন্দু সনাতনীরা ঐক্যজোট হই। ভগবান আমাদের সহায়ক হবেন নিশ্চিই।।। হর হর মহাদেব।।

Collected from: My India Eternal India / আমার ভারত শাশ্বত ভারত  
0 comments

ঠাকুর শ্রীশ্রীমাকে সাক্ষাৎ ষোড়শী জ্ঞানে পূজা করেন

১২৮০ সালের ১৩ই জৈষ্ঠ্য ফলহারিনী কালী- পূজার দিন ঠাকুর শ্রীশ্রীমাকে সাক্ষাৎ ষোড়শী জ্ঞানে পূজা করেন। যেভাবে সমাধিস্থ হইয়া মা সেই মহাপূজা গ্রহণ করিয়াছিলেন তাহা হইতেই তিনি যে কত বড় মহাশক্তির আধার কিছুটা অনুমান করা যাইতে পারে। ঘটনা এইরূপঃ

ঠাকুর অন্তরের এক অপূর্ব প্রেরনায় চালিত হইয়া নিজের ঘরে জগন্মাতার বিশেষ পূজা করিতে মনস্থ করিলেন । ভাগিনেয় হৃদয় ও দীনু পূজারীর সাহায্যে দেবীর রহস্যপূজার সর্বাঙ্গসুন্দর আয়োজন করিতে করিতে রাত্রি নয়টা বাজিয়া গেল। শ্রীশ্রীমাকে পূজাকালে উপস্থিত থাকিতে ঠাকুর পূর্বেই বলিয়া রাখিয়াছিলেন। এই সময় তিনি আসিয়া উপস্থিত হইলেন ও ঠাকুর পূজায় বসিলেন ।

পূজার পূর্বকৃত্যসকল দর্শন করিতে করিতে মা অর্ধবাহ্যদশা প্রাপ্ত হইলেন; এবং ঠাকুরের ইঙ্গিতে , পূর্বমুখে উপবিষ্ট পূজকের দক্ষিণভাগে আলিম্পনভূষিত পীঠে উত্তরাস্য হইয়া উপবেশন করিলেন । সম্মুখস্থ কলসের মন্ত্রপূত বারি দ্বারা ঠাকুর বারংবার শ্রীশ্রীমাকে যথাবিধানে অভিষিক্তা করিলেন। অনন্তর মন্ত্র শ্রবন করাইয়া তিনি এখন প্রার্থনামন্ত্র উচ্চারণ করিলেন,-“হে বালে, হে সর্বশক্তির অধীশ্বরী মাতঃ ত্রিপুরাসুন্দরী, সিদ্ধিদ্বার উন্মুক্ত কর; ইঁহার( শ্রীমায়ের) শরীর মনকে পবিত্র করিয়া ইহাতে আবির্ভূত হইয়া সর্বকল্যাণ সাধন কর!”

অতঃপর শ্রী শ্রীমার অঙ্গে মন্ত্রসকলের যথাবিধানে ন্যাস পূর্বক ঠাকুর সাক্ষাৎ দেবীজ্ঞানে তাঁহাকে পূজা করিলেন এবং ভোগ নিবেদন করিয়া নিবেদিত বস্তুসকলের কিয়দংশ স্বহস্তে তাঁহার মুখে প্রদান করিলেন। বাহ্যজ্ঞান তিরোহিত হইয়া শ্রীশ্রীমা সমাধিস্থা হইলেন। ঠাকুরও অর্ধবাহ্যদশায় মন্ত্রোচ্চারণ করিতে করিতে সম্পূর্ণ সমাধিমগ্ন হইলেন। সমাধিস্থ পূজক সমাধিস্থা দেবীর সহিত আত্মস্বরূপে পূর্ণভাবে মিলিত ও একীভূত হইলেন।

পূর্বপূর্ব সাধনকালে ব্যবহৃত বস্ত্র, আভরণ ও রুদ্রাক্ষের মালাদি সমূদয় দ্রব্য, সেই সকল সাধনার ফল এবং নিজেকে দেবী পাদপদ্মে সমর্পণ করিলেন ।

( শ্রীশ্রী সারদাদেবী... ব্রহ্মচারী অক্ষয়চৈতন্য )

collected from : Hindu dev devis
0 comments

সনাতন ধর্মে দীক্ষিত তারকারা



ধর্ম পরিবর্তন এখন নতুন কিছু নয়, বরাবরই আমদের চোখের সামনে এবং পেছনে অগনিত মানুষ তার ধর্ম পরিবর্তন করে আসছেন সনাতন ধর্মে । তবে সব থেকে যে বিষয়টি আমাদের চোখে পড়ে তা হল তারকাদের ধর্মান্তরিত হওয়া। তবে প্রকৃত মনের শান্তির জন্য সবাই সব থেকে বেশী যে ধর্মটিকে বেছে নিয়েছেন তা হল সনাতন ধর্ম ।

➊ জর্জ হ্যারিসন বিংশ শতাব্দীর প্রতিভাবান একজন জনপ্রিয় ইংল্যান্ডের গায়ক এবং গিটারিস্ট । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১লা আগষ্টে এক বেনিফিট সঙ্গীত অনুষ্ঠানের কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজন করে কনসার্ট হতে সংগৃহীত ২,৫০,০০০ ডলার বাংলাদেশের উদ্বাস্তুদের জন্য দেয়া হয়েছিল।পরবর্তীতে তিনি ইসকনের সংস্পর্শে এসে সনাতন ধর্মে দীক্ষিত হন ।

➋ অস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস সনাতন ধর্মে দীক্ষিত হন । এ্যাকাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেত্রী ‘এল' ম্যাগাজিনে বলেছেন, তিনি এখন তার স্বামী ড্যানিয়েল মডের এবং তিন সন্তান হ্যাজেল, ফিনাউস এবং হেনরিকে নিয়ে স্তবস্তুতি, প্রার্থনা ও ধর্মীয় উৎসব পালন করতে মন্দিরে যান। রবার্টস বলেছেন, ‘‘আমি হিন্দু ধর্ম চর্চা করছি। পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবসহ আমি জীবনে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই পরজন্মে শান্তিপূর্ণ, অনুকূল জীবন চাই।’’

➌ কেন সনাতন ধর্ম গ্রহন করলেন অস্কারজয়ী আইরিশ গায়ক ও অভিনেতা গ্লেন হ্যান্সার্ড ?? এই প্রশ্নের উত্তরে গ্লেন হ্যান্সার্ড বলেন যে " একসময় ধর্মে অনাস্থা ছিল আমার । যখন বড় হতে থাকলাম আমি নানা বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করলাম কিন্তু খ্রিস্টান বা অন্য ধর্মে এর উত্তর পেলাম না । তখন পবিত্র বেদ পড়া শুরু করি প্রশ্নের উত্তর গুলো পেতে শুরু করি এবং আয়ারল্যান্ডের ইনিস দ্বীপে রথযাত্রায় অংশগ্রহন করি । তখন থেকে আমি হরে কৃষ্ণ এবং এই ধর্মে দীক্ষিত হই ।"

➍ তামিল চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী দিয়ানা মারিয়মের সনাতন ধর্ম গ্রহন করেছেন । ভারতীয় আর্য সমাজের তত্ত্বাবধানে এটি সম্পন্ন হয় চেন্নাইয়ের মন্দিরে। সে নয়নতারা নাম গ্রহন করে যদিও তাঁর পূর্বের নাম নাম ছিল দিয়ানা মারিয়াম কুরিয়ান। নয়নতারা ১৯৮৪ সালে ১৮ নভেম্বর ব্যাঙ্গালুরুতে খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন ।

➎ বলিউডের অভিনেত্রী নার্গিস ,অভিনেতা সুনীল দত্তকে বিবাহ করে সনাতন ধর্মে দীক্ষিত হন । পরবর্তীতে তার নাম হয় নির্মলা দেবী ।তাদের সন্তানও বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ।

➏ ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর কন্যা রুখসানা খাঁ যিনি বিখ্যাত সেতার বাদক পন্ডিত রবিশঙ্করকে বিবাহ করে সনাতন ধর্মে দীক্ষিত হন । পরবর্তীতে তার নাম হয় অন্নপূর্ণা দেবী ।

আরো অসংখ্য সনাতন ধর্মে দীক্ষিত ব্যক্তিদের সর্ম্পকে জানতে উইকিপিডিয়া ভিজিট করুন । লিংক - http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_converts_to_Hinduism

Collected from: রথ যাত্রা
0 comments

হিন্দুধর্মে নারীর পূনর্বিবাহের অধিকার আছে কি না ?

Photo: হিন্দুধর্মে নারীর পূনর্বিবাহের অধিকার আছে কি না ?

উত্তর-হ্যঁ অবশ্যই আছে।ঋগ্বেদ ১০.১৮.৭-৮ এ স্বামীর মৃত্যুতে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল বা সামাজিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন বিধবা মহিলাকে পূনর্বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ঋগ্বেদ ১০.১০.১০ এ স্ত্রীর মৌলিক চাহিদা পুরন করতে না পারলে বা স্বামী যদি সন্তান উত্‍পাদনে অক্ষম হয় তবে স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

পরাশর সংহিতায় বলা হয়েছে-
"নষ্ট মৃতে প্রব্রজিতে ক্লীবে চ পতিতে পতৌ।
পচস্বাপত্সু নারীরাং পতিরন্যো বিধোযতে।।"
(পরাশর সংহিতা ৪.৩০)

অনুবাদ-নারীর যদি স্বামী মারা যায়, তার স্বামী যদি গোপনে সন্ন্যাস গ্রহণ করে নিখোঁজ হয়ে যায় , স্বামী যদি নিখোঁজ হয় , স্বামী যদি সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয় , স্বামী যদি অধার্মিক ও অত্যাচারী হয় তবে নারী এই স্বামী ছেড়ে পুনরায় বিবাহ করতে পারে ।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

পাঠিয়েছেনঃ Pritom Chowdhury

উত্তর-হ্যঁ অবশ্যই আছে।ঋগ্বেদ ১০.১৮.৭-৮ এ স্বামীর মৃত্যুতে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল বা সামাজিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন বিধবা মহিলাকে পূনর্বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ঋগ্বেদ ১০.১০.১০ এ স্ত্রীর মৌলিক চাহিদা পুরন করতে না পারলে বা স্বামী যদি সন্তান উত্‍পাদনে অক্ষম হয় তবে স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

পরাশর সংহিতায় বলা হয়েছে-
"নষ্ট মৃতে প্রব্রজিতে ক্লীবে চ পতিতে পতৌ।
পচস্বাপত্সু নারীরাং পতিরন্যো বিধোযতে।।"
(পরাশর সংহিতা ৪.৩০)

অনুবাদ-নারীর যদি স্বামী মারা যায়, তার স্বামী যদি গোপনে সন্ন্যাস গ্রহণ করে নিখোঁজ হয়ে যায় , স্বামী যদি নিখোঁজ হয় , স্বামী যদি সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয় , স্বামী যদি অধার্মিক ও অত্যাচারী হয় তবে নারী এই স্বামী ছেড়ে পুনরায় বিবাহ করতে পারে ।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

পাঠিয়েছেনঃ Pritom Chowdhury
1 comments

বাঙ্গালীর দুর্গোৎসবের ইতিহাস


বাঙ্গালী সনাতন তথা হিন্দু ধর্মাবল্মীদের সবথেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। শরতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শরৎকাল ঋতুর মধ্যে সবচেয়ে শান্ত নির্মল। কিভাবে বাংলায় প্রথম উদযাপিত হয়েছিল সেটি এবার দেখা যাক।
মার্কন্ডেয় পুরাণ অনুসারে রাজা সুরথ এবং সমাধি বৈশ্য প্রথম দূর্গা পূজা করেন। এদের মধ্যে রাজা সুরথ পুরাণ অনুযায়ী যার রাজধানী ছিল বলিপুর। মহিষাসুর মর্দিনী নামক গবেষণামূলক গ্রন্থে স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ (রামকৃষ্ণ বেদান্তমঠ, কলিকাতা) বলেছেন বলিপুর হল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বোলপুর, তাই বাংলার রাজা সুরথ প্রথম দূর্গা পূজা করেন। তবে ষোড়শ শতাব্দীতে রাজশাহীর তাহিরপুরের রাজা কংস নারায়ণ রায় বাংলার তৎকালীন ৮ লক্ষ টাকা ব্যায় করে প্রথম সাড়ম্বরে দূর্গা পূজা উদযাপন করেন। ১৭৪২ খ্রিষ্টাব্দে যখন ভাস্কর পন্ডিতের নেতৃত্বে মারাঠারা বাংলা আক্রমণ করে তখন তারাও দূর্গা পূজা করেছিল, তবে তারা নাকি পূজা সম্পন্ন করতে পারেনি আলিবর্দি খাঁর পাল্টা আক্রমণের জন্য।
নদীয়ার বিখ্যাত রাজা কৃষ্ণচন্দ্র দূর্গা পূজা করেছেন। কৃষ্ণচন্দ্রের পর কলকাতায় জাঁকজমক করে দূর্গা পূজা করেন রাজা নবকৃষ্ণ দেব।
যাহোক এবার তাহিরপুরে রাজা কংস নারায়ণের প্রথম দূর্গা পূজা উদযাপনের ইতিহাসের দিকে নজর দেয়া যাক। রাজা গনেশের বহু বৎসর পর রাজা কংস নারায়ণের অভ্যুদয় ঘটে। কংস নারায়ণের আদিপুরুষ মনুসিংহতার বিখ্যাত টিকাকার কুলক ভট্ট। কুলক ভট্টই তাহিরপুরের রায় বংশের আদি পুরুষ। পরবর্তীকালে এই পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রাজা কংস নারায়ণ। তাঁর আসল নাম ছিল মুকুন্দ, পরে তিনি কংস নারায়ণ নামটি গ্রহণ করেন।
সুর বংশের পতনের পর বাংলার মসনদে বসেন বিহারের শাসনকর্তা সুলেমান কররাণী। তিনি সামরিক কেন্দ্র স্থাপন করে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার উপর স্বাধীন প্রভুত্ব বিস্তার করেন। এসময় তরুণ কংস নারায়ণ নবাবের অধীনে ফৌজদারের পদে ছিলেন। এসময় দ্বিতীয় কালাপাহাড়ের আগমন ঘটে। তার অত্যাচারে বাংলায় হাহাকার পড়ে যায়। তখন কংস নারায়ণ এ অত্যাচারের প্রতিবিধানের জন্য সুলেমান কররাণীকে অনুরোধ করেন কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিনি এতে কর্ণপাত করলেন না। এজন্য কংস নারায়ণ তার কর্ম ত্যাগ করলেন এবং এও জানিয়ে দিলেন তিনি কিছু না কিছু একটা করবেন। তারপর তিনি নাকি কিছুকাল নিরুদ্দেশ ছিলেন। সবার ধারণাও হয়েছিল কালাপাহাড় কর্তৃক সে নিহত হয়েছে।
এসময় বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিজমার হিসাবের জন্য সম্রাট আকবর তোডরমলকে নির্দেশ দেন এবং তোডরমল কংস নারায়নকে নিয়ে একাজ শুরু করেন, পরে হঠাৎ সম্রাট আকবর তোডরমলকে বিশেষ কাজে দিল্লীতে ডেকে পাঠান এবং জমিজমা হিসাবের বাকি কাজ কংস নারায়ণ সূচারুরূপে সম্পন্ন করেন এবং সকল হিসাব-নকশা ইত্যাদি পাঠিয়ে দেন দিল্লীতে। সম্রাট তার কর্মদক্ষতায় খুশী হন। এসময় সবাই ভেবেছিল সে পরবর্তী সুবেদার নিযুক্ত হবেন কিন্তু সম্রাট তা না করে দূত মারফত কংস নারায়ণের জন্য নানাবিধ মূল্যবান খেলাত, “রাজা” খেতাব এবং সুবে বাংলার দেওয়ান হবার জন্য খবর পাঠান। এবার তিনি ব্যাথিত হন কারণ সব যোগ্যতা থাকার পরও সম্রাট হয়ত দিল্লীর বিশ্বস্ত কাউকে সুবেদার করবেন বলে ঠিক করেছেন। তাই তিনি শুধু তার দেয়া রাজা খেতাব ও খেলাত গ্রহণ করে দেওয়ান পদ ত্যাগ করে নিজের জন্মভুমি তাহিরপুরে গেলেন তার বিশাল জমিদারির উন্নতি সাধনের জন্য।
এসময় তার মনে একধরনের অপরাধ বোধ কাজ করতে লাগল কারণ যে রাজবংশের জন্য তার এমন প্রতিষ্ঠা সেই রাজবংশের পতনের পিছনে তারও ভূমিকা রয়েছে। সে নিজেকে অপরাধী ভাবতে লাগলেন। পরে তিনি বাংলার বিখ্যাত পণ্ডিতদের রাজসভায় আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের জানালেন, যে বিভিন্ন কারনে আমি নিজেকে পাপী এবং অপরাধী মনে করছি। তাই পাপমুক্তি বা প্রায়শ্চিত্তের জন্য কোন মহাযজ্ঞে ব্রতী হতে চাই। আপনারা শাস্ত্র অনুমোদিত কোন মহাযজ্ঞের ব্যবস্থা আমাকে দিন।
বাসুদেবপুরে ভট্টাচার্যগণ বংশানুক্রমে তাহিরপুরে জমিদারদের কূল পুরোহিত ছিলেন। এ বংশে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত তান্ত্রিক রমেশ শাস্ত্রী। তিনি তখন বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন। তিনি উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, “শাস্ত্রে বিশ্বজিৎ, রাজসূয়, অশ্বমেধ ও গোমেধ এই চার বিধি আছে, কিন্তু বিশ্বজিৎ এবং রাজসূয় যজ্ঞ শুধু সার্বভৌম সম্রাট করতে পারবে আপনি ভূ-স্বামী তাই এর অধিকারী নন। এ ছাড়া অশ্বমেধ এবং গোমেধ এ দুইটি কলিতে নিষিদ্ধ এবং ক্ষত্রিয়ের কর্ম তাই তাও সম্ভব নয়। কংস নারায়ণ বললেন তাহলে কলিতে কি আর কোন যজ্ঞের ব্যবস্থা নেই। তখন রমেশ শাস্ত্রী বলেন কলির মহাযজ্ঞ হচ্ছে দুর্গোৎসব। সকল জাতি এটি সম্পন্ন করতে পারে, এতে সকল যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়, সত্য যুগে প্রথম সুরথ রাজা এ যজ্ঞ করেছিলেন।
কিন্তু তার পর এটা শাস্ত্রেই আবদ্ধ আছে। তুমি যদি সাহস করে রাজসিকভাবে দুর্গোৎসব কর তাতে তোমার প্রায়শ্চিত্ত হবে এবং তুমি যদি রাজি থাক তাহলে আমি এর সকল বিধি ব্যাবস্থা করতে প্রস্তুত। সে অনুযায়ী কংস নারায়ণ রাজসিকভাবে কিংবদন্তী অনুযায়ী ৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পূজা উদযাপন এবং সু-সম্পন্ন করেন। সেই সময় তান্ত্রিক রমেশ শাস্ত্রী আধুনিক দুর্গা পূজা পদ্ধতি প্রণয়ন করেন। তখনই বাংলায় প্রথম মূর্তিতে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয় এবং তা বিপুল প্রতিষ্ঠা পায়।
একটি বিষয় এখানে বলা প্রয়োজন কংস নারায়ণের সময় কৃত্তিবাস পণ্ডিতের আবির্ভাব হয়। তিনি ১৪৩৩ শকে নদীয়া জেলার ফুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজপণ্ডিত হবার জন্য কংস নারায়ণের রাজসভায় গিয়েছিলেন। শোনা যায় যে কংস নারায়ণের অনুরোধে কৃত্তিবাস বাংলায় রামায়ণ লিখেছিলেন কৃত্তিবাস ১৪৬০ শকে রামায়ণ লেখেন। পরে তার দেখাদেখি ভাদুরিয়ার জমিদার জগৎ নারায়ণ ঐ বৎসরই বসন্তকালে দুর্গোৎসব উদযাপন করেন।
তারপর ধীরে ধীরে এ পূজা বাংলায় ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। এখন এ পূজা ব্যাপকতায় আর ব্যাপ্তিতে উৎসবে রূপ নিয়েছে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মাকে নিয়ে মেতে ওঠেন।
সহায়ক গ্রন্থঃ
১. মহিষাসুরমর্দ্দিণী দুর্গা, স্বামী প্রজ্ঞানান্দ, রামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ, কলকাতা
২. রাজা কংসনারায়ণ ও বঙ্গে প্রথম দূর্গোৎসব, মনিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবর্তক, কার্তিক সংখ্যা (১৯৭৬)

লেখক: অগ্নি সম্পদ
0 comments

পরম পুরুষ শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী ১২৪তম তিরোধান দিবস

যেসব মনীষীর সাধনা ও সৎ উপদেশের ফলে সনাতন ধর্ম তথা সনাতন সংস্কৃতি মহিমান্বিত হয়েছে পরম পুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী তাদের মধ্য অন্যতম। অলোকিক ঘটনার শক্তি ও বিভূতিতে দীর্ঘ ১৬০ বছর বিমোহিত করেছেন এই মহাপুরুষ। বাবা লোকনাথ আমাদের মাঝে যে ধর্ম প্রচার করেছেন, সেটা হল এক প্রকার জীবন বা অভিজ্ঞতা, যা তিনি সাধনার প্রতিটি স্তরে উপলব্দি করেছেন। সাধনায় সিদ্ধ এই মহাপুরুষ অর্জিত অনেক অসাধারণ ক্ষমতা লোক কল্যাণে প্রয়োগ করছেন। তাই তিনি হয়েছেন লোকের নাথ, লোকনাথ। তাঁর বিশ্বাস হল আত্মাকে দেখা, আত্মাকে ব্রহ্মজ্ঞানে উপলব্দি করা।

আজ ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২১ বাংলা। সনাতন ধর্মের এই পরম পুরুষ শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী ১২৪তম তিরোধান দিবস।

বাবা লোকনাথ বাংলা ১১৩৭ সালের বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের কচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম রামনারায়ণ ও মাতার নাম কমলা দেবী। নিজের কুল উদ্ধারের জন্য রামনারায়ণ মশাই তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র লোকনাথকে তুলে দিলেন গুরু ভগবান গাঙ্গুলির হাতে যেন লোকনাথ গার্হস্থ্য জীবনের ভোগের পথ ত্যাগ করে, পরম করুনাময় ঈশ্বরের সাধনায় সিদ্ধি লাভ করতে পারে। আর, এই কারনেই রামনারায়ণ ও কমলা দেবীর কাছে আমরা চিরঋণী, যাদের পুত্র ত্যাগের ফলে শুধু কুল উদ্ধার রক্ষা হয়নি, রক্ষা হয়েছে সনাতন ধর্ম তথা প্রতিটি মানব জীবনের।

৯০ বছর বয়সে সিদ্ধি লাভের পর নানা স্থান পরিভ্রমণ শেষে বাবা লোকনাথ জীব উদ্ধারের জন্য পা রাখেন বারদীর মাটিতে। বারদীর ক্ষুদ্র আশ্রমে যে বৃহত্তম লীলা তিনি প্রকাশ করেছেন তার তুলনা বিরল। তাঁর বানী সংসারক্লিষ্ট মানুষের মধ্য আজও শান্তির প্রলেপ দিয়ে যায়।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর চিন্তায় ও দর্শনে জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ ও কর্মযোগের সমন্বয় ছিল। তিনি প্রকৃত অর্থেই গীতার প্রতীক। গীতার ভাব ও গীতার আদর্শকে তিনি অনুশীলনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “গীতা শুধু মাত্র একটি পাঠ্যপুস্তক নয়, যে তুই নিয়মিত পাঠ করবি, কন্ঠস্থ করবি সব সংস্কৃতি শ্লোক, গীতা হবার সাধনা কর।” যে যে পথ অনুসরন করতে চায়, তিনি গুরুরুপে তাকে সেই পথেই পরিচালিত করেছেন। তাঁর চিন্তায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রভাব লক্ষ করা যায়। সাংখ্য ও ন্যায় দর্শনের বস্তুবাদী ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর উপদেশে প্রাধান্য পেয়েছে।

বারদিতে অবস্থান কালে যেমন কেউ শূনো হাতে ফেরেনি, আজও শরণাগত অভীষ্ট ফল লাভে বিফল হয় না। আজ বাবার এই তিরোধান তিথিতে আমাদের প্রার্থনা “তিনি যেন আমাদের সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করেন। তাঁর প্রতিটি উপদেশ যেন আমরা আমাদের জীবনে সঠিক ভাবে পালন করতে পারি। ”

"ওঁ নমস্তে আর্তত্রাণায় সর্বসিদ্ধি প্রদায়িণে|
নমস্তে লোকনাথায় ব্রহ্মত্মনে নমো নমঃ|"
জয় বাবা লোকনাথ, জয় মা লোকনাথ, জয় শিব লোকনাথ, জয় ব্রহ্ম লোকনাথ।।

[ছবি কৃতজ্ঞতাঃ এ বছর লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার তিরোধান দিবস উপলক্ষে “টরন্টো, কানাডা”র বাবা লোকনাথ আশ্রম কর্তৃক প্রকাশিত স্মরণিকার প্রচ্ছদ থেকে নেওয়া।]

Written by: Joy roy
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger