সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্মের অস্তিত্বের কিছু পুরানো নিদর্শন

আজকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব সনাতন ধর্মের বেশ কিছু হারিয়ে যাওয়া সুত্র- যা এতদিন লোক চক্ষুর অন্তরালে ই ছিল- কিন্তু অনুসন্ধিৎসু মানুষ ধীরে ধীরে উন্মোচন করছে সেই সুত্র গুলো। আসুন দেখে নেই ধীরে ধীরে ।।


এই শিবলিঙ্গটি ভ্যাটিকান সিটির এট্রুস্কান যাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে।এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা মতে 'এট্রুরিয়া' এবং 'এট্রুস্কান' হল খ্রীষ্টপূর্ব ২য় থেকে ৮ম শতক এর সময়।উত্তর ইটালিকে একসময় এট্রুশিয়া বলে ডাকা হত। ভ্যাটিকানের প্রাসাদের দেয়াল খুড়ে এই শিবলিন্গ পাওয়া গেছে । মূলত ভ্যাটিকান শব্দটা এসেছে সংস্কৃত ভাটিকা থেকে বা আশ্রম ভাটিকা থেকে।তাই এটা হয়তোবা বলা যায় যে খ্রীষ্টান ধর্মের তীর্থ হবার আগে এই ভ্যাটিকানেই এক সময় হয়ত হিন্দু ধর্ম ছিলো প্রধান ধর্ম।




ছবিতে দেখা যায় রাম -লক্ষন আর সীতা হেটে বনবাসে যাচ্ছেন-যা রামায়নের একটি ঘটনা-কিন্তু এই ছবিটা পাওয়া গেছে ইটালির প্রাচীন আর্কিওলজিকাল খোঁড়াখুড়ির সময়।ইতালিয়ান আর্কিওলজিষ্টরা এই ছবি দেখেই ধারনা করেন একসময় ইউরোপের অনেক গুলো দেশে হিন্দু তথা সনাতন ধর্ম প্রচলিত ছিলো। 


একজন অষ্ট্রেলিয়ান বুশম্যানের ছবি এটা-যাতে দেখা যায় এই বুশম্যানের কপালে তিলক আঁকা-এটা একসময় হিন্দুধর্মের পালনের ইঙ্গিত ই বহন করে।


একজন রোমান কনসুলেট ধুতি পড়ে আছেন।উনার হাতে ও কপালে তিলক আঁকা আছে-যা প্রমান করে রোমান দের মাঝেও হিন্দুত্বের প্রচলন ছিলো সারা ইউরোপে।


প্রাচীন ঈজিপ্টের একজন রাজা যিনি হাতে বুকে ও মাথায় তিলক এঁকে বসে আছেন সিংহাসনে-হাতে একটা পাত্র। হিন্দু ধর্ম-আর্য মতবাদ এবং বৈদিক সংস্কার যে পুরো পৃথিবীতে ছড়ি্যে ছিলো এটা তার ই প্রমান। যেহেতু এখন আমরা দেখি যে হিন্দু ধর্ম মতালম্বীদের অনেকে তিলক ধারণ করেন।


"আ্য পেস্টোরাল সিন" নামে এই মোজাইকে আঁকা ছবিতে দেখা যায় একটি মানুষ বাঁশি বাজাচ্ছে সাথে কিছু গাভী চড়ে বেড়াচ্ছে মাঠে। মোজাইক টি পাওয়া যায় গ্রিসের এথেন্সের ৬০কিমি দুরে কোন এক খনন কাজের সময়। এটি প্রার ১৮০০ বছরের পুরোনো-এবং নিঃসন্দেহে এটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিশু সময়কার একটি চিত্রপট।এটা প্রাপ্তির স্থান থেকে এটা বলা যায় যে প্রাচীন গ্রীসে এক সময় হিন্দু ধর্ম প্রচলিত ছিলো-ধীরে ধীরে যা বিকৃত হয়ে এখনকার বিলুপ্তপ্রায় অবস্থায় এসে পৌছেছে।


Courtsy by: rajendra
Like our Page: Shree Krishna - The Supreme Personality of Godhead
0 comments

কয়েক লক্ষ কাশ্মীরি পণ্ডিত তাঁদের নিজেদের রাজ্য থেকে বিতাড়িত

আজ ১৯শে জানুয়ারী। আজ একটি বিশেষ দিন। আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে, আজকের দিনে, ১৯শে জানুয়ারী, ১৯৯০-তে কয়েক লক্ষ কাশ্মীরি পণ্ডিত তাঁদের নিজেদের রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। তাঁদেরকে কাশ্মীর থেকে জাতিগতভাবে নির্মূল করা হয়েছিল। তাঁদের অপরাধ ছিল একটাই। তাঁরা সবাই হিন্দু ছিলেন। কারা বিতাড়িত করেছিল, সেটা না হয় উহ্যই থাক। কাশ্মীরকে একটি বিশেষ ধর্মের নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পবিত্র ধর্মীয় কাজটি (তাদের ধর্মমতে), সেই ধর্মের মানুষরা করেছিল। তবে শুধু মুখের কথায় বিতাড়িত করে নি। তার আগে তারা আরও কিছু ধর্মীয় আচার পালন করেছিল। শুধু ১৯৯০-র গণহত্যাতেই কম করে তিনশোর ওপর কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়েছিলেন, মহিলারা নির্যাতিতা হয়েছিলেন। আর এইসব ঘটেছিল স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষে। না, এই পঁচিশ বছরে কোন সরকার, কোন রাজনৈতিক দল, কোন গোষ্ঠী, কোন সংস্থা, এঁদের কাশ্মীরে, তাঁদের নিজেদের ঘরে ফেরাবার জন্য কোন সদর্থক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। অতগুলো মানুষ, অতগুলো পরিবার এই আড়াই দশক ধরে কোথায় আছে, কেমন আছে, কেমন করে তাঁদের দিন কাটছে, সেই নিয়ে দেশের মাথাদের কোন মাথাব্যাথা নেই। যত অত্যাচারিতই হোক না কেন, ওরা সবাই হিন্দু তো। তাই, ওদের জন্য কিছু করলে বোধ হয় দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো বিঘ্নিত হবে। সেই জন্যই আজ পর্যন্ত তাঁদের নিয়ে কোন ছবি, উপন্যাস, তথ্যচিত্র, গান, কবিতা, সত্যমেব জয়তে-র কোন পর্ব―কিছুই হয় নি। যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে অষ্টপ্রহর ঢেরা পেটান, অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে সামান্য সংবেদনশীল কিছু ঘটলেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন, রাস্তায় মিছিল করেন, এমনকি আদালতে মামলা পর্যন্ত করেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর হয়ে যাওয়া এতবড় অন্যায় দেখেও তারা এতবছর ধরে নিশ্চুপ কেন? কাশ্মীরি পণ্ডিতরা তো এই দেশেরই নাগরিক। না হয় তাঁরা হিন্দু, না হয় তাঁরা কাশ্মীরের আদি বাসিন্দা, না হয় তাঁরা বাইরে থেকে অনুপ্রবেশ করে আসেন নি, এইগুলোই কি তাঁদের অপরাধ? এই অপরাধেই কি তাঁদের এত বছর ধরে নিজের দেশেই নিজেদের ঘর, প্রদেশ, সংস্কৃতি ছেড়ে শরণার্থী শিবিরে উদ্বাস্তুর মত জীবন-যাপন করতে হবে? পঁচিশ বছর তো হয়ে গেল; আর কবে আমাদের দেশ সব ধর্মের মানুষের ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচার, অবিচারকে সমান চোখে দেখতে শিখবে? আর কবে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা “রাজ-তরঙ্গীনী”-র রাজ্যে ফিরতে পারবেন?

এই অনুচ্ছেদটি লেখার জন্য সে সব নিবন্ধের সাহায্য নেওয়া হয়েছেঃ
1. http://blogs.hindustantimes.com/medium-term/?p=431
2. http://www.satp.org/satporgtp/kpsgill/2003/chapter9.htm
3. http://indianexpress.com/…/fifth-column-remember-kashmiri-…/
4. http://kashmirsentinel.org/demystifying-ethnic-cleansing-a…/
5. http://www.rediff.com/…/24-years-on-nothing-ha…/20140119.htm

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=914207625279430&set=a.201113339922199.52003.100000706048227&type=1

Written by: Deep Chatterjee
0 comments

গোহত্যা ও পবিত্র বেদ প্রসঙ্গ

 শত শত বছর ধরে বৈদিক ধর্মধারার পথকে বাধাগ্রস্ত করার যেসকল প্রয়াস নীচপ্রকৃতির পাপবুদ্ধিগন করে আসছেন তার মধ্যে অন্যতম হল প্রানীহত্যা দ্বারা প্রানীমাংস ভক্ষনের নৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা তথা প্রধানত গোহত্যার পাপকার্যে প্রসারতা আনায়ন।

আর এই প্রয়াস অত্যন্ত সহজ হয়ে পড়ে যখন এই বিষয়ে অসচেতন বৈদিক ধর্মালম্বীদের বৈদিক ধর্মধারার প্রানস্বরুপ পবিত্র বেদে গোমাংস ভক্ষনের অনুমতি আছে বলে প্রচার চালানো যায়।আর ঠিক এই পন্থাটিই বেছে নিয়েছে কূটবুদ্ধি অধার্মিকের দল আর তাদের সাথে যোগ দিয়েছে কিছু জ্ঞানহীন শূন্যমস্তিস্কের হিন্দু নামধারী মাংসলোলুপ কলঙ্ক।

আর এই ধরনের অপপ্রচার সাধারন ধর্মপ্রান হিন্দুদের জন্য একধরনের মারাত্মক আঘাতের মত ই যার প্রতিকার ই আমাদের আজকেই এই প্রয়াস।দুইটি ধাপে আমরা আজ এই অপপ্রচারের খন্ডন করব।প্রথম ধাপে আমরা দেখব যে পবিত্র বেদ আসলে প্রানীহত্যা নিয়ে কি বলে আর দ্বিতীয় ধাপে অপপ্রচারকারীদের দ্বারা প্রচারিত কিছু বেদমন্ত্র যাতে তারা বেদে গোমাংস ভক্ষনের অনুমতি আছে বলে প্রচার করে সেগুলো নিয়ে বিশ্লেষন করা হবে।

প্রথমে আমরা দেখব পবিত্র বেদ প্রানীহত্যা সম্পর্কে কি বলে-

প্রার্পায়াতু শ্রেষ্ঠতমায় কর্মন আপ্যাযদ্ধম... অঘ্ন্যা যজমানস্য পশুন্ পাহি।
(যজুর্বেদ ১.১)
অনুবাদ-হে মনুষ্য প্রার্থনা কর যাতে সবসময় তুমি মহত্‍ কার্যে নিজেকে উত্‍সর্গ করতে পার,পশুসমূহ অঘ্ন্যা অর্থাত্‍ হত্যার অযোগ্য,ওদের রক্ষা কর।

"পাষণ্ড তারা যারা প্রানীমাংস ভোজন করে।তারা যেন প্রকারান্তরে বিষ ই পান করে।" -ঋগ্বেদ ১০.৮৭.১৬

অনাগো হত্যা বৈ ভীমা কৃত্যে মা নো গামশ্বং পুরুষং বধীঃ।
(অথর্ববেদ ১০.১.২৯)
অনুবাদ-নির্দোষদের হত্যা করা জঘন্যতম অপরাধ।কখনো মানুষ,গো-অশ্বাদিদের হত্যা করোনা।

পশুস্ত্রাঁযেথাঙ
অর্থাত্‍ পশুদের রক্ষা কর।
(যজুর্বেদ ৬.১১)

অর্থাত্‍ পবিত্র বেদে মূলত সকল পশুপাখীদের ই হত্যা না করতে বলা হয়েছে।তাহলে হিন্দুসমাজে গোহত্যার ব্যপারে অধিকতর কঠোর দৃষ্টিভঙ্গী বিদ্যমান কেন?

কেননা মানবসভ্যতার প্রধান দুটি অনুসঙ্গের সাথে জড়িত হল গরু তথা গাভী ও ষাঁড়।
মানবসভ্যতার প্রধান ভিত্তি কৃষিকার্জ যাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে বৃষ তথা ষাঁড়।অপরদিকে মানবশিশুর বেঁচে থাকা তথা বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের বুকের দুধের পর গোদুগ্ধ ই সবচেয়ে সর্বোত্‍কৃষ্ট ও প্রধান ভূমিকা রেখে চলেছে।

এ বিষয়ে নবদ্বীপের কাজী মাওলানা চাঁদ কাজী সাহেবের উদ্দেশ্যে শ্রীচৈতন্যদেবের সেই বিখ্যাত উক্তিটি স্মরন করা যেতে পারে-

গোদুগ্ধ খাও গাভী তোমার মাতা, বৃষ অন্ন উপযায়, তাতে তেঁহো পিতা।।
(চৈতন্য চরিতামৃত আদি লীলা,১৭.১৫৩)
অর্থাত্‍ দেখো গোদুগ্ধ খেয়ে আমরা বড় হই তাই তার প্রতি আমরা মাতৃঋণে আবদ্ধ হই আর বৃষ কৃষিকাজে সাহায্য করে আমাদের জন্য অন্ন উত্‍পাদন করে তাই তার প্রতি আমরা পিতৃসম ঋণে আবদ্ধ হই।এরকম যাদের প্রতি আমরা ঋণী তাদেরকে হত্যা করা কি অমানুষের কাজ নয়?

এছাড়া বৈদিক ধর্মের মহাপুরুষ যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বালককালে একজন রাখাল ছিলেন,বাছুরদের প্রতি তাঁর স্নেহ ছিল অসীম।এজন্য তাঁর অপর নাম ছিল গোপাল।এইসব নৈতিক এবং ঐতিহাসিক কারনেই হিন্দুসমাজে গোহত্যাকে কঠোর অপরাধ হিসেবেই দেখা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে এখন আমরা অত্যন্ত প্রচলিত কিছু মন্ত্র দেখবে যেগুলো নাস্তিক বা বিধর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে দেখা যায় এই প্রমান করতে যে পবিত্র বেদে প্রানীমাংস ভক্ষনের কথা বর্নিত রয়েছে।

"ওই শরীরের মাংসকে আগুনে পোড়ানো হল,সকল দেবতাদেরকে উত্‍সর্গ করা হল,তাদের সকলকে ডাক,এটি খুব ই সুগন্ধযুক্ত এবং সুস্বাদু,সকলকে ভাগ করে দাও..."
ঋগ্বেদ ১.১৬২.১১-১২

পশ্চিমাদের করা এই অনুবাদ নিয়ে যারা নির্লজ্জের মত আনন্দ করছেন তাদের প্রতি জিজ্ঞাসা,একজন বৈদিক পন্ডিতের অনুবাদ বাদ দিয়ে পশ্চিমাদের অনুবাদ দিয়ে এসব অপপ্রচার চালানো কতটা যুক্তিসংগত?

প্রকৃতপক্ষে এখানে বাজিনং শব্দটির অর্থ ধরা হয়েছে অশ্ব যার প্রকৃত অর্থ সাহসী/শক্তিশালী/ দ্রুতগামী।
মন্ত্রদুটিতে আসলে জাতির দ্রুত উন্নতির লক্ষে নিজের দেহ-মনকে আত্মোত্‍স্বর্গ করতে বলা হয়েছে।

অনেকে বলে থাকে অতিথিগ্ব/অতিথিগ্ন অর্থ হল অতিথিকে গোমাংস পরিবেশনকারী।প্রকৃতি পক্ষে গং ধাতুটির অর্থ ই হল যাওয়া গতিশীল।অর্থাত্‍ যিনি অতিথির দিকে যান বা অতিথিকে পরিবেশন করেন।

অনেকে আবার বেদে গোমাংস নিষিদ্ধতার স্পষ্ট প্রমান দেখে আমতা আমতা করে বলেন যে গোহত্য নিষিদ্ধ হলেও বেদে বৃদ্ধ এবং বন্ধ্যা,অনুপযুক্ত গরু হত্যা করতে বলা হয়েছে যাদেরকে বলা হয় "বশা"।
প্রকৃতপক্ষে বশা অর্থ মোটেও বন্ধ্যা গাভী নয় বরং এর অর্থ ঈশ্বরের ক্ষমতা।এর প্রমান হল অথর্ববেদ ১০.১০.৪ এ বশা বা ঈশ্বরের ক্ষমতাকে সহস্রধারা বা অসীম বলা হয়েছে।বশা অর্থ যদি বন্ধ্যা গাভী ই হত তবে গাভী কি করে অসীম হয়?

অনেকে বলে থাকেন যজ্ঞে নাকি পশু বলি করা হত।তারা এমনটাও বলে থাকেন অশ্বমেধ যজ্ঞে নাকি অশ্ব আর গোমেধ যজ্ঞে নাকি গরু বলি দেয়া হত!

আগে দেখে নেই 'যজ্ঞ' কে পবিত্র বেদে কি বলা হয়েছে।

পবিত্র বেদের প্রথম মন্ডলের প্রথম সুক্তের চার নং মন্ত্রে যজ্ঞকে 'অধ্বরং' বলা হয়েছে।এই অধ্বরং অর্থ কি?দেখে নেই সংস্কৃত ব্যকরন কি বলছে। বৈদিক ব্যকরন গ্রন্থ নিরুক্ত এর ২.৭ এ বলা হয়েছে
"অধ্বরাং ইতি যজ্ঞনাম।
ধ্বরাতিহিংসাকর্ম তত্‍প্রতিশেধহ।।"
অনুবাদ- ধ্বরা কর্ম হিংসা ও বিদ্বেষযুক্ত,এর বিপরীত হল অধ্বরা যেমন যজ্ঞসমূহ।

মহর্ষি যস্ক এই শ্লোকের ব্যখ্যায় বলেছেন যে যজ্ঞ অধ্বরা অর্থাত্‍ সম্পূর্ন সাত্ত্বিক যেখানে সকল প্রকারের রক্তপাত,হিংসা বিদ্বেষ অনুপস্থিত।অর্থাৎ যজ্ঞে পশুবলীর কোন প্রশ্নই আসেনা।আর পবিত্র বেদে যেখানে শত শত মন্ত্রে পশুহত্যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে,পশুদের উপকারী জীব বলে সেবা করতে বলা হয়েছে সেখানে যজ্ঞে পশুবলীর চিন্তা আনাটাও অমূলক!

অশ্বমেধ যজ্ঞ কি?
"রাষ্টং বৈ অশ্ব মেধঃ । অগ্ন হি গৌঃ ।অগ্নির্বা অশ্বঃ আজ্যং মেধঃ ॥ (শতপথ ব্রাহ্মন ১৩.১.৬.৩)
অনুবাদ- অশ্ব হল রাষ্ট্রের প্রতীকি নাম(সুপ্রশাসকের প্রগতিশীল রাষ্ট্র অশ্বের ন্যয় বেগবান এই অর্থে)।
এই রাষ্ট্রের মেধ(প্রগতি) কামনায় যে যজ্ঞ রাজা করেন তাই অশ্বমেধ যজ্ঞ।

গোমেধ যজ্ঞ কি?
গো শব্দের ৯টি অর্থের মধ্যে একটি হল পৃথিবী।পৃথিবী ও পরিবেশের নির্মলতা কামনায় যে যজ্ঞ বা উপাসনা তাই গোমেধ যজ্ঞ।

অশ্ব,গবাদি পশু ইত্যাদি হত্যা করে ,হোম বা যজ্ঞ করার বিধান কোন প্রামাণ্য শাস্ত্রে নেই ।কেবল পৌরাণিক যুগে ভণ্ডের দল এই সব পাপাচার প্রচার করে সমাজের মহা সর্বনাশ করেছে। দয়া ,প্রেম ,সাম্য ,মানবতা ,অহিংসা মানুষের পরম ধর্ম। এর বিপরীত আচরন পশুহত্যা করে ধর্মাচরণ তো হয় না বরং পাপই হয়।

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

কৃতজ্ঞতায়ঃ অগ্নিবীর বাংলা
0 comments

যিশু ক্রিস্টের অজানা মুহূর্ত


ক্রসবিদ্ধ অবস্থাতেই ‘পিতা, এদের ক্ষমা করো’ বলে প্রাণত্যাগ করলেন যিশু। দুপুর ১২টায় ক্রসে গাঁথা হয়েছিল তাঁকে, বিকেল ৩টেয় মৃত্যু। মৃত্যুর কথা শুনে রোমান শাসক পন্টিয়াস পাইলেটও বিস্মিত, ‘সে কী! এত তাড়াতাড়ি!’ ফরিসি ও ইহুদি পুরোহিতেরাও জানাল, হ্যাঁ, যিশু মারা গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর দু’পাশে যে দুই ডাকাতকে ঝোলানো হয়েছিল, তারা এখনও মরেনি। তাড়াতাড়ি মারতে ওদের পা ভেঙে দেওয়া হোক।


রোমান সেনাধ্যক্ষ তাই করল। অতঃপর যিশুর কাছে এসে দেখল, তিনি ইতিমধ্যেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সে পাশ থেকে যিশুর বুকে একটু বর্শা দিয়ে আঘাত করল, হ্যাঁ। সত্যিই মৃত। অ্যারামাথিয়া অঞ্চলের শিষ্য জোসেফ মরদেহ নামিয়ে তাড়াতাড়ি নিজের পারিবারিক কবরখানায় তাঁকে সমাহিত করতে গেল। সঙ্গে আর এক শিষ্য নিকোডেমাস। মস্তকি (myrrh) আর অ্যালয়ভেরা... দুই ভেষজে তৈরি প্রায় একশো পাউণ্ড ওজনের এক তৈলাক্ত মিশ্রণ নিয়ে এসেছিল সে।
এই বাইবেলীয় বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই একের পর এক প্রশ্ন তুলেছেন হোলগার। তিন ঘন্টা ক্রসবিদ্ধ হয়ে কেউ মরে না। দুই দস্যুও মরেনি। এমনকী, পন্টিয়াস পাইলেটও বিস্মিত! তা, খ্রিস্টিয় ধর্মগুরুরা এ ব্যাপারে ক্রসবিদ্ধ হওয়ার আগের রাতের কথা তুলছেন। যে রাতে যিশুর শরীর চাবুকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল ইহুদি পুরোহিতেরা। মেল গিবসনের ‘দ্য প্যাশন অব দ্য ক্রাইস্ট’ ছবিটা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরাই মনে করতে পারবেন সেই বীভৎস অত্যাচার! গির্জার বক্তব্য, আগের রাতে অত প্রহারেই দুর্বল ছিলেন যিশু। নিজের ক্রসটাও গোটা রাস্তা বয়ে নিয়ে যেতে পারেননি।
হোলগার অবশ্য থামছেন না। তিনি প্রাচীন রোমান আইন ঘাঁটছেন, ক্রসবিদ্ধ করার আগের রাতে অপরাধীকে ৩৯ ঘা চাবুক মারার নিয়ম ছিল। যিশুর পাশের দুই দস্যুকেও চাবুক মারা হয়েছিল, তারা তো মরল না। বলতে বলতে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ওই রোমান সেনাধ্যক্ষ দু’জনের পা ভেঙে দিল। কিন্তু যিশুর কাছে এসে সে হঠাৎ দয়াপরবশ হয়ে গেল কেন? স্রেফ বর্শা দিয়ে আঘাত, এবং তাও পাশ থেকে! মনস্তত্ত্ব কী বলে? সে তো সামনাসামনিই আঘাত করবে। তা ছাড়া, মস্তকি আর অ্যালয়ভেরা মাখিয়ে মৃতদেহের সৎকার করতে হবে, এমন কোনও প্রথা সে আমলে ছিল না। বরং ইহুদি প্রথা ছিল, মৃতদেহ জলে ধুইয়ে কবরে রাখতে হবে। এখানে তা তো নয়ই, বরং ঠিক উল্টো। বলতে বলতেই তিনি জানিয়ে দেন, মিশর এবং গ্রিক সভ্যতার আমল থেকে এই ভেষজ মিশ্রণ একটি কাজেই ব্যবহৃত হয়েছে। ক্ষতস্থানের দ্রুত আরোগ্য!
ক্রসে পেরেকবিদ্ধ এক মানুষ। মাথায় কাঁটার মুকুট। তিন ঘন্টা ধরে, চড়া রোদে এ ভাবে থাকার পর তাঁর আরোগ্য সম্ভব? রোম সাম্রাজ্যের প্রথম যুগের ইহুদি ঐতিহাসিক ফ্লাভিয়াস জোসেফাসকে এ বার উদ্ধৃত করছেন হোলগার। ফ্লাভিয়াস জানাচ্ছেন, এক বার এক বিজয় অভিযান সেরে ফেরার পথে তিনি দেখেন, ক্রসে বেশ কিছু লোককে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেই অসহায়দের তিন জন তাঁর পুরনো বন্ধু। সম্রাটের কাছে তিনি তখনই তাঁদের প্রাণভিক্ষা চাইলেন। রাজ-আজ্ঞায় তিন জনকে নামিয়ে শুশ্রূষা করা হল। দু’জন মারা গেলেন, কিন্তু এক জন বেঁচে রইলেন।
তা হলে? ক্রসবিদ্ধ হওয়া মানেই মৃত্যু, এমনটা নয়। আর শুধু যিশুর কাছে এসে হঠাৎ দয়াপরবশ হয়ে যাওয়া ওই সৈনিক? পুরনো দিনের ইতিহাস ঘেঁটে হোলগার জানাচ্ছেন, ওই সৈনিকের নাম লঙ্গিনাস। পরে কাপাডোকিয়া অঞ্চলের বিশপও হয়েছিলেন তিনি। ওই দয়া তা হলে আচমকা আসেনি? জোসেফাস আর নিকোডেমাস... যিশুর শেষ সঙ্গী এই দু’জন যে রীতিমত প্রভাবশালী ছিলেন, ইহুদিদের যে শক্তিশালী পুরোহিত সংগঠন যিশুকে ক্রসবিদ্ধ করা হোক বলে হইচই তুলেছিল, এঁরা দু’জন সেই সংগঠনের সদস্য ছিলেন, তা বাইবেলেই লেখা আছে। আরও লেখা আছে, দু’ জনেই গোপনে যিশুর শিষ্যত্ব স্বীকার করেছিলেন।
এই জায়গা থেকেই নতুন প্রশ্ন তুলেছেন হোলগার। তাঁর বক্তব্য, দু’ জনেই ক্রস থেকে সাত-তাড়াতাড়ি যিশুকে নামিয়ে তাঁকে বাঁচিয়ে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছিলেন। সঙ্গে নিয়েছিলেন লঙ্গিনাসকেও। সে কারণেই ওই রোমান সেনানীর হঠাৎ এত দয়া!
কিন্তু বাইবেলের সেই চিরন্তন পুনরুত্থান? তিন দিন পরে মৃত্যু থেকে উঠে এলেন যিশু, দেখা দিলেন অনুগামীদের? এ বার বাইবেল থেকেই যিশুর শিষ্যা মেরি ম্যাগদালেনের উক্তি তুলে আনছেন হোলগার। ভোরবেলায় সেই কবরখানায় গিয়ে মেরি ম্যাগদালেন দেখলেন, মৃতদেহটা আর নেই। ছুটতে ছুটতে তিনি পিটার আর জনকে গিয়ে জানালেন, ‘ওরা প্রভুকে নিয়ে গিয়েছে। জানি না, কোথায়।’ হোলগারের বক্তব্য, কী আশ্চর্য! কবর চুরি হলে কেউ কি এ ভাবে কথা বলে? কবর-চোর কোথায় যিশুর শরীর রেখেছে, সন্ত পিটারেরা সেটাও জানবেন বলে আশা করছিলেন মেরি?
হোলগারের বক্তব্য, জোসেফাস আর নিকোডেমাসরা তার আগের দিন রাতেই মেরি ম্যাগদালেন আর পিটারকে জানিয়েছিলেন তাঁদের পরিকল্পনার কথা। সব ঠিকঠাক এগিয়েছে, এখন শুধু জেরুজালেমের বাইরে ওঁকে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা। মেরি ম্যাগদালেন সে সব জেনেই ভোরবেলা কবরখানায় পৌঁছেছিলেন, আর সে কারণেই ওই বিস্মিত উক্তি।
তা হলে? মৃত্যু থেকে খ্রিস্টের পুনরুত্থান বা ‘রেজারেকশন’? এ বার ভাষাতত্ত্বের শরণ নিয়েছেন হোলগার। প্রাচীন আরামিক ভাষায় (ওই ভাষাতেই কথা বলতেন যিশু) ‘চিজা’ নামে একটা শব্দ আছে। ওই শব্দের অনুবাদে হাজার হাজার বছর ধরে ‘পুনরুত্থান’-এর কথা বলা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ‘চিজা’-র মানে একেবারেই অন্য। রোগ থেকে সেরে ওঠা।
তা হলে? ঠিক কী বলতে চাইছেন হোলগার কার্স্টেন?
হ্যাঁ, যিশুখ্রিস্টের জীবনে অজ্ঞাত দুটি পর্ব অবশ্যই আছে। প্রথমটি, তাঁর তিন বছর বয়সে। রাজা হেরদ-এর অত্যাচার থেকে বাঁচতে তিন বছরের শিশুকে নিয়ে জোসেফ আর মেরি পাড়ি দিয়েছিলেন মিশরে।
কী হল সেখানে? কেউ জানে না। তবে, এর পরই বারো বছরের যিশুকে দেখা গেল, জেরুজালেমের মন্দিরে। সেখানকার পুরোহিতেরাও তাঁর শাস্ত্রজ্ঞানে মুগ্ধ। এবং তার পরই আমরা দেখলাম তিরিশ বছরের যিশুকে। মাঝে কী হল, কেউ জানে না।
আর এখান থেকেই নানা ব্যাখ্যার উদ্ভব। ওই সময়টায় যিশু ভারতে এসেছিলেন, বারাণসী, উজ্জয়িনী এবং বহু জায়গায় শাস্ত্রশিক্ষা করেছিলেন এ রকম একটা কথা মাঝে মাঝেই শোনা যায়। কিন্তু তা কত দূর সত্যি, কেউ জানে না। উনিশ শতকের শেষাশেষি নিকোলাস নোটোভিচ নামে এক রুশ পর্যটককে লাদাখের হেমিস গোম্ফায় প্রাচীন এক তিব্বতি পুঁথি দেখানো হয়েছিল। সেখানে ছিল, ইজরায়েলে জন্মানো ইশা ছোটবেলায় বণিকদের সঙ্গে সিন্ধুদেশে আসেন। সেখানে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ও বেদ-বেদান্ত অধ্যয়ন করেন। জাতপাত ও প্রচলিত ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি এমন ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন যে, ব্রাহ্মণেরা তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করেন। যিশু পারস্য হয়ে স্বদেশে পালিয়ে যান। নিকোলাস সে কথা লিখতেই সারা ইউরোপ জুড়ে তোলপাড়। জার্মান পণ্ডিত ম্যাক্সমুলারও রেগে কাঁই হয়ে লিখলেন, এমন হতেই পারে না। নোটোভিচ আসলে প্রতারক।
কিন্তু ফিসফিস থামল না। স্বামী বিবেকানন্দের সতীর্থ, রামকৃষ্ণ-শিষ্য স্বামী অভেদানন্দও তাঁর তিব্বত-সফরের কথা লিখতে গিয়ে জানালেন, হেমিস গোম্ফার প্রধান তাঁকেও সেই প্রাচীন পুঁথি দেখিয়েছেন। অনেকে আবার শিবভক্ত নাথ সাধুদের কথা বললেন। গোরখনাথ, পার্শ্বনাথ ইত্যাদি সাধকের নাথ সম্প্রদায়। তাঁদের মধ্যে প্রচলিত কাহিনি, সন্ত ইশানাথ ১৪ বছরে ভারতে এসেছিলেন। তার পর দেশে ফিরে এক চক্রান্তে পড়েন। তাঁকে ক্রসবিদ্ধ করা হয়। যোগবলে বেঁচে যান তিনি, অবশেষে গুরু চেতননাথের সাহায্যে ফের ভারতে আসেন। হিমালয়ের কোলে আশ্রম স্থাপন করেন। পরিণত বয়সে সেখানেই তাঁর মৃত্যু।
এই ফিসফিসটাকেই এ বার ঐতিহাসিক তথ্যের কাঠামো দিচ্ছেন হোলগার কার্স্টেন। বলছেন, তিন বছরের যিশুকে নিয়ে জোসেফ আর মেরি যখন মিশরে আসেন, সেখানে এক লক্ষ ইহুদির বাস। এবং কয়েকশো বৌদ্ধ বিহার। আরও জানাচ্ছেন, যিশু ‘এসেন’ ধর্মগোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। বৌদ্ধদের প্রভাবে ওই সন্ন্যাসীরা বিয়ে করতেন না, ইহুদি মন্দিরে বলি এবং রক্তপাতের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। এবং সেখানেই শেষ নয়। চুরি না করা, মিথ্যে না বলা, ব্যভিচার না করা...বৌদ্ধদের যে রকম ‘অষ্টাঙ্গিক মার্গ’, এসেন গোষ্ঠীও সে রকম আটটি পথের কথা বলত।
প্রসঙ্গত, যিশুর দীক্ষাগুরু সন্ত জন-ও ‘এসেন’। জর্ডন নদীর জল ছিটিয়ে তিনি যীশুকে দীক্ষা দিয়েছিলেন। তা, হোলগার বলছেন, এ রকম কোনও ইহুদি প্রথা ছিল না। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা বরং নতুন শ্রমণদের ওই ভাবে দীক্ষা দিতেন। আর, এই দীক্ষাপর্বের সময় মঠে একটি দীপ জ্বলত। গ্রিক ও রোমান ভাষার প্রাচীন খ্রিস্টিয় সাহিত্যে কিন্তু খ্রিস্টানদের আর একটি নাম ‘আলোকপ্রাপ্ত’।
এবং কাশ্মীর! হোলগার বারংবার একটা জায়গাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। কাশ্মীর। ওল্ড টেস্টামেন্টে রয়েছে, ইহুদিদের আদিপুরুষ আব্রাহাম হারান শহরে থাকতেন। এত দিন ধারণা ছিল, হারান মেসোপটেমিয়া-য়। হোলগার জানাচ্ছেন, না। শ্রীনগরের অনতিদূরে ‘হারওয়ান’ই সেই হারান। ওল্ড টেস্টামেন্টে আছে, ‘বেথ পিওর’ অঞ্চলের সামনে রাখা উপত্যকা বেয়ে মোজেস তাঁর উদ্দিষ্ট ঈশ্বরের দেশে পৌঁছে যান। হোলগার দেখাচ্ছেন, কাশ্মীরের ঝিলম নদীকে প্রাচীন ফারসি ভাষায় বলা হত বেহাত। এবং ঝিলম উপত্যকা যেখানে উলার হ্রদের সঙ্গে মিশেছে, তারই নাম ‘বেহাত পিওর।’
গত দু’ দশক ধরে বিচিত্র সব প্রমাণ উদ্ধার করেই চলেছেন হোলগার। কাশ্মীরের শিকারাগুলির বৈঠা পানপাতা বা ‘হৃদয়’চিহ্নের মতো দেখতে। শিশুর জন্মের পর মেয়েরা চল্লিশ দিনের আঁতুড় পালন করে। হোলগার বলছেন, এগুলি সবই প্রাচীন ইহুদি প্রথা। সবচেয়ে বড় কথা, ইহুদিদের মতোই প্রাচীন কাশ্মীরী কবরগুলি পূর্ব-পশ্চিমে। পরে ইসলামে ধর্মান্তরিত হলেও কাশ্মীরীরা আসলে নাকি ইহুদি সভ্যতারই উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন।
এবং স্বয়ং যিশুখ্রিস্ট শিষ্যদের গোপন চেষ্টায় মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে মিশর, পারস্য হয়ে শেষ অবধি চলে এসেছিলেন এই কাশ্মীরেই। ক্রসবিদ্ধ হওয়ার ১৬ বছর পরে। মনটা বড় খারাপ করে দিয়েছেন হোলগার। তাঁর লেখা পড়ে এ বারে বড়দিন কেমন যেন পানসে। দু’ হাজার বছর পরেও বোঝা গেল না সেই ঈশ্বরপুত্রকে!
----------------------------------------------------------------------------------
সৌজন্যঃ আনন্দবাজার পত্রিকা ১১ পৌষ ১৪১১ রবিবার ২৬ ডিসেম্বর ২০০৪

Collected From: Prithwish Ghosh
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger