সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

শ্রীজগন্নাথ পুরী (পর্ব ০২)

জগন্নাথ পুরীর আরেক নাম হল ‘শ্রীক্ষেত্র’ । শ্রী শব্দের অর্থ শ্রীদেবী বা লক্ষ্মীদেবী, যিনি ভগবান শ্রীবিষ্ণুর স্বরূপশক্তি । যে ভূমিখন্ড শ্রীশক্তির প্রভাবান্বিত, সেই ক্ষেত্র শ্রীক্ষেত্র নামে প্রসিদ্ধ ।
শ্রীদেবী শ্রীমতি রাধারাণীর অংশপ্রকাশ । যেসব ভক্তগণ মাধুর্যরসাশ্রিত, মাধুর্য রসে যারা ভগবানের আরাধনা করেন, তাদের মতানুসারে এ ক্ষেত্র সর্বোচ্চ স্তরে সেবাভাব প্রকটিত করেছেঃ মাধুর্য এবং ঔদার্য ।
শ্রীক্ষেত্র বা উৎকল ৪ ভাগে বিভক্ত, যা ভগবান বিষ্ণুর শ্রীহস্তধৃত ৪ টি অস্ত্রের দ্যোতক । এ ৪ ক্ষেত্র শঙ্খক্ষেত্র (পুরী শহর), পদ্মক্ষেত্র (কোণার্ক), চক্রক্ষেত্র (ভুবনেশ্বর) এবং গদাক্ষেত্র (যাজপুর) নামে খ্যাত । সমগ্র ক্ষেত্রমন্ডল দশ যোজন পরিধি বিশিষ্ট ।
ঐ দশ যোজন পরিধির মধ্যে অবস্থিত পুরী শঙ্খক্ষেত্র নামে বিদিত, কারণ পুরীর পরিধি শঙ্খের ন্যায় আকার-বিশিষ্ট । পুরীক্ষেত্র পাচ ক্রোশ পরিমাণ আয়তন বিশিষ্ট, এবং মধ্যে তিন ক্রোশ মহাসাগরের নীচে নিমজ্জিত, দুই ক্রোশ স্থলভূমি । পুরীর ভূভাগ স্বর্ণাভ বালুকারাশি দ্বারা আবৃত এবং এক নীলাভ পর্বত বা নীলাচল দ্বারা শোভিত । শ্রীক্ষেত্রের অন্তর্গত চারটি ক্ষেত্রের মধ্যে এ শঙ্খক্ষেত্র অত্যন্ত বিশিষ্ট, কেননা এখানে পরমপুরুষ ভগবান স্বয়ং মহাদধি বা মহাসাগরের তীরে নীল পর্বত, নীলাদ্রির উপরে তার অর্চা-বিগ্রহ স্বরূপে বিরাজ করছেন । ভগবান বলেছেন যে, এ স্থান অতি সংগুপ্ত, এমনকি ব্রহ্মার কাছেও ।
স্কন্দপুরানে লক্ষ্মীদেবী বলেছেন
পঞ্চক্রোশং ইদং ক্ষেত্রং সমুদ্রান্ত ব্যবস্থিতম্ ।
দ্বি ক্রোশং তীর্থ রাজস্য তটভূমৌ সুনির্মলম্ ।।
সুবর্ণবালুকাকীর্ণং নীল পর্বত শোভিতম্ ।
যোহসৌ বিশ্বেশ্বরো দেবঃ সাক্ষান্নারায়ণাত্মকম্ ।।
“এ ক্ষেত্র পঞ্চক্রোশ পরিমিত আয়তন বিশিষ্ট এবং সমুদ্রতীরে অবস্থিত । এই পঞ্চক্রোশের মধ্যে দ্বিক্রোশ পরিমিত স্থলভাগ সমুদ্রতট ভাগে অবস্থিত এবং সুনির্মল, অতি পবিত্র । এ স্থান স্বর্ণবর্ণ বালুকারাশি সমাবৃত এবং নীলপর্বত দ্বারা সুশোভিত । সাক্ষাৎ নারায়ণ এখানে বিশ্বেশ্বর রূপে বিরাজিত রয়েছেন ।”
এই শ্রী মন্দির বা জগন্নাথ মন্দির পাহারা দেওয়ার কাজ শিব ও হনুমানকে দিয়েছিল গত পোষ্টে আমরা কানপাতা হনুমানের কাহিনী বর্ণনা করেছিলাম আজকে আমরা আলোচনা করব বর্গী হনুমানের…
বর্গী হনুমান
জগন্নাথ মন্দিরের পশ্চিম দিকে লোকনাথ রোডে বর্গী হনুমান মন্দির অবস্থিত । পূর্বে বর্গীরা (মহারাষ্ট্রের এক জনজাতি) এই পথ দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে যেত, এর ফলে শ্রীমন্দিরে ও পুরীর মানুষদের মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি হত । এই বর্গীরা হনুমানের ভক্ত, সেজন্য তাদের পুরী প্রবেশ বন্ধ করতে এই অঞ্চলে একটি হনুমান মূর্তি মন্দিরে স্থাপন করা হয় ।
বর্গীরা হনুমান মূর্তি অতিক্রম করে যেতে অনিচ্ছুক ছিল, সেজন্য এইভাবে মহারাষ্ট্রের দুর্ধর্ষ বর্গীদের আক্রমণ থেকে পুরী রক্ষা পেয়েছিল ।
0 comments

শ্রীজগন্নাথ পুরী (পর্ব ০১)


স্কন্দপুরানে (উৎকলখন্ড) উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ জগন্নাথ পুরীর পরিধি ১০ যোজন (৮০ মাইল বা ১২৮ কিঃমিঃ) অবধি বিস্তৃত এবং বালুকাময় ভূভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত । এ স্থান উড়্রদেশ বা উড়িষ্যা নামেও খ্যাত । শাস্ত্রে উৎকল দেশকে এ গ্রহের পবিত্রতম স্থান বলে বর্ণনা করা হয়েছে ।
ব্রহ্মান্ড পুরাণে বলা হয়েছেঃ
বর্ষাণাং ভারতশ্রেষ্ঠঃ দেশানাং উৎকলঃ স্মৃতঃ ।
উৎকলস্য সমদেশো দেশো নাস্তি মহীতলে ।।
অর্থাৎ “সমস্ত বর্ষসমূহের মধ্যে ভারতবর্ষ শ্রেষ্ঠ । সমস্ত দেশের মধ্যে উৎকল দেশ বা উড়িষ্যা শ্রেষ্ঠ । এই গ্রহে উৎকল দেশ বা উড়িষ্যার মতো অন্য কোনো দেশ নেই ।”
তাই আজ থেকে চেষ্টা করব আপনাদের এই পবিত্র ভূমি উড়িষ্যার সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে কিছু জানানোর জন্য যেখানে স্বয়ং ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব অবস্থান করছেন । তার মহিমা, লীলা ও যতগুলো মন্দির আছে, বা এই পবিত্র ধাম সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে ।
আজ আলোচনা করব অষ্ট মহাবীর সম্পর্কে যা নিম্নে তুলে ধরা হল====
অষ্ট মহাবীর
অষ্ট শম্ভুর (শিব) সাথে সাথে অষ্ট মহাবীর (হনুমান) পুরী ধাম রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন । এই মহাবীরগণ হচ্ছেন সিদ্ধ মহাবীর, দরিয়া মহাবীর, কানপাতা মহাবীর, বর্গী হনুমান, মসনী মহাবীর, পঞ্চমুখী মহাবীর, ফতে মহাবীর এবং শিরুলী মহাবীর ।
শ্রীমন্দিরের সুরক্ষার জন্য হনুমান মন্দিরের চার পার্শ্বেও পাহারা দিচ্ছেন । সিংহদ্বারে (জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান প্রবেশ পথ ও পূর্ব দ্বার) রয়েছেন ফতে হনুমান; পশ্চিম দ্বারে রয়েছেন বীর বিক্রম হনুমান; উত্তর দ্বারে রয়েছেন তপস্বী হনুমান এবং দক্ষিন দ্বারে রয়েছেন কানপাতা হনুমান ও বড়ভাই হনুমান ।
আজকে কানপাতা হনুমান সম্পর্কে জানব
কানপাতা হনুমান
এই হনুমানের একটি সুন্দর কাহিনী রয়েছে । মহাসাগরের তীরে জগন্নাথ মন্দির অবস্থিত । সমুদ্র মন্থনের সময় লক্ষ্মীদেবী আবির্ভূতা হন এবং ভগবান তাঁকে বিবাহ করেন । সাগর-কন্যাকে বিবাহ করার ফলে ভগবান সাগরের জামাতা হলেন, এবং মহাসাগর হলেন শ্রীজগন্নাথদেবের শ্বশুর ।
রাত্রিতে মহাসাগরের তরঙ্গমালা একটি জোরালো শব্দ করে যা সারা পুরীতে শোনা যায় । একসময় এই তরঙ্গ-শব্দ শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রবেশ করে এবং জগন্নাথের নিদ্রায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে । শ্রীজগন্নাথদেব সমুদ্রকে আদেশ করেন এমন কোনো শব্দ না করতে যা তাঁর নিদ্রায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে । কিন্তু সমুদ্র তা শুনলো না বরং তাঁর শব্দতরঙ্গ আরো বাড়িয়ে দিল । তখন জগন্নাথ হনুমানকে খবর দিল এবং বলল যাতে সমুদ্রের শব্দ মন্দিরে না আসে সেই ব্যবস্থা করতে । তখন হনুমান তার ডান কান পাতালেন এবং সমস্ত শব্দ তরঙ্গ নিজের কানে ঢুকালেন । সেই থেকে তটভূমিতে সমুদ্রের তরঙ্গ-ভঙ্গের শব্দ আর কখনো জগন্নাথের মন্দিরে প্রবেশ করেনি । শ্রীজগন্নাথ তাঁর ভক্ত হনুমানকে দক্ষিন দ্বারে পাহারায় নিয়োজিত করে বলেন যে, সে যেন সবসময় সতর্কভাবে সমুদ্রের ধ্বনির দিকে মনোযোগ রাখে এবং কোনো শব্দ যেন মন্দিরে প্রবেশ না করতে পারে তা নিশ্চিত করে । “কানপাতা” শব্দের অর্থ কানকে শব্দ শ্রবণে নিরত থাকা । সেজন্য এই দ্বারে পাহারারত হনুমানকে বলা হয় কানপাতা হনুমান ।
(চলবে......।।)

লিখেছেণঃ সংকীর্ন মাধব

1 comments

চণ্ডীগ্রন্থের সংক্ষিপ্ত উপাখ্যান

পুরাকালে সুরথ নামক একজন রাজা শত্রুর নিকট পরাজিত হয়ে মনের দুঃখে বনে গমন করেন। ক্রমে তিনি মেধা মুনির আশ্রমে অবস্থান করেন। ধনলোভে স্ত্রী ও পুত্রগণ কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে ধনবান সমাধি নামক এক বৈশ্য তথায় উপস্থিত হন। রাজ্য হারা রাজা সুরথ ও পরিবার পরিত্যক্ত বৈশ্য সমাধি মিলিত হলেন। তাঁরা একে অপরের সমস্যা অবগত হলেন। যে ধনলোভী আত্মীয় ও স্ত্রীপুত্রগণ তাঁদের পরিত্যাগ করেছে, তাদের জন্যই উভয়ের চিত্ত স্নেহাসক্ত হচ্ছে, তাদের কুশলাকুশল নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এই মায়ারহস্য সম্বন্ধে অবগত হতে তাঁরা উভয়ে মেধা মুনির সমীপে উপস্থিত হন, মুনিকে প্রশ্ন করেন। মেধা মুনি মহামায়ার স্বরূপ বর্ণনা করেন এবং বহু অবতারের মধ্যে মায়ের তিনটি অবতারের বিবরণ দেন। মধুকৈটভ বধ, মহিষাসুর বধ ও শুম্ভ-নিশুম্ভ বধ—মায়ের তিনটি অবতারের তিনটি কাজ। দেবী মাহাত্ম্য শ্রবণ করে মেধা মুনির উপদেশে সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য দেবীর আরাধনার জন্য গমন করেন। নদীতীরে অবস্থান করে তাঁরা সর্বশ্রেষ্ঠ দেবীসূক্তপাঠ ও তার ভাবার্থ অনুধ্যান করতে করতে তপস্যারত হন। তাঁরা উভয়ে নদীতটে দুর্গাদেবীর মৃন্ময়ী প্রতীমা নির্মাণ করে সংযতচিত্তে পূজা আরাধনা করেন। তিন বছর এরূপে দেবীর আরাধনার ফলে জগদম্বা চণ্ডিকা সন্তুষ্টা হলেন। দেবী প্রত্যক্ষভাবে আবির্ভূতা হয়ে বললেন যে, সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য দেবীর নিকট যা যা প্রার্থনা করছেন তা তারা পাবেন। দেবী তা তাদের প্রদান করবেন। স্ব স্ব প্রার্থনা অনুযায়ী, সুরথ রাজা তার হারানো রাজ্য ফিরে পাবেন ও মৃত্যুর পর সাবর্ণি নামে অষ্টম মনু হয়ে জন্মগ্রহণ করবেন—এই বর এবং সমাধি বৈশ্যকে মোক্ষপ্রাপ্তির জন্য তত্ত্বজ্ঞানরূপ বর প্রদান করে দেবী অন্তর্হিতা হন।

Courtesy by: Prithwish Ghosh
0 comments

নিত্যকর্ম

কিভাবে কাটাবেন সারা দিন ?

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবার চেষ্টা করুন । হিন্দু শাস্ত্র মতে ব্রাহ্ম মুহূর্তে শয্যা ত্যাগ করা নিয়ম কিন্তু আজকের ব্যস্ততার যুগে সেটা সম্ভব নয়। তাই চেষ্টা করুন সকাল ৫-৬ টার মধ্যে শয্যা ত্যাগ করতে । ঘুম থেকে উঠে প্রথমে গুরুদেব ও ইষ্টদেবতাকে প্রনাম করুন । যাহাদের দীক্ষা হয় নি, তারা ইষ্টদবেতাকে প্রনাম করুন ।

এরপর করজোড়ে মা বসুমতীকে প্রনাম করুন । কারন বসুমতীর বুকে আমরা চরণ দিয়ে হেটেচলে বেড়াই । তিনি সর্বংসহা – সব সহ্য করেন । বসুমতীকে প্রনাম করে পুরুষেরা ডান পা আগে ফেলুন পরে বাম পা। মহিলারা বাম পা আগে ফেলুন পরে ডান পা । বিছানায় বসে বেড টি খাওয়া বর্জন করুন ।

এরপর দাঁত ব্রাশ করে আধাঘণ্টা যোগা করুন । যোগা করতে অসমর্থ হলে বাড়ীর উঠোনে, ছাদে বা নিকটে  কোনো পার্ক বা মাঠে আধঘণ্টা জোরে জোরে হাটুন । বাড়ীতে বাচ্চা থাকলে তাদেরকেউ এই অভ্যাস শেখান ।

এরপর বাড়ী ফিরে শৌচাদি ও স্নান সাড়ুন । স্নান সেড়ে পূজো করুন । দেখবেন মারোয়ারী, বিহারী, জাঠ, গুজরাটি এদের মধ্যে এই সু অভ্যাস আছে । তারা সকাল সকাল স্নান সেড়ে সকলে একসাথে ভগবানের আরতি পূজো করে । তাই আপনিও সকাল সকাল পূজোর অভ্যাস করুন । ঘরে ধুপধুনো দিন সকালে । ধূপের গন্ধে সকল অশুভ প্রভাব কেটে যায় ।

স্নান সেড়ে পূজা না করতে পারলে তুলসী, বেল, বট, অশ্বত্থ , নিম বৃক্ষে জল দিন । এই গাছগুলি পবিত্র, এতে দেবতারা থাকেন । যারা দীক্ষিত তারা এইসময় গুরুপ্রদত্ত বীজ মন্ত্র জপ করুন । অদীক্ষিত ব্যাক্তি গণ হাতে তালি দিয়ে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করুন । এরপর সূর্য দেবতাকে প্রনাম ও জল অর্পণ করুন । কেউ কেউ আছেন বাড়ীর কাজকর্ম সেড়ে দুপুরে পূজা করেন। এটাও ঠিক।

যারা অফিস যাবেন তারা অফিসে যান, যারা গৃহে থাকবেন তারা সকাল ১২ টা থেকে ২ টার মধ্যে মধ্যাহ্ন ভোজোন সমাপ্ত করুন । ভোজোন গ্রহণ করার সময় অন্নের থালাকে “জয় মাতা অন্নপূর্ণা” বলে নমস্কার করে তারপর ভোজোন করুন । কত ভিখারী অন্ন পায় না, মনে করুন আপনি যা পেয়েছেন মা অন্নপূর্ণার দয়ায় । গ্রেগ্রাসে আর আকন্ঠ খাবেন না। শাস্ত্রে মানা আছে । যতটুকু তে পেট ভরে ততটাই খাবেন । খাওয়ার কিছু ভুক্তাবিশিষ্ট কুকুর, বিড়াল, পক্ষী দিগকে দিন ।

দুপুরে কেউ গৃহে আসলে তাকে অবশ্যই ভোজোন করাবেন । দ্বিপ্রহরে হিন্দুর বাড়ী থেকে কেউ অভুক্ত ফিরে গেলে সেই গৃহে অমঙ্গল হয় ।

দিবানিদ্রা হিন্দু ধর্মে পাপ। দুপুরে না ঘুমানোর চেষ্টা করুন । তবে অল্প শয়ন চলতে পারে ।

সন্ধ্যা  হলে সূর্য ডোবার পর আহার গ্রহণ হিন্দু ধর্মে পাপ। এই সময় ভোজোন করলে সে রাক্ষস হয় । সূর্য অস্ত যাবার পর চুল আঁচড়ানো , ভোজোন, শয়ন, মলিন বস্ত্র পরিধান ইত্যাদি হিন্দু ধর্মে পাপ । সন্ধ্যার সময় মহিলারা তুলসী প্রাঙ্গনে প্রদীপ দিন, সারা বাড়ী ঠাকুরঘরে ধূপধুনো দিন । একত্র হয়ে ধার্মিক গ্রন্থ পাঠ, কীর্তন , গুরু মন্ত্র জপ করুন । বাড়ীর বাচ্চাকাচ্চাদের শেখান । গুরুবারে সন্ধ্যা কালে অবশ্যই আল্পনা দিয়ে নৈবদ্য দিয়ে মা লক্ষ্মীর পূজো করুন ।

অফিস থেকে বাড়ীতে ফিরে পুরুষেরা পরিষ্কার বস্ত্রে ( লুঙ্গি বর্জন ) গুরু প্রদত্ত মন্ত্র জপ করুন । দীক্ষা না হলে ভগবানের নাম কীর্তন বা  ধার্মিক গ্রন্থ পাঠ করুন ।  লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় হিন্দু ধর্মে ধার্মিক কাজ করা বারন ।

রাতে রুটি খাওয়া অভ্যাস করুন । হিন্দু ধর্মে দিবসে অন্ন রাতে রুটি পরোটা খাওয়ার কথা বলা হয় । স্বল্প দুধ পান করুন রাতে খাওয়ার সাথে । সপ্তাহে কম করে হলেও দুদিন শাকাহারী নিরামিষ আহার খেতে অভ্যাস করুন । শাস্ত্র নিশিদ্ধ খাবার গ্রহণ করবেন না ।

রাত ১০-১১ টার মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস করুন । ঘুমাতে যাবার আগে ঈশ্বরকে প্রনাম করুন । শয়নের আগে যে বালিশ মাথায় দেন, সেই বালিশকে প্রনাম করুন । মাথায় দেওয়া বালিশে ভগবান নারায়ন অবস্থান করেন । সেই বালিশ কদাপি কোলে বা পায়ে দেবেন না ।

একাদশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা , বার ব্রততে উপবাস রাখুন । একদিন না খেলে আপনি মরে যাবেন না । ঐ সব তিথিতে ভগবানের ফল প্রসাদ, দুগ্ধ গ্রহণ করুন ।

বিধবা, সধবা,৫ বছর এর উপরের সবাই একাদশী, বারব্রত করতে পারেন । কেউ কেউ বলেন সধবা দের একাদশী করা মানা। এটা ভুল। ভগবানের সেবায় সধবা- বিধবা বলে কিছু হয় না। ঈশ্বরের ইচ্ছায় মানুষের জন্ম হয় আবার ঈশ্বরের ইচ্ছায় মানুষের আয়ু পূর্ণ হয় । হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রের ওপর আধারিত । যে ব্যাক্তি শাস্ত্র মানে না সে ইহলোক বা পরলোক কোথাও সুখে থাকেন না । অতএব ধর্মগ্রন্থের নির্দেশ মেনে চলুন ।

0 comments

ইসলাম-পূর্ব আরবে আরবি পবিত্র বেদের স্তুতি।

আরবি মানে আজ বিশ্বের মানুষ বুঝে ইসলামের ভাষা। মূলত ইসলামের সর্বোচ্চ ধর্মগ্রন্থ কোরআন ই আরবি ভাষায় রচিত। কিন্তু আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব জানেন
ইসলাম-পূর্ব আরবে আরবি পবিত্র বেদের স্তুতি।
এখানে একটি কবিতা দেয়া হল আরবি কবি লাবি-বিন-ই-আখতাব-বিন-ই-তুরফার যিনি ইসলাম-পূর্ব আরবে বাস করতেন।
“আয়া মুয়ারেকাল আরজ উশাইয়া নোহা মিনার হিন্দ-ই(ভারত) ওয়া আরাদকআল্লাহা মান্নোনাইফেইল জীকারাতুন”
” হে হিন্দের (ভারত) পবিত্র ভূমি পরম আশীর্বাদ প্রাপ্ত
কারন ঈশ্বর(কবিতায় তিনি আল্লাহ শব্দটি ব্যাবহার করেছেন) দ্বারা নির্বাচিত,জ্ঞানদারা আশীর্বাদ প্রাপ্ত ”
“ওয়াহালাটিযালি যতুন আইনানা সাহাবী অখা-অতুন যিকরা ওয়াহাযায়হি যোনাজ্জালুর-রোসু মিনাল হিন্দাতূন।
” সেই স্বর্গীয় জ্ঞান যেটি চারটি বাতিঘরের মত মহিমায় দীপ্ত- ভারতীয় ঋষিদের দ্বারা অজস্রবার উচ্চারিত ”
“ইয়াকূলূণাল্লাহা য়া আহাল আরাফ আলামীন কূল্লাহূম ফাততাবী-উ-যিকারাতূল বেদ বূক্কূম মালাম জোণাজ্জায়লাতুন।“
” ঈশ্বর(কবিতায় তিনি আল্লাহ শব্দটি ব্যাবহার করেছেন) সমগ্র মানবজাতিকে নির্দেশ দিয়েছেন, বেদের পথ অনুসরণ করতে তার স্বর্গীয় নির্দেশাবলী সহ। ”
ওয়াহোয়া আলামুস সাম ওয়াল যজুর মিনাল্লাহ তানাজিলান ফা ইনোমা য়া আখিগো
মুতিয়াবায় আন ইয়োবাসশেরিয়োনা যতুন।
” জ্ঞানের বিস্ফোরণে সাম এবং যজুর সৃষ্টির উপর অবতীর্ণ, তাই ভাইরা বেদকে সম্মান করে এবং অনুসরণ করেন এবং মুক্তির পথ দেখান।”
“ওয়া ঈসা নাইন হুমা ঋগ অথর্ব নাসায়হিন কা আ খুয়াতুন ওয়া আসান্ত আলা-উদান ওয়াবোয়া মাশা-ই-রাতুন”
” বাকি দুই, ঋগ এবং অথর্ববেদ আমাদের শিক্ষা দেয় ঐক্য, তাদের জ্যোতির নিচে আশ্রয় দেয় এবং অনন্তকাল পর্যন্ত অন্ধকার দূরীভূত করে।”
এই কবিতাটি লাবি-বিন-ই-আখতাব-বিন-ই-তুরফার রচিত। তিনি আরবে থাকতেন ১৮৫০ খৃস্টপূর্বে । এটা ছিল নবী মোহাম্মদের জন্মের ২৩০০ বছর আগে।
এটা সার-উল-অকুলে পাওয়া গিয়েছে। ১৭৪২ সালে অটোম্যান তুর্কি রাজা সুলতান সালিমের আদেশে সংকলন করা হয়।
( সূত্রঃ “Vedic History of Pre-Islamic Mecca” by Shrimati Aditi Chaturvedi )
VEDA, The infallible word of GOD's photo.
1 comments

বেদ সম্বন্ধে বিখ্যাত কিছু ভিন্ন ধর্মালম্বী ব্যক্তিত্বের দর্শন

মানবসভ্যতার মহাগ্রন্থ পবিত্র বেদ শুধু বৈদিক ধর্মালম্বীদের কাছেই বা ভারতীয়
উপমহাদেশেই জনপ্রিয় তা নয় বরং এর অনন্য গরিমায় এটি স্থান করে নিয়েছে পাশ্চাত্যের বুকে,যাদের অধিকাংশই অন্য ধর্মালম্বী।তার ই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা দেখব বেদ সম্বন্ধে বিখ্যাত কিছু ভিন্ন ধর্মালম্বী ব্যক্তিত্বের দর্শন।
¤ "মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য?বেদ।"
-বিখ্যাত পথার্থবিদ রবার্ট ওপেনহাইমার
¤ "যখন আমি বেদ পড়ি তখন এক অপ্রাকৃত আলোক যেন আমায় আলোকিত করে,এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে কোন বিভেদ নেই, এটি সকল দেশ,সকল জাতি,সকল কালের জন্য,যেন জ্ঞান অর্জনের এক রাজকীয় পথ!”
-হেনরী ডেভিড থরো
• “বেদ হচ্ছে শল্যবিদ্যা,শারীরবিদ্­যা, প্রকৌশল, গণিত,সঙ্গীত,সংস্কৃতি­ সকল কিছুর এক মিলিত সমাবেশ,যেন এক জীবন্ত বিশ্বকোষ!”
-উইলিয়াম জেমস ,বিখ্যাত আমেরিকান দার্শনিক
• “পৃথিবীতে বেদ ও উপনিষদ এর মত এত প্রণোদনাপূর্ণ,এত অতিমানবীয় বই আর নেই।”
-ম্যাক্স মুলার,প্রখ্যাত জার্মান সংস্কৃত বিশারদ।
¤ “Vedas are the most rewarding and the most elevating book which can be possible in the world.”
- Arthur Schopenhauer
• “এই পর্যন্ত বেদ এত যত্নের সাথে সংরক্ষিত হয়েছে যে আর কোন বইয়ের সাথেই তার তুলনা দেয়া যায়না।এরকম পরিবর্তিত হবার ক্ষীণতম সম্ভাবনা পর্যন্ত না থাকা মানব ইতিহাসের একমাত্র দৃষ্টান্ত।”
-আর্থার এন্থনি ম্যাকডোনেল
• "আমরা আর্যদের প্রতি কৃতজ্ঞ কেননা তাঁরা সংখ্যা আবিস্কার করেছেন যা ছাড়া বিজ্ঞানের কোন আবিস্কার ই সম্ভবপর হত না!”
-স্যার আলবার্ট আইনসটাইন,বেদে সংখ্যাতত্ত্বের সর্বপ্রথম উল্লেখ প্রসঙ্গে।
• "আশ্চর্য! বুঝতে পারলাম যে যত ঐশ্বরিক গ্রন্থের কথা শোনা যায় তাদের মধ্যে বেদ ই একমাত্র যার সকল ধারনা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সংগতিপূর্ন,একমাত্র এটিই জগতের ক্রমান্বয় উন্নতির পথ ঘোষনা করে।”
- বিখ্যাত ফরাসী লেখক ও ধর্মতত্ত্ববিদ Louis Jacolliot তাঁর "The bible in India" গ্রন্থে
• "প্রকৃতপক্ষে যেসকল নীতিসমূহ বেদপ্রদত্ত তার নূন্যতম গুনাগুন পর্যন্ত আমি বর্ননা করার যোগ্য নই যা মানুষের প্রথম এবং অনুশীলিত শ্রেষ্ঠ নীতিও বটে!“
-নোবেল বিজয়ী বেলজিয়ান কবি ও দার্শনিক Maurice Maeterlink তাঁর Le Grande secret গ্রন্থে।
তিনি আরো বলেন-
• “সবচেয়ে মহত্তম ও শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ সেটি যার সৃষ্টিতত্ত্বকে পাশ্চাত্যের কোন গবেষণাও ছাড়িয়ে যেতে পারেনি!”
• পিথাগোরাসের দুই হাজার বছর পূর্বে তারা সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে জানত,তারা জানত যে সূর্যকে কেন্দ্র করেই গ্রহসমুহ ঘোরে,নিউটনের ২৪০০ বছর পূর্বেই তারা জানত যে মহাকর্ষের প্রভাবেই মহাবিশ্ব একত্রিত হয়ে রয়েছে, এমনকি গ্রীকরাও যখন মনে করত যে পৃথিবী সমতাল তখন ও সংস্কৃতভাষী লোকগুলোর ঋগ্বেদ এ পৃথিবীর চ্যাপ্টা গড়নের কথা ছিল।তারা জানত যে পৃথিবীর বয়স ৪.৩ বিলিয়ন বছর যাতে আধুনিক বিজ্ঞান উনিশ শতকে এসে একমত হল।”
- Dic Teres,Famous American writer,co author of The God particle
• “ বেদ শুধু অসাধারন জীবনদর্শনের জন্য ই অবিস্মরণীয় নয় বরং অনবদ্য বিজ্ঞানের জন্যও,বিদ্যুৎ,
বিচ্ছু­রণ,বিমানবিদ্যা সব ই যেন বেদের ঋষিদের জানা ছিল!”
-ইলা হুইলার উইলকক্স,প্রখ্যাত আমেরিকান লেখিকা।
“সকল বুদ্ধিবৃত্তি,রাজনীতি­,অর্থনীতি,সকল ধর্মের ধারা বেদ থেকেই প্রবাহিত।এমনকি অসামান্য গ্রীক সভ্যতাকেও এর কাছে একেবারে বিবর্ণ মনে হয়!
-ফ্রেডরিক ভন শেলজেল
এটা খুব ই আশ্চর্য যে বেদের ভাষাশৈলী এতই নিখুঁত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত যে আধুনিক কালে আমাদের মিলটন,শেকসপিয়ার বা টেনিসনকেও এর কাছে কম মনে হয়!”
-আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস
“নিঃসন্দেহে ঋগ্বেদ মানবসভ্যতার সর্বোচ্য গরিমাময় রাজপথ।”
- প্রফেসর মরিস ফিলিপ,দ্যা টিচিংস অব বেদ
“এটি এমন একটি তত্ত্ব যা এক স্রষ্টার অস্তিত্ব ঘোষণা করে,এটি এমন ই একটি বই যাতে বিজ্ঞান ও ধর্মের মিলন ঘটেছে।”
- ডব্লিউ.ডি.ব্রাউন
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

VEDA, The infallible word of GOD
1 comments

বৈদিক বিজ্ঞান - সালোকসংশ্লেষন

ইহ ব্রবীতু য ঈমঙ্গ বেদাস্য বামস্য নিহিতং পদং বেঃ।
শীর্ষ্ণ ক্ষীরং দুহ্রতে গাবো অস্য বব্রিং বসানা উদকং পদাপুঃ।।
(ঋগ্বেদ ১.১৬৪.৭)
অনুবাদ-হে মিত্র,তিনি বলতে পারেন সেই সর্বজ্ঞানী পরমাত্মা এই রহস্য।পবিত্র আলো যখন গাছের উপর পড়ে আর গাছ যখন তার পা দিয়ে(মূল) মাটি থেকে পানি গ্রহন করে আর এর মাধ্যমেই আমাদের উপর খাদ্য ও জীবন বর্ষিত হয়!
আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী আমরা কি জানি?পাতার ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েডে অবস্থিত ক্লোরফিল দানাসমূহ সূর্যালোক থেকে ফোটন আকারে শক্তি গ্রহন করে।অপরদিকে উদ্ভিদ মূলের মাধ্যমে পানি গ্রহন করে যা বিজারিত হয়ে ক্লোরফিলকে ইলেকট্রন প্রদান করে।আলোকশক্তি দ্বারা উদ্দীপ্ত ক্লোরফিল এই ইলেকট্রনকে নিক্ষেপ করে ইলেকট্রনসংবহন তন্ত্রের বিভিন্ন ধাপে যেখানে কার্বোহাইড্রেটরুপী শক্তি উত্‍পন্ন হয় ফলে প্রানীকুল সেই খাদ্য খেয়ে জীবনধারন করতে সক্ষম হয়।
অপরদিকে এই মন্ত্রটিও বলছে যে উদ্ভিদ সূর্যালোক এবং মূলের সাহায্যে পানি গ্রহন করে এবং এর মাধ্যমেই আমাদের উপর খাদ্য ও জীবন বর্ষিত হয়!
অপর একটি মন্ত্র যেখানে সালোকসংশ্লেষনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়-
"... ত্বয়া মর্তাসঃ স্বদন্ত আসুতিং ত্বং গর্ভো বীরুধাং জনিষে শুচিঃ।।"
(ঋগ্বেদ ২.১.১৪)
অর্থাত্‍ হে অগ্নি(আলোকশক্তিরুপে) তুমি বৃক্ষসমূহের গর্ভরুপ শক্তি হয়ে প্রানীগনকে অন্নাদির আস্বাদ প্রাপ্ত কর।"
অর্থাত্‍ আলো উদ্ভিদের গর্ভে শক্তিরুপে খাদ্য উত্‍পন্ন করে প্রানীগনের খাদ্যের চাহিদা মেটায়!
বৈদিক এই মহাসত্যের বানী ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

গত ২০১১ সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারী dnaindia তে প্রকাশিত "Rigveda, a treasure trove for transgenics" শীর্ষক সংবাদটি সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।

বেশ কিছু বছর ধরেই ভারতের আদিমতম জ্ঞানভান্ডার বেদ নিয়ে বহিঃর্বিশ্বে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।এর বিভিন্ন অংশ নিয়ে গবেষনায় রত হয়েছেন পশ্চিমা অনেক গবেষক।এরইমধ্যে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত "ইন্ট্যারন্যশনাল সেল বায়োলজী" নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ড.চন্দ্রপ্রকাশ দেবনাথ সকলের সামনে তুলে ধরলেন ঋগ্বেদে উপস্থিত জীনতত্ত্বের কথা।তিনি সফলভাবে ঋগ্বেদের সেই মন্ত্রসমূহের মর্মোদ্ধার করেছেন যাতে জীনতত্বের অনেক বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া যায়।তিনি মত প্রকাশ করেন যে এ নিয়ে আরো গবেষনা চালালে তা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন কিছু তথ্য দিতে পারে।তিনি আরো বলেন যে তাঁরা গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন তবে সম্পদ ও মানবকাঠামো সীমিত হবার কারনে গবেষনাকর্ম ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন যে মন্ত্রগুলো নিয়ে গবেষনায় তারা দেখতে পান যে এগুলো কোষের জটিল জীনতাত্ত্বিক গঠন ও কার্যাবলী যেমন ক্রোমোসোম বিভাজন,DNA রেপ্লিকেশন,প্রোটিন সংশ্লেষন,নিউক্লিওটাইডের জোড় ইত্যাদি ব্যখ্যা করছে।
একটি মন্ত্রকে ব্যখ্যা করার সময় তিনি বলেন যে ঋগ্বেদে DNA কে 'ত্বস্ত' বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে এটি জীবের গঠনসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ঠ্যের নিয়ন্ত্রক যাকে ওই মন্ত্রে 'সতেজ বিশ্বরুপ' অর্থাত্‍ সকল জীবিত প্রানীতে উপস্থিত বলে বলা হয়েছে। এছাড়া ওই সুক্তে এ ও বলা হয়েছে যে কোষের বৃহস্পতি অর্থাত্‍ নিউক্লিয়াসে এই DNA অবস্থিত।
তিনি আরো দেখান যে কিভাবে ঋগ্বেদ ও অথর্ববেদে কোষের সৃষ্টি ও বৃদ্ধি,সালোকসংশ্লেষন, জারন-বিজারন এমনকি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে!
এছাড়া পরবর্তীতে তিনি তাঁর রচিত "Vedic cell biology,life energy and rebirth" বইটিতে বৈদিক জীনতত্ত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

আজ আপনাদের জন্য থাকবে আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত কিছু তথ্য

১.আয়ুস শব্দের অর্থ জীবন এবং বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান তাই আয়ুর্বেদ শব্দের অর্থ জীবন সম্পর্কিত যে জ্ঞান।
২.ছয়টি উপবেদের একটি হল আয়ুর্বেদ।
৩.আয়ুর্বেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল-
"স্বাস্থ্যস্য স্বাস্থ্য রক্ষনম। আতুরাশ্চ বিকার প্রকশনম।।" অর্থাত্‍ সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং অসুস্থতার নিরাময় করা।একে আধুনিক চিকিত্‍সাবিজ্ঞানের ভাষায় Preventive&curative health care service বলা হয়।
৪.আটজন চিকিত্‍সক ঋষি কর্তৃক প্রনীত আয়ুর্বেদের আটটি শাখা রয়েছে-
*জেনারেল মেডিসিন বা কায়াচিকিত্‍সা তন্ত্র।
*সার্জারী বা শল্য তন্ত্র।
*নাক-কান-গলা,চক্ষু ও দন্তরোগ-শালক্য তন্ত্র
*পেডিয়াট্রিকস বা শিশুরোগ-কৌমারভৃত্য তন্ত্র
*ফরেনসিক টক্সিকোলজি*এন্টিডোট-আগাদ তন্ত্র
*রিপ্রোডাক্টিভ বা যৌনরোগ-বাজীকরন তন্ত্র
*এন্টি এজিং সায়েন্স-রসায়ন তন্ত্র
*সাইকিয়াট্রি-ভূতবিদ্যা
৫.রোগ নির্নয়ের জন্য আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আটটি স্পেসিমেন বা বৈশিষ্ঠ্য পরীক্ষা করা হয়-
*আক্রুতি-Appearance,রোগীর চেহারা,হাঁটাচলার ধরন,অবস্থান
*দ্রাক-দৃষ্টিশক্তি
*স্পর্শ-ত্বকের সংবেদনশীলতা
*জিহ্বা-Tongue
*মল-Stool
*মুত্র-Urine
*নদী-Pulse
*শব্দ-রেসপিরেটরী সাউন্ড
৬.আয়ুর্বেদে সপ্তধাতু অর্থাত্‍ রোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত সাতটি উপাদানের কথা বলা হয়েছে-
*রক্ত-Blood
*রস-Plasma
*মাংস-Muscle
*মেদ-Fat
*অস্থি-Bone
*মজ্জা-Bone marrow
*শুক্র-Semen
৭.আয়ুর্বেদশাস্ত্রের খ্যতনামা তিনটি বই হল-
*চরক সংহিতা
*শুশ্রুত সংহিতা
*ভেদ সংহিতা
৮.এই শাস্ত্রসমূহে তত্‍কালীন চিকিত্‍সাবিজ্ঞানের বিস্ময়কর উন্নতি লক্ষনীয়।বিভিন্ন ধরনের অঙ্গ প্রতিস্থাপন,যুদ্ধে হারানো নাক,হাত-পা প্রতিস্থাপন,ব্লাড ভেসেল রাপচারে লিগেশন,ক্যটারাক্ট অপারেশন ইত্যাদি জটিল ও সুক্ষ্ম পদ্ধতিসমূহ তত্‍কালীন সময়ে প্রচলিত ছিল বলে জানা যায়।
৮.আয়ুর্বেদীয় চিকিত্‍সাপদ্ধতি বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত একটি চিকিত্‍সাব্যবস্থা।আপনারা জেনে আরো অবাক হবেন যে চরক সংহিতায় বর্নিত Health(স্বাস্থ্য) এর সঙ্গাটিও স্বাস্থ্যের সঙ্গা হিসেবে WHO গ্রহন করেছে।সঙ্গাটি হল-
"সংদোষা সমাগ্নি সংধাতু মলক্রিয়া প্রসন্নাত্মা ইন্দ্রিয়াস মনস্বাথ অভিদ্যতে।।"
(চরক সংহিতা ২৪.৪১)
অর্থাত্‍,"যখন দেহ এবং এর অভ্যন্তরীন জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়া সাম্যবস্থা বজায় থাকে,দেহের বর্জ্যনিষ্কাশন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে,যখন আত্মা,ইন্দ্রিয় ও মন সমাবস্থায় বিরাজ করে সেই অবস্থায় 'স্বাস্থ্য' অর্জিত হয়েছে বলে ধরা হয়।"
প্রাচীন সমৃদ্ধ বৈদিক সভ্যতার নিদর্শনসমূহ ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
(ছবিতে আপনারা দেখছেন প্রাচীন আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্রে অঙ্কিত মানবদেহের বিভিন্ন তন্ত্র নির্দেশকারী একটি চিত্র)

VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

আজ আপনাদের জন্য থাকছে আমাদের প্রতিদিনকার জীবনযাপনের কিছু গুরুত্বপূর্ন কুশলাদীর সংস্কৃত রুপ।

Welcome(স্বাগতম)
Hello(Namaste, Namaskar)
কেমন আছ/আছেন?
কথামস্তি ভবান(ছেলেদের ক্ষেত্রে)
কথামস্তি ভবতী(মেয়েদের ক্ষেত্রে)
ভাল আছি(অহং কুশলী)
অনেক দিন দেখা হয়না/Long time no see(চিরান্ন দৃষ্টম)
তোমার নাম কি?
(ত্বব নাম কিম্)
আমার নাম শঙ্কর
(অহং নাম শঙ্কর)
আমি বাংলাদেশ/ভারত থেকে/I am from Bangladesh
ভবান কুত্রত্যঃ(ছেলেদের ক্ষেত্রে)
ভবতী কুত্রত্যঃ(মেয়েদের ক্ষেত্রে)
দেখা হয়ে ভাল লাগল/Pleased to meet you
ভবতা(ছেলেদের ক্ষেত্রে)/ভবত্যাঃ (মেয়েদের ক্ষেত্রে) সহ সংয়োগ সন্তোষকরঃ
শুভ সকাল(সুপ্রভাতম্)
শুভ রাত্রি(শুভ রাত্রি)
আবার দেখা হবে(পুনর্মিলহ)
শুভস্তে পন্থানং সন্তু
(তোমার যাত্রা শুভ হোক)
তোমার সৌভাগ্য কামনা করি
(সৌভাগ্যম)
তোমার শুভকামনা করি
(শুভমস্তু)
তোমার দিন শুভ হোক
(সুদিনমস্তু)
তোমার আহার শুভ হোক
(ভোজনং স্বাধীষ্ঠমস্তু)
তোমার যাত্রা শুভ হোক
(শুভযাত্রা)
আমি জানিনা
(ন জানামি)
দয়া করে একটু ধীরে বলুন
(কৃতয়া ইতোঃপি মন্দম বদতু)
দয়া করে আরেকবার বলুন
(কৃপয়া পুনর্বদতু ভবান্)
দয়া করে লিখে দিন/লিখুন
(কৃপয়া লিখতু ভবান্)
দুঃখিত/Excuse me/sorry
(কৃপয়া ক্ষম্যতাম)
এর দাম কত?
(কিয়ত)
Please(কৃপয়া)
Thank you(ধন্যবাদাঃ)
তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠ
(তুর্ণমারোগ্যমস্তু)
শুভ জন্মদিন (জন্মদিনশুভেচ্ছাঃ)
I love you
(ত্বামনুরজামি)
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

বৈদিক জীবনাচরন

পবিত্র বেদ; সৃষ্টির প্রারম্ভে আপ্তকাম মহর্ষিগন কর্তৃক হৃদয়ে প্রাপ্ত মহাবিশ্বের সংবিধান,একটি পরিপূর্ন জীবনবিধি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমাদের আচরন ও কার্যবিধি কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে সনাতন মানব ধর্মালম্বী ভাই ও বোনদের জন্য সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করছি বৈদিক জীবনাচরন।
১. একজন বৈদিক ধর্মালম্বীর প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য থাকা উচিত তার চারিত্রিক উন্নয়ন।
ওঁ বিশ্বানি দেব সবিতর দুরিতানি পরসুব।
যদভদ্রম তান আসুভ।। যজুর্বেদ ৩০.৩
অনুবাদ- হে পরমেশ্বর,আমি যাতে আমার খারাপ গুনসমূহ বর্জন করতে পারি এবং সত্গুনসমূহকে আয়ত্ত্ব করে নিজ চরিত্রের উন্নতি ঘটাতে পারি।
২. মাহিরভূর্মা প্রদাকুর
অতনর্ভা প্রেহি(যজুর্বেদ ৬.১২) অর্থাত্ হে মনুষ্য,হিংস্র বা উগ্র হয়োনা।নমনীয় ও সত্যনিষ্ঠ হও।
৩. ম ভ্রাতা ভ্রাতারম অরত্যহ অথ (অথর্ববেদ ৩.৩০.৬)
অর্থাত্ সকল মানুষ ই ভাই-ভাই এবং একজন ভাই যেনো কখনো অন্য ভাইয়ের ক্ষতি করার চেষ্টা না করে।
৪.গরীব-দুঃখী ও বিপদগ্রস্তদের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা বৈদিক ধর্মালম্বীর কর্তব্য।
শত হস্ত সংহারা,সহস্র হস্ত সংকীরথ।(অথর্ববেদ ৩.২৪.৫)
অনুবাদ-আয় করতে হাতটিকে শতটিতে বৃদ্ধি কর আর দান করতে তাকে হাজারে রুপান্তরিত কর।
"সামর্থবানদের উচিত গরীবদের দান করা।তাদের দুরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া উচিত,মনে রাখা উচিত অর্থসম্পত্তি চিরস্থায়ী নয়।আজ যে ধনী সে ধন কাল তার নাও থাকতে পারে! (ঋগ্বেদ ১০.১১৭.৫)
৫.পানিদূষন,বায়ুদূষন,মাটি দূষন করবেননা-
মাপোমৌস্রাদ্ধিহিন্স্রী (যজুর্বেদ৬.২২)
অর্থাত্ পুকুর,নদী,খাল,বনাঞ্চল এসব দূষিত বা ধ্বংস করোনা।
"বায়ুতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকি,একে দূষিত
করোনা।" (যজুর্বেদ ৬.২৩)
পৃথ্বীম মা হিন্সিম অর্থাত্ মাটির দূষন
করোনা। (যজুর্বেদ ১৩.১৮)
৬ .মা গৃধ কস্য স্বিদ্ধনম (যজুর্বেদ ৪০.১) অর্থাত্ লোভাতুর হয়োনা
৭.যেকোন ধরনের অশ্লীলতা বৈদিক ধরমালম্বীদের জন্য বর্জনীয়-
"হে নারী ও পুরুষ,তোমরা ভদ্র ও সংযত হও।পোশাক-পরিচ্ছেদ ও আচরনে অশ্লীলতা ও অসভ্যতা বর্জন কর।"(ঋগ্বেদ ৮.৩৩.১৯)
অশ্লীল কথা না বলা,শোনা বা দেখা নিয়ে পবিত্র বেদ এর উপদেশ
ওঁ ভদ্রং কর্ণেভি শৃনুয়াম
দেবা ভদ্রংপশ্যেমাক্ষ ভির্যজত্রা।
স্থিরৈরঙ্গৈস্তস্টুবাঁ সস্তনুভির্ব্যশে ম
দেবহিতং যদায়ুঃ।। (যজুর্বেদ ২৫/১১)
দেবাঃ-ঈশ্বর, যজত্রা- আরাধনা করি,কর্ণেভি-কান দিয়ে,ভদ্রম- ভদ্র বা শ্লীল কথাবার্তা, শৃনুয়াম- শুনি,অক্ষভি- চোখ দিয়ে যেন,ভদ্রম- শ্লীল ,ভদ্র এবং মঙ্গলময় দৃশ্য, পশ্যেম- দেখি,স্থিরৈ-সুদৃঢ় (সত্কর্মসম্পাদনে), অঙ্গৈ-অঙ্গ, তনুভি-শরীর দ্বারা,তষ্টুবাংস-ঈশ্বরের স্তুতি করতে,যত্-যে, আয়ু-আয়ু, দেবহিতম- আরাধ্যসেবায় লাগে, সস্তনুভির্ব্যবেশম- তাই যেন প্রাপ্ত হই।
অর্থাৎ, হে ঈশ্বর,আমরা যেন তোমার যজন করি,কান দিয়ে শ্লীল ও মঙ্গলময় কথাবার্তা শুনি,চোখ দিয়ে শ্লীল ও মঙ্গলময় দৃশ্য দেখি।তোমার আরাধনাতে যে আয়ুস্কাল ও সুদৃড় দেহ প্রয়োজন তা যেন আমরা প্রাপ্ত হই।
৮.(ঋগ্বেদ ১.৮৯.২) দেবানাম সখ্যমুপ্সেদীনাম ব্যায়াম অর্থাত্ বিদ্বান ও সচ্চরিত্র লোকেদের সাথে বন্ধুত্ব কর,দুশ্চরিত্রদের বর্জন কর।
৯."কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যকে গড়ে তোল।"(ঋগবেদ ১০.৬০.১২)
১০."সর্বভূতের কল্যানের জন্য নিজের মনস্থির কর।" (যজুর্বেদ ৩৪.১)
১১.অন্যো অন্যস্ময় ভল্গ বদন্তথ (অথর্ববেদ ৩.৩০.৫) অর্থাত্ সদা সত্যাশ্রয়ী ও সত্যবাদী হবে।
সত্যবদ্ধতি ত্বম সূর্যন্তু (অথর্ববেদ ৪.১৬.৬) অর্থাত্ সত্যবাদীকে সর্বদা সম্মান করবে।
১২.একজন বৈদিক ধর্মালম্বী সর্বভূতে সমদর্শী হবে।তার জন্যে কেউ ছোট নয়,কেউ বড় নয়।সকলেই এক অমৃতের সন্তান!
অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাস
এতে সং ভ্রাতারো তাবৃধুঃ সৌভগায়
যুবা পিতা স্বপা রুদ্র
এযাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ ॥ (ঋগবেদ ৫.৬০.৫)
বঙ্গানুবাদ : কর্ম ও গুনভেদে কেউ ব্রাহ্মন,কেউ ক্ষত্রিয়,কেউ বৈশ্য,কেউ শুদ্র।তাদের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয়।
ইহারা ভাই ভাই । সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে ।ইহাদের পিতা তরুন শুভকর্ম ঈশ্বর এবং জননীরুপ প্রকৃতি। পুরুষার্থী সন্তানই সৌভাগ্য প্রাপ্ত হন।
১৩.একজন বৈসপ্ত মর্যাদাঃ কবয়স্তস্তক্ষুস্তাসামেকামিদভ্যয়হুরো ঘাত।। ঋগবেদ ১০.৫.৬
"সপ্ত হল নিষেধসমূহ যা নির্দেশিত হয়েছে,জ্ঞানীগন যাকে সবসময় এড়িয়ে চলেন,যেগুলো মানুষকে সর্বদাই বিপথগামী করে।"কি সেই সপ্ত মহাপরাধসমূহ ? মহর্ষি যস্ক তাঁর নিরুক্ত সংহিতায় বর্ননা করেছেন,
"চুরি,অশ্লীলতা ও ব্যভিচার,হত্যা,ভ্রুননিধন,অগ্নিসংযোগ,নেশা/ মদ্যপান,অসততা।"দিক ধর্মালম্বীর জন্য যেকোন ধরনের নেশাজাতীয় পদার্থ নিষিদ্ধ।
১৪.বৈদিক ধর্ম মানবতার ধর্ম। এখানে কোন ধরনের অস্পৃশ্যতা প্রথার কোন সুযোগ নেই-
অথর্ববেদ ৩.৩০.৬
মানী প্রপা সহ বোরন্নভাগঃ সমানে যোক্তো সহ বো যুনজমি।
সমঞ্চোহগ্নিং যপর্যতারা নাভি মিবাভিতঃ।।
বঃ-তোমাদের,পপা-পান,সমানী- একসঙ্গে একপাত্রে হউক,বঃ অন্নভাগাঃ- তোমাদের আহারও একসাথে হউক,বঃ- তোমাদিঘে,সহ- সঙ্গে,সমানে যোক্ত্রে-এক বন্ধনে,যুনজমি-যুক্ত করেছি,সম্যন্চঃ-সবাই মিলে,অগ্নিং সপর্যত- একসাথে উপাসনা কর(যজ্ঞাদি,ধ্যন),ইব- যেমন,অরাং নাভিং অভিত-যেমন করে রথচক্রের চারপাশে অর থাকে।
অর্থাত্,হে মনুষ্যগন তোমাদের ভোজন ও আহার হোক একসাথে,একপাত্রে, তোমাদের সকলকে এক পবিত্র বন্ধনে যুক্ত করেছি,তোমরা সকলে এক হয়ে পরমাত্মার উপাসনা(যজ্ঞাদি,ধ্যন) কর ঠিক যেমন করে রথচক্রের চারদিকে অর থাকে!
বৈদিক জীবনবিধি মেনে চলুন,একটি মহৎ পৃথিবী গড়ে তুলুন।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

0 comments

বৈদিক বিজ্ঞান


জন্ডিস নিরাময় ও সূর্যালোক
আজ আপনাদের কাছে তুলে ধরব নবজাতক শিশুর জন্ডিস নিরাময়ের উপর অথর্ববেদের একটি মন্ত্রের বিস্ময়কর বিজ্ঞান!
অনু সূর্যমুদযতাং হৃদ্দযোতো হরিমা চ তে।
গো রোহিতস্য বর্ণেন তেন ত্বা পরি দধ্মসি।।
(অথর্ববেদ ১.২২.১)
অনুবাদ-তোমার দেহকে হলুদ রঙের করে দেয়া রোগটি(জন্ডিস) উদীয়মান সূর্যের রশ্মিতে নিরাময় হোক,আমরা তোমাকে যত্নে শুইয়ে দেই সূর্যের আলোতে।
এখন ঘুরে আসি নবজাতক শিশুর জন্ডিস নিরাময়ের একটি গুরুত্বপূর্ন আবিস্কারের অদ্ভুত ঘটনা থেকে।
১৯৫৮ সালে Dr.Cremer তাঁর রচিত একটি প্রবন্ধে একটি ঘটনার উল্লেখ করেন।ইংল্যান্ডের এসেক্স এর রকফোর্ড হসপিটালের একজন নার্স সদ্যোজাত একটি সন্তানকে যত্নের জন্য একটি টাওয়েলে মুড়িয়ে হাসপাতালের উঠানে মুক্ত হাওয়া ও রোদে শুইয়ে দেন যে শিশুটি ছিল জন্ডিসে আক্রান্ত।অনেকক্ষন পর এটি দেখে ডক্টররা তাকে ভত্‍সর্না করলেন এবং বাচ্চাটিকে নিয়ে আসলেন।কিন্তু আশ্চর্যভাবে তখন ওই বাচ্চার বিলিরুবিন(যে পদার্থটি দেহে বাড়ার কারনে জন্ডিস হয়) পরীক্ষা করালে দেখা যায় যে তার পরিমান আগের থেকে কমে গিয়েছে!পরবর্তীতে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে সূর্যালোক ওই বিলিরুবিনকে জারিত করে বিলিভার্ডিন এ রুপান্তরিত করে যার ফলে শিশুর জন্ডিসের মাত্রা কমে এবং শিশু কার্নিকটেরাস নামক মারাত্মক জীবনঘাতি রোগ থেকে বেঁচে যায়।
এরপর থেকে এখন পর্যন্ত নিওনেটাল জন্ডিসের চিকিত্‍সায় প্রথম চিকিত্‍সা হিসেবে এই ফটোথেরাপী বা আলোকচিকিত্‍সা ব্যবহৃত হয়ে আসছে!
সত্য পবিত্র বেদের বানী ছড়িয়ে দিন সর্বত্র।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি


VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

বৈদিক দর্শনে মাতৃগৌরব


যং মাতাপিতরৌ ক্লেশং সহেতে সম্ভবে নৃণাম্।
ন তস্য নিষ্কৃতি শক্যা কর্তুং বর্ষশতৈরপি।।
(মনুসংহিতা ২.২২৭)
অর্থাত্‍ মা সন্তানকে গর্ভধারন,প্রসববেদনার কষ্ট ও লালন-পালনের যে ক্লেশ সহ্য করেন এবং বাবা সন্তানের রক্ষন-বর্ধনের জন্য যত কষ্ট সহ্য করে থাকেন,সন্তান শত শত জন্মে শত শত বত্‍সরেও কখনো পিতামাতার সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেনা।
উপাধ্যায়ান্ দশাচার্য আচার্যাণাং শতং পিতা।
সহস্রং তু পিতৃন্মাতা গৌরবেণাতিরিচ্যতে।।
(মনুসংহিতা ২.১৪৫)
অর্থাত্‍ দশজন উপাধ্যায় থেকে একজন আচার্যের গৌরব বেশী,একশজন আচার্যের থেকেও পিতার গৌরব অধিক,আর মাতা পিতার তুলনায় সহস্রগুন মাননীয়া হন।
ইমং লোকং মাতৃভক্ত্যা
(মনুসংহিতা ২.২৩৩)
অর্থাত্‍ মাতৃভক্তির দ্বারা সন্তান সমগ্র পৃথিবী জয় করতে পারে।
"যে ব্যক্তি পিতা,মাতার সেবা দ্বারা তাঁদের সন্তুষ্ট করেছে তার সকল ধর্মকর্ম অনুষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে আর যে তাঁদের অনাদর করে তার শ্রৌত-স্মার্ত-যজ্ঞাদি সকল কাজই নিস্ফল হয়ে যায়।"
(মনুসংহিতা ২.২৩৪)
একটি সুশিক্ষিত জাতি গড়তে মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশী।এজন্য পবিত্র যজুর্বেদ ঘোষনা করেছে-
"যদি মেধাবী একটি জাতি চাও তবে মায়ের সেবায় ব্রতী হও।"
(যজুর্বেদ ১২.১৫)
শেষ করব মা সম্বন্ধে করা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আপ্তবাক্যটিকে দিয়ে-
তখন লঙ্কার যুদ্ধ শেষ।রাবনভ্রাতা বিভীষন মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামচন্দ্রকে অনুরোধ করছেন যে তিনি যেন লঙ্কার রাজ্যভার গ্রহন করে এখানেই থেকে যান।শ্রী লক্ষ্মন ও বলছেন যে অযোধ্যায় ফিরে গিয়ে কি লাভ!সেখানে এখন ভরত রাজা,কৈকেয়ীও তাদের অপছন্দ করেন,তারচেয়ে ধনসম্পদে পরিপূর্ন পরম সুন্দর লঙ্কায় ই থেকে যাওয়া ভাল!তখন শ্রীরামচন্দ্র বললেন,
অপি স্বর্ণময়ী লঙ্কান মে লক্ষন রোচতে।
জননী জন্মভুমিশ্চঃ স্বর্গাদপি গরীয়সী।।
অর্থাত্‍ "যদিও লঙ্কা ধন সম্পদে পরিপূর্ণ তথাপি হে লক্ষন, এখানে আমার শান্তি লাভ হচ্ছেনা। সব সময় মনে রাখবে, জননী ও জন্মভুমি স্বর্গ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ।"
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

বুদ্ধ ও বৈদিক দর্শন


১.বৌদ্ধ দর্শনের কেন্দ্রীয় একটি ধারা হল মহত্‍ চারটি সত্য যেগুলোকে পুরো বৌদ্ধধর্মের কাঠামো ধরা হয়।এই চারটি সত্য দুঃখের প্রকৃতি,কারন,দুঃখ বিনাশের উপায় ও দুঃখ বিনাশের পথ ব্যখ্যা করে।
অপরদিকে প্রখ্যাত বৈদিক ন্যায় দর্শনের জনক মহর্ষি গৌতমের(গৌতম বুদ্ধ নয়) ন্যয়সূত্রের প্রথম অধ্যয়ের দ্বিতীয় শ্লোকে বলা হয়েছে-
"দুঃখ,জন্ম,কর্ম,দোষ ও ভ্রান্তি,এই পাঁচটিকে বিপরীত ভাবে স্থাপন করলে প্রকৃত চিত্র দাড়ায়।ভ্রান্তির কারনেই দোষ হয়,দোষের কারনেই পাপকর্ম,পাপকর্মের ফলে জন্ম এবং জন্মের কারনে দুঃখ যেমন লোভ,শঠতা,হিংসা জন্মে।যেখানেই জন্ম সেখানেই দুঃখ।যখন 'প্রকৃত জ্ঞান' জন্মে তখন ভ্রান্তি দূর হয়,ভ্রান্তি দূর হলে দোষকর্ম দূর হয় আর যখন কোন দোষকর্ম থাকেনা তখন আর জন্ম হয়না,এটাই দুঃখ বিনাশের পথ।"
(ন্যয় সূত্র ১.২)
অর্থাত্‍ বৈদিক দর্শন ও বুদ্ধ দর্শন একেবারে দর্পনে ব্যক্তির প্রতিফলনের মত এক!
২.জন্মান্তরবাদ বৈদিক ধর্মও বুদ্ধ দর্শনের মৌলিক বিশ্বাস।
৩.বৌদ্ধদের পঞ্চনির্দেশ যোগদর্শন ১.২.৩ এর অনুরুপ।
৪.বৌদ্ধদের বিখ্যাত মন্ত্র ওঁ মনি পদ্মে হুম শুরু হয় বৈদিক ধর্মের সর্বোচ্চ প্রতীক ওঁ দিয়ে।
সর্বোপরি বৌদ্ধ ধর্মকে ধর্ম না বলে একটি বৈদিক দর্শন বলাই যুক্তিযুক্ত।
মহাত্মা গৌতম বুদ্ধের শিক্ষায় বেদ

বুদ্ধ দর্শনকে প্রায়ই বেদবিরুদ্ধ নাস্তিক মতবাদ বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে বুদ্ধ দর্শনের অসংখ্য স্কুল এবং মার্গ বা উপদল তৈরী হয়েছে। আমরা যদি গৌতম বুদ্ধের প্রকৃত শিক্ষা পর্যালোচনা করি তাহলে আমরা বুঝতে পারব তিনি যতটা পেরেছেন শুধমাত্র বেদেরই জ্ঞান এবং বাণী প্রচার করেছেন।
১.বুদ্ধ দর্শনের শব্দভান্ডার (Vocabulary of Buddhism)
বুদ্ধ শব্দটি এসেছে মহাভারত শান্তিপর্ব ১৯৩/৬ থেকে।এর অর্থ ”বুদ্ধিমান”
বোধিস্বত্বা (Bodhisatva) শব্দটি শ্রীকৃষ্ণর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল শিশুপাল বধ ১৫/৫৮ এ এবং এর ভাষ্যকার বল্লভদেব দ্বারা।
ভিক্ষু শব্দটি মহাভারতের শান্তিপর্ব ৩২৫/২৪ ও গৌতম ধর্মসুত্রের ১৫/৫৮ এবং ৩/২ এর অনেক ঋষিদের সূচিত করে।
শ্রামান (Shraman) শব্দটি এসেছে বৃহদাণ্যক উপনিষদ এবং গৌতম ধর্মসূত্র থেকে।
নির্বান (Nirvana) শব্দটি এসেছে দেবাল ধর্মসূত্র থেকে।
২. জনপ্রিয় বুদ্ধ জপ মন্ত্র ওম মানি পদ্মে হাম (Om Mani Padme Hum) ঘোষনা
করে ওম নামের মহিমা।

পবিত্র বেদ সম্পর্কে মহাত্মা গৌতম বুদ্ধের কিছু বাণী-
Sutta Nipat 192
"বিদ্যা চ বেদেহী সমীচ ধামাম ন উচ্চবাচম গচ্ছতি"
-"সাধারন লোকেরা ইন্দ্রিয়ার্থে নিবদ্ধ থাকেকিন্তু যারা বেদজ্ঞানীতারা ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত তারা এর শিকার হয়না"
Sutta Nipat 503
"য় বেদেজ্ঞ জ্ঞানারাত সতিম..."
"একজন লোকের জ্ঞান,স্থিরতা প্রভৃতি অর্জনের জন্য একভন বেদজ্ঞ এর সহচর্য লাভ করা উচিত"
Sutta Nipat 1509
"য়ম ব্রক্ষনাম বেদজ্ঞম অভিজন্য অকিন্চনম..."
-"একজন বেদজ্ঞানী জাগতিক সকল কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করেন"
Sutta Nipat 1060
"বিদ্যা চ স বেদজ্ঞ চারো ইধা ভবভে সংযম ইমাম বিশ্বমা"
-"একজন বেদজ্ঞানী জাগতিক সুখ ও সম্পত্তির প্রতি আসক্তি ত্যগ করতে সক্ষম হন"
Sutta Nipat 846
"ন বেদেজ্ঞ সিথিয়া ন মুত্ত স মানমতি নাহি তনমায়োসো"
-"বেদজ্ঞ এর অহংকারমোহ দুর হয়,তিনি কোন প্রকার লোকপ্রিয়তায় আসক্ত হননা এবং কোন প্রকার বিভ্রান্তির স্বীকার হননা"
Sutta Nipat 458
"য়দন্তজ বেদজ্ঞ য়ন্জকলে য়শবতি লভে তরস ইজেতি ব্রম"
-"একজন বেদজ্ঞের অনুগ্রহ পেলে সফলতা নিশ্চিত"
Brahmana Dhamika suta 11/7
"বেদ স্বর্গীয় এবং প্রকৃত ব্রাক্ষনরা বেদ অনুসরন করত,তারা লোভ ও কাম এর উর্দ্ধে ছিল,তারা বিশুদ্ধ জীবনযাপন করত,বেদপাঠ ও তা প্রচারে নিয়োজিত থাকত,সকল প্রকার প্রানীহত্যা থেকে বিরত থাকত।পরবর্তীতে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ প্রচার করে যে বেদ প্রানীহত্যার অনুমোদন দেয়।"
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

বাল্মীকি রামায়ন vs কৃত্তিবাসী রামায়ন।

মূল বাল্মীকি রামায়ন আর কৃত্তিবাস ওঝা প্রবর্তিত বাংলা রামায়ন নিয়ে অনেকের মাঝে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।প্রকৃতপক্ষে এ দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।সেই ধোঁয়াশা দূরীকরণই এই আর্টিকেল এর মুল উপজীব্য।
এখন আমরা স্বল্প পরিসরে আলোচোনা করবো—বাল্মীকি রামায়ন vs কৃত্তিবাসী রামায়ন।
১) মুল বাল্মীকি রামায়নে দেখা যায় প্রাচেতস বাল্মীকি নারদকে জিজ্ঞাসা করলেন ,এই ভূ-মন্ডলের শ্রেষ্ঠ রাজা কে? জ্ঞানে-গুণে সত্যনিষ্ঠা এবং চরিত্রবত্তায় আদর্শ চরিত্র কার?
নারদ তখন একাত্তরটি শ্লোকে রাম চরিত্র বর্ণনা করলেন—
“ স চ সর্বগুণোপেতঃ কৌশল্যানন্দ বর্ধনঃ
সমুদ্র ইব গাম্ভীর্যে স্থৈর্যে চ হিমবানিব”। [ মূল বাল্মীকি,বালকান্ড]
ইত্যাদি। কিন্তু ক্রমে ক্রমে মূল বাল্মীকি রামায়নের কলেবর বাড়তেই থাকে। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে বাল্মীকি রামায়ণের যে প্রথম সংস্করন বের হয় তাতে সংখ্যা কিছু বেড়েছিল। দ্বিতীয় সংস্করণে দেখা গেলো শ্লোক সংখ্যা এসে দাড়িয়েছে চব্বিশ হাজারে এবং বহু বিক্ষিপ্ত ঘটনায় পরিপূর্ণ। আর তৃতীয় সংস্করনে পরিশিষ্ঠ ভাগে উত্তরাকান্ডসহ কলেবর আরও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। আর বর্তমানে বাজারে সুলভ বাল্মিকি রামায়নের শ্লোক সংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের মত। ( মনে হচ্ছে দিন কে দিন দিন শ্লোকগুলো প্রজননের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাল্মীকির রামচন্দ্র আদর্শ মানব, প্রেম-পিতৃভক্তি পরাক্রম এবং প্রজানুরঞ্জনে গরীয়ান পুরুষ, কোন দেবোপম দেবতা বা পূর্ন পরমাত্মা নন। শ্রী রামের নাম তারকব্রহ্ম মুক্তিপদ নাম—একথা বাল্মীকি মুণি বলেন নি। বলেছেন কৃত্তিবাস—
“শমন দমন রাবণ রাজা রাবন দমন রাম
শমন ভবন না হয় গমন,যে লয় রামের নাম’।
বাল্মীকির পরে যত রকমের রামায়ন সম্প্রদায়ীরা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকটিতে রামকে পুর্ন ষড়ৈশ্বর্য প্রতিপাদন করে পরমেশ্বর প্রতিপাদন করার চেষ্টা এবং miracles করার ক্ষমতা দিয়ে বলীয়ান করার চেষ্টা পুরোদমে করা হয়েছে যা কখোনোই গ্রহনযোগ্য নয়। এমনকি ব্রহ্মান্ড পুরানের অন্তর্গত অধ্যাত্ম রামায়ন ব্যাসের নামে লিখা হয়েছে। আর অধ্যাত্ম রাম্আয়নে দেবতারা তো বটেই এমনকি মাতা কৌশল্যাকে নিয়েও রামকে পূর্ন ব্রহ্মজ্ঞানে ভক্তি করানো হয়েছে। অথচ বাল্মীকি রামায়নে এর বিন্দু বিসর্গ নেই। বাল্মীকির রামচন্দ্র-
“ সর্বগুণোপেতঃ, নিয়তাত্মা মহাবীর্যো দ্যুতিমান ধৃতিমান বশী,ধর্মজ্ঞ সত্যসন্দশ্চ প্রজানাং চ হিতে রতঃ” একজন আদর্শ মানব। কোন পরমেশ্বর বা ভগবান নন। রাম মূর্তি গরে ,রাম নাম জপ করে রামের পূজা কর একথা বাল্মীকি মুনি কস্মিনকালেও বলে যান নি।
অদ্ভূতাচার্যের অদ্ভুত রামায়নে কোথাও দশ স্কন্ধ রাবনের পরিবর্তে হাজার স্কন্ধওয়ালা রাবনের উল্লেখ আছে। আর রাবন সীতাকে হরন করার সময় নাকি সীতা দুর্গা রূপ ধারন করে ৯৯০ টা মুন্ডু ছেদন করেন আর তারপর রামের হাতে রাবন বধের দৈববাণী শুণে ক্ষান্ত দেন। অনেক রাময়নকার তো আবার বলেন, দশানন রাবণ মা সীতাকে হরন করে নিয়ে যাবে একথা কেউ লিখেন কি করে।রাবন নাকি মায়া রাবন হরনকালে ব্রহ্মা এসে সীতাকে নিয়ে গেলেন আর মায়া সীতাকে রেখে গেলেন যাকে রাবন হরন করল।
এত এত মত পার্থক্য এবং অলীক ঘটনা নিশ্চয়ই কোন জ্ঞানী মুনি ঋষি বা প্রজ্ঞাবান মুনি বাল্মীকির হতে পারে না!!!!
২)বাল্মীকি পূর্বজন্মে দস্যু রত্নাকর ছিলেন , মরা মরা জপ করে বাল্মীকি হয়েছিলেন –এসব কথার বিন্দুবিসর্গও মূল রামায়নে নেই।
৩) কৃত্তিবাস বর্ণিত রামের দূর্গাপূজা বা অকালবোধনাদির কথা সত্যদর্শী বাল্মীকি মুনির রামায়নে নেই।
৪) রামের জন্মের ৬০০০০ বছর পূর্বে বাল্মীকি রামায়ন রচনা করেছিলেন – একথা ডাহা মিথ্যা।
“কোন্বস্মিন সাম্প্রতং লোকে গুণবান কশ্চ বীর্যবান”- নারদকে করা বাল্মীকির এ ধরনের প্রশ্নে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, রাম তখন রাজত্ব করছেন।
মুল রামায়নে স্পষ্ট বলা আছে-
“ প্রাপ্ত রাজস্য রামস্য বাল্মীকির্ভগবান ঋষিঃ।
চকার চরিতং কৃৎস্মং বিচিত্র পদর্থবৎ” । [ আদিকান্ড, ৪র্থ সর্গ, ১ম শ্লোক]
যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, শ্রী রাম এবং বাল্মীকি মুনি সমসাময়িক ছিলেন।
৫) যজ্ঞ রক্ষার জন্য রাম লক্ষনকে পাঠানোর ব্যাপারে বিশ্বামিত্রের সঙ্গে রাজা দশরথ ছলনা করেছিলেন বলে কৃত্তিবাস যে রসালো বর্ননা দিয়েছেন বাল্মীকি রামায়নে তা নেই। বরংচ বশষ্ঠের কথা শুনে রাজা দশরথ প্রসন্ন চিত্তে রাম-লক্ষণকে যেতে দিলেন।
৬) গৌতমপত্নী অহল্যা পাথর হয়েছিলেন ,রামের চরনস্পর্শে তিনি মনুষ্য শরীর ধারন করল্রন, রামের চরণস্পর্শে কাঠের নৌকা সোনা হয়ে গিয়েছিল-এমন অলীক বর্ণনা কৃত্তিবাস যেসব দিয়েছেন তার বিন্দু-বিসর্গও মূল রামায়নে নেই। বাল্মীকির রামায়নে আছে- কাউকে দেখা না দিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে অহল্যা কঠোর ব্রহ্মচারিণী জ়িবোণ-যাপন করছিলেন। বাল্মীকি রামায়নে এমনটাই লিখা আছে-“ বাতভ্যক্ষা নিরাহারা তপ্যন্তী ভস্মশায়িনী”-ইত্যাদি।
৭) রাবন বিভীষনকে পদাঘাত করেছিলেন এমন কথা বাল্মীকি রামায়নে নেই। রাবন শুধুমাত্র তিরস্কার করেছিলেন এবং ধিক্কার জানিয়েছিলেন। আর সেই ধিক্কার আর ভর্ৎসনা শুনে কৃতঘ্ন বিভীষনই রামের কাছে চলে এসেছিলেন।
৮) বাল্মীকি রামায়নে হনুমান কোন বানর নন। হনুমান কর্তৃক গন্ধমাদন পর্বত মাথায় করে আনা , এক লাফে সমুদ্র পার হওয়ার কথা বাল্মিকি রামায়নে নেই।হনুমান বিভিন্ন মশা-মাছির রূপ ধারন করতে পারতেন এমন কথাও নেই।
বাল্মিকি রামায়নে পাওয়া যায়, সীতা হরনের পরে ,রাম-লক্ষন-সুগ্রীব-হনুমান সেখানে ছিলেন। সুগ্রীব হনুমানকে রামের সাথে কথা বলতে বললেন। হনুমান বুদ্ধিমত্তা ও শিষ্টাচারসহ রামের সাথে অনেক কতাহ বললেন। হনুমান্র কথায় মুগ্ধ হয়ে রাম বললেন-----
“ অভিভাষস্ব সোমিত্রে সুগ্রীব সচিবং কপিম,
বাক্যজ্ঞং মধুরৈর্বাকৈঃ স্নেহযুক্তমরিন্দম”। [কিষ্কিন্ধাস কান্ড,৩য় সর্গ, ২৭ শ্লোক]
ভাষ্য- হনুমানের কথায় মিগ্ধ হয়ে রামচন্দ্র লক্ষনকে বললেন-হনুমানজী মহাপন্ডিত। ঋগবেদ,সামবেদ ও যজুর্বেদে পারদর্শি না হলে কেহ এমন জ্ঞানপূর্ন বাক্য প্রয়োগ করতে পারেন না। ইনি নিশ্চয়ই সমগ্র ব্যাকরন শাস্ত্র অভগত আছেন। আমার সারহে এত কথা বললেও একটি অপশব্দ প্রয়োগ করেন নি।
“ তদ যথা লভ্যতে সীতা তত্ত্ব মেবোপপাদয়,
তথ্যেব হনুমন অস্তি বলং বুদ্ধিঃ পরাক্রম।
দেশ কালানুবৃত্তিশ্চ নয়শ্চ নয়পন্ডিত”। [ কিষিন্ধা কান্ড]
ভাষ্যঃ বীর হনুমান যাতে সীতার অনুসন্ধান পাওয়া যায় সেই চেষ্টা কর। তুমি রাজনীতিবিদ,বল,বিক্রম,বুদ্ধি, সৌন্দর্য সবই তোমার আছে। দেশ, কাল ,পাত্রানুযায়ী কখন কি করতে হবে এ সকল নীতিতে তুমি সর্বজ্ঞানী।
কাজেই আমরা বেদজ্ঞানী হনুমানের প্রমান পাই বাল্মীকি রামায়নে। লেজযুক্ত গেছো হনুমান যার পূজা হিন্দু সমাজ করে আসছে তা ভিত্তিহীন,সম্পুর্ন ভিত্তিহীন।
একইভাবে মূর্খ পৌরানিকের দল রামায়নে বর্নিত দক্ষ,রক্ষ,গন্ধর্ব,কিন্নর, গরুর,সুপর্ন, নাগ এদের সবাইকে বন্যজীব হিসেবে বুঝে নিয়েছে। পিতা মহামুনি কশ্যপ হতে জন্ম যক্ষ,রক্ষ ও সুপর্নদের। তারা ছিল সৌর্য,বীর্য,পান্ডিত্য ও তপোবলের বাহক। তার পশু-জানয়ার,পাখি,সাপ হয় কিভাবে?? মূর্খ পুরানকার আর রামায়ন রচয়িতা আর মূর্খ পাথকের দল তা একবারেও ভেবে দেখলো না!!!!! মনুষ্য বাবা-মা হতে জানোয়ার পশু-পাখি কিভাবে জন্মে???? হনুমান,বানর,গড়ুর,পক্ষী,তক্ষক এরা মানুষ ছিলেন,কেবল গুণগত,আচরনগত পার্থক্যছিল যেমন আমাদের সবার মাঝে আছে। বাল্মীকি রামায়নে বানরগণ একজনের সাথে অপরের পরিচয় দিচ্ছে—“ ইক্ষাকুনাং কুলে জাতঃ”—অর্থাৎ ইক্ষাকু সৎ বংশে এদের জন্ম।
আরো পরিষ্কার করে বলি… অশোক বনে হনুমান সীতাকে প্রশ্ন করেছিলেন –
“ সুরানাম অসুনারাঞ্চ,নাগ গন্ধর্ব রাক্ষসাম
যক্ষনাং কিন্নবানাঞ্চ কা ত্বং ভবসি শোভনে”। [ সুন্দরকান্ড , ৩৩ নিসর্গ, ৫ শ্লোক]
ভাষ্যঃ ঐয়ি শোভনে সীতে। সুর,অসুর,নাগ,গন্ধর্ব,যক্ষ,রক্ষ,কিন্নর, কোনকুলে আপনি জন্মেছেন?
এর অর্থ কোন বংশে আপনার জন্ম। অর্থাৎ এগুলো সবগুলো ই ছিল মনুষ্য বংশ।তাই হনুমান কোন বোকার মত প্রশ্ন করেন নি সীতাকে। যেমনঃ দেশভেদে চীনা,জাপানী,আমেরিকান,ভারতীয়,বাংলাদেশী বললেও সবাই মানুষ। তেমনি ঐ সকল প্রকাশটাও সেভাবে হয়েছে।
আর হনুমানের সমুদ্র পারাপার সম্পর্কে যে গল্পটি রয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহিন এবং অলীক। সঠিক ব্যাখ্যা মহামুনি বাল্মীকির রামায়নে এভাবে বিধৃত হয়েছে—
“ লাঙ্গুলং হর্ষাৎ বলমুপেয়িবান”—অর্থাৎ সাগর পার হতে হনুমানজি লেজের মত কিছু একটা পেছনে লাগিয়ে নিলেন যাতে সহজে সমুদ্র পার হওয়া যায়। আর এটাকে পৌরানিকরা তাদের অনুর্ভর মস্তিষ্ক দিয়ে হনুমানের লেজ ভেবে প্রচারনা চালিয়েছেন।
হনুমানের সাগর লঙ্ঘন নিয়ে বাল্মিকি বলেন-
“ উৎপাপাতাথ বেগেন বেগবান বিচারয়ন সুপর্ণ্মিব চাত্মানং মেনে স কপি কুঞ্জরঃ’
ভাষ্যঃ বেগশালী হনুমান তখন মহাবেগে আকাশে উড়লেন এবনহ নিজেকে গরুড়ের মত ভাবলেন।আমরা জানি পবিত্র ঋগ্বেদ,রামায়ন,মহাভারত প্রভৃতিতে বিভিন্ন ধরনের বিমান এর উল্লেখ রয়েছে।কে জানে হনূমান এই ধরনের কোন প্রযুক্তি ব্যাবহার করেছিলেন কিনা!
এটা একটা উন্নত বিজ্ঞানের নিদর্শন সেই যুগে।বাল্মীকির রামায়নে পাওয়া যা সুষেন নামক চিকিৎসকের কথা যিনি প্রায় মৃত্যু পথযাত্রী মানুষকে তার সঞ্জীবনী ঔষধ খাইয়ে জীবনে ফিরিয়ে এনেছেন। বিশ্বকর্মার পুত্র নীল সেতু নির্মানে ইঞ্জিনিয়ারিং এর বুদ্ধি দিয়েছিল। অথচ এসব কথা কৃত্তিবাসের রামায়নে miracle এবং রঙ চং দিয়ে পুরো অলীক বানানো হয়েছে।
৯) কালনেমি সংবাদ, নন্দীগ্রামে ভরতের সাথে হনুমানের সাক্ষাৎ,গরুড়-পবনের যুদ্ধ ইত্যাদি মূল রামায়নে নেই।
১০)হনুমানের প্রার্থনায় উগ্রচন্ডা দেবীর লঙ্কা ত্যাগ, সমুদ্র লঙ্ঘন কালে সিংহিকা রাক্ষসি প্রসঙ্গ ,জান্তব কাক সীতাকে আক্রমন করায় রামের নিক্ষিপ্ত ত্রিশিরাশর কাকটিকে দেবলোক,ব্রহ্মলোক,শিবলোক পর্যন্ত ধাওয়া করে তার চক্ষু বিদ্ধ করে আনা-- এমন সব ঘটনা বাল্মীকি মুনির মূল রামায়নে নেই।
১১) রাবনের স্বর্গ বিজয়কালে কুম্ভকর্নের গমন, চৌষোট্টী যোগিনী সহ যুদ্ধ,তরনীসেন বধ,মহীরাবন-অহীরাবন বধ,অতীকায় বীরবাহু তরনসেন প্রভৃতির কাটামুন্ডের রাম উচ্চারনের অতি মিথ্যা কাহিনীও বাল্মীকি রামায়নে নেই।
১২) লক্ষনের চৌদ্দ বছরের ফল আনয়ন কাহিনী, লবকুশের যুদ্ধাদিসহ সমগ্র উত্তরকান্ডই বাল্মিকি রামায়নে নেই।
আপনাদের সত্য জানানোর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা করলাম। আশা করি সবাই মনযোগ দিয়ে পড়ে যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে তা বিচার করবেন। আসুন আমরা সবাই মূল বাল্মীকি রামায়ন পড়ে সত্য এবং যথার্থ জ্ঞান অর্জন কতি। নিজেদের আর্যত্ব কে মহিমান্বিত করি। কুসংস্কার আর ক্রমশঃ ক্ষয়ে যাওয়া সনাতন সমাজকে বাচাতে এগিয়ে আসি সত্যের অনুসন্ধান করি। সব অপপ্রচার, কু-চক্রান্ত, আর হাজার বছরের মিথ্যা বলয়ের ধারাকে সত্য দিয়ে ভেঙে এক নতুন আলোকিত দিগন্তের উন্মোচন করি।
কৃতজ্ঞতায়- Agniveer Tanmoy Rony
VEDA, The infallible word of GOD'
0 comments

আজকাল পশ্চিমবঙ্গীয় অনেক কুজ্ঞানী বাম নাস্তিকদের অনেককেই বলতে শোনা যাচ্ছে শ্রীরামচন্দ্র নাকি মধু দিয়ে তৈরী মদ এবং গোমাংস আহার করতেন!এর ভিত্তিতে তারা দাবী করছেন যে হিন্দুধর্মে গোমাংস ভক্ষন নিষিদ্ধ নয়।


এই দাবীটি সম্ভাব্য সকল দৃষ্টিকোন থেকেই অগ্রহনীয়।একটু ব্যখ্যা করা যাক-

প্রথমত,আপাতত তর্কের খাতিরে যদি আমরা ধরেও নেই শ্রীরামচন্দ্রের খাদ্য তালিকায় গোমাংস ছিল তাহলেও গোমাংস বৈদিক ধর্মে অনুমোদিত হয়ে যাবেনা।কেননা যেমন ইসলামের সম্পূর্ন ভিত্তি মোহাম্মদের উপর বা ক্রিশ্চিয়ানিটির সম্পূর্ন ভিত্তি যীশুতে স্থিত,এরা যদি ভূল হন তাহলে ইসলাম বা খ্রিষ্টানভিত্তি ধ্বসে পড়ে বৈদিক ধর্মে তেমনটি নয়।কেননা মুসলিমদের সাহাদা পড়ার সময় যেমন আল্লাহের অস্তিত্ব স্বীকারের সাথে সাথে মোহাম্মদকে নবী হিসেবে স্বীকার করতে হয়,বৈদিক ধর্মে সেরকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই।একজন হিন্দু যদি শ্রীকৃষ্ণ বা শ্রীরামচন্দ্রকে না মেনেও যদি শুধু বেদ মেনে চলেন,মানবতায় বিশ্বাসী হন তাহলেও তার হিন্দুত্ব অব্যাহত ই থাকবে।অর্থাত্‍ হিন্দুধর্ম কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিনির্ভর নয়।আর যেহেতু বৈদিক ধর্মের একমাত্র অথোরিটি পবিত্র বেদ ই মদ্যপান এবং গোমাংস আহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সেহেতু এ নিয়ে কোন ধরনের সংশয় ই অবান্তর।তবে শ্রীরামচন্দ্র এবং শ্রীকৃষ্ণসহ মহাপুরুষ আর্যব্যক্তিগনের পদাঙ্ক অনুসরন প্রত্যেক হিন্দুধর্মালম্বীদের জন্য ই উত্তম বটে।
দ্বিতীয়ত শ্রীরামচন্দ্র আসলে খাদ্য হিসেবে কি গ্রহন করতেন?
বাল্মীকি রামায়নের সুন্দরকান্ড, স্কন্দ ৩৬ এর ৪১ নং শ্লোকে শ্রীরামচন্দ্রের খাদ্যবিধি বর্ননা করা হয়েছে এভাবে-
ন মাংসম রাঘব ভুংক্তে।
ন চৈব মধু সেবতে। বন্যম সুবিহিতম নিত্যম ভক্তমস্নতি পঞ্চমম।।
অনুবাদ-"শ্রীরাম কোনপ্রকার মাংস ও মধু খেতেন না।তিনি প্রতিদিন ফল এবং স্বিদ্ধ ভাত খেতেন যা একজন ব্রহ্মচারীর জন্য অনুমোদিত।"
কিষ্কিন্ধ্যা কান্ডের প্রথম অধ্যয়ে শ্রীরামের বনবাস যাত্রাকালে পথিমধ্যে রাজা কবন্ধের সাথে দেখা হলে কোনদিকে গেলে তিনি তার জীবনধারনের জন্য তিনি যে নিরামিষ আহার করেন তা পাওয়া সুবিধাজনক হবে জানতে চাইলে কবন্ধ তাঁকে বলেন-
"হে রাম,তুমি এখান থেকে পশ্চিমদিকে যাও,সেখানে তুমি তোমার প্রয়োজনীয় ফল আম,কাঠাল,কলাসহ অন্যান্য ফলগুলো এবং নাগ,ধন্ব,তিলক,নক্তমালাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সবজিগুলো পাবে।"
বনবাসের জন্য অযোধ্যা ত্যগকালে মাতা কৌশল্যার প্রতি শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিশ্রুতি-
ফলমুলাসন নিত্যম ভবিষ্যামি নসংশয়।
ন তু দুখং কৈশ্যামি নিবসন্তি ত্বয় সদা।।
(অযোধ্যা কান্ড ২.২৭.১৬)
অনুবাদ-"মা তোমাকে আমি কথা দিচ্ছি আমি ফলমূলাদি ছাড়া কখনো মাংসাদি গ্রহন করবনা।তোমাকে ছেড়ে থাকলেও আমি কখনো এরুপ বিপথগামী হবনা।"
অথচ এই জ্ঞানপাপী কূপমুন্ডকরা শ্রীরামচন্দ্রের নামে কি অপপ্রচারটাই না চালাচ্ছে!এইসব কুচক্রীদের থেকে সতর্ক থাকুন।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

মহাভারত তথা ভারত নামের তাত্‍পর্য বা উত্‍স কি?

"ভারত" শব্দটির উত্‍স খুঁজতে যাবার আগে আমরা দেখে নেই শব্দটির আসলে অর্থ কি।
ভারত শব্দটি প্রথম পাওয়া যায় ঋগ্বেদে,তবে না,সেটি কোন দেশের নাম হিসেবে নয়।সংস্কৃতে ভারত শব্দটির অর্থ The cherished অর্থাত্‍ যাকে ভালোবাসা হয়/শ্রদ্ধা করা হয়/যত্ন করা হয়।যেমন ঋগ্বেদে আগুনের একটি নাম ভারত কেননা আগুনকে যত্ন করে জ্বালিয়ে রাখতে হয়,নাহলে তা নিভে যায়।
মহর্ষি বিশ্বামিত্রের কন্যার নাম ছিল শকুন্তলা যিনি বর্তমান আফগানিস্তানের কান্দাহার এবং এবং পাকিস্তানের গান্ধার উপত্যকা থেকে বিন্ধ্য পর্বত পর্যন্ত এবং বর্তমান দিনের পাকিস্তান(সিন্ধু) থেকে বর্তমান দিনের বাংলাদেশ(বঙ্গের) রাজা দুষ্মন্তকে বিয়ে করেন।
রাজা দুষ্মন্ত ও বিশ্বামিত্র কন্যা শকুন্তলার একমাত্র পুত্র সন্তানের নাম ছিল 'সর্বদমন'।এই সর্বদমন যখন রাজা হন তখন তিনি অত্যন্ত বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।সকলেই তাকে অতি শ্রদ্ধা করতেন।তাই তখন থেকে ভালোবেসে জনগন তার নাম দেয় 'ভরত' বা সম্মানিত/যাকে সকলে ভালোবাসে।এই সম্বন্ধে মহাভারতের আদি পর্বে বলা হয়েছে,
"হে পুরুর জাতি সকলে রানী শকুন্তলার এই মহত আত্মা সন্তানের গৌরবগাঁথা গাও কেননা সবাই তাকে শ্রদ্ধা করে,তাই তাঁর নাম হোক ভরত(সম্মানিত)।"
উল্লেখ্য যে তাঁর পিতা রাজা দুষ্মন্ত চন্দ্রবংশীয় পুরু নামক ক্ষত্রিয় গোত্রের লোক ছিলেন।
এই রাজা ভরত তার সময়ের পৃথিবীর পুরো অংশ জয় করেন এবং সুমেরু পর্বতের উপর তার পতাকা স্থাপন করতে যান এবং গিয়ে দেখেন যে তার পূর্বে যেসব রাজারা পৃথিবী জয় করেছিলেন তাদের পতাকাও সেখানে আছে।তখন তিনি বুঝতে পারেন যে এই রাজ্য জয়ের নেশা কতটা অগুরুত্বপূর্ন এবং এরপর তিনি সন্ন্যাস গ্রহন করেন এবং পরবর্তীতে নির্বান লাভ করেন।
তাঁর অতি নিষ্ঠাপূর্ন এবং দক্ষ রাজ্যপরিচালনার কারনে তাঁকে "চক্রবর্তী" উপাধিতে ভূষিত করা হয় যার অর্থ হল "সম্রাট!"
বিষ্ণু পুরানে বলা হয়েছে,
"রাজা ভরতের রাজ্যকে তাঁর নাম অনুসারে বলা হয় ভারত বর্ষ।"
(বিষ্ণু পুরান ২.৩.১)
আর এই ভারতবর্ষের সুবিশাল ইতিহাসকে এজন্যই 'মহা'ভারত নামে অভিহিত করা হয়।
অনেকেই জানতে চাইতে পারেন রাজা ভরতের শাসনামল কখন ছিল?
রাজা যযাতির দুই পুত্র,যদু আর পুরু।যদু থেকে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের যদুবংশের সৃষ্টি আর রাজা পুরুর ১৬ তম প্রজন্ম হচ্ছেন রাজা ভরত।তাঁর আরো চার প্রজন্মের পরের রাজা হস্তিনা এর পুত্র অজামিধ এর প্রৌপোত্র হলেন রাজা কুরু যার প্রায় ১৪ প্রজন্মের পরের রাজা বিচিত্রবীর্য।এই বিচিত্রবীর্যের ই দুই পুত্র ছিলেন ধৃতরাষ্ট্র ও পান্ডু।তাহলে বুঝুন মহাভারতের কত বছর আগে রাজত্ব করেছিলেন রাজা ভরত!
(ছবিতে বাল্যবস্থায় রাজা ভরতের একটি পোট্রেট দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন পশুর সাথে,ছোট বেলা থেকেই বিপদজনক প্রানীদের পর্যন্ত পোষ মানাতে পারতেন বলেই তাঁর নাম দেয়া হয় সর্বদমন।)
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
0 comments

উপনিষদ সুধা


তিলেষু তৈলং দধনীব সর্পি-রাপঃ স্রোতঃস্বর্ণীষু চাগ্নিঃ।
এবমাত্মনি গৃহ্যতেহসৌ
সত্যেনৈনং তপসা যোহনুপশ্যতি।।
(শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ্ ১,১৫)
যেরুপ তিলেতে তৈল সর্বদাই বর্তমান আছে, কিন্তু তাহা লক্ষিত হয় না, পরে যন্ত্র দ্বারা ঐ তিলসকল নিপীড়িত করিলে ততক্ষণাত তিল মধ্যগত তৈল বহির্গত হয়,যেমন দধিতে সর্ব সময় ই ঘৃত বিদ্যমান থাকে, মন্থনের পূর্বে তাহা কেউ দেখিতে পায় না, কিন্তু ঐ দধি মন্থন করিলে ঘৃত প্রকাশিত হয়,যেমন নদেখাতে আপাততঃ জলদৃষ্ট হয় না, কিন্তু ভূমিখনন করিলে জল প্রাপ্ত হওয়া যায়, যেমন অরণিমধ্যে(কাষ্ঠমধ্যে) যে অগ্নি আছে, তাহা মন্থানদন্ড দ্বারা ঘর্ষণ না করিলে প্রজ্জ্বলিত হয় না, যখন উভয় কাষ্ট সংঘর্ষিত হয়, তখন অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হইয়া পড়ে, ঠিক তেমনি সর্বভুতের হিতসাধন, ইন্দ্রিয় সংযম ও মননাদি তপস্যা দ্বারা সকল কিছুর মধ্যে পরমআত্মাকে উপলব্ধি করতে পারা যায়।
ঔঁ শান্তি শান্তি শান্তি
0 comments

বেদের বিষয়বস্তু কি কি?

পবিত্র বেদের বিষয়বস্তু চারটি অংশে বিভক্ত।যথা-বিজ্ঞান কান্ড,কর্মকান্ড, জ্ঞানকান্ড ও উপাসনা কান্ড।
বিজ্ঞানকান্ডের বিষয়বস্তু হল কর্মকান্ড,উপাসনাকান্ড ও জ্ঞানকান্ড থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তা হতে বিশেষ উপযোগীতা লাভ করা।
একটি সাধারন উদাহরন দিয়ে ব্যখ্যা করা যাক-
"তোমার দেহকে হলুদ করে দেয়া রোগটি উদীয়মান সূর্যের রশ্মিতে নিরাময় হোক,
আমরা তোমাকে যত্নে শুইয়ে দেই সূর্যের আলোতে।"
(অথর্ববেদ ১.২২.১)
এই মন্ত্রের তিনটি অংশ-
প্রথম অংশে বলা হচ্ছে একটি নবজাত শিশুর শরীরকে হলুদ করে দেয়া রোগ হলে(জন্ডিস হলে) তাকে রোদে শুইয়ে দিতে।এটি জ্ঞান ও কর্মের সম্মিলনের উদাহরন।আবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে যাতে এতে বাচ্চাটির অসুখটি ভালো হয়ে যায়।এটি উপাসনা কান্ডের অংশ।আর আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করেছে যে জন্ডিস আক্রান্ত নবজাত শিশুকে রোদে রাখলে তার শরীরে জন্ডিস রোগের কারন বিলিরুবিন নামক পদার্থটি জারিত হয়ে বিলিভার্ডিনে পরিণত হয় যার ফলে শিশুটির জন্ডিসের মাত্রা কমে যায় এবং শিশুটি কার্নিকটেরাস নামক প্রানঘাতী রোগ থেকে বেঁচে যায়।তাহলে দেখলেন তো কি চমত্‍কারভাবে কর্মকান্ড,জ্ঞানকান্ড ও উপাসনা কান্ড সম্মিলিতভাবে বিজ্ঞানকান্ডে রুপ নিল!
কর্মকান্ডের বিষয়বস্তু হল আমাদের জীবনবিধি।আমাদের খাদ্যবিধি,আচরনবিধি, পড়াশোনা, বিয়েসংক্রান্ত নিয়মকানুন,অর্থনীতি, রাজনীতি,পরিবেশবিদ্যা ইত্যাদি কর্মকান্ডের অন্তর্ভুক্ত।
উপাসনাকান্ডের বিষয় হল যজ্ঞ,হোম,প্রাত্যাহিক সন্ধ্যাবিধি ইত্যাদি।
জ্ঞানকান্ডের পরিধি বিশাল-ব্রহ্মজ্ঞান তথা অপরাবিদ্যা এই অংশের প্রধান আলোচ্য বিষয়।সত্য,ধর্ম,মোক্ষ ইত্যাদি এই অংশে আলোচিত হয়।
এজন্য ই পবিত্র বেদকে মহাবিশ্বের সংবিধান বলা হয়।এতই সুবিশাল এর জ্ঞানভান্ডার।একজন জিজ্ঞাসু ব্যক্তির সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে একমাত্র এই আপ্তসত্য গ্রন্থটি।উপনিষদ,গীতা ইত্যাদি এর ক্ষুদ্রতম অংশেরও ক্ষুদ্রতম নির্যাস মাত্র।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

অনেকে জানতে চেয়েছেন পবিত্র বেদে পোষাকের শালীনতা সম্পর্কে কিছু বলা হয়েছে কি?


প্রথমেই বলে রাখি পবিত্র বেদ মানবতার ও যৌক্তিকতার প্রতিমূর্তি।এটি কোন নির্দিষ্ট অযৌক্তিক নিয়ম কানুন,পোষাক-পরিচ্ছেদ নরকের আগুনের ভয় দেখিয়ে মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়না।আবার মধ্যযুগীয় বর্বর আইনগুলোর মত এটি নারীদের পোষাক নিয়ে সারাক্ষন নোংরা গবেষনায় ব্যস্ত থাকেনা। পোষাকের ধরন অঞ্চল,আবহাওয়া-জলবায়ুর তারতম্যভেদে পরিবর্তিত হওয়া ই স্বাভাবিক।তারপরেও পোশাকজনিত ভদ্রতার গুরুত্ব একেবারে অস্বীকার করা যায়না।মহান বৈদিক সভ্যতায় তাই পোশাকের শালীনতার গুরুত্ব রয়েছে,তবে তা সীমা বজায় রেখেই-
অধঃ পশ্যস্ব মোপরি সন্তরাং পাদকৌ হর।
মা তে কশপ্লকৌ দৃষান্তস্ত্রী হি ব্রহ্মা বভুবিথ।।
(ঋগ্বেদ ৮.৩৩.১৯)
অনুবাদ-হে পুরুষ ও নারী,তোমাদের দৃষ্টি সবসময় হোক ভদ্র ও অবনত।তোমাদের চলন হোক সংযত,দেহ হোক পোষাকে আবৃত,নগ্নতা হোক পরিত্যজ্য।
অর্থাত্‍ স্বেচ্ছায় অশ্লীলতা তৈরী করার জন্য সেই ধরনের পোষাক পরিধান করা ঠিক নয়,পোষাক নির্ধারিত হোক প্রয়োজনীয়তা ও রুচিশীল সৌন্দর্য্যের উপর ভিত্তি করে।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD
1 comments

বেদে মানব দেহ

"India is the cradle of human race, the birthplace of human speech, the mother of history, the grandmother of legend and the great grandmother of tradition. The most valuable and most instructive materials in the history of man are treasured up in India only." — Mark Twain
মানব ইতিহাসের গৌরবের প্রতিটি শাখা ই মহান আর্য সভ্যতার সাথে জড়িত। তাই এটি অতি স্বাভাবিক যে জ্ঞানের অন্যান্য প্রতিটি শাখার মত চিকিৎসাবিদ্যাও এই গৌরবময় আর্যাবর্ত্ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে আর্য সভ্যতার ইতিহাস অত্যন্ত চমকপ্রদ।সার্জারি(সুশ্রুত সংহিতা) থেকে মেডিসিন(চরক সংহিতা),পেডিয়াট্রিকস( কৌমারভৃত্যম) থেকে ফরেনসিক টক্সিকোলজি(আগাদতন্ত্র),সে এক সুবিশাল পথযাত্রা।আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে প্রাচীনতম একটি শাখা হল এনাটমি বা অঙ্গসংস্থানবিদ্যা।আজ আমরা আলোচনা করব তার ই ক্ষুদ্র একটি শাখার ক্ষুদ্রতম একটি অংশ নিয়ে;মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র।
মানবদেহের অঙ্গসংস্থান নিয়ে প্রচুর পরিমাণ তথ্যাদি প্রাচীন সংস্কৃত শাস্ত্র সমূহে পাওয়া যায়।এই সুবিশাল ভাণ্ডারের বর্ণনা দেয়া হয়ত ১০০ টি প্রবন্ধেও সম্ভব নয়।তাই আমরা এখানে শুধুমাত্র পবিত্র বেদ ও উপনিষদসমূহে পাওয়া যায় এমন কিছু মন্ত্রের উপর ই আলোকপাত করব।
মস্তক(হেড)
চিকিৎসা বিজ্ঞানে আমাদের মস্তিস্কের বাহ্যগঠনকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা হয়-
১)ক্রেনিয়াল বা খুলির অস্থি এবং
২)ফেসিয়াল বা মুখমণ্ডলের অস্থি।
খুলির প্রধান অংশ গঠিত হয় চারটি বড় অস্থি দিয়ে-একটি ফ্রন্টাল,একটি অক্সিপিটাল ও দুটি প্যারাইটাল অস্থি।এছাড়া টেম্পোরাল নামক দুই পাশে দুটি ছোট অস্থি রয়েছে।
আর মুখমণ্ডলের অস্থির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল চোয়াল এর অস্থি যার নাম ম্যানডিবল।

মস্তিস্কম অস্য ললাটম ককাটিকাম প্রথমো যঃ কপালম...
(অথর্ববেদ ১০.২.৮)
অর্থাৎ মস্তক কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে-ব্রেইন(ললাট),ককাটিকাম(ফেসিয়াল বোনস বা মুখমণ্ডলের অস্থি) এবং কপালম বা ক্রেনিয়াল বোনস বা মস্তকের অস্থি।
ঐতেরিয় আরণ্যক অনুযায়ী এই কপালম বা মস্তিস্কের অস্থি প্রধানত ৪টি(মেডিক্যাল সায়েন্স এর ভাষায় একটি ফ্রন্টাল,একটি অক্সিপিটাল ও দুটি প্যারাইটাল বোন)
এছাড়াও অথর্ববেদ ১০.২.৮ এ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফেসিয়াল বোন এর কথা বলা হয়েছে যেটির নাম হনু(ম্যানডিবল-চোয়াল এর অস্থি)।একে বলা হয়েছে হন্বো চিত্যাম অর্থাৎ এটি মুলত একাধিক অংশের মিলনের ফলে গঠিত।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ীও ম্যানডিবল গর্ভাবস্থায় রাইট ও লেফট প্রসেস নামক আলাদা দুটি অস্থি এর জোড়া লাগার ফলে গঠিত হয় যা ম্যনডিবুলার সিমফাইসিস নামক সরু একটি দাগ দিয়ে মানবদেহে চিহ্নিত থাকে!
মস্তিস্কের ফ্রন্টাল অস্থির কোটরে আমাদের চোখ অবস্থিত।সেই হিসেবে বৃহদারন্যক উপনিষদ ২.২.১ এ দেয়া মানবচক্ষুর অসাধারণ পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনাটি দেয়া হল।
এই মন্ত্রটিতে চোখকে নিম্নলিখিত অংশে ভাগ করা হয়েছে।
কনিনিকা-যাকে আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় বলে পিউপিল
মণ্ডল-আই বল
কৃষ্ণাংশ-আইরিশ
শুক্লাংশ-স্ক্লেরা
আপ-একুয়াস এন্ড ভিট্রিয়াস হিউমার
লোহিনি-রাজি-রেটিনাল ব্লাড ভেসেলস!
গ্রীবা(নেক)
অথর্ববেদ অনুযায়ী গ্রীবাকে দুটি অংশে ভাগ করা হয়েছে-সম্মুখ ও পশ্চাৎ ভাগ।
পশ্চাৎ ভাগে আছে চতুর্দশাবাইতাসাম কারুকুরানি বির্যাম... অর্থাৎ সাতটি কশেরুকা ও তাদের চোদ্দটি ল্যাটেরাল প্রসেস!
বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ীও গ্রীবা অঞ্চলে ৭টি কশেরুকা ও তাদের প্রত্যেকের দুই পাশে একটি করে অর্থাৎ মোট ১৪ টি ল্যাটেরাল প্রসেস রয়েছে!!
অপরদিকে সম্মুখঅংশে রয়েছে কণ্ঠনালী(Trachea)।
বক্ষ(Thorax)
আধুনিক এনাটমি অনুযায়ী আমাদের বক্ষের উভয়পাশে দুইভাগে বিভক্ত ১২ জোড়া রিবস বা পরশুকা এবং এক জোড়া ক্ল্যাভিকল বা কণ্ঠাস্থি রয়েছে।
শতপথ ব্রাহ্মণে বলা হয়েছে-
পার্শ্বে ত্রিনবঃ ত্রয়োদশন্যঃ পার্শ্বত্রয়োদশন্য।
পার্শ্বে ত্রিনবে তস্মাৎ পার্শ্বে ত্রিনবঃ।।
(শতপথ ব্রাহ্মন ৮.২.৪.১৩)
অর্থাৎ বক্ষের দুই পাশে ১৩ টি করে মোট ২৬ টি পরশুকা রয়েছে!(এখানে ক্ল্যাভিকলকে সহ ধরা হয়েছে)
আমরা বর্তমানে এও জানি যে পরশুকাসমুহ সামনেরদিকে স্টার্নাম বা বক্ষাস্থি এর সাথে কার্টিলেজ এর মাধ্যমে এবং পিছনেরদিকে কশেরুকাসমূহের(ভারটিব্রা) এর সাথে সুপিরিয়র ও ইনফেরিয়র আরটিকুলার প্রসেস নামক দুটি প্রায় গোলাকার আকৃতির খাদযুক্ত অংশ এর মাধ্যমে যুক্ত থাকে।
এছাড়া শতপথ ব্রাহ্মণের ৮.৬.২.১০ এ বলা হয়েছে
পরশুকা সমুহ একদিকে কিকাসঃ (স্টার্নাম) এর সাথে জত্রু(কারটিলেজ) এবং অপরদিকে কশেরুকা এর সাথে অণ্ডপরিশু(গোলাকার খাদযুক্ত স্থানবিশেষ) এর মাধ্যমে যুক্ত থাকে!!!
ভারটিব্রাল কলাম
আমরা জানি মানুষের ভারটিব্রাল কলামে মোট ৩৩ টি ভারটিব্রা থাকে যা পরবর্তীতে ফিউজড হয়ে ২৬ টিতে রুপান্তরিত হয়।
অনুকম ত্রয়োত্রিশটমঃ কারুকুরন্যনুকাম...
অর্থাৎ আমাদের মোট কারুকুর বা কশেরুকা তথা ভারটিব্রার সংখ্যা ৩৩ টি(ত্রয়ো-ত্রিশ)!!!
Upper Extremity (ঊর্ধ্ববাহু)
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ঊর্ধ্ববাহুকে প্রধানত Shoulder এবং Arm এই দুই অংশে ভাগ করা হয়।Arm কে আবার তিনটি অংশে ভাগ করা হয়।যথা-
১)Arm(কাঁধ থেকে কনুই এর আগ পর্যন্ত)
২)Forearm(কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত) এবং
৩)Hand(বাকী অংশটুকু)
Shoulder আবার দুটি হাড় নিয়ে গঠিত।ক্ল্যাভিকল এবং স্ক্যাপুলা।
অথর্ববেদ ১০.২.৪,৫ এ কাঁধকে অংসৌ নামে অভিহিত করা হয়েছে।এই অংসৌ এর দুটি অংশ সেখানে দেয়া হয়েছে-
অক্ষ(ক্ল্যাভিকল) এবং কফোদৌ(স্ক্যাপুলা)।
১০.২.৪-৭ পর্যন্ত মন্ত্রসমূহে হাতের বর্ণনায় একে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে-
বাহু(Arm)
দোসন(Forearm)
পাণি(Hand)!!!
এখানেই শেষ নয়।আমরা জানি যে হাত অষ্টিওলজিকালি প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত-
১)কার্পাল(Carpal)
২)মেটাকার্পাল(Metacarpal)
৩)ফ্যালাঞ্জেস(Phallanges)
অথর্ববেদ ১০.২.১ এ বলা হয়েছে,
“কেন আঙ্গুলি পেশানি কেন উচ্ছলঙ্খৌ মধ্যতঃ...”
অর্থাৎ কে এবং কেন হাতকে উচ্ছলঙ্খৌ(Carpal),মধ্যতঃ (মধ্য অংশ বা Metacarpal) এবং আঙ্গুলি(Phallanges) অংশে বিভক্ত করেছে?
Lower Extremity(নিম্নবাহু)
Anatomically নিম্নবাহু প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত-হিপ এবং ফুট।
ফুট আবার তিনটি অংশে বিভক্ত-
১)থাই(হাঁটুর আগ পর্যন্ত)
২)লেগ(হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত) এবং
৩)ফুট(বাকী অংশ)
ফুট আবার অষ্টিওলজিকালি তিনটি অংশে গঠিত-
১)টারসাল
২)মেটাটারসাল এবং
৩)ফ্যালাঞ্জেস
আবার আমাদের পায়ের গোড়ালি বলতে আমরা যা বুঝি তা ট্যালাস নামক টারসাল অস্থি দিয়ে গঠিত।যা আবার অন্যান্য টারসাল অস্থিসমূহের সাথে যুক্ত থাকে।
অথর্ববেদ ১০.২.১-৩ মন্ত্র তিনটি পর্যালোচনা করে যা পাওয়া যায় তা হল-
নিম্নাঙ্গ দুটি অংশে গঠিত- শ্রোণী(হিপবোন) এবং পা।
পাকে আবার ভাগ করা হয়েছে তিনটি অংশে-
১)উরু(থাই)
২)জঙ্ঘা(লেগ) এবং
৩)পদ(ফুট)
পদকে আবার চারটি অংশে ভাগ করা হয়েছে-
১) পার্সণি(ট্যালাস)
২) গুলফৌ(বাকী টারসাল অস্থিসমূহ)
৩)উচ্ছলঙ্খ(মেটাটারসাল)
৪) আঙ্গুলি(ফ্যালাঞ্জেস)
এছাড়া আমরা জানি যে টারসাল ও মেটাটারসাল অস্থির মাঝখানে Transverse Arch রয়েছে যা আমাদের দেহের ভারবহনে পায়ের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।প্রখ্যাত গবেষক Dr. V.W Karamvelkar এর মতে অথর্ববেদ ২.৩৩.৬ এ উল্লিখিত ‘প্রপদা’ নামক পায়ের অংশটি ই হল এই Transverse Arch!!!
অথচ অসুরদের আক্রমনে আমরা আমাদের এই সম্পদগুলো হারিয়ে ফেলি যার ফল আমাদের এখনো ভোগ করতে হচ্ছে। ইতিহাস তাই বলে-
“চিকিৎসা বিজ্ঞানের কলাকৌশল নালন্দা,তক্ষশীলা ও বেনারসের বিখ্যাত শিক্ষাপীঠ গুলোতে পড়ানো হত।উত্তর-পূর্ব দিক থেকে মুসলিম শাসকদের আক্রমনে ভারতবর্ষের সেই সমৃদ্ধির ধ্বস নামে তবে তারও আগে ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান তা দান করে গিয়েছিল পশ্চিমে গ্রীক,আরব ও মিশরীয়দের ও পূর্বে চীনের হাতে।“
(Davidson Gr. The dawn of Civilization- Indian Medicine. In: Medicine through the Ages. London: Methuen Co. Ltd.; 1968. p. 17-9.)
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
তথ্যসুত্র- History of science in India By Dr. Mira Roy
Atharvaveda&Ayurveda By Dr. V.W Karamvelkar
La Doctrine Classique de la Medicine Indienne ses origins et ses parallels By Zean Filliozat.
‪#‎অগ্নিবীর‬
0 comments

আর্যভট্ট

বৃত্তের পরিধিকে এর ব্যস দিয়ে ভাগ করলে তা সকল বৃত্তের ক্ষেত্রেই একটি ধ্রুবসংখ্যা হয় যাকে গ্রীক বর্ণ π দ্বারা সূচিত করা হয়।আমরা একে বলি পাই(Pi) যা একটি অসীম সংখ্যা যার মান ৩.১৪১৫৯... যার আসন্ন মান ৩.১৪১৬।স্কুলজীবনে আমরা সবাই ই এমনটা পড়েছি।কিন্তু কখনো কি আমরা জানতে চেষ্টা করেছি এর পেছনে থাকা মহান এক আর্যবিজ্ঞানীর অবদান?চীনের লু চাও যখন এই অমূলদ সংখ্যাটির ৬৭৮৯০ ঘর পর্যন্ত মুখস্থ করে তা ২৪ ঘন্টা ৪ মিনিটে আবৃত্তি করে গিনেস রেকর্ড করেন তখন আমরা তা দেখে বিস্মিত হই,কিন্তু আরো আশ্চর্য হয় খোদ ইতিহাস নিজেই যখন Pi এর মান সর্বপ্রথম নিখুঁতভাবে বের করেন প্রাচীনভারতের প্রত্যন্ত কুসুমপুরে(বর্তমান পাটালিপুরে) নির্ভৃতে বাস করা এক সাধাসিধে মানুষ!
খ্রিষ্টের জন্মের হাজার খানেক বছর আগে প্রাচীন ভারতের শুল্ব সুত্রে প্রথম পাই এর মান উল্লেখিত হয় ৩.১৬,কাছাকাছি এবং সেই যুগের তুলনায় অসাধারন হলেও এই মানটি সম্পূর্ণ সঠিক ছিলনা।আধুনিক কালে প্রথম ফিবোনাক্কি ১২১০ সালে এর মান নির্নয় করেন ৩.১৪১৮ যাও সম্পূর্ণ সঠিক নয়।আর এর সঠিক মান সর্বপ্রথম ৪৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যিনি বের করেন তিনি হলেন মহান আর্যভট্ট।
৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রাচীন ভারতের কুসুমপুরে জন্ম নেন তিনি আর মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ৪৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রচনা করেন তাঁর গণিতবিষয়ক কালজয়ী গ্রন্থ 'আর্যভট্টীয়ম'।
এই গ্রন্থটি চারটি খন্ডে বিভক্ত।প্রথম খন্ডের নাম দশ গীতিকা যাতে রয়েছে ১২টি শ্লোক।দ্বিতীয় অধ্যয়ের নাম 'গণিত পাদ' যাতে রয়েছে গণিত বিষয়ক ৩৩টি শ্লোক।তৃতীয় খন্ডের নাম কালক্রিয়াপদ যাতে সময়ের ভাগ ও বিভাগ নিয়ে আছে ২৫টি শ্লোক।
চতুর্থ খন্ডের নাম গোলপাদ যাতে রয়েছে ত্রিকোনমিতি ও জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত ৫০ টি শ্লোক।
আর্যভট্টীয়ম গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যয় গণিতপাদ এর ১০ নং শ্লোকে আর্যভট্ট বলেছেন,
চতুর্ধিকম শতংসগুণম দ্বাশশিস্তথা সহশ্রাণাম অযুতদ্বযবিশ্কম্ভসযাসন্নো বৃত্তপরিধাহাঃ।
অর্থাত্‍ ৪কে ১০০ এর সাথে যোগ করে তাকে ৮ দিয়ে গুন করে একে ৬২০০০ এর সাথে যোগ করে সেই বৃত্তের পরিধি পাওয়া যায় যার ব্যস ২০০০০।
এই হিসেবটিকে করলে Pi এর মান পাওয়া যায়-
১০০+৪*৮+৬২০০০/
২০০০০
বা,৮৩২+৬২০০০/২০০০০
বা,৬২৮৩২/২০০০০
বা,৩.১৪১৬!
[তথ্যসূত্র-,Pi unleashed,Arndt,Jorge Henel,Christopher,2006]
0 comments

পবিত্র বেদ দান করা সম্পর্কে যা বলেছে



বৈদিক ধর্ম অনুযায়ী গরীব-দুঃখীদের দান করা একজন মানুষের তার ইহজীবনের পাঁচটি মহাঋণের মধ্যে একটি।পবিত্র বেদ সর্বদা ই দান করাকে উত্‍সাহিত করেছে।এমনকি ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ১১৭ নং সুক্তটি সম্পূর্ণ ই দানের মহিমা নিয়ে দৃষ্ট যার কারনে সুক্তটির নাম দানস্তুতি সুক্ত।আজ আমরা এদের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করব-
শাত হস্ত সমাহার,সহস্র হস্ত সং কির।
(অথর্ববেদ ৩.২৪.৫)
অনুবাদ-আয় করতে হাতটিকে শতটিতে বৃদ্ধি কর আর দান করতে তাকে সহস্রটিতে রুপান্তরিত কর!
"ধনীদের উচিত দুঃস্থদের দান করা,তাদের দুরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া উচিত কেননা ধনসম্পদ হল রথের চাকার মত,এখন যা এখানে পরমূহুর্তেই তা অন্যখানে গতিশীল হয়।"
(ঋগ্বেদ ১০.১১৭.৫)
মোঘমন্নং বিন্দতে অপ্রচেতাঃ সত্যং ব্রবীমি বধ ইত স তস্য।
নার্যমণং পুষ্যতি নো সখায়ং কেবলাঘো ভবতি কেবলাদী।।
(ঋগ্বেদ ১০.১১৭.৬)
অনুবাদ-যে ব্যক্তি দুঃস্থদের সাহায্য করেনা,অজ্ঞানী এবং অন্তঃদৃষ্টিহীন তার সকল উন্নতি ই বৃথা,সকল সম্পত্তি ই অনর্থক।যে অন্যদের সাহায্য করেনা,অভুক্ত রেখে কেবল নিজে খায় সে মূলত পাপ ই ভোজন করে।
কিন্তু অপাত্রে দান আবার ঠিক নয়।যে দান থেকে প্রাপ্ত সম্পদের অপব্যবহার করে তার অপকর্মের দায় কিন্তু দানকারীর ও বটে।এজন্য ই কিন্তু যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বলে গিয়েছেন,
"দান করা কর্তব্য এই চিন্তা করে,প্রতিদানের আশা না রেখে সত্‍পাত্রে,উপযুক্তস্থানে, সঠিককালে যে দান করা হয় তাই সাত্ত্বিক(উত্‍কৃষ্ট) দান।"
(গীতা ১৭.২০)
মহর্ষি মনু বলেছেন,
"যে ব্যক্তি পাথরের তৈরী নৌকায় চড়ে জলপথ পাড়ির চেষ্টা করেন তার সমাপ্তি যেমন সলিলসমাধিতে হয় ঠিক তেমনি অযোগ্য গ্রহীতাতে দানকারী অযোগ্য দাতাও অজ্ঞানতার গভীরে নিমজ্জিত হন।"
এখন কথা হল সর্বশ্রেষ্ঠ দান কোনটি?
সর্ব্বেষামেব দানানাং ব্রহ্মদানং বিশিষ্যতে।
বার্য্যন্নগোমহীবাস্তিলকাঞ্চনসর্পিষাম্।।
(মনুসংহিতা ৪.২৩৩)
অনুবাদ-যত ধরনের দান এই পৃথিবীতে আছে,জলদান,অন্নদান, ধেনুদান,ভূমিদান,বস্ত্রদান,তিলদান,স্বর্ণদান,এই সকল দানের মধ্যে বেদের দান/বেদশিক্ষা দান সর্বশ্রেষ্ঠ দান!
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD'
0 comments

রাজা দশরথের কয় সন্তান ছিল?আমরা সবাই জানি চার ছেলে,শ্রীরাম,লক্ষন,ভরত,শত্রুঘ্ন।কিন্তু আমরা কি জানি শ্রীরামের এক বোন ছিলেন?

হ্যাঁ,রাজা দশরথ ও রাণী কৌশল্যার সেই কন্যা সন্তানের নাম শান্তা।কৌশল্যার বোন বর্ষিণী যিনি কিনা অঙ্গরাজ্যের রাজা রোমপদ এর স্ত্রী ছিলেন,তিনি নিঃস্বন্তান হওয়ায় শ্রীরামের এই বোনটিকে দত্তক নিয়েছিলেন।ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি বেদাদি শাস্ত্রে পারদর্শিনী হিসেবে খ্যাত ছিলেন।পরবর্তীতে ঋষি ঋষ্যশৃঙ্গ এর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। উত্তর প্রদেশ,বিহার ও মধ্যপ্রদেশ এর সেঙ্গার রাজপুতরা এই ঋষি ঋষ্যশৃঙ্গ ও শ্রীমতী শান্তার ই উত্তরসূরি।
শ্রীরামজীর বনবাসের পর তিনি যখন রাজা হলেন তখন মা সীতা বনবাসে যান,এমনটা প্রচলিত বিশ্বাস হলেও গবেষনায় প্রমাণিত যে রামায়নের উত্তর কাণ্ড সম্পূর্ণ ই প্রক্ষিপ্ত যেখানে এই গল্পটি বলা হয়েছে।মহাভারতের সভাপর্বের রামউপাখ্যান পর্বাধ্যায় এ যে রামায়নের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে সেখানেও এ ধরনের কাহিনী নেই।সেখানেও বলা হয়েছে যে মা সীতার সতীত্ব সম্বন্ধে শ্রীরাম নিঃস্বন্দেহ হন এবং তাঁরা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকেন।
বাল্মীকি রামায়নে শ্রী রাম সেতু তৈরীর আগে সূর্যস্তব করেছিলেন যাকে বাঙ্গালী কবি কৃত্তিবাস দুর্গাপুজা বলে বাংলা সমাজে প্রচার করেন।
আমরা সবাই জানি কৌশল্যা বড় রাণী,কৈকেয়ী মেঝ রাণী ও সুমিত্রা ছোট রাণী ছিলেন।কিন্তু বাল্মীকি রামায়ন অনুযায়ী কৈকেয়ী আসলে ছোট রাণী ছিলেন,সুমিত্রা ছিলেন মেঝ রাণী।
বাংলা অঞ্চলে কৃত্তিবাস,হিন্দি বলয়ে তুলসি দাস,দক্ষিন ভারতে আবার কম্বনের রামায়ন,তেলেগুদেশমে রঙ্গনাথনের রামায়ন,কাশ্মীরে দিবাকর ভট্টের রামায়ন,একইভাবে উড়িষ্যা,আসাম,নেপাল,তিব্বত সব জায়গাতেই নিজেদের আলাদা আলাদা জনপ্রিয় রামায়ন আছে যাদের নিজেদের মধ্যেই আছে অসংখ্য পার্থক্য।বাল্মিকির সঙ্গে টেক্কা দিয়েও তৈরি হয়েছে আরও এক দল সংস্কৃত রামায়ন-মহারামায়ন,অদ্ভুত রামায়ন,আধ্যাত্ম রামায়ন আরো কত কি!!!
একই ঘটনায় বিষ্ণু ভক্তরা রামের মুখ দিয়ে বিষ্ণুর প্রশংসা লিখেছেন,শিবের ভক্তরা শিবের,আর বাঙ্গালী কৃত্তিবাস তো একেবারে দুর্গা পুজা করে ছাড়িয়েছেন!!!
অথচ মূল বাল্মীকি রামায়নের কোন খোঁজ কারো নেই!এই হল অবস্থা!!!
VEDA, The infallible word of GOD


1 comments

সংস্কৃত ভাষা

সংস্কৃত ভাষা,যার অর্থ শুদ্ধ ভাষা,অপর নাম দেবভাষা অর্থাত্‍ ঐশ্বরিক ভাষা।NASA ১৯৮৫ সালে যাকে Artificial Intelligence এর জন্য শ্রেষ্ঠ ও যোগ্যতম ভাষা হিসেবে ঘোষনা করেছিল সেই সংস্কৃত ভাষা প্রতিটি বৈদিক ধর্মালম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র এক ভাষা হিসেবেই পরিগণিত।কেননা বৈদিক ধর্মের মূল প্রাণশক্তি,মহাবিশ্বের সংবিধান পবিত্র বেদ এই ভাষাতেই প্রকাশিত।এছাড়া বৈদিক সাহিত্য মানেই সংস্কৃত ভাষার অনন্য ভান্ডার যা প্রতিটি সনাতন ধর্মালম্বীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আজ আমরা দেখব বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণী মহামানবগণের সংস্কৃত ভাষা সম্বন্ধে কিছু নির্বাচিত উক্তি।
"সংস্কৃত,এর প্রাচীনত্ব যতই হোক না কেন,এর গঠনপ্রণালী অভূতপূর্ব;গ্রীক এর চেয়ে অনেক নিখুঁত,ল্যটিন এর চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ এবং দুটোর চেয়েই অনেক পরিশুদ্ধ,তারপরেও উভয়ের চেয়েই অধিক আকর্ষনীয়,সে ক্রিয়ামূল বা ব্যকরনের যেকোন দিকেই,যা শুধুমাত্র কোন বড় দূর্ঘটনাক্রমেই ঘটা সম্ভব!কোন ভাষাতাত্বিক ই এই সকল ঘটনাকে ব্যখ্যা করতে পারেনা যা বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে এর উত্‍স এমন কিছু যাকে খুঁজে পাওয়া এখন সম্ভব না।"
~Sir William Jones
অষ্টাদশ শতাব্দীতে সংস্কৃত গ্রন্থসমূহের প্রথম ইংরেজী অনুবাদকারী পন্ডিতদের মধ্যে অন্যতম Arthur Anthony Macdonell বলেন,
"রেনেসাঁর সময় পৃথিবীজূড়ে সংস্কৃত ভাষা ও গ্রন্থের প্রকাশ ও নতুনরুপে আবিস্কারের মত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আর ঘটেনি।"
"জ্যোতির্বিদ্যার জন্য গণিত যেমন,ভাষাবিজ্ঞানের জন্য সংস্কৃত ও ঠিক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ।"
-ফ্রেডরিক ম্যক্স মুলার
"সংস্কৃতের হিব্রু ভাষার চেয়ে বেশী যা রয়েছে তা হলে স্বর্গীয় পরশ।"
-Schlegel,History of Literature
বিশ্ববিখ্যাত ফোর্বস ম্যগাজিন তাদের জুলাই,১৯৮৭ সালে প্রকাশিত সংখ্যায় বলে,
"কম্পিউটার সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং এর জন্য সবচেয়ে নিখুঁত ভাষা হল সংস্কৃত।"
NASA এর গবেষক Rick Briggs বলেছিলেন,
"প্রাচীন ভারতে জ্ঞান অন্বেষন ও নব আবিস্কারের তৃষ্ণা এতই প্রখর ছিল যে এই প্রক্রিয়ার ধারায় তারা পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারটিই আবিস্কার করে ফেলে আর তা হল সংস্কৃত ভাষা!"
"সংস্কৃত ভাষার সমৃদ্ধতা কল্পনার বাইরে আর এই কারনেই বর্তমানে অনেক ইউরোপীয় লেখকরাই তাদের ইংরেজী সাহিত্যগ্রন্থেও সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার করে থাকেন।"
~J. Robert Oppenheimer
"আসলেই এটি সংস্কৃত,নিখুঁত ও অনন্য।"
-Sir William Wilson Hunter
"নিঃসন্দেহেই বর্তমান সকল ইউরোপীয় ভাষার উত্‍স ই হচ্ছে সংস্কৃত।"
~William Ward
"সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধি এতই অনন্য যে গ্রীকভাষা ও সাহিত্যকে পর্যন্ত এর তুলনায় বিবর্ণ মনে হয়!"
~Friedrich Max Muller
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD

0 comments

অশ্বমেধ যজ্ঞ

বিভিন্ন বৈদিক যজ্ঞের মধ্যে অশ্বমেধ যজ্ঞ অন্যতম যজ্ঞ। রাজাদের জন্য এই যজ্ঞ করা আবশ্যক।
কিন্তু এই অশ্বমেধ যজ্ঞকে এই পর্যন্ত যে পরিমাণে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা অন্য কোনো উৎসব নিয়ে করা হয়েছে কি না সন্দেহের বিষয়! মধ্যযুগীয় বিকৃত মস্তিষ্কের কিছু পণ্ডিত নামধারী লোকেরা বেদের অর্থের যতটা না বিকৃতি ঘটিয়েছে তার চেয়ে বেশী অর্থ বিকৃতি ঘটিয়েছে এই যজ্ঞ নিয়ে। তাই বর্তমানে অহিন্দু ও নাস্তিকদের নিকট এই যজ্ঞ অশ্ব হত্যা ও অশ্লীলতার এক আয়োজন নামে পরিচিত। দুঃখের বিষয় এ বিষয়ে সাধারণ হিন্দুরাও অবগত নয়। তাই এই সুযোগে চলে সাধারণ হিন্দুদের মগজ ধোলাই করে ধর্মান্তরকরণ ও নাস্তিক বানানোর কর্ম।
প্রণাম জানাই মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীকে, যিনি প্রথম বিভিন্ন শাস্ত্রীয় বচনের প্রমাণ দ্বারা মহীধর ও উব্বটের সেই বানানো বিকৃত অনুবাদের খণ্ডন করেছিলেন।
উব্বট-মহীধরের ভাষ্য অনুযায়ী অশ্বমেধ যজ্ঞে অশ্ব হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে রাণী অশ্লীল কর্মে লিপ্ত হয়।
আসুন দেখে নেই যজ্ঞ কি?
বৈদিক সংস্কৃতের ধাতুপাঠ অনুযায়ী যজ্ঞ শব্দের উৎপত্তি ‘যজ্’ ধাতু হতে, যার অর্থ-
১) দেব পূজা
২) সংগতিকরণ বা ঐক্যবদ্ধ করা
৩) দান করা
মহর্ষি যাস্কাচার্য তাঁর অমরগ্রন্থ নিরুক্তে লিখেছেন-
অধ্বর ইতি যজ্ঞনাম। ধ্বর ইতি হিংসাকর্মা তৎপ্রতিনিষেধ।।
নিরুক্ত ২.৭
অর্থাৎ যজ্ঞের এক নাম অধ্বর। ধ্বর দ্বারা হিংসা কর্ম বোঝায়। অধ্বর শব্দ প্রয়োগে সেই হিংসা কর্ম নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ যজ্ঞে পশুবলি নিষিদ্ধ।
চারবেদের অসংখ্য স্থানে যজ্ঞকে অধ্বর বলা হয়েছে।
তাই আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি, যেসব ব্যক্তি বেদের যজ্ঞকে পশুবলির অনুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছে তাদের সেই ব্যাখ্যা ভুল এবং বেদ বিরুদ্ধ।
এবার দেখে নেই অশ্বমেধ যজ্ঞ কী-
যজুর্বেদের ব্যখ্যা ব্রাহ্মণ গ্রন্থ হচ্ছে শতপথ ব্রাহ্মণ। শতপথের ১৩।২।২।১৪,১৫,১৭ এবং ১৯ এ বলা হয়েছে
“প্রজাপতির্বৈ জমদগ্নিঃ সো অশ্বমেধঃ।
ক্ষত্রং বাশ্বো বিডিতরে পশবঃ।
ক্ষত্রস্যৈতদ্রূপং য়দ্ধিরণ্যং।
জ্যোতির্বৈ হিরণ্যম্।”
অর্থাৎ রাজ্যপলনের কর্মই অশ্বমেধ। রাজার নাম অশ্ব এবং প্রজার নাম অশ্ব ব্যতীত অপরাপর পশুর নাম। অশ্বমেধে রাজ্যের শোভা স্বরূপ ধন হয়ে থাকে এবং সেই জ্যোতির নাম হিরণ্য।
শতপথ ব্রাহ্মণের ১৩।১।৬ এ বলা হয়েছে-
“রাষ্ট্রং বা অশ্বমেধঃ। বীর্য়ং বা অশ্বঃ।”
অর্থাৎ অশ্ব শব্দ বল বাচক। যে কর্মে রাজ্যের প্রজাদের বল বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রের উন্নতি ঘটে তাই অশ্বমেধ।
শতপথ ব্রাহ্মণে আরো বলা হয়েছে-
“রাষ্ট্রমশ্বমেধো জ্যোতিরেব তদ্রাষ্ট্রে দধাতি।
ক্ষত্রায়ৈব তদ্বিশং কৃতানকরামনুবর্তমানং করোতি।।
অথো ক্ষত্রং বা অশ্বঃ ক্ষত্রস্যৈতদ্রূপং য়দ্ধিরণ্যং। ক্ষত্রমেব তৎ ক্ষত্রেণ সমর্ধয়তি। বিশমেব তদ্বিশা সমর্ধয়তি।।”
শতপথ ১৩।২।২।১৬,১৫,১৭,১৯
অর্থাৎ যা দ্বারা রাজ্যের প্রকাশ বা উন্নতি হয় তাই অশ্বমেধ। রাজ্যের উন্নতিবাচক কর্ম ধারণ করাই রাজ্যসভার কার্য। ঐ রাজ্যসভা নিজ পক্ষ থেকেই প্রজার প্রতি কর ধার্য করে থাকে। সেই রাজা দ্বারাই রাজ্য ও প্রজা দ্বারাই প্রজাদের বৃদ্ধি বা উন্নতি হয়ে থাকে।
অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি অশ্বমেধ হচ্ছে সেই কর্ম যা দ্বারা দেশ ও জনগণের কল্যাণ হয়ে থাকে। এখানে অশ্লীলতার কোনো স্থান নেই। তাই বলতে পারি যারা এই মহৎ কর্মের বিকৃত অশ্লীল অর্থ করেছে সেসব অল্পবুদ্ধি ভাষ্যকারদের সেই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ রূপে কল্পনা প্রসূত, যার কোনো শাস্ত্রীয় ভিত্তি নেই।
ওম শান্তি শান্তি শান্তি
0 comments

পৃথিবী ও পবিত্র বেদ

পৃথিবী;আমাদের সকলের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল,পরম প্রিয় আবাসভূমি।আর এ কারনেই সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই এ গ্রহটিকে ঘিরে জল্পনা কল্পনার অন্ত নেই!
ক্ল্যসিকাল পিরিয়ড এর আগ পর্যন্ত গ্রীকরা পৃথিবীকে মনে করত সমতল একটি থালার মত,বিখ্যাত হোমার পৃথিবীর আকারকে তুলনা করেছেলেন বীর একিলিস এর ঢাল এর সাথে।মধ্যযুগে আরবদেশীয়গণ একে মনে করত এক ছড়ানো মাদুরের মত এবং আকাশকে কল্পনা করেছে পৃথিবীর ছাদের সাথে।পৌরানিক গল্পকারগণ পৃথিবীকে বসিয়েছেন কচ্ছপের উপর,জৈন-বৌদ্ধ সাহিত্যে একে ভাবা হয়েছে বিরাটাকার এক চ্যপ্টা চাকতির মত।আর এদের সকলেই এই ধারনা ই পোষন করত যে সৌরজগতের কেন্দ্রে পৃথিবী অবস্থিত আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই অন্যান্য গ্রহসমূহ ও সূর্য আবর্তিত হয়।
আজ আমরা দেখব পবিত্র বেদাদি শাস্ত্রে পৃথিবী সম্পর্কে সৃষ্টির শুরুতে কি ব্যক্ত করেছিল।
পরিমণ্ডল অ বা স্ত্রযং পৃথিবী লোকঃ।
(শতপথ ব্রাহ্মণ ৭.১.১.৩৭)
অর্থাত্ পৃথিবী দেখতে গোলাকার।
মণ্ডলো হ্যং লোকঃ
(কথক ব্রাহ্মণ)
এই পৃথিবী লোক গোলকাকার।
সৌরজগত ও পৃথিবীর পরিভ্রমণ

অহস্ত য়দপদি(য়দ-অপদি)বরধত খ শচীবিরবেদ্যানাম ।
সুষমপরি প্রদক্ষিনিত্ বিশ্যব্যে নি সিস্নাথা।।
(ঋগবেদ ১০.২২.১৪)
অনুবাদ- "পৃথিবীর নেই হস্ত বা পদ,তবুও তা গতিশীল।এর উপর অবস্থিত বস্তুসমূহ ও এটার সাথে গতিশীল।এটি সূর্যের চারদিকে ঘূর্নায়মান।"
এখানে,অহস্ত-হাতহীন, অপদ-পাহীন, খ-পৃথিবী, বরধত-গতিশীল, শুষুনাম পরি-উপরিস্থিত বস্তুসমূহ।
সবিতা যন্ত্রেহ পৃথিবী- মরামদক্ষম্ভলে(পৃথিবীম-অরামদ) সবিতাদ্যমধত(দ্যম অধ্যত)।
অশ্বমিবাদুক্ষদ( অশ্বম-ইব-অধুক্ষ ত) ধুনিম অন্তরীক্ষ মতুরতেবাধয় সবিতা সমুদ্রম।।
(ঋগবেদ ১০.১৪৯.১)
অনুবাদ- "সূর্য তার পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহকে তার আকর্ষনশক্তির সাহায্যে বেধে রেখেছে।এটার চারপাশে সেগুলো ঘূর্নায়মান ঠিক যেমন প্রশিক্ষক এর চারপাশে প্রশিক্ষনরত অশ্ব বলগা দিয়ে ঘোরে।"
পৃথিবীর চৌম্বকত্ব
আমরা সকলেই জানি পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বকের ন্যয়।এর ভূগর্ভস্থ বিপূল পরিমাণ ধাতব পদার্থের কারনে এটি প্রবল আকর্ষন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি চৌম্বকক্ষেত্রের মত আচরণ করে।
ঋগ্বেদ ৭.১৫.১৪ তে পৃথিবীকে স্ত্রাযসো বলা হয়েছে যার অর্থ লৌহপূর্ণ।
ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ১.২৩ এ বলা হয়েছে
তে বা স্ত্রযস্মযোম্ এবমাং পৃথিবীম্ স্ত্রকূর্বত্।
অর্থাৎ পৃথিবী লৌহযুক্ত,আকর্ষণময়।
কৌশিতকি ব্রাহ্মণ ৮.৮ ও একই কথা বলেছে,
"স্ত্রসুরাঃ স্ত্রযস্মযো পূরৈ স্ত্রস্মিত্ স্ত্রকূর্বত্।"
অর্থাৎ পৃথিবী লৌহ(ধাতব) পূর্ণ,আকর্ষনময়।"
পৃথিবীর ভ্রমনকাল
আমরা জানি সূর্যকে একবার আবর্তন করতে পৃথিবীর ৩৬৫.২৫ দিনসময় লাগে যাকে এক সৌরবছর বলে।এই এক সৌরবর্ষের সময়কাল প্রথম কে আবিস্কার করেন?হ্যঁ,তিনি হলেন বিখ্যাত আর্য বিজ্ঞানী আর্যভট্ট যিনি এর মান উল্লেখ করেন, ৩৬৫ দিন,৬ ঘন্টা,১২ মিনিট ৩০সেকেন্ড যা আধুনিক বিজ্ঞান নির্ধারিত সময় থেকে মাত্র ৩ মিনিট কম!
অপরদিকে নিজ অক্ষে একবার ঘুরে আসতে আধুনিক বিজ্ঞানমতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪.০৯১ সেকেন্ড আর আর্যভট্ট এই মান উল্লেখ করেছিলেন ২৩ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪.১সেকেন্ড,অর্থাৎ মাত্র .০৯ সেকেন্ড এর ব্যবধান!
অপূর্ব সমৃদ্ধ এই বৈদিক ঐতিহ্য নিজে জানুন,অপরকে জানতে সাহায্য করুন।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
তথ্যসুত্র-
1.The Holy Vedas by Pandit Satyakam Vidyalankar
2.Wikipedia

VEDA, The infallible word of GOD
0 comments

ভগবদগীতা নামক অমূল্য গ্রন্থটির প্রাচীনকালের অস্তিত্ব ও এর উত্‍পত্তি

প্রথমেই আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই "প্রস্থানত্রয়ী" শব্দটির সাথে।প্রস্থানত্রয়ী হল বেদান্ত দর্শনের মূল তিনটি গ্রন্থ-
১)উপনিষদ,এটি হল উপদেশ প্রস্থান।
২)ব্রহ্মসূত্র,যাকে বলা হয় ন্যয় প্রস্থান।
৩)ভগবদগীতা,এটিকে বলা হয় সাধনা প্রস্থান।
বেদান্তের চারটি শাখার ই প্রতিষ্ঠাতাগুরুগণ এই তিনটি গ্রন্থের ভাষ্য রচনা করে গিয়েছেন।তাঁরা হলেন যথাক্রমে-
জগতগুরু আদি শংকরাচার্য,যিনি ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন।তিনি অদ্বৈতবেদান্ত শাখার প্রতিষ্ঠাতা।শংকরাচার্যের গীতাভাষ্য হিন্দুধর্মীয় পন্ডিতমহলে অত্যন্ত বিখ্যাত।কথা হল ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম নেয়া এই মহান সাধক কিভাবে গীতাভাষ্য রচনা করলেন যদি ১৭৫৫ সালের আগে গীতা নামের কোন আলাদা বই ই না থাকে!!!
একইভাবে বিশিষ্টদ্বৈত বেদান্তের প্রতিষ্ঠানা রামানুজাচার্য ১০১৭ সালে জন্মগ্রহন করেন।তিনিও গীতাভাষ্য রচনা করেছিলেন।অর্থাত্‍ সেই সময়েও গীতা নামে আলাদা গ্রন্থ ছিল এবং খুব বিখ্যাত ই ছিল!
একইভাবে গীতার ভাষ্যকারী দ্বৈতঅদ্বৈত শাখার প্রতিষ্ঠাতা নিম্বাকাচার্য এবং দ্বৈতবেদান্তের প্রতিষ্ঠাতা মধ্বাচার্য যথাক্রমে ত্রয়োদশ শতাব্দী এবং ১১৯৯ সালে জন্মগ্রহন করেন।এছাড়া বিখ্যাত শৈব দার্শনিক অভিনবগুপ্ত দশম শতাব্দীতে, শ্রী শ্রী চৈতন্য ১৪৮৬ সালে এবং ধ্যনেশ্বর ১২৭৫ সালে তামিল ভাষায় গীতাভাষ্য রচনা করেন।এছাড়া প্রখ্যাত আরব পর্যটক আলবেরুনী ১০১৭ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর ভারত সফরকালে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থের মধ্যে গীতার কথাও উল্লেখ করেন।অর্থাত্‍ এটা পরিস্কার যে পিনাকী বাবুর ১৭৫৫ সালে গীতা উদ্ভবের তত্ত্বটা নিতান্তই হাস্যকর।
গবেষকদের দৃষ্টিতে শ্রীমদভগবদগীতার আলাদা গ্রন্থ রুপে আবির্ভাবের সময়কাল
প্রফেসর Jeaneane Fowler এর মতে গীতার উত্‍পত্তি খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ সালে(২০০B.C),KK Nair এর অনুযায়ী তা ১৫০B.C তে,কাশী নাথ উপাধ্যায় এর মতে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ সালে এবং Eliot Deustch এর মতে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ সালের মধ্যে।প্রকৃতপক্ষে গীতার প্রথম ইংরেজী অনুবাদ করেন চার্লস উইলকিন্স ১৭৯৫ সালে।সেটা গীতার প্রথম ইংরেজী অনুবাদ,প্রথম গীতা নয়।
গীতার একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে-
"ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে"
অর্থাত্‍ জ্ঞানের মত পবিত্র এই সংসারে আর কিছু নেই।তাই পিনাকী বাবুর মত অকালকুষ্মান্ডদের প্রতি আহ্বান,জ্ঞানের পেছনে ছুটুন,সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে নয়।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
‪#‎অগ্নিবীর‬
0 comments

মন্ত্র দ্রষ্টা নাকি মন্ত্র স্রষ্টা

আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বেদ। এই বেদের উৎপত্তি স্বয়ং ঈশ্বর হতে। সনাতন ধারা বিরোধীদের দাবি বেদ নাকি মানব রচিত! এসব বদ্ধমনাদের দাবি বেদ মন্ত্রের শুরুতে বা সূক্তের শুরুতে যে ঋষিদের নাম লেখা তাঁরাই নাকি সেসব মন্ত্রের লেখক। চলুন দেখে নিই তাদের দাবি কতটুকু সত্য।
প্রথম প্রশ্ন দাড়ায়, ঋষি কে?
বেদের সুবিখ্যাত ব্যাখ্যা যাস্কাচার্যকৃত নিরুক্তে লেখা হয়েছে,
ঋষয়ো মন্ত্রদ্রষ্টারঃ। ঋষির্দর্শনাৎ স্তোমান্ দদর্শেত্যৌপমন্যয়বঃ।
তদ্ য়দেনাংস্তপস্যমানান্ ব্রহ্ম স্বয়ংভ্বভ্যানর্ষৎ
তদৃষীণাম্ ঋষিত্বমিতি বিজ্ঞায়তে। নিরুক্ত ২.১১
অর্থাৎ ঋষি বেদমন্ত্রের দ্রষ্টা। ঔপমন্যব আচার্যও একইভাবে বলেন বেদের স্তুতি বা মন্ত্রসমূহের বাস্তবিক অর্থের সাক্ষাৎকারকেই ঋষি বলা হয়। তাঁরাই ঋষি হন যারা স্বয়ম্ভু ঈশ্বরের নিত্য জ্ঞান বেদের অর্থ তপস্যার মাধ্যমে জানতে পারেন। যদি বেদ মন্ত্রের রহস্য সহিত অর্থের দর্শন হয় তবেই ঋষিত্ব লাভ হয়।
ঔপমন্যব আচার্যের উক্ত মতের প্রতিফলন পাওয়া যায় তৈত্তিরীয় আরণ্যকের ২.৯.১ এ-
“অজাত্ হ বৈ পৃশ্নীংস্তপস্যমানান্ ব্রহ্ম স্বয়ম্ভ্বভ্যানর্ষত্ ত ঋষয়োঅভবন্ তদৃষীণামৃষিত্বম্”
শতপথ ব্রাহ্মণের ৬.১.১.১ এ বলা হয়েছে,
তে য়ত্ পুরাস্মাত্ সর্বস্মাদিদমিচ্ছন্তঃ শ্রমেণ তপসারিষংস্তস্মাদৃষয়ঃ।। অর্থাৎ, যে তপস্বীর, তপ বা ধ্যানের মাধ্যমে স্বয়ম্ভুর নিত্যবেদের অর্থজ্ঞান হয় তাঁকে ঋষি বলা হয়।
একই কথা ব্যক্ত হয়েছে তৈত্তিরীয় সংহিতা, ঐতরেয় ব্রাহ্মণ, কাণ্ব সংহিতা, শতপথ ব্রাহ্মণ এবং সর্বানুক্রমণীর মত প্রাচীন গ্রন্থে।
ঋষিগণ যে মন্ত্র স্রষ্টা নন সে বিষয়ে কিছু আলোচনা-
১) এক মন্ত্রের একাধিক ঋষি
যদি মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি যদি মন্ত্রকর্তা হত তবে একটি মন্ত্রের কেবল একজন ঋষিই থাকত। কিন্তু সর্বানুক্রমণী ও আর্ষানুক্রমণীর মতে বেদের বিভিন্ন সূক্তের অসংখ্য মন্ত্রের একাধিক ঋষি রয়েছে। যেমন: ঋগবেদ ৫/২, ৭/১০১, ৭/১০২, ৮/২৯, ৮/৯২, ৮/৯৪, ৯/৫, ১/১০০, ৫/২৭, ৮/৬৭, ৯/১৬, ৯/৬৬
আরো বলা হয়েছে, কেবল গায়ত্রী মন্ত্রের ১০০০ ঋষি রয়েছেন। এর মানে কি দাড়ায় ১০০০জন লোক মিলে ২৪ অক্ষরের ক্ষুদ্র বাক্য রচনা করেছে? এমনকি ঋগবেদের ৮ম মণ্ডলের ৩৪ নং সূক্তের ১৬-১৮ মাত্র তিনটি মন্ত্রের ঋষি ১০০০ জন! এর মানে কি ১০০০জন মিলে এই তিনটি মন্ত্র রচনা করেছে? ঋকবেদ ৩.২৩ এ দুজন ঋষি দেবশ্রবা ও দেবরাত। এই দুজনেই ভরত ঋষির পুত্র। ঋকবেদ ৫.২৪ এ চারজন ঋষি বন্ধু, সুবন্ধু, শ্রুতবন্ধু, বিপ্রবন্ধু। ঋকবেদ ৯.৬৬ এ একশজন ঋষি আছেন, অথচ এখানে মন্ত্র আছে ৩০টি।
২) একই মন্ত্রের ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ঋষি
এমন অসংখ্য মন্ত্র আছে যে, একই মন্ত্র একস্থানে এক ঋষি অপর স্থানে অন্য ঋষির নাম লেখা। যেমন ঋকবেদের ১.২৩.২১-২৩ মন্ত্রের ঋষি মেধাতিথি কাণ্ব, এই একই মন্ত্র ঋকবেদ ১০.৯.৭-৯ এ আছে কিন্তু এই মন্ত্রের ঋষি অম্বরিষ। এই ভাবেই “অগ্নে নয় সুপথা....” মন্ত্রের ঋষি যজুর্বেদ ৫.৩৬ এ অগস্ত, যজুর্বেদ ৭.৪৩ এ অঙ্গিরস এবং যজুর্বেদ ৪০.১৬ এ দীর্ঘতমা। এমন আরো প্রমাণ আছে,
যেমন:
ঋগবেদ ১.২৩.১৬-১৮ এবং অথর্ববেদ ১.৪.১-৩
ঋগবেদ ১০.৯.১-৭ এবং অথর্ববেদ ১.৫.১-৪ ও ১.৬.১-৩
ঋগবেদ ১০.১৫২.১ এবং অথর্ববেদ ১.২০.৪
ঋগ ১০.১৫২.২-৫ এবং অথর্ব ১.২১.১-৪
ঋগ ১০.১৬৩.১,২,৪ এবং অথর্ব ২.৩৩.১,২,৫
অথর্ব ৪.১৫.১৩ এবং অথর্ব ৭.১০৩.১
ঋগ ১.২২.১৯ এবং যজু ১৩.৩৩
ঋগ ১.১১৫.১ এবং যজু ১৩.৪৬
ঋগ ১.১৩.১৯ এবং ঋগ ৫.৫.৮
ঋগ ৪.৪৮.৩ এবং যজু ১৭.১৯
এই সমস্ত জোড়াগুলোর মন্ত্র এক হলেও ঋষি ভিন্ন।
এটি একটি ছোট উদাহরণ মাত্র। এরকম অসংখ্য প্রমাণ আপনি বেদের মাঝে খুঁজে পাবেন। অর্থাৎ বোঝা যায় ঋষিগণ মন্ত্র লিখেননি। তাঁরা কেবল মন্ত্রের অর্থ দ্রষ্টা বা জ্ঞাতা।
৩) ঋষির জন্মের পূর্বেই মন্ত্রের বিদ্যমানতা
যদি আমরা ধরে নেই ঋষিগণই মন্ত্র রচনা করেছেন, তাহলে এটা কি সম্ভব ঐ ঋষির পূর্বেই তাঁর সৃষ্ট মন্ত্রের বিদ্যমান থাকা? মানে পিতার জন্মের আগেই পুত্রের জন্ম!!!
এবার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাক:
ঋগবেদের ১ম মণ্ডলের ২৪নং সূক্তের দ্রষ্টা ঋষি শূনঃশেপ, যা সর্বানুক্রমণীকাতেও উল্লেখিত আছে। এই শূনঃশেপ হচ্ছেন ঋষি অজীগর্তের পুত্র। আমরা যদি ঐতরেয় ব্রাহ্মণের ৩৩.৩-৪ লক্ষ্য করি তবে আমরা দেখতে পাই শূনঃশেপ যজ্ঞের সময় এই মন্ত্র দ্বারা প্রার্থনা করছিল। আবার যদি বররুচির নিরুক্ত সমুচ্যয় পড়ি তবে দেখতে পাই এর আগে ঋষি অজীগর্ত এই মন্ত্র দ্বারা প্রার্থনা করেছিল। যদি শূনঃশেপ মন্ত্রসমূহের রচয়িতা হত তবে তাঁর পিতা কি করে একই মন্ত্র দ্বারা প্রার্থনা করল? এ থেকে এটিই বোঝা যায় যে, ঋষিগণ মন্ত্রের স্রষ্টা নন বরং দ্রষ্টা বা বিশেষজ্ঞ।
ঋগবেদের ৩য় মণ্ডলের ২২নং সূক্তের ঋষি বিশ্বামিত্র। কিন্তু সর্বানুক্রমণী ৩.২২ এবং আর্ষানুক্রমণী ৩.৪ থেকে জানতে পারি এই মন্ত্রগুলো এর আগেই তাঁর পিতা গাথি ব্যবহার করেছেন।
ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৫.১৪ ও তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.১.৩ এ আমরা দেখতে পাই, মনু তাঁর পুত্র নাভানেদিষ্টকে ঋগবেদের ১০.৬১-৬২ এর মন্ত্রসমূহ প্রচার করার আদেশ দেন। অর্থাৎ, নাভানেদিষ্টের আগেই তাঁর পিতা এই মন্ত্রসমূহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আর আমরা যদি লক্ষ্য করি তবে দেখতে পাই এই মন্ত্রসমূহের ঋষি নাভানেদিষ্ট।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটিই প্রতিপন্ন হয় যে, ঋষিগণ মন্ত্র স্রষ্টা নয়, তাঁরা উক্ত মন্ত্রের দ্রষ্টা বা বিশেষজ্ঞ।
ওঁ শান্তিঃ! শান্তিঃ! শান্তিঃ!
VEDA, The infallible word of GOD
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger