সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বুদ্ধ ও বৈদিক দর্শন


১.বৌদ্ধ দর্শনের কেন্দ্রীয় একটি ধারা হল মহত্‍ চারটি সত্য যেগুলোকে পুরো বৌদ্ধধর্মের কাঠামো ধরা হয়।এই চারটি সত্য দুঃখের প্রকৃতি,কারন,দুঃখ বিনাশের উপায় ও দুঃখ বিনাশের পথ ব্যখ্যা করে।
অপরদিকে প্রখ্যাত বৈদিক ন্যায় দর্শনের জনক মহর্ষি গৌতমের(গৌতম বুদ্ধ নয়) ন্যয়সূত্রের প্রথম অধ্যয়ের দ্বিতীয় শ্লোকে বলা হয়েছে-
"দুঃখ,জন্ম,কর্ম,দোষ ও ভ্রান্তি,এই পাঁচটিকে বিপরীত ভাবে স্থাপন করলে প্রকৃত চিত্র দাড়ায়।ভ্রান্তির কারনেই দোষ হয়,দোষের কারনেই পাপকর্ম,পাপকর্মের ফলে জন্ম এবং জন্মের কারনে দুঃখ যেমন লোভ,শঠতা,হিংসা জন্মে।যেখানেই জন্ম সেখানেই দুঃখ।যখন 'প্রকৃত জ্ঞান' জন্মে তখন ভ্রান্তি দূর হয়,ভ্রান্তি দূর হলে দোষকর্ম দূর হয় আর যখন কোন দোষকর্ম থাকেনা তখন আর জন্ম হয়না,এটাই দুঃখ বিনাশের পথ।"
(ন্যয় সূত্র ১.২)
অর্থাত্‍ বৈদিক দর্শন ও বুদ্ধ দর্শন একেবারে দর্পনে ব্যক্তির প্রতিফলনের মত এক!
২.জন্মান্তরবাদ বৈদিক ধর্মও বুদ্ধ দর্শনের মৌলিক বিশ্বাস।
৩.বৌদ্ধদের পঞ্চনির্দেশ যোগদর্শন ১.২.৩ এর অনুরুপ।
৪.বৌদ্ধদের বিখ্যাত মন্ত্র ওঁ মনি পদ্মে হুম শুরু হয় বৈদিক ধর্মের সর্বোচ্চ প্রতীক ওঁ দিয়ে।
সর্বোপরি বৌদ্ধ ধর্মকে ধর্ম না বলে একটি বৈদিক দর্শন বলাই যুক্তিযুক্ত।
মহাত্মা গৌতম বুদ্ধের শিক্ষায় বেদ

বুদ্ধ দর্শনকে প্রায়ই বেদবিরুদ্ধ নাস্তিক মতবাদ বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে বুদ্ধ দর্শনের অসংখ্য স্কুল এবং মার্গ বা উপদল তৈরী হয়েছে। আমরা যদি গৌতম বুদ্ধের প্রকৃত শিক্ষা পর্যালোচনা করি তাহলে আমরা বুঝতে পারব তিনি যতটা পেরেছেন শুধমাত্র বেদেরই জ্ঞান এবং বাণী প্রচার করেছেন।
১.বুদ্ধ দর্শনের শব্দভান্ডার (Vocabulary of Buddhism)
বুদ্ধ শব্দটি এসেছে মহাভারত শান্তিপর্ব ১৯৩/৬ থেকে।এর অর্থ ”বুদ্ধিমান”
বোধিস্বত্বা (Bodhisatva) শব্দটি শ্রীকৃষ্ণর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল শিশুপাল বধ ১৫/৫৮ এ এবং এর ভাষ্যকার বল্লভদেব দ্বারা।
ভিক্ষু শব্দটি মহাভারতের শান্তিপর্ব ৩২৫/২৪ ও গৌতম ধর্মসুত্রের ১৫/৫৮ এবং ৩/২ এর অনেক ঋষিদের সূচিত করে।
শ্রামান (Shraman) শব্দটি এসেছে বৃহদাণ্যক উপনিষদ এবং গৌতম ধর্মসূত্র থেকে।
নির্বান (Nirvana) শব্দটি এসেছে দেবাল ধর্মসূত্র থেকে।
২. জনপ্রিয় বুদ্ধ জপ মন্ত্র ওম মানি পদ্মে হাম (Om Mani Padme Hum) ঘোষনা
করে ওম নামের মহিমা।

পবিত্র বেদ সম্পর্কে মহাত্মা গৌতম বুদ্ধের কিছু বাণী-
Sutta Nipat 192
"বিদ্যা চ বেদেহী সমীচ ধামাম ন উচ্চবাচম গচ্ছতি"
-"সাধারন লোকেরা ইন্দ্রিয়ার্থে নিবদ্ধ থাকেকিন্তু যারা বেদজ্ঞানীতারা ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত তারা এর শিকার হয়না"
Sutta Nipat 503
"য় বেদেজ্ঞ জ্ঞানারাত সতিম..."
"একজন লোকের জ্ঞান,স্থিরতা প্রভৃতি অর্জনের জন্য একভন বেদজ্ঞ এর সহচর্য লাভ করা উচিত"
Sutta Nipat 1509
"য়ম ব্রক্ষনাম বেদজ্ঞম অভিজন্য অকিন্চনম..."
-"একজন বেদজ্ঞানী জাগতিক সকল কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করেন"
Sutta Nipat 1060
"বিদ্যা চ স বেদজ্ঞ চারো ইধা ভবভে সংযম ইমাম বিশ্বমা"
-"একজন বেদজ্ঞানী জাগতিক সুখ ও সম্পত্তির প্রতি আসক্তি ত্যগ করতে সক্ষম হন"
Sutta Nipat 846
"ন বেদেজ্ঞ সিথিয়া ন মুত্ত স মানমতি নাহি তনমায়োসো"
-"বেদজ্ঞ এর অহংকারমোহ দুর হয়,তিনি কোন প্রকার লোকপ্রিয়তায় আসক্ত হননা এবং কোন প্রকার বিভ্রান্তির স্বীকার হননা"
Sutta Nipat 458
"য়দন্তজ বেদজ্ঞ য়ন্জকলে য়শবতি লভে তরস ইজেতি ব্রম"
-"একজন বেদজ্ঞের অনুগ্রহ পেলে সফলতা নিশ্চিত"
Brahmana Dhamika suta 11/7
"বেদ স্বর্গীয় এবং প্রকৃত ব্রাক্ষনরা বেদ অনুসরন করত,তারা লোভ ও কাম এর উর্দ্ধে ছিল,তারা বিশুদ্ধ জীবনযাপন করত,বেদপাঠ ও তা প্রচারে নিয়োজিত থাকত,সকল প্রকার প্রানীহত্যা থেকে বিরত থাকত।পরবর্তীতে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ প্রচার করে যে বেদ প্রানীহত্যার অনুমোদন দেয়।"
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

VEDA, The infallible word of GOD
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger