সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

মহাভারত তথা ভারত নামের তাত্‍পর্য বা উত্‍স কি?

"ভারত" শব্দটির উত্‍স খুঁজতে যাবার আগে আমরা দেখে নেই শব্দটির আসলে অর্থ কি।
ভারত শব্দটি প্রথম পাওয়া যায় ঋগ্বেদে,তবে না,সেটি কোন দেশের নাম হিসেবে নয়।সংস্কৃতে ভারত শব্দটির অর্থ The cherished অর্থাত্‍ যাকে ভালোবাসা হয়/শ্রদ্ধা করা হয়/যত্ন করা হয়।যেমন ঋগ্বেদে আগুনের একটি নাম ভারত কেননা আগুনকে যত্ন করে জ্বালিয়ে রাখতে হয়,নাহলে তা নিভে যায়।
মহর্ষি বিশ্বামিত্রের কন্যার নাম ছিল শকুন্তলা যিনি বর্তমান আফগানিস্তানের কান্দাহার এবং এবং পাকিস্তানের গান্ধার উপত্যকা থেকে বিন্ধ্য পর্বত পর্যন্ত এবং বর্তমান দিনের পাকিস্তান(সিন্ধু) থেকে বর্তমান দিনের বাংলাদেশ(বঙ্গের) রাজা দুষ্মন্তকে বিয়ে করেন।
রাজা দুষ্মন্ত ও বিশ্বামিত্র কন্যা শকুন্তলার একমাত্র পুত্র সন্তানের নাম ছিল 'সর্বদমন'।এই সর্বদমন যখন রাজা হন তখন তিনি অত্যন্ত বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।সকলেই তাকে অতি শ্রদ্ধা করতেন।তাই তখন থেকে ভালোবেসে জনগন তার নাম দেয় 'ভরত' বা সম্মানিত/যাকে সকলে ভালোবাসে।এই সম্বন্ধে মহাভারতের আদি পর্বে বলা হয়েছে,
"হে পুরুর জাতি সকলে রানী শকুন্তলার এই মহত আত্মা সন্তানের গৌরবগাঁথা গাও কেননা সবাই তাকে শ্রদ্ধা করে,তাই তাঁর নাম হোক ভরত(সম্মানিত)।"
উল্লেখ্য যে তাঁর পিতা রাজা দুষ্মন্ত চন্দ্রবংশীয় পুরু নামক ক্ষত্রিয় গোত্রের লোক ছিলেন।
এই রাজা ভরত তার সময়ের পৃথিবীর পুরো অংশ জয় করেন এবং সুমেরু পর্বতের উপর তার পতাকা স্থাপন করতে যান এবং গিয়ে দেখেন যে তার পূর্বে যেসব রাজারা পৃথিবী জয় করেছিলেন তাদের পতাকাও সেখানে আছে।তখন তিনি বুঝতে পারেন যে এই রাজ্য জয়ের নেশা কতটা অগুরুত্বপূর্ন এবং এরপর তিনি সন্ন্যাস গ্রহন করেন এবং পরবর্তীতে নির্বান লাভ করেন।
তাঁর অতি নিষ্ঠাপূর্ন এবং দক্ষ রাজ্যপরিচালনার কারনে তাঁকে "চক্রবর্তী" উপাধিতে ভূষিত করা হয় যার অর্থ হল "সম্রাট!"
বিষ্ণু পুরানে বলা হয়েছে,
"রাজা ভরতের রাজ্যকে তাঁর নাম অনুসারে বলা হয় ভারত বর্ষ।"
(বিষ্ণু পুরান ২.৩.১)
আর এই ভারতবর্ষের সুবিশাল ইতিহাসকে এজন্যই 'মহা'ভারত নামে অভিহিত করা হয়।
অনেকেই জানতে চাইতে পারেন রাজা ভরতের শাসনামল কখন ছিল?
রাজা যযাতির দুই পুত্র,যদু আর পুরু।যদু থেকে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের যদুবংশের সৃষ্টি আর রাজা পুরুর ১৬ তম প্রজন্ম হচ্ছেন রাজা ভরত।তাঁর আরো চার প্রজন্মের পরের রাজা হস্তিনা এর পুত্র অজামিধ এর প্রৌপোত্র হলেন রাজা কুরু যার প্রায় ১৪ প্রজন্মের পরের রাজা বিচিত্রবীর্য।এই বিচিত্রবীর্যের ই দুই পুত্র ছিলেন ধৃতরাষ্ট্র ও পান্ডু।তাহলে বুঝুন মহাভারতের কত বছর আগে রাজত্ব করেছিলেন রাজা ভরত!
(ছবিতে বাল্যবস্থায় রাজা ভরতের একটি পোট্রেট দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন পশুর সাথে,ছোট বেলা থেকেই বিপদজনক প্রানীদের পর্যন্ত পোষ মানাতে পারতেন বলেই তাঁর নাম দেয়া হয় সর্বদমন।)
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger