সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

নিত্যকর্ম

কিভাবে কাটাবেন সারা দিন ?

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবার চেষ্টা করুন । হিন্দু শাস্ত্র মতে ব্রাহ্ম মুহূর্তে শয্যা ত্যাগ করা নিয়ম কিন্তু আজকের ব্যস্ততার যুগে সেটা সম্ভব নয়। তাই চেষ্টা করুন সকাল ৫-৬ টার মধ্যে শয্যা ত্যাগ করতে । ঘুম থেকে উঠে প্রথমে গুরুদেব ও ইষ্টদেবতাকে প্রনাম করুন । যাহাদের দীক্ষা হয় নি, তারা ইষ্টদবেতাকে প্রনাম করুন ।

এরপর করজোড়ে মা বসুমতীকে প্রনাম করুন । কারন বসুমতীর বুকে আমরা চরণ দিয়ে হেটেচলে বেড়াই । তিনি সর্বংসহা – সব সহ্য করেন । বসুমতীকে প্রনাম করে পুরুষেরা ডান পা আগে ফেলুন পরে বাম পা। মহিলারা বাম পা আগে ফেলুন পরে ডান পা । বিছানায় বসে বেড টি খাওয়া বর্জন করুন ।

এরপর দাঁত ব্রাশ করে আধাঘণ্টা যোগা করুন । যোগা করতে অসমর্থ হলে বাড়ীর উঠোনে, ছাদে বা নিকটে  কোনো পার্ক বা মাঠে আধঘণ্টা জোরে জোরে হাটুন । বাড়ীতে বাচ্চা থাকলে তাদেরকেউ এই অভ্যাস শেখান ।

এরপর বাড়ী ফিরে শৌচাদি ও স্নান সাড়ুন । স্নান সেড়ে পূজো করুন । দেখবেন মারোয়ারী, বিহারী, জাঠ, গুজরাটি এদের মধ্যে এই সু অভ্যাস আছে । তারা সকাল সকাল স্নান সেড়ে সকলে একসাথে ভগবানের আরতি পূজো করে । তাই আপনিও সকাল সকাল পূজোর অভ্যাস করুন । ঘরে ধুপধুনো দিন সকালে । ধূপের গন্ধে সকল অশুভ প্রভাব কেটে যায় ।

স্নান সেড়ে পূজা না করতে পারলে তুলসী, বেল, বট, অশ্বত্থ , নিম বৃক্ষে জল দিন । এই গাছগুলি পবিত্র, এতে দেবতারা থাকেন । যারা দীক্ষিত তারা এইসময় গুরুপ্রদত্ত বীজ মন্ত্র জপ করুন । অদীক্ষিত ব্যাক্তি গণ হাতে তালি দিয়ে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করুন । এরপর সূর্য দেবতাকে প্রনাম ও জল অর্পণ করুন । কেউ কেউ আছেন বাড়ীর কাজকর্ম সেড়ে দুপুরে পূজা করেন। এটাও ঠিক।

যারা অফিস যাবেন তারা অফিসে যান, যারা গৃহে থাকবেন তারা সকাল ১২ টা থেকে ২ টার মধ্যে মধ্যাহ্ন ভোজোন সমাপ্ত করুন । ভোজোন গ্রহণ করার সময় অন্নের থালাকে “জয় মাতা অন্নপূর্ণা” বলে নমস্কার করে তারপর ভোজোন করুন । কত ভিখারী অন্ন পায় না, মনে করুন আপনি যা পেয়েছেন মা অন্নপূর্ণার দয়ায় । গ্রেগ্রাসে আর আকন্ঠ খাবেন না। শাস্ত্রে মানা আছে । যতটুকু তে পেট ভরে ততটাই খাবেন । খাওয়ার কিছু ভুক্তাবিশিষ্ট কুকুর, বিড়াল, পক্ষী দিগকে দিন ।

দুপুরে কেউ গৃহে আসলে তাকে অবশ্যই ভোজোন করাবেন । দ্বিপ্রহরে হিন্দুর বাড়ী থেকে কেউ অভুক্ত ফিরে গেলে সেই গৃহে অমঙ্গল হয় ।

দিবানিদ্রা হিন্দু ধর্মে পাপ। দুপুরে না ঘুমানোর চেষ্টা করুন । তবে অল্প শয়ন চলতে পারে ।

সন্ধ্যা  হলে সূর্য ডোবার পর আহার গ্রহণ হিন্দু ধর্মে পাপ। এই সময় ভোজোন করলে সে রাক্ষস হয় । সূর্য অস্ত যাবার পর চুল আঁচড়ানো , ভোজোন, শয়ন, মলিন বস্ত্র পরিধান ইত্যাদি হিন্দু ধর্মে পাপ । সন্ধ্যার সময় মহিলারা তুলসী প্রাঙ্গনে প্রদীপ দিন, সারা বাড়ী ঠাকুরঘরে ধূপধুনো দিন । একত্র হয়ে ধার্মিক গ্রন্থ পাঠ, কীর্তন , গুরু মন্ত্র জপ করুন । বাড়ীর বাচ্চাকাচ্চাদের শেখান । গুরুবারে সন্ধ্যা কালে অবশ্যই আল্পনা দিয়ে নৈবদ্য দিয়ে মা লক্ষ্মীর পূজো করুন ।

অফিস থেকে বাড়ীতে ফিরে পুরুষেরা পরিষ্কার বস্ত্রে ( লুঙ্গি বর্জন ) গুরু প্রদত্ত মন্ত্র জপ করুন । দীক্ষা না হলে ভগবানের নাম কীর্তন বা  ধার্মিক গ্রন্থ পাঠ করুন ।  লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় হিন্দু ধর্মে ধার্মিক কাজ করা বারন ।

রাতে রুটি খাওয়া অভ্যাস করুন । হিন্দু ধর্মে দিবসে অন্ন রাতে রুটি পরোটা খাওয়ার কথা বলা হয় । স্বল্প দুধ পান করুন রাতে খাওয়ার সাথে । সপ্তাহে কম করে হলেও দুদিন শাকাহারী নিরামিষ আহার খেতে অভ্যাস করুন । শাস্ত্র নিশিদ্ধ খাবার গ্রহণ করবেন না ।

রাত ১০-১১ টার মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস করুন । ঘুমাতে যাবার আগে ঈশ্বরকে প্রনাম করুন । শয়নের আগে যে বালিশ মাথায় দেন, সেই বালিশকে প্রনাম করুন । মাথায় দেওয়া বালিশে ভগবান নারায়ন অবস্থান করেন । সেই বালিশ কদাপি কোলে বা পায়ে দেবেন না ।

একাদশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা , বার ব্রততে উপবাস রাখুন । একদিন না খেলে আপনি মরে যাবেন না । ঐ সব তিথিতে ভগবানের ফল প্রসাদ, দুগ্ধ গ্রহণ করুন ।

বিধবা, সধবা,৫ বছর এর উপরের সবাই একাদশী, বারব্রত করতে পারেন । কেউ কেউ বলেন সধবা দের একাদশী করা মানা। এটা ভুল। ভগবানের সেবায় সধবা- বিধবা বলে কিছু হয় না। ঈশ্বরের ইচ্ছায় মানুষের জন্ম হয় আবার ঈশ্বরের ইচ্ছায় মানুষের আয়ু পূর্ণ হয় । হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রের ওপর আধারিত । যে ব্যাক্তি শাস্ত্র মানে না সে ইহলোক বা পরলোক কোথাও সুখে থাকেন না । অতএব ধর্মগ্রন্থের নির্দেশ মেনে চলুন ।

Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger