সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

পৃথিবী ও পবিত্র বেদ

পৃথিবী;আমাদের সকলের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল,পরম প্রিয় আবাসভূমি।আর এ কারনেই সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই এ গ্রহটিকে ঘিরে জল্পনা কল্পনার অন্ত নেই!
ক্ল্যসিকাল পিরিয়ড এর আগ পর্যন্ত গ্রীকরা পৃথিবীকে মনে করত সমতল একটি থালার মত,বিখ্যাত হোমার পৃথিবীর আকারকে তুলনা করেছেলেন বীর একিলিস এর ঢাল এর সাথে।মধ্যযুগে আরবদেশীয়গণ একে মনে করত এক ছড়ানো মাদুরের মত এবং আকাশকে কল্পনা করেছে পৃথিবীর ছাদের সাথে।পৌরানিক গল্পকারগণ পৃথিবীকে বসিয়েছেন কচ্ছপের উপর,জৈন-বৌদ্ধ সাহিত্যে একে ভাবা হয়েছে বিরাটাকার এক চ্যপ্টা চাকতির মত।আর এদের সকলেই এই ধারনা ই পোষন করত যে সৌরজগতের কেন্দ্রে পৃথিবী অবস্থিত আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই অন্যান্য গ্রহসমূহ ও সূর্য আবর্তিত হয়।
আজ আমরা দেখব পবিত্র বেদাদি শাস্ত্রে পৃথিবী সম্পর্কে সৃষ্টির শুরুতে কি ব্যক্ত করেছিল।
পরিমণ্ডল অ বা স্ত্রযং পৃথিবী লোকঃ।
(শতপথ ব্রাহ্মণ ৭.১.১.৩৭)
অর্থাত্ পৃথিবী দেখতে গোলাকার।
মণ্ডলো হ্যং লোকঃ
(কথক ব্রাহ্মণ)
এই পৃথিবী লোক গোলকাকার।
সৌরজগত ও পৃথিবীর পরিভ্রমণ

অহস্ত য়দপদি(য়দ-অপদি)বরধত খ শচীবিরবেদ্যানাম ।
সুষমপরি প্রদক্ষিনিত্ বিশ্যব্যে নি সিস্নাথা।।
(ঋগবেদ ১০.২২.১৪)
অনুবাদ- "পৃথিবীর নেই হস্ত বা পদ,তবুও তা গতিশীল।এর উপর অবস্থিত বস্তুসমূহ ও এটার সাথে গতিশীল।এটি সূর্যের চারদিকে ঘূর্নায়মান।"
এখানে,অহস্ত-হাতহীন, অপদ-পাহীন, খ-পৃথিবী, বরধত-গতিশীল, শুষুনাম পরি-উপরিস্থিত বস্তুসমূহ।
সবিতা যন্ত্রেহ পৃথিবী- মরামদক্ষম্ভলে(পৃথিবীম-অরামদ) সবিতাদ্যমধত(দ্যম অধ্যত)।
অশ্বমিবাদুক্ষদ( অশ্বম-ইব-অধুক্ষ ত) ধুনিম অন্তরীক্ষ মতুরতেবাধয় সবিতা সমুদ্রম।।
(ঋগবেদ ১০.১৪৯.১)
অনুবাদ- "সূর্য তার পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহকে তার আকর্ষনশক্তির সাহায্যে বেধে রেখেছে।এটার চারপাশে সেগুলো ঘূর্নায়মান ঠিক যেমন প্রশিক্ষক এর চারপাশে প্রশিক্ষনরত অশ্ব বলগা দিয়ে ঘোরে।"
পৃথিবীর চৌম্বকত্ব
আমরা সকলেই জানি পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বকের ন্যয়।এর ভূগর্ভস্থ বিপূল পরিমাণ ধাতব পদার্থের কারনে এটি প্রবল আকর্ষন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি চৌম্বকক্ষেত্রের মত আচরণ করে।
ঋগ্বেদ ৭.১৫.১৪ তে পৃথিবীকে স্ত্রাযসো বলা হয়েছে যার অর্থ লৌহপূর্ণ।
ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ১.২৩ এ বলা হয়েছে
তে বা স্ত্রযস্মযোম্ এবমাং পৃথিবীম্ স্ত্রকূর্বত্।
অর্থাৎ পৃথিবী লৌহযুক্ত,আকর্ষণময়।
কৌশিতকি ব্রাহ্মণ ৮.৮ ও একই কথা বলেছে,
"স্ত্রসুরাঃ স্ত্রযস্মযো পূরৈ স্ত্রস্মিত্ স্ত্রকূর্বত্।"
অর্থাৎ পৃথিবী লৌহ(ধাতব) পূর্ণ,আকর্ষনময়।"
পৃথিবীর ভ্রমনকাল
আমরা জানি সূর্যকে একবার আবর্তন করতে পৃথিবীর ৩৬৫.২৫ দিনসময় লাগে যাকে এক সৌরবছর বলে।এই এক সৌরবর্ষের সময়কাল প্রথম কে আবিস্কার করেন?হ্যঁ,তিনি হলেন বিখ্যাত আর্য বিজ্ঞানী আর্যভট্ট যিনি এর মান উল্লেখ করেন, ৩৬৫ দিন,৬ ঘন্টা,১২ মিনিট ৩০সেকেন্ড যা আধুনিক বিজ্ঞান নির্ধারিত সময় থেকে মাত্র ৩ মিনিট কম!
অপরদিকে নিজ অক্ষে একবার ঘুরে আসতে আধুনিক বিজ্ঞানমতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪.০৯১ সেকেন্ড আর আর্যভট্ট এই মান উল্লেখ করেছিলেন ২৩ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪.১সেকেন্ড,অর্থাৎ মাত্র .০৯ সেকেন্ড এর ব্যবধান!
অপূর্ব সমৃদ্ধ এই বৈদিক ঐতিহ্য নিজে জানুন,অপরকে জানতে সাহায্য করুন।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
তথ্যসুত্র-
1.The Holy Vedas by Pandit Satyakam Vidyalankar
2.Wikipedia

VEDA, The infallible word of GOD
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger