সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের প্রয়োজনীয়তা

সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের প্রয়োজনীয়তা 
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটি যেমন সত্যি, তেমনি সরকার প্রধানের ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক চেতনা সত্ত্বেও এ দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়ন অব্যাহতভাবে চলছে এটিও সত্যি। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশরতœ শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গণ্য করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংখ্যালঘুরা কেন সমাজের কাছ থেকে এত বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছে? নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রায় সব সমাজেই অধিকার বঞ্চিত। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সরকার এসব বঞ্চনার কথা স্বীকার করে বঞ্চনার কারণগুলো দূর করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। আবার কোনো কোনো দেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন স্বীকারই করা হয় না। সে সব স্থানে এ ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন ও বঞ্চনা নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সেখানে সরকার এগুলো দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের নাম আসে সর্বাগ্রে। ভারতে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন হলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এগুলো স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ জন্য সে দেশে আছে নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আমাদের বাংলাদেশেও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য আছে একটি পৃথক মন্ত্রণালয়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের জন্য আছে পৃথক পৃথক ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আছে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’। কিন্তু বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ নেই। এ জন্য বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এখন জরুরি প্র্রয়োজন।

ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে, “…to ensure a more focused approach towards issues relating to the notified minority communities namely Muslim, Christian, Buddhist, Sikhs, Parsis and Jain. The mandate of the Ministry includes formulation of the overall policy and planning, coordination, evaluation and review of the regulatory framework and development programmes for the benefit of the minority communities.” ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সে দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেশ কয়েকটি গ্রুপ ও কমিশন গঠন করেছে। এসব হচ্ছে, “Expert Groups on Diversity Index”, “Sachar Committee”, “Expert Group to examine & determine the structure and functions of an equal opportunity commission”, “Ranganath Misra Commission”। এসব গ্রুপ ও কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার বেশ কিছু কার্যক্রমও গ্রহণ করেছে। ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সে দেশের সংখ্যালঘুদের স্বার্থে।

১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে এ দেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও বিতাড়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর এই বিধ্বংসী প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আশা করা গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়ন তারই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশ পুনরায় পাস্তিানি স্টাইলের শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যায়। দীর্ঘকাল পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর এ ক্ষেত্রে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল এর একটি অন্যতম উদাহরণ। কিন্তু প্রতিনিয়ত যেভাবে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে এদের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে সেগুলো দেখাশোনার জন্য ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা একান্তভাবেই প্রয়োজন। বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ‘ইকোয়ালিটি রাইটস কমিশন’ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার, যা জাতিগোষ্ঠী, ধর্মীয় অথবা ভাষাগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অবিভাজ্য অংশ। শিশুদের অধিকার, নারীর অধিকার এবং শরণার্থীদের অধিকারের মতো সংখ্যালঘুদের অধিকার হচ্ছে একটি আইনগত কাঠামো যার দ্বারা সমাজের ভঙ্গুর, অসুবিধায় থাকা অথবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমতা অর্জন করতে পারে এবং নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। আর এ জন্য অর্থাৎ বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা অতীব জরুরি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সমগ্র জীবন বঞ্চিত বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। ধর্মীয় উপনিবেশ পাকিস্তানের আজ্ঞাবহ খুনিদের হাতে সপরিবারে নিহত হওয়ার ৩৮ বছর পরে এবং তাঁর ডাইরি লেখার ৫৯ বছর পরে তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ শিরোনামে প্রকাশিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ক্ষুদ্র একটি অংশ পাঠেও জানা যায় তিনি মানুষকে তাঁর ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে না দেখে মানুষ হিসেবেই দেখার কথা বলেছেন। ফরিদপুর জেলখানায় বন্দি মৃত্যুশয্যায় শায়িত চন্দ্র বোস-এর সঙ্গে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধু বলছেন, ‘চিন্তা করবেন না, আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ।’ (পৃষ্ঠা ১৯১)

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তারিখে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির’ কথা বলেছিলেন। ‘মানুষ’ বলতে বঙ্গবন্ধু এ দেশে বসবাসকারী মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্রভৃতি সব ধর্মাবলম্বী বাঙালি-অবাঙালি সবাইকেই বুঝিয়েছেন। তাঁর জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধু এ জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপও গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট বঙ্গবন্ধুকে তাঁর আরাধ্য কাজ সমাধা করতে দেয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এ দেশে পাকিস্তানি স্টাইলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটে। ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জান-মালের ওপর আঘাত নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়।

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কি থাকতে পারবে? এ দেশে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচারী আচরণ ও সা¤প্রদায়িকতার দুর্বল শিকার অহিংস চেতনায় উদ্বুদ্ধ হিন্দু জনগোষ্ঠীর ‘জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির’ অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। পাশাপাশি ‘পরিচিত’ অথচ ‘অশনাক্ত’ শক্তির ক্ষমতা ও সম্পদের অপ্রতিহত লোভ-লালসা চরিতার্থ করার প্রয়োজনে হিন্দু জনসংখ্যার ক্রমহ্রাসমান প্রবণতাকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত এ প্রশ্নটি সর্বনাশাও বটে। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচারী আচরণের’ আশঙ্কা করেছিলেন জেমস মিল এবং তাঁর পুত্র জন স্টুয়ার্ট মিল। Considerations on Representative Government শীর্ষক ধ্রæপদী কাজে জন স্টুয়ার্ট মিল ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচারকে’ প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। একটি হচ্ছে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক স্বৈরাচার’, অপরটি হচ্ছে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের সামাজিক স্বৈরাচার’। রাজনৈতিক স্বৈরাচারের ব্যাপারটি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল এবং বিরোধী দলের পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ামূলক আচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অপরপক্ষে জন স্টুয়ার্ট মিলের ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের সামাজিক স্বৈরাচার’-এর ধারণাটিতে আমরা বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের’ প্রতি ‘ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের’ স্বৈরাচারী আচরণের মিল খুঁজে পাই। যেখানে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ তাদের লোভ-লালসা চরিতার্থের নিমিত্তে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ‘সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল’, উন্নয়নের নামে বংশানুক্রমিকভাবে সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোনোরূপ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ, ট্যুরিস্ট রিসোর্ট নির্মাণের জন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহকে তাদের পৈতৃক ভিটা-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়েদের ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি, সংখ্যালঘুদের অব্যাহত হুমকির মধ্যে রাখা, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উপাসনালয়সমূহের পবিত্রতা নষ্ট প্রভৃতি কাজে লিপ্ত হয়। সার্বিকভাবে জন স্টুয়ার্ট মিল-এর ধারণাকৃত ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বৈরাচারের’ আগ্রাসী ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব খুবই অবহেলিত অথবা শূন্যের কোঠায় আছে।

এ দেশে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার যা সচরাচর ‘সংখ্যালঘুদের’ ওপর প্রয়োগ করা হয়ে থাকে সেগুলো চারটি প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা যায়। এগুলো হচ্ছে ১. আইনগত ও সাংবিধানিক বৈরিতা, ২. সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক প্রচারণা, ৩. সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ, ৪. ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী কর্র্তৃক প্রায়শ ধর্মীয় জঙ্গিবাদী তৎপরতা। ব্রুস মজলিসের মতে জন স্টুয়ার্ট মিল-এর একটি দৃঢ় ও অপরিবর্তনীয় অভিপ্রায় ছিল আর তা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচারকে বাধাগ্রস্ত করা ও ব্যর্থ করে দেয়া এবং সভ্য ও মার্জিত ব্যক্তিবর্গ, সমাজ এবং মানবতার ‘স্বার্থসমূহের’ সম্মান রক্ষা করা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য ক্ষতিকর আইন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা বাতিল, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার কর্তৃক দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন। এ জন্য দেশে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা জরুরি।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সফলতার ফলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতি ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা চিরকাল। পর্যবেক্ষকদের অভিমত হচ্ছে, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের গৃহীত নীতি-আদর্শ ও অবস্থান তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য সংখ্যালঘুদের কাছে, এটাই এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের সমর্থনের প্রধান কারণ।’ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করার অপরাধে ধর্মীয় সংখ্যালঘু অনেককে অকথ্য নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। ১৯৭৫, ১৯৯০, ১৯৯২, ২০০১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সাল এভাবে পঁচাত্তর পরবর্তী প্রায় প্রতি বছরেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছে। সাংবাদিক কুররাতুল-আইন-তাহমিনা ‘আমরা কি করছি?’ শিরোনামে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে যেয়ে বলেছেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জোট জিতেছিল। বলা হয়, সেই উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষজনের ওপর হামলা হয়েছিল, তারা পরাজিত আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে বলে ধরে নিয়ে। বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় উপদ্রুত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তখন শুনেছিলাম, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা পলাতক আর জাতীয় নেতাদের কেউ তাদের পাশে আসেননি।’ এই পরিস্থিতি প্রত্যেক নির্বাচনের সময় চলতে দেখা যায়। পাশাপাশি প্রতিদিনই প্রায় বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন বা আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। যাদের পরিচিত লোক আছে উপরের দিকে তারা দৌড়ঝাঁপ করে এর বিহিতের ব্যবস্থা করে। আর যাদের তা নেই তারা নীরবে দেশ ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু প্রতিনিয়ত এসব ঘটনা দেখভাল করার জন্য তথা সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ২৮-এর উপ-অনুচ্ছেদ (১) এ বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।, উপ-অনুচ্ছেদ নং (২) এ বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন।’ উপ-অনুচ্ছেদ নং (৩) এ বলা হয়েছে ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোনো বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোনো নাগরিককে কোনোরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।’ উপ-অনুচ্ছেদ নং (৪)-এ বলা হয়েছে, ‘নারী বা শিশুদের অনুক‚লে কিংবা নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।’ ২৮ অনুচ্ছেদ-এর ৪ নং উপ-অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে ‘বিশেষ বিধান প্রণয়নের’ কথা। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এই চেতনার বহিঃপ্রকাশ তথা একটি বাস্তবসম্মত উদাহরণ হিসেবে আমরা গণ্য করতে পারি। তবে ‘নারী ও শিশু’ ছাড়াও ‘নাগরিকদের’ একটি ‘অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়নের’ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে অনেক আগে থেকেই। এই বিশেষ বিষয়টি হচ্ছে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা। কল্যাণকামী বাংলাদেশের সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করবেন বিবেকবান মানুষরা সেই আশাই করে।

অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী : চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
0 comments

পূর্বে হিন্দু মন্দির ছিল তাজমহল ( প্রমানিক ভিডিওসহ )

যুগ যুগ ধরে যাকে আমরা চিরন্তন প্রেমের সৌধ বলি, সেই তাজমহল নাকি আদতে একটি হিন্দু মন্দির। যার নাম ছিল তেজো মহালয়। এমনই খবর প্রকাশ করেছে একটি ভারতীয় গণমাধ্যম।

জানা গেছে, পিএন ওক তাঁর বই 'তাজমহলে' এমনই দাবি করেছেন l আমরা জানিনা, কতটা সত্যি ওকের এই দাবি। তবে আজ যে ভিডিওটি আপনাদের দেখাবো, তাতে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যাতে প্রমাণিত হয় তাজমহল আগে কী ছিল সেটার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। ওক-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজা জয় সিংয়ের কাছ থেকে ওই তেজো মহালয় নিয়েছিলেন শাহজাহান। তার পরই নতুন করে তৈরি করা হয় আরও একটি মহল। পরবর্তীকালে যার নাম হয় তাজমহল। পাশাপাশি, তাজমহলের গায়ে এমন কিছু নকশা রয়েছে, যা একমাত্র কোনও হিন্দু মন্দিরেই দেখা যায়।

এটা জানা গেছে, মমতাজের সমাধির ওপরই গড়ে উঠেছে তাজমহল। কিন্তু, ওক-এর তথ্য অনুযায়ী, মমতাজের সমাধির ওপর তাজমহল গড়ে ওঠেনি। তাজমহলের বাইরে রয়েছে মমতাজের সমাধি। আরও তথ্য জানতে হলে, দেখুন ভিডিওটি..।
সুত্রঃ কালের কণ্ঠ
0 comments

দিব্যজ্ঞান নয় কাণ্ডজ্ঞান চাই

হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে অনন্ত ব্রহ্মজ্ঞ ঋষি, মহাঋষি আবির্ভূত হয়েছেন। তাদের অত্যাশ্চর্য প্রজ্ঞা পৃথিবীকে করে তুলেছে সমৃদ্ধ ও অনাবদ্য। এক ঈশ্বরবাদ, দ্বৈতবাদ, অদ্বৈতবাদ, বস্তুবাদসহ অসংখ্য মতবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হল এত ব্রহ্মজ্ঞান ও দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন ঋষি-মহাঋষি থাকতে কেন আজ হিন্দুদের এত করুন পরিণতি? কেন শত শত বছর ধরে আমরা অত্যাচারিত, নিপীড়িত হয়ে আসছি? কেন এত ঋষি-মহাঋষি, সাধুসন্ত,ব্ রহ্মজ্ঞানী, ত্রিকালজ্ঞ, সর্বজ্ঞানী, গুরু মহারাজদের জ্ঞান সাধনা আমাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে?

কারণ এসব সাধুসন্ত, গুরু মহারাজদের দিব্যজ্ঞান ছিল প্রখর সুউচ্চ। কিন্তু তারা তাদের শিষ্য পরম্পরায় একটি বিশেষ ধরণের জ্ঞানেরর সঞ্চার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা হলো কাণ্ডজ্ঞান। যা কিনা জগতের রূড় বাস্তবতার মুখোমুখি করে পৃথিবীতে মানুষের মাথা উঁচু করে বাচবার মত জ্ঞান ও শক্তি জোগায়।

আজকাল হিন্দুদের মধ্যে দেখছি দুইটি শব্দ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আর তা হল মানবতা ও সর্বধর্ম সমন্বয়। মানবতার জোয়ারে গা ভাসাতে ভাসাতে যে এদের সব কিছু ভেসে যাচ্ছে সেদিকে এদের খেয়ালই নেই।

একজন মুসলিমকে যদি প্রশ্ন করা হয় তোমার ধর্ম কি? সে সাথে সাথে উত্তর দেবে ইসলাম। একজন খৃষ্টান বা বৌদ্ধকে প্রশ্ন করলে তারাও যথারীতি নিজেকে খৃষ্টান বা বৌদ্ধ বলে পরিচয় দেবে। কিন্তু একজন হিন্দুকে যদি বলা হয় তোমার ধর্ম কি? সে উত্তর দেবে তার ধর্ম মানবতা। নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দিতে এদের লজ্জা হয়। কারণ এরা দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে। হিন্দুদের সম্পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে কোন ধারণায় এদের নেই।

পৃথিবীতে কেউ সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেনা। শুধু হিন্দুরা বলে। কিন্তু সেটা বলতে গেলেও যে আগে ভূমির দরকার, হিন্দু জনসংখ্যার দরকার এই কাণ্ডজ্ঞানটুকুও এদের নেই । বাস্তবতাবর্জিত দিব্যভাব, দূরিয় ভাব, দাঁড়িয়ে গেছে ভণ্ডামি,মিথ্যাচার আর আত্মপ্রবঞ্চনায়। এই ভাবের ঘরের লুকোচুরি গোটা হিন্দু জাতটাকে মেরুদণ্ডহীন, আত্মরক্ষায় অসমর্থ করে দিয়েছে। তাই অতীতে, বর্তমানে শুধু দেখি হিন্দু মার খায়, কাঁদে, পালায়, ধর্মান্তরিত হয়। একটি জাতের যদি আত্মরক্ষার শক্তিই না থাকে তার উচ্চ দর্শন সহস্র মহাপুরুষ থেকেই বা কি লাভ? এই রকম দুর্বল জাতকে কেউ শ্রদ্ধা করেনা, করুণা করে। এখন হিন্দুদের কেউ করুণাও করেনা, শিকার বলে মনে করে। সব শিকারীর লক্ষ্য এখন হিন্দু সমাজ।

আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ননীচোরা, বস্ত্রহরণকারী, রাধারমন, বংশীবাদক প্রেমিক করে রেখেছি। অথচ তিনি যে সুদর্শনচক্র হাতে সমগ্র পৃথিবীতে ধর্মের স্হাপনা করেছিলেন সে কথাটা ভুলেই গেছি।

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আামাদের হরিনাম করতে বললেন। আমরা হরিনামে মেতে গেলাম। তিনি বললেন "সঙ্ঘ শক্তি কলৌঃ যুগে।" কলি যুগে সঙ্ঘ শক্তি ছাড়া বাঁচা যাবে না। সে কথাটা সযত্নে বাদ দিলাম।

আমাদের এমন কোন দেবতা নেই যার হাতে অস্ত্র নেই। অথচ হিন্দু বাড়িতে ঘরভর্তি ঠাকুর দেবতা আছে,কিন্তু আত্মরক্ষার জন্য একগোছা লাঠি নেই।

এভাবে চললে কত দিনই বা সময় লাগবে হিন্দু বিলুপ্ত হওয়ার? তাই এখনো সময় আছে আসুন সংগঠিত হই, ঐক্যবদ্ধ হই। নতুবা আফসোস করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।

Courtesy by: ঘুমন্ত সনাতনের উত্থান
0 comments

পবিত্র বেদ পরিবর্তনতো দূরের কথা একটা শব্দ পর্যন্ত এদিক ওদিক হয়নি


কিছু কিছু মানুষ, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় ও জ্ঞানপাপীরা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য অপপ্রচার করে থাকে যে বেদের অনেক অংশ হারিয়ে গেছে বা পরিবর্তীত হয়ে গেছে। এবং এই অপ্রচার করেই তারা নিজেদের কথিত সৃষ্টিকর্তা প্রাপ্ত গ্রন্থ হিসেবে একখানা গ্রন্থের প্রচার করে থাকে। এই অপ্রচারের মাধ্যমে বেদজ্ঞানহীন সহজ সরল মানুষদের ধোঁকা দিয়ে বা বোকা বানিয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের ভুক্ত করাই হচ্ছে এর আসল ও একমাত্র উদ্দেশ্য।কিন্তু আসল সত্যটা হচ্ছে পবিত্র বেদ পরিবর্তনতো দূরের কথা একটা শব্দ পর্যন্ত এদিক ওদিক হয়নি। নিশ্চয়ই খুবই কৌতূহল বোধ করেছেন যে কিভাবে এটা সম্ভব।

আসুন তাহলে জেনে নেই কিভাবে বেদ এসেছিল,এর সময়কাল কি,কে বা কারে এটি পান এবং কিভাবে এর প্রচার ও সংরক্ষন হয়। বেদ মানবসৃষ্টির শুরুতে মানবকল্যানে ঈশ্বর কর্তৃক প্রদত্ত।আমরা জানি যে সৃষ্টিচক্র মানবন্তর এ বিভক্ত।আমরা বর্তমানে ষষ্ঠ মানবন্তরে আছি।বর্তমান মানবন্তরের সপ্তঋষিরা যাদের মাধ্যমে ধ্যানযোগে মানবজাতি বেদ প্রাপ্ত হয় তাঁরা হলেন -

"অঙ্গিরা,অত্রি,বশিষ্ঠ ভরদ্বাজ,কশ্যপ,বিশ্বামিত্র জমদগ্নি"
[Manusamhita 1/35,Br. Up 2/2/6,jaiminiya brahmana 2/21-22]
দশমানসপুত্রের অন্যরা হলেন আদিত্য,বায়ু,ভৃগু।
এদের মধ্যে চারজন(অন্গিরা,আদিত্য অথর্বান,অত্রি) প্রথম বেদ মন্ত্র দর্শন করেন
[Shatpatha Brahmana 11/5/2/3]


এরপর অন্যান্য অনেক ঋষি বেদজ্ঞান পান।তবে অন্গিরা ও অথর্বান ই বেদের অধিকাংশ দর্শন করেন।এদিকে যজুর্বেদ ধ্যনপ্রাপ্ত হন ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য।এরপর মনু ও তার বংশধর কর্তৃক এবং ঋষিদের গোত্রসমুহের মাধ্যমে তা প্রচার ও সংরক্ষিত হয়।যেমন অন্গিরা এর গোত্রের নাম অন্গিরাসা,অথর্বান এর গোত্রের নাম অথর্বানা প্রভৃতি।মহাত্মা গৌতম বুদ্ধ নিজেও অন্গিরাসা গোত্রের বংশধর ছিলেন। [সূত্রঃ The Life of Buddha As Legend And history by Edward Joseph Thomas]

এজন্যই বলা হয়েছে

"রিশ রিষ্যতি প্রপ্নোতি সর্বম মন্ত্রং জ্ঞানেন পশ্যতি"
অর্থাত্‍ ঋষিরা ধ্যনের মাধ্যমে পবিত্র মন্ত্ররুপ সকল জ্ঞান অর্জন করেন।

সংরক্ষন প্রনালীঃ

বেদের সংরক্ষন ও প্রচারের জন্য ঋষিদের পরিবার ও বংশধরদের ১১৩১টি শাখা ছিল যারা বেদ মুখস্ত অসাধারন কিছু Scientific&mathmetical উপায়ে।উপায়গুলোকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়।

পদ,বাক্য,জাত,মালা, শিখা,রেখা,ধ্বজ,দ্বন্দ,রথ, ঘন।


প্রতিটি প্রনালীকে পাঠ পদ্ধতি বলা হয় এবং এদের আয়ত্তকারীদের পাঠিন বলা হয়।এদের মধ্যে ঘনপাঠ পদ্ধতি সবচেয়ে জটিলতম ও বিজ্ঞানসম্মত এবং আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীদের কাছে এক বিস্ময়।একজনরে দেখে নেয়া যাক কিছু নির্বাচিত পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বিবরন।

পদপাঠ
এ পদ্ধতিতে প্রতিটি পদকে আলাদা করে
কয়েকরকম পদ্ধতিতে উচ্চারন করে মুখস্ত করা হয়।যেমন নিম্নলিখিত রীতিতে-

কখ খগ গঘ...


এটি বেদ উচ্চারন এর দুটি মুল নিয়ম এর মধ্যে একটি(অপরটি হল সংহিতা বা বাক্যপাঠ)।
পদপাঠিনদের অধিকাংশ ই দক্ষিন ভারতের অধিবাসী।

সংহিতা বা বাক্যপাঠ পদ্ধতি

একক অর্থের একাধিক পদকে সন্ধির মাধ্যমে উচ্চারন এবং মুখস্ত করা হয়।যেমন-
যত্‍ ইদম উপাস্যতে(যাকে লোক উপাসনা করে),
এর সংহিতা বা বাক্য রুপ হল "যদিদমুপাসতে"।
এটা বেদ উচ্চারনের দুটি প্রধান নিয়মের একটি।

জাতপাঠ

এক্ষেত্রে প্রথম পদ পরের পদের সাথে আবার পরের পদ পুনরায় প্রথম পদের সাথে যুক্ত করে মুখস্ত করা হয়।ঠিক এভাবে- কখ খক কখ খগ গখ খগ।

ধ্বজপাঠ

ধরা যাক কোন মন্ত্রে ১ থেকে n সংখ্যক শব্দ আছে।তাহলে এদের মুখস্ত করা হবে এভাবে-
১২(n-1)n,২৩(n-3)(n-2),...(n-1)n১২


ঘন পাঠ পদ্ধতি

এবার সবচেয়ে জটিল পাঠ পদ্ধতি আর তা হল " ঘন পাঠ পদ্ধতি "।বিশেষজ্ঞদের মতে এই পাঠ পদ্ধতি বেদে পরিবর্তন হওয়া তো দুরের কথা বেদ এর প্রতিটি শব্দের উচ্চারন ও স্বরগ্রাম পর্যন্ত অবিকৃত রেখেছে।এই ঘনপাঠ এর আবার ৪টি আলাদা ধরন আছে।ধরা যাক একটি বাক্যে ১,২,৩,৪,৫ এই শব্দগুলো আছে।সেই ক্ষেত্রে সংক্ষেপে এটা নিম্নলিখিত ধরনের-

১২ ২১ ১২৩ ৩১২ ১২৩
২৩ ৩২ ২৩৪ ৪৩২ ২৩৪
৩৪ ৪৩ ৩৪৫ ৫৪৩ ৩৪৫
৪৫ ৫৪ ৪৫

এই পদ্ধতিতে একবার মন্ত্রটি পড়লে প্রকারান্তরে সেটি ১৩ বার পড়া হয়ে যেত।তাই একজন ঘনপাঠিন কমপক্ষে ১৩ বার বেদ পড়ে থাকেন।

এই অভুতপূর্ব সংরক্ষন এর কারনেই ২০০৩ সালের ৭ ই নভেম্বর UNESCO বেদ সংরক্ষন এর এই পদ্ধতিকে "Masterpiece of the oral and intangible heritage of humanity" হিসেবে ঘোষনা করে এবং "The intangible cultural heritage of humanity" হিসেবে ঘোষনা করেছে। উক্ত ঘোষনায় ইউনেস্কো ডিরেক্টর জেনারেল Koichiro Matsuura বলেন,"আধুনিক বিশ্বায়ন ও শিল্পায়ন এর যুগে যেখানে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ক্রমাগত চাপের শিকার সেখানে এই অভূতপূর্ব মৌখিক সংরক্ষন এর সংস্কৃতির গুরুত্ব অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ন।"

Macdonell এ সম্বন্ধে তার History of sanskrit literature(page no 50) তে বলেন-
"এ রকম পরিবর্তিত হবার ক্ষীনতম সম্ভাবনা পর্যন্ত না থাকাটা পৃথিবীর ইতিহাসের একমাত্র উদাহরন"


Keigi তার ঋগবেদভাষ্যের (Page 22) তে বলেন
"এই পর্যন্ত বেদ এত যত্নের সাথে সংরক্ষিত হয়েছে যার সাথে আর কোন বইয়ের ই তুলনা দেয়া যায়না।"


ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

Collected from : VEDA, The infallible word of GOD
1 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger