সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

দিব্যজ্ঞান নয় কাণ্ডজ্ঞান চাই

হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে অনন্ত ব্রহ্মজ্ঞ ঋষি, মহাঋষি আবির্ভূত হয়েছেন। তাদের অত্যাশ্চর্য প্রজ্ঞা পৃথিবীকে করে তুলেছে সমৃদ্ধ ও অনাবদ্য। এক ঈশ্বরবাদ, দ্বৈতবাদ, অদ্বৈতবাদ, বস্তুবাদসহ অসংখ্য মতবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হল এত ব্রহ্মজ্ঞান ও দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন ঋষি-মহাঋষি থাকতে কেন আজ হিন্দুদের এত করুন পরিণতি? কেন শত শত বছর ধরে আমরা অত্যাচারিত, নিপীড়িত হয়ে আসছি? কেন এত ঋষি-মহাঋষি, সাধুসন্ত,ব্ রহ্মজ্ঞানী, ত্রিকালজ্ঞ, সর্বজ্ঞানী, গুরু মহারাজদের জ্ঞান সাধনা আমাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে?

কারণ এসব সাধুসন্ত, গুরু মহারাজদের দিব্যজ্ঞান ছিল প্রখর সুউচ্চ। কিন্তু তারা তাদের শিষ্য পরম্পরায় একটি বিশেষ ধরণের জ্ঞানেরর সঞ্চার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা হলো কাণ্ডজ্ঞান। যা কিনা জগতের রূড় বাস্তবতার মুখোমুখি করে পৃথিবীতে মানুষের মাথা উঁচু করে বাচবার মত জ্ঞান ও শক্তি জোগায়।

আজকাল হিন্দুদের মধ্যে দেখছি দুইটি শব্দ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আর তা হল মানবতা ও সর্বধর্ম সমন্বয়। মানবতার জোয়ারে গা ভাসাতে ভাসাতে যে এদের সব কিছু ভেসে যাচ্ছে সেদিকে এদের খেয়ালই নেই।

একজন মুসলিমকে যদি প্রশ্ন করা হয় তোমার ধর্ম কি? সে সাথে সাথে উত্তর দেবে ইসলাম। একজন খৃষ্টান বা বৌদ্ধকে প্রশ্ন করলে তারাও যথারীতি নিজেকে খৃষ্টান বা বৌদ্ধ বলে পরিচয় দেবে। কিন্তু একজন হিন্দুকে যদি বলা হয় তোমার ধর্ম কি? সে উত্তর দেবে তার ধর্ম মানবতা। নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দিতে এদের লজ্জা হয়। কারণ এরা দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে। হিন্দুদের সম্পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে কোন ধারণায় এদের নেই।

পৃথিবীতে কেউ সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেনা। শুধু হিন্দুরা বলে। কিন্তু সেটা বলতে গেলেও যে আগে ভূমির দরকার, হিন্দু জনসংখ্যার দরকার এই কাণ্ডজ্ঞানটুকুও এদের নেই । বাস্তবতাবর্জিত দিব্যভাব, দূরিয় ভাব, দাঁড়িয়ে গেছে ভণ্ডামি,মিথ্যাচার আর আত্মপ্রবঞ্চনায়। এই ভাবের ঘরের লুকোচুরি গোটা হিন্দু জাতটাকে মেরুদণ্ডহীন, আত্মরক্ষায় অসমর্থ করে দিয়েছে। তাই অতীতে, বর্তমানে শুধু দেখি হিন্দু মার খায়, কাঁদে, পালায়, ধর্মান্তরিত হয়। একটি জাতের যদি আত্মরক্ষার শক্তিই না থাকে তার উচ্চ দর্শন সহস্র মহাপুরুষ থেকেই বা কি লাভ? এই রকম দুর্বল জাতকে কেউ শ্রদ্ধা করেনা, করুণা করে। এখন হিন্দুদের কেউ করুণাও করেনা, শিকার বলে মনে করে। সব শিকারীর লক্ষ্য এখন হিন্দু সমাজ।

আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ননীচোরা, বস্ত্রহরণকারী, রাধারমন, বংশীবাদক প্রেমিক করে রেখেছি। অথচ তিনি যে সুদর্শনচক্র হাতে সমগ্র পৃথিবীতে ধর্মের স্হাপনা করেছিলেন সে কথাটা ভুলেই গেছি।

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আামাদের হরিনাম করতে বললেন। আমরা হরিনামে মেতে গেলাম। তিনি বললেন "সঙ্ঘ শক্তি কলৌঃ যুগে।" কলি যুগে সঙ্ঘ শক্তি ছাড়া বাঁচা যাবে না। সে কথাটা সযত্নে বাদ দিলাম।

আমাদের এমন কোন দেবতা নেই যার হাতে অস্ত্র নেই। অথচ হিন্দু বাড়িতে ঘরভর্তি ঠাকুর দেবতা আছে,কিন্তু আত্মরক্ষার জন্য একগোছা লাঠি নেই।

এভাবে চললে কত দিনই বা সময় লাগবে হিন্দু বিলুপ্ত হওয়ার? তাই এখনো সময় আছে আসুন সংগঠিত হই, ঐক্যবদ্ধ হই। নতুবা আফসোস করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।

Courtesy by: ঘুমন্ত সনাতনের উত্থান
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger