সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বেদে অপবিজ্ঞান এবং অন্ধবিশ্বাস বিষয়ক জবাব

বর্তমানে একদল সো-কলড মুক্তমনা(প্রকৃত অর্থে: বদ্ধমনা) এবং মস্তিষ্ক বিকৃত হিন্দুবিদ্বেষী আছে যারা হিন্দুদের ধর্ম এবং হিন্দুদের আদি ও প্রধান ধর্মগ্রন্থকে ভুল প্রমাণের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। বদ্ধমনা এবং মস্তিষ্ক বিকৃতগণ পরস্পর বিরোধী হলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে তারা এক মঞ্চে দণ্ডায়মান। বেদকে ভুল প্রমাণের জন্য সবচেয়ে ব্যবহৃত মন্ত্রটি হচ্ছে ঋগবেদের ১০ম মণ্ডলের ১৭৩নং সূক্তের ৪র্থ মন্ত্রটি। সেসব কুচক্রীগণ সম্পূর্ণ মন্ত্র উদ্ধৃত না করে কেবল প্রথম অংটি উদ্ধৃত করে এবং ভুল ব্যাখ্যা দেয়। যেমন:

//ধ্রুবা দৌধ্রুবা পৃথিবী ধ্রুবাসঃ পর্বতা ইমে ( ঋগ্বেদ দশম মণ্ডল , ১৭৩/৪ )
অর্থাৎ - “আকাশ নিশ্চল , পৃথিবী নিশ্চল , এ সমস্ত পর্বতও নিশ্চল”।//
এবার দেখি সম্পূর্ণ মন্ত্রে কি লেখা আছে:
ধ্রুবা দ্যৌধ্রুবা পৃথিবী ধ্রুবাসঃ পর্বতা ইমে।
ধ্রুবং বিশ্বমিদং জগদ্ ধ্রুবো রাজা বিশাময়ম্।।
সেসব মস্তিষ্ক বিকৃতগণ এবং বদ্ধমনাগণের অতিপ্রিয় খ্রিস্টিয়ান মিশনারী গ্রিফিথের অনুবাদটি হচ্ছে:
Firm is the sky and firm the earth, and stedfast also are these hills.
Stedfast is all this living world, and stedfast is this King of men.
অর্থাৎ: আকাশ স্থির এবং পৃথিবী স্থির, এই পর্বতসমূহও স্থির। জগৎসমূহ স্থির এবং মানুষের রাজাও স্থির।
জবাব:

১) অনুবাদের শেষ অংশটি পড়ুন //মানুষের রাজাও স্থির// রাজা কি ভাবে স্থির? এখানে কী বোঝানো হয়েছে রাজা চলাফেরা করেন না? এটা কী সম্ভব? মূলত বলা যায় এখানে রূপক অর্থে স্থির শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে বোঝানো হয়েছে মানবগণের রাজা ন্যায়, নিষ্ঠায়, ধর্মে অবিচল বা স্থির। তদ্রুপ পৃথিবী অবিচল তার কক্ষপথে, সে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে। পৃথিবী ঐ কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত নয় বা ঐ কক্ষপথে অবিচল এমন বোঝানো হয়েছে। কারণ বেদে স্পষ্টত পৃথিবীর ভ্রমণের কথা আছে, যেমন:

ঋগবেদ ১০.২২.১৪
"পৃথিবীর নেই হস্ত বা পদ,তবুও তা গতিশীল।এর উপর অবস্থিত বস্তুসমূহ ও এটার সাথে গতিশীল।এটি সূর্যের চারদিকে ঘূর্নায়মান।"
ঋগবেদ ১০.১৪৯.১
"সূর্য তার পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহকে তার আকর্ষনশক্তির সাহায্যে বেধে রেখেছে।এটার চারপাশে সেগুলো ঘূর্নায়মান ঠিক যেমন প্রশিক্ষক এর চারপাশে প্রশিক্ষনরত অশ্ব বলগা দিয়ে ঘোরে।"
"সূর্য নিজপথে ঘোরে এবং তা পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহকে আকর্ষনশক্তি দ্বারা এমন উপায়ে চালিত করে যাতে তাদের একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত না হয়"
যজুর্বেদ ৩৩.৪৩
"সূর্য ঘুরছে তার নিজ কক্ষপথে সাথে নিয়ে সকল গ্রহকে আকর্ষনশক্তির বলে"
ঋগবেদ ১.১৬৪.১৩
"সূর্য ঘোরে তার নিজ কক্ষপথে এবং এর আকর্ষনশক্তির প্রভাবে অন্যান্য গ্রহসমূহ ও ঘোরে কারন সূর্য তাদের তুলনায় অধিক ভারী(মহাকর্ষ এর উপর ভর-শক্তি সমীকরন এর প্রভাব)!!!
ঋগবেদ ১.৩৫.৯
ঋগবেদ ৮.১২.২৮
"হে ঈশ্বর,তোমার শক্তিবলে যাতে রয়েছে আকর্ষন এবং গতিরক্ষমতা,তার মাধ্যমে তুমি সারা জগতে রেখেছ ভারসাম্যপূর্ন"

২) গ্রিফিথসহ অনেকেই দ্যৌ শব্দটির অর্থ করেছে আকাশ, যা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্যৌ শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয় দ্যূতিমান লোকসমূহ অর্থাৎ সূর্য, নক্ষত্র ইত্যাদি। তাহলে মন্ত্রটির প্রথম অংশের অনুবাদ দাড়ায় সূর্য স্থির। এখন সূর্য ও পৃথিবী উভয়েই যদি স্থির হয় তবে দিন-রাত কী করে হয়??? বদ্ধমনাদের নিকট জবাব চাই।

৩) এই মন্ত্রে ধ্রুব অর্থ স্থির নয়। ধ্রুব শব্দটির আরেকটি অর্থ হচ্ছে “এমন কোনো বিশ্বস্ত বস্তু যা অন্য বস্তু সমূহকে ধারণ করে রাখতে পারে”।
এই মন্ত্রে এই অর্থটিই বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য(আপনি ধ্রুব অর্থ স্থির ধরতে পারেন তবে সেটা হবে রূপকার্থে ১নং পয়েন্ট দ্রষ্টব্য)।
তাহলে অর্থটি দাড়ায়:
“সূর্য ধারণ করতে সমর্থ, পৃথিবী ধারণ করতে সমর্থ এমনকি পর্বতসমূহও ধারণ করতে সমর্থ। এই সম্পূর্ণ জগৎ তোমাদের ধারণ করতে সমর্থ, তোমাদের এমন রাজা হওয়া উচিৎ যে তোমাদের(প্রজাদের) বিশ্বস্ত ধারক হবে।”
আর আমরা জানি সূর্য তার আকর্ষণশক্তির প্রভাবে এই সৌরজগৎকে ধারণ করে আছে। পৃথিবী আমাদের মায়ের মত ধারণ করে আছে। আর এই মন্ত্রের শেষাংশে রাজার প্রতি আদেশ সেও যেন তার প্রজাদের বিশ্বাসের সহিত ধারণ করে রাখে, তাদের যেন ত্যাগ না করে।
শেয়ার করে সকলকে জানিয়ে দিন!

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ

By- Amiotosh Roy Arya

VEDA, The infallible word of GOD
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger