সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

একজন সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রতিদিনের কর্মকান্ড কি হওয়া উচিত?

একজন সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রতিদিনের কর্মকান্ড কি হওয়া উচিত?  বেদাদি শাস্ত্রসমূহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে তার নির্দেশনা দিয়ে গেছে।

মনুসংহিতায় ঋষি মনু বলেছেন-

"ঋষিযজ্ঞং দেবযজ্ঞং ভূতযজ্ঞং চ সর্বদা।
নৃযজ্ঞং পিতৃযজ্ঞং চ যথাশক্তি ন হাপয়েত্‍।।
[মনুসংহিতা ৪.২১]

অনুবাদ-ঋষিযজ্ঞ অর্থাত্‍ ব্রহ্মযজ্ঞ,দেবযজ্ঞ অর্থাত্‍ অগ্নিহোত্র,ভূতযজ্ঞ অর্থাত্‍ বলিবৈশ্বদেব,নৃযজ্ঞ অর্থাত্‍ অতিথিযজ্ঞ এবং পিতৃযজ্ঞ; এই পাঁচটি মহাযজ্ঞ। গৃহস্থ এইসব যজ্ঞ করিতে কখনো ভূলিবেনা।

গীতাতে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ প্রতিদিনকার অবশ্য কর্তব্য যজ্ঞাদি বলেছেন-

যজ্ঞার্থাত্‍ কর্মণোহন্যত্র লোকোহয়ং কর্মবন্ধনঃ।
তদর্থং কর্ম কৌন্তেয় মুক্তসঙ্গ সমাচর।।
[গীতা ৩.৯]

অনুবাদ-যজ্ঞ কর্ম ব্যতীত অন্য সকল কর্ম বন্ধনের কারন হয়।তাই হে কৌন্তেয় তুমি ঈশ্বরের জন্য সম্যকভাবে আসক্তিমুক্ত এই কর্ম কর।

ঋষিযজ্ঞ/ব্রহ্মচর্য ও দেবযজ্ঞ-
বেদাদি শাস্ত্রের অধ্যায়ন,অধ্যাপনা, সন্ধ্যোপাসনা এবং যোগাভ্যাস ই হল ঋষিযজ্ঞ বা ব্রহ্মযজ্ঞ।
অপরদিকে বিদ্বানদিগের সঙ্গ,সেবা,পবিত্রতা ও দিব্যগুনধারন,দানশীলতা ও বিদ্যোন্নতি হল দেবযজ্ঞ।

পিতৃযজ্ঞ
মাতা-পিতাদি,বৃদ্ধ ও গুরুজন,বিদ্বান,জ্ঞানী ও পরম যোগীদের সেবা করাই পিতৃযজ্ঞ।পিতৃযজ্ঞ দ্বিবিধ। প্রথম শ্রাদ্ধ ও দ্বিতীয় তর্পন।'শ্রত্‍' শব্দের অর্থ সত্য। যে ক্রিয়া দ্বারা সত্য গ্রহন করা যায় তাহাকে শ্রদ্ধা বলে এবং শ্রদ্ধাপূর্বক যে কর্ম অনুষ্ঠিত হয় তাহাকে শ্রাদ্ধ বলে।যে সকল কর্মাদি দ্বারা মাতা-পিতাদি এবং গুরুজনসকল তৃপ্ত অর্থাত্‍ প্রসন্ন হন তাহাই তর্পন। এসব জীবিতদিগের জন্যই,মৃতদিগের জন্য নহে।

ভূতযজ্ঞ/বলিবৈশ্বদেব যজ্ঞ
এ যজ্ঞে ভোজ্য প্রস্তুত হওয়ার পর এর কিছু অংশ মন্ত্র উচ্চারন পুর্বক অগ্নিতে আহুতি দিতে হইবে এবং কিছু অংশ গরীব-দুঃখী,কাক-পক্ষীদিগকে খাওয়াইতে হইবে।

নৃযজ্ঞ/অতিথিসেবা
যাঁহার আগমন এর কোন তিথি(নির্ধারিত দিন) থাকে না অর্থাত্‍ যিনি অকস্মাত্‍ গৃহস্থের বাড়ীতে উপস্থিত হন তাঁহাকেই অতিথি বলে। অতিথি আসলে তাঁহাকে প্রথমতঃ পাদ্য,অর্ঘ্য এবং আচমনীয় অর্থাত্‍ পা ধোয়ার,মুখ ধোয়ার এবং আচমন করিবার জন্য তিন প্রকার জল প্রদান করিবে। তত্‍পরে সসম্ভ্রমে আসনে বসাইয়া ভোজ্য,পানীয় প্রভৃতি দ্বারা সেবা শুশ্রুষা করিয়া সন্তুষ্ট করিবার চেষ্টা করিতে হইবে। এরপর তাঁহার সত্‍সঙ্গ করিয়া তাঁহার সাথে গঠনমূলক ও শুভ আলোচনাদি করিবে।

গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-
যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ সন্তো মুচ্যন্তে সর্বকিল্বিষৈঃ।
ভুন্জতে তে ত্বঘং পাপা যে পচন্ত্যাত্মকারণাত্‍।।
[গীতা ৪.১৩]

অনুবাদ-যে সকল শিষ্ট যজ্ঞাবশেষ ভোজন করেন তাঁরা সকল পাপ থেকে মুক্ত হন।
পরন্ত তারা পাপাচারী যারা কেবল নিজের জন্য ভোজ্য প্রস্তুত করেন।

ঋগবেদ বলেছে যারা পঞ্চযজ্ঞ না করে শুধু নিজের জন্য ভোজ্য প্রস্তুত করে খায় তার "কেলাঘ ভবতী কেবলাদী" অর্থাত্‍ পাপপন্কে নিমজ্জিত হয়।

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
VEDA, The infallible word of GOD
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger