সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বেদ-সনাতন সমাজের মুল ভিত্তি, সর্ব্বোচ্চ এবং অলঙ্ঘনীয় ধর্মগ্রন্থ

বেদ-সনাতন সমাজের মুল ভিত্তি, সর্ব্বোচ্চ এবং অলঙ্ঘনীয় ধর্মগ্রন্থ। হিন্দু আইনশাস্ত্র মতে নিত্য এবং অবশ্যপাঠ্য।কয়েকশতক আগেও বেদ শব্দটি ছিল প্রতিটি হিন্দুর প্রাত্যাহিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে,অজ্ঞান তার করালগ্রাসে, ঔপনিবেশিকদের চক্রান্তে, তথাকথিত ধর্মপ্রচারক তথা ধর্মব্যবসায়ীদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে আমরা আজ মহান বেদ এর পথ থেকে বিভ্রান্ত। ফলস্ব রুপ আমরা আজ জাতি হিসেবে এক ক্রান্তিকালে দাড়িয়ে। জ্ঞানের অভাবে নিত্যনৈমিত্তিক হিসাবে অন্য ধর্মালম্বীদের কাছে অপমানের স্বীকার তো বটেই,নিজেদের প্রতিদিনকার জীবনযাপনেও অজ্ঞতার গ্লানিবয়ে নিয়ে চলেছি নিরন্তর।তাই আজকে কয়েকটি অপপ্রচার ও ভুল ধারনা নিয়ে কথা বলব।

১/এই কলিযুগে বেদ সাধারন মানুষের পক্ষে বেদ পরা সম্ভব নয় অথবা বেদ পরার পবিত্রতা মানুষের নেই এরকম একটা কথা অনেকেই প্রচার করেথাকেন। তারা আরও বলেন যে বেদবিহিত কর্মসমুহ কলিযুগের মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। আসলেই কি তাই?
প্রথমেই দেখি বেদ কি বলেছে-

" পুরো মহাবিশ্ব পাল্টে যেতে পারে,কিন্তু মহাবিশ্বের সংবিধান বেদ সকল কালের জন্য প্রযোজ্য যাসর্বদা অপরিবর্তিত থাকবে"
ঋগবেদ ১/৯০/২

বেদ সকল যুগ ও কালের জন্য প্রযোজ্য। এর বাণী কখনো অপ্রাসঙ্গিক হয়না,অচল হয়না। বেদ মন্ত্র কলিযুগে নিষ্ক্রিয়-এ ধরনের প্রলাপ তাই অনর্থক। সর্বযুগে ই তা আধুনিক।

অংতি সন্তং ন জহাত্যন্তি সন্তং ন পশ্যতি।
দেবস্য পশ্য কাব্যং ন মমার ন জীর্যতি।
অথর্ববেদ ১০.৮.৩২

অংতি সন্তম্- সমপিবর্ত্তী পরমাত্মাকে,ন পশ্যতি-দেখেনা,ন জহাতি-বর্জিত হয়না,দেবস্য কাব্যম-ঈশ্বরের বানী বেদকে,পশ্য-দেখ, ন মমার-অচল হয়না,ন জীর্যতি- অপ্রাসঙ্গিক হয়না,জীর্ন হয়না।

অর্থাত্‍,মনুষ্য সমীপবর্ত্তী পরমাত্মাকে দেখেও না আবার তাহাকে ছাড়িতেও পারেনা। পরমাত্মার বানী বেদকে দেখ,কখনও অচল হয়না,কখনও অপ্রাসঙ্গিক বা জীর্ন হয়না।

মনিষীরা কি বলেছেন একটু শুনি-
"বেদ হচ্ছে সকল সত্য জ্ঞানের উত্‍স। মহাকর্ষ শক্তি যেমন তা আবিস্কারের আগেও বিদ্যমান ছিল তেমনি মানবজাতি যদি এটা ভুলেও যায়তারপরও এটা অপরিবর্তিতভাবে বিদ্যমান থাকবে। ঠিক তেমনি বেদ"
(স্বামী বিবেকানন্দ,Comp lete work,vol 1,paper on Hinduism)

Maharishi Dayanand Saraswati যিনি কিনা প্রথম বেদের সম্পূর্ন সঠিক আধ্যাত্মিক অনুবাদ এর জন্য খ্যত এবং অপরাজেয় বিতার্কিক তিনি বলেছিলেন-"বেদ হল একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যা সকল যুগের জন্য একেবারে সুবিধাজনকভাবে প্রযোজ্য।"
যেখানে বেদ বলছে এটা সব যুগের জন্য প্রযোজ্য সেখানে কতিপয় জ্ঞানপাপীর এহেন আচরন সন্দেহজনক।
এবার আমরা আসি বাস্তবিক যুক্তি প্রয়োগে। ঈশ্বর হলেন ত্রিকালজ্ঞ অর্থাত্‍ যিনি অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যত্‍ সব জানেন।তাহলে তার পক্ষে কেন সম্ভব হবেনা এমন কোন গ্রন্থ প্রেরন করা যা সর্বযুগের মানুষের জন্য প্রযোজ্য? তাছাড়া এসব অবান্তর যুক্তি যারা পেশ করেন তারা নিজেরা কি কখনও বেদ পড়েছেন তাদের কথার সত্যতা যাচাই এর জন্য?তাদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি,পারলে বেদের এমন কোন নিয়ম দেখান যা বর্তমান যুগের জন্য প্রযোজ্য নয়। বরং এটা কলি যুগে আরও বেশি প্রয়োজন কারন বেদের কর্মকান্ড প্রতিদিনের নিত্যকর্মাদি,
বিজ্ঞান,আইন, অর্থনীতি, রাজনীতি ব্যখ্যা করেছে যা সত্য যুগের তুলনায় কলি যুগেই বেশী দরকার। আরেকটি প্রশ্ন করেন তারা বেদের বৃহত্‍ কলেবর নিয়ে যেটা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। কারন বৈদিক যুগেও এমন খুব কম লোকই ছিলেন যারা সব কটা বেদজানতেন। কেউ বা একটা,কেউ বা দুটা,কেউ তিনটা,কেউবা চারটাই জানতেন যাদের যথাক্রমে একবেদী,দ্বিবেদী,ত্রিবেদী ও চতুর্বেদী বলা হত। তবে ত্রিবেদী ও চতুর্বেদী ছিল হাতে গোনা। একবেদী রা ই ছিল সর্ব্বোচ্চ।আর তাছাড়া কেউ ই আপনাকে বেদ মুখস্ত করতে বলছেনা। আর এ ধরনের প্রচারকারীদের মধ্যে অনেকেই বলেন শ্রীমদভাগবত পড়ার কথা!!! এখন আপনারা ই বলুন,যেখানে যজুর্বেদ এর মন্ত্রসংখ্যা ২০০০ সেখানে এর বদলে এর কয়েকগুন বড় একটাপুরান কলেবরের দোহাই দিয়ে পরতে বলাটা কতটুকু যৌক্তিক? ঈশ্বর ই জানেন

২// এখন আসি পবিত্রতার বিষয়ে। অনেকেই বলেন বেদপাঠ করার মত পবিত্রতা কলিযুগের মানুষের নেই। কথাটা যে কি পরিমান ভিত্তিহীন তা একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়। প্রথমেই আসি হিন্দু আইনশাস্ত্র মনুসংহিতা তে।

মনুসংহিতা ১/৮৫
"চারযুগে(সত্য,ত্রেতা­, দ্বাপর,কলি)দায়িত্বের­ রকমভেদ রয়েছে কারন প্রতি যুগে মানুষের আয়ু হ্রাস পাচ্ছে"
১/৮৬
"সত্য যুগে ধ্যন ত্রেতায় জ্ঞান দ্বাপর এ যজ্ঞাদি ও কলিতে মোক্ষ(হরিনাম এর একমাত্র উপায় এ কথা কোথাও ইবলা হয়নি।হরিনাম খুব ই পবিত্র সন্দেহ নেই কিন্তু শুধু হরিনাম করলেই মোক্ষ লাভ হয়না)
১/৮৭
"কিন্তু মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষার্থে সবসময় ই চার ধরনের পেশা ভাগ করা হয়েছে"
১/৮৮
"ব্রাক্ষ্মনরা নিজ স্বার্থত্যগ করে কাজ করবে,বেদ পরবেএবং তা অপরকে শেখাবে"
১/৮৯
"ক্ষত্রিয়রা বেদ পরবে,লোকরক্ষা ও রাজ্যপরিচালনায় নিযুক্ত থাকবে"
১/৯০
"বৈশ্যরা বেদ পরবে,ব্যবসা ওকৃষিকর্মে নিজেদের নিযুক্তকরবে"
১/৯১
"শুদ্ররা বেদ পাঠ করবে এবং সেবামুলক কর্মকান্ডে নিযুক্ত থাকবে"

তাহলে কি স্পষ্ট হল? প্রতিযুগে কর্তব্য পালটাবে ঠিক তবে বেদ সর্বযুগেই পরা আবশ্যক। আর যার বেদপাঠ এর ই পবিত্রতা নেই তার হরিনাম যা সবচেয়ে পবিত্র তা নেয়ার পবিত্রতা থাকবে কি করে? সবচেয়ে খারাপ,অপবিত্র লোকটিও নিজেকে বেদপাঠ এর মাধ্যমে জ্ঞানালোকে পরিপুর্ন করতে পারে।
তাই তো পবিত্র বেদ এ ঘোষনা করা হয়েছে
"আমি মানবকল্যানে যে বাণী তোমাদের দিয়েছি তা প্রচার কর ব্রাক্ষ্মন ক্ষত্রিয় বৈশ্য শুদ্র নারী পুরুষ পাপী পুন্যাত্মা নির্বিশেষে সকলকে"
যজুর্বেদ ২৬/২

ধন্যবাদ সকলকে,নমস্কার


VEDA, The infallible word of GOD
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger