সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বৈদিক দর্শন ২য় পর্ব

ন্যয়(Nyaya)

ন্যয় দর্শনে কারনতত্ত্ব
ন্যয় দর্শনে "কারন" বা "হেতু" কে ব্যখ্যা করা হয়েছে এভাবে,"নিরঙ্কুশ ও স্থির পুর্ববর্তী ঘটনা যা একটি নির্দিষ্ট ফলাফল দেয়"
কারন এর তিনটি বৈশিষ্ঠ্য-

১/পুর্বব্রীতি অর্থাত্‍ এটি ফলাফল এর পুর্ববর্তী ঘটনা।
২/নিয়তপুর্বব্রীতি (Unvariable) অর্থাত্‍ একটি নির্দিষ্ট হেতুর ফলাফল নির্দিষ্ট।
৩/অনন্যথসিদ্ধ (Unconditional) অর্থাত্‍ এটি নিরঙ্কুশ হবে।

ন্যয় দর্শনে "কারন" কে তিনটি শ্রেনীতে ভাগ করা হয়েছে-
a)সমবায়ী।যেমন কাপড়ের সুতা কাপড় সৃষ্টির সমবায়ী কারন।
b)অসমবায়ী।কাপড় এর রং কাপড় তৈরীর অসমবায়ী কারন।
c)নিমিত্ত।দর্জি হলেন কাপড় তৈরীর নিমিত্ত।

ভুল ও তার কারন
ন্যয় দর্শনে উপস্থিত এবং উপস্থাপিত বস্তুর মধ্যেকার সমন্বয় এর ব্যর্থতা ই ভুলের কারন হিসেবে বলা হয়েছে। ভুল এর এই তত্ত্বকে বলা হয় "অন্যথাকতিবাদ"। অন্যথা শব্দের অর্থ Elsewise(অন্যভাবে) বা Elsewhere(অন্যকোথাও)।ভুলের ক্ষেত্রে উপস্থিত বস্তু অন্যভাবে(Elsewise) মস্তিস্কে গৃহীত হয় এবং উপস্থাপিত বস্তু অন্যকোথাও(Elsewhere) থাকে।
এজন্যই ন্যয় দর্শনে জ্ঞানকে অন্তর্নিহিত অবস্থায় মুল্যহীন বলা হয়েছে এবং বহির্গত পরিস্থিতিতেই মুল্য দেয়া হয়েছে।

ন্যয় দর্শন ও ঈশ্বরতত্ত্ব এবং বৈদিক ইতিহাসে এর অবদান

প্রাথমিক দিকে ন্যয় দর্শন ঈশ্বরতত্ত্ব নিয়ে তেমন কিছু বর্ননা না করলেও পরবর্তীতে সেসময়কার বৌদ্ধরা সংশয়বাদীতা (Agnosticism) থেকে নাস্তিক্য(Atheism) দর্শনে উঠে আসতে চাইলে নৈয়ায়িকরা যুক্তির তলোয়ার হাতে তা সুচারুরুপে দমন করেন।তারা ঈশ্বর এর অস্তিত্ব প্রমানে বেশকিছু যুক্তি প্রদর্শন করেন। উদয়ন মুনির রচিত "ন্যয়কুমন্জলি" গ্রন্থ থেকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দেখা যাক-
১/কার্যত-কারনতত্ত্ব অনুযায়ী সব ফলাফল এর পিছনে কারন থাকবেই।আগেই বলা হয়েছে কারন তিন ধরনের।মহাবিশ্ব সৃষ্টির সমবায়ী কারন অনুসমুহ,অসমবায়ী কারন অনুসমুহের মধ্যে বন্ধন তাহলে নিমিত্ত কি? নিশ্চয় নিমিত্ত থাকবে আর সেই নিমিত্ত হচ্ছেন ঈশ্বর।
২/আয়োজনত-যেহেতু অনুসমুহ জড়বস্তু সেহেতু এদের পক্ষে নিজেদের মধ্যে সংগঠিত হয়ে কোন বস্তু তৈরী সম্ভব নয়।আবার তা যদি সম্ভব ও হত তবে সেই সৃষ্টি বিচ্ছিন্ন হত,সুশৃঙ্খলিত হওয়া সম্ভব ছিলনা।সুতরাং নিশ্চয় এসবের পিছনে কোন নিয়ন্তা আছেন।
৩/প্রত্যয়ত-যেহেতু পবিত্রবেদ কোন প্রকার ত্রুটিহীন বলে প্রমানিত যা অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যত্‍ এর সকল জ্ঞান ধারন কয়ে,সেহেতু এর স্রষ্টা অবশ্যই ঈশ্বর কারন কোন মানুষের পক্ষে কখনোই এরকম গ্রন্থ তৈরী সম্ভব নয়।
৪/শ্রুতেঃ-আবার যেহেতু বেদ নির্ভুল এবং এই বেদেই ঈশ্বরের কথা বলা আছে সেহেতু ঈশ্বর আছেন।

ন্যয় দর্শন কঠোরভাবে বেদে বিশ্বাসী।এটি কোনপ্রকার দেবদেবী তে বিশ্বাসী নয়।তারা যুক্তি দ্বারা প্রমান করতে সক্ষম হন যে ঈশ্বরের ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ হিসেবে বিভিন্ন দেব-দেবী থাকার দরকার নেই।

ন্যয় দর্শনে মোক্ষ
ন্যয় দর্শন অনুযায়ী ভুল জ্ঞানই জগতের সকল কষ্ট এবং মায়ার মুল।এর থেকে পরিত্রান এর উপায় হচ্ছে এর বিপরীতভাবনা বা সত্যজ্ঞান(প্রতিপক্ষভাবনা)ন্যয় মতে এই সত্যজ্ঞান এর মাধ্যমেই মানুষ নিঃশ্রেয়স(মোক্ষ) লাভ করতে পারে।

অন্যান্য মনিষী ও গ্রন্থাবলী
ন্যয় দর্শনে মহর্ষি গৌতম ছাড়া অন্যান্য বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উদয়ন মুনি,বচস্পতি মিশ্র,জয়ন্ত ভট্ট,রঘুনাথ শিরোমনি অন্যতম।
গ্রন্থের মধ্যে মহর্ষি গৌতম এর ন্যয়সুত্র ছাড়াও বাচস্পতি মিশ্রের "ন্যয়বর্তিকাততপারয়ত" সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।এছাড়া তার লেখা ন্যয়সুচিনীবন্ধ,ন্যয়সুত্রধর,উদয়ন মুনির লেখা ন্যয়কুশমন্জলি, আত্মতত্ত্ববিবেক, কিরনবলী,জয়ন্ত ভট্ট এর ন্যয়মন্জরী উল্লেখযোগ্য।

ন্যয় দর্শন সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। পরবর্তী পর্বে সাংখ্য দর্শন নিয়ে আলোচনা করা হবে।ধন্যবাদ সবাইকে,নমস্কার।

collected from: VEDA, The infallible word of GOD
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger