সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বৈদিক দর্শন ৪র্থ পর্ব

মীমাংসা
পর্ব ২

পূর্ব মীমাংসা এর উপর আলোচনা টা "এক্ষনে ধর্ম কি তা জানিবার ইচ্ছা জাগিল" উক্তিটি দিয়ে শুরু হয়।"ধর্ম" একটি বিষয়(Topic)।মীমাংসা দর্শন প্রনেতা একটি 'বিষয়' বা Topic কে আলোচনার জন্য পাঁচটি ধাপের কথা বলেছেন-
১)বস্তু বা উদ্দেশ্য(Subject)
২)সন্দেহ বা প্রশ্ন
৩)প্রাথমিক বাদ বা যুক্তি(Prima facie arguement)
৪)প্রামানিক সিদ্ধান্ত
৫)সঙ্গতি

অর্থাত্‍ যেকোন বিষয় সম্বন্ধে আলোচনায় প্রথমে এটার প্রাথমিক ভিত্তি খতিয়ে দেখতে হবে,প্রমান বা উপমান এর সাহায্যে এটি যৌক্তিক কিনা তা দেখতে হবে,এরপর প্রামানিক স্বিদ্ধান্তে এসে মিলিয়ে নিতে হবে তা বিষয়টির সাথে সংগতিপুর্ন কিনা।অর্থাত্‍ এখানেও ন্যয় দর্শনের মতই কোন কিছুই অন্ধ বিশ্বাস নয়-এই মত ব্যক্ত হয়েছে।অথচ আজকাল পৌরানিকগন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ই তাই করেন!

Epistemiology(জ্ঞান উপলব্ধিকরন)
Epistemiology বিভাগে নৈয়ায়িকদের মতই মীমাংসুকগনের অবদান বিশাল।তারা শুদ্ধ বা সত্য জ্ঞান মুল্যায়নের জন্য পাঁচটি উপকরন ব্যবহার এর কথা বলেছেন(নৈয়ায়িকগন চারটি-প্রত্যক্ষ,অনুমান,উপমান, শব্দ)।সেগুলো হল প্রত্যক্ষ,অনুমান,উপমান, শব্দ এবং নির্নয়করন।মীমাংসা দর্শনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র হল জ্ঞানের স্বব্যক্তিতে বিশ্বাস।একে বলা হয় "সত্যপ্রামান্যবাদ" অর্থাত্‍ জ্ঞান বা ধর্ম স্বপ্রকাশিত হয়,প্রমান করা ছাড়া ই বা প্রমান করার আগেই এবং যাকিছু অতিরিক্তভাবে প্রমান করতে হয় তা সত্য নয় বরং মিথ্যা"।এই তত্ত্ব প্রয়োগে মীমাংসা পন্ডিতগন বেদ এর চিরন্তন শুদ্ধি এবং অলঙ্ঘনীয়তা প্রমান করেছেন।যেমন-বেদ সত্য তা প্রমান করতে হয়না,এটা বেদ পড়লেই বোঝা যায়।কেননা এতে অমানবিক বা অযৌক্তিক কিছুই নেই।অপরদিকে জন্মভিত্তিক বর্নপ্রথা,অস্পৃশ্যতা, সতীদাহ সহ নানা কাল্পনিক ও অশ্লীল গালগল্পে ভরা পুরানসমুহ নিজে থেকেই ভুল প্রমানিত কেননা এইসব অপপ্রথা ক্রমেই লোকজন ছুড়ে ফেলছে,এগুলোকে কারো আলাদাভাবে ভুল প্রমানের দরকার নেই।

Philology(অর্থতত্ত)
মীমাংসা দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন কাজ হল শব্দের নিয়ে গবেষনা করা।বেদ এর অর্থ বুঝতে যাতে কারো সমস্যা না হয় সেজন্য ঋষি জৈমিনি অবশ্যই বেদ এর সাথে বেদাঙ্গ(নিরুক্তসহ অন্যানয),উপবেদ পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন।এজন্যই আচার্যগন বেদ অনুবাদ করতে বৈদিক ঋষিদের লেখা নিরুক্ত,ছন্দ থেকে শব্দের অর্থ গ্রহন করেন।জৈমিনি এ ব্যপারে বলেছেন যে বেদকে ঠিক সেভাবেই বুঝতে হবে যেভাবে ঋষিগন তা বুঝেছেন এবং তা বলে গেছেন।তাই বেদ অনুবাদ এর সময় এর শব্দের অর্থ নিরুক্ত,নিঘান্তু,ছন্দ অনুসারে হওয়া উচিত,সায়ন বা কোন মিশনারীদের থেকে ধার করা বিকৃত অনুবাদ নয়।

VEDA, The infallible word of GOD

Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger