সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

পূজা মানে পুষ্পকর্ম- ফুলটা মলিন হয়ে গেছে, এই যা ..!

‘হে হে...হিন্দুর দেবতা যদি সত্যি থাকবে তয় হেগো দেবী ঠেকায় না ক্যান? মানুষ ভাঙ্গে ক্যামনে? কই মুসলমানের মসজিদ কেউ তো ভাঙ্গতে পারে না?’ শিক্ষক-খেলার সাথী-সহকর্মী অনেকের মুখেই এসব কথা শুনে বড় হয়েছি এবং এখন মধ্যবয়সেও একই কথা শুনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাসে প্রবীণ শিক্ষক অনায়াসে বলে ফেলেন, ‘ভালোই তো হইছে, রামুর ভাঙ্গা-চুরা কয়খান টিনের ঘর ভাঙ্গনের পর সেইহানে নতুন বিল্ডিং হইছে। হ্যাগো তো লাভই হইছে। লাভ হইছে না?’ এসব শুনেও না শোনার ভান করে থাকার অভ্যাস আজন্মের। কিল খেয়ে কিল চুরি করে থাকার মতো। ভারতের আখলাকরা নিশ্চয়ই জানেন এই কিল খেয়ে কিল চুরি করার বিষয়টা। শহরে থাকার কারণে মা পূজা করেছেন ফুল, উলুধ্বনি এবং ঘণ্টা না বাজিয়েই। তাঁর বামপন্থী সন্তানেরাও পাত্তা দেয়নি কোনদিন।



নিত্য বছর প্রতিমা ভাঙ্গে। আমাদের অধিকাংশ সাংবাদিক অবশ্য গণমাধ্যমে ‘মূর্তি ভাঙ্গা’র খবর দেন। সম্ভবত ‘প্রতিমা’ আর ‘মূর্তি’র পার্থক্য তাঁরা জানেন না, তাঁদের হাউস থেকেও শেখানো হয় না। শুনেছি ১৯৭২ সালেও অষ্টমী পূজার দিন কোথাও প্রতিমা বিসর্জন দিতে হয়েছিলো। তবুও হিন্দুরা পূজা করেন। কোন প্রতিবাদ ছাড়াই। তাঁদের অনেকেই মনে করেন, প্রতিমা আসলে ভাঙ্গা যায় না। যাঁরা বিশ্বাসী, প্রতিমা তাঁরা অন্তরে ধারণ করেন। তাই প্রতিমা ভাঙ্গলেও তাঁরা পূজা চালিয়ে যেতে পারেন। অনেক পরিবারে দুর্গা তাঁদের মেয়ে। বৎসরান্তে বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসে।

পাবনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় হিন্দু ধর্মের ক্লাস নিতেন যে অপর্ণাদি, তাঁর পৈতৃক বাড়ির পূজা দেখতে গিয়ে সে’কথা বুঝেছিলাম। আমাদের বাসায় অবশ্য সরস্বতী পূজা ছাড়া অন্য পূজার তেমন কোন আয়োজন ছিলো না। অতি সৎ সরকারী চাকুরে বাবা সব ভাইবোনকে দুর্গা পূজায় নতুন জামা দিতে পারতেন না। তখনো পূজার বোনাস শুরু হয়নি। আমরা ছোট দুই বোন জামা পেতাম, দিদি হাতে সেলাই করতো। একদিন বড় ভাইবোনদের প্রহরায় পূজা দেখতে যাওয়া ঘণ্টা দুয়েকের জন্য, আর পূজার খাওয়া-দাওয়া একদিন, বিশেষ করে বাবার অফিসের সহকর্মী এবং পাড়াপড়শিদের । এর বাইরে পূজা আমাদের কাছে তেমন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেনি। অবশ্য দিদি আর দাদারা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল আর বুয়েট থেকে বাসায় ফিরতো। পূজা বলতে ওদের ঘরে ফেরার আনন্দটুকুই। আর পূজাসংখ্যা আনন্দবাজার, শারদীয় দেশ। এই তো!

প্রতিমা ভাঙ্গার অভিযোগে কোন মানববন্ধনে কোনদিন দাঁড়ানোর তাড়না বোধ করিনি। তবে, সাতক্ষীরা, পাথরঘাটা, বেগমগঞ্জ, কর্ণেই-গড়েয়া, দিনাজপুর, নাটোরে মানুষের জীবনের উপরে যখন শুধু একটি ধর্মে বিশ্বাসী হবার কারণে অমানবিক নির্যাতন নেমে এসেছে গত বছরগুলোতে, তখন সেইসব জনপদে গেছি, দেখে এসেছি নিজের চোখে তাঁদের ভয়। লিখেছিও এক-আধটু, তবে রামুর ঘটনার পরে যেভাবে লিখেছি, অতোটা নয়। ভেবেছি, আমি কেনো লিখবো এবিষয়ে? আমার বন্ধু, সহযোদ্ধারা লিখবেন।

কটা সময়ে বিশ্বাস করতাম, যাঁদের সাথে চলি-ফিরি, যাঁদের সাথে দেশের মানুষের তাবৎ দুঃখে পীড়িত হয়ে রাস্তায় দাঁড়াই, তাঁরা নিশ্চয় সমব্যথী। আমার সেই ঘোর ভুল ভেঙ্গেছে নিজের পয়সায়, কখনো সাথে বন্ধু-সহকর্মী রোবায়েত ফেরদৌসের পয়সায় আর উদ্যোগে মঞ্চ বানিয়ে লোক ডেকে নেমন্তন্ন করে বক্তৃতা দিতে ডাকার পর। তাঁরা বেশ গলা কাঁপিয়ে বক্তৃতা করেছেন, ‘বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। জামাত-শিবির এদেশে ঘৃণ্য রাজনীতি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা জয়লাভ করবোই। ওরা গুটিকয়েক। এই দেশ ধর্মনিরপেক্ষ’ ইত্যাদি। কানে ধরেছি, আমি আর কোন মঞ্চ বানিয়ে কাউকে বক্তৃতা করার সুযোগ করে দেয়া তো দূরে থাক, আমাকে ডাকলেও আমি এধরণের কোন বক্তৃতামঞ্চের আশেপাশে যাই না অনেকদিন হলো। আমি পরিষ্কারভাবে বুঝেছি, গুটিকয়েক ধর্মান্ধ মানুষের কাজ এগুলো নয়।

আমাদের সমাজে-রাজনীতিতে-কাছের মানুষদের মধ্যেও এসব ঘটানোর পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলেই বছরের পর বছর এগুলো হতে পারছে। আর কিছু না হোক, বছরের পর বছর সব দেখেশুনেও যে নির্লিপ্তি এবং হাসিঠাট্টা করে পার করে দিচ্ছেন আমাদের বিদ্বৎ সমাজ, এটি প্রশ্রয়ের চেয়ে কিছু কম নয়। যাঁদের দেখছি প্রতিবাদ করছেন দীর্ঘকাল ধরে, এসব ঘটনা ঘটার পরে, দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে তৈরি এমনই এক বিখ্যাত প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম একবার, ‘আপনারা এদেশে থাকতে, এমন অবস্থায় এলো কীভাবে দেশ? যে প্রতিবাদ বছরের পর বছর চলার পরেও কোন পরিবর্তন হয় না, সেই প্রতিবাদ নিয়ে আমি সন্দিহান।’ সেই প্ল্যাটফর্মের সব বক্তারা নিজেদের অক্ষমতার কথা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এই স্বীকারে কী হয়? তাঁদের সমর্থিত রাজনৈতিক শক্তি-ই তো ক্ষমতায়। তবু কেনো এই নিরন্তর বলপ্রয়োগ থামে না?

আমি সত্যি-ই বিশ্বাস করি না, কোনদেশে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রেখে, অর্পিত সম্পত্তি আইন বহাল রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা মুখে বলা চলে। এদেশের হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও জাতিগত মানুষেরা বেঁচে আছেন এদেশের ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বদান্যতায়। যতদিন পর্যন্ত তাঁরা পাশের বাড়ির হিন্দু ব্যক্তির জমি বা দোকানের দিকে নজর না দিচ্ছেন, মন্দিরটা ভাঙ্গতে না চাইছেন, ততোদিন ঠিক আছে। কিন্তু একবার নজর দিলে আর রক্ষা নাই। রাষ্ট্রের কোন সুরক্ষা নেই। একটা সময়ে হিন্দু ভোটের দরকার হতো। জনসংখ্যা যখন ২৯ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পেরেছে, তখন তাঁদের ভোট কিছু মূল্য আর বহন করে না। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু-বৌদ্ধ-সাঁওতাল-চাকমা-গারো-মারমারা কী ভাবছেন, কিছু আসে যায় না। আমি বরাবর বলে এসেছি, এখনো মনে করি, এই দেশের ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা এই দেশে অন্য ধর্মের, অন্য জাতিসত্তার মানুষদের দেখতে চান কি না, দেখতে চাইলে কীভাবে কতোটা দেখতে চান, তার উপরেই নির্ভর করছে এখনো যাঁরা আছেন, তাঁরা থাকবেন, না কি এই দেশটি এক ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশ হবে। কয়েকদিন আগে মহালয়া গেলো। যতোজন পোস্ট দিয়েছেন, প্রায় সবাই লিখেছেন, এটা একটা শৈশবস্মৃতি মাত্র। এই প্রজন্মের পরে স্মৃতিটুকুও আর থাকবে না। তখন দুখজাগানিয়া পোস্টও আর কেউ দেবে না।

আমাদের এতো এতো বুদ্ধিজীবী, নোবেল পাওয়া শান্তিবাদী, পদকপ্রাপ্ত শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-মানবাধিকার কর্মী কেউ কিছু বললেন না। এই বিষয়ে লেখাও বাদ দিয়েছি কয়েক বছর হলো, এমনকি খবরগুলোর দিকে তাকাই না পর্যন্ত। কারণ সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে জানি, স্ট্যান্ডিং ম্যাটার পড়ার জিনিস না। তবুও আজ বোনপ্রতিম বন্ধু অদিতি কবির খেয়ার ফেসবুক দেয়ালে কয়েকদিন আগে শেয়ার করা দেবাশীষ দাসের এক পোস্ট দেখে দু’মিনিট সময় দিলাম।

তিনি লিখেছেন:
“আসুন গেল দুই মাসের প্রতিমা ভাঙার লিস্ট দেখুন ; উৎসব এর পরেও কি মনে আসে?
১.শেরপুরে ৪০ বছরের পুরনো মন্দিরের আসন্ন দুর্গাপূজার ৩ টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (শেরপুর নিউজ২৪ / তারিখ ১৩ই অক্টোবর ১৫) ২.ডিমলায় মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর (দৈনিক যুগান্তর/ ২রা সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৩.মধুখালীতে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর (দৈনিক যুগান্তর/ ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৪.সাভারে একটি মন্দিরের কয়েকটি মূর্তি ভাংচুর (শীর্ষ নিউজ ডট কম ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৫.হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রমের দুর্গাপূজার দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (একুশে টেলিভিশন ) ৬.নাটোরে মন্দিরের ৫টি মূর্তি ভাংচুর (মানব কণ্ঠ ১০ অক্টোবর ২০১৫) ৭.ফরিদপুরে প্রতিমা ভাংচুর (বিডি নিউজ ২৪/ ২২ সেপ্টেম্বর) ৮.সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় আসন্ন দুর্গা পূজার জন্য তৈরি ১৫টি প্রতিমা ৯.ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। (বিডি নিউজ ২৪/ ৭ অক্টোবর ২০১৫) ১০.বড়লেখায় দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (সিলেটটুডে ২৪/ ১৩ অক্টোবর ২০১৫) ১১.নাটোরের বড়াইগ্রামে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (আমাদের সময়ডট কম / ১০/১০/২০১৫) ১২.পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পশ্চিম অলিপুরা গ্রামের একটি মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (হিন্দু ওয়াপ ডট কম/১১/১০/২০১৫) ১৩.সিরাজগঞ্জে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর (বিএম দ্য রিপোর্ট ডট কম ০১/১০/২০১৫) ১৪. হিন্দু মন্দিরে হামলা,বগুড়ার গাবতলীতে কালি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর (০২/০৯/২০১৫) ১৫.ভালুকায় মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর (ভালুকা নিউজ ২৪ডট কম ১৩/১০/২০১৫) ১৬. কালিয়াকৈরে প্রতিমা ভাংচুর (চ্যানেল সেভেন ডট কম ১৩/১০/১৫) ১৭.রায়গঞ্জে প্রতিমা ভাংচুর (অনাবিল ডট কম ১৩/১০/২০১৫) ১৮. মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাঁছ বারইল গ্রামে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা -(বিডি লাভ ২৪ / অগাস্ট ২০১৫) ১৯. মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে প্রতাবনগর গ্রামে সার্বজনীন শিব মন্দিরের দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (বাংলাদেশ প্রতিদিন অগাস্ট ২০১৫) ২০. মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে প্রতাবনগর গ্রামে সার্বজনীন শিব মন্দিরের দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (খবর বিতান ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫) ২১. বাগেরহাটে সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা (বাংলা পোস্ট ২৪ ১৩ অক্টোবর ২০১৫) ২২. দাকোপে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (বিডি নিউজ ২৪) ২৩. বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। (এপ্রিল ২০১৫, বাগেরহাট ইনফো ) ২৪. দিনাজপুরে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ / উত্তর বাংলা ডট কম ) ২৫. হালুয়াঘাটে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫/ ময়মনসিংহ বার্তা ) ২৬. কাউনিয়ার অপরাজিতা কুঞ্জ মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (বরিশাল ওয়াচ ডট কম / অক্টোবর ২০১৫) .”

আমরা জানি, এটি চলমান এক প্রক্রিয়া। এর পরেও আরো আরো কতো প্রতিমা, কতো মন্দির ভাংলো। এই লেখাটি যখন লিখছি তখনো চোখের সামনে সাতক্ষীরায় তিনটি মন্দির ভাঙ্গার খবর। পূজা আর প্রতিমা ভাঙ্গাকে সমার্থক জেনেই এদেশের হিন্দুরা পূজা করেন। এইসব মানুষদের কোন অনুভূতি থাকতে পারে, আমাদের রাষ্ট্র আর সমাজ সে’কথা মনে করে না। যাঁরা সহানুভূতিশীল বলে দাবি করেন, তাঁরা বড়জোর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। অনেকের ফেসবুকেই দেখছি লিখছেন, ‘নিন্দা জানাই’। কার কাছে জানাচ্ছেন তাঁরা নিন্দা? তবুও এই নোটটি লিখতাম না, দিন তিন/চারেক আগে একটি চিঠি না পেলে।

আমার এক প্রাক্তন ছাত্রী লিখেছেন আমাকে ইনবক্সে, “ম্যাডাম, আমাদের বংশানুক্রমে চলে আসা পারিবারিক পূজা এবার আর করা হলো না। এতো বেশি চাঁদা চাইছে এলাকার লোকজন, নানাভাবে ডিস্টার্ব করছে। মহালয়ার দুই সপ্তাহ আগে আমাদের ভূঁই-এর সব কলাগাছ কেটে রেখে গেছে। আমার ভাইটা বড় হয়েছে, ওর প্রাণের ভয়ও আছে। নিজেরা ঘরেই ঘট পাতবো ঠিক করেছি। বড়মা বলেছেন, পূজা তো পুষ্পকর্ম। দেবীর শ্রদ্ধা তো কমে যাবে না। উৎসব না হয় না-ই হলো। বাবা তো আগেই গেছেন আপনি জানেন, বড় জ্যেঠুও দেহ রেখেছেন বছর তিনেক হলো। কাকারা মনখারাপ করলেও মেনে নিয়েছেন। ভাইটাকে নিয়ে বড় চিন্তা হয়। একটাই ভাই। কথায় কথায় থ্রেট দেয় ওকে। ভারতে চলে যেতে বলে।” চিঠিটা পড়ার পর খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছিলাম। আমার এই স্তব্ধ হয়ে থাকাটাও এক বিরাট ন্যাকামি। যেনো এই প্রথম শুনলাম এমন ঘটনা! নিজের ন্যাকামিতে লজ্জা পেয়ে একটু পরেই কলিম শরাফীর গান শুনে লজ্জা কাটিয়েছি সেদিন।

পূজা আসলেই পুষ্পকর্ম। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। শুধু ফুলটা মলিন হয়ে গেছে। এই মলিন ফুলে শুভেচ্ছা জানানো যায় কি না, সত্যিই আর ঠিক বুঝতে পারছি না।

[ড. কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।]
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger