সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

আরবের সিঙহবাহিনী দেবী আল-লাত

বাঙলার দূর্গা ত’ সিঙহবাহিনী দেবী। সিঙহের পিঠে তিনি উপবিষ্টা। একটি মজার বিষয় কি আমরা জানি?প্রাক-ইসলামী যুগের আরবের তিন প্রধানা দেবীর প্রথম নামটি যার সেই আল-লাতের বাহন ছিল সিঙহ? কয়েকদিন আগেই নেটে বিচরণ করতে গিয়ে এটা দেখেছি। ক’দিন চুপচাপ ছিলাম। আজ লিখছি। তাই বলে এটা দাবি করছি না যে আল-লাতই দূর্গা বা দূর্গা আল-লাত। তবে প্রাচীন বা মধ্যযুগে ইহুদি-খ্রিষ্টান-ইসলামী একেশ্বরবাদের আগে প্যাগান ধর্ম সারা বিশ্বে ছিল।
অঞ্চল ভেদে আলাদা আলাদা দেবতা যেমন ছিল তেম্নি গ্রিসের কেউ আফগান বা গান্ধার সীমান্তে এসে ভারতের বাসুদেবের পূজা করছেন না বা ভারতীয় দেব-দেবীরা জাপানে গিয়ে শিন্তো ধর্মে একটু ভিন্ন চেহারা বা ভিন্ন নাম পায় নি তা’ ত’ নয়। সম্প্রতি নেটে এমনি অজানা কিছু তথ্য দেখলাম। এই তথ্যগুলো পড়লে আমরা বিভিন্ন ধর্মের আন্ত:সঙযোগ সূত্র পাব।
এবার আসুন দেখি আল-লাত সম্পর্কে নেটে কি আছে ঝটপট পড়ে নিই:
ইলাত অথবা আল-লাত
মক্কার তিন প্রধান দেবীর সর্বাগ্রগণ্যা। মেসোপটেমীয় পুরাণের পাতালের দেবী এরেশকিগালের আর একটি নাম আল-লাত। কার্থেজে তাকে আল্লাতু নামে ডাকা হতো।
পেট্রা এবঙ হার্টার মানুষেরা এই দেবীকে গ্রিক আথেনা এবঙ টাইকি আর রোমান দেবী মিনার্ভার সাথে একাসনে বসিয়ে পূজা করতো। গ্রিসে বহু ভাষাভাষী শিলালিপিগুলোয় আল-লাতকে ‌মহান দেবী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাবাতিয়ানরা আল-লাতকে হুবাল বা চন্দ্রদেবতার মা হিসেবে মনে করত। সে হিসেবে তিনি আরবের তিন প্রধান দেবীর আর একজন মানাতের শাশুড়ি। ভারতীয় বা গ্রিক দেব-দেবীদের মত আরবের দেব-দেবীরা নানা সম্পর্কে সম্পর্কিত ছিলেন বলেই দেখা যাচ্ছে। যেহেতু শেষ পর্যন্ত মানবীয় পরম কল্পনা থেকেই তাদের সৃষ্টি।
গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস এই দেবীকে আফ্রোদিতির সমতূল্য জ্ঞান করে খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম অব্দে লেখেন:
এ্যাসিরীয়রা আফ্রোদিতেকে মিলিত্তা বলে, আরবরা বলেন আলিলাত এবঙ পার্সীরা মিথরা। ভারতীয় দেবতা মিত্রের সাথে এই দেবতার সঙযোগ আছে।

হেরোডোটাসের এই স্তবক একারণে গুরুত্বপূর্ণ যে আরব ব্যকরণের গুরুত্বপূর্ণ সর্বনাম আল (ইঙরেজি দ্য বা ফরাসী লো/লা বোঝাতে)এই দেবীর নামের সাথে যুক্ত। আবার প্রোটো-ইন্দো-ইরানীয় দেবতা মিত্রের সাথে এই দেবী সঙযুক্ত। হেরোডোটাসের মতে, প্রাচীন যুগের আরবরা মাত্র দু’জন দেবতায় বিশ্বাসী ছিলেন:
আরবরা দায়োনিসাস এবঙ স্বর্গীয়া আফ্রোদিতি ছাড়া কাউকে দেবতা মানে না; এবঙ তারা বলে তারা দায়োনিসাসের কায়দায় চুল কাটে, মাথার চারপাশে চুল গোল করে কাটে। তারা আফ্রোদিতেকে আলিলাত বলে।
কোরানের সুরা ৫৩:১৯-২৩-এ আল-উজ্জা এবঙ মানাতের সাথে এই দেবীর নাম করা হয়েছে। ইসলামের শুরুর দিকের বই-পত্রে যেগুলোয় প্রাক-ইসলামী যুগের বিবরণ রয়েছে তেমন একটি বই কিতাব আল-আসনাম (রচয়িতা হিশাম ইবন আল-কলবি)-এ বলা হয়েছে যে প্রাক-ইসলামী যুগের আরবরা বিশ্বাস করতো যে আল-লাত কাবায়বাস করেন এবঙ মন্দিরের ভেতরে তার একটি বিগ্রহ ছিল। উল্লেখ্য, আরবি কাবা শব্দের মূল অর্থ অতীতে ছিল মন্দির।
আল-লাতের সুরক্ষা ছিল থাকিফ গোত্রের বানু আত্তব ইবন মালিকের হাতে যিনি এই দেবীর উদ্দেশ্যে একটি সেৌধ গড়ে তোলেন। কুরাইশ গোত্র সহ সব আরবেরাই আল-লাতকে সম্মান করতেন এবঙ সন্তানদের জাইদ আল-লাত বা তায়িম আল-লাত বলে ডাকতেন। মুসলিম সৈন্যদের বিজয়ের পর প্রফেটের নির্দেশে যোদ্ধা আল-মুঘিরা ইবন-সুবাহ দেবী আল-লাতের মন্দির পুড়িয়ে এবঙ মাটিতে মিশিয়ে দেন। এই দেবীর বিশেষ পূজারী থাকিফ তখন ধর্মান্তরিত হন।
সিরিয়ার পালমিরায় সিঙহবাহিনী আল-লাতের বাহন সিঙহের মূর্তি
খ্রিষ্টিয় প্রথম শতাব্দীতে নির্মিত এই মূর্তি উচ্চতায় ৩.৫ মিটার এবঙ ১৫টন ভারি। দেবী আল-লাত রক্তপাত ঘটানো সমর্থন করতেন না। সিঙহটির বাম পায়ে খোদিত রয়েছে পালমিরেন অক্ষর: তবরক লত (আল-লাত তাকে আশীর্ব্বাদ করেন) মন দভ লিসদ (যে রক্তপাত ঘটায় না) দম ল হযব (এই অভয়াশ্রমে)।
সিঙহের এই মূর্তিটি ড. মিশেল গউলিকোয়োস্কির তত্ত্বাবধানে একদল পোলিশ প্রত্নতাত্ত্বিক ১৯৭৭ সালে আবিষ্কার করেন। ২০১৫-এর ২৭ শে জুন আইসিস এই মূর্তিটি ধ্বঙস করে।

Written by: AUDITY FALGUNI GAYEN·
SUNDAY, OCTOBER 18, 2015
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger