সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি পর্ব ০২

অঞ্জনা

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে— বিশ্বামিত্রের দ্বারা অভিশপ্ত, কুঞ্জরতনয়া নামক এক বানরীরূপী বিদ্যাধরী গর্ভে অঞ্জনার জন্ম হয়। সুমেরুর রাজা কেশরীর সাথে অঞ্জনার বিবাহ হয়। পবনদেবের ঔরসে এবং এঁর গর্ভে- হনুমানের জন্ম হয়েছিল।

অণীমাণ্ডব্য

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে– জনৈক মৌন ঋষি। এঁর প্রকৃত নাম ছিল মাণ্ডব্য। একদিন ইনি তাঁর আশ্রমের প্রবেশদ্বারের কাছে যোগাভ্যাসে মগ্ন ছিলেন। এমন সময় একদল চোর চুরি করে নগরপালের তাড়া খেয়ে এই আশ্রমে প্রবেশ করে এবং আশ্রমের এক কোণে লুকিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর নগরপাল ওই চোরগুলিকে খুঁজতে খুঁজতে আশ্রমে এসে উপস্থিত হন। নগরপাল মুনিকে চোরদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, এই ঋষি মৌন-যোগাভ্যাসে থাকার জন্য কোন উত্তর করলেন না। বেগতিক দেখে চোরেরা চুরিকৃত মালামাল রেখেই পালিয়ে যায়। নগরপাল মুনির কাছ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে, আশ্রম তল্লাসী করে চুরিকৃত দ্রব্যাদি পায়। ফলে নগরপাল চোরদের আশ্রয়দাতা হিসাবে, বিচারের জন্য মুনিকে রাজদরবারে নিয়ে আসে। রাজা বিচার করে এই মুনির শূলদণ্ডের আদেশ দেন।

যথাসময়ে এই আদেশ কার্যকর করার জন্য এঁকে শূলে চড়ানো হয়। কিন্তু শূলে দীর্ঘকাল কাটানোর পরও, তাঁর মৃত্যু না হলে− রাজা এসে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তাঁকে মুক্তি দেন। কিন্তু তাঁকে শূল থেকে নামানোর চেষ্টা করা সময় দেখা গেল যে, শূল থেকে ইনি বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। ফলে শূলের বাইরের অংশটুকু কেটে বাদ দেওয়া হয়। এই ভাবে শূলবিদ্ধ অবস্থায় ইনি বহুতীর্থ পরিভ্রমণ করেন। এই থেকে তাঁর নাম হয় অণীমাণ্ডব্য। উল্লেখ্য অণী অর্থ-শূলের অগ্রভাগ।

মুনি অত্যন্ত গ্লানি নিয়ে, একদিন যমরাজের কাছে তাঁর এই শাস্তির কারণ জানতে চাওয়ায়− যমরাজ বলেন যে, 'বাল্যকালে আপনি একটি পতঙ্গের মলদ্বারে তৃণ প্রবেশ করিয়েছিলেন- সেই পাপের ফল আপনাকে ভোগ করতে হচ্ছে।' মুনি এতে রাগান্বিত হয়ে বললেন. 'লঘু পাপে আপনি আমাকে গুরু দণ্ড দিয়েছেন। এই কারণে, আপনাকে শাস্তি স্বরূপ শূদ্রযোনিতে জন্মগ্রহণ করতে হবে।' এই অভিশাপের কারণে, পরবর্তী কালে যমরাজ, বিচিত্রবীর্যের প্রথমা স্ত্রী অম্বিকার শূদ্র দাসীর গর্ভে এবং ব্যাসদেবের ঔরসে বিদুররূপে জন্মেছিলেন। মুনি এরপর একটি আইন প্রবর্তন করেন। আইনটি হলো চৌদ্দ বৎসরের পূর্বে অজ্ঞানকৃত পাপের জন্য কেউ দণ্ডভোগ করবে না এবং পঞ্চদশ বর্ষ অবধি কর্ম্মানুসারে ফললাভ হবে।

অণূহ

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে– ভরতবংশীয় বিভ্রাজের পুত্র। স্ত্রীর নাম ছিল কৃত্বী। এঁদের পুত্রের নাম ছিল ব্রহ্মদত্ত।

অত্রি
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে– ইনি ছিলেন ব্রহ্মার মানস পুত্র। মহাভারতের শান্তিপর্বের অষ্টাধিকদ্বিশততম অধ্যায়ের প্রজাপতিবিবরণ-সৃষ্টিবিস্তারে বলা হয়েছে– 'প্রথমে কেবল একমাত্র সনাতন ভগবান্ ব্রহ্মা বিদ্যামান ছিলেন। অনন্তর তাঁহার মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু ও বশিষ্ঠ এই সাত অগ্নিতুল্য পুত্রের উৎপত্তি হয়।

মার্কেণ্ডয় পুরাণের মতে– নয়জন মানস পুত্রের সৃষ্টি করলেন। তাঁদের নাম ভৃগু, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু, অঙ্গিরা,মরীচি, দক্ষ, অত্রি, বশিষ্ঠ । এঁর স্ত্রীর নাম অনসূয়া। এঁদের তিনটি পুত্র সন্তান ছিল। এঁরা ছিলেন- চন্দ্র, দুর্বাসা এবং দত্তাত্রেয়। [সৃষ্টির কথা, মার্কণ্ডেয় পুরাণ]

অত্রির বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন– প্রাচীনবর্হি। প্রাচীনবর্হির মোট দশজন পুত্র ছিল– এঁরা প্রচেতা নামে পরিচিত।
[অষ্টাধিকদ্বিশততম অধ্যায়। প্রজাপতিবিবরণ-সৃষ্টিবিস্তার। শান্তিপর্ব। মহাভারত]




অত্রিজ

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে– অত্রিজাত অর্থে চন্দ্রের অপর নাম অত্রিজ। অত্রি মুনির চোখের জল থেকে চন্দ্রের উৎপন্ন হয়েছিল বলে চন্দ্রকে এই নামে ডাকা হয়। এর অপরাপর নাম অত্রিজাত, অত্রিনেত্রজে, অরত্রিনেত্রপ্রসূত, অরত্রিনেত্রপ্রভব, অরত্রিনেত্রভব, অরত্রিনেত্রভূ।


অদিতি

হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র। ইনি ছিলেন দক্ষের কন্যা এবং মহর্ষি কশ্যপের স্ত্রী। এর গর্ভে- বারজন দেবতার জন্ম হয়েছিল। এঁর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী দেবতারা আদিত্য নামে খ্যাত। সাধারণভাবে এঁরা দ্বাদশ আদিত্য নামে পরিচিত। এঁরা হলেন- অর্যমা, ত্বষ্টা, ধাতা, পূষা, বরুণ, বিবস্বান, বিষ্ণু, ভগ, মিত্র, রুদ্র, সবিতা ও সূর্য। তৈত্তিরিয়ে আদিত্যের সংখ্যা ৮। এরা হলেন— অংশ, অর্যমা, ইন্দ্র, ধাতা, বরুণ, বিবস্বান, ভগ ও মিত্র। ঋকবেদে আদিত্যের সংখ্যা মোট ৬। এরা হলেন— অং, অর্যমা, দক্ষ, বরুণ, ভগ ও মিত্র।

দেবতাদের সমুদ্রমন্থনে যে কুণ্ডল উত্থিত হয়েছিল, ইন্দ্র তা এঁর হাতে অর্পণ করেছিলেন। বামন অবতারে বিষ্ণু এঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পারিজাত নিয়ে বিষ্ণু ও ইন্দ্রের মধ্যে যে বিবাদ হয়েছিল, ইনি তা মিটিয়ে দিয়েছিলেন।

এঁর অন্যান্য নাম:
১.দেবতারা এঁর গর্ভে জন্মেছিলেন বলে- এঁর অপর নাম- দেবমাতা।
২. অমৃতদের (দেবতা) সু (প্রসবকারিণী), এই অর্থে এঁর অপর নাম- অমৃতসু।

অদিতির বারটি পুত্রকে অদিতিজ নামে অভিহিত করা হয়। এই পুত্ররা হলেন- ইন্দ্র, বিষ্ণু, সূর্য, ত্বষ্টা, বরুণ, অংশ, অর্যমা, রবি, পুষা, মিত্র, বরদমনু ও পর্জন্য। একই অর্থে এঁদের অন্যান্য নাম অদিতিতনয়, অদিতিনন্দন, অদিতিপুত্র, অদিতিসূত।


অনিরুদ্ধ

ইনি ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ-এর নাতি ও প্রদ্যুম্নের পুত্র। যুদ্ধে এঁর গতি কেউই রোধ করতে পারত না বলে এঁর নাম হয়েছিল অনিরুদ্ধ। ভোজকটের রাজা রুক্মীর পৌত্রী সুভদ্রার সাথে এঁর প্রথম বিবাহ হয়। এঁর গর্ভে এঁর বজ্র নামে একটি পুত্র সন্তান জন্মে। এরপর দৈত্যরাজ বাণের কন্যা ঊষার সাথে এঁর বিবাহ হয়। যদুবংশ ধ্বংসের সময় ইনি নিহত হয়েছিলেন।


অপ্সরা

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে− অপ্ (জল) থেকে এদের উৎপন্ন হয়েছিল বলে এঁদের নাম- অপ্সরা। দেবাসুরের সমুদ্রমন্থনকালে এঁরা সমুদ্র থেকে উত্থিত হয়েছিলেন। দেব-দানব কেউ এদের গ্রহণ না করায়− এঁরা সর্বসাধারণের স্ত্রীরূপে গণ্য হলেন। অবশ্য অধিকাংশ অপ্সরার স্বামী ছিলেন গন্ধর্বরা। অপ বা জল থেকে উৎপন্ন হন নি, এমন কিছু অতুলনীয় নারীকেও অপ্সরা হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে স্বর্গের কিছু স্বাধীনা অপ্সরাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

মনুসংহিতার মতে− এঁদেরকে সপ্তম মনু সৃষ্টি করেছিলেন। এদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ হাজার। কামদেবতা ছিলেন এঁদের অধিপতি। অপ্সরারা নৃত্যকলায় পারদর্শী ছিলেন। অধিকাংশ সময় গন্ধর্বরাদের সাথে এঁরা ইন্দ্র-এর সভায় নর্তকী হিসাবে যোগদান করতেন। দেবতাদের এঁরা বিভিন্নভাবে সাহায্য করতেন। বিশেষ করে যখন কোনো মানুষ, তপস্যা দ্বারা নিজেকে দেবতুল্য করে তুলতে আগ্রহী হয়ে উঠতেন, তখনই এদের তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য দেবতারা এদেরকে নিয়োগ করতেন। এঁরা পাশা খেলায় পারদর্শী ছিলেন। এঁরা মায়ারূপিণী। নিজেদের শরীর নানাভাবে পরিবর্তিত করতে সক্ষম ছিলেন। এরা পুরাকালে- নানাভাবে মানুষদেরকে সাহায্য করতেন।


হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিগুলোতে যে সকল অপ্সরার নাম পাওয়া যায়, সেগুলো হলো− অদ্রিকা, অরুণা, অলম্বুষা, অসিতা, উর্বশী, ঘৃতাচী, জানপদী, তিলোত্তমা, নাগদত্তা, পুঞ্জিকাস্থলা, বিদু্যত্পর্ণা, বিশ্বাচী, পঞ্চচূড়া, পূর্বচিত্তি, মিশ্রকেশী, মেনকা, রক্ভা, রুচিরা, সুকেশী, সুবাহু, সুমধ্যা, সোমা, হেমা।





অবতার
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে– মানুষ, অতিমানব বা প্রাণীর আকারে আবির্ভূত হিন্দু দৈবশক্তি (বিশেষত বিষ্ণু)। এই অর্থে- অবতার। (রামচন্দ্র নারায়ণের অবতার ছিলেন)।

হিন্দু ধর্মমতে দেবতারা সৃষ্টির কল্যাণের জন্য কখনো কখনো মানুষ বা অন্য কোনো মূর্তিতে আবির্ভূত হতেন। দেবতাদের এরূপ আবির্ভাবকে অবতার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এরূপ বিষ্ণুর দশ অবতার সম্পর্কে হিন্দু পুরাণে উল্লেখ রয়েছে।

সত্যযুগে আবির্ভূত চার অবতার:
১. মৎস্য অবতার,
২. কূর্ম অবতার,
৩. বরাহ অবতার
৪. নৃসিংহ অবতার।

ত্রেতাযুগের তিন অবতার :
৫. বামন অবতার,
৬. পরশুরাম অবতার
৭. রামচন্দ্র

দ্বাপর যুগের অবতার :
৮. কৃষ্ণ : ইনি দ্বাপর যুগের একমাত্র অবতার। এঁর সময় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

কলি যুগের অবতার :
৯. বুদ্ধ
১০. কল্কি অবতার।



অভিমন্যু

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে এই নামে একাধিক চরিত্র পাওয়া যায়। যেমন–

১. তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুনের ঔরসে ও সুভদ্রার গর্ভে এঁর জন্ম হয়েছিল। ইনি নির্ভীক ও মন্যুমান (ক্রোধী বা তজস্বী) বলে তাঁর নাম অভিমন্যু [মন্যুকে (ক্রোধকে) অভিগত/দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।]।

ইনি শৈশবেই তাঁর পিতা অর্জুনের কাছে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা করেছিলেন। অর্জুনের ইচ্ছায় ইনি বিরাটরাজের কন্যা উত্তরাকে বিবাহ করেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ইনি যখন অংশ নেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ষোল বৎসর। এই যুদ্ধের প্রথমাবস্থায়, ইনি বহু কুরুসৈন্যকে হত্যা করেছিলেন। যুদ্ধের ত্রয়োদশ দিনে দ্রোণাচার্য অভেদ্য চক্রব্যূহ রচনা করেন। একমাত্র অর্জুনই এই চক্রব্যূহ ভেদ করতে সক্ষম ছিলেন। এ ছাড়া অভিমন্যু এই চক্রব্যূহে প্রবেশের কৌশল জানতেন, কিন্তু নির্গমের কৗশল জানতেন না। কিন্তু এই সময় অর্জুন সংশপ্তকদের সাথে যুদ্ধের কারণে অন্যত্র ছিলেন। দ্রোণাচার্যকে বাধা দেবার কোনো উপায় না দেখে অভিমন্যু এই ব্যূহ ভেদ করার জন্য যুধিষ্ঠিরের কাছে আবেদন করেন। কোনো উপায় না দেখে এবং অভিমন্যুর জিদের কারণে যুধিষ্ঠির শেষ পর্যন্ত ব্যূহ ভেদ করার অনুমতি দেন এবং যুধিষ্ঠির তাঁকে এই আশ্বাসও দিয়েছিলেন যে, অভিমন্যুকে তিনি রক্ষা করবেন।

ব্যূহে প্রবেশ করে ইনি শল্যপুত্র রুক্ষ্মরথ, কর্ণের এক ভাই ও দুর্যোধনের পুত্র লক্ষ্মণ প্রভৃতিকে হত্যা করেন। ক্রমে ক্রমে অভিমন্যু অপরাজেয় হয়ে উঠলে– জয়দ্রথ ব্যূহমুখ রুদ্ধ করে পাণ্ডবদের সকল সাহায্য বন্ধ করে দেন। এরপর দ্রোণ, কৃপ, কর্ণ, অশ্বত্থামা, বৃহদ্বল ও কৃতবর্মা- এই ছয়জন অভিমন্যুকে বেষ্টন করেন। একে একে অভিমন্যুর সকল অস্ত্র ও রথ ধ্বংস হলে- দুঃশাসনের পুত্র তাঁর মস্তকে গদাঘাত করেন এবং শেষ পর্যন্ত দুঃশাসনের হাতে ইনি নিহত হন। তৎকালীন রীতি অনুসারে অভিমন্যু-হত্যার এই প্রক্রিয়াটি অন্যায় ছিল। অবশ্য পরে এই অন্যায় যুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন– অভিমন্যুর পিতা অর্জুন। অভিমন্যুর মৃত্যুকালে উত্তরা গর্ভবতী ছিলেন। এঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র পরীক্ষিতের জন্ম হয়েছিল। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাণ্ডবদের সকল পুত্র নিহত হলে– একমাত্র পরীক্ষিতই পাণ্ডবদের বংশ রক্ষা করেছিলেন।

২. বিষ্ণুপুরাণের মতে, চাক্ষুষ মনুর পুত্রের নাম। এঁর মায়ের নাম ছিল নচলার।
৩. রাধিকার স্বামী আয়ানের পূর্বনাম ছিল- অভিমন্যু।


অম্বরীষ

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে এই নামে এই একাধিক চরিত্র পাওয়া যায়। যেমন–

১. ইনি সূর্যবংশীয় রাজা নাভাগের অত্যন্ত বিষ্ণুভক্ত পুত্র। রাজা হিসাবে ইনি অত্যন্ত প্রজাবৎসল ছিলেন। এ কারণে বিষ্ণু, এই রাজার রাজ্য রক্ষার জন্য তাঁকে সুদর্শন-চক্র দান করেছিলেন।

একবার অম্বরীষ বর্ষব্যাপী ব্রত উদ্যাপন শেষে, তিন দিনের উপবাসকাল সমাপ্ত করেন এবং দ্বাদশী তিথিতে পারণে বসার উদ্যোগ নেন। এমন সময় দুর্বাসা মুনি তাঁর কাছে খাদ্য প্রার্থনা করেন। রাজা তাতে সম্মতি জানালে– দুর্বাসা স্নান করতে গেলেন। স্নান থকে এঁর ফিরতে দেরি হলে– সমাগত ব্রাহ্মণদের অনুমতি নিয়ে রাজা আসনে বসে বিষ্ণুপাদোদক পান করেন। দুর্বাসা স্নান থেকে ফিরে সমস্ত বিষয় জেনে ক্রোধে তাঁর জটা ছিন্ন করে ভূতলে নিক্ষেপ করেন। এই জটা থেকে এক উগ্রদেবতার উদ্ভব হয়। উক্ত দেবতা আবির্ভূত হয়েই অম্বরীষকে হত্যা করতে উদ্যত হলে, বিষ্ণু প্রদত্ত সুদর্শন চক্র সেখানে এসে উগ্রদেবকে ভষ্মীভূত করে দুর্বাসাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। দুর্বাসা এই চক্রের আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শ্রীকৃষ্ণের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। শ্রীকৃষ্ণ অম্বরীষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর দুর্বাসা অম্বরীষের কাছে ক্ষমা চেয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করলে– ইনি রক্ষা পান। এর কিছুদিন পর অম্বরীষ তাঁর পুত্রদের হাতে রাজ্যভার অর্পণ করে তপস্যার জন্য বনবাসী হন।
২. পুলহ-নামক জনৈক ব্রহ্মর্ষির পুত্র।
৩. নরক বিশেষ।
৪. মান্ধাতার ঔরসে বিন্দুমতীর গর্ভে এঁর জন্ম হয়েছিল। এঁর অপর নাম হলো ধর্মসেন।
৫. সূর্যবংশীয় সুশ্রুকের পুত্র। ইনি একটি যজ্ঞের আয়োজন করলে, ইন্দ্র যজ্ঞের পশু অপহরণ করেন। পরে তিনি যজ্ঞ সম্পন্ন করার জন্য ঋচিক মুনির পুত্র শুনঃশেফকে ক্রয় করেছিলেন।
৬. মহাদেব ও বিষ্ণুর অপর নাম।

অম্বষ্ঠ-বৈদ্য

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে একটি বর্ণ বিশেষ। বৈদ্য শব্দের অর্থ –চিকিৎসক। প্রাচীনকালে এদের বৃত্তি ছিল চিকিৎসা করা। ধীরে ধীরে এই শব্দ জাতিবাচক শব্দে পরিণত হয়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে অম্বষ্ঠ ও বৈদ্য নামক দুটি জাতির উল্লেখ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় পরবর্তীকালে উভয় জাতি এক সাথে মিশে এই অম্বষ্ঠ-বৈদ্য নামে পরিণত হয়।





















Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger