সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বৈদিক খাদ্য বিধি

" পাষণ্ড তারা যারা প্রানি-মাংস ভোজন করে। তারা যেন প্রকারান্তরে বিষপান করে। ইশ্বর তাদের যেন উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেন।" ঋগ্বেদ ১০.৮৭.১৬-১৯

"মানুষ তখনই কলুষিত হয় তখন যখন সে মাংস ভক্ষন, সুরাপান ও জুয়া খেলায় লিপ্ত হয়।" অথরববেদ ১.৬০.৭




বৈদিক শাস্ত্রসমূহ সবসময়ই উদ্ভিজ্জ খাদ্য গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে এসেছে। কিন্তু অধুনা কিছু নাস্তিক ও আব্রাহামিক বর্বররা বলতে চাইছে উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়না।কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বরাবরই সত্য জ্ঞান(বেদ) এর কথা ই বলে। দেখে নেই-

একাডেমী অব নিউট্রিশন এন্ড ডায়েটিকস ও ডায়েটিয়েন্স অব কানাডা প্রমান করেছে যে উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মাধ্যমে জীবনধারন,"স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিগতভাবে পর্যাপ্ত ও রোগপ্রতিরোধক।" দেখা গেছে উদ্ভিজ্জভোজীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ এর সম্ভাবনা প্রানীভোজীদের চেয়ে ৩০% কম। এটি শরীরে ক্ষতিকর ফ্যাট কমায় এবং ডায়েটারি ফাইবার,ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম,ফোলেট এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট,ভিটামিন সি এবং ই ও ফাইটোকেমিকেলস বাড়ায়।

এছাড়া উদ্ভিজ্জভোজীদের BMI (Body Mass Index) কম থাকে,ব্লাড প্রেসার,ডায়াবেটিস,রেনাল ডিসিস,মেটাবোলিক সিনড্রোম,আলঝেইমার ডিসিসসহ নানা রোগ এর ঝুঁকি কম থাকে। অপরদিকে মাংসভোজীদের বিশেষ করে গরুর মাংস(লালমাংস) খাদ্যনালী,যকৃত,কোলন ও ফুসফুস এর ক্যন্সার এর প্রবনতা বেশি থাকে। ২০১০ সালে করা গবেষনায় আরো দেখা যায় যে উদ্ভিজ্জভোজীরা সাধারনত অধিকতর প্রফুল্লতা ও মেধার অধিকারী হয়।আবার কিছু গবেষনায় দেখা যায় যে হাড় এর উপর প্রানীজ প্রোটিন এর ক্ষতিকর প্রভাব আছে যার কারনে উদ্ভিজ্জভোজীরা বিভিন্ন হাড়ের রোগ যেমন অস্টিওপোরোসিস এ কম ভোগে।

অপরদিকে চিনা-করনেল-অক্সফোর্ড প্রজেক্ট যা ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড কর্তৃক পরিচালিত ২০ বছর মেয়াদী একটি খাদ্য গবেষনা প্রকল্প তা নিশ্চিত করে যে প্রানীভোজীরা হৃদরোগ,ডায়াবেটিস,ব্রেস্ট ক্যন্সার এবং বাওয়েল ডিসিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী অসুখে বেশি ভোগে।

আবার অনেকেই মনে করেন উদ্ভিজ্জ খাদ্য দেহের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারেনা এমন ধারনাকে ভূল প্রমান করেছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও USA,UK এবং নিউজিল্যন্ডের বিজ্ঞানীরা।তারা জানিয়েছে সাধারন মানুষের তো বটেই এমনকি এথলেট ও বডিবিল্ডার্সদেরও চাহিদা সম্পূর্নভাবে পূরন করতে পারে উদ্ভিজ্জ খাদ্যসমূহ।(মলিউকুলার বেসিস অব হিউম্যন নিউট্রিশন,টেইলর এন্ড ফ্র্যন্সিস)

মানবজাতির ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ এবং বিশ্বের পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধের লড়াইয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে নিরামিষভোজনকে কার্যকরী পন্থা বলেই মানছেন গবেষকরা।

পরিবেশ সচেতন নানা পদক্ষেপের মধ্যে অনেক দেশই আজকাল বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে কম কার্বন নির্গমণের জন্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে মনোনিবেশ করেছে। এতে কিছু উপকার হলেও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিরামিষাশী হওয়ার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত কার্যকর ভাবে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক এক জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কু-প্রভাব মোকাবেলায় নিরামিষ খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, গোটা বিশ্বে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য গবাদি পশুপালন অনেকটাই দায়ী৷পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কারণগুলোর মধ্যে এটি একটি। খামারে যে পশুপালন করা হয় সেই পশুদের জন্য খাবার হিসাবে বিপুল পরিমাণ শস্যকণা এবং পানির ব্যবহার থেকে শুরু করে পশু হত্যা এবং তাদের মাংস বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ, প্রক্রিয়াজাত করা পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপই জ্বালানি-নিবিড় হওয়ায় তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পশুর জন্য চারণভূমির তৈরির জন্য বন পোড়ানোয় প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমণ বেড়ে যায়।খামারের পশুদের জন্য শস্য উৎপাদন করতে একরের পর একর বন পোড়ানোর কারণে গাছে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়ে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে। তাছাড়া, পশুর বিষ্ঠা থেকেও বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমণ ঘটে। ২০০৬ সালের এক জাতিসংঘ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণ ঘটে মাংস ভক্ষণের কারণে। আর ২০০৯ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াচ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হার প্রায় ৫০ শতাংশ। কিন্তু বিশ্বে বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির দেশগুলোতে মাংস খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে৷ অথচ পরিবেশের জন্য এর পরিণাম ভয়াবহ৷ এখন সঠিক পথ বেছে নেয়ার দায়িত্ব আপনাদের।

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

Collected from: Agneebir Bangla
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger