সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বেদের উল্লেখিত দেবতাগুলো কি?

আজ আলোচনা করব পবিত্র বেদ সম্বন্ধে সাধারনের একটি অত্যন্ত প্রচলিত অথচ ভূল ধারনা নিয়ে আর সেটি হচ্ছে বেদের প্রত্যেকটি মন্ত্রের দেবতা নিয়ে।

আপনারা সকলেই জানেন যে পবিত্র বেদের প্রত্যেকটি মন্ত্রেরই এক বা একাধিক দেবতা রয়েছে।পবিত্র বেদ সম্বন্ধে জ্ঞানের অভাব থাকায় আমরা অধিকাংশ ই মনে করি এগুলো হল মানুষ আকৃতির বিভিন্ন দেবতা যাদেরকে ওই মন্ত্রটিতে স্তুতি করা হয়েছে। অথচ এক ও অদ্বিতীয় পরমেশ্বরের ঘোষনা দেয়া পবিত্র বেদে এরকম কোন দেবতা ই নেই।তাহলে প্রত্যেকটি মন্ত্রের সাথে উল্লেখিত এই দেবতাগুলো কি?

আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন যে পবিত্র বেদের অধ্যয়সূচী(Index) যাতে প্রত্যেকটি মন্ত্রের অধ্যয়,সেই মন্ত্রের দ্রষ্টা ঋষি এবং সেই মন্ত্রের দেবতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে তাকে বলা হয় অনুক্রমনি।এরকম বেশ কয়েকটি অনুক্রমনির মধ্যে ঋষি কাত্যায়ন এর সর্বানুক্রমনি সবচেয়ে খ্যতনামা বলে বিবেচিত।এই সর্বানুক্রমনিতে ঋষি কাত্যায়ন মন্ত্রের দেবতা কি তার ব্যখ্যায় বলেছেন-

"যা তেন উচ্চতে সা দেবতা" অর্থাত্‍ মন্ত্রের যে বিষয়বস্তু অর্থাত্‍ যা নিয়ে মন্ত্রে কথা বলা হয়েছে তাই ওই মন্ত্রের দেবতা।

মহর্ষি যস্কাযার্চ লিখিত বৈদিক শব্দকোষ ও ব্যকরন গ্রন্থ নিরুক্ত সংহিতায় বলা হয়েছে-
"যত্কাম ঋষির্যেস্যাং দেবতাযামার্থপত্যম্ ইচ্ছত্ স্তুতিং প্রযুক্তেতম্ দেবতঃ স মন্ত্রো ভবতি।।" অর্থাত্‍ যখন ঈশ্বর কোন একটি বিষয়ের সম্বন্ধে আমাদের মন্ত্রের মাধ্যমে শিক্ষা দেন তখন মন্ত্রের সেই বিষয়টিকে দেবতা বলা হয়।

উদাহরনস্বরুপ ঋগ্বেদ ১০.১৫১ এর দেবতা হল 'শ্রদ্ধা' এবং এই সুক্তের আলোচ্য বিষয় হল ঈশ্বর ও গুরুজনে শ্রদ্ধা বা সম্মান।

ঋগ্বেদ ১০.১১৭ এর দেবতা হল 'ধনদানপ্রশংসা' এবং এই সুক্তের মন্ত্রসমূহের আলোচ্য বিষয় হল গরীবদুঃখীদের দানে উত্‍সাহিত ও উদ্বুদ্ধ করা।

ঋগ্বেদ ১০.১৪৬ এর দেবতা হল 'দ্যুতনিন্দা' এবং তাই এর আলোচ্য বিষয়বস্তু হল জুয়াখেলার অপকারিতা ও নিষিদ্ধতা।

ঋগ্বেদ এর প্রথম মন্ডলের প্রথম সুক্তের দেবতা হল 'অগ্নি'।
আজ ম্যাক্সমুলার সহ বিদেশী মিশনারীদের অপপ্রচারের কারনে একে সবাই নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত আলাদা একটি দেবতা মনে করে যদিও তা সম্পূর্ন ভূল।নিরুক্ত সংহিতায় স্পষ্টভাবে এই অগ্নি যে পরমাত্মার ই অনেকগুলো নামের একটি তা বলা হয়েছে-

"জ্ঞানং গমনং প্রাপ্তিশ্চেতি। পূজনং নাম সত্‍কারঃ। যোঃঞ্চতি অচ্যতেঃ গত্যঙ্গত্যেতি বা সোঃয়মাগ্নি।। অর্থাত্‍ জ্ঞানস্বরুপ,সর্বজ্ঞ, জানিবার,পাইবার ও উপাসনার যোগ্য পরমেশ্বরের নাম ই অগ্নি!

একইভাবে ইন্দ্র শব্দটির অর্থও ব্যখ্যা করা হয়েছে নিরুক্ত সংহিতায়- "য় ইন্দতি পরমৈশ্বর্য্যবান ভবতি স ইন্দ্র পরমেশ্বরঃ" অর্থাত্‍ যখন পরমেশ্বরকে নিখিল ঐশ্বর্য্যশালী হিসেবে বর্ননা করা হয় তখন তাঁর নাম বলা হয় ইন্দ্র!

ঠিক একইভাবে মিত্র,বরুন ইত্যাদি নামসমূহও ঈশ্বরের বিভিন্ন গুনবাচক নামরুপে ব্যবহৃত হয়,মনুষ্য আকৃতিবিশিষ্ট দেবতা বোঝাতে নয়।এজন্যই পবিত্র বেদ ঘোষনা করেছে-

"ইন্দ্রং মিত্রং বরুণমগ্নিমাহুরথো দিব্যঃ স সুপর্ণো গরুত্মান্।
একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি অগ্নিং যমং মাতরিশ্বানামাহুঃ।।"
(ঋগ্বেদ ১.১৬৪.৪৬)
অনুবাদ-সেই এক ও অদ্বিতীয় পরমসত্য ঈশ্বরকে জ্ঞানীগন বিভিন্ন নামে অবহিত করে থাকেন,কেউ অগ্নি,কেউ ইন্দ্র,কেউ যম,কেউ বরুণ,কেউ গরুত্মান কেউবা মাতরিশ্বা!"

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

Collected From: Agneebir Bangla
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger