সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

হিন্দুধর্মে অবতার

 হিন্দুধর্মে অবতার, আক্ষরিক অর্থে অবতরণকারী বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় মর্ত্যে অবতীর্ণ পরম সত্ত্বাকে বোঝায়। কেবলমাত্র পরম সত্ত্বা বা পরমেশ্বরের অবতারগুলিই ধর্মানুশীলনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এই সকল অবতার সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও অতিলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন। অন্যান্য অবতারগুলি ঈশ্বরের গৌণ সত্ত্বার রূপ অথবা কোনো গৌণ দেবদেবীর অবতার। এই শব্দটি হিন্দুধর্মে মূলত বিষ্ণুর অবতারদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। হিন্দুধর্মের অন্যতম বৃহৎ শাখা বৈষ্ণবধর্মে এই সকল অবতারের পূজার বিধান রয়েছে। বৈষ্ণবরা বিষ্ণুর দশাবতারকে পরমেশ্বরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যরূপে কল্পনা করেন। পুরাণে শিব ও গণেশের অবতারের কথাও পাওয়া যায়। গণেশ পুরাণ ও মুদগল পুরাণ-এ গণেশের অবতারসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তবে এই সকল অবতারের তুলনায় হিন্দুধর্মে বিষ্ণুর অবতারগণের গুরুত্ব অধিক।
বিষ্ণুর দশ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ অবতার দশাবতার নামে পরিচিত। দশাবতারের তালিকাটি পাওয়া যায় গরুড় পুরাণ গ্রন্থে। এই দশ অবতারই মানব সমাজে তাঁদের প্রভাবের ভিত্তিতে সর্বাপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হন।
দশাবতারের প্রথম চার জন অবতীর্ণ হয়েছিলেন সত্যযুগে। পরবর্তী তিন অবতারের আবির্ভাব ত্রেতাযুগে। অষ্টম অবতার দ্বাপরযুগে এবং নবম অবতার কলিযুগে অবতীর্ণ হন। পুরাণ অনুসারে, দশম অবতার এখনো অবতীর্ণ হননি। তিনি ৪২৭,০০০ বছর পর কলিযুগের শেষ পর্বে অবতীর্ণ হবেন।

গরুড় পুরাণ অনুসারে বিষ্ণুর দশ অবতার হলেন ----- -
১. মৎস্য, মাছের রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
২. কূর্ম, কচ্ছপের রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৩. বরাহ, শূকরের রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৪. নরসিংহ, অর্ধনরসিংহ রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৫. বামন, বামনের রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৬. পরশুরাম, পরশু অর্থাৎ কুঠারধারী রামের রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৭. রাম, রামচন্দ্র, অযোধ্যার রাজপুত্রের রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৮. কৃষ্ণ, দ্বাপরযুগে ভ্রাতা বলরামের সঙ্গে অবতীর্ণ।
৯. বুদ্ধ, কলিযুগে অবতীর্ণ হন।
১০. কল্কি, সর্বশেষ অবতার। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, কলিযুগের অন্তে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে।
--
ভাগবত পুরাণ মতে বিষ্ণুর অবতার
-----------------------------------
ভাগবত পুরাণ–এর প্রথম স্কন্দে সংখ্যাক্রম অনুসারে বিষ্ণুর যে বাইশ অবতারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা নিম্নরূপ:
১. চতুর্সন [ভাগবত ১।৩।৬] (ব্রহ্মার চার পুত্র)
২. বরাহ [ভাগবত ১।৩।৭] (বন্য শূকর)
৩. নারদ [ভাগবত ১।৩।৮] (ভ্রাম্যমান ঋষি)
৪. নর-নারায়ণ [ভাগবত ১।৩।৯] (যমজ)
৫. কপিল [ভাগবত ১।৩।১০] (দার্শনিক)
৬. দত্তাত্রেয় [ভাগবত ১।৩।১১] (ত্রিমূর্তির যুগ্ম অবতার)
৭. যজ্ঞ [ভাগবত ১।৩।১২] (সাময়িকভাবে ইন্দ্রের ভূমিকা গ্রহণ করা বিষ্ণু)
৮. ঋষভ [ভাগবত ১।৩।১৩] (রাজা ভরত ও বাহুবলীর পিতা)
৯. পৃথু [ভাগবত ১।৩।১৪] (যে রাজা পৃথিবীকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন)
১০. মৎস্য [ভাগবত ১।৩।১৫] (মাছ)
১১. কূর্ম [ভাগবত ১।৩।১৬] (কচ্ছপ)
১২. ধন্বন্তরী [ভাগবত ১।৩।১৭] (আয়ুর্বেদের জনক)
১৩. মোহিনী [ভাগবত ১।৩।১৭] (সুন্দরী নারী)
১৪. নৃসিংহ [ভাগবত ১।৩।১৮] (নর-সিংহ)
১৫. বামন [ভাগবত ১।৩।১৯] (খর্বকায়)
১৬. পরশুরাম [ভাগবত ১।৩।২০] (পরশু অর্থাৎ কুঠার সহ রাম)
১৭. ব্যাসদেব [ভাগবত ১।৩।২১] (বেদ সংকলক)
১৮. রাম [ভাগবত ১।৩।২২] (অযোধ্যার রাজা)
১৯. বলরাম [ভাগবত ১।৩।২৩] (কৃষ্ণের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা)
২০. কৃষ্ণ [ভাগবত ১।৩।২৩] (রাখাল বা স্বয়ং ভগবান)
২১. বুদ্ধ [ভাগবত ১।৩।২৪] (জ্ঞানী)
২২. কল্কি [ভাগবত ১।৩।২৫] (ধ্বংসকারী)
---
এই বাইশ অবতার ছাড়াও উক্ত গ্রন্থের পরবর্তী অংশে আরও তিন অবতারের কথা আছে ----
-----------------------------------------------------------------------------
১. প্রশ্নিগর্ভ [ভাগবত ১।৩।৪১] (প্রশ্নির সন্তান)
২. হয়গ্রীব [ভাগবত ২।৭।১১] (অশ্ব)
৩. হংস [ভাগবত ১১।১৩।১৯] (রাজহংস)
----
কল্কি অবতারের বর্ণনা দেওয়ার পর ভাগবত পুরাণ–এ ঘোষিত হয়েছে, বিষ্ণুর অবতার অসংখ্য। যদিও উপরি উল্লিখিত পঁচিশ অবতারের গুরুত্বই সর্বাধিক। ভাগবত পুরাণ–এর একটি শ্লোক, মহাভারত-এর কতকাংশ এবং অন্যান্য পৌরাণিক ধর্মগ্রন্থের মতে, চৈতন্য মহাপ্রভু হলেন বিষ্ণুর অন্যতম অবতার। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্য অনুসারে তাঁকে অবতার রূপে পূজা করার বিধান রয়েছে। এই কারণেই চৈতন্য মহাপ্রভুকে গৌরাঙ্গ অবতার নামে অভিহিত করা হয়।



লিখেছেনঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger