সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

বৈদিক দন্ড ব্যবস্থা ও অপপ্রচারের যৌক্তিকতা বিচার


https://3.bp.blogspot.com/-S8qrZjQ57Wo/WDWa9HgxbuI/AAAAAAAAANA/ZM0mRIZEsL45DI9rpsgOsR3WugLHrybpgCLcB/s1600/কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রাজা এবং প্রজার উপর প্রদান করেছেন  যাহা দ্বারা একজন রাজা রাষ্ট্রকে পরিচালনা করতে পারেন। একটি রাষ্ট্রকে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে রাজার যেমন কর্তব্য শিষ্টের পালন করা তেমনি কর্তব্য হচ্ছে দুষ্টের দমণ করা (মনুঃ ৭।১৩)। দন্ডের মাত্রা অপরাধীর কৃত কর্মের উপর লঘু অথবা অত্যধিক হতে পারে। দন্ডের আবশ্যকতা সমন্ধে মনুস্মৃতিতে বলা হয়েছে - রাজা যদি আলস্যের পরতন্ত্র হয়ে অপরাধীকে দন্ড না দেয় তাহলে বলশালী লোকেরা শূলে মৎস পরিপাকের ন্যায় দূর্বলদের অতিশয় যাতনা দিতে পারে (মনু ৭।২০)।  অতএব এটা স্পষ্ট যে অপরাধীদের দন্ড দেওয়া রাজার কর্তব্য।  বেদ এমনই কিছু দন্ড বিধান  প্রদান করেছেন-  যাহার দ্বারা বিশ্ব শত্রূ মুক্ত এবং মানুষ পরস্পর মিত্রতা ভাব দ্বারা সুন্দর বিশ্ব গঠন করতে পারে।   কিন্তু কিছু কিছু বেদ বিদ্বেষী বেদের দন্ড ব্যবস্থা গুলো এমন বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করেছে যে,  যাতে বেদের উপর সবার অশ্রদ্ধা জন্মে।  মূলত বেদের অভিপ্রায় জগতের অকল্যাণ করা নয় বরং অকল্যাণস্বরূপ ব্যক্তিদের সদা নিবৃত্ত করা।  

সমগ্র সৃষ্টি জগতের কল্যাণের জন্য ঈশ্বর বেদ বাণী প্রেরণ করেছেন। যাহাতে মানব জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়বস্তুর সুষ্পষ্ট আলোচনা রয়েছে। একজন মানুষের কর্তব্য কর্ম এবং সেই সাথে রাজধর্ম বিষয়ক বর্ণনাও এসেছে। ঈশ্বর যেমন সমস্ত সৃষ্টি জগৎ কে নির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা পালন  করেন এবং জীবদের কর্মের যথাযোগ্য ফল প্রদান করেন।  তেমনি
আসুন অপপ্রচারকারীদের আরোপগুলোর যৌক্তিকতা বিচার করে দেখা যাক -
.
=>> আরোপ  - ০১
“হে ঈশ্বর ও জ্ঞানী মানুষ, যারা দোষারোপ
করে বেদ ও ঈশ্বরের তাদের উপর তোমার রাগ
বর্ষন কর।” (ঋগবেদ ২।২৩।৫)
তাহলেবেদ অনুসারে  হাজারো অহিন্দুরাও পাপী, কারন তারা বেদ ও বৈদিক ঈশ্বরে বিশ্বাসী নয়।

যৌক্তিকতা বিচারঃ
এ মন্ত্রে কোথাও বলা হয় নি যে, বেদ ও ঈশ্বরের অবিশ্বাসীদের উপর রাগ বর্ষন করার কথা। অতএব হাজারো অহিন্দুরা পাপী কি না সে প্রশ্ন উঠছেই না।  এ মন্ত্রে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে তিনি যেন আমাদের সমস্ত হিংসাকে নিবৃত্ত করেন। কোন অপরাধ বা শত্রুজন আমাদের উপর হিংসিত না হয়। অর্থাৎ সর্বতোভাবে ঈশ্বরের কাছে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে -
.
হে জ্ঞানের স্বামী প্রভূ! উত্তম রক্ষক আপনি যাহাকে রক্ষা করেন এভাবে তাহার  সব হিংসাকে নিবৃত্ত করুন । তাহাকে কোন প্রকার অপরাধ না দুষ্টাচার না শত্রুজন না দুই পক্ষেরই আশ্রয়কারী জন  হিংসিত করে।
  (ঋগবেদ ২।২৩।৫, মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী)


https://3.bp.blogspot.com/-VjXMUNx6Hac/WDWQ-_SPpaI/AAAAAAAAALw/OJrZhicxub0HSfcjPXdiVY9k_Fli8OkSwCEw/s1600/
  =>> আরোপ - ০২
“যে লোক ঈশ্বরের আরাধনা করে না এবং যার
মনে ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ নেই, তাকে পা
দিয়ে পাড়িয়ে হত্যা করতে হবে।”(ঋগবেদ ১।৮৪।৮)
অর্থাৎ বেদের স্পষ্ট আদেশ, যে ব্যাক্তি নাস্তিক বা বৈদিক ঈশ্বরের উপাসনা করে না সে পাপী। এবং সে পা দিয়ে পাড়িয়ে মারার যোগ্য
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
মন্ত্রে বৈদিক ঈশ্বরে উপাসনাহীন কোন ব্যক্তিকে শাস্তির কথা বলা হচ্ছে না।  মন্ত্রটিতে একজন প্রজার মনে শঙ্কা বা উদ্বেগ এর উল্লেখিত হয়েছে। এই হেতু  "অরাধসম" শব্দটি এসেছে,  "রাধ ইতি ধননাম ; নিরুক্ত ৪।৪।  অর্থাৎ ধন বা ঐশ্বর্যহীন বা দানহীন কৃপন ব্যক্তি। এরূপ প্রজার মনের উদ্বেগ এই যে,  না জানি কখন ঐশ্বরর্যবান রাজা ধনহীন, কৃপন, নির্বল ব্যক্তিকে অহিছত্রের ন্যায় নষ্ট করে। ক্ষুম্পম অহিচ্ছত্র ভবতি ইতি যাস্ক। অহিচ্ছত্র হচ্ছে বর্ষাকালে পরিত্যক্ত কাঠের উপর জন্মানো গোল ছাতা সদৃশ দেখতে।  যা সাপের ছাতা এবং পান্জাবী ভাষায় খুম্বী বলে।  এই ছত্র গুলো সামান্য পায়ের ধাক্কায় নষ্ট হয়ে যায়। একটি ঐশ্বর্যবান রাজার রাজ্যে সর্বদাই উচিৎ যেন উত্তম বলশালী বিদ্বান উৎপন্ন হয়। এ জন্য যজুর্বেদ২২।২২ মন্ত্রে পরমেশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যে, আমাদের রাজ্যে যেন বিদ্বান ব্রাহ্মন, নির্ভয় ক্ষত্রিয়, সুন্দর ব্যবহার কারী স্ত্রী এবং শত্রু বিজয়কারী পুরুষ উৎপন্ন হয়। কিন্তু একজন নির্বল, ভয়েভীত,দানহীন, ধনহীন ব্যক্তব রাজ্যে প্রায়ই অস্মানিত হওয়ার ভয়ে ভীত থাকে।  তাই  প্রজার মনে এরূপ উদ্বেগ ব্যক্ত হয়েছে। নিরুক্ত ৫।১৭ তে ঠিক এই মন্ত্রটিই রয়েছে -
.
হে বিদ্বান পুরুষ! ঐশ্বর্যবান রাজা না জানি কখন বশ না মানা, দুঃসাধ্য বা ধনহীন বা বলহীন বা শত্রু পুরুষকে  পা দ্বারা অহিচ্ছত্রের ন্যায় উঠিয়ে ফেলে দেয়, নষ্ট করে দেয় এবং এই আমাদের প্রার্থনা কে না জানি কখন শুনবেন।
( ঋগবেদ ১।৮৪।৮,  জয়দেব শর্মা)
.

https://3.bp.blogspot.com/-OVA2M6jDO4s/WDWST0sMHuI/AAAAAAAAAL0/EDUag9RVPJQnx6k-TJOB19S2uBiqHzMJgCLcB/s1600/
=>> আরোপ - ০৩
গবাদিপশুগুলো কি করছে নাস্তিকদের
এলাকায়, যাদের বৈদিক রীতিতে বিশ্বাস
নেই। যারা সোমার সাথে দুধ মিলিয়ে উতসর্গ
করে না এবং গরুর ঘি প্রদান করে যজ্ঞও করে
না। ছিনিয়ে আনো তাদের ধনসম্পদ আমাদের
কাছে। " (ঋগবেদ ৩।৫৩।১৪)
শুধু বৈদিক রীতিতে বিশ্বাস না করায়, যজ্ঞ না করায় লুটের আদেশ।এটি কি আসলে কোন ঈশ্বরের বানী হতে পারে?
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
মন্ত্রটিতে "কীকটেষু" শব্দ এসেছে যার অর্থ কীকট বাসী। নিরুক্ত ৬।৩২ এ বলা হয়েছে " কীকটা নাম দেশোনার্য নিবাস" অর্থাৎ এ দেশে অনার্যরা বাস করতো। কীকট কাদের বলা হয়? যে লোক কুৎসিত কর্ম করে জিতে অথবা উত্তম কর্ম কে তুচ্ছে মনে করে ঐ লোক বা দেশ কে "কীকট" বলে। অর্থাৎ তারা প্রকৃত পক্ষে কোন রূপ ধর্ম পালন করে না। তারা গাভীর থেকে না কোন উপযোগ নেয়। না ঘৃতকে যজ্ঞে আহুতি দেয়। সর্বদা " প্রমগন্দস্য " তদপত্যং প্রমগন্দোত্যন্তুকুসীদিকুলীন ; নিরুক্ত ৬।৩২ " অর্থাৎ ধন কে আমোদ প্রমোদের  মধ্যে দিয়ে ব্যায় করে অথবা সুদে অর্থ সংগ্রহ করে। অর্থাৎ তারা সর্বদাই অধর্মে সম্পদের অপব্যবহার করে।  যা কিনা একটি রাষ্ট্রের জন্য সর্বদাই হানিকর। তাই একজন রাজার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে উক্ত ধন আমাদের প্রাপ্ত করাও।  কারন একটি আর্যাবর্ত্ত রাষ্ট্রেই সম্পদের যথার্থ ব্যবহার হয়ে থাকে। এবং সেই সাথে প্রার্থনা করা হচ্ছে আমাদের মধ্যে নীচ কুপ্রবৃত্তিবান দের সর্বদা দমন করো। মন্ত্রে লুটপাটের কোন আদেশ দেওয়া নেই।  কারন এটা কুপবৃত্তিদের লক্ষন। একজন আর্যাবর্তের রাজা অধার্মিক রাষ্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেই তবেই সে রাষ্ট্রকে জয় করতো। কোন লুটপাট বা ছিনতাইয়ের মাধ্যমে নয়।
.
"কীকটবাসী [অনার্য দেশ বাসী] লোক তাহারা গাভীর কি উপযোগ নেয় না তো  পানযোগ্য দুধ আদি দোহন করে এবং না ঘৃতকে  উত্তপ্ত করে,  হে ঐশ্বর্যবান!  নিজ ধন আমোদ প্রমোদে ব্যয় কারী পুরুষের ধন কে আমাদের প্রাপ্ত করাও  আমাদের মধ্যে কুপ্রবৃত্তিবান লোক কে দমন করো "
(ঋগবেদ ৩/৫৩/১৪,  জয়দেব শর্মা)
.

https://3.bp.blogspot.com/-eeZ14K-okOE/WDWSaEJDMlI/AAAAAAAAAL4/CT-ha5TjSkYuzFnY1_NZ7pcLzJJugRyWwCLcB/s1600/
=>> আরোপ - ০৪
“যে ব্যাক্তি ব্রাক্ষণের ক্ষতি করে ব্রাক্ষণের
গরু নিজের কাজে লাগায়, তাকে ধংস করে
দাও।”  (অথর্ববেদ ১২।৫।৫২)
বেদের এই মন্ত্র যে স্বার্থবাদি ব্রাক্ষণ কর্তক লিখিত, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। যারা শুধু নিজেদের ক্ষতিকারীর প্রতি এরকম খরগহস্ত হবার আদেশ দিচ্ছে।
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
মন্ত্রটিতে "ব্রহ্মজ্যম" শব্দ এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে ব্রহ্মজ্ঞানী ব্রহ্মচারী বা বেদজ্ঞ এর হানিকারক বা ধ্বংসক। এবং "আদদানম" অর্থাৎ যারা ছিনিয়ে নেয় এক কথাই ছিনাতাইকারী। মন্ত্রে "গাভী" ছিনিয়ে নেওয়ার উল্লেখ নেই। অনেক ভাষ্যকার  এরূপ করেছে, যারা "বেদ বাণীকে" ছিনিয়ে নেয়।  অর্থাৎ জ্ঞানের অপহরন করতে চায় অথবা ধার্মিককে বেদ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে।  এরূপ ব্যক্তির উপর "উপ সাদয়" চড়াও হও বা নাশ করো।  একজন ব্রহ্মজ্ঞানী বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ এর মর্যাদা সমাজে সর্বাধিক। বৈদিক বর্ণ ব্যবস্থা জন্মগত জাতিপ্রথাকে স্বীকার করে না। মূলত ব্রহ্মজ্ঞানীকেই ব্রাহ্মণের সংজ্ঞা দেওয়া হয় (ব্রহ্ম জানাতি স ব্রাহ্মণ)। আর বেদে এরূপ ব্রহ্মজ্ঞানী ব্রহ্মণকে সমাজের মুখ বলা হয়েছে (ব্রহ্মণ মুখমআসিদ) । কারন এক জন বেদ জ্ঞানী তথা ব্রহ্মজ্ঞানী বিদ্বানই সমাজ কে পরিচালনা করে থাকে। আর সমাজের সবার কর্তব্য হচ্ছে তাদের সর্বদা রক্ষন করা।  মনুস্মৃতিতে এজন্য বলা হয়েছে,  "শশ্রূষা ব্রাহ্মণাঞ্চ রাজ্ঞাং শ্রেয়স্করং পরম, (মনুঃ ৭।৮)  অর্থাৎ ব্রাহ্মণের সেবা করা রাজাদিগের পরম মঙ্গলদায়ক।    অতএব যেসব ব্যক্তি সর্বদা ব্রহ্মজ্ঞানী (ব্রাহ্মণ) কে নষ্ট করতে চায়  বেদ সেজন্য আজ্ঞা দিচ্ছে তাদের উপর চড়াও হও তাদের নাশ করো।
.
হে অঙ্গিরা [পরমজ্ঞানী পরমেশ্বর] দ্বারা উপদেশকৃত [বেদবাণী] যারা ছিনিয়ে নেয় ব্রহ্মচারীর হানিকারকের উপর চড়াও হও।
(অথর্ববেদ ১২।৫।৫২, ক্ষেমকরন দাস ত্রিবেদী)
.

https://2.bp.blogspot.com/-iFEoY4RVNgA/WDWSfoxdk1I/AAAAAAAAAL8/f7Nv7jU9mVQJL6z8R59XGH70AbD8kk83gCLcB/s1600/
=>> আরোপ - ০৫
“তু বেদ নিন্দুককো কাট ডাল, চির ডাল, ফাড়
ডাল, জ্বালা দে, ফুক দে, ভষ্ম কর দে,”
অর্থাৎ বেদের নিন্দাকারীকে, কেটে ফেল,
চিড়ে ফেল,ফেড়ে ফেল,জ্বালিয়ে দাও,ফুকে
দাও,ভষ্ম করে দাও" (অথর্ববেদ ১২।৫।৬২)
এগুলো যে চরম মানবতার লঙ্ঘন এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
এ মন্ত্রটির আশয় পরবর্তী মন্ত্রে স্পষ্ট হয়েছে যে,  বেদ মূলত কাদের এমন কঠোরতম দন্ডের বিধান দিচ্ছে। পরের মন্ত্রটিতে বলা হয়েছে যে,  "ব্রহ্মজ্যং অনুসংদহ "  অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞানী বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের হানিকারক কে জ্বালিয়ে দাও।  ব্রহ্মজ্ঞানীর (ব্রাহ্মণের) একটি সমাজ তথা রাষ্টে প্রয়োজনিতা কতটুকু এ সমন্ধে অথর্ববেদ ৫।১৯।৬ এ বলা হয়েছে যে,   " যে উগ্র রাজা অভিমানী হয়ে বেদবিদ বিদ্বান ব্রাহ্মণ কে নষ্ট করতে চায় তার রাষ্ট্র সম্পদ শূণ্য হয়ে যায়।  যেখানে ব্রহ্মজ্ঞানী ব্রাহ্মণ কষ্ট প্রাপ্ত হয় সেই রাষ্ট্র পরাজিত হয়।"
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে, একটি রাষ্ট্রে ব্রহ্মজ্ঞানীর গুরত্ব কতটুকু।  কিন্তু যেসব অধার্মিক এই ব্রহ্মজ্ঞানীদের ধ্বংস করতে সদা উদ্যত বেদ তাদের কঠোরতম শাস্তির নির্দেশ দিচ্ছে। যাতে একটি রাষ্ট্র সদা জ্ঞানবান বিদ্বান দ্বারা পূর্ণ থাকে এবং জ্ঞানের বিনাশক কেহ না থাকে।
.
"হে শত্রুকে পরাজিত কারী অহন্তব্য বেদবাণী! তুমি এই ব্রাহ্মণের [ব্রহ্মজ্ঞানীর] হিংসক কে অর্থাৎ জ্ঞান বিনাশক কে কেটে ফেলো, উত্তমরূপে কেটে ফেলো, সম্যক কেটে ফেলো, এদের জ্বালিয়ে দাও, প্রকর্ষেন দগ্ধ করে দাও এবং সম্যক দগ্ধ করে দাও"
(অথর্ববেদ ১২।৫। ৬২-৬৩,  হরিশরন সিদ্ধান্তলংকার)
.
https://1.bp.blogspot.com/-wU58EV0Xjgc/WDWSnTqkURI/AAAAAAAAAMA/jt5lFwxu--YlM0zsc5x0uEqaWnJDpeY9QCLcB/s1600/

=>> আরোপ - ০৬
“তাদেরকে হত্যা কর, যারা বেদ ও উপাসনার
বিপরীত,  অথর্ববেদ ২০।৯৩।১" এবং যজুর্বেদ ৭/৪৪ তাদের যুদ্ধের মাধ্যম বশ্যতা স্বীকার করাতে হবে।
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
এ মন্ত্রে "ব্রহ্মাদ্বিষ"  এবং "জহি" শব্দ এসেছে।  "ব্রহ্মাদ্বিষ" তাদের বলা হয় যারা ব্রহ্মজ্ঞানে অথবা বেদজ্ঞানে অপ্রীতিকারী।  এসব ব্যক্তিদের সঙ্গ সর্বদাই অকল্যানকর হয়ে থাকে। তাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে,  হে প্রভূ সেসব ব্যক্তিদের আমাদের নিকট হইতে "অব জহি" দূরে রাখুন।



https://1.bp.blogspot.com/-xkFASFPf0fk/WDWTYfRxEnI/AAAAAAAAAMI/aLC25hhppB4fWyCLBQBn_NyWFyXccigbgCLcB/s1600/
হে আদরণীয় প্রভূ!  আপনাকে  আমাদের স্তুতি উৎকৃষ্টরূপে আনন্দিত করে।আপনি আমাদের জন্য কার্যসাধক ধন প্রদান করুন। এবং ব্রহ্মজ্ঞানে অপ্রীতিকারী লোক কে আমাদের নিকট হইতে দূরে রাখুন।
(অথর্ববেদ ২০।৯৩। ১,  হরিশরন সিদ্ধান্তলংকার)
.
যজুর্বেদ ৭।৪৪ এ  তেজময় সেনাপতির প্রতি উদেশ্য করে বলা হচ্ছে যে,  এই সেনাপতি আমাদের শত্রুদের দূর্গ  কে বিদীর্ণ করে ঐশ্বর্য দান করেন  এবং শত্রুদের উপর বিজয় লাভ করে।
.


https://3.bp.blogspot.com/-SxS0t0UCkC4/WDWTgfTivWI/AAAAAAAAAMM/g-QXZwc5uo0sIuiXo3syrbqDlhVGT0QgQCLcB/s1600/
"এই  অগ্নি, নেতাপুরুষ সেনাপতি আমাদের ঐশ্বর্য প্রদান করে  এই সংগ্রাম সমন্ধী দূর্গ কে বিদীর্ণ করে চলে সংগ্রামের কার্য মধ্যে ধন বা ঐশ্বর্য কে বিজয় করে এবং খুব প্রসন্ন হয়ে উত্তম পরাক্রম করে  শত্রুকে জিতে।

(যজুর্বেদ ৭।৪৪, জয়দেব শর্মা)
.
=>> আরোপ - ০৭
“সেনাপ্রধান হিংস্র ও নির্দয়ভাবে শত্রুদের
পরিবারের সদস্যদের সাথেও যুদ্ধ করবে।”(যজুর্বেদ ১৭।৩৯)
যজুর্বেদ ১৭/৩৮ শত্রূদের পরিবারকে হত্যা কর, তাদের জমি ধংস কর।
এইসব যুদ্ধের মুল প্রেরনা কি ?মূল প্রেরনা হচ্ছে শত্রুদের লুট করে ধনসম্পদ বৃদ্ধি।
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
একটি রাষ্ট্রকে সুন্দররূপে গড়ার জন্য রাষ্ট্রে ধার্মিক বিদ্বানদের যেমন প্রয়োজন। তদ্রুপ রাষ্ট্রে অধার্মিক তথা যারা ধার্মিকদের উপর কুপিত হয় অথবা শত্রু ভাবাপন্ন তাদের বিনাশ করা। যদি একটি রাজা অপরাধী তথা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না গ্রহন করে।  তার ফলাফল কি হবে মনুস্মতিতে স্পষ্ট হয়েছে - " রাজা যদি আলস্যের পরতন্ত্র হয়ে অপরাধীদের দন্ডবিধান না করে তাহা হইলে লোকেরা শূলে মৎস পাক করবার ন্যায় দূর্বলদিগকে যাতনা দিতে পারে,  মনু  ৭।২০) ।   এ জন্য  মনুস্মৃতিতে  যুদ্ধ কে ক্ষত্রিয়দের ধর্ম বলা হয়েছে (সংগ্রামাৎ ক্ষাত্রং ধর্মমনুস্মরম,  মনু ৭।৮৭)
যজুর্বেদ ১৭।৩৮ মন্ত্রটি  মূলত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেনাদের উদ্যেশ্য করে বলা হয়েছে। তারা যেন সর্বোতভাবে সেনাপতিকে অনুসরন করে।  কারন একজন সেনাপতি যুদ্ধবিদ্যায় অত্যন্ত দক্ষ হয়ে থাকে এবং সবার সুরক্ষা কবজ হয়ে দাড়িয়ে থাকে।  এ জন্য মন্ত্রটিতে বলা হচ্ছে সেনাগন জন যেন তারই অনুকুলে থেকে যুদ্ধ করে।
.


https://3.bp.blogspot.com/-sJlvOuqy0c0/WDWToflHijI/AAAAAAAAAMQ/cxs2ywlOzEorgqxby0aT3TH-__UVKUqqgCLcB/s1600/
"হে বল কীর্তি বর্ণ আদি সমান রূপে বিখ্যাত বীর পুরুষ আপনি শত্রুর গোত্রের নাশক পৃথিবীকে প্রাপ্ত কারী বাহুতে বীর্যমান  সংগ্রামে বিজয়কারী এবং বল পরাক্রম দ্বারা  বিনাশ কারী সেনাপতিকে অনুসরন করে বীরতার কার্য করো।  হে মিত্র লোক আপনারা তারই অনুকুলে থেকে উত্তম প্রকারে যুদ্ধ  আরম্ভ করো।

(যজুর্বেদ ১৭।৩৮, জয়দেব শর্মা)
.
যুদ্ধে একটি সেনাপতির উত্তর দায়িত্ব কি তা পরের মন্ত্রে স্পষ্ট হয়েছে।  সমস্ত সেনার নেতা হওয়ার দরুন একটি সেনাপতির দায়িত্ব হচ্ছে তাদের সর্বদা রক্ষা করা।  তাই মন্ত্রটিতে বলা হচ্ছে তিনি যেন সর্বতোভাবে আমাদের সেনাকে রক্ষা করে।
.




https://2.bp.blogspot.com/-aMgUq7XWkjE/WDWTtOH6mcI/AAAAAAAAAMU/tJ3H5iSXkAU4bg4VjOolgncgZJ2s-9RWQCLcB/s1600/

" নিজ শত্রু পরাজয়কারী বল দ্বারা শত্রু কুলের উপর আক্রমন করে  দয়া রহিত  শুরবীর অনেক প্রকারে কোপ করার সামর্থ শত্রু দ্বারা না বিচলিত হওয়া ব্যক্তি শত্রু সেনাকে বিজয় করার সামর্থ যুদ্ধ মধ্যে শত্রু দ্বারা অজেয় সেনাপতি সংগ্রাম মধ্যে আমাদের সেনাকে উত্তম রীতি দ্বারা রক্ষা করো। "

(যজুর্বেদ ১৭।৩৯,  জয়দেব শর্মা)
.
=>> আরোপ - ০৮
যজুর্বেদ ১৮/৭৪, "হে সেনাপ্রধান, আমাদের আশা পুর্ণ করো। হে ধনসম্পদের বাদশা, তোমার সহায়তায় আমরা  যেন সম্পদশালী হতে পারি এবং যুদ্ধে জয় লাভ করে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হতে পারি।”
আর যজুর্বেদ ২৯/৩৯ এ, এভাবেই যুদ্ধে ধনসম্পদ লুট খুনের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব দখল করতে বলেছে।
এই সব মন্ত্রে স্পষ্টভাবে কোন আত্তরক্ষার্থে নয় বরং যারা শান্তিপ্রিয় তাদেরকে আক্রমন করে দখল করতে বলছে।
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
বেদ কখনো শান্তিপ্রিয় মানুষদের শাস্তির আদেশ দেয় নি।   বেদে পরিষ্কার বলা হয়েছে,  "অনাগে হত্যা বৈ ভীমা কৃত্যে ; অথর্ববেদ ১০।১।২৯ " অর্থাৎ নির্দোষের হত্যা নিশ্চয়রূপে ভয়ানক।    অর্থাত্ বেদ নির্দোষের উপর অত্যাচার কে অপরাধ বলে গণ্য করছে।  মনুস্মৃতি ৭।১৯ এ বলা হয়েছে রাজা যদি নিরাপরাধ ব্যক্তিকে দন্ড প্রদান করে তবে তার রাজ্যের বিনাশ ঘটবে।
অতএব বেদের নির্দেশ মতে অস্ত্রের ব্যবহার শুধু অপরাধীদের জন্য। এবং বেদ সর্বদা শত্রুদের উপর বিজয় প্রাপ্তির নির্দেশ দিয়েছেন। কারন বেদ কখনো সজ্জন ব্যক্তিদের হীনবল বা পরাজয়তাকে স্বীকার করে না।  বেদ সর্বদা মানুষদের সাবলীল হতে শিক্ষা দেয় যাতে কোন শত্রু সেনা তাদের ক্ষতি করতে না পারে -
.
https://2.bp.blogspot.com/-dnMxu3hWBns/WDWT0QZIrZI/AAAAAAAAAMY/WBvPGDG-Bw8E3Fc6Dtaq6C_je35yWbBJQCLcB/s1600/





হে বীর পুরুষ!  যেমন আমরা যে শস্ত্র - অস্ত্র খারাপ কামনাকে নষ্ট করে,  সেই ধনুক আদি অস্ত্র শস্ত্র বিশেষ দ্বারা পৃথিবীকে এবং উক্ত শস্ত্র বিশেষ দ্বারা সংগ্রাম কে জয় করি তোপ আদি অস্ত্র শস্ত্র দ্বারা তীব্র বেগবান আনন্দের সাথে বর্তমান শত্রু সেনাকে জয় করি ধনুক দ্বারা সব দিশা প্রদিশা কে জয় করি।

(যজুর্বেদ ২৯।৩৯, দয়ানন্দ সরস্বতী)
.
একটি সংগ্রামের পরিচালনার মূল দায়িত্ব সেনাপতির হয়ে থাকে।  এবং একজন যোদ্ধা সবসময় সেনাপতির রক্ষায় থেকে সমরে যুদ্ধ করে সংগ্রামের বিজয় কে প্রাপ্ত করে।
.

https://3.bp.blogspot.com/-Mb8Ge0h5eoI/WDWZ5m1bO4I/AAAAAAAAAM8/t6Y9RTqsPQIhiPKPl9L9CfWLZB1RWP6SwCLcB/s1600/




হে যুদ্ধবিদ্যা জ্ঞাত সেনাপতি! আমরা তোমার রক্ষা আদিকে বিদ্যা দ্বারা সেই কামনা কে প্রাপ্ত হই প্রশস্ত ধনযুক্ত উত্তম বীর প্রাপ্ত হই,  যাহার দ্বারা সেই ধন কে প্রাপ্ত হই সংগ্রাম করে আমরা সংগ্রামের বিজয় কে উত্তম প্রকারে প্রাপ্ত হই, হে বৃদ্ধপন রহিত সেনাপতি  আমরা তোমার প্রতাপ দ্বারা অক্ষয় ধন এবং কীর্তিকে প্রাপ্ত হই।

(যজুর্বেদ ১৮।৭৪, দয়ানন্দ সরস্বতী)
.
=>> আরোপ - ০৯
বেদের নিয়মের কারনে মনুসংহিতাতেও সব কিছু দখল করতে বলা হয়েছে -
“গাড়ি, ঘোড়া, হাতি, অর্থ, শস্য , গবাদিপশু ও
নারী তার দখলে যে যুদ্ধের মাধ্যমে তা জয় করে।”(মনু ৭।৯৬)
অর্থাৎ শত্রু পরিবারের নারীরাও যাবে দখলকারীর ভোগের জন্য।
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
মনুসংহিতার ৭ম অধ্যায়টি হলো রাজধর্ম বিষয়ক, রাজার আচরন ও বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত এখানে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে ৷ অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কতকগুলো হলো মদ্যপান, পাশাখেলা বা জুয়াখেলা, স্ত্রীসম্ভোগ, মৃগয়া বা অকারন পশুহত্যা, পরধনঅপহরন, অকারনে দন্ডদান ও কঠোর বাক্য প্রয়োগ এইগুলির থেকে দূরে থাকতে রাজাকে উপদেশ করা হয়েছে (মনু ৭/৫২) ৷
এবং মনু ৭।৫০ এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে মদ্যপান,  পাশক্রীড়া, স্ত্রীসম্ভোগ, পশুমারন এ চারটি অতিশয় দুঃখহেতু।  অর্থাৎ মনু মহারাজ কোন পরস্ত্রীকে ভোগ অথবা পরের সম্পদকে দখল  করাকে সমর্থন করে নি বরং দুঃখদায়ক বলেছেন। একজন ক্ষত্রিয় রাজা হিসেবে বিভিন্ন সময় যুদ্ধে অবতীর্ণ হতেই হয় সেই যুদ্ধে অনেকসময় ধনাদি লাভ হয়, শত্রুপক্ষের নিরীহ স্ত্রীও হস্তগত হয় ৷ এখানে সেটাই বলা হয়েছে ৷ সেই অসহায় স্ত্রীর রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বও তাকেই নিতে হবে ৷ ধনসম্পদ রাজাকে হস্তান্তরিত করতে হবে যাতে সেগুলো রাজকার্যে ব্যায়িত হতে পারে (মনু ৭/৯৭) ৷ এবং রাজা নিরীহ নরনারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন ৷ কারন যুদ্ধসজ্জাবিহীন বা অস্ত্রধারী লোকেদের হত্যা করা যাবে না (মনু ৭/৯২)। অর্থাৎ পরাজীতনারী ও পুরুষের নিরাপত্তা ও তাদের স্বাভাবিক জীবনের দায়িত্ব রাজাকেই নিতে হবে ৷ যেমনটা রামচন্দ্র লঙ্কা বিজয়ের পর পরাজিত লঙ্কা রাজ্যের সকল নরনারীদের নিরাপত্তা প্রদান করেছিলেন।
.

https://1.bp.blogspot.com/-zwblKBDc5_k/WDWUD9DfJQI/AAAAAAAAAMc/GMjZIz1wbowAhaiJNudiYk7TBngGvHCMACLcB/s1600/
=>> আরোপ - ১০
যজুর্বেদ ১৬/৩৬, “তার প্রতি শ্রদ্ধা, যার রয়েছে তলোয়ার, তীর। তার প্রতি সন্মান যার রয়েছে ধারালো অস্র। তার প্রতি খাদ্য নিবেদন যার রয়েছে ভাল অস্র।”
অর্থাৎ বেদ সমগ্র বিশ্ব দখল করবে জ্ঞান বা ভালবাসা দিয়ে নয়, বরং অস্র দিয়ে, শান্তিপ্রিয় মানুষদের হত্যা করে ও তাদের এলাকা দখল করে।
.
যৌক্তিকতা বিচারঃ
মন্ত্রটিতে  মূলত একজন সেনাপতি তথা যোদ্ধার প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। একটি রাজ্যে একজন যোদ্ধা যিনি নিজ রাজ্যকে সুরক্ষার জন্য সর্বদাই প্রচেষ্টা করে থাকে।  এরূপ অস্ত্রধারী যোদ্ধাকে সবার কর্তব্য সম্মান জানানো এবং তার সৎকার করা।  যেমন একটি দেশে  অস্ত্রধারী সেনাবাহীনিদের সবাই সম্মান করে। কারন তারা রাষ্টের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করে। যদি কেউ এরূপ যোদ্ধাকে সম্মান করে তার মানে কি তারা শুধু হত্যা করতে পছন্দ করে? বেদ শুধু মাত্র দন্ডের কথাই বলেনি সাথে সবাইকে  বলেছে - আমরা যেন সবাইকে মিত্রের চোখে দেখি এবং সবাই আমাকে মিত্রের চোখে দেখে (যজুর্বেদ ৩৬।১৮)। কিন্তু যারা সর্বদা মিত্রের চোখে না দেখে শত্রুর চোখে দেখে এবং ব্রহ্মজ্ঞানীদের নাশ করতে সদা উদ্যত হয়।  বেদ শুধু মাত্র তাদের উচিৎ দন্ডের আদেশ দিয়েছে কোন শান্তিপ্রিয় মানুষদের নাশ করতে বলে নি।  কারন নির্দোষের হত্যা যে ভয়ানক তা বেদ নিজেই বলেছে (অঃ ১০।১।২৯) ।  অতএব একজন রাজা হিসেবে কর্তব্য এইযে নিজ রাজ্যকে শত্রুমুক্ত এবং বিদ্বাপূর্ণ করা এবং একজন প্রজা হিসেবে কর্তব্য উত্তম শস্ত্রধারী যোদ্ধাকে সর্বদা সৎকার এবং সম্মান করা।
.



https://3.bp.blogspot.com/-gxK8ie4sp_o/WDWUO2r106I/AAAAAAAAAMg/KdhINtAz270JxZqZtkHM0Iu9LDkW-FUzQCLcB/s1600/


যে রাজা এবং প্রজার  অধিকারী লোক  দৃঢ এবং উত্তম বিচারশীল তথা কোমল স্বভাবযুক্ত পুরুষকে অন্ন দেবে বহু শস্ত্রবান এবং প্রসংশিত শস্ত্র এবং কোশবান কে  ও সৎকার করবে এবং তীক্ষ অস্ত্রশস্ত্র যুক্ত এবং উত্তম প্রকার তোপ আদি দ্বারা লড়া বীর দ্বারা  অধক্ষ্যপুরুষকে ও সৎকার করবে সুন্দর আয়ুধো বান এবং উত্তম ধনুক যুক্ত তথা অনেক রক্ষোক কে অন্ন দেবে।

(যজুর্বেদ ১৬।৩৬, দয়ানন্দ সরস্বতী)
.
অতএব বৈদিক দন্ড ব্যবস্থা কোন নিরাপরাধ ব্যক্তিদের জন্য নয়। যদি বিচার না করিয়া কোন রাজা লোভবশত নিরপরাধ প্রজার দন্ড বিধান করে তবে রাজার সর্বতো বিনাশপ্রাপ্তি ঘটবে (মনু ৭।১৯)।  অর্থাৎ বৈদিকী দন্ড ব্যবস্খা শুধু অপরাধীর জন্য। এ জন্য  মনুসংহিতাই দন্ডকে শাসক বলা হয়েছে কারন দন্ডই প্রজাকে শাসন করে থাকে। সকলে নিদ্রিত থাকলে শুধুমাত্র দন্ডই জাগ্রত থাকে।  পন্ডিতেরা দন্ডকেই ধর্ম বলিয়া নির্দেশ করে  থাকে।  ঐহিক ও পরলৌকিক দন্ডভরে সমুদায় ধর্মকার্য সম্পন্ন হয়ে থাকে (মনু ৭।১৮)

সংগৃহিতঃ http://back2thevedas.blogspot.com

Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger