২৩ জানুয়ারি ২০১৩

"নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপ"


আমাদের সনাতন ধর্মে একটিই ভগবান। তিনি পরমেশ্বর। তিনিই ব্রহ্ম, তিনি নিরাকার। কিন্তু, আমাদের অনেকের মনে খটকা লাগে যে আমাদের ধর্মে এত দেবদেবী কেন? তাহলে, তাকে সাকার বলি না কেন?  তবে কার পূজো করা বেশি শ্রেয়? তখনি হয় গন্ডোগল। সবকিছু গুলিয়ে গিয়ে ভক্তিটাই চলে যায়। তার চেয়ে বরং ধীরে ধীরে এগোনই ভালো। প্রকৃত পক্ষে ঈশ্বর নিরাকার।কিন্তু, তিনি নানা রূপে নানা সময় নানা কার্য করেন। ঠিক যেমন বিদ্যুৎ। একই স্থান দিয়ে বাড়িতে এসে নানা কাজে লাগে। কখন পাখা, কখন আলো আবার কখন টিভি ইত্যাদিতে। আমাদের শাস্ত্রকারগন আমাদের এযুগের মানুষদের থেকে বহুগুনে উন্নত মস্তিষ্কসম্পন্ন ছিলেন। তাঁদের চিন্তা ও কল্পনা ও ব্যখ্যাশক্তিও ছিল অসাধারন। তাই তাঁরা বিভিন্ন রূপকের মাধ্যমে সমস্ত ধর্মকে ব্যখ্যা করেছিলেন।যেমন, ঠাকুর রামকৃষ্ণ মহাত্মা ছিলেন। তিনি তাঁর কথাবার্তার মাঝে ও তত্তকথা বোঝাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নানা উপমা দিতেন? কেন জানেন? কারন একমাত্র এতেই সহজে ধর্মকে বোঝা যায়। আর ঠিক তেমনই সেই যুগের মুনি ঋষিরা নানান উপমার ব্যবহারে ধর্মকথা শাস্ত্রে লিখে গেছেন। কিন্তু এটা মন থেকে মানুন যে তা কিন্তু সবটাই মানুষের উপকারের উদ্দেশ্যে। মনে করেন, একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট আছে যেখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এখন সেই বিদ্যুৎ আপনার বাড়িতে একটি মেন পয়েন্ট থেকে এসে বাড়িতে পাখা চলে, আলো জ্বলে। এবার আপনিই বলেন পাখার কারেন্টটা বড়? নাকি আলোরটা? কোনটা আসল?
এই আমাদের ধর্মের আসল কথা। গোড়ার কথা।  ঈশ্বর এক। একটাই শক্তি। একটাই উৎস। কিন্তু তার বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ। কখন আলো জ্বালাতে চান তো কখন জল গরম করতে চান। তেমনি কখনো মা কালী রূপে বা শিব রূপে ধ্বংস করেন, কখনো বা বিষ্ণুরূপে পালন করেন। ব্রম্মারূপে সৃষ্টি করেন ইত্যাদি। রজগুণে যিনি বিষ্ণু তমগুণে তিনি শিব আবার স্বত্ব গুণে তিনিই ব্রহ্মা। কিন্তু উৎস এক। সেই পরব্রম্ম পরমাত্মা। তাই, ঈশ্বরকে নিরাকার বলা হয়েছে।

by JOY RAY
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।