• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৫ অক্টোবর ২০১৭

আমা‌দের লক্ষ্য ও কর্তব্য - ( ১ )

মানুষ‌কে সর্ব‌শ্রেষ্ঠ প্রাণী বলা হ‌য়ে থা‌কে , সে নি‌জে‌কে শ্রেষ্ঠ ভা‌বে , আর ভে‌বে দেখ‌লে ম‌নে হয় যে ভগবান মানু‌ষের রচনায় বৈ‌শিষ্ট্যও রে‌খে‌ছেন । কিন্তু মানুষকে প্রকৃতভা‌বে তখনই শ্রেষ্ঠ বলা যায় যখন সে জীব‌নের প্রধান লক্ষ্যে স্থির থে‌কে নিজ কর্তব্য পালন ক‌রে । কিন্তু যখন আমরা বর্তমা‌ন জগ‌তের দি‌কে তা‌কি‌য়ে দে‌খি তখন দে‌খি যে , লক্ষ্য স্থির রে‌খে কর্তব্যে অ‌বিচল থাকা তো দূরের কথা , লক্ষ্য ও কর্তব্য যে কী তাই সাধারণত লো‌কেরা জা‌নে না , আর জান‌তে আগ্রহীও নয় ।

বু‌দ্ধিমান ব্য‌ক্তির উ‌চিত যে নিজ জ্ঞানে শা‌স্ত্রের কথ‌া বুঝ‌তে সক্ষম না হ‌লে কে‌া‌নো জীবন্মুক্ত মহাপুরু‌ষের কা‌ছে যাওয়া , তেমন কাউ‌কে না পেলে ধ‌র্মের জ্ঞাতা ধর্মাচরণকারী ব্য‌ক্তির কা‌ছে থে‌কে আর তাও য‌দি না পাওয়া যায় ত‌বে নিজ বু‌দ্ধি‌তে যাঁ‌কে ধর্মজ্ঞানী ম‌নে হয় তাঁকে জিজ্ঞাসা ক‌রে নিজ কর্তব্য জে‌নে নেওয়া । তাও য‌দি সম্ভব না হ‌লে অন্ততপক্ষে নিজ অন্তরাত্মাকে জিজ্ঞাসা করা উ‌চিত । একজন ব্য‌ক্তি ব‌লেন ' সত্যই ধর্ম ' অন্যজন ব‌লেন , ' ধর্ম - কর্ম ব‌লে কিছু নেই ' এমন অবস্থায় নিজ অন্তরাত্মা‌কে জিজ্ঞাসা করা উ‌চিত ।

বু‌দ্ধি‌কে বলা উ‌চিত যে সে যেন নির‌পেক্ষভা‌বে তার মতামত জানায় । এভা‌বে অন্তরাত্মা বা বু‌দ্ধি থে‌কে এই সাড়া পাওয়া যা‌বে যে - সত্য কথা বলাই স‌ঠিক , কারণ সত্য সক‌লের পক্ষেই শুভ । এই ভা‌বেই ব্রহ্মচর্য , অহিংসা‌দি অন্যান্য প্রস‌ঙ্গেও ভে‌বে দেখ‌া উচিত এবং অন্তরাত্মা বা বু‌দ্ধির সিদ্ধান্ত জানার পর সেই ভা‌বে কার্য সম্পাদ‌নে তৎপর হ‌য়ে যাওয়া উ‌চিত । এভা‌বে নি‌র্দেশ লাভ ক‌রেও যে যথাযথভাবে তা প‌ালন ক‌রে ন‌া সে তো নি‌জের পতনের কারণ নি‌জেই হয় । ভা‌লো কথা বু‌ঝেও তা পালন না করা এবং মন্দ ভে‌বেও তা ত্যাগ না করা হ‌লে তার তো অবশ্যই পতন হওয়া উ‌চিত ।

শ্রীভগবান ব‌লেন -

উদ্ধ‌রেৎ - আত্মনা - আত্মানম্ ন - আত্মানম্ - অবসাদ‌য়েৎ ।
আত্মা এব হি আত্মন্ বন্ধুঃ আত্মা এব রিপুঃ আত্মনঃ ।। ৬\ ৫

' নি‌জের দ্বারাই নি‌জে‌কে সংসার বন্ধন থে‌কে উদ্ধার কর‌বে এবং নি‌জে‌কে কখ‌নো অ‌ধোগ‌তি‌র প‌থে যে‌তে দে‌বে না , কারণা মানুষ ( আত্মা) নি‌জেই নি‌জের বন্ধু আবার নি‌জেই নি‌জের শত্রু ।
আমা‌দের যে রাগ ( আস‌ক্তি ) - দ্বেষ , শোক - ভয় প্রভৃ‌তি অনুভূ‌তি হয় , তা কেন হয় ?

সক‌লে ভা‌বে যে প্রারব্ধবশত ( ভাগ্য) হয় কিন্তু তা ঠিক নয় । তা অজ্ঞানবশত হ‌য়ে থা‌কে । শোক - ভ‌য়ের জন্য রাগ - দ্বেষ হয় আর রাগ - দ্বেষই হল প্রধান ক্লেশ । অ‌বিদ্যা অথবা অজ্ঞানই হল এর কারণ । অ‌বিদ্যার নাশ হ‌লে এই স‌বের আপনাআপ‌নি বিনাশ হ‌য়ে যায় ।

ধনসম্পদ লাভ করা অথবা নষ্ট হওয়া , অসুস্থ অথবা সুস্থ হওয়া আর জন্ম - মৃত্যু আ‌দি সক‌লের মূ‌লে তো প্রারব্ধ ( ভাগ্য ) কিন্তু চিন্তা ,ভয় , শোক , মোহ আ‌দি‌তে অজ্ঞানই প্রধান কারণ । অজ্ঞান নাশ হ‌লে শোক - মোহ থা‌কে না ।

শ্রু‌তি ব‌লেন -

তত্র কো মোহঃ কঃ শোক একত্বমনুপশ্যতঃ । ( ঈশ ৭ )
হর্ষ‌শোকৌ জহা‌তি । ( কঠ ১\ ২\ ১২ )

শোকা‌দি‌তে য‌দি প্রারব্ধ কারণ হত তাহ‌লে ভগবান অর্জুন‌কে কেমন ক‌রে ব‌ল‌তেন -

অ‌শোচ্যান্ অন্ব‌শোচঃ ত্বম্ প্রজ্ঞাবাদান্ চ ভাষ‌সে ।
গত অসূন্ অগত অসূন্ চ ন অনু‌শোচ‌ন্তি প‌ণ্ডিতাঃ ।

‌হে অর্জুন ! যা‌দের জন্য শোক করা উ‌চিত নয় এমন মানুষ‌দের জন্য তু‌মি শোক করছ আবার প‌ণ্ডি‌তের মতন কথাও বলছ , কিন্তু প‌ণ্ডিতগণ মৃত অথবা জী‌বিত কা‌রো জন্যই শোক ক‌রেন না । '

জ্ঞানের দ্বারা অজ্ঞা‌নের বিনাশ হয় । সাধনা ক‌রে আমাদের সেই জ্ঞান লাভ করা উ‌চিত যা‌তে শোক - মোহ , চিন্ত‌া -ভয় , চু‌ুরি - ব্য‌ভিচার , মিথ্যা - কপট এবং আলস্য - অকর্মণ্যতা আ‌দি দোষসকল‌কে সতত নাশ করে । জ্ঞান হ‌লে , অজ্ঞা‌নের এই সকল কার্য ( প‌রিণাম ) থা‌কে না । ধরা যাক - খুব ভা‌লো রান্না হয়ে‌ছে , মিষ্টান্ন অ‌তিশয় সুস্বাদু , আমরা মন দি‌য়ে খে‌তে ব‌সে‌ছি । দুই গ্র‌াস মু‌খে তু‌লে‌ছি , তখনই একজন চু‌পিচু‌পি এ‌সে খবর দিল - ' মিষ্টা‌ন্নে বিষ আ‌ছে , খেও না । ' তখন তা শু‌নেই মু‌খের গ্রাস তখনই ফে‌লে দিই , থ‌াল‌া সরি‌য়ে দিই । আর গি‌লে ফেলা গ্র‌াস‌কে ভেতর থেকে ব‌মি ক‌রে বের করার চেষ্টা ক‌রি । বি‌ষের কথা শোনা মাত্রই যতই মধুর ও সুস্বাদু বস্তু হোক না কেন আমরা তা খে‌তে পা‌রি না । জগ‌তের সুখ - ভোগ সম্ব‌ন্ধেও ঠিক একই কথা বলা যায় । আমরা য‌দি শাস্ত্র , ভগবান বা সন্ত ব্য‌ক্তির কথায় বিশ্বাস ক‌রি তাহ‌লে এই ভো‌গের প্র‌তি কখনো মন টান‌বে না ।

ভগবান স্বয়ং ব‌লেন --

‌যে হি সংস্পর্শজা ভোগা দুঃখ‌যোনয় এব তে ।
আদ্যন্তবন্ত কৌন্তেয় ন তেষু রম‌তে বুধঃ ।। ( গীতা ৫\ ২২ )

' ই‌ন্দ্রিয় ও বিষয়া‌দির সং‌যো‌গে উৎপন্ন যে ভোগ - যদিও বিষয়ী ব্য‌ক্তি‌দের কা‌ছে তা সুখরূ‌পে বি‌বে‌চিত হয় কিন্তু আস‌লে তা দুঃ‌খেরই হেতু । এর আ‌দি অন্ত আ‌ছে অর্থাৎ এ অ‌নিত্য । সেইজন্য হে কৌন্তেয় ! বু‌দ্ধিমান বি‌বেকশীল ব্য‌ক্তি তা‌তে রমণ ক‌রেন ন‌া ।
এ‌ই কথা জে‌নেও য‌দি কেউ এ‌তে মন দেয় তাহ‌লে তো সে অ‌তি মূর্খ ।

যে কেউ প্রশ্ন কর‌তে পারে , বি‌ষের প্রভাব তৎক্ষণাৎ দেখা যায় কিন্তু এর তো তেমন প্রভাব চো‌খে প‌ড়ে ন‌া ?
এর উত্তরে বলা যায় - বিষ বহু প্রকা‌রের হ‌য়ে থাকে । এমন বিষও হ‌য়ে থা‌কে যার প্রভাব ধীরে ধীরে হয় কিন্তু তা অ‌তি ভয়ংকর হয় । ঠিক তেমনই ভোগ হল ধী‌রে ধীরে প্রভা‌বিত করার এক ভয়ানক সু‌মিষ্ট বিষ । তাই রাজ‌সিক বিষয় সুখ‌কে ভগবান প‌রিণা‌মে বিষতুল্য ব‌লে‌ছেন ।

ভগব‌ান গীতার ১৮\ ৩৮ শ্লো‌কে ব‌লে‌ছেন --

‌বিষয় ই‌ন্দ্রিয় সং‌যোগাৎ যৎ তৎ অ‌গ্রে অমৃ‌তোপমম্ ।
প‌রিণা‌মে বিষম্ ইব তৎ সুখম্ রাজসম্ স্মৃতম্ ।

' যে সুখ বিষয় ও ই‌ন্দ্রি‌য়ের সং‌যো‌গে হয় , যা ভোগকা‌লের প্রার‌ম্ভে অমৃতবৎ ম‌নে হ‌লেও প‌রিণা‌মে তা বিষতুল্য - তা‌কে রাজসিক সুখ বল‌া হয় । '

Writer : Joy Shree Radha Madhav
Share:

আমা‌দের লক্ষ্য ও কর্তব্য ( পর্ব-০২ )

যে কেউ প্রশ্ন কর‌তে পারে , বি‌ষের প্রভাব তৎক্ষণাৎ দেখা যায় কিন্তু এর তো তেমন প্রভাব চো‌খে প‌ড়ে ন‌া ?

এর উত্তরে বলা যায় - বিষ বহু প্রকা‌রের হ‌য়ে থাকে । এমন বিষও হ‌য়ে থা‌কে যার প্রভাব ধীরে ধীরে হয় কিন্তু তা অ‌তি ভয়ংকর হয় । ঠিক তেমনই ভোগ হল ধী‌রে ধীরে প্রভা‌বিত করার এক ভয়ানক সু‌মিষ্ট বিষ । তাই রাজ‌সিক বিষয় সুখ‌কে ভগবান প‌রিণা‌মে বিষতুল্য ব‌লে‌ছেন ।

যে কেউ প্রশ্ন কর‌তে পারে , বি‌ষের প্রভাব তৎক্ষণাৎ দেখা যায় কিন্তু এর তো তেমন প্রভাব চো‌খে প‌ড়ে ন‌া ?

এর উত্তরে বলা যায় - বিষ বহু প্রকা‌রের হ‌য়ে থাকে । এমন বিষও হ‌য়ে থা‌কে যার প্রভাব ধীরে ধীরে হয় কিন্তু তা অ‌তি ভয়ংকর হয় । ঠিক তেমনই ভোগ হল ধী‌রে ধীরে প্রভা‌বিত করার এক ভয়ানক সু‌মিষ্ট বিষ । তাই রাজ‌সিক বিষয় সুখ‌কে ভগবান প‌রিণা‌মে বিষতুল্য ব‌লে‌ছেন ।

ভগব‌ান গীতার ১৮\ ৩৮ শ্লো‌কে ব‌লে‌ছেন --

‌বিষয় ই‌ন্দ্রিয় সং‌যোগাৎ যৎ তৎ অ‌গ্রে অমৃ‌তোপমম্ ।

প‌রিণা‌মে বিষম্ ইব তৎ সুখম্ রাজসম্ স্মৃতম্ ।

' যে সুখ বিষয় ও ই‌ন্দ্রি‌য়ের সং‌যো‌গে হয় , যা ভোগকা‌লের প্রার‌ম্ভে অমৃতবৎ ম‌নে হ‌লেও প‌রিণা‌মে তা বিষতুল্য - তা‌কে রাজসিক সুখ বল‌া হয় । '

য‌দি বলা হয় যে , আমরা তো বহু বহু বিষয় খে‌য়ে রে‌খে‌ছি তাহ‌লে এখন কী হ‌বে ?


তার উপায় তো অ‌নেক আ‌ছে । প্রথ‌মে গ্রহণ করা বিষ বারও করা যে‌তে পারে , হজম করাও যে‌তে পারে । উত্তম বৈদ্য তার উপায় ব‌লে দি‌তে পা‌রেন কিন্তু প্রথ‌মে বিশ্বাস আসা প্র‌য়ো‌জন যে তা বস্তুত বিষ । বিশ্ব‌াস হ‌লে অন্ততপ‌ক্ষে ভ‌বিষ্য‌তে তা খাওয়া বন্ধ হ‌য়ে যা‌বে । য‌দি তা এখনও সেই ভা‌বেই গ্রহণ করা হয় তাহ‌লে কেমন ক‌রে ভাবা যায় যে আমরা ভগবানের কথার উপর বিশ্বাস ক‌রে সেটি‌কে দুঃখপ্রদ ও বিষবৎ ম‌নে ক‌রে‌ছি ?

এই বিষ‌সেবন ত্যাগ করা প্র‌য়োজন এবং তা অ‌বিল‌ম্বে না কর‌লে রক্ষা পাওয়া ক‌ঠিন হ‌য়ে যা‌বে । যে পর্যন্ত মৃত্যু দূ‌রে আ‌ছে , দে‌হে প্রাণ আ‌ছে তার ম‌ধ্যেই অতি শীঘ্র উপায় করা প্র‌য়োজন । এ ভাবা ঠিক নয় যে তাড়া কী‌সের ! কিছু দিন প‌রে ক‌রে নেব । মৃত্যু কখন এ‌সে উপস্থিত হ‌বে তা কেউ বল‌তে পারে ন‌া । জীব‌নের কে‌নো স্থিরতা তো নেই । এ‌দি‌কে বিষ বে‌ড়েই যা‌চ্ছে । য‌দি রা‌ত্রে মৃত্যু হয় তাহ‌লে কী করার থাক‌বে ? অতএব এখনই জে‌গে উ‌ঠে পূর্ণ শ‌ক্তি‌তে লে‌গে পড়া প্র‌য়োজন । মানুষ কত কি বল‌বে তা‌দের কথা কান দি‌য়ে কি কর‌বেন । তারা তো আপনা‌কে উদ্ধার কর‌তে পা‌রবে না । যারা অজ্ঞানী , ই‌ন্দ্রিয়সুখ -‌ভো‌গে আসক্ত তারা আপনা‌কে শুধু বিপ‌থে নি‌য়ে যা‌বে তারা নি‌জে‌রা জা‌নে না কি ক‌রে উদ্ধার হ‌তে হ‌বে আপনা‌কে কি আর স‌ঠিক পথ দেখা‌তে পা‌রে ।

আমা‌দের লক্ষ্য হওয়া উ‌চিত ঈশ্বর লাভ , কারণ ঈশ্বরই একমাত্র পরম সুখ ও শাশ্বত শা‌ন্তির কেন্দ্র । তি‌নিই সর্ব‌শ্রেষ্ঠ এবং লাভ করবার সর্বা‌পেক্ষা যোগ্য পরম বস্তু , তাঁর প্রাপ্তি‌তেই জীব‌নের পূর্ণ ও যথার্থ সাফল্য নির্ভর ক‌রে এবং এই পরম লক্ষ্য‌কে লাভ করবার জন্য সতস যত্নশীল হওয়াই মানব জীব‌নের কর্তব্যপালন । এই কর্তব্যপালনে যতই ত্যাগ করা হোক না কেন , তাই অল্প । কেবল ত্যা‌গের প্রস্তু‌তি থাক‌া দরকার, ত্যা‌গের জন্য প্রস্তুত হ‌লে শাস্ত্র ব‌লেন -- ঈশ্বর ল‌াভ হয় আর তা লাভ করাও সহজ , আর এই বিশ্বাস ধার‌ণ করা প্র‌য়োজন যে আমরা ঈশ্বর লা‌ভের অ‌ধিকারী ।

যেমন মন দি‌য়ে পড়া‌লেখা কর‌লে পাস করা যায় । ফেল করা কঠিন কিন্তু পাস করা সহজ । পাস করার জন্য একটু মন দি‌য়ে বু‌ঝে শু‌নে পড়ালেখ‌া করা । তেমনি ভগবান‌কে প্রাপ্ত করার জন্য ম‌নো‌যোগ সহকা‌রে তা‌কে ভ‌ক্তি কর‌তে হ‌বে । আমা‌দের মানবজন্ম তাঁ‌কে প্রাপ্ত করার জন্যই হ‌য়ে‌ছে । ভগবান আমা‌দের মু‌ক্তির চা‌বিকা‌টি দি‌য়ে‌ছেন । যা কিছু বিফলতা হয় সব আমা‌দের দিক থে‌কে । তি‌নি মানব‌দে‌হে দি‌য়ে আমা‌দের মুুক্তির অ‌ধিকারী ক‌রে দি‌য়ে‌ছেন ।

এক্ষ‌ণে আমরা য‌দি প্রমাণ ও পাপ ক‌রি তাহ‌লে তা তো আমা‌দের মূর্খতা । এমন মূর্খ‌দের জন্য ভগবান ব‌লে‌ছেন -

তানহং দ্বিষতঃ ক্রূরান্ সংসা‌রেষু নরাধমান্ ।

‌ক্ষিপা‌মি অজস্রম্ অশুভান্ আসুরীষু এব যো‌নিষু । ( ১৬\ ১৯ )

' সেই দ্বেষপরায়ণ , পাপাচারী , ক্রূর , নরাধম‌দের আ‌মি এই সংসা‌রে বারংবার আসুরী যোনি‌তে নি‌ক্ষেপ ক‌রি । '

আসুরী যো‌নিমাপন্না মূঢ়া জন্ম‌নি জন্ম‌নি ।

মামপ্রা‌প্যৈব কৌ‌ন্তেয় ত‌তো যান্ত্যধমাং গ‌তিম্ ।। ১৬ \২০

‌হে অর্জুন ! সেই মূঢ় ব্যক্তিগণ আমা‌কে লাভ না ক‌রে জ‌ন্মে জন্মে আসুরী যো‌নি লাভ ক‌রে এবং ক্র‌মে তা থে‌কেও অত্যন্ত অ‌ধোগ‌তি প্রাপ্ত হয় অর্থাৎ ঘোর নর‌কে প‌তিত হয় । '

পাপাচারী ও ক্রূরকর্মা নরাধম‌দের জন্য আসুরী যো‌নি এবং নর‌কের বিধান করা তো যথার্থ । কিন্তু ভগবান যে ব‌লে‌ছেন - ' আমা‌কে ল‌াভ না করে ' এর রহস্য কী ? সরকার বল‌তেই পা‌রেন যে চোর , ডাকাত , তা‌কে বারংবার জে‌লে পাঠা‌নো হ‌বে , দীপান্ত‌রে পাঠা‌নো হ‌বে । কিন্তু তা‌কে ' রাজ্য না দি‌য়ে জে‌লে পাঠা‌নো হ‌বে ' - এর মা‌নে কী ? কথাটা এই যে ভগবান যখন কো‌নো জীব‌কে মানব‌দেহ দি‌য়ে পাঠান তখন তো তা‌কে মু‌ক্তির অ‌ধিকার দি‌য়েই পা‌ঠি‌য়ে‌ছেন ।

সেই মুক্তির অধিকার লাভ ক‌রে আসা জীব যখন ভগবান‌কে ভু‌লে গি‌য়ে নি‌জ জন্ম‌সিদ্ধ অধিকার উপেক্ষা ক‌রে পাপ ক‌রে ব‌লেন যে - দে‌খো , আ‌মি এ‌কে আমা‌কে লাভ করবার অ‌ধিকার দি‌য়ে পা‌ঠি‌য়ে‌ছিলাম কিন্তু আজ এ‌কে নর‌কে পাঠাবার ব্যবস্থ‌া কর‌তে হ‌চ্ছে । এর চে‌য়ে বড় আ‌ক্ষেপ আর কী হ‌তে পা‌রে ?

যেমন কো‌নো রাজপু‌ত্রের রা‌জ্যের উপর জন্ম‌সিদ্ধ অ‌ধিকার থা‌কে কিন্তু যতক্ষণ সে নাবালক তাঁ‌কে রাজ্যশাস‌নের যোগ্য ম‌নে করা হয় না । রাজা স্বয়ংই রা‌জ্যের সমস্ত ব্যবস্থা ক‌রেন এবং রাজকুমার সাবালক হ‌লে তা‌কে সমস্ত অ‌ধিকার অর্পণ করবার ইচ্ছ‌া রা‌খেন । কিন্তু য‌দি সে অ‌যোগ্য প্রমা‌ণিত হয় এবং কুস‌ঙ্গে প‌ড়ে অনু‌চিত কর্ম ক‌রে , যার ফ‌লে প্রজা‌দের ক্ষ‌তি হয় তাহ‌লে তেমন প‌রি‌স্থি‌তিকে জন্ম‌সিদ্ধ স্বত্ব হ‌লেও তা‌কে রাজ্য‌ধিকার থে‌কে ব‌ঞ্চিত ক‌রে দেওয়া হয় ।

শুধু তাই নয় তার জন্য দণ্ডের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে । দণ্ড দেওয়ার সম‌য়ে রাজা আক্ষেপ করেন । এমন কথা মানু‌ষের জন্যও প্র‌যোজ্য । মানু‌ষের ঈশ্বরলাভ জন্ম‌সিদ্ধ অ‌ধিকার তবুও নিজ অ‌যোগ্যতা ও বিপরীতাচরণ হেতু তা‌কে নি‌জ অধিকার থে‌কে ব‌ঞ্চিত হ‌য়ে দণ্ড ভোগও কর‌তে হ‌য় । এর থে‌কে অ‌ধিক তার দুর্ভাগ্য কী হ‌বে ? তাই ভগবান উপ‌রের শ্লোকে ' আমাকে লাভ না ক‌রে ' অধম গ‌তি লাভ ক‌রে - এমন কথা ব‌লে‌ছেন ।

বস্তুত এ‌টি অ‌তিশয় দুঃখ ও লজ্জ‌ার কথা যে , এইভা‌বে আমরা দয়ালু ভগবা‌গের দয়ার প্র‌তি সু‌বিচার না ক‌রে নি‌জে মানবজীব‌নকে ব্যর্থ ক‌রে তু‌লি । এটাই মানব জীব‌নের সব থে‌কে বড় বিফলতা এবং তা মান‌বের সব থে‌কে বড় ভুল । ভগবান বলেন - সত্বর চৈতন্যময় হও , কা‌লের উপর ভর‌সা করে বিষয় ভু‌গে একটুুও বিভ্রান্ত হ‌য়ো না । ভে‌বো না যে মানব‌দেহ সতত থাক‌বে ।

এও ভে‌বো না যে আমা‌কে ভু‌লে তু‌মি এ‌তে একটুও সু‌খের‌ স্পর্শ পাবে । এই মানব‌দে‌হে আ‌মি তোমাকে বি‌শেষ কৃপাপূর্বক প্রদান করে‌ছি নি‌জের দি‌কে আকর্ষণ ক‌রে পরমানন্দরূপ পরমধা‌মে নি‌য়ে যাওয়ার জন্য । এই জন্ম অ‌তিশয় দুর্লভ । কিন্তু তা অ‌নিত্য , ক্ষণভঙ্গুর আর যে আমা‌কে ভুলে যায় তার জন্য তার জন্য নিতান্ত সুখর‌হিতও । তা লাভ ক‌রে কেবল প্রী‌তিপূর্বক আমা‌রই ভজনা ক‌রো । তাহ‌লেই তুুমি জীব‌নের পরম লক্ষ্যরূপ আমা‌কে লাভ ক‌রে ধন্য হ‌তে পার‌বে ।

অ‌নিত্য অসুখম্ লোক‌মিমং প্রাপ্য ভজস্ব মাম্ ।। ( ৯\৩৩ )

জয় আমার প্রাণ শ্রীরাধাগো‌বি‌‌ন্দের জয় ।

জয় ভক্তবৃন্দের জয় ।
Joy Shree Radha Madhav


Share:

১৪ অক্টোবর ২০১৭

সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তরঃ ঈশ্বরবাদ ( প্রশ্নঃ-০১ - ০৩ )

প্রশ্নঃ- ০১। ইশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ে মানুষের বহুরূপ কল্পনা কেন ?

উত্তরঃ-

                   মানুষের মন চঞ্চল । তীব্রগতির এ মনকে সংযত করা, স্থির করার ব্যবস্থাই এ রূপকল্পনা । আমাদের চোখের পর্দায় (রেটিনায়) যে ছবি পড়ে তা থেকেই চোখ দেখে এবং তা মন পর্যন্ত পৌছায় । মন সে ছবিকে ধরে রাখতে পারে । ইচ্ছেমত পরবর্তীতে যে কোন সময় সে ছবির বণর্নাও করতে পারে । অর্থাৎ ছবিটি মনের পর্দায় থেকে যায় । এতেই মন ঐ ছবিটির মাধ্যমে স্থির হতে পারে। রূপকল্পনা মনকে স্থির করারই একটি উপায় মাত্র ।

মূর্তির রূপকল্পনা মিথ্যে কিন্তু সে মন স্থির করতে সাহায্য করে এবং পরিশেষে 'ঈশ্বর সত্য' এটা উপলব্ধি করতে শেখায় ও সেখানে পৌছাতে পারে। তাই প্রতিমা পূজা সনাতন ধর্মের একটি বৈশিষ্ট্য বটে। মানুষের মন বিচিত্রধর্মী একই জিনিস বা রূপ নিয়ে সে পরিতৃপ্ত হতে পারে না । তাই সে বিভিন্ন রূপের মধ্যে নিজের মনের কাঙ্ক্ষিত রূপ খুজে বের করে নেয়। এ জন্যই ঈশ্বরের বহুরূপ কল্পনা ।
এছাড়া ঈশ্বরও বহুরূপে, বিচিত্র সৌন্দর্যে বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন ।

তথ্যসুত্রঃ দেবদবীর পরিচয় ও বাহন রহস্য

প্রশ্নঃ- ০২। হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্য ও ধর্মচর্চ্চার ভিন্নতা দৃষ্টে হিন্দুদেরকে বহু ঈশ্বরবাদী বলা যায় কি ?

উত্তরঃ

          হিন্দুধর্মে সাধনার বৈচিত্র্য বর্তমান । কেউ নিরাকারভাবে, কেউ বা সাকারভাবে ঈশ্বরের আরাধনা করতে পারেন । মাতৃভাবে, পিতৃভাবে, সখাভাবে, এমনকি পুত্রভাবেও ঈশ্বরের আরাধনা করা যেতে পারে । যিনি যেভাবেই আরাধনা করুন না কেন তিনি সেভাবেই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারবেন । পাহাড় থেকে যেমন জলধারা বিভিন্ন পথে অগ্রসর হয়ে পরিশেষে সমুদ্রের সঙ্গে মিলিত হয় তেমনি মত ও পথ বিভিন্ন হলেও গন্তব্যস্থল ঈশ্বর ।

এ সম্পর্কে শ্রীমদ্ভাগবতগীতায় শ্রীভগবান বলেছেন, '' আমাকে যে যে-ভাবে ভজনা করে আমি তাকে সেভাবেই অনুগ্রহ করি । হে পার্থ, মনুষ্যগণ বিভিন্ন পথে আমারই অনুসরণ করে ।''
হিন্দুধর্মে বহু দেব-দেবীর উপসনা প্রচলিত । বহুরূপে একই ঈশ্বরের আরাধনা করাই হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্য । তাই বলে হিন্দুধর্ম বহু ঈশ্বরবাদী নয় ।

প্রশ্নঃ- ০৩। ঈশ্বর কি বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ? তাই যদি হয় তাহলে ব্রহ্মা ও বিশ্বকর্মা কি সৃষ্টি করেন ?

উত্তরঃ
             ঈশ্বর বা পরমব্রহ্ম স্বয়ং এ বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। ঈশ্বরের দুটি ভাব আছে - স্বগুন ও নির্গুন । তিনি যখন নির্গুনভাবে অবস্থান করেন তখন তাঁর কাজটি পরিচালন করেন তাঁরই প্রতিনিধি স্বরূপ ব্রহ্মা। অর্থাৎ ব্রহ্মা পরমব্রহ্মেরই আজ্ঞাবহ মাত্র ।

'বিশ্বকর্মা' শব্দের অর্থ বিশ্বের নির্মাণকর্তা । ঋগ্বেদের বর্ণনা অনুসারে বিশ্বকর্মা সর্বদর্শী । এঁর চক্ষু, মুখমন্ডল, বাহু ও পদদ্বয় সর্বদিকে বিস্তৃত । বাহু ও পদদ্বয়ের সাহায্যে তিনি স্বর্গ ও মর্ত্য নির্মান করেন । পুরান মতে বিশ্বকর্মা ঈশ্বরের স্থাপত্য শিল্পের স্রষ্টা এবং আমাদের শিল্প নৈপুন্যের পথ-পদর্শক ।

তথ্যসুত্রঃ জ্ঞান মঞ্জুরী

[ কার্টেসী ব্যতীত কপি পোষ্ট নিষিদ্ধ ]
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।