• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

অবতারবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অবতারবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২২ এপ্রিল ২০২০

এই কলি যুগেও নৃসিংহদেবের আবির্ভাব ও আশীর্বাদ থেকে ভক্তরা বঞ্চিত হননি, তার কিছু উদাহরন দিচ্ছি ।


নৃসিংহদেব তাঁর সত্য ভক্তদের চরমতম বিপদের সময় রক্ষা করেন। এই কলি যুগেও তাঁর আবির্ভাব ও আশীর্বাদ থেকে ভক্তরা বঞ্চিত হন নি, তার কিছু উদাহরন দিচ্ছি।

আজ থেকে সহস্রাধিক বৎসর পূর্বে ভগবৎপাদ শঙ্কর আচার্য যখন দিগবিজয়ে বেরিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মের বিজয় পতাকা ভারতের নানা প্রান্তে উড্ডীন করছেন, সেই সময় তিনি বেশ কয়েক বার বিরুদ্ধবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। একবার দক্ষিণ ভারতের শ্রী শৈলম তীর্থে শঙ্কর এক দুষ্ট কাপালিকের কবলে পড়েন। কাপালিক তাঁকে বলি দেয়ার চেষ্টায় ছিল। শঙ্কর তা বুঝেও নির্বিকার ভাবে ভগবৎ চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। এইসময় সহসা শঙ্করের অন্যতম শিষ্য ও পদ্মপাদ সেখানে উগ্র মূর্তিতে প্রবেশ করেন ও গর্জন করতে করতে বলির খাঁড়া দিয়ে কাপালিক কে বধ করেন। পরে প্রকিতস্থ হলে তিনি শঙ্করকে জানান যে ছোট বেলা থেকেই পদ্মপাদ নরসিংহ ভক্ত। একবার প্রভু পদ্মপাদকে দেখা দিয়ে বলেছিলেন যে ভয়ানক বিপদ কালে তিনি আবির্ভূত হয়ে তাঁকে রক্ষা করবেন। বাস্তবেও তাই হল। নরসিংহ ভগবান পদ্মপাদের শরীরে আবিষ্ট হয়ে দুষ্ট দমন করলেন। এরপরই আদি শংকর তাঁর প্রসিদ্ধ শ্রীশ্রীলক্ষ্মী-নরসিংহ স্তোত্রটি রচনা করেন। ভারত ও হিন্দু ধর্ম তার ফলে আচার্য শঙ্কর কে আরও অনেক দিন জীবিত ভাবে পেল এবং অগ্র গতির দিকে এইভাবে আর -ও এগিয়ে গেল।

সাম্প্রতিক অতীতে এ সি ভক্তি বেদান্ত দ্বারা " আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সঙ্ঘ " বা " ইস্কন " স্থাপিত হবার পর যখন নানারকম প্রতিকূলতার মধ্যে পড়েছিল,বিশেষ করে যখন মায়াপুর মূল কেন্দ্রে বার বার ডাকাতের হামলা হচ্ছিল, সেই সময় ইস্কনের পরিচালক গন শ্রীশ্রীনরসিংহ ভগবানের উপাসনা করতে মনস্থ করেন।

সারাজগতে কৃষ্ণনাম প্রচার করাই ইসকনের লক্ষ্য। যদিও কলিযুগের যুগধর্ম হরিনাম সংকীর্তন এবং জগৎমঙ্গলকর পন্থা হল কৃষ্ণভক্তি অনুশীলন, তবুও কলিযুগের আসুরিক মানুষরা কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের বিরোধী। তারা চায় কৃষ্ণনাম প্রচার বন্ধ করে দিতে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন কৃষ্ণনাম সংকীর্তন প্রবর্তন করলেন, তখন নবদ্বীপে স্মার্ত ব্রাহ্মণেরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নবদ্বীপে হরিনাম বন্ধ করার জন্য তৎকালীন নদীয়ার শাসনকর্তা চাঁদ কাজীর কাছে আবেদন পেশ করেছিলেন। চাঁদ কাজীও গুন্ডা পাঠিয়ে মায়াপুরের শ্রীবাস অঙ্গনে সংকীর্তনকারী ভক্তদের উৎপীড়ন করতে লাগলেন তারপর নাগরা পিটিয়ে হরিনাম সংকীর্তন বন্ধের ঘোষণা জারি হয়েছিল। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও নিত্যান্দ প্রভু সেই সংবাদ পেয়ে চাঁদ কাজী সরকারের বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করলেন। লক্ষ লক্ষ লোক মশাল জ্বালিয়ে হরিনাম করতে করতে চাঁদ কাজীর প্রাসাদে এসে পৌঁছলেন। চাঁদ কাজী ভয়ে লুকিয়ে ছিলেছিলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে, তিনি বেরিয়ে এসে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সমাদর করলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কাজীকে যখন প্রশ্ন করলেন, আপনার নির্দেশ অমান্য করে ভক্তরা হরিনাম করছে,আর আপনি কেন কিছুই প্রতিবাদ করছেন না ? ' উত্তরে চাঁদ কাজী মহাপ্র্রভুকে বলেন, ' নিমাই, তোমাদের হরিনামে আমি আর কখনই বাধা দেবো না। কেননা আমি ভয়ে ভীত হয়ে ঘুমাতে পারিনি। এক দেবতা- যার মুখ সিংহের মতো, শরীরটা মানুষের মতো। তার হাতে ছিল বড় বড় নখ। সে আমার বুকে নখের আচড় লাগিয়ে ধমক দিয়ে বলল ' , "ভক্তদের সংকীর্তন যদি বনধ করিস্ তবে তোর নিপাত করব।" তারপর সে অদৃশ্য হয়ে যায়। তার নখের দাগ এখনো বুকে রয়েছে।'

সবাই বুঝলেন, ভক্তদের রক্ষার জন্য ভগবান নৃসিংহদেব, যিনি অত্যাচরী অসুর হিরণ্যকশিপুর কবল থেকে ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছিলেন, তিনিই চাঁদ কাজীকে সাবধানবাণী শুনিয়েছেন।

কলিযুগের আসুরিক লোকদের উৎপাত থেকে ভগবানের যে অবতার সর্বদা জাগ্রত হয়ে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ পূর্বক ভক্তদের রক্ষা করেন, তিনি হচ্ছেন শ্রীনৃসিংহদেব।

১৯৮৪ খৃষ্টাব্দের ২৪শে মার্চ রাত দুপুরে গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শ্রীধাম মায়াপুর ইসকন মন্দির আক্রমণ করেছিল ৩৫ জন ডাকাত। প্রভুপাদের বিগ্রহ ও রাধারাণীর বিগ্রহ তারা অপহরণ করে। মন্দিরের আর্তক্রন্দনময় বিভীষিকা ভক্তদের মর্মাহত করেছিল। কাঞ্চীর শঙ্কর আচার্য পূজ্যপাদ জয়েন্দ্র সরস্বতীর পরামর্শ ক্রমে শ্রীশ্রীনরসিংহ ভগবান মায়াপুরে স্থাপিত হন ।এর পর থেকে ইস্কনের সঙ্কট দূর হতে থাকে ও আরও অগ্র গতি হতে থাকে । জিবিসি পক্ষ থেকে সমাধান কল্পে শ্রীমায়াপুর ইসকন মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হলেন শ্রীশ্রী উগ্রনৃসিংহদেব। সময়টি ছিল ১৯৮৬ খৃষ্টাব্দের জুলাইয়ের শেষ দিক।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর হরে কৃষ্ণ আন্দোলনে ভক্তদের সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রান্তে আসুরিক শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়। আসুরিক শক্তির কাজটিই হল ভক্তদের উৎপীড়ন করা এবং হরিনাম প্রচার বনধ করা। সর্বত্রই ভক্তিবিঘ্ন বিনাশক শ্রীনৃসিংহদেবই সুরক্ষা দান করেন।

এই ঘটনাটি আরও তাৎপর্য পূর্ণ এই কারনে যে, শ্রীশ্রীনরসিংহ ভগবানের বিগ্রহ স্থাপনের পূর্বে শ্রীকৃষ্ণ ভিন্ন অন্য দেবতা মূল মন্দিরে পূজিত হতেন না।হয়ত সংস্থার পরিচালক গন শ্রীকৃষ্ণ ভিন্ন অন্য দেবতাদের দাস/দাসী জ্ঞান করে অন্য দেবগনের উপাসনা করায় উৎসাহ দিতেন না। কিন্তু বিপদ সৃষ্টি করে , শ্রীশ্রীভগবান নরসিংহ (তন্ত্রের বিচারে যিনি সাক্ষাৎ ভৈরব বা শিব) দেবের পূজা করিয়ে,গোঁড়ামি মুক্ত সনাতন হিন্দুত্বের ঐক্যবদ্ধ বিরাটত্বের বাণী আমাদের সকলকে শিখিয়েছেন।

মায়াপুর ইসকন মন্দিরে শ্রীনৃসিংহদেব বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে পরেই বহু শালগ্রাম শিলাও উপস্থিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় শিলা নৃসিংহ শিলা, তারপরে দশ অবতার সহ বহু অসংখ্য অবতারের শিলাও অর্চিত হচ্ছে। সমস্ত অবতারেরই পূজা-অর্চনা হলেও প্রায় ক্ষেত্রে নৃসিংহদেবের প্রকাশ প্রভাবটাই বেশী দেখা যায় সেজন্য সব মন্দিরে ভক্তরা নৃসিংহ প্রার্থনাই নিত্য গীত করে থাকেন।

জয়নৃসিংহশ্রীনৃসিংহ।
জয়জয়জয়শ্রীনৃসিংহ।।

শ্রীশ্রীনৃসিংহের ধ্যান মন্ত্র :-

ওঁ মাণিক্যাদ্রিসমপ্রভং নিজরুচা সন্ত্রস্তরক্ষোগণং,
জানুন্যস্তকরাম্বুজং ত্রিনয়নং রত্নোল্পসদ্‌ভূষণম্‌ ।
বাহুভ্যাং ধৃতশঙ্খচক্রমনিশং
দংষ্ট্রোগ্রবক্ত্রোল্পসজ্জ্বালাজিহ্বমুদারকেশরচয়ং বন্দে নৃসিংহং বিভূম্‌।।

শ্রীশ্রীনৃসিংহের মন্ত্র :-
ওঁ উগ্রং বীরং মহাবিষ্ণুং জ্বলন্তং সর্বতোমুখম্।
নৃসিংহং ভীষণং ভদ্রং মৃত্যোর্মৃত্যুংনমাম্যহম্।।

শ্রীশ্রীনৃসিংহ-গায়ত্রী মন্ত্র: -
ওঁ বজ্রনখায় বিদ্মহে তীক্ষ্ণদংষ্ট্রায় ধীমহি।
তন্নো নরসিংহ প্রচোদয়াৎ।।

ওঁ গুহ্যাতিগুহ্যগোপ্তী ত্বং গৃহাণাস্মৎকৃতং জপম্‌।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেব ত্বৎপ্রসাদাৎ জনার্দ্দন ।

শ্রীনৃসিংহ, জয়নৃসিংহ, জয়জয়নৃসিংহ।।
প্রহ্লাদেশজয়পদ্মমুখপদ্মভৃঙ্গ।।
নমস্তেনরসিংহায়প্রহ্লাদাহ্লাদ-দায়িনে।
হিরন্যকশিপোর্বক্ষঃশিলাটঙ্কনখালয়ে।।
ইতোনৃসিংহঃপরতোনৃসিংহো
যতোযতোযামিততোনৃসিংহ।
বর্হিনৃসিংহোহৃদয়েনৃসিংহো
নৃসিংহমাদিংশরণংপ্রপদ্যে।।
তবকরকমলবরেনখমদ্ভূতশৃঙ্গং
দলিতহিরন্যকশিপুতনুভৃঙ্গম্।
কেশবধৃত-নরহরিরূপজয়জগদীশহরে।।

ভগবান শ্রীনৃসিংহদেবের আবির্ভাব তিথি কি !!! জয়
ভগবান শ্রীনৃসিংহদেব কি !!! জয়
শুদ্ধ ভক্ত প্রহল্লাদ মহারাজ কি !!! জয়

ওঁ ইতঃ পূর্ব্বং প্রাণবুদ্ধি দেহধর্ম্মাধিকারতো জাগ্রৎস্বপ্নসুষুপ্ত্যবস্থাসু মনসা বাচা হস্তাভ্যং পদ্ভ্যামুদরেণ শিশ্মা যৎ স্মৃতং যদুক্তং যৎ কৃতং তৎসর্ব্বং ব্রহ্মার্পণং ভবতু স্বাহা,
মাং মদীয়ং সকলং সম গশ্রীশ্রীনৃসিংহদেবতায়ৈ সমর্পয়ামি ওঁ তৎ সং।

ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু
ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু
ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু
ওঁ বিষ্ণু

ওঁ ঋচং বাচং প্রপদ্যে মনো যজূঃ প্রপদ্যে সাম প্রাণং প্রপদ্যে চক্ষুঃশ্রোত্রং প্রপদ্যে বাগৌজঃ সহৌজ ময়ি প্রাণাপানৌ।
ওঁ ষন্মে ছিদ্রং চক্ষুষোর্হৃদয়স্য মনসো বাতিতৃণ্নং বৃহস্পতিতে তদ্দধাতু।
শন্নো ভবতু ভুবনস্য যস্পতিঃ।।
ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ।
স্বস্তি নস্তাক্ষ্যো অরিষ্টনেমিঃ স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দ্দাধাতু।।
ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি।।

জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ -
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

ACHARYA KUSH MUKHERJEE
RAMPURHAT CHAKLAMATH BIRBHUM (W.B)
PIN NO 731224
GOLD MEDALIST
WHATSAPP NO 9233172388
CONTACT NO 7001608953
ONLINE PORISEVA DEWA HOI rs 1000/=
MY PAGE NAME IS ASTRO-PALMIST-NEUMEROLOGY CENTER
PLEASE LIKE&SARE
Contact with me :www.apnc.co.in
https://m.facebook.com/Astro-Palmist-Neumerology-Center-1569956439973629/?ref=bookmarks



Blog Url: https://apnc.co.in/blog.php?blog=20180430075422
Share:

বৈশাখী শুক্লা চতুর্দশীর সন্ধ্যায়, শ্রীহরির অবতার রূপে শ্রীশ্রীনৃসিংহ ভগবান প্রকট হয়েছিলেন।

শ্রীশ্রীনৃসিংহ ভগবান দেখতে বা শুনতে ভয়ঙ্কর হলেও তিনি হচ্ছেন ভক্তিতত্ত্বের অনন্য উদাহরণ স্বরূপ। আমরা জানি, ঈশ্বরের দিকের আমরা এক পা এগিয়ে গেলে তিনি আমাদের দিকে দশ পা এগিয়ে আসেন দর্শন দানের জন্য। সেই এক পা এগানোটাই হচ্ছে কঠিন। এর নানা পথ আছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে ভক্তি। ভক্তির দ্বারা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তিনি আসেন, চাই প্রবল ভরসা 'তাঁর' প্রতি। এই ভরসা ছিল বলেই 'রাম' নামে সমুদ্র পাথর ভেসে সেতু নির্মিত হয়েছিল ভক্ত হনুমানের দ্বারা। তবে হ্যাঁ, ভক্তিতে বোকা হলে চলবে না, যাকে অজ্ঞানতা বলে। ভক্ত প্রহ্লাদের সেই ভরসা ছিল বলেই তিনি বিশ্বাসের সাথে বলতে পেরেছিলেন তাঁর ভগবান স্তম্ভের মধ্যেও আছেন।



বহু লক্ষ বৎসর পূর্বে বৈশাখী শুক্লা চতুর্দশীর সন্ধ্যায়,  শ্রীহরির অবতার রূপে শ্রীশ্রীনরসিংহ ভগবান প্রকট হয়েছিলেন ।

সক্রেটিস বলেছিলেন ‘নিজেকে জানো’। এই রকম একটি স্বার্থপর উক্তি কি করে এত জনপ্রিয়তা পেল আমার মাথায় ধরে না। আমার মতে উক্তিটি একটি অর্ধ উন্মোচিত উক্তি। উক্তিটি হওয়া উচিত – ‘নিজেকে জানো, অন্যকেও জানো’। পরিতাপের বিষয় হলো আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে জানি না অন্যকে জানার ইচ্ছাও বহুদুরে। অথচ পারস্পরিক এই অজানা থেকেই জন্ম নেয় অবিশ্বাস, যেখান থেকে জন্ম নেয় অন্যের প্রতি অসহিষ্ণু মনোবৃত্তি, সেখান থেকে জন্ম নেয় কলহ। এই সীমাবদ্ধতাকে উপড়ে ফেলতে অগ্রসর হই সনাতন ধর্ম সম্পর্কে জানার। যতটুকু জানছি তারই কিছুটা উন্মোচন করতে এই প্রয়াস।


 হিরণ্যকশিপু পূর্বজন্মে কে ছিলেন ?

বৈকুন্ঠের দ্বারী ছিলেন জয় এবং বিজয় । একবার ব্রাহ্মণরা জয় এবং বিজয়কে তাদের ঔদ্ধত্যৈর জন্য অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, মর্ত্যলোকে তিন জন্ম নাস্তিক আর নিষ্ঠুর হয়ে কাটাতে হবে। এই তিনটি জন্মই তাদের কাটাতে হবে প্রচন্ড দেব- বিরোধিতা করে, অসুর মনোভাব নিয়ে অত্যাচার করে।ভগবান এই দুই দ্বারীকে খুবই ভালবাসতেন। তবে ঔদ্ধত্যৈর শাস্তি পাওয়া উচিত বিবেচনা করে ব্রাহ্মণের সেই অভিশাপ তিনি অনুমোদন করেছিলেন ।তবে ভগবান তাদের অশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি স্বয়ং নিজে মর্ত্যে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আনবেন। জয় প্রথমে মর্ত্যে জন্ম নিয়েছিলেন হিরণ্যকশিপু হয়ে । শ্রীশ্রী নৃসিংহ দেব হিরণ্যকশিপুকে সংহার করে প্রথম জন্ম থেকে মুক্তি দেন। দ্বিতীয়বার জয়কে জন্মাতে হয়েছিল রাবন হয়ে। শ্রীরামচন্দ্র রাবনকে বধ করে দ্বিতীয় জন্ম থেকে মুক্তি দেন। শেষে জন্মাতে হয়েছিল শিশুপাল হয়ে। পরমেশ্বর স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সুদর্শন চক্র দিয়ে শিশুপালের মাথা বিছিন্ন করে তৃতীয় জন্ম থেকে মুক্তি দেন। এভাবে পরমেশ্বর স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে এসে স্বর্গের দ্বারী জয়কে শাপ মুক্ত করেন । মুক্তি পেয়ে বৈকুন্ঠের দ্বারী জয় আবার বৈকুন্ঠে ফিরে যায়। উল্লেখ্য , বিজয় প্রথমে হিরণক্ষ্য হয়ে জন্মগ্রহন করেন, তারপরে জন্মগ্রহন করেন কুম্ভকর্ণ হয়ে। সর্বশেষে বিজয় জন্মগ্রহন করেন কংস হয়ে। পরমেশ্বর স্বংয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কংসকে বধ করে শাপ মুক্ত করেন।শাপ মুক্ত হয়ে বিজয় বৈকুন্ঠে ফিয়ে যায়।

 অবতারঃ

অবতার শব্দের আক্ষরিক অর্থ অবতরণকারী। দেবতারা যখন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে পৃথিবিতে অবতীর্ণ হন তখন তাদেরকে অবতার বলা হয়। হিন্দুধর্মে অবতারবাদ মূলত বিষ্ণুকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। বিষ্ণু ত্রিমূর্তির অন্যতম দেবতা ও হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী জগতের পালক ও রক্ষাকর্তা। ত্রিমূর্তি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের একটি ধারণা যা মনে করা হয় জন্ম, পালন এবং বিনাশের রূপ। ব্রহ্মা হচ্ছে জন্মকর্তা যিনি মানুষের জন্ম দেয়। তিনি সকল প্রাণী এবং সকল বস্তুর পিতা। তারপরেই আছেন বিষ্ণু, যিনি মানুষকে পালন করে থাকেন। তিনিই মানুষের সকল জীবনের সমস্যা এবং সমাধানের পথের পাথেয়। সবশেষে আছেন শিব অথবা মহেশ্বর, যিনি প্রয়োজন মত মানুষের জীবনাবসনের দায়িত্ব পালন করেন। এই তিনজনকে আরো বলা হয় - তাদের সাথে পৃথিবী, জল এবং অগ্নির সম্পর্ক আছে। ব্রহ্ম হচ্ছে পৃথিবী, বিষ্ণু হচ্ছে জল এবং শিব হচ্ছে আগুন। বিষ্ণুর দশ প্রসিদ্ধ অবতারকে দশাবতার নামে পরিচিত।

১. মৎস্য :- মাছরূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
২. কূর্ম :- কচ্ছপের রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৩. বরাহ :- বন্য শূকরের রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৪. নৃসিংহ :- অর্ধনরসিংহরূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৫. বামন :- খর্বকায় বামনের রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৬. পরশুরাম :- পরশু অর্থাৎ কুঠারধারী রামের রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৭. রাম :- অযোধ্যার যুবরাজ ও রাজা রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৮. কৃষ্ণ :- দ্বাপরযুগে জ্যেষ্ঠভ্রাতা বলরাম সহ অবতীর্ণ। ভাগবত পুরাণ অনুসারে দ্বাপরযুগে অনন্ত নাগের অবতার বলরাম রূপে কৃষ্ণের সঙ্গে অবতীর্ণ হন। অধিকাংশ বৈষ্ণব শাখাসম্প্রদায় বলরামকে বিষ্ণুর অবতার বলে মনে করেন। যে সকল সূত্রে বুদ্ধের কোনো উল্লেখ নেই সেখানে বলরামকেই বিষ্ণুর নবম অবতার রূপে দশাবতারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
৯. বলরাম :- কোনো কোনো মতে বিষ্ণুর নবম অবতার। (এই স্থানে বলরাম সম্পর্কে জানতে নিচে বিকল্প তালিকা দেখুন।)
১০. কল্কি :- এই ভবিষ্যৎ অবতার কলিযুগের শেষ পর্বে অবতীর্ণ হবেন বলে হিন্দুরা মনে করেন।

দক্ষিণ ভারতে বলরামকে দশাবতারের তালিকাভুক্ত করা হয়। এই মত অনুসারে, বুদ্ধের অবতারত্ব স্বীকৃত নয়। কোনো কোনো গ্রন্থে আবার কৃষ্ণকে অবতার তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। একাধিক মধ্যযুগীয় ধর্মসম্প্রদায়ে কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান নামে পরিচিত। গৌড়ীয় বৈষ্ণব, বল্লভ সম্প্রদায়, ও নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের মতে তিনি সকল অবতারের উৎস। নিম্বার্ক মতে, কৃষ্ণ আবার শুধু সকল অবতারের উৎসই নন, তিনি স্বয়ং বিষ্ণুরও উৎস। এই বিশ্বাসের মূলে রয়েছে "ভাগবতের একটি প্রসিদ্ধ উক্তি" (১।৩।২৮)।

 কোনো কোনো তালিকা অনুসারে, বলরাম কৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা এবং গৌতম বুদ্ধের স্থলে বিষ্ণুর নবম অবতার। ভাগবত পুরাণ –এর মতে দ্বাপরযুগে শেষনাগের অবতার রূপে বলরামের আবির্ভাব। অধিকাংশ বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে তিনি অবতাররূপে পূজিত হন। এই সকল তালিকায় গৌতম বুদ্ধের নাম দেখা যায় না।
মহারাষ্ট্র ও গোয়ার ঐতিহ্য অনুসারে পঞ্চাঙ্গ ও বিভিন্ন মন্দির স্থাপত্যে বিঠোবা বিষ্ণুর নবম অবতার বুদ্ধরূপে গণ্য হন। মহারাষ্ট্রের সন্তকবিরাও বিঠোবাকে বুদ্ধের রূপে বন্দনা করেছেন।

দশাবতারের তালিকা পাওয়া যায় গরুড় পুরাণে। জয়দেব রচিত প্রলয়পয়োধিজলে (গীতগোবিন্দম্ কাব্যের প্রথম সর্গের প্রথম গীত, দশাবতার স্তোত্র নামে সমধিক পরিচিত) স্তোত্রে দশটি পৃথক স্তবকে দশ অবতারের বিবরণদানের পর নিম্নোক্ত শ্লোকে দশাবতারের কীর্তির একটি সুসংবদ্ধ তালিকা প্রদান করা হয়েছে :-

বেদানুদ্ধরতে জগন্তি বহতে ভূগোলমুদ্বিভ্রতে
দৈত্যং দারয়তে বলিং ছলয়তে ক্ষত্রক্ষয়ং কুর্বতে।
পৌলস্ত্যং জয়তে হলং কলয়তে কারুণ্যমাতন্বতে
ম্লেচ্ছান মূর্চ্ছয়তে দশাকৃতিকৃতে কৃষ্ণায় তুভ্যং নমঃ।।

“ বেদের উদ্ধারকারী, ত্রিলোকের ভারবহনকারী, ভূমণ্ডল উত্তোলনকারী, হিরণ্যকশিপু বিদারণকারী, বলিকে ছলনাকারী, ক্ষত্রক্ষয়কারী, দশানন-সংহারকারী, হলকর্ষণকারী, করুণাবিতরণকারী, ম্লেচ্ছধ্বংসকারী, দশরূপধারী হে কৃষ্ণ, তোমায় প্রণাম করি।।১৬।। ”

যাই হোক, এই দশ অবতারই মানব সমাজে তাঁদের প্রভাবের ভিত্তিতে সর্বাপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হন। দশাবতারের প্রথম চার জন অবতীর্ণ হয়েছিলেন সত্যযুগে। সত্যযুগের ব্যপ্তিকাল ছিল ১৭ লক্ষ ২৮ হাজার বছর। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এযুগের উত্‍পত্তি হয়েছিল।সত্য যুগ ছিল পুরা সময়টাই ছিল ধর্ম ও শাস্ত্র নির্ভর। কেউ শাস্ত্রনিষিদ্ধ উপায়ে অর্থ বা বিদ্যা লাভের চেষ্টা করতেন না। তপস্যাই এযুগের শ্রেষ্ঠ ধর্ম। মানুষের আয়ু ছিল ৪০০বছর। কোন রোগ শোক দুঃখ ছিল না। মানুষের সকল কামনা পূর্ণ হতো। মানুষ ছিল পুন্যবান। দেবতা ও পিতৃলোকের তৃপ্তসাধন করতেন এবং তারা ছিলেন জিতেন্দ্রিয়। সত্য যুগে মানুষ দেবতুল্য ছিলেন । মানুষের রুপে নিয়ে দেবতারা ইহ ও স্বর্গলোক বিচরন করতে পারতেন। পরের দ্রব্যকে দেখতো মাটির ঢেলার মত। চোর মিথ্যাবাদী বা প্রতারক এযুগে ছিল না। সত্যযুগে অকাল মৃত্যু ছিল না। এমনকি ছিল না রোগভয় ও দূর্ভিক্ষ । এযুগে পৃথিবী অতি শস্যশালিনী ছিল। মেঘ সময়মত বারি বর্ষণ করত এবং বৃক্ষরাজি ছিল ফলভারে অবনত।তখন যে চারজন অবতার এসেছেন তারা ছিলেন, এক - মত্‍স অবতার, চৈত্রের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে, দুই - কূর্ম অবতার ভাদ্রমাসের শুক্লা পূর্ণিমা তিথিতে, তিন - বরাহ অবতার ভাদ্রমাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে, চার - নৃসিংহ অবতার বা নরসিংহ, অর্ধনরসিংহ যিনি বৈশাখ মাসের চতুদ্দর্শী তিথিতে আর্বিভূত হন।

  নৃসিংহ (সংস্কৃত: नरसिंह, বানানান্তরে নরসিংহ) বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার। পুরাণ, উপনিষদ ও অন্যান্য প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থে তাঁর উল্লেখ রয়েছে। তিনি হিন্দুদের জনপ্রিয়তম দেবতাদের অন্যতম। সাধারণত দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের অন্যতম প্রতীক তিনি ৷ প্রাচীন মহাকাব্য, মূর্তিতত্ত্ব, মন্দির ও উৎসব ইত্যাদির তথ্যপ্রমাণ থেকে জানা যায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর পূজা প্রচলিত রয়েছে। নৃসিংহকে শৌর্যের মূর্তিস্বরূপ এবং তাঁর মন্ত্র শত্রুনিধন ও অমঙ্গল দূরীকরণে বিশেষ ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়; তাই অতীতে শাসক ও যোদ্ধারা নৃসিংহের পূজা করতেন।

নৃসিংহ অর্ধ-মনুষ্য অর্ধ-সিংহ আকারবিশিষ্ট। তাঁর দেহ মনুষ্যাকার, কিন্তু সিংহের ন্যায় মস্তক ও নখরযুক্ত। মৎস্যপুরাণ অনুযায়ী নৃসিংহ অষ্টভূজ হলেও, অগ্নিপুরাণ অনুযায়ী তিনি চতুর্ভূজ। একাধিক বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে তাঁর পূজা প্রচলিত। দক্ষিণ ভারতে নৃসিংহ পূজার বিশেষ প্রচলন দেখা যায়। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, নৃসিংহ ‘মহারক্ষক’; তিনি ভক্তকে তার প্রয়োজনের সময় সর্বদা রক্ষা করে থাকেন।

একাধিক পুরাণ গ্রন্থে নৃসিংহের উল্লেখ পাওয়া যায়। পুরাণে নৃসিংহ-সংক্রান্ত মূল উপাখ্যানটির সতেরোটি পাঠান্তর বর্তমান। কয়েকটি কাহিনি অন্যান্য কাহিনিগুলির চেয়ে একটু বিস্তারিত। নৃসিংহ অবতারের বর্ণনা রয়েছে ভাগবত পুরাণ (সপ্তম স্কন্দ), অগ্নিপুরাণ (৪।২-৩), ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ (২।৫।৩-২৯), বায়ুপুরাণ (৬৭।৬১-৬৬), হরিবংশ (৪১ এবং ৩।৪১-৪৭), ব্রহ্মাপুরাণ (২১৩।৪৪-৭৯), বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণ (১।৫৪), কূর্মপুরাণ (১।১৫।১৮-৭২), মৎস্যপুরাণ (১৬১-১৬৩), পদ্মাপুরাণ (উত্তরখণ্ড, ৫।৪২), শিবপুরাণ (২।৪।৪৩ ও ৩।১০-১২), লিঙ্গপুরাণ (১।৯৫-৯৬), স্কন্দপুরাণ ৭ (২।১৮।৬০-১৩০) ও বিষ্ণুপুরাণ (১।১৬-২০) গ্রন্থে। মহাভারত-এও (৩।২৭২।৫৬-৬০) নৃসিংহ অবতারের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া একটি প্রাচীন বৈষ্ণব তাপনী উপনিষদ (নরসিংহ তাপনী উপনিষদ) তাঁর নামে উল্লিখিত হয়েছে।

ঋগ্বেদে একটি শ্লোকাংশে একটি রূপকল্পের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই রূপকল্পটি নৃসিংহরূপী বিষ্ণুর রূপকল্প বলে অনুমিত হয়ে থাকে। উক্ত শ্লোকে বলা হয়েছে "বন্য জন্তুর ন্যায়, ভয়ংকর, বিধ্বংসী ও পর্বতচারী" রূপে বিষ্ণুর গুণ কেবল তাঁর অবতারে দৃষ্ট হয় (ঋগ্বেদ ১।১৫৪।২ক)। ঋগ্বেদের অষ্টম মণ্ডলে (১৪।১৩) বর্ণিত নামুচির উপাখ্যানে নৃসিংহের ছায়া লক্ষিত হয়: "হে ইন্দ্র, জলের বুদ্বুদের দ্বারা তুমি নামুচির মস্তক ছিন্ন করলে এবং সকল প্রতিকূল শক্তিগুলিকে নিমজ্জিত করলে।" মনে করা হয় এই ক্ষুদ্র উল্লেখটি থেকে নৃসিংহের পূর্ণ কাহিনিটি বিকাশ লাভ করেছে।

ভাগবত পুরাণ-এ বর্ণিত নৃসিংহের কাহিনিটি নিম্নরূপ :-

মহর্ষি কশ্যপের ঔরসে তৎপত্নী দিতির গর্ভে এই দৈত্যের জন্ম হয়। তার ভাইয়ের নাম হিরণ্যাক্ষ।
হিরণ্যাক্ষ নৃসিংহের পূর্ববর্তী অবতার বরাহের হাতে নিহত হয় । হিরণ্যকশিপু এই কারণে প্রবল বিষ্ণুবিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। দাদার হত্যার প্রতিশোধ মানসে তিনি বিষ্ণুকে হত্যা করার পথ খুঁজতে থাকেন। তিনি মনে করেন, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা এই জাতীয় প্রবল ক্ষমতা প্রদানে সক্ষম। তিনি বহু বছর ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করেন। ব্রহ্মাও হিরণ্যকশিপুর তপস্যায় সন্তুষ্ট হন। তিনি হিরণ্যকশিপুর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তাঁকে বর দিতে চান।

হিরণ্যকশিপু বলেন :-

" হে প্রভু, হে শ্রেষ্ঠ বরদাতা, আপনি যদি আমাকে সত্যই বর দিতে চান, তবে এমন বর দিন যে বরে আপনার সৃষ্ট কোনো জীবের হস্তে আমার মৃত্যু ঘটবে না।
আমাকে এমন বর দিন যে বরে আমার বাসস্থানের অন্দরে বা বাহিরে আমার মৃত্যু ঘটবে না; দিবসে বা রাত্রিতে, ভূমিতে বা আকাশে আমার মৃত্যু হবে না। আমাকে এমন বর দিন যে বরে শস্ত্রাঘাতে, মনুষ্য বা পশুর হাতে আমার মৃত্যু হবে না।
আমাকে এমন বর দিন যে বরে কোনো জীবিত বা মৃত সত্তার হাতে আমার মৃত্যু হবে না; কোনো উপদেবতা, দৈত্য বা পাতালের মহানাগ আমাকে হত্যা করতে পারবে না; যুদ্ধক্ষেত্রে আপনাকে কেউই হত্যা করতে পারে না; তাই আপনার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আমাকেও বর দিন যাতে আমারও কোনো প্রতিযোগী না থাকে। এমন বর দিন যাতে সকল জীবসত্তা ও প্রভুত্বকারী দেবতার উপর আমার একাধিপত্য স্থাপিত হয় এবং আমাকে সেই পদমর্যাদার উপযুক্ত সকল গৌরব প্রদান করুন। এছাড়া আমাকে তপস্যা ও যোগসাধনার প্রাপ্তব্য সকল সিদ্ধাই প্রদান করুন, যা কোনোদিনও আমাকে ত্যাগ করবে না। "

হিরণ্যকশিপু যখন মন্দার পর্বতে তপস্যা করছিলেন, তখন ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবগণ তাঁর প্রাসাদ আক্রমণ করেন। দেবর্ষি নারদ হিরণ্যকশিপুর স্ত্রী কায়াদুকে রক্ষা করেন। দেবর্ষি দেবগণের নিকট কায়াদুকে ‘পাপহীনা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। নারদ কায়াদুকে নিজ আশ্রমে নিয়ে যান। সেখানে কায়াদু প্রহ্লাদ নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। নারদ প্রহ্লাদকে শিক্ষিত করে তোলেন। নারদের প্রভাবে প্রহ্লাদ হয়ে ওঠেন পরম বিষ্ণুভক্ত। এতে তাঁর পিতা হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।

ক্রমে প্রহ্লাদের বিষ্ণুভক্তিতে হিরণ্যকশিপু এতটাই ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হন যে তিনি নিজ পুত্রকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যতবারই তিনি বালক প্রহ্লাদকে বধ করতে যান, ততবারই বিষ্ণুর মায়াবলে প্রহ্লাদের প্রাণ রক্ষা পায়। হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে বলেন তাঁকে ত্রিভুবনের অধিপতি রূপে স্বীকার করে নিতে। প্রহ্লাদ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন একমাত্র বিষ্ণুই এই ব্রহ্মাণ্ডের সর্বোচ্চ প্রভু। ক্রুদ্ধ হিরণ্যকশিপু তখন একটি স্তম্ভ দেখিয়ে প্রহ্লাদকে জিজ্ঞাসা করেন যে ‘তার বিষ্ণু’ সেখানেও আছেন কিনা :-

"ওরে হতভাগা প্রহ্লাদ, তুই সব সময়ই আমার থেকেও মহৎ এক পরম সত্তার কথা বলিস। এমন এক সত্তা যা সর্বত্র অধিষ্ঠিত, যা সকলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং যা সর্বত্রব্যাপী। কিন্তু সে কোথায়? সে যদি সর্বত্র থাকে তবে আমার সম্মুখের এই স্তম্ভটিতে কেন নেই ? "

প্রহ্লাদ উত্তর দিলেন, " তিনি [এই স্তম্ভে] ছিলেন, আছে ও থাকবেন।" উপাখ্যানের অন্য একটি পাঠান্তর অনুযায়ী, প্রহ্লাদ বলেছিলেন, " তিনি এই স্তম্ভে আছেন, এমনকি ক্ষুদ্রতম যষ্টিটিতেও আছেন। " হিরণ্যকশিপু ক্রোধ সংবরণ করতে না পেরে গদার আঘাতে স্তম্ভটি ভেঙে ফেলেন। তখনই সেই ভগ্ন স্তম্ভ থেকে প্রহ্লাদের সাহায্যার্থে নৃসিংহের মূর্তিতে আবির্ভূত হন বিষ্ণু।

ব্রহ্মার বর যাতে বিফল না হয়, অথচ হিরণ্যকশিপুকেও হত্যা করা যায়, সেই কারণেই বিষ্ণু নরসিংহের বেশ ধারণ করেন :-
হিরণ্যকশিপু দেবতা, মানব বা পশুর বধ্য নন, তাই নৃসিংহ পরিপূর্ণ দেবতা, মানব বা পশু নন; হিরণ্যকশিপুকে দিবসে বা রাত্রিতে বধ করা যাবে না, তাই নৃসিংহ দিন ও রাত্রির সন্ধিস্থল গোধূলি সময়ে তাঁকে বধ করেন; হিরণ্যকশিপু ভূমিতে বা আকাশে কোনো শস্ত্রাঘাতে বধ্য নন, তাই নৃসিংহ তাঁকে নিজ জঙ্ঘার উপর স্থাপন করে নখরাঘাতে হত্যা করেন; হিরণ্যকশিপু নিজ গৃহ বা গৃহের বাইরে বধ্য ছিলেন না, তাই নৃসিংহ তাঁকে বধ করেন তাঁরই গৃহদ্বারে।

কূর্মপুরাণ-এর বর্ণনা অনুসারে, এরপর পুরুষ ও দৈত্যদের মধ্যে এক প্রবল সংগ্রাম শুরু হয়। এই যুদ্ধে তিনি পাশুপত নামে এক মহাস্ত্রকে প্রতিহত করেন। পরে প্রহ্লাদের ভাই অনুহ্রদের নেতৃত্বাধীন দৈত্যবাহিনীকে নৃসিংহ অবতারের দেহ হতে নির্গত এক মহাসিংহ যমালয়ে প্রেরণ করেন। মৎস্যপুরাণ (১৭৯) গ্রন্থেও নৃসিংহ অবতারের বর্ণনার পর এই ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

ভাগবত পুরাণ-এ আরও বলা হয়েছে: হিরণ্যকশিপুকে বধ করার পর সকল দেবতাই নৃসিংহদেবের ক্রোধ নিবারণে ব্যর্থ হন। বিফল হন স্বয়ং শিবও। সকল দেবগণ তখন তাঁর পত্নী লক্ষ্মীকে ডাকেন; কিন্তু লক্ষ্মীও স্বামীর ক্রোধ নিবারণে অক্ষম হন। তখন ব্রহ্মার অনুরোধে প্রহ্লাদ এগিয়ে আসেন। ভক্ত প্রহ্লাদের স্তবগানে অবশেষে নৃসিংহদেব শান্ত হন। নৃসিংহদেব "প্রহ্লাদকে কোলে লইয়া গা চাটিতে লাগিলেন।" প্রত্যাবর্তনের পূর্বে নৃসিংহদেব প্রহ্লাদকে রাজা করে দেন।

শিবপুরাণ গ্রন্থে নৃসিংহ উপাখ্যানের একটি শৈব পাঠান্তর বর্ণিত হয়েছে, যা প্রথাগত কাহিনিটির থেকে একটু ভিন্ন: নৃসিংহকে শান্ত করতে শিব প্রথমে বীরভদ্রকে প্রেরণ করেন। কিন্তু বীরভদ্র ব্যর্থ হলে শিব স্বয়ং মনুষ্য-সিংহ-পক্ষী রূপী শরভের রূপ ধারণ করেন। এই কাহিনির শেষভাগে বলা হয়েছে, শরভ কর্তৃক বদ্ধ হয়ে বিষ্ণু শিবের ভক্তে পরিণত হন। লিঙ্গপুরাণ গ্রন্থেও শরভের কাহিনি রয়েছে। যদিও বিজয়েন্দ্র তীর্থ প্রমুখ বৈষ্ণব দ্বৈতবাদী পণ্ডিতগণ সাত্ত্বিক পুরাণ ও শ্রুতি শাস্ত্রের ভিত্তিতে নৃসিংহের উপাখ্যানটির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে বিতর্কের অবকাশ রেখেছেন।

ACHARYA KUSH MUKHERJEE
RAMPURHAT CHAKLAMATH BIRBHUM (W.B)
Share:

১১ মে ২০১৮

শরভ_বা_শরভেশ্বর_অবতার

ভগবান বিষ্ণুর নৃসিংহ অবতার ধারন করে হিরণ্যকশিপু নামক অসুরকে দমন করেন,তা অনেকেরই জানা কিন্তু ভগবান নৃসিংহ দেব হিরণ্যকশিপুকে বধ করলেও কিছুতেই তাঁর ক্রোধ শান্ত হচ্ছিলো না। প্রহ্লাদ, মা লক্ষ্মীসহ আরো অনেক দেবতা ভগবানের ক্রোধ শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। সেই ক্রোধে বিশ্ব সংসারের ইতির আশঙ্কা করছিলেন দেবতা ও ঋষিগণ। এরপর পিতামহ ব্রহ্মা সহ সব দেবতা এবং ঋষিগণ ভগবান শিবের স্মরণে চলে যান।তাদের অনুরোধে ভগবান নৃসিংহদেবের ক্রোধ শান্ত করতে প্রথমে বীরভদ্র কে পাঠান। কিন্তু রজঃগুণ সম্পন্ন রক্ত পান করার কারনে কিছুতেই তাঁর ক্রোধ শান্ত হচ্ছিলো না। ব্যর্থ হয়ে বীরভদ্র মহাদেবের হস্তক্ষেপ প্রার্থণা করেন। এরপর দেবাদিদেব মহাদেব তাঁর ওমকার স্বরুপের সবচেয়ে ভয়ংকর রুপ ধারন করেন।

এই রুপ শরভ অবতার বা শ্রী শরভেশ্বর নামে পরিচিত। এই ভয়ংকর রুপে শক্তি তথা সঙ্গী হিসেবে মা আদিশক্তির দুইটি রুপ তথা মা প্রাত্যাঙ্গীরা দেবী এবং মা শ্রী শুলিনী দেবী ছিলেন। মহাদেবের এই শরভ রুপ মানুষ, সিংহ এবং ঈগলের সমন্বয়। এই রুপের সহস্র মুখ এবং দুইটি বিশাল ডানা ( যা মা শ্রী শুলিনী এবং মা প্রাত্যাঙ্গীরা দেবীর প্রতীক), অষ্টপদ এবং নানা অস্ত্রধারী চার হস্তের কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। এইরুপে উড়ে এসে ভগবান নৃসিংহকে শান্ত করতে চাইলে এর বিপরীত হয়। প্রচণ্ড ক্রোধে ভগবান নৃসিংহদেব অষ্টমুখী "কাণ্ডাবেড়ুণ্ডা" নামক পক্ষীরুপ ধারন করেন এবং শ্রী শরভেশ্বর অবতারের সাথে যুদ্ধ করেন। এই যুদ্ধ ১৮দিন স্থায়ী ছিল। এরপর মহাদেব তাঁর এই দিব্য খেলার সমাপ্তি ঘোষনা করতে চাইলেন। শ্রী শরভেশ্বরের ডানা থেকে মা প্রাত্যাঙ্গীরা দেবী উদ্ভূত হলেন এবং বিরাট আকৃতির রুপ নিয়ে কাণ্ডাবেড়ুণ্ডা নামক পক্ষীরুপকে গ্রাস করে নিলেন। এরপর নৃসিংহদেবের ক্রোধ শান্ত হয় এবং শ্রী শরভেশ্বরের স্তুতি গাইলেন, যা বর্তমানে শ্রী শরভেশ্বরের ১০৮ নামাবলী হিসেবে পরিচিত। এভাবেই দেবাদিদেব মহাদেব ভগবান নৃসিংহদেব কে সমস্ত ভক্তদের জন্য উপলভ্য করেন।

বিভিন্ন বৈষ্ণব শাস্ত্রে ভগবান নৃসিংহদেবের হিরণ্যকশিপু বধ পরবর্তী ধ্বংসলীলার এবং দেবাদিদেব মহাদেবের শরভ অবতার গ্রহণের বর্ণনা বিস্তারিত দেওয়া নেই। কিন্তু ভারতবর্ষে অজস্র মন্দির এবং চিত্র অংকন খুঁজে পাওয়া যায় মহাদেবের এই রুপ নিয়ে। শ্রীমদ ভগবতম এর মত মহাপুরাণেও শরভ অবতারের বর্ননা পাওয়া যায় না। ভগবান নৃসিংহদেব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পূরাণ এবং উপনিষদেও উল্লেখ পাওয়া যায় না। বরং হিরণ্যকশিপু বধের পর ভক্ত প্রহ্লাদ ও মা লক্ষ্মী সহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রচেষ্টায় তাঁর ক্রোধ শান্ত হবার কথা পাওয়া যায়। কিন্তু প্রধান চারটি বেদের একটি অথর্ববেদ এবং ৩১টি উপনিষদের এক শরভ উপনিষদে মহাদেব শিব শম্ভুর শ্রী শরভেশ্বর অবতারের বিভিন্ন স্তুতি এবং কিভাবে এই রুপে নৃসিংহ দেবের ক্রোধ শান্ত করেন তাঁর বর্ণনা পাওয়া যায়। শরভ উপনিষদের ৩ নং শ্লোকে অতি সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। ঋগবেদেও এই রুপের উল্লেখ পাওয়া যায় কিছু মন্ত্রের মধ্যে।

শিব মহাপুরাণ, লিঙ্গপূরাণ, স্কন্ধপূরাণ, ব্রহ্মাণ্ড পূরানে এর বিস্তারিত উল্লেখ আছে। শ্রী ললিতা সহস্রনামার উত্তরভাগে, শ্রী শরভেশ্বর অবতারের একটি বৈদিক মন্ত্র পাওয়া যায় যা অথর্ববেদে উল্লেখিত। মহাঋষি বেদব্যাস লিঙ্গপূরাণের ৯৬ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন শ্রী শরভেশ্বর অবতারের আরাধনা করলে সবরকমের বিপদ আপদ থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায়। শ্রী নৃসিংহ সহস্র নামায় "শ্রী শরভ" নামের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা পিতামহ ব্রহ্মা ভগবানের ক্রোধ শান্ত করতে পাঠ করেছিলেন। অজ্ঞাত কিছু উৎস থেকে পাওয়া যায়, ভগবান নৃসিংহের ক্রোধ শান্ত করার পর দেবাদিদেব মহাদেব বলেছিলেন "অসুরদের দমন করতে ভগবান নৃসিংহ অবতার ধারন করে এসেছিলেন, এবং তাঁর ক্রোধকে শান্ত করতে আমি শরভেশ্বরের রুপ ধারন করেছি।কিন্তু এই দুই রুপের কোন পার্থক্য নেই এবং এক হিসেবেই আরাধনা করতে হবে।" এজন্যেই শ্রী শরভেশ্বর রুপের আরাধনা করার পূর্বে ভগবান নৃসিংহদেবের আরাধনা করতে হয়।
দক্ষিন ভারতে মহাদেবের শরভ রুপের আরাধনা বেশি হয়, এই আরাধনা সূচনা করেছিলেন স্বয়ং পিতামহ ব্রহ্মা।।
জয় মা মঙ্গলা।
জয় ভগবান শরভেশ্বর।।
জয় ভগবান নৃসিংহ।।

(C) Apurba Halder
Share:

২৫ অক্টোবর ২০১৭

শ্রীভগবা‌নের অবতারবাদ

সর্বাগ‌মেষু যে প্রোক্তা অবতারা জগৎপ্র‌ভোঃ ।
তদ্রহস্যং হি গীতায়াং কৃ‌ষ্ণেন ক‌থিতং স্বয়ম্ ।।

যি‌নি নিজ স্থি‌তি থে‌কে নি‌ম্নে অবত‌রণ ক‌রেন তাঁ‌কে ' অবতার ' বলা হয় । যেমন কোন শিক্ষক কোন বালক‌কে পড়াব‌ার সময় তার সমক্ষক হ‌য়ে পড়াতে থা‌কেন অর্থাৎ তি‌নি নি‌জে ' ক খ গ ঘ ইত্যা‌দি অক্ষর উচ্চারণ ক‌রে বালক‌কে উচ্চারণ শেখান এবং হাত ধরে তাকে অক্ষরগু‌লি লিখ‌তে শেখান , এ‌টি হল সেই বাল‌কের কা‌ছে শিক্ষকের অবতার অর্থাৎ অবতরণ । গুরুও যেমন নিজ শি‌ষ্যের সম-‌স্থি‌তি‌তে এ‌সে অর্থাৎ শিষ্য যা‌তে বুঝ‌তে পা‌রে , এমনভা‌বে তার যোগ্যতা অনুসা‌রে উপ‌দেশ দেন , তেম‌নি ভগবান মানুষ‌কে ঠিকমত ব্যবহার এবং পারমা‌র্থিক শিক্ষা দেবার জন্য মানু‌ষের সম-‌স্থি‌তি‌তে আ‌সেন , অবতাররূপ ধারণ ক‌রেন ।

ভগবান সাধারণ মানু‌ষের ম‌তো জন্মান না । জন্ম না নি‌লেও তি‌নি জন্মের লীলা ক‌রেন , অর্থাৎ মাতৃগ‌র্ভেই আ‌সেন , কিন্তু মানু‌ষের ম‌তো গ‌র্ভে প্র‌বিষ্ট হন না । যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেবকীর আশ্রয় নি‌লেন , তখন প্রথ‌মে তি‌নি বসু‌দে‌বের ম‌নে উদয় হ‌লেন ও চক্ষু দ্বারা দেবকীর ম‌ধ্যে প্র‌বিষ্ট হ‌লেন এবং দেবকী মনের দ্বারা তাঁ‌কে ধারণ কর‌লেন ।

ত‌তো জগন্মঙ্গলমচ্যুতাংশং সমা‌হিতং শূরসূ‌তেন দেবী ।
দধার সর্বাত্মকমাত্মভূতং কাষ্ঠা যথাহহনন্দকরং মনস্তুঃ । ( শ্রীমদ্ভাগবত ১০\২\১৮ )

--- যথা দীক্ষাকা‌লে গুরুঃ শিষ্যায় ধ্যানমুপ‌দিশ‌তি শিষ্যশ্চ ধ্যা‌নোক্তাং মূ‌র্তিং হৃ‌দি নি‌বেশয়‌তি তথা বসু‌দে‌বো দেবকীদৃ‌ষ্টেী স্বদৃ‌ষ্টিং নিদ‌ধৌ ।

দৃ‌ষ্টিদ্বারা চ হ‌রিঃ সংক্রামন্ দেবকীগ‌র্ভে আ‌র্ব্বিভূব । এ‌তেন রে‌তোরূ‌পেণাধানং নিরস্তম্ । ' ( অন্বিতার্থ - প্রকা‌শিকা )

গীতায় ভগবান বলে‌ছেন --- ' আমি অজ ( জন্মর‌হিত ) হওয়া স‌ত্ত্বেও জন্মগ্রহণ ক‌রি , অর্থাৎ আমার জন্মর‌হিত স্বভাব যেমন তেম‌নি থা‌কে । আ‌মি অব্যয় ( স্বরূ‌পে নিত্য ) আত্ম‌া হয়েও অন্তর্ধান হই অর্থাৎ আমার তা‌তে নিত্য - প্রকা‌শিত স্বভাবের কিছুমাত্র হা‌নি হয় না । আ‌মি সমস্ত প্রা‌ণিকু‌লের , সমস্ত জগৎ -সংসা‌রের ঈশ্বর বা প্রভু হওয়া স‌ত্ত্বেও অবতাররূপে মাতা‌পিতার আজ্ঞা পালন ক‌রি , তা‌তে আমার ঈশ্বরত্ব বা ঐশ্বর্য কিছুমাত্র ক‌মে না । মানুষ নিজ -স্বভা‌বের বা প্রকৃ‌তির বশ ক‌রে স্বাধীনভাবে স্বেচ্ছায় অবতার রূ‌পে জন্মগ্রহণ ক‌রি ( ৪\৬ )
ভগবান নি‌জের অবতারত্ব গ্রহ‌ণের কাল চি‌হ্নিত কর‌তে গি‌য়ে বলে‌ছেন , 'যখন ধর্ম হ্রাস পে‌য়ে অধর্ম ব‌র্ধিত হয়ে ও‌ঠে তখন আ‌মি অবতাররূ‌পে জন্মগ্রহণ ক‌রি , জগ‌তে প্রকাশিত হই । নি‌জের অবতর‌ণের প্র‌য়োজন জানা‌তে গি‌য়ে বল‌লেন , ' ভক্ত‌দের এবং তা‌দের ভাব রক্ষার জন্য , অন্যায় - অত্যাচারকারী দুষ্ট‌দের দম‌নের জন্য , ধ‌র্মের সংস্থাপন বা দৃঢ়রূ‌পে প্র‌তিষ্ঠা এবং ধ‌র্মের পুনরুত্থা‌নের জন্য আ‌মি যু‌গে যু‌গে অবতীর্ণ হই । এইরূপ জন্মর‌হিত অ‌বিনাশী এবং ঈশ্বররূপ আমা‌র ম‌হেশ্বর পরমভাব‌কে না জে‌নে যেসব মানুষ আমা‌কে অবহেলা ক‌রে , তিরস্কার ক‌রে , তারা মূর্খ । এইসব মূর্খ , মূঢ় ব্য‌ক্তি আসুরী , রাক্ষসী এবং মোহিনী প্রকৃ‌তির বশবর্তী হ‌য়ে যা কিছু আশা করে , যা কিছু শুভকর্ম ক‌রে , যে বিদ্যা আহরণ ক‌রে , তা সমস্তই ব্যর্থ হ‌য়ে যায় অর্থাৎ তা‌তে কোনও সৎ ফল পাওয়া যায় না । যে মানুষ আমার সর্ব‌শ্রেষ্ঠ অ‌বিনাশী পরম ভাবব না জে‌নে অব্যক্ত পরমাত্মাকে জন্ম-মৃত্যু চ‌ক্রে আবদ্ধ ব‌লে ম‌নে ক‌রে , সে ব্যক্তি বু‌দ্ধিহীন । এইরূপ ব্য‌ক্তির নিকট আ‌মি আমার আসলরূপে প্রকাশিত হই না ।

নাট‌কের সময় কেউ সঙ্ সাজ‌লে তখন সে অন্য‌দের কা‌ছে তার আসল প‌রিচয় দেয় না । কারণ সে তার আসল প‌রিচয় দি‌লে খেলাই পণ্ড হ‌য়ে যা‌বে । এইরূপ ভগবান যখন অবতার হ‌য়ে আ‌সেন তখন সক‌লের কা‌ছে নি‌জের আসল রূপ প্রকা‌শিত ক‌রেন না , সকল‌কে নিজ প‌রিচয়ও দেন না ,- ' নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য ( ৭\২৫) । কেননা নিজ প‌রিচয় দি‌লে আর লীলা কর‌তে পার‌বেন না । যেমন নাট‌কের সময় ভয়ংকর রূ‌পের কোন সঙ‌্কে দেখ‌লে তার আত্মীয়-স্বজনও চিন‌তে পা‌রে নো , ভ‌য় পায় । তখন সঙ্ সাজা লোক‌টি নিজের প্রিয়জন‌কে সঙ্কেতে নিজ প‌রিচয় দি‌য়ে ব‌লে , ' আ‌রে ! তুই ভয় পাস‌নে , আ‌মি তো সে-ই । ' তেম‌নি ভগবা‌নের অবতার -‌দেহ দে‌খে কোন ভক্ত ভয় পে‌লে ভগবান তা‌কে নি‌জ প‌রিচয় দি‌য়ে ব‌লেন , ' ভাই ! বয় পে‌য়ো না , আ‌মিই তো সে-ই । '

দুই বন্ধু ছিল । একজ‌ন বাজা‌রে গি‌য়ে দোকান খুলল এবং জি‌নিসপত্র সাজাল , যা‌তে খ‌রিদ্দার জি‌নিসপত্র দে‌খে কিন‌তে প‌া‌রে । অন্যজন পু‌লি‌শের বেশ ধারণ ক‌রে তার কাছে গি‌য়ে তা‌কে খুব ধমক দি‌তে লাগল । ' আ‌রো ! তুই এই রাস্তার ওপর কেন দোকান খু‌লে‌ছিস , শিগ‌্গির সব ওঠা , নাহ‌লে তোর না‌মে না‌লিশ পাঠা‌চ্ছি । ' তার কথায় সেই দোকানদার বন্ধু‌টি ভয় পে‌য়ে দোকান গোটা‌তে লাগল । তার এই ভীত ভাব দে‌খে পু‌লিশ সাজা বন্ধ‌ু‌টি বলল, ' আ‌রে ! তুই ভয় পাস‌্নে , আ‌মি তোর বন্ধু । ' এইরূপ অর্জু‌নের সাম‌নে ভগবান যখন‌ বিরাটরূ‌পে প্রক‌টিত হ‌লেন , তখন অর্জুন ভয় পে‌য়ে‌ছি‌লেন । তখন ভগবান নি‌জের সত্য প‌রিচয় দি‌য়ে অর্জুন‌কে সান্ত্বনা জানা‌লেন ।

COurtesy by: Joy Shree Radha Madhav
Share:

ঈশ্বরের অবতাররূ‌পে আগমন

এ‌কোন‌বিং‌শে বিংশ‌তি‌মে বৃ‌ষ্ণিষু প্রাপ্য জন্মনী ।
রামকৃষ্ণা‌বি‌তি ভু‌বো ভগবানহরদ্ভরম্ ।‌। ( ভাগবত ১\ ৩\ ২৩ )


সৃ‌ষ্টির আরম্ভে শ্রীভগবান লোকসমূহ নির্মাণের ইচ্ছা করে‌ছি‌লেন । তাই তি‌নি মহত্তত্ত্বাদিসম্পন্ন পুরুষরূ‌পে দশ ই‌ন্দ্রিয় , মন আর পঞ্চভূত - এই ষোড়শ কলাযুক্ত হ‌লেন । তি‌নি যখন যোগ‌নিদ্রায় শা‌য়িত ছি‌লেন তখন তাঁর না‌ভিহ্রদ থে‌কে এক পদ্মের সৃ‌ষ্টি হয় , সেই পদ্ম থে‌কে প্রজাপতিদের অ‌ধিপ‌তি ব্রহ্মা উৎপন্ন হলেন । শ্রীভগবা‌নের সেই বিরাটরূ‌পের অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূ‌হের মধ্যেই সমস্ত লোকের কল্পনা করা হ‌য়ে‌ছে ।

তাঁর সেই রূপ বিশুদ্ধ ও নিরতিশয় সত্ত্বময় শ্রেষ্ঠরূপ । যো‌গিগণ দিব্যদৃ‌ষ্টি দি‌য়ে শ্রীভগবা‌নের সেইরূপ দর্শন ক‌রেন । অসংখ্য পদ , ঊরু‌দেশ , হস্ত , মুখ থাকায় তা আশ্চর্যজনক ; তার মধ্যে অসংখ্য মস্তক , অসংখ্য কর্ণ , অসংখ্য চক্ষু ও অসংখ্য না‌সিকা বর্তমান এবং সেই রূপ অসংখ্য ম‌ুকুট , বস্ত্র ও কুণ্ডলা‌দি অলংকা‌রে শো‌ভিত । শ্রীভগবা‌নের সেই পুরুষরূপ , যাঁ‌কে নারায়ণ বলা হয় , বহু অবতা‌রের বীজস্বরূপ - তা‌তেই অবতা‌রের আ‌বির্ভাব । এই রূ‌পের ক্ষুদ্রা‌তিক্ষুদ্র অংশ দ্বারা দেবতা , পশুপক্ষী ও মনুষ্যা‌দির সৃ‌ষ্টি ।

সেই প্রভু প্রথ‌মে কৌমারস‌র্গে সনক , সনাতন , সনন্দন ও সনৎকুমার - এই চার ব্রাহ্মণরূ‌পে অবতার গ্রহণ ক‌রে অখণ্ড ব্রহ্মচর্য পালন ক‌রেন ।
দ্বিতীয়বার বিশ্বকল্যাণে সমস্ত য‌জ্ঞের অ‌ধীশ্বর সেই শ্রীভগবানই রসাতলগতা পৃ‌থিবী‌কে উদ্ধার ক‌রেন বরাহবতার রূ‌পে ।

ঋ‌ষিস‌র্গে তি‌নি দেব‌র্ষি নারদরূ‌পে তৃতীয় অবতার ধারণ ক‌রেন - এই অবতা‌রেই কর্মবন্ধন থে‌কে মুক্তিলা‌ভের জন্য ক‌র্মের কথা বলা হ‌য়ে‌ছে যা ' নারদ পঞ্চরাত্র ' না‌মে পরি‌চিত ।
ধ‌র্মের পত্নী মূ‌র্তির গ‌র্ভে তি‌নি নর - নারয়ণরূ‌পে চতুর্থ অবতার গ্রহণ ক‌রেন । এই অবতা‌রে ঋ‌ষিরূ‌পে মন ও ই‌ন্দ্রিয় সংযম এবং ক‌ঠিন তপস্যার কথা বলা হ‌য়ে‌ছে ।
পঞ্চম অবতা‌রে তি‌নি সিদ্ধগণ‌শ্রেষ্ঠ ক‌পিলরূ‌পে আ‌বির্ভূত হন এবং অধুনা লুপ্তপ্রায় ' সাংখ্যশাস্ত্র আসু‌রি ' উপ‌দেশ দেন ।

অ‌ত্রিপ‌ত্নী অন্-সূয়ার প্রার্থনায় ষষ্ঠ অবতা‌রে তি‌নি অ‌ত্রিমু‌নির পুত্র দত্তা‌ত্রেয় না‌মে জন্মগ্রহণ ক‌রেন । এই অবতা‌রে তি‌নি অলর্ক , প্রহ্লাদ প্রমুখ‌কে ব্রহ্মজ্ঞানোদেশ দি‌য়ে‌ছি‌লেন ।
তি‌নি সপ্তমবার রু‌চিনামক প্রজাপ‌তির পত্নী আকূ‌তির গ‌র্ভে যজ্ঞ নাম নি‌য়ে অবতরণ ক‌রে‌ছি‌লেন । এই অবতা‌রে তি‌নি নিজ পুত্র যাম প্রমুখ দেবগ‌ণের স‌ঙ্গে স্বায়ম্ভুর মন্বন্তর প্র‌তিপালন ক‌রেন ।
রাজা না‌ভির পত্নী মেরু‌দেবীর গ‌র্ভে ঋ‌ষভ‌দেবরূ‌পে শ্রীভগবান অষ্টম অবতাররূ‌পে জন্মগ্রহণ ক‌রে‌ছি‌লেন । এই অবতা‌রের প্র‌য়োজন ছিল পরমহংস পথ‌কে সমস্ত আশ্রম‌শ্রেষ্ঠ আখ্যা প্রদান করা ।
ঋ‌ষি‌দের প্রার্থনায় নবমবার তি‌নি রাজা পৃথুরূ‌পে এ‌সেছি‌লেন । এই অবতা‌রের তি‌নি পৃ‌থিবী থে‌কে সমস্ত ঔষ‌ধি প্রভৃদি বস্তু দোহন ক‌রেন ।

চাক্ষুষ মন্বন্ত‌রের শে‌ষে যখন সমস্ত ত্রিভুবন প্লা‌বিত , তখন তি‌নি মৎস্যরূ‌পে দশম অবতার হ‌য়ে এ‌সে‌ছি‌লেন এবং পৃ‌থিবীরূ‌প নৌকা‌তে আ‌রোহণ ক‌রি‌য়ে পরবর্তী মন্বন্ত‌রের অ‌ধিপ‌তি বৈবস্বত মনু‌কে রক্ষা ক‌রে‌ছিলেন ।

সমুদ্র মন্থনকা‌লে তি‌নি কূর্মরূপ ধারণ ক‌রে তি‌নি একাদশ অবতাররূ‌পে মন্দার পর্বত‌কে পৃষ্ঠে ধারণ ক‌রে‌ছি‌লেন ।

দ্বাদশবার তি‌নি ধন্বন্ত‌রি মূ‌র্তি ধারণ ক‌রে অমৃতভাণ্ড নিয়ে সমুদ্র থে‌কে উ‌ঠে এ‌সে‌ছি‌লেন ।
ত্র‌য়োদশ অবতারে মো‌হিনী রূপ ধারণ পূর্বক দানব‌দের মো‌হিত ক‌রে দেবতা‌দের অমৃত পান ক‌রে‌য়ি‌ছি‌লেন ।

চতুদর্শ অবতা‌রে নৃ‌সিংহরূপ ধারণ ক‌রে তি‌নি প্রবল পরাক্রান্ত দৈত্যরাজ হিরণ্যক‌শিপু‌কে বধ ক‌রে‌ছি‌লেন এবং ভক্ত প্রহ্ণাদ‌কে রক্ষা ক‌রে‌ছি‌লেন ।

পঞ্চদশ অবতা‌রে বামনরূ‌প ধারণ ক‌রে দৈত্যরাজ ব‌লির যজ্ঞস্থ‌লে আগমন এবং ব‌লির কা‌ছ থে‌কে স্বর্গরাজ্য উদ্ধা‌রের জন্য তিন পা ভূ‌মি যাচনা ক‌রে‌ছি‌লেন ।

ষোড়শ অবতা‌রে তাঁর আগমন হ‌য়ে‌ছিল পরশুররামরূ‌পে । ক্ষ‌ত্রিয় নৃপ‌তি‌দের ব্রহ্মবি‌দ্বেষী ও ব্রাহ্মণহন্তারূ‌পে দে‌খে ক্রুদ্ধ হ‌য়ে তি‌নি একুশবার পৃ‌থিবী‌কে ক্ষত্রিয়শূন্য ক‌রে‌ছি‌লেন ।

অতঃপর শ্রীভগবানের সপ্তদশ অবতা‌রে পরাশর মু‌নি পুত্ররূ‌পে সত্যবতীর গ‌র্ভে ব্যাস‌দেব না‌মে আ‌বির্ভাব হয় । সী‌মিত বুদ্ধি মাব‌বের বিকাশে তাঁর অক্ষয় কী‌র্তি বেদ বিভাজন ।

‌দেবকার্য সম্পাদন হেতু অষ্টাদশ অবতা‌রে রাজা শ্রীরামচন্দ্ররূ‌পে তাঁর আগমন হয় । আদর্শ চ‌রিত্রের উপমা সৃ‌ষ্টির উ‌দ্দে‌শ্যে তাঁর আগমন । সেতুবন্ধন , রাবণ - কুম্ভকর্ণ বধ সহ অসংখ্য রাক্ষস বধ আ‌দি লীলা সম্পাদন এই অবতা‌রেই হ‌য়ে‌ছিল ।

ঊন‌বিংশ অবতার গ্রহণ তার যদুবং‌শে হ‌য়ে‌ছিল । তখন তাঁর প‌রিচয় ছিল বলরাম ।
‌বিংশ অবতা‌রে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতরণ ক‌রেন । নন্দগ্রাম নানা লীলা , অসুর বধ , বৃন্দাব‌নে লীলা , মথুরাগমণ কংস বধ , দ্রৌপদীর সম্মার্ন রক্ষা সহ কুরুক্ষেত্রে অর্জ‌ুনকে পরম জ্ঞান দান ক‌রেন যা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা রূ‌পে প‌রি‌চিত ।

ক‌লিযুগাগম‌নে একবিংশ অবতা‌রে মগধ‌দেশ দেব‌দ্বেষী দানব‌দের মো‌হিত করবার জন্য তাঁর অজনপুত্র বুদ্ধরূ‌পে আগমন হয় ।

অতঃপর যখন ক‌লিযু‌গের প্রভাব চরম সীমায় পৌঁছা‌বে আর রাজারাও দস্যুসম হ‌য়ে উঠ‌বে তখন ধ‌র্মের পুনঃপ্র‌তিষ্ঠার জন্য জগৎপালক শ্রীভগবান দ্বা‌বিংশ অবতা‌রে ব্রাহ্মণ বিষ্ণুশর্মার ঘরে ক‌ল্কিরূ‌পে অবতারিত হ‌বেন ।

দ্বা‌বিংশ অবতা‌রের বর্ণনা থাক‌লেও লোকপ্র‌সি‌দ্ধি অনুসা‌রে অবতা‌রের সংখ্যা চ‌ব্বিশ ( চতুর্বিংশতি ) । বিজ্ঞ‌ব্য‌ক্তি‌দের ম‌তে উক্ত দ্বা‌বিংশ অবতা‌রের সঙ্গে হংস ও হয়গ্রীব যুক্ত কর‌লে চতু‌র্বিংশ‌তি অবতারই হয় ।

সাধারণত যে দশাবতা‌রের কথা বলা হ‌য়ে থা‌কে তাঁরা হ‌লেন :
মৎস্য , কূর্ম , বরাহ , নর‌সিংহ , বামন , পরশুরাম , শ্রীরামচন্দ্র , বলরাম , বুদ্ধ ও ক‌ল্কি ।
এই অবতারগণ উক্ত চতুর্বিংশ‌তি অবত‌া‌রের অন্তর্ভুক্ত ।

Courtesy by: Joy Shree Radha Madhav 
Share:

২৫ আগস্ট ২০১৭

সাকার নিরাকার উপাসনা ---- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সম্প্রতি কিছুকাল হইতে সাকার নিরাকার উপাসনা লইয়া তীব্রভাবে সমালোচনা চলিতেছে। যাঁহারা ইহাতে যোগ দিয়াছেন তাঁহারা এম্‌নি ভাব ধারণ করিয়াছেন যেন সাকার উপাসনার পক্ষ অবলম্বন করিয়া তাঁহারা প্রলয়জলমগ্ন হিন্দুধর্মের পুনরুদ্ধার করিতেছেন। নিরাকার উপাসনা যেন হিন্দুধর্মের বিরোধী। ...... বুলবুলের লড়াইয়ে যেমন পাখিতে পাখিতেই খোঁচাখুঁচি চলে অথচ উভয়পক্ষীয় লোকের গায়ে একটিও আঁচড় পড়ে না, আমি বোধ করি অনেক সময়ে সেইরূপ কথাতে কথাতে তুমুল দ্বন্দ্ব বাধিয়া যায় অথচ উভয়পক্ষীয় মত অক্ষত দেহে বিরাজ করিতে থাকে। সাকার ও নিরাকার উপাসনার অর্থই বোধ করি এখনো স্থির হয় নাই। কেবল দুটো কথায় মিলিয়া বাঁও-কষাকষি করিতেছে। 

 অসীমতা কল্পনার বিষয় নহে, সীমাই কল্পনার বিষয়। অসীমতা আমাদের সহজ জ্ঞান সহজ সত্য। সীমাকেই কষ্ট করিয়া পরিশ্রম করিয়া কল্পনা করিতে হয়। ..... সমুদ্রের মাঝখানে গেলে আমরা বলি সমুদ্রের কূলকিনারা নাই। আকাশের কোথাও সীমা কল্পনা করিতে পারি না, এইজন্য সহজেই আমরা আকাশকে বলি অসীম, আকাশকে সসীম কল্পনা করিতে গেলেই আমাদের মন অতিশয় ক্লিষ্ট হইয়া পড়ে, অক্ষম হইয়া পড়ে। কালকে আমরা সহজেই বলি অনন্ত, নক্ষত্রমণ্ডলীকে আমরা সহজেই বলি অগণ্য-- এইরূপে সীমার সহিত যুদ্ধ বন্ধ করিয়া অসীমের মধ্যেই শান্তি লাভ করি। অসীম আমাদের মাতৃক্রোড়ের মতো বিশ্রামস্থল, ......... সীমাতেই আমাদের শ্রান্তি, অসীমেই আমাদের শান্তি, ভূমৈব সুখং, ইহা লইয়া আবার তর্ক করিব কী! ...... পৌত্তলিকতার এক মহদ্দোষ আছে। 

চিহ্নকে যথার্থ বলিয়া মনে করিয়া লইলে অনেক সময়ে বিস্তর ঝঞ্ঝাট বাঁচিয়া যায় এইজন্য মনুষ্য স্বভাবতই সেইদিকে উন্মুখ হইয়া পড়ে। পুণ্য অত্যন্ত শস্তা হইয়া উঠে। পুণ্য হাতে হাতে ফেরে। পুণ্যের মোড়ক পকেটে করিয়া রাখা যায়, পুণ্যের পঙ্ক গায়ে মাখা যায়, পুণ্যের বীজ গাঁথিয়া গলায় পরা যায়। হরির নামের মাহাত্ম্যই এত করিয়া শুনা যায় যে, কেবল তাঁহার নাম উচ্চারণ করিয়াই ভবযন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাওয়া যায় তৎসঙ্গে তাঁহার স্বরূপ মনে আনা আবশ্যকই বোধ হয় না। ......... আসল কথা, আমাদের সীমা ও অসীমতা দুইই চাই। আমরা পা রাখিয়াছি সীমার উপরে, মাথা তুলিয়াছি অসীমে। 


........ ঈশ্বরের আশ্রয়ে আছি বলিতে গিয়া ভক্তের মন মনুষ্যস্বভাববশত সহজেই বলিতে পারে "আমি ঈশ্বরের চরণচ্ছায়ায় আছি' তাহাতে আমার মতে পৌত্তলিকতা হয় না। কিন্তু যদি কেহ সেই চরণের অঙ্গুলি পর্যন্ত গণনা করিয়া দেয়, অঙ্গুলির নখ পর্যন্ত নির্দেশ করিয়া দেয়, তবে তাহাকে পৌত্তলিকতা বলিতে হয়। কারণ, শুদ্ধমাত্র ভাব- নির্দেশের পক্ষে এরূপ বর্ণনার কোনো আবশ্যক নাই-- কেবল আবশ্যক নাই যে তাহা নয়, ইহাতে করিয়া ভাব হইতে মন প্রতিহত হইয়া বস্তুর মধ্যে রুদ্ধ হয়। "চরণচ্ছায়ায় আছি' বলিতে গেলেই অমনি যে রক্তমাংসের একজোড়া চরণ মনে পড়িবে তাহা নহে। চরণের তলে পড়িয়া থাকিবার ভাবটুকু মনে আসে মাত্র। একটা দৃষ্টান্ত দিই।.... কে না জানেন চন্দ্রানন বলিলে থালার মতো একটা মুখ মনে পড়ে না, অথবা করপদ্ম বলিলে কুঞ্চিত দলবিশিষ্ট গোলাকার পদার্থ মনে আসে না-- কিন্তু তাই বলিয়া চাঁদের মতো মুখ ও পদ্মের মতো করতল চিত্রপটে যদি আঁকিয়া দেওয়া যায় তবে তাহাই যথার্থ মনে করা ব্যতীত আমাদের আর অন্য কোনো উপায় থাকে না।

 ....... আর-একটি কথা। কতকগুলি বিষয় আছে যাহা বিশুদ্ধ জ্ঞানের গম্য, যাহা পরিষ্কার ভাষায় ব্যক্ত করা যায় ও করাই উচিত। যেমন, ঈশ্বর ত্রিকালজ্ঞ। ঈশ্বরের কপালে তিনটে চক্ষু দিলেই যে ইহা আমরা অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার বুঝিতে পারি তাহা নহে। বরঞ্চ তিনটে চক্ষুকে আবার বিশেষ রূপে ব্যাখ্যা করিয়া বুঝাইয়া বলিতে হয় ঈশ্বর ত্রিকালজ্ঞ। বিশুদ্ধ জ্ঞানের ভাষা অলংকারশূন্য। অলংকারে তাহাকে আচ্ছন্ন করিয়া দেয়, বিকৃত করিয়া দেয়, মিথ্যা করিয়া দেয়। জ্ঞানগম্য বিষয়কে রূপকের দ্বারা বুঝাইতে গেলেই পৌত্তলিকতা আসিয়া পড়ে। ...... বিশুদ্ধ জ্ঞানের প্রতিনিধি রূপককে লইয়াও এইরূপ গোলযোগ ঘটিয়া থাকে। আমরা প্রথম দৃষ্টিতে তাহাকেই জ্ঞানের স্থলে অভিষিক্ত করিয়া লই ও জ্ঞানের পরিবর্তে তাহারই গলে বরমাল্য প্রদান করি-- অবশেষে ভ্রম ভাঙিলেও সহজে হৃদয় ফিরাইয়া লইতে পারি না। ইহার পরিণাম শুভ হয় না। কারণ, জ্ঞানোদয় হইলে অজ্ঞানের প্রতি আমাদের আর শ্রদ্ধা থাকে না, অথচ অভ্যাস অনুসারে শ্রদ্ধাসূচক অনুষ্ঠানও ছাড়িতে পারি না। 

...... জ্ঞানগম্য বিষয়কে রূপকে ব্যক্ত করা অনাবশ্যক ও হানিজনক বটে কিন্তু আমাদের ভাবগম্য বিষয়কে আমরা সহজ ভাষায় ব্যক্ত করিতে পারি না, অনেক সময়ে রূপকে ব্যক্ত করিতে হয়। ঈশ্বরের আশ্রয়ে আছি বলিলে আমার মনের ভাব ব্যক্ত হয় না, ইহাতে একটি ঘটনা ব্যক্ত হয় মাত্র; স্থাবর জঙ্গম ঈশ্বরের আশ্রয়ে আছে আমিও তাঁহার আশ্রয়ে আছি এই কথা বলা হয় মাত্র। কিন্তু ঈশ্বরের চরণের তলে পড়িয়া আছি বলিলে তবেই আমার হৃদয়ের ভাব প্রকাশ হয়-- ইহা কেবল আমার সম্পূর্ণ আত্মবিসর্জনসূচক পড়িয়া থাকার ভাব। অতএব ইহাতে কেবল আমারই মনের ভাব প্রকাশ পাইল, ঈশ্বরের চরণ প্রকাশ পাইল না। অতএব ভক্ত যেখানে বলেন, হে ঈশ্বর আমাকে চরণে স্থান দাও, সেখানে তিনি নিজের ইচ্ছাকেই রূপকের দ্বারা ব্যক্ত করেন, ঈশ্বরকে রূপকের দ্বারা ব্যক্ত করেন না।......... নিরাকার উপাসনাবিরোধীদের একটা কথা আছে যে, নিরাকার ঈশ্বর নির্গুণ অতএব তাঁহার উপাসনা সম্ভবে না। 

আমি দর্শনশাস্ত্রের কিছুই জানি না, সহজ বুদ্ধিতে যাহা মনে হইল তাহাই বলিতেছি। ঈশ্বর সগুণ কি নির্গুণ কী করিয়া জানিব! তাঁহার অনন্ত স্বরূপ তিনিই জানেন। কিন্তু আমি যখন সগুণ তখন আমার ঈশ্বর সগুণ। আমার সম্বন্ধে তিনি সগুণ ভাবে বিরাজিত। জগতে যাহা-কিছু দেখিতেছি তাহা যে তাহাই, তাহা কী করিয়া জানিব! তাহার নিরপেক্ষ স্বরূপ জানিবার কোনো সম্ভাবনা নাই। ................... ঈশ্বর সম্বন্ধে আমাদের হৃদয়ের যাহা উচ্চতম আদর্শ, তাহাই আমাদের পূজার ঈশ্বর, তাহাই আমাদের নেতা ঈশ্বর, তাহাই আমাদের সংসারের ধ্রুবতারা। তাঁহার যাহা নিগূঢ় স্বরূপ তাহার তথ্য কে পাইবে! কিন্তু তাই বলিয়া যে আমাদের দেবতা আমাদের মিথ্যা কল্পনা, আমাদের মনগড়া আদর্শ, তাহা নহে। ...... প্রতি পদক্ষেপে, উন্নতির প্রত্যেক নূতন সোপানে পুরাতন দেবতাকে ভাঙিয়া নূতন দেবতা গড়িতে হইতেছে না। অতএব আইস, অসীমকে পাইবার জন্য আমরা আত্মার সীমা ক্রমে ক্রমে দূর করিয়া দিই, অসীমকে সীমাবদ্ধ না করি। যদি অসীমকেই সীমাবদ্ধ করি তবে আত্মাকে সীমামুক্ত করিব কী করিয়া।

 ঈশ্বরকে অনন্ত জ্ঞান, অনন্ত দয়া, অনন্ত প্রেম জানিয়া আইস আমরা আমাদের জ্ঞান প্রেম দয়াকে বিস্তার করি, তবেই উত্তরোত্তর তাঁহার কাছে যাইতে পারিব। তাঁহাকে যদি ক্ষুদ্র করিয়া দেখি তবে আমরাও ক্ষুদ্র থাকিব, তাঁহাকে যদি মহৎ হইতে মহান বলিয়া জানি তবে আমরা ক্ষুদ্র হইয়াও ক্রমাগত মহত্ত্বের পথে ধাবমান হইব। নতুবা পৃথিবীর অসুখ অশান্তি, চিত্তের বিক্ষিপ্ততা বাড়িবে বৈ কমিবে না। সুখ সুখ করিয়া আমরা আকাশ-পাতাল আলোড়ন করিয়া বেড়াই, আইস আমরা মনের মধ্যে পুরাতন ঋষিদের এই কথা গাঁথিয়া রাখি "ভূমৈব সুখং' ভূমাই সুখস্বরূপ, কোনো সীমা কোনো ক্ষুদ্রত্বে সুখ নাই-- তা হইলে অনর্থক পর্যটনের দুঃখ হইতে পরিত্রাণ পাইব।

ভারতী, শ্রাবণ, ১২৯২

Written by: Prithwish Ghosh
Share:

০৪ আগস্ট ২০১৭

ব‌লি রাজা ও বামন অবতার


প্রহ্লা‌দের পৌত্র ব‌লি । প্রহ্লা‌দ ছিলেন পরম হ‌রিভক্ত । ব‌লি ছিলেন বিষ্ণু‌দ্বেষী । বিষ্ণু‌নিন্দা করার জন্য প্রহ্লাদ ব‌লি‌কে অ‌ভিশাপ দি‌য়ে‌ছিলেন - " বিষ্ণু‌নিন্দার জন্য রাজ্য হারা‌বে ।তোমার দারুণ অধঃপতন হ‌বে । " ব‌লি ইহাতে ভয় পাইয়া ব‌লি‌লেন - " কি উপায় হ‌বে , পিতামহ ? এমন শাপ কেন দি‌লেন ? "

প্রহ্লাদ বলি‌লেন - " উপায় আবার কি ? শ্রীহ‌রি‌তে ভ‌ক্তি জন্মা‌লেই সব ফি‌রে পা‌বে । "

প্রহ্লাদ হ‌রিভক্ত ছি‌লেন - তাই ব‌লিয়া ই‌ন্দ্রের প্রতি বি‌দ্বেষ তাঁহার কম ছিল না । দেবতা‌দের তি‌নি শত্রু ব‌লিয়াই ম‌নে করি‌তেন । একশত বৎসর ধ‌রিয়া প্রহ্লা‌দ দেবতা‌দের স‌ঙ্গে অ‌বিরত যুদ্ধ চালান । বৃদ্ধ বয়‌সে প্রহ্লাদ পরা‌জিত হইয়া রাজত্ব ত্যাগ ক‌রেন । তি‌নি পৌত্র ব‌লি‌কে রা‌জ্যে অ‌ভি‌ষিক্ত ক‌রিয়া গদ্ধমাদন পর্ব্ব‌তে তপস্যার জন্য চ‌লিয়া যান ।

ব‌লি রাজা হইয়া দেবতাদের স‌ঙ্গে যুদ্ধ চালাইতে থাকেন । ব‌লির অ‌ন্ত‌রে বিষ্ণুভ‌ক্তি তখনও জা‌গে নাই । পিতামহের অ‌ভিশা‌পের ফ‌ল ফ‌লিল । ইন্দ্র বিষ্ণুর সহায়তায় ব‌লি‌কে রাজ্যভ্রষ্ট ক‌রি‌লেন ।ই‌ন্দ্রের ভ‌য়ে ব‌লি নানাস্থা‌নে লুকাইয়া বেড়াই‌তেন । একবার তি‌নি গর্দ্দ‌ভের রূপ ধ‌রিয়া ভ্রমণ ক‌রি‌তে‌ছি‌লেন । ছদ্মরূপ ধ‌রিলেও তাহা দেবতা‌দের দৃ‌ষ্টি এড়ায় না । ইন্দ্র তাঁহা‌কে দে‌খিয়া চি‌নিয়া ব‌লি‌লেন - " হে দৈত্যরাজ , আজ না হয় তু‌মি রাজ্যহারা হ‌য়েছ । তাই ব‌লে এ কি দুর্গ‌তি তোম‌রি ! ছি ছি ! কাপুরু‌ষের মত তু‌মি একটা গর্দ্দ‌ভের মধ্যে আত্মগোপন ক'‌রে আছ ! বড়ই লজ্জার কথা । "

দৈত্যরাজ উত্তর দি‌লেন - " এ‌তে আর লজ্জা বা দুঃখ কি আ‌ছে ? তোমা‌দের হত্তাকর্ত্তা বিধাতা বিষ্ণু মৎস , কূর্ম্ম , বরাহ ইত্যা‌দির রূপ ধ‌রে‌ছি‌লেন প্র‌য়োজন‌সি‌দ্ধির জন্য । তু‌মি নি‌জেও ব্রহ্মহত্যা ক‌রে মানস - স‌রোব‌রে পদ্মপাতার তলায় আশ্রয় নি‌য়ে‌ছি‌লে ।

আজ আমার দু‌র্দ্দিন - তাই আমাকে ধিক্কার দিচ্ছ । ইন্দ্র , আমার এ‌দিন থাকবে না । চাকা উ‌ল্টে যাচ্ছে । ইহ‌লো‌কের ঐশ্বর্য্য , ধনসম্পদ আজ আ‌ছে , কাল নেই । তা নি‌য়ে গর্ব্ব করছ , কর । দু'‌দিন পরে তোমার দশাও এম‌নি হবে । "

দৈত্যগুরু ব‌লি‌কে নানাস্থা‌নে খুঁ‌জি‌তে খুঁ‌জি‌তে সহসা একদিন আ‌বিস্কার করি‌লেন । তি‌নি ব‌লি‌কে বিশ্ব‌জিৎ য‌জ্ঞে অ‌ভি‌ষিক্ত ক‌রিলেন । সেই য‌জ্ঞের অ‌গ্নি‌তে আহু‌তি দিবামাত্র ই‌ন্দ্রের র‌থের মত এক‌টি রথ , ই‌ন্দ্রের অ‌শ্বের মত অশ্ব , সিংহ‌চি‌হ্নিত ধ্বজা , স্বর্ণময় ধনু , দিব্য কবচ ও দুই‌টি অক্ষয় বা‌ণে পূর্ণ তূণ উত্থিত হইল । শুক্রাচার্য্য এক‌টি বিজয়শঙ্খ দান ক‌রি‌লেন ।

নবরূ‌পে স‌জ্জিত হইয়া ব‌লি দৈত্য‌সেনা লইয়া প্রথ‌মে পৃ‌থিবীর রাজ্য অ‌ধিকার ক‌রি‌লেন ও তারপর স্বর্গরাজ্য - জ‌য়ের জন্য যাত্রা ক‌রি‌লেন । দেবগণ ভীত হইয়া বৃহস্প‌তির শরণ লই‌লেন ।

বৃহস্প‌তি ব‌লি‌লেন - " তোমরা যুদ্ধ কর‌তে যেও না । তোমরা এখন দুর্ব্বল । শুক্রাচার্য্য সঞ্জীবনী বিদ্যার দ্বারা দৈত্য‌দের বাঁ‌চিয়ে দে‌বে । তা ছাড়‌া , দুর্ব্বাসার অভিশাপ তোমা‌দের উপর চল‌ছে । তোমরা সব স্বর্গ হ'‌তে স'‌রে পড় । মর্ত্ত‌লো‌কে গিয়ে মানুষ ও জীবজন্তুর ম‌ধ্যে লু‌কি‌য়ে থা‌ক । "
ব‌লি বিনাযু‌দ্ধে স্বর্গরাজ্য অধিকার ক‌রিয়া লই‌লেন ।

শুক্রাচা‌র্য্যের উপ‌দে‌শে ব‌লি একশত বার অশ্ব‌মেধ যজ্ঞ ক‌রিলেন ।

বহস্প‌তি দেবতা‌দের উপ‌দেশ দি‌লেন - " দেখ , সমুদ্রমন্থন ক'‌রে অমৃত উদ্ধার করতে না পার‌লে আর দৈত্য‌দের তাড়া‌নো যা‌বে না । অমৃত পেলে তোমরা অমর হ'‌য়ে যাবে ।

শুক্রাচা‌র্য্যের সঞ্জীবনী বিদ্যা তখন বে‌শি অ‌নিষ্ট কর‌তে পার‌বে না । সমুদ্রমন্থন খুব দুরূহ কাজ । তোমরা একা পারবে না - দৈত্য ও দেবতা দুই দ‌লে মি‌লে মন্থন কর‌তে হবে । ব‌লির কা‌ছে গি‌য়ে প্রস্তাব ক‌রো । ও‌দের সাহা‌য্যে সমুদ্রমন্থন ক'‌রে অমৃত উঠলে ফাঁ‌কি দি‌য়ে তোমরা অমৃতভাণ্ডটা অ‌ধিকার ক'‌রে নি‌তে পার‌বে । বিষ্ণুর স‌ঙ্গে পরামর্শ কর । "

দেবগণ ব‌লির স‌ঙ্গে সাক্ষাৎ ক‌রিয়া সমুদ্রমন্থনের প্রস্তাব ক‌রি‌লেন । ব‌লি সম্মত হই‌লেন । দেবতারা দৈত্য‌দের সঙ্গে যোগ দিয়া সমুদ্রমন্থন ক‌রিয়া অমৃত অধিকার ক‌রিলেন । তাহা‌তে দেবাসু‌রে সংগ্রাম ঘোরতর হইয়া উ‌ঠিল । দেবতারা কিছু‌তেই স্বর্গরাজ্য হই‌তে দৈত্য‌দের তাড়াই‌তে পারি‌লেন না । দেবতামা অ‌দি‌তি বিষ্ণুর শরণাপন্ন হই‌লেন । অ‌দি‌তি ব‌লি‌লেন - " বৎস , তু‌মি ছাড়া ত ' আমার ছে‌লে‌দের আর স্বর্গরাজ্য ফি‌রে পাওয়ার উপায় দেখ‌ছি না । তু‌মি একটা উপায় কর । "

বিষ্ণু বলি‌লেন - " মা , প্র‌তিকার করবার জন্য তোমার গ‌র্ভেই আ‌মি একবার জন্ম নেব । তু‌মি নি‌শ্চিন্ত হ‌য়ে যাও । এবার আ‌মি বামন হয়ে জন্মাব । "

শ‌্রী‌বিষ্ণু অ‌দি‌তির গ‌র্ভে বামনরূপে জন্ম লই‌লেন ।

ক‌য়েক বৎসর প‌রের কথা । নর্ম্মদাতী‌রে ভূগুকচ্ছ নামক স্থা‌নে ব‌লি এক‌টি বিরাট যজ্ঞ ক‌রিলেন । সে য‌জ্ঞে ব‌লি যে যাহা চা‌হি‌তে‌ছিল , তাহাই দান করি‌তে‌ছিলেন । বাম‌ন‌দেব সেই যজ্ঞস্থ‌লে অ‌তি‌থি হইলেন । ব‌লি বামন‌দেবকে সমাদর ক‌রিয়া পাদ্য - অর্ঘ্য দিয়া অভ্যর্থনা ক‌রিয়া জিজ্ঞাসা ক‌রিলেন - " হে ব্রাহ্মণ , আপনার প্রার্থনা কি ? যা চান তা- ই পাবেন । "
বামন বলি‌লেন - " আমার প্রার্থনা সামান্য । আ‌মি ধনরত্ন চাই না , আ‌মি চাই সামান্য ত্রিপাদ ভূ‌মি । "
শুক্রাচার্য্য দে‌খিয়া বু‌ঝি‌লেন - এই বামন নিশ্চয় ছদ্ম‌বে‌শী বিষ্ণু । ইহার উ‌দ্দে‌শ্যে ভাল নয় । ব‌লি‌কে তি‌নি ব‌লি‌লেন - " মহারাজ , সাবধান ! এই বামন যা চাই‌বে , তা - ই‌ দি‌তে সম্মত হ‌বেন না । এই বামন এ‌সে‌ছে আপনা‌কে ছলনা কর‌তে । "
ব‌লি ব‌লি‌লেন - " আ‌মি যখন অঙ্গীকার ক‌রে‌ছি , তখন ই‌নি যা চান , তা - ই দেবই । "

দান ক‌রিবার আগে আচমন ক‌রি‌তে হয় । আচম‌নের জল যাহাতে ব‌লি না পান , সেজন্য শুক্রাচার্য্য ভূঙ্গারের মধ্যে প্র‌বেশ ক‌রিয়া জল‌রোধ ক‌রি‌লেন ।ভূ্ঙ্গার ভরা , অথচ জল প‌ড়ে না ! তখন বামন এক‌টি কুশ লইয়া ভূঙ্গা‌রের ন‌লের ম‌ধ্যে খোঁচা দিলেন - তাহা‌তে শুক্রাচা‌র্য্যের এক‌টি চোখ কানা হইয়া গেল ।
যাহাই হোক , ব‌লি আচমন ক‌রিয়া দা‌নে উদ্যত হই‌লেন । বামন‌দেব তখন বিশ্বরূপ ধারণ ক‌রি‌লেন । এক পা‌য়ে তি‌নি পৃ‌থিবী , অন্য পায়ে তি‌নি স্বর্গ আক্রমণ ক‌রি‌লেন । তাঁহার না‌ভি‌দেশ হই‌তে তৃতীয় এক‌টি চরণ নিঃসৃত হইল ।

বামন‌দেব ব‌লি‌লেন - " এই পদ‌টি কোথায় ফেলব , দৈত্যরাজ ? "

প্রহ্লা‌দের পৌত্র ব‌লি , র‌ক্তের ম‌ধ্যে হ‌রিভ‌ক্তি ছিল - সেই ভ‌ক্তির চরম নি‌দর্শন দেখাইবার সময় আ‌সিয়া‌ছে । ব‌লি তৃতীয় প‌দের জন্য নি‌জের মাথা পা‌তিয়া দি‌লেন ।

‌ত্রি‌বিক্রম বামন‌দেব ব‌লির মাথার উপর তৃতীয় পদ রা‌খি‌লেন । ব‌লি চির‌দি‌নের জন্য ব‌ন্দী হই‌লেন ।

স্বর্গম‌র্ত্ত্যে আর ব‌লির ঠাঁই হইল না । ব‌লি পাতাল আশ্রয় ক‌রি‌লেন । তি‌নি পাতালের রাজা হইয়াই থা‌কি‌লেন । দেবতারা বাম‌নের ছলনায় স্বর্গরাজ্য ফি‌রি‌য়া পাই‌লেন । হ‌রিও চির‌দি‌নের জন্য ব‌লির কা‌ছে বন্দী হ‌ইয়া র‌হিলেন ।

স্বর্গম‌র্ত্ত্যে আর ব‌লির ঠাঁই হইল না । ব‌লি পাতাল আশ্রয় ক‌রি‌লেন । তি‌নি পাতালের রাজা হইয়াই থা‌কি‌লেন । দেবতারা বাম‌নের ছলনায় স্বর্গরাজ্য ফি‌রি‌য়া পাই‌লেন । হ‌রিও চির‌দি‌নের জন্য ব‌লির কা‌ছে বন্দী হ‌ইয়া র‌হিলেন ।

ব‌লি দৈত্যহ‌লেও অব‌শে‌ষে বিষ্ণুর নিকট পরা‌জিত হই‌লেন । তাই তি‌নিও ভ‌ক্তে প‌রিণত ।

হ‌রিবল

Courtesy: Joy Shree Radha Madhav
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।