• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৪ মে ২০২০

ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরের এক বিশাল এক শক্তিশালী হিন্দু সাম্রাজ্য কথা জানবো ।

খামের সাম্রাজ্য ( ৮০২-১৪৩১) দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল । ৮০২ সালে চক্রবর্তী সম্রাট দ্বিতীয় জয়বর্মন এই সাম্রাজের প্রতিষ্ঠা করেন । বর্তমানের কম্বোডিয়া,থাইল্যান্ড,লাওস এবং দক্ষিণ ভিয়েতনাম নিয়ে গঠিত হয় এই শক্তিশালী হিন্দু সাম্রাজ্য । ১৫ শতাব্দীতে খামের সাম্রাজ্যের পতন হয় । খামেরদের রাজধানী ছিল অঙ্কোরাভাট অর্থাৎ মন্দিরের শহর ।

প্রাচীন মন্দির বলতে মানুষের ধারণা শুধু ভারতবর্ষেই। কিন্তু ভারতবর্ষ থেকেও হাজার মাইল দূরে কম্বোডিয়ায় অবস্থিত সনাতন ধর্মালম্বীদের স্থাপিত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মন্দির। শুধু সর্ববৃহৎ বলে নয় এই মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও কারুকার্য দেখলে রীতিমতো তাজ্জব বনে যেতে হবে।
সব মন্দিরকে ছাপিয়ে এই অঙ্কোরভাট মন্দির অধীষ্ঠিত আছে অনন্য উচ্চতায়। বিস্তারিত বর্ণনার আগে জানিয়ে নেই এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন অঙ্কোরের তৎকালীন শাসক দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ। দ্বাদশ শতাব্দীতে (১১১৩-১১৫০) নিজের রাজধানী ও প্রধান উপসনালয় হিসেবে এই বিশাল স্থাপনাটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ। রাজা সূর্যবর্মণের মৃত্যুর পর মন্দিরের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায় তাই মন্দিরের দেয়ালে কিছু কারুকাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তখন দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে এক শক্তিশালী সরকার গঠন করেছিলেন সেটা তাঁর এই স্থাপত্য দেখলেই অনুমান করা যায়৷ তাঁদের সাম্রাজ্যকে বলা হত খামের সাম্রাজ্য। খামের সাম্রাজ্যের আরাধ্য দেব মহাদেব হলেও দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন বিষ্ণু দেবের জন্য।
ঙ্কোরভাট নির্মাণশৈলী খামের স্থাপত্যশৈলীকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই মন্দিরের নির্মাণকৌশলে দুইটা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে
১/ টেম্পল মাউন্টেন ধাঁচ (পাহাড়ি মন্দির ধাঁচ)
২/ গ্যালারি মন্দির ধাঁচ


★হিন্দু পূরাণের বিশ্বাস অনুযায়ী পৃথিবীর কেন্দ্র সুমেরু পর্বতে দেব-দেবীদের বসবাস তাই সেই সুমেরু পর্বতের আদলেই এই মন্দিরের মূল অংশ নির্মাণ করা হয়।
মন্দিরের ৫ টি সুইচ চুড়া সুমেরু পর্বতের ৫ টি পর্বতশৃঙ্গকে নির্দেশ করে।
★এই মন্দিরের সুরক্ষার জন্য মন্দিরের চারদিকে রয়েছে বিশাল পরিখা (ধারনা করা হয় কয়েকশত ফুট গভীর পরিখ) ও ৩.৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ প্রাচীর। সম্পূর্ণ স্থাপনাটি প্রায় ৫০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
★বাইরের দেয়ালটি দৈর্ঘ্যে ১০২৫ মিটার, প্রস্থে ৮০২ মিটার, এবং উচ্চতায় ৪.৫ মিটার। এর চার দিকে ৩০ মিটার দূরত্বে ১৯০ মিটার চওড়া একটি পরিখা আছে। মন্দিরে প্রবেশ করার জন্য পূর্ব দিকে একটি মাটির পাড় এবং পশ্চিম দিকে একটি বেলেপাথরের পুল রয়েছে। এই পুলটি মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বার, এবং মন্দির নির্মাণের অনেক পরে যোগ করা হয়েছে। ধারণা করা হয় যে, এর স্থানে পূর্বে একটি কাঠের পুল ছিলো।
★মূল মন্দিরটি শহরের অন্যান্য স্থাপনা হতে উঁচুতে অবস্থিত। এতে রয়েছে তিনটি পর্যায়ক্রমে উচ্চতর চতুষ্কোণ গ্যালারি, যা শেষ হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় টাওয়ারে। মান্নিকার মতে এই গ্যালারিগুলো যথাক্রমে রাজা, ব্রহ্মা, এবং বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। প্রতিটি গ্যালারির মূল (কার্ডিনাল) বিন্দুগুলোতে একটি করে গোপুরা রয়েছে। ভিতরের দিকের গ্যালারিগুলোর কোণায় রয়েছে টাওয়ার। কেন্দ্রের টাওয়ার এবং চার কোনের চারটি টাওয়ার মিলে পঞ্চবিন্দু নকশা সৃষ্টি করেছে।
দ্বিতীয় সূর্যবর্মণের মৃত্যুর পর মন্দিরটি সূর্যবর্মণের সমাধিসৌধ হিসেবেও বিবেচিত হত। আসলে তখনকার সত্যিকার ইতিহাসের কোন সাক্ষ্য এমনকি মন্দিরের পূর্বনাম সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায় না।

১১৭৭ এর দিকে খামেদের চিরশত্রু চামদের দ্ধারা এই মন্দির লুন্ঠিত হয়। ধারণা করা হয় তখন এই মন্দিরের চূড়াগুলো স্বর্ন দিয়ে মোড়ানো ছিল৷ পরবর্তীতে ৭ম জয়বর্মন রাজ্যটিকে পুনর্গঠন করেন ও নতুন রাজধানী করেন অঙ্কোরথমকে এবং বায়ু নগরে প্রধান মন্দির স্থাপন করেন।
তবে কম্বোডিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রাচারের সাথে সাথে ১৪ শ থেকে ১৫ শ শতাব্দীর মধ্যে এই হিন্দু মন্দিরে রূপান্তরিত হয় কিন্তু এখান থেকে বিষ্ণু মন্দির কখনও স্থানান্তরিত হয় নি এমনকি এই মন্দিরে এখনো প্রধান দেবতা হিসেবে ভগবান বিষ্ণুর পূজা হয়। ষোড়শ শতকের পর থেকে এই মন্দির অবহেলিত হতে শুরু হয় কিন্তু কখনওই পরিত্যক্ত হয় নি। মন্দিরের চারপাশের বিশাল পরিখার জন্যই এই মন্দিরকে জঙ্গলের গাছপালা গ্রাস করতে পারে নি।
পশ্চিমা পরিব্রাজকদের মধ্যে পর্তুগীজ ধর্মপ্রচারক আন্তোনিও দা মাগদালেনার প্রথম এই মন্দির ভ্রমণ করেন ১৫৮৬ সালের দিকে। এই মন্দির ভ্রমণ করে তিনি লিখেছিলেন।
"এটি (মন্দিরটি) এমন অসাধারণ ভাবে নির্মিত যে, ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। সারা বিশ্বে এরকম আর কোন ভবন বা স্থাপনার অস্তিত্ব নাই। এখানে রয়েছে খিলান ও অন্যান্য কারুকার্য, মানুষের পক্ষে সম্ভাব্য সেরা সৃষ্টি।"
তবে পাশ্চাত্যে এই মন্দিরের কথা ছড়িয়ে পড়ে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফরাসি অভিযাত্রী অনরি মৌহত এর ভ্রমণকাহিনীর মাধ্যমে। তিনি লিখেছিলেন,
"এই মন্দিরগুলির মধ্যে একটি (আঙ্করভাট), সলোমনের মন্দিরকেও হার মানায়। মাইকেলেঞ্জেলোর মতোই কোন প্রাচীন শিল্পী এটি নির্মাণ করেছেন। আমাদের সবচেয়ে সুন্দর ভবন সমূহের সাথে এটি সমতূল্য। এটি এমনকী প্রাচীন গ্রিস বা প্রাচীন রোমের স্থাপনা গুলির চাইতেও অনেক বেশি রাজকীয়, সুন্দর। বর্তমানে এই দেশটি (কম্বোডিয়া এলাকা) যে বর্বরতার মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে, তার সাথে এই মন্দিরের বিশালতার ও সৌন্দর্যের এক বিশাল ফারাক রয়েছে।"
বিংশ শতাব্দীতে আঙ্করভাটের ব্যাপক সংস্কার সম্পন্ন হয়। এ সময় প্রধানত এর চারিদিকে গ্রাস করে নেয়া মাটি ও জঙ্গল সাফ করা হয়। গৃহযুদ্ধ ও খ্‌মের রুজ শাসনকালে ১৯৭০ ও ১৯৮০ এর দশকগুলিতে সংস্কার কার্য বাধাগ্রস্ত হয়। তবে আঙ্করভাট এলাকায় পরে স্থাপিত মূর্তিগুলি চুরি যাওয়া ও ধ্বংস করে ফেলা ছাড়া মূল মন্দিরের খুব একটা ক্ষতি এসময় হয় নাই।
বর্তমানে আঙ্করভাটের মন্দিরটি কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এটি দেশবাসীর গৌরব। ১৮৬৩ সালে প্রথম প্রবর্তনের পর থেকে কম্বোডিয়ার সব পতাকাতেই আঙ্করভাটের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে।সারা বিশ্বে এটিই একমাত্র ভবন যা কোন দেশের পতাকায় প্রদর্শিত হয়েছে।
#১৯৯০ এর দশক হতে আংকর ওয়তের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। এর সাথে সাথে শুরু হয় পর্যটনশিল্প। ভারতের পুরাতাত্তিক সংস্থা ১৯৮৬ হতে ১৯৯২ সালের মধ্যে মন্দিরটিতে সংস্কারের কাজ করে। মন্দিরটি আংকরের বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসাবে ইউনেস্কো কর্তৃক ১৯৯২ সালে স্বীকৃত হয় এবং সপ্তম আশ্চর্যের নতুন ১৩ স্থাপত্যের তালিকায় জায়গা পায়।
২০১৫ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রোলান্ড ফ্লেচার ও ড. ড্যামিয়ান "গ্রেট অঙ্কোর প্রজেক্ট" নামে একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন৷ সেসময় তারা প্রত্নতাত্ত্বিক যাচাইবাছাইয়ের জন্য তীক্ষ্ণ ভূমি রাডার এবং এয়ারবোর্ণ লেজার স্ক্যানিং ব্যবহার করেছিলেন। তারা বলেন মন্দিরটির স্থাপনায় এমন কিছু রহস্য লুকিয়ে আছে যা কল্পনার অতীত। স্ক্যানিংয়ে তারা এমন এক গঠনশৈলী পান যেটা আগে কখনও দেখা যায় নি৷ এর নাম দেন তারা "রেক্টিলিনিয়ার স্পাইরাল" তথা "সরলরৈখিক কুন্ডলী" যেটা মন্দিরের দক্ষিণ পাশে ৯ বর্গকিলোমিটার এ
লাকাজুড়ে

তারা মন্দিরের চারপাশে আরও কিছু টাওয়ারের সন্ধান পান যেগুলো মাটিচাপা অবস্থায় আছে এবং সম্পূর্ণটাই রহস্যময়।
আজ থেকে ৮০০ বছর আগে খামের সম্রাট দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ কম্বোডিয়ার নির্মাণ করে দিয়ে গেলেন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ হিন্দু মন্দির যেটা প্রায় ৬০০ বছর লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল হয়ত এখনও অনেকে এই বিষয় অজ্ঞাত।



©সংগৃহিত
Share:

২৩ এপ্রিল ২০১৭

কেনিয়াতে ২৫ লক্ষ হিন্দু বাস করে

কেনিয়াতে ২৫ লক্ষ হিন্দু বাস করে।কেনিয়াতে হিন্দু সম্প্রদায় ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। নাইরোবিতেই রয়েছে ৬ টি স্বমিনারায়ন মন্দির, ৫ টি শিব মন্দির, ২ টি রাম মন্দির, ২ টি মাতা আম্বা/ দুর্গা মন্দির, ১ টি গায়াত্রি মন্দির, ৩ টি সনাতন ধর্ম মন্দির, ১ টি কার্তিক মন্দির, ১ টি হরে কৃষ্ণ মন্দির এবং আরও কিছু মন্দির। 
Share:

১১ জুলাই ২০১৬

এই পৃথিবী কি পূর্বে ভারতবর্ষ ছিল ??

কখনো কি প্রশ্ন জাগে না যে, বিচিত্র রকমের স্থান বা দেশ কেন হল । কেনই বা প্রতিটি দেশ ইউরোপ আফ্রিকার মত প্রাচুর্যময় নয় । কোথাও সমৃদ্ধশালী কোথাও কোন প্রাচুর্যের ছোঁয়া নেই । এর পেছনে কিই বা কারণ থাকতে পারে । আরও একটা প্রশ্ন থাকতে পারে তা হল এসমস্ত বিচিত্র দেশের নামকরণ নিয়ে । তাই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বৈদিক শাস্ত্র থেকে এর সঠিক রহস্য গ্রুপের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল । বৈদিক শাস্ত্র মতে এক সময় সমগ্র পৃথিবীকেই ইলাবৃত বর্ষ বা ভারতবর্ষ নামে ডাকা হত । এই পৃথিবীর শাসনভারের দায়িত্ব ছিল ইতিহাস বিখ্যাত অনেক অনেক রাজাদের হাতে । এক সময় ধীরে ধীরে সেই ভারতবর্ষ ভেঙ্গে গড়ে সাতটি পৃথক মহাদেশ এবং বহু দেশ । মূলত, ককেশাস নামক স্থানকে বলা হয় শ্বেত মানবদের উৎপত্তি উৎস হিসেবে । বর্তমান বিশ্বের পশ্চিমা জগতের যেসব সাদা লোকদের দেখতে পাওয়া যায় তাদের উত্তরসূরীদের বসতি ছিল এই ককেশাস (coucasus) নামক স্থানে । জিউস, মোসলেম এবং খ্রিষ্টানদের মতে এ স্থানেই ছিল স্বর্গের উদ্যান এটি হল আব্রাহামের বসতভূমি । যেটিকে ইন্দো ইউরোপীয়ান ককেশিয়ানদের পিতৃভূমি হিসেবে মনে করা হয় । তৈত্তিরীয় (Aitareya) উপনিষদে এ বিষয়ে বলা হয়েছে । ব্রহ্মার পুত্র মরিচীর পুত্র ছিল কশ্যপ মুনি । ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে কশ্যপ মুনি ইন্দো-ইউরোপীয়ানদের পিতা হয়েছিলেন । এসমস্ত ইন্দো-ইউরোপীয়ানদের কিছু পৃথিবীর পশ্চিমে গেল আর কিছু গেল পূর্বে । কশ্যপ মুনি স্বয়ং ক্যাসপিয়ান সাগরের নিকটে ধ্যান মগ্ন হয়ছিল । যার বর্তমান নামকরণ অর্থাৎ ক্যাসপিয়ান সাগর ঐ কশ্যপ মুনির নামেই নামকরণকৃত ।

 সূর্যদেব বিবস্বান ছিলেন কশ্যপ মুনির পুত্র যার স্ত্রী ছিলেন অদিতি । সূর্যদেবের অস্থিত্ব যে পশ্চিমা দেশেও ছিল তার প্রমাণ এখন পৃথিবীর অনেক স্থানে সূর্যদেবতাকে পূজার প্রচলন । কশ্যপ মুনি এবং দিতি থেকে সৃষ্ট দৈত্যরা তখন ইউরোপ জুড়ে বিস্তার লাভ করেছিল । বর্তমানের টাইটানস (Titans) এবং টিউটনস (Teutons) ডাচ এবং ডিউটস্চল্যান্ড (Deutschland) এ নামগুলো দেয়া হয়েছে ‘দৈত্য’ শব্দ থেকে । এ থেকে দৈত্যদের অবস্থান যে একসময় ছিল তার প্রমাণ মেলে । ব্রহ্মার আরেক পুত্র অত্রি থেকে সোম বা চন্দ্র হয় । চন্দ্রের পুত্র বুদ্ধের পুত্র ছিল পুরুরভ । এভাবে বংশানুক্রমে আয়ু নহুম এবং পরে যথাতির জন্ম হয় । যথাতির পাঁচ সন্তান ছিল । ‘যদু’ থেকে বেড়ে উঠে যদুবংশ যেখানে কৃষ্ণ বলরাম আবির্ভূত হয় এবং পুরু থেকে বেড়ে উঠে পুরুবংশ (যে বংশে কৌরব এবং পান্ডবরা জন্মেছিল) যারা হল ভীষ্ম, ধৃতরাষ্ট্র, অর্জুন, যুদিষ্টির, ভীম, দূর্যোধন এবং মহারাজ পরিক্ষিত জন্ম নেয় । পুরু তখন বর্তমান মিশর স্থানটি পেয়েছিলেন তার রাজ্যের শাসনভার হিসেবে । পুরুর পুত্র ছিল প্রভির এবং প্রভিরের পুত্র ছিল মানুষ্য (Manasyu) যাকে মেনেস নামে ডাকা হত । যিনি পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের মতে মিশরের প্রথম বংশের প্রতিষ্ঠাতা ।

পুরুর বংশ এভাবে ফারাও রাজা পর্যন্ত অতিবাহিত হয়েছিল । মিশরকে অজপতি নামে নামকরন করা হয় । এই অজ জাতের পুত্র ছিল অজপতি । অপরদিকে অজ ছিল ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের পিতামহ রামচন্দ্র আবির্ভূত হয়ছিল সূর্যবংশে, সূর্যদেবের আরেক নাম রবি । ‘র’ তখন মিশরে সূর্য বংশের একটি শাখার অন্তর্গত ছিলেন । সেখানকার রাজা হলেন রামেস । যেটি রাম-ইস ভগবান শ্রী রামচন্দ্র থেকেই নামকরণকৃত । পান্ডব পরিবারবর্গও একসময় মিশর এবং ইউরোপে এসেছিল যা এখন সাগরে নিমজ্জিত হয় । এভাবে পিরামিডের গায়ে বৈদিক সংস্কৃতির ছোঁয়া এখনও দেখতে পাওয়া যায় তার বিবরণ আমি পরবর্তী পোষ্টে দিব ।

পরবর্তীতে তারা বর্তমানের ইসরাইলে গমন করে । যেটিকে বিশ্লেষন করলে দাঁড়ায় ইশ্বরাভলয় (ভূমি) তার অর্থ ইশ্বরের বাসস্থান । সুতরাং ইসরাইল ও তখন বৈদিক সংস্কৃতির সুরে নামকরণকৃত হয়েছিল ।

যযাতির তিনজন পুত্র বর্তমান ভারতের বাইরে যে দুটি রাজ্য পেয়েছিল সেগুলো হল তুর্কি এবং তুর্বাসা । যবনরা পেয়েছিল তুর্কি এবং তুর্বাসা পেয়েছিল ফার্সিয়া ইত্যাদি । মহাভারত অনুসারে (আদিপর্ব ৮৫.৩৪) তুর্বাসা দুর্যোধনের হয়ে কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছিল । অপরদিকে অনু পেয়েছিল গ্রীক এবং ইতালী । পরশুরামের বংশদূতরাও একসময় মিশরের রাজা ছিলেন । পরশুরাম ও যদু বংশজাত যাদের কিছু ইউরোপ এবং এশিয়াতেও এসেছিল । এর পরবর্তীতে বৈদিক সংস্কৃতির প্রধান নীতি বর্ণাশ্রম ধর্ম বিভিন্ন কারনে হারিয়ে যায় । মহাভারত (আদিপর্ব ১৭৪.৩৮) অনুসারে ভীম এবং সহদেব পুলিন্দ (গ্রীকদের) জয় করেছিল কেননা তার ধর্ম পরিত্যাগ করেছিল এর বাইরেও বিভিন্ন দেশে বর্তমান ক্ষেত্রেও সংস্কৃতির ব্যবহারটাও অপরিসীম ।

বর্তমান ‘নরওয়ে’ দেশটির নাম সংস্কৃত শব্দ ‘নরক’ থেকে এসেছে । ‘সোভিয়াত’ এসেছে ‘শ্বেত’ থেকে । ‘রাশিয়া’ ‘ঋষি’ থেকে এসেছে, এভাবে সাইবেরিয়া শব্দটিও সংস্কৃত থেকে আগত । ‘স্ব্যান্দিনাভিয়া’ ‘স্কন্দ’ থেকে এসেছে । যিনি দেবতাদের প্রধান কমান্ডার হিসেবে ছিলেন । (Viking এবং king) শব্দ দুটি এসেছে সিংহ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে যে বৈদিক সংস্কৃতির বিদ্যমান ছিল তার প্রমাণ ইউরোপ জুড়ে আবিষ্কৃত কৃষ্ণ, শিব, সূর্যদেব সহ আরও বিভিন্ন মূর্তি । একসময় দেবতা এবং অসুরদের সঙ্গে প্রায় বার বার যুদ্ধ হয়েছিল । পরে ককেশাসের পূর্বদিক দেবতাদের এবং পশ্চিম দিক অসুরদের দেয় । কিছু অসুর সেখানে অবস্থান করেছিল । ময়দানব তখন অসুরদের রাজ ছিলেন । তার স্থায়ী বসতি ছিল আলাতল লোক (ভূমন্ডলের ১০,৮৮,০০০ কি.মি. দক্ষিনে) যেখানে ফ্লায়িং সসার নির্মিত হয় ।

ময়দানবের অনুসায়ী মগরা তাদের সেই বসতির স্থানকে ‘অমরক’ (Amaraka) নামে ডাকত । কেননা অসুরেরা প্রয়ই মনে করে মূত্যু তাদের কিছুই করতে পারবে না । তাই তারা তাদের মাতৃভূমিকে স্বর্গ মনে করত । আর এজন্যই এই নাম পরবর্তীতে আমেরিগো ভেসপুচ্চি (Amerigo vespucci) এটিকে বর্তমানে আমেরিকা নামে পুনস্থাপন করে । এভাবে বংশগত দিক বিবেচনা করলে আমরা সবাই শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের গোত্রের অন্তর্ভুক্ত । কেননা ব্রহ্মা উৎপত্তির উৎস তাই বলে । আর এ সমগ্র পৃথিবী যে একদম পুরোটাই ভারতবর্ষ ছিল তারও প্রমান খুব সহজেই পাওয়া যায় শাস্ত্র থেকে । উপরোক্ত গবেষণামূলক প্রতিবেদন থেকে অনেক গবেষকগণ স্বীকার করতে এখন আর দ্বিমত করে না ।

(বিঃ দ্রঃ- এই প্রতিবেদনটি ছাপা হয় টাইম ম্যাগাজিন ও হিন্দু নিউসে……… তার বঙ্গানুবাদটি এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরা হল ।)
http://www.gauranga.org/vedic.htm

Written by :  Sankirtan Madhab Das
Share:

আফগানিস্তানে শকুনি মামার রাজ্য

বাংলা ব্যাকরণের বাগধারায় একটি শব্দের সাথে আপনারা নিশ্চয়ই পরিচিত থাকবেন । ‘শকুনি মামা’ যার অর্থ
‘কুটবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি’ । কিন্তু শকুনি মামার বাগধারায় এর অর্থ কুটবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি দেয়ার নিশ্চয় একটি কারণ রয়েছে । কেননা সনাতন ধর্মের অন্যতম শাস্ত্র মহাভারতে এ শকুনি মামার কুটবুদ্ধিতার কারনে পুরো মহাভারত এতটা সম্প্রসারিত রূপ ধারণ করে । এই কুটবুদ্ধিসম্পন্ন শকুনি মামাকে মহাভারতের প্রধান চরিত্র হিসেবেও আখ্যা দেয়া হয় । নানা রকমে কুটিলতায় ভরপুর এ শকুনি মামার ভাবার্থ তাই বাগধারায় কুটবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় । তবে আশ্চর্য হলেও সত্য যে, একাধিক প্রামাণিকতা থাকা সত্ত্বেও মহাভারতের এই কাহিনীসমূহকে অনেকেই বিশ্বাস করতে নারাজ হয় । ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহাভারতের অভূতপূর্ব লীলাবিলাস স্থানসমূহ এখনও ভারতের বিভিন্ন স্থানে মহাতীর্থ হিসেবে শোভা পাচ্ছে । মহাভারতে উল্লেখিত শকুনি মামার রাজ্য ছিল এখনকার আফগানিস্তানে ।

আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরটিই শকুনি মামার রাজ্য ছিল । শুধু তাই নয় আফগানিস্তানে এখনও পর্যন্ত মহাভারত সময়কালীন অনেক প্রাচীন হিন্দু মন্দির অবস্থিত । পূর্বে আফগানিস্তান শাসন করত হিন্দু শাহী রাজারা । তারা দশম শতাব্দী পর্যন্ত এই সনাতন ধর্মকে টিকিয়ে রেখেছিলেন । কিন্তু পরবর্তীতে ইসলামের অভ্যুথানের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ঐ দেশের প্রধান ধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্ম স্বীকৃতি লাভ করে । দেশটিতে এখনও পর্যন্ত অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বাস করে । যাদের অনেকেই বংশগত পরম্পরায় এখনও পর্যন্ত টিকে রয়েছে । তবে মূলত মুসলমান প্রধান দেশ হওয়ায় এসব সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সনাতন ভাবধারা টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় রত ।

 আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইস্কনও সনাতন ধর্মের অতি প্রাচীন সংস্কৃতি কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করার প্রয়াস চালাচ্ছে । সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকাংশই বাস করে আফগানিস্তানের কাবুল এবং কান্দাহারে । হিন্দু শাহী রাজাদের আমলে ‘কাবুল’ ছিল তখন প্রধান রাজধানী । বৈদিক সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে তখন শাহী রাজাদের আমলে প্রচলিত স্বর্নের দিনারে দেবাদিদেব শিবের মনোগ্রাম স্থাপিত ছিল । শাহী রাজা কিংগালের আমলে ৫ম শতাব্দিতে স্থাপিত শ্রী গণেশের মূর্তিও অবস্থিত যেটি আফগানিস্তানের গার্ডেজে দেখতে পাওয়া যেত । তবে এখন মূর্তিটি কাবুলের দার্গ পীর রঞ্জন নাথ নামক স্থানে স্থাপিত রয়েছে । যদিও মূর্তির বিভিন্ন অংশ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে । এই স্থানটিতেও অনেক হিন্দু মন্দির রয়েছে । কান্দাহারের শিখাপুর বাজার, কাবুলি বাজার, যাম্পীর সাহীব এবং দেবী দেওয়ার, চাসমা সাহীব, সুলতানপুর, জালালাবাদ, ঘজনী, হেলমান্ত(লম্বারগ) এবং কুন্তজ নামক আঞ্চলেও অনেক প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের নিদর্শন পাওয়া যায় । আফগানিস্তানের এসব প্রাচীন নিদর্শনসমূহ ও শকুনি মামার রাজ্যের প্রাচীন সংস্কৃতিসমূহ থেকে আমাদের এটি উপলব্ধি করতে বাধ্য করে যে, সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি বহু প্রাচীন এবং মহাভারতের কাহিনীসমূহ কাল্পনিক নয় বরঞ্চ চির শাশ্বত ও বাস্তব । যার প্রমাণ আফগানিস্তানের এ নিদর্শনসমূহ ।



Written by : Sankirtan Madhab Das
Share:

২২ মার্চ ২০১৬

মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

‘মহাভারতের কথা অমৃত সমান, চাদঁ সওদাগর ভনে শুনে পূণ্যবান’। বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে এই কথাটা শোনেনি এমন মানুষ কদাচিৎ পাওয়া যাবে না। সেটা বুঝেই হোক না আর না বুঝেই হোক। যদিও আজ আমাদের আলোচনার বিষয় মহাভারতের বানী কিংবা চাঁদ সওদাগরের কাহিনী নয়। উপরন্তু, মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুত্র প্রদ্যুম্ন প্রতিষ্ঠা করেন সাইবেরিয়া স্রামাজ্র্য ।
See details : http://www.indiadivine.org/krishnas-son-pradyumnas-city-in-por-bajin-siberia/



গান্ধার: মহাভারতের শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম শহর গান্ধার। মহাভারতের বর্ননার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, এই শহরটি সিন্ধু প্রদেশের সিন্ধু নদীর পশ্চিমতীরে অবস্থিত। মহাভারতের ধৃতরাষ্ট্রের স্ত্রী ছিলেন গান্ধার শহরের রাজা সুবলের কন্যা গান্ধারী। আর গান্ধারীর ভাই শকুনী ছিলেন দুর্যোধনের মামা, যিনি পান্ডবদের শঠতার মাধ্যমে পরাজিত করেছিলেন। অথবা বলা ভালো, তার কারণেই মহাভারতের যুদ্ধের সূচনা।



তক্ষশীলা: মহাভারতের সময়কার অপর এক বিখ্যাত শহর তক্ষশীলা। গান্ধার দেশের রাজধানী ছিল এই শহর। বর্তমানে পাকিস্তানের রওয়ালপিন্ডিতেই ছিল ওই শহরের অবস্থান। মহাভারতের যুদ্ধের পর পান্ডবরা যখন হিমালয়ের দিকে যাত্রা শুরু করে তখন রাজা হিসেবে পরীক্ষিতের অভিষেক হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি সাপের কামড়ে মারা যান। আর বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পরীক্ষিতের সন্তান জনমেজয় তক্ষশীলার দিকে নাগরাজকে পাঠান এবং সেই নাগরাজের আক্রমনে অনেক সাপ মারা যায়।



মাদরা দেশ: হিমালয়ের উত্তরের দেশকে বলা হতো মাদরা দেশ। আতরাই ব্রাহ্মনদের মতে, হিমালয়ের এই অংশকে তৎকালীন সময়ে বলা হতো উত্তরকুরু। সেসময় মাদরা দেশের রাজা ছিলেন শল্য। তারা বোন মাদরির বিয়ে হয় পান্ডুর সঙ্গে। সহদেব এবং নকুল ছিলেন মাদরির সন্তান। বর্তমানে নেপাল এবং ভারতের একাংশই হলো সাবেক মাদরা দেশ।




উজ্জয়নী: বর্তমান ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাবেক নাম ছিল উজ্জয়নী। উত্তরপ্রদেশের নৈনিতাল জেলার কাশিপুরের নিকটেই ছিল প্রাচীন উজ্জয়নী শহর। এই শহরেই গুরু দ্রোনাচার্য তার শিষ্য পান্ডবদের ধর্নুবিদ্যায় পারদর্শী করেছিলেন। কুন্তীর সন্তান ভীম এই শহরে শিবের মুর্তি স্থাপন করেছিলেন বলে এই শহরকে ভীমশঙ্কর নামেও ডাকা হতো।



শিবি দেশ: ভারতের উত্তরের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ পাঞ্জাবই হলো মহাভারতের শিবি দেশ। এই শহরের রাজা ঊষীণারের নাতি দেবিকার সঙ্গে যুধিষ্ঠিরের বিয়ে হয়েছিল। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় পান্ডবদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ঊষীণারের সন্তান শৈব।


  বানগঙ্গা: ভারতের প্রাচীন নগর হরিয়ানাই হলো মহাভারতের বানগঙ্গা। কুরুক্ষেত্র থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহর। এখনও ভারতের তীর্থস্থান সম্বলিত স্থানগুলোর মধ্যে হরিয়ানা অন্যতম। প্রাচীন ভারতের রীতি-কৃষ্টি ইত্যাদির ছিটেফোটা এখনও হরিয়ানায় পাওয়া যায়। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন।




হস্তিনাপুর: উত্তরপ্রদেশের একটি বিখ্যাত স্থানের নাম মেরুত। আর এই মেরুতই ছিল মহাভারত আমলের হস্তিনাপুর। কৌরব এবং পান্ডব উভয়েরই রাজধানী ছিল হস্তিনাপুর। এই শহরকে কেন্দ্র করে অনেক ঘটনা জন্ম হয়েছিল তৎকালীন সময়ে। যুদ্ধের দামামা থেকে শুরু করে যুদ্ধ পরবর্তী অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে শহরটি।





ইন্দ্রপ্রস্থ: পান্ডবদের হাতে প্রতিষ্ঠিত শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শহরের নাম ইন্দ্রপ্রস্থ। খান্ডব বন ধ্বংস করে এই শহরটি তৈরি করা হয়েছিল। পান্ডবদের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এই শহর থেকে পরিচালিত হতো। এমনকি এখনও নয়াদিল্লির একটি স্থানের নাম আছে ইন্দ্রপ্রস্থ। আর সাবেক ইন্দ্রপ্রস্থ হলো বর্তমানের দিল্লি।










Share:

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০১ ( গান্ধার )

আজ থেকে নিয়মিত পরিচয় করিয়ে দিব আপনাদের প্রাচীন সেই সব শহর ও জায়গাগুলো এবং সেগুলোর বর্তমান ভৌগলিক অবস্থান যেগুলোর কথা উল্লেখ ছিল ‘মহাভারতে’’এবং ৫০০০ খ্রিস্টপূর্ব  হতে ১০০০ খ্রিস্টপূর্ব  সময়কার ।

গান্ধার ( বর্তমনে সিন্ধু প্রদেশ, রাওয়ালপিন্ডি, উত্তর পাকিস্থান ও আফগানিস্তানের কান্দাহার ):

প্রাচীন গান্ধার রাজ্যের ভগ্নাবশেষ
এটি একটি সুপ্রাচীন পৌরনিক শহর মহাভারতের সময়কার । এটি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সিন্ধু নদীর পশ্চিমে এবং আফগানিস্তানের কান্দাহার অবস্থিত । ধৃতরাষ্টের স্ত্রী গান্ধারী ছিল গান্ধার রাজ্যের রাজা সুবলের কন্যা । গান্ধারীর ভাই শকুনি ছিল দূর্যোধনের মামা । দুর্যোধনকে তিনি নানান কুবুদ্ধি দিতেন। কালকূট বিষ প্রয়োগ করে ভীমকে হত্যা, জতুগৃহে কুন্তি সহ পাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারা,ইত্যাদি ষড়যন্ত্রে শকুনির সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সে ছলের আশ্রয় নিয়ে পান্ডবদের পাশা খেলায় হারিয়ে সবকিছু কেড়ে নিয়ে বনবাসে পাঠিয়েছিল । তার এই জালিয়াতির কারনেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সুত্রপাত ঘটে । যুদ্ধ শুরু হবার আগে শকুনির পুত্র উলুক দুর্যোধনের দূত হিসেবে দুর্যোধনের শিখিয়ে দেওয়া অভদ্র অশ্লীল কথাগুলো পাণ্ডব পক্ষকে গিয়ে শোনালেন। সহদেব সেই শুনে ক্রোধান্বিত হয়ে শপথ করলেন যে, শকুনির সামনে প্রথমে উলুককে হত্যা করে,তারপর তিনি শকুনিকে বধ করবেন। যুদ্ধের শেষ দিনে সহদেবের হাতেই শকুনি-পুত্র উলুক ও শকুনির মৃত্যু হয়।


মহাভারতের সময়ের ভারতবর্ষ

আফগানিস্তানে এখনও পর্যন্ত মহাভারত সময়কালীন অনেক প্রাচীন হিন্দু মন্দির অবস্থিত । পূর্বে আফগানিস্তান শাসন করত হিন্দু শাহী রাজারা । তারা দশম শতাব্দী পর্যন্ত এই সনাতন ধর্মকে টিকিয়ে রেখেছিলেন । কিন্তু পরবর্তীতে ইসলামের অভ্যুথানের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ঐ দেশের প্রধান ধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্ম স্বীকৃতি লাভ করে । দেশটিতে এখনও পর্যন্ত অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বাস করে । যাদের অনেকেই বংশগত পরম্পরায় এখনও পর্যন্ত টিকে রয়েছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকাংশই বাস করে আফগানিস্তানের কাবুল এবং কান্দাহারে । হিন্দু শাহী রাজাদের আমলে ‘কাবুল’ ছিল তখন প্রধান রাজধানী । 





বৈদিক সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে তখন শাহী রাজাদের আমলে প্রচলিত স্বর্নের দিনারে দেবাদিদেব শিবের মনোগ্রাম স্থাপিত ছিল ।

শাহী রাজা কিংগালের আমলে ৫ম শতাব্দিতে স্থাপিত শ্রী গণেশের মূর্তিও অবস্থিত যেটি আফগানিস্তানের গার্ডেজে দেখতে পাওয়া যেত । তবে এখন মূর্তিটি কাবুলের দার্গ পীর রঞ্জন নাথ নামক স্থানে স্থাপিত রয়েছে । যদিও মূর্তির বিভিন্ন অংশ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে । এই স্থানটিতেও অনেক হিন্দু মন্দির রয়েছে । কান্দাহারের শিখাপুর বাজার, কাবুলি বাজার, যাম্পীর সাহীব এবং দেবী দেওয়ার, চাসমা সাহীব, সুলতানপুর, জালালাবাদ, ঘজনী, হেলমান্ত(লম্বারগ) এবং কুন্তজ নামক আঞ্চলেও অনেক প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের নিদর্শন পাওয়া যায় । 


পাকিস্থান ও আফগানিস্তানের এসব প্রাচীন নিদর্শনসমূহ ও শকুনি মামার রাজ্যের প্রাচীন সংস্কৃতিসমূহ থেকে আমাদের এটি উপলব্ধি করতে বাধ্য করে যে, সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি বহু প্রাচীন এবং মহাভারতের কাহিনীসমূহ কাল্পনিক নয় বরঞ্চ চির শাশ্বত ও বাস্তব । যার প্রমাণ পাকিস্থান ও আফগানিস্তানের এ নিদর্শনসমূহ ।











ছবি কৃতজ্ঞতায়ঃ নিরঞ্জন হাওলাদার
Share:

১২ জুলাই ২০১৫

সনাতন ধর্ম ও শ্রীলঙ্কা ( সবাই পড়ুন ও শেয়ার করুন )



ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপদেশ হচ্ছে শ্রীলঙ্কা যার অস্তিত্তের কথা পাওয়া যায় আমাদের রামায়নে। রামায়ণের -লঙ্কা কাণ্ডে ভারত ও শ্রী লঙ্কার মাঝে যে রাম-সেতুর কথা উল্লেখ আছে সম্প্রতি আর্কিওলজিস্টরা স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে তার অস্তিত্তের প্রমান পেয়েছেন। এই শ্রীলঙ্কাতে সর্ব-প্রথম সনাতন ধর্মের পদচিহ্ন পড়ে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০ শতকে যখন তৎকালীন ভারতবর্ষ থেকে বিজয় নামে একজন আর্য তার ৭০০ অনুসারী নিয়ে সেখানে গমন করেন। বিজয় ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রথম রাজা।
অনেক ঐতিহাসিকদের হতে, এই বিজয়ের আদি নিবাস ছিল আজকের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার সিঙ্গুরে । পরবর্তীতে নানা সময়ে ভারতবর্ষ থেকে নানা সময়ে হিন্দুরা সেখানে যান এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। শ্রীলঙ্কার অদিকাংশ হিন্দুই জাতিগত ভাবে তামিল সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত এবং অধিকাংশ তামিল শ্রীলংকাতে আসে উপমহাদেশের ব্রিটিশ শাসনামলে বিভিন্ন শ্রমজীবী কাজের শ্রমিক হয়ে।
শ্রীলংকার প্রধান ধর্ম বৌদ্ধ যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০% এবং তারা জাতিগতভাবে সিংহলি। বর্তমানে হিন্দুরা শ্রীলঙ্কার ২য় বৃহত্তম ধর্ম যাদের সংখ্যা ২০১২ সালের তথ্য অনুযায়ী ২৫ লক্ষের কিছু বেশী এবং মোট জনসংখ্যার ১৩ %। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মত শ্রীলঙ্কাতেও হিন্দু জনসংখ্যা কমছে । ১৭ শতকে পর্তুগিজ ও পরে ব্রিটিশরা শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যার একটি অংশকেই জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করে যার মধ্যে বড় একটি অংশই ছিল হিন্দু তামিল শ্রমিকরা।
তবে প্রধান কারণ কয়েক দশক ধরে চলে আসা সিংহলি ও তামিলদের মধ্যে জাতিগত সংঘাত। এই সংঘাত এর শুরু তামিলদের উপর সিংহলিদের আগ্রাসি মনোভাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের থেকে। তামিলরা সংখ্যায় কম হলেও শুরু থেকেই তারা তাদের প্রখর মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তির জোরে সবসময় সিঙ্ঘলিদের থেকে এগিয়ে ছিল, যেকারনে একদিন শ্রমিক হয়ে আসা তামিল হিন্দুরা যখন দেশের বড় বড় ক্ষেত্রে অবদান রাখতে শুরু করল, তখনি সিংহলিদের জাতিয়তাবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল । বিবিসি নিউজ এর তথ্য অনুযায়ী ১৯৫৬, ১৯৫৮ সালে বিভিন্ন তামিল বিরোধী দাঙ্গায় শত শত তামিলকে হত্যা করা হয়, নিখোঁজ হয় কয়েক হাজার তামিল , রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করা হয় তামিলদের প্রতি অসংখ্য বৈষম্যমূলক নীতি।
অবশেষে নির্যাতনে নিপীড়িত তামিলরা নিজেদের অস্তিত্তের জন্য বেছে নেয় পাল্টা সংঘাত এর পথ। ১৯৭৬ সালে আলাদা তামিল রাষ্ট্রের দাবিতে সংগঠিত হয় Liberation Tigers of Tamil Eelam (LTTE), সেই থেকে গৃহযুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে তামিলদের সাথে সিংহলি সরকারের সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য নিরীহ মানুষ। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপ্রধান মহিন্দর রাজপাকসে ভারতের কংগ্রেস সরকারের সহায়তায় (নিরব সমর্থনে) LTTE এর উপর এক বড় সামরিক অভিযান শুরু করে, যাতে LTTE প্রধান প্রভাকরণ ভেলুপিল্লাই এর মৃত্যুর মাধ্যমে LTTE পরাজিত হয়। তবে LTTE না, শ্রীলংকা সরকারের আসল উদ্দেশ্য ছিল তামিলদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যে সত্য উলঙ্গভাবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ।
যুদ্ধের শেষ দিকে শ্রীলংকার সেনাবাহিনী যেভাবে হাজার হাজার নিরীহ তামিল নারী শিশুকে হত্যা করেছে তা ইহুদিদের উপর জার্মানিতে হিটলারের নারকীয় তাণ্ডবের চেয়ে কোন অংশে কম না। World Bank Population Data অনুযায়ী ২০০৯ সালের যুদ্ধের পর শ্রীলঙ্কায় ১ লাখেরও বেশী তামিল নিখোঁজ রয়েছে যাদের বেশিরভাই ধারনা করা হয় হত্যা করে গনকবর দেয়া হয়েছে । অসংখ্য তামিল শিশুকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে, ব্রিটেনের Channel 4 এর সংবাদে শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধাপরাধের এক প্রামাণ্যচিত্রে দেখানো হয় একটি ভিডিও ফুটেজ যেখানে দেখা যায় সিংহলি ভাষায় আলাপরত কিছু uniformed শ্রীলঙ্কান সেনাবিহিনির সদস্য হাত-পা-চোখ বাধা নিরীহ তামিলদের গুলি করে হত্যা করছে।
আমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন সহ অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান শ্রীলংকা সরকারকে এই যুদ্ধঅপরাধের সঠিক তদন্তপূর্বক শাস্তি দাবি করলেও শ্রীলঙ্কা সরকার তা অস্বীকার করে আসছে , আর আমাদের ভারতের কংগ্রেস সরকার তো মুখে একদম তালা দিয়ে রেখেছে তবে তাই বলে সত্য চাপা থাকেনি, তামিলদের উপর বুদ্ধের শান্তিপ্রিয় সৈনিকদের এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কানাডা, আমেরিকা, ব্রিটেন সহ বিভিন্ন দেশে এর প্রতিবাদ হয়েছে। উল্লেখ্য হিন্দুদের মধ্যে তামিলরা বিপুল সংখ্যায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে আর তারা ধর্মের Ethnicity রক্ষার ব্যাপারে অনেক সচেতন। আমাদের মত তথাকথিত "সেকুলার" না। যারা তামিল সিনেমা দেখেন তারা এ বিষয়টা খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই। তবুও নিকট প্রতিবেশী ভারতের নিরব সমর্থনে শ্রীলংকা সরকার সাহস পেয়েছে তামিলদের উপর এমন নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানোর।
The International Policy Digest এবছর জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা সরকারের একটি গোপন নথি প্রকাশ করে যাতে রাজপাকসে সরকার তামিল অধ্যুষিত এলাকার সব মন্দির ও ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল এবং সে অনুযায়ী ৩৬৭ টি হিন্দু মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। যার মধ্যে শুধু জাফনাতেই ২০৮ টি মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। যাই হোক, এসবের পরেও শ্রীলাঙ্কাতে এখনও বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির রয়েছে যার মধ্যে Nainativu Nagapooshani Amman Temple ও Nallur Kandaswamy temple (৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত) উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি কলম্বতে নির্মিত হয়েছে Ponnabalvaneswarm temple নামে বড় একটি মন্দির । এছাড়া শ্রীলঙ্কাতে তামিল হিন্দুদের অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার মধ্যে Jaffna Hindu College অন্যতম। আলোচিত হিন্দু ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন, বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেটার Muttiah Muralitharan যিনি ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী উইকেট শিকারি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত তামিল হিন্দুদের ভবিষ্যৎ কি তা আজ সবার প্রশ্ন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শ্রীলঙ্কা সরকার তামিলদের কল্যাণে কিছু লোক দেখানো পদক্ষেপ নিলেও, তাদের আসল অবস্থার কোন উন্নতি হবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই আজ তাদের জন্য এটাই প্রার্থনা, ভগবান তাদের সহায় হন, আর ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি ভুলে, ভারত সরকার তাদের কল্যাণে কিছু করুক।
## লিখেছেন শ্রী মিহির সেীরভ
----------------------------------------
লেখাটি পড়ার পর আপনার মন্তব্য আশা করছি
Share:

অস্ট্রেলিয়াতে সনাতন ধর্মের পদচিহ্ন

অস্ট্রেলিয়াতে প্রথম কোন সনাতন ধর্মাবলম্বীর পদচিহ্ন পড়ে ১৭৮৮ সালে যখন ভারতবর্ষ থেকে কয়েকজন নাবিক একটি জাহাজ নিয়ে সেখানে যান বাণিজ্যের উদ্দেশে । এরপর বিভিন্ন সময়ে ভারতবর্ষ থেকে হিন্দুরা অস্ট্রেলিয়াতে গমন করলেও ১৯২১ সাল পর্যন্ত তাদের সংখ্যা ২০০০ জনের কিছু বেশী ছিল। তবে বর্তমানে ২০১১ সালের census ডাটা অনুযায়ী বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসরত হিন্দুর সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ যা ২০০৬ সালে census ডাটা অনুযায়ী ১.৫ লক্ষ ছিল। অর্থাৎ বিগত ৫ বছরে হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় ২০০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সবচেয়ে আনন্দের কথা হচ্ছে "সনাতন ধর্ম" বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম।
এখানেই শেষ নয়, হিন্দুরা অস্ট্রেলিয়াতে সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে যথেষ্ট শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে বলে তাদের আলাদা সুনাম আছে সেখানকার সমাজে। বর্তমান সময়ের অস্ট্রেলিয়ান হিন্দুরা শিক্ষা-দিক্ষা, চাকুরী, বাণিজ্য, তথ্য- প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানে অন্য যেকোনো অভিবাসী সম্প্রদায়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে এবং এজন্য হিন্দুদের অস্ট্রেলিয়াতে "Model Minority Society" বলা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে শতকরা ৬০ জন হিন্দুর অস্ট্রেলিয়াতে কমপক্ষে ব্যাচেলর / মাস্টার্স ডিগ্রী রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রফেসনাল সার্ভিস পদে অস্ট্রেলিয়তে সবচেয়ে বেশী হিন্দু কর্মরত।
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব সমুদ্রতীর ঘেঁষা মেলবোর্ন , সিডনি শহর ও এর আশেপাশেই অধিকাংশ হিন্দুর বসবাস। ১৯৭৭ সালে তিন জন ভক্ত মিলে ১২ হাজার ডলার এ একটি বাড়ি কিনে "Sri Mandir Temple" নামে অস্ট্রেলিয়াতে প্রথম হিন্দু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে অসংখ্য হিন্দু মন্দির রয়েছে যার মধ্যে, Shri Shiva Vishnu Temple, Sri Venkateswara Temple (SVT), Lord Shiva Temple, Sydney Murugan Temple, Sri Karphaga Vinayakar Temple উল্লেখযোগ্য।
"The Hindu Council of Australia" একটি সামাজিক সংগঠন যা অস্ট্রেলিয়াতে বিভিন্ন ছোট-বড় হিন্দু সংগঠনের মধ্যে একতা সাধন করে এবং অস্ট্রেলিয়ান হিন্দুদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের প্রয়োজনীয় করনীয় সরকারের কাছে পেশ করে থাকে। এছাড়া Adelaide, Sydney ও Melbourne এ ISKCON এর বিভিন্ন সেবামূলক অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে পালন করা হয়ে থাকে। "Hindu Youth Council of Australia (HYCA)" হিন্দু যুবসমাজের কল্যাণে নিবেদিত একটি সংগঠন । সবমিলিয়ে বলা যায়, অস্ট্রেলিয়াতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস এর জন্য খুবই অনুকুল এক পরিবেশ বিদ্যমান যে কারণে আজ তারা "FASTEST GROWING RELIGION OF AUSTRALIA"
ছবিঃ Sri Venkateswara Temple Helensburgh
লিখেছেন মিহির সেীরভ
Share:

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪

ব্র্রাজিল – আর্জেন্টিনার এক মধুর মিলন


ফুটবল জগতে বর্তমানে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা পরস্পরের শত্রু হিসেবে মনে করা হয় । অথচ সেই ব্র্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার দ্বৈত প্রচেষ্টায় কিনা ভগবানের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হয় । একেই বলে ভাতৃত্ববোধ বা কৃষ্ণভাবনার শক্তিমত্তা । যে শক্তির ফলে দুটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এ যেন মধুর মৈত্রীর সেতুবন্ধন । এক্ষেত্রে যে শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হয়েছে তা ব্র্রাজিলেই । তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল বিগ্রহদ্বয় মানে শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আগেই আর্জেন্টিনার একটি ফার্মে কিছুদিন অবস্থান করে এরপরই ব্রাজিলে নিয়ে আসা হয় । আর এই বিগ্রহদ্বয় তৈরি হয় ভারতের জয়পুরে । ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের অপূর্ব মনোহর এই বিগ্রহদ্বয় ইতোমধ্যেই সবার মন কেড়ে নিয়েছে । সেই কোমল দুই বাহু সেই নৃত্যরত ভঙ্গিমায় দাড়ানো, মধুর হাসি সবাইকে মনোমুগ্ধ করে রেখেছে । এই বিগ্রহদ্বয় দেখার জন্য ব্রাজিল মন্দিরে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে ।
তবে ব্রাজিলে এই বিগ্রহদ্বয় খুব সহজেই আসেনি । প্রথমদিকে রাশিয়ার ইসকন ভক্তরা এই বিগ্রহ তৈরির জন্য বললে নির্মানের পর তারা মত পাল্টায় । সেই সুযোগে আর্জেন্টিনার রোজিরিওর ভক্তরা বিগ্রহদ্বয় দেখে মুগ্ধ হলে তারা সেগুলো জয়পুর থেকে রোজিরিওতে নিয়ে এসে একটি ফার্ম কমিউনিটিতে রাখা হয় । হঠাৎ ব্রাজিলে ধনবনতরী স্বামী একসময় স্বপ্নে এই বিগ্রহগুলো দর্শন লাভ করে, যার ফলে তিনি আর্জেন্টিনার ভক্তদের কাছে এই বিগ্রহ চাইলে তা স্থায়ীভাবে ব্রাজিলের কমপিনা গ্রান্ডে নিয়ে আসা হয় । এভাবে শ্রীশ্রী গৌরনিতাই আর্জেন্টিনা হয়ে ব্রাজিলে আসে । উপরের ঘটনা থেকে বোঝা যায় বিগ্রহ স্ব-ইচ্ছায় কোন নির্দিষ্ট স্থানে গমন করেন এবং ভক্তবৃন্দের কাছ থেকে সেবা গ্রহনের অভিলাষ করেন । গত ৩১ অক্টোবর ২০১০ সালে এ বিগ্রহদ্বয়ের শুভ অভিষেক উৎসব উদযাপিত হয় । ঐ দিন দিনব্যাপী হরিনাম কী্র্তনসহ নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, উক্ত অনুষ্ঠানে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ছাড়া বিশ্বের অনেক ভক্ত যোগদান করেন ।
Share:

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩

আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী কার্ল সেগান ও সনাতন ধর্ম

আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী কার্ল সেগান সনাতন ধর্ম
সম্পর্কে বলেনঃ "হিন্দু ধর্ম ই একমাত্র ধর্ম যেখানে,মহাবিশ্বের সৃষ্টি-
ধ্বংসের অসংখ্য চক্রের কথা স্বীকার করা হয়েছে।আর
হিন্দুদের সময়-মান ও আধুনিক সময়-মানের কাছাকাছি।পৃথিবী
র দিবা-রাত্রির চব্বিশ ঘন্টার চক্র থেকে শুরু করে ব্রহ্মার
৮.৬৪ বিলিয়ন বছর ব্যাপি দিবা-রাত্রির চক্রের ধারণা ও
এখানে রয়েছে..যা সূর্য ও চন্দ্রের আয়ুস্কালের চেয়ে বেশি,আর বিগ ব্যাঙ বা বৃহত্ বিস্ফোরণ এর সময়কালের চেয়ে দ্বিগুণ।
এমন কি আরো বড় টাইম -স্কেল এর ধারণা হিন্দু
শাস্ত্রে রয়েছে। হিন্দুরা সৃষ্টিজগত কে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর প্রাচীন
বলে জানে।আশ্চর্যের বিষয় এই যে,এসব আধুনিক
ধারণা হিন্দুরা সেই সময় টাতে করেছিল যখন
খ্রিস্টানরা পৃথিবীর ইতিহাস কে মাত্র হাজার বছরের আর
মায়ান রা পৃথিবীর ইতিহাস কে মিলিয়ন বছর
পুরনো বলে ভেবেছিল।" সত্যি ই আমাদের আছে এক সমৃদ্ধ অতীত আর এক সম্ভাবনাময়
বর্তমান।ভবিষ্যত্ কে আলোকিত করতে আমাদের অতীত ঐতিহ্য
কে পাথেয় করেই এগিয়ে যেতে হবে।
নমস্কার।।
ওঁ শান্তি।।
Courtesy by Dhipika chokroborti
Share:

০৬ জুলাই ২০১৩

পাশ্চাত্য জগতে ভগবান জগন্নাথদেবের রথযাত্রা



পাশ্চাত্য জগতে প্রথম ভগবান জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় আজ থেকে ৩৬ বছর আগে ১৯৬৭ সালে আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে । এই সুন্দর উৎসবটির পূর্ব ইতিহাসও খুব সুন্দর এবং এর শুরুটা হয়েছিল ১৮৭০ এর দিকে । যখন ওড়িষ্যার প্রথম আইন গ্র্যাজুয়েট কেদারনাথ দত্ত যিনি সারাবিশ্বে বর্তমানে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর নামে বিখ্যাত । পুরীর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ডেপুটি কালেক্টর হয়েছিলেন । আর তখন সরকারের পক্ষ থেকে তাকে জগন্নাথ মন্দিরের আনুষাঙ্গিক দেখাশোনার ভার গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানানো হয় । এতে তিনি খুবই খুশি হয়েছিলেন । ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ছিলেন ভগবান শ্রী চৈতন্যমহাপ্রভুর শিক্ষা ও মহিমা প্রচারের অগ্রদূত ।

Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।