• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

পূজা পার্বন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পূজা পার্বন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০৫ মে ২০২২

সাত বারের বার-দেবতা

 একবার তারাপীঠে এক বয়োবৃদ্ধ সাধকের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। আমার লেখা বই -- 'তান্ত্রিক ও তন্ত্রসাধনা' বইয়ের প্রথম ভাগে বেশ ভালোভাবে উপস্থাপনা করেছি। আমি তাঁর কাছে 'কুলকুণ্ডলিনী' সম্পর্কে জানতে চাইলে বৃদ্ধ সাধক বললেন -- শোন তবে। কুণ্ডলিনী বলতে গেলে আগে হিন্দুর তেত্রিশ কোটি দেবতা নিয়ে বলতে হবে। আমি নয়, ঋকবেদ অনুযায়ী ৩৩ জন দেবতা আছেন কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের নামের উল্লেখ নেই। শতপথ ব্রাহ্মণে, মহাভারতে, রামায়ণ ও ঐতরেয় ব্রাহ্মণেও ৩৩ জন দেবতার কথাই বলা আছে।


আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাঁকে প্রশ্ন করলাম -- তাহলে প্রশ্ন হল এই ৩৩ জন কী করে তেত্রিশ কোটিতে পরিণত হল, তার সঙ্গত উত্তরই বা কি?


তিনি বললেন -- ঠিক বলেছ তুমি, তবে ৩৩ জন দেবতার কথা ঠিক ভাবে ঋকবেদে উল্লেখ নেই। কিন্তু, শতপথ ব্রাহ্মণে ও মহাভারতে এদের শ্রেণীবিভাগ ও নাম পাওয়া যায়।


শ্রেণীবিভাগটি হল এই রকম ---- ১২ জন আদিত্য (অংশ, ভগ, মিত্র, জলেশ্বর, বরুণ, ধাতা, অর্যমা, জয়ন্ত, ভাস্কর, ত্বষ্টা, পূষা, ইন্দ্র, বিষ্ণু), ১১ জন রুদ্র (অজ, একপদ, অহিব্রধু, পিণাকী, ঋত, পিতৃরূপ, ত্র্যম্বক, বৃষকপি, শম্ভু, হবন, ঈশ্বর) এবং আটজন বসু (ধর, ধ্রুব, সোম, সবিতা, অনিল, অনল, প্রত্যুষ, প্রভাস)।


'আদিত্য', 'রুদ্র' এবং 'বসু' বিশেষ এক দেবতার নাম নয়, দেবতার জাতি বা শ্রেণীবাচক মাত্র। এ ভাবে আমরা ৩১ জন দেবতার হিসেব পাই; ইন্দ্র ও প্রজাপতি এই দুটি নিয়ে মোট ৩৩ জন হয়। মহাভারতের অনুশাসন পর্বে এঁদের নামোল্লেখ আছে। পৌরাণিক গল্পে ও কথকতায় এরাই তেত্রিশ কোটি হয়েছেন খুব সম্ভবতঃ। এই তেত্রিশ কোটি দেবদেবীই হলেন কুলকুণ্ডলিনীর বা পরমেশ্বরীর বা ঈশ্বরের চালিকাশক্তি।


আমি আগেই বললাম যে হিন্দুধর্মে তেত্রিশ কোটি দেবতা আছেন। কিন্তু, এটা আসলে কতটা ঠিক তা কেউ কখনও যাচাই করেনি। আসলে এটা এতটুকুও যে ভ্রান্ত ধারণা নয়, তার প্রমাণ আপনারা দেখলেন। আসলে এটা সঠিক তথ্য। 'কোটি' শব্দের প্রচলিত অর্থ সংখ্যাসূচক (crore) হলেও সংস্কৃত ভাষায় এর আরেকটি অর্থ হল 'ধরণ' বা 'প্রকার'। তাই তেত্রিশ কোটি দেবতা মানে হল 'তেত্রিশ প্রকার দেবতা'।


তাই হিন্দুধর্মাবলম্বীরা ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপের পূজা করে থাকেন। ঈশ্বরের এই বিভিন্ন রূপগুলিকেই বলা হয় দেবতা -- কারণ এই রূপগুলি হল ঈশ্বরের দিব্য (ধাতু দিব্ ধাতু +ষ্ণ প্রত্যয়) রূপ তাঁর বিভিন্ন গুণাবলী। এই দেবদেবীদের সন্তুষ্ট করার জন্য হিন্দুরা বিশেষ আচার অনুষ্ঠানও পালন করেন।


তবে আপনি কি জানেন যে, হিন্দু পুরাণে সপ্তাহের প্রতিটি দিনও বিভিন্ন ঈশ্বরের প্রতি উৎসর্গ করা হয়? এছাড়া, প্রতিদিন ঈশ্বরের উপাসনা এবং তাদের সন্তুষ্ট করার আলাদা আলাদা আচার, পদ্ধতিও রয়েছে। আসুন, এই বিষয়ে কিছু জেনে নিই।


রবিবার

-------------------

এই দিনটি ভগবান সূর্য-এর প্রতি উৎসর্গিত। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ভগবান সূর্য একটি মহান গুরুত্ব বহন করে। ভক্তরা বিশ্বাস করে যে, ভগবান সূর্য পৃথিবীতে জীবন, স্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধি দান করেন। এছাড়াও, বিশ্বাস করা হয় যে, সূর্য তাঁর ভক্তদের সুস্বাস্থ্য, ইতিবাচকতা প্রদান করে এবং চর্মরোগ নিরাময় করে।

রবিবার ভগবান সূর্যকে পূজা করার আগে প্রথমে আপনার দেহ এবং আপনার চারপাশের জায়গাটি ভালভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ঘর পরিষ্কার করার পরে, খুব সকালে স্নান করতে হবে এবং গায়ত্রী মন্ত্র জপ করার সময় অর্ঘ্য (জল উৎসর্গ) প্রদান করতে হবে। মন্ত্রটি হল - 'ওঁ ভূর্ভুবস্ব তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গোদেবস্য ধীমহি ধীয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ'।

ভগবান সূর্যের উপাসনা করার সময়, কপালে কুমকুম ও লাল চন্দন কাঠের মিশ্রিত পেস্ট লাগান। এই দিনে আপনি উপবাসও করতে পারেন। নিয়মের একটা অংশ হিসেবে, আপনি কেবলমাত্র দিনে একবারই খেতে পারেন, তবে সূর্যাস্তের আগে। খেয়াল রাখবেন যাতে খাবারটিতে রসুন, পেঁয়াজ এবং লবণ থাকে না।

শুভ লাল রঙ ভগবান সূর্যের সাথে সংযুক্ত বলে বিশ্বাস করা হয় তাই, সূর্যের উপাসনা করার সময় লাল পোশাক পরতে পারেন। এছাড়া, ভগবান সূর্যকে আপনি লাল রঙের ফুলও দিতে পারেন।


সোমবার

--------------------

এই দিনটি ভগবান শিব-কে উৎসর্গ করা হয়। শিব-কে ভোলেনাথ নামেও ডাকা হয়। এই দিন ভক্তরা শিবের মন্দিরে যান এবং তাঁর উপাসনা করেন। ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতী মিলে মহাবিশ্বের সৃষ্টির প্রতিনিধিত্ব করেন। ভগবানকে সন্তুষ্ট করতে ভক্তরা প্রায়ই সোমবার উপবাস পালন করে থাকেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, শিব তাঁর ভক্তদের অনন্ত শান্তি, দীর্ঘজীবন এবং স্বাস্থ্যের আশীর্বাদ করেন।

সোমবার ভগবান শিবের উপাসনা করার জন্য খুব সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরুন। গঙ্গাজল এবং ঠান্ডা কাঁচা দুধ দিয়ে শিবলিঙ্গকে স্নান করান। 'ওঁ নমঃ শিবায়' জপ করার সময় শিবলিঙ্গে সাদা চন্দন কাঠের পেস্ট, সাদা ফুল এবং বেল পাতা দিন। ভগবান শিবের বিবিন্ন স্তবস্তোত্রম্ পাঠ করুন। দরিদ্রদের দান করুন -- ভগবান শিব আপনারবপ্তি প্রসন্ন হবেন।

শিব সাদা বর্ণ পছন্দ করেন তাই, আপনি এই দিনে সাদা রঙের পোশাক পরতে পারেন। তবে কালো রঙের পোশাক কখনই পরবেন না কারণ, বিশ্বাস করা হয় যে, ভোলানাথ কালো রঙ পছন্দ করেন না।


মঙ্গলবার

----------------------

এই দিনটি বজরঙ্গবলী হনুমানের প্রতি উৎসর্গিত। দিনটির নামকরণ করা হয়েছে মঙ্গল গ্রহের নামে। হিন্দু পুরাণে, হনুমানকে শিবের অবতার বলে মনে করা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, ভগবান হনুমান প্রত্যেকের জীবন থেকে বাধা ও ভয় দূর করেন। তাই, ভক্তরা এই দিনে ভগবান হনুমানের উপাসনা করেন এবং উপবাসও করেন।

খুব সকালে স্নান করে পরিষ্কার রক্তবর্ণের পোশাক পরতে হবে। ভগবান সূর্যকে অর্ঘ্য অর্পণ করুন এবং হনুমান চালিশা জপ করুন। হনুমান চালিশা জপ করার সময় লাল ফুল প্রদান করুন এবং প্রদীপ জ্বালান। আপনি হনুমানকে সিঁদুরও দিতে পারেন। এছাড়াও, লাল এবং কমলা রঙের ফুলও দিতে পারেন। হনুমানের মন্ত্র -- 'ওঁম্ হং হনুমতে রুদ্রাত্মকায় হুং ফট্' ১০৮ বা ১০০৮ বার জপ করুন। এবার ১০ বার শ্রীরামচন্দ্রের মন্ত্র -- 'শ্রীরাম জয় রাম জয় জয় রাম' জপ করুন।

লাল রঙ ভগবান হনুমানের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। সুতরাং, লাল রঙের পোশাক পরা এবং লাল রঙের ফুল- ফল দেওয়া আপনার জন্য উপকারি হতে পারে।


বুধবার

-------------

বুধ বালক গ্রহ। বুধ গ্রহ আমাদের বুদ্ধি, বিবেচনা, বাক্য, স্বর, ব্যবসা, স্মৃতিশক্তি, খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয়কে প্রভাবিত করে। এই দিনটি বুদ্ধির দেবতা গণেশকে উৎসর্গ করা হয়। তিনি তাঁর ভক্তদের জীবন থেকে নেতিবাচকতা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করেন। কোনও শুভ কাজ শুরুর আগে হিন্দুরা প্রায়ই গণেশের পূজা করে থাকেন।

গণেশের পূজায়, দূর্বা ঘাস, হলুদ এবং সাদা ফুল, কলা এবং মিষ্টি দিতে পারেন। তবে, নৈবেদ্যগুলি একটি পরিষ্কার কলার পাতায় রাখবেন। 'ওঁ গণেশায় নমঃ' জপ করতে পারেন। সিঁদুর ও মোদক (এক ধরণের মিষ্টি) অর্পণ করেও ভগবান গণেশকে সন্তুষ্ট করতে পারেন। কখনই তুলসীপাতার ব্যবহার করবেন না।

ভগবান গণেশ সবুজ এবং হলুদ বর্ণ খুব পছন্দ করেন। অতএব, আপনি এই দিনে সবুজ রঙের পোশাক পরার কথা ভাবতে পারেন।


বৃহস্পতিবার

---------------------

এইদিনটি 'গুরুবার' নামেও পরিচিত এবং ভগবান বিষ্ণু এবং গুরু বৃহস্পতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়। এছাড়া অনেকেই এই দিনে সাঁই বাবাকে পূজা করেন এবং সাঁই মন্দিরে যান। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, গুরু বৃহস্পতি জুপিটার এবং এই দিনটিকে তিনিই চালিত করেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর উপাসনা করলে বৈবাহিক জীবনে সুখ আসে এবং পরিবারের মধ্যে সমস্যাগুলির সমাধান হয়।

ভগবান বিষ্ণু ও বৃহস্পতিকে সন্তুষ্ট করতে আপনি কলা গাছের নীচে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে কলাগাছের কাণ্ডে কুমকুম লাগাতে পারেন। এছাড়াও নারায়ণ দেবের কাছে ঘি, দুধ, হলুদ ফুল এবং গুড় অর্পণ করুন। শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ করাও আপনার পক্ষে অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। আপনি 'ওঁ জয় জগদীশ হরে' বা 'ওঁম্ নমো নারায়ণায়' মন্ত্রও জপ করতে পারেন। এই দিন তারাপীঠে যেতে পারেন বা ঘরে তারামায়ের পূজাও করতে পারেন।

যেহেতু ভগবান বিষ্ণু এবং বৃহস্পতিকে প্রায়শই পীত বা হলুদ রঙের পোশাক পরে থাকতে দেখা যায়, তাই আপনিও এই একই পোশাক পরতে পারেন।


শুক্রবার

-----------------

এটি শুক্রকে উৎসর্গ করা হয় যা দেবী মহালক্ষ্মী, দুর্গা এবং অন্নপূর্ণার প্রতীক। হিন্দু পুরাণে এই তিনটি দেবদেবীর একটি পৃথক তাৎপর্য রয়েছে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, এই দিনে উপবাস করলে এবং এই তিন দেবীর উপাসনা করলে জীবনে সমৃদ্ধি, সম্পদ, ইতিবাচকতা এবং তৃপ্তি আসতে পারে।

ভক্তদের সকালে খুব সকালে উঠে স্নান করা উচিত এবং সাদা ফুল ও নৈবেদ্য উৎসর্গ করে দেবদেবীদের পূজা করা উচিত। গুড়, ছোলা, ঘি এবং দুধজাতীয় পণ্য (দই বাদে) দিতে পারেন। লবণ, রসুন এবং পেঁয়াজ ছাড়া প্রস্তুত খাবার খান। এছাড়াও, সূর্যাস্তের পরে খাবার খাওয়া উচিত।

আপনি এই দিনে সাদা এবং হালকা আকাশী রঙের পোশাক পরতে পারেন।



শনিবার

----------------

এইদিনটি ভগবান শনি-কে উৎসর্গ করা হয়। বলা হয় যে, কারও কর্মের উপর নির্ভর করে ভগবান শনি তাকে পুরস্কৃত করেন বা শাস্তি দেন। তাই সাধারণতঃ যারা জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাসী তারা এই দিনটি পালন করেন। কথিত আছে যে, এই দিনে শনিদেবের পূজা করলে সুখ, সম্পদ ও শান্তির আকারে ভগবান শনি-এর কাছ থেকে সৌভাগ্য ও আশীর্বাদ আসতে পারে।

ভগবান শনিকে সন্তুষ্ট করতে এবং যে কোনও ধরনের বাধা এড়াতে এই দিনটি পালন করা যায়। ভগবান শনির উপাসনা করতে আপনি পিপল এবং শামি গাছের নীচে একটি প্রদীপ জ্বালাতে পারেন। এছাড়াও, দরিদ্রদের দান করুন। আপনি এইদিনে শনিদেবকে কালো সরিষা, ধুপ, পঞ্চমৃত এবং ফুল দিতে পারেন। এছাড়াও, আপনি পূজা সম্পন্ন করার পরে শনি আরতি করতে পারেন।

ভগবান শনি কালো রঙ পছন্দ করেন তাই, এই দিনে কালো রঙের পোশাক পরা আপনার পক্ষে সহায়ক হতে পারে।


-----------------------------------------------

সনাতনী শ্রী পৃথ্বীশ ঘোষ

Share:

প্রদীপ ও ভাগ্যোন্নতি

আমাদের নিত্য পুজোয় প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকি। বিশ্বাস করা হয় যে প্রদীপ না জ্বালিয়ে কোনও পুজোই শেষ হয় না। কিন্তু একথা কি জানা আছে যে বিশেষ কিছু দেব-দেবীর সামনে নিয়মিত সকাল-বিকাল প্রদীপ জ্বালালে এই জীবনে যে যে সমস্যার কথা আমরা জানি বা শুনে এসেছি, তার কোনওটাই মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। শুধু তাই নয়, জীবন পথে চলতে চলতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠা যে কোনও বাধা সরে যেতেও সময় লাগে না। হিন্দু শাস্ত্রের উপর লেখা একাধিক বই অনুসারে বেশ কিছু দেব-দেবী আছেন, যারা প্রদীপের আলো পছন্দ করেন, তাই তো তাঁদের আরাধনা করার পর যদি প্রদীপ জ্বালানো হয়, তাহলে দারুন সব উপকার মেলে।

★ প্রতিদিন সূর্য দেবতার সামনে প্রদীপ জ্বালালে সূর্যদেব এতটাই প্রসন্ন হন যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। রবিবার হল সূর্য দেবের দিন। তাই এদিন সাকাল সকাল উঠে স্নান সেরে যদি সূর্যদেবকে জল দান করে পূজা করতে পারেন, তাহলে আরও অনেক উপকার মেলে।


★ একথা তো সবাই জানেন যে প্রতি সোমবার দেবাদিদেবকে দুধ দিয়ে স্নান করালে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়া যায় তেমনি প্রতিদিন রাধা-কৃষ্ণের সামনে প্রদীপ জ্বালালে মনের মতো জীবনসঙ্গীও মেলে আর সেই সঙ্গে বৈবাহিক জীবনে কোনও সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল রাধা-কৃষ্ণের ছবির সামনে ভুলেও সকালবেলা প্রদীপ জ্বালাবেন না যেন! এক্ষেত্রে জ্বালাতে হবে সন্ধ্যাবেলায় -- এমনটা করলে তবেই কিন্তু উপকার মেলে।


★ পঞ্চমুখি হনুমানজির ছবি বা মূর্তির সামনে প্রদীপ জ্বালালে খারাপ স্বপ্ন আসার আশঙ্কা হ্রাস পাবে। সেই সঙ্গে মনের লুকিয়ে থাকা ভয় দূর হবে এবং বাড়ীর মধ্যে খারাপ শক্তির আগমণ ঘটার সম্ভাবনাও যাবে কমে। ফলে কোনও ধরনের খারাপ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আর থাকবে না।


★ শত চেষ্টা করেও কি টাকা জমাতে পারছেন না? এদিকে প্রতিদিন যেন খরচের মাত্রা বেড়েই চলেছে? তাহলে আপনি উত্তর দিকে ধন দেবতা কুবেরের ছবি বা মূর্তি রেখে প্রতিদিন কুবের দেবের সামনে প্রদীপ জ্বালানো শুরু করুন। দেখবেন অর্থনৈতিক সমস্যা মিটে যাবে।

★ অল্প সময়ে কর্মক্ষেত্রে চরম উন্নতি লাভ করতে যদি চান, তাহলে বাড়ির ঠাকুর ঘরে রাখা গণেশ দেবের সামনে অফিস বেরনোর আগে প্রদীপ জ্বালানো শুরু করুন। দেখবেন মনের ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, গণেশ দেব হলেন সমৃদ্ধির দেবতা। তাই তো প্রতিদিন গণেশের সামনে প্রদীপ জ্বালালে দেবতা বেজায় প্রসন্ন হন। ফলে পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতে সময় লাগে না।


★ রাম, লক্ষণ, সীতা এবং হনুমানজি একসঙ্গে রয়েছেন এমন ছবির সামনে প্রতিদিন প্রদীপ জ্বালালে বাড়ীর মধ্যে উপস্থিত খারাপ শক্তি দূরে পালায়। ফলে পরিবারের মধ্যে কোনও কলহ বা বিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যেমন হ্রাস পায়, তেমনি ভাইয়ে-ভাইয়ে হওয়া বিবাদ বা ঝগড়া মিটে যেতেও সময় লাগে না।


প্রসঙ্গত, দেব-দেবীদের সামনে প্রদীপ জ্বালানোর সময় কতগুলি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। কারণ এই নিয়মগুলি না মানলে কিন্তু কোনও সুফলই পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে, সেগুলি হল --


* প্রদীপ জ্বালানোর সময় কম করে দুটো এবং সর্বচ্চ তিনটি সেলতে জ্বালানো উচিত। কারণ এমনটা করলে দূর্গা, লক্ষ্মী এবং সরস্বতী দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব হয়।


* খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই প্রদীপ জ্বালানোর সময় হাতে লাগা তেল হয় পরে থাকা জামায় মুছে ফেলেন, নয়তো চুলে লাগিয়ে নেন। কিন্তু এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে দিনের পর দিন এমনটা করলে মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই যদি এমন ঘটনা এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে ঠাকুর ঘরে হাত মোছার একটা পরিচ্ছন্ন কাপড় রাখতে ভুলবেন না যেন।


* প্রদীপ জ্বালানোর সময় কী ধরনের তেল ব্যবহার করা উচিত জানা আছে? বিশেষজ্ঞদের মতে দেবতাদের সামনে দিয়া জ্বালানোর সময় হয় তিল তেল, সরষের তেল অথবা ঘি ব্যবহার করা উচিত। কারণ এমনটা করলে পরিবারে সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে। সেই সঙ্গে বাড়ীতে সুখ-শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

সনাতনী শ্রী পৃথ্বীশ ঘোষ

Share:

০৬ এপ্রিল ২০২১

যজ্ঞ করা কেন জরুরি তা কি জানেন? আসুন, জেনে নিই।

 পুজো করার যত পদ্ধতি আছে, তারমধ্যে যজ্ঞ সর্ব্বশ্রেষ্ঠ। যে কোন ধরনের পূজা সম্পূর্ণ হয় যজ্ঞ সম্পদানের মাধ্যমে। অনেকেই বাড়িতে পুজো করেন সাথে বিশেষ যজ্ঞের আয়োজনও করেন। তাতে নাকি বিশেষ ফল লাভ করা যায়। বলা হয়, যজ্ঞ হিন্দুধর্মের অন্যতম কৃত্যানুষ্ঠান। দেবতার অনুগ্রহ লাভের উদ্দেশ্যে বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে অগ্নিতে আহুতি প্রদান অনুষ্ঠানই যজ্ঞ। এর মাধ্যমে সম্পদ বা সমৃদ্ধি লাভ, শত্রুর বিনাশ, যুদ্ধ জয়, রোগারোগ্য ও স্বর্গ লাভ ইত্যাদি কামনা করা হয়। বৈদিক যুগে এর উদ্ভব ঘটে এবং ক্রমশ তা সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।



বৈদিক শাস্ত্রানুসারে, যজ্ঞের মাধ্যমে যা অগ্নাহুতি দেওয়া হয় তা সম্পূর্ণরূপে দেবতার কাছে পৌছায়। এজন্যই বৈদিক ঋষিরা যজ্ঞের কথা বার বার বলে গেছেন বেদের মাধ্যমে।

বিভিন্ন ধরনের সমসার সরল সমাধান যজ্ঞের মাধ্যমে সম্ভব, তা সে অর্থ, কর্ম, শারীরিক বা বশীকরণ যাই হোক না কেন।

নব-গ্রহের সমসার জন্য নব-গ্রহ যজ্ঞ , সন্তান সমসার জন্য গোপাল-হোম , আর্থিক সমসস্যার জন্য মহা-লক্ষ্মীর যজ্ঞ ইত্যাদি করার বিধান দেওয়া আছে আমাদের শাস্ত্রাগুলোতে।

কিন্তু যজ্ঞ করার সাথে সাথে বা একবার করার পরপরই ফলপ্রসু হবে এমন তা নয়। যজ্ঞ সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর বা প্রতিদিন করার বিধান দেওয়া আছে শাস্ত্রে এবং তাহলেই ফলের আশা করা যেতে পারে।

যজ্ঞ করার সময় শুধু কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে --- 

★ যজ্ঞের আগুন যেন নিভে না যায়। 

★ আহুতি-মন্ত্র শুদ্ধ উচ্চারণ করতে হবে। 

★ শুদ্ধ ঘি হতে হবে গরুর দুধের। 

★ প্রতিটা যজ্ঞের নির্দিষ্ট কাঠ আছে, সে খেয়াল রাখতে হবে। 

★ ভক্তিযুক্ত চিত্তে মন্ত্রেচ্চারণ করতে হবে। এছাড়াও আরও কিছু নিয়ম আছে।

যজ্ঞ করতে গেলে ভুল হবে, তাহলে অনিষ্ট হবে ---- এই ধারনাকে সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করতে হবে।

শুদ্ধ মনে ভক্তিভাবে মন্ত্র উচ্চারণ করে অগ্নিতে আহুতি দিলে সরাসরি দেবতার কাছে পৌছাবে, এই ভেবে করলেই ফলপ্রসু হবে যজ্ঞ। তাই যজ্ঞ শেষে বলা হয় -- ভোঃ ভোঃ বহ্নে মহাশক্তে সর্বকামপ্রদায়ক। কর্মান্তেওপি সংপ্রাপ্তে সান্নিধ্যং কুরু সাদরম্।।

যাইহোক, যজ্ঞ করলে ফল অবশ্যই হবে এবং যে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব এ কথা শাস্ত্রে সুন্দর ও পরিষ্কার ভাবে লেখা আছে।

-------------------------------------------------------------------

ছবি ★ তারকেশ্বরের তোতাপুরী আশ্রমে স্বামী কাশিকানন্দ যজ্ঞ করছেন।

লিখেছেনঃ Prithwish Ghosh

Share:

১৬ ডিসেম্বর ২০২০

" পঞ্চামৃত " কি ?

 পঞ্চামৃত  হচ্ছে পাঁচ অমৃত যা দুধ , দই , ঘৃত , মধু আর চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরী করা  হয় । এই পঞ্চামৃত দিয়েই ভগবানের স্নান অভিষেক করা হয়ে থাকে । এই পাঁচ  প্রকার মিশ্রনে তৈরী পঞ্চামৃত অনেক রোগ নিরাময়ের জন্য লাভদায়ক হয় আর মনকেও  শান্তি প্রদান করে থাকে ।

পঞ্চামৃতের আধ্যাত্মিক অর্থ হলো - এই পঞ্চামৃত আত্মোন্নতির পাঁচ প্রতীক -


1. দুধ = দুধ হচ্ছে পঞ্চামৃতের প্রথম ভাগ । এই দুধ হচ্ছে শুভ্রতার প্রতীক । অর্থাৎ আমাদের জীবন দুধের মতো নিষ্কলঙ্ক হওয়া চাই ।

2.  দই = দই - এর গুন হলো এটা অন্যকে নিজের মতো বানায় । দই ঢালার অর্থ হলো  প্রথমে আমরা নিষ্কলঙ্ক হয়ে সৎগুন ধারন করে অন্যকেও নিজের মতো তৈরী করা ।

3. ঘৃত = ঘী স্নিগ্ধতা আর স্নেহের প্রতীক । সবার সঙ্গে আমাদের স্নেহযুক্ত সম্বন্ধ হউক এই ভাবনাই ।

4.  মধু = মধু মিষ্টি হওয়ার সাথে সাথে শক্তিশালীও হয় । নির্বল ব্যক্তি জীবনে  কিছুই করতে পারে না । দেহ আর মন থেকে শক্তিশালী ব্যক্তিই জীবনে সফলতা পেতে  পারেন ।

5. চিনি = চিনির গুন হলো মিষ্টতা । চিনি ঢালার অর্থ হলো  জীবনে মিষ্টতা আনো । মিষ্টি কথা সবারই ভাল লাগে , আর তাতে মধুর ব্যবহার  তৈরী হয় ।

উপরোক্ত গুনগুলিই আমাদের জীবনে সফলতা এনে দেয় ।

পঞ্চামৃত  পান করলে শরীর পুষ্টি আর রোগমুক্ত হয় । পঞ্চামৃত ঠিক ততটুকু মাত্রায়ই সেবন  করা উচিৎ যতটুকু মাত্রায় সেবন করা উচিৎ , তার অতিরিক্ত নয় ..... জয় রাধে ।

জয় নিতাই গৌর হরিবোল ...।


Post Courtesy: Sagar Bhowmick

Share:

মা সন্তোষীর ব্রত

মা সন্তোষী তুষ্টা হন সামান্য উপাচারেই। রাশি রাশি ভোগ মা কখনোই চান না। সামান্য ছোলা আর আঁখের গুড় মায়ের পূজায় প্রধান উপাদান। নিয়ম মতোন শুকনো ভাজা ছোলা আঁখের গুড়ের সাথে দিতে হয়। কিন্তু হিন্দু বাঙ্গালী ভিজানো ছোলা, আঁখের গুড়ের সাথে মায়ের সামনে ভোগ নিবেদন করেন। সব মতই চলবে। যে, যেভাবে মায়ের পূজো করেন। পূজোর পর প্রসাদের অল্প অংশ গোমাতাকে প্রদান করতে হয়। তবে মা সন্তোষী পূজাতে টক বা অম্ল জাতীয় ফল বা কোন নৈবেদ্য প্রদান করা নিষিদ্ধ। সেজন্য মায়ের ব্রতকারিণী ও পূজারীগণ শুক্রবার টক জাতীয় ফল, ছানা, অম্বল ও টক পদার্থ বর্জন করেন। এমন কি ছানা থেকে প্রস্তুত কোন মিষ্টান্ন মায়ের ভোগে দেওয়া নিষেধ। নিমকি বানিয়ে চিনির রসে ডুবিয়ে কেবল মায়ের উদ্দেশ্যে মিষ্টি নিবেদন করা হয়। ১৬ শুক্রবার ধরে পূজা করার নিয়ম যথা বিধানে। এরপর উদযাপন করতে হয়। উদযাপনের দিন ৭ টি বালক কে ভোজন করিয়ে তাদের দক্ষিণা ও পান-কলা হাতে দিতে হয়। বালকদেরও ঐ শুক্রবার টক খাওয়া নিষেধ। এইভাবে যিনি সন্তোষী মাতার ব্রত পালন করেন - তিনি সর্ব সুখ প্রাপ্ত করেন।


ব্রতকথা

রামু নামক এক সরল সাধাসিধে লোক ছিল। সে বড় ছয় দাদার সাথে মাঠে কৃষিকাজ করত। বাড়ী ছিল একান্নবর্তী পরিবার। বাড়ীর কর্তা ছিলেন এক বিধবা বৃদ্ধা মা। ফসল ঘরে তোলার পর ভাগ বাটোয়ারা করে যা উঠতো তাই সাত ভাই পেতো।


রামু ছিল বোকা ও সরল মনের। ভাইরা এমনকি ছয় বৌদি এর সুযোগ নিতো। মাঝে মাঝে বৌদিরা লুকিয়ে রামুকে এঁঠো-কাটা খেতে দিতো। সরল মনের রামু কিছুই বুঝতো না। একদা সাবিত্রী নামের এক সর্ব সুলক্ষণা কন্যার সাথে রামুর বিবাহ হল।


নতুন বৌ নিয়ে রামুর সুখে সংসার কাটছিল। একদিন সাবিত্রী জানতে পারলো বড় ছয় বৌদি রামুকে উচ্ছিষ্ট খেতে দেয়। রামু নিজেও এই দৃশ্য চোখে দেখলো। এই নিয়ে সে একদিন প্রতিবাদ করলো। এতে ছয় বৌদি আর ছয় দাদা মিলে রামুকে খুব অপমান করলো। রামু মনের দুঃখে প্রতিজ্ঞা করলো --‘যোগ্য মর্যাদা নিয়েই, কিছু করে সে এই বাড়ীতে বুক ফুলিয়ে আসবে।’ এই প্রতিজ্ঞা করে রামু গৃহত্যাগ করলো। তখন ছয় বৌদি আর ছয় দাদার রাগ গিয়ে পড়লো বেচারী সাবিত্রীর উপরে। সাবিত্রীকে ভীষন অত্যাচার শুরু করলো। সংসারের সব কাজ করাতে লাগলো।


দেখতে দেখতে সাবিত্রীর অঙ্গের লাবন্য মলিন হল। সন্ধ্যায় সে ঘরে আসতো। দুটি রুটি আর নারকেলের মালায় তে জল জুটতো তাঁর কপালে। একদিন সাবিত্রী জঙ্গলে কাঠ আনতে গিয়ে দেখে সেখানে দেবকন্যারা কি যেন ব্রত করছে। সাবিত্রী সব জিজ্ঞেস করলে দেবকন্যারা জানালো তারা মা সন্তোষীর ব্রত করছে। মায়ের কৃপায় সর্ব সুখ আসে। সাবিত্রী ভাবল সেও মা সন্তোষীর ব্রত করবে। দেবকন্যাদের কাছে নিয়ম শিখে ষোলো শুক্রবারের মা সন্তোষীর ব্রত শুরু করলো।


অপরদিকে রামু শহরে গিয়ে এক বড় স্বর্ণকারের দোকানে চাকরী পেয়েছিল। হঠাৎ তার বাড়ীর কথা, সাবিত্রীর কথা মনে পড়াতে বাড়ী ফিরতে চাইলো। স্বর্ণকার রামুকে অনেক ধন দৌলত দিয়ে বিদায় করলো। বাড়ী ফিরে রামু দেখে সাবিত্রীর দুর্দশা। রামু তাঁর ছয় দাদা, বৌদিকে খুব বকাঝকা করে সাবিত্রীকে নিয়ে অন্যত্র চলে গেলো। বিশাল বাড়ী বানিয়ে সাবিত্রীকে নিয়ে সুখে থাকতে লাগলো। একদা সাবিত্রী ভাবলেন মা সন্তোষীর উদযাপনে সকলকে নিমন্ত্রণ করবেন। প্রতিবেশী সবাইকে আমন্ত্রণ জানালো হল, ছয় দাদা, ছয় বৌদি, শাশুড়ীকে আমন্ত্রণ জানালো। ছয় বৌদির মধ্যে দুই বৌদি সাবিত্রীর সুখ ঐশ্বর্য দেখে হিংসায় জলতে লাগলো। তারা মায়ের প্রসাদে লেবুর রস দিয়ে দিলো। এতে মা খুব ক্ষিপ্তা হলেন। দুই বৌ বিকলাঙ্গ হয়ে গেলো। অবশেষে সাবিত্রীর কঠোর প্রার্থনায় মা সন্তোষী দুই বৌকে ভালো করে দিলেন। এই ভাবে সাবিত্রীর জীবনে সুখ নেমে আসল।

-


প্রত্যেক শুক্রবার তাঁর পূজা হয়। বাংলার ঘরে ঘরে এবং প্রতিটি নর-নারীর মুখে মুখে কলিযুগের সর্বদুঃখ বিনাশিনী দেবী মায়ের এই দেবীর আপার মহাত্ম্য ও অপরিসীম করুনা প্রচারিত। অগণিত ভক্তবৃন্দ সন্তোষীমাতার যশোগানে মুখরিত। জানি না, বাংলার মহাদুর্দিনের সন্ধিক্ষণে আমাদের অগণিত মা, ভাইবোন বন্ধুদের সর্বস্নেহময়ী সন্তোষী মায়ের কাছে বিনীত কি প্রার্থনা! তারা মায়ের কাছে কি চেয়েছেন আর মা কি দিয়েছেন -- এর সঠিক উত্তর তারাই দেবেন, যাঁরা মায়ের চরণে মনপ্রাণ উৎসর্গ করে তাঁর কৃপালাভে ধন্য হয়েছেন।


তবে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ভক্তের মুখে শোনা কথা যে, মা সাক্ষাৎ বলরুপিনী। মা তাঁর আরাধনায় আড়ম্বর চান না, তিনি চান ভক্তির পূজা। এক বিন্দু চোখের জল, ধান, দূর্বা ও ফুল, সাধ্যমত উপকরণ, গুড় আর ছোলা --- মা এতেই পরম তৃপ্তি লাভ করেন এবং ভক্তের সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। তাই আজ অন্নাভাবে বহু দুঃখ জর্জরিত নর-নারী এই পরমা ঈশ্বরী দেবীর কাছে তাঁদের দুঃখ-দুদর্শা লাঘবের জন্য ব্যাকুল প্রার্থনা জানান। প্রতি শুক্রবারে আমাদের সতী সাধ্বী মা-বোনেরা ঘরে ঘরে সন্তোষী মায়ের ছবি ও ঘট স্থাপন করে বিশুদ্ধ ভাবে পূজার আয়োজন করে থাকেন এবং টক জাতীয় খাবার বর্জন করেন। সর্বসিদ্ধিদাত্রী এই মায়ের পূজায় সকল দেব-দেবী তুষ্ট হয়ে থাকেন। অনেকেই এই পুজায় সুফল পেয়েছেন। মনোকষ্ট, অর্থকষ্ট, বাধা-বিঘ্ন, দাম্পত্য জীবনের কলহ বা অশান্তি, গ্রহদোষ, পুনর্জীবন লাভ করতে এই দেবীর পূজা কর অবশ্য কর্তব্য। মা সন্তোষী যে কোন অশুভ ভাব দূর করেন এবং তার বরাভয় বা আশীর্বাদ প্রদান করেন।


হিংসা, লোভ, লালসা, রাগ, নেশা, নির্যাতন থেকে বিরত থেকে আসুন আমরা সবাই সন্তোষীমাতার ধ্যানে মগ্ন হই। আসুন, কালবিলম্ব না করে আমরা সকলেই তাঁর চরণে প্রণাম জানিয়ে মাতৃপূজায় জীবন উৎসর্গ করে মানবজীবন সার্থক করি।

লিখেছেনঃ Prithwish Ghosh

Share:

০২ এপ্রিল ২০২০

দোলন উৎসব

স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ মহারাজের লেখনী থেকে এই উৎসবের কথা জানা যায় । ১৩৪২ বঙ্গাব্দ। চারণদল তখন গুজরাটের আমেদাবাদ শহরে । গুজরাটিদের প্রতিটি বাড়ীতে একটি করে দোলনা থাকে। আয় বুঝে গৃহের লোকরা সাধ্য মতো একটি করে দোলনা কিনে ঘরে রাখেন, নিজেরাও দোল খান, অতিথি কেউ দোলনাতে বসিয়ে দোলা দেন। স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ এই দেখে ভাবলেন, একটি দোলনা বাজিতপুর কিনে নিয়ে যাবেন। কিন্তু গুরুদেব তো বিশ্রাম , আরাম এর ঊর্ধ্বে ছিলেন, তাই প্রথম প্রথম স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ দোলনা কেনার সঙ্কল্প ত্যাগ করলেন । আমেদাবাদ হতে চারণদল গেলো কলোল নামক শহরে।কলোল হতে স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ ও স্বামী আত্মস্বরূপানন্দ সিদপুর নামক শহরে গেলেন। সেখানেই দোলনার ব্যাপারে চিন্তাধারা বাস্তবায়িত হল। স্বামী আত্মস্বরূপানন্দ দোলনার একটা চিত্র আঁকালেন- সেটি বানাতে খরচ পড়বে আড়াই শত টাকা। দোলনা টাঙ্গানোর শিকল কিনতে খরচ হবে আরোও পঞ্চাশ-ষাট টাকা। স্বামী আত্মস্বরূপানন্দ শিকলের খরচা দিবেন বলে জানালেন। চারণদলের প্রাপ্ত প্রনামী থেকে দোলনার খরচ বহনের সিদ্ধান্ত হল ।দোলনা তৈরীর ব্যাপার টা কলকাতা আশ্রমেও এসে পৌছালো । স্বামী বেদানন্দ জী টেলিগ্রাম করে দোলনা কিনতে বারন করলেন। চারণদলের নেতা স্বামী শিবানন্দ বেজায় চটে গেলেন। স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ কিন্তু মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, দোলনা নেবোই । প্রানারাম গুরুমহারাজকে সেই দোলনাতে বিরাজিত করে দোল দেবোই ।
যাই হোক দোলনা ও শিকল কেনা হল। দোলনা নিয়ে স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ কলকাতা বালীগঞ্জ আশ্রমে এসে জানতে পারলেন যে গুরুমহারাজ বাজিতপুর চলে গেছেন। অপরদিকে দোলনা কেনার ব্যাপারটা নিয়ে স্বামী বেদানন্দ খুবুই ক্ষিপ্ত হয়ে ছিলেন। স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ খুব কাতর স্বরে অনুনয় বিনয় দ্বারা স্বামী বেদানন্দ কে একবার দোলনাটি দেখার অনুরোধ জানালেন। স্বামী বেদানন্দ কোমল হয়ে বললেন- “কি এনেছিস, চল তো দেখি।” দোলনাটি দেখে স্বামী বেদানন্দ জানালেন- “ও হরি, এটা এনেছিস ! এটা তো একটা বেঞ্চের মতো। এটা আর এমন কি । আমি মনে করেছিলাম কি না কি যেন হচ্ছে , তাই টেলিগ্রাম করেছিলাম। এটাতে কোন দোষ হবে না। এটা নিয়ে চল বাজিতপুরে। তুই শান্ত হ, কাঁদিস নে।” কলকাতা আশ্রম থেকে তেঁনারা বাজিতপুরে আসলেন । মাঘী পূর্ণিমা উৎসব। স্বামীজী গন ভাবিলেন এখন অকালে দোল করিলে কেমন হয় ? মাঘী পূর্ণিমার এক মাস পরে দোল পূর্ণিমা। ভক্তের হৃদয়ে ভগবানের নিত্য দোল উৎসব হয়। সেই মতো দোলনা টিকে ফুলে সাজানো হল। নাট মন্দিরে রাখা হল । এই উৎসবের জন্য একটি গান চাই। স্বামী ভূমানন্দ রচনা করলেন একটি সঙ্গীত-
তালে তালে দোল দে দোল দে দোল,
দোদুল দোদুল দোলে !
হৃদয়েরি দোলে প্রিয়তম দোলে,
দোলে ভুবন ভোলে ।।
বিশ্বদোলনে নাথ দোলেরে,
অপরূপ রূপে ভুবন ভোলেরে !
আয়রে প্রেমিক, আয় দলে দলে
অবগাহি আঁখি জলে ।।
দুলাল দোলেরে গুলাল মাখি,
ভুলালো আজিরে ভরিয়া আঁখি ,
ঢালো ঢালো ঢালো হে সাকী,
প্রেমপিয়ালা ছলে ।।
সেই ফুলে ঢাকা দোলনায় গুরুমহারাজ করে বসিয়ে দোলা দিতে লাগলেন অগণিত ভক্ত গন । রাশি রাশি ফুলে ভক্তের শ্রদ্ধা অর্ঘ গুরুদেব গ্রহণ করে সকলকে কৃপা করতে লাগলেন ।
( শ্রী শ্রী প্রনবানন্দ শতরূপে, শতমুখে ... স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ )
Share:

১৭ জানুয়ারি ২০১৯

সরস্বতী পূজা পদ্ধতি - সম্পূর্ণ বাংলায় সরস্বতী পূজা পদ্ধতি মন্ত্রসহ



সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম প্রচলিত পূজা। সরস্বতী দেবীকে শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী ও আশীর্বাদাত্রী মনে করা হয়। বাংলা মাঘ মাসের ৫মী তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলায় সফলতার আশায় শিক্ষার্থীরা দেবীর পূজা করে থাকে।

বাকদেবী, বিরাজ, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা, পৃথুধর, বকেশ্বরী সহ আরো অনেক নামেই দেবী ভক্তের হৃদয়ে বিরাক করে।

পুরাণ অনুযায়ী দেবী সরস্বতী ব্রহ্মের মুখ থেকে উথ্থান। দেবীর সকল সৌন্দর্য্য ও দীপ্তির উৎস মূলত ব্রহ্মা। পঞ্চ মস্তকধারী দেবী ব্রহ্মা এক স্বকীয় নিদর্শন।

পূজার জন্য দেবী সরস্বতীর মূর্তি শ্বেত বস্র পরিধান করে থাকে যা পবিত্রতার নিদর্শন। দেবীর আসন কে পুষ্পশোভামন্ডিত করে রাখা হয়। পরিবারের সকল সদস্য খুব ভোরে স্নান শেষে পরিস্কার বস্র পরিধান করে দেবীর সামনে অবস্থান করে থাকে। পুরোহিত পূজা শুরু করবার আগ পর্যন্ত দেবীর মুখমন্ডল ঢাকা থাকে। পূজার অর্ঘ্যর পাশাপাশি দেবীর পূজার অারেকটি প্রধান অংশ ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক। সরস্বতী পূজার একটি বিশেষ অর্য্য হল পলাশ ফুল। দেবীর অঞ্জলীর জন্য এটি একটি অত্যবশ্যকীয় উপাদান।





পূজা পদ্ধতি _ গৌরমোহন দাস

 দেবতা জাগ্রতকরণ :
                   উত্তিষ্ঠোত্তিষ্ঠ শ্রীগুরো ত্যজ নিদ্রাং কৃপাময়।
                  উত্তিষ্ঠোত্তিষ্ঠ গৌরাঙ্গ জহি নিদ্রাং মহাপ্রভো।
                  শুভদৃষ্টিপ্রদানেন ত্রৈলোক্যমঙ্গলং কুরু ॥
                   ঈশ্বর শ্রীহরে কৃষ্ণ দেবকীনন্দন প্রভো।
                   নিদ্রাং মুঞ্চ জগন্নাথ প্রভাতসময়ো ভবেৎ ॥
                    উত্তিষ্ঠোত্তিষ্ঠ গোবিন্দ উত্তিষ্ঠ পরমেশ্বর।
                   উত্তিষ্ঠ কমলাকান্ত ত্রৈলোক্যংমঙ্গলং কুরু ॥

গঙ্গা প্রণাম :  
            ওঁ বিষ্ণুপাদার্ঘ্যসম্ভূতে গঙ্গে ত্রিপথগামিনি।
           ধর্মদ্রবীতি বিখ্যাতে পাপং মে হর জাহ্নবি॥
           শ্রদ্ধয়া ভক্তি সম্পন্নে শ্রীমাতর্দেবী জাহ্নবি।
          অমৃতেনাম্বুনা তব ভাগীরথি পুণীহি মাম্ ॥

অগ্নি প্রজ্বলন এবং জল শুদ্ধি  :
          ওঁ-কারস্য ব্রহ্ম ঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দেগ্নির্দেবতা সর্বকর্মারম্ভে বিনিয়োগ।
          ওঁ সপ্তব্যাপহৃতিনাং প্রজাপতিঋষি গায়ত্রী-উষ্ণিগনুষ্টুপ-বৃহতি পংক্তিত্রিষ্টুপজগত্যশ্ছন্দাংসি অগ্নির্বায়ু সূর্যবরুণ বৃহস্পতিন্দ্র বিশ্বেদেবা দেবতাঃ প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ। গায়ত্র্যাঃ      বিশ্বামিত্রঋষির্গায়ত্রিচ্ছন্দঃ সবিতা দেবতা প্রাণায়মে বিনিয়োগঃ॥
গায়ত্রী শিরস প্রজাপতিঋষির্ব্রহ্মবায়ু অগ্নি সূর্যাশ্চতস্রোদেবতাঃ প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ॥
আসন শুদ্ধিমন্ত্র :
         ওঁ অস্য আসনমন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠঋষি সুতলং ছন্দঃ।
        কূর্মো দেবতা আসনোপবেশনে বিনিয়োগঃ॥ ১
           ওঁ পৃথ্বিত্বয়া ধৃত্বা লোকা দেবিত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা।       
          ত্বং চ ধারায় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরুচাসনম্॥ ২
বামে- গুরুভ্যো নমঃ, ডানে- গণেশায় নমঃ, ঊর্ধ্বে- ব্রহ্মণে নমঃ,
নিচে-অনন্তায় নমঃ, সামনে-শিবায় নমঃ।

আচমন :
        (জল হাতে রেখে)
       ওঁ শং নো দেবীরভিষ্টয় আপোভবন্তু পীতয়ে।
       শংযোরভিস্রবন্তু  ন ॥ ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু । বলে জল দ্বারা ৩ বার মুখ মার্জনা

হাত জোড় করে
        ওঁ তদবিষ্ণু পরমং পদম্ সদা পশ্যন্তি সুরয়ঃ।
         দিবীব চক্ষুরাততম ॥
ওঁ শঙ্খচক্রধরং বিষ্ণুং দ্বিভূজং পীতবাসসম্।
প্রারম্ভে কর্মণ কর্তা পাবনং তং স্মরেদ্ধরিম ॥
      ওঁ মাধবো মাধবো বাচি মাধবো মাধবো হৃদি।
      স্মরন্তি সাধবঃ সর্বে সর্বকর্মসু মাধবম্ ॥
             ওঁ অপবিত্র পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোহপি বা
              যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তÍÍরঃ শুচি॥ (বৃ.ভক্তিতত্ত্বসার)
তুলসী প্রণামমন্ত্র :   
           ‘ওঁ বৃন্দায়ৈ তুলসীদেবৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ।
            বিষ্ণুভক্তি প্রদে দেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ॥
তিলক ধারণ :   
      কেশবানন্ত গোবিন্দ বরাহ পুরুষোত্তম।
      পুণ্য যশস্যমায়ুষ্যং তিলকং মে প্রসাদ তু ॥

চন্দন তিলক :
             কান্তিং লক্ষ্মী ধৃতিং সৌম্যং সৌভাগ্যমতুলং।
            দদাতু চন্দনং নিত্যং সততং ধারয়াম্যহম্ ॥
১. ললাটে কেশবায় নমঃ        ২. কণ্ঠে পুরুষোত্তমায় নমঃ
৩. বাম হাতে বাসুদেবায় নমঃ      ৪. ডান হাতে দামোদরায় নমঃ
৫. নাভিতে নারায়ণায় নমঃ      ৬. হৃদয়ে মাধবায় নমঃ
৭. ডানপাশে গোবিন্দায় নমঃ      ৮. বামপাশে ত্রিবিক্রমায় নমঃ
৯. ডান কানের মূলে মধুসূদনায় নমঃ  ১০. বামকানের মূলে বিষ্ণবে নমঃ
১১. মাথার মধ্যে হৃষিকেশায় নমঃ ১২. মেরুদণ্ডে পদ্মনাভায় নমঃ
১৩. নাকের ডগায় পবনায় নমঃ    ১৪. বাসুদেবায় নমঃ বলে ঘ্রাণগ্রহণ
শিখাবন্ধন    :
       ওঁ ব্রহ্মবাণী সহস্রাণি শিবানী শতেন চ  
       বিষ্ণোর্নামসহস্রেণ শিখাবন্ধনং করোম্যহম্ ॥
      ওঁ ভুঃ ভুবঃ স্বঃ তৎসবির্তুবরেণ্যং ভর্গোদেবস্য ধীমহি।
       ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ॥
শিখা মোচন :  
       ওঁ গচ্ছন্তু সকলা দেবা ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরাঃ।
       তিষ্ঠত্বত্রাচলা লক্ষ্মীঃ শিখামুক্তং করোম্যহম॥

কর শুদ্ধি :
            ‘ঐঁ’ মন্ত্রে ডান হাতে একটি ফুল নিয়ে ওঁ মন্ত্রে উহা দুই হাতে পেষণ করে ঈশান কোণে ফেলতে হবে।
ফুল শুদ্ধিমন্ত্র :       ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে
                        পুষ্পচয়াবকীর্ণে চ হুঁ ফট স্বাহা।
  এরপর - এতে গন্ধপুষ্পে এতদধিপতয়ে ওঁ শ্রী বিষ্ণুবে নমঃ।
     এতে গন্ধেপুষ্পে এতঃ সম্প্রদানৈ ওঁ শ্রীশ্রীদেবতায় নমঃ ॥
ধূপদীপ শুদ্ধি     :   ওঁ এতৌ ধূপদীপৌ বং নমঃ (বলে ধূপ ও দীপে ফুল দিবেন)
শঙ্খশুদ্ধি         :   এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ হুং হুং হুং নমঃ মহাশঙ্খায় স্বাহা।
ঘণ্টাশুদ্ধি         :   এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ জয়ধ্বনি মন্ত্রমাতঃ স্বাহা।
ঘট স্থাপনমন্ত্র    :     ওঁ সর্বতীর্থদ্ভবং বারি সর্বদেব সমন্বিতম।
                          ইমং ঘটং সমারুহ্য তিষ্ঠ দেবগণৈঃ সহ॥
                         ওঁ  স্থাং স্থীং স্থিরোভব।
                      ওঁ স্থিরোভব বিড়বঙ্গ আশুর্ভব বাজ্যর্বন।
                      পৃথুর্ভব সুষদস্তমগ্নেঃ পরীষবাহন॥
প্রাণ প্রতিষ্ঠা :
     প্রতিমার হৃদয়ে আঙ্গুল রেখে
 ওঁ মনোজ্যোতিজ্যোষতামাজ্যস্য বৃহস্পতির্যজ্ঞমিমং তনোত্বরিষ্ঠং যজ্ঞং সমিমং দধাতু। বিশ্বে দেবাস ইহ মাদায়ন্তা মোং প্রতিষ্ঠ ॥
 ওঁ অস্যৈ প্রাণাঃ প্রতিষ্ঠন্তু অস্যৈ প্রাণাঃ ক্ষরন্তু চ। অস্যৈ দেবত্ব সিদ্ধয়ে স্বাহা॥
        অর্ঘ্যজলের ছিটা দিয়ে কম পক্ষে দশবার গায়ত্রী মন্ত্র জপ:
ওঁ ভুঃ ভুবঃ স্বঃ তৎসবির্তুবরেণ্যং ভর্গোদেবস্য ধীমহি। ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াঃ॥
সামান্যার্ঘ্য স্থাপন :
              পূজা করতে বসে সামনে (মাটিতে) ত্রিভুজ এঁকে তাকে ফুল-চন্দন দিয়ে পূজা করবে।
           এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ অনন্তায় আধারশক্তয়ে নমঃ।
          এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ প্রকৃত্যৈ নমঃ।     এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ কূর্মায় নমঃ।
          এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ অনন্তায় নমঃ।     এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ পৃথিব্যৈ নমঃ।
কোষা প্রক্ষালন করে তার অগ্রভাগ (সরু দিক) দেবতার দিকে ত্রিকোণের উপর স্থাপন করে উহা জলপূর্ণ করে এবং অগ্রভাগে গন্ধপুষ্প, আতপতণ্ডুল, বিল্বপত্র ও দূর্বা প্রদান করতে হবে। এরপর কোষে জল স্পর্শ করে
      ওঁ শন্নো আপো ধণ¡ন্যাঃ শমনঃ সন্তুনূপ্যা।
      শণœঃ সমুদ্রিয়া আপঃ শমনঃ সন্তুকূপ্যাঃ ॥
ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী।
নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেহস্মিন সন্নিধিং কুরু ॥
         ওঁ কুরুক্ষেত্র গয়াগঙ্গা প্রভাস পুষ্করাণি চ।
          তীর্থান্যেতানি পুণ্যানি পূজাকালে/স্নানকালে ভবন্তীহ॥
সূর্যার্ঘ্য দান :
(পূজামন্ত্র : ওঁ হ্রীং হ্রীং সূর্যায় নমঃ)
ওঁ নমঃ সবিত্রে জগদেকচক্ষুষে জগৎপ্রসূতিস্থিতিনাশহেতবে।
এয়ীময়ায় ত্রিগুণাত্মধারিণে বিরিঞ্চিনারায়ণ শঙ্করাত্মনে॥
ওঁ এহি সূর্য সহস্রাংশো তেজোরাশে জগৎপতে।
অনুকম্পায় মাং ভক্তং গৃহাণার্ঘং দিবাকর ॥
সূর্য প্রণাম :
        ওঁ জবাকুসুম সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম।
         ধ্বন্তারিং সর্ব পাপঘœং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্॥

সংকল্প :
        ওঁ তৎ সৎ, অদ্য........    ,মাসে......       .পক্ষে.....তিথ্যো ....... গোত্র মম সংকল্পিতং.......পূজনকর্মাহং   ........উপাচারে/যথাসাধ্য সংকল্প মস্তু /করিষ্যামি।

দেবতাদিগকে গন্ধপুষ্পদান :
                 এতে গন্ধেপুষ্পে ওঁ সিদ্ধেদাত্রে শ্রীগণেশায় নমঃ।
                এতে গন্ধেপুষ্পে ওঁ শ্রীলক্ষ্মীকান্তায় নারায়ণায় নমঃ।
               এতে গন্ধেপুষ্পে ওঁ শিবাদি পঞ্চ দেবতাভ্যো নমঃ।
               এতে গন্ধেপুষ্পে ওঁ আদিত্যাদি নবগ্রহেভ্যো নমঃ।
              এতে গন্ধেপুষ্পে ওঁ ইন্দ্রাদি দশদিকপালেভ্যো নমঃ।
               এতে গন্ধেপুষ্পে ওঁ মৎসাদি দশাবতারেভ্যো নমঃ।

জল দান মন্ত্র :

ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ।   ওঁ ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ     আচার্যেভ্যো নমঃ।
ঋষিভ্যো,      দেবেভ্যো,        বেদেভ্যো নমঃ।
বায়বে, মৃত্যবে, বিষ্ণবে নমঃ।        বিশ্রবণায়, উপজায় নমঃ।

পিতৃ-মাতৃ প্রণাম :
               ওঁ পিতা স্বর্গঃ পিতা ধর্মঃ  পিতাহি পরমং তপঃ।
                পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতাঃ॥
       যৎ প্রসাদাৎ জগৎদৃষ্টং পূর্ণকামো যদাশীষা।
        প্রত্যক্ষ দেবতা মে তুভ্যং মাত্রে নমো নমঃ ॥
গুরু প্রণাম :  
            ওঁ অখণ্ডমণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম
            তদ্পদংদর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥
     ওঁ অজ্ঞান তিমিরান্ধ্যস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া
    চক্ষুরুনমিলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥
গণেশ প্রণামমন্ত্র :
           ওঁ দেবেন্দ্রমৌলিমন্দার মকরন্দ-কণারুণাঃ।
            বিঘ্নং হরস্তু হেরম্ব চরণাম্বজরেণব্ ঃ দিবাকরম্॥
          ওঁ একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং।
         বিঘ্নং নাশ্চকরং দেবং হেরম্বং প্রণাম্যাহম্॥
    ওঁ সিদ্ধিদাত্রে গণেশায় সর্ববিঘ্নং প্রশান্তয়ে লেখকায় নমস্তুভ্যং দেবাগ্রযজ্ঞভাগিনে॥

শ্রীকৃষ্ণ/বিষ্ণু/নারায়ণ প্রণামমন্ত্র :

      ওঁ ব্রহ্মণ্য দেবায় গো ব্রাহ্মণ হিতায় চ।
      জগদ্ধিতায় শ্রীকৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ ॥
     ওঁ কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরয়ে পরমাত্মনে।
     প্রণতঃ ক্লেশ নাশায় গোবিন্দায় নমো নমঃ ॥
      হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধু দীনবন্ধু জগৎপতে।
      গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধাকান্ত নমোহস্তুতে ॥

নারায়ণ প্রণামমন্ত্র :
                 ওঁ ত্রৈলোক্যপূজিত শ্রীমন্ সদা বিজয়বর্ধন।
                 শান্তি কুরু গদাপাণে নারায়ণ নমোহস্তুতে ॥(জ্ঞানমঞ্জরী ২/১৮৭)
লক্ষ্মী ধ্যানমন্ত্র :
    ওঁ পাশাক্ষ মালিকাম্ভোজ শৃণিভির্যামসৌম্যয়োঃ।
    পদ্মাসনস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্য মাতরম্ ॥
     গৌরবর্ণাং সুরূপাঞ্চ নানালঙ্কার ভুষিতাম।
     রৌ´পদ্মব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তুং॥
পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র :
                        ওঁ নমস্তে সর্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে।
                      যা গতিস্তৎ প্রপন্নানাং সা মে ভূয়াৎ ত্বর্দর্চ্চনাৎ।
                  এষ সচন্দন পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলি ওঁ শ্রীং লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ॥
লক্ষ্মী প্রণামমন্ত্র :

ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মলয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোহস্তুতে ॥

লক্ষ্মী গায়ত্রীমন্ত্র :
  মহালক্ষ্ম্যৈ বিদ্মহে মহাশ্রিয়ৈ ধীমহি তন্নঃ    শ্রীঃ  প্রচোদয়াৎ।

সরস্বতী ধ্যানমন্ত্র :

 ওঁ তরুণ-শকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ
কুচভরণমিতাঙ্গী সন্নিষণা সিতাজে।
নিজকর কমলোদ্যল্লেখনী পুস্তকশ্রীঃ
সকল বিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগ্দেবতা নমঃ॥
মন্ত্র : ওঁ সরস্বতৈ নমঃ।

সরস্বতী পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র :
ওঁ সরস্বতৈ নমো নিত্যং ভদ্রকাল্লৈ নমো নমঃ।
 বেদ- বেদাঙ্গ বেদান্তÍ বিদ্যাস্থানেভ্য এব চ স্বাহা ॥
এষ স চন্দন পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলিঃ ওঁ সরস্বতৈ নমঃ ॥

সরস্বতী প্রণামমন্ত্র :

ওঁ জয় জয় দেবী চরাচরসারে।    কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
 বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে ভগবতী ভারতী দেবী নমস্তে ॥
 ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
    বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহী নমোহস্তুতে ॥
সরস্বতী গায়ত্রীমন্ত্র : ওঁ বাগদেব্যৈ বিদ্মহে কামরাজায় ধীমহি তনো দেবী  প্রচোদয়াৎ ওঁ।

লোকনাথ প্রণামমন্ত্র :    নমস্তে আর্তত্রাণায় সর্বসিদ্ধি প্রদায়িণে।
                             নমস্তে লোকনাথায় ব্রহ্মত্মনে নমো নমঃ ॥


দেবদেবী    বীজমন্ত্র    জপের মন্ত্র    প্রণাম/উৎসর্গের মন্ত্র

কৃষ্ণ         ওঁ ক্লীং       ওঁ ক্লীং কৃষ্ণঃ           ওঁ ক্লীং কৃষ্ণায় নমঃ/স্বাহা
বিষ্ণু          ওঁ           ওঁ বিষ্ণু                ওঁ বিষ্ণবে নমঃ/স্বাহা
নারায়ণ       ওঁ           ওঁ নারায়ণঃ            ওঁ নারায়ণায় নমঃ/স্বাহা
গণেশ      ওঁ গং          ওঁ গং গণেশ         ওঁ গং গণেশায় নমঃ/স্বাহা
লক্ষ্মী         ওঁ শ্রীং      ওঁ শ্রীং লক্ষ্মী            ওঁ শ্রীং লক্ষ্মী দেব্যৈ নমঃ/স্বাহা
সরস্বতী      ওঁ ঐঁং     ওঁ ঐং সরস্বতী         ওঁ ঐং সরস্বতী দেবৈ নমঃ/স্বাহা
শিব          ওঁ           ওঁ শিবঃ                  ওঁ শিবায় নমঃ/স্বাহা
দুর্গা      ওঁ হ্রীং দুর্গাঃ    ওঁ হ্রীং দুর্গাঃ           ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ/স্বাহা
কালী    ওঁ হ্রীং         ওঁ হ্রীং কালী              ওঁ হ্রীং কালীকায়ৈ নমঃ/স্বাহা
রাম    ওঁ রাং           ওঁ রাং রাম              ওঁ রাং রামচন্দ্রায় নমঃ/স্বাহা
চণ্ডী    ওঁ হ্রীং          ওঁ হ্রীং চণ্ডী                 ওঁ হ্রীং নমশ্চণ্ডীকায়ৈ/স্বাহা
গুরু    ওঁ ঐং        ওঁ ঐং (অমুক) গুরু        ওঁ ঐং (অমুক) গুরবে নমঃ/স্বাহা
কার্তিক    ওঁ কাং       ওঁ কাং কার্তিক          ওঁ কাং কার্তিকেয়ায় নমঃ/স্বাহা
বনদুর্গা    ওঁ হ্রীং       ওঁ হ্রীং বনদুর্গা              ওঁ হ্রীং বনদুর্গায়ৈ নমঃ/স্বাহা
মঙ্গলচণ্ডী    ওঁ হ্রীং     ওঁ হ্রীং মঙ্গলচণ্ডী            ওঁ হ্রীং মঙ্গলচণ্ডিকায়ৈ নমঃ/স্বাহা
শীতলা    ওঁ হ্রীং    ওঁ হ্রীং শীতলা    ওঁ হ্রীং শ্রী শীতলায়ৈ নমঃ/স্বাহা
সর্বদেবদেবী    ওঁ ঐং হ্রীং ক্লীং    ওঁ ঐং হ্রীং ক্লীং ওঁ    ওঁ ঐং হ্রীং ক্লীং নমঃ/স্বাহা

শান্তিপাঠ :
         মধুবাতা ঋতায়তে        মধু ক্ষরন্তি সিন্ধব।
            মাধ্বীর্ণ সন্তোষধীঃ॥
    মধু নক্তমুতোষসো           মধুমৎ পার্থিবং রজঃ।              মধু দ্যৌরস্তু নঃ পিতা॥
    মধুমান্নো বনস্পতি           মধুমান্নোনস্তু সূর্যঃ।                  মাধ্বী গার্বো ভবন্তু। (ঋগে¦দ-১/৯০/৬-৮)

ওঁ দ্যৌঃ শান্তিরন্তরিক্ষং শান্তিঃ
পৃথিবী শান্তিরাপঃ শান্তি রোষধয়ঃ শান্তিঃ॥
বনস্পতয়ঃ শান্তির্বিশ্বেদেবাঃ শান্তি ব্রহ্ম শান্তিঃ
সর্বং শান্তিঃ শান্তিরেব শান্তিঃ সা মা শান্তিরেধি॥ (শুক্ল যজুর্বেদ ৩৬/১৭)

       ওঁ অসতো মা সদ্গময়    তমসো মা জ্যোতির্গময়
         মৃত্যুর্মাহমৃতংগময়         আবিরাবি র্ম এধি।

ওঁ সর্বেষাং মঙ্গলাং ভুয়াৎ           সর্বে সুখিনঃ ভবন্তু
সর্বে সন্তু নিরাময়া               সর্বে ভদ্রাণী পশন্তু
মা কশ্চিদ্ দুঃখ ভাক্ ভবেৎ ॥ (বৃহদারণ্যক উপনিষদ)

ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ।
স্বস্তি ন-স্তার্ক্ষ্যােরিষ্টনেমিঃ স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দধাতু ॥
     ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি ॥ (অথর্ববেদীয় শান্তিমন্ত্র)

                        ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যৎ ভবেৎ।
                        পূর্ণং ভবতু তৎ প্রসাদাৎ জনার্দন ॥
ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং        পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায়        পূর্ণমেবাবশিষ্যতে॥
ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি ॥ (শুক্ল যজুর্বেদ)

ভোগ নিবেদন :
    ভোগ নিবেদন পাত্রে একটি করে তুলসী পাতা দিতে হবে। ভোগ নিবেদন পাত্রের পাশে গ্লাসে জল দিতে হবে, কর্পূর দিতে পারলে ভাল হয়। ভোগ নিবেদনে আপনার গুরু প্রদত্ত দীক্ষামন্ত্র/পঞ্চতত্ত্ব/হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কমপক্ষে ১০ বার (প্রতি পাত্রের জন্য) জপ করুন এবং পূর্বের মতো বীজমন্ত্র উচ্চারণ করে ফুল, জল অর্পণ করুন।
নিবেদনের প্রণাম মন্ত্র : 
    সমানায় স্বাহা     উপানায় স্বাহা   
    অপানায় স্বাহা     ব্যানানায় স্বাহা
               পস্তুরমসি  স্বাহা
ভূ পতয়ে নমঃ         ভূব পতয়ে নমঃ
স্ব পতয়ে নমঃ         ভূভূর্বস্ব পতয়ে নমঃ
       নারায়ণ শ্রীবিষ্ণবে নমঃ।

এতৎ সোপকরণামান্ননৈবেদ্যং ওঁ শ্রীশ্রীদেব /শ্রীশ্রীদেব্যৈ নমঃ (নৈবেদ্যে ফুল দিতে হবে)।
ভোগ নিবেদনের পর : বিগ্রহের বীজমন্ত্রে ধ্যানমন্ত্র অনুযায়ী ধ্যান করতে হবে (কমপক্ষে ১০ বার

পঞ্চতত্ত্ব বন্দনা :
     জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
    শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ॥
মহামন্ত্র :
       হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
      হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

লক্ষ্মীর পাঁচালী :

আরতী    : ১. ধূপ ২.পঞ্চদীপ ৩. কর্পূরদীপ ৪. জলশঙ্খ ৫. রুমাল/পাখা (শীতে পাখা বন্ধ) ৬. পুষ্পচন্দন।

                   ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যৎ ভবেৎ।
                     পূর্ণং ভবতু তৎ প্রসাদাৎ জনার্দন ॥
ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং        পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায়        পূর্ণমেবাবশিষ্যতে॥
ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি ॥ (শুক্ল যজুর্বেদ)
                                                         ......................................................................................................................................................................

কালী প্রণামমন্ত্র :
      ওঁ জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রাকালী কপালিনী।
       দুর্গা শিবা ক্ষমাধাত্রী স্বাহা সদা নমোহস্তুতে ॥
         সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
                 শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোহস্তুতে॥ (শ্রীশ্রীচণ্ডী-১১/১০)

তুলসী চয়নমন্ত্র :      ওঁ তুলস্যমৃতনামামি সদা ত্বং কেশবপ্রিয়ে।
                 কেশবার্থে চিনোমি ত্বাং বরদা ভব শোভন্ ে॥
আরতী তত্ত্ব :
১.       ধূপ        ক্ষিতিতত্ত্ব      দেহের প্রতীক                 দেহ সমর্পণ।     
২.     পঞ্চদীপ    তেজতত্ত্ব        পঞ্চপ্রাণের প্রতীক           পঞ্চপ্রাণ সমর্পণ    
৩.    কর্পূরদীপ   বায়ুতত্ত্ব        মন বুদ্ধির প্রতীক                 মনসমর্পণ।            
৪.    জলশঙ্খ    জলতত্ত্ব         স্নেহ, প্রীতির প্রতীক, হৃদয় পবিত্রতার             প্রীতিসমর্পণ।
৫.   বস্ত্র/রুমাল  আকাশতত্ত্ব     লজ্জা, ভয়াদির প্রতীক-হৃদয়পাত্র ভরা             প্রীতি সমর্পণ।
৬.    পুষ্পচন্দন   ভক্তিমাখা        আত্মসমর্পণ                              সর্বতোভাবে নিজেকে দান।
৭.  পাখা/চামর  অহংকার তত্ত্ব      অহংসত্ত্বা ঈশ্বরে মিলিয়ে দেয়া।
[
(ওঁ-কার আকৃতিতে আরতী করতে হয়। শ্রীমুখে ৩ বার, বুকে ১ বার, নাভিতে ১ বার, চরণে ২ বার সর্বাঙ্গে ৭ বার মোট ১৪ বার। ১৪ বারের কম নয়, বেশি যত খুশি)
রাধাকৃষ্ণ শয়নমন্ত্র :      আগচ্ছ শয়নস্থানং প্রিয়াভিঃ সহ কেশব।
                             দিভ্য পুষ্পাঢ্য শয্যায়াং সুখং বিহর মাধব॥

সিঁদুর পরার মন্ত্র :
         ওঁ শিরোভূষণং সিন্দুরং ভর্তারায়ুর্বিবর্ধনং
        সর্বরত্নাকরং দিব্যং সিন্দুরং পতিগৃহ্যতাম্ ॥

মৃত্যু সংবাদ শোনা মাত্র যে মন্ত্র বলতে হয় :

ওঁ কৃত্বাতু দুষ্কৃতং কর্মং জানতা বাপ্য জানতা।
মৃত্যুকালবশং প্রাপ্য নরং পঞ্চত্বমাগতম॥
ধর্মাধর্ম সমাযুক্তং লোভ মোহ সমাবৃতম্।
 দহেয়াং সর্বগাত্রাণি দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু॥

পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র (৩ বার পাঠসহ)
=================
ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।
নমঃভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।
প্রনাম মন্ত্র
=======
নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে।।
জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।
সরস্বতীর স্তব
=======
শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেত পুষ্পোপশোভিতা।
শ্বেতাম্ভরধরা নিত্যা শ্বেতাগন্ধানুলেপনা।।
শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চ্চিতা।
শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারব‌ভূষিতা
বন্দিতা সিদ্ধগন্ধর্ব্বৈর্চ্চিতা দেবদানবৈঃ।
পূঝিতা মুনিভি: সর্ব্বৈঋষিভিঃ স্তূয়তে সদা।।
স্তোত্রেণানেন তাং দেবীং জগদ্ধাত্রীং সরস্বতীম্।
যে স্মরতি ত্রিসন্ধ্যায়ং সর্ব্বাং বিদ্যাং লভন্তি তে।।

তথ্য সুত্র - ইন্টারনেট
Share:

০২ জুলাই ২০১৮

উপবাসের অলৌকিক ক্ষমতা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিপাত

আমরা এই জড়া প্রকৃতিতে জন্মগ্রহণ করেছি মানেই,কোনো পাপের ফল। মানবদেহ পাওয়ার অর্থ-কিছু কিছু পুণ্য সঞ্চয়ের ফল,এবং ভগবদ্ভজনের মাধ্যমে ভগবৎ প্রাপ্তির এক সুযোগ।

ভুল এবং পাপ মানব জীবনে হবেই। ভুল সবারই হতে পারে,তা সে সাধুই হোক আর মহাপুরুষই হোক। আর পাপ তো সাধারণ মানুষের নানাভাবে হতে পারে। যেমন-ক্রোধ করা,কাউকে কটু কথা বলা,জেনেশুনে খারাপ জিনিস দর্শণ,খারাপ জিনিস শ্রবণ করে-দৃষ্টি ও শ্রবণ দ্বারা পাপ।

এমন অজস্র পাপ আমরা জেনেশুনে শুধুমাত্র ইন্দ্রিয় সংযম না থাকার ফলে করে ফেলি।

আবার অজান্ত একটি পিঁপড়েকে মেরে ফেলাও পাপ। বাহ্যিক পাপ আমাদের দ্বারা হয়ই। এবার যদি খাদ্যের মাধ্যমেও পাপ গ্রহণ করি,কি অবস্থা হতে পারে ভাবুন!

একাদশীর দিন পাপপুরুষ,ভগবানের আদেশ ও অনুরোধে পঞ্চশস্যে অবস্থান করে। তাই একাদশীতে ঐ জাতীয় আহার না করে,পাপ থেকে কিছুটা বিরত থাকা যায়।

এবার অনেকে একাদশী করে-শুধু উপবাস থেকে। শুধু উপবাস থেকেই যদি ভগবৎ প্রাপ্তি হতো,তাহলে পথেঘাটের ভিক্ষুকেরা তো বছরে অনেক উপবাস করে। তাদের তো আপনার থেকে অনেক আগে ভগবৎ প্রাপ্তি হওয়া উচিৎ!

একাদশীতে যত বেশি পারা যায় জপ করতে হবে,তবেই উপবাস সার্থক।



এবার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি:-

আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তা দেহের শক্তি জোগায়,এবং নতুন কোষ তৈরির ক্ষমতা দেয়। এই দুই প্রক্রিয়ায়ই প্রচুর বিষ উৎপন্ন হয়,যা কোষের ক্রিয়াশীলতায় বাধা দেয়।

গৃহীত খাদ্য চূর্ণ হয়ে যকৃতে গিয়ে পৌছায়। ফুসফুস ও মূত্রাশয়ের মতো যকৃতও সকল বিষ ও বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বের করে দেয়।

এবার উপবাসের সময় যেহেতু দেহ কোনো খাদ্য গ্রহণ করে না,তাই নতুন বিষও উৎপন্ন হয় না,এবং তখন যকৃৎ শুধু বিষ নিষ্কাশনের জন্যই পুরো সময় কাজ করে।



প্রক্রিয়াটি আরেকটু ভাল করে বুঝুন-

টিকে থাকার জন্য দেহের ইন্ধনের প্রয়োজন। দেহ যখন নতুন ইন্ধন পাচ্ছে না,তখন দেহে সঞ্চিত বিষ-এর উপর ক্রিয়া করে সেগুলি দগ্ধ করে।

এরপর সঞ্চিত পুষ্টিকর উপাদান,যেমন-সঞ্চিত ফ্যাট,ক্যালোরি-এর উপর ক্রিয়া করে।

এই কারনেই অতিরিক্ত স্থূলদেহের ব্যক্তিকে ডাক্তারও উপবাসের উপদেশ দেন।




দীর্ঘ উপবাসকালের পর যখন দেহকোষের কার্যকে বিঘ্ন ঘটানোর মতো বিষের পরিমাণ দেহে কমে যায়,তখন দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়,রক্ত বিশুদ্ধ হয়,ত্বক পরিস্কার হতে শুরু করে।

মা এবং বোনেরা শুনুন-

উপবাসে মুখমন্ডলের দিপ্তিও অনেক বৃদ্ধি পায়।


এই কারনেই হসপিটালে রোগী যখন খাদ্যগ্রহণ বন্ধ রাখে-অনাহারের ফলে রোগীর নয়,রোগের মৃত্যু হয়।

আজ চিকিৎসকেরা উপবাসকে বিকল্প চিকিৎসা হিসাবে ব্যবহার ক'রে-রক্তাল্পতা,জ্বর,অনিয়মিত স্রাব,মাথাব্যাথা,বাত,মানসিক অবসাদ ইত্যাদির চিকিৎসা করছেন।


"সুতরাং প্রতি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান,আধ্যাত্মিকতাকে ভর ক'রে,আধ্যাত্মিকতা বিজ্ঞানকে নয়!"

বিজ্ঞানকে প্রতি ক্ষেত্রেই আধ্যাত্মিকতার কাছে শিখতে হয়!!

Collected Narayan Chandra Roy

Share:

০৩ জানুয়ারি ২০১৮

যজ্ঞ কেন করা হয় ? যজ্ঞ কি ?

যজ্ঞ হচ্ছে মহৎ উদ্দেশ্যে সাধিত শুভ কর্ম। যেখানে বলি দেয়া নিজের আত্মম্ভরিতাকে, স্বার্থপরতাকে এবং পাশবিকতাকে। যজ্ঞের দর্শন আমাদের শেখায় সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠাকে এবং তুলে ধরে এমন জীবন ব্যবস্থাকে যেখানে মানবীয় গুণাবলীকে রক্ষা ও এর আদর্শ সমাজে প্রচারিত করা হয়। এরকম কিছু যজ্ঞ হচ্ছে সেবা যজ্ঞ- যেখানে সমাজ সেবাই সকলের ব্রত, জ্ঞান যজ্ঞ- মানবসমাজে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা প্রজ্বলনের ব্রত, প্রাণ যজ্ঞ- যেখানে জীবের প্রাণ রক্ষাই আমাদের ব্রত। সত্যি করে বলতে আমরা জেনে না জেনে অনেক যজ্ঞই করছি মনের অগোচরে।

আমরা সাধারণত যজ্ঞ বলতে বুঝি একটি কুণ্ডে আগুন জ্বালিয়ে মন্ত্র পাঠ করে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য আহুতি দেয়া। বৈদিক ধর্মে এমনি নিত্য আচরিত একটি যজ্ঞ হচ্ছে হবন বা অগ্নিহোত্র।

অনেক বস্তুবাদীই প্রশ্ন করতে পারেন অগ্নিহোত্র কি অর্থহীন আড়ম্বর নয়? মোটেও নয়, বরং এর মাঝে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের অন্যতম বিস্ময়।

আমাদের এ জগতে শক্তির মধ্যে তাপ শক্তি ও শব্দ শক্তি অন্যতম। যজ্ঞে এই দুই শক্তিরই সম্মেলনে আমরা অর্জন করতে পারি শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উপকারিতা। যজ্ঞে বিভিন্ন পদার্থের দহন ঐ বস্তুর অন্তর্নিহিত সঞ্চিত শক্তির উন্মোচন ও পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়ার একটি উৎকৃষ্ট প্রক্রিয়া। অন্যদিকে যজ্ঞে উচ্চারিত মন্ত্রের কম্পাঙ্ক শক্তি বহন করে এক আধ্যাত্মিক প্রেরণা।

যজ্ঞে সমিধ হিসেবে যেসব দ্রব্য ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে থাকে নানা সুগন্ধি পদার্থ, ওষধি বৃক্ষের কাঠ, পুষ্টিকর খাদ্য ইত্যাদি। আপনাদের মনে হতে পারে এসব দ্রব্য পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড, বিষাক্ত কার্বন মনো অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উৎপন্ন হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি বৈদিক কল্প ও ব্রাহ্মণ গ্রন্থের বিধি মোতাবেক সঠিক অনুপাতে জ্বালানী, দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেন এবং যজ্ঞকুণ্ড যদি শাস্ত্রীয় রীতি অনুসারে তৈরী করেন তবে কোনো বিষাক্ত গ্যাসই উৎপন্ন হবে না। যে কার্বন ডাই অক্সাইড যজ্ঞকুণ্ডে উৎপন্ন হবে তা যজ্ঞকুণ্ডের প্রবল উত্তাপে বাষ্পের সঙ্গে ক্রিয়া করে ফরমালডিহাইড উৎপন্ন করবে যা যজ্ঞকুণ্ডের চারপাশের পরিবেশ সুগন্ধে পূর্ণ করে তুলবে। আর এই গ্যাস কেবল সুগন্ধিই নয়, বায়ুতে থাকা বিভিন্ন কীটাণু দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ যজ্ঞের মাধ্যমে আপনি পাবেন দুর্গন্ধ মুক্ত স্বাস্থ্যকর এক পরিবেশ। আর যে অল্প পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে যাবে সেটি সালোকসংশ্লেষণ ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যাবে। যা একই সাথে বৃক্ষরাজির খাদ্য ও পরিবেশে মুক্ত অক্সিজেনের যোগান দেবে। তাই যজ্ঞ কেবল যজ্ঞকারীর নয়, বরং সমগ্র পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

অনেকে বলতে পারেন যজ্ঞে ব্যবহৃত কাঠের জন্য তো প্রচুর বৃক্ষ নিধন করতে হবে। আপনাদের জন্য বলছি বৈদিক ঋষিগণ কেবল মৃত বৃক্ষের কর্তনেরই নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই সাথে মনু আদি মহর্ষিরা ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন। তাই যজ্ঞের জন্য কোনো জীবিত বৃক্ষ কর্তনের প্রয়োজন নেই, বরং মৃত বা মৃতপ্রায় বৃক্ষের কাঠই যজ্ঞে সমিধারূপে ব্যবহৃত হবে।

বর্তমান পরিবেশ দূষণ ও রোগ মহামারীর যুগে যজ্ঞের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ড. হাফকিন বলেছেন, “ঘি এবং চিনি মিশ্রণ করে যজ্ঞে পোড়ালে যে ধোঁয়া উৎপন্ন হয় তা বিভিন্ন রোগজীবাণু ধ্বংস করে।” প্রফেসর টিলওয়ার্ড বলেন, “চিনি মিশ্রিত হবিষ্যের পরিবেশ শোধনের শক্তি রয়েছে। এটি যক্ষ্মা, মিলস, বসন্ত প্রভৃতি জীবাণুনাশক।”

গায়ত্রী পরিবার আয়োজিত গোরখপুরে অশ্বমেধ যজ্ঞ চলাকালীন সময়ে “উত্তর প্রদেশ দূষণ রক্ষা বোর্ড” এর ডিরেক্টর ড. মনোজ গর্গ একদল বিজ্ঞানী নিয়ে বেশকিছু পরীক্ষা চালান। এই পরীক্ষার ফল “অখণ্ড জ্যোতি” সাময়ীকির সেপ্টেম্বর ’৯৭ সংখ্যাতে প্রকাশ পায়। যা যজ্ঞের ব্যাপক উপযোগিতা ফুটিয়ে তুলে। বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যজ্ঞ সম্পাদনের পূর্বে সে স্থানে বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩.৩৬ ও ১.১৬ ইউনিট এবং যজ্ঞ সম্পাদনের শেষে বিষাক্ত গ্যাস দুটির পরিমাণ কমে দাড়ায় যথাক্রমে ০.৮০ ও ১.০২ ইউনিট। বিজ্ঞানীর দল যজ্ঞকুণ্ডের কিছু দূরে অবস্থিত জলাশয়ের পানি পরীক্ষা করেও অভূতপূর্ব ফল লাভ করেন। তাঁরা দেখতে পান সংগৃহীত নমুনায় যজ্ঞের পূর্বে ব্যাকটেরিয়া ছিল ৪৫০০ এবং যজ্ঞের শেষে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কমে দাড়ায় ১২৫০। যজ্ঞাবশিষ্ট যে ছাই ছিল তাতে মিনারেল পদার্থের পরিমাণ পরীক্ষা করে উত্তর প্রদেশ কৃষির ডেপুটি ডিরেক্টর একে উত্তর মৃত্তিকা উর্বরকারক বলে মত দেন। ১৯৯৩-১৯৯৫ পর্যন্ত ২৭টি যজ্ঞভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যার প্রত্যেকটিই বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে যজ্ঞের উপযোগিতা ব্যাপকহারে সমর্থন করে।

আপনারা অনেকেই ভূপাল ট্র্যাজেডির কথা শুনেছেন, যেখানে বিষাক্ত এমআইসি গ্যাস নির্গমনের ফলে শতশত মানুষ মারা যায় এবং সহস্র মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এই গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল মাইলের পর মাইল। ৪মে ১৯৮৫ এর দৈনিক “দ্যা হিন্দি” এর একটি প্রতিবেদন সকলকে বিস্ময়ে হতবাক করে দেয়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “দূষণ প্রতিরোধে বৈদিক উপায়।” যেখানে বলা হয় ওই গ্যাস প্ল্যান্টের খুব নিকটবর্তী সোহান লাল খুশওয়া এর পরিবারের কোনো সদস্যই ওই ঘটনার ফলে মৃত্যু তো দূরে থাক অসুস্থই হয় নি। কারণ কি? অগ্নিহোত্র। হ্যাঁ একমাত্র এই পরিবারটিই সেখানে নিয়মিত বৈদিক অগ্নিহোত্র যজ্ঞ করত। যার ফল স্বরূপ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পায় পরিবারটি। আর এই ঘটনা পরিবেশ দূষণ রোধে অগ্নিহোত্র যজ্ঞের কার্যকারিতা পুনরায় প্রতিপাদন করল।

তাই তো বৈদিক ধর্ম ঘোষণা দিয়েছে “য়জ্ঞো বৈ শ্রেষ্ঠতম কর্মম্”। ভগবানও বলেছেন যজ্ঞের মাধ্যমে মনীষিরা কেবল নিজের চিত্ত শুদ্ধিই ঘটায় না, সেই সাথে ভূত অর্থাৎ পরিবেশের শুদ্ধতাও বজায় রাখে। আর কলির এ দুঃসময়ে আমরা যজ্ঞবিমুখী হয়ে কেবল অন্ধকারেই ঘুরে বেড়াচ্ছি। তাই আমাদের উচিত পুনরায় অগ্নিহোত্র আদি যজ্ঞ আয়োজনের মাধ্যমে সনাতনের স্বর্ণযুগে ফিরে যাওয়া। যেদিন ঘরে ঘরে সুবাসিত অগ্নিহোত্রের গন্ধ ছেয়ে যাবে এবং মুখে মুখে গায়ত্রীর পবিত্র ধ্বনি উচ্চারিত হবে সেদিনই কলি হবে পরাহত এবং ফিরে আসবে সনাতনের স্বর্ণযুগ।

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ( হরে কৃষ্ণ)

(C) ঈশ্বর বাণী কৃষ্ণ কথা
Share:

০১ ডিসেম্বর ২০১৭

লক্ষ্মীর পাঁচালী কেবল আবৃত্তি করে পড়ার বিষয় নয় বরং নিজ জীবনে প্রয়োগ করার বিষয়

বৃহস্পতি হলেন দেবগুরু। তাই এই বার কে “গুরুবার” বলা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে বলা হয় যে মনুষ্যের কুণ্ডলীতে বৃহস্পতির অবস্থান সঠিক ভাবে থাকে – সে কোনোদিন অর্থ কষ্টে পীড়িত হয় না । তাই বৃহস্পতিবারকেই ধন- সম্পদ- ঐশ্বর্যের দেবী মা লক্ষ্মীর পূজার বার রূপে ব্যাখায়িত হয়েছে। মা লক্ষ্মীকে কেবল আমরা জানি ধন সম্পদের দেবী রূপে। আর ধন সম্পদ বলতে আমরা বুঝি কেবল সোনা- দানা- হীরা- মুক্তা- টাকাপয়সাকে । কিন্তু মা লক্ষ্মী কি কেবল এই সকল জাগতিক ঐশ্বর্য প্রদান করেন ? কতটুকু আমরা বুঝি বা বোঝার চেষ্টা করি ? একটু লক্ষ্মীর পাঁচালীতে ভালোমতো পড়লে আমরা এই ধন- সম্পদ- ঐশ্বর্যের তত্ত্ব টুকু বুঝতে সমর্থ হবো। লক্ষ্মীর পাঁচালী বর্তমানে অনেক লেখকের দ্বারা রচিত হয়ে বাজারে এসেছে। কবিতার ছন্দ ও ভাষা আলাদা হলেও মূল তত্ত্ব এক।

 সুতরাং সেগুলো ভাষা বিন্যাস নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বরং ভেতরের মূল কথা জানার চেষ্টা করাই উত্তম । প্রথমত একটা প্রবাদ আছে- “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে”। এই কথা আজোও সত্য। পুরুষ চাকরী নিয়ে বাইরে ব্যস্ত। মাস গেলে সে কেবল তার বেতন এনে স্ত্রীর হাতে তুলে দেয়। সংসারের ব্যাপারে সে কিছুই জানে না। অথচ শ্বশুর শাশুড়ী, সন্তান, কুটুম্ব নিয়েই সংসার । এই দায়িত্ব কে কাঁধে নেন – উত্তর হবে স্ত্রী । সুতরাং সংসারের উন্নতি বা অবনতির দায়িত্ব স্ত্রীর হাতে। স্ত্রী চাইলে সংসারকেই স্বর্গ অথবা নরক বানাতে পারে । কিন্তু তার জন্য স্ত্রীদের কেবল ডিগ্রি নিয়ে পাশ করলেই হবে না- সুশিক্ষা , সদাচার, সুশীলা হওয়াও প্রয়োজন। সুতরাং আজকের যুগে নারীদের শিক্ষার পাশাপাশি সদাচার, সুশীল হওয়া প্রয়োজন । মা লক্ষ্মী নিজেই বলেছেন, তিঁনি নিজে কোন গৃহে থাকেন, কোন গৃহ থেকে প্রস্থান করেন । যথা-

লক্ষ্মীরূপ নারী সৃজি পাঠানু ধরায় ।
ভুলিয়া মোদের তারা মোহেতে মজয় ।।
লজ্জা আদি গুণ যত রমণীর ভূষণ ।
নারী সবে সেই লজ্জা দেছে বিসর্জন ।।
সন্ধ্যাকালে সন্ধ্যাবাতি নাহি হয় জ্বালা ।
ভালেতে সিন্দুর দিতে হইয়াছে ভোলা ।।
প্রভাতে দেয় না আর গোবরের ছড়া ।
নাহি করে ঘৃণা মনে বাসি বস্ত্র পরা ।।
পিতামাতা নাহি মানে কোন গুরুজন ।
শ্বশুর শাসুড়ী প্রতি বরষে কুবচন ।।
আত্মীয়, অতিথি হয় যথা নারায়ণ ।
তাদের দূর করে হেরিলে সর্বক্ষণ ।।
এইরূপ ঘরে ঘরে নানা ব্যাভিচার ।
অচলা হইয়া থাকি বল কি প্রকার ।।
( শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর পাঁচালী ও ব্রতকথা... শ্রীপশুপতি চট্টোপাধ্যায়... রাজেন্দ্র লাইব্রেরী )

মা নিজেই বলছেন কারা কৃপা পায়। সংযম হল পুরুষের ভূষণ আর লজ্জা হল স্ত্রীর ভূষণ । নারী যদি সেই লজ্জা ত্যাগ করে তবে সেই সংসারের দুর্গতির সীমা থাকে না । এই লজ্জা কি ? তাও বলেছেন দেবী- এঁয়োতি নারী শাঁখা- পলা- সিঁদূর বাদ দেওয়া, দেব দ্বিজে ভক্তি না করা, বাসী ঘর পরিষ্কার না করা, গুরুজনদের সাথে ঝগড়া করা, অতিথিকে যত্ন না করে তিরস্কার করা- এগুলিই করাই ত লজ্জা ও কলঙ্ক। তাই নারীকে এগুলি করার থেকে বিরত থাকতে হবে । না হলে শুধু শুধু ফটোতে মা লক্ষ্মীর পূজা করে ১০০ বছরেও সংসারে মা লক্ষ্মীর অধিষ্ঠান করতে পারবেন না। লক্ষ্মী দেবী নিজেও বলেছেন- “লক্ষ্মীরূপ নারী সৃজি পাঠানু ধরায়”- অর্থাৎ নারী মাত্রই লক্ষ্মী। কিন্তু সেটাকে উপলব্ধি করতে হবে। আমরা সকলে বলি আমাদের ভেতর ঈশ্বর আছেন। শুধু কবিতার মতো এটা আবৃত্তি করলে কিছুই হবে না, যতক্ষণ না নিজে সেটা উপলব্ধি করতে পারছি । সুতরাং নারীকে সেই “লক্ষ্মীশ্রী” অর্জন করতে হবে। লক্ষ্মীর পাঁচালীতে সেই কথা ছত্রে ছত্রে লিপিবদ্ধ আছে। সেই উপায়গুলী বাস্তবে অর্জন করতে হবে । মা লক্ষ্মী আবার নিজেই বলেছেন, যে তিনি কোন সংসারে থাকেন-

শান্তিপূর্ণ দেখি আমি যাই সে আলয় ।
অনাচার করি সবে আমারে তাড়ায় ।।
তাইতো চঞ্চলা হয়ে ফিরি দ্বারে দ্বারে ।
জগতের সকলে বলে চঞ্চলা আমারে ।।
যে গৃহে প্রভাতে উঠি নারী সমুদয় ।
গৃহে আর গৃহাঙ্গনে গোময় ছিটায় ।।
স্নান করি করে সবে দেবতা অর্চন ।
তারপর গৃহকর্মে দেয় তারা মন ।।
যত্নেতে সময় মত করয়ে রন্ধন ।
নিজহস্তে যত্নে করে শিশুর পালন ।।
উচ্চ হাসি জোরে কথা করি পরিহার ।
গুরুজন প্রতি করে নম্র ব্যবহার ।।
স্বামীর আত্মীয়গণে সেবা যত্ন করে ।
ভক্তিমনে যেই নারী স্বামী সেবা করে ।।
কলহ বিবাদ কভু নাহি যে ভবনে ।
সদালাপ সদাচার করে সর্বক্ষণে ।।
শুদ্ধাচারে থাকে তারা সদা সর্বক্ষণ ।
গৃহকর্মে নাহি করে আলস্য কখন ।।
অতিথি আসিলে তার সদা যত্ন করে ।
একত্রে বসিয়া সবে ধর্মগ্রন্থ পড়ে ।।
কুটিলতা প্রবঞ্চনা মিথ্যা নাহি জানে ।
যথাযথ কথা বলে সহাস্য বসনে ।।
অহঙ্কার ক্রোধ হিংসা নাহিক যথায় ।
অপরের দুঃখ দেখি নিজে দুঃখ পায় ।।
পরদুঃখ দূর তরে সে হয় তৎপর ।
পরের সুখেতে হয় প্রফুল্ল অন্তর ।।
সধবা রমণী পরে কপালে সিন্দুর ।
হাসিমুখে থাকে কথা বলে সুমধুর ।।
সন্দেহ না কর ঋষি আমার বচনে ।
অচলা হইয়া থাকি আমি সে ভবনে ।।
( শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর পাঁচালী ও ব্রতকথা... শ্রীনাথ বসাক... বেনীমাধব শীলস্ লাইব্রেরী )

দেবী নিজেও বলেছেন তিনি কোন সংসারে থাকেন । যে গৃহ শান্তিময় অর্থাৎ যে গৃহে ঝগড়া , কলহ নেই , দেবী সেখানেই নিবাস করেন । নারীদের ঝগড়া করবার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। সর্বদা ঝগড়ার মানসিকতা থাকলে ভালো চিন্তা আর আসবে না । আবার বলেছেন দেবী, যে প্রভাতে উঠে গোময় দ্বারা গৃহ পরিষ্কার, স্নান করে দেবতার পূজা ও যত্ন করে নানাবিধ রান্নাবান্না করতে । এখন পাকা মোজাইক বাড়ীতে কিভাবে সম্ভব ? প্রথমত প্রাচীনকালে মাটির মেঝেতে গোবর জীবানু নিরোধক কাজ করতো। গোবোরে জীবানু নাশক ক্ষমতা থাকে। এখন ফিনাইল যথেষ্ট। নারীদের কাজ কর্ম করতে হয়। কারণ জিম বা ব্যায়াম করা সব নারীর পক্ষে অসম্ভব ।

আর কর্মঠ নারীদের শরীর সহজে রোগাগ্রস্ত হয় না, সুখ প্রসব হয়। এখন অধিকাংশ নারী দুপুর ১২ টায় ঘুম থেকে উঠে বেড-টি খেয়ে চাকর দিয়ে কাজ করায়, নিজে আরামে থাকে। ফলে কি দাঁড়ায় ? অল্প বয়সে সুগার, স্থূলত্ব, প্রেশার সহ নানা রোগের আগমন , হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার রোগ । দেখবেন শহরের নারীর থেকে গ্রামাঞ্চলের নারীদের শরীর ভালো। কেন ? তারা খুব খাটুনী করে ? দাস দাসী রাখে না । উচ্চ কথা বললে শক্তি হ্রাস পায় , আর যে নারী আত্মীয় স্বজন দের যত্ন না করে সমাজে তার নামে কলঙ্ক রটে । দেবী বলেছেন যে নারী সদালাপ , ধর্মগ্রন্থ পড়ে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন । কেন ? কারণ পরনিন্দা, পরচর্চা করতে করতে মনটাও কুটিল হয়, আর সেই নারী ধীরে ধীরে হিংসুক হয়ে যায় । পরনিন্দা করার থেকে সেই সময় ধার্মিক গ্রন্থ পাঠ, ঈশ্বরের নাম কীর্তন বা কোনো শুভকাজে নিজেকে নিয়োগ করা অনেক ভালো ।

দেবী আরোও বললেন- “শুদ্ধ বস্ত্রে থাকতে”। নোংরা বস্ত্রে থাকলে নিজের রোগ ও রান্নাবান্নাতেও নোংরা সংক্রামিত হয় । অপরের দুঃখ দেখে যে হাসে যে অপরের বিপদে পাশে না থেকে তামাশা দেখে দেবী লক্ষ্মী তাদের সংসার থেকেও বিদায় নেন । আবার দেবী এও বলেছেন- নারীদের হতে হবে “স্পষ্টবক্তা” “যথাযথ কথা বলে সহাস্য বসনে ।।” যেটা স্পষ্ট সেটা মধুর ভাবে বলতে । তার প্রতিকার করতে।দেবী লক্ষ্মী এটাও বলেছেন যে নারী অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, দেবী তারই গৃহে অবস্থান করেন । নারীর পরম গুরু হলেন স্বামী। মা লক্ষ্মী নিজে ভগবান বিষ্ণুর চরণসেবা করেন- এতে নারীর মান কমে যায় না, বরং বৃদ্ধি পায়। সীতাদেবী কি ভগবান রামচন্দ্রের চরণ সেবা করেন নি ? কিংবা সাবিত্রী দেবী সত্যবানের ? এঁনারা সতী নারী রূপে এখনও মানুষের শ্রদ্ধেয়।

 সুতরাং স্বামীর সেবা করলে নারীর মান কমে না, বরং সেবা ভাবনার মধ্যেই নারীর সতীত্ব উজ্জ্বল হয় । অন্তিমে বলা যায় লক্ষ্মীর পাঁচালী কেবল আবৃত্তি করে পড়ার বিষয় নয়। সেই নিয়ম গুলিকে যে নারী নিজ জীবনে প্রয়োগ করে দেবী লক্ষ্মী তার সংসারে অবস্থান করেন। এই যে সুশীলা, সদাচার, সুশিক্ষা, মধুর আচরণ, অন্যায়র প্রতিবাদের পথ, অতিথিকে আদর- আপ্যায়ন, স্বামীসেবা এগুলিই ত নারীর অন্তরের ধন- সম্পদ- ঐশ্বর্য, আর মা লক্ষ্মী ধন- ঐশ্বর্য- সম্পদ প্রদায়িনী দেবী ।
Share:

২৫ অক্টোবর ২০১৭

পূজা অর্চনায় শঙ্খ ব্যবহারের বিধি-নিষেধ

পবিত্র সনাতন ধর্মে শঙ্খ ভগবান বিষ্ণুর প্রতীক। একে বিষ্ণুর অর্ধাঙ্গী হিসেবেও পূজো করা হয়। সৃষ্টির শুরুতে সমুদ্রগর্ভ হতে, পালনকর্তা ভগবান বিষ্ণু ও স্বর্গীয় দেবতাদের তৈরী ঘূর্ণাবর্তের মধ্য থেকে অস্ত্ররূপে শঙ্খকে হাতে ধরে আবির্ভাব হয় ভগবান বিষ্ণুর। অপরদিকে শঙ্খ ধন ও প্রতিপত্তির দেবী মা লক্ষীর আব্রু। “ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ” মতে, শঙ্খ ভগবান বিষ্ণু এবং মা লক্ষ্মীর অধিষ্ঠানকারী মন্দির।

 পূজো-অর্চনায় শঙ্খের ব্যবহারঃ

আরতিতে দুই ধরণের শঙ্খ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি পূজোর পূর্বে শঙ্খনাদ ধ্বনি উচ্চারনে আর অন্যটি পূজোর সামগ্রী হিসেবে প্রনিত্য পূজো, য়োজন হয়। কিন্তু কখনোই পূজোর আগে বাজানোর জন্যে ব্যবহৃত শঙ্খ পূজোর কাজে ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

“বরাহ পুরাণ” স্পষ্ট ভাবে বলেছে, কখনই মন্দিরের দ্বার শঙ্খ ধ্বনির উচ্চারণ ব্যতীত খোলা উচিৎ নয়। বামাবর্তী শঙ্খ বাজানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়।

যেহেতু শঙ্খনী জাতীয় শঙ্খ ব্যবহার নিষিদ্ধ, তাই এগুলো কালো জাদু, যাকে বলা হয় “অঘোরী বিদ্যা” কিম্বা অপদেবতার আরাধনায় কাজে লাগানো হয়।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবসময় মনে রাখা উচিৎঃ

ক) যে শঙ্খ ব্যবহার করা হয়, সেটা কখনোই পূজোর শঙ্খ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
খ) শঙ্খ বাজাবার পর সেটা ধুয়ে রাখা জল কখনোই দেব-দেবীকে অঞ্জলী দেয়া চলবে না।
গ) কখনোই পূজোর কাজে দুক) বাজানোর কাজে টি শঙ্খ রাখা যাবে না।
ঘ) কোনোক্ষেত্রেই শিব পিন্ডিকে নিত্যপূজো চলাকালীন শঙ্খ দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না।
ঙ) দেবাদিদেব মহাদেব এবং সূর্যদেবের স্নানের কাজে কখনোই শঙ্খ ব্যবহার করা যাবে না।

শঙ্খের ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক উপকারিতাঃ

১) শঙ্খকে ওম ধ্বনির উৎপাদক বলা হয়।

২) শঙ্খ আনে সুনাম, দীর্ঘায়ু আর যশ; দূর করে সকল পাপ, ক্লেশ, উৎপন্ন করে পবিত্র জলের প্রস্রবণ।

৩) একবার শঙ্খ বাজালে যে ধ্বনি উৎপন্ন হয় তা থেকে তিন ধরণের শক্তি নির্গত হয়। একটি হল “চৈতন্য”। এই শক্তি বৃত্তাকারে শাঁখের খোলোসের মধ্যভাগ হতে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি হল “ধ্যান” যা তির্যক সরলরৈখিক পথে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আর সর্বশেষ শক্তিটি হল “আনন্দ” যেটা ক্রমান্বয়ে শঙ্খের মধ্যভাগ হতে ধীরে ধীরে সবার অন্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

৪) প্রকৃতিতে প্রধানত তিন ধরণের শক্তি তরঙ্গ থাকে। এই তরঙ্গগুলোই হল সমগ্র সৃষ্টি জগতের নির্মাণ তন্তু। এদের মধ্যে একটি হল “সত্যবাদ তরঙ্গ” আর বাকী দুটি “রাজসিক (অহঙ্কার অর্থে) তরঙ্গ” এবং “তমসিক (দুষ্প্রবৃত্তি)তরঙ্গ”। এই প্রতিটি তরঙ্গের মধ্যে পাঁচ ধরণের মহাজাগতিক উপাদান থাকে। এরা হল “ভূমি”, “জল”, “আগুন”, “বায়ু” এবং “ইথার”। সত্যবাদ, রাজসিক এবং তমসিক তরঙ্গের সংখ্যা এই পাঁচটি উপাদানের ভিত্তিতে যথাক্রমে ১৫০ টি, ২০০ টি এবং ১৫০ টি (সত্যবাদ তরঙ্গের বিপরীত অনুক্রমে বণ্টিত)। রাজসিক আর তামসিক তরঙ্গদ্বয় সত্যবাদ তরঙ্গকে মন্দিরের পরিবেশে প্রবেশে বাধা দেয়। শঙ্খনাদ রাজসিক এবং তামসিক তরঙ্গদ্বয়কে প্রতিহত করে মন্দিরের পরিবেশ, সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর মাঝে সত্যবাদ শক্তিকে প্রবেশ করায় যা মনের সব অহংবোধ, জড়তা, আঁধার কেটে সবকিছুকে পবিত্র করে। আবার শঙ্খনী জাতীয় শঙ্খে খাঁজগুলো অসম ভাবে বণ্টিত থাকে, যার দরুন এই শঙ্খ বাজালে সত্যবাদ তরঙ্গের ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে রাজসিক আর তমসিক তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কমে গিয়ে কম্পাঙ্ক বেড়ে যায়, অর্থাৎ তীব্রতা বাড়ে।

৫) “যর্যুবেদ” এবং আধুনিক বিজ্ঞান এর ভাষ্যমতে শঙ্খ থেকে উৎপন্ন কম্পন যে তরঙ্গের সৃষ্টি করে তা বাতাসের সাথে মিশে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস করে।

৬) নিয়ম মাফিক শঙ্খ বাজালে, বাদকের মস্তিষ্কের গোড়ার সুষুম্না কাণ্ড সতেজ থাকে, রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং রাজসিক ও তমসিক তরঙ্গের অন্তর্গত তেজ ও বায়ুর উপাদানগুলো সাম্যাবস্থায় থাকে।

৭) আয়ূর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থায় শঙ্খচূর্ণ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শঙ্খ চূর্ণ ক্যালসিয়া, ম্যাগনেসিয়াম এবং লৌহ ধারণ করে যা পেটের পিড়া দূর করে পরিপাক ব্যবস্থাকে সচল রাখে।

৮) শঙ্খের সাথে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের সমাহারে তৈরী বড়ি “শঙ্খবতী” যা “ডিসপেপসিয়া” নামক অন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় ফলদায়ক। এটি বাত, পিত্ত দমন এবং সৌন্দর্য ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ।

৯) কিছু কিছু শঙ্খ মুক্তা তৈরী করে।

কোন ভুল ভ্রান্তি হলে ক্ষমা করবেন
সংগ্রহ : হরে কৃষ্ণ সম্প্রদায়

Share:

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

"পিতৃপক্ষ এবং মহালয়াতে তর্পন"

তর্পন হল সেই কর্ম যার দ্বারা আমরা আমাদের পূর্বে মৃত দের উদ্যেশে তিল জল দিয়ে থাকি। তর্পন হল দুই প্রকার যথা --- ১> স্থানাঙ্গ ২> নিত্য। প্রতিদিন পুকুরে বা নদীতে স্থানের সময় যে তর্পন করা হয় তা স্থানাঙ্গ তর্পন। এর দ্বারা প্রতিদিনই পূর্বপুরুষ দের উদ্যেশে জল দেয়া হয়। কিন্তু আমরা এখন তা করতে অসমর্থ, তাই আমরা নিত্য তর্পন করি পিতৃপক্ষে। যা আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথির পরদিন থেকে শুরু হয় এবং মহালয়ার দিন আমাবস্যা পর্যন্ত এই কার্য করা যায়। আমাবস্যার দিন পিতৃপক্ষের শেষ এবং মাতৃপক্ষের শুরু হয় বলে এই দিনে বেশীর ভাগ মানুষ তর্পন করে থাকেন।

যদি আপনার বাবা বা মা অথবা দুজনেই মারা গিয়েছেন তাহলে আপনার তর্পন করা বাধ্যতা মূলক কর্তব্য। শুধুমাত্র আপনার মাতা পিতার উদ্যেশে তর্পন করবেন তা কিন্তু নয়, আপনি আপনার বংশের যত অগ্রজ ব্যক্তি আছেন যারা মারা গেছেন পূর্বে তাদের নামেও তর্পন করতে হবে। শুধুমাত্র আপনার বংশের নয়, আপনার মায়ের বংশের মৃতদের উদ্যেশেও তর্পন করতে হবে। আপনার স্ত্রী থাকলে তাহলে তার বংশের মৃতদের উদ্যেশেও তর্পন করতে হবে।

এবার জেনে নেই তর্পন কত প্রকার -- ১) মনুষ্য তর্পন, ২) ঋষি তর্পন, ৩) দিব্য পিতৃতর্পন, ৪) যম তর্পন, ৫) ভীষ্ম তর্পন, ৬) রাম তর্পন, ৭) শূদ্র তর্পন।
আপনার আঘে আপনার বংশে যারা মারা গিয়েছেন তারা এখন কোথায় আছেন? কেউ স্বর্গে, কেউ নরকে আর কেউ যদি খুব ভাল কাজ করে তাহলে বৈকুন্ঠ, কৈলাশে অথবা আবার পূর্নজন্ম নিয়েছেন। তারা যেখানেই থাকুন না কেন তাদের আত্মার এক সময় জল পাবার ইচ্ছা করে। তারা তাদের বংশধর দের কাছে জল প্রার্থনা করে। সেই জন্য আমরা তর্পন করে থাকি। এতে করে তাদের আত্মার শান্তি হয়। শুধু মাত্র আমাদের পূর্বজদের নয়, দেবতা ঋষি আদি মহান ব্যক্তিদের উদ্যেশেও তর্পন করতে হয়।

তর্পন করলে আমাদের মধ্যে শান্তির সঞ্চার হয়। পূর্ব পুরুষদের আশীর্বাদে আমাদের মঙ্গল হয়। শুধু পূর্বপুরুষ দের নয়, দেবতা ঋষি আদি দের আশীর্বাদও আমরা পাব। অপরপক্ষে, যদি আমরা তর্পন না করি তাহলে আমাদের পূর্বজদের আত্মা পীড়িত হয় হয়, তারা বিভিন্ন ভাবে আমাদের বুঝাতে চায় তাদের তৃষ্ণার কথা। অনেকে তাকে ভূতে উপদ্রব মনে করে কারণ তারা জানে না যে তাদের পূর্বজদের জলের প্রয়োজন। তাছাড়া সংসারে নেমে আসে অশান্তি।

****** (হয়ত) এখন অনেকেই জানতে চাইবেন তর্পন কীভাবে করতে হয়। এক কথায় বলছি জলাশয়ে নেমে তিল-জলে মন্ত্র উচ্চারণ করে তর্পন করতে হয়। মন্ত্র-তন্ত্র যা আছে সেই গুলো চাইলে আমি লিখতে পারতাম তবে এতে আপনারা বুঝতে পারবেন না আর তা অনেক বিস্তারিতও। তাই একজন অভিজ্ঞ পুরোহিতের শরণাপন্ন হতেই হবে।

(c) Prithwish Ghosh
Share:

৩০ মে ২০১৭

জামাই ষষ্ঠী

বিগত কয়েক দশক ধরে ভাঙছে একান্তবর্তী পরিবার৷ নারীশিক্ষার প্রসার ঘটছে – কাজের জন্য বাইরে পা রেখেছে মেয়েরা৷ ধীরে ধীরে প্রকৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে মেয়েরা৷ তাই আগের মতো আজ আর বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য কোনও ছুতো খুঁজতে হয় না মেয়েদের ৷শুধু জামাই ষষ্ঠী কেন, যে কোনও দিনই চাইলে এখন বিবাহিত মেয়েরা একবার বাবা -মাকে দেখে আসতে পারে ৷ শুধু তাই নয় কোনও কোনও ক্ষেত্রে কন্যা সন্তানই তাদের বৃদ্ধ বাবা মায়ের দেখা শোনার ভার তুলে নিচ্ছে হয়তো সে বাবা মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান। ৷সেক্ষেত্রে কন্যার গৃহে থাকার সুবাদে তো প্রতিদিনই জামাইবাবাজির দর্শন পাচ্ছেন শাশুড়ি মা৷ যা দেখে কেউ কেউ মনে করেন জামাই ষষ্ঠী প্রথাটাই আজ অপ্রাসঙ্গিক ৷ কিন্তু প্রতিদিন জামাই দর্শন হলেও তার মধ্য থেকেই একটা বিশেষ দিনে জামাইকে একটু আলাদা করে দেখতে চাওয়ার শখ তো কোন শাশুড়ি মায়ের হতে পারে ৷তার আগের প্রজন্মের মানুষেরা যা শিখিয়েছেন স্থান, কাল, পাত্র বদলে গেলেও তিনি যদি নতুন আঙ্গিকে সেই ধারারাহিকতা বজায় রাখতে চান তাহলে বঙ্গজীবনে জামাই ষষ্ঠী রয়ে যাবে৷


ষষ্ঠী পুজোয় ব্রতীরা সকালে চান করে উপোস থেকে নতুন পাখার ওপর আম্রপল্লব, আমসহ পাঁচফল আর ১০৮টি দুর্বাবাঁধা আঁটি দিয়ে পূজার উপকরণের সঙ্গে রাখে। করমচাসহ পাঁচ-সাত বা নয় রকমের ফল কেটে কাঁঠাল পাতার ওপর সাজিয়ে পুজোর সামনে রাখা হয়। ধান এ পুজোর সমৃদ্ধির প্রতীক, বহু সন্তানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং দুর্বা চিরসবুজ, চিরসতেজ বেঁচে থাকার ক্ষমতার অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ দুর্বা হল দীর্ঘ জীবনের প্রতীক। শাশুড়ি-মেয়ে-জামাতার দীর্ঘায়ু কামনা করে ধানদুর্বা দিয়ে উলুধ্বনিসহ বরণ করেন। প্রবাদ আছে, যম-জামাই ভাগনা-কেউ নয় আপনা। কারণ যম মানুষের মৃত্যুর দূত। জামাই এবং ভাগনা অন্যের বাড়ির উত্তরাধিকারী। তাদের কখনও নিজের বলে দাবি করা যায় না। এদের খুশি করার জন্য মাঝে মাঝেই আদর আপ্যায়ন করে খাওয়াতে হয়। তাই মেয়ে যাতে সুখে-শান্তিতে তার দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারে এজন্য জ্যৈষ্ঠ মাসে নতুন জামাইকে আদর করে বাড়িতে ডেকে এনে আম-দুধ খাইয়ে পরিতৃপ্ত করে। আশীর্বাদস্বরূপ উপহারসমাগ্রীও প্রদান করে।


গ্রামীণ জীবনে এখনো এর সার্বজনীন আবহ দেখতে পাওয়া যায়। জামাই ষষ্ঠীর সমস্ত আয়োজন করা হয় বাড়ির জামাইকে ঘিরে। জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই আচারটি পালন করা হয় বলেই এর নাম জামাই ষষ্ঠী। অবশ্য এর অন্য নাম অরণ্য ষষ্ঠী। পুজো হয়ে থাকে ষষ্ঠী দেবীরও । ষষ্ঠী দেবী মাতৃত্বের প্রতীক। সে কারণে ষষ্ঠী প্রতিমাতে দেখা যায় তিনি কোলে সন্তান ধারণ করে আছেন। ষষ্ঠী মাতার কাছে জামাইদের জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। ষষ্ঠী পুজোর আরেকটি বিশিষ্ট দিক হচ্ছে বেড়াল সেবা । বাড়ির গৃহপালিত বেড়ালদের এদিন খুব সেবা দেওয়া হয়। কারণ বেড়াল ষষ্ঠী দেবীর বাহন। প্রথমে জামাইরা পরে বাচ্চারা এবং সবশেষে বাড়ির বাকি সদস্যরা ষষ্টির জল নেয়। দূর্বা ঘাস জলে ডুবিয়ে শরীরে ছোঁয়ানো হয়। তারপর জলে ডোবানো পাখার বাতাস করতে করতে ‘ষাট ষাট, বালাই ষাট’ মন্ত্র আওড়ানো, সবশেষে দূর্বা পুঁটুলির চাল আর গামলাতে ডোবানো ফল হাতে দিয়ে প্রাথমিক ষষ্ঠীর ইতি টানা হয়। পরে শ্বাশুড়িরা মেয়ে জামাইকে নিয়ে মন্দিরে যান তাদের ভবিষ্যৎ মঙ্গল কামনার্থে।

এর পরের পর্বটি জামাইদের জন্য খুবই লোভনীয়। এ পর্বে দুপুরের ভুড়িভোজ, সাত রকমের ভাজা, শুক্তো, মুগের ডালের মুড়িঘন্ট, বিভিন্ন মাছের বাহারি রকমের পদ, কচি পাঁঠার ঝোল, চাটনি,দই-মিষ্টি, আম কাঁঠাল আরো কতো কি! সকাল থেকে শ্বাশুড়ি মায়েরা এতোসব রান্না করেন। নিজেরা কিন্তু উপবাস থাকেন কেউ কেউ আবার নিরামিশ খান। সনাতন ধর্মাবলম্বী মতে, এই পার্বণ মূলত পরিবেশ রক্ষার্থে গাছকে দেবতা বিশ্বাসে পুজো করা। কেননা এ আয়োজনে বিবিধ গাছের ডাল যেমন দরকার হয় তেমনি এ দিনে সনাতন পরিবারে থাকে বাহারি মৌসুমি ফল। কিন্তু এখন সময়ের পরিক্রমায় ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে এ পার্বনের মূল উদ্দেশ্য, শতবর্ষী ষষ্ঠী গাছ আর পুজোর জন্য পাওয়া যায় না। জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি, যখন আম-কাঁঠালের গন্ধে চারদিক সুবাসিত, তখনই জামাই ষষ্ঠী ব্রতটি হওয়ায় এর হাওয়া ধর্মীয় গন্ডি পেরিয়ে প্রভাব ফেলে গ্রামীণ সাধারণ জনজীবনেও। এ সময় শ্বশুর বাড়িতে জামাইরা আমন্ত্রণ পান।। ঠিক পুজোর মত না হলেও বাড়িতে জামাই আদরের ঘটা পড়ে যায়।

তবে জামাইবাবাজী খালি হাতে শ্বশুরবাড়ি আসেনা এই বিশেষ দিনটিতে, যতই আত্মভোলা হোক না কেন, শাশুড়ি মায়ের জন্য শাড়ী, ঝুড়ি ভর্তি আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, পান-সুপুরী, কানকো নাড়ানো রুই-কাতল মাছ, রসগোল্লার হাঁড়ি, ছানার সন্দেশ সাথে আনতে ভোলেনা। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও জ্যৈষ্ঠ মাসে জামাতাকে বাড়িতে এনে আম-দুধ খাওয়ানোর রেওয়াজ রয়েছে। তবে জামাই ষষ্ঠীর উপাচারগুলো সব অঞ্চলে এক রকম নয়। অঞ্চল ভেদে এর ভিন্নতা রয়েছে।

__আনন্দবাজার পত্রিকা হতে সংগৃহিত
Share:

০২ জানুয়ারি ২০১৭

আসুন, দেবী ভাগবত মতে লক্ষ্মী সম্পর্কেে কি বলা হয়েছে জেনে নিই

দেবী লক্ষ্মী কমলের মতো তিনি সুন্দরী, কমলাসনে তাঁর নিবাস। কমল বা পদ্ম হল বিকাশ বা অভ্যুদয়ের প্রতীক। পুরানে আছে সাগর মন্থন কালে দেবী লক্ষ্মী সমুদ্র থেকে প্রকট হন। সাগর হল লক্ষ্মী দেবীর পিতা। সাগরেই মুক্তা, প্রবাল আদি রত্ন পাওয়া যায়। রত্ন হল ধন, যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন লক্ষ্মী। তিযে স্বর্গে তিনিই স্বর্গ লক্ষ্মী, রাজগৃহে তিনি রাজলক্ষ্মী, গৃহে তিনি গৃহলক্ষ্মী। তিনি শান্তা, দান্তা, সুশীলা, সর্ব মঙ্গলা, ষড়রিপু বর্জিতা। এক কথায় ধন, জ্ঞান, শীল– তিনেরই বিকাশ দেবী নি বিষ্ণুপ্রিয়া। তিনি শ্রী বিষ্ণুর সহধর্মিণী।

 তিনি সীতা, তিনি রাধা তথা রুক্মিণী। তিনি মহাপ্রভুর সহধর্মিণী লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। তিনি ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের সহধর্মিণী মা সারদা। শরত ঋতু তে আমরা যে দুর্গাদেবীর পূজো করি তিনিও মহালক্ষ্মী স্বরূপা। দেবী লক্ষ্মী মহামায়া আদিশক্তির এক অংশ।
যেখানে শীল ও সদাচার থাকে দেবী সেখানেই বাস করেন। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে দেবী নিজ পরিচয় দিয়েছেন -- “যে সকল গৃহে গুরু, ঈশ্বর, পিতামাতা, আত্মীয়, অতিথি, পিতৃলোক রুষ্ট হন, সে সকল গৃহে আমি কদাপি প্রবেশ করি না। আমি সে সকল গৃহে যেতে ঘৃনা বোধ করি, যে সকল ব্যাক্তি স্বভাবতঃ মিথ্যাবাদী, সর্বদা কেবল ‘নাই’, ‘নাই’ করে, যারা দুর্বলচেতা এবং দুঃশীল। 

যারা সত্য হীন, মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে, বিশ্বাসঘাতক, কৃতঘ্ন, যে সকল ব্যাক্তি সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, ভয়গ্রস্ত, শত্রু গ্রস্ত, ঋণ গ্রস্ত, অতি কৃপণ, দীক্ষা হীন, শোকার্ত, মন্দঘ্নী, স্ত্রী বশীভূত, কুলটার পতি, দুর্বাক, কলহ পরায়ণ, যারা ভগবানের পূজো ও তাঁর নাম গুন কীর্তনে বিমুখ, যারা শয়নের পূর্বে পাদপ্রক্ষালন করে না, নগ্ন হয়ে শয়ন করে, বেশী ঘুমায়, প্রভাতে সন্ধ্যায় দিবসে নিদ্রা যায়, যাদের দন্ত অপরিচ্ছন্ন, বসন মলিন, মস্তক রুক্ষ, হাস্য বিকৃত, তাদের গৃহে আমি কদাপি গমন করি না।

আমি সে সকল গৃহে বসতি করি, যে সকল গৃহ শ্বেত পারাবত অধুষ্যিত, যেখানে গৃহিণী উজ্জ্বল সুশ্রী, যেখানে কলহ নাই, ধান্য সকল সুবর্ণ সদৃশ, তণ্ডুল রজতোপম এবং অন্ন তুষহীন। যে গৃহস্থ পরিজনের মধ্যে ধন ভোগ্য বস্তুর সমান বিভাগ পূর্বক বিতরণ করেন, যিনি মিষ্টভাষী, বৃদ্ধপোসেবী, প্রিয়দর্শন, স্বল্পভাষী, অ দীর্ঘ সূত্রী, ধার্মিক, জিতেন্দ্রিয়, বিদ্যাবিনয়ী, অ গর্বিত, জনানুরাগী, পরপীড়ন বিমুখ, যিনি ধীরে স্নান করেন, চয়িত পুস্প আঘ্রাণ করেন না, সংযত এমন ব্যাক্তি আমার কৃপা পেয়ে থাকেন। শুধু অর্থ নয়, উন্নত চরিত্রও মানুষের অমূল্য সম্পদ। লক্ষ্মী দেবীর কৃপা তাঁরাই লাভ করেন যারা নৈতিক চরিত্রের অধিকারী। 

লক্ষ্মী র কৃপা সব সময় সৎ কাজেই ব্যাবহার করা উচিত। মানুষ যদি লক্ষ্মীর অপপ্রয়োগ করেন তবে অলক্ষ্মীর শাপে সে ধ্বংস হবেই। যে শুদ্ধ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী তাঁর গৃহে লক্ষ্মী অচলা হয়ে অবস্থান করেন। আর যারা ঠিক এর উল্টো তারা কর্মদোষে অলক্ষ্মীর আহ্বান করে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়। লক্ষ্মী হল ‘শ্রী’। সকল নারীর মধ্যে যে শীল ও সদাচার আছে তার মাধ্যমেই তিনি প্রকাশিতা। তাই যেখানে নারী দের প্রতি অবমাননা হয়, বা যারা নারী দের ওপর নির্যাতন করেন– সেই সব জায়গায় কখনই দেবী লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষণ হয় না।
-
লক্ষ্মীর ধ্যানমন্ত্র
===========
Image may contain: 1 person, table, food and indoor
"ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।
গৌরবর্ণাং সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্।
রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।"
অর্থ -- যাম্য করে পাশ, অক্ষমালা, সৌম্য করে পদ্ম ও অঙ্কুশ ধারিনী পদ্মাসনে উপবিষ্টা, শ্রী অর্থাৎ ঐশ্বর্য সম্পৎ ও সৌন্দর্য রূপিনী, ত্রিলোকের জননী, গৌরবর্ণা, সুন্দরী, সর্বা অলঙ্কার বিভূষিতা, ব্যগ্রহস্তে স্বর্ণ পদ্ম ধারিনী এবং দক্ষিণ হস্তে বরদানকারিনী দেবীকে ধ্যান করি। 

লক্ষ্মী দেবীর স্তোত্র
=============

“লক্ষ্মীঃ শ্রীঃ কমলা বিদ্যা মাতা বিষ্ণুপ্রিয়া সতী।
পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী।।
ভূতানামীশ্বরী নিত্যা মতা সত্যাগতা শুভা।
বিষ্ণুপত্নী মহাদেবী ক্ষীরোদতনয়া ক্ষমা।।
অনন্তলোকলাভা চ ভূলীলা চ সুখপ্রদা।
রুক্মিণী চ তথা সীতা মা বৈ বেদবতী শুভা।।
এতানি পুন্যনামানি প্রাতরুথায় যঃ পঠেৎ।
মহাশ্রিয়নবাপ্নোতি ধনধান্যকল্মষম।।”
অর্থ -- শ্রী, কমলাবিদ্যা, মাতা, বিষ্ণুপ্রিয়া, সতী, পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী, ভূতগণের ঈশ্বরী, নিত্যা, সত্যাগতা, শুভা, বিষ্ণুপত্নী, ক্ষীরোদ– তনয়া, ক্ষমা স্বরূপা, অনন্তলোকলাভা, ভূলীলা, সুখপ্রদা, রুক্মিণী, সীতা, বেদবতী– দেবীর এ সকল নাম। প্রাতেঃ উত্থান কালে যারা দেবীর এই পুন্য নামাবলী পাঠ করেন তারা বিপুল ঐশ্বর্য পেয়ে ধনী হয়ে থাকেন। অগ্নি পুরাণ মতে শ্রী বা লক্ষ্মী হলেন যজ্ঞবিদ্যা, তিনিই আত্ম্যবিদ্যা, যাবতীয় গুহ্যবিদ্যা ও মহাবিদ্যা ও তিনি।

লক্ষ্মী দেবীর প্রণাম মন্ত্র
=================

"ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।।"
-
যে দেবতার পূজা করেন, সেই দেবতার পরিচয় আগে জেনে নিতে হয়। লক্ষ্মীকে আমরা টাকাপয়সার দেবী ভাবি, আসলে লক্ষ্মীর পরিচয় শুধু ওইটুকুতেই নয়। লক্ষ্মী শুধু ধনই দেন না, তিনি জ্ঞান ও সচ্চরিত্রও দান করেন। এককথায় লক্ষ্মীপূজা করলে, মানুষ সার্বিকভাবে সুন্দর ও চরিত্রবান হয়। স্বামী প্রমেয়ানন্দ বলেছেন, ‘কেবল টাকাকড়িই ধন নয়। চরিত্রধন মানুষের মহাধন। যার টাকাকড়ি নেই সে যেমন লক্ষ্মীহীন, যার চরিত্রধন নেই সে তেমনি লক্ষ্মীছাড়া। যাঁরা সাধক তাঁরা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন মুক্তিধন লাভের জন্য।’ রূপক সাহিত্যে পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে লক্ষ্মী বলা হয়

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

০৩ মে ২০১৬

শিবের সোমবারের ব্রত পালন বিধি


শিবের সোমবারের ব্রতপালনের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়মগুলি কী, সেটা জানার আগে সাধারণ শিবলিঙ্গ এবং বাণলিঙ্গর তফাত জেনে রাখা উচিত। কেন না, সাধারণ শিবলিঙ্গ আর বাণলিঙ্গর পূজার মন্ত্র আলাদা।
নর্মদা নদীর জলে যে শিবলিঙ্গ পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় বাণলিঙ্গ। এই বাণলিঙ্গ শিবের স্বয়ম্ভু রূপ; নারায়ণ শিলার মতো। তাই যাঁদের বাড়িতে বাণলিঙ্গ আছে, তাঁরা আলাদা মন্ত্র অনুসরণ করবেন।
সোমবার সূর্যোদয়ের তিন ঘণ্টার মধ্যেই শিবপূজা সেরে নেওয়া নিয়ম। খুব দেরি হলে অপেক্ষা করা যেতে পারে বেলা বারোটা পর্যন্ত। তার পরে, সোমবারের শিবপূজা করা যায় না।
সোমবার শিবপূজার জন্য হাতের কাছে গুছিয়ে নিন পূজার উপচার। ধূপ ও প্রদীপ জ্বেলে নিন।

এবার হাত জোড় করে বলুন ---

ওঁ সর্বমঙ্গলমাঙ্গল্যং বরেণ্যং বরদং শুভম্।
নারায়ণং নমস্কৃত্য সর্বকর্মাণি কারয়েৎ।।

আচমন --- ডান হাতের তালু গোকর্ণাকৃতি করে মাষকলাই ডুবতে পারে এই পরিমাণ জল নিয়ে ‘ওঁ বিষ্ণু' মন্ত্রটি পাঠ করে পান করুন। এইভাবে মোট তিন বার জলপান করে আচমন করার পর হাত জোড় করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন ---
ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ দিবীব চক্ষুরাততম্।
ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোঽপি বা।
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।।

জলশুদ্ধি --- তাম্রপাত্রে বা কোশায় গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল নিয়ে মধ্যমা দ্বারা সেই জল স্পর্শ করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন ---
ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি।
নর্মদে সিন্ধু-কাবেরি জলেঽস্মিন সন্নিধিং কুরু।।
সূর্যমণ্ডল থেকে সকল তীর্থ সেই পার্শ্বস্থ জলে এসে উপস্থিত হয়েছেন এই চিন্তা করতে করতে সেই জলে একটি ফুল দিয়ে তীর্থপূজা করুন।
তীর্থপূজার মন্ত্রটি হল ----
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে তীর্থেভ্যো নমঃ।
এরপর এই জল সামান্য কুশীতে নিয়ে পূজাদ্রব্যের উপর ও নিজের মাথায় ছিটিয়ে দিন।

আসনশুদ্ধি --- যে আসনে বসেছেন, সেই আসনটিতে একটি ফুল দিয়ে হাত জোড় করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন ----
ওঁ পৃথ্বি ত্বয়া ধৃতা লোকা দেবি ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা।
ত্বঞ্চ ধারায় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরু চাসনম্।।

পুষ্পশুদ্ধি --
পুষ্প স্পর্শ করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন—
ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে। পুষ্পাচয়াবকীর্ণে চ হুঁ ফট্ স্বাহা।

ভূতশুদ্ধি ----
হাত জোড় করে মনে মনে এই চারটি মন্ত্র পাঠ করুন ---
ওঁ ভূতশৃঙ্গাটাচ্ছিরঃ সুষুম্নাপথেন জীবশিবং পরমশিবপদে যোজয়ামি স্বাহা ।।
ওঁ যং লিঙ্গশরীরং শোষয় শোষয় স্বাহা ।।
ওঁ রং সংকোচশরীরং দহ দহ স্বাহা ।।
ওঁ পরমশিব সুষুম্নাপথেন মূলশৃঙ্গাটমুল্লসোল্লস জ্বল জ্বল প্রজ্জ্বল প্রজ্জ্বল সোঽহং হংসঃ স্বাহা ।।

প্রাণায়াম ---
‘ওঁ' বা গুরুপ্রদত্ত বীজমন্ত্রে (বাণেশ্বর শিবের ক্ষেত্রে ‘ঐঁ' মন্ত্রে) চার বার ৪/১৬/৮ ক্রমে পূরক, কুম্ভক ও রেচক করে প্রাণায়ম করুন।

শ্রীগুর্বাদিপূজা ---
এরপর একটি একটি করে গন্ধপুষ্পদ্বারা শ্রীগুরু ও অন্যান্য দেবতাদের পূজা করুন। মন্ত্রগুলি হল -----
ঐঁ এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীগুরবে নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে গণেশাদিপঞ্চদেবতাভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে আদিত্যাদিনবগ্রহেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ইন্দ্রাদিদশদিকপালেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে কাল্যাদিদশমহাবিদ্যাভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মৎস্যাদিদশাবতারেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মৎস্যাদিদশাবতারেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সর্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সর্বাভ্যো দেবীভ্যো নমঃ।

ধ্যান ----
এরপর একটি ফুল নিয়ে (সম্ভব হলে কূর্মমুদ্রায় ফুলটি নেবেন) শিবের ধ্যান করবেন। শিবের সাধারণ ধ্যানমন্ত্র ও বাণেশ্বর ধ্যানমন্ত্র দুটি নিচে দেওয়া হল ----
সাধারণ ধ্যানমন্ত্র ----
ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজতগিরিনিভং চারুচন্দ্রাবতংসং
রত্নাকল্পোজ্জ্বলাঙ্গং পরশুমৃগবরাভীতিহস্তং প্রসন্নম্।
পদ্মাসীনং সমন্তাৎ স্তুতমমরগণৈর্ব্যাঘ্রকৃত্তিং বসানং
বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং নিখিলভয়হরং পঞ্চবক্ত্রং ত্রিনেত্রম্।।

বাণেশ্বর শিবের ধ্যান ---
ঐঁ প্রমত্তং শক্তিসংযুক্তং বাণাখ্যঞ্চ মহাপ্রভাং।
কামবাণান্বিতং দেবং সংসারদহনক্ষমম্।।
শৃঙ্গারাদি-রসোল্লাসং বাণাখ্যং পরমেশ্বরম্।
এবং ধ্যাত্বা বাণলিঙ্গং যজেত্তং পরমং শিবম্।।

স্নান ----
এরপর শিবকে স্নান করাবেন। গঙ্গাজলে শুদ্ধজলে চন্দন মিশ্রিত করে ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে শিবকে স্নান করাবেন এই মন্ত্রে শিবকে স্নান করাবেন -----
ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।
উর্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মাঽমৃতাৎ।।
ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।
সাধারণ শিবলিঙ্গ ও বাণেশ্বর -- উভয়ক্ষেত্রেই স্নান মন্ত্র এক।

প্রধান পূজা --
স্নানের পর আরেকবার আগের ধ্যানমন্ত্রটি পাঠ করে শিবের ধ্যান করবেন। তারপর মনে মনে উপচারগুলি শিবকে উৎসর্গ করে মানসপূজা করবেন। মানসপূজার পর একে একে উপচারগুলি বাহ্যিকভাবে শিবকে সমর্পণ করবেন।
ওঁ নমঃ শিবায় এতৎ পাদ্যং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় এষঃ অর্ঘ্যঃ শিবায় নমঃ। (আতপচাল ও দূর্বা একটি সচন্দন বেলপাতায় করে ফুল সহ দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদমাচমনীয়ং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদং স্নানীয়ং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় এষ গন্ধঃ শিবায় নমঃ। (চন্দনের ফোঁটা দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদং সচন্দনপুষ্পং শিবায় নমঃ। (একটি চন্দনমাখানো ফুল দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদং সচন্দনবিল্বপত্রং শিবায় নমঃ। (একটি চন্দনমাখানো বেলপাতা দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় এষ ধূপঃ শিবায় নমঃ। (ধূপটি শিবের সামনে তিনবার ঘুরিয়ে দেবতার বাঁ দিকে, অর্থাৎ নিজের ডানদিকে রাখুন)
ওঁ নমঃ শিবায় এষ দীপঃ শিবায় নমঃ। (প্রদীপটি শিবের সামনে তিনবার ঘুরিয়ে দেবতার ডানদিকে, অর্থাৎ নিজের বাঁ দিকে রাখুন)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদং সোপকরণনৈবেদ্যং শিবায় নিবেদয়ামি। (নৈবেদ্যের উপর অল্প সামান্যার্ঘ্য জল ছিটিয়ে দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদং পানার্থোদকং শিবায় নমঃ। (পানীয় জলের উপর অল্প সামান্যার্ঘ্য জল ছিটিয়ে দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদং পুনরাচমনীয়ং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদং তাম্বুলং শিবায় নমঃ। (একটি পান দিন, অভাবে সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন।)
ওঁ নমঃ শিবায় ইদং মাল্যং শিবায় নমঃ। (মালা থাকলে মালাটি পরিয়ে দিন)
বাণেশ্বর শিবলিঙ্গে দশোপচার পূজার মন্ত্র ---
ঐঁ এতৎ পাদ্যং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ এষঃ অর্ঘ্যঃ বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ ইদমাচমনীয়ং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ ইদং স্নানীয়ং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ এষ গন্ধঃ বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ ইদং সচন্দনপুষ্পং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ ইদং সচন্দনবিল্বপত্রং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ এষ ধূপঃ বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ এষ দীপঃ বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ ইদং সোপকরণনৈবেদ্যং বাণেশ্বরশিবায় নিবেদয়ামি।
ঐঁ ইদং পানার্থোদকং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ ইদং পুনরাচমনীয়ং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ ইদং তাম্বুলং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।
ঐঁ ইদং মাল্যং বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

পুষ্পাঞ্জলি ---
সচন্দন পুষ্প ও বেলপাতা নিয়ে এই মন্ত্রে এক, তিন অথবা পাঁচ বার অঞ্জলি দেবেন ---

সাধারণ পুষ্পাঞ্জলি ----
ওঁ নমো শিবায় এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলি নমো শিবায় নমঃ।

বাণেশ্বর শিবের পুষ্পাঞ্জলি ---
ঐঁ এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলি বাণেশ্বরশিবায় নমঃ।

গৌরীপূজা ---
এইভাবে শিবপূজা শেষ করে শিবলিঙ্গের গৌরীপীঠে একটি ফুল দিয়ে এই মন্ত্রে গৌরীর পূজা করুন ---
ওঁ হ্রীঁ এতে গন্ধপুষ্পে গৌর্যৈ নমঃ।

অষ্টমূর্তি পূজা --
বাণেশ্বর শিবে অষ্টমূর্তির পূজা করতে হয় না। কিন্তু অন্যান্য শিবলিঙ্গের ক্ষেত্রে করতে হয়। একটি ফুল দিয়ে এই মন্ত্রে অষ্টমূর্তির পূজা করুন --
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অষ্টমূর্তিভ্যো নমঃ।

জপ ও জপসমর্পণ ---
এরপর ‘ওঁ নমঃ শিবায়' বা দীক্ষামন্ত্র ১০৮ বার জপ করে এই মন্ত্রে এক গণ্ডুষ জল শিবের নিচের দিকের ডান হাতের উদ্দেশ্যে প্রদান করুন --
ওঁ গুহ্যাতিগুহ্যগোপ্তা ত্বং গৃহাণাস্মৎকৃতং জপম্।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেব ত্বৎপ্রসাদান্মহেশ্বর।।

প্রণাম --
এইবার এই মন্ত্রটি পড়ে সাষ্টাঙ্গে শিবকে প্রণাম করে পূজা সমাপ্ত করুন --
সাধারণ শিবলিঙ্গের ক্ষেত্রে --
ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয়হেতবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং গতিস্তং পরমেশ্বরম্।।
বাণেশ্বর শিবের ক্ষেত্রে --
ওঁ বাণেশ্বরং নরকার্ণবতারণায় জ্ঞানপ্রদায় করুণাময়সাগরায়।
কর্পূরকুন্দধবলেন্দুজটাধরায় দারিদ্র্যদুঃখদহনায় নমঃ শিবায়।।

 লিখেছেনঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।