• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

একাদশী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
একাদশী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০৩ জানুয়ারি ২০১৯

শ্রী শ্রী " সফলা " একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য

 পৌষ মা‌সের কৃষ্ণপ‌ক্ষের একদশীর নাম " সফলা " । ব্রহ্মাণ্ড পুরা‌ণে যু‌ধি‌ষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণ সংবা‌দে এই তি‌থির মাহাত্ম্য ব‌র্ণিত হ‌য়ে‌ছে । যু‌ধি‌ষ্ঠির বল‌লেন __ হে প্রভু ! পৌষ মা‌সের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম , বি‌ধি এবং পূজ্য‌দেবতা বিষ‌য়ে আমার কৌতূহল নিবারণ করুন ।

শ্রীকৃষ্ণ বল‌লেন __ হে মহারাজ ! আপনার প্র‌তি স্নেহবশত সেই ব্রত কথা বিষ‌য়ে বল‌ছি । এই ব্রত আমা‌কে যেরকম সন্তুষ্ট ক‌রে , বহু দানদ‌ক্ষিণাযুক্ত যজ্ঞা‌দি দ্বারা আ‌মি সেরকম সন্তুষ্ট হই না । তাই যত্নসহকা‌রে এই ব্রত পালন করা কর্তব্য । পৌষ মা‌সের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম " সফলা " । নাগ‌দের ম‌ধ্যে যেমন শেষ নাগ , পক্ষী‌দের ম‌ধ্যে যেমন গরুড় , মানু‌ষের ম‌ধ্যে যেমন ব্রাহ্মণ , দেবতা‌দের ম‌ধ্যে নারায়ণ সর্ব‌শ্রেষ্ঠ , তেমনই সকল ব্র‌তের ম‌ধ্যে একাদশী ব্রতই সর্ব‌শ্রেষ্ঠ । হে মহারাজ ! যারা এই ব্রত পালন ক‌রেন , তারা আমার অত্যন্ত প্রিয় । তা‌দের এজগ‌তে ধনলাভ ও অনায়া‌সে প্রাপ্ত হওয়া যায় ।



ম‌হিষ্মত না‌মে এক রাজা প্র‌সিদ্ধ চম্পাব‌তি নগ‌রে বাস কর‌তেন । রাজার চারজন পুত্র ছিল । কিন্তু তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র লুম্ভক সর্বদা পরস্ত্রী গমন , মদ্যপান প্রভৃ‌তি অসৎ কা‌র্যে লিপ্ত ছিল । সে সর্বক্ষণ ব্রাহ্মণ , বৈষ্ণব ও দেবতা‌দের নিন্দা করত । পু‌ত্রের এই আচর‌ণে ক্ষুব্ধ হ‌য়ে রাজা তা‌কে রাজ্য থে‌কে বের ক‌রে দি‌লেন । স্ত্রী - পুত্র , পিতা - মাতা , আত্মীয়স্বজন প‌রিত্যক্ত হ‌য়ে সে এক গভীর ব‌নে প্র‌বেশ করল । সেখা‌নে কখনও জীবহত্যা আবার কখনও চু‌রি ক‌রে জীবন ধারণ কর‌তে লাগল ।

‌কিছু‌দিন প‌রে এক‌দিন সে নগ‌রে প্রহরী‌দের কা‌ছে ধরা পড়ল । কিন্তু রাজপুত্র ব‌লে সেই অপরাধ থে‌কে সে মু‌ক্তি পেল । পুনরায় সে ব‌নে ফি‌রে গি‌য়ে জীবহত্যা ও ফলমূল আহার ক‌রে দিন যাপন কর‌তে লাগল । ঐ ব‌নে বহু বছ‌রের পুরা‌নো এক‌টি বিশাল অশ্বত্থ বৃক্ষ ছিল । সেখা‌নে ভগবান শ্রী বাসু‌দেব বিরাজমান ব‌লে বৃক্ষ‌টি দেবত্ব প্রাপ্ত হ‌য়ে‌ছে । সেই বৃক্ষত‌লে পাপবু‌দ্ধি লুম্ভক বাস করত । বহু‌দিন পর তার পূর্বজ‌ন্মের কোন পুণ্য ফ‌লে সে পৌষ মা‌সের দশমী দি‌নে কেবল ফল আহা‌রে দিন অ‌তিবা‌হিত করল । কিন্তু রা‌ত্রি‌তে অসহ্য শী‌তের প্র‌কো‌পে সে মৃতপ্রায় হ‌য়ে রা‌ত্রিযাপন করল । পর‌দিন সূ‌র্যোদয় হ‌লেও সে অ‌চেতন হ‌য়েই প‌ড়ে রইল । দুপু‌রের দি‌কে তার চেতনা ফিরল । ক্ষুধা নিবার‌ণের জন্য সে অ‌তিক‌ষ্টে কিছু ফল সংগ্রহ করল । এরপর সেই বৃক্ষত‌লে এ‌সে পুনরায় বিশ্রাম কর‌তে থাকল । রা‌ত্রি‌তে খাদ্যাভা‌বে সে দুর্বল হ‌য়ে পড়ল ।







সে প্রাণরক্ষা‌র্থে ঈশ্ব‌রের উ‌দ্দে‌শে ফলগু‌লি নি‌য়ে _ " হে ভগবান ! আমার কি গ‌তি হ‌বে " ব‌লে অশ্রুপাত কর‌তে কর‌তে সেই বৃক্ষমূ‌লে , " হে লক্ষ্মীপ‌তি নারায়ণ ! আপ‌নি প্রসন্ন হোন " ব‌লে নি‌বেদন করল । এইভা‌বে সে অনাহা‌রে ও অ‌নিদ্রায় সেই রা‌ত্রি যাপন করল । ভগবান নারায়ণ সেই পাপী লুম্ভ‌কের রা‌ত্রি জাগরণ‌কে একাদশীর জাগরণ এবং ফল অর্পণ‌কে পূজা ব‌লে গ্রহণ কর‌লেন । এইভা‌বে অজ্ঞাতসা‌রে লুম্ভ‌কের সফলা একাদশী ব্রত পালন হ‌য়ে গেল । প্রাতঃকা‌লে আকা‌শে দৈববাণী হল _ হে পুত্র তু‌মি সফলা ব্র‌তের পুণ্য প্রভা‌বে রাজ্য প্রাপ্ত হ‌বে । সেই দৈববাণী শোনা মাত্র লুম্ভক দিব্যরূপ লাভ করল । স্ত্রীপুত্র সহ কিছুকাল রাজ্যসুখ ভো‌গের পর পু‌ত্রের উপর রা‌জ্যের ভার দি‌য়ে সে সন্ন্যাস আশ্রম গ্রহণ করল । অব‌শে‌ষে মৃত্যুকা‌লে সে অ‌শোক অভয় ভগবা‌নের কা‌ছে ফি‌রে গেল ।

‌হে মহারাজ ! এভা‌বে সফলা একাদশী যি‌নি পালন ক‌রেন , তি‌নি জাগ‌তিক সুখ ও প‌রে মু‌ক্তি লাভ ক‌রেন । এই ব্র‌তে যারা শ্রদ্ধাশীল তাঁরাই ধন্য । তাঁ‌দের জন্ম সার্থক , এ‌তে কোন স‌ন্দেহ নেই । এই ব্রত পাঠ ও শ্রব‌ণে মানু‌ষের রাজসূয় য‌জ্ঞের ফল লাভ হয় ।
Share:

১৯ নভেম্বর ২০১৭

সবাই বলে কেন একাদশী থাকবো? না থাকলে কি হবে?

আসুন দেখি আমাদের শাস্ত্রে একাদশী নিয়ে কি বলা আছে:

পদ্মপূরাণে একাদশী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে গুরুদেব! একাদশী কি? একাদশীতে কেন উপবাস করতে হয়?একাদশী ব্রত করলে কি লাভ? একাদশী ব্রত না করলে কি ক্ষতি?এ সব বিষয়ে আপনি দয়া করে বলুন।মহর্ষি ব্যাসদেব তখন বলতেলাগলেন-সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বরভগবান এই জড় সংসারে স্হাবরজঙ্গম সৃষ্টি করলেন।মর্ত্যলোকবাসী মানূষদের শাসনেরজন্য একটি পাপপুরুষ নির্মাণ করলেনা।

সেই পাপপুরুষের অঙ্গণ্ডলি বিভিন্নপাপ দিয়ে নির্মিত হল। পাপপুরুষের মাথাটিব্রহ্মহত্যা পাপ দিয়ে, চক্ষুদুটি মদ্যপান,মুখ স্বর্ণ অপহরণ, দুই কর্ণ-ণ্ডরুপত্নীগমন,দুই নাসিকা-স্ত্রীহত্যা, দুই বাছ-গোহত্যা পাপ,গ্রীবা-ধন অপহরণ, গলদেশ-ভ্রুণহত্যা,বক্ষ-পরস্ত্রী-গমন, উদর-আত্মীয়স্বজন বধ,নাভি-;শরণাগতবধ, কোমর-আত্মশ্লাঘা,দুই ঊরু-ণ্ডরুনিন্দা, শিশ্ন-কন্যা বিক্রি,মলদ্বার-ণ্ডপ্তকথা প্রকাশ পাপ,দুই পা-পিতৃহত্যা, শরীরের রোম-সমস্ত উপপাতক।

এভাবে বিভিন্ন সমস্ত পাপ দ্বারা ভয়ঙ্কর পাপপুরুষ নির্মিত হল।পাপপুরুষের ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে ভগবানশ্রীবিষ্ণুমর্ত্যের মানব জাতির দুক্ষ মোচনকরবার কথা চিন্তা করতে লাগলেন।একদিন গকড়ের পিঠে চড়ে ভগবানচললেন যমরা জের, মন্দিরে। ভগবানকে যমরাজউপযুক্ত স্বর্ণ সিদুহাসনে বসিয়ে পাদ্য অর্ঘ্যইত্যাদি দিয়ে যথাবিধি তাঁর পূজা করলেন।যমরাজের সঙ্গে কথোপকথনকালে ভগবানশুনতে পেলেন দক্ষিণ দিক থেকে অসংখ্যজীবের আর্তক্রন্দন ধ্বনি। প্রশ্ন করলেন-এ আর্তক্রন্দন কেন?

যমরাজ বললেন, হে প্রভু, মর্ত্যের ,পাপীমানূষেরা নিজ কর্মদোষে নরকযন্ত্রনাভোগ করছে। সেই যাতনার আর্তচীৎকার শোনা যাচ্ছে।যন্ত্রণাকাতর পাপাচারী জীবদের দর্শনকরে করুণাময় ভগবান চিন্তা করলেন–আমিইসমস্তপ্রজা সৃষ্টি করেছি, আমার সামনেইওরা কর্ম দোষে দুষ্ট হয়ে নরক যান্ত্রণা ভোগকরছে, এখন আমিই এদের সদগতির ব্যবস্হা করব।ভগবান শ্রীহরি সেই পাপাচারীদের সামনেএকাদশী তিথি রূপে এক দেবীমুর্তিতেপ্রকাশিত হলেন। সেই পাপীদেরকে একাদশীব্রত আচরণ করালেন। একাদশী ব্রতেরফলে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়ে তৎক্ষণাৎবৈকূণ্ঠধামে গমন করল।শ্রীব্যাসদেব বললেন, হে জৈমিনি! শ্রীহরিরপ্রকাশ এই একাদশী সমস্ত সুকর্মেরমধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত ব্রতের মধ্যে উত্তম ব্রত।কিছুদিন পরে ভগবানের সৃষ্ট পাপ পুরুষএসে শ্রীহরির কাছে করজোড়ে কাতর প্রার্থণাজানাতেলাগল-হে ভগবান ! আমি আপনারপ্রজা।

আমাকে যারা আশ্রয় করে থাকে,তাদের কর্ম অনূযায়ী তাদের দুঃখ দানকরাই আমার কাজ ছিল। কিন্তু সম্প্রতিএকাদশীরপ্রভাবে আমি কিছুই করতেপারছি না, বরং ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছি। কেননাএকাদশী ব্রতের ফলে প্রায় সব পাপাচারীরাবৈকূণ্ঠের বাসিন্দা হযে যাচ্ছে। হে ভগবান,এখন আমার কি হবে? আমি কাকে আশ্রয়করে থাকব? সবাই যদি বৈকূণ্ঠে চলে যায়,তবে এই মর্ত্য জগতের কি হবে? আপনিবা কার সঙ্গে এই মর্ত্যে ক্রীড়া করবেন?পাপপুরুষ প্রার্থনা করতে লাগল-হে ভগবান,যদি আপনার এই সৃষ্ট বিশ্বে ক্রীড়া করবারইচ্ছা থাকে তবে, আমার দুঃখ দূর করুন।একাদশী ভয় থেকে আমাকে রক্ষা করুন।হে কৈটভনাশন, আমি একমাত্র একাদশীরভয়ে ভীত হয়ে পলায়ন করছি।

 মানূষ,পশুপাখী, কীট-পতঙ্গ, জলত-স্হল,বনপ্রান্তর, পর্বত-সমূদ্র, বৃক্ষ, নদী,স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সর্বত্রই আশ্রয় নেওয়ারচেষ্টা করেছি, কিন্ত একাদশীর প্রভাবেকোথাও নির্ভয় স্হান পাচ্ছি না দেখেআজ আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।হে ভগবান, এখন দেখছি, আপনার সৃষ্টঅনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে একাদশীইপ্রাধান্য লাভ করেছে, সেইজন্য আমিকোথাও আশ্রয় পেভে পারছি না। আপনিকৃপা করে আমাকে একটি নির্ভয় স্হানপ্রদান করুন।পাপপুরুষেরপ্রার্থনা শুনে ভগবান শ্রীহরিবলতে লাগলেন-হে -পাপপুরুষ! তুমি দুঃখকরো না। যখন একাদশী এই ত্রিভুবনকেপবিত্র করভে আবির্ভুত হবে, তখন তুমিঅন্ন ও রবিশস্য মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করবেতা হলে আমার মুর্তি একাদশীভোমাকে বধ করতে পারবে না।
হরে কৃষ্ণ
 Sree Krishna - শ্রীকৃষ্ণ
Share:

২৫ অক্টোবর ২০১৭

শ্রীরমা একাদশী মাহাত্ম্য

একসময় যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-হে জনার্দন! কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপা করে আমায় বলুন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে রাজন! মহাপাপ দূরকারী সেই একাদশী ‘রমা’ নামে বিখ্যাত। আমি এখন এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করছি, আপনি তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন।

পুরাকালে মুচুকুন্দ নামে একজন সুপ্রসিদ্ধ রাজা ছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্র, যম, বরুণ ও ধনপতি কুবেরের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল। ভক্তশ্রেষ্ঠ বিভীষণের সাথেও তার অত্যন্ত সদ্ভাব ছিল। তিনি ছিলেন বিষ্ণুভক্ত ও সত্যপতিজ্ঞ। এইরূপে তিনি ধর্ম অনুসারে রাজ্যশাসন করতেন।

চন্দ্রভাগা নামে তার একটি কন্যা ছিল। চন্দসেনের পুত্র শোভনের সাথে তার বিবাহ হয়েছিল। শোভন একসময় শ্বশুর বাড়িতে এসেছিল। দৈবক্রমে সেইদিন ছিল একাদশী তিথি। স্বামীকে দেখে পতিপরায়ণা চন্দ্রভাগা মনে মনে চিন্ত করতে লাগল-হে ভগবান! আমার স্বামী অত্যন্ত দুর্বল, তিনি ক্ষুধা সহ্য করতে পারেন না। এখানে আমার পিতার শাসন খুবই কঠোর। দশমীর দিন তিনি নাগরা বাজিয়ে ঘোষণা কর দিয়েছেন যে, একদশী দিনে আহার নিষিদ্ধ। আমি এখন কি করি!

রাজার নিষেধাজ্ঞা শুনে শোভন তার প্রিয়তমা পত্নীকে বলল- হে প্রিয়ে, এখন আমার কি কর্তব্য, তা আমাকে বলো। উত্তরে রাজকন্যা বলল- হে স্বামী, আজ এই গৃহে এমনকি রাজ্যমধ্যে কেউই আহার করবে না। মানুষের কথা তো দূরে থাকুক পশুরা পর্যন্ত অন্নজল মাত্র গ্রহণ করবে না। হে নাথ, যদি তুমি এ থেকে পরিত্রাণ চাও তবে নিজগৃহে প্রত্যাবর্তন কর। এখানে আহার করলে তুমি সকলের নিন্দাভাজন হবে এবং আমার পিতাও ক্রদ্ধ হবেন। এখন বিশেষভাবে বিচার করে যা ভাল হয়, তুমি তাই কর।

সাধ্বী স্ত্রীর এই কথা শুনে শোভন বলল- হে প্রিয়ে! তুমি ঠিকই বলেছ। কিন্তু আমি গৃহে যাব না। এখানে থেকে একাদশী ব্রত পালন করব। ভাগ্যে যা লেখা আছে তা অবশ্যই ঘটবে।

এইবাবে শোভন ব্রত পালনে বদ্ধপরিকর হলেন। সমস্ত দিন অতিক্রান্ত হয়ে রাত্রি শুরু হল। বৈষ্ণবদের কাছে সেই রাত্রি সত্যিই আনন্দকর। কিন্তু শোভনের পক্ষে তা ছিল বড়ই দু:খদায়ক। কেননা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় সে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ল। এভাবে রাত্রি অতিবাহিত হলে সূর্যোদয়কালে তার মৃত্যু হল। রাজা মুচুকুন্দ সাড়ম্বরে তার শবদাহকার্য সুসম্পন্ন করলেন। চন্দ্রভাগা স্বামীর অন্তেষ্টিক্রিয়া সমাপ্ত করে পিতার আদেশে পিতৃগৃহেই বাস করতে লাগলেন।

কালক্রমে রমাব্রত প্রভাবে শোভন মন্দরাচল শিখরে অনুপম সৌন্দর্যবিশিষ্ট এক রমনীয় দেবপুরী প্রাপ্ত হলেন। একসময় মুচুকুন্দপুরের সোমশর্ম্মা নামে এক ব্রাহ্মণ তীর্থভ্রমণ করতে করতে সেখানে উপস্থিত হলেন। সেখানে রত্নমন্ডিত বিচিত্র স্ফটিকখচিত সিংহাসনে রত্নলঙ্কারে ভূষিত রাজা শোভনকে তিনি দেখতে পেলেন। গন্ধর্ব ও অপ্সরাগণ দ্বারা নানা উপচারে সেখানে তিনি পূজিত হচ্ছিলেন। রাজা মুচুকুন্দের জামাতারূপে ব্রাহ্মণকে দেখে আসন থেকে উঠে এসে তাঁর চরণ বন্দনা করলেন। শ্বশুর মুচুকুন্দ ও স্ত্রী চন্দ্রভাগা সহ নগরবাসী সকলের কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করলেন।

ব্রাহ্মণ সকলের কুশল সংবাদ জানালেন। জিজ্ঞাসা করলেন- এমন বিচিত্র মনোরম স্থান কেউ কখনও দেখেনি। আপনি কিভাবে এই স্থান প্রাপ্ত হলেন, তা সবিস্তারে আমার কাছে বর্ণনা করুন। শোভন বললেন যে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া রমা একাদশী সর্বব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আমি তা শ্রদ্ধারহিতভাবে পালন করলেও তার আশ্চর্যজনক এই ফল লাভ করেছি। আপনি কৃপা করে চন্দ্রভাগাকে সমস্ত ঘটনা জানাবেন।

সোমশর্ম্মা মুচুকুন্দপুরে ফিরে এসে চন্দ্রভাগার কাছে সমস্ত ঘটনার কথা জানালেন। ব্রাহ্মণের কথা শুনে অত্যন্ত আনন্দিত চন্দ্রভাগা বললেন- হে ব্রাহ্মণ! আপনার কথা আমার কাছে স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। তখন সোমশর্ম্মা বললেন-হে পুত্রী, সেখানে তোমার স্বামীকে আমি স্বয়ং সচক্ষে দেখেছি। অগ্নিদেবের মতো দীপ্তিমান তার নগরও দর্শন করেছি। কিন্তু তার নগর স্থির নয়, তা যাতে স্থির হয় সেই মতো কোন উপায় কর। এসব কথা শুনে চন্দ্রভাগা বললেন, তাকে দেখতে আমার একান্ত ইচ্ছা হচ্ছে। আমাকে এখনই তার কাছে নিয়ে চলুন। আমি ব্রত পালনের পুণ্যপ্রভাবে এই নগরকে স্থির করে দেব।

তখন সোমশর্ম্মা চন্দ্রভাগাকে নিয়ে মন্দার পর্বতে বামদেবের আশ্রমে উপনীত হলেন। সেখানে ঋষির কৃপায় ও হরিবাসর ব্রত পালনের ফলে চন্দ্রভাগা দিব্য শরীর ধারণ করল। দিব্য গতি লাভ করে নিজ স্বামীর নিকট উপস্থিত হলেন। প্রিয় পত্নীকে দেখে শোভন অতীব আনন্দিত হলেন।

বহুদিন পর স্বামীর সঙ্গ লাভ করে চন্দ্রভাগা অকপটে নিজের পুণ্যকথা জানালেন। হে প্রিয়, আজ থেকে আট বছর আগে আমি যখন পিতৃগৃহে ছিলাম তখন থেকেই এই রমা একাদশীর ব্রত নিষ্ঠাসহকারে পালন করতাম। ঐ পুণ্য প্রভাবে এই নগর স্থির হবে এবং মহাপ্রলয় পর্যন্ত থাকবে।

হে মহারাজ! মন্দরাচল পর্বতের শিখরে শোভন স্ত্রী চন্দ্রভাগা সহ দিব্যসুখ ভোগ করতে লাগলেন। পাপনাশিনী ও ভক্তিমুক্তি প্রদায়িনী রমা একদশীর মাহাত্ম্য আপনার কাছে বর্ণনা করলাম। যিনি এই একাদশী ব্রত শ্রবণ করবেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণলোকে পূজিত হবেন।


Courtesy by: Joy Shree Radha Madhav
Share:

০৮ মে ২০১৭

পাপমোচনী একাদশী মাহাত্ম্য

Image may contain: 2 people, people standing
যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে জনার্দন! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপা করে আমাকে বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির! আপনি ধর্মবিষয়ক প্রশ্ন করেছেন। এই একাদশী সকল পাপ থেকে নিস্তার বা মোচন করে বলে এই পবিত্র একাদশী তিথি ‘পাপমোচনী’ নামে প্রসিদ্ধ। রাজা মান্ধাতা একবার লোমশ মুনিকে এই একাদশীর কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত সেই বিচিত্র উপাখ্যানটি আপনার কাছে বলছি। আপনি মনযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন।
প্রাচীনকালে অতি মনোরম ‘চৈত্ররথ’ পুষ্প উদ্যানে মুনিগণ বহু বছর ধরে তপস্যা করতেন। একসময় মেধাবী নামে এক ঋষিকুমার সেখানে তপস্যা করছিলেন। মঞ্জুঘোষা নামে এক সুন্দরী অপ্সরা তাঁকে বশীভূত করতে চাইল। কিন্তু ঋষির অভিশাপের ভয়ে সে আশ্রমের দুই মাইল দূরে অবস্থান করতে লাগল। বীণা বাজিয়ে মধুর স্বরে সে গান করত। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধাবীকে দেখে কামবাণে পীড়িতা হয়ে পড়ে। এদিকে ঋষি মেধাবীও অপ্সরার অনুপম সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। তখন সেই অপ্সরা মুনিকে নানা হাব-ভাব ও কটাক্ষ দ্বারা বশীভূত কর। ক্রমে কামপরবশ মুনি সাধন-ভজন বিসর্জন দিয়ে তার আরাধ্য দেবকে বিস্মৃত হন। এইভাবে অপ্সরার সাথে কামক্রীড়ায় মুনির বহু বছর অতিক্রান্ত হল।
মুনিকে আচার-ভ্রষ্ট দেখে সেই অপ্সরা দেবলোকে ফিরে যেতে মনস্থ করল। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধাবী মুনিকে বলতে লাগল- হে প্রভু, এখন আমাকে নিজ গৃহে ফিরে যাবার অনুমতি প্রদান করুন। কিন্তু মেধাবী বললেন- হে সুন্দরী! তুমি তো এখন সন্ধ্যাকালে আমার কাছে এসেছ, প্রাত:কাল পর্যন্ত আমার কাছে থেকে যাও। মুনির কথা শুনে অভিশাপের ভয়ে সেই অপ্সরা আরও কয়েক বছর তার সাথে বাস করল। এইভাবে বহুবছর (৫৫ বছর ৯ মাস ৭ দিন) অতিবাহিত হল। দীর্ঘকাল অপ্সরার সহবাসে থাকলেও মেধাবীর কাছে তা অর্ধরাত্রি বলে মনে হল। মঞ্জুঘোষা পুনরায় নিজস্থানে গমনের প্রার্থনা জানালে মুনি বললেন- এখন প্রাত:কাল, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি সন্ধ্যাবন্দনা না সমাপ্ত করি, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি এখানে থাক।
মুনির কথা শুনে ঈষৎ হেসে মঞ্জুঘোষা তাকে বলল- হে মুনিবর! আমার সহবাসে আপনার যে কত বৎসর অতিবাহিত হয়েছে, তা একবার বিচার করে দেখুন। এই কথা শুনে মুনি স্থির হয়ে চিন্তা করে দেখলেন যে, তাঁর ছাপ্পান্ন বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেছে।
মুনি তখন মঞ্জুঘোষার প্রতি ক্রোধ পরবশ হয়ে বললেন- রে পাপীষ্ঠে, দুরাচারিণী, তপস্যার ক্ষয়কারীনি, তোমাকে ধিক্। তুমি পিশাচী হও। মেধাবীর শাপে অপ্সরার শরীর বিরূপ প্রাপ্ত হল। তখন সে অবনতমস্তকে মুনির কাছে শাপমোচনের উপায় জিজ্ঞাসা করল।
মেধাবী বললেন- হে সুন্দরী! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী, সর্বপাপ ক্ষয়কারিণী। সেই ব্রত পালনে তোমার পিশাচত্ব দূর হবে।
পিতার আশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী বললেন- হে পিতা! এক অপ্সরার সঙ্গদোষে আমি মহাপাপ করেছি, এর প্রায়শ্চিত্ত কি? তা কৃপা করে আমায় বলুন।
উত্তরে চ্যবন মুনি বললেন- চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী ব্রতের প্রভাবে তোমার পাপ দূর হবে। পিতার উপদেশ শুনে মেধাবী সেই ব্রত ভক্তিভরে পালন করল। তার সমস্ত পাপ দূর হল। পুনরায় তিনি তপস্যার ফল লাভ করলেন। মঞ্জুঘোষাও ঐ ব্রত পালনের ফলে পিশাচত্ব থেকে মুক্ত হয়ে দিব্য দেহে স্বর্গে গমন করল।
হে মহারাজ! যারা এই পাপমোচনী একাদশী পালন করেন, তাদের পূর্বকৃত সমস্ত পাপই ক্ষয় হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।


Courtesy by:  প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

০৩ মে ২০১৬

“বরুথিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য’’

বৈশাখ কৃষ্ণপক্ষীয়া বরুথিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ভবিষ্যোত্তর পুরাণে যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংবাদে বর্ণনা করা হয়েছে।

যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে বাসুদেব! আপনাকে প্রণাম। বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী কি নামে প্রসিদ্ধ এবং তার মহিমাই বা কি তা
কৃপা করে আমাকে বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে রাজন! ইহলোক ও পরলোকে বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী ‘বরুথিনী’ নামে বিখ্যাত। এই ব্রত পালনে সর্বদা সুখ লাভ হয় এবং পাপক্ষয় ও সৌভাগ্য প্রাপ্তি ঘটে। দুর্ভাগা স্ত্রীলোক এই ব্রত পালনে সর্বসৌভাগ্য লাভ করে থাকে। ভক্তি ও মুক্তি প্রদানকারী এই ব্রত সর্বপাপহরণ এবং গর্ভবাস যন্ত্রণা বিনাশ করে। এই ব্রত প্রভাবে মান্ধাতা, ধুন্ধুমার আদি রাজারা দিব্যধাম লাভ করেছেন। এমনকি মহাদেব শিবও এই ব্রত পালন করেছিলেন। দশ হাজার বৎসর তপস্যার ফল কেবলমাত্র এক বরুথিনী ব্রত পালনে লাভ হয়। যে শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি এই ব্রত পালন করেন তিনি ইহলোক ও পরলোকে সমস্ত প্রকার বাঞ্চিত ফল লাভ করেন।

হে নৃপশ্রেষ্ঠ! অশ্বদান অপেক্ষা গজদান শ্রেষ্ঠ, গজদান থেকে ভূমিদান, তা থেকে তিলদান, তিলদান থেকে স্বর্ণদান এবং তা অপেক্ষা অন্নদান শ্রেষ্ঠ। অন্নদানের মত শ্রেষ্ঠদান আর নেই। পিতৃলোক, দেবলোক ও মানুষেরা অন্নদানেই পরিতৃপ্ত হন। পন্ডিতেরা কন্যাদানকে অন্নদানের সমান বলে থাকেন। স্বয়ং ভগবান গোদানকে অন্নদানের সমান বলেছেন। আবার এই সমস্ত প্রকার দান থেকেও বিদ্যাদান শ্রেষ্ঠ। কিন্তু এই বরুথিনী ব্রত পালনে সেই বিদ্যাদানের সমান ফল লাভ হয়ে থাকে।


পাপমতি যে সব মানুষ কন্যার উপার্জিত অর্থে জীবনধারণ করে, পুণ্যক্ষয়ে তাদের নরকযাতনা ভোগ করতে হয়। তাই কখনও কন্যার উপার্জিত অর্থ গ্রহণ করা উচিত নয়। যে ব্যক্তি বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার সহ কন্যাদান করেন তাঁর পুণ্যের হিসাব স্বয়ং চিত্রগুপ্তও করতে অসমর্থ হন। কিন্তু ‘বরুথিনী’ ব্রত পালনকারী কন্যাদান থেকেও বেশি ফল লাভ করে। ব্রতকারী ব্যক্তি দশমীর দিনে কাঁসার পাত্রে ভোজন, মাংস, মসুর, ছোলা, শাক, মধু, অন্যের প্রদত্ত অন্নগ্রহণ, দুইবার আহার ও মৈথুন পরিত্যাগ করবে। দ্যূতক্রীড়া, নেশাজাতীয় দ্রব্য, দিবানিদ্রা, পরনিন্দা-পরচর্চা, প্রতারণা, চুরি, হিংসা, মৈথুন, ক্রোধ ও মিথ্যাবাক্য একাদশীর দিনে বর্জনীয়।কাঁসার পাত্রে ভোজন, মাংস, মসুর, মধু, তেল, মিথ্যাভাষণ, ব্যায়াম্, দুইবার আহার ও মৈথুন এসব দ্বাদশীর দিনে পরিত্যাজ্য।


হে রাজন! এই বিধি অনুসারে বরুথিনী ব্রত পালনে সকল প্রকার পাপের বিনাশ এবং অক্ষয় গতি লাভ হয়। যিনি হরিবাসরে রাত্রিজাগরণ করে ভগবান জনার্দনের পূজা করেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হয়ে পরমগতি লাভ করেন। তাই সূর্যপুত্র যমরাজের যাতনা থেকে পরিত্রাণের জন্য পরম যত্নে এই একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য। বরুথিনী একাদশীর ব্রতকথা শ্রদ্ধাভরে পাঠ বা শ্রবণ করলে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয় এবং সর্বপাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গতি হয়।
.
নতুন নতুন পোস্টের জন্য www.facebook.com/shonatonsondesh/ এই ক্ষুদ্র পেইজ লাইক দিয়ে এক্টিভ থাকুন এবং পোষ্ট গুলো শেয়ার করে সনাতন ধর্মের বিভিন্ন তথ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন।
.
প্রচারেঃ ‪#‎feni_sonatoni_songho‬ পোষ্টে লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করুন না হলে পোষ্ট গুলো আপনার হোম পেইজে আসবে না।
☆☆লিখাতে কোনো প্রকার ভুল থাকলে ক্ষমা করবেন , ইহা অনিচ্ছাকৃত। ☆☆
Share:

০৮ জুলাই ২০১৫

একাদশীর দিনে কি খাওয়া যায়

অনেকেই আমার একাদশী পোষ্টে মন্তব্য করেন, সবই তো খাওয়া মানা, তাহলে খাব টা কি। আসলে অনেক কিছুই খাওয়া যাবে, আমরা বানাতে জানিনা বলেই এরকমটি মনে হয়। আসুন জেনে নেই কি কি খাবার মানা আর কি কি খেতে পারব, সাথে একাদশীর মজার কিছু রেসিপি।

একাদশীর দিন বারণ-

• পঞ্চশস্য; ১। ধান জাতীয় খাদ্য- ভাত,খিচুড়ি,মুড়ি, চিঁড়া, খই, সুজি, চালের গুঁড়া, চালের পিঠা, পায়েস।
• ২। গম জাতীয় খাদ্য- আটা, ময়দা,সুজি,রুটি, বিস্কুট।
• ৩। যব বা ভুট্টা জাতীয় খাদ্য- ছাতু, খই, রুটি।
• ৪। ডাল জাতীয় খাদ্য- মুগ, মশুর, মটর, মাসকলাই, ছোলা, অড়হর, বরবটি, শিম, বুট।
• ৫। সরিসা তেল, তিলের তেল ( সয়াবিন এর কথা বিতর্কিত)
মাছ, মাংস, ডিম, পিঁয়াজ, হিং পাউডার, দোকানের গুঁড়া মসলা, দোকানের গুঁড়া মরিচ, হলুদ, চা, বিড়ি, সিগারেট,পান, যেকোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য

একাদশীর দিন খাওয়া যাবে:-

আস্ত হলুদ/বাসায় ভাঙ্গান গুঁড়া হলুদ, মরিচ,লবন, ঘী, মাখন, পালং শাক, জলপাই তেল, আলু, মিষ্টি আলু, কুমড়া,কাচা কলা, চালকুমড়া, বাদাম তেল/সুর্‍্যমুখি তেল, চিনি, দুধ, মধু, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা, আদা, দারুচিনি, টমেটো, গাজর, ঢ্যাঁড়শ,বাদাম, লেটুস পাতা, বাধাকপি, ফুলকপি, কারি পাতা, ঘরে বানানো ছানা, পনির, দই, ফ্রেস ক্রিম,সব রকমের ফল.।
সবার সুবিধার্থে এখানে দেয়া হল ১৪টি রেসিপি যা একাদশীর দিন খেতে পারবেনঃ
) টমেটো চাটনি বানিয়ে তাতে শুকনো লঙ্কা ফোঁড়ন দিয়ে ধনে পাতা, ফ্রেস ক্রিম ও পনির/ছানার টুকরো দিতে পারেন
) বেগুন পাতলা করে কেটে ডুবো তেলে ভেজে আলাদা করে রাখুন, সেদ্ধ আলু ভর্তা করে আলাদা করে রাখুন, এবার কড়াই / ওভেন প্রুফ পাত্রে প্রথমে ভাজা বেগুন এর লেয়ার , তারপর আলু ভরতার লেয়ার দিন, এরপর ছানা/পনিরের টুকরো ছরিয়ে দিন, এভাবে ২/৩তা লেয়ার বানান, তারপর চুলা/ অভেনে ৫/১০ মিনিট বেক করুন।
) টমেটো ও সব্জির স্যুপ( সামান্য লবন, কারি পাতা, গোলমরিচের গুঁড়া দিন)
) পাঁচমিশালি সবজি- ফুলকপি, আলু, গাজর, পেঁপে, বেগুন। সবজি সেদ্ধ করে ঘী/জল্পাই তেলে আদা বাতা কসিয়ে কাচা লঙ্কা দিয়ে ফোঁড়ন দিন, এরপর সেদ্ধ সবজি মিসিয়ে শেষে ধনে পাতা ও ফ্রেশ ক্রিম যোগ করুন।
) ছানা আলুর দম- ঘরে বানানো ছানা কিউব করে কেটে গরম তেলে ভেজে আলাদা করে রাখুন, ঐ তেলে আদা বাটা, হলুদ বাটা, কাচা লঙ্কা কসিয়ে আলুর দম রান্না করুন, এরপর নামানোর ১০ মিন আগে ছানা যোগ করুন।
) বাদাম ভাজা- চিনা বাদাম/কাজুবাদাম জলে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, আলু ছোট টুকরো কাটুন, তেলে বাদাম ভাজুন,আদা বাটা, মসলা কসিয়ে একটু জল ও আলু মিশান, এরপর কোরানো নারকেল দিন।জল দিয়ে ঢেকে ১৫ মিনিট রান্না করুন। নামানোর আগে ধনে পাতা দিন।
) বৈকুণ্ঠ কারি- গাজর, কাচালঙ্কা লম্বা লম্বা করে কেটে নিন, বাধাকপি কুচি, তেলে মসলা কসিয়ে সবজি রান্না করুন, সবশেষে ভাজা ছানা/পনিরের টুকরো, ধনে পাতা, কারি পাতা যোগ করুন।
) গোল আলু গোল গোল করে পাতলা স্লাইস করুন, এরপর ডুবো তেলে ভাজুন, এরপর বেকিং ট্রেতে বিছিয়ে দিন, তারুপর পনিরের গ্রেট করে ১০মিনিত ওভেনে বেক করুন, যতখন না পনির গলে যায়।
) বাধাকপি, আলু, গাজর দিয়ে ভাজি
) কাচাকলা পাতলা করে কেটে ডুবো তেলে ভাজতে পারেন
) সবজি ও ফলের সালাদ বানাতে পারেন
) সাগুদানার খিচুড়ি(ডাল ছাড়া)- সাধারন পদ্ধতি
) দুধ সাগু কলার পায়েস
) একটি পাত্রে ঘন দুধ, দই, চিনি, ফ্রেস ক্রিম মিসিয়ে ভাল করে ফেটুন। এরপর পাকা আম/পেপে/স্ত্রবেরি টুকরো করে মিশান। ফ্রিজে রেখে দিন ২/৩ ঘণ্টা। ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন

Written by: sulaksana susmita
Share:

৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

শুদ্ধ ভাবে একাদশী পালনের বিধি সংক্ষিপ্ত আকারে

বর্তমানে একাদশী আটাদশী বা #ময়দাদশীতে পরিণত হয়েছে ।

শুদ্ধ ভাবে একাদশী পালনের বিধি সংক্ষিপ্ত আকারে :কি কি খাবার নিষেধ,,একাদশী পারণঃ#একাদশীর ব্রত মহাত্য: যে গুলো পালন করতেই হবে,,আর একাদশী না থাকলে কি হবে সব আলোচনা করা হলো। হরে কৃষ্ণ ।

□ ১। সমর্থ পক্ষে দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার, ও দ্বাদশীতে একাহার করিবেন ।
□ ২। তা হতে অসমর্থ পক্ষে শুধুমাত্র একাদশীতে অনাহার।
□ ৩। যদি উহাতেও অসমর্থ হন, একাদশীতে পঞ্চ রবিশস্য বর্জন করতঃ ফল মূলাদি অনুকল্প গ্রহণের বিধান রহিয়াছে ।
□ সমর্থ পক্ষে রাত জাগরণের বিধি আছে , গোড়ীয় ধারায় বা মহান আচার্য্যবৃন্দের অনুমোদিত পঞ্জিকায় যে সমস্ত একাদশী নির্জলা ( জল ব্যতীত ) পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন । সেগুলি সেমতে করলে সর্বোওম হয় । নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় থেকে নিরাহার থাকতে অপারগ হলে নির্জলাসহ অন্যান্য একাদশীতে কিছু — সবজি , ফলমূলাদি গ্রহণ করতে পারেন । যেমন — গোল আলু , মিষ্টি আলু , চাল কুমড়ো , পেঁপে , টমেটো, , ফুলকপি ইত্যাদি সবজি ঘি অথবা বাদাম তৈল দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে আহার করতে পারেন । হলুদ, মরিচ, ও লবণ ব্যবহার্য । আবার অন্যান্য আহায্য যেমন — দুধ ,কলা , আপেল , আঙ্গুর, আনারস, আখঁ, আমড়া শস্য, তরমুজ, বেল, নারিকেল, মিষ্টি আলু , বাদাম ও লেবুর শরবত ইত্যাদি ফলমূলাদি খেতে পারেন ।

#একাদশীতে_পাচঁ_প্রকার_রবিশস্য_গ্রহণ_করতে_নিষেধ_করা_হয়েছেঃ

□ ১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন – চাউল,মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েশ, খিচুড়ি, চাউলের পিঠা, খৈ ইত্যাদি
□ ২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন – আটা,ময়দা, সুজি , বেকারীর রূটি , বা সকল প্রকার বিস্কুট ,হরলিকস্ জাতীয় ইত্যাদি ।
□ ৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন — ছাতু , খই , রূটি ইত্যাদি ।
□ ৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন — মুগ মাসকলাই , খেসারী , মসুরী, ছোলা অড়রহ , ফেলন, মটরশুটি, বরবঢী ও সিম ইত্যাদি ।
□ ৫। সরিষার তৈল , সয়াবিন তৈল, তিল তৈল ইত্যাদি । উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যেকোন একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয় ।
□ উল্লেখ্য যারা সাত্ত্বিক আহারী নন এবং চা , বিড়ি / সিগারেট পান কফি ইত্যাদি নেশা জাতীয় গ্রহণ করেন, একাদশী ব্রত পালনের সময়কাল পর্যন্ত এগুলি গ্রহণ না করাই ভালো ।

#একাদশীর_ব্রত_মাহাত্য:

□ একাদশী করলে যে কেবলমাত্র নিজের জীবনের সদ্ গতি হবে তা নয় । একাদশী ব্যক্তির প্রয়াত পিতা / মাতা নিজ কর্ম দোষে নরকবাসী হন , তবে সেই পুত্র ই (একাদশী ব্রত ) পিতা – মাতাকে নরক থেকে উদ্ধার করতে পারে । একাদশীতে অন্ন ভোজন করলে যেমন নরকবাসী হবে , অন্যকে ভোজন করালেও নরকবাসী হবে । কাজেই একাদশী পালন করা আমাদের সকলেরই কর্তব্য ।

#একাদশী_পারণঃ

□ (একাদশী তিথির পরদিন উপবাস ব্রত ভাঙ্গার পর নিয়ম ) পঞ্জিকাতে একাদশী পারণের ( উপবাসের পরদিন সকালে ) যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে , সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে, প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা একান্ত দরকার । নতুবা একাদশীর কোন ফল লাভ হবে না । একাদশী ব্রত পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল উপবাস করা নয় , নিরন্তর শ্রীভগবানের নাম স্মরণ , মনন , ও শ্রবণ কীর্তনের মাধ্যমে একাদশীর দিন অতিবাহিত করতে হয় । এদিন যতটুকু সম্ভব উচিত । একাদশী পালনের পরনিন্দা , পরিচর্চা, মিথ্যা ভাষণ, ক্রোধ দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ ।
*** #বিঃ দ্রঃ নিমোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছনীয়ঃ —
□একাদশী ব্রতের আগের দিন রাত ১২ টার আগেই অন্ন ভোজন সম্পন্ন করে নিলে সর্বোওম । ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাঁশ
□ করে দাঁত ও মুখ গহব্বরে লেগে থাকা সব অন্ন পরিষ্কার করে নেওয়া সর্বোওম । সকালে উঠে শুধু মুখ কুলি ও স্নান করতে হয়।
□ একাদশীতে সবজি কাটার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোথাও কেটে না যায় । একাদশীতে রক্তক্ষরণ বর্জনীয় । দাঁত ব্রাশঁ করার সময় অনেকের রক্ত ক্ষরণ হয়ে থাকে । তাই একাদশীর আগের দিন রাতেই দাঁত ভালো ভাবে ব্রাশঁ করে নেওয়াই সর্বোওম ।
□ একাদশীতে চলমান একাদশীর মাহাত্ন্য ভগবদ্ভক্তের শ্রীমুখ হতে শ্রবণ অথবা সম্ভব না হলে নিজেই ভক্তি সহকারে পাঠ করতে হয় ।
□ যারা একাদশীতে একাদশীর প্রসাদ রান্না করেন , তাদের পাচঁ ফোড়ঁন ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিৎ ।কারণ পাঁচ ফোড়ঁনে সরিষার তৈল ও তিল থাকতে পারে যা বর্জনীয় ।
□ একাদশীতে শরীরে প্রসাধনী ব্যবহার নিষিদ্ধ । তৈল ( শরীরে ও মাথায় ) সুগন্ধি সাবান শেম্পু ইত্যাদি বর্জনীয় ।
□ সকল প্রকার ক্ষৌরকর্ম — শেভ করা এবং চুল ও নক কাটা নিষিদ্ধ

***#আর একাদশী না থাকলে কি হবে তাও শুনুন:

একাদশী কালীন আপনি যে খাবার গ্রহণ করবেন অর্থাৎ খাদ্য শস্য গ্রহন করবেন তা আপনি খাবার নয় #পাপ ভক্ষণ করবেন।

কারন মাএ ১টি খাদ্য শস্যের মধ্যে #চার ধরনের পাপ থাকে।পাপ গুলো কি কি দেখুন-
১/মাতৃ হত্যার পাপ।
২/পিতৃ হত্যার পাপ।
৩/ব্রক্ষা হত্যার পাপ।
৪/গুরু হত্যার পাপ।
আর আপনি মাএ ১টি দানা নয় প্রতি গ্রাসে গ্রাসে হাজার হাজার দানা ভক্ষণ করবেন।
ভেবে দেখুন আপনি যে পাপ কাজ করিন নি অথচ সেই পাপ কাজের ভাগীদার হতে হবে,যদি আপনি একাদশী সময় খাদ্য শস্য গ্রহন করেন।

আর একাদশী সময় নিজে খাদ্য শস্য খেলে যে পাপ হবে তেমনি অন্যকে খাওয়ালেও সমপরিমাণ পাপ হবে।

তাই একজন সনাতনী হিসেবে আপনার থেকে একাদশী থাকা উচিত না অনুচিত তা নিজেই ভেবে দেখুন।

Collected from: Shadeb Bhoumik
Share:

২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

২০১৫ সালের একাদশীর সময়সূচী

২০১৫ সালের একাদশীর সময়সূচী। সবাইকে শেয়ার করুন ও নিজের সংগ্রহে রাখুন । হরে কৃষ্ণ ।।

Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।