• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

নারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০৮ জুলাই ২০১৫

বেদে নারীর মহিমা

বেদে নারীর মহিমা শীর্ষক লেখা অনেক দিন ধরে লিখতে চাচ্ছিলাম। বিভিন্ন ব্লগে হিন্দু ধর্ম নিয়ে নানা অপপ্রচার চলছে। এর একটি হচ্ছে বেদে নারীর অবস্থান অনেক নিচে। তাদেরকে মানুষ বলে গণ্য করা হয়নি। তাছাড়া হিন্দু মেয়েরা যেভাবে ভালবাসার ফাঁদে পরে ধর্মান্তরিত হচ্ছে তা রীতিমত ভয়াবহ। এমত অবস্থায় লিখতে বসলাম।

অথর্ববেদঃ
১। Girls should train themselves to become complete scholars and youthful through Brahmcharya and then enter married life.
Atharva 11.5.18
ব্রহ্মচারী সুক্তের এই মন্ত্র বলে মেয়েদের শিক্ষা লাভের পর স্বামী গৃহে প্রবেশের কথা। এই মন্ত্র নারীদের নির্দেশ দেয় ছেলেদের মত একই শিক্ষা গ্রহনের।
২। Atharva 14.1.6
Parents should gift their daughter intellectuality and power of knowledge when she leaves for husband’s home. They should give her a dowry of knowledge.
এখানে উপঢৌকন হিসেবে জ্ঞান দানের কথা বলা হয়েছে।
৩। Atharva 14.1.20 Oh wife! Give us discourse of knowledge
এখানে স্ত্রীর কাছে জ্ঞান চাওয়া হয়েছে।
৪। Atharva 7.46.3
Protector of children, having definite knowledge, worth thousands of prayers and impressing all directions, O women, you accept prosperity. O wife of desrving husband, teach your husband to enhance wealth.
স্ত্রী কে বলা হয়েছে স্বামীকে সহায়তা করতে যাতে পরিবারে সুখ সমৃদ্ধি, অর্থ বৈভব আসে।
৫।
Atharva 7.47.1
Oh woman! You are the keeper of knowledge of all types of actions (karma).
মহিলাদের জ্ঞানের ধারক বলা হয়েছে।
৬। Atharva 7.47.2
Oh woman! You know everything. Please provide us strength of prosperity and wealth
নারীই শিশুদের প্রথম জ্ঞানদাতা । তিনিই শিশুদের জগত সংসারে যুদ্ধের উপযুক্ত করে পাঠান। মন্ত্রে তাই বলা হয়েছে।
৭। Atharva 7.48.2
Oh woman! Please provide us with wealth through your intellect
৮। Atharva 14.1.64
Oh woman! Utilize your vedic intellect in all directions of our home!
নারীকে মঙ্গলময়ী লক্ষ্মী সেই বৈদিক যুগ থেকেই বলা হয়।
৯। Atharva 2:36:5
Oh bride! Step into the boat of prosperity and take your husband beyond the ocean of worldy troubles into realms of success
‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী’ নজরুল কাব্যে নারী
তারুণ্য দীপ্ত যৌবনে উজ্জল কবি নজরুল। বাংলার নারী সমাজকে জাগাতে এবং অনুপ্রাণিত করতে তিনি তাদের আন্তরিকতার সাথে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তাই তো কবি কবিতায় লিখেছেন,
‘জাগো নারী জাগো বহ্নি শিখা’
কবি আরও লিখেছেন
‘সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ রমণী
কোন ভেদাভেদ নাই’
‘নারীরে প্রথমে দিয়েছি মুক্তি
নয় সম অধিকার
মানুষ গড়া প্রাচীর ভঙ্গিয়া
করিয়াছি একাকার
কবি ভাবতেন নারীর জন্য পুরুষ তন্ত্রের বিভেদ ও অসাম্য সৃষ্টির কথা।
নারীর স্বাতন্ত্রবোধ কেড়ে নিয়ে তার জন্য পুরুষ তৈরি করেছে অসংখ্য শক্ত শেকল। সাংসারিক জীবনে পুরুষের মনোরঞ্জনের সুবিধার্থে নারীকে করেছে ভিন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত। নামিয়ে এনেছে দাসীর পর্যায়ে। কবি চেয়েছেন এ অবস্থা থেকে নারীর মুক্তি। নারীর মানুষ হিসেবে গণ্য করার অধিকার।
কবির এই কথাই শত সহস্র বছর আগে ধ্বনিত হয় অথর্ব বেদের মন্ত্রে। নারীই তার স্বামীকে সংসারের কঠিন সময়ে আশার আলো দেন পাশে থেকে।
১০। Atharva 1.14.3
Oh groom! This bride will protect your entire family
কোথায় এখন মহাপণ্ডিতরা?
১১। Atharva 2.36.3
May this bride become the queen of the house of her husband and enlighten all.
১২। Atharva 11.1.17
These women are pure, sacred and yajniya (as respected as yajna); they provide us with subjects, animals and food
১৩। Atharva 12.1.25
Oh motherland! Give us that aura which is present in girls
১৪। Atharva 12.2.31
Ensure that these women never weep out of sorrow. Keep them free from all diseases and give them ornaments and jewels to wear.
এখানে নারীর দুঃখ কষ্ট যাতে না হয় সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।
১৫। Atharva 14.1.20
Hey wife! Become the queen and manager of everyone in the family of your husband.
১৬। Atharva 14.1.50
Hey wife! I am holding your hand for prosperity
১৭। Atharva 14.1.61
Hey bride! You shall bring bliss to all and direct our homes towards our purpose of living
১৮। Atharva 14.2.71
Hey wife! I am knowledgeable and you are also knowledgeable. If I am Samved then you are Rigved.
১৯। Atharva 14.2.74
This bride is illuminating. She has conquered everyone’s hearts!
২০। Atharva 7.38.4 and 12.3.52
Women should take part in the legislative chambers and put their views on forefront.
Share:

৩০ জুন ২০১৫

শাঁখা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে কেন মহামূল্যবান

শাঁখা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহামূল্যবান। শাঁখা ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে অসম্ভব। শাঁখা হচ্ছে শঙ্খ দিয়ে তৈরি এক ধরনের সাদা অলঙ্কার।
ব্রহ্মবৈবরতপুরাণে আছে, শঙ্খাসুরের স্ত্রী তুলসী দেবী ছিলেন ভগবান নারায়ণে বিশ্বাসী এক সতীসাধ্বী নারী। আর শঙ্খাসুর ছিল ভগবানবিমুখ অত্যাচারী। তার (শঙ্খাসুর) পাপের শাস্তিস্বরূপ তাকে বধ করার পর ভারত মহাসাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। স্বামীব্রতী তুলসী দেবী তা সইতে না পেরে স্বামী এবং নিজের অমরত্বের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন। ভগবান প্রার্থনা মঞ্জুর করে তার দেহ থেকে তুলসী গাছ এবং সমুদ্রে হত্যা করা স্বামীর রক্ত বা অস্থি থেকে শঙ্খ বা শাঁখার উৎপত্তি করেন। তুলসী দেবীর ধর্মপরায়ণতায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান দু'জনকেই ধর্মীয় কাজে নির্ধারণ করে দেন। সেই থেকে পতিব্রতা তুলসীকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তুলসী ও শাঁখা ব্যবহারের প্রচলন হয়।


এ কাহিনী সূত্রে জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর আগে (মহাভারতের যুগে) শাঁখার ব্যবহার শুরু হয়৷ দাক্ষিণাত্যে প্রায় দু’হাজার বছর আগে থেকেই এ শিল্পের প্রচলন ছিল। তামিলনাড়ুর প্রাচীন রাজধানী কোরকাই এবং কায়েলের ভগ্নস্তুপ থেকে শঙ্খশিল্পের প্রাচীন নির্দশন আবিষ্কৃত হয়েছে। মাদ্রাজ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত শঙ্খশিল্পের নিদর্শনের কথা লিখেছেন ভ্রমনকারী জেমস হরনেল। তিনি উল্লেখ করেছেন খ্রিস্টীয় ১ম-২য় শতকেই মহীশূর, হায়দ্রাবাদ, গুজরাট, কাথিয়াবার প্রভৃতি অঞ্চলে শঙ্খশিল্পের বিকাশ লাভ করেছিল। এর পরেই শঙ্খশিল্প সবচেয়ে বেশি প্রসার লাভ করে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে। পরে ঢাকাই হয়ে ওঠে ভারতবর্ষে শঙ্খশিল্পের প্রধান কেন্দ্র। শাঁখারীরা আসলে নৃতাত্ত্বিক দিক থেকে বাঙ্গালী না। তাদের আদি নিবাস দক্ষিন ভারতে। আনুমানিক ১২ শতকের দিকে বল্লাল সেনের আমলে ঢাকায় শঙ্খশিল্পের প্রচলন শুরু হয় বলে ধারনা করেছেন ইতিহাসবেত্তারা। শাঁখারি সম্প্রদায় প্রথমে বিক্রমপুরে বসতি স্থাপন করে। সতেরো শতকে মুঘলরা ঢাকায় এলে শাঁখারিদের এখানে আনা হয়। তারা ব্যবসায়ের উপযুক্ত একটি এলাকা নির্ধারণ করে বসতি স্থাপন করেন, যার বর্তমান নাম ‘শাঁখারিবাজার'।

সনাতন হিন্দুদের পূজা-অর্চনা, সামাজিক, মাঙ্গলিকসহ যে কোনো শুভ অনুষ্ঠান শঙ্খের ধ্বনি ছাড়া হয় না বললেই চলে।শঙ্খধ্বনি ছাড়া যে কোনো পূজাই অসমাপ্ত। শঙ্খধ্বনি আমাদের কাছে পবিত্র। শঙ্খ দর্শনে পাপ ক্ষয় হয়। সে জন্য পূজায় সন্ধ্যার সময় বিয়েতে অথবা যে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভ পরিণতির জন্য শঙ্খ বাজানো হয়ে থাকে। শঙ্খ অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক। কখনও পূজা-পার্বণের ধ্বনিতে কখনও শ্রীকৃষ্ণের রণবাদ্য আবার কখনও নারায়ণের হাতের পরশে কখনও বা সাবিত্রীর সতীত্ব বলয়ে।

শঙ্খ হিন্দু রমণীর সতীত্বের প্রতীক। বিবাহিত হিন্দু রমণীর সঙ্গে জড়িত রয়েছে একজোড়া শাঁখা। কারণ কুমারী অবস্থায় শাঁখা পরা যায় না। তাই সে গুনতে থাকে প্রহর কখন তার হাতে উঠবে বিয়ের প্রতীক হিসেবে একজোড়া শঙ্খবালা। তাদের ধারণা, এ শঙ্খবালা যতদিন হাতে থাকবে ততদিন তার স্বামী সুস্থ দেহে বেঁচে থাকবে। তাদের বিশ্বাস, হাত শাঁখাহীন থাকলে স্বামীর অমঙ্গল হয়।

তবে শঙ্খ শুধু বিবাহিত ও হিন্দু রমণীর হাতের শোভা হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, আরও অনেক কাজে ব্যবহৃত হয় ধর্ম ও বিশ্বাসের আধার হিসেবে। দেবতার পূজায় শঙ্খে কপিলা গাভীর দুধ ভরে নারায়ণকে স্নান করানো হয়। বলা হয়, শঙ্খধ্বনি যতদূর পর্যন্ত যায় ততদূর পর্যন্ত লক্ষ্মী দেবী অবস্থান করেন।

শঙ্খ কূটরস পুষ্টিবর্ধক, বলকারক। শূলকফ-শ্বাস-বিষ দোষনাশক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মুখের যে কোনো দাগ মোচন করে শঙ্খ চুন। সাধারণত শঙ্খ পাওয়া যায় ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে। আরব সাগরেও কিছু প্রাপ্তি ঘটে। প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে শঙ্খের বিভিন্ন নামকরণ করা হয়। বিভিন্ন জাতের শঙ্খ রয়েছে। এদের মধ্যে উন্নতমানের হচ্ছে কন্যা কুমারী, রামেশ্বরী, কেপি, জাজি, পাটি, মতি সালামত, ওমেনি, দোয়ালি, সারভি কি, তিতকুটি, ধলা ইত্যাদি। 'মতি সালামত' সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ এর মধ্যে মুক্তা পাওয়া যায়। শঙ্খের মুখ, লেজ ও পিঠ আছে। সাধারণত বাম দিকে শঙ্খের মুখ থাকে। যদি শঙ্খের মুখ ডান দিকে থাকে তবে তার মূল্য অনেক। এটাকে নারায়ণের হাতের শঙ্খের অনুরূপ মনে করা হয়। এ 'দক্ষিণমুখী শঙ্খ' - কে সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ শঙ্খ দিয়ে পূজা করলে ঘরে সৌভাগ্য আসে, বিপদ-আপদ দূর হয়। শঙ্খ একটি প্রাচীন শিল্প। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা আবিষ্কারের সময় শঙ্খশিল্পের বিভিন্ন কারুকাজের নিদর্শন পাওয়া যায়।দুর্গাপূজার অন্যতম অনুষঙ্গ শঙ্খ। পুরোহিতের মন্ত্র, ঢাকের আওয়াজ, শঙ্খধ্বনি -- এই শব্দগুলো সনাতন পূজা মণ্ডপের পরিচিত অনুষঙ্গ, এগুলো ছাড়া পূজাই হয় না ।

শঙ্খ এক প্রকার জলজ জীব। এ শঙ্খ পাওয়া যায় শ্রীলঙ্কা ও মাদ্রাজের সমুদ্রতীরে। একসময় মাদ্রাজ থেকে আমদানি করা হলেও বর্তমানে শ্রীলঙ্কা থেকে আমদানি করে এ দেশে শঙ্খের চাহিদা মেটানো হয়। শাঁখা ও শঙ্খজাত অলঙ্কার তৈরির জন্য ব্যবহৃত শঙ্খের মধ্যে তিতপুটি, রামেশ্বরি, মতি-ছালামত, পাটি, গারবেশি, কাচ্চাম্বর, ধলা, রায়াখাদ, খগা, সুর্কিচোনা, ঝাঁজি, দোয়ানি, জাডকি, কেলাকর, তিতকৌড়ি, গড়বাকি, সুরতি, দুয়ানাপাটি, আলাবিলা উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে তিতকৌড়ি শঙ্খ সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের এবং আলাবিলকে নিম্ন মানের শঙ্খ। হাতের শাঁখার মধ্যেও বিভিন্ন নামের শাঁখা রয়েছে। এর মধ্যে সাতকানা, পাঁচদানা, তিনদানা, বাচ্চাদার, সাদাবালা, আউলাকেশী উল্লেখযোগ্য। সৌখিনদের জন্য রয়েছে সোনা বাঁধাই শাঁখা। এসবের মধ্যে টালি, চিত্তরঞ্জন, সতীলক্ষী, জালফাঁস, লতাবালা, মোটলতা, তাঁরপেচ ইত্যাদি। আমাদের দেশে যেসব শঙ্খ আমদানি করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম জাতি, পাটি, ধলা, কাঞ্চন, কড়ি। আরো নানা রকম শঙ্খ থাকলেও এসব শঙ্খই বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে শাঁখা শিল্পে। আমাদের দেশে শঙ্খ দুইভাবে ব্যবহার করা হয়। তা হলো আস্ত শঙ্খ আর কাটা শঙ্খ বা শাঁখা। আস্ত শঙ্খ আবার ব্যবহার করা হয় দুইভাবে। তার একটি বাদ্যশঙ্খ অন্যটি জলশঙ্খ। আর কাটা শঙ্খ দিয়ে হয় শাঁখা, আংটি, চুনসহ নানা উপকরণ। শ্রীলঙ্কা থেকে আসা শঙ্খ পরিষ্কার করে পেছনের অংশ কেটে বাদ্যশঙ্খ তৈরি করা হয়। এ শঙ্খ বিশেষ কায়দায় ধরে কাটা অংশ মুখে লাগিয়ে ফুঁ দিয়ে মঙ্গলধ্বনি করা হয়।

বড় আকৃতির এক প্রকারের শঙ্খ হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও জলের সংমিশ্রণে উজ্জ্বল করে এর বহিরাবরণে নকশা এঁকে তৈরি করা হয় জলশঙ্খ। জলশঙ্খ অনেকটা বাদ্যশঙ্খের মতোই। তবে এতে জলশঙ্খের মতো পেছনের অংশ কাটা হয় না। আস্ত শঙ্খটিকে চিত করে রেখে তার মধ্যে জল রাখা হয়। জল রাখা হয় বলেই এর নাম জলশঙ্খ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জলশঙ্খে রাখা জল গঙ্গার জলের মতোই পবিত্র মনে করেন। জলশঙ্খ মন্দিরে বা ঘরে একটি ত্রিপদের ওপর রাখা হয়। বাদ্যশঙ্খ ও জলশঙ্খ উভয়ের গায়ে নকশা করা থাকে। নকশা ছাড়া শঙ্খও ব্যবহার কম নয়। সাধারণত প্রতিটি শঙ্খে গায়ে দেখা যায় ফুল, লতাপাতার নকশা। বিশেষ কিছু শঙ্খের ওপর মা কালী, রাধা-কৃষ্ণ, দুর্গা প্রতিমার নকশাও দেখা যায়। দিনের পর দিন কাটাকাটি করে একটি শঙ্খের ওপর নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। এসব নকশা করা প্রতিটি শঙ্খ আমাদের লোকশিল্পের অন্যতম উপাদান। শঙ্খ শাখের করাত (বর্তমানে মেশিনে কাটা হয়) দিয়ে গোলাকার করে কাটা হলে তাকে শাঁখা বলে। জটিল এক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শঙ্খ শাঁখায় পরিণত হয়। গোলাকার করে করে শঙ্খ কাটার পর সেগুলো নকশাকারের কাছে চলে যায়। নকশাকার তিনটি কাঠের তৈরি তেপায়ার ওপর রেখে রেত ও দা দিয়ে নকশা তৈরি করেন। ফুল, মাছ, লতাপাতাসহ নানা নকশা তোলা হয় চিকন শাঁখার ওপর। অবস্থাপন্নরা শাঁখার ওপর সোনার তার পেঁচিয়ে নেয়। শাঁখায় জোড়া ও ছিদ্র থাকলে এখানেই সেটা এমনভাবে মিটিয়ে ফেলা হয় যে, ক্রেতা সেটা দেখতেও পায় না। শাঁখার বায়না ও দামদর : ক্রেতারা নিজের পছন্দের নকশায়ও শাঁখা-পলা করিয়ে নিতে পারেন। ফরমায়েশ দেওয়ার দুই দিনের মধ্যে তৈরি করা হয়। পূজার এ সময়ে সাত দিন আগে ফরমায়েশ দিতে হয়। পূজার সময় কাজের চাপ বেশি থাকে। তবে সোনা বাঁধানোর কাজটি করেন মূলত স্যাকরা বা স্বর্ণকারেরা। বিভিন্ন শাঁখারীবাজারে শাঁখা-পলা তো পাওয়া গেল। কিন্তু তাতে যদি সোনা, রুপা বাঁধাতে চাই তাহলে তো যেতে হবে স্বর্ণকারের কাছে। বিভিন্ন শাঁখারীবাজারের সারি সারি দোকানে বাহারি রকমের নানা কারুকার্যের নকশা করা শাঁখা-পলা পাওয়া যায় -- প্রদীপ শাঁখা, বরফি শাঁখা ও হৃদয়াকৃতির নকশা করা শাঁখার চাহিদা বেশি।

সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় সোনা বাঁধানোর কাজ কমে গেছে। কৃত্রিম সোনা, সোনার প্রলেপ আর রুপার চাহিদা বেশি। এখন নকশায় এসেছে আধুনিকতা। পুরোনো আর নতুনের মিশ্রণও ঘটে। ক্রেতার রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী শাঁখা-পলার ওপর নকশা করা হয়। শাঁখা দিয়ে গড়া গহনা ও বাদ্যশঙ্খের ব্যবহার ছাড়া হিন্দুদের সামাজিকতা ও ধর্মীয় কার্যাদি অচল বলা চলে। বিবাহিত নারীদের তো বরের দেয়া শাঁখার বালা ধারণ করতেই হবে। হিন্দুদের পূজানুষ্ঠানে জলশঙ্খে গঙ্গার পবিত্রজল রাখা হয়। অন্য এক ধরনের শঙ্খ ব্যবহৃত হয় পূজা ও অন্যান্য হিন্দু আচার অনুষ্ঠানে মঙ্গলধ্বনি করার ক্ষেত্রে। প্রসাধনী ক্ষেত্রেও শাঁখার নানা ভূমিকা রয়েছে। অতীতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অধিকাংশই শাঁখার গুঁড়াকে পাউডার বা প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার করত। আজও নানান জাতের প্রসাধনীর ভীড়ে ব্রণের দাগ তুলতে শাঁখার গুড়া ব্যবহার করা হয়। হাতের শাঁখা ছাড়াও শঙ্খের তৈরি ব্রেসলেট, ব্রুশ, ব্যাংগেল, ঘড়ির চেন, চুলের ক্লিপ, খোঁপার কাঁটা, শঙ্খের মালা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে শঙ্খের পেপারওয়েট, সেপটিপিন, আতরদানি, ফুলদানি, এসট্রের ব্যবহারও লক্ষণীয়।

শঙ্খ সমুদ্রের তলার এক অমূল্য সম্পদ। এটি শুধু দেখতে সুন্দর নয়, শঙ্খকে ভারতীয় উপমহাদেশে একটি পবিত্র বস্তু বলেও মনে করা হয়। একদিকে শঙ্খ যেমন বাদ্যযন্ত্র অন্যদিকে প্রাচীন বিভিন্ন গ্রন্থে বলা আছে বাড়িতে শঙ্খ থাকলে, সুখ-সমৃদ্ধি আসে। শঙ্খ শুধু কোনো একটি বিশেষ ধর্মের উপচার নয়। প্রাচীনকাল থেকে শঙ্খ বার্তা পাঠানোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। আজও বিভিন্ন আদিবাসী সমাজে শঙ্খকে বার্তা পাঠানোর বিশ্বস্থ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাস্তু বিজ্ঞানেও শঙ্খকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাস্তু বিজ্ঞান অনুযায়ী, বাড়িতে শঙ্খ থাকলে, তা পজিটিভ এনার্জিকে আকর্ষিত করে। আবার বাস্তু অনুযায়ী, যত দূর শঙ্খ ধ্বনি পৌঁছায়, ততো দূরের বায়ু শুদ্ধ হয়ে যায়। শঙ্খের শব্দের ফলে সুপ্ত ভূমিও জেগে ওঠে। ভূমি শুদ্ধ হওয়ার ফলে রোগ এবং কষ্ট কমে যায়। সেই বাড়ির লোকজনেরও উন্নতি হয়। শঙ্খের শব্দের যে তরঙ্গ আছে সেটিকে জীবাণুনাশক বা জীবাণু প্রতিরোধক হিসেবে প্রাচীন পুঁথি-পত্রে বলা হয়েছে। শঙ্খ অনেক রোগে ওষুধের কাজ করে। ভারতীয় আয়ুর্বেদশাস্ত্র বলছে ----


  •  যদি কারো উচ্চারণে অস্পষ্টতা থাকে বা কারও কথা বলার সময় অসুবিধা হয় বা তোতলামি আছে তাহলে প্রাচীন বাস্তু শাস্ত্র মতে, রোজ কিছুক্ষণ শঙ্খ বাজানো উচিত। এতে আবার বেশ কয়েক ধরনের ফুসফুসের রোগও সেরে যায়। আবার প্লীহা, ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগে আক্রান্ত কেউ বাড়িতে থাকলে শঙ্খ ধ্বনিতে উপকার হয় বলে বাস্তু শাস্ত্রে বলা আছে।



  •  শঙ্খের জল পান শরীরের পক্ষে উপকারী। প্রাচীন পণ্ডিতেরা গর্ভ ধারণ এবং গর্ভস্থ শিশুর বিকাশের জন্য শঙ্খের জল পান করার কথা বলেছেন। সম্ভবত সেই প্রাচীন কালেই শঙ্খের মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক খনিজ পদার্থ গুলোর সন্ধান পেয়েছিলেন।



  •  বাস্তু মতে রোজ সকালে দক্ষিণাবর্তী শঙ্খে অল্প জল ঢেলে ঘরে ছিটিয়ে দিলে নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়। একটি কাঁচের বাটিতে লঘু মোতী শঙ্খ রেখে, তা নিজের বিছানার কাছে রাখলে দম্পতির মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

  •  প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা আছে, শঙ্খ ঘসে চোখে লাগালে ফোলা ভাব দূর হয়। শঙ্খ ভস্ম যথাযথ অনুপাতে ব্যবহার করলে পিত্ত, কফ, প্লীহার সমস্যা দূর হয়। ত্বকের সমস্যা থাকলে শঙ্খের ভস্ম নারকেল তেলে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে রোজ লাগানো যেতে পারে বলেও মনে করেন প্রাচীন আয়ুর্বেদ পণ্ডিতরা।


  •  শুদ্ধ জাফরান গরম দুধে মিশিয়ে রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে শঙ্খের সাহায্যে পান করলে স্মৃতি শক্তি এবং শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। উচ্ছের রসে শঙ্খ ভস্মের সঙ্গে মিশিয়ে, তা গরুর দুধে দিয়ে পান করলে ডায়াবেটিস দূর হতে পারে বলে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা আছে।


লিখেছেনঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

০৯ মার্চ ২০১৫

সতী দেবীর দশমহাবিদ্যা রূপ ধারন


এই ঘটনা দক্ষযজ্ঞ সময়ে। ভগবান শিবের বিরোধী ছিলেন প্রজাপতি দক্ষ। শিবের সাথে হিংসা করে ভগবান শিবকে ছোটো ও হেয় করবার জন্য দক্ষ এমন এক যজ্ঞের আয়োজন করলেন- যে যজ্ঞে সমস্ত দেবতা, প্রানী, ঋষি, গন্ধর্ব, যক্ষ, কিন্নর, অসুর, নাগ, অপ্সরা, চারন, নবগ্রহ, সপ্তর্ষি এমনকি ব্রহ্মা, বিষ্ণু কে পর্যন্ত নিমন্ত্রণ জানালেন। আমন্ত্রণ জানালেন না কেবল নিজ কন্যা সতী ও জামাতা ভগবান মহেশ্বর কে।

মূর্খ দক্ষকে তাঁর পত্নী প্রসূতী, পিতা ব্রহ্মা, ইষ্ট নারায়ন সকলেই বুঝিয়েছেন- যে শিব ছাড়া যজ্ঞ অসম্ভব- এতে তোমার বিনাশ ঘটবে। কিন্তু দক্ষ সেই সব কথায় কান দেয়নি । যথারীতি শিব ছাড়াই যজ্ঞ আরম্ভ করলেন।

কৈলাসে বসে মহাদেবী মা সতী এই খবর পেয়ে যজ্ঞে যাবার জন্য বায়না ধরলেন । ভগবান নীলকণ্ঠ বহু বুঝিয়ে বললেন- " প্রিয়ে। বিনা নিমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে যাওয়া অশোভনীয়। তোমার ও আমার নিন্দে হবে। তোমার পিতা তোমাকে অনেক গাল মন্দ করবেন- যা তুমি সহ্য করতে পারবে না।" দেবী বললেন- "প্রভু । পিতৃগৃহে পিতামাতার কাছে যেতে নিমন্ত্রণের কি প্রয়োজন?

আমি সেখানে গিয়ে আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করবো- তিনি কেন এমন অশাস্ত্রীয় যজ্ঞ করছেন ?" দেবাদিদেব অনেক বোঝালেন । বোধ হয় তিঁনি মহামায়ার মায়াতে মহামায়ার স্বরূপ বিস্মৃত হয়েছিলেন। ক্রোধে বললেন- "আমি তোমাকে সেখানে যেতে দেবো না।" শুনে মহাদেবী সতী বললেন- "আপনি আমার সাথে এরূপ কটু বাক্য বলতে পারেন না? আপনি কি আমার স্বরূপ বিস্মৃত হয়েছেন?"

মহাদেবী সতীর এমন কন্ঠ মহাদেব কোনোদিন শোনেন নি ও তিনি এমন স্মর আশাও করেন নি। দেখতে দেখতে কৈলাস কেঁপে উঠলো মহাদেবী সতীর অট্টহাসিতে আর ভয়ানক বজ্রপাতে । দেবাদিদেব দেখলেন সতীর স্থানে দাঁড়িয়ে আছেন করালবদনা , মুক্তকেশী, ক্রুদ্ধা, এলোকেশী, মুণ্ডধারিনী দেবী কালী । সেই চাউনি অতীব ভয়ানক ও অসহনীয়। দেখে মহাদেব পালাতে চাইলে দেবীর শরীর থেকে চতুর্ভুজা, ব্যঘ্র চর্ম পরিহিতা দেবী তারা প্রকট হয়ে পথ রোধ করলেন। সেই দেবী অট্টহাস্য করছেন ।

এদেখে মহাদেব আর একদিকে পালাতে চাইলে ষোড়োশী দেবী প্রকট হয়ে মহাদেবের সেই দিকের গতি রোধ করলেন। মহাদেব অপর দিকে পলায়ন করতে চাইলে একে একে ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী , মাতঙ্গী ও কমলা দেবী দশ দিক থেকে প্রকট হয়ে দশদিকের পথ রোধ করলেন । দেবাদিদেব শিব তখন কালিকার দিকে চেয়ে বললেন- "কে তুমি ? আমার কোমোল প্রানা সতী কই ?" দেবী সতী বললেন- "আমি তো আপনার সামনে।" দেবাদিদেব ভগবান শিব স্বয়ং শিবানীর মায়াজালে আচ্ছন্ন হয়ে মহামায়ার স্বরূপ বিস্মৃত হয়েছিলেন ।

এবার দেবাদিদেব বুঝলেন দেবী সতীই মহামায়া । তিনি স্তব করলেন - "হে দেবী। আমি বুঝেছি। তুমি আদ্যাশক্তি। তুমি পরমাপ্রকৃতি। তুমি দশদিকে বিরাজিতা। দশ দিক তোমার নিয়ন্ত্রনে। তুমিই সকল শক্তির উৎস। আমি তোমাকে পিতৃ গৃহে যাবার অনুমতি দিলাম।" মহাদেবের স্তবের পর নয় মহাবিদ্যা দেবী কালিকার মধ্যে বিলীন হলে দেবী কালিকা পুনঃ সতী রূপে আসলেন । এরপর বৃষ আরোহিতা হয়ে শিব গণ সহ চললেন দক্ষ মহলে । এই শেষ তাঁর সাক্ষাৎ দেবাদিদেবের সাথে । পুনঃ তিনি আসবেন হিমালয় নন্দিনী উমা রূপে।
বিস্তারিত দেখুন এখানে: Shree Krishna - The Supreme Personality of Godhead
Share:

২৯ জুন ২০১৪

আমাদের ধর্মে নারীকে অনেক উপরে স্থান দেয়া হয়েছে

আমাদের ধর্মে নারীকে অনেক উপরে স্থান দেয়া হয়েছে, ইভেন আমাদের দেবতার সাথে সাথে রয়েছে অনেক দেবীও। সকল দেবীদের রয়েছে অনেক উচ্চ স্থান, যেমন মা দুর্গা শক্তির দেবী, মা সরস্বতী বিদ্যার দেবী, মা লক্ষ্মী ধন সম্পদের দেবী, মা কালী সংহার কারিণী আরও অনেক। তবে আমাদের (হিন্দুদের) দের কিছু নিয়ম নীতির বা আচার ব্যবহার এর জন্যই আজও নারীরা অনেক দিক দিয়ে অবহেলিত। যেমন -
* পুত্র সন্তান না থাকলে পিতৃপুরুষের তর্পণ হয় না। তাই বাবা মা পরিবার পরিজন ছেলে সন্তান কামনা করে। নিজেদের উদ্ধারের আশায়।
* মেয়েদের বেদ পরা নিষিদ্ধ।
* পিতা মাতার ধারনা ছেলেরাই তাদের বৃদ্ধ বয়সে দেখাশুনা করবে। আর মেয়েরা তো অন্য পরিবারে চলে যাবে।
* ছেলে বাবা মায়ের নাম উজ্জ্বল করবে । এক্ষেত্রে মেয়ের কোন ভুমিকাই নেই।
* ছেলের নাম করন ধুম ধাম করে হবে, আর মেয়ের নাম করনে কোন রকম নিয়ম পালন।
* সবাই ছেলে হলে যতটা খুশি মেয়ে হলে তার ২০% খুশি হয়, বরং তার থেকেও কম।
* বিয়ের সময় ছেলেরা যৌতুক নিয়ে বিয়ে করবে, আর মেয়ে পক্ষ যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিবে।
* শিক্ষার অধিকার ছেলেদের বেশি থাকবে, তাদের অনেকদুর পড়াবে, আর মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষাই যথেষ্ট, কারন তারা অন্যের বারি চলে যাবে।
*শ্রাদ্ধ / পুজার অগ্রাধিকার ছেলেদের এ থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি।
এছারা বাবা মা বা পরিবারও অনেক সময় ভুক্তভুগী হবার ভয়ে আগের চেক করে নেয় সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে।ছেলে হলে খুশি মনে রাখবে আর মেয়ে হলে রাখবে কিন্তু এই মনে যে কি আর করা, ঈশ্বরের দান, মেরে তো আর ফেলা যায় না। আবার অনেক সময় মেয়ে সন্তান হলে নষ্ট করেও ফেলে।
আর এ সকল কিছুর জন্য নারীরা আজও অবহেলিত, যতই আমরা বলি নারী পুরুষ সমান অধিকার, তার সত্যতা যে কতটুকু তা চোখ খুললেই চোখে পরে।
যদি কিছু ভুল বলে থাকি ক্ষমা করবেন। আমি শুধু এটুকুই জানি ছেলে হই আর মেয়ে হই, আমি একজন সনাতনী হিন্দু । আর এই হিন্দুত্ব আমার গর্ব, জীবনের চরম পরাজয়ের কারন নয়।

(মৌনতা)
Share:

০৩ জুন ২০১৪

হিন্দুধর্মে নারীর পূনর্বিবাহের অধিকার আছে কি না ?

Photo: হিন্দুধর্মে নারীর পূনর্বিবাহের অধিকার আছে কি না ?

উত্তর-হ্যঁ অবশ্যই আছে।ঋগ্বেদ ১০.১৮.৭-৮ এ স্বামীর মৃত্যুতে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল বা সামাজিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন বিধবা মহিলাকে পূনর্বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ঋগ্বেদ ১০.১০.১০ এ স্ত্রীর মৌলিক চাহিদা পুরন করতে না পারলে বা স্বামী যদি সন্তান উত্‍পাদনে অক্ষম হয় তবে স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

পরাশর সংহিতায় বলা হয়েছে-
"নষ্ট মৃতে প্রব্রজিতে ক্লীবে চ পতিতে পতৌ।
পচস্বাপত্সু নারীরাং পতিরন্যো বিধোযতে।।"
(পরাশর সংহিতা ৪.৩০)

অনুবাদ-নারীর যদি স্বামী মারা যায়, তার স্বামী যদি গোপনে সন্ন্যাস গ্রহণ করে নিখোঁজ হয়ে যায় , স্বামী যদি নিখোঁজ হয় , স্বামী যদি সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয় , স্বামী যদি অধার্মিক ও অত্যাচারী হয় তবে নারী এই স্বামী ছেড়ে পুনরায় বিবাহ করতে পারে ।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

পাঠিয়েছেনঃ Pritom Chowdhury

উত্তর-হ্যঁ অবশ্যই আছে।ঋগ্বেদ ১০.১৮.৭-৮ এ স্বামীর মৃত্যুতে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল বা সামাজিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন বিধবা মহিলাকে পূনর্বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ঋগ্বেদ ১০.১০.১০ এ স্ত্রীর মৌলিক চাহিদা পুরন করতে না পারলে বা স্বামী যদি সন্তান উত্‍পাদনে অক্ষম হয় তবে স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

পরাশর সংহিতায় বলা হয়েছে-
"নষ্ট মৃতে প্রব্রজিতে ক্লীবে চ পতিতে পতৌ।
পচস্বাপত্সু নারীরাং পতিরন্যো বিধোযতে।।"
(পরাশর সংহিতা ৪.৩০)

অনুবাদ-নারীর যদি স্বামী মারা যায়, তার স্বামী যদি গোপনে সন্ন্যাস গ্রহণ করে নিখোঁজ হয়ে যায় , স্বামী যদি নিখোঁজ হয় , স্বামী যদি সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয় , স্বামী যদি অধার্মিক ও অত্যাচারী হয় তবে নারী এই স্বামী ছেড়ে পুনরায় বিবাহ করতে পারে ।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

পাঠিয়েছেনঃ Pritom Chowdhury
Share:

০৫ ডিসেম্বর ২০১৩

চিতোরের রানী পদ্মিনী



মেবারের রাজধানী চিতোরের রানা রাওয়াল রতন সিং -এর রানী পদ্মিনী অসম্ভব রূপবতী ছিলেন |তাঁর রূপের কথা শুনে দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি ১৩০৩ সালের ২৮ জানুয়ারি রাজপুতদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি মেবারের উদ্দেশে সসৈন্যে রওনা করেন | কিন্তু মেবারে পৌঁছে তিনি হতাশ হলেন | মেবারের দুর্গটি অতীব সুরক্ষিত | তিনি রতন সিং কে খবর পাঠালেন যে তিনি তাঁর রানী পদ্মিনী কে একটিবার দেখতে চান | রতন সিং সুলতানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই প্রস্তাবে রাজি হলেন |

রানী পদ্মিনী রাজি হলেন সুলতানকে দেখা দিতে আয়নায় প্রতিবিম্বের মাধ্যমে | সুলতান তাঁর কিছু ধূর্ত সৈনিকদের সঙ্গে দুর্গে এলেন এবং তাঁদের নির্দেশ দিলেন প্রাসাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা বিশদভাবে লক্ষ্য করতে | পদ্মিনীকে দেখে সুলতান ঠিক করলেন তাঁকে যেভাবেই হোক তাঁর চাই | তিনি রতন সিংকে কারারুদ্ধ করে পদ্মিনীকে রতন সিং - এর কাছে দাবি করলেন |

এ খবর রাজপুতদের কাছে পৌঁছার পর রাজপুত সেনাপতিরা কূটকৌশলে সুলতানকে পরাজিত করার ফন্দি আঁটেন | তাঁরা সুলতানকে জানালেন, পরদিন সকালে পদ্মিনীকে তার কাছে হস্তান্তর করা হবে | নির্দিষ্ট সকালে রাজপুতদের দেড়শ’ পাল্কি আলাউদ্দিনের তাঁবুর দিকে যাত্রা করল | পাল্কিগুলো তাঁবুর কাছে এমন জায়গায় থামল যেখানে পদ্মিনীর স্বামী রাজা রতন সিং বন্দি আছেন | আকস্মিকভাবে পাল্কি থেকে রানী পদ্মিনী ও তার পরিচারিকাদের পরিবর্তে নেমে এল সশস্ত্র সৈন্যবাহিনী | তারা রতন সিংকে মুক্ত করে নিয়ে যান আলাউদ্দিন কিছু বুঝে ওঠার আগে |

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সুলতান চিতোর গড় তছনছ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেন | তিনি চিতোর দুর্গ অবরোধ করে রইলেন | এ অবস্থায় রাজা রতন সিং দুর্গের ফটক খুলে দিয়ে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার জন্য রাজপুতদের নির্দেশ দিলেন | রাজার এই নির্দেশে রানী পদ্মিনী হতচকিত হয়ে পড়লেন | তিন বুঝতে পারলেন যে সুলতানের শক্তিশালী বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের লড়াই করে জেতা সম্ভব নয় | এ অবস্থায় তাঁর সামনে দুটো পথ খোলা ছিল | হয় জহরপানে আত্মহত্যা, নয়তো রাজপুত রমণীসহ নিজেকে সুলতানের কাছে সমর্পণ করা | এদিকে প্রাসাদের বাইরে লড়াইয়ে রাজপুতদের পরাজয় ঘনিয়ে আসছিল | আলাউদ্দিন সদলবলে চিতোর দুর্গে ঢুকে পড়লেন |

নগর রক্ষার্থে রাজপুতগণ প্রাণপণে যুদ্ধ করে নিহত হলেন | দুর্গের অভ্যন্তরে রানী পদ্মিনীর সঙ্গে তেরো হাজার রাজপুত রমণী ‘জহরব্রতের’ অনুষ্ঠান করে প্রাণ বিসর্জন করলেন | তাঁরা জীবন্ত অগ্নিকুণ্ডে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন |

আত্মহত্যা করা সৈন্য ও রানীদের ছাইভস্ম দেখে আলাউদ্দিন হতাশ হয়ে পড়েন | চিতোর গড় দখল করলেও রানীকে না পাওয়ার বেদনা তাকে প্রচণ্ড আহত করে |তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন হিন্দু নারীদের কাছে সম্মান জীবনের চাইতেও বড় |

এই আত্মমর্যাদাপুর্ণ পরম সাহসী রানীকে এস আমরা সবাই প্রনাম জানাই |




ক্ষত্রিয়-নন্দন || অতএব রণভূমে চল ত্বরা যাই হে, চল ত্বরা যাই | দেশহিতে মরে যেই তুল্য তার নাই হে, তুল্য তার নাই || যদিও যবনে মারি চিতোর না পাই হে, চিতোর না পাই | স্বর্গসুখে সুখী হব, এস সব ভাই হে, এসো সব ভাই || *********************** ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ কাব্য থেকে নেওয়া।

আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ইতিহাস আমরা ঠিক ভাবে জানি না বা কেউ আমাদের শেখায় না। আমাদের শিখতে হয় হিন্দুরাজারা ছিল অত্যাচারী আর আরব তুর্কি থেকে আক্রমণকারী বহিরাগত দস্যুরা আমাদের উদ্ধারকর্তা। আমরা শিখি সোমনাথ মন্দির লুটকারী গজনি অধিপতি মাহমুদ নাকি প্রকৃত রাজা। তাজমহল প্রেমের প্রতিক। অথচ শাহজাহান মমতাজের স্বামীকে হত্যা করেছিলেন মমতাজকে বিয়ে করার জন্য। মমতাজ ছিলেন শাহজাহানের সাতবিবির চার নম্বর। তিনি ১৪তম প্রসবের সময় মারা যান এবং তারপর শাহজাহান তার বোনকে বিয়ে করেন।

পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত দেখানো হয়। কিন্তু ঘোরিকে ১১৯১ সালে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজিত করার পর পর তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। অসুরদের ক্ষমা করার ফল তিনি পেয়েছিলেন যখন ১১৯২ সালে আবার ঘোরি অন্যায়যুদ্ধে তাঁকে পরাজিত এবং হত্যা করেন। কিন্তু পৃথ্বীরাজ চৌহান অন্যায়ের কাছে কখনও চোখ নামান নাই।


@bangali hindu post.
Share:

রানি লক্ষ্মীবাঈ

অন্যায়-অবিচার আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এক হিন্দু নারীর অসাধারণ প্রতীক হয়ে আছেন ঐতিহাসিক নারী চরিত্র ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ।

লক্ষ্মীবাঈয়ের ছোটবেলার নাম ছিল মানু।ভারতের উত্তর প্রদেশে বারানসির এক ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে মানু ছোটবেলা থেকেই কিছুটা প্রতিবাদী, যুদ্ধংদেহি মনোভাবের। স্বামীর মৃত্যুর পর কম বয়সেই তাকে ঝাঁসির রাজত্বভার গ্রহণ করতে হয়।

শাসনকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে লক্ষ্মীবাঈ উপলব্ধি করেন এ দেশে ব্রিটিশদের অন্যায়মূলক ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের কঠিন চাপ। প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন তিনি। একজন অতি সাধারণ মেয়ে মানু থেকে হয়ে ওঠেন রানি লক্ষ্মীবাঈ। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তিনি, লড়াই ঘোষণা করেন, নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নেন। অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করেন তাঁর মতো লড়াইয়ে অংশ নিতে......
রাণী লক্ষ্মী বাঈ ভারতীয় তথা হিন্দু মেয়েদের সাহসীকার প্রতীক। সুভাষ চন্দ্র বসু'র নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রথম নারী দলের নামকরণ করেন রাণী লক্ষ্মী বাঈকে স্মরণ করেই।

একটি তথ্য আমাদের অনেকেরই অজানা যে, “২১ জুলাই, ২০১১ তারিখে লক্ষ্মী বাঈকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ডানপিটে রমণীদের একজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা তাদের স্বামীদের কাছ থেকে সক্রিয় সহযোগিতা পেয়েছিলেন। টাইম ম্যাগাজিনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়; যে তালিকায় ঝাঁসীর রাণীর অবস্থান ছিল ৮ম (http://content.time.com/.../0,28804,2084354_2084355...)


#Joy Ray

Share:

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩

দুর্গা মায়ের পুজায় কুমারী পূজার মূলতত্ত্ব

কুমারী পুজা মহৎ উদ্দেশে হলে ও অনেকে একে ব্যঙ্গ করে। এই ব্যঙ্গ করার মূল কারন হল এরা এর মূল তত্ত্ব জানে না। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন: কুমারী পূজা করে কেন? সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক একটি রূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে সাধারণ
৫ থেকে ৭ বছরের
একটি কুমারীকে প্রতিমার
পাশে বসিয়ে দেবী প্রতিমা
এটা মাতৃভাবের প্রতিই
শ্রদ্ধা নিবেদন। চণ্ডীতে বলা হয়েছে—
যা দেবী সর্বভূতেষু
মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্য মধ্যে মায়ের রূপ
ধরে যে দেবী বিরাজিতা, তাঁকে পুনঃপুন নমস্কার করি।
কুমারী কাকে বলে?
বছর বয়স থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত অজাতপুষ্পবালাকে কুমারী বলে। মাতৃভাব বিকাশের জন্য রামকৃষ্ণ মঠ বিশেষভাবে এ
পূজা করে থাকে। দুর্গাপূজার
সময় বা জগদ্ধাত্রী পূজার
সময় এ পূজা অনেক
আগে থেকেই প্রচলিত। ঠিক
ঠিকভাবে পূজা হলে মন বিশুদ্ধ হয়, ঈশ্বরের কৃপালাভ
হয়। বয়স অনুসারে কুমারীর
নানা শাস্ত্রীয় নাম
হয়ে থাকে। যেমন— কালিকা,
সুভগা, উমা, মালিনী ইত্যাদি। শান্ত, পবিত্র, সর্তশীলা এসব দৈবী সম্পদের
অধিকারিণী কুমারীই
জগজ্জননীর
প্রতিমারূপে গ্রহণে বিধান আছে। ব্রহ্ম ও শক্তি অভিন্ন। যাঁকে ঈশ্বর, হরি, গড প্রভৃতি বলা হয়, তাঁকেই
মাতৃভাবে সাধনার সময়
বলা হয় জগজ্জননী। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবজাতির
ক্ষেত্রে মায়ের নীরব
অবদানের ঋণ পরিশোধ
করা অসম্ভব।
নারী শক্তিরূপিণী। তাঁর
সঠিক মূল্যায়নের অভাবে আমাদের অবক্ষয়
নেমে আসে। আবার তাঁর
উপযুক্ত মর্যাদায় সমাজ হয় কল্যাণমুখী।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন
— ‘মেয়েদের পূজা করেই সব জাত বড় হয়েছে। যে দেশে,
যে জাতে মেয়েদের
পূজা নেই, সে দেশ, সে জাত
কখনও বড় হতে পারেনি,
কস্মিন্কালেও পারবে না।
মনু বলেছেন, ‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তএ দেবতা:।
যত্রৈতাস্তু ন
পূজ্যতে সর্বাস্তত্রাফলা : ক্রিয়া:।’ অর্থাত্,
যেখানে নারীগণ পূজিতা হন,
সেখানে দেবতারা প্রজসন্ন।
যেখানে নারীগণ
সম্মানিতা হন না,
সেখানে সকল কাজই নিষ্ফল। (মনুসংহিতা, ৩.৫৬)
যেখানে স্ত্রীলোকের আদর
নেই, স্ত্রীলোকেরা নিরানন্দে অব করে, সে সংসারের,
সে দেশের কখনও উন্নতির আশা নেই।’ মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তব রূপ কুমারী পূজা।
কুমারীতে সমগ্র মাতৃজাতির
শ্রেষ্ঠ শক্তি—পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তি, সকল
কল্যাণী শক্তি সূক্ষ্মরূপে বি
তাই কুমারী পূজা।
কুমারী প্রতীকে আমাদের
মাতৃরূপে অবস্থিত।
সর্বব্যাপী ঈশ্বরেরই মাতৃভাবে আরাধনা।
যে জাতির মধ্যে শুদ্ধা,
শিক্ষিতা, করুণাময়ী মায়ের
সংখ্যা বেশি সে মাতৃজাতির
সন্তানেরা সমাজের আদর্শ
সন্তান। নিজ নিজ শক্তির বিকাশের জন্য সমগ্র
নারী জাতির প্রতি প্রয়োজন
নিজের মায়ের শ্রদ্ধা। তাই
কুমারী পূজার
মাধ্যমে সৃষ্টির সেরা জীব
মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। যিনি সকল প্রাণীতে মাতৃরূপে আছেন,
তাকে প্রণাম। কুমারী পূজার
প্রণামে আছে তিনি পরমভাগ্ নীম এবং ভুবনবাক কুমারীং ভজে। অর্থাত্,
কুমারী প্রতীকে জগজ্জননীর
পূজায় পরম সৌভাগ্য লাভ
হয়। এ কুমারী সমগ্র জগতের বাক্যস্বরূপা, বিদ্যাস্বরূপা। তিনি এক হাতে অভয় এবং অন্য হাতে বর প্রদান করেন। অন্য ধ্যান আছে— ভদ্রবিদ্যাপ্রকা শিনীম। তিনি সকল শুভ বিদ্যার প্রকাশিকা।
তাই মাতৃজাতির প্রতি যথার্থ
শ্রদ্ধা দেখিয়ে আমরা আমাদ
সমাজ ও জীবনকে মহত্ করে তুলতে পারি।

লেখক: স্বামী অমেয়ানন্দ;
অধ্যক্ষ, রামকৃষ্ণ মঠ ও
রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।