• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

বেদের বানী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বেদের বানী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০৮ ডিসেম্বর ২০১৫

কোন মানুষ বেদকে অস্বীকার করতে পারে কিন্তু বৈদিক কর্মের বাইরে কেউই নয়

পৃথিবীর অসংখ্য ধর্মের মধ্যে হিন্দু একটি প্রাচীনতম ধর্ম। প্রাচীনকালে এর নাম ছিল আর্য ধর্ম। কারণ ইরান থেকে আগত সেমেটিক শাখার আর্য গোত্ররা এ ধর্মের বাহক ছিল।এরা আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় পাঁচ হাজার অব্দে উপমহাদেশে আগমন করে আদি অধিবাসী তথাকথিক অনার্যদেরকে বিতাড়িত করে সপ্তসিন্ধু বিধৌত পঞ্জাব ও সিন্ধু অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। এ জন্য কালক্রমে তাদেরই উচ্চারণে 'সিন্ধু' শব্দের অপভ্রংশ 'হিন্দু' জতি নামে ইতিহাসে পরিচিতি লাভ করে ও প্রাচীন 'আর্য ধর্ম' তখন থেকেই হিন্দু ধর্ম নামে পরিচিতি লাভ করে। হিন্দু ধর্ম মূলত আর্যদের বৈদিক ধর্ম। এ ধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থের নাম 'বেদ'। এই বৈদিক ধর্ম সূচনাতে একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম ছিল। তৎপরবরতী পৌরাণিক যুগে হিন্দু ধর্ম অবতারবাদের প্রবক্তা হয়ে ওঠে।
পরবর্তী কালে বেদের অনুশীলন করতে গিয়ে ঋষি ব্যাসদেবাে স্থান-কাল উপযোগী সংযোজন-সংবর্ধন করে ৪টি খণ্ডে বিভক্ত করেন।
হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে বেদের স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃত ‘বিদ’ ধাতু থেকে বেদ শব্দটি নিস্পন্ন। বিদ+ঘঙ = বেদ। বেদ অর্থ জানা (To Know)। যারা এই বেদ লিপিবদ্ধ করেছেন তাদের ঋষি বলা হয়। মহাপ্রাজ্ঞ ঋষিরা হলেন বেদের মূল আবিষ্কারক, ঋষিগণ আবিষ্কার করেছেন মানুষের অন্তর্নিহিত আধাত্মিকতা এবং গুহাবাসী মানুষের অজ্ঞানতাকে দুর করবার পদ্ধতি যা তাকে অমরত্বের পথে নিয়ে যাবে। এই গ্রন্থে মানুষের জীবনধ ধারার সাথে সাথে প্রকৃতির পূজার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বেদের সংখ্যা চারটি। যথা - ১. ঋকবেদ, ২. সামবেদ, ৩. যজুবেদ ও ৪. অথর্ববেদ।
পৃথিবীর একমাত্র ধর্মগ্রন্থ হ'ল 'বেদ', বাকী যেকোনও বা যে সমস্ত ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তার প্রত্যেকটিরই স্ব স্ব শিক্ষা রয়েছে কিন্তু তা সবই বেদ-এর অনুসারী।হিন্দু ধর্মের বেদগ্রন্থের শিক্ষা একমাত্র কর্ম। যেহেতু কর্মই মানুষের একমাত্র 'ধর্ম' এবং ধর্মের মাধ্যমেই মানুষ তার নিজের কর্তব্য অনুধাবন করতে পারে। এ জন্য হিন্দু ধর্মে বলা হয়, মানুষ কর্মের মাধ্যমেই ঈশ্বর, স্বর্গ ও যাবতীয় কল্যাণ পেতে পারে এবং মুক্তির পথ অনুসন্ধান করতে পারে।
মূল বেদ ছাড়াও চারটি উপবেদ আছে। আয়ুর্বেদ, ধনুর্বেদ, গন্ধর্বেদ এবং স্থাপত্যর্বেদ। আয়ুর্বেদ হল ভেষজ শাস্ত্র, ধনুর্বেদ হল অস্ত্রবিদ্যা, গন্ধর্বেদ হল সঙ্গীত বিদ্যা আর স্থাপত্যর্বেদ হল কৃষিবিদ্যা। মানবকল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বেদ ঋষিগণ রচনা করে থাকেন। উপবেদের শিক্ষা: উপবেদ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরকে চিকিৎসা, সঙ্গীত, স্থাপত্য ও অস্ত্রবিদ্যার শিক্ষা দিয়ে থাকে।
বেদের মূল ভাবকে হৃদয়ঙ্গম করার জন্য বেদের সাহায্যকারী ছয়খানা অবয়বগ্রন্থ অধ্যয়ন করা আবশ্যক। আর এই অবয়বগুলোকে বলা হয় বেদান্ত। এগুলো হল - ১. শিক্ষা, ২. কল্প, ৩. ব্যাকরণ, ৪. নিরুক্ত, ৫. ছন্দ এবং ৬. জ্যোতিষ। বেদান্তের শিক্ষা: বেদান্ত যদিও বেদের ছয়খানা অবয়ব গ্রন্থ আর শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ এবং জ্যোতিষ এর মূল বিষয় তথাপি এর নিজস্ব একটা শিক্ষা রয়েছে। আর সেটা হল মানুষকে কর্মের চেয়ে শিক্ষার প্রতি অনুগামী করে তোলে।যাতে করে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি বৃদ্ধি পেয়ে স্রষ্টাকে বেশি উপলব্ধি করতে পারে।
.
বেদ কোনও একক মানুষের মতবাদ নয়।
বেদের আগে আর কোনও সভ্যতার উদাহরণ পাওয়া যায় না।
হিন্দু ধর্মই একমাত্র ধর্ম যা অন্ধকার যুগে মানুষকে আলোকবর্ত্তিকার সন্ধান দিয়েছে।
ভারতীয় উপমহাদেশের যেকোনও ধর্মীয় মতবাদ, যা কোনও বিশেষ মানুষের সৃষ্টি, তার সব কিছুই বেদ-নির্ভর।
কোনও মানুষ বেদকে অস্বীকার করতে পারে কিন্তু বৈদিক কর্মের বাইরে কেউই নয়।
.
 লেখকঃ প্রীথিষ ঘোষ
Share:

০২ ডিসেম্বর ২০১৫

মুর্খ মানুষেরাই মনে করে ঈশ্বরের এই ভিন্ন ভিন্ন গুন এক একটি ঈশ্বর

ঈশ্বর বহু গুণাবলীর অধিকারী। শুধু মাত্র মুর্খ মানুষেরাই মনে করে ঈশ্বরের এই ভিন্ন ভিন্ন গুন এক একটি ঈশ্বর।

এই সন্দেহ গুলো দূর করার জন্য বেদে কয়েকটি মন্ত্র আছে যেখানে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করেছে যে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এবং তার কোন সহকারী, দূত, অবতার অথবা অধীনস্ত কোন কর্মচারী নেই যার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবো। উদাহরন স্বরূপঃ

যর্যুরবেদ ৪০.১: এই সমস্ত বিশ্ব শুধু মাত্র একজন ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্টি ও পরিচালিত হচ্ছে।কখনই অন্যায় করো না অথবা অন্যায় ভাবে সম্পদ অর্জনের ইচ্ছা করো না।


ঋগবেদ ১০.৪৮.১: ঈশ্বর সর্বত্রই বিদ্যমান এবং বিশ্ব ব্রক্ষান্ডকে পরিচালিত করেন। পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই জয় ও শ্বাশত কারন প্রদান কারী। প্রতিটি আত্মা অবশ্যই তাঁকেই সন্ধান করবে যেমন করে একটি শিশু তারা বাবাকে খোঁজে। শুধুমাত্র তিনি আমাদেরকে খাদ্য ও স্বর্গীয় সুখ প্রদান করেন।

ঋগবেদ ১০.৪৮.৫: ঈশ্বর সমস্ত পৃথিবীকে আলোকিত করেন। তিনি অপরাজেয় এবং মৃত্যুহীনও। তিনি এই জগত সৃষ্টিকারী। সকল আত্মার উচিত পরম সুখ সন্ধান করা জ্ঞান অন্বেষণ ও কর্মের মধ্য দিয়ে। তারা কখনই ঈশ্বরের বন্ধুত্ব থেকে নিজেকে পরিহার করবে না।

ঋগবেদ ১০.৪৯.১: ঈশ্বরই সত্যের সন্ধানীদের সত্যজ্ঞান দিয়ে থাকেন। তিনিই শুধু জ্ঞানের প্রর্বতক এবং ধার্মিক ব্যাক্তিদের পরম সুখ লাভের জন্য পবিত্র কর্ম করতে উৎসাহী করেন। তিনিই একমাত্র জগতের সৃষ্টিকারী এবং এর পরিচালক। ঙটাই ঈশ্বর ব্যাতীত অন্য কারো উপাসনা করো না।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

০৮ জুলাই ২০১৫

বেদে নারীর মহিমা

বেদে নারীর মহিমা শীর্ষক লেখা অনেক দিন ধরে লিখতে চাচ্ছিলাম। বিভিন্ন ব্লগে হিন্দু ধর্ম নিয়ে নানা অপপ্রচার চলছে। এর একটি হচ্ছে বেদে নারীর অবস্থান অনেক নিচে। তাদেরকে মানুষ বলে গণ্য করা হয়নি। তাছাড়া হিন্দু মেয়েরা যেভাবে ভালবাসার ফাঁদে পরে ধর্মান্তরিত হচ্ছে তা রীতিমত ভয়াবহ। এমত অবস্থায় লিখতে বসলাম।

অথর্ববেদঃ
১। Girls should train themselves to become complete scholars and youthful through Brahmcharya and then enter married life.
Atharva 11.5.18
ব্রহ্মচারী সুক্তের এই মন্ত্র বলে মেয়েদের শিক্ষা লাভের পর স্বামী গৃহে প্রবেশের কথা। এই মন্ত্র নারীদের নির্দেশ দেয় ছেলেদের মত একই শিক্ষা গ্রহনের।
২। Atharva 14.1.6
Parents should gift their daughter intellectuality and power of knowledge when she leaves for husband’s home. They should give her a dowry of knowledge.
এখানে উপঢৌকন হিসেবে জ্ঞান দানের কথা বলা হয়েছে।
৩। Atharva 14.1.20 Oh wife! Give us discourse of knowledge
এখানে স্ত্রীর কাছে জ্ঞান চাওয়া হয়েছে।
৪। Atharva 7.46.3
Protector of children, having definite knowledge, worth thousands of prayers and impressing all directions, O women, you accept prosperity. O wife of desrving husband, teach your husband to enhance wealth.
স্ত্রী কে বলা হয়েছে স্বামীকে সহায়তা করতে যাতে পরিবারে সুখ সমৃদ্ধি, অর্থ বৈভব আসে।
৫।
Atharva 7.47.1
Oh woman! You are the keeper of knowledge of all types of actions (karma).
মহিলাদের জ্ঞানের ধারক বলা হয়েছে।
৬। Atharva 7.47.2
Oh woman! You know everything. Please provide us strength of prosperity and wealth
নারীই শিশুদের প্রথম জ্ঞানদাতা । তিনিই শিশুদের জগত সংসারে যুদ্ধের উপযুক্ত করে পাঠান। মন্ত্রে তাই বলা হয়েছে।
৭। Atharva 7.48.2
Oh woman! Please provide us with wealth through your intellect
৮। Atharva 14.1.64
Oh woman! Utilize your vedic intellect in all directions of our home!
নারীকে মঙ্গলময়ী লক্ষ্মী সেই বৈদিক যুগ থেকেই বলা হয়।
৯। Atharva 2:36:5
Oh bride! Step into the boat of prosperity and take your husband beyond the ocean of worldy troubles into realms of success
‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী’ নজরুল কাব্যে নারী
তারুণ্য দীপ্ত যৌবনে উজ্জল কবি নজরুল। বাংলার নারী সমাজকে জাগাতে এবং অনুপ্রাণিত করতে তিনি তাদের আন্তরিকতার সাথে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তাই তো কবি কবিতায় লিখেছেন,
‘জাগো নারী জাগো বহ্নি শিখা’
কবি আরও লিখেছেন
‘সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ রমণী
কোন ভেদাভেদ নাই’
‘নারীরে প্রথমে দিয়েছি মুক্তি
নয় সম অধিকার
মানুষ গড়া প্রাচীর ভঙ্গিয়া
করিয়াছি একাকার
কবি ভাবতেন নারীর জন্য পুরুষ তন্ত্রের বিভেদ ও অসাম্য সৃষ্টির কথা।
নারীর স্বাতন্ত্রবোধ কেড়ে নিয়ে তার জন্য পুরুষ তৈরি করেছে অসংখ্য শক্ত শেকল। সাংসারিক জীবনে পুরুষের মনোরঞ্জনের সুবিধার্থে নারীকে করেছে ভিন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত। নামিয়ে এনেছে দাসীর পর্যায়ে। কবি চেয়েছেন এ অবস্থা থেকে নারীর মুক্তি। নারীর মানুষ হিসেবে গণ্য করার অধিকার।
কবির এই কথাই শত সহস্র বছর আগে ধ্বনিত হয় অথর্ব বেদের মন্ত্রে। নারীই তার স্বামীকে সংসারের কঠিন সময়ে আশার আলো দেন পাশে থেকে।
১০। Atharva 1.14.3
Oh groom! This bride will protect your entire family
কোথায় এখন মহাপণ্ডিতরা?
১১। Atharva 2.36.3
May this bride become the queen of the house of her husband and enlighten all.
১২। Atharva 11.1.17
These women are pure, sacred and yajniya (as respected as yajna); they provide us with subjects, animals and food
১৩। Atharva 12.1.25
Oh motherland! Give us that aura which is present in girls
১৪। Atharva 12.2.31
Ensure that these women never weep out of sorrow. Keep them free from all diseases and give them ornaments and jewels to wear.
এখানে নারীর দুঃখ কষ্ট যাতে না হয় সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।
১৫। Atharva 14.1.20
Hey wife! Become the queen and manager of everyone in the family of your husband.
১৬। Atharva 14.1.50
Hey wife! I am holding your hand for prosperity
১৭। Atharva 14.1.61
Hey bride! You shall bring bliss to all and direct our homes towards our purpose of living
১৮। Atharva 14.2.71
Hey wife! I am knowledgeable and you are also knowledgeable. If I am Samved then you are Rigved.
১৯। Atharva 14.2.74
This bride is illuminating. She has conquered everyone’s hearts!
২০। Atharva 7.38.4 and 12.3.52
Women should take part in the legislative chambers and put their views on forefront.
Share:

১২ এপ্রিল ২০১৫

দ্যূতক্রিয়া


জুয়া খেলা বা দ্যূতক্রিয়া যা পাশাখেলা নামেও প্রাচীন ভারতবর্ষে পরিচিত ছিল।পৃথিবীর যতগুলো প্রাচীনতম ক্রীড়া প্রচলিত ছিল তার মধ্যে একটি এই দ্যূতক্রিয়া।


মহাভারতে আমরা দেখতে পাই জীবনঘনিষ্ঠ ঘটনার সাহায্যে বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে এই পাশাখেলার কবলে পড়ে পঞ্চপাণ্ডবরা রাজ্য হারিয়েছিলেন,সী মাহীন দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছিলেন।


পবিত্র বেদে মদ্যপান,নেশাদ্র ব্য গ্রহনের পাশাপাশি এই দ্যূতক্রিয়াকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে মানবজাতির কল্যানের জন্য ই।আমাদের এক পাঠকের প্রশ্ন ছিল পবিত্র বেদাদি শাস্ত্রে এই দ্যূতক্রিয়া সম্পর্কে কি বলা হয়েছে।


ঋগ্বেদ এর দশম মণ্ডলের ৩৪ তম সুক্তের নাম ‘অক্ষকিতব নিন্দা’ সুক্ত।সংস্কৃত অক্ষকিতব অর্থ ই হল দ্যূতক্রিয়া করে যে বা জুয়াড়ি।অক্ষ হচ্ছে ‘বিভিতক’ নামক একধরনের বৃক্ষের অপর নাম যার বৈজ্ঞানিক নাম Terminalia bellirica.এই গাছ থেকেই তখনকার সময় এ অক্ষ তথা পাশাখেলার গুটি বানানো হত তাই এই খেলার নাম অক্ষ(অক্ষক্রীড় া বা পাশাখেলা))।


তাই অক্ষকিতব সুক্ত এর তৃতীয় হতে দ্বাদশ মন্ত্র পর্যন্ত জুয়া খেলার কুফল বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে-


“একজন জুয়াড়িকে(যে অক্ষ খেলে) কেউ পছন্দ করেনা।তার বাবা-মা,স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন,বন ্ধুবান্ধব কেউ না,একটি বৃদ্ধ,ক্লান্ত অশ্বের মত ই সে মুল্যহীন হয়ে পড়ে,কেউ ই তাকে গুরুত্ব দেয়না,কেনই বা দেবে?
অক্ষক্রীড়া অনুচিত তা জেনেও বারবার ওই ব্যাক্তি এই নেশা ছাড়তে পারেনা,এই দুর্দশা ক্রমশ তাকে ছুরির ন্যায় বিদ্ধ করতে থাকে,আগুনের ন্যায় দগ্ধ করতে থাকে,অসহ্য ব্যথার ন্যায় ভোগাতে থাকে,এই খেলায় জয়ী যা লাভ করে তাও একসময় ঠিক ই হারিয়ে যায়,প্রথমে অনেক মধুর মনে হলেও তা একসময় তাকে টুকরো টুকরো করে দেয়......।“
(১০.৩৪.৩-১২)


তাই ঋগ্বেদ ১০.৩৪.১৩ বলছে,
অক্ষৈর্মা দিব্যঃ কৃষিমিত কৃষস্ব বিত্তে রমস্ব বহু মন্যমানঃ।
তত্র গাবঃ কিতব তত্র জায়া তন্মে বি চষ্টে সবিতায়মর্য।।


অনুবাদ-
“হে মনুষ্য,পাশা খেলোনা,তোমার ভুমি আছে,অর্থ-সম্পত্ তি আছে।যা তোমাদের আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাক।তোমার পরিবার আছে, স্ত্রী আছে,এসব নিয়ে সুখে থাক।এটাই আলোকপ্রদর্শনকার ী পরমাত্মার প্রদত্ত জ্ঞান।”


উল্লেখ্য যে পবিত্র বেদের এই অক্ষকিতব সুক্ত কে মানবইতিহাসের প্রাচীনতম কাব্যরত্ন হিসেবে অভিহিত করা হয়।Arthur Anthony Macdonell তাঁর A History of Sanskrit Literature গ্রন্থে বলেছিলেন,
"বেদকে পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রন্থ ধরে বলা যায় যে এই কাব্যটি(সুক্তটি ) প্রাচীনতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কর্ম।"


মহাঋষি মনু তাই বলেছিলেন,
“দ্যূতমেতৎ পুরাকল্পে দৃষ্টং বৈরকরং মহৎ।
তস্মাদ্ দ্যুতং ন সেবেত হাস্যর্থমপি বুদ্ধিমান্।।
(মনুসংহিতা ৯.২২৭)


অনুবাদ-দ্যূতক্র ীড়া অত্যন্ত অনিষ্টকর একটি অভ্যাস।তাই বুদ্ধিমান ব্যাক্তির কখনো দুষ্টামির ছলেও পাশাখেলা উচিৎ নয়।


ওম শান্তি শান্তি শান্তি
Share:

বৈদিক সান্ধ্য উপসনা পদ্ধতি:

আমরা অধিকাংশ হিন্দুই কিন্তু সাধারনত কোন উপাসনা করিনা অথচ প্রকৃতপক্ষে আমাদের বেদ এ অত্যন্ত সুন্দর এবং বিজ্ঞানসম্মত উপাসনা প্রনালী আছে যা আমাদের প্রতিদিন করা অবশ্য কর্তব্য।আপনারা সকলে যাতে উপাসনা করতে পারেন সেজন্য উপাসনা পদ্ধতি দেয়া হল।

সময়ক্ষনঃ বৈদিক উপাসনার অপরনাম সান্ধ্য উপাসনা অর্থাত্‍ যা দিন এবং রাত্রির সন্ধিস্থলে করতে হয়।তাই প্রত্যুষে এবং সন্ধ্যার সময় উপাসনা করা বিধেয়।
ধাপসমুহঃ বৈদিক উপাসনা ৯টি ধাপে গঠিত।ধাপগুলো যথাক্রমে আচমন,ইন্দ্রিয় স্পর্শ,মার্জ্জন,প্রানায়াম, অঘমর্ষন,মনসা পরিক্রমা,উপস্থান,গায়ত্রী জপ এবং নমস্কার।
আচমনঃ আচমন হল মুখ এবং মুখগহ্বর পরিশোধন পদ্ধতি।ডানহাতের তালুতে পানি নিয়ে জিহ্বা,তালু এবং কন্ঠনালী ও ঠোট তিনবার পরিস্কার করতে হবে।প্রতিবার ই নিম্নলিখিত মন্ত্র পাঠ করতে হবে।
ওঁ শন্নো দেবীরভিষ্টয় আপো ভবন্ত পীতয়ে।
শংযোরভিস্রবন্ত নঃ।[ঋগবেদ ১০.৯.৪]

ওঁ(হে পরমাত্মা),দেবীঃ (দিব্যগুনদাতা),আপঃ (সর্বব্যপক),নঃ(আমাদের উপর),অভিষ্টয়ে(বান্ছিত ফলের জন্য) ও পীতয়ে(আনন্দদানের জন্য),শম(কল্যানকারী),ভবন্ত(হউন),তিনি নঃ(আমাদের উপর),শংযো(শান্তি ও কল্যান),অভিস্রবন্ত(বর্ষন করুন)
তবে আপনি যদি এমন কোন জায়গায় প্রার্থনার সময় থাকেন যেখানে আপনার পক্ষে হাতমুখ ধোয়া সম্ভব নয় সেখানে শুধু মন্ত্রপাঠ করলেও চলবে। পরবর্তী দুইটি ধাপ ইন্দ্রিয় স্পর্শ এবং মার্জ্জন‌।
ইন্দ্রিয় স্পর্শ:
নিম্নলিখিত মন্ত্র ঈশ্বরের নিকটে প্রার্থনা করিয়া যথাক্রমে মুখ,নাক,চক্ষু,কর্ণ,নাভি,কন্ঠ,মস্তক,বাহুদ্বয়, করতল এবং করপৃষ্ঠ স্পর্শ করিবে।
ওঁম বাক্ বাক্।
ওঁ প্রাণঃ প্রাণঃ।
ওঁ চক্ষুঃ চক্ষুঃ।
ওঁ শ্রোত্রং শ্রোত্রং।
ওঁ নাভিঃ।
ওঁ হৃদয়ম্।
ওঁম কন্ঠ।
ওঁ শিরঃ।
ওঁ বাহুভ্যং যশোবলম্।
ওঁ করতল করপৃষ্ঠে।।

মন্ত্রার্থ-হে পরমাত্মন,আমার বাকশক্তি ও রসনেন্দ্রিয় সবল হউক।আমার শ্বাস প্রশ্বাসের শক্তি ও ঘ্রানেন্দ্রিয় সবল হউক।আমার স্থুল চক্ষু ও জ্ঞানচক্ষু সবল হউক।আমার স্থুল শ্রবননেন্দ্রিয় ও বিবেকবাণী শুনিবার জ্ঞানশ্রুতি সবল হউক।আমার বাহুদয় বলশালী ও যশস্বী হউক।আমার করতল ও করপৃষ্ঠ ধর্ম্মকার্য্য করুক।
মার্জনঃ
নিম্নলিখিত মন্ত্রে ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করিয়া একে একে মস্তক,চক্ষুদ্বয়,কন্ঠ,হৃদয়,নাভি,পাদদ্বয়,মস্তক ও সর্ব্ব গাত্রে জল সিঞ্চন করিবে।
ওঁ ভুঃ পুনাতু শিরসি।
ওঁ ভূবঃ পুনাতু নেত্রয়োঃ।
ওঁ স্বঃ পুনাতু কন্ঠে।
ওঁ মহঃ পুনাতু হৃদয়ে।
ওঁ জনঃ পুনাতু নাভ্যাম্।
ওঁ তপঃ পুনাতু পাদয়োঃ।
ওঁ সত্যং পুনাতু পুনঃ শিরসি।
ওঁ খং ব্রহ্ম পুনাতু সর্বত্র।

অর্থাত্,হে প্রানরুপ পরমাত্মা মস্তককে পবিত্র করুন।হে দুঃখনাশক পরমাত্মা,নেত্রযুগলকে পবিত্র করুন।হে আনন্দস্বরুপ পরমাত্মা,কন্ঠকে পবিত্র করুন।হে সর্বজন পুজ্য মহান পরমাত্মা,হৃদয়কে পবিত্র করুন।হে সর্ব্বোত্পাদক পরমাত্মা,নাভিকে পবিত্র করুন।হে তেজস্বী পরমাত্মা,পাদযুগলকে পবিত্র করুন।হে অবিনশ্বর পরমাত্মা,পুনরায় মস্তককে পবিত্র করুন।হে সর্বব্যপী পরমাত্মা,সর্বস্থান পবিত্র করুন।
চতুর্থ এবং পঞ্চম ধাপ প্রাণায়াম এবং অঘমর্ষণ:
প্রাণায়ামঃ
প্রাণায়াম হল শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন এর পদ্ধতি।এর বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারন পদ্ধতিটি আলোচনা করা হল।প্রথমে বুক ভরে শ্বাস নিন যেন ফুসফুস যথাসম্ভব প্রসারিত হয়।এরপর কিছুটা জোড়ে এবং শ্বাসগ্রহন এর চেয়ে দ্রুত নিঃশ্বাস ত্যগ করুন।প্রতিবার শ্বাস গ্রহন এবং নিঃশ্বাস ত্যগের মাধ্যমে একবার প্রানায়াম হয়।প্রতি উপাসনায় নুন্যকল্পে তিনবার বা সর্বোচ্চ একুশবার প্রাণায়াম করবেন।প্রাণায়াম এর অভ্যাসে হৃদযন্ত্র,ফুসফুস,শিরা ও ধমনীর কার্য্য সুষ্ঠুরুপে পরিচালিত হয়।আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করেছে যে বিভিন্ন প্রকার প্রাণায়াম এর ফলে হাঁপানীসহ বিভিন্ন Respiratory disease এর নিরাময় হয়।প্রাণায়াম এর পূর্বে নিম্নলিখিত মন্ত্র জপ করুন।
ওঁ ভূঃ।
ওঁ ভূবঃ।
ওঁ স্বঃ।
ওঁ মহঃ।
ওঁ জনঃ।
ওঁ তপঃ।
ওঁ সত্যম্।
পরমাত্মা প্রাণস্বরুপ।পরমাত্মা দুঃখনাশক।পরমাত্মা আনন্দস্বরুপ।পরমাত্মা সর্ব্বপুজ্য।পরমাত্মা সর্ব্বোত্পাদক।পরমাত্মা তেজঃস্বরুপ।পরমাত্মা অবিনশ্বর।
অঘমর্ষন:
অঘ অর্থে কলুষতা,মর্ষন অর্থ দুর করা।সৃষ্টির মধ্যে নিয়ন্তা ও স্রষ্টার নিয়ম ও অপূর্ব কৌশল বর্তমান।ইহা সন্দর্শনে পরমাত্মার মহিমা,ঐশ্বর্য্য ও অস্তিত্ব মনে যতই উজ্জল হইতে থাকিবে,কলুষতা ততই দুর হইতে থাকিবে।মন্ত্রচিন্তার সঙ্গে পাপ-পরিহারের সংকল্পও গ্রহন করিবে।
ওঁ ঋতঞ্চ সত্যঞ্চাভীদ্ধাত্তপসোধ্যজায়ত।
ততো রাত্র্যজায়ত ততঃ সমুদ্রো অর্ণবঃ।‌।
ওঁ সমুদ্রাদর্ণবাদধি সংবত্সরো অজায়ত। অহোরাত্রাণি বিদধদ্বিশ্বস্য মিষতো বশী।।
ওঁ সূর্যচন্দ্রমসৌ ধাতা যথাপূর্বমকল্পয়ত্। দিবঞ্চ পৃথিবীঞ্চান্তরিক্ষমথো স্বঃ।।
(ঋগবেদ ১.১৯০.১-৩)

নিত্যজ্ঞানময় বেদ এবং প্রকৃতি ঈশ্বরের জ্ঞানময় সামর্থ্য হইতেই জলপূর্ন আকাশ উত্পন্ন হইয়াছে।জলপূর্ণ আকাশের পরে সন্ধিকাল উত্পন্ন হইয়াছে।তারপর সকল চেতন জীবের শাসক পরমাত্মা দিন ও রাত্রি রচনা করিয়াছেন।সর্বজগতের ধারনকর্তা পরমাত্মা সূর্য্য ও চন্দ্রকে,জ্যোতির্ময় ও জ্যোতিহীন লোককে এবং অন্তরিক্ষ লোক ও লোকলোকান্তর-এসব কিছুই পূর্বকল্পের ন্যয়ই অপরিবর্তিত থাকে।
পরবর্তী ধাপ মনসা পরিক্রমা:
সর্বব্যপী ঈশ্বরের পরিক্রমনকে মনন করে প্রার্থনা মন্ত্র পাঠ এবং ধ্যন পদ্ধতি ই হল মনসা পরিক্রমা।
নিম্নলিখিত ছয়টি মন্ত্রে যথাক্রমে পূর্ব,দক্ষিন,পশ্চিম,উত্তর,অধঃ ও উর্দ্ধ দিকে পরমাত্মার ব্যপকতা,শক্তি ও দয়া চিন্তা করে প্রার্থনা করতে হবে।এরই সঙ্গে সকল প্রানীর প্রতি আমাদের ন্যয়ানুমোদিত সদ্ব্যবহারের অনুশীলন করতে হবে।
১।ওঁ প্রাচী দিগগ্নিরধিপতিরসিতো রক্ষিতাদিত্যা ইষবঃ।
তেভ্যো নমোত্ ধিপতিভ্যো নমো রক্ষিতৃভ্যো নম ঈষুভ্যো নম এভো অস্ত।
যোস্মান দ্বেষ্টি যং বয়ং দ্বিস্মন্তং বো জম্ভে দধমঃ।।
২।ওঁ দক্ষিণা দিগিন্দ্রোত্ ধিপতিস্তিরশ্চিরাজী রক্ষিতা পিতর ইষবঃ।
তেভ্যো নমোধিপতিভ্যো নমো রক্ষিতৃভ্যো নম ইষুভ্যো নম এভ্যো অস্ত।
যোস্মান দ্বেষ্টি যং বয়ং দ্বিস্মন্তং বো জম্ভে দধ্ম।।
৩। ওঁ প্রতীচী দিগ্বরুনোধিপতিঃ পৃদাকুরক্ষিতান্নমিষবঃ।
তেভ্যো নমোধিপতিভ্যো নমঃ রক্ষিতৃভ্যো নম ইষুভো নম এভ্যো অস্ত।
যোস্মান দ্বেষ্টি যং বয়ং দ্বিস্মন্তং বো জম্ভে দধ্ম।।
৪।ওঁ উদীচী দিক সোমোধিপতিঃ স্বজোরক্ষিতাহ শনিরিষবঃ।
তেভ্যো নমোধিপতিভ্যো নমো রক্ষিতৃভ্যো নম ইষুভ্যো নম।
এভো অস্ত যোস্মান দ্বেষ্টি যং বয়ং দ্বিস্মন্তং বো জম্ভে দধ্মঃ।।
৫।ওঁ ধ্রুবা দিগ্বিষ্ণুরধিপতিঃ কল্মাষগ্রীবো রক্ষিতা বীরুধ ঈষবঃ।
তেভ্যো নমোধিপতাভ্যো নমো রক্ষিতৃভো নম ইষুভ্যো নম এভো অস্ত।
যোস্মান দ্বেষ্টি যং বয়ং দ্বিষ্মন্তং বো জম্ভে দধ্মঃ।।
৬।ওঁ উর্ধ্বা দিগ্ বৃহস্পতিরধিপতিঃ শ্বিত্রো রক্ষিতা বর্ষমিষবঃ।
তেভ্যো নমোধিপতিভ্যো নমো রক্ষিতৃভ্যো নম ইষুভ্যো নম এভ্যো অস্ত।
যোস্মান দ্বেষ্টি যং বয়ং দ্বিষ্মন্তং বো জম্ভে দধ্মঃ।

খেয়াল করে দেখবেন প্রতিটা মন্ত্রের শেষ দুই লাইন হুবহু একই।শুধু প্রথম লাইনটি ভিন্ন।তাই আশা করি আপনাদের জন্য মুখস্ত করা সহজ হবে।
আলোচ্য ধাপ উপস্থান:
উপ শব্দের অর্থ হল নিকটে এবং স্থান অর্থ হল অবস্থান।উপস্থান অর্থে এখানে ঈশ্বরের গুনচিন্তায় নিমগ্ন হয়ে তার নিকটবর্তী হওয়া।নিম্নলিখিত চারটি মন্ত্রে পরমাত্মার স্তুতি ও প্রার্থনা করিয়া তাঁহার স্বরুপ ধ্যান করতে হবে।
১)ওঁ উদ্বয়ং তমসস্পরি স্বঃ পশান্ত উত্তরম্।
দেবং দেবত্রা সূর্যমগন্ম জ্যোতিরুত্তমম্।।
ঋগবেদ ১.৫০.১০
আমরা অন্ধকার রহিত আনন্দস্বরুপ প্রলয়ের পরেও বিরাজমান দিব্য গুনযুক্ত সর্বোত্তম জ্যোতিঃস্বরুপ চরাচর জগতের আত্মা পরমাত্মাদেবকে জ্ঞাননেত্রে লাভ করিব।
২)ওঁ উদুত্যং জাতবেদসং দেবং বহন্তি কেতবঃ।
দৃশ্যো বিশ্বায় সূর্য্যম্।।
ঋগবেদ ১.৫০.১
নিশ্চয় সৃষ্ট বস্তসকল পতাকার ন্যয় সেই বেদ প্রকাশক চরাচর জগতের আত্মা ঈশ্বর সকলের জন্য জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন করুন।
৩)ওঁ চিত্রং দেবানামুদগাদনীকং চক্ষুর্মিত্রস্য বরুন স্যাগ্নেঃ।
আ প্রা দ্যাবাপৃথিবী অন্তরীক্ষং সূর্য্য আত্মা জগতস্তস্থুষশ্চ স্বাহা।।
ঋগবেদ ১.১১৫.১,যজুর্বেদ ৭.৪২

সেই প্রেরনাদাতা ঈশ্বর গমনশীল ও স্থাবর প্রানীদের আত্মাস্বরুপ।অন্তরীক্ষ,দ্যুলোক ও ভূলোককে তিনি ধারন ও রক্ষা করছেন।দ্রোহরহিত মনুষ্যোর,শ্রেষ্ঠকর্মা ব্যক্তির ও অগ্রগামী মানুষের তিনি জ্ঞানদাতা।তিনি বিদ্বানদের হৃদয়ে বলরুপে চিত্রিত।
৪)ওঁ তচ্চরক্ষুর্দেবহিতং পূরস্তাচ্ছুক্রমচ্চরত্।
পশ্যেম শরদঃ শতং জীবেম শরদ শতং শৃনুয়াম শরদঃ শতং প্র ব্রবাম শরদঃ শতমদীনাঃ স্যম শরদঃ শতং ভুয়শ্চ শরদঃ শতাত্।।
যজুর্বেদ ৩৬.২৪
সেই পরমাত্মা সর্বদ্রষ্টা,উপাসকদের হিতকারী ও পবিত্র।সৃষ্টির পূর্ব হতেই তিনি সর্বব্যপকরুপে বর্তমান আছেন।শতবর্ষকাল তাঁর কৃপায় আমরা যেন দেখতে পাই,শতবর্ষকাল যেন তাঁর কৃপায় আমরা জীবিত থাকি,শতবর্ষকাল তাঁর কৃপায় আমরা শ্রবন করিব,শতবর্ষকাল বলিব,শতবর্ষকাল যেন স্বাধীন থাকিব।
আলোচ্য ধাপ গায়ত্রী মন্ত্র জপ এবং নমস্কার
গায়ত্রী জপ:
যে কোন সনাতন ধর্মালম্বীর ই প্রতিদিন উপাসনায় গায়ত্রী পাঠ আবশ্যক।
ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ।
তত্সবিতুর্বরেন্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি।
ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াত্।।
ওঁ-পরমাত্মা,ভূঃ -প্রানস্বরুপ, ভূবঃ-দুঃখজনক,স্বঃ -সুখস্বরুপ,তত্ -সেই,সবিতু-সমগ্র জগতের সৃষ্টিকর্তা,বরেন্যম-বরনযোগ্য সর্ব্বোত্তম, ভর্গো-পাপ নাশক,দেবস্য-সমগ্র ঐশ্বর্যদাতা,ধীমহি-ধারন করি,ধিয়ঃ- প্রজ্ঞাসমূহকে,যঃ-যিনি ,নঃ-আমাদের,প্রচোদয়াত্- সত্য জ্ঞান প্রদান করেন।
অনুবাদ-
পরমাত্মা, প্রানস্বরুপ, দুঃখনাশক ও সুখস্বরুপ।সেই জগতসৃষ্টিকারী ও ঐশ্বর্যপ্রদাতা পরমাত্মার বরনযোগ্য পাপ-বিনাশক তেজকে আমরা ধারন করি।তিনি আমাদের বুদ্ধিকে শুভ গুন,কর্ম ও স্বভাবের দিকে চালনা করেন।
ঋগবেদ ৩.৬২.১০,যজুর্বেদ ৩.৩৫,২২.৯,৩০.২,৩৬.৩, সামবেদ উত্তরার্চিক,প্রপাঠক ৩,অর্দ্ধপ্রপাঠক ৩,মন্ত্র ১০
নমস্কার প্রদান:
নিম্নলিখিত মন্ত্রে পরমাত্মাকে নমস্কার করিয়া আত্মসমর্পন করিবে।
ওঁ নমঃ শস্তবায় চ ময়োভবায় চ‌।
নমঃ শন্করায় চ ময়স্করায় চ‌।
নমঃ শিবায় চ শিবতরায় চ।।যজুর্বেদ ১৬.৪১
অনুবাদ-
আনন্দস্বরুপ ও সুখদাতা পরমাত্মাকে নমস্কার।কল্যানকারী ও মঙ্গলময় পরমাত্মাকে নমস্কার।মঙ্গলস্বরুপ ও অশেষ কল্যানময় পরমাত্মাকে নমস্কার।
বৈদিক উপাসনা পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বর্ননা এখানেই শেষ হল।
বৈদিক উপাসনার একটি ভিডিও ডাউনলোড করুন এখানে ক্লিক করে
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
Share:

ধর্ম,বৈদিক ধর্ম, সনাতন ধর্ম বা হিন্দু দর্শন আসলে কি?

হিন্দু আমাদের আসল নাম নয়।এ নাম অন্যদের দেয়া।যেহেতু বৈদিক সভ্যতার উত্থান হয় সিন্ধু নদের তীরে, আর সিন্ধু কে পূর্বের অশিক্ষিত যাযাবর গোষ্ঠী হিন্দ নামে ডাকত, সেখান থেকেই হিন্দু নামটি এসেছে।

 আবার অনেকে হিন্দু ধর্মকে সনাতন ধর্ম বলেন।কারন এ ধর্ম হল চিরন্তন, শাশ্বত,অব্যয়। এজন্য একে ডাকা হয় সনাতন অর্থাৎ আদি।

 প্রকৃত পক্ষে এটি হল মানব ধর্ম।মানুষের স্বাভাবিক যা ধর্ম তাই হল সনাতন ধর্ম। আগুনের যেমন ধর্ম উত্তাপ বা দগ্ধ করার শক্তি তেমনি মানুষের জন্মগত বা স্বভাবগত বা স্বাভাবিক ধর্ম হল সনাতন। তাই ধর্ম কে রিলিজিয়ান(religion) বলা ঠিক না। সংস্কৃত ধর্ম মানে হল মানুষে বা কোন বস্তু যা ধারণ করে। যেমন অগ্নি ধারণ করে উত্তাপ তাই অগ্নির ধর্ম হল উত্তাপ যা কোন কিছুকে দহন করে বা পুড়িয়ে দেয়।এখন কেউ যদি বলে অগ্নির রিলিজিওন উত্তাপ।তা হলে ব্যাপারটা হাস্যকর হয়ে যায় না? আর মানুষে যা ধারণ করে তাই হল মানুষের ধর্ম বা মানব ধর্ম বা সনাতন ধর্ম।তেমনি যদি কেউ জিজ্ঞেস করে আপনার রিলিজিওন কি?আর আপনি যদি উত্তর দেন সনাতন বা হিন্দু তাহলে ব্যপারটা হাস্যকর হয়ে যায়।তাই ধর্মের সমারথক কখনও রিলিজিওন হতে পারে না।যদি সমার্থক ইংরেজি শব্দ খুঁজতেই হয় তা হতে পারে property।

তাহলে ধর্ম কি? যা মানুষের মনুষ্যত্ব কে জাগিয়ে তোলে তাই ই ধর্ম।মানুষের যা স্বভাব,যাই মানবতা তাই ই আসলে ধর্ম। স্বামীজির ভাষায় , ধর্ম হল মানুষের পশুত্বকে দমন করে আর দেবত্ব জাগিয়ে তোলে । আর মানব ধর্ম বা সনাতন ধর্ম বা মানবতার এই অনন্য দর্শন বৈদিক ঋষিরা দেখেছিলেন, যারা সিন্ধু নদীর তীরে সভ্যতার পত্তন করেছিলেন। অনার্যরা সিন্ধু কে হিন্দ বা হিন্দু উচ্চারন করত তাই এ মানব ধর্মই হল হিন্দু ধর্ম কিংবা বৈদিক ধর্ম। অর্থাৎ সনাতন বা মানব ধর্মের আজ যে নাম হয়ে গেল হিন্দু ধর্ম তা আসলে দেয় বিদেশিরা।তাই এ নামটি প্রকৃত না।তবে নামে কিছু আসে যায় না।তাই মানুষের যে কোন মানুষের জন্মগত বা স্বভাবগত ধর্মকে আপনি ডাকতে পারেন বৈদিক ধর্ম বা সনাতন ধর্ম বা মানব ধর্ম অথবা শুধুমাত্র ধর্ম।কারণ মানবের তো একটিই ধর্ম।

 তাহলে religion কি? আসলে রিলিজিয়ন হল এক একটি মত বা মার্গ। বিভিন্ন মহাপুরুষ বিভিন্ন মত দিয়েছেন ঈশ্বরকে পাবার পথ হিসেবে। যেমন বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য,শঙ্করাচার্য ,হজরত মুহাম্মদ, যিশু বিভিন্নজন। অর্থাৎ বৈষ্ণব, শাক্ত, বৌদ্ধ,শৈব, গানপত্য,শিখ,মুসলমান, জৈন, খৃস্টান, দ্বৈত, অদ্বৈত ইত্যাদি হল রিলিজিওন। এ গুলো হল মত বা রিলিজিয়ান যা সবই হল মানব ধর্মের শাখা প্রশাখা।এখন এসব মার্গের বা পথের ভাল মন্দ থাকতে পারে,সুবিধা বা অসুবিধা থাকতে পারে,গ্রহনযোগ্যতা বা অগ্রহনযোগ্যতা থাকতে পারে।

 তাই সব শেষে আবার বলি ধর্ম হল একটি তাকে কেউ ডাকে মানব ধর্ম,কেউ মানবতা,কেউ বইদিক,কেউ সনাতন,কেউ আদিধর্ম, কেউ ডাকে হিন্দু ধর্ম আর মত, পথ বা মার্গ হল অসঙ্খ্য।
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2014/01/blog-post.html#sthash.xKQ6SNwN.dpuf
Share:

ব্রহ্মচর্য এবং উপনয়ন কি নারীদের জন্যও প্রযোজ্য?

যেখানে বেদপ্রচারের ধারায় আজ সবাই জানে যে বেদপাঠ,উপনয়নে অধিকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার সেখানে আজও নিজেকে জোর করে উঁচুবর্ণের পরিচয় দানকারী কিছু দস্যু তা অস্বীকার করতে চায়।পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ও নারীকে অবদমিত করে রাখার কুপ্রবৃত্তি ই এর মূল কারন,আর এর সঙ্গে অজ্ঞানতা তো আছেই!আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের সমাজে আজও কিছু মানুষ এই প্রশ্ন তোলে।আশা করি আজকের আলোচনার পর আর এবিষয়ে আর কোন প্রশ্ন এবং দ্বিধা প্রকাশের অবকাশ থাকবে না।

আজ আমরা দেখব প্রাচীন বৈদিক সমাজে নারীশিক্ষার ও নারীদের উপনয়ন তথা ব্রহ্মচর্য জীবন পালনের একটি চিত্র।

"ব্রহ্মচর্যেন কন্যা যুবানং বিন্দতে পতিম্।"
(অথর্ববেদ ১১.৫.১৮)
অর্থাত্‍ ঠিক যেমন যুবক ব্রহ্মচর্য শেষ করে বিদুষী কন্যাকে বিয়ে করবে ঠিক তেমনি একজন যুবতীও ব্রহ্মচর্য শেষ করে পছন্দমত বিদ্বান যুবককে স্বামী হিসেবে গ্রহন করবে।

পাণিনি তার সংস্কৃত ব্যকরন শাস্ত্রে ছাত্রীদের ব্রহ্মচর্যের প্রতিষ্ঠান ছাত্রীশালা ও এর মহিলা অধ্যাপক আচার্যনি এর এর উল্লেখ করেছেন-

"মাতুলাচার্যাণামানুক্ত"
>পাণিনি ৪.১.৪৬

এবং "ছাস্যাদযঃ ছাত্রীশালাযাম্"
>পাণিনি ৬.২.৭৬

ব্রহ্মচারিনী ছাত্রীদের নারী শিক্ষক উপদেষ্টির উল্লেখ পাওয়া যায় ঋগ্বেদ ১.৩.১১,১০.১৫৬.২ প্রভৃতিতে।

"চেতন্তি সুমতিনাম যজ্ঞম দধে সরস্বতী"
>ঋগ্বেদ ১.৩.১১
এখানে নারী শিক্ষিকাকে জ্ঞানদাত্রী ও প্রেরনাদাত্রীরুপে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

পবিত্র বেদ ও শতপথ ব্রাহ্মনে আমরা দেখতে পাই যে কিভাবে গার্গী,মৈত্রেয়ী,অত্রেয়ী,বাক,অপালাসহ বিভিন্ন নারীরা ব্রহ্মচর্য পালনের মাধ্যমে ঋষি পর্যায়ে উন্নীত হন।

উত্তররামচরিতমানস এর ২.৩ এ পাওয়া যায় ঋষিনী অত্রেয়ী বলছেন,
"এই অঞ্চলে অগস্ত্যসহ অনেক বিখ্যাত মহর্ষি আছেন।আমি মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রম থেকে এখানে এসেছি তাঁদের কাছ থেকে বেদ অধ্যয়ন করতে।"

“ওঁ শুদ্ধ পুত যোসিত যজ্ঞিয়া ইমা ব্রাহ্মনম হস্তেষু প্রপ্রতক সদায়মি।
যত্‍কামা ইদমাভিসিন্চমি বো হামিন্দ্রো মরুত্বন্স দদাতু তন্বে।। ওঁ”

অর্থাৎ আমার সকল কন্যাগন পবিত্র,ধর্মনিষ্ঠ,সকল ধর্মানুষ্ঠান(যজ্ঞাদি) পালনে যোগ্য।তাঁরা সকলে পবিত্র বেদ মন্ত্র নিষ্ঠার সহিত পাঠ করবে।তাঁদের সকলে বিদ্বান গুরুর নিকট বিদ্যালাভ করবে।ঈশ্বর তাদের নৈবেদ্য গ্রহন করবেন।

এর চেয়ে সুস্পষ্ট প্রমান আর কি হতে পারে বৈদিক শাস্ত্রে নারীদের উপনয়ন তথা ব্রহ্মচর্য পালনের?





সনাতন বৈদিক ধর্ম এমন একটি ধর্ম যার প্রধান ধর্মগ্রন্থের প্রাপক ও প্রচারকদের মহামনিষীদের মধ্যে নারী ঋষিকাগন ছিলেন যা পৃথিবীর অন্য কোন রিলিজিয়ন(ধর্ম একটিই,বৈদিক ধর্ম,বাকীগুলো মার্গ) এর পক্ষে চিন্তা করাও অসম্ভব।চলুন দেখে নেই পবিত্র বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে কিছু শ্রদ্ধেয় নারী ঋষিকার নাম-

১>ঘোষা(ঋগ্বেদ দশম মন্ডলের ৩৯-৪১ নং সুক্তের দ্রষ্টা,ঋষি কক্ষিবান এর কন্যা)
২)লোপামুদ্রা,৩)মৈত্রেয়্‌ ৪)গার্গেয়ী,৫)পৌলমী,৬)রোমশা ,৬)অপাল,৭)বাক(ঋগ্বেদের বিখ্যাত দেবীসুক্তের দ্রষ্টা),৮)অপত,৯)কত্রু,১০)বিশ্ববর,১১)জুহু,১২)ভগম্ভ্রীনি (মহর্ষি অম্ভ্রন এর কন্যা,ঋগ্বেদের অষ্টম মন্ডলের ১২৫ নং সুক্তের দ্রষ্টা),১৩)যরিতা,১৪)শ্রদ্ধা,১৫)উর্বশী,১৬)স্বর্ণগা,১৭)ইন্দ্রানী,১৮)সাবিত্রী,১৯)দেবায়নী,২০)নোধা,২১)আকৃষ্ভাষা,২২)শীকাতনবাবরি,২৩)গণ্পায়নী,২৪)মন্ধত্রী২,৫)গোধ,২৬)কক্ষিবতী,২৭)দক্ষিনা,২৮)অদিতি,২৯)রাত্রি(মহর্ষি ভরদ্বাজের কন্যা,৩০)শ্রীলক্ষ

এ প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের এই কথা গুলো খুব  গুরুত্বপূর্ণ, " ........ সাধারনের ভেতর আর মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার না হলে কিছু হবার জো নেই । সেজন্য আমার ইচ্ছা কতকগুলি ব্রহ্মচারী ও ব্রহ্মচারিণী তৈরি করব। ......ব্রহ্মচারিণীরা মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার করবে। কিন্তু দেশী ধরণে ঐ কাজ করতে হবে। পুরুষদের জন্য যেমন কতকগুলি শিক্ষাকেন্দ্র করতে হবে, মেয়েদের শিক্ষা দিতেও সেইরুপ কতকগুলি কেন্দ্র করতে হবে। শিক্ষিতা ও সচ্চরিত্রা ব্রহ্মচারিণীরা ঐ সকল কেন্দ্রে মেয়েদের শিক্ষার ভার নেবে। পুরান, ইতিহাস, গৃহকার্য, শিল্প, ঘরকন্নার নিয়ম ও আদর্শ চরিত্র গঠনের সহায়ক নীতিগুলি বর্তমান- বিজ্ঞানের সহায়তায় শিক্ষা দিতে হবে। ছাত্রীদের ধর্মপরায়ন ও নীতিপরায়ণ করতে হবে। কালে যাতে তারা ভাল গিন্নি তৈরি হয়, তাই করতে হবে। এই সকল মেয়েদের সন্তানসন্ততিগণ পরে ঐ সকল বিষয়ে আরও উন্নতি লাভ করতে পারবে। যাদের মা শিক্ষিতা ও নীতিপরায়ণা হন, তাদের ঘরেই বড়লোক জন্মায়। ... মেয়েদের আগে তুলতে হবে, জনসাধারণকে জাগাতে হবে; তবে তো দেশের কল্যাণ।
ধর্ম, শিক্ষা, বিজ্ঞান, ঘরকন্না, রন্ধন, সেলাই, শরীরপালন এ- সব বিষয়ে স্থুল মর্মগুলোই মেয়েদের শেখানো উচিত। ......সব বিষয়ে চোখ ফুটিয়ে দিতে হবে। আদর্শ নারী চরিত্রগুলি ছাত্রীদের সামনে সর্বদা ধরে উচ্চ ত্যাগরূপ ব্রতে তাদের অনুরাগ জন্মে দিতে হবে। সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী, লীলাবতী, খনা, মীরা এদের জীবনচরিত্র মেয়েদের বুঝিয়ে দিয়ে তাদের নিজেদের জীবন ঐরূপে গঠন করতে হবে।
.........বৈদিক যুগে, উপনিষদের যুগে দেখতে পাব- মৈত্রেয়ী গার্গী প্রভৃতি প্রাতঃস্মরণীয়া মেয়েরা ব্রম্মবিচারে ঋষিস্থানীয়া হয়ে রয়েছেন। হাজার বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের সভায় গার্গী সগর্বে যাজ্ঞবল্ককে ব্রম্মবিচারে আহবান করেছিলেন।.........মেয়েদের পূজা করেই সব সব জাত বড় হয়েছে। যে দেশে, যে জাতে মেয়েদের পূজা নেই, সে দেশ সে জাত কখনও বড় হতে পারেনি, কস্নিন কালে পারবেও না। তোদের জাতের যে এত অধঃপতন ঘটেছে, তার প্রধান কারণ এইসব শক্তিমূর্তির অবমাননা করা। .........যেখানে স্ত্রীলোকের আদর নেই, স্ত্রীলোকেরা নিরানন্দে অবস্থান করে, সে সংসারে- সে দেশের কখন উন্নতির আশা নেই(মনু সংহিতা); এজন্য এদের আগে তুলতে হবে- এদের জন্য আদর্শ মঠ স্থাপন করতে হবে।"

অথচ ভন্ড পৌরানিক পুরোহিতগন পুরুষতন্ত্র কায়েম করতে একসময় নারীদের শাস্ত্রপাঠ বন্ধ করে দিয়েছিল,সতীদাহের মত জঘন্য প্রথা চালু করেছিল।আসুন,বেদের শুভ্র,অনন্য পথ অনুসরন করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করি।

বেদের চিরন্তন সত্য পৌঁছে দিন সকলের মাঝে!

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2014/01/blog-post_22.html#sthash.rj8wRraM.dpuf
Share:

বেদ ও বিজ্ঞান by নিলয় দাস

পৃথিবী ও গ্রহসমূহের গতি ও মধ্যাকর্ষন শক্তি
স্যার আইজাক নিউটন ও অন্যান্য অনেক বিজ্ঞানীদের কল্যানে আজ এ তত্ত প্রতিষ্ঠিত যে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে।কিন্তু এরও হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীর প্রাচীনতম এবং পবিত্রতম ধর্মগ্রন্থ বেদ এ সম্পর্কে কি বলেছে তার কিছু নমুনা দেখে নেয়া যাক।
ঋগবেদ ১০.২২.১৪
অহস্ত য়দপদি(য়দ-অপদি)
বরধত খ শচীবির
বেদ্যানাম । সুষমপরি প্রদক্ষিনিত্‍ বিশ্যব্যে নি সিস্নাথা।।
অনুবাদ-
"পৃথিবীর নেই হস্ত বা পদ,তবুও তা গতিশীল।এর উপর অবস্থিত বস্তুসমূহ ও এটার সাথে গতিশীল।এটি সূর্যের চারদিকে ঘূর্নায়মান।"
এখানে,
অহস্ত-হাতহীন
অপদ-পাহীন
খ-পৃথিবী
বরধত-গতিশীল
শুষুনাম পরি-উপরিস্থিত বস্তুসমূহ।
ঋগবেদ ১০.১৪৯.১
সবিতা যন্ত্রেহ পৃথিবী- মরামদক্ষম্ভলে(পৃথিবীম-অরামদ) সবিতা
দ্যমধত(দ্যম অধ্যত)।
অশ্বমিবাদুক্ষদ( অশ্বম-ইব-অধুক্ষত) ধুনিম অন্তরীক্ষ মতুরতেবাধ
য় সবিতা সমুদ্রম।।
অনুবাদ-
"সূর্য তার পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহকে তার আকর্ষনশক্তির সাহায্যে বেধে রেখেছে।এটার চারপাশে সেগুলো ঘূর্নায়মান ঠিক যেমন প্রশিক্ষক এর চারপাশে প্রশিক্ষনরত অশ্ব বলগা দিয়ে ঘোরে।"
এখানে,
সবিতা-সূর্য
যন্ত্রেহ-বলগা
পৃথিবীম-পৃথিবী
অরামদ-বেধে রাখা
দ্যম অধ্যত-অন্য গ্রহসকল
অশ্বম-ইব-অধুক্ষত-ঠিক যেন ঘোড়ার মত
ঋগবেদ ৮.১২.২৮
"হে ঈশ্বর,তোমার শক্তিবলে যাতে রয়েছে আকর্ষন এবং গতিরক্ষমতা,তার মাধ্যমে তুমি সারা জগতে রেখেছ ভারসাম্যপূর্ন"
ঋগবেদ ১.৩৫.৯
হিরস্যপানি সবিতা বিকারসভির উভে দ্যবা পৃথিবী অন্তর ইযতে।
অপমিবাম বাধাতে য়েতি
সূর্যম অভি কষ্নেন রাজস ধ্যম য়োতি॥
অনুবাদ-
"সূর্য নিজপথে ঘোরে এবং তা পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহকে আকর্ষনশক্তি দ্বারা এমন উপায়ে চালিত করে যাতে তাদের একে অপরের সাথে সংঘর্ষ না হয়"
যজুর্বেদ ৩৩.৪৩
"সূর্য ঘুরছে তার নিজ কক্ষপথে সাথে নিয়ে সকল গ্রহকে আকর্ষনশক্তির বলে"
ঋগবেদ ১.১৬৪.১৩
"সূর্য ঘোরে তার নিজ কক্ষপথে এবং এর আকর্ষনশক্তির প্রভাবে অন্যান্য গ্রহসমূহ ও ঘোরে কারন সূর্য তাদের তুলনায় অধিক ভারী(মহাকর্ষ এর উপর ভর-শক্তি সমীকরন এর প্রভাব)


বেদ ও তড়িত্‍শক্তি
অথর্ববেদ বিভিন্ন প্রায়োগিক বিদ্যার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ তা আমরা সবাই জানি।দেখে নেয়া যাক তড়িত্‍ শক্তি সম্পর্কে পবিত্র এই জ্ঞানের উত্‍স কি বলেছে-

অথর্ববেদ ২০/৭/২
"নব য়ো নবতি পুরো বিভেদ
বাহভোত জাসা অহি ছ
বৃত্রাহাভদিত"
অনুবাদ-
বিদ্যুত্‍ যা এর বাহুর(ইলেকট্রন এবং প্রোটন)সাহায্যে পদার্থকে ৯৯টি শাখায় বিভক্ত করে যেসকল সূর্যালোকে অবস্থান করে।
এখানে আধুনিক বিজ্ঞানীদের কর্তৃক বর্ণিত ৯৯টি কনা যা সকল পরমানুর তড়িত্‍ ভাঙ্গন এর ফলে সৃষ্ট তা বলা হয়েছে।উল্লেখ্য যে এদের প্রত্যেকটিকে সূর্যকর্তৃক বিকীর্ন অতিবেগুনী রশ্মি তে পাওয়া যায়।

অথর্ববেদ ২০/০৭/৩
"সন ইন্দ্রঃ শিবাঃ য়ক্ষবাদ গোমদববম উরধারেব দোহাতে"
অনুবাদ-এই অসাধারন শক্তি আমাদের বন্ধু হতে পারে যার মাধ্যমে আমরা আমাদের বাড়িঘর আলোময় করে তুলতে পারি,পারি শস্যক্ষেত্রে কাজে লাগাতে।

অথর্ববেদ ২০.৭.৪
"ইন্দ্র নতুবিদন্ধ সুতং সোমাং হর্য পুরুষ্তুতে পিবা বৃহসত্‍ ততৃপিম"
অনুবাদ-জ্ঞানীদের পরামর্শ অনুসারে আমরা একে কাজে লাগাতে পরি দ্রব্যাদি সংরক্ষনে(রেফ্রিজারেটর) তাদের মাধ্যমে যারা এতে দক্ষ।এটিকে নিরাপদে ব্যবহার করি যাতে এটি বিপদ সৃষ্টি না করে।

অথর্ববেদ ২০.৩.১
"বজ্রিনেম সন্দিনাম সোম্যমমদ ইন্দ্রম রথে বহতা হর্যতাহরি পুরুনাস্ময় সবনানি হর্যাতা ইন্দ্রারা সোমা হারায়ো দধিবীরে"
অনুবাদ-সেই দ্রুত গতিশীল দুই বস্তু(ইলেকট্রন ও প্রোটন) যার আকর্ষন ও বিকর্ষন ক্ষমতা আছে তা বিদ্যুত্‍ চালনা করে।এটি বজ্রের ন্যয় শক্তিশালী,আমাদের উপকারী।এটি উত্‍পন্নের জন্য রয়েছে তরল উত্‍স(বিদ্যুত্‍ উত্‍পন্নের তরল জ্বালানী)
অথর্ববেদ ২০.৩.২
"আড়ং কামোয়ো হর্যো দধীনবীরে স্থিরানো হিন্বানোহায়াযো হরি তুরা অর্বধ্বিয়র হরিবিজোড়সামিয়াত ে স অস্য কামাম হরিবন্তমানসে"
অনুবাদ-সেই দুই গতিশীল শক্তি দুই দিকে গতিশীল(ইলেকট্রন ও প্রোটন এর বিপরীত দিকে গতি) যার মাধ্যমে উত্‍পন্ন শক্তিকে আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারি।
এছাড়া বিদ্যুত্‍ এর আরো বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে -
তৈত্তিরীয় উপনিষদ ৭.৩.২
এ জলবিদ্যুত্‍
তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.৩.২ এ তাপবিদ্যুত্‍
ঋগবেদ ১.৩২.১৩ এ মেঘে মেঘে ঘর্ষনের ফলে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদনের উল্লেখ
ঋগবেদ ১.৬.৫ এ বায়ুর মাধ্যমেবিদ্যুত্‍ শক্তি উত্‍পাদন
ঋগবেদ ১.১৬৮.৮ এ বলা হয়েছে যখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ে তখন নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয় আর সেই গতিময় জল থেকে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদন সম্ভব।
ঋগবেদ ৫.৮৭.১০
এ শব্দ বড় করতে বিদ্যুতের ব্যবহার(মাইক্রো ফোন)
বিদ্যুত্‍ এর ব্যবহার আরো পাবেন
ঋগবেদ ৫.৫৪.১১
৫.৫২.৬
৩.১.১৪
৫.৮৬.১৩
ধন্যবাদ সকলকে,নমস্কার।(বিঃদ্রঃ পবিত্র অথর্ববেদের অনুবাদ নেয়া হয়েছে শ্রী দেবীচাঁদ এর অনুবাদ থেকে)
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/08/blog-post_13.html#sthash.1WaTl1gY.dpuf
Share:

বেদে জল সম্পর্কে কি বলা হয়েছে

ভূপৃষ্ঠের ৭০.৯ শতাংশই হল জল। পৃথিবীতে যাবতীয় জীবনের লক্ষণ প্রকাশের জন্যে জল অপরিহার্য। পৃথিবীতে পাওয়া বেশিরভাগ জলই সাগর বা মহাসাগরের। এছাড়াও ভূপৃষ্ঠের নীচের ভৌমজল (প্রায় ১.৬ শতাংশ) এবং খুবই নগন্য পরিমাণে (০.০০১ শতাংশ) বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প, মেঘ ও অধঃক্ষেপ পৃথিবীতে জলের অন্যতম উৎস। সমুদ্রের জলই ভূপৃষ্ঠে পাওয়া জলের মূল উৎস (প্রায় ৯৭ শতাংশ); এছাড়া হিমবাহ ও মেরুদেশীয় বরফ (প্রায় ২.৪ শতাংশ) এবং নদী, হ্রদ ও জলাশয় ভূপৃষ্ঠের জলের অন্যতম উৎস (প্রায় ০.৬ শতাংশ)। ভূপৃষ্ঠে পাওয়া জলের খুব সামান্য অংশ বিভিন্ন জীবদেহ এবং তা থেকে উৎপন্ন পদার্থগুলিতে থাকে।

বেদে জল সম্পর্কে কি বলা হয়েছে তা দেখে নেইঃ
(ঋগ্বেদ ১০।৯ এবং অথরববেদ ১।৫)
১। শক্তির উৎসঃ
आपो हि ष्ठा मयोभुवस्ता न ऊर्जे दधातन | महेरणाय चक्षसे || ऋ10.9.1, अथर्व 1.5.1
এই জগতকে সুন্দর করে গড়ে তোলার ক্ষমতা জলের আছে।
২। খাদ্যগুণঃ
यो वः शिवतमो रसस्तस्य भाजयतेह नः | उशतीरिवमातरः || ऋ10.9.2,अथर्व 1.5.2
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জল আমাদের পুষ্টি দেয় ঠিক যেমন নবজাতক মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি পায়।
৩। জীবন গুনঃ
तस्मा अरं गमाम वो यस्य क्षयाय जिन्वथ | आपोजनयथा च नः ||ऋ10.9.3, अथर्व 1.5.3
জলের ভিতরের জীবন্ত জিনিষ মানুষের জীবনশক্তি বাড়ায়।
৪। জলের পবিত্র গুণঃ
शं नो देवीरभिष्टय आपो भवन्तु पीतये | शं योरभि सरवन्तु नः || ऋ10.9.4, अथर्व 1.6.1
জলের পবিত্র গুণ যেন আমাদের শান্তি ও উন্নতি দান করে। আমাদের রোগশোক থেকে মুক্তি ও সুরক্ষা করুক।
৫। জলের চিকিৎসা গুণঃ
ईशाना वार्याणां कषयन्तीश्चर्षणीनाम | अपोयाचामि भेषजम || ऋ10.9.5, अथर्व 1.5.4
জলের রোগমুক্তি ক্ষমতা আছে। আমরা যেন তা জানতে পারি।
৬। अप्सु मे सोमो अब्रवीदन्तर्विश्वानि भेषजा | अग्निं चविश्वशम्भुवम ||ऋ10.9.6 अथर्व 1.6.2
জলের রোগমুক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য দানের ক্ষমতা আছে।
৭। आपः पृणीत भेषजं वरूथं तन्वे मम | ज्योक चसूर्यं दृशे || ऋ10.9.7, अथर्व 1.6.3
জলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দিরায়ু দানের ক্ষমতা আছে।
যজুর্বেদ হতেঃ
श्वात्रा: पीता भवत यूयमापो अस्माकमान्तरुदरे सुशेवा: | ता अस्मभ्यमयक्ष्मा अनमीवा अनागस: स्वदन्तु देवीरमृता ऋतावृध: || यजु: 4.12
যখন আমি জলপান করি,আমার পাকস্থলীতে, সাথে সাথে আমাকে অত্যন্ত দ্রুত ভালোলাগার অনুভূতি দেয়। আমি যা পান করি তা যেন আমার রোগমুক্তি ঘটায়, স্বসাদু হয় এবং আমাকে সতেজ করে যাতে আমার গুণাবলী বিকশিত হয়।
इदमापः प्र वहत यत किं च दुरितं मयि | यद्वाहमभिदुद्रोह यद व शेप उतानृतम || ऋ10.9.8, AV 7.89.3
এই প্রবাহমান জলধারা যেন আমার মনের সকল কালিমা ধুয়ে নিয়ে যায় আবর্জনার মত।
आपो अद्यान्वचारिषं रसेन समगस्महि | पোধ स्वानग्ना गहि तं मा सं सृज वर्चसा ||ऋ10.9.9
জলদূষণ রোধ কর জাতে রোগ না ছড়ায়।
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/04/blog-post_5338.html#sthash.igJpfBB3.dpuf
Share:

বেদে কোনো বর্ণভেদ নেই

এটা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক যে, যে বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ে বেদ হলো সমাজের মূল ভিত্তি, সেখানে আমরা ভুলেই গেছি বেদের মূল শিক্ষাগুলো এবং নিজেদেরকে নানা ভুল-ভ্রান্তিসমূহের ধারণায় জড়িয়ে ফেলেছি যেমন, জন্মগত caste system-সহ নানারকম বৈষম্য। এরকম বিপথগামী চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা আমাদের সমাজকে ভীষণ ক্ষতিসাধন করেছে এবং বৈষম্যের সূত্রপাত ঘটিয়ে দিয়েছে। দলিত নামক জাতিচ্যুত ব্যক্তিদের আমরা দূরে ঠেলে দিয়েছি এবং এর ফলে আমাদের উন্নতি ও প্রগতির বিকাশ স্থবির হচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে হিন্দু সমাজের মূলে গিয়ে বেদকে জানা - যার ফলে আমরা আমাদের মধ্যে ভাঙা সম্পর্কগুলো পুনরায় স্থাপণ করতে পারব।

এই লেখায় আমরা চেষ্টা করব বেদ অনুযায়ী আমাদের caste system সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটন করার এবং শূদ্রের আসল অর্থ খোঁজার।

১।
প্রথমত, কোনো প্রকার হিংসা বা বৈষম্যের স্থাণ নেই বেদে যেকোনো ব্যক্তি সম্পর্কে - সে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, বা শূদ্র কিনা।

২।
Caste system প্রায় নতুন। বেদে কোনো শব্দ নেই যার অর্থ বর্ণ/জাতি হতে পারে। আসলে, caste, জাতি আর বর্ণ এগুলো এক একটি এক এক অর্থ বহন করে।

Caste হলো একটি ইউরোপীয় নবধারা যার সাথে বৈদিক সংস্কৃতির কোনো সামঞ্জস্যতা নেই।

জাতি

'জাতি'র অর্থ হচ্ছে এক শ্রেণীভুক্তকরণ যার উৎস হচ্ছে জন্মে। ন্যায় সূত্র বলেছে "সমানপ্রসাভাত্মিকা জাতিহ্‌" অথবা তারা যাদের একইপ্রকার জন্মসূত্র যা এদেরকে একটি জাতিতে সমষ্টিবদ্ধ করে।
একটি প্রাথমিক আরো বড় শ্রেণীভুক্তকরণ ঋষিদের দ্বারা করা হয়েছে চারভাবে: উদ্ভিজ (অর্থাৎ গাছপালা), আন্ডাজ (অর্থাৎ ডিম থেকে যার উৎপত্তি যেমন পাখি এবং সরীসৃপ), পিন্ডজ (স্তন্যপায়ী), উষ্মজ (তাপমাত্রা বা পরিবেষ্টনকারী আবহাওয়ার জন্য যার জন্ম যেমন ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ইত্যাদি)।
তেমনিভাবে নানাপ্রকার পশুসমূহ যেমন হাতি, সিংহ, খরগোশ ইত্যাদি তৈরি করে এক ভিন্ন 'জাতি'। একইভাবে সমস্ত মানবকুল তৈরি করে একটি 'জাতি'।
একটি নির্দিষ্ট জাতির থাকবে একই ধরনের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য যারা সেই জাতি থেকে আরেক জাতিতে পরিবর্তিত হতে পারবে না এবং ভিন্ন জাতির বাচ্চা প্রসব করতে পারবে না। অর্থাৎ, জাতি হচ্ছে ঈশ্বরের সৃষ্টি।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রেরা কোনোভাবেই ভিন্ন জাতি নয় কারণ তাদের মধ্যে জন্ম সূত্রগত বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগত কোনো পার্থক্য নেই যা তাদেরকে ভিন্ন করবে।
পরবর্তীতে 'জাতি' শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে যেকোনো প্রকার শ্রেণীভেদকরণের জন্য। তাই সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন ভিন্ন সমাজকেও ভিন্ন ভিন্ন 'জাতি' হিসেবে আখ্যা দেই। কিন্তু এ শুধু ব্যবহারের সুবিধার জন্য। আসলে আমরা মানবকুল এক জাতিরই অংশ।

বর্ণ

প্রকৃত যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র বোঝাতে তা হলো 'বর্ণ' ('জাতি' নয়)।
'বর্ণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এই চারকে বোঝাতেই নয়, বরং দস্যু ও আর্যদেরকেও।

'বর্ণ' অর্থ হচ্ছে তাহাই যাহা গ্রহণ করা হয় পছন্দের দ্বারা। তাই, যেখানে 'জাতি' ঈশ্বর দ্বারা প্রদত্ত, 'বর্ণ' হচ্ছে আমাদের নিজস্ব পছন্দগত।

যারা আর্য হতে পছন্দ করে তাদের বলা হয় 'আর্য বর্ণ'। তেমনি যারা দস্যু হতে পছন্দ করে, তারা হয় 'দস্যু বর্ণ'। একইভাবে হয় ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র।

এই কারণেই বৈদিক ধর্মকে বলা হয় 'বর্ণাশ্রম ধর্ম'। বর্ণ শব্দটি ইঙ্গিত করে যে এটির ভিত্তি হচ্ছে নিজ পছন্দকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া ও যোগ্যতা অনুসারে পরিচালিত ব্যবস্থাকে অনুমোদন দেয়া।

৩।
যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত, তারা পছন্দ করেন 'ব্রাহ্মণ বর্ণ'। যারা প্রতিরক্ষা, যুদ্ধ-বিগ্রহ পছন্দ করেন, তারা হন 'ক্ষত্রিয় বর্ণ'। যারা অর্থনীতি ও পশুপালনাদি পছন্দ করেন তারা হন 'বৈশ্য বর্ণ' এবং যারা নিয়োজিত আছেন অন্যান্য সেবামূলক কাজ-কর্মে, তারা হন 'শূদ্র বর্ণ'। এসব শুধু বোঝায় নানা ধরনের পছন্দ যেসব মানুষজন তাদের কর্মের জন্য নির্বাচন করেন এবং এর সাথে 'জাতি' বা জন্মের কোনো সম্পর্ক নেই।

৪।
পুরুষ সুক্তের অন্যান্য মন্ত্রসমূহ উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, ব্রাহ্মণ এসেছে ঈশ্বরের মুখ থেকে, ক্ষত্রিয় হাত থেকে, বৈশ্য উরু থেকে এবং শূদ্র পা থেকে। সেইভাবে এইসব বর্ণসমূহ জন্মগত। কিন্তু কোনোকিছুই এর চেয়ে বেশী ভ্রান্তিজনক হতে পারে না। আসুন দেখি কেন:

(অ)
বেদ ঈশ্বরকে বর্ণনা করে আকারহীন ও অপরিবর্তনশীল হিসেবে। এমন ঈশ্বর কিভাবে বিশাল আকৃতির মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে যদি তিনি আকারহীনই হন? (যজুর্বেদ ৪০.৮)

(আ)
যদি ইহা সত্যিই হয়, তাহলে তাহা বেদের কর্মতত্ত্বের বিরোধীতা করবে। কারণ কর্মতত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির জন্মগত পরিবার পরিবর্তিত হতে পারে তার কর্ম অনুসারে। সুতরাং একজন ব্যক্তি যে শূদ্র পরিবারে জন্ম নেয়, পরের জন্মে এক রাজার পরিবারে জন্ম নিতে পারে। কিন্তু যদি শূদ্রেরা ঈশ্বরের পা থেকে এসে থাকে, তাহলে সেই একই শূদ্র ঈশ্বরের হাত থেকে কিভাবে জন্ম নেয়?

(ই)
আত্মা হলো সময়হীন এবং কখনো জন্ম নেয় না। সুতরাং আত্মার কখনোই কোনো বর্ণ হতে পারে না। এ শুধুমাত্র যখন আত্মা জন্ম নেয় মনুষ্য হিসেবে তখনই এর সুযোগ থাকে বর্ণ বেছে নেবার। তাহলে বর্ণ দ্বারা কি বোঝানো হয় যা ঈশ্বরের একাংশ হতে আসে? যদি আত্মা ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম না নিয়ে থাকে, তাহলে কি এই বোঝায় যে আত্মার দেহ তৈরি হয়েছে ঈশ্বরের দেহের অংশ থেকে? কিন্তু বেদ অনুযায়ী, এমনকি প্রকৃতিও চিরন্তন। এবং এই একই অনু-পরমানু পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে নানা মনুষ্যের মধ্যে। তাই কৌশলগতভাবে ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম নেয়া কারো পক্ষে অসম্ভব, এমনকি আমরা যদি ধরেও নেই ঈশ্বরের দেহ আছে।

(ঈ)
উপরে উল্লেখ করা পুরুষ সুক্ত রয়েছে যজুর্বেদের ৩১তম অধ্যায়ে (এবং ঋগবেদ ও অথর্ববেদ বাদে যেগুলোতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যজুর্বেদে এ হচ্ছে ৩১.১১)। প্রকৃতভাবে এর অর্থ কি তা বোঝার জন্য, আসুন দেখি এর আগের মন্ত্রের দিকে লক্ষ্য করি ৩১.১০।
এতে প্রশ্ন করা হয়েছে - কে মুখ? কে হাত? কে উরু আর কেই বা পা?
এর পরের মন্ত্র এর উত্তর দিয়েছে - ব্রাহ্মণ হলো মুখ, ক্ষত্রিয় হলো হাত, বৈশ্য হলো উরু এবং শূদ্র হলো পা।
লক্ষ্য করুন, মন্ত্রটি কিন্তু বলছে না ব্রাহ্মণ "জন্ম নেয়" মুখ থেকে...এটি বলছে ব্রাহ্মণ "হলো" মুখ।
কারণ যদি মন্ত্রটির অর্থ হতো "জন্ম নেওয়া" তাহলে এটি উত্তর দিত না আগের মন্ত্রের প্রশ্নটির "কে মুখ?"
যেমন, যদি আমি প্রশ্ন করি "দশরথ কে?" উত্তরটি যদি হয় "রাম জন্ম নেন দশরথের ঘরে" তাহলে তা হবে অর্থহীন।

প্রকৃত অর্থ হচ্ছে:
সমাজে ব্রাহ্মণ বা বুদ্ধিজীবিরা তৈরি করে মস্তিষ্ক বা মাথা বা মুখ যা চিন্তা করে এবং বলে। ক্ষত্রিয় বা রক্ষণকর্মীরা তৈরি করে হাত যা রক্ষা করে। বৈশ্য বা উৎপাদনকারীরা এবং ব্যবসায়ীরা তৈরি করে উরু যা ভার বহন করে এবং যত্ন করে (লক্ষ্য করুন উরুর হাড় অথবা উর্বাস্থি তৈরি করে রক্ত এবং এ হচ্ছে দেহের সবচেয়ে শক্ত হাড়)। অথর্ববেদে উরুর বদলে "মধ্য" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ বোঝায় পাকস্থলী এবং দেহের মধ্যের অংশ।

শূদ্র বা শ্রমিকেরা তৈরি করে পা যা কাঠামোটিকে দাঁড় করায় এবং দেহকে চলতে সক্ষম করে।
পরবর্তী মন্ত্রগুলো আলোচনা করেছে অন্যান্য দেহের অংশ সম্পর্কে যেমন - মন, চোখ ইত্যাদি। পুরুষ সুক্ত বর্ণনা করেছে সৃষ্টির সূত্রপাত এবং তার স্থায়ী থাকা সম্পর্কে যার মধ্যে অন্তর্গত মানব সমাজ এবং বর্ণনা করেছে অর্থপূর্ণ সমাজের উপাদানসমূহকে।
তাই এ ভীষণ করুণ অবস্থা যে এমন সুন্দর সমাজ সম্পর্কে রূপক বর্ণনা এবং সৃষ্টি সম্পর্কিত বর্ণনা বিকৃত হয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে বৈদিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।
এমনকি ব্রহ্ম গ্রন্থগুলো, মনুস্মৃতি, মহাভারত, রামায়ণ এবং ভগবদগীতা বলে নাই কোনোকিছুই যার কাছাকাছি উপপ্রমেয় হতে পারে এমন অদ্ভূত যে ঈশ্বর তৈরি করেছেন ব্রাহ্মণদের তাঁর মুখ হতে মাংস ছিঁড়ে কিংবা ক্ষত্রিয়দের তাঁর হাতের মাংস থেকে বা অন্যান্যসমূহ।

৫।
তাই এটি স্বাভাবিক কেন ব্রাহ্মণরা বেদ অনুসারে সবচেয়ে বেশী সম্মান লাভ করেছে। এমনটিই হচ্ছে আজকের বর্তমান সমাজে। বুদ্ধিজীবিরা এবং অভিজ্ঞরা আমাদের সম্মান অর্জন করেন কারণ তারা তৈরি করেন দিক প্রদর্শনকারী সারা মানবতার জন্য। কিন্তু যেমনভাবে পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, বেদে শ্রমের মর্যাদা সমভাবে জোর দেওয়া হয়েছে এবং এই কারণেই কোনো প্রকার বৈষম্যের উপাদান নেই।

৬।
বৈদিক সংস্কৃতিতে সবাইকে ধরা হয় শূদ্র হিসেবে জন্ম। তারপর ব্যক্তির শিক্ষা-দীক্ষা দ্বারা সে পরিণত হয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্যতে। এই শিক্ষা-দীক্ষার পূর্ণতাকে ধরা হয় দ্বিতীয় জন্ম। একারণেই এই তিন বর্ণকে বলা হয় "দ্বিজ" বা দু'জন্মা। কিন্তু যারা রয়ে যায় অশিক্ষিত (যেকোনো কারণেই হোক) তারা সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়। তারা চালিয়ে যায় শূদ্র হিসেবে এবং করে যায় সমাজের সেবামূলক কাজসমূহ।

৭।
এক ব্রাহ্মণের পুত্র, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করতে অসমর্থ হয়, পরিণত হয় শূদ্রে। তেমনিভাবে শূদ্রের পুত্র অথবা এমনকি দস্যু, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করে, তাহলে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় কিংবা বৈশ্য হতে পারে। এ হচ্ছে নির্ভেজাল যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা। যেমনভাবে এখনকার সময়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয়, যজ্ঞপবিত দেয়া হতো বৈদিক নিয়ম অনুসারে। তাছাড়া, আচরণবিধির সাথে অসম্মতি ঘটলে যজ্ঞপবিত নিয়ে নেয়া হতো বর্ণগুলোর।

৮।
বৈদিক ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে বর্ণ পরিবর্তনের -

(ক)
ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রহ্ম এবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রহ্মকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝার জন্য।

(খ)
ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে যিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং নিচু চরিত্রের লোক। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিত হন। (ঐতরেয়া ব্রহ্ম ২.১৯)

(গ)
সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজন ব্রাহ্মণ হন।

(ঘ)
প্রীষধ ছিলেন রাজা দক্ষের পুত্র যিনি পরে শূদ্র হন। পরবর্তীতে তিনি তপস্যা দ্বারা মোক্ষলাভ করেন প্রায়ঃশ্চিত্তের পরে। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৪)
যদি তপস্যা শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ হতো যেমনভাবে উত্তর রামায়ণের নকল গল্প বলে, তাহলে প্রীষধ কিভাবে তা করল?

(ঙ)
নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৩)

(চ)
ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.২.২)

(ছ)
তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ ৯.২.২৩)

(জ)
ভগবদ অনুসারে অগ্নিবেশ্য ব্রাহ্মণ হন যদিও তিনি জন্ম নেন এক রাজার ঘরে।

(ঝ)
রাথোটর জন্ম নেন ক্ষত্রিয় পরিবারে এবং পরে ব্রাহ্মণ হন বিষ্ণু পুরাণ ও ভগবদ অনুযায়ী।

(ঞ)
হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৩.৫)

(ট)
শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৮.১)
এমনকি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
একই ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গ্রীতসমদ, বিতব্য ও বৃৎসমতির মধ্যে।

(ঠ)
মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন।

(ড)
রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(ঢ)
প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(ণ)
ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।

(ত)
বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।

(থ)
বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।

৯।
"শূদ্র" শব্দটি বেদে দেখা গেছে প্রায় ২০ বারের মতো। কোথাও এটি অবমাননাকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথাও বলা হয়নি শূদ্রেরা হলো অস্পর্শযোগ্য, জন্মগতভাবে এই অবস্থাণে, বেদ শিক্ষা হতে অনুনোমোদিত, অন্যান্য বর্ণের তুলনায় নিম্ন অবস্থাণের, যজ্ঞে অনুনোমোদিত।

১০।
বেদে বলা হয়েছে শূদ্র বলতে বোঝায় কঠিন পরিশ্রমী ব্যক্তি। (তপসে শূদ্রম্‌ - যজুর্বেদ ৩০.৫)
একারণেই পুরুষ সুক্ত এদের বলে পুরো মানব সমাজের কাঠামো।

১১।
যেহেতু বেদ অনুযায়ী চার বর্ণসমূহ বলতে বোঝায় চার প্রকারের কর্মকান্ড যা পছন্দের উপর ভিত্তি করে, একই ব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে চার বর্ণের বৈশিষ্ট্য চার ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে। এইভাবে সকলেই চার বর্ণের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সারল্যতার জন্য, আমরা বলি প্রধান পেশাকে বর্ণের পরিচয় হিসেবে। এবং এই কারণে সকল মানুষের উচিত পূর্ণভাবে চার বর্ণ হবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা, যেমনভাবে বেদের জ্ঞান আমাদের বলে। এই হলো পুরুষ সুক্তের সারাংশ।

ঋষি বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, অঙ্গীরা, গৌতম, বামদেব ও কন্ব - এরা সকলেই চার বর্ণের বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তারা বৈদিক মন্ত্রের অর্থ উদ্ভাবন করেছেন, দস্যু দমন করেছেন, দৈহিক শ্রমের কর্ম করেছেন এবং নিজেদেরকে যুক্ত করেছেন সমাজ কল্যাণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায়।
আমাদেরও উচিত এমনটিই হওয়া।

অবশেষে আমরা দেখলাম বৈদিক সমাজ সকল মানুষকে একই জাতি বা গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করে, শ্রমের মর্যাদা বহাল রাখে, এবং সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করে যাতে তারা নিজ নিজ বর্ণ গ্রহণ করতে পারে।
বেদে কোনো প্রকার জন্মগত বৈষম্যের উল্লেখ নেই।
আমরা যেন সকলে একযুক্ত হয়ে একটি পরিবারের ন্যায় একতাবদ্ধ হতে পারি, প্রত্যাখান করতে পারি জন্মগত সকল বৈষম্যকে এবং একে অপরকে ভাই-বোন হিসেবে সদ্ব্যবহার করতে পারি।
আমরা যেন সকল পথভ্রষ্টকারীদের ভুল পথে এগুনো ব্যাহত করতে পারি যারা বেদে বর্ণভেদ সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবী করে এবং দমন করি সকল দস্যু, অসুর, রাক্ষসদের।
আমরা যেন সকলে আসতে পারি বেদের আশ্রয়ে এবং একত্রে কাজ করে মানবতার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করতে পারি এক পরিবার হিসেবে।

সুতরাং বেদ অনুযায়ী কোনো বর্ণভেদ নেই।
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/05/blog-post_6449.html#sthash.68focGBc.dpuf
Share:

১৮ মার্চ ২০১৫

Vedic Granth

  1. What are Vedic Granth? আমাদের ধর্মিয় গ্রন্থগুলি কি কি তার উপর এই article টা তৈরী করলাম (অনেক ক্ষণ লেগেছে); সূর্য তখন পশ্চিমের আঁকাশে, এখন মধ্যরাত:

১। Veda / Shruti / Samhita: There are four Vedas which are as follows: Rig Veda, Yajur Veda, Sam Veda and Atharva Veda. বেদ চারিটি ঋক্, যজুঃ, সাম ও অথর্ব। 

২। Upved: There are 5 Upveda which are as follows: Ayurveda (Sciences relating to LIFE and MEDICINE, Dhanurveda, Gandharva Veda, Shilpa Veda (Sthapatya Ved), Artha Veda. বেদের আরেক নাম শ্রুতি হলেও, উপবেদের সাথে শ্রুতির কোন যোগ নাই। এই বেদ সাধারণত বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ। সকল বেদেরই উপবেদ আছে। ঋগ্বেদের উপবেদ আয়ুর্বেদ, যজুর্বেদের উপবেদ ধনুর্বেদ, সামবেদের উপবেদ গন্ধর্ববেদ এবং অথর্ববেদের উপবেদ স্থাপত্যবেদ বা শিল্প বেদ। সর্বশেষ উপবেদের নাম 'অর্থ বেদ'। আয়ুর্বেদে রয়েছে জীবন ও চিকিৎসা অর্থ্যাৎ Ayurveda is related to the secret of life and the science of long life. ধনুর্বেদে রয়েছে - সমরবিদ্যা (যুদ্ধের কৌশল), আধ্যাত্মিকতা, কর্ম জ্ঞান, কূটনীতিবিদ্যা, কর্তব্য জ্ঞান, নাগরিক জ্ঞান সহ প্রভৃতি বিষয়। গন্ধর্ববেদ হলো সঙ্গীত ও প্রাকৃতিক সুর যা সামবেদের উপবেদ হয়েছে। অর্থ্যাৎ Gandharvaveda is the science of music, derived from the Sama-Veda. শিল্প বেদে রয়েছে স্থাপত্য, স্থাপত্যবিদ্যা, স্থাপত্যশিল্প, শিল্পকলা, নির্মাণকৌশল ইত্যাদি বিষয়ক জ্ঞান। অর্থ্যাৎ Shilpa Veda (Sthapatya Ved) deals with Hindu architecture and various Hindu arts. সর্বশেষ উপবেদের নাম হলো 'অর্থবেদ' যাতে রয়েছে সামাজিক, অর্থনৈতিক, ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা অর্থ্যাৎ it deals with social, economic, and political systems. সংক্ষেপে এই হইল 'উপবেদ'! 

৩। Vedang: There are six Vedanga which are as follows: (i) Siksha (Education), (ii) Kalpa (Creation), (iii) Vyakarana (Grammer), (iv) Nirukta (Etymology), (v) Chhanda (Metres), and (vi) Jyotisha (Mathematics & Astronomy). শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, ছন্দ, জ্যোতিষ ও নিরুক্ত এই ছয়টি বেদের অঙ্গ তাই বেদাঙ্গ। 

(৪) Brahman: "A Brahman is a book which tells the meaning of Vedic Mantras and its use". বৈদিক যজ্ঞের ক্রিয়া প্রণালী, ক্রিয়ার তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য নির্ণয় ও ব্যাখ্যা ও আখ্যানাদি বর্ণনা করাই ব্রাক্ষ্মণগ্রন্থের প্রধান উদ্দেশ্য। ব্রাক্ষ্মণ ভাগ সাধারণত গদ্যে রচিত; কিন্তু কোন কোন স্থানে গাথা বা পদ্যময় অংশও আছে। অর্থ্যাৎ যে গ্রন্থে যজ্ঞ ও তার বিধি-বিধান পাওয়া যায় সেই গ্রন্থই ব্রাক্ষ্মণ নামে খ্যাত। In ancient times there where many Brahmanas, but currently only six are to be found:- (i) Aitareya Brahman Granth based on Rig Veda authored (ঋকবেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ ঐতিরেয় ব্রাক্ষ্মণ) (ii) Shankhyayan Brahman Granth based on Rig Veda (ঋকবেদের আরেকটি ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ সংখ্যায়ণ ব্রাক্ষ্মণ) (iii) Kaushtiki Brahman based on Rig Veda (এবং ঋকবেদের আরও একটি ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ কৌষীতকি ব্রাক্ষ্মণ) (iv) Shatapath Brahman Granth based on Yajurveda (যজুঃ বেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ শতপথ ব্রাক্ষ্মণ) (v) Maha-Tandya Brahman Granth based on Sam Veda (সামবেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ মহাতান্ড্যব্রাক্ষ্মণ) (vi) Gopath Brahman Granth based on Atharva Veda (অথর্ব বেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ গোপথ ব্রাক্ষ্মণ) অর্থ্যাৎ ঋক্ বেদের ব্রাক্ষ্মণগ্রন্থ ৩টি, যজুঃ বেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ ১টি, সামবেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ ১টি এবং অথর্ব বেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ ১টি মোট ৬টি ব্রাক্ষ্মণগ্রন্থ। 

(৫) Aranyak: Aranyak Granth contains the extracts from Brahman Granths. বেদের উপসংহার ভাগ ব্রাক্ষ্মণ। এই ব্রাক্ষ্মণের উপসংহার ভাগ আরণ্যক। 

(৬) Sutra Granth: There are nine Vedic Sutra Granth which are as follows: Grihay Sutra(গৃহ সূত্র), Dharma Sutra(ধর্ম সূত্র), Shrota Sutra(শ্রোতা সূত্র), Ashvalayana(অশবালায়ন সূত্র), Gobhil(গোভিল), Paraskar(প্রসাকর সূত্র), Koshitaki(কোশিতকি), Katyayana(কাত্যায়ন সূত্র), Bodhayana(বোধায়ন সূত্র). 

(৭) Smritis: Smriti(s) are the books of social, economic and political laws. স্মৃতি শাস্ত্র দুইটি, (এক) মনুস্মৃতি যা বৈবাস্বত মনু কর্তৃক রচিত। ১২টি অধ্যায় আছে এতে। (দুই) যাজ্ঞবাল্ক্য স্মৃতি যা ঋষি যাজ্ঞবাল্ক্য কর্তৃক রচিত। ৩টি অধ্যায় আছে এতে।

(৮) Darshan: There are six Darshan Shashtras - also known as Upaang or Shat Darshan (The Six Visualisation); they are: (i) Purva Mimaansa / Mimaansa Shashtra by Rishi Jaimini (ঋষি জৈমিনীকৃত পূর্ব-মীমাংসা বা মীমাংসা দর্শন) (ii) Vaisheshika Shashtra by Rishi Kannaad (ঋষি কণাদকৃত বৈশেষিক দর্শন) (iii) Nyaaya Shashtra by Rishi Gautam (ঋষি গৌতমকৃত ন্যায় দর্শন) (iv) Yoga Shashtra by Rishi Patanjali (ঋষি পাতজ্ঞলিকৃত যোগ দর্শন) (v) Sankhya Shashtra by Rishi Kapil (ঋষি কপিলকৃত সাংখ্য দর্শন) (vi) Uttar Mimaansa / Vedaant Shashtra by Rishi Veda Vyaas / Baadaraayana (ঋষি বেদব্যাসকৃত উত্তর মীমাংসা বা বেদান্ত দর্শন) । 

(৯) Upanishads: The Upanishads mostly explain in details Vedic Theology including metaphysics, spiritual and mystical powers and concepts of the God. উপনিষদ বেদের শিরোভাগ। এই জন্য এর নাম বেদান্ত। উপনিষদ বিভিন্ন ঋষি কর্তৃক কথিত হয়েছে। এদের সংখ্যা অনেক তার মধ্যে ১১টি উপনিষদ প্রচীন ও প্রামাণ্য বলে গণ্য। এরা হলো: ঈশোপনিষদ (যজুর্বেদ ভিত্তিক), কেনোপনিষদ (সামবেদ ভিত্তিক), প্রশ্নোপনিষদ (অথর্ববেদ ভিত্তকি), মান্ডুুক্য উপনিষদ (অথর্ববেদ ভিত্তিক), মুন্ডক উপনিষদ (অথর্ব বেদ ভিত্তিক), ঐতরেয় উপনিষদ (ঋকবেদ ভিত্তিক), তৈতরীয় উপনিষদ (যজুর্বেদ ভিত্তিক), ছান্দোগ্য উপনিষদ (সামবেদ ভিত্তিক), বৃহদারণ্যক উপনিষদ (যজুর্বেদ ভিত্তিক), শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ (অথর্ববেদ ভিত্তিক)। ইত্যাদি। 

(১০) Itihas / Epics (Ramayan & Maha-Bharat including Bhagavad Gita): These are also called the great epics of Hinduism, they are: (i) Ramayan (The history of Sri Ram of liberating India from Raavan rajya and establishing Ram rajya) by Maharshi Valmiki (মহর্ষি বাল্মীকি রামায়ণ রচয়িতা, তিনি আদি কবি এবং রাজ দশরথের সমবয়ষ্ক ছিলেন) (ii) Mahabharat (The history of Sri Krishna of uniting the Indian Sub Continent) by Maharshi Ved Vyaas (মহাভারতের রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস ইনি কৃষ্ণদ্বপৈায়ন নামেও পরিচিত, শ্রীমদ্ভগবদগীতা মাহাভারতের অংশ)

(১১) Niti / Ethics: নীতি শাস্ত্রগুলির মধ্যে Vidur Neeti (বিদুর নীতি), Chaanakyaa Neeti (চাণক্য নীতি), Bhartrihari Neeti ( ভারতিহারি ) Shikra Neeti (Shukra Neeti - Neetishashtra of Sage Shukracharya, the teaching of Guru Shukracharya, Brife from the Mahabharat)

পরিশেষে, সকলকে জানাই 'नमस्ते' !
Bangali Hindu Post (বাঙ্গালি হিন্দু পোস্ট)



Share:

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪

অভ্রান্ত বৈদিক জ্ঞান

আমরা কেন বেদসমূকে সত্য বলে স্বীকার করব ?
বেদসমূহ হচ্ছে সরাসরি ভগবানের বাণী, যা সৃষ্টির প্রারম্ভে প্রকাশিত হয়েছিল । যখন আপনি একটি মোটর সাইকেল কেনেন, তখন তার সঙ্গে একটি ইন্স্ট্রাক্শন ম্যানুয়াল বা ব্যবহার-বিধি নির্দেশিকা থাকে, যাতে ব্যাখ্যা করা থাকে কিভাবে ঐ মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা যেতে পারে । ঠিক তেমনি, সৃষ্টির সময়ে ভগবান আমাদেরকে বৈদিক শাস্ত্র প্রদান করেন, যাতে ব্যাখ্যা করা থাকে এই জগত কেমন, কোথা থেকে উদ্ভূত, কিভাবে এই জগতে আচরণ করা উচিত ।
কয়েকটা দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কিভাবে বৈদিক জ্ঞান অভ্রান্ত । স্মরণাতীত কাল পূর্বে রচিত হলেও এমন সব তথ্য বেদে বর্নিত হয়েছে, বিজ্ঞান যা অতি সম্প্রতি আবিষ্কার করতে শুরু করেছে ।


১. ডালটন পরমানু আবিষ্কার করেছেন দু’শো বছরও হয় নি । আজ থেকে ৫০০০ বছর পূর্বে রচিত শ্রীমদ্ভাগবতের মূল শ্লোকে পরমানু অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণা – এই তথ্য দেওয়া হয়েছে । ব্রহ্মসংহিতাতেও(৫/৩৫) বলা হয়েছে যে, শৃঙ্খলাযুক্ত জড় পদার্থের বিন্যাসে বৃহত্তম ইউনিট বা একক হচ্ছে ব্রহ্মান্ড, ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে পরমাণু (অন্ডান্তরস্থপরমাণুচয়া-অন্তরস্থং) । এইরকম সর্ববৃহৎ ইউনিট বা ব্রহ্মান্ড একটি নয়, কোটি কোটি (একোহপ্যসৌরচয়িতুং জগদন্ডকোটিং – ব্রহ্মসংহিতা ৫/৩৬) ।


২. পাঁচশো বছর আগে ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চলেই এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, পৃথিবী সমতল – গোল নয় । বেদে (যা সময়ের আদি থেকে বিদ্যবান এবং পাঁচ হাজার বছর আগে যা লিপিবদ্ধ হয়েছে) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে যে পৃথিবী গোল – ‘ভূ-গোল’ ।


৩. ক্রিস্টোফার কলম্বাস পাঁচশো বছর আগে জানতেন না যে পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশ রয়েছে । রয়েছে সাতটি মহাসাগর । কিন্তু বৈদিক শাস্ত্রে স্মরণাতীত কাল থেকে এই সব তথ্য রয়েছে ।


৪. আইনস্টাইন স্থান ও কালের আপেক্ষিক সম্পর্ক বা আপেক্ষিকতাবাদ আলোচনা করেছেন মাত্র কিছু বছর আগে । কিন্তু ভাগবতপুরাণে ৫০০০ বছর পূর্বেই কুকুদ্মি মুনির আপেক্ষিকতা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে ।


৫. জড় বিজ্ঞান এখনো মন কি তা জানাতে পারছে না; আজ থেকে ৫০০০ বছর পূর্বে বৈদিক শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে স্থূল-শরীর কঠিন(ভূমি), তরল(জল), গ্যাসীয়(বায়ু), তাপ(অগ্নি), আকাশ – ইত্যাদি পাঁচটি স্থূল উপাদানে তেরী, এবং মন, বুদ্ধি ও অহংকার – এই তিনটি সূক্ষ উপাদানে তেরী সূক্ষ শরীর । অর্থাৎ মন একটি জড় উপাদান (ভ.গী. – ৭/৪) ।


৬. বলা হয় যে শতকের গুণনীয়কের হিসাব ২/৩ হাজার বছর পূর্বে উদ্ভাবিত হয়েছে । অথচ বেদে অজস্র স্থানে শতকের গুণনীয়ক সংখ্যায় সহস্র-লক্ষ-কোটি-অর্বুদ-পরার্দ্ধের পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে । যেমন ৮৪ লক্ষ জীব প্রজাতির হিসাব (চতুর্লক্ষশ্চ মানবাঃ), আত্মার আয়তন (কেশাগ্রের ১০০০০ ভাগের এক ভাগ), কোটি কোটি ব্রহ্মান্ডের হিসাব (একোহপ্যসৌ রচয়িতুং জগদন্ডকোটিং/কোটিষ্বশেষ বসুধাদি বিভূতি ভিন্নম্ – ব্রহ্মসংহিতা ৫/৩৬) ইত্যাদি ।
গত শতাব্দীর ৯০ এর দশকে যখন বিশ্বের গণিতবিদ্ বিজ্ঞানীরা একটি অংকের কোণোভাবেই সমাধান করতে পারছিলেন না, দক্ষিণ ভারতের ক্ষণজন্মা গণিতবিদ্ (৩২ বছরে মারা যান) রামানুজম্ বৈদিক গণিতের সাহায্যে দুইভাবে সেই জটিল অংকের সমাধান বের করে গণিতবিদদের বিস্মিত করেন ।


৭. এমন কি চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে সম্পর্ক-রহিত, সম্পূর্ণ অপ্রাকৃত মহাগ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবত এও আমরা মানব ভ্রূণবিদ্যা বা গাইনিকোলজির এক উজ্জল বিবরণ দেখতে পাই, যেখানে মাতৃগর্ভে ১ম মাস থেকে ১০ম মাস পর্যন্ত মাসানুযায়ী ভ্রূণদেহের বিকাশের পরযায়ক্রমিক বিশদ ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রদত্ত হয়েছে । আজ অত্যাধুনিক জটিল যন্ত্রপাতির সাহায্যে যা জানা যাচ্ছে বৈদিক শাস্ত্রে তা হাজার হাজার বছর পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে ।


৮. বেদে বলা হয়েছে যে উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষ – সকল জীবের দেহের মধ্যে রয়েছে প্রাণ, জীবনী শক্তি বা আত্মা । অথচ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে এই বিশ্বাস প্রচার করতেন যে উদ্ভিদের প্রাণ নেই – যতদিন না জগদীশ চন্দ্র বসু তাঁর পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখলেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে ।


৯. বেদ দাবী করেন যে এমনকি আগুনের মধ্যেও জীব রয়েছে । কিন্তু বিজ্ঞানীরা ভাবতেন যে, ফোটানো জলে বাঁচতে পারে না ব্যকটেরিয়া (সে জন্যই তাঁরা জল ফোটানোর মাধ্যমে নির্জীবকরণ করতেন) । কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে, এক ধরনের জীবানু রয়েছে যারা আগুনের মধ্যেও বাঁচতে সক্ষম, তাঁরা এর নাম দিয়েছেন ‘আগুন ব্যকটেরিয়া’ (Fire Bacteria) । এছাড়া বহু প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণে এবং এমনকি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখেও তাঁরা ব্যকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন ।


১০. বেদে বিভিন্ন অবতারসমূহ বা মহাপরুষগনের বিশদ বিবরন-সহ ভবিষ্যতে তাঁদের আবির্ভাবের নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী প্রদত্ত হয়েছে । শ্রীমদ্ভাগবতে এরকম সাত জন ব্যক্তিত্বের আবির্ভাবের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছেঃ- বুদ্ধদেব – শ্রীমদ্ভাগবতঃ- ১/৩/২৪, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু – শ্রীমদ্ভাগবতঃ- ১১/৫/৩২, মহাভারত – ১২৭/৯২/৭৫; চাণক্য –শ্রীমদ্ভাগবতঃ- ১২/১/১১; চন্দ্রগুপ্ত এবং সম্রাট অশোক – শ্রীমদ্ভাগবতঃ- ১২/১/১২, যীশু – ভবিষ্যপুরাণ


১১. মেডিকেল বিজ্ঞানে এখন উন্নতর মানের সার্জারী আমরা দেখতে পাই কিন্তু আমাদের শাস্ত্রে তা আগে বর্ণনা করা হয়েছে যেমনঃ- ঘনেশের মাথায় হাতির মাথা সংযোজন, দক্ষের মাথায় ছাগলের মাথা সংযোজন ইত্যাদি ।


১২. আজকাল দেখা যাচ্ছে টেষ্টটিউব বেবি উৎপাদন হচ্ছে যা আমাদের শাস্ত্রেও বনর্ণা করা হয়েছে যেমনঃ- দ্রোনাচার্য, গান্ধারির ১০০ পুত্র ইত্যাদি ।


১৩. বেদে উল্লেখ আছে সব মল অপবিত্র কিন্তু গরুর গোবর পবিত্র, তাই যে কোন পূজাপার্বণে বা মাটির ঘরে গোবর লেপন করা হয় । বিজ্ঞানীরা ১৯৪০ সালে গোবরের মধ্যে প্রতিষেধক গুনাবলি আবিষ্কার করেন ।
১৪. বর্তমানে আমরা যে মেডিটেশন বা বিভিন্ন মেথড দেখতে পাই তা আমরা বেদ থেকেই পেয়ে থাকি ।


১৫. গণিতশাস্ত্রে যে পাটিগণিত ও জ্যামিতি দেখতে পাই তা আগে যজুর্বেদে বনর্ণা করা রয়েছে ।


১৬. গোবিন্দ স্বামী নিউটনের ১৮০০ বছর পূর্বেই ‘ইন্টারপোলেশন ফর্মূলা’ (Interpolation formula) আবিষ্কার করেন । ভটৈশ্বরাচার্য নিউটনের ১০০০ বছর পূর্বেই ‘ব্যাকওয়ার্ড ইন্টারপোলেশন ফর্মূলা’ (Backward Interpolation formula) আবিষ্কার করেন । নীলকান্ত মুণি নিউটনের ৮০০ বছর পূর্বেই ‘সমধর্মী ক্রম’ (Infinite Geometric Progression convergent series) আবিষ্কার করেন ।


১৭. পরমেশ্বরাচার্য লুইলারের ৪০০ বছর পূর্বেই ‘লুইলার ফর্মূলা’ আবিষ্কার করেন ।


১৮. ইতিবাচক ও নেতিবাচক (Positive and Negative) সংখ্যা প্রথম লেখা হয় ব্রহ্মগুপ্ত কতৃক রচিত ‘ব্রহ্মস্পুত সিধান্তে’ গ্রন্থে । তাও হাজার বছর আগে ।


১৯. কোপার্নিকাসের চেয়ে কমপক্ষে ১০০০ বছর পূর্বে আর্যাভট্ট ‘নিগূঢ় তত্ত্ব’ আবিষ্কার করেন ।


২০. বৈদিক শাস্ত্রে পৃথিবীর ব্যাস হল ৭৮৪০ মাইল আর বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর ব্যাস ৭৯২৬.৭ মাইল । বৈদিক শাস্ত্রে লেখা আছে পৃথিবী থেকে চাঁদের দুরত্ব ২৫৩০০০ মাইল দূরে আর বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবী থেকে চাঁদের দুরত্ব ২৫২৭১০ মাইল ।


২১. বোদ্ধায়ন কতৃক সর্বপ্রথম পাই “pi” এর মান গনণা করা হয় এবং তিনি পিথাগোরাস তত্ত্বের ধারনা ব্যাখ্যা করেন । ইউরোপিয় গনিতবিদদের পূর্বে ৬ষ্ঠ শতকে তিনি এটি আবিষ্কার করেছিলেন । ব্রিটিশ পন্ডিতগন কতৃক ১৯৯৯ সালে তা পরীক্ষিত হয় ।


২২. ভারত থেকে বীজগণিত, ত্রিকনোমিতি এবং ক্যালকুলাস এসেছে । একাদশ শতকে শ্রীধরআচার্য কতৃক দ্বিঘাতের সহসমীকরন (Quadratic equations) নির্ণীত হয় ।


২৩. গ্রীক ও রোমানদের দ্বারা ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় সংখ্যা ছিল ১০৬ যেখানে বৈদিক সময়ে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ বছর শুরুর দিকে হিন্দুরা সুনির্দিষ্ট নাম সহ 1053 এর মতো বড় । এমনকি বর্তমানেও সবচেয়ে বড় ব্যবহৃত সংখ্যা হচ্ছে টেরাঃ 1012 । – সংগৃহীত
Share:

১২ জুন ২০১৩

অভ্রান্ত বৈদিক জ্ঞান


আমরা কেন বেদসমূকে সত্য বলে স্বীকার করব? বেদসমূহ হচ্ছে সরাসরি ভগবানের বাণী, যা সৃষ্টির প্রারম্ভে প্রকাশিত হয়েছিল যখন আপনি একটি মোটর সাইকেল কেনেন, তখন তার সঙ্গে একটি ইন্স্ট্রাক্শন ম্যানুয়াল বা ব্যবহার-বিধি নির্দেশিকা  থাকে, যাতে ব্যাখ্যা করা থাকে কিভাবে ঐ মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা যেতে পারে ঠিক তেমনি, সৃষ্টির সময়ে ভগবান আমাদেরকে বৈদিক শাস্ত্র প্রদান করেন, যাতে ব্যাখ্যা করা থাকে এই জগত কেমন, কোথা থেকে উদ্ভূত, কিভাবে এই জগতে আচরণ করা উচিত
কয়েকটা দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কিভাবে বৈদিক জ্ঞান অভ্রান্ত স্মরণাতীত কাল পূর্বে রচিত হলেও এমন সব তথ্য বেদে বর্নিত হয়েছে, বিজ্ঞান যা অতি সম্প্রতি আবিষ্কার করতে শুরু করেছে

১. ডালটন পরমানু আবিষ্কার করেছেন দুশো বছরও হয় নি আজ থেকে ৫০০০ বছর পূর্বে রচিত শ্রীমদ্ভাগবতের মূল শ্লোকে পরমানু অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণা এই তথ্য দেওয়া হয়েছে ব্রহ্মসংহিতাতেও(৫/৩৫) বলা হয়েছে যে, শৃঙ্খলাযুক্ত জড় পদার্থের বিন্যাসে বৃহত্তম ইউনিট বা একক হচ্ছে ব্রহ্মান্ড, ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে পরমাণু (অন্ডান্তরস্থপরমাণুচয়া-অন্তরস্থং) এইরকম সর্ববৃহৎ
Share:

০৯ জুন ২০১৩

"বেদে সকলের সমান অধিকার"



বেদ আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ,বিভিন্ন  অপপ্রচার এবং স্বার্থন্বেষি দের  চক্রান্তে আমাদের মধ্যে একটি দৃঢ়  ধারনা হয়েছে যে বেদে ব্রাহ্মন ছাড়া সকলের  অধিকার নাই এটি পুরোটাই ভুল কারনযর্জুবেদ  বলা হয়েছে;


ওঁ যথেমাং বাচং কল্যানীমাবদানি জনেভ্যঃ
বহ্ম রাজন্যাভ্যাং শূদ্রায় চার্য্যায় চ স্বায় চারণায় ।।
প্রিয়ো দেবানাং দক্ষিণায়ৈ দাতুরিহ ,
ভূয়াসময়ং মে কামঃ সমৃধ্যতামুপ মাদো নমতু ।।  (যজুর্বেদ ২৬/২)

অনুবাদ : হে মনুষ্যগন আমি যেরূপে ব্রাক্ষন ,ক্ষত্রিয় ,বৈশ্য ,শূদ্র  স্ত্রীলোক এবং অন্যান্য সমস্ত জনগনকে এই কল্যানদায়িনী পবিত্র বেদবানী বলিতেছি ,তোমরাও  সেই রূপ কর যেমন, বেদবানীর উপদেশ  করিয়া আমি বিদ্বানদের প্রিয় হয়েছি ,তোমরাও সেরুপ হও আমার ইচ্ছা বেদ বিদ্যা প্রচার হোক এর দ্বারা সকলে মোক্ষ এবং সুখ লাভ করুক
 

Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।