• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

গায়ত্রী মন্ত্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গায়ত্রী মন্ত্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২২ এপ্রিল ২০২০

বেদমাতা গায়ত্রী মন্ত্র প্রকাশিত হওয়ার ইতিহাস

গায়ত্রী মন্ত্রের দ্রষ্টা ঋষি – বিশ্বামিত্র। বিশ্বামিত্র ঋষি নিজের জীবনের প্রথম দিকে ক্ষত্রিয় রাজা ছিলেন।তাঁর নিজের শক্তি ও সামর্থ্যের উপর প্রচন্ড আত্মাভিমান ছিলো। একদিন তিনি তাঁর সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পাশেই অবস্থিত বশিষ্ঠ মুনির আশ্রমে এলেন। ব্রাহ্মণ বশিষ্ঠ মুনি একজন ব্রহ্মর্ষি ছিলেন। বশিষ্ঠ মুনি, ক্ষত্রিয় রাজা বিশ্বামিত্রকে কিছু সময়ের জন্য তাঁর আশ্রমে বিশ্রাম নিতে বললেন এবং ভোজন গ্রহন করার জন্য অনুরোধ করলেন। রাজা বিশ্বামিত্র ভোজন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন, কারণ তিনি চিন্তা করলেন যে তাঁর সাথে হাজার খানেক সৈন্য আছে। এই বনে এতজন সৈন্যের খাবারের আয়োজন করা বড্ড ঝামেলার বিষয়। কিন্তু বশিষ্ঠ মুনি বললেন যে তাদের ভোজন করেই যেতে হবে। তারপর বশিষ্ঠ মুনি নিজ কক্ষে প্রবেশ করলেন।ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠের নিকট একটি দৈব শক্তিসম্পন্ন গোমাতা ছিলো। যাহাকে কামধেনু বলা হয়।প্রকৃতপক্ষে কামধেনু হলেন একজন দেবী, যিনি গোমাতা রূপে ছিলেন তাহার নিকট। কামধেনু মায়ের কাছে যা চাওয়া হয় তিনি তাই প্রদান করেন।




তারপর কামধেনু মায়ের নিকট ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠ সবার খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য প্রার্থনা করলেন। সাথে সাথে হাজার সৈন্য-সামন্তের খাবার প্রকটিত হলো।তারপর ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠ, রাজা বিশ্বামিত্র সহ সকলকেই খাবার গ্রহনের জন্য খাবার কক্ষে ডাকলেন। রাজা বিশ্বামিত্র এতো মানুষের খাবার ক্ষণিক সময়ের মধ্যে প্রস্তুত দেখে বিস্মিত হলেন। তিনি বশিষ্ঠ মুনিকে জিজ্ঞেস করলেন যে এই জঙ্গলের মধ্যে তিনি কিভাবে এতো মানুষের খাবার এতো কম সময়ে প্রস্তুত করলেন।
তখন বশিষ্ঠ মুনি বললেন যে তাঁর নিকট একটি গাভী আছে। তিনি তাকে মাতৃজ্ঞানে বন্দনা করেন। সেই গাভীটিই তাকে তাঁর প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রদান করেন। এবার রাজা বিশ্বামিত্রের মনে লোভ চলে এলো। তিনি ভাবলেন রাজা তো তিনি। এই কামধেনু তো তাঁর প্রাপ্য। তিনি ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠকে বললেন যে তাকে এই গাভী দিয়ে দিতে। এর বিনিময়ে বশিষ্ঠ মুনি যা চাইবেন বিশ্বামিত্র তাই তাকে দিবেন। বশিষ্ঠ মুনি বললেন যে এই ভুল যাতে বিশ্বামিত্র না করেন কারন ইনি একজন দেবী, ইনি বিক্রির বস্তু নয়। ইনি তাঁর সমস্ত প্রয়োজন পূরন করেন। তাছাড়া তিনি ঐ জায়গায় থাকেন যেখানে ব্রহ্মবিদ্যার চর্চা করা হয়, যেখানে ব্রহ্মজ্ঞান আছে। তিনি বিশ্বামিত্রের রাজপ্রাসাদে যাবেন না। তখন রাজা বিশ্বামিত্র রেগে গেলেন এবং বললেন এই গাভী তিনি নিবেনই। তিনি তার সৈন্য-সামন্তকে বললেন গাভীটিকে জোরপূর্বক নিয়ে আসতে। ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠ তাকে শেষবারের মতো সর্তক করলেন তাও রাজা বিশ্বামিত্র কর্ণপাত করলেন না। তারপর বশিষ্ঠ মুনি তাঁর ব্রহ্মদন্ড তোলার সাথে সাথে রাজা বিশ্বামিত্রের সমগ্র সৈন্য মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লো।


বিশ্বামিত্র এটা দেখে হকচকিয়ে গেলেন। আসলে এটা ছিলো ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠের ব্রহ্মজ্ঞানের শক্তি। "Power of the realization of Brahman(ultimate reality). তারপর রাজা বিশ্বামিত্র নিজে ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠকে আঘাত করতে উদ্যত হবার সাথে সাথে বশিষ্ঠ মুনি ব্রহ্মদন্ড তোলা মাত্রই রাজা বিশ্বামিত্র শক্তিহীন হয়ে পড়লেন।
তখন বিশ্বামিত্র বললেন, "ধিক বলম্ ক্ষত্রিয় বলম্, ব্রহ্ম বলম্ এব বলম্" অর্থাৎ, বশিষ্ঠের ব্রহ্মজ্ঞানের শক্তির কাছে আমার রাজত্ব, আমার অহংকার, আমার সৈন্য এগুলো ধূলিকণার সমানও নয়।ব্রহ্মবিদ্যার শক্তিই সর্বোচ্চ শক্তি। যে ব্যক্তি এই ব্রহ্মবিদ্যা জানেন তিনি এতই শক্তিশালী যে কোন শস্ত্র ছাড়াই তাঁর ইচ্ছামাত্রই এতো হাজার হাজার সৈন্য লুটিয়ে পড়ে। তখন বিশ্বামিত্র বললেন, "ঠিক আছে, আমিও এই ব্রহ্মবিদ্যা অর্জন করবো তারপর তোমাকে দেখে নিবো।"


এরপর রাজা বিশ্বামিত্র নিজ রাজ্য তাঁর পুত্রকে দিয়ে বনে চলে গেলেন। তিনি বনে গিয়ে কঠোর তপস্যা শুরু করলেন। আস্তে আস্তে তারমধ্যে কিছু পরিবর্তন আসতে লাগলো। কিন্তু তখনো তাঁর ক্রোধ ও দ্বেষভাব সম্পূর্ণ দূরীভূত হয়নি। তাঁর তপস্যা চলাকালীন সময়ে ত্রিশঙ্কু রাজার আগমন ঘটলো। ত্রিশঙ্কু ছিলেন সেই রাজা যার মনের ইচ্ছে ছিলো স্বশরীরে স্বর্গে যাওয়া। প্রথমে তিনি ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠের নিকট গেলেন এবং তাঁর ইচ্ছা বাক্ত করলেন। বশিষ্ঠ মুনি তাকে এখান থেকে চলে যেতে বললেন এবং আরো বললেন যে তিনি এসব স্বর্গে পাঠানোর কাজ করেন না। তখন রাজা ত্রিশঙ্কু আসলো তপস্বী বিশ্বামিত্রের নিকট। বিশ্বামিত্র যখন শুনলেন বশিষ্ঠ মুনি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তখন তিনি ত্রিশঙ্কুকে কথা দিলেন যে তিনি তাকে স্বশরীরে স্বর্গে পাঠাবেন। কারন তখনও তার মধ্যে বশিষ্ঠ মুনির প্রতি হিংসা কাজ করছিলো। বিশ্বামিত্র এতেদিন তাঁর তপস্যার ফলে অর্জিত শক্তি দিয়ে তাকে স্বশরীরে স্বর্গে পাঠাতে লাগলেন। তখন দেবরাজ ইন্দ্র এলেন এবং বললেন এটা প্রকৃতির নিয়ম বিরুদ্ধ। একজন ব্যক্তি মৃত্যুর পরই তার কর্ম অনুসারে স্বর্গ বা নরকে যেতে পারে কিন্তু মৃত্যুর আগে স্বশরীরে নয়। বিশ্বামিত্র তাঁর তপোবলে রাজা ত্রিশঙ্কুকে উপরে তুলছেন আর অন্যদিকে দেবরাজ ইন্দ্র তাকে উপরে উঠতে বাঁধা দিচ্ছেন। এই অবস্থায় রাজা ত্রিশঙ্কু স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝের শুণ্যস্থানে অবস্থান করছিলেন। তখন বিশ্বামিত্র রেগে গিয়ে সেই শূন্যস্থানেই নিজ তপোবলে স্বর্গের ন্যায় আলাদা এক জগৎ সৃষ্টি করলেন।



সেখানকার রাজা ত্রিশঙ্কুকে করে দিলেন। এসব করার পর বিশ্বামিত্রের উপলব্ধি হলো তিনি তাঁর তপস্যায় অর্জিত সমস্ত শক্তি এসব অবান্তর কাজে শেষ করে ফেলেছেন। এরপর তিনি আবার পুরোদমে তপস্যা শুরু করলেন। এরপর আবার ঘটলো আরেক ঘটনা। বিশ্বামিত্র তাঁর তপোবলে স্বর্গ দখল করে ফেলেন কিনা এই ভয়ে দেবরাজ ইন্দ্র স্বর্গের অপ্সরা মেনকাকে পাঠালেন বিশ্বামিত্রের তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য। তপস্বী হলেও বিশ্বামিত্রের মধ্যে কামের প্রভাব তখনো বিরাজমান ছিল। সেই কামের প্রভাবে অপ্সরা মেনকার প্ররোচনায় বিশ্বামিত্রের পতন ঘটে। তিনি কামের প্রভাবেই বহুদিন কাটিয়ে দেন এবং তাঁর তপস্যার কথা বহুকাল বিস্মৃত হয়ে থাকেন। হঠাৎ একদিন যখন বিশ্বামিত্রের মনে পড়লো যে তিনি আবার ভুল পথে চলে গেছেন তখন তিনি পুনরায় এসব ত্যাগ করে তপস্যায় বসলেন। এবার বহুকাল তপস্যা করার পর তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবতা ব্রহ্মা তাকে দেখা দিলেন এবং তাকে মহর্ষি উপাধি দিলেন। তখন মহর্ষি বিশ্বামিত্র; দেবতা ব্রহ্মাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আমি কি ব্রহ্মর্ষি উপাধি পাবার যোগ্য নই?" দেবতা ব্রহ্মা উত্তর দিলেন, "না। ব্রহ্মর্ষি উপাধির জন্য তোমাকে একজন ব্রহ্মর্ষির আর্শীবাদ নিতে হবে। সুতরাং, তুমি ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠের কাছে যাও এবং তার আর্শীবাদ নাও। যদি তুমি তোমার সমস্ত অহংকার চিরতরে ত্যাগ করে বশিষ্ঠের আর্শীবাদ নিতে পারো তবেই তুমি ব্রহ্মর্ষি হতে পারবে।" এই শুনে মহর্ষি বিশ্বামিত্র; ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠের নিকট এলো। যখন তিনি বশিষ্ঠ মুনির গৃহের দ্বারপ্রান্তে এলেন তখন তিনি ভিতরে থাকা বশিষ্ঠ মুনি ও অরুন্ধতীর কথোপকথন শুনলেন। বশিষ্ঠ মুনি অরুন্ধতীকে বলছিলেন, "আমি বিশ্বামিত্রের কৃত তপস্যা দেখেছি এবং আমি তাকে মন থেকে আর্শীবাদ করেছি যেন সে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করে। তারমধ্যে একটু অহংকার আছে। সে এটা অতিক্রম করতে পারলেই ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্ত হবে। আমি তাকে সেই পথে সাহায্য করছি।" এটা শোনা মাত্রই বিশ্বামিত্র লজ্জা পেল। তাঁর যার প্রতি এত ঘৃণা সেই কিনা বিশ্বামিত্রের আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সাহায্য করছে! তখন বিশ্বামিত্র বুঝলো কেন বশিষ্ঠ ব্রহ্মর্ষি। তিনি তখনি ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠের চরণে লুটিয়ে পড়লেন। যেই মাত্র মহর্ষি বিশ্বামিত্রের মাথা ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠের চরণ স্পর্শ করলো সাথে সাথে ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠের দেহ থেকে একটা অবিরত আধ্যাত্মিক শক্তি মহর্ষি বিশ্বামিত্রের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হওয়া শুরু করলো। তখনই বিশ্বামিত্র ব্রহ্ম-গায়ত্রী উচ্চারণ করলেন ও সমাধিতে চলে গেলেন।

এই হল সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্র, মহামন্ত্র — গায়ত্রী মন্ত্র প্রকাশিত হওয়ার পেছনের ইতিহাস।

গায়ত্রী মন্ত্র —

ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ তৎসবিতুর্ব্বরেণ্যং
ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।।

ব্যাখ্যা — ওঁ (ব্রহ্ম) ভূঃ ভুবঃ স্বঃ (স্বর্গ, মর্ত্ত্য, পাতাল এই তিন লোক অথবা সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ এই তিন গুণ অথবা ভূত, ভবিষ্যৎ, বর্তমান এই তিনকাল) তৎসবিতুঃ (এই ত্রিলোকের, এই ত্রিগুণের অথবা এই ত্রিকালের প্রসবকারীর অর্থাৎ, সৃষ্টিকারী ব্রহ্মের) বরেণ্যং ভর্গো (শ্রেষ্ঠ স্বতঃপ্রকাশ তেজ) দেবস্য (দেবের অর্থাৎ, ত্রিজগৎ, ত্রিগুণ ও ত্রিকাল সৃষ্টিকারী স্বয়ংদীপ্ত পরমব্রহ্মের) ধীমহি (ধ্যান করছি) ধিয়ো (বিবেক অথবা বুদ্ধিবৃত্তিসমূহ) য়ো (যিনি) নঃ (আমাদের) প্রচোদয়াৎ (প্রেরণ করছেন) ওঁ (ব্রহ্ম)

অর্থাৎ — যিনি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি সমূহকে প্রেরণ করেন, সেই ত্রিলোক-প্রসবিতা, ত্রিগুণ-স্রষ্টা, ত্রিকাল-সৃজনকারী পরমব্রহ্মের শ্রেষ্ঠ স্বতঃপ্রকাশ তেজের ধ্যান করি।

Courtesy by: Soma Dey
Share:

২৩ এপ্রিল ২০১৭

অতি সংক্ষেপে গায়ত্রী মন্ত্রের বর্ননা

No automatic alt text available.ওঁ ভূভবঃ স্বঃ
তত্ সবিতুর্বরেন্যং
ভর্গো দেবস্য ধীমহি ।
ধিয়ো যো নং প্রচোদয়াত্ ।।ওঁ।।

অনুবাদ :যিনি ত্রিলোকের স্রষ্টা অথ্যাৎ সমগ্র বিশ্ব জগতের প্রসবিতা, সে সচ্চিদানন্দঘন নিরাকার পরমব্রহ্মের বরনীয় জ্যোতি কে আমরা ধ্যান করি ।তিনি আমাদের মন ও বুদ্ধিকে শুভ কার্যে প্রেরনা দান করুন।

তাত্পর্যেঃ বলা যায় ভূ ভুবঃ স্বঃ অথ্যাৎ পৃথিবী ,অন্তরীক্ষ ,বিশ্বব্রহ্মন্ডে ,এবং সর্বত্র সেই পরমপুরুষ নিরাকার পরমেশ্বরের প্রভাব বা জ্যোতি বিদ্যমান। তাকে ঘিরেই আমাদের জন্ম ,মৃত্যু ,জীবন সব ।তাই তার কাছে আমাদের প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের জীবনকে সাত্ত্বিক ভাবে অতিবাহিত করার জন্যে কৃপা করেন ।


ঋক ,সাম ,যজুঃ এই তিন বেদেই আমারা মন্ত্রটি পাই যথাক্রমে ঋকবেদ ৩/৬২/১০ যজুঃবেদ ৩/৩৫,৩০/২সামবেদ উত্তর আর্চিক ৬/৩/১০। এই মন্ত্রের দেবতা সবিতা ।
দ্রষ্ট্রা ঋষি বিশ্বামিত্র ,ছন্দ গায়ত্রী এবং এটাই বেদের সর্ব শ্রেষ্ঠ মন্ত্র এবং ছন্দ ।ভগবান
শ্রী কৃষ্ন গীতার বিভূতিযোগে ৩৫নং শ্লোকে বলেছেন ছন্দ সমূহের
মধ্যে আমি গায়ত্রী । এই হল অতি সংক্ষেপে গায়ত্রী মন্ত্রের বর্ননা ।

সূর্যের বিভিন্ন নাম আমরা পাই যেমন :সূর্য ,পুষা ,মিত্র ,সবিতা ,অর্য্যমা ,বিষ্ণু ইত্যাদি এরা সবাই আদিত্য । আমরা দেখছি যে সূর্যের সমার্থক শব্দ সবিতা । সূর্যকে বৈদিক ঋষিরা এই বিশ্বচরাচরের সকল শক্তির উত্স হিসাবে চিন্তা করতেন ।বাস্তবেও অবশ্য তাই ,আমরা সূর্য শক্তিতেই বলিয়ান ।কিন্তু এই মন্ত্র সবিতা সরাসরি সূর্যের সমার্থক শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয় নি ।বেদভাষ্যকার সায়নাচার্য এখানে সূর্য ও সবিতার দুই রকম অর্থ করেছেন ।এই মন্ত্রে সবিতা হল ,সকল কারনের কারন সেই সচ্চিদানন্দ নিরাকার পরম ব্রহ্ম ।তাই সবিতা অর্থ জগত স্রষ্টা ।"সু" ধাতু থেকে সবিতৃ নিষ্পন্ন হয়েছে ।যায় জন্যে সবিতা মানে প্রসবিতা । নিরুক্তিকার যস্ক অর্থ করেছেন "সর্ব্বস্য প্রসবিতা ।"বেদ ভাষ্যে সায়ন ব্যাক্ষা করেছেন তত্সবিতুঃ =জগত্প্রসবিতুঃ = বাংলা হচ্ছে নিখিল বিশ্বের সৃষ্টিকারী ।তাই এই মন্ত্রে আমরা সেই পরমেশ্বরের বরনীয় জ্যোতিকে ধ্যান করছি । যাকে এখানে সবিতা বলা হয়েছে বা নাম দেওয়া হয়েছে ।ঋকবেদের ২য় মন্ডলের ৩৮ সূক্তের ৭থেকে ১১ নং মন্ত্রে সবিতাকে সকল শক্তির উত্স বলে তার স্তুতি করা হয়েছে।
বলা হয়েছে :হে সবিতা ,তুমি সকল কিছু সৃষ্টি করেছ অন্তরীক্ষ ,জল ,স্থল ।তুমি সকল ভূত ,পশুপাখী ,স্থাবর জঙ্গম ইত্যাদিকে স্ব স্ব স্থানে রেখেছ । ইন্দ্র ,বরুন ,মিত্র ,অর্য্যমা ,বা রুদ্র সবাই তোমার শক্তিতে বলিয়ান ।কেউ তোমাকে হিংসা করে না ।হে সবিতা (পরমেশ্বর) তোমার দুতিমান জ্যোতিকে (অথ্যাৎ, সকল প্রকাশ যুক্ত শক্তি এবং অপ্রকাশিত অতিন্দ্রিয় শক্তিকে) আমরা নমষ্কার করি ।তুমি সকলের কল্যান কর । আমাদের জন্যে যেন সকল কিছু শুভ হয় ।এটাই এই গায়ত্রী মন্ত্রের দেবতা সবিতার তাত্পর্য।

বৈদিক ভাব বুঝানো শক্ত কাজ অনেক ক্ষেত্রে নিজে বুঝলেও বোঝানো যায় না অপর কে ,যা হোক চেষ্টা করেছি মাত্র সহজ ভাবে বুঝানোর। নমস্কার।


কৃতজ্ঞতাঃ
অগ্নি সম্পদ (agni sampad)
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।