• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

পৌরানিক কাহিনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পৌরানিক কাহিনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৯ মে ২০১৯

শুকদেব গোস্বামীর আবিৰ্ভাব।

 একবার মহাদেব পাৰ্বতীদেবীকে নিয়ে নিৰ্জন স্থানে দিকবন্ধন করে বসে শ্ৰীমদ্ভাগবতম কীৰ্তন করছিলেন। ভাগবত কথার প্রারম্ভে মহাদেব পাৰ্বতীকে শর্ত দিলেন যে, ভাগবত কথা চলাকালে পাৰ্বতীদেবী যে গভীর মনোযোগ সহকারে শুনছেন, তার প্রমাণস্বরপ তিনি যেনো ''হু'' বলে সায় দেন।

যথারীতি ভাগবত কথা শুরু হলো। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হলে পাৰ্বতীদেবী ভাগবত কথা শুনতে শুনতেখনিদ্ৰাচ্ছন্ন হলেন। যে বৃক্ষের নিচে মহাদেব ভাগবত কথা বলছিলেন, সে বৃক্ষে অবস্থান করে একটি শুকপাখিও ভাগবত কথা শ্ৰবণ করছিলো। পাখিটি দেখলো যে, পাৰ্বতী দেবী ঘুমিয়ে গেছেন। তখন ভাগবত কথা বন্ধ হয়ে যাবে ভেবে পাৰ্বতীদেবীর বদলে পাখিটিই ''হু'' দিতে থাকলো।

এদিকে মহাদেব তন্ময় হয়ে সম্পূৰ্ণ ভাগবত কথা শ্ৰবণ করালেন। চোখ খুলে দেখতে পেলেন, দেবী পাৰ্বতী ঘুমিয়ে পড়েছেন। তখন মহাদেবের মনে প্রশ্নের উদয় হলো, 'তাহলে ‘হু’ দিলো কে?' চারদিকে তাকিয়ে তিনি বৃক্ষের ডালে ঐ পাখিটিকে দেখতে পেলেন। পাৰ্বতীদেবীর পরিবর্তে পাখিটি ‘হু’ দিছিলো। তাছাড়া ভাগবতের অতি গুহ্য লীলাকথা সাধারণ একটি শুকপাখি শ্ৰবণ করেছে ভেবে মহাদেব অত্যন্ত ক্রদ্ধ হয়ে ত্ৰিশুল হাতে পাখিটিকে তাড়া করলেন। প্রাণভয়ে পাখিটি দিকবিদিক শূন্য হয়ে পলায়ন করতে লাগলো।


মহাদেবও তার পেছনে পেছনে ধাবিত হলেন। এদিকে ব্যাসদেবও তাঁর স্ত্ৰীকে ভাগবত কথা শ্ৰবণ করাচ্ছিলেন। তিনিও তখন ভাগবত কথা শুনতে শুনতে হা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঠিক তখনই শুকপাখিটি প্ৰাণ বাঁচানোর কোনো উপায় না পেয়ে ব্যাসদেবের স্ত্রীর মুখে প্ৰবেশ করলো।

তৎক্ষণাৎ মহাদেবও সেখানে উপস্থিত হয়ে, পাখিটিকে ব্যাসদেবের স্ত্রীর মুখে প্ৰবেশ করতে দেখে অভিশাপ দিলেন যে, পাখিটি যেখানে প্ৰবেশ করেছে, সেখানে তাকে ষোল বছর মতান্তরে বারো বছর, থাকতে হবে। শ্রীল ব্যাসদেব মহাদেবকে দেখামাত্ৰই ব্যাসদেব প্ৰণাম নিবেদন করলেন এবং তাঁকে ক্ৰোধান্বিত দেখে ক্রোধের কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তখন মহাদেব সমস্ত বৃত্তান্ত খুলে বললেন। ব্যাসদেব মহাদেবের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য বললেন, “ হে দেবাদিদেব, যিনি আপনার শ্ৰীমুখ থেকে ভাগবত কথা শ্ৰবণ করেছেন, তিনি তো মহাভাগ্যবান এবং আপনার আশীৰ্বাদের যোগ্য।"

আশুতোষ মহাদেব প্ৰসন্ন হয়ে, সেই শুকপাখিটিকে আশীৰ্ব্বাদ করলেন, “পাখিটি আমার কাছ থেকে যে ভাগবতকথা শ্ৰবণ করেছে, তা সম্পূৰ্ণরপে তার হৃদয়ে অক্ষত থাকুক।" এই বলে তিনি প্ৰস্থান করলেন।

মহাদেবের অভিশাপে ষোলো বছর সেই শুকপাখিটি ব্যাসদেবের স্ত্রীর গর্ভে অবস্থান করছিলো। ভাগবতের বীর্যবতী কথা শ্ৰবণ করার ফলে, সেই শুকপাখি মহাভাগবত শুকদেব গোস্বামীতে রুপান্তরিত হলেন। মাতৃগৰ্ভে অবস্থানকালেও তিনি নিত্য তার পিতা ব্যাসদেবের কাছ থেকে ভাগবত শ্ৰবণ করতেন।

ইতোমধ্যে ষোল বছর অতিক্ৰান্ত হলেও শুকদেব গোস্বামী এ জড়জগতের মায়ায় প্ৰবেশ করতে অনিচ্ছা প্ৰকাশ করলেন। এমতাবস্থায় ব্যাসদেব তাকে বুঝিয়ে বললেন, “বৎস, তুমি ভূমিষ্ট হও নতুবা তোমার মাতৃহত্যা জনিত পাপ হবে।"

তাতেও শুকদেব গোস্বামীর কোনো প্ৰতিক্ৰিয়া না হলে, ব্যাসদেব উপায়ান্তর না দেখে ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণের কাছে গেলেন। তখন ভগবান স্বয়ং শুকদেব গোস্বামীকে প্ৰবোধ দিলেন, “এ জগতে আবির্ভাব হলেও আমার মায়া কখনোই তোমাকে স্পৰ্শ করতে পারবে না।"

 শুকদেব গোস্বামী ভগবানের আশীৰ্বাদ প্ৰাপ্ত হয়ে বললেন, “এ জগতে ভূমিষ্ট হলেও আমি এ জগতের কোনো বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে বনে গমন করবো।"

যথারীতি আবিস্তৃত হয়ে, ষোড়শ বৰ্ষীয় যুবক শুকদেব গোস্বামী দিগম্বর বেশে অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে বনে গমন করেন। তখন ব্যাসদেব হা পুত্ৰ! হা পুত্ৰ! বলে শুকদেব গোস্বামীর পেছন পেছন ধাবিত
হলেন।
''যং প্ৰজন্তমনুপেতমপেতকৃত্যং
দ্বৈপায়নো বিরহকাতর আজুহাব।
পুত্ৰেতি তনুয়াতিয়া তরবোেহভিনেদু
স্তং সৰ্বভূতহদয়ং মুনিমানতোহম্মি'।।"

পুত্ৰকে ধরতে না পেরে বিরহকাতর পিতা ব্যাসদেব বনের ব্যাধদের ভাগবতের দুটি শ্লোক শিখিয়ে দিলেন। যা শুকদেব গোস্বামীকে শ্ৰবণ করানোর মাধ্যমে পুনরায় তাকে ফিরিয়ে আনা হলো। তারপর তিনি তার পিতা ব্যাসদেবের আনুগত্যে পুনরায় ভাগবত অধ্যয়ন করলেন। এর পর কলিযুগে মহারাজ পরিক্ষিতকে তিনি সাতদিন ব্যাপী শ্রীমদ্ভাগবতম শ্রবন করান এবং বলেন, শ্রীমদ্ভাগবতে নির্দেশখরয়েছে,
"কলের্দোষনিধে রাজন্ অস্তি হ্যেকো মহান্ গুণঃ।
কীর্তনাদেব কৃষ্ণস্য মুক্তসঙ্গ পরং ব্রজেৎ॥"

অর্থাৎ, “হে রাজন্! কলিযুগ সমস্ত দোষের আকর। কিন্তু এই কলিযুগে একটি মাত্র মহান গুণ রয়েছে। তা হলো কেবলমাত্র শ্রীকৃষ্ণের নাম কীর্তন করে জীব সংসার-বন্ধন মুক্ত হয়ে ভগবানকে লাভ করতে পারে।"

শ্রীমদ্ভাগবতে (১২/৩/৫১-৫২) বলা হয়েছে,
"কৃতে যৎ ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজতো মখৈঃ।
দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ হরিকীর্তনাৎ॥"

 অর্থাৎ, “সত্যযুগে ধ্যান, ত্রেতাযুগে যজ্ঞ, আর দ্বাপরযুগে অর্চন দ্বারা যা লাভ হয়, কলিযুগে কেবলমাত্র শ্রীকৃষ্ণনাম সংকীর্তন দ্বারা তা লাভ হয়ে থাকে। তাই প্রত্যেকের উচিত ভগবানের দিব্য নাম কীর্ত্তণ ও জপ করা।"
“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে।।”


পরমকরুনাময় গোলোকপতি সচ্চিদানন্দ ভগবান, পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতী রাধারাণী আর সকল ভক্ত-পার্ষদদের শ্রীচরণকমলে নিরন্তর প্রার্থনা করি, সকলের জীবন যেনো রাধাকৃষ্ণময়তায় পূর্ণ হয়ে, মঙ্গলময়, কল্যাণময়, ভক্তিময়, সুন্দরময় আর আনন্দময় হয়ে ওঠে।

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!"
!!জয় হোক সকল ভক্তদের!!
!!জয় শ্রীল সুকদেব গোস্বামী!!
!!জয় শ্রীকৃষ্ণ!! জয় রাধে!!

(দেবেন্দ্র)
Share:

১৯ নভেম্বর ২০১৭

ক‌পিল‌দেব

যত্তৎ সত্ত্বগুণং স্বচ্ছং শান্তং ভগবতঃ পদম্ ।
যদাহুর্বাসু‌দেবাখ্যং চিত্ত তম্মহদাত্মকম্ ।। ( ৩\ ২৬ \ ২১ )

ব্রহ্মার আ‌দে‌শে কর্দম মু‌নির দাম্পত্য ধর্মানু‌সা‌রে প্রজাবৃ‌দ্ধি করা এক ভয়ানক সমস্যারূ‌পে দেখা দি‌য়ে‌ছিল । সমস্যা সমাধা‌নে কর্দম মু‌নি সরস্বতী নদীর তী‌রে সুদীর্ঘ দশ সহস্র বৎসরকাল তপস্যা ক‌রে‌ছি‌লেন । সত্যযুগ আর‌ম্ভের প্রাক্কা‌লে কমলনয়ন ভগবান শ্রীহ‌রি কর্দম মু‌নির তপস্যায় তুষ্ট হ‌য়ে শব্দব্রহ্মময় রূপ ধারণ ক‌রে তাঁ‌কে দর্শন দান ক‌রেন ।

শ্রীহ‌রি দর্শন দান কা‌লে মস্ত‌কে সুবর্ণ‌নি‌র্মিত কিরীট , ক‌র্ণে দেদীপ্যমান কুণ্ডল ও হ‌স্তে শঙ্খ , চক্র , গদা ও শ্বেতপদ্ম ধারণ ক‌রে‌ছি‌লেন । তাঁর চরণকমল গরুড় স্ক‌ন্ধে সংস্থাপিত ছিল । বক্ষঃস্থ‌লে ছি‌লেন শ্রীলক্ষ্মীদেবী আর গলায় ছিল কে‌ৗস্তুভম‌ণি । শ্রীভগবান তখন অ‌নিন্দ্যসুন্দর জ্যো‌তির্ময় মূ‌র্তি‌তে আ‌বির্ভূত হ‌য়ে‌ছি‌লেন ।

কর্দম মু‌নি শ্রীভগবা‌নকে জানা‌লেন যে তি‌নি কো‌নো উপযুক্ত ও গার্হস্থ্য ধর্মানুকূল শীলবতী রমণী‌কে ভার্যারূ‌পে লাভ করবার অ‌ভিলা‌ষে তাঁর শরণাগত হ‌য়ে‌ছেন । কর্দম মু‌নি শ্রীভগবা‌নের স্তবস্তু‌তিও কর‌লেন ।

শ্রীভগবান বল‌লেন - ' হে কর্দম ! তোমার আত্মসংযম ও আরাধনায় আ‌মি প্রসন্ন হ‌য়ে‌ছি । তোমার অ‌ভিলাষ পূর্ণ করবার ব্যবস্থা তো হ‌য়েই আ‌ছে । আগামী পরশু পৃ‌থিবীর শাসক বিরাটকী‌র্তি স্বায়ম্ভুব মনু তাঁর ভার্যা শতরূপা‌কে স‌ঙ্গে নি‌য়ে তোমার নিক‌টে আস‌বেন । তাঁ‌দের কন্য রূপ - যৌবনসম্পন্না , সুশীলা , সদ্গুণা‌ন্বিতা , কৃষ্ণ‌লোচনা ও বিবাহ‌যোগ্য । তাঁরা সেই যোগ্য কন্যাই তোমাকে সম্প্রদান কর‌বেন । তোমাদের থে‌কে নয়‌টি কন্যা - সন্তান হ‌বে । মরী‌চি আ‌দি তাঁ‌দের বিবাহ কর‌বেন ।
তু‌মিও আমার আজ্ঞায় কর্মসকল অনুষ্ঠান করে শুদ্ধসত্ত্বময় হ‌য়ে সকল কর্মফল আমা‌তে সমর্পণ ক‌রে আমা‌কেই লাভ কর‌বে । সর্বজী‌বে দয়া ক‌রে তু‌মি আত্মজ্ঞান লাভ কর‌বে এবং আমা‌কে তোমার ম‌ধ্যে স্থিত দেখ‌বে । হে মহামু‌নি ! আ‌মিও নিজ অংশকলা রূ‌পে তোমার ম‌ধ্যে দি‌য়ে তোমার পত্নী দেবহূ‌তির গ‌র্ভে অবতীর্ণ হ‌য়ে তত্ত্বসং‌হিতা ( সাংখ্য শাস্ত্র ) প্রণয়ন কর‌র । '

শ্রীভগবান নিজ ধা‌মে গমন কর‌লেন আর মহ‌র্ষি কর্দম শ্রীহ‌রির উপ‌দিষ্ট সম‌য়ের জন্য তপস্যা‌ক্ষেত্র বিন্দু স‌রোব‌রের তী‌রেই অবস্থান ক‌রে রই‌লেন । যথাসম‌য়ে আ‌দিরাজ স্বায়ম্ভুব মনু কন্যাসহ শ্রেষ্ঠ তীর্থস্বরূপ সেই আশ্র‌মে প্র‌বেশ ত‌রে দেখ‌লেন যে মু‌নিবর কর্দম অ‌গ্নি‌তে হোম সম্পাদন ক‌রে আস‌নে উপ‌বিষ্ট । মহ‌র্ষি তখন উন্নতকায় , পদ্মপলাশ‌লোচন , জটাজুট সু‌শো‌ভিত ও চীরব‌সনেও দ্যু‌তিসম্পন্ন । মহ‌র্ষি কর্দম স্বায়ম্ভুব মনুর নানাবিধ গুণ ও ক‌র্মের উৎকর্ষ কীর্তন কর‌লেন ।

আত্মপ্রশংসায় ল‌জ্জিত সম্রাট মনু তখন বল‌লেন - ' হে মু‌নিপ্রবর ! নারদমু‌নির কাছ থে‌কে আপনার সুখ্যা‌তি শ্রবণ ক‌রে আমার কন্যা আপনা‌কে প‌তি‌ত্বে বরণ কর‌তে অ‌ভিলাষী । আ‌মি অতীব শ্রদ্ধা সহকা‌রে এই কন্যা‌কে আপনার হ‌স্তে সম্প্রদান কর‌ছি । আপ‌নি এ‌কে গ্রহণ করুন । গার্হস্থ্য ধ‌র্মের সমস্ত ক‌র্মে সর্ব‌তোভা‌বে এই কন্যা আপনার উপযুক্ত । ' মহ‌র্ষি কর্দম কন্যা‌কে গ্রহণ করবার সময়ে বল‌লেন - ' সন্তান উৎপাদনকাল পর্যন্ত আ‌মি গার্হস্থ্য ধর্মানু‌সা‌রে এঁর স‌ঙ্গে থাকব । অতঃপর শ্রীভগবা‌নের উপ‌দিষ্ট সন্ন্যাসপ্রধান অ‌হিংসা ধ‌র্মের সঙ্গে শম - দমা‌দি ধর্মসকল পালন করব । '

মহ‌র্ষি কর্দম ও দেবহূ‌তির বিবাহনুষ্ঠান সম্পন্ন হ‌য়ে গে‌লে কন্যার পিতা ও মাতা মনু ও শতরূপা স্ব‌দে‌শে প্রস্থান কর‌লেন । দেবহূ‌তি কাম , দম্ভ , বাসনা , লোভ , পাপ ও গর্ব প‌রিত্যাগ ক‌রে বিশ্বাস , প‌বিত্রতা , গৌরব , সংযম , শুশ্রূষা , প্রেম ও মধুরবাক্যা‌দি সদ্গুণ দ্বারা পরম তেজস্বী পতি‌দেবতা‌কে সন্তুষ্ট কর‌তে লাগ‌লেন । কমলনয়না দেবহূ‌তি প‌তি মহ‌র্ষি কর্দ‌মের আ‌দেশ অনুসা‌রে সরস্বতী নদীর প‌বিত্র জ‌লের আধার বিন্দ‌ু সরোব‌রে স্নান ক‌রে প‌তির যোগশ‌ক্তির বিভূ‌তি দে‌খে বি‌স্মিত হ‌য়ে গে‌লেন । দেব - দাম্পত্য শুরু হল ।

অনন্তর দেবহূ‌তি সর্বাঙ্গসুন্দর নয়‌টি কন্যাসন্তান প্রসব কর‌লেন । এ‌ইসময় শুদ্ধাসত্ত্বা সতী দেবহূ‌তি দেখ‌লেন যে পূর্বপ্র‌তিজ্ঞানুসা‌রে তাঁর প‌তি‌দেব সন্ন্যাসাশ্রম গ্রহণ ক‌রে বনগম‌নে উদ্যাত হয়ে‌ছেন । তখন দেবহূ‌তি অত্যন্ত ব্যাক‌ুল হ‌য়ে স্বামী‌কে বল‌লেন - ' আপ‌নি সন্ন্যাসী হ‌য়ে চ‌লে গে‌লে আপনার এই কন্যা‌দেরই তা‌দের যোগ্য পাত্র জোগাড় কর‌তে হ‌বে এবং আমার জন্ম - মরণরূপ বন্ধন থে‌কে মু‌ক্তির জন্য সদ্গুরুর প্র‌য়োজন হ‌য়ে পড়‌বে । আ‌মি শ্রীভগবা‌নের মায়ায় আপনার ম‌তো প‌তি‌দেবতা‌কে লাভ ক‌রেও সংসার বন্ধন থে‌কে মু‌ক্তিলা‌ভের জন্য চেষ্টা ক‌রি‌নি । '

দেবহূ‌তির কথায় মহ‌র্ষি কর্দ‌মেরর শ্রীভগবা‌নের দেওয়া আশ্বাস - বাণী ম‌নে পড়ল । তি‌নি তখন দেবহূ‌তি‌কে বল‌লেন - ' শ্রীভগবান স্বয়ং অংশকলারূ‌পে তোমার গ‌র্ভে আ‌বির্ভূত হ‌য়ে তোমা‌কে ব্রহ্মজ্ঞা‌নো‌পদেশ দান কর‌বেন । অতএব তু‌মি এখন শ্রীভগবা‌নের আরাধনায় প্রবৃত্ত হও । '
যথাসম‌য়ে শ্রীভগবান দেবহূ‌তির গ‌র্ভে পুত্ররূ‌পে জন্মগ্রহণ ক‌রে‌লেন । এই পুত্রই কপিল না‌মে প‌রি‌চিত । অতঃপর কর্দম মু‌নি তাঁর নয়‌টি কন্যার উপযুক্ত প‌তি সন্ধান ক‌রে তা‌দের সম্প্রদান ক‌রে সন্ন্যাস গ্রহ‌ণে কৃতসংকল্প হ‌লেন । কর্দম ঋ‌ষি তাঁর কলা নাম্নী কন্যা‌কে মরী‌চির হ‌স্তে , অন্সূয়া‌কে অ‌ত্রির হ‌স্তে , শ্রদ্ধা‌কে অ‌ঙ্গিরার হ‌স্তে , হ‌বির্ভূ‌কে পুলস্ত‌রে হ‌স্তে , গ‌তি‌কে পুল‌হের হ‌স্তে , ক্রিয়া‌কে ক্রত‌ুর হ‌স্তে । খ্যা‌তি‌কে ভৃগুর হ‌স্তে , অরুদ্ধতী‌কে ব‌শিষ্ঠ ও শা‌ন্তি‌কে অথর্বা ঋ‌ষির হ‌স্তে সম্প্রদান কর‌ে‌ছি‌লেন ।
এ‌দি‌কে সাক্ষাৎ দেবা‌দি‌দেব শ্রীহ‌রিই তাঁর গৃ‌হে অবতীর্ণ হ‌য়ে‌ছেন বুঝ‌তে পে‌রে কর্দম ঋ‌ষি একা‌ন্তে তাঁ‌কে প্রণাম করে বল‌লেন - ' তোমা‌কে আমার গৃ‌হে অবতরণ কর‌তে দে‌খে ধন্য হ‌য়ে‌ছি ।

 হে প্রভু ! তু‌মি ভ‌ক্তের সম্মান বৃ‌দ্ধি ক‌রে থাক । তু‌মি নিজ সত্য পালনা‌র্থে এবং সাংখ্য‌যোগ প্রচার করবার জন্যই আমার গৃ‌হে পদার্পণ ক‌রে‌ছে । সাধকগণ তত্ত্বজ্ঞানলা‌ভের ইচ্ছায় সর্বদাই তোমার পাদপীঠ বন্দনা ক‌রেন । ঐশ্বর্য , বৈরাগ্য , যশ , জ্ঞান , ব‌ীর্য ও শ্রী - এই ষ‌ড়ৈশ্ব‌র্যে তু‌মি প‌রিপূর্ণ । আমি তোমার শরণাগত হলাম । হে প্রভু ! তোমার কৃপ‌ায় আ‌মি ঋণত্রয় থে‌কে মুক্ত । এইবার আ‌মি সন্ন্যাসাশ্রম গ্রহণ ক‌রে তোমার চিন্তা কর‌তে কর‌তে সমস্ত দৈন্য থে‌কে মুক্ত হ‌য়ে ভূমণ্ড‌লে বিচরণ করব । অনুম‌তি দাও । '

শ্রীভগবান বল‌লেন - ' হে মু‌নিবর ! বৈ‌দিক ও লৌ‌কিক সমস্ত রক‌মের ক‌র্মে আমার বাক্যই প্রামাণ্য । এই জগ‌তে মু‌ক্তিকামী আত্মদর্শ‌নের উপ‌যোগী তত্ত্বা‌দি জ্ঞান সম্পাদ‌নের জন্য ও তা পুনঃপ্র‌ব‌র্তিত করবার জন্যই আমার অাগমন । হে মু‌নিবর ! আ‌মি অনুম‌তি দিলাম । তু‌মি স্বেচ্ছায় প্রস্থান ক‌রো আর সমস্ত কর্মফল আমা‌তে আহু‌তি দি‌য়ে দূর্জয় মৃত্যু‌কে অ‌তিক্রম ক‌রে মোক্ষপদ লা‌ভের জন্য আমার ভজনায় নিত্যযুক্ত হও । '

শ্রীভগবান বল‌লেন - ' হে মু‌নিবর ! বৈ‌দিক ও লৌ‌কিক সমস্ত রক‌মের ক‌র্মে আমার বাক্যই প্রামাণ্য । এই জগ‌তে মু‌ক্তিকামী আত্মদর্শ‌নের উপ‌যোগী তত্ত্বা‌দি জ্ঞান সম্পাদ‌নের জন্য ও তা পুনঃপ্র‌ব‌র্তিত করবার জন্যই আমার অাগমন । হে মু‌নিবর ! আ‌মি অনুম‌তি দিলাম । তু‌মি স্বেচ্ছায় প্রস্থান ক‌রো আর সমস্ত কর্মফল আমা‌তে আহু‌তি দি‌য়ে দূর্জয় মৃত্যু‌কে অ‌তিক্রম ক‌রে মোক্ষপদ লা‌ভের জন্য আমার ভজনায় নিত্যযুক্ত হও । '

আদেশ পে‌য়ে প্রজাপ‌তি কর্দম ঋ‌ষি শ্রীভগবান‌কে প্রদ‌ক্ষিণ ক‌রে হৃষ্ট‌চি‌ত্তে বনগমন কর‌লেন । বনগম‌নের পূ‌র্বে তি‌নি তাঁর কাছে এই প্র‌তিশ্রু‌তি লাভ ক‌রে‌ছি‌লেন যে ভার্যা দেবহূ‌তি‌কেও সমস্ত কর্মবন্ধন থে‌কে নিষ্কৃ‌তি প্রদানকারী আত্মজ্ঞান তি‌নিই দে‌বেন । কা‌লে কর্দম ঋ‌ষির ব‌ু‌দ্ধি অন্তর্মুখী ও নিস্তরঙ্গ সমু‌দ্রের মতন শান্ত হ‌য়ে গেল । পরমভক্তিভা‌বের দ্বারা সর্বান্তর্যামী সর্বজ্ঞ ভগবান বাসু‌দে‌বে চিত্ত স্থির হ‌য়ে যাওয়া‌তে তি‌নি সমস্ত বন্ধন থে‌কে মুক্ত হ‌য়ে গে‌লেন । সর্বভূ‌তে নিজ আত্মা শ্রীভগবান‌কে এবং শ্রীভগবা‌নের ম‌ধ্যে সর্বভূত‌কে দর্শন ক‌রে তি‌নি ইচ্ছা‌দ্বেষর‌হিত সমদর্শী হ‌য়ে ভ‌ক্তি‌যো‌গের সাধনদ্বারা শ্রীভগবান‌কে পরমপদ লাভ কর‌লেন ।

পিতা কর্দম ঋ‌ষি সন্ন্যাস গ্রহণ করে ব‌নে চ‌লে যাওয়ার পর ভগবান ক‌পিল জননীর কল্যাণ সাধ‌নের জন্য সেই বিন্দু স‌রোবর তী‌র্থেই অবস্থান কর‌তে লাগ‌লেন । এক‌দিন তত্ত্ব‌বেত্তা ভগবান ক‌পিল কর্ম সম্পাদন ক‌রে নিজাস‌নে উপ‌বিষ্ট ছি‌লেন । তখন দেবহূ‌তি তাঁ‌কে প্রশ্ন কর‌লেন ।

' দেবহূ‌তি বল‌লেন - ' হে বিরাট ! হে প্রভু ! দুষ্ট ই‌ন্দ্রিয়বর্গ ভো‌গের আস‌ক্তি‌তে আমা‌কে অ‌স্থির ক‌রছে আর আমা‌কে ঘোর অন্ধকারময় অজ্ঞা‌নে আবদ্ধ রে‌খে‌ছে । তু‌মি সমস্ত জী‌বের প্রভু ভগবান আ‌দিপুুরুষ তথা অজ্ঞানান্ধকা‌রে অন্ধ জী‌বের কা‌ছে নেত্রস্বরূপ সূ‌র্যের মতন উ‌দিত হ‌য়েছ । এই দেহ - গে‌হের প্র‌তি ' আ‌মি , আমার ' রূপ দুরাগ্রহ তোমারই দেওয়া , তাই তু‌মিই এই মহা‌মোহ দূর ক‌রো । তু‌মি তোমার ভক্তজ‌নের সংসাররূপ বৃক্ষ ছেদ‌নের কুঠারস্বরূপ । আ‌মি তোমার শরণাগত - প্রকৃ‌তি ও পুরু‌ষের তত্ত্বজ্ঞান লা‌ভের অ‌ভিলাষী । তু‌মি শ্রেষ্ঠ ভাগবত‌বেত্তা । তোমা‌কে প্রণাম কর‌ছি । '
ভগবান ক‌পিল বল‌লেন -- ' হে মাতা ! অধ্যাত্ম‌যোগই মানু‌ষের আত্য‌ন্তিক কল্যা‌ণের মুখ্য সাধন । এই যোগ প্রাকৃত সুখ ও দুঃখ নিবারণ ক‌রে । জী‌বের চিত্তই তার বন্ধন ও মু‌ক্তির কারণ । বিষয় চিত্ত বন্ধ‌নের কারণ আর পরমাত্মায় চি‌ত্তের মুক্তি । মানব মন যখন দেহা‌দি‌তে অহংবু‌দ্ধি ও গেহা‌দি‌তে মমত্ববু‌দ্ধিজ‌নিত কাম , লোভ আ‌দি বিকার থে‌কে মুক্ত হ‌য়ে শুদ্ধ নির্মল হ‌য়ে যায় তখন সেই মন সুখ - দুঃখর‌হিত হ‌য়ে সমভাবাপন্ন অবস্থায় এসে যায় ।

তখন জীব নিজ জ্ঞান - বৈরাগ্য ও ভ‌ক্তিযুক্ত হৃদ‌য়ে আত্মা‌কে সম্পর্কর‌হিত , একমেবা‌দ্বিতীয় , ভেদর‌হিত , অখণ্ড , স্বয়ং প্রকাশ , নি‌র্লিপ্ত ও সুখ - দুঃখর‌হিত রূ‌পে দর্শন ক‌রে এবং প্রকৃ‌তি‌কে দুর্বল ম‌নে ক‌রে ।যোগী‌দের কা‌ছে ভগবৎপ্রা‌প্তি‌র জন্য সর্বাত্মা শ্রীহ‌রির প্র‌তি একান্ত ভ‌ক্তি ছাড়া অন্য কোনো কল্যাণকর পথ নেই । বি‌বেকযুক্ত ব্য‌ক্তি জান‌তে পা‌রে যে আস‌ক্তি হল জীবাত্মার দৃঢ় বন্ধনপাশ আর তা সাধুমহাত্মা‌দের দি‌কে ঘু‌রি‌য়ে দি‌লে তবে মোক্ষ দ্বার উন্মুক্ত হয় । যারা স‌হিষ্ণু , দয়াল‌ু ,জী‌বে সমভাবাপন্ন , দ্বেষর‌হিত , শান্ত , সরল ও সজ্জন‌দের প্র‌তি সম্মান প্রদর্শনকারী , অনন্য ভ‌ক্তিসম্পন্ন , ঈশ্বর লা‌ভের জন্য স্বজন ও কর্ম প‌রিত্যাগী এবং মদ্গত‌চি‌ত্তে ভগবা‌নের প‌বিত্র লীলা শ্রবণ - কীর্তন ক‌রে , তা‌দের ত্রিতাপ ব্য‌থিত কর‌তে সক্ষম হয় না ।

হে মাতা ! এই সর্বসঙ্গপ‌রিত্যাগী মহাপুরুষগণই সাধু । সাধুসঙ্গই আসক্তি জ‌নিত সমস্ত দোষ হরণ ক‌রে নেয় । '
‌দেহহূ‌তি প্রশ্ন কর‌লেন -- ' হে ভগবান ! ভ‌ক্তির স্বরূপ কী ? যে যো‌গের দ্বারা তত্ত্বজ্ঞান লাভ হয় , তার লক্ষণ কী ? সরল ক‌রে ব‌লো । '
শ্রীভগবান বল‌লেন - ' হে মাতা ! বেদ‌বি‌হিত ক‌র্মে নিরত ও বিষয়া‌দি‌র জ্ঞানপ্রকাশকারী ই‌ন্দ্রিয়া‌দির ও একাগ্র‌চি‌ত্তে পুরু‌ষের শুদ্ধসত্ত্বময় শ্রীহ‌রির প্র‌তি যে নিষ্কাম আকর্ষণ তার নামই ভগবা‌নে অ‌হৈতুকী ভ‌ক্তি । এই ভ‌ক্তি মু‌ক্তির চে‌য়েও শ‌ক্তিশালী কারণ তা কর্মসংস্কারের আধাররূপ লিঙ্গ শরীর‌কেও অবিল‌ম্বে ভস্মীভূত ক‌রে ।

ভগবানের সেবায় নিত্যযুক্ত ও তাঁর প্রসন্নতা অর্জনের জন্য কর্মানুষ্ঠানকারী এক‌নিষ্ঠ ভক্তগণ সম‌বেত লীলা সংকীর্তন কা‌লে আমার সাযুজ্য মোক্ষও কামনা ক‌রে না । এই ভক্তিই তা‌দের ব্রহ্মানন্দ লাভ ক‌রি‌য়ে থা‌কে । তারা ঐশ্বর্য কামনা ক‌রে না কিন্তু বৈকু‌ন্ঠধা‌মে গমন ক‌রে সেই সকল বিভূ‌তি স্বাভাবিকভা‌বেই লাভ করে থা‌কে । অনন্য ভক্ত‌কে আ‌মি ভবসাগর পার ক‌রি‌য়ে দি‌য়ে থা‌কি । তীব্র ভ‌ক্তি‌যো‌গের দ্বারা আমা‌তে চিত্ত সমা‌হিত কর‌াই হল এই জগ‌তে মানু‌ষের প‌ক্ষে পরম পুরুষার্থ লাভ ।
' হে মাতা ! পঞ্চ‌বিংশতি তত্ত্ব জান‌লে পুরুষ প্রকৃ‌তির গুণ অর্থাৎ অহংকারা‌দি থে‌কে মুক্ত হ‌তে পা‌রে । এই পঞ্চ‌বিংশ‌তি তত্ত্ব এইরকম ---
পুরুষ এবং পঞ্চমহাভূত ( ক্ষি‌তি , অপ , তেজ , মরুৎ , ব্যোম ) ,
পঞ্চতম্মাত্র ( গন্ধ , রস , রূপ , স্পশ , শব্দ ) ,
অন্তকরণ ( মন , বু‌দ্ধি , চিত্ত , অহংকার ) ,
পঞ্চ ক‌র্মে‌ন্দ্রিয় ( বাক্ , পা‌ণি , পাদ , পায়ু , উপস্থ ) ও
পঞ্চ জ্ঞা‌নে‌ন্দ্রিয় ( চক্ষু , কর্ণ , না‌সিকা , জিহ্বা , ত্বক্ ) । '
' পুরুষ অনা‌দি ( নিত্য ) , নির্গুণ , সর্বব্যাপী ও অনন্ত । তি‌নি হ‌লেন স্বপ্রকাশ ও চৈতন্যস্বরূপ পরমাত্মা , ত্রিগুণময়ী প্রকৃ‌তি থে‌কে সম্পূর্ণ ভিন্ন । জড় জগ‌তের প্রকাশ পুরু‌ষের শ‌ক্তিদ্বারাই হ‌য়ে থা‌কে । এই পরমাত্মারূ‌প পুরুষ সৃ‌ষ্টি‌তে স‌চেষ্ট হলে নিজ ত্রিগুণা‌ত্মিকা শ‌ক্তি যা প্রকৃ‌তি না‌মে প‌রি‌চিত তা তার সম্মু‌খে উপ‌স্থি‌ত হয় । পুরুষ তা‌কে স্বীকার কর‌লে সৃ‌ষ্টি হয় । '

" সত্ত্বগুণপ্রধান , নির্মল , শান্ত ( বাসনা‌দির‌হিত ) , ভগবৎ উপল‌ব্ধি স্থান যে চিত্ত তাই মহতত্ত্ব এবং তা‌কেই ' বাসু‌দেব ' বলা হয় । ভূত , ই‌ন্দ্রিয় ও মনরূপ অহংকার‌কেই প‌ণ্ডিতগণ সাক্ষাৎ ' সংকর্ষণ ' নামক সহস্রশীর্ষ অনন্ত‌দেব ব‌লে থা‌কেন । ম‌নের সংকল্প ও বিকল্প দ্বারাই কামনার উৎপ‌ত্তি হয় । মনস্তত্ত্বই ই‌ন্দ্রিয়গ‌ণের অধীশ্বর ' অ‌নিরুদ্ধ ' না‌মে প্রসদ্ধি । "

" শ্রীভগবান বল‌লেন -- হে মাতা ! তৈজস অহংকার বিকারপ্রাপ্ত হ‌লে তার থে‌কে ' বু‌দ্ধি ' নামক তত্ত্ব উৎপন্ন হয় । বিষ‌য়ের প্রকাশরূপ বিজ্ঞান এবং ই‌ন্দ্রিয়‌বিষ‌য়ে সহায়ক হওয়া ও পদার্থসমূ‌হের বি‌শেষ জ্ঞান উৎপাদন - এ‌ই হল বু‌দ্ধিত‌ত্ত্বের কার্য । বৃ‌ত্তি‌ভেদ অনুসা‌রে সংশয় , বিপর্যয় ( বিপরীত জ্ঞান ) , নিশ্চয় , স্মৃ‌তি এবং নিন্দ্রাও ব‌ু‌দ্ধিরই লক্ষণ । এই বু‌দ্ধিতত্ত্বই ' প্রদ্যুম্ন ' । "

তদনন্তর ক‌পিল‌দেব মাতা‌কে ম‌নের মা‌লিন্য দূর করবার জন্য‌ পরি‌মিত আহার , শ্রীভগবানের স্মরণ - মনন , ব্রহ্মচর্য , তপস্যা , অষ্টাঙ্গ যোগ সাধন ইত্যা‌দির উপ‌দেশ দি‌লেন । শ্রীভগবা‌নের যে মূ‌র্তি‌তে সাধন মন স্থির ক‌রে থা‌কে , তার বর্ণনা দি‌লেন ।

ক‌পিল‌দেবের সবিস্তা‌রে দান করা উপ‌দেশসকল মাতা দেবহূ‌তি মন দি‌য়ে শুন‌লেন । পুত্ররূ‌পে অবতীর্ণ শ্রীভগবান ক‌পিল‌দেব মাতা‌কে মুক্তিমা‌র্গের সন্ধান দি‌লেন । ধ্যান‌যোগ অবলম্বন ক‌রে শ্রীভগবানের নি‌র্দে‌শিত প‌থে সাধনা ক‌রে মাতা অ‌চি‌রেই বা‌ঞ্ছিত মু‌ক্তি লাভ ক‌রে‌ছি‌লেন ।

মহা‌যোগী ভগবান ক‌পিলদেবও মাতৃ আজ্ঞা শি‌রোধার্য ক‌রে পিতার আশ্রম থে‌কে বে‌রি‌য়ে ঈশানকো‌ণের দি‌কে চ‌লে গেলেন । সেখা‌নে স্বয়ং সমুদ্র তাঁর পূজার্চনা করেন ও তাঁকে স্থান দেন । ত্রি‌লোকে শা‌ন্তি প্রদা‌নের জন্য তি‌নি যোগযুক্ত হ‌য়ে সমা‌ধিন্থ হন ।

লেখকঃ - Joy Shree Radha Madhav
Share:

পৃথু উপাখ্যান - শেষ পর্ব

ভগবান ব্রহ্মা অতঃপর মহারাজ পৃথু‌কে বল‌লেন - ' রাজন্ ! আপ‌নি মোক্ষধর্মজ্ঞ । আপনার এই যজ্ঞানুষ্ঠা‌নের প্র‌য়োজন নেই । আপ‌নি ও ই‌ন্দ্র দুইজনই প‌বিত্রকী‌র্তি ভগবান শ্রীহ‌রির মূ‌র্তি , সুতরাং আপনার স্বরূপভূত ই‌ন্দ্রের প্র‌তি আপনার কু‌পিত হওয়া উ‌চিত নয় । তাঁর প্র‌তি বৈরীভাব প‌রিহার করুন । '
যজ্ঞ‌ভোক্তা য‌জ্ঞেশ্বর সর্বশ‌ক্তিমান ভগবান শ্রী‌বিষ্ণু মহারাজ পৃথুর উপর সন্তুষ্ট ছি‌লেন । তি‌নি তখন ইন্দ্র‌কে স‌ঙ্গে নি‌য়ে পৃথুর নিক‌টে উপ‌স্থিত হ‌লেন ।

ভগবান শ্রী‌বিষ্ণু বল‌লেন - ' রাজন্ ! এই ইন্দ্র তোমার য‌জ্ঞে বিঘ্ন উৎপাদন করে‌ছে তাই সে সন্তপ্ত । তু‌মি তাঁ‌কে ক্ষমা ক‌রে দাও । '

হে নর‌দেব ! যাঁরা সাধুপ্রকৃ‌তির ও সদ্বু‌দ্ধিসম্পন্ন নর‌লোকন তাঁরা শ্রেষ্ঠ । কো‌নো জী‌বের উপায় তাঁরা দ্রোহ পোষন ক‌রেন না । তোমার মতন ব্য‌ক্তিও য‌দি আমার দৈবী মায়ায় মো‌হিত হয় তাহ‌লে তো বল‌তে হয় যে জ্ঞানীজ‌নের দীর্ঘকাল সেবা ক‌রে তু‌মি বৃথা প‌রিশ্রম ক‌রেছ । আত্মজ্ঞানী ব্য‌ক্তি এই দেহ‌কে কেবলমাত্র অ‌বিদ্যা , বাসনা ও কর্মদ্বারা মো‌হিত জে‌নে এর প্র‌তি আসক্ত হয় না । এইভা‌বে যার দে‌হের উপরই আস‌ক্তি নেই সেই বি‌বেকযুক্ত ব্য‌ক্তি দে‌হের মাধ্য‌মে স্বীকৃত গৃহ , পুত্র অথবা ধনসম্প‌দের উপর কেমন ক‌রে আসক্ত হ‌বে ?

আত্মা এক ও অ‌দ্বিতীয় , শুদ্ধ , স্বপ্রকাশ , নির্গুণ , গুণাশ্রয় , সর্বব্যাপী , আবরণর‌হিত , সর্ব‌বিষ‌য়ে সাক্ষী , অ‌ধিষ্ঠানর‌হিত । অতএব দেখা যা‌চ্ছে যে আত্মা দেহ থে‌কে সম্পূর্ণ ভিন্ন সত্তা । যার এই জ্ঞ‌ান হ‌য়ে‌ছে , তার বিষয়াস‌ক্তি থা‌কে না ; তত্ত্বজ্ঞান লাভ ক‌রে সে তখন ব্রহ্মানন্দে প্র‌তি‌ষ্ঠিত হয় - মোক্ষ লাভ ক‌রে । '
শ্রীভগবান পৃথু‌কে আবার বল‌লেন - ' হে বীর ! তু‌মি উত্তম মধ্যম ও অধম সক‌লের প্র‌তি সমদর্শী হ‌য়ে , সুখ ও দুঃ‌খে সমভাবাপন্ন থে‌কে এবং মন ও ই‌ন্দ্রিয়বর্গ‌কে জয় ক‌রে প্রজাপালন ক‌রো , তা‌তেই তু‌মি পরম শা‌ন্তি ও পরমপদ লাভ ক‌রবে । অতএব পুণ্যাত্মা ব্রাহ্মণ‌দের অনু‌মো‌দিত এবং সনাতন ধর্ম‌কেই প্রাধান্য দি‌য়ে ও অন্য সকল বিষ‌য়ে নিরাসক্ত হ‌য়ে এই পৃ‌থিবী শাসন ক‌রো । সক‌লেই তোমার গৃ‌হে সনকা‌দি সিদ্ধগ‌ণের দর্শন লাভ কর‌বে । তোমার গুণ ও চ‌রিত্রমাহাত্ম্য আমা‌কে প্রসন্ন ক‌রে‌ছে । তু‌মি ইচ্ছা মতন বর প্রার্থনা করে নাও । '

শ্রীভগবা‌নের আ‌দে‌শে মহরাজ পৃথু ই‌ন্দ্রের উপর তাঁর অসন্তোষ ত্যাগ কর‌লেন । কৃতক‌র্মের জন্য ল‌জ্জিত ইন্দ্র তাঁর পাদস্পর্শ ক‌রে ক্ষমা চাই‌তে উদ্যত হ‌লে পৃথু তাঁ‌কে প্রী‌তিভ‌রে আ‌লিঙ্গন কর‌লেন । অতঃপর মহারাজ পৃথু বিশ্বাত্মা ভক্তবৎসল ভগবান‌কে পূ‌জোপহার নি‌বেদন ক‌রে পরম ভ‌ক্তি সহকা‌রে তাঁর চরণকমলযুগল ধারণ কর‌লেন । বদ্ধাঞ্জ‌লি আ‌দিরাজ পৃথু নয়নযুগল প্রেমাশ্রুধারায় প্লা‌বিত হওয়ায় শ্রীভগবান‌কে দর্শন কর‌তে সক্ষম হ‌চ্ছি‌লেন না , কন্ঠ কল্পরুদ্ধ হ‌ওয়ায় কিছু বল‌তেও পারছিলেন না ।
তি‌নি শ্রীভগবান‌কে আ‌লিঙ্গন ক‌রে নিজ হৃদয়ে ধারণ কর‌লেন ও সেইভা‌বেই অবস্থান কর‌তে লাগ‌লেন । অব‌শে‌ষে পৃথু নি‌জে‌কে সংযত ক‌রে অতৃপ্ত নয়‌নে শ্রীভগবান‌কে দেখ‌তে লাগ‌লেন । শ্রীভগবা‌নের পাদপদ্ম ভূ‌মি স্পর্শ ক‌রে‌ছিল আর করাগ্র গরু‌ড়ের উন্নত স্কন্ধে বিন্যস্ত ছিলেন ।

অব‌শে‌ষে পৃথু বল‌তে লাগ‌লেন - ' হে মোক্ষপ‌তি প্রভু ! আপ‌নি ব্রহ্মা আ‌দি রবদাতা দেবতাগণ‌কেও রবদা‌নে সমর্থ । বিষয়সু‌খের মতন তুচ্ছ পদার্থ আ‌মি আপনার কা‌ছে প্রার্থনা ক‌রি না । মহাপুরু‌ষগ‌ণের মুখ‌নিঃসৃত আপনার লীলাগুণগান যেখা‌নে নেই তা য‌দি মোক্ষপদও হয় ও ত‌বে তাও আ‌মি চাই না । '
তি‌নি আ‌রো বল‌লেন - ' হে অনন্তকী‌র্তি ! আপনার মঙ্গয়ময় কী‌র্তিকথা একবার যে শ্রবণ ক‌রেছে সে য‌দি নিতান্তই পশুপ্রকৃ‌তির না হয় সে সতত তাই শ্রবণ কর‌তে আগ্রহী হবে । আপ‌নি আমা‌কে অসংক্য কর্ণ তথা শ্রব‌ণন্দ্রিয় দান করুন যা‌তে প্রাণ - ভ‌রে আপনার গুণকথা শ্রবণ কর‌তে পা‌রি । কেবলমাত্র দুই‌টি কা‌নে আপনার গুণকথা শু‌নে তৃ‌প্তি পা‌চ্ছি না । এই আমার প্রার্থনা । '

এইভা‌বে মহারাজ পৃথ‌ু শ্রীভগবা‌নের স্তু‌তি কর‌তেন লাগ‌লেন । তাঁর স্তু‌তি শ্রবণ ক‌রে সর্বসাক্ষী ভগবান শ্রীহ‌রি তাঁ‌কে বল‌লেন - ' রাজন্ ! আমার প্র‌তি তোমার ভ‌ক্তি হোক । মায়ার প্রভাব ত্যাগ ক‌রে তোমার চিত্ত যে আমা‌তে এইভা‌বে অনুরক্ত হ‌য়ে‌ছে তা অত্যন্ত সৌভাগ্যের কথা । এখন তু‌মি নি‌শ্চি‌ন্তে আমার আ‌দেশ পালন করো । তোমার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল হোক । '

মহার‌াজ পৃথুর পূজার্চনা গ্রহণ ক‌রে সকল অনুগ্রহ বর্ষণ ক‌রে শ্রীভগবান প্রস্থা‌নে উদ্যত হ‌লেন । মহারাজ পৃথু সমাহত দেবতা , ঋ‌ষি , পিতৃপুরুষ , গর্ন্ধব , সিদ্ধ , চারণ , নাগ , কিন্নর , অপ্সরা , মানব , পক্ষী ও অন্যান্য বহু‌বিধ প্রাণী ও শ্রীভগবা‌নের পার্ষদগণ - সক‌ল‌কেই ভ‌ক্তিপূর্বক সম্ভাষণ ও দ‌ক্ষিণা‌দি ধনদ্বারা যুক্তক‌রে সম্মান জ্ঞাপন করলেন । ভগবান অচ্যুতও সক‌লের চিত্ত হরণ ক‌রে বৈকুন্ঠধা‌মে গমন করলেন ।

অতঃপর মহারাজ পৃথু ন্যায় ও ধর্ম প‌থে অ‌বিচল থে‌কে নিষ্কামভা‌বে প্রজ‌াপালন কর‌তে লাগ‌লেন । তাঁর কর্ম নিষ্কাম হওয়ায় কর্মফল সঞ্চ‌য়ের প্রশান আ‌দৌ ছিল না । প্রারদ্ধ ক্ষয় হওয়ায় কর্ম‌শ্রোতরূপ জন্মমৃত্যু প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে গি‌য়ে‌ছিল । তি‌নি জ্ঞান ও ভ‌ক্তির চরম সীমায় উপনীত হ‌তে সক্ষম হ‌য়ে‌ছি‌লেন । তি‌নি এক মহাযজ্ঞের আ‌য়োজন ক‌রে সকল‌কে অ‌তি সুন্দরভা‌বে নিজ কৃত্য - কর্ম সম্ব‌ন্ধে উপ‌দেশ দি‌য়ে‌ছি‌লেন । সক‌লেই মহারাজ পৃথুর প্রশংসা করেছিলেন ।

এই সম‌য়ে সূর্যসম দেদীপ্যমান মু‌নি চতুষ্ট‌য়ের আগমন হয় । মহারাজ পৃথু সসম্ভ্র‌মে দাঁড়ি‌য়ে উ‌ঠে ---
সনক , সনন্দন , সনাতন ও সনৎকুমরা‌কে পাদ্য অর্ঘ্য দি‌য়ে অভ্যর্থনা ক‌রে‌ছিলেন ।
মহারাজ পৃথু তখন সর্বজী‌বের মঙ্গ‌লের জন্য মু‌নি‌দের প্রশ্ন ক‌রেছি‌লেন ---
' কি‌সে সক‌লের মঙ্গল হ‌বে ? কেমন ক‌রে মঙ্গল হ‌বে ? '
সনৎকুমার উত্তর দি‌য়ে‌ছিলেন ---
" মঙ্গল কামনায় দেহা‌দির প্র‌তি অনাস‌ক্তি এবং পরব্রহ্মস্বরূপ আত্ম‌ার প্র‌তি প্রবল আস‌ক্তি , তীব্র অনুরাগ থাকা প্র‌য়োজন ; ঈশ্বরে অনুরা‌গ ও সংসা‌রে বিরাগ । ' আ‌মি , আমার ' ভাব , অহংভাব ত্যাগ কর‌লেই যথার্থ মঙ্গল হ‌বে ।
শ্রদ্ধা ও ভাগবত ধ‌র্মের অনুষ্ঠান , আত্মজ্ঞ‌ান লা‌ভের ইচ্ছা , আধ্যা‌ত্মিক যোগ সাধনায় নিষ্ঠা , স্মরণ - মনন ও কীর্তন দ্বারা আত্মা‌কে র‌তি ও দেহা‌দি‌তে অনা‌সক্তি হয় ।
শ্রীভগবানের উপর র‌তি ও বিষ‌য়ের বৈরাগ্য , অ‌হিংসা , নিবৃ‌ত্তি , কল্যা‌ণের জিজ্ঞাসা , লীলাকথা পা‌নে ব্যাকুলতা , সংযম , কামনাবাসনা ত্যাগ , শৌচা‌দি নিয়ম পালন , পর‌নিন্দায় অরু‌চি , স্পৃহারা‌হিত্য ও শ‌ীত - উষ্ণ আ‌দি দৈব সন্তাপ সহ্য করার কল্যাণ হ‌য়ে থা‌কে ।
শ্রীভগবা‌নের শরণাগত হ‌তে হয় । নিত্যমুক্ত , নির্মল , সত্যস্বরূপ শ্রীভগবান জ্ঞানরূ‌পে আ‌বির্ভূত হন । শরণাগত হ‌লেই তি‌নিই ভ‌ক্তের স‌কল ভার গ্রহণ ক‌রেন ।
শ্রীভগবা‌নের পাদপদ্ম স্মরণ ক‌রে সহ‌জেই অহংকার থে‌কে মু‌ক্তি লাভ করা যায় , জ্ঞান ও যোগ সা‌ধনার প‌থে মু‌ক্তি পাওয়া ক‌ঠিন তাই শরণাগত বৎসল ভগবান শ্রীবাসু‌দেবের ভজনা করা প্র‌য়োজন । "
যখন সনৎকুমার সুস্পষ্টভা‌বে বল‌লেন যে নির্গুণ নিরাকার ব্র‌হ্মের উপাসনার অর্থাৎ জ্ঞান প‌থের চে‌য়ে সগুণ সাকার উপাসনা অর্থাৎ ভ‌ক্তি‌যো‌গের পথ সহজ , তখন মহারাজ পৃথু তাই‌তেই মগ্ন হ‌য়ে গে‌লেন ।
মু‌নিগণের উপ‌দেশ দান ক‌রে আকাশপ‌থে গমন কর‌লেন । মহারাজ পৃথু নিরাসক্তভা‌বে রাজ্য শাসন কর‌তে থাক‌লেন । তি‌নি ক্ষমা গু‌ণে ছি‌লেন পৃ‌থিবীর মতন , লোক কল্যা‌ণে স্ব‌র্গের মতন আর তৃ‌প্তি বিধা‌নে ছি‌লেন মে‌ঘের মতন । তি‌নি বহুকাল রাজ্যপালন ক‌রে অবশে‌ষে বানপ্রস্থ অবলম্বন ক‌রে শ্রীভগবা‌নের আরাধনায় ব্রতী হ‌লেন । ক্র‌মে তাঁর অ‌বিদ্যা‌জনিত দেহবু‌দ্ধি দূর হ‌য়ে আত্মজ্ঞান লাভ হল আর তি‌নি পরম আকা‌ঙ্ক্ষিত শ্রীভগবা‌নের সা‌ন্নিধ্য লাভ ক‌রলেন । বানপ্র‌স্থে গমনকা‌লে তি‌নি পুত্র‌দের রাজ্যভার দি‌য়ে প্রজাপালন কার্য সম্পূর্ণ করে‌ছি‌লেন ।

মহারাজ পৃথু যেন সর্বকা‌লের অনুকরণীয় কল্যা‌ণের রাজমার্গসম ছি‌লেন । তাঁর জীব‌নে জ্ঞান ও ভ‌ক্তি দুইই পূর্ণরূ‌পে দেখা গি‌য়ে‌ছিল । তাঁ‌কে আদর্শরূ‌পে গ্রহণ ক‌রে ভবসাগর পার করা সম্ভব ।
মহ‌ামু‌নি মৈ‌ত্রেয় কর্তৃক মহাত্মা বিদুর‌কে এই মহারাজ পৃথু উপাখ্যান বর্ণিত হ‌য়ে‌ছিল । আজও ভক্তগ‌ণের প‌ক্ষে এই বৃত্তান্ত পূর্ণরূ‌পে প্রাস‌ঙ্গিক ব‌লেই প‌রি‌চিত ।
--------------------0-----------------------
লেখকঃ - Joy Shree Radha Madhav
Share:

পৃথু উপাখ্যান ---পর্ব ১

সু‌ধিয়ঃ সাধ‌বো লো‌কে নর‌দেন ন‌রোত্তমাঃ ।
নাভিদ্রুহ্য‌ন্তি ভূতে‌ভ্যো য‌র্হি নাত্মা ক‌লেবরম্ ।। ( ভাগবত ৪\২০\৩ )

মহারাজ অঙ্গ রাজত্ব ত্যাগ ক‌রে চ‌লে যাওয়ায় প্রজাগ‌ণের ম‌ধ্যে অরাজকতা দেখা দি‌য়ে‌ছিল । তখন ব্রহ্মবাদী ভৃগু প্রমুখ মু‌নি মাতা সুনীথা‌কে আহ্বান ক‌রে ও তাঁর সম্ম‌তি নি‌য়ে বেন‌কে পৃ‌থিবীর অ‌ধিপ‌তিপ‌দে অ‌ভি‌ষিক্ত ক‌রে‌ছি‌লেন । সিংহাস‌নে আ‌রোহণ ক‌রে বেন অষ্ট লোকপাল দেবতার ম‌হিমার অংশভাগীরূপে প‌রিগ‌ণিত হ‌য়ে ঔদ্ধত্য ও অহংকারের চরম সীমা অ‌তিক্রম ক‌রল এবং নিজে‌কে সর্ব‌শ্রেষ্ঠ জ্ঞান ক‌রে মহাপুরু‌ষের অপমান কর‌তে লাগল । তার নি‌র্দেশ সকল যজ্ঞ , দান বা হোম নি‌ষিদ্ধ করা হল ।

বিপদগামী রাজা বেন‌কে অ‌যোগ্য জ্ঞান ক‌রে মু‌নিগণ তার উপর অসন্তুষ্ট হ‌লেন । শ্রীভগবান বিষ্ণুর নিন্দাকারী রাজা বেন মৃত্যুমু‌খে প‌তিত হ‌লে মু‌নিগ‌ণের পরাম‌র্শে অমাত্যগণ বে‌নের দেহজাত বালক পৃথু‌কে সিংহ‌াস‌নে বসা‌লেন । মু‌নিগণ দেখ‌লেন যে বালক পৃথু ভগবান বিষ্ণুর ভুবনপালককারী কলা ও লক্ষ্মীর অবতারস্বরূপ সং‌যোগ হ‌তে উৎপন্ন । রাজা‌দের ম‌ধ্যে পৃথু অগ্রগণ্য হ‌বেন । তাঁরা দেখ‌লেন যে ভগবান শ্রীহ‌রির অংশ পৃথুরূ‌পে অবতীর্ণ হ‌য়ে‌ছেন অর্থাৎ তি‌নি অংশাবতার ।

যখন ব্রাহ্মণগণ পৃথুর স্তু‌তি কীর্ত‌নে মুখর হ‌লেন , শ্রেষ্ঠ গন্ধর্বগণ গুণগান কর‌তে লাগ‌লেন , সিদ্ধগণ পুষ্পবৃ‌ষ্টি কর‌তে লাগ‌লেন তখন পৃথু সেই অল্প বয়‌সেই সহা‌স্যে জলদ গম্ভীর স্ব‌রে বল‌লেন - ' হে সৌম্য সূত - মাগধ - বন্ধীগণ ! এখনও ইহ‌লো‌কে আমার কো‌নো গুণই প্রকা‌শিত হয়‌নি । তাহ‌লে আপনারা আমার কোন্ গুণ‌কে অবলম্বন ক‌রে স্তু‌তি কর‌ছেন ? আমার সম্প‌র্কে আপনা‌দের ব্যক্ত উ‌ক্তি না ক‌রে অন্য কা‌রো স্তু‌তি করা উ‌চিত । পুণ্যশ্লোক ভগবান শ্রীহ‌রির গুণকীর্ত‌নের ম‌তো সাধুবাদ‌যোগ্য বিষয় থাকা স‌ত্ত্বেও তুচ্ছ মানু‌ষের স্তব করা কো‌নো শিষ্ট ব্য‌ক্তির প‌ক্ষে শোভনীয় নয় । ' উদারচ‌রিত্র ব্য‌ক্তিগণ ক্ষমতাসম্পন্ন ও খ্যা‌তিমান হ‌লেও নি‌জের প্রশংসা বাক্য শ্রবণ করা লজ্জাজনক ম‌নে ক‌রে থাকেন ও তার নিন্দা ক‌রেন ।

ব্রাহ্মণগণ মহারাজ পৃথু‌কে রাজ্যে অ‌ভি‌ষিক্ত ক‌রে তাঁ‌কে প্রজা‌দের রক্ষকরূ‌পে ঘোষণা কর‌লেন । সেই সময় পৃ‌থিবী অন্নহীন হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল ; চতু‌র্দি‌কে দু‌র্ভিক্ষ দেখা দি‌য়ে‌ছিল । ক্ষ‌ুধা তৃষ্ণায় কাতর শীর্ণ দে‌হে প্রজারা তখন তা‌দের প্রভু পৃথুর কা‌ছে এ‌সে নি‌বেদন করলন - ' আমরা নি‌রন্ন ও ক্ষুধার জ্বালায় পী‌ড়িত । আপ‌নি আমা‌দের রক্ষা করুন । '

প্রজা‌দের দুর্দশার কথা মহারাজ পৃথু শুন‌লেন । অন্নাভা‌বের কারণও তি‌নি অবগত হ‌লেন । তি‌নি বুঝ‌লেন যে পৃ‌থিবী সমস্ত অন্ন ও ঔষধির বীজ অন্ত‌রে লু‌কি‌য়ে রে‌খে‌ছে । এই সিদ্ধান্তে উপনীত হ‌য়ে তি‌নি পৃ‌থিবী‌কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ধনুর্বাণ তুল‌লেন । উদ্যত অস্ত্র পৃ‌থিবী‌কে ভীত ও ক‌ম্পিত ক‌রে তুলল । পৃ‌থিবী তখন গোরূপ ধারণ ক‌রে পলায়ন কর‌তে থাক‌লে মহারাজ পৃথু তার পশ্চাদ্ধাবন কর‌লেন , পৃথুর ক্রোধ থে‌কে তাঁর রক্ষা পাওয়া কঠিন ছিল । অব‌শে‌ষে পলায়‌নে ক্লান্ত ও প‌রিশ্রান্ত হ‌য়ে পৃ‌থিবী মহাভাগ পৃথু‌কে স‌ম্বোধন করে বল‌লেন - ' হে ধর্মজ্ঞ ও শরণাগত বৎসর মহারাজ ! আপ‌নি সর্বপ্রাণীর রক্ষাকর্তা , আমা‌কেও রক্ষা করুন । আ‌মি আপনার শরণাগত । '
মহারাজ পৃথু বল‌লেন - ' হে পৃ‌থিবী ! তু‌মি আমার শাসন অ‌তিক্রম ক‌রেছ । তু‌মি দেবতারূ‌পে য‌জ্ঞের ভাগ গ্রহণ ক‌রো অথচ তার প‌রিব‌র্তে আমা‌দের অনুদান করছ না । '
মহারাজ পৃথু জান‌তে পার‌লেন যে পুরা‌কা‌লে যে সকল ( ধান্য‌াদি ) ঔষ‌ধি সৃষ্ট হ‌য়ে‌ছিল তা অসৎ দুরাচারযুক্ত ব্য‌ক্তিগণ ভোগ কর‌ছে দে‌খে পৃথিবীই য‌জ্ঞের কার‌ণে সমস্ত ঔষু‌ধি নি‌জের ম‌ধ্যে স‌ঞ্চিত রে‌খে‌ছে । দীর্ঘ সময় অ‌তিক্রান্ত হওয়ায় তা জীর্ণ হ‌য়ে পড়‌ছে ।

তা পূর্বাচার্যগ‌ণের প্রদ‌র্শিত প‌থে উদ্ধার করা সম্ভাব । পৃ‌থিবী আরও বল‌লেন - ' হে লোকপালক মহাবাহু বীব ! আপ‌নি সর্বপ্রাণীর রক্ষায় বলপ্রদায়ক খাদ্য লাভ কর‌তে ইচ্ছা কর‌লে উপযুক্ত বৎস , দোহনপাত্র ও দোহনকর্তা সংগ্রহ করুন । আ‌মি সেই বৎ‌সের প্র‌তি স্নেহবশত দুগ্ধরূ‌পে আপনার অভীষ্ট সিদ্ধ করব ।
‌' হে প্রভু ! আরও এক‌টি নি‌বেদন শুনুন । আপ‌নি আমা‌কে সমতল করুন । আ‌মি সমতল হ‌লে জলসম্পদ ধারণ কর‌তে সক্ষম হব । '

মহারাজ পৃথু পৃ‌থিবীর এই প্রিয় ও কল্যাণকর উপদেশ স্বীকার করে নি‌লেন । তি‌নি স্বায়ম্ভুব মনু‌কে বৎস ক‌রে নি‌য়ে নি‌জের হা‌তে সমস্ত ধান্যা‌দি ঔষ‌ধি ও শস্য দুগ্ধরূ‌পে দোহন ক‌রে নি‌লেন । অন্যান্য বিজ্ঞজ‌নেরাও এইভা‌বে পৃ‌থিবীর কাছ থে‌কে অভীষ্ট বস্তু দোহন ক‌রে নি‌য়ে‌ছি‌লেন । ঋ‌ষিগণ বৃহস্প‌তি‌কে বৎস ক‌রে ই‌ন্দ্রিয় ( বাক্ , মন এবং শ্রোত্র ) পা‌ত্রে দেবী বসুন্ধরার কাছ থে‌কে বেদরূপ প‌বিত্র দুগ্ধ দোহন ক‌রে নি‌য়ে‌ছি‌লেন । ক‌পিল‌দেব‌কে বৎস ক‌রে আকাশরূপ পা‌ত্রে সিদ্ধগণ অ‌ণিমা‌দি অষ্ট‌সি‌দ্ধি ও বিদ্যাধরগণ আকাশচা‌রিতা প্রভৃ‌তি বিদ্যা দোহন ক‌রে‌ছি‌লেন ।

পৃ‌থিবীর দ্বারা এইভা‌বে সর্বজ‌নের সর্বক‌ামনা পূ‌র্তি হওয়ায় মহারাজ পৃথু স্নেহার্দ্রহৃদয় এই সর্বংসহা জীবধাত্রী‌কে নিজ আদ‌রের কন্যারূ‌পে স্বীকৃ‌তি দিলেন । নিজ ধনুর প্রান্তভাগ দ্বারা বহু পর্ব‌তের ঊর্ধ্বাংশ চূর্ণ ক‌রে ভূমির বিশাল অংশ সমতলে প‌রিণত কর‌লেন । অতঃপর মহারাজ পৃথু প্রজাপা‌লনে রত হ‌লেন । এই সমতলভূ‌মির বি‌ভিন্ন স্থা‌নে প্রজা‌দের জন্য যথা‌যোগ্য বাসভূ‌মি বিভাগ ক‌রে দি‌লেন । তি‌নি গ্রাম , ছোট ও বড় নগর , বহুপ্রকা‌রের দুর্গ , ঘোষপ‌ল্লি , গো - ম‌হি‌ষের বাসস্থান , সৈন্য‌শি‌বির , খ‌নি ও তৎস‌ন্নিত বাসভূ‌মি , কৃষকপল্লি সবই সুনি‌র্দিষ্টরূ‌পে বিভাগ ক‌রে মানু‌ষের বাসস্থানের প‌রিক‌ল্পিত নির্মাণরী‌তি প্রবর্তন কর‌লেন ।

এইবার ভগবান মনুর ব্রহ্মাবর্ত ক্ষেত্র - যেখা‌নে সরস্বতী নদী পূর্বমু‌খে প্রবা‌হিতা , সেইখা‌নে মহারাজ পৃথু শত অশ্ব‌মেধ যজ্ঞের জন্য দী‌ক্ষিত হ‌লেন । দেবরাজ ই‌ন্দ্র যজ্ঞানুষ্ঠা‌নের আ‌য়োজন দে‌খে শ‌ঙ্কিত হ‌য়ে উঠ‌লেন । মহারাজ পৃথুর য‌জ্ঞে যজ্ঞাত্মা সর্ব‌লোকগুরু জগদীশ্বর ভগবান শ্রীহ‌রি য‌জ্ঞেশ্বররূ‌পে সাক্ষাৎ দর্শন দি‌য়ে‌ছিলেন । তাঁর স‌ঙ্গে ব্রহ্মা , শিব এবং নিজ নিজ অনুচরবৃন্দ সহ লোকপালগণও উপস্থিত হয়ে‌ছি‌লেন । গর্ন্ধব , মু‌নি এবং অপ্সরাগণ তখন শ্রীভগবা‌নের স্তু‌তিগাণ কর‌ছি‌লেন ।

সি‌দ্ধ , বিদ্যাধর , দৈত্য , দানব , যক্ষ , সুনন্দ - নন্দা‌দি প্রধান পার্ষদগণ এবং যাঁরা সর্বদাই শ্রীভগবানের সেবার জন্য উৎসুক ছিল ক‌পিল ও নারদ , দত্তা‌ত্রেয় এবং সনকা‌দি যো‌গেশ্বরগণ সক‌লে শ্রীহ‌রির অনুগমন ক‌রে‌ছি‌লেন । যজ্ঞ‌ধেনুরূ‌পে উপ‌স্থিত পৃ‌থিবী কাম‌ধেনুরূ‌পে যজমান মহারাজ‌কে প্র‌য়োজনীয় সমস্ত দ্রব্যই প্রদান ক‌রে‌ছি‌লেন । নদীসকল ইক্ষু - দ্রাক্ষা‌দি সর্বপ্রকার রস বহন ক‌রে এ‌নে‌ছিল এবং অ‌তি বৃহৎ মধুবর্ষী বৃক্ষসমূহ দুগ্ধ , দ‌ধি , অন্ন এবং ঘৃতা‌দি বিভিন্ন দ্রব্য প্রদান ক‌রে‌ছিল । পর্বতসকল খাদ্যদ্রব্য ও লোকপালগণ বি‌বিধ উপহার দ্রব্য প্রদান ক‌রে‌ছি‌লেন ।

মহারাজ পৃথু কেবলমাত্র ভগবান শ্রীহ‌রি‌কে নি‌জ প্রভু ব‌লে ম‌নে কর‌তেন । শ্রীহ‌রির কৃপায় তাঁর প্রভূত শ্রী‌বৃ‌দ্ধি হ‌য়ে‌ছিল যা ই‌ন্দ্রের ঈর্ষ‌ার কারণ হয় । মহারাজ পৃথু যখন অ‌ন্তিম ( শততম ) যজ্ঞ দ্বারা ভগবান য‌জ্ঞেশ্ব‌রের আরাধনা ক‌রে‌ছিলেন তখন ইন্দ্র ঈর্ষাব‌শে গুপ্তরূ‌পে তাঁর য‌জ্ঞের অশ্ব হরণ ক‌রলেন। অশ্ব‌টি‌কে নি‌য়ে পলায়‌নের সম‌য়ে ভগবান অ‌ত্রিমু‌নি তাঁ‌কে দেখ‌তে পে‌লেন । ই‌ন্দ্র তখন মস্ত‌কে জটাজুট ধারণ ক‌রে থাকায় ও অ‌ঙ্গে ভস্ম ধারণ কর‌ায় পৃথু তনয় তাঁ‌কে মূ‌র্তিমান ধর্ম ম‌নে ক‌রে বাধা দি‌লেন না । কিন্তু মহ‌র্ষি অ‌ত্রি ই‌ন্দ্র‌কে চি‌নি‌য়ে দি‌লে পৃথুকুমার আকাশপ‌থে দ্রুত‌বে‌গে ই‌ন্দ্রের পশ্চাদ্ধাব করলেন ।

ই‌ন্দ্র ভীত হ‌য়ে অন্তর্ধান কর‌লে বীর রাজপুত্র য‌জ্ঞের অশ্ব ফি‌রি‌য়ে আন‌লেন । অতঃপর রাজকুমার ' বি‌জিতাশ্ব ' রূ‌পে মু‌নিগণ কর্তৃক প‌রি‌চিত হ‌লেন । ইন্দ্রের বারবার বাধাদান মহারাজ পৃথু‌কে ক্রোধা‌ন্বিত করল । তি‌নি রুদ্রমূ‌র্তি ধারণ ক‌রলেন । ঋ‌ত্বিকগণ দেখ‌লেন যে পরাক্রমশালী মহারাজ পৃথু ই‌ন্দ্র‌কে বধ করবার জন্য প্রস্তুত হ‌চ্ছেন । তাঁরা মহারাজ পৃথু‌কে বল‌লেন যে ,যজ্ঞে দী‌ক্ষিত হওয়ার পর কেবলমাত্র শাস্ত্র‌বি‌হিত যজ্ঞপশু ভিন্ন অন্য কাউ‌কে বধ করা অনু‌চিত । তাঁরা আরও বল‌লেন যে অ‌মোঘ মন্ত্রদ্বারা আবাহন করে ই‌ন্দ্র‌কে তাঁরা বলপূর্বক অ‌গ্নি‌তে আহু‌তি দি‌য়ে দে‌বেন ।

যজমান মহারাজ পৃথু‌কে এই কথা ব‌লে তাঁর ঋ‌ত্বিকগণ স‌ক্রো‌ধে ই‌ন্দ্র‌কে আবাহন কর‌লেন । তাঁরা আহু‌তি দি‌তে উদ্যত হ‌লে স্বয়ং ব্রহ্মা আ‌বির্ভূত হ‌য়ে বল‌লেন - হে ঋ‌ত্বিকগণ ! ইন্দ্র‌কে আহু‌তি দান অনু‌চিত কার্য , কারণ ই‌ন্দ্র তো যজ্ঞ না‌মে প‌রি‌চিত ; তা বস্তুত শ্রীভগবা‌নের মূ‌র্তি । তোমা‌দের যজ্ঞদ্বারা আরা‌ধিত দেবতাগণও ই‌ন্দ্রেরই অংশ‌বি‌শেষ । তাই যজ্ঞদ্বারা ই‌ন্দ্র‌কে বিনাশ করবার চিন্তা স‌ঠিক নয় । মহারাজ পৃথু বিপুল কী‌র্তিসমূ‌হের ম‌ধ্যে এক‌টি যজ্ঞ না হয় অসম্পূর্ণই রইল তাতে কিছু এ‌সে যা‌বে না । শতযজ্ঞ সম্পাদন না হয় না হল । '
বাকীঅংশ আগামীপ‌র্বে
=========O========
লেখকঃ - Joy Shree Radha Madhav
Share:

১৬ জুন ২০১৬

বিষ্ণুর মোহিনী অবতার

অনেক যুগ আগের কথা সারা সৃষ্টিতে 'ওঁ নমঃ শিবায়' এই সুমধুর ধ্বনি ধ্বনিত হচ্ছে। দেবর্ষিনারদ ব্যাকুল হয়ে পরমপিতা ব্রক্ষার কাছে গেলেন। ব্রক্ষা বললেন ভষ্মাসুর নামক এক দানব শিবের এই আরধনা করছে। এই মধুর 'ওঁ নমঃ শিবায়' ধ্বনি তার মুখ থেকে নিঃসৃত হচ্ছে। নারদ বলল কি সুমধুর মন্ত্র তন মন পবিত্র করে দেয় এই ধ্বনি। ব্রহ্মা বললেন এই ধ্বনি বেশিক্ষন উচ্চারিত হলে সৃষ্টির বিনাশ হয়ে যাবে। দেবেশ্বর শিবশংকরকে দ্রুত কিছু করতে হবে। নারদ কিছুই বুঝল না ব্রক্ষার কথার অর্থ। তিনি প্রশ্ন করতে যাবেন ঠিক সেই সময় ব্রক্ষা চোখ বন্ধ করে ধ্যান মগ্ন হয়ে গেলেন। নারদ বিষন্ন মনে ব্রক্ষলোক থেকে পৃথিবী লোকের দিকে রওনা দিলেন। এদিকে ভষ্মাসুরের তপস্যার সাথে সাথে তার তপস্যার তেজ ও শক্তি বেড়ে চলছিল। সমগ্র পৃথিবীতে হাহাকার শুরু হয়ে গেল। তখন শিবশংকর কৈলাস থেকে অদৃশ্য হয়ে ভষ্মাসুরের কাছে এলেন এবং তাকে বর চাইতে বললেন। ভষ্মাসুর বর চাইলেন যার মাথায় ভষ্মাসুর হাত রাখবেন সেই ভষ্ম হয়ে যাবে। শিব তথাস্তু বললেন। বর পেয়ে অসুরের মাথায় কুবুদ্ধি এল। ভষ্মাসুর শিবকে বলল বর দিলেন যে এটা সত্য না মিথ্যা তার প্রমান কি। শিব বলল প্রয়োগ করে দেখ। তখন ভষ্মাসুর বলল সামনে তো আপনি ছাড়া আর কেউ নেই তবে আপনার উপরেই প্রয়োগ করে দেখি। শিব এই কথা শুনে দৌড় দিলেন। কারন শিবের মাথায় হাত দিলে শিব যদি ভষ্ম হয় তবে সংহার কাজ থেমে যাবে। আর যদি ভষ্ম না হয় তবে বর মিথ্যা হয়ে যাবে। শিব পৃথিবী আকাশ সব স্থানেই দৌড়ে বেড়ালেন কিন্তু ভষ্মাসুর পিছনে পিছনে আসছে। শিব চাইলেই ভষ্মাসুরকে বধ করতে পারে কিন্তু নিজের ভক্তকে নিজে মারা অশোভনীয়। তাই তিনি বধ ও করতে পারছেন না কি করবে ভেবে না পেয়ে দীনবন্ধু করুনাসিন্ধু শ্রী নারায়নকে আহ্বান করলেন। আহ্বানের সাথে সাথে শ্রী হরি প্রকট হলেন। শ্রী নারায়ন শিবকে গাছের আড়ালে যেতে বলে নিজে মোহিনী অবতার ধারন করলন। এরপর ভষ্মাসুর শিবের খোজ করতে করতে সেখানে এলেন এবং নৃত্যরত মোহিনীকে দেখলেন। মোহিনী রুপ ধারী নারায়নের নৃত্য দেখে সমগ্র সৃষ্টিতে নৃত্যপূর্ন ভাব বিরাজ করছিল। ভষ্মাসুরও মোহিনীর সাথে নৃত্য শুরু করে দিল। এরপর ভষ্মাসুর নৃত্যর মাঝে এমন মোহিত হয়ে গেল যে কখন নৃত্যর তালে মোহিনীর দেখাদেখি মাথায় হাত রাখল নিজেই বুঝতে পারল না। মাথায় হাত রাখার সাথে সাথে ভষ্মাসুর ছাই হয়ে গেল। এরপর মোহিনী থেকে নারায়ন রুপে ফিরে আসলেন। তখন শিব নারায়নের স্তব করে নারায়নকে খুশি করলেন এবং দেবেশ্বর শিবশংকর কৈলাসে এবং জগদীশ্বর বিষ্ণু বৈকুন্ঠে প্রস্থান করলেন।
এই ঘটনা বলার একটাই উদ্দেশ্য অনেকে জানেন যে সাগরমন্থনের সময় বিষ্ণু মোহিনী অবতার নেয়। এবার জানলেন যে ঐ সাগর মন্থন ছাড়াও বিষ্ণু মোহিনী অবতার নেয়। এছাড়াও আরও কিছু ঘটনা আছে বিষ্ণুর মোহিনী অবতার নেওয়ার --যার সবই জগতের এবং দেবতাদের কল্যানে।
এখন সবাই বলুন জয় শিবশংকর...... জয় জয় নারায়ন

courtesy by : Prithwish Ghosh


Share:

ব্রহ্ম বৈবর্তপুরাণে দেবীর লক্ষ্মী পরিচয়

ব্রহ্ম বৈবর্তপুরাণে দেবী লক্ষ্মী নিজ পরিচয় দিয়ে বলেছেন --- “যে সকল গৃহে গুরু, ঈশ্বর, পিতামাতা, আত্মীয়, অতিথি, পিতৃলোক রুষ্ট হন, সে সকল গৃহে আমি কদাপি প্রবেশ করি না। আমি সে সকল গৃহে যেতে ঘৃনা বোধ করি, যে সকল ব্যাক্তি স্বভাবতঃ মিথ্যাবাদী, সর্বদা কেবল ‘নাই’, ‘নাই’ করে, যারা দুর্বলচেতা এবং দুঃশীল। যারা সত্য হীন, মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে, বিশ্বাসঘাতক, কৃতঘ্ন, যে সকল ব্যাক্তি সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, ভয়গ্রস্ত, শত্রু গ্রস্ত, ঋণ গ্রস্ত, অতি কৃপণ, দীক্ষা হীন, শোকার্ত, মন্দঘ্নী, স্ত্রী বশীভূত, কুলটার পতি, দুর্বাক, কলহ পরায়ণ, যারা ভগবানের পূজো ও তাঁর নাম গুন কীর্তনে বিমুখ, যারা শয়নের পূর্বে পাদপ্রক্ষালন করে না, নগ্ন হয়ে শয়ন করে, বেশী ঘুমায়, প্রভাতে সন্ধ্যায় দিবসে নিদ্রা যায়, যাদের দন্ত অপরিচ্ছন্ন, বসন মলিন, মস্তক রুক্ষ, হাস্য বিকৃত, তাদের গৃহে আমি কদাপি গমন করি না।
আমি সে সকল গৃহে বসতি করি, যে সকল গৃহ শ্বেত পারাবত অধুষ্যিত, যেখানে গৃহিণী উজ্জ্বল সুশ্রী, যেখানে কলহ নাই, ধান্য সকল সুবর্ণ সদৃশ, তণ্ডুল রজতোপম এবং অন্ন তুষহীন। যে গৃহস্থ পরিজনের মধ্যে ধন ভোগ্য বস্তুর সমান বিভাগ পূর্বক বিতরণ করেন, যিনি মিষ্টভাষী, বৃদ্ধপোসেবী, প্রিয়দর্শন, স্বল্পভাষী, অ-দীর্ঘসূত্রী, ধার্মিক, জিতেন্দ্রিয়, বিদ্যাবিনয়ী, অ-গর্বিত, জনানুরাগী, পরপীড়ন বিমুখ, যিনি ধীরে স্নান করেন, চয়িত পুস্প আঘ্রাণ করেন না, সংযত এমন ব্যাক্তি আমার কৃপা পেয়ে থাকেন। শুধু অর্থ নয়, উন্নত চরিত্রও মানুষের অমূল্য সম্পদ।'

Courtesy by: Prithwish Ghosh
Share:

১৬ মে ২০১৫

সৃষ্টির প্রথম শ্লোক

রত্নাকর ডাকাত বাল্মিকী মুনি হবার পর ব্রহ্মা তাঁকে রামায়ন রচনা করতে বলেছিলেন। কিন্তু বাল্মিকী মুনি ছন্দ , অলঙ্কার, উপমা আদি ব্যাকারণ জানতেন না। তিনি চিন্তায় পড়লেন। কোন একদিন মুনিবর বাল্মীকি শিষ্য ভরদ্বাজকে সাথে নিয়ে তমসা-তীর্থে স্নান করতে যাত্রা পথে প্রকৃতির অপরূপ নৈসর্গিক শোভা সন্দর্শনে বিমুগ্ধ হয়ে ইতস্ততঃ বিচরণ করছেন। এক ব্যাধ বাল্মীকির সম্মুখেই এক পুরুষ ক্রৌঞ্চ (বক) যুগলকে তীরবিদ্ধ করেন।সন্ধ্যা কালে তিনি ঐ যুগল বককে হত্যা করতে দেখে ক্রুদ্ধ বাল্মীকির মুখ থেকে অভিশাপ বাণীর আকারে উচ্চারিত হয় । পরে তিনি অভিশাপের শ্লোক বিশ্লেষন করে দেখেন সেটায় ছন্দ, অলঙ্কার আছে । এরপর তিনি রামায়ন মহাকাব্য রচনা শুরু করেন । বাল্মীকির বাণীর আকারে উচ্চারিত হয় সৃষ্টির প্রথম শ্লোক:

মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতী সমঃ।
যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনদেকমবধী কামমোহিতম।।
- হে ব্যাধ, তুমি যে কামমোহিত ক্রৌঞ্চমিথুনকে বধ করলে, তার ফলস্বরূপ জীবনে কখনও শান্তি পাবে না। এটিই সৃষ্টির আদি কবিতা। সেজন্য বাল্মীকি ‘আদি-কবি’ নামে খ্যাত হন। আর শোক থেকে উত্থিত এই কবিতার নাম দিলেন শ্লোক ।
___________________
অকারনে যত্রতত্র ঝোপে ঝাড়ে আগুন জ্বলানো উচিত নয়। তাতে কোন প্রাণী কি অবস্থায় আছে তা আমরা জানতেও পারি না, অথচ তারা পালাতে না পেরে পুড়ে মারা যায়। কি জানি ওই আদি কবির আদি অভিশাপ না তোমার আমার উপর পড়ে। আমি জানতাম না বা আমার কোন দোষ নেই বললে মনুষ্যনির্মিত বিচারালয়ে ছাড় পেতে পার, কিন্তু প্রকৃতির বিচারালয়ে কোন ছাড় নেই। সাপের লেজে পা দিলে, যে ধাক্কা মেরেছে তাকে সাপে কামড় দেয় না, কামড়াই যে পা দিয়েছে তাকেই ।।

- ভবেশ চন্দ্র ঘোষ ( Naks উবাচ )
Share:

২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

দখযজ্ঞ বিনাশের কারন হয়েছিলেন স্বয়ং মহামায়া


দক্ষযজ্ঞে ভগবান শিবকে নিমন্ত্রণ জানানো হয় নি। শিবহীন যজ্ঞ ছিলো অসম্পূর্ণ ও অশাস্ত্রীয় । যা অশাস্ত্রীয় তাই আসুরিক প্রবৃত্তি । এই আসুরিক প্রবৃত্তিকে বিনাশের জন্যই দেবী সেখানে গিয়েছিলেন। স্বামী নিন্দা সহ্য করতে না পেরে দেহ ত্যাগ করেন । এরপর ভগবান শিবের অনুচর গণ সেই যজ্ঞ ধ্বংস করেন। বীরভদ্র এসে দক্ষের মুণ্ড চ্ছেদন করে। সেই দেবী হলেন "দক্ষযজ্ঞবিনাশিনী" স্বরূপা । তাই দেবীর মন্ত্রে "দক্ষযজ্ঞবিনাশন্যৈই" উচ্চারন করা হয় । আবার সেই দেবী রাবণের কাল হয়ে লঙ্কায় পদার্পণ করেছিলেন । মা সীতা দেবী ছিলেন সাক্ষাৎ মহালক্ষ্মী । তারপর ভগবান রাম ও বানর সেনা লঙ্কার বিনাশ করেন। মা নিজেই রাবণের কাল হয়ে লঙ্কায় গেছিলেন। রাবন দ্বারা চুরি মায়ের ইচ্ছাতেই সম্ভব। নচেৎ ভগবতীকে অপহরণ করার শক্তি ত্রিলোকের কারোর নেই । চণ্ডমুণ্ড নামক দুই দানবের বধ করতে তিনি চামুণ্ডা রূপে বিক্রাল মূর্তি ধরে দানব সেনাদের ছিন্নভিন্ন করে ভক্ষণ করেন। অন্তিমে চণ্ডমুণ্ডর মুণ্ডচ্ছেদন করেন । সেই মহাশক্তি কৌষিকী রূপে শুম্ভ নিশুম্ভ নামক দুই অসুরের বিনাশ করেন । আবার দেখা যায় সৃষ্টির পূর্ব লগ্নে মধু ও কৈটভ দ্বারা প্রজাপতি ব্রহ্মা আক্রান্ত হয়ে ভগবতীর স্তব করলে এই মহাশক্তি বিষ্ণুমায়া রূপে প্রকট হয়ে মধু ও কৈটভ কে মায়া দ্বারা বিমোহিত করে ফেলেন। এরপর ভগবান বিষ্ণু দুই দানব মধু ও কৈটভ কে বধ করেন। এখানে মধু কৈটভ ধ্বংসের মূল কারন ছিলেন আদিশক্তি। সেই আদিশক্তি যুগে যুগে অবতীর্ণা হন।
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।