• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

বেদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বেদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৩ ডিসেম্বর ২০১৬

যোগযুক্ত অবস্থায় মানুষ কি ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান সম্পর্কে বলতে পারে?

প্রশ্নঃ যোগযুক্ত অবস্থায় মানুষ কি ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান সম্পর্কে বলতে পারে?
বেদ, উপনিষদ ও গীতা কি বলে?
উত্তরঃ হ্যা। দেখুন...........
যেনেদং ভূতং ভুবনং ভবিষ্যৎ পরিগৃহীতমমৃতেন সর্বম্।
যেন যজ্ঞস্তায়তে সপ্তহোতা তন্মে মনঃ শিবসঙ্কল্পমতু।।
যজুর্বেদ ৩৪/৪
অনুবাদঃ
হে জগদীশ্বর! যদ দ্বারা যোগীগণ ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান কার্য জানিতে পারে, যাহা অবিনাশী জীবাত্মাকে পরমাত্মার সহিত মিলিত করিয়া সর্বপ্রকারের ত্রিকালজ্ঞ করে, যাহাতে জ্ঞান ও ক্রিয়া আছে। যাহা পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রীয়, বুদ্ধি ও আত্মার সহিত সংযুক্ত এবং যাদ্বারা যোগীগণ যোগরূপে যজ্ঞের বৃদ্ধি সাধন করেন আমার মন সেই যোগ বিজ্ঞান সম্পন্ন হইয়া অবিদ্যা ক্লেশ হতে দূরে থাকুক।
অঙ্গুষ্ঠমাত্রঃ পুরুষো জ্যোতিরিবাধূমকঃ।
ঈশানো ভূতভব্যস্য স এবাদ্য স উ শ্বঃ। এতদ্বৈ তৎ।।
কঠ উপনিষদ ২/১/১৩
অনুবাদঃ
পূর্বোক্ত অঙ্গুষ্ঠ-পরিমান পুরুষ নির্ধূম জ্যোতির ন্যায় যোগিদের হৃদয়ে প্রকাশমান হন। ইনি ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান এই তিন কালের নিয়ন্তা। ইনি আজও আছেন, কালও অর্থাৎ সর্বকালে থাকিবেন। ইনিই সেই আত্মা।
পৃথ্ব্যপতেজোহনিলখে সমুত্থিতে পঞ্চাত্মকে যোগগুণে প্রবৃত্তে।
ন তস্য রোগো ন জরা ন মৃত্যুঃ প্রাপ্তস্য যোগাগ্নিময়ং শরীরম্।।
শ্বেতাশ্বেতর উপনিষদ ২/১২
অনুবাদঃ
পৃথিবী, জল, তেজ, বায়ু ও আকাশ - এই পঞ্চভূত সমত্থিত হইলে অর্থাৎ ধ্যানবলে নিজ নিজ কারণে বিলীন হইলে এবং উহাদের গুণসমূহ গন্ধ, রস, রূপ, স্পর্শ ও শব্দ যখন যোগীর নিকট প্রকাশিত হয়, তখন সেই যোগী যোগাগ্নি-পূত বিমল দেহ লাভ করিয়া রোগ, জরা ও মৃত্যু জয় করেন অর্থাৎ তিনি ইচ্ছামৃত্যু হন।
বাহ্যস্পর্শেষ্বসক্তাত্মা বিন্দত্যাত্মনি যৎ সুখম্।
স ব্রহ্মযোগযুক্তাত্মা সুখমক্ষয়মশ্নতে।।
গীতা ৫/২১
অনুবাদঃ
সেই প্রকার ব্রহ্মবিৎ পুরুষ কোন রকম জড় ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের প্রতি আকৃষ্ট হন না, তিনি চিদ্গত সুখ লাভ করেন। ব্রহ্মে যোগযুক্ত হয়ে তিনি অক্ষয় সুখ ভোগ করেন।
যোহন্তঃসুখোহন্তরারামস্তথান্তর্জ্যোতিরেব যঃ।
স যোগী ব্রহ্মনির্বাণং ব্রহ্মভূতোহধিগচ্ছতি।।
গীতা ৫/২৪
অনুবাদঃ
যিনি আত্মাতেই সুখ অনুভব করেন, যিনি আত্মাতেই ক্রীড়াযুক্ত এবং আত্মাই যার লক্ষ্য, তিনিই যোগী। তিনি বুহ্মে অবস্থিত হয়ে ব্রহ্মনির্বাণ লাভ করেন।
ও গীতার ৬/১৮,২৯, ৩১,৪৩, ৪৫, ৪৬ দেখুন
এই বেদ, উপনিষদ ও গীতা অনুযায়ি রাম, কৃষ্ণ কেউ ঈশ্বর না তারা এক একজন যোগী পুরুষ।
(SunVeer সূর্যবীর)
Share:

০৩ মে ২০১৬

বেদ ও গণিতের সংখ্যার ক্রমঘাত

সংখ্যার ক্রমঘাতের আদিতম উৎস বেদ । শ্রী শঙ্করাচার্য তার যর্জুবেদে ১৭ নং অধ্যায়ের দুই নং কণ্ডিকায় উল্লেখ করেছেন।
“চ দশ চ দশ শতং চ শতং চ সহস্রং চ সহস্রং অযুতং অযুতং চ নিযুতং চ
নিযুতং চ প্রযুতং চার্ব্বুদং চ ন্যর্ব্বুদং চ সমুদ্রশ্চ মধ্যং চান্তশ্চ পরার্দ্ধশ্চৈতা মে”
অর্থ্যাৎ
০-১০ = ১০^১
১০-১০০ = ১০^২
১০০-১০০০ = ১০^৩
১০০০-১০০০০ = ১০^৪
১০০০০-১০০০০০ = ১০^৫
১০০০০০-১০০০০০০ = ১০^৬
১০০০০০০-১০০০০০০০ = ১০^৭ .............. ১০^১৫
অর্থ্যাৎ
এক থেকে দশ(১০^১)
দশ থেকে শত(১০^২)
শত থেকে সহস্র(১০^৩)
সহস্র থেকে অযুত(১০^৪)
অযুত থেকে নিযুত 1Lac(১০^৫)
নিযুত থেকে প্রযুত 1mil(১০^৬)
প্রযুত থেকে অর্বুদ(১০^৭)
অর্বুদ থেকে ন্যর্বুদ 1bil (১০^৮)
ন্যর্বুদ থেকে খর্ব (১০^৯)
খর্ব থেকে নিখর্ব(১০^১০)
নিখর্ব থেকে মহাপদ্ম 1trillion(১০^১১)
মহাপদ্ম থেকে শঙ্কু (১০^১২)
শঙ্কু থেকে সমুদ্র (১০^১৩)
সমুদ্র থেকে মধ্যম 1 quadrillion (১০^১৪)
মধ্যম থেকে অন্ত 100 quadrillion (১০^১৫)

এই মন্ত্রটিই গণিতের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সংখ্যার ক্রমঘাত পদ্ধতিতে গণনার সূচনা করে।



Writer & Editor - Samir Kumar Mondal
Share:

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

হিন্দু ধর্মশাস্ত্র


আমরা সবাই হিন্দু হয়েও মাঝেমধ্যেই শাস্ত্র নিয়ে একে অপরের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পরি, একদল বলে শাস্ত্রে অমুক লেখা আছে, আরেকদল অন্য শাস্ত্রের মাধ্যমেই অমুক শাস্ত্রবচন খণ্ডন করে। এই ব্যাপারটা কিছুটা বিভ্রান্তিকর, কোনকোন শাস্ত্র মানবো আর কোনপ্রকার মানবোনা, এইনিয়ে বির্তক থেকেই যায়।
আসলে হাজার হাজার বছর ধরে হিন্দুধর্মের পথ চলা।এই সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে অসংখ্য ঋষিরা তাদের ধর্মপিপাষার থেকে ঈশ্বর সম্পর্কিয় যে উপলব্ধি গ্রন্থের আকারে লিপিবদ্ধ করে গেছেন সেগুলিই আমাদের ধর্মীয় শাস্ত্র।তাদের মধ্যে অনেকেই ঈশ্বর উপলব্ধির নূতন নূতন পথ দেখিয়ে গেছে।হিন্দুশাস্ত্রের গ্রন্থ অনেক ও বিচিত্র।বিভিন্ন স্তরের মানুষেকে বিভিন্নভাবে ধর্মের শিক্ষা দিতে হয় বলে হিন্দুদের শাস্ত্র গ্রন্থের সংখ্যা বেড়েগেছে।তবে সবার আগে মনে রাখতে হবে এই বিভিন্ন হিন্দুশাস্ত্রের মূল হলো বেদ।
হিন্দু শাস্ত্রগ্রন্থ গুলি নিয়ে সামান্য আলোচনা করা যাক।
‪#‎বেদ‬:- হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ।ঋষিদের সাক্ষাৎ উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত বলে বেদের অপর নাম শ্রুতি, সব হিন্দুশাস্ত্রের প্রমাণ নির্ভর করে এই শ্রুতির উপর। পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থের অপেক্ষায় বেদ প্রাচীন। সংস্কৃতে "বিদ্" ধতুর অর্থ জানা।এই ধাতু থেকে নিষ্পন্ন বলে বেদ শব্দের মূল অর্থ জ্ঞান।
বেদ চারখানি ঋক্‌, সাম,যজুঃ ও অথর্ব বেদ।আবার প্রত্যেক বেদের দুটি ভাগ সংহিতা ও ব্রাহ্মণ।সংহিতা ভাগে আছে মন্ত্র বা স্তোত্র, এবং ব্রাহ্মণভাগে আছে তাদের অর্থ ও ব্যবহারের নির্দেশ।
বৈদিকযুগে প্রতিমাপূজা ছিল না।মন্ত্র দ্বারা অগ্নিতে আহুতি দেওয়াই ছিল সেযুগের ঈশ্বর আরাধনার রীতি।এই বৈদিক কর্মকে যজ্ঞ বলা হয়।বেদের ব্রহ্মণভাগে অনেক ধরনের যজ্ঞের কথা উল্লেখ আছে।সংহিতাভাগের মন্ত্রগুলি এই সমস্ত যজ্ঞের সময় পাঠ করা হয়।কোন যজ্ঞে কখন কিভাবে কোন মন্ত্র উচ্চারণ করা দরকার তা ব্রহ্মণ থেকে জানা যায়।
‪#‎উপনিষদঃ‬-
বেদের কিছু অংশের নাম উপনিষদ।বেদের শেষের দিকে আছে বলে অথবা বেদের সারাংশ বলে এর অপর নাম বেদান্ত।
বেদের যে অংশে যাজ্ঞযজ্ঞের কথা উল্লেখ আছে তাকে কর্মকাণ্ড বলে।উপনিষদ অংশের মুখ্য আলোচ্য বিষয় পারমার্থিক জ্ঞান(ব্রহ্মজ্ঞান)। তাই উপনিষদ গুলিকে জ্ঞানকাণ্ড বলা হয়।
ব্রহ্ম কোথায় এবং কিভাবে আছেন,মানুষ ও জগতের সঙ্গে তাঁর সম্বন্ধ কি, তাঁকে জানবার উপায় কি এবং প্রয়োজন বা কি এসমস্ত কথা উপনিষদ থেকে জানা যায়।
উপনিষদ অনেক।প্রত্যেকটি বেদেই কতগুলি উপনিষদ আছে।এদের মধ্যে ১১টি উল্লেখযোগ্য--- ঈশ,কেন,কঠ,প্রশ্ন,মুণ্ডক,মাণ্ডূক্য,ঐতরেয়,তৈত্তিরীয়,ছান্দোগ্য,বৃহদারণ্যক ও শ্বেতাশ্বতর।
‪#‎স্মৃতিঃ‬-
হিন্দুরা কিভাবে জীবন যাপন করবে তার নির্দেশ মনু, যাজ্ঞবল্ক্যরা গ্রন্থ রচনা করে গেছেন,হিন্দুদের পারিবারিক জীবনে কি কি অনুষ্ঠান করা উচিৎ এইসব এই গ্রন্থে লেখা আছে।
বর্ণ অনুযায়ী হিন্দুদের কি কাজ করা উচিৎ, কি কাজ করা উচিৎ নয়, তার উল্লেখ আছে।স্মৃতিগুলি সম্পূর্ণ ভাবেই শ্রুতিমূলক।তবে সামাজিক পরিবর্তনের অনুযায়ী বিধিনিষেধ ব্যবস্থাগুলি পরিবর্তন হয়েছে এবং যুগের পরিবর্তনের সঙ্গেও নতুন নতুন স্মৃতি রচনা হয়েছে।যেমন একসময় বঙ্গদেশের হিন্দুসমাজ রঘুনন্দনের স্মৃতির দ্বারা প্রভাবিত ছিল।বর্তমানে আমাদের সমাজ স্মৃতির সমাজ থেকে বহুদূরে।
‪#‎দর্শনঃ‬-
বেদবাক্যের উপর নির্ভর করে ঈশ্বর তত্ত্ব নিয়ে ৬টি স্বতন্ত্র মতবাদের সৃষ্টি। একসঙ্গে এদের ষড়দর্শন বলে।জৈমিনি,ব্যাস,কপিল,পতজ্ঞলি,গৌতম ও ক্ণাদ, এদের রচিত দর্শন গুলি যথাক্রমে পূর্বমীমাংসা,উত্তরমীমাংসা,সাংখ্য,যোগ,ন্যায় ও বৈশেষিক।
পূর্বমীমাংসায় বেদের কর্মকাণ্ড এবং উত্তরমীমাংসায় জ্ঞানকাণ্ড নিয়ে আলোচনা আছে।ব্যাসদেবের রচিত দর্শনকে বেদান্তদর্শন বা ব্রহ্মসূত্র বলা হয়।
‪#‎পুরাণ‬
দর্শনগুলি খুব কঠিন। এইগুলি কেবল পণ্ডিতদের পাঠ্য আমাদের মত সাধারণের কাছে কঠিন। জনসাধারণের জন্য হিন্দুঋষিরা পুরাণ নামে এক শ্রেণীর শাস্ত্র রচনা করেন।সরল ও মনোরম ধর্ম শিক্ষা।নানারকম গল্প ও রূপের মাধ্যমে হিন্দুদের প্রাচীন ইতিহাসের আভাস এর থেকে পাওয়া যায়।পুরাণ আঠারখানা তাছাড়া উপ-পুরাণও আছে।
‪#‎রামায়ণ‬ ও মহাভারতঃ-
পুরাণের মত হিন্দুদের সহজ জনপ্রিয় দুটি অতিপ্রয়োজনীয় শাস্ত্র রামায়ণ ও মহাভারত।বাল্মীকি ও ব্যাসদেব যথাক্রমে এই দুইখানি মহাকাব্যের রচয়িতা।এদের ইতিহাসের পর্যায়ে ফেলা হয়।
‪#‎গীতাঃ‬-
মহাভারতের একটি অংশের নাম গীতা।যুদ্ধের প্রক্কালে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বীরশ্রেষ্ঠ অর্জুন কে যে তত্ত্ব উপদেশ প্রদান করেন সেই অংশটি শ্রীমদ্ভগবদগীতা নামে প্রসিদ্ধ। উপনিষদ যেমন বেদের সার, গীতাকেও তেমন উপনিষদের সার বলা যায়।হিন্দু শাস্ত্রগুলির মধ্যে গীতাই সর্বপেক্ষা জনপ্রিয়।
প্রস্থানত্রয়ঃ-
উপনিষদ,বেদান্তদর্শন ও গীতাকে একসঙ্গে প্রস্থানত্রয় বলে।প্রস্থানত্রয় হিন্দুদের প্রধান শাস্ত্র বলে গণ্য।প্রস্থানত্রয়কে কেন্দ্র করে হিন্দুধর্মের প্রধান সম্প্রদায় গুলির মতবাদ গড়ে উঠেছে।সম্প্রদায়ের প্রবর্তক আচার্যরা এর উপর নানান ব্যাখা দিয়েছেন - দ্বৈত,অদ্বৈত,বিশিষ্টাদ্বৈত এইসকল।
তন্ত্রঃ-
ঈশ্বর কে আদ্যাশক্তিরূপে চিন্তা করে তন্ত্র ধারনা তৈরি।তন্ত্রগু

লি সাধারণত শিব ও পার্বতীর নানান কথোপকথন আকারে রচিত।কিছুর প্রশ্নকর্ত্রী পার্বতী এবং উত্তরদাতা মহাদেব, এবং অন্যগুলির প্রশ্নকর্তা শিব এবং উত্তরদাত্রী পার্বতী।প্রথমগুলিকে আগম বলে এবং শেষের গুলিকে নিগম। ৬৪ তন্ত্র আছে, এর মধ্যে --- মহানির্বাণ,কুলার্ণব,কুলসার,প্রপঞ্চসার,তন্ত্ররাজ,রুদ্রযামল,ব্রহ্মযামল,বিষ্ণুযামল অন্যতম।
‪#‎পঞ্চরাত্র‬ সংহিতা ও শৈব আগমঃ-
বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রসংহিতা ও শৈবদের শৈবাগম তন্ত্রজাতীয় শাস্ত্র।এই শাস্ত্রগুলির দাবি এই যে, বেদ অপেক্ষা পঞ্চরাত্র সংহিতা ও শৈব আগম এই যুগে(কলিযুগের) বেশী উপযোগী। আগে শাস্ত্রেগুলির মত এরা বেদমূলক নয়,তবে বেদের সঙ্গে স্পষ্ট কোন বিরোধ নেই(তবে ফেসবুকে এর পালনকারিরা বেদ বিরোধী প্রচার করেন)
প্রায় ২১৫ খানা আলাদা আলাদা পঞ্চরাত্রসংহিতা গ্রন্থের কথা শোনা যায়, --- ঈশ্বর, পৌষ্কর,পরম, সাত্বত, বৃহৎব্রহ্ম ও জ্ঞানামৃতসারসংহিতা(প্রথমখানি যামুনাচার্য,পরের তিনখানি শ্রীরামানুজাচার্য উল্লেখ করে গেছেন, শেষটি নারদপঞ্চরাত নামে পরিচিত)।
২৮ টি শৈব আগমের কথা জানা যায়,তবে বর্তমানে ২০টির কিছুকিছু অংশ পাওয়া যায় মাত্র।
শ্রীশংকরাচার্যের অদ্বৈতবাদের প্রভাবে এরা অনেকাংশ বৈদান্তিক মতে ফিরে এসেছেন।
(হিন্দুধর্ম থেকে)
Courtesy: Sumit Bhattacharya
Share:

০৮ ডিসেম্বর ২০১৫

কোন মানুষ বেদকে অস্বীকার করতে পারে কিন্তু বৈদিক কর্মের বাইরে কেউই নয়

পৃথিবীর অসংখ্য ধর্মের মধ্যে হিন্দু একটি প্রাচীনতম ধর্ম। প্রাচীনকালে এর নাম ছিল আর্য ধর্ম। কারণ ইরান থেকে আগত সেমেটিক শাখার আর্য গোত্ররা এ ধর্মের বাহক ছিল।এরা আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় পাঁচ হাজার অব্দে উপমহাদেশে আগমন করে আদি অধিবাসী তথাকথিক অনার্যদেরকে বিতাড়িত করে সপ্তসিন্ধু বিধৌত পঞ্জাব ও সিন্ধু অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। এ জন্য কালক্রমে তাদেরই উচ্চারণে 'সিন্ধু' শব্দের অপভ্রংশ 'হিন্দু' জতি নামে ইতিহাসে পরিচিতি লাভ করে ও প্রাচীন 'আর্য ধর্ম' তখন থেকেই হিন্দু ধর্ম নামে পরিচিতি লাভ করে। হিন্দু ধর্ম মূলত আর্যদের বৈদিক ধর্ম। এ ধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থের নাম 'বেদ'। এই বৈদিক ধর্ম সূচনাতে একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম ছিল। তৎপরবরতী পৌরাণিক যুগে হিন্দু ধর্ম অবতারবাদের প্রবক্তা হয়ে ওঠে।
পরবর্তী কালে বেদের অনুশীলন করতে গিয়ে ঋষি ব্যাসদেবাে স্থান-কাল উপযোগী সংযোজন-সংবর্ধন করে ৪টি খণ্ডে বিভক্ত করেন।
হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে বেদের স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃত ‘বিদ’ ধাতু থেকে বেদ শব্দটি নিস্পন্ন। বিদ+ঘঙ = বেদ। বেদ অর্থ জানা (To Know)। যারা এই বেদ লিপিবদ্ধ করেছেন তাদের ঋষি বলা হয়। মহাপ্রাজ্ঞ ঋষিরা হলেন বেদের মূল আবিষ্কারক, ঋষিগণ আবিষ্কার করেছেন মানুষের অন্তর্নিহিত আধাত্মিকতা এবং গুহাবাসী মানুষের অজ্ঞানতাকে দুর করবার পদ্ধতি যা তাকে অমরত্বের পথে নিয়ে যাবে। এই গ্রন্থে মানুষের জীবনধ ধারার সাথে সাথে প্রকৃতির পূজার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বেদের সংখ্যা চারটি। যথা - ১. ঋকবেদ, ২. সামবেদ, ৩. যজুবেদ ও ৪. অথর্ববেদ।
পৃথিবীর একমাত্র ধর্মগ্রন্থ হ'ল 'বেদ', বাকী যেকোনও বা যে সমস্ত ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তার প্রত্যেকটিরই স্ব স্ব শিক্ষা রয়েছে কিন্তু তা সবই বেদ-এর অনুসারী।হিন্দু ধর্মের বেদগ্রন্থের শিক্ষা একমাত্র কর্ম। যেহেতু কর্মই মানুষের একমাত্র 'ধর্ম' এবং ধর্মের মাধ্যমেই মানুষ তার নিজের কর্তব্য অনুধাবন করতে পারে। এ জন্য হিন্দু ধর্মে বলা হয়, মানুষ কর্মের মাধ্যমেই ঈশ্বর, স্বর্গ ও যাবতীয় কল্যাণ পেতে পারে এবং মুক্তির পথ অনুসন্ধান করতে পারে।
মূল বেদ ছাড়াও চারটি উপবেদ আছে। আয়ুর্বেদ, ধনুর্বেদ, গন্ধর্বেদ এবং স্থাপত্যর্বেদ। আয়ুর্বেদ হল ভেষজ শাস্ত্র, ধনুর্বেদ হল অস্ত্রবিদ্যা, গন্ধর্বেদ হল সঙ্গীত বিদ্যা আর স্থাপত্যর্বেদ হল কৃষিবিদ্যা। মানবকল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বেদ ঋষিগণ রচনা করে থাকেন। উপবেদের শিক্ষা: উপবেদ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরকে চিকিৎসা, সঙ্গীত, স্থাপত্য ও অস্ত্রবিদ্যার শিক্ষা দিয়ে থাকে।
বেদের মূল ভাবকে হৃদয়ঙ্গম করার জন্য বেদের সাহায্যকারী ছয়খানা অবয়বগ্রন্থ অধ্যয়ন করা আবশ্যক। আর এই অবয়বগুলোকে বলা হয় বেদান্ত। এগুলো হল - ১. শিক্ষা, ২. কল্প, ৩. ব্যাকরণ, ৪. নিরুক্ত, ৫. ছন্দ এবং ৬. জ্যোতিষ। বেদান্তের শিক্ষা: বেদান্ত যদিও বেদের ছয়খানা অবয়ব গ্রন্থ আর শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ এবং জ্যোতিষ এর মূল বিষয় তথাপি এর নিজস্ব একটা শিক্ষা রয়েছে। আর সেটা হল মানুষকে কর্মের চেয়ে শিক্ষার প্রতি অনুগামী করে তোলে।যাতে করে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি বৃদ্ধি পেয়ে স্রষ্টাকে বেশি উপলব্ধি করতে পারে।
.
বেদ কোনও একক মানুষের মতবাদ নয়।
বেদের আগে আর কোনও সভ্যতার উদাহরণ পাওয়া যায় না।
হিন্দু ধর্মই একমাত্র ধর্ম যা অন্ধকার যুগে মানুষকে আলোকবর্ত্তিকার সন্ধান দিয়েছে।
ভারতীয় উপমহাদেশের যেকোনও ধর্মীয় মতবাদ, যা কোনও বিশেষ মানুষের সৃষ্টি, তার সব কিছুই বেদ-নির্ভর।
কোনও মানুষ বেদকে অস্বীকার করতে পারে কিন্তু বৈদিক কর্মের বাইরে কেউই নয়।
.
 লেখকঃ প্রীথিষ ঘোষ
Share:

০২ ডিসেম্বর ২০১৫

মুর্খ মানুষেরাই মনে করে ঈশ্বরের এই ভিন্ন ভিন্ন গুন এক একটি ঈশ্বর

ঈশ্বর বহু গুণাবলীর অধিকারী। শুধু মাত্র মুর্খ মানুষেরাই মনে করে ঈশ্বরের এই ভিন্ন ভিন্ন গুন এক একটি ঈশ্বর।

এই সন্দেহ গুলো দূর করার জন্য বেদে কয়েকটি মন্ত্র আছে যেখানে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করেছে যে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এবং তার কোন সহকারী, দূত, অবতার অথবা অধীনস্ত কোন কর্মচারী নেই যার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবো। উদাহরন স্বরূপঃ

যর্যুরবেদ ৪০.১: এই সমস্ত বিশ্ব শুধু মাত্র একজন ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্টি ও পরিচালিত হচ্ছে।কখনই অন্যায় করো না অথবা অন্যায় ভাবে সম্পদ অর্জনের ইচ্ছা করো না।


ঋগবেদ ১০.৪৮.১: ঈশ্বর সর্বত্রই বিদ্যমান এবং বিশ্ব ব্রক্ষান্ডকে পরিচালিত করেন। পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই জয় ও শ্বাশত কারন প্রদান কারী। প্রতিটি আত্মা অবশ্যই তাঁকেই সন্ধান করবে যেমন করে একটি শিশু তারা বাবাকে খোঁজে। শুধুমাত্র তিনি আমাদেরকে খাদ্য ও স্বর্গীয় সুখ প্রদান করেন।

ঋগবেদ ১০.৪৮.৫: ঈশ্বর সমস্ত পৃথিবীকে আলোকিত করেন। তিনি অপরাজেয় এবং মৃত্যুহীনও। তিনি এই জগত সৃষ্টিকারী। সকল আত্মার উচিত পরম সুখ সন্ধান করা জ্ঞান অন্বেষণ ও কর্মের মধ্য দিয়ে। তারা কখনই ঈশ্বরের বন্ধুত্ব থেকে নিজেকে পরিহার করবে না।

ঋগবেদ ১০.৪৯.১: ঈশ্বরই সত্যের সন্ধানীদের সত্যজ্ঞান দিয়ে থাকেন। তিনিই শুধু জ্ঞানের প্রর্বতক এবং ধার্মিক ব্যাক্তিদের পরম সুখ লাভের জন্য পবিত্র কর্ম করতে উৎসাহী করেন। তিনিই একমাত্র জগতের সৃষ্টিকারী এবং এর পরিচালক। ঙটাই ঈশ্বর ব্যাতীত অন্য কারো উপাসনা করো না।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫

বেদ পরিচয় পর্বঃ ১

সমস্ত শাস্ত্রের মূল কথা হইতেছে – পরম পবিত্র বেদ । বেদ চারিভাগে বিভক্ত- ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ , সামবেদ ও অথর্ববেদ। সৃষ্টির প্রথমে আদিপুরুষ ভগবান ব্রহ্মা যোগাসনে সমীসন হইয়া স্থিরচিত্তে পরমাত্ম-চিন্তায় নিমগ্ন আছেন; এমন সময় কল্যানময় পরমেশ্বরের কৃপায় তাহার হৃদয় কন্দরে একটি অস্ফুট নাদ-ধ্বনি প্রকাশ পাইল। পরে তাহা হইতে সর্ববেদের বীজরূপী ব্রহ্মনাম ‘প্রনব’ এবং স্বর- ব্যঞ্জনময় বর্ণরাশি একে একে অভিব্যক্ত হইল । তখন ভগবান ব্রহ্মা সেই বর্ণরাশির সহায়ে যে শব্দসমহ উচ্চারণ করিলেন, তাহাইজগতে বেদবিদ্যা বলিয়া বিখ্যাত হইল ।

অতঃপর ভগবান ব্রহ্মা সেই অপূর্ব বেদবিদ্যার বিস্তার করিবার ইচ্ছায় মরীচি, অত্রী, অঙ্গিরা প্রভৃতি ঋষিগনকে তাহা শিক্ষা দিতে লাগিলেন । ক্রমে বৈদিকজ্ঞান জগতে প্রসার লাভ করিল। এইরূপে গুরু-শিষ্যানুক্রমে যুগ যুগান্তর চলিতে লাগিল । ক্রমে দ্বাপর যুগ আসিয়া পড়িল । মানুষের স্মৃতিশক্তি হ্রাস হইয়া পড়িল । তখন-

পরাশরাৎ সত্যবত্যামংশাংশ-কলয়া বিভুঃ ।
অবতীর্ণো মহাভাগো বেদং চক্রে চতুবির্ধম্ ।।
ঋগথর্ব-যজুঃ-সাম্নাং রাশীনুদ্ধৃত্য বর্গশঃ।
চতস্রঃ সংহিতাশ্চচক্রে মন্ত্রৈ-মনির্গণা ইব ।।

অনুবাদঃ ভগবান নারায়ন, পরাশরের ওরসে মাতা সত্যবতীর গর্ভে পুত্ররূপে আবির্ভুত হইলেন । তাহার নাম হইল-‘কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন’ । তিনি বেদশিক্ষার সুবিধার্থে এক এক শ্রেনীর মন্ত্রসমুহ একত্র সংগ্রহ করিয়া ঋক্, যজুঃ, সাম ও অথর্ব নামে এক বেদকে চারটি ভাগে ভাগ করিলেন, এইভাবে বেদকে বিভাগ করিভার জন্য তখন হইতে তাহার অপর নাম হইল- ‘বেদব্যাস’।

মহর্ষি ব্যাসদেব বেদকে চারভাগে বিভক্ত করিয়া তাহার বহুল প্রচারোদ্দেশ্যে স্বীয় শিষ্য পৈলকে ঋগ্বেদ, বৈশম্পায়নকে যজুর্বেদ , জৈমনিকে সামবেদ এবং সুমন্তকে অথর্ববেদ শিক্ষা দিলেন । পরে তাহারাও আবার স্বীয় স্বীয় শিষ্যমণ্ডলীকে যথাযথরূপে চতুর্বেদ শিক্ষা দিতে লাগিলেন । এইরূপে এক বেদ বহু শাখাপ্রশাখায় বিভক্ত হইয়া পড়িল ।

ওম শান্তি শান্তি শান্তি

তথসুত্রঃ স্বামী অরুণানন্দ রচিত ''বেদসার- সংগ্রহ'' হতে । 
Share:

পবিত্র বেদ অমৃত

যজুর্বেদ ৪০.৮, ঈশোপনিষদ-৮

সপর্ষগাচ্ছুক্রমকায়মব্রণমস্রাবিরং শুদ্ধমপাপবিদ্ধম্।
কবির্মনীষী পরিভুঃ স্বয়ম্ভুর্ষাথানথ্যতোর্থান্ব্যশ্চতীভ্যঃ সমাভ্যঃ।।

ঈশ্বর সবর্ব্যাপক, জ্যোতির্ময়, শরীর রহিত, নিখুত, স্নায়ু আদি বন্ধন রহিত, পবিত্র। তিনি সর্বজ্ঞ, সকলের অন্তরজ্ঞাতা, সকল প্রকার পাপ হতে মুক্ত এবং তিনি স্বয়ং বিদ্যমান বা সয়ম্ভু। তিনি যথার্থরূপে বেদের মাধ্যমে তাঁর স্মরণীয় গুণের সমস্ত কিছু প্রকাশ করেছেন, তিনি জন্ম ও মৃত্যুর বন্ধন হতে মুক্ত।

এই মন্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এতে একই সঙ্গে ঈশ্বর ও বেদ সম্পর্কে আলোকপাত করেছে। যারা ঈশ্বরের স্বরূপ সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য এই একটি মন্ত্রই যথেষ্ট। এই মন্ত্রে ঈশ্বরের পূর্ণ রূপ আক্ষরিক অর্থেই প্রতিফলিত হয়েছে। এমনকি এই মন্ত্রে এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে ঈশ্বরের সম্পূর্ণ জ্ঞান এই পবিত্র বেদেই অবতীর্ণ হয়েছে। যার ফলে পরবর্তীতে আব্রাহামিক মতবাদ এর ন্যায় যুগে যুগে কিতাব নাজিল করতে হয় না। কারণ বেদ স্বয়ং সম্পূর্ণ। আর কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী আছে, যারা প্রচার করে ‘‘বেদ পড়ো না। বেদ অতি পবিত্র তা কলিযুগের জন্য নয়।’’ তারা এই কথা বলে কারণ আমরা যদি বেদ পাঠ করি এবং বেদ আচার্যের ব্যাখ্যা অনুধাবন করি তবে আমরা নিজেরাই ঈশ্বরকে জানতে পারব। আমাদের ধর্মকে যথার্থরূপে অনুধাবন করতে পারব। যা এই মন্ত্রে বলা হয়েছে। তবেই ঐসকল ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যবসা ভন্ডুল হবে। অবশ্যই বেদ পবিত্র, আর সেই পবিত্রতা আমরা ইচ্ছে করলে নিজেরাই অর্জন করতে পারি। আসুন আমরা সকলে বেদকে জানি, সত্য ধর্মকে জানি এবং ঈশ্বরকে জানি। 
Share:

০৮ জুলাই ২০১৫

বৈদিক দর্শন অনুযায়ী বিবাহের প্রকারভেদ

বৈদিক দর্শন অনুযায়ী বিবাহ প্রধানত ১০ ধরনের-

১) ব্রহ্ম বিবাহঃ সবচেয়ে পবিত্র ও প্রসিদ্ধ বিবাহ। এই বিবাহে কন্যার পিতা সৎ, চরিত্রবান, বুদ্ধিমান, বিদ্বান পাত্রকে আমন্ত্রন জানান, সালঙ্কারা কন্যাদান ও দক্ষিনার মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয়।


২) দৈব বিবাহঃ এই বিবাহ পদ্ধতিতে পিতা নিরালঙ্কারা কন্যাকে যজ্ঞের অগ্নির সম্মুখে কোন সাধুসন্ন্যাসীকে দান করে।যদিও এটি প্রসংসনিও, কিন্তু এটি ব্রহ্ম বিবাহ অপেক্ষা নিম্ন।

৩) অর্শ বিবাহঃ বিভিন্ন ধর্মিয় আচার রীতি ( যজ্ঞ) করার উদ্দেশে পিতা কন্যার বিবাহ দেন গাভি ও ষাঁড়ের বিনিময়ে।

৪) প্রজাপত্য বিবাহঃ যখন পাত্র, কন্যার পানিপ্রার্থি হয়, তখম কন্যার পিতা এই শর্তে বিবাহে সম্মতি দেন যে “ তোমরা সর্বদা ধর্ম, কর্ম ও কর্তব্যের পথে চলবে।“

৫) অসুর বিবাহঃ কন্যার পিতাকে পন/যৌতুক প্রদান করে পাত্র যদি বিবাহ করে তাকে অসুর বিবাহ বলে।

৬) গন্ধর্ব বিবাহঃ কন্যার সম্মতিতে বিবাহের পুর্বে সহবাস করাকে গন্ধর্ব বিবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি অতি নিম্ন প্রকার বিবাহ, কারন এখানে কামতৃপ্তি মুখ্য বিষয় থাকে।

৭) রাক্ষস বিবাহঃ আত্মীয় পরিজন দের মারধর করে, ক্রন্দনরতা কন্যাকে জোরপুর্বক অপহরন করে যে বিবাহ করা হয়।

৮) পৈশাচ বিবাহঃ ঘুমন্ত, অচেতন, মানসিক ভাবে অসুস্থ কন্যাকে ধর্ষন করলে।

৯) অনুলোম বিবাহঃ উচ্চবর্নের পুরুষ যদি নিম্নবর্নের নারী বিবাহ করে।

১০) প্রতিলোম বিবাহঃ নিম্নবর্নের পুরুষ যদি উচ্চবর্নের নারী বিবাহ করে।

৯ ও ১০ এর বংশধর অনুলোম প্রতিলোম প্রজাতি বিবেচিত হয়।
প্রকৃত অর্থে ধর্ম অনুযায়ী অনুলোম প্রতিলোম বিবাহ স্বীকৃত নয়, যদিও সকল সন্তানই ভগবানের সৃষ্টি। শুক্রাচার্যের একনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন সূত। তার মা ছিল ক্ষত্রিয়, পিতা ব্রাহ্মন। সূত গীতা, পুরান সহ নানা গ্রন্থবিশারদ ছিলেন, কিন্তু নিজের অনুলোম জন্মহেতু নিজেকে শূদ্র বলে পরিচয় দিতেন।


অন্যান্য প্রকারভেদ-

* সমন্ধম বিবাহঃ ভারতের কেরালায় মাতৃতান্ত্রিক সমাজে এই রকম বিবাহ দেখা যায়।
* সয়ম্ভর বিবাহঃ কন্যা নিজের পছন্দ অনুযায়ী বর নির্বাচন করে থাকে।
* পনবিবাহঃ কোন প্রতিযগিতা আয়জনের মাধ্যমে বিজয়ী পাত্রকে বর হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
* প্রেম বিবাহঃ পাত্র পাত্রির প্রেমের পরিনতি হিসেবে যে বিবাহ হয়ে থাকে।
* সেবা বিবাহঃ কোন কোন উপজাতিতে এরকম নিয়ম আছে যে, পাত্র যদি বিবাহের খরচ উঠাতে অসমর্থ হয়, তবে তাকে কন্যার গৃহে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে কন্যার পানিপ্রার্থনা করতে হয়।
* বিনিময় বিবাহঃ পাত্র/পাত্রি যদি অসচ্ছল/পঙ্গু হয়, তবে তার /ভাইবোনের সাথে পাত্রী/পাত্রের ভাইবোনের বিবাহ প্রথা কে বিনিময় বিবাহ বলে।

তবে সকল বিবাহের মধ্যে ব্রহ্ম বিবাহ সর্বতকৃষ্ট।

• courtesy : www.hindujagruti.org & sulaksana susmita
Share:

বেদে নারীর মহিমা

বেদে নারীর মহিমা শীর্ষক লেখা অনেক দিন ধরে লিখতে চাচ্ছিলাম। বিভিন্ন ব্লগে হিন্দু ধর্ম নিয়ে নানা অপপ্রচার চলছে। এর একটি হচ্ছে বেদে নারীর অবস্থান অনেক নিচে। তাদেরকে মানুষ বলে গণ্য করা হয়নি। তাছাড়া হিন্দু মেয়েরা যেভাবে ভালবাসার ফাঁদে পরে ধর্মান্তরিত হচ্ছে তা রীতিমত ভয়াবহ। এমত অবস্থায় লিখতে বসলাম।

অথর্ববেদঃ
১। Girls should train themselves to become complete scholars and youthful through Brahmcharya and then enter married life.
Atharva 11.5.18
ব্রহ্মচারী সুক্তের এই মন্ত্র বলে মেয়েদের শিক্ষা লাভের পর স্বামী গৃহে প্রবেশের কথা। এই মন্ত্র নারীদের নির্দেশ দেয় ছেলেদের মত একই শিক্ষা গ্রহনের।
২। Atharva 14.1.6
Parents should gift their daughter intellectuality and power of knowledge when she leaves for husband’s home. They should give her a dowry of knowledge.
এখানে উপঢৌকন হিসেবে জ্ঞান দানের কথা বলা হয়েছে।
৩। Atharva 14.1.20 Oh wife! Give us discourse of knowledge
এখানে স্ত্রীর কাছে জ্ঞান চাওয়া হয়েছে।
৪। Atharva 7.46.3
Protector of children, having definite knowledge, worth thousands of prayers and impressing all directions, O women, you accept prosperity. O wife of desrving husband, teach your husband to enhance wealth.
স্ত্রী কে বলা হয়েছে স্বামীকে সহায়তা করতে যাতে পরিবারে সুখ সমৃদ্ধি, অর্থ বৈভব আসে।
৫।
Atharva 7.47.1
Oh woman! You are the keeper of knowledge of all types of actions (karma).
মহিলাদের জ্ঞানের ধারক বলা হয়েছে।
৬। Atharva 7.47.2
Oh woman! You know everything. Please provide us strength of prosperity and wealth
নারীই শিশুদের প্রথম জ্ঞানদাতা । তিনিই শিশুদের জগত সংসারে যুদ্ধের উপযুক্ত করে পাঠান। মন্ত্রে তাই বলা হয়েছে।
৭। Atharva 7.48.2
Oh woman! Please provide us with wealth through your intellect
৮। Atharva 14.1.64
Oh woman! Utilize your vedic intellect in all directions of our home!
নারীকে মঙ্গলময়ী লক্ষ্মী সেই বৈদিক যুগ থেকেই বলা হয়।
৯। Atharva 2:36:5
Oh bride! Step into the boat of prosperity and take your husband beyond the ocean of worldy troubles into realms of success
‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী’ নজরুল কাব্যে নারী
তারুণ্য দীপ্ত যৌবনে উজ্জল কবি নজরুল। বাংলার নারী সমাজকে জাগাতে এবং অনুপ্রাণিত করতে তিনি তাদের আন্তরিকতার সাথে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তাই তো কবি কবিতায় লিখেছেন,
‘জাগো নারী জাগো বহ্নি শিখা’
কবি আরও লিখেছেন
‘সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ রমণী
কোন ভেদাভেদ নাই’
‘নারীরে প্রথমে দিয়েছি মুক্তি
নয় সম অধিকার
মানুষ গড়া প্রাচীর ভঙ্গিয়া
করিয়াছি একাকার
কবি ভাবতেন নারীর জন্য পুরুষ তন্ত্রের বিভেদ ও অসাম্য সৃষ্টির কথা।
নারীর স্বাতন্ত্রবোধ কেড়ে নিয়ে তার জন্য পুরুষ তৈরি করেছে অসংখ্য শক্ত শেকল। সাংসারিক জীবনে পুরুষের মনোরঞ্জনের সুবিধার্থে নারীকে করেছে ভিন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত। নামিয়ে এনেছে দাসীর পর্যায়ে। কবি চেয়েছেন এ অবস্থা থেকে নারীর মুক্তি। নারীর মানুষ হিসেবে গণ্য করার অধিকার।
কবির এই কথাই শত সহস্র বছর আগে ধ্বনিত হয় অথর্ব বেদের মন্ত্রে। নারীই তার স্বামীকে সংসারের কঠিন সময়ে আশার আলো দেন পাশে থেকে।
১০। Atharva 1.14.3
Oh groom! This bride will protect your entire family
কোথায় এখন মহাপণ্ডিতরা?
১১। Atharva 2.36.3
May this bride become the queen of the house of her husband and enlighten all.
১২। Atharva 11.1.17
These women are pure, sacred and yajniya (as respected as yajna); they provide us with subjects, animals and food
১৩। Atharva 12.1.25
Oh motherland! Give us that aura which is present in girls
১৪। Atharva 12.2.31
Ensure that these women never weep out of sorrow. Keep them free from all diseases and give them ornaments and jewels to wear.
এখানে নারীর দুঃখ কষ্ট যাতে না হয় সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।
১৫। Atharva 14.1.20
Hey wife! Become the queen and manager of everyone in the family of your husband.
১৬। Atharva 14.1.50
Hey wife! I am holding your hand for prosperity
১৭। Atharva 14.1.61
Hey bride! You shall bring bliss to all and direct our homes towards our purpose of living
১৮। Atharva 14.2.71
Hey wife! I am knowledgeable and you are also knowledgeable. If I am Samved then you are Rigved.
১৯। Atharva 14.2.74
This bride is illuminating. She has conquered everyone’s hearts!
২০। Atharva 7.38.4 and 12.3.52
Women should take part in the legislative chambers and put their views on forefront.
Share:

২৪ জুন ২০১৫

আমাদের বৈদিক শাস্ত্রে কী নেই?

ওঁ তৎসৎ, কঠোপনিষদে যম বলছেন,
শ্রেয়শ্চ প্রেয়শ্চ মনুষ্যমেত স্তো সম্পরীত্য বিবিনক্তি ধীরঃ।
শ্রেয়ো হি ধীরো অভি প্রেয়শো বৃণীতে প্রেয়ো মন্দো য়োগক্ষেমাদ্ বৃণীতে।।
অর্থাৎ শ্রে এবং প্রেয় যেন মানুষকে পরস্পর মিলিত হয়ে আশ্রয় করেন। যিনি ধীর তিনি প্রেয় অপেক্ষা শ্রেয়কে উত্তম বলে মনে করেন। কিন্তু যিনি সত্যি অল্পবুদ্ধি তিনি অস্থায়ী সুখের জন্য প্রেয়কে বেশি গুরুত্ব দেন।
আমাদের বৈদিক শাস্ত্রে কী নেই? এমন চমৎকার বাণী রয়েছে যা আমাদের সমস্ত ভুল বুঝাবুঝির নিরসন করবেন।
উক্ত বাণীর আলোকে বলি, সত্য ও হিতকর বাক্য অপ্রিয় হলেও গ্রহণ করতে হয় যেমন ঔষধ। ঔষধ কি আমাদের রুচিমত না হলেও গ্রহণ না করে পারি? না। তাহলে কেন আমরা সমাজের এত দোষ প্রত্যক্ষ করেও সবার প্রিয় থাকার লোভে নীরব থাকবো? কেন আমাদের কে মিষ্টি কথার জন্য কান পেতে থাকতে হবে? কেন অনুরোধ করতে হবে যে, অসৎ গুরুকে নিন্দা না করে কেবল বন্দনা করুন বা গুরু নিন্দা আমরা সহ্য করতে পারি না? কেন আমরা সত্য ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শকে লাইক না করে শুধু মুখের মিষ্টিকে পছন্দ করবো?
মুখের মিষ্টির চেয়ে অন্তরের মিষ্টি কি বেশি হতে পারে না?
কেন আমাদের সব কথা আপনার মনো মত না হয়ে সত্য হলেও গ্রহণ করতে পারেবন না?
তা যদি না পারেন তাহলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বড় উপাধী সত্যি ব্যাধি হয়ে দেখা দিবে না?
কেন আপনার মনমতো না হলে চলে যাবেন?
এমন ত কথা ছিল না!
যদি চলেই যান তাহলে আপনি কি ঠকবেন না ঐ ঠকবাজদের কাছে?
আমরা যে সমাজ সংস্কার ব্রত ধারণ করেছি তা অতীতে মাত্র এক এক জন বীর পুরুষের দ্বারাও সংগঠিত হয়েছিল! আমরা আজ সবাই মিলে করার কারণ সমাজে হিতকারীর চেয়ে ক্ষতিকারী বেড়ে গেছে। আপনি আমাদের সংগ পরিত্যাগ করলে নিশ্চই ওদের সঙ্গে না গিয়ে পারবেন কি? যাদের দ্বারা আপনার কোন উত্থানতো হবে না বরং ভয়ানক অধপতনই অনিবার্য!
স্বয়ং বিচার করুন।
ধন্যবাদ।
কেবল বেদানুগামীদেরই কল্যাণ প্রার্থনা করি।
কারণ এই প্রার্থনা বেদেই ধ্বনিত হয়েছে।


Arya Sebananda
Share:

বৈদিক পুরুষার্থ

প্রতিটি মানুষের জীবনের উদ্দেশ্যকে বলা হয় পুরুষার্থ। প্রতিটি মানুষই জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি, সাফল্য, স্বচ্ছন্দ, যশ, খ্যাতি, অমরত্ব(কীর্তিদ্বারা) প্রভৃতি চায়। বৈদিক ঋষিরা মানবজীবনের এই সকল চাওয়া পাওয়াকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। কাম ও আর্থ। এই দুটি শব্দ দ্বারা মানব জীবনের সমস্ত কামনাবাসনা প্রকাশ করা যায়। কাম ও আর্থ না থাকলে জীবন পরিপূর্ণ হয়না বা বলা যায় কাম ও আর্থ ছাড়া জীবনই হয়না। কিন্তু, প্রত্যেকটি কাজেরই কিছু নীতি থাকে। নীতিবর্জিত যেকোন কাজই ব্যক্তি ও সমাজের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি করে থাকে এবং নীতিভ্রষ্ট সমাজের ধ্বংসই নিয়তি। তাই বৈদিক ঋষিদের মতে, যে নীতিদ্বারা কাম ও আর্থ পরিচালিত হবে, তা হবে ধর্ম। ধর্মই পথ দেখাবে মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির পরস্পর নির্ভরশীল সহাবস্থানের, ঠিক করে দেবে পারস্পরিক সম্পর্কের নৈতিকতা, তৈরি করবে ব্যক্তিত্ব, নির্ধারণ করবে ব্যক্তিগত ও সামাজিক চরিত্র, উন্মেষ ঘটাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এবং মানুষের সুপ্ত ঐশ্বরিক গুনসমূহের ধাপে ধাপে চর্চার মাধ্যমে তার মনুষ্যগুণের সর্বোচ্চ পরিস্ফুরন ঘটাবে। আর, এই গুণসমূহের সর্বোচ্চ পরিস্ফুটনের দ্বারা মানুষের সাথে ঈশ্বরের পার্থক্য ঘুচে যাবে, মানুষ হয়ে উঠবে সচ্চিদানন্দ, তাঁর ভেতরকার ব্রহ্ম জেগে উঠবে, আর আত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যাবে। এই, অন্তিম অবস্থাকেই বৈদিক ঋষিরা কাম ও আর্থের বাইরে এক অন্তিম লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার নাম মোক্ষ।
সুতরাং, বেদ মতে পুরুষার্থ চারটি। যথাঃ কাম, আর্থ, ধর্ম ও মোক্ষ।
ব্যাপারটা আর একটু খোলাসা করা যাক।
বেদমতে ঈশ্বর জগত সৃষ্টি করেননি। বরং, সকল সৃষ্টি ঈশ্বরেরই প্রকাশ। অর্থাৎ, এক ঈশ্বরই সর্বজীবে ও সর্বভূতে অধিষ্ঠিত। সৃষ্টির সাথে ঈশ্বরের গুনগত কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্য কেবল প্রকাশভেদে। সৃষ্টি গুণে অপূর্ণ ও অপ্রকাশিত, কিন্তু ঈশ্বর সম্পূর্ণ ও প্রকাশিত।
ঈশ্বরকে বলা হয়, সচ্চিদানন্দ। এটি তিনটি শব্দের যুক্তাক্ষর; সত, চিত ও আনন্দ।
সত= যা সর্বদা বিরাজমান; অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নেয় এবং যা সময় দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। যেমনঃ সৃষ্টি, প্রকৃতি, মহাবিশ্ব ইত্যাদি।
চিত= যিনি সচেতন বা চেতনাধারী। যিনি ন্যায়, অন্যায়, ভুল শুদ্ধ বিচার করতে পারেন, এমন বিবেকবান। যেমনঃ জীবজগত (বিশেষ করে মানুষ)
আনন্দ= যিনি সর্বদা আনন্দময়; সুখ, দুঃখ, জরা, ব্যাধি, রাগ, ক্ষোভ, বিদ্বেষ, জীবন মৃত্যুর অতীত, সর্ব গুণান্বিত, সম্পূর্ণ। চিরসচেতন, সর্বত্র ও অনন্ত।
অর্থাৎ, আমরা দেখি প্রকৃতি বা সৃষ্টি হল সত, জীব হল সত ও চিত উভয়ই। আর ঈশ্বর হল সচ্চিদানন্দ। কারণ, তিনি সত ও চত এর পাশাপাশি পূর্ণ প্রকাশিত আনন্দময়। জীবের (এক্ষেত্রে মানুষের) সাথে ঈশ্বরের পার্থক্য কেবল গুণাবলীর প্রকাশে। মানুষের সুপ্ত, ঈশ্বরের সম্পূর্ণ প্রকাশিত।
মানুষের সুপ্ত চেতনা বা গুণের প্রকাশের অনুঘটক হল ধর্ম।

Courtest by: Ayan Chowdhury

Share:

১২ এপ্রিল ২০১৫

দ্যূতক্রিয়া


জুয়া খেলা বা দ্যূতক্রিয়া যা পাশাখেলা নামেও প্রাচীন ভারতবর্ষে পরিচিত ছিল।পৃথিবীর যতগুলো প্রাচীনতম ক্রীড়া প্রচলিত ছিল তার মধ্যে একটি এই দ্যূতক্রিয়া।


মহাভারতে আমরা দেখতে পাই জীবনঘনিষ্ঠ ঘটনার সাহায্যে বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে এই পাশাখেলার কবলে পড়ে পঞ্চপাণ্ডবরা রাজ্য হারিয়েছিলেন,সী মাহীন দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছিলেন।


পবিত্র বেদে মদ্যপান,নেশাদ্র ব্য গ্রহনের পাশাপাশি এই দ্যূতক্রিয়াকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে মানবজাতির কল্যানের জন্য ই।আমাদের এক পাঠকের প্রশ্ন ছিল পবিত্র বেদাদি শাস্ত্রে এই দ্যূতক্রিয়া সম্পর্কে কি বলা হয়েছে।


ঋগ্বেদ এর দশম মণ্ডলের ৩৪ তম সুক্তের নাম ‘অক্ষকিতব নিন্দা’ সুক্ত।সংস্কৃত অক্ষকিতব অর্থ ই হল দ্যূতক্রিয়া করে যে বা জুয়াড়ি।অক্ষ হচ্ছে ‘বিভিতক’ নামক একধরনের বৃক্ষের অপর নাম যার বৈজ্ঞানিক নাম Terminalia bellirica.এই গাছ থেকেই তখনকার সময় এ অক্ষ তথা পাশাখেলার গুটি বানানো হত তাই এই খেলার নাম অক্ষ(অক্ষক্রীড় া বা পাশাখেলা))।


তাই অক্ষকিতব সুক্ত এর তৃতীয় হতে দ্বাদশ মন্ত্র পর্যন্ত জুয়া খেলার কুফল বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে-


“একজন জুয়াড়িকে(যে অক্ষ খেলে) কেউ পছন্দ করেনা।তার বাবা-মা,স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন,বন ্ধুবান্ধব কেউ না,একটি বৃদ্ধ,ক্লান্ত অশ্বের মত ই সে মুল্যহীন হয়ে পড়ে,কেউ ই তাকে গুরুত্ব দেয়না,কেনই বা দেবে?
অক্ষক্রীড়া অনুচিত তা জেনেও বারবার ওই ব্যাক্তি এই নেশা ছাড়তে পারেনা,এই দুর্দশা ক্রমশ তাকে ছুরির ন্যায় বিদ্ধ করতে থাকে,আগুনের ন্যায় দগ্ধ করতে থাকে,অসহ্য ব্যথার ন্যায় ভোগাতে থাকে,এই খেলায় জয়ী যা লাভ করে তাও একসময় ঠিক ই হারিয়ে যায়,প্রথমে অনেক মধুর মনে হলেও তা একসময় তাকে টুকরো টুকরো করে দেয়......।“
(১০.৩৪.৩-১২)


তাই ঋগ্বেদ ১০.৩৪.১৩ বলছে,
অক্ষৈর্মা দিব্যঃ কৃষিমিত কৃষস্ব বিত্তে রমস্ব বহু মন্যমানঃ।
তত্র গাবঃ কিতব তত্র জায়া তন্মে বি চষ্টে সবিতায়মর্য।।


অনুবাদ-
“হে মনুষ্য,পাশা খেলোনা,তোমার ভুমি আছে,অর্থ-সম্পত্ তি আছে।যা তোমাদের আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাক।তোমার পরিবার আছে, স্ত্রী আছে,এসব নিয়ে সুখে থাক।এটাই আলোকপ্রদর্শনকার ী পরমাত্মার প্রদত্ত জ্ঞান।”


উল্লেখ্য যে পবিত্র বেদের এই অক্ষকিতব সুক্ত কে মানবইতিহাসের প্রাচীনতম কাব্যরত্ন হিসেবে অভিহিত করা হয়।Arthur Anthony Macdonell তাঁর A History of Sanskrit Literature গ্রন্থে বলেছিলেন,
"বেদকে পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রন্থ ধরে বলা যায় যে এই কাব্যটি(সুক্তটি ) প্রাচীনতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কর্ম।"


মহাঋষি মনু তাই বলেছিলেন,
“দ্যূতমেতৎ পুরাকল্পে দৃষ্টং বৈরকরং মহৎ।
তস্মাদ্ দ্যুতং ন সেবেত হাস্যর্থমপি বুদ্ধিমান্।।
(মনুসংহিতা ৯.২২৭)


অনুবাদ-দ্যূতক্র ীড়া অত্যন্ত অনিষ্টকর একটি অভ্যাস।তাই বুদ্ধিমান ব্যাক্তির কখনো দুষ্টামির ছলেও পাশাখেলা উচিৎ নয়।


ওম শান্তি শান্তি শান্তি
Share:

ব্রহ্মচর্য এবং উপনয়ন কি নারীদের জন্যও প্রযোজ্য?

যেখানে বেদপ্রচারের ধারায় আজ সবাই জানে যে বেদপাঠ,উপনয়নে অধিকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার সেখানে আজও নিজেকে জোর করে উঁচুবর্ণের পরিচয় দানকারী কিছু দস্যু তা অস্বীকার করতে চায়।পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ও নারীকে অবদমিত করে রাখার কুপ্রবৃত্তি ই এর মূল কারন,আর এর সঙ্গে অজ্ঞানতা তো আছেই!আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের সমাজে আজও কিছু মানুষ এই প্রশ্ন তোলে।আশা করি আজকের আলোচনার পর আর এবিষয়ে আর কোন প্রশ্ন এবং দ্বিধা প্রকাশের অবকাশ থাকবে না।

আজ আমরা দেখব প্রাচীন বৈদিক সমাজে নারীশিক্ষার ও নারীদের উপনয়ন তথা ব্রহ্মচর্য জীবন পালনের একটি চিত্র।

"ব্রহ্মচর্যেন কন্যা যুবানং বিন্দতে পতিম্।"
(অথর্ববেদ ১১.৫.১৮)
অর্থাত্‍ ঠিক যেমন যুবক ব্রহ্মচর্য শেষ করে বিদুষী কন্যাকে বিয়ে করবে ঠিক তেমনি একজন যুবতীও ব্রহ্মচর্য শেষ করে পছন্দমত বিদ্বান যুবককে স্বামী হিসেবে গ্রহন করবে।

পাণিনি তার সংস্কৃত ব্যকরন শাস্ত্রে ছাত্রীদের ব্রহ্মচর্যের প্রতিষ্ঠান ছাত্রীশালা ও এর মহিলা অধ্যাপক আচার্যনি এর এর উল্লেখ করেছেন-

"মাতুলাচার্যাণামানুক্ত"
>পাণিনি ৪.১.৪৬

এবং "ছাস্যাদযঃ ছাত্রীশালাযাম্"
>পাণিনি ৬.২.৭৬

ব্রহ্মচারিনী ছাত্রীদের নারী শিক্ষক উপদেষ্টির উল্লেখ পাওয়া যায় ঋগ্বেদ ১.৩.১১,১০.১৫৬.২ প্রভৃতিতে।

"চেতন্তি সুমতিনাম যজ্ঞম দধে সরস্বতী"
>ঋগ্বেদ ১.৩.১১
এখানে নারী শিক্ষিকাকে জ্ঞানদাত্রী ও প্রেরনাদাত্রীরুপে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

পবিত্র বেদ ও শতপথ ব্রাহ্মনে আমরা দেখতে পাই যে কিভাবে গার্গী,মৈত্রেয়ী,অত্রেয়ী,বাক,অপালাসহ বিভিন্ন নারীরা ব্রহ্মচর্য পালনের মাধ্যমে ঋষি পর্যায়ে উন্নীত হন।

উত্তররামচরিতমানস এর ২.৩ এ পাওয়া যায় ঋষিনী অত্রেয়ী বলছেন,
"এই অঞ্চলে অগস্ত্যসহ অনেক বিখ্যাত মহর্ষি আছেন।আমি মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রম থেকে এখানে এসেছি তাঁদের কাছ থেকে বেদ অধ্যয়ন করতে।"

“ওঁ শুদ্ধ পুত যোসিত যজ্ঞিয়া ইমা ব্রাহ্মনম হস্তেষু প্রপ্রতক সদায়মি।
যত্‍কামা ইদমাভিসিন্চমি বো হামিন্দ্রো মরুত্বন্স দদাতু তন্বে।। ওঁ”

অর্থাৎ আমার সকল কন্যাগন পবিত্র,ধর্মনিষ্ঠ,সকল ধর্মানুষ্ঠান(যজ্ঞাদি) পালনে যোগ্য।তাঁরা সকলে পবিত্র বেদ মন্ত্র নিষ্ঠার সহিত পাঠ করবে।তাঁদের সকলে বিদ্বান গুরুর নিকট বিদ্যালাভ করবে।ঈশ্বর তাদের নৈবেদ্য গ্রহন করবেন।

এর চেয়ে সুস্পষ্ট প্রমান আর কি হতে পারে বৈদিক শাস্ত্রে নারীদের উপনয়ন তথা ব্রহ্মচর্য পালনের?





সনাতন বৈদিক ধর্ম এমন একটি ধর্ম যার প্রধান ধর্মগ্রন্থের প্রাপক ও প্রচারকদের মহামনিষীদের মধ্যে নারী ঋষিকাগন ছিলেন যা পৃথিবীর অন্য কোন রিলিজিয়ন(ধর্ম একটিই,বৈদিক ধর্ম,বাকীগুলো মার্গ) এর পক্ষে চিন্তা করাও অসম্ভব।চলুন দেখে নেই পবিত্র বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে কিছু শ্রদ্ধেয় নারী ঋষিকার নাম-

১>ঘোষা(ঋগ্বেদ দশম মন্ডলের ৩৯-৪১ নং সুক্তের দ্রষ্টা,ঋষি কক্ষিবান এর কন্যা)
২)লোপামুদ্রা,৩)মৈত্রেয়্‌ ৪)গার্গেয়ী,৫)পৌলমী,৬)রোমশা ,৬)অপাল,৭)বাক(ঋগ্বেদের বিখ্যাত দেবীসুক্তের দ্রষ্টা),৮)অপত,৯)কত্রু,১০)বিশ্ববর,১১)জুহু,১২)ভগম্ভ্রীনি (মহর্ষি অম্ভ্রন এর কন্যা,ঋগ্বেদের অষ্টম মন্ডলের ১২৫ নং সুক্তের দ্রষ্টা),১৩)যরিতা,১৪)শ্রদ্ধা,১৫)উর্বশী,১৬)স্বর্ণগা,১৭)ইন্দ্রানী,১৮)সাবিত্রী,১৯)দেবায়নী,২০)নোধা,২১)আকৃষ্ভাষা,২২)শীকাতনবাবরি,২৩)গণ্পায়নী,২৪)মন্ধত্রী২,৫)গোধ,২৬)কক্ষিবতী,২৭)দক্ষিনা,২৮)অদিতি,২৯)রাত্রি(মহর্ষি ভরদ্বাজের কন্যা,৩০)শ্রীলক্ষ

এ প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের এই কথা গুলো খুব  গুরুত্বপূর্ণ, " ........ সাধারনের ভেতর আর মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার না হলে কিছু হবার জো নেই । সেজন্য আমার ইচ্ছা কতকগুলি ব্রহ্মচারী ও ব্রহ্মচারিণী তৈরি করব। ......ব্রহ্মচারিণীরা মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার করবে। কিন্তু দেশী ধরণে ঐ কাজ করতে হবে। পুরুষদের জন্য যেমন কতকগুলি শিক্ষাকেন্দ্র করতে হবে, মেয়েদের শিক্ষা দিতেও সেইরুপ কতকগুলি কেন্দ্র করতে হবে। শিক্ষিতা ও সচ্চরিত্রা ব্রহ্মচারিণীরা ঐ সকল কেন্দ্রে মেয়েদের শিক্ষার ভার নেবে। পুরান, ইতিহাস, গৃহকার্য, শিল্প, ঘরকন্নার নিয়ম ও আদর্শ চরিত্র গঠনের সহায়ক নীতিগুলি বর্তমান- বিজ্ঞানের সহায়তায় শিক্ষা দিতে হবে। ছাত্রীদের ধর্মপরায়ন ও নীতিপরায়ণ করতে হবে। কালে যাতে তারা ভাল গিন্নি তৈরি হয়, তাই করতে হবে। এই সকল মেয়েদের সন্তানসন্ততিগণ পরে ঐ সকল বিষয়ে আরও উন্নতি লাভ করতে পারবে। যাদের মা শিক্ষিতা ও নীতিপরায়ণা হন, তাদের ঘরেই বড়লোক জন্মায়। ... মেয়েদের আগে তুলতে হবে, জনসাধারণকে জাগাতে হবে; তবে তো দেশের কল্যাণ।
ধর্ম, শিক্ষা, বিজ্ঞান, ঘরকন্না, রন্ধন, সেলাই, শরীরপালন এ- সব বিষয়ে স্থুল মর্মগুলোই মেয়েদের শেখানো উচিত। ......সব বিষয়ে চোখ ফুটিয়ে দিতে হবে। আদর্শ নারী চরিত্রগুলি ছাত্রীদের সামনে সর্বদা ধরে উচ্চ ত্যাগরূপ ব্রতে তাদের অনুরাগ জন্মে দিতে হবে। সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী, লীলাবতী, খনা, মীরা এদের জীবনচরিত্র মেয়েদের বুঝিয়ে দিয়ে তাদের নিজেদের জীবন ঐরূপে গঠন করতে হবে।
.........বৈদিক যুগে, উপনিষদের যুগে দেখতে পাব- মৈত্রেয়ী গার্গী প্রভৃতি প্রাতঃস্মরণীয়া মেয়েরা ব্রম্মবিচারে ঋষিস্থানীয়া হয়ে রয়েছেন। হাজার বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের সভায় গার্গী সগর্বে যাজ্ঞবল্ককে ব্রম্মবিচারে আহবান করেছিলেন।.........মেয়েদের পূজা করেই সব সব জাত বড় হয়েছে। যে দেশে, যে জাতে মেয়েদের পূজা নেই, সে দেশ সে জাত কখনও বড় হতে পারেনি, কস্নিন কালে পারবেও না। তোদের জাতের যে এত অধঃপতন ঘটেছে, তার প্রধান কারণ এইসব শক্তিমূর্তির অবমাননা করা। .........যেখানে স্ত্রীলোকের আদর নেই, স্ত্রীলোকেরা নিরানন্দে অবস্থান করে, সে সংসারে- সে দেশের কখন উন্নতির আশা নেই(মনু সংহিতা); এজন্য এদের আগে তুলতে হবে- এদের জন্য আদর্শ মঠ স্থাপন করতে হবে।"

অথচ ভন্ড পৌরানিক পুরোহিতগন পুরুষতন্ত্র কায়েম করতে একসময় নারীদের শাস্ত্রপাঠ বন্ধ করে দিয়েছিল,সতীদাহের মত জঘন্য প্রথা চালু করেছিল।আসুন,বেদের শুভ্র,অনন্য পথ অনুসরন করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করি।

বেদের চিরন্তন সত্য পৌঁছে দিন সকলের মাঝে!

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2014/01/blog-post_22.html#sthash.rj8wRraM.dpuf
Share:

বেদ ও বিজ্ঞান by নিলয় দাস

পৃথিবী ও গ্রহসমূহের গতি ও মধ্যাকর্ষন শক্তি
স্যার আইজাক নিউটন ও অন্যান্য অনেক বিজ্ঞানীদের কল্যানে আজ এ তত্ত প্রতিষ্ঠিত যে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে।কিন্তু এরও হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীর প্রাচীনতম এবং পবিত্রতম ধর্মগ্রন্থ বেদ এ সম্পর্কে কি বলেছে তার কিছু নমুনা দেখে নেয়া যাক।
ঋগবেদ ১০.২২.১৪
অহস্ত য়দপদি(য়দ-অপদি)
বরধত খ শচীবির
বেদ্যানাম । সুষমপরি প্রদক্ষিনিত্‍ বিশ্যব্যে নি সিস্নাথা।।
অনুবাদ-
"পৃথিবীর নেই হস্ত বা পদ,তবুও তা গতিশীল।এর উপর অবস্থিত বস্তুসমূহ ও এটার সাথে গতিশীল।এটি সূর্যের চারদিকে ঘূর্নায়মান।"
এখানে,
অহস্ত-হাতহীন
অপদ-পাহীন
খ-পৃথিবী
বরধত-গতিশীল
শুষুনাম পরি-উপরিস্থিত বস্তুসমূহ।
ঋগবেদ ১০.১৪৯.১
সবিতা যন্ত্রেহ পৃথিবী- মরামদক্ষম্ভলে(পৃথিবীম-অরামদ) সবিতা
দ্যমধত(দ্যম অধ্যত)।
অশ্বমিবাদুক্ষদ( অশ্বম-ইব-অধুক্ষত) ধুনিম অন্তরীক্ষ মতুরতেবাধ
য় সবিতা সমুদ্রম।।
অনুবাদ-
"সূর্য তার পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহকে তার আকর্ষনশক্তির সাহায্যে বেধে রেখেছে।এটার চারপাশে সেগুলো ঘূর্নায়মান ঠিক যেমন প্রশিক্ষক এর চারপাশে প্রশিক্ষনরত অশ্ব বলগা দিয়ে ঘোরে।"
এখানে,
সবিতা-সূর্য
যন্ত্রেহ-বলগা
পৃথিবীম-পৃথিবী
অরামদ-বেধে রাখা
দ্যম অধ্যত-অন্য গ্রহসকল
অশ্বম-ইব-অধুক্ষত-ঠিক যেন ঘোড়ার মত
ঋগবেদ ৮.১২.২৮
"হে ঈশ্বর,তোমার শক্তিবলে যাতে রয়েছে আকর্ষন এবং গতিরক্ষমতা,তার মাধ্যমে তুমি সারা জগতে রেখেছ ভারসাম্যপূর্ন"
ঋগবেদ ১.৩৫.৯
হিরস্যপানি সবিতা বিকারসভির উভে দ্যবা পৃথিবী অন্তর ইযতে।
অপমিবাম বাধাতে য়েতি
সূর্যম অভি কষ্নেন রাজস ধ্যম য়োতি॥
অনুবাদ-
"সূর্য নিজপথে ঘোরে এবং তা পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহসমূহকে আকর্ষনশক্তি দ্বারা এমন উপায়ে চালিত করে যাতে তাদের একে অপরের সাথে সংঘর্ষ না হয়"
যজুর্বেদ ৩৩.৪৩
"সূর্য ঘুরছে তার নিজ কক্ষপথে সাথে নিয়ে সকল গ্রহকে আকর্ষনশক্তির বলে"
ঋগবেদ ১.১৬৪.১৩
"সূর্য ঘোরে তার নিজ কক্ষপথে এবং এর আকর্ষনশক্তির প্রভাবে অন্যান্য গ্রহসমূহ ও ঘোরে কারন সূর্য তাদের তুলনায় অধিক ভারী(মহাকর্ষ এর উপর ভর-শক্তি সমীকরন এর প্রভাব)


বেদ ও তড়িত্‍শক্তি
অথর্ববেদ বিভিন্ন প্রায়োগিক বিদ্যার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ তা আমরা সবাই জানি।দেখে নেয়া যাক তড়িত্‍ শক্তি সম্পর্কে পবিত্র এই জ্ঞানের উত্‍স কি বলেছে-

অথর্ববেদ ২০/৭/২
"নব য়ো নবতি পুরো বিভেদ
বাহভোত জাসা অহি ছ
বৃত্রাহাভদিত"
অনুবাদ-
বিদ্যুত্‍ যা এর বাহুর(ইলেকট্রন এবং প্রোটন)সাহায্যে পদার্থকে ৯৯টি শাখায় বিভক্ত করে যেসকল সূর্যালোকে অবস্থান করে।
এখানে আধুনিক বিজ্ঞানীদের কর্তৃক বর্ণিত ৯৯টি কনা যা সকল পরমানুর তড়িত্‍ ভাঙ্গন এর ফলে সৃষ্ট তা বলা হয়েছে।উল্লেখ্য যে এদের প্রত্যেকটিকে সূর্যকর্তৃক বিকীর্ন অতিবেগুনী রশ্মি তে পাওয়া যায়।

অথর্ববেদ ২০/০৭/৩
"সন ইন্দ্রঃ শিবাঃ য়ক্ষবাদ গোমদববম উরধারেব দোহাতে"
অনুবাদ-এই অসাধারন শক্তি আমাদের বন্ধু হতে পারে যার মাধ্যমে আমরা আমাদের বাড়িঘর আলোময় করে তুলতে পারি,পারি শস্যক্ষেত্রে কাজে লাগাতে।

অথর্ববেদ ২০.৭.৪
"ইন্দ্র নতুবিদন্ধ সুতং সোমাং হর্য পুরুষ্তুতে পিবা বৃহসত্‍ ততৃপিম"
অনুবাদ-জ্ঞানীদের পরামর্শ অনুসারে আমরা একে কাজে লাগাতে পরি দ্রব্যাদি সংরক্ষনে(রেফ্রিজারেটর) তাদের মাধ্যমে যারা এতে দক্ষ।এটিকে নিরাপদে ব্যবহার করি যাতে এটি বিপদ সৃষ্টি না করে।

অথর্ববেদ ২০.৩.১
"বজ্রিনেম সন্দিনাম সোম্যমমদ ইন্দ্রম রথে বহতা হর্যতাহরি পুরুনাস্ময় সবনানি হর্যাতা ইন্দ্রারা সোমা হারায়ো দধিবীরে"
অনুবাদ-সেই দ্রুত গতিশীল দুই বস্তু(ইলেকট্রন ও প্রোটন) যার আকর্ষন ও বিকর্ষন ক্ষমতা আছে তা বিদ্যুত্‍ চালনা করে।এটি বজ্রের ন্যয় শক্তিশালী,আমাদের উপকারী।এটি উত্‍পন্নের জন্য রয়েছে তরল উত্‍স(বিদ্যুত্‍ উত্‍পন্নের তরল জ্বালানী)
অথর্ববেদ ২০.৩.২
"আড়ং কামোয়ো হর্যো দধীনবীরে স্থিরানো হিন্বানোহায়াযো হরি তুরা অর্বধ্বিয়র হরিবিজোড়সামিয়াত ে স অস্য কামাম হরিবন্তমানসে"
অনুবাদ-সেই দুই গতিশীল শক্তি দুই দিকে গতিশীল(ইলেকট্রন ও প্রোটন এর বিপরীত দিকে গতি) যার মাধ্যমে উত্‍পন্ন শক্তিকে আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারি।
এছাড়া বিদ্যুত্‍ এর আরো বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে -
তৈত্তিরীয় উপনিষদ ৭.৩.২
এ জলবিদ্যুত্‍
তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.৩.২ এ তাপবিদ্যুত্‍
ঋগবেদ ১.৩২.১৩ এ মেঘে মেঘে ঘর্ষনের ফলে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদনের উল্লেখ
ঋগবেদ ১.৬.৫ এ বায়ুর মাধ্যমেবিদ্যুত্‍ শক্তি উত্‍পাদন
ঋগবেদ ১.১৬৮.৮ এ বলা হয়েছে যখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ে তখন নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয় আর সেই গতিময় জল থেকে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদন সম্ভব।
ঋগবেদ ৫.৮৭.১০
এ শব্দ বড় করতে বিদ্যুতের ব্যবহার(মাইক্রো ফোন)
বিদ্যুত্‍ এর ব্যবহার আরো পাবেন
ঋগবেদ ৫.৫৪.১১
৫.৫২.৬
৩.১.১৪
৫.৮৬.১৩
ধন্যবাদ সকলকে,নমস্কার।(বিঃদ্রঃ পবিত্র অথর্ববেদের অনুবাদ নেয়া হয়েছে শ্রী দেবীচাঁদ এর অনুবাদ থেকে)
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/08/blog-post_13.html#sthash.1WaTl1gY.dpuf
Share:

বেদে জল সম্পর্কে কি বলা হয়েছে

ভূপৃষ্ঠের ৭০.৯ শতাংশই হল জল। পৃথিবীতে যাবতীয় জীবনের লক্ষণ প্রকাশের জন্যে জল অপরিহার্য। পৃথিবীতে পাওয়া বেশিরভাগ জলই সাগর বা মহাসাগরের। এছাড়াও ভূপৃষ্ঠের নীচের ভৌমজল (প্রায় ১.৬ শতাংশ) এবং খুবই নগন্য পরিমাণে (০.০০১ শতাংশ) বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প, মেঘ ও অধঃক্ষেপ পৃথিবীতে জলের অন্যতম উৎস। সমুদ্রের জলই ভূপৃষ্ঠে পাওয়া জলের মূল উৎস (প্রায় ৯৭ শতাংশ); এছাড়া হিমবাহ ও মেরুদেশীয় বরফ (প্রায় ২.৪ শতাংশ) এবং নদী, হ্রদ ও জলাশয় ভূপৃষ্ঠের জলের অন্যতম উৎস (প্রায় ০.৬ শতাংশ)। ভূপৃষ্ঠে পাওয়া জলের খুব সামান্য অংশ বিভিন্ন জীবদেহ এবং তা থেকে উৎপন্ন পদার্থগুলিতে থাকে।

বেদে জল সম্পর্কে কি বলা হয়েছে তা দেখে নেইঃ
(ঋগ্বেদ ১০।৯ এবং অথরববেদ ১।৫)
১। শক্তির উৎসঃ
आपो हि ष्ठा मयोभुवस्ता न ऊर्जे दधातन | महेरणाय चक्षसे || ऋ10.9.1, अथर्व 1.5.1
এই জগতকে সুন্দর করে গড়ে তোলার ক্ষমতা জলের আছে।
২। খাদ্যগুণঃ
यो वः शिवतमो रसस्तस्य भाजयतेह नः | उशतीरिवमातरः || ऋ10.9.2,अथर्व 1.5.2
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জল আমাদের পুষ্টি দেয় ঠিক যেমন নবজাতক মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি পায়।
৩। জীবন গুনঃ
तस्मा अरं गमाम वो यस्य क्षयाय जिन्वथ | आपोजनयथा च नः ||ऋ10.9.3, अथर्व 1.5.3
জলের ভিতরের জীবন্ত জিনিষ মানুষের জীবনশক্তি বাড়ায়।
৪। জলের পবিত্র গুণঃ
शं नो देवीरभिष्टय आपो भवन्तु पीतये | शं योरभि सरवन्तु नः || ऋ10.9.4, अथर्व 1.6.1
জলের পবিত্র গুণ যেন আমাদের শান্তি ও উন্নতি দান করে। আমাদের রোগশোক থেকে মুক্তি ও সুরক্ষা করুক।
৫। জলের চিকিৎসা গুণঃ
ईशाना वार्याणां कषयन्तीश्चर्षणीनाम | अपोयाचामि भेषजम || ऋ10.9.5, अथर्व 1.5.4
জলের রোগমুক্তি ক্ষমতা আছে। আমরা যেন তা জানতে পারি।
৬। अप्सु मे सोमो अब्रवीदन्तर्विश्वानि भेषजा | अग्निं चविश्वशम्भुवम ||ऋ10.9.6 अथर्व 1.6.2
জলের রোগমুক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য দানের ক্ষমতা আছে।
৭। आपः पृणीत भेषजं वरूथं तन्वे मम | ज्योक चसूर्यं दृशे || ऋ10.9.7, अथर्व 1.6.3
জলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দিরায়ু দানের ক্ষমতা আছে।
যজুর্বেদ হতেঃ
श्वात्रा: पीता भवत यूयमापो अस्माकमान्तरुदरे सुशेवा: | ता अस्मभ्यमयक्ष्मा अनमीवा अनागस: स्वदन्तु देवीरमृता ऋतावृध: || यजु: 4.12
যখন আমি জলপান করি,আমার পাকস্থলীতে, সাথে সাথে আমাকে অত্যন্ত দ্রুত ভালোলাগার অনুভূতি দেয়। আমি যা পান করি তা যেন আমার রোগমুক্তি ঘটায়, স্বসাদু হয় এবং আমাকে সতেজ করে যাতে আমার গুণাবলী বিকশিত হয়।
इदमापः प्र वहत यत किं च दुरितं मयि | यद्वाहमभिदुद्रोह यद व शेप उतानृतम || ऋ10.9.8, AV 7.89.3
এই প্রবাহমান জলধারা যেন আমার মনের সকল কালিমা ধুয়ে নিয়ে যায় আবর্জনার মত।
आपो अद्यान्वचारिषं रसेन समगस्महि | पোধ स्वानग्ना गहि तं मा सं सृज वर्चसा ||ऋ10.9.9
জলদূষণ রোধ কর জাতে রোগ না ছড়ায়।
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/04/blog-post_5338.html#sthash.igJpfBB3.dpuf
Share:

বেদে কোনো বর্ণভেদ নেই

এটা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক যে, যে বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ে বেদ হলো সমাজের মূল ভিত্তি, সেখানে আমরা ভুলেই গেছি বেদের মূল শিক্ষাগুলো এবং নিজেদেরকে নানা ভুল-ভ্রান্তিসমূহের ধারণায় জড়িয়ে ফেলেছি যেমন, জন্মগত caste system-সহ নানারকম বৈষম্য। এরকম বিপথগামী চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা আমাদের সমাজকে ভীষণ ক্ষতিসাধন করেছে এবং বৈষম্যের সূত্রপাত ঘটিয়ে দিয়েছে। দলিত নামক জাতিচ্যুত ব্যক্তিদের আমরা দূরে ঠেলে দিয়েছি এবং এর ফলে আমাদের উন্নতি ও প্রগতির বিকাশ স্থবির হচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে হিন্দু সমাজের মূলে গিয়ে বেদকে জানা - যার ফলে আমরা আমাদের মধ্যে ভাঙা সম্পর্কগুলো পুনরায় স্থাপণ করতে পারব।

এই লেখায় আমরা চেষ্টা করব বেদ অনুযায়ী আমাদের caste system সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটন করার এবং শূদ্রের আসল অর্থ খোঁজার।

১।
প্রথমত, কোনো প্রকার হিংসা বা বৈষম্যের স্থাণ নেই বেদে যেকোনো ব্যক্তি সম্পর্কে - সে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, বা শূদ্র কিনা।

২।
Caste system প্রায় নতুন। বেদে কোনো শব্দ নেই যার অর্থ বর্ণ/জাতি হতে পারে। আসলে, caste, জাতি আর বর্ণ এগুলো এক একটি এক এক অর্থ বহন করে।

Caste হলো একটি ইউরোপীয় নবধারা যার সাথে বৈদিক সংস্কৃতির কোনো সামঞ্জস্যতা নেই।

জাতি

'জাতি'র অর্থ হচ্ছে এক শ্রেণীভুক্তকরণ যার উৎস হচ্ছে জন্মে। ন্যায় সূত্র বলেছে "সমানপ্রসাভাত্মিকা জাতিহ্‌" অথবা তারা যাদের একইপ্রকার জন্মসূত্র যা এদেরকে একটি জাতিতে সমষ্টিবদ্ধ করে।
একটি প্রাথমিক আরো বড় শ্রেণীভুক্তকরণ ঋষিদের দ্বারা করা হয়েছে চারভাবে: উদ্ভিজ (অর্থাৎ গাছপালা), আন্ডাজ (অর্থাৎ ডিম থেকে যার উৎপত্তি যেমন পাখি এবং সরীসৃপ), পিন্ডজ (স্তন্যপায়ী), উষ্মজ (তাপমাত্রা বা পরিবেষ্টনকারী আবহাওয়ার জন্য যার জন্ম যেমন ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ইত্যাদি)।
তেমনিভাবে নানাপ্রকার পশুসমূহ যেমন হাতি, সিংহ, খরগোশ ইত্যাদি তৈরি করে এক ভিন্ন 'জাতি'। একইভাবে সমস্ত মানবকুল তৈরি করে একটি 'জাতি'।
একটি নির্দিষ্ট জাতির থাকবে একই ধরনের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য যারা সেই জাতি থেকে আরেক জাতিতে পরিবর্তিত হতে পারবে না এবং ভিন্ন জাতির বাচ্চা প্রসব করতে পারবে না। অর্থাৎ, জাতি হচ্ছে ঈশ্বরের সৃষ্টি।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রেরা কোনোভাবেই ভিন্ন জাতি নয় কারণ তাদের মধ্যে জন্ম সূত্রগত বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগত কোনো পার্থক্য নেই যা তাদেরকে ভিন্ন করবে।
পরবর্তীতে 'জাতি' শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে যেকোনো প্রকার শ্রেণীভেদকরণের জন্য। তাই সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন ভিন্ন সমাজকেও ভিন্ন ভিন্ন 'জাতি' হিসেবে আখ্যা দেই। কিন্তু এ শুধু ব্যবহারের সুবিধার জন্য। আসলে আমরা মানবকুল এক জাতিরই অংশ।

বর্ণ

প্রকৃত যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র বোঝাতে তা হলো 'বর্ণ' ('জাতি' নয়)।
'বর্ণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এই চারকে বোঝাতেই নয়, বরং দস্যু ও আর্যদেরকেও।

'বর্ণ' অর্থ হচ্ছে তাহাই যাহা গ্রহণ করা হয় পছন্দের দ্বারা। তাই, যেখানে 'জাতি' ঈশ্বর দ্বারা প্রদত্ত, 'বর্ণ' হচ্ছে আমাদের নিজস্ব পছন্দগত।

যারা আর্য হতে পছন্দ করে তাদের বলা হয় 'আর্য বর্ণ'। তেমনি যারা দস্যু হতে পছন্দ করে, তারা হয় 'দস্যু বর্ণ'। একইভাবে হয় ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র।

এই কারণেই বৈদিক ধর্মকে বলা হয় 'বর্ণাশ্রম ধর্ম'। বর্ণ শব্দটি ইঙ্গিত করে যে এটির ভিত্তি হচ্ছে নিজ পছন্দকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া ও যোগ্যতা অনুসারে পরিচালিত ব্যবস্থাকে অনুমোদন দেয়া।

৩।
যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত, তারা পছন্দ করেন 'ব্রাহ্মণ বর্ণ'। যারা প্রতিরক্ষা, যুদ্ধ-বিগ্রহ পছন্দ করেন, তারা হন 'ক্ষত্রিয় বর্ণ'। যারা অর্থনীতি ও পশুপালনাদি পছন্দ করেন তারা হন 'বৈশ্য বর্ণ' এবং যারা নিয়োজিত আছেন অন্যান্য সেবামূলক কাজ-কর্মে, তারা হন 'শূদ্র বর্ণ'। এসব শুধু বোঝায় নানা ধরনের পছন্দ যেসব মানুষজন তাদের কর্মের জন্য নির্বাচন করেন এবং এর সাথে 'জাতি' বা জন্মের কোনো সম্পর্ক নেই।

৪।
পুরুষ সুক্তের অন্যান্য মন্ত্রসমূহ উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, ব্রাহ্মণ এসেছে ঈশ্বরের মুখ থেকে, ক্ষত্রিয় হাত থেকে, বৈশ্য উরু থেকে এবং শূদ্র পা থেকে। সেইভাবে এইসব বর্ণসমূহ জন্মগত। কিন্তু কোনোকিছুই এর চেয়ে বেশী ভ্রান্তিজনক হতে পারে না। আসুন দেখি কেন:

(অ)
বেদ ঈশ্বরকে বর্ণনা করে আকারহীন ও অপরিবর্তনশীল হিসেবে। এমন ঈশ্বর কিভাবে বিশাল আকৃতির মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে যদি তিনি আকারহীনই হন? (যজুর্বেদ ৪০.৮)

(আ)
যদি ইহা সত্যিই হয়, তাহলে তাহা বেদের কর্মতত্ত্বের বিরোধীতা করবে। কারণ কর্মতত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির জন্মগত পরিবার পরিবর্তিত হতে পারে তার কর্ম অনুসারে। সুতরাং একজন ব্যক্তি যে শূদ্র পরিবারে জন্ম নেয়, পরের জন্মে এক রাজার পরিবারে জন্ম নিতে পারে। কিন্তু যদি শূদ্রেরা ঈশ্বরের পা থেকে এসে থাকে, তাহলে সেই একই শূদ্র ঈশ্বরের হাত থেকে কিভাবে জন্ম নেয়?

(ই)
আত্মা হলো সময়হীন এবং কখনো জন্ম নেয় না। সুতরাং আত্মার কখনোই কোনো বর্ণ হতে পারে না। এ শুধুমাত্র যখন আত্মা জন্ম নেয় মনুষ্য হিসেবে তখনই এর সুযোগ থাকে বর্ণ বেছে নেবার। তাহলে বর্ণ দ্বারা কি বোঝানো হয় যা ঈশ্বরের একাংশ হতে আসে? যদি আত্মা ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম না নিয়ে থাকে, তাহলে কি এই বোঝায় যে আত্মার দেহ তৈরি হয়েছে ঈশ্বরের দেহের অংশ থেকে? কিন্তু বেদ অনুযায়ী, এমনকি প্রকৃতিও চিরন্তন। এবং এই একই অনু-পরমানু পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে নানা মনুষ্যের মধ্যে। তাই কৌশলগতভাবে ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম নেয়া কারো পক্ষে অসম্ভব, এমনকি আমরা যদি ধরেও নেই ঈশ্বরের দেহ আছে।

(ঈ)
উপরে উল্লেখ করা পুরুষ সুক্ত রয়েছে যজুর্বেদের ৩১তম অধ্যায়ে (এবং ঋগবেদ ও অথর্ববেদ বাদে যেগুলোতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যজুর্বেদে এ হচ্ছে ৩১.১১)। প্রকৃতভাবে এর অর্থ কি তা বোঝার জন্য, আসুন দেখি এর আগের মন্ত্রের দিকে লক্ষ্য করি ৩১.১০।
এতে প্রশ্ন করা হয়েছে - কে মুখ? কে হাত? কে উরু আর কেই বা পা?
এর পরের মন্ত্র এর উত্তর দিয়েছে - ব্রাহ্মণ হলো মুখ, ক্ষত্রিয় হলো হাত, বৈশ্য হলো উরু এবং শূদ্র হলো পা।
লক্ষ্য করুন, মন্ত্রটি কিন্তু বলছে না ব্রাহ্মণ "জন্ম নেয়" মুখ থেকে...এটি বলছে ব্রাহ্মণ "হলো" মুখ।
কারণ যদি মন্ত্রটির অর্থ হতো "জন্ম নেওয়া" তাহলে এটি উত্তর দিত না আগের মন্ত্রের প্রশ্নটির "কে মুখ?"
যেমন, যদি আমি প্রশ্ন করি "দশরথ কে?" উত্তরটি যদি হয় "রাম জন্ম নেন দশরথের ঘরে" তাহলে তা হবে অর্থহীন।

প্রকৃত অর্থ হচ্ছে:
সমাজে ব্রাহ্মণ বা বুদ্ধিজীবিরা তৈরি করে মস্তিষ্ক বা মাথা বা মুখ যা চিন্তা করে এবং বলে। ক্ষত্রিয় বা রক্ষণকর্মীরা তৈরি করে হাত যা রক্ষা করে। বৈশ্য বা উৎপাদনকারীরা এবং ব্যবসায়ীরা তৈরি করে উরু যা ভার বহন করে এবং যত্ন করে (লক্ষ্য করুন উরুর হাড় অথবা উর্বাস্থি তৈরি করে রক্ত এবং এ হচ্ছে দেহের সবচেয়ে শক্ত হাড়)। অথর্ববেদে উরুর বদলে "মধ্য" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ বোঝায় পাকস্থলী এবং দেহের মধ্যের অংশ।

শূদ্র বা শ্রমিকেরা তৈরি করে পা যা কাঠামোটিকে দাঁড় করায় এবং দেহকে চলতে সক্ষম করে।
পরবর্তী মন্ত্রগুলো আলোচনা করেছে অন্যান্য দেহের অংশ সম্পর্কে যেমন - মন, চোখ ইত্যাদি। পুরুষ সুক্ত বর্ণনা করেছে সৃষ্টির সূত্রপাত এবং তার স্থায়ী থাকা সম্পর্কে যার মধ্যে অন্তর্গত মানব সমাজ এবং বর্ণনা করেছে অর্থপূর্ণ সমাজের উপাদানসমূহকে।
তাই এ ভীষণ করুণ অবস্থা যে এমন সুন্দর সমাজ সম্পর্কে রূপক বর্ণনা এবং সৃষ্টি সম্পর্কিত বর্ণনা বিকৃত হয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে বৈদিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।
এমনকি ব্রহ্ম গ্রন্থগুলো, মনুস্মৃতি, মহাভারত, রামায়ণ এবং ভগবদগীতা বলে নাই কোনোকিছুই যার কাছাকাছি উপপ্রমেয় হতে পারে এমন অদ্ভূত যে ঈশ্বর তৈরি করেছেন ব্রাহ্মণদের তাঁর মুখ হতে মাংস ছিঁড়ে কিংবা ক্ষত্রিয়দের তাঁর হাতের মাংস থেকে বা অন্যান্যসমূহ।

৫।
তাই এটি স্বাভাবিক কেন ব্রাহ্মণরা বেদ অনুসারে সবচেয়ে বেশী সম্মান লাভ করেছে। এমনটিই হচ্ছে আজকের বর্তমান সমাজে। বুদ্ধিজীবিরা এবং অভিজ্ঞরা আমাদের সম্মান অর্জন করেন কারণ তারা তৈরি করেন দিক প্রদর্শনকারী সারা মানবতার জন্য। কিন্তু যেমনভাবে পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, বেদে শ্রমের মর্যাদা সমভাবে জোর দেওয়া হয়েছে এবং এই কারণেই কোনো প্রকার বৈষম্যের উপাদান নেই।

৬।
বৈদিক সংস্কৃতিতে সবাইকে ধরা হয় শূদ্র হিসেবে জন্ম। তারপর ব্যক্তির শিক্ষা-দীক্ষা দ্বারা সে পরিণত হয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্যতে। এই শিক্ষা-দীক্ষার পূর্ণতাকে ধরা হয় দ্বিতীয় জন্ম। একারণেই এই তিন বর্ণকে বলা হয় "দ্বিজ" বা দু'জন্মা। কিন্তু যারা রয়ে যায় অশিক্ষিত (যেকোনো কারণেই হোক) তারা সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়। তারা চালিয়ে যায় শূদ্র হিসেবে এবং করে যায় সমাজের সেবামূলক কাজসমূহ।

৭।
এক ব্রাহ্মণের পুত্র, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করতে অসমর্থ হয়, পরিণত হয় শূদ্রে। তেমনিভাবে শূদ্রের পুত্র অথবা এমনকি দস্যু, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করে, তাহলে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় কিংবা বৈশ্য হতে পারে। এ হচ্ছে নির্ভেজাল যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা। যেমনভাবে এখনকার সময়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয়, যজ্ঞপবিত দেয়া হতো বৈদিক নিয়ম অনুসারে। তাছাড়া, আচরণবিধির সাথে অসম্মতি ঘটলে যজ্ঞপবিত নিয়ে নেয়া হতো বর্ণগুলোর।

৮।
বৈদিক ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে বর্ণ পরিবর্তনের -

(ক)
ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রহ্ম এবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রহ্মকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝার জন্য।

(খ)
ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে যিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং নিচু চরিত্রের লোক। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিত হন। (ঐতরেয়া ব্রহ্ম ২.১৯)

(গ)
সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজন ব্রাহ্মণ হন।

(ঘ)
প্রীষধ ছিলেন রাজা দক্ষের পুত্র যিনি পরে শূদ্র হন। পরবর্তীতে তিনি তপস্যা দ্বারা মোক্ষলাভ করেন প্রায়ঃশ্চিত্তের পরে। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৪)
যদি তপস্যা শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ হতো যেমনভাবে উত্তর রামায়ণের নকল গল্প বলে, তাহলে প্রীষধ কিভাবে তা করল?

(ঙ)
নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৩)

(চ)
ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.২.২)

(ছ)
তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ ৯.২.২৩)

(জ)
ভগবদ অনুসারে অগ্নিবেশ্য ব্রাহ্মণ হন যদিও তিনি জন্ম নেন এক রাজার ঘরে।

(ঝ)
রাথোটর জন্ম নেন ক্ষত্রিয় পরিবারে এবং পরে ব্রাহ্মণ হন বিষ্ণু পুরাণ ও ভগবদ অনুযায়ী।

(ঞ)
হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৩.৫)

(ট)
শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৮.১)
এমনকি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
একই ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গ্রীতসমদ, বিতব্য ও বৃৎসমতির মধ্যে।

(ঠ)
মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন।

(ড)
রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(ঢ)
প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(ণ)
ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।

(ত)
বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।

(থ)
বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।

৯।
"শূদ্র" শব্দটি বেদে দেখা গেছে প্রায় ২০ বারের মতো। কোথাও এটি অবমাননাকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথাও বলা হয়নি শূদ্রেরা হলো অস্পর্শযোগ্য, জন্মগতভাবে এই অবস্থাণে, বেদ শিক্ষা হতে অনুনোমোদিত, অন্যান্য বর্ণের তুলনায় নিম্ন অবস্থাণের, যজ্ঞে অনুনোমোদিত।

১০।
বেদে বলা হয়েছে শূদ্র বলতে বোঝায় কঠিন পরিশ্রমী ব্যক্তি। (তপসে শূদ্রম্‌ - যজুর্বেদ ৩০.৫)
একারণেই পুরুষ সুক্ত এদের বলে পুরো মানব সমাজের কাঠামো।

১১।
যেহেতু বেদ অনুযায়ী চার বর্ণসমূহ বলতে বোঝায় চার প্রকারের কর্মকান্ড যা পছন্দের উপর ভিত্তি করে, একই ব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে চার বর্ণের বৈশিষ্ট্য চার ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে। এইভাবে সকলেই চার বর্ণের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সারল্যতার জন্য, আমরা বলি প্রধান পেশাকে বর্ণের পরিচয় হিসেবে। এবং এই কারণে সকল মানুষের উচিত পূর্ণভাবে চার বর্ণ হবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা, যেমনভাবে বেদের জ্ঞান আমাদের বলে। এই হলো পুরুষ সুক্তের সারাংশ।

ঋষি বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, অঙ্গীরা, গৌতম, বামদেব ও কন্ব - এরা সকলেই চার বর্ণের বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তারা বৈদিক মন্ত্রের অর্থ উদ্ভাবন করেছেন, দস্যু দমন করেছেন, দৈহিক শ্রমের কর্ম করেছেন এবং নিজেদেরকে যুক্ত করেছেন সমাজ কল্যাণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায়।
আমাদেরও উচিত এমনটিই হওয়া।

অবশেষে আমরা দেখলাম বৈদিক সমাজ সকল মানুষকে একই জাতি বা গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করে, শ্রমের মর্যাদা বহাল রাখে, এবং সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করে যাতে তারা নিজ নিজ বর্ণ গ্রহণ করতে পারে।
বেদে কোনো প্রকার জন্মগত বৈষম্যের উল্লেখ নেই।
আমরা যেন সকলে একযুক্ত হয়ে একটি পরিবারের ন্যায় একতাবদ্ধ হতে পারি, প্রত্যাখান করতে পারি জন্মগত সকল বৈষম্যকে এবং একে অপরকে ভাই-বোন হিসেবে সদ্ব্যবহার করতে পারি।
আমরা যেন সকল পথভ্রষ্টকারীদের ভুল পথে এগুনো ব্যাহত করতে পারি যারা বেদে বর্ণভেদ সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবী করে এবং দমন করি সকল দস্যু, অসুর, রাক্ষসদের।
আমরা যেন সকলে আসতে পারি বেদের আশ্রয়ে এবং একত্রে কাজ করে মানবতার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করতে পারি এক পরিবার হিসেবে।

সুতরাং বেদ অনুযায়ী কোনো বর্ণভেদ নেই।
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/05/blog-post_6449.html#sthash.68focGBc.dpuf
Share:

হিন্দুরা কি মূর্তিকে ঈশ্বর বলে মনে করে?

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যে যে মৌলিক প্রভেদ দেখা যায় , তা হল - প্রাচ্যবাসীরা অন্তর্জগতের অনুসন্ধানে তাঁদের অধিকাংশ শক্তি ব্যয় করেছেন । প্রাচীন ভারতবর্ষ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রভুত উন্নতি সাধন করা সত্ত্বেও সেগুলোকে ' অপরা বিদ্যা ' বলে চিহ্নিত করে ' পরা বিদ্যা ' অর্থাৎ অন্তর্জগতের সন্ধানে আত্মনিয়োগ করেছিল । অন্তর্জগত-সন্ধানী ঋষিরা ক্রমশঃ এই দৃশ্যমান জগতের অবাস্তবতা অনুধাবন করলেন । এই দৃশ্যমান জগৎ পরিবর্তনশীল , আর যা পরিবর্তনশীল তা নিত্য বা পরম ( absolute ) হতে পারেনা । বিষয়টি বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের relativity তত্ত্বের সাথে তুলনীয় । জগতের ঘটনাগুলি নির্দিষ্ট frame of reference এর সাপেক্ষেই সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে । frame of reference বদলে গেলেই তা অন্যভাবে প্রতিভাত হবে । আমাদের ঋষিগণ খুঁজতে চেয়েছেন এই পরিবর্তনশীল অনিত্যতার পিছনে কি সেই নিত্যবস্তু , যাকে পরম সত্য (absolute truth) বলে নির্দেশ করা যাবে ? এই সন্ধানই ভারতে অধ্যাত্মবিদ্যার জন্ম দিয়েছে । অপরপক্ষে পাশ্চাত্য দেশের মানুষ জড়জগতের রহস্যভেদ করতে গিয়ে জড়বিজ্ঞানে ক্রমশঃ পারদর্শী হয়ে উঠেছে । পাশ্চাত্য সভ্যতা তাই বহির্মুখী এবং প্রাচ্য তথা ভারতীয় সভ্যতা অন্তর্মুখী । ভারতের বেদান্তবাদী ঋষিরা এই ভ্রমাত্মক দৃশ্যমান জড়জগৎকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দৃশ্যমান জড়জগতের কারণ স্বরূপ যে absolute সত্ত্বার সন্ধান পেয়েছেন, তাকে তাঁরা ' সদ্ - চিৎ - আনন্দ ' - এই নামে অভিহিত করলেন । ' সদ্ ' , অর্থাৎ সত্য স্বরূপ বা নিত্য , ' চিৎ', অর্থাৎ চৈতন্য বা জ্ঞানস্বরূপ এবং 'আনন্দ', অর্থাৎ প্রেমস্বরূপ । এই ' সদ্ - চিৎ - আনন্দ ' কে 'ব্রহ্ম' নামেও অভিহিত করা হয় । 'ব্রহ্ম'ই পরম ( absolute ) , 'ব্রহ্ম' ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোনকিছুরই অস্তিত্ব নেই । ব্রহ্মের যেটুকুতে 'সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়' নামক এই পরিবর্তনশীল জগতের ভ্রম সাধিত হচ্ছে , বেদান্ত তাকেই নির্দেশ করল - 'ঈশ্বর' বা 'ভগবান' নামে । ঈশ্বর হলেন এই পরিবর্তনশীল জগৎ চক্রের কেন্দ্র স্বরূপ , আবার তিনিই পরিবর্তনশীল জগৎ রূপে নিজেকে অভিব্যক্ত করছেন । সুতরাং দেখা গেল - ভ্রমাত্মক দৃষ্টিতে যা বহুত্বময় জগৎ , জ্ঞানদৃষ্টিতে তাই ঈশ্বর ।জগৎকে এই ভ্রমাত্মক দৃষ্টিতে দেখার ফলে আমরা নিজেদেরকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গণ্ডিতে আবদ্ধ করে ফেলেছি । '' আমার থেকে অমুক আলাদা '' -এটা ভ্রমাত্মক দৃষ্টির উপলব্ধি । জ্ঞানদৃষ্টিতে আমরা সকলেই একই পরমসত্তা - ঈশ্বরের প্রকাশ । আমাদের এই প্রকৃত 'আমিত্বের' সন্ধান পেয়েছিলেন প্রাচীন ভারতবর্ষের আর্য ঋষিগণ তাঁদের সাধনার মধ্যে দিয়ে । জন্ম হয়েছিল বিশ্বের প্রাচীনতম আধ্যাত্মিক দর্শনের । পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ যখন অজ্ঞানের মোহনিদ্রায় আচ্ছন্ন , সেই সুপ্রাচীন অতীতে হিমালয় শিখরে ধ্বনিত হয়েছিল - '' শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্যপুত্রাঃ । আ যে ধামানি দিব্যানি তস্থু ।। বেদাহমেতাং পুরুষং মহান্তম্ । আদিত্য বর্ণং তমসো পরস্তাৎ ।। ত্বমেব বিদিত্বাহতি মৃত্যুমেতি । নান্যং পন্থা বিদ্যতেহনায় ।। '' এই আমাদের সনাতন চেতনা - সনাতন ধর্ম , যার বর্তমান প্রচলিত নাম ' হিন্দু ধর্ম ' । বিশ্বে এমন কোনও ধর্মমত নেই যার মূল ভাব সনাতন ধর্মে নেই । সুতরাং ঐতিহাসিক বিচারে সনাতন হিন্দুধর্ম সকল ধর্মের উৎস । যুগে যুগে এই ধর্মের রক্ষার্থে যুগপুরুষগণ আবির্ভূত হন , তাঁদের পুণ্য প্রভাবে সনাতন ধর্ম নতুন ভাবে নতুন শক্তিতে জেগে ওঠে । এই ধর্ম তাই চিরন্তন , আর যা চিরন্তন তাই তো শাশ্বত বা সনাতন ।হিন্দু ঋষিগণ ধর্মপথ নির্দেশের সময় মানুষের রুচি ও ক্ষমতার ভিন্নতার কথা চিন্তা করেছেন , তাই মূর্তি পূজা থেকে শুরু করে নিরাকার ব্রহ্ম উপাসনা পর্যন্ত সবই হিন্দু ধর্মে স্বীকৃত হয়েছে । বিভিন্ন মাপের মানুষের জন্য একই মাপের পোশাক এই ধর্ম দেয়না । হিন্দুরা নিজ নিজ রুচি ও ক্ষমতার স্তর অনুযায়ী নিজের উপযুক্ত সাধন পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন । উদ্দেশ্য সবারই এক , এবং তা হল - আত্ম জ্ঞান , অর্থাৎ স্ব-স্বরূপ কে জানা ।হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন সাধন পথ গুলিকে মুখ্যতঃ চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে । এগুলি হল জ্ঞান যোগ , কর্ম যোগ , ভক্তি যোগ ও রাজ যোগ ।
জ্ঞান যোগে আত্ম বিশ্লেষণ এবং ' শ্রবণ , মনন ও নিদিধ্যাসনের ' দ্বারা ' নেতি নেতি ' বিচারের মাধ্যমে সাধক লক্ষ্যে উপনীত হন । আচার্য শঙ্কর এই সাধনা প্রচার করেছেন ।
কর্ম যোগে নিষ্কাম কর্ম দ্বারা সকাম কর্ম বন্ধন কেটে সাধক লক্ষ্যে উপনীত হন । ভগবান শ্রী কৃষ্ণ অর্জুন কে কুরুক্ষেত্র প্রান্তরে কর্মযোগে উদ্দীপ্ত করেছেন ।
ভক্তিযোগে প্রেমের বন্ধনে ভক্ত সাধক ঈশ্বরকে ধরার চেষ্টা করেন । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য ( মহাপ্রভু ) এই ভাবের প্রচার করেছেন ।
রাজযোগে ধ্যান , প্রাণায়াম প্রভৃতি শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়ার দ্বারা সাধক স্ব-স্বরূপ লাভ করেন । মহর্ষি পতঞ্জলি এই সাধন পদ্ধতি প্রচার করেছেন ।
"পুতুল পূজা করে না হিন্দু কাঠ মাটি দিয়ে গড়া মৃন্ময়ি মাঝে চিন্ময়ি হেরী হয়ে যাই আত্মহারা" স্বামী বিবেকানন্দের এই কথার মানে বুঝতে পারলে মূর্তিপূজার মানে বোঝা যায়। হিন্দু ধর্মে অজস্র স্তর আছে । প্রতিমা পুজা একটি নিম্নস্তর । সাধারণ মানুষের ধারণা মন দ্বারা সীমায়িত , তাই অনন্তের কল্পনা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব । যার কোনও আকার নেই , তার কোনও সীমা নেই । কোনও ধর্মের মানুষই প্রাথমিক ভাবে সীমাহীন অনন্তের ধারণা করতে পারেনা ।মুসলিমরা পশ্চিম দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে কেন ? কারণ পশ্চিম দিকে মক্কা নামক এক সীমায়িত স্থানে তাদের ঈশ্বরের প্রতীক আছে । অনন্তের ভাব অবলম্বন করতে সক্ষম হলে তাদের আর বিশেষ দিকনির্দেশের দরকার পড়তোনা । কারণ অনন্ত যিনি তিনি তো সর্ব দিকে সমভাবে বিরাজমান । খৃস্টানরা ক্রস বুকে ঝুলিয়ে ঘোরে কেন ? ওটাও একটি প্রতীক যাকে তারা পবিত্র ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করেছে । হিন্দুরা মানব মনের এই সীমাবদ্ধতার কথা জানে , কিন্তু অন্যদের মতো এটাকে এড়িয়ে যায়না । তাই '' নির্বিকল্প - নিরাকার - সচ্চিদানন্দঘন '' ঈশ্বরীয় সত্তার প্রথম আবিষ্কারক হয়েও হিন্দু ঋষিরা মূর্তি পূজার প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করেননি । কোথায় ছিল এইসব সমালোচকদের ধর্ম , যখন আমাদের ঋষিরা এই নির্গুণ নিরাকার ব্রহ্মকে উপলব্ধি করেছেন ? জগতের সমস্ত ঈশ্বরীয় মতবাদই হিন্দুদের কাছ থেকে ধার করা । সুদুর অতীতে সমগ্র জগত যখন অজ্ঞানের আদিম অন্ধকারে ঘুমাচ্ছে তখন ভারতবর্ষের সনাতন ধর্মই আলোকবর্তিকা রূপে মানুষকে এই নিরাকার , অব্যক্ত , সচ্চিদানন্দের দিকে আকৃষ্ট করেছিল ।হিন্দুরা কখনোই প্রতিমাকেই ঈশ্বর মনে করে না। হাস্যকর হলেও সত্য, যারা প্রতিমা ভাংচুর করে তারা প্রতিমাকেই হিন্দুদের ভগবান মনে করে ভাংচুর চালায়। হিন্দুরা মূর্তিকে ঈশ্বরের প্রতীক হিসেবে উপাসনা করে এবং পূজা শেষে জলে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়, কারণ হিন্দুরা জানে প্রতিমা কাঠ-খড়-মাটি ছাড়া কিছু নয়। মূর্তির জীবন আছে -এরকম কখনোই ভাবে না; ভাবে তারাই, যারা মূর্তি ভাংচুর করে। ব্যাপারটা বেশ হাস্যকর আর দুঃখজনকও বটে। (চুপি চুপি বলে রাখি, কোন কোন ধর্মের শাস্ত্রে বলা হয়েছে, মূর্তিপূজকদের আর তাদের মূর্তিগুলোকেও নরকের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। মূর্তিগুলোও নাকি যন্ত্রণায় চিত্কার করবে মূর্তিপূজকদের সাথে!!! হিঃ হিঃ হিঃ খিক্ খিক্।)
কৃতজ্ঞতাঃ
তাপস ঘোষ দাদা এবং মানিক রক্ষিত দাদা
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/05/blog-post_17.html#sthash.ix7YWmS0.dpuf
Share:

পরমাণু সম্পর্কিত বৈদিকবাণী :

পরমাণু সম্পর্কে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত মতবাদটি বিজ্ঞানী ডাল্টনের তবে পরমাণু সম্পর্কিত প্রথম ধারণা দেন গ্রীক দাশর্নিক লুসিপাস ও তাঁর ছাত্র ডেমোক্রিটাস খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দে 

তবে বৈদিক যুগে এরও লক্ষাধিক বছর পূর্বে বলা হয়েছে পরমাণুয় কথা...
"চরম:সদ্বিশেষাণাম অনেক:অসংযুত:সদা ।
পরমাণু:স বিজ্ঞেয়ো নৃণাম্ ঐক্য ভ্রমো যত:॥"
(শ্রীমদ্ভাগবত ৩/১১/১)
অর্থাত্‍,"জড়জগতের যে ক্ষুদ্রতম অংশ অবিভাজ্য এবং দেহরুপে যার গঠন হয় না তাকে পরমাণু বলে।তা সর্বদা তার অদৃশ্য অস্তিত্ব নিয়ে বিদ্যমান থাকে , এমনকি প্রলয়ের পরেও;জড়দেহ এই প্রকার পরমাণুর সম্বনয় কিন্তু সাধারণ মানুষের সেই সমন্ধে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে ॥"

"পরমাণু হচ্ছে ব্যক্ত জগতের চরম অবস্থা ।"-(শ্রীমদ্ভাগবত ৩/১১/২)
ভগবানকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত পরমাণুর স্রষ্টারূপে কল্পনা করা হয়েছে ব্রহ্মসংহিতায় ৫/৩৫ মন্ত্রে
এছাড়া পরমাণু সম্পর্কিত আরও অনেক অনেক মন্ত্রে...

শুভ নন্দ চৌধুরী
সনাতনধর্ম বিষয়ক প্রচার- সম্পাদক ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,
কুষ্টিয়া-বাংলাদেশ
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/05/blog-post_5816.html#sthash.3iq8D3Ar.dpuf
Share:

৩০ মার্চ ২০১৫

সনাতন ধর্ম

জানি না কতটুকু তুলে ধরতে পেরেছিঃ
সনাতন ধর্ম হচ্ছে মহাসাগর বিশেষ। মনে করা যাক পুকুরের ছোট্ট একটি মাছকে মহাসাগরে ফেলে দেয়া হল। মাছটি সারা জীবন পুকুরের ছোট্ট পরিধিতে জীবন অতিবাহিত করেছে। তার কাছে তার ভূবন ততটুকুই (পুকুর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ)। মহাসাগর সম্পর্কে কোন ধারণা লাভ যেমন ছোট্ট মাছের পক্ষে সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি দু-একটি গ্রন্থ পড়ে বা কারো মুখ থেতে শুনে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে ধারণা লাভ সম্ভব নয়। মহাসাগরের সুবিশাল পরিধি সম্পর্কে ধারণা পেতে যেমন নিয়ম মাফিক পদ্ধতিতে অগ্রসর হতে হয়! ঠিক তেমনি সনাতন ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হলে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই অগ্রসর হতে হবে।
অনেকেই মনে করে সনাতন ধর্ম হচ্ছে হিন্দু ধর্ম! মূর্তি বা প্রতিমা পূজায় বিশ্বাসী! আবার অনেকেই সনাতন ধর্মকে ‘হিন্দু ধর্ম’ বলে আখ্যায়িত করে! যা নিত্যান্তই ভুল একটি ধারণা। সনাতন ধর্মের ভিত্তি বৈদিক শাস্ত্রের কোথায়ও ‘হিন্দু’ শব্দটির উল্লেখ নেই। নেই এই জন্য যে, তা আধুনিক কালে (ঊনবিংশ শতাব্দীতে) সৃষ্টি হয়েছে! বা কালক্রমে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সনাতন ধর্মকে ‘হিন্দু ধর্মে’ পরিণত করা হয়েছে! হিন্দু একটি নির্দিষ্ট জাতি! হিন্দু ধর্ম বলতে বোঝায় হিন্দু জাতির ধর্ম! বৈদিক শাস্ত্রের কোথায়ও কোন জাতি, গোষ্ঠী, বর্ণ বা সমাজের ধর্ম হিসেবে সনাতন ধর্মকে অভিহিত করা হয়নি। অভিহিত করা হয়েছে মানব জাতির বা জৈব ধর্ম (জীবের ধর্ম) হিসেবে।
সনাতন ধর্মের প্রকৃত রূপ উন্মোচনের জন্য আমাদের যে ধর্ম গ্রন্থগুলি পাঠ আবশ্যক তা হলো-
১। বেদ-৪টি (ঋকবেদ, সামবেদ, যর্জুবেদ, অথর্ববেদ)
২। উপনিষদ-১০৮টি
৩। গীতা-১টি (৭০০শ্লোক)
৪। ভাগবত-১টি (১৮,০০০শ্লোক)
৫। মহাভারত-১টি (৬০,০০০শ্লোক)
৬। পুরাণ-১৮টি
৭। রামায়ণ-১টি
৮। চৈতন্য চরিতামৃত-১টি
এই গ্রন্থগুলোর পাঠ করলে জানা যাবে সনাতন ধর্মের কলেবর কতো বিশাল আর জ্ঞানগভীর। তবে রামায়ন আর মহাভারতে বৈদিক যুগের ইতিহাস লিপিবদ্ধ। ধর্মের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে আমাদের আশ্রয় নিতে হবে ভাগবতের। তবে উল্লেখিত প্রতিটি গ্রন্থই মহা মূল্যবান আর প্রয়োজনীয়।
মানব জাতির স্বভাব হচ্ছে সহজ এবং সরল বিষয়গুলির প্রতি আসক্ত হওয়া। কঠিন বিষয়বস্তু এড়িয়ে চলা। যা আমাদের সমাজে আমরা পরিলক্ষিত করি। ধর্মের বেলায় ও একই ব্যাপারটি ঘটেছে। এতো বিশাল বৈদিক শাস্ত্রের ধারে কাছে না গিয়ে লোকজন সহজ এবং সরল দেব-দেবীর পূজায় নিজেদের ব্যস্ত রাখে। আর অন্যদিকে আমাদের সমাজের তথাকথিত জন্মগত ব্রাহ্মণ (পুরোহিত বা হোতা) নামধারী ব্যবসায়ীরা তাদের উদর পরিপূর্ণ করার জন্য সমাজে দেব-দেবী পূজার আজ্ঞা দেন। আজ্ঞা বলার কারণ অনেক। সমাজে সহজ সরল মানুষজন তাদের (পুরোহিতদের) অত্যাধিক শ্রদ্ধা ভক্তি করেন। পুরোহিতরা যে সিদ্ধান্ত দেন তা-ই শিরোধার্য হিসেবে ধরে নেন। আমি অনেক নামদারী ব্রাহ্মণের কাছে বৈদিক শাস্ত্র গুলোর নাম শুনতে চাইলে তারা প্রকৃতপক্ষে তা বলতে ব্যর্থ হন। যারা একটি ধর্মের শাস্ত্রীয় গ্রন্থের নাম বলতে অক্ষম, তাদের ব্রাহ্মণ বলার যুক্তি কোথায় আমি বুঝি না! তবে এখনও পুরোহিতদের মধ্যে অনেক জ্ঞানী এবং শাস্ত্রজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি রয়েছেন। তবে তাঁরা কেন চুপচাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যান তা আমার কাছে রীতিমতো বিস্ময়!
দেব-দেবী পূজাকে ভাগবতের আলোকে অপধর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অপধর্ম অর্থ্যাৎ ধর্মের সঠিক রূপ নয়। অপধর্মের অনুসারীরা স্বর্গসুখ আর জড় পৃথিবীতে সুখে থাকার আশায় উপরোক্ত পূজা-পাঠ করেন। যা সনাতন ধর্ম কোনভাবেই প্রকৃত রূপ হিসেবে সমর্থন করে না। প্রকৃত ধর্ম হচ্ছে স্বর্গ-নরক-পৃথিবী সবকিছুর ভালবাসা কাটিয়ে আত্মাকে চিন্ময় জগতে নিয়ে পরম ব্রহ্মের সেবায় নিযুক্ত করা। এখানে শত-সহস্র দেবতা-উপদেবতাদের পূজা-পাঠ করার কোন সুযোগ নেই।
অনেকেই হয়ত ভাবেন আধুনিকযুগে এতো সময় কোথায় ঐ সব গ্রন্থগুলোর পাঠ করার। আবার আর্থিক দিকেরও একটি বিষয় এখানে রয়েছে। দেব-দেবী পূজায় কি অর্থ ও সময় খরচ হয় না! বরং মাত্রাতিরিক্ত খরচ হয় বিভিন্ন পূজানুষ্ঠানে! যার এক পঞ্চমাংশ সময় ও অর্থ খরচ করে সনাতন ধর্মের প্রকৃত রূপের অনুসন্ধান সম্ভব।
Credit:লিটন দেব জয়
Share:

১৮ মার্চ ২০১৫

Vedic Granth

  1. What are Vedic Granth? আমাদের ধর্মিয় গ্রন্থগুলি কি কি তার উপর এই article টা তৈরী করলাম (অনেক ক্ষণ লেগেছে); সূর্য তখন পশ্চিমের আঁকাশে, এখন মধ্যরাত:

১। Veda / Shruti / Samhita: There are four Vedas which are as follows: Rig Veda, Yajur Veda, Sam Veda and Atharva Veda. বেদ চারিটি ঋক্, যজুঃ, সাম ও অথর্ব। 

২। Upved: There are 5 Upveda which are as follows: Ayurveda (Sciences relating to LIFE and MEDICINE, Dhanurveda, Gandharva Veda, Shilpa Veda (Sthapatya Ved), Artha Veda. বেদের আরেক নাম শ্রুতি হলেও, উপবেদের সাথে শ্রুতির কোন যোগ নাই। এই বেদ সাধারণত বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ। সকল বেদেরই উপবেদ আছে। ঋগ্বেদের উপবেদ আয়ুর্বেদ, যজুর্বেদের উপবেদ ধনুর্বেদ, সামবেদের উপবেদ গন্ধর্ববেদ এবং অথর্ববেদের উপবেদ স্থাপত্যবেদ বা শিল্প বেদ। সর্বশেষ উপবেদের নাম 'অর্থ বেদ'। আয়ুর্বেদে রয়েছে জীবন ও চিকিৎসা অর্থ্যাৎ Ayurveda is related to the secret of life and the science of long life. ধনুর্বেদে রয়েছে - সমরবিদ্যা (যুদ্ধের কৌশল), আধ্যাত্মিকতা, কর্ম জ্ঞান, কূটনীতিবিদ্যা, কর্তব্য জ্ঞান, নাগরিক জ্ঞান সহ প্রভৃতি বিষয়। গন্ধর্ববেদ হলো সঙ্গীত ও প্রাকৃতিক সুর যা সামবেদের উপবেদ হয়েছে। অর্থ্যাৎ Gandharvaveda is the science of music, derived from the Sama-Veda. শিল্প বেদে রয়েছে স্থাপত্য, স্থাপত্যবিদ্যা, স্থাপত্যশিল্প, শিল্পকলা, নির্মাণকৌশল ইত্যাদি বিষয়ক জ্ঞান। অর্থ্যাৎ Shilpa Veda (Sthapatya Ved) deals with Hindu architecture and various Hindu arts. সর্বশেষ উপবেদের নাম হলো 'অর্থবেদ' যাতে রয়েছে সামাজিক, অর্থনৈতিক, ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা অর্থ্যাৎ it deals with social, economic, and political systems. সংক্ষেপে এই হইল 'উপবেদ'! 

৩। Vedang: There are six Vedanga which are as follows: (i) Siksha (Education), (ii) Kalpa (Creation), (iii) Vyakarana (Grammer), (iv) Nirukta (Etymology), (v) Chhanda (Metres), and (vi) Jyotisha (Mathematics & Astronomy). শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, ছন্দ, জ্যোতিষ ও নিরুক্ত এই ছয়টি বেদের অঙ্গ তাই বেদাঙ্গ। 

(৪) Brahman: "A Brahman is a book which tells the meaning of Vedic Mantras and its use". বৈদিক যজ্ঞের ক্রিয়া প্রণালী, ক্রিয়ার তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য নির্ণয় ও ব্যাখ্যা ও আখ্যানাদি বর্ণনা করাই ব্রাক্ষ্মণগ্রন্থের প্রধান উদ্দেশ্য। ব্রাক্ষ্মণ ভাগ সাধারণত গদ্যে রচিত; কিন্তু কোন কোন স্থানে গাথা বা পদ্যময় অংশও আছে। অর্থ্যাৎ যে গ্রন্থে যজ্ঞ ও তার বিধি-বিধান পাওয়া যায় সেই গ্রন্থই ব্রাক্ষ্মণ নামে খ্যাত। In ancient times there where many Brahmanas, but currently only six are to be found:- (i) Aitareya Brahman Granth based on Rig Veda authored (ঋকবেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ ঐতিরেয় ব্রাক্ষ্মণ) (ii) Shankhyayan Brahman Granth based on Rig Veda (ঋকবেদের আরেকটি ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ সংখ্যায়ণ ব্রাক্ষ্মণ) (iii) Kaushtiki Brahman based on Rig Veda (এবং ঋকবেদের আরও একটি ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ কৌষীতকি ব্রাক্ষ্মণ) (iv) Shatapath Brahman Granth based on Yajurveda (যজুঃ বেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ শতপথ ব্রাক্ষ্মণ) (v) Maha-Tandya Brahman Granth based on Sam Veda (সামবেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ মহাতান্ড্যব্রাক্ষ্মণ) (vi) Gopath Brahman Granth based on Atharva Veda (অথর্ব বেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ গোপথ ব্রাক্ষ্মণ) অর্থ্যাৎ ঋক্ বেদের ব্রাক্ষ্মণগ্রন্থ ৩টি, যজুঃ বেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ ১টি, সামবেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ ১টি এবং অথর্ব বেদের ব্রাক্ষ্মণ গ্রন্থ ১টি মোট ৬টি ব্রাক্ষ্মণগ্রন্থ। 

(৫) Aranyak: Aranyak Granth contains the extracts from Brahman Granths. বেদের উপসংহার ভাগ ব্রাক্ষ্মণ। এই ব্রাক্ষ্মণের উপসংহার ভাগ আরণ্যক। 

(৬) Sutra Granth: There are nine Vedic Sutra Granth which are as follows: Grihay Sutra(গৃহ সূত্র), Dharma Sutra(ধর্ম সূত্র), Shrota Sutra(শ্রোতা সূত্র), Ashvalayana(অশবালায়ন সূত্র), Gobhil(গোভিল), Paraskar(প্রসাকর সূত্র), Koshitaki(কোশিতকি), Katyayana(কাত্যায়ন সূত্র), Bodhayana(বোধায়ন সূত্র). 

(৭) Smritis: Smriti(s) are the books of social, economic and political laws. স্মৃতি শাস্ত্র দুইটি, (এক) মনুস্মৃতি যা বৈবাস্বত মনু কর্তৃক রচিত। ১২টি অধ্যায় আছে এতে। (দুই) যাজ্ঞবাল্ক্য স্মৃতি যা ঋষি যাজ্ঞবাল্ক্য কর্তৃক রচিত। ৩টি অধ্যায় আছে এতে।

(৮) Darshan: There are six Darshan Shashtras - also known as Upaang or Shat Darshan (The Six Visualisation); they are: (i) Purva Mimaansa / Mimaansa Shashtra by Rishi Jaimini (ঋষি জৈমিনীকৃত পূর্ব-মীমাংসা বা মীমাংসা দর্শন) (ii) Vaisheshika Shashtra by Rishi Kannaad (ঋষি কণাদকৃত বৈশেষিক দর্শন) (iii) Nyaaya Shashtra by Rishi Gautam (ঋষি গৌতমকৃত ন্যায় দর্শন) (iv) Yoga Shashtra by Rishi Patanjali (ঋষি পাতজ্ঞলিকৃত যোগ দর্শন) (v) Sankhya Shashtra by Rishi Kapil (ঋষি কপিলকৃত সাংখ্য দর্শন) (vi) Uttar Mimaansa / Vedaant Shashtra by Rishi Veda Vyaas / Baadaraayana (ঋষি বেদব্যাসকৃত উত্তর মীমাংসা বা বেদান্ত দর্শন) । 

(৯) Upanishads: The Upanishads mostly explain in details Vedic Theology including metaphysics, spiritual and mystical powers and concepts of the God. উপনিষদ বেদের শিরোভাগ। এই জন্য এর নাম বেদান্ত। উপনিষদ বিভিন্ন ঋষি কর্তৃক কথিত হয়েছে। এদের সংখ্যা অনেক তার মধ্যে ১১টি উপনিষদ প্রচীন ও প্রামাণ্য বলে গণ্য। এরা হলো: ঈশোপনিষদ (যজুর্বেদ ভিত্তিক), কেনোপনিষদ (সামবেদ ভিত্তিক), প্রশ্নোপনিষদ (অথর্ববেদ ভিত্তকি), মান্ডুুক্য উপনিষদ (অথর্ববেদ ভিত্তিক), মুন্ডক উপনিষদ (অথর্ব বেদ ভিত্তিক), ঐতরেয় উপনিষদ (ঋকবেদ ভিত্তিক), তৈতরীয় উপনিষদ (যজুর্বেদ ভিত্তিক), ছান্দোগ্য উপনিষদ (সামবেদ ভিত্তিক), বৃহদারণ্যক উপনিষদ (যজুর্বেদ ভিত্তিক), শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ (অথর্ববেদ ভিত্তিক)। ইত্যাদি। 

(১০) Itihas / Epics (Ramayan & Maha-Bharat including Bhagavad Gita): These are also called the great epics of Hinduism, they are: (i) Ramayan (The history of Sri Ram of liberating India from Raavan rajya and establishing Ram rajya) by Maharshi Valmiki (মহর্ষি বাল্মীকি রামায়ণ রচয়িতা, তিনি আদি কবি এবং রাজ দশরথের সমবয়ষ্ক ছিলেন) (ii) Mahabharat (The history of Sri Krishna of uniting the Indian Sub Continent) by Maharshi Ved Vyaas (মহাভারতের রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস ইনি কৃষ্ণদ্বপৈায়ন নামেও পরিচিত, শ্রীমদ্ভগবদগীতা মাহাভারতের অংশ)

(১১) Niti / Ethics: নীতি শাস্ত্রগুলির মধ্যে Vidur Neeti (বিদুর নীতি), Chaanakyaa Neeti (চাণক্য নীতি), Bhartrihari Neeti ( ভারতিহারি ) Shikra Neeti (Shukra Neeti - Neetishashtra of Sage Shukracharya, the teaching of Guru Shukracharya, Brife from the Mahabharat)

পরিশেষে, সকলকে জানাই 'नमस्ते' !
Bangali Hindu Post (বাঙ্গালি হিন্দু পোস্ট)



Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।