• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

প্রশ্নোত্তর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রশ্নোত্তর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৬ মে ২০১৯

কিছু লোকজন প্রশ্ন করে কেন বিয়ের পর মেয়েরা শাখা,সিদুর,নোয়া পড়ে?

দাম্পত্য জীবনের মঙ্গল কামনার জন্য যদি এইগুলো পড়েন! তবে শহুড়ে মানুষেরা এইগুলো পড়েনা বলে কি মঙ্গল হয়না? কেন এটা মেয়েদেরই পড়তে হয়? বিবাহের চিহ্ন তো পুরুষের ক্ষেত্রেও থাকা উচিৎ! তবে কেন নয়?

প্রথমেই বলে রাখা ভালো,
যদি কেউ এই সিঁদুর পরিধান না করে, তবে তার কারনে তাকে নরক বাস করতে হবে! এমন কোন বিষয় পাওয়া যায়নি। তবে যদি আপনি সনাতনধর্মাবলম্বী হোন, তবে আপনার রীতিতে বিশ্বাস প্রাধান্য থাকা আবশ্যিক। আর আরেকটি বিষয় হলো,

যদি কোন প্রথা বা রীতির কারনে ক্ষতি সাধন হয়। তবে সেটাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে, বাদ দেওয়া ধর্ম স্থাপনার মতো একটি মহৎ কাজ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্ত আপনি কি এই প্রথার আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত কোন এমন ঘটনার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ পাবেন? যেটার দ্বারা প্রমানিত করা যায়, এইগুলো দেওয়া একটি খারাপ বিষয়?

নিশ্চিত থাকতে পারেন, আপনি একটাও উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় তুলে ধরতে পারবেন নাহ। তবে আমি এইগুলো নিয়ে অনেক গুলো যৌক্তিক ও ভালো দিক তুলে ধরতে পারবো। এই বিষয় গুলোকে সনাতনধর্ম অনেক প্রবিত্র হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। আমি এই বিষয় গুলো সম্পরকে কিছু বিষয় তুলে ধরি,

সিঁদুর,শাখা,নোয়া হলো সনাতনী বিবাহিত নারীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিঁদুর যা বিবাহিত নারীরা তাদের সিথিতে দিয়ে থাকেন। সিঁদুর কে শাস্ত্র ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোনে রজঃগুন হিসেবে ধরা হয়। আর এই রজঃগুন এর সাথে রজঃস্রাব তথা ঋতুস্রাব (মাসিকের) সম্পর্ক ও আছে,

এই সিঁদুরে মার্কারি তথা পারদের মতো ধাতু পাওয়া যায়। আর শাখা যার মধ্যে ক্যালসিয়াম নিহিত আছে আর নোয়া থেকে পাওয়া যায় আয়রন। এই তিনটি যা নারীর রজঃস্রাব এর ক্ষতিপূরণ সাধনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। এই মাসিক তথা ঋতুস্রাব কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে,

অন্ধ্রপ্রদেশে এখনও একটা রীতি প্রচলিত আছে যে, কোন মেয়ে যদি প্রথমবার মাসিক তথা ঋতুস্রাব হয়। তবে তাকে পুজো সহ অনুষ্ঠান করা হয়, এই উপলক্ষ্যে। এই বিষয়টি সৃষ্টির অন্যতম এক মহাকারন। তাই এটিকে অতি প্রবিত্রতার সহিত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরে। এই বিষয়গুলো নারীদের পড়ার রীতি প্রচলিত।

আর যেহুতু এই ঋতুস্রাব নারীদেরই হয়, তাদের জন্য এইগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা পুরুষদের পড়ার প্রয়োজন হয়না। তবে এই সিঁদুর বা টীকা দেওয়ার বিষয়ে নারীর মতো পুরুষেরও কিছু উল্লেখ্য পাওয়া যায়। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে,

প্রাচীন ভারতে কুঙকুমচর্চা ছিলো। যা নারী ও পুরুষের উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রাধান্য দেওয়া হতো। ব্রহ্মচর্য কালে মাথায় টিকি বা শিখার সহিত মাথায় সিঁদুর বা তিলকের দ্বারা অংকিত রাখা হতো কপাল কে। আর বিবাহের পর যারা ব্রহ্মচর্য থেকে সাময়িক বিরতি নিত। তখন তার শিখা কে সাময়িক বিরতি দিত।

এখনও বিয়ের সময় পৃথিবীর একমাত্র হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে উপাধি পাওয়া নেপালে রীতি আছে, বিবাহের সময় স্বামী ও স্ত্রীর উভয়েরই কারো কপাল, কারো সীঁথি কে সিঁদুর দ্বারা অংকিত করার। আর এখনও অনেক সাধু-সন্ন্যাসী তাদের কপাল সহ সীঁথি কে সিঁদুর, গেরুয়া রঙ কিংবা তিলক দ্বারা আবৃত করে রাখেন।

তবে উল্লেখ্য শাক্ত মতে এখনও সিঁদুর কে নারী পুরুষ উভয়েই কেউ কপালে, কেউ সীথিতে ধারন করেন। আমি নিজেও পূজা, কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সিঁদুর অথবা তিলক দ্বারা কপাল অংকিত করি। আর এটা আজকাল অনেকেই করে। তবে আমরা সব প্রশ্নের ক্লিয়ার উত্তর পেলেও ওখানে যে প্রশ্নের সমাধান দেওয়া হয়নি তা হলো,

কেউ যদি সিঁদুর পড়তে না চান! তবে সেটা তার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্ত শহুড়ে ও আধুনিকতার জীবন গুলোতেই কিন্ত সাংসারিক বিচ্ছেদ অনেক বেশী। সংবাদমাধ্যম এর জরিপে উঠে এসেছে, শহুরে জীবন তথা যেখানে আধুনিকতার নামে ধর্মীয় বিষয়গুলো মানা হয়না, সেখানে বিবাহ বিচ্ছেদ খুব বেশী পরিমানে হয়ে থাকে। সত্যতা জানতে অনলাইন তথ্য ও অনলাইন পোর্টাল দেখুন।

এই সিঁদুর পড়লে বুঝা যায়, নারী বিবাহিত। আর পূর্বে শিখা রাখা হতো, ব্রহ্মচর্য পালনের প্রতীক হিসেবে। এখন কি বলা যাবে, নারীরা সিঁদুর পড়বে, ছেলেরা পড়বেনা! এটা অনুচিত। তবে তো এটাও বলতে হয়, ছেলেরা শিখা রাখতো ব্রহ্মচর্য তথা সংযত এর জন্য! তার মানে কি মেয়েরা রাখেনা, সংযত নয়।

আসলে এইগুলো হলো একপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা। বিবাহ হলো প্রবিত্র বন্ধন। এখানে কে কি পরিধান করবে না করবে সেটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষা, দুজনদুজনকে ভালবাসা ও বিশ্বাস দ্বারা আজীবন আগলে রাখবে সেটাই হলো মুল বিষয়। পুরুষের ঋতুচক্র এর মত বিষয় থাকলে, তবে তাদেরও এইগুলো পড়া উচিত ছিল।

মনস্তাত্ত্বিক বিষয় হলো,
সিঁদুর যেরুপ নারীকে অপর পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি ও পরকীয়া থেকে রক্ষা করছে। আর এর জন্য নারীদের প্রতি অবনত কৃতজ্ঞতা! তারা এই পুরুষের লোলুপ দৃষ্টিকে উপেক্ষা করছেন। যদিও পুরুষদের এমন হওয়া অনুচিত। কিন্ত তারা আমাদের জন্য ত্যাগ স্বীকারের মত সিঁদুর পরিধান করে, আমাদের লোলুপ দৃষ্টি প্রতিহত করছেন।

আর বিশ্বাসই সম্পর্ক এর মুল ভরসা। বাকীসব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মাধ্যম মাত্র।

আরো অনেক কিছু বলার ছিলো। কিন্ত আর টাইপিং সম্ভব না বলে লিখতে পারছিনা। এর জন্য দুঃখিত।
আশাকরি পাঠকগন সকলে বুঝবেন বিষয়টি। আর তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা, যারা আমার লেখাসমুহ প্রতিনিয়ত পড়েন।

ধন্যবাদ
ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।

Collected from :
Rupon Kumar Dev
Share:

৩১ মার্চ ২০১৮

দেবতারা কেন স্বর্গে থাকেন আর দানবরা কেন পাতালে থাকেন ??

এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে গিয়ে ,,দেবর্ষি নারদ একবার ব্রহ্মলোকে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাজীর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন।ব্রহ্মাজী বললেন ,, হে দেবর্ষি নারদ !!দেবতারাও আমার সন্তান আর দানবরাও আমারই সন্তান ,,তাই এই প্রশ্নের উত্তর যদিও আমার দেওয়া উচিৎ নয় ,, তবে আমি তোমাকে আগামীকাল একটি উদাহরন দেখিয়ে বুঝিয়ে দেবো !! তুমি আজ সকল দেবতা ও দানবদের কাছে গিয়ে নিমন্ত্রন করে আসো ,,আগামীকাল তারা যেন আমার এখানে দ্বিপ্রহরে ভোজন সেবা করতে আসেন।দেবর্ষি নারদও পিতার আদেশ পালন করলেন।তিনি স্বর্গে গিয়ে দেবতাদের আর পাতালে গিয়ে দানবদের নিমন্ত্রন করে আসলেন !! পরদিন দুপুর বেলা প্রথমে দানবরা এসে উপস্থিত হলেন।দানবেরা ভোজন শুরু করবেন ,,ঠিক সেইসময় ব্রহ্মাজী একজন দানবের হাত ধরে ফেললেন এবং বললেন ,, তোমরা ভোজন করার আগে আমার একটি শর্ত মানতে হবে !! শর্তটি হলো তোমাদের সবার হাতে আমি কাঠ বেঁধে দেবো তারপর তোমরা ভোজন করতে পারবে !!


সেই মোতাবেক সকল দানবদের হাতে লাকড়ী বেঁধে দেওয়া হলো ,,তারা যেন হাত কিছুতেই বাঁকা করে খেতে না পারে !! দানবরা তো হাত বাঁকা করতে না পেরে কেউ কেউ মাটিতে শুয়ে ভোজন শুরু করে দিলেন ,,আবার কেউ কেউ পা দিয়ে কোনোরকমে ভোজনের থালাটা উঠিয়ে অনেক কষ্টে ভোজন করতে লাগলেন !! অবশেষে তারা ভালো করে ভোজন করতে না পেরে বিরক্ত হয়ে ব্রহ্মাজীকে বকাবকি শুরু করে দিলেন !! এইরকম ভাবেই যদি দুই হাতে লাকড়ী বেঁধে আমাদের ভোজন করতে দেওয়া হয় তাহলে কেন আমাদের নিমন্ত্রন করে এখানে আনা হলো ?? আমাদের কি এখানে অপমান করার জন্য আনা হয়েছে ??

ঠিক সেইসময় দেবতারা সেখানে এসে উপস্থিত হলেন এবং তারাও ভোজন করতে বসলেন।পরমপিতা ব্রহ্মাজী তাদেরও হাত ঐ একইভাবে বেঁধে দিলেন।দেবতারা বুঝে গেছেন যে এইভাবে তো ভোজন করা যাবেনা।তাই এই হাত সোজা অবস্থাতেই দেবতারা খুবই আনন্দ সহকারে একে অপরকে ভোজন করাতে লাগলেন।কিছুক্ষণ পর দেবতাদের ভোজন শেষ হয়ে গেল।এবার দেবতারা একে অপরকে হাত ধোঁয়াতে লাগলেন।এই দৃশ্য দেখে দানবরা খুবই লজ্জিত হয়ে গেলেন এবং তারা আফসোস করতে লাগলেন যে ,, দেবতাদের এই চিন্তাধারাটা আগে কেন আমাদের মাথায় আসলোনা !!

দূর থেকে দেবর্ষি নারদ এই দৃশ্য দেখে উনার এতদিনের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন এবং ব্রহ্মাজীকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও প্রনাম জানালেন।

#হিতোপদেশঃ- তাই ভগবৎ ভক্তগন ,, এই পৌরাণিক কাহিনীটি থেকে আমরা একটা দারুন শিক্ষা পাচ্ছি যে ,, অপরকে ভালবাসা আর পরোপকার করার মধ্যেই ধর্মের অন্তর্নিহিত অর্থ লুকিয়ে থাকে।

(C) ডি শীল
Share:

১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

জ্ঞান-সঙ্কলিণী তন্ত্র হইতে দেবাদিদেব মহাদেব ও জগৎ জননী মাতার কথোকপোথন।

দেবী বললেন – হে দেব শক্তি কে? এবং শিব কে? তা আগে আমাকে বলুন তারপর জ্ঞানের বিষয়ে বলবেন।

মহাদেব বললেন – হে দেবী চিত্ত যখন অস্থির তখন তাতে শক্তি অবস্থান করেন এবং চিত্ত যখন স্থির হয় তখন তাতে শিব অবস্থান করেন। চিত্ত স্থির হলে জীব দেহ ধারণ করেই সিদ্ধি বা মোক্ষ লাভ করে থাকে।

দেবী জিজ্ঞেস করলেন – শরীরের কোন স্থানে তিন প্রকারের শক্তি , ছয় প্রকারের চক্র, একুশ টি ব্রহ্মাণ্ড ও সাত প্রকারের পাতাল অবস্থিত আছে তা আমাকে বলুন।

মহাদেব বললেন- উর্দ্ধশক্তি কণ্ঠে, অধোশক্তি গুহ্যদেশে এবং মধ্য-শক্তি নাভিতে অবস্থিত। আর যিনি এই তিন শক্তির বাইরে তাকেই নিরঞ্জন ব্রহ্ম বলে। গুহ্য চক্রকে আধার, লিঙ্গ-চক্রকে স্বাধিষ্ঠান, নাভি-চক্রকে মনিপুর, হৃদয়-চক্রকে অনাহত, কণ্ঠ-চক্রকে বিশুদ্ধ এবং মস্তক-চক্রকে সহস্রদল বলে। যিনি এই ছয় চক্রকে ভেদ করতে পারেন তিনি চক্রাতীত ও নমস্য ব্যক্তি। শরীরের উর্দ্ধ দিক হল ব্রহ্মলোক। এবং শরীরের নীচের দিক হল পাতাল লোক। এই শরীর বৃক্ষের মত কিন্তু এর উর্দ্ধদিক হল সেই বৃক্ষের মূল স্বরূপ এবং নিম্নদিক হল সেই বৃক্ষের শাখা স্বরূপ।

দেবী বললেন – হে শিব, হে শঙ্কর, হে ঈশান, হে পরমেশ্বর আমাকে বলুন এই দেহের মধ্যে কি ভাবে দশ প্রকার বায়ু অবস্থিত এবং যে দশটি দরজা আছে সেগুলি কি কি ?

মহাদেব বললেন – হৃদয়ে প্রাণবায়ু, গুহ্যদেশে অপাণবায়ু, নাভিদেশে সমান বায়ু, কণ্ঠে উদানবায়ু, দেহের ত্বকে ও সারা দেহ জুড়ে ব্যান বায়ু অবস্থিত। নাগ বায়ু উর্দ্ধপান হতে আগত এবং কূর্ম্মবায়ু তীর্থ দেশে আশ্রিত। কৃকর বায়ু মানসিক ক্ষোভে, দেবদত্ত বায়ু হাই তুললে এবং ধনঞ্জয় বায়ু গভীর চিৎকার করলে নিবেশিত হয়ে সাম্য রক্ষা করে। এই দশ প্রকার বায়ু নিরালম্ব (অবলম্বন শূন্য) এবং যোগীগণের যোগ সম্মত। আমাদের শরীরের নবদ্বার প্রত্যক্ষ করা যায় এগুলি হল দুটি চোখ, দুটি কান, দুটি নাসারন্ধ্র, মুখ, গুহ্য ও লিঙ্গ এবং দশম দ্বার হল মন।

দেবী বললেন – সারা শরীর জুড়ে যে নাড়ী অবস্থিত তা কয় ভাগে বিভক্ত? কুণ্ডলিনী শক্তি ও তা থেকে উৎপন্ন যে দশটি নাড়ী সে সম্বন্ধে আমাকে বলুন।

মহাদেব বললেন – ঈড়া, পিঙ্গলা এবং সুষুম্না এই তিনটি নাড়ী উর্দ্ধগামিনী; গান্ধারী, হস্তি জিহ্বা ও প্রসবা এই তিনটি নাড়ী দেহের সর্ব্বত্র ব্যাপ্ত আছে। শরীরের দক্ষিণ অঙ্গে অলম্বুষা ও যশা এই দুটি ও বাম অঙ্গে কুহু ও শঙ্খিনী এই দুটি নাড়ী ব্যবস্থিত। এই দশ প্রকার নাড়ী হতেই শরীরে নানা নাড়ী উৎপন্ন হয়েছে এবং বাহাত্তর হাজার প্রসূতিকা নাড়ী শরীরের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। যে যোগী এই সমস্ত নাড়ী গুলিকে জানেন তিনি যোগ লক্ষণ যুক্ত হয়ে যান এবং জ্ঞাননাড়ী হতেই যোগীগণ সিদ্ধিলাভ করে থাকেন।

দেবী বললেন – হে ভূতনাথ, হে মহাদেব, হে পরমেশ্বর তিন দেবতার সম্বন্ধে আমাকে বলুন তদের তিন প্রকার গুণ ও ভাব কি কি?

মহাদেব বললেন – রজো ভাবে ব্রহ্মা, সত্ত্ব ভাবে বিষ্ণু ও ক্রোধ ভাবে রুদ্র অবস্থিত আছেন। এই হল তিন দেবতা, এই হল তিন প্রকার গুণ। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর এই তিন দেবতার মূর্ত্তি একই, যার মনে এই তিন দেবতার পৃথক পৃথক ভাব পরিকল্পিত হয় তার মুক্তি কখনোই হয় না। দেহের মধ্যে ব্রহ্মা বীর্য্যরূপে, বিষ্ণু বায়ু রূপে ও রুদ্র মন রূপে অবস্থিত আছেন, এই তিন দেবতা ও এই তিন গুণ। দয়া ভাবে ব্রহ্মা, শুদ্ধ ভাবে বিষ্ণু ও অগ্নি ভাবে রুদ্র অবস্থান করে এই তিন দেবতা, এই তিন গুন। এই জগৎ চরাচর সকল কিছুই সেই সেই এক পরমব্রহ্ম থেকেই উৎপন্ন হয়েছে, যার মধ্যে এই জগৎ সম্বন্ধে নানা ভাবের সৃষ্টি হয় তার মুক্তি কখনই হয় না। আমিই সৃষ্টি, আমিই সময়, আমি ব্রহ্মা, আমি হরি, আমি রুদ্র, আমি শূন্য, আমি সর্বব্যাপী ও আমিই নিরঞ্জন ব্রহ্ম। আমি সর্বময়, আমি নিষ্কাম, আমার উপমা আকাশ, শুদ্ধ স্বভাব ও নির্ম্মল ব্রহ্ম স্বরূপ মনও আমি, এর মধ্যে কোন সংশয় নেই। যে বীর জিতেন্দ্রিয়, ব্রহ্মচারী, সুপণ্ডিত, সত্যবাদী, দানশীল, অন্য ব্যাক্তির হিতে রত (পরোপকারী) তাকেই ভক্ত বলে। ব্রহ্মচর্য তপস্যার মূল এবং দয়া ধর্মের মূল তাই যত্ন সহকারে দয়া ও ব্রহ্মচর্যের আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত।

দেবী বললেন – হে যোগেশ্বর, হে জগন্নাথ, হে উমাপ্রাণবল্লভ, বেদ, সন্ধ্যা, তপস্যা, ধ্যান, হোম, কর্ম ও কুল কি তা আমাকে বলুন?

মহাদেব বললেন – হাজার অশ্বমেধ যজ্ঞ বা একশ বাজপেয় যজ্ঞের যে পুণ্যফল তা ব্রহ্মজ্ঞানের পুণ্যফলের ষোলকলার এক কলারও সমান নয়। সব সময়ে শুচি হয়ে সকল পুণ্যতীর্থে ভ্রমণ করে যে পুণ্যফল তা ব্রহ্মজ্ঞানের পুণ্যফলের ষোলকলার এক কলারও সমান নয়। না বন্ধু, না পুত্র, না পিতা, না সখা, না স্বামী কাউকেই সেই গুরুর সাথে তুলনা করা যায় না যে সেই পরম পদ দেখিয়ে দিতে পারেন। 
না বিদ্যা, না তীর্থ, না দেবতা কেউ সেই গুরুর সাথে তুলনীয় নয় যে সেই পরম পদ দেখিয়ে দিতে পারেন। এবং সেই পরম পদ পাওয়ার জন্য গুরু শিষ্যকে যে একাক্ষর মন্ত্র নিবেদন করেন সারা পৃথিবীতে এমন কোন দ্রব্যই নেই যার দ্বারা গুরুর সেই ঋণ শিষ্য শোধ করতে পারে।

 যাকে তাকে এই সুগোপনীয় ব্রহ্মজ্ঞান দেওয়া যায় না কেবলমাত্র সদগুরু(?) তার যে কোন ভক্ত শিষ্যকেই এই ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করবেন। জ্ঞানী মাত্রেই মন্ত্র, পূজা, তপ, ধ্যান, হোম, জপ, বলিক্রিয়া ও সন্ন্যাস আদি সকল প্রকার লৌকিক কাজ পরিত্যাগ করবেন। সংসর্গেই (সঙ্গগুণ) সকল প্রকার দোষ ও নিঃসঙ্গ(একাকী) থাকলেই সকল প্রকার গুণের উৎপত্তি হয়ে থাকে তাই সব রকমের চেষ্টা দ্বারা সব রকমের সঙ্গ পরিত্যাগ করবে। অকার সত্ত্বগুণ, উকার রজোগুণ এবং মকার তমোগুণ এই তিন গুনের আধারই প্রকৃতি। অক্ষরই প্রকৃতি এবং অক্ষরই স্বয়ং ঈশ্বর (পুরুষ)। প্রকৃতি এই পুরুষ থেকেই এসেছেন এবং সত্ত্ব, রজ:, তম: এই তিন গুনের দ্বারা বদ্ধ হয়েছেন। 

সেই মায়া স্বরূপ প্রকৃতি পালন, সৃষ্টি, সংহার এই তিন শক্তিবিশিষ্ট এবং সেই মায়াই অবিদ্যা, মোহিনী, শব্দরূপা ও যশস্বিনী হয়েছেন। অকার ঋকবেদ, উকার যজুর্বেদ ও মকার সাম বেদ এই তিনটি মিলিত হয়েই অথর্ব্ববেদ হয়েছে। ওঁকার প্লুত স্বর এবং একে ত্রিনাদও বলা হয়ে থাকে। অকার ভূলোক, উকার ভুবর্লোক ও ব্যঞ্জন সহ মকার স্বর্গলোক এবং এই তিন অক্ষরেই আত্মা বিশেষ ভাবে অবস্থিত থাকে। অকার পৃথিবী এবং হলুদ বর্ণের। উকার অন্তরীক্ষ এবং বিদ্যুৎ বর্ণ সংযুক্ত এবং মকার স্বর্গ এবং শুক্ল বর্ণ সংযুক্ত। এবং এই সকল বর্ণ সংযুক্ত একাক্ষর প্রণব ওঁকারই একমাত্র নিশ্চিত ব্রহ্ম। আসন করে এবং চিন্তাশূন্য ভাবে প্রতিদিন বসবে কিন্তু খেয়াল রাখবে ঘুমিয়ে না পড় এই ভাবে প্রতিদিন বসলেই যোগী হওয়া যায় এটাই শিবের কথা এর অন্যথা নেই। যে ব্যাক্তি প্রতিদিন এই ব্রহ্মজ্ঞানের কথা পাঠ বা শ্রবণ করে সে ব্যাক্তি সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ আত্মা হয়ে শিবলোক প্রাপ্ত হয়।

দেবী বললেন – স্থূল লক্ষণ কি, কি ভাবে মনের বিলয় ঘটে থাকে স্থূল ও সূক্ষ্মের লক্ষণ স্বরূপ যে পরমার্থ নির্বাণ তা কি?

মহাদেব বললেন- যখন জ্ঞান হয় তখন অন্ধকার স্বরূপ পাপ আর বিদ্যমান থাকে না। তখনই মনের বিলয় ঘটে থাকে। এবং যখন জ্ঞান জন্মায় তখন পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু ও আকাশ এই পঞ্চভূত হতে সৃষ্ট যে দেহ তা স্থুলরূপে অবস্থিত করে আর জ্ঞান লাভ করলে এর যে অন্যথা অবস্থান তাই সূক্ষ্মরূপে অবস্থিত থাকে।

- ইতি জ্ঞান-সঙ্কলিণী তন্ত্র

(C)এস.এম পারিয়েল কুমার
Share:

০১ ডিসেম্বর ২০১৭

পঞ্চযজ্ঞ কি ?

হিন্দু ঋষিগণ হিন্দুর যাবতীয় জীবনের কর্তব্যগুলি পাঁচভাগে বিভক্ত করে পঞ্চযজ্ঞ নামে নির্দেশ করেছেন। হিন্দু শাস্ত্রের উপদেশ মানব জন্মগ্রহণ করে পাঁচটি ঋন নিয়ে, যথা- দেবঋন, ঋষিঋণ, পিতৃঋণ, নৃঋণ, ভূতঋণ - পঞ্চযজ্ঞ সম্পাদন দ্বারা এই পঞ্চঝণ পরিশোধ করিতে করিতে মানব মুক্তির অধিকারী হয়ে ওঠে। আসুন এই পঞ্চযজ্ঞ সম্বন্ধে জানি-

১) ব্রহ্মযজ্ঞ-
ভগবানের উপাসনাকে ব্রহ্মযজ্ঞ বলে। এই যজ্ঞের দ্বারা দেবঋণ পরিশোধ হয়। প্রত্যহ নিয়মিত সন্ধ্যা উপাসনাতে দেবযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। প্রত্যেককে নিয়মিত উপাসনা ও পূজা পাঠ করা উচিৎ। সমাজে সকল হিন্দুকে এরূপ করা উচিৎ। পূজা অর্চনা দ্বারা মানবের চিত্ত শুদ্ধি ও মুক্তির পথে গমন হয় ।

২) ঋষিযজ্ঞ-
শাস্ত্র বা সদ্ গ্রন্থ পাঠ করাকে ঋষিযজ্ঞ কহে। এই ঋষিযজ্ঞ করিলে ঋষি-ঋণ পরিশোধ হয়। এজন্য প্রত্যহ সকল হিন্দুকে বেদ, উপনিষদ, শ্রীমদ্ভাগবতগীতা, চণ্ডী, ভাগবত ও পুরান পাঠ করা দরকার। তাই সকল হিন্দু গন বেদ ও ধার্মিক পুস্তক পাঠ করিবেন, অন্যদেরও উৎসাহ দেবেন। নিজে পড়িতে না পারিলেও অন্যের দ্বারা পড়াইয়া শ্রবণ করিবেন।

৩) পিতৃযজ্ঞ-
শ্রাদ্ধ ও তর্পণ দিগকে পিতৃযজ্ঞ বলে। তর্পণ বিধি অনুসারে নিত্য তর্পণ করলে এবং মাসিক, ত্রৈমাসিক, বার্ষিক শ্রাদ্ধাদি করলে পিতৃঋণ পরিশোধ হয়। সুতরাং সকল হিন্দুগণ সাধ্য মতো পিতৃযজ্ঞ করবেন। পিতামাতার জীবিত অবস্থায় পিতামাতার সেবা ও তাঁদের সন্তুষ্টি বিধান কেউ পিতৃযজ্ঞ বলে। এটা নিজেও করবেন, অপর কেউ উৎসাহ দেবেন করবার জন্য।

৪) নৃযজ্ঞ-
আশ্রিত পোষ্য বর্গকে ভরণপোষণ ও প্রতিপালন তথা অন্ধ, আতুর, দরিদ্র মানুষকে দান সেবা, অতিথি সেবা, সমাজের কল্যাণকর ও জনমুখী কাজে নিজেকে সক্রিয় ভাবে নিয়োগ করাকে নৃযজ্ঞ বলে। এতে নৃঋণ পরিশোধ হয়। প্রত্যেক হিন্দুকে সামর্থ্য অনুসারে এই নৃযজ্ঞে সামিল হতে হবে ।

৫) ভূতযজ্ঞ-
প্রানীদিগকে সেবা ( গো, মহিষ, কুকুর, বিড়াল প্রানী) বৃক্ষ, উদ্ভিদ ইত্যাদিদের খাদ্য পানীয় দ্বারা সেবা ও পোষণের মাধ্যমে ভূতযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। ইহা দ্বারা ভূত যজ্ঞ সম্পন্ন হয়। তুলসীদেবী, অশ্বত্থ ইত্যাদিতে নিত্য জল অর্পণ হিন্দুদিগের নিত্য কর্তব্য । ইহা দ্বারা ভূতঋণ পরিশোধ হয় ।
মানুষকে জগতে বেঁচে থাকতে হলে দেবতা থেকে তৃণ প্রত্যেকের কাছ থেকেই অল্প অল্প সাহায্য নিতে হয়। সে জন্য প্রত্যেকটি মানুষ জড় জগতের চেতন ও অচেতন সকলের কাছে অল্প বিস্তর ঋনী। যে ব্যাক্তি জ্ঞান পূর্বক এই পঞ্চযজ্ঞ সম্পাদন করে সে দ্রুত মুক্তির পথে ধাবিত হয়। এইজন্য হিন্দু ঋষিগণ হিন্দুদের জন্য এই পঞ্চযজ্ঞের ব্যবস্থা করেছেন ।

( সোর্স- ওঁ হিন্দুত্বম্... স্বামী বেদানন্দ ...ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ )

Share:

শ্মশান কি ?

“শ্মশান” শব্দের অর্থ- শম স্থান । মৃত স্থান । চলতি কথায় যেখানে শবদাহ করা হয় সেই ক্ষেত্র শ্মশান ভূমি নামে পরিচিত । করালবদনী আদ্যাশক্তি মায়ের বিচরণ ক্ষেত্র এই শ্মশান । মা কালীকে ধ্বংসের দেবী বলা হয়। এই “ধ্বংস” বলতে সর্বনাশ করা নয়। এর অর্থ- “সংহরন” অর্থাৎ দেবী নিজেই এই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড রচনা করেছেন- আবার তিনিই গুটিয়ে নেন। ঠিক যেমন মাকড়শা নিজেই জাল বোনে আবার নিজেই গুটিয়ে নেয় । জীব কর্মফল ভোগান্তে মায়ের কোলে আশ্রয় পেয়ে পায় অসীম শান্তি ও আনন্দ । এই শ্মশান তাই মাকালীর ক্রীড়া ক্ষেত্র ।

শ্মশান কে বৈরাগ্যভূমি বলা হয়। শ্মশানকে তপঃ সাধনার ভূমি বলা হয় । ১০ মিনিট শ্মশানে বসে থাকলে জড় দেহের নশ্বরতার প্রতিচ্ছবি আমাদের চোখের সামনে আসে। জীব তাঁর খাঁচা নিয়ে বড়ই অহংকার করে , কিন্তু খাঁচা থেকে পাখী মুক্ত হলে খাঁচা শ্মশানে এক মুঠো ভস্মে পরিণত হয়। জ্ঞানী গণ এই তত্ত্ব উপলব্ধি করে দেহ সুখ বিসর্জন দিয়ে সাধন ভজনে মন দেয়। শ্মশান কেই তাই তপঃ সাধনার কেন্দ্র করে বহু যুগ থেকে অনেক সাধক সাধিকারা সাধন ভজনে নিমগ্ন হয় । মৃত্যু কাউকে ছাড়ে না। এক রূপবতী অপ্সরা তুল্যা কন্যার মৃত্যুর হলে শ্মশানে তার দেহ এক মুঠো ভস্ম হয়- অপরদিকে এক কুৎসিত চেহারা বিকৃত ব্যাক্তির মৃত্যু হলে তাঁর শ্মশানে দেহের পরিণতি এক মুঠো ছাই। মৃত্যুর কাছে কোন ভেদাভেদ নেই। ধনী গরীব নির্ধন কাঙ্গাল সকলের মৃত্যুর পর দেহ ভস্মেই পরিণত হয় । কালের করাল গ্রাস থেকে কারোর মুক্তি নেই। কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, অহংকার, বাসনা গ্রস্ত এই শরীর । আত্মার এই সকল বোধ নেই।

দেহান্তে এই রিপুগণের ক্রীড়া ক্ষেত্র শরীর টি জলন্ত চিতাতে ভস্ম হয়। রিপু গনের নাশ হলেই সাধকের মনে বৈরাগ্য জাগ্রত হয়। তাই এই রিপুর খেলার মাঠ শরীর টি জলন্ত চিতায় দগ্ধ হয় বলে মা কালী শ্মশানে বিরাজ করেন। মা তারা দেবী জলন্ত চিতায় অধিষ্ঠান করেন । ভগবতী ছিন্নমস্তা পদতলে মদন রতি দলিতা করেন । এই হোলো শ্মশানের পরিচয় । শ্মশান মন্দিরের মতোই পবিত্র। মন্দিরে শাস্ত্র পাঠ করে জড় দেহের পরিণামের কথা বলা হয়। শ্মশানে গেলে সেটার জীবন্ত উদাহরণ সচক্ষে দেখা যায়। তাই শ্মশান মা কালীর এত প্রিয় স্থান ।
জয় মা।।
( সোর্স - নন্দিতা সরকার )
Share:

২৮ নভেম্বর ২০১৭

হিন্দুরা কেন মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলে?

প্রায়ই আপনার মুসলমান বন্ধুদের কাছে আপনাকে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেটা হচ্ছে - হিন্দুরা কেন মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলে? কবরও তো দিতে পারতো বা অন্যকিছু করতে পারতো।মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা কি অমানবিক নয়?

আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমরা প্রশ্নটির সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হই!! প্রথমে যে ইনফরমেশনটি আপনার জানা প্রয়োজন তা হলো পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ হিন্দু-বৌদ্ধ রীতি অনুসরণ করে অর্থাত মৃতদেহ পুড়িয়ে সৎকার করে। পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি জাপান থেকে শুরু করে চীন, করিয়া, ভারত ও অনান্য জাতি এই রীতি অনুসরণ করে। তাহলে আপনি প্রথমত: পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন : ১. পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি জাপানিরা কি তাহলে অমানবিক ? পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ কি অমানবিক ? যদি এই অর্ধেক মানুষ অমানবিক হয় তবে এদের মধ্যে কেন আমরা সবচেয়ে কম হানাহানি দেখতে পাই ?

আসুন এবার প্রকৃত উত্তরের দিকে যাই।

১. হিন্দুধর্মে কবর দেয়া বা সমাধি দেয়া নিষিদ্ধ নয়। স্মৃতিশাস্ত্রে স্পষ্টভাবেই এটা অনুমোদিত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাঝে এখনও এটা প্রচলিত আছে। যেমন- নাথ বা যোগী সম্প্রদায় এবং সন্ন্যাসীদেরকে সমাধি দেয়া হয়। অনেক জায়গায় দেখা যায় কারও অপমৃত্যু হলে তার শব সমাধি দেয়া হয়, পোড়ানো হয় না।

২. আমরা কথ্য ভাষায় 'লাশ পোড়ানো' বলি, কিন্তু শাস্ত্রীয় ভাষায় এটা 'অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া'। এটা আবার কী? অন্ত+ইষ্টি=অন্ত্যেষ্টি। ইষ্টি মানে যজ্ঞ। অন্ত্যেষ্টি হলো জীবনের শেষ যজ্ঞ।
আমরা জানি, আমাদের সুপ্রাচীন পূর্বপুরুষদের বৈদিক সমাজ ছিল যজ্ঞপ্রধান। জীবনের শুরু 'গর্ভাধান' থেকে জীবনের শেষ 'দেহত্যাগ' সবই হতো ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে। জীবৎকালে প্রতিদিনই পঞ্চমহাযজ্ঞ করতে হতো (এখনও করার বিধান)। এছাড়া অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মতো বিবিধ যজ্ঞে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে 'হবি' (বর্তমানে পূজায় অর্ঘ্য নিবেদনের মতো) উৎসর্গ করা হতো। এ হলো ঈশ্বরের দেয়া জীবন ও দেহ দ্বারা ঈশ্বরের সৃষ্ট প্রকৃতির উপাদানসমূহ ভোগ করার প্রেক্ষিতে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতাপূর্বক তাঁর উপাসনা করা। তাই অন্ত্যেষ্টি তথা জীবনের শেষ যজ্ঞে ঈশ্বরপ্রদত্ত এই দেহখানি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যেই 'হবি' বা অর্ঘ্যরূপে উৎসর্গ করা হয়। এটা সত্যিই চমৎকার একটা ব্যাপার!

৩. প্রাচীন দর্শন অনুযায়ী বিশ্বচরাচর তথা আমাদের দেহও পাঁচটি ভূত বা উপাদান দ্বারা তৈরি। একে 'পঞ্চভূত' বলে। এগুলো হলো- ক্ষিতি (মাটি), অপ (জল), তেজ (আগুন), মরুৎ (বাতাস), ব্যোম (আকাশ বা শূন্যস্থান)। যারা বলেন 'মাটির দেহ' বা দেহ শুধু মাটি দিয়ে তৈরি, তাই একে মাটির সাথেই মিশিয়ে দেয়া উচিৎ, তারা অবশ্যই ভুল বলেন। বাস্তবে দেহ এই পাঁচটি উপাদানের সমষ্টি। শবদাহ করার মাধ্যমে দেহকে এই ৫টি উপাদানেই মিশিয়ে দেয়া হয় প্রত্যক্ষভাবে। দাহ শেষে অবশিষ্টাংশ জলে বিসর্জন দেয়া হয়। এজন্য শ্মশান সর্বদাই জলাশয়ের পাশে হয়ে থাকে।
অপরদিকে সমাধি বা কবর দিলে দেহ পঞ্চভূতে লীন হয় বটে, তবে পরোক্ষ ও ধাপে ধাপে। কারণ দেহ মাটির সাথে মেশে পঁচন প্রক্রিয়ায়। কোটি কোটি অনুজীব, পোকা-মাকড়ের খাবারে পরিণত হয় দেহ। এভাবে পঁচে গলে মাটিতে মেশানোই বরং দাহ করার চেয়ে বেশি অমানবিক মনে হয়।

একটা মজার তথ্য দিই। অনেক সময় আমরা বলি, লোকটা তো মরে ভূত হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে সে প্রকৃতিতে (পঞ্চভূতে) লীন হয়েছে -এটাই বুঝতে হবে।

৪. মৃত্যু হয় দেহের; আত্মার নয়। অবিনাশী আত্মা অজর, অমর, অক্ষয়, অব্যয়। এটা জগদীশ্বর পরমাত্মার অংশ। ('বিদ্রোহী' কবিতার কয়েক লাইন মনে পড়ে কি?) জড় প্রকৃতির পঞ্চভূতে গড়া দেহ ফিরে যায় পঞ্চভূতে, আর জীবাত্মা ফিরে যায় পরমাত্মাতে। (মৃত্যুর পরে অবশ্যই আর কখনোই আপনি পুরনো দেহে ফিরে আসবেন না, বা কোন প্রকার শাস্তি/আজাব ভোগ করবেন না। শবদাহ করার পরে/মাটিতে মিশে যাওয়ার পরে নিশ্চয়ই লীন হওয়া দেহকে শাস্তি/আজাব যৌক্তিকভাবে সম্ভব নয়।)

৫. মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে শোকের কোন ব্যাপার নয়। তীর্থস্থান বেনারস বা কাশীতে মৃত্যুও একটা উৎসবের ব্যাপার।
"জাতস্য হি ধ্রুবর্মৃত্যো ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ"-
গীতাঃ-(২/২৭)
যে জন্মেছে তার মৃত্যু নিশ্চিত, যে মরেছে তার জন্মও নিশ্চিত।

অতএব, অপরিহার্য কর্তব্য সম্পাদন করার সময় তোমার শোক করা উচিত নয়।।
বরং জরাজীর্ণ রোগশোকে আক্রান্ত দেহ ছেড়ে জীবাত্মার নতুন সুস্থ-সুন্দর দেহে জীবন আরম্ভের প্রাক্কালে মৃতকে হাসিমুখে বিদায় জানানোই উচিত.....।।

Collected from: Subro Nill Suvo
Share:

২৫ অক্টোবর ২০১৭

ভগবান আর ভগবা‌নের নাম জ‌পের মাহাত্ম্য কি ভিন্ন - না একই ?

যে বস্তুর নাম গুড় , তার সেই না‌মে গুড় নামক বস্তুর অভাব আ‌ছে অর্থাৎ গু‌ড়ের নাম‌টির ম‌ধ্যে গুড় নেই । যতক্ষণ রস‌নে‌ন্দ্রিয় বা জি‌ভের স‌ঙ্গে সম্বন্ধ না করা হ‌চ্ছে ততক্ষণ মুখ মিষ্টতা লাভ করে না , কেননা জি‌ভে গুড় নেই । ঠিক এইরকম ধনীর নাম নি‌লে ধন প্রাপ্ত হয় না । কেননা ধনী নাম‌টির স‌ঙ্গে ধ‌নের কোন অ‌স্তিত্ব নেই । কিন্তু ভগবা‌নের নাম‌টির স‌ঙ্গে ভগবান সর্বদা হ‌া‌জির । নামী ( ভগবান ) থে‌কে নাম আলাদা নন এবং নাম থে‌কে নামী ( ভগবান ) আলাদা নন । নামী‌তে নাম উপ‌স্থিত এবং না‌মেও নামী হা‌জির । অতএব নামীর অর্থাৎ ভগবা‌নের নাম নি‌লে ভগবান‌কে পাওয়া যায় ও নামী স্বয়ং প্রক‌টিত হন ।

কৃষ্ণে‌তি নামা‌নিচি নিঃসর‌ন্তি রা‌ত্রি‌ন্দিবং বৈ প্র‌তি‌রোমকূপাৎ ।

যস্যার্জুনস্য প্র‌তি তং সুগীতগী‌তে ন না‌ম্নো ম‌হিমা ভ‌বেৎ কিম্ ।।

নাম এবং নামী অর্থাৎ ভগবন্নাম এবং ভগবান অ‌ভেদ , অতএব দু‌টি‌কে ম্মরণ করার একই মাাহাত্ম্য । ভগবন্নাম তিনরূ‌পে নেওয়া যায় --

১। ম‌নের দ্বারা - ম‌নের দ্বারা নাম স্মরণ হয় , যার বর্ণনা ভগবান ' যো মাং স্মর‌তি নিত্যশঃ ' ( ৮\১৪ ) পদদ্বারা ক‌রে‌ছেন ।

২ । বাণীর দ্বারা - বাণীর দ্বারা নামজপ হয় , যা‌কে ভগবান ' যজ্ঞানাং জপয‌জ্ঞোহ‌স্মি ' ( ১০\২৫ ) পদদ্বার‌া নি‌জের স্বরূপ ব‌লে‌ছেন।

গীতায় ভগবান ওঁ , তৎ , সৎ পরমাত্মার এই তিন‌টি নাম ব‌লে‌ছেন - " ওঁ তৎস‌দি‌তি নি‌র্দে‌শো ব্রহ্মণস্ত্রি‌বিধঃ স্মৃতঃ । প্রণব বা ওঁকার‌কে ভগবান নি‌জের স্বরূপ ব‌লে জানি‌য়ে‌ছেনন। ' প্রণব সর্ব‌বে‌দেষ‌ু ( ৭\৮ ) । ' গিরাম‌স্ম্যেকমক্ষ‌রম্ ' ( ১০\২৫ ) । ভগবান ব‌লে‌ছেন , যে মানুষ ওঁ - এই অক্ষর প্রণব উচ্চারণ ক‌রে এবং আমা‌কে স্মরণ ক‌রে শরীর ত্যাগ ক‌রে , সে পরমগ‌তি প্রাপ্ত হয় । ( ৮\১৩)

অর্জুনও ভগবা‌নের বিরাট রূ‌পের স্তু‌তি দ্বার‌া ম‌হিমা কীর্তন ক‌রে‌ছেন , যেমন - ' হে প্রভু ! অ‌নেক দেবতা বিহ্বল হ‌য়ে হাত জোড় ক‌রে আপনার ম‌হিমা কীর্তন কর‌ছেন । ' হে অন্তর্যামী ভগবান ! আপনার নাম ইত্যা‌দির কীর্তন করার এই সম্পূর্ণ জগৎ আন‌ন্দে বি‌ভোর হ‌য়ে প্রেমানুরাগ প্রাপ্ত হ‌চ্ছে । আপনার নামা‌দি কীর্তনে ভীত হয়ে রাক্ষসগণ দশ‌দি‌কে ছু‌টে পালা‌চ্ছে এবং সিদ্ধগণ আপনা‌কে নমস্কার জানা‌চ্ছে ।

জ্ঞাতব্য == সুষু‌প্তি বা গভীর নিদ্রার সম‌য়ে সকল ই‌ন্দ্রিয় ম‌নে , মন বু‌দ্ধি‌তে , ব‌ু‌দ্ধি অহং - এ এবং অহং অ‌বিদ্যা‌তে লীন হ‌য়ে যায় , অর্থাৎ সুষুপ্তি‌তে অহংভা‌বের আভাসও থা‌কে না । গভীর নিদ্রাভ‌ঙ্গে প্রথ‌মে অহংভা‌বের আভাস হয় , প‌রে ক্রমশঃ দেশ , কাল , অবস্থা ইত্যা‌দির আভাস হয় । কিন্তু গভীর নিদ্রায় নি‌দ্রিত ব্য‌ক্তির নাম ধ‌রে ডাক‌লে সে জে‌গে ও‌ঠে , অর্থাৎ অ‌বিদ্যা‌তে লীন হওয়া গভীর নিদ্রায় নি‌দ্রিত ব্য‌ক্তি পর্যন্ত শব্দ পৌঁছায় । তাৎপর্য এই যে শ‌ব্দে অ‌চিন্তীয় শ‌ক্তি আ‌ছে , তাই শব্দ অ‌বিদ্যা‌কে ভেদ ক‌রে অহং পর্যন্ত পৌঁছায় । যেমন অনা‌দিকাল থে‌কে অবিদ্যায় আচ্ছা‌দিত জ্ঞানহীন ব্য‌ক্তির ম‌তো সংসা‌রে মোহগ্রস্ত ব্য‌ক্তির গুরুমু‌খে উপ‌দেশ শ্রবণ কর‌লে নি‌জের স্বরূপ সম্ব‌ন্ধে বোধ জাগ্রত হয় , অর্থাৎ অ‌বিদ্যাসম্পন্ন মানুষ‌কে শব্দদ্বারা তত্ত্বজ্ঞান করা‌নো যায় । শ‌ব্দে এমন বি‌শেষ শ‌ক্তি আ‌ছে যে , যা ই‌ন্দ্রি‌য়ের সাম‌নে নেই , শব্দ সেই প‌রোক্ষ বিষ‌য়ের জ্ঞান ক‌রি‌য়ে দেয় । এইরূপ যে ব্য‌ক্তি তৎপরতার স‌ঙ্গে ভগবৎ- নাম জপ ক‌রে , ঐ নাম তার স্বরূ‌পের বোধ করায় এবং ভগবা‌নের দর্শন পাই‌য়ে দেয় ।

তত্ত্বজ্ঞ জীবন্মুক্ত মহাপুরু‌ষের মুখ‌নিঃসৃত বাণী‌তে যে শব্দ ( উপদেশ ) নিঃসৃত হয় , শ্রদ্ধাসহকা‌রে য‌দি তা কেউ শো‌নে তবে তার আচরণ , ভাব সব‌কিছু শুধ‌রে যায় এবং অজ্ঞান দূরীভূত হ‌য়ে সে বোধসম্পন্ন হয় । কিন্তু যার বাণী‌তে অসত্য , কটুত্ব , বৃথা বাগাড়ম্বর , নিন্দা পরচর্চা ইত্যা‌দির দোষ থা‌কে তার কথায় কা‌রো উপর কোন প্রভাব প‌ড়ে না , কারণ তার এরূপ আচরণের ফ‌লে শ‌ব্দের শ‌ক্তি সংকু‌চিত হয় , তা‌তে শ‌ক্তি থা‌কে না । এইভা‌বেই স্বয়ং বক্তার মধ্যেও ভ্রম , প্রমাদ , লিপ্সা এবং করণাপাটব -- এই চার প্রকার দোষ থা‌কে ।

ভ্রম == বক্তা যে বিষয়‌টি বর্ণনা কর‌ছেন , তি‌নি য‌দি তা ঠিকম‌তো না জা‌নেন অর্থাৎ কিছুটা জা‌নেন আর কিছুটা জা‌নেন না - ত‌বে এ‌কে ' ভ্রম ' বলা হয় ।

প্রমাদ == যি‌নি উপ‌দেশ দেবার সময় সর্তক থা‌কেন না ,;‌বেপ‌রোয়া হ‌য়ে কথা ব‌লেন , শ্রোতা কোন শ্রেণীর , তারা কতটা বোঝে এই সমস্ত তি‌নি উপেক্ষা ক‌রেন - এ‌কে বলা হয় ' প্রমাদ ' ।

‌লিপ্সা = যে কোন ভা‌বে ( আমার ) পূজা হোক , সম্মান হোক , শ্রোতারা প্রচুর টাকা দিক , আমার স্বাথূ সিদ্ধ হোক , শ্রোতারা কোন প্রকা‌রে অধীন হোক , সব প‌রি‌স্থি‌তি অনুকূল হোক , বক্তা যদি এই সব ইচ্ছা রা‌খেন , - তা‌কে বল‌া হয় ' লিপ্সা ' ।

করণাপাটাব === ব‌ক্তব্যের শৈলী‌তে কুশলতা নেই , বক্তা শ্রোতার ভাষা জা‌নেন না , শ্রোতা কি ধর‌নের কথা বুঝ‌তে পার‌বে অর্থাৎ কিভা‌বে বর্ণনা কর‌লে শ্রোতারা বুঝ‌তে পার‌বে তা জা‌নে না , এ‌কে বলা হয় করণাপাটাব ।

এই চার দোষ বক্তার ম‌ধ্যে থাক‌লে তাঁর কথার শ্রোতার জ্ঞান উৎপন্ন হয় না । এই সকল দোষর‌হিত যে সকল শব্দ , তার দ্বারা শ্রোতার জ্ঞান উৎপন্ন হয় । শ্রোতাও য‌দি শ্রদ্ধা , বিশ্বাস , জিজ্ঞাসা , তৎপরতা , সংযতেন্দ্রিয়তা ইত্যা‌দি‌তে যুক্ত হয় এবং পরমাত্মাপ্রা‌প্তি য‌দি তার উ‌দ্দে‌শ্য হয় , তাহ‌লে বক্তার কথায় তাঁর জ্ঞান হয় । এর তাৎপর্য এই যে , বক্তা অ‌যোগ্য হ‌লে শ্রোতার ওপর কোন প্রভাব প‌ড়ে না এবং শ্রোতা অ‌যোগ্য হ‌লে তার ওপর বক্তার কোন প্রভাব প‌ড়ে না । দুজ‌নের যোগ্যতা থাক‌লে তাহ‌লেই বক্তার কথার প্রভাব শ্রোতার ওপর প‌ড়ে । কিন্তু ভগবা‌নের নামে এমনই শ‌ক্তি যে , মানুষ যেভা‌বেই তাঁর নামজপ করুক না কেন তার তা‌তে মঙ্গলই হয় ।

শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হ‌য়ে‌ছে

সা‌ঙ্কেতাং প‌রিহাস্যং বা স্তোডং হেলন‌মেব বা ।

‌বৈকুন্ঠনামগ্রহণ‌শেষাঘহ‌রং বিদুঃ ।। ( ৬\২\৯৪)

ভগবান নি‌জের নাম সম্ব‌ন্ধে ব‌লে‌ছেন , ' যে জীব শ্রদ্ধা বা অব‌হেলা‌তেও আমার নাম উচ্চারণ ক‌রে , তার নাম সর্বদা আমার অন্ত‌রে থা‌কে ' ---

শ্রদ্ধয়া হেলয়া নাম রট‌ন্তি মম জন্তবঃ ।

‌তেযাং নাম সদা পার্থ বর্ততে হৃদ‌য়ে মম ।।

Courtesy by: Joy Shree Radha Madhav
Share:

বর্তমা‌নে ধর্ম লোপ পাচ্ছে এবং অধর্ম বে‌ড়ে যা‌চ্ছে এবং উন্নতমনা পুরু‌ষেরাও দুঃখ পা‌চ্ছেন , তবুও ভগবান কেন অবতাররূ‌পে জন্মগ্রহণ কর‌ছেন না ?


এখনও ভগবা‌নের অবতর‌ণের সময় হয় নি । কারণ শা‌স্ত্রে , ক‌লিযু‌গে যেরূপ অধঃপত‌নের কথা বলা হ‌য়ে‌ছে , তার থে‌কেও বে‌শি অধঃপতন যদি হয় তবেই ভগবান অবতার-‌দেহ ধারণ কর‌বেন । এখনও সেই সময় হয় নি । ত্রেতাযু‌গে রাক্ষ‌সেরা ঋ‌ষি-মু‌নিদের মেরে খে‌য়ে হা‌ড়ের পাহাড় তৈরী ক‌রে‌ছিল , ত‌বেই ভগবান অবতরণ ক‌রেছি‌লেন ।

বর্তমা‌ন ক‌লিযু‌গে দেখা যায় যে , সেইরূপ অত্যাচার-অনাচার এখনও হয় নি । ধর্ম য‌দিও সামান্য মাত্রায় হ্রাস পায় , তখন ভগবান আ‌ধিকা‌রিক পুরুষ‌দের পা‌ঠি‌য়ে তা ঠিকম‌তো চালাবার ব্যবস্থা ক‌রেন অথবা স্থা‌নে স্থা‌নে সাধু- মহাত্ম্য প্রক‌টিত হ‌য়ে তাঁ‌দের আচরণ এবং ভাষণ দ্বার‌া মানুষ‌কে স‌ঠিক প‌থে প‌রিচা‌লনা ক‌রেন ।

একভা‌বে দেখ‌তে গে‌লে ভগবা‌নের অবতার নিত্য । এই জগৎ-সংসার ভগবা‌নেরই অবতার-রূপ । সাধকগ‌ণের কাছে সাধ্য এবং সাধনরূ‌পেই ভগবান অবর্তীণ । ভক্ত‌দের জন্য ভ‌ক্তিরূ‌পে , জ্ঞান‌যোগী‌দের কা‌ছে জ্ঞেয়রূ‌পে , কর্ম‌যোগী‌গ‌ণের কা‌ছে কর্তব্যরূ‌পে ভগবানই অবতার । ক্ষ‌ু‌ধি‌তের কা‌ছে অন্নরূ‌পে , পিপাসার্ত‌দের কা‌ছে জলরূ‌পে , বস্ত্রহীন‌দের কা‌ছে বস্ত্ররূ‌পে এবং রো‌গী‌দের কা‌ছে ঔষধরূ‌পে তাঁরই অবতাররূপ ।

ভোগী‌দের কা‌ছে ভোগরূ‌পে , লোভী‌দের কা‌ছে অর্থ , বস্তু ইত্যা‌দি রূ‌পেই তি‌নি অবতীর্ণ । গর‌মে শীতল ছায়া , শী‌তে উষ্ণ বস্ত্র ভগবা‌নের অবতার রূপ । এর তাৎপর্য এই যে , জড় -চেতন , স্থাবর -জঙ্গম ইত্যা‌দি সকল রূপই তাঁর অবতার রূপ , কেননা বাস্ত‌বে তি‌নি ছাড়া দ্বিতীয় কোন কিছুর অ‌স্তিত্বই নেই - ' বাসু‌দেব সর্বম্ ' ( ৭\১৯ ) , ' সদসচ্চাহম্ ' ( ৯\১৯ ) । কিন্তু যে ব্য‌ক্তি জগৎ-সংসার রূ‌পে প্রক‌টিত প্রভু‌কে ভোগ্য ম‌নে ক‌রে নি‌জে‌কে তার অধিকারী ভা‌বে , তার পতন হয় এবং সে জন্ম- মরণ চ‌ক্রে আব‌র্তিত হ‌তে থা‌কে ।

যাঁরা ম‌নে ক‌রেন ভগবান শুধুই নিরাকার , সাকার হন না , তাঁদের সে ধারণা এ‌কেবা‌রেই ভুল । কেননা প্রা‌ণিমাত্রই অব্যক্ত ( নিরাকার ) এবং ব্য‌ক্ত ( সাকার ) হ‌য়ে থা‌কে । এর অর্থ এই যে সমস্ত প্রাণী প্রথ‌মে অব্যক্ত ( অপ্রকাশিত ) , মাঝে ব্যক্ত ( প্রকা‌শিত ) , এবং শে‌ষে আবার অব্যক্ত ( অপ্রকা‌শিত ) হ‌য়ে যায় ( ২\২৮ ) । পৃ‌থিবীরও দুই রূপ নিরাকার এবং সাকার ।

পৃ‌থিবী তন্মাত্ররূ‌পে নিরাকার এবং স্থূলরূ‌পে সাকার হয়ে আ‌ছে । জল পরমাণুরূ‌পে নিরাকার এবং মেঘ , বৃ‌ষ্টি , শিলারূ‌পে সাকার হ‌য়ে আ‌ছে । বায়ু নিষ্পন্দরূ‌পে নিরাকার , স্পন্দনরূ‌পে সাকার । দিয়াশলাই , কাঠ , পাথর ইত্যা‌দি আগুন নিরাকাররূ‌পে অব‌স্থিত এবং ঘর্ষণ ইত্যা‌দি সাধন দ্বারা সাকার রূপ ধারণ ক‌রে । এইরূপে সৃ‌ষ্টিমাত্রই নিরাকার এবং সাকার হ‌তে থা‌কে ।

প্রলয় এবং মহাপ্রলয় কা‌লে সৃ‌ষ্টি নিরাকার থা‌কে এবং কল্প ও মহাক‌ল্পের সম‌য়ে সাকার রূপ ধারণ ক‌রে । য‌দি প্রা‌ণিকুল নিরাকার ও সাকার হ‌তে পারে , পৃ‌থিবী , জল ইত্যা‌দি মহাভূত নিরাকার ও সাকার হ‌তে পা‌রে , সৃ‌ষ্টিও নিরাকার - সাকার হ‌তে পারে , তাহ‌লে ভগবান কি নিরাকার ও সাকার হ‌তে পারে না ? তাঁর নিরাকার ও সাকার হওয়া‌তে কি‌সের বাধা ?

এইজন্য ভগবান গীতায় ব‌লে‌ছেন , ' সমস্ত জগৎ আমার অব্যক্ত স্বরূ‌পে ব্যাপ্ত হ‌য়ে আ‌ছে ' - ' ময়া তত‌মিদং সর্বং জগদব্যক্তমূ‌র্তিনা ' ( ৯\৪ ) । এখা‌নে ভগবান নি‌জে‌কে ' ময়া ' পদ দ্বারা ব্যক্ত বা সাকার এবং ' অব্যক্তমূ‌র্তিনা ' বাক্য দ্বারা অব্যক্ত বা নিরাকার ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন ।

সপ্তম অধ্যা‌য়ের চতু‌র্বিংশ শ্লো‌কে ভগবান ব‌লে‌ছেন , ' যারা আমা‌কে অব্যক্ত বা নিরাকার ব‌লেই শুধু মা‌নে , ব্যক্ত বা সাকার বলে নয় , তারা বু‌দ্ধিহীন আর যারা ব্যক্ত বা সাকার ব‌লে ম‌নে ক‌রে , অব্যক্ত বা নিরাকার ব‌লে নয় , তারাও বুুদ্ধিহীন । কেননা এই দুই পক্ষই আমার পরম ভ‌াব‌কে জা‌নে না । 'ভগবান হ‌চ্ছেন সাকার নিরাকার উভয়ই । যি‌নি পূর্ণরূ‌পে এই তত্ত্ব জা‌নেন তি‌নি প্রকৃত জ্ঞানী ।

Courtesy by: Joy Shree Radha Madhav
Share:

নাম‌তো কেবলমাত্র শব্দ , তার দ্বারা কী কার্য সিদ্ধ হ‌বে ?

সাধারণভা‌বেও শব্দমাত্রে অ‌চিন্ত্য শ‌ক্তি আ‌ছে এবং না‌মে ভগবা‌নের স‌ঙ্গে সম্বন্ধ তৈ‌রি ক‌রার এক বি‌শেষ ক্ষমতা আ‌ছে অতএব ভগবা‌নের নাম যে কোন প্রকারেই নেওয়া হোন না কেন , তার দ্বারা মঙ্গলই হয় । যে বি‌শেষ ভাবসহ নাম জপ করে তার খুব শীঘ্রই লাভ হয় ।

নামজ‌পের সময় য‌দি ভাব কম হয় তাহ‌লেও নাম জ‌পে লাভ হয় , তবে কত‌দিন পর হ‌বে - তা বলা যায় না । নামজ‌পের সংখ্যা বেশী বা‌ড়ি‌য়ে দি‌লে ভাব তৈরী হয় , কেননা যাঁরা নাম জপ ক‌রেন , তাঁ‌দের অন্ত‌রে সূক্ষভাব থা‌কেই , না‌মের সংখ্যা বাড়া‌লে সেই ভাব প্রক‌টিত হয় ।

নামজপ কোন নিছক ক্রিয়া নয় । এ‌টি এক প্রকা‌রের উপাসনা , কারণ নামজপে জপকারীর লক্ষ্য এবং সম্বন্ধ ভগবা‌নের দি‌কেই থা‌কে । যেমন কর্মদ্বারা কল্যাণ হয় না , কর্ম নি‌জের ফল দান ক‌রে নষ্ট হ‌য়ে যায় , কিন্তু ক‌র্মের স‌ঙ্গে মুখ্যভা‌বে য‌দি নিষ্কামভাব থা‌কে তাহ‌লে সেই কম কল্যাণকারী হয়ে ও‌ঠে ।

তেম‌নি নামজপ য‌দি মুখ্যভাবে ভগবান‌কে লক্ষ্য রে‌খে করা হয় , তা হ‌লে নামজ‌পের দ্বারা ভগবৎসাক্ষাৎকার হ‌য়ে যায় । ভগবানকেই মুখ্যরূ‌পে লক্ষ্য কর‌লে নাম চিন্ময় হ‌য়ে ও‌ঠে এবং তা ক্রিয়ারূ‌পে থা‌কে না । শুধু তাই নয় , সেই চিন্ময়তা জপকারী‌তেও নে‌মে আ‌সে , অর্থাৎ যে ব্যক্তি জপ ক‌রেন তাঁর শরীরও চিন্ময় হয়ে যায় , তাঁর শরী‌রের জড়ত্ব নষ্ট হয় ।

যেমন , সন্ত তুকারাম সশরী‌রে ঈশ্বরধা‌মে গমন ক‌রে‌ছি‌লেন , ভ‌ক্তিম‌তি মীরার দেহ ভগবা‌নের বিগ্র‌হে মি‌শে গি‌য়ে‌ছিল , কবী‌রের দেহ অদৃশ্য হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল এবং সেই স্থা‌নে ফুল পাওয়া গি‌য়ে‌ছিল । চোখা‌মেলার ভক্তের অ‌স্তি‌তে ' বিট্ঠল ' না‌মের ধ্ব‌নি শোনা যেত । এই সব নাম ভগবা‌নের নাম জপের ফল ।

ভগবান কখন কা‌কে ভ‌ক্তিপ্রদান কর‌বেন তা ভ‌ক্তের উপর নির্ভর ক‌রে । যে যেভাব নি‌য়ে ভগবান‌কে ডা‌কেন ভগবান তা‌কে সেই ভাবই দান ক‌রেন । তাই ভগবা‌নের কাছে প্রার্থনা ক‌রি , যেন সর্বদা তাঁর নাম জ‌পে মত্ত থাক‌তে পা‌রি । যত বাধা আসুক তা যেন কিছু‌তেই নাম জ‌পে বিচ‌লিত কর‌তে না পা‌রে ।

শাস্ত্র এবং সাধু‌সন্তগণ ভগবৎনা‌মের যে ম‌হিমা গান ক‌রে‌ছেন , তা পু‌রোপু‌রি সত্য । শুধু তাই নয় , আজ পর্যনাত যত নাম -ম‌হিমা গীত হ‌য়ে‌ছে তা‌তেও তাঁর নাম‌ম‌হিমা পুরোপু‌রি কীর্তন করা হয়‌নি । এখা‌নো অ‌নেক নাম‌মহিমা বাকী আ‌ছে । কারণ ভগবান অনন্ত , তাই তাঁর নাম - ম‌হিমাও অনন্ত - হ‌রি অনন্ত , হ‌রিকথা অনন্তা । আমার যতটুকু জা‌নি তা সামান্যমাত্র । ভগবা‌নের ম‌হিমা ভগবা‌ন ছাড়া আর কে -বা বল‌তে প‌া‌রেন । এমন কি কেউ আ‌ছেন যে সম্পূর্ন নাম - ম‌হিমা কীর্তন করতে পা‌রেন ? তাই ভগবা‌নের প্র‌তি বিশ্বাস , শ্রদ্ধা , ভক্তি , ভাব , প্রেম ইত্যা‌দি রে‌খে তার নাম জপ করা ।

নামের মাহাত্মা‌কে স্বীকার না কর‌লে নাম‌কে অব‌হেলা বা অপমান করা হয় , তাই সেই নাম তত প্রভাব ফে‌লে না । মন দি‌য়ে নামজপ না করা , ই‌ষ্টের প্র‌তি ধ্যান সহকা‌রে নাম জপ না করা এবং হৃদয় থে‌কে নামকে মাহাত্ম্য না দেওয়া ইত্যা‌দি দোষ;ঘট‌লে নামের মাহাত্ম্য শীঘ্র দেখা;যায় না । হ্যাঁ , কোনভা‌বে মু‌খে নাম - জপ করতে থাক‌লে তা‌তেও লাভ হয় , তবে এ‌তে সময় লা‌গে ।

মন লাগুক না লাগুন নিরন্তর নামজপ কর‌লে , কখন‌ো বাদ না দি‌লে নাম মহারা‌জের কৃপায় সব কাজ হ‌য়ে যায় অর্থাৎ মন লা‌গতে থা‌কে , না‌মের ওপর শ্রদ্ধা জাগ্রত হয় ।য‌দি ভগবৎনা‌মে অনন্য ভ‌ক্তি থা‌কে এবং নিরন্তর নামজপ হ‌তে থাকে , ত‌বে স‌ত্যই তা‌তে লাভ হয় । কারণ , ভগবৎনাম জাগ‌তিক না‌মের ম‌তো নয় । ভগবান চিন্ময় , তাঁর নামও তাই চিন্ময় বা চেতন ।

রাজস্থা‌নে বুধারাম নামে একজন সাধু ছি‌লেন । তি‌নি তৎপরতার স‌ঙ্গে নামজপ শুরু কর‌লেন ।ক্র‌মে এমন হল যে স্বল্প সম‌য়ের জন্যও নামজপ বাদ পড়‌লে তাঁর অসহ্য ম‌নে হ‌তো । খাবার তৈরী হ‌য়ে গেল মা খে‌তে ডাক‌তেন , তিনি খে‌য়ে এ‌সে আবার নামজপ কর‌তে লে‌গে যে‌তেন । এক‌দিন তি‌নি মা‌কে বল‌লেন , ' মা ' রু‌টি খে‌তে অ‌নেক সময় লা‌গে , তু‌মি কেবল দা‌লিয়া ( গ‌মের খিচু‌ড়ি ) ক‌রে থালায় প‌রি‌বেশন কর‌বে , ঠাণ্ডা হ‌য়ে গেলে আমা‌কে খেতে ডাক‌বে ।

মা তখন সেইমত ব্যবস্থা কর‌লেন । আবার কিছু‌দিন পর বুধারাম বল‌লেন , ' মা খিচু‌ড়ি খে‌তেও সময় লা‌গে , এবার থে‌কে রাব্ ( আটা এবং জ‌লের মিশ্রণ বি‌শেষ ) কোরো আবার ঠাণ্ডা হ‌লে তখন খে‌তে ডা‌কো । ' এইভা‌বে তি‌নি নামজ‌পে বিভোর থাক‌তেন সবসময় । আর নামজপ কর‌তে থাক‌লে ত‌বেই বাস্ত‌বিক লাভ হয় । না‌মে অনন্ত শ‌ক্তি , শ্রদ্ধা - বিশ্বা‌সে নামের শ‌ক্তি বা‌ড়ে এবং শ্রদ্ধা - বিশ্বাস না থাক‌লে ক‌মে - একথা ঠিক নয় । ত‌বে যাঁ‌দের না‌মে শ্রদ্ধা -বিশ্বাস থা‌কে তাঁরা না‌মের দ্বারা লাভবান হয় এবং যাঁদের তা থা‌কে না তাঁ‌দের লাভ হয় না । দ্বিতীয়তঃ যাঁরা না‌মে শ্রদ্ধা - বিশ্বাস ক‌রেন না , তাঁদের নামাপরাধ হয় ।

Courtesy by: Joy Shree Radha Madhav
Share:

ভ‌ক্তেরা ভগবান‌কে যে ভোগ অর্পন ক‌রেন , তা যে ভগবান গ্রহণ ক‌রেন তার প্রমাণ কি ?

ভগবা‌নের রাজত্বে বস্তুর প্রাধা‌ন্য নেই , আ‌ছে ভা‌বের প্রাধান্য । ভা‌বের জন্যই ভগবান ভক্ত-অ‌র্পিত বস্তু এবং পূজা‌দি ক্রিয়াকর্ম স্বীকার ক‌রেন । ভ‌ক্তের য‌দি ভাব হয় ভগবা‌নকে খাওয়াবার তখন ভগবানেরও খি‌দে পায় এবং তি‌নি প্রকট হ‌য়ে ভোজন ক‌রেন । ভ‌ক্তের ভাব বা ভা‌লোবাসা‌তে ভগবান যে বস্তু গ্রহণ ক‌রেন , সে বস্তু আর বিনষ্ট হয় না । তা দিব্য বা চিন্ময় হ‌য়ে যায় । য‌দি এইরূপ ভাব না - ও হয় , কিছু কম হয় , তাহ‌লেও ভক্ত ভোগ অর্পণ কর‌লেই ভগবান সন্তুষ্ট হন । ভগবা‌নের সন্তু‌ষ্টি বিধা‌নের জন্য বস্তু বা ক্রিয়ার প্রাধান্য নেই , শুধু ভা‌বেরই প্রাধান্য ।

একজন ব্যক্তি ছি‌লেন তাঁর একজন সাধুর উপ‌রে খুব শ্রদ্ধা ছিল এবং তি‌নি সাধুর খুব যত্ন কর‌তেন । তি‌নি বল‌তেন , ' সাধুর যখনই পিপাসা লাগত আমার ম‌নে হ‌তো যে তাঁর পিপাস‌া পে‌য়ে‌ছে , অতএব আ‌মি জল নি‌য়ে যেতাম এবং তি‌নি জল পান কর‌তেন । '

সেইরূপ যাঁরা প‌তিব্রতা স্ত্রী , তাঁরাও স্বামীর ক্ষুধা -তৃষ্ণার খবর ঠিক ম‌তো বুঝ‌তে পা‌রেন এবং স্বামী কি খে‌তে ভালবা‌সেন তাও তাঁরা বুঝ‌তে পা‌রেন । স্বামী‌কে খে‌তে দি‌লে তি‌নিও ব‌লে ও‌ঠেন , ' আজ আমার এইটাই খাবার ইচ্ছা হ‌য়ে‌ছিল । ' এইভা‌বেই যাঁর মন ভগবান‌কে ভোগ দেবারর আন্ত‌রিক বাসনা হয় তাঁর স্বতঃই ভগবা‌নের রু‌চি এবং ক্ষুধা-তৃষ্ণার বিষ‌য়ে ধারণা হ‌য়ে যায় ।

এক ম‌ন্দি‌রে একজন পূজারী‌ ছি‌লেন । তাঁর ইষ্ট ছি‌লেন গোপাল । তি‌নি রোজ ছোট লাড্ডু বানা‌তেন এবং রা‌তে যখন গোপাল‌কে শয়ন করা‌তেন ,তখন মাথার কা‌ছে লাড্ডু রে‌খে দি‌তেন । কারণ বাল‌কের রা‌তে ক্ষুধা পেয়ে যায় । এক‌দিন পূজা‌রী লাড্ডু রাখ‌তে ভু‌লে যান , তখন গোপাল পূজারী‌কে স্ব‌প্নে দেখা দেন এবং ব‌লেন তাঁর ক্ষি‌ধে পে‌য়ে‌ছে । তারপর থে‌কে পূজারী প্র‌তি‌দিন লাড্ডু রাখ‌তেন । এমন আরেক‌টি ঘটনা আ‌ছে ।

এক সা‌ধু ছি‌লেন । ই‌নি প্র‌তিবছর দেওয়ালীর পর ঠাণ্ডার সময় ভগবান‌কে কাজু , বামা , পেস্তা , আখ‌রোট ইত্যা‌দি ভোগ দি‌তেন ল পরে কাজু , বাদাম ইত্যা‌দির দাম খুব বে‌ড়ে যাওয়ায় তি‌নি চীনা বাদাম দি‌য়ে ভোগ দিতে শুরু ক‌র‌লেন । এক‌দিন রা‌তে ভগবান স্ব‌প্নে জিজ্ঞাসা কর‌লেন , ' কি‌রে , তুই আমা‌কে শুধু চীনা বাদামই খাওয়া‌বি ?

সেই‌দি‌নের পর থে‌কে পুনরায় ভগবা‌নকে কাজু ইত্যা‌দি দি‌য়ে ভোগ দি‌তে আরম্ভ কর‌লেন । প্রথ‌মে তাঁর ম‌নে কিছু দ্বিধা ছিল যে , ' কি জা‌নি ভগবান ভোগ গ্রহণ ক‌রেন কিনা ? যখন ভগবান স্ব‌প্নে এইভা‌বে বল‌লেন তখন তাঁর দ্বিধা দূর হল । এর তাৎপর্য এই যে কেউ ভগবান‌কে আদর ক‌রে ভোগ দি‌লে তাঁরও ক্ষুধা পায় এবং তি‌নি তা গ্রহণ ক‌রেন ।

এক সাধু ছি‌লেন তাঁর আহার অত্যন্ত বেশী ছিল । একবার তাঁর দেহ রোগগ্রস্ত হয় । কোন এক ব্য‌ক্তি তাঁ‌কে পরামর্শ দেয় যে , ' মহারাজ , আপ‌নি গরুর দুধ খান এবং বাছুর‌টি দুধ খাওয়ার পর যেটুকু বাঁচ‌বে মাত্র সেইটুকুই খা‌বেন । ' তি‌নি সেই মত কর‌তে লাগলেন । গো- বৎস পেট ভ‌রে মা‌য়ের দু‌ধ খাওয়ার পর তি‌নি গরুর দুধ দোহা‌তেন , তা‌তে মাত্র এক‌পো বা দেড়‌পো পেতেন , কিন্তু তা‌তেই তাঁর পেট ভ‌রে যেত । কিছু‌দি‌নের ম‌ধ্যেই তাঁর অসুখ সে‌রে গেল এবং তি‌নি সুস্থ হ‌লেন ।

এর তাৎপর্য এই যে সাধুটি বিশ্বাস নি‌য়ে তা ক‌রে‌ছি‌লেন ফ‌লে তাঁর অসুখ সেরে যায় । য‌দি ন্যায়সঙ্গত বস্তু‌তে এ‌তো শ‌ক্তি থাক‌তে থা‌কে যে অল্পমাত্রায় গ্রহণ কর‌লেও তৃ‌প্তি হয় এবং অসুখ সে‌রে যায় তাহ‌লে যে বস্তু ভাবপূর্বক ভগবান‌কে দেওয়া হয় তার সম্ব‌ন্ধে কিছু আর বলার অ‌পেক্ষা থা‌কে না । কারণ এখা‌নে বিশ্বাস আ‌ছে যে ভগবান অবশ্যই গ্রহণ ক‌রবেন য‌দি তা ভ‌ক্তিভ‌রে অর্পন করা হয় ।

সক‌লেই অনুভব করে থা‌কেন যে কেউ য‌দি ভাব দ্বারা বা অনুরাগ সহকা‌রে ভোজন করায় তাহ‌লে সেই আহা‌রে সুস্বাদ পাওয়া যায় এবং সেই আহার দ্বারা বৃ‌ত্তিসকলও ভা‌লো থা‌কে । শুধু মানুষের ওপর নয় , পশু‌দের ওপরও এর প্রভাব প‌ড়ে । যে গোবৎ‌সের মা - গাভী‌টি মারা যায় , লো‌কে তা‌কে অন্য গাভীর দুধ খাওয়ায় , তা‌তে সেই বাছুর‌টি বেঁ‌চে যায় ।

য‌দি মানুষ বা পশুর ওপ‌রে ভা‌বের প্রভাব প‌ড়ে তাহ‌লে অন্তর্যামী ভগবা‌নের ওপ‌রেও সে ভা‌বের প্রভাব পড়‌বে তা‌তে আর বলার কি আ‌ছে ? বিদু‌রের স্ত্রীর এইরূপ ভাব ছিল ব‌লেই ভগবান তাঁর হাত থে‌কে কল‌ার খোসা পর্যন্ত খে‌য়ে‌ছি‌লেন । গোপিনী‌দের এইভাব ছিল বলেই ভগবান তাঁ‌দের হাত থে‌কে কেড়ে দই , মাখন খে‌য়ে‌ছি‌লেন ।

শ্রীব্রহ্মা‌কে ভগবান ব‌লে‌ছি‌লেন --

‌নৈ‌বেদ্যং পুর‌তো ন্যস্তং চক্ষুষা গৃহ্য‌তে ময়া ।

রসং চ দাস‌জিহ্বায়ামশ্না‌মি কম‌লোদ্ভব ।।

' হে কম‌লোদ্ভব ! আমার সাম‌নে অ‌র্পিত ভোগসমূহ আ‌মি নেত্র দ্বারা গ্রহণ ক‌রি , কিন্তু তার স্বাদ আ‌মি ভক্ত‌দের জিহ্বাদ্বারাই গ্রহণ ক‌রি ।

ভাবদ্বারা অ‌র্পিত ভোগদ্রব্য ভগবান কখনও দৃ‌ষ্টি দ্বারা , কখনও স্পর্শ দ্বারা আবার কখনও স্বয়ং কিছুটা গ্রহণও ক‌রেন ।

হামাগু‌ড়ি দেওয়া শিশু কোন বস্তু নি‌য়ে তার বাবা‌কে দি‌লে যেমন তি‌নি খুব খু‌শি হন এবং অ‌নেক উঁচু‌তে হাত দেখিয়ে ব‌লেন , ' বাবু , তু‌ই এতবড় হ , অর্থাৎ , আমার থে‌কেও বড় হয়ে ওঠ । ' কেন , বস্তু‌টি কি অলভ্য ছিল যে ‌শিশু‌টি সে‌টি দেওয়ায় তার বাবা বি‌শেষ কিছু পে‌লেন ? না , তা নয় ! কেবল শিশুর দেবার ভাব‌টি দে‌খে বাবা প্রসন্ন হ‌লেন ।

এইরূপ ভগবা‌নেরও কোন জি‌নি‌সের অভাব সেই , অথবা তাঁর কোন কিছু প্রাপ্তিরও ইচ্ছা নেই , কেবল ভ‌ক্তের দেবার ভাব‌টির জন্যই তি‌নি প্রসন্ন হন । কিন্তু যারা লোক দেখা‌নোর জন্য বা লোক ঠকা‌নো‌র জন্য ম‌ন্দির সাজায় ,ভগবা‌নের বিগ্রহ সাজায় , ভাল ভাল জি‌নিস দি‌য়ে ভোগ অর্পন ক‌রে , তা‌দের নৈ‌বেদ্য ভগবান গ্রহণ ক‌রেন না । কেননা তা ভগবা‌নের প্রকৃত পূজা নয় , সে‌টি আস‌লে ব্য‌ক্তিগত স্বা‌র্থের ও অ‌র্থেরই পূজা ।

যাঁর‌া ভগবান‌কে ভোগ নি‌বেদন ক‌রেন এবং তাঁর পূজা - অর্চনা ক‌রেন , এইরকম ব্য‌ক্তি‌কে যারা পাষণ্ড ব‌লে এবং অহংকারবশতঃ ভা‌বে , ' আ‌মি ও‌দের থে‌কে ভাল , আ‌মি পাষণ্ড নই ' তা‌দের কখ‌নো কল্যাণ হয় না । যে সব ব্য‌ক্তি যে ভা‌বেই হোক কোন উত্তম কর্ম করেন , তাঁ‌দের কা‌জের সেই অংশ তো ভাল হয়ই , তাঁ‌দের ব্যবহার , চলা‌ফেলার ম‌ধ্যেও ভালত্ব প্রকাশ পায় । কিন্তু যারা অহংকারবশতঃ উত্তম ব্যবহার প‌রিত্যাগ ক‌রে , প‌রিণা‌মে তা‌দের অকল্যাণই হয় ।

তাই যারা ভগবান‌কে ভোগ অর্পন কর‌বেন তা‌দের ভগবা‌নের প্র‌তি প্রেম - ভাব , ভ‌ক্তিভাব , বিশ্বাস , শ্রদ্ধা , প্রী‌তিপূর্ব্বক অর্পন কর‌তে হ‌বে । ম‌নে বিশ্বাস রা‌খতে হ‌বে যে ভগবান আমার অ‌র্পিত ভোগ গ্রহণ কর‌বেন । ত‌বেই ভগবান তা গ্রহণ ক‌রেন । ভগবান গীতায় ব‌লে‌ছেন , যি‌নি আমা‌কে প্রী‌তিপূর্ব্বক পত্র , পুষ্প , ফল ও জল ভ‌ক্তিস‌হিত অর্পন ক‌রেন আ‌মি তার সেই প্রদত্ত বস্তু গ্রহণ ক‌রি । তাই সর্বদা ভগবা‌নের প্র‌তি বিশ্বাস রাখুন ।

Courtesy by: Joy Shree Radha Madhav
Share:

১৯ মে ২০১৭

প্রশ্নঃ কাম ও যৌনতা কে মানব-জীবনের চির শক্র বলা হয় কেন----?


উত্তরঃ মনুস্মৃতিতে বলা হয়েছে যে, ঘি ঢেলে যেমন আগুনকে কখনও নেভানো যায়
না, তেমনই কাম উপভোগের দ্বারা কখনই কামের নিবৃত্ত হয় না। জড় জগতে সমস্ত কিছুর কেন্দ্র হচ্ছে যৌন আকর্ষণ, তাই জড় জগৎকে বলা হয় ' মৈথুনাগার' অথবা যৌন জীবনের শিকল। আমরা দেখছি, অপরাধ করলে মানুষ কারাগারে আবদ্ধ হয়, তেমনই, যারা ভগবানের আইন অমান্য করে,তারাও যৌন জীবনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে এই মৈথুনাগারে পতিত হয়। ইন্দ্রিয়-তৃপ্তিকে কেন্দ্র করে জড় সভ্যতার উন্নতি লাভের অর্থ হচ্ছে, বদ্ধ জীবদের জড় অস্তিত্বের বন্দীদশার মেয়াদ বৃদ্ধি করা। তাই, এই কাম হচ্ছে অজ্ঞানতার প্রতীক, যার দ্বারা জীবদের এই জড় জগতে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধন করার সময় সাময়িকভাবে সুখের অনুভূতি হতে পারে , কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই তথাকথিত সুখই হচ্ছে জীবের পরম শক্র।

Written by: Rajib Ghosh
Share:

প্রশ্নঃ ইন্দ্রিয় দমন ও আত্মার স্বরুপ উপলব্ধি কিভাবে করবেন-------?

উত্তরঃ কামের নানাবিধ কার্যকলাপের নির্গম পথ হচ্ছে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি। কামের সঞ্চয় হয় আমাদের দেহে, কিন্তু ইন্দ্রিয়গুলির মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ হয়। তাই, সামগ্রিকভাবে জড় দেহের থেকে ইন্দ্রিয়গুলি শ্রেয়। আমাদের অন্তরে যখন উচ্চস্তরের চেতনার বিকাশ হয় অথবা কৃষ্ণচেতনার বিকাশ হয়, তখন এই সমস্ত নির্গম পথগুলি বন্ধ হয়ে যায়।

অন্তরে কৃষ্ণভাবনার উন্মেষ হলে পরমাত্মা বা শ্রীকৃষ্ণেরর সঙ্গে আত্মা তার নিত্য সর্ম্পক অনুভব করে, তাই তখন আর জড় দেহের অনুভূতি থাকে না। দেহগত কার্যকলাপগুলি হচ্ছে ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপ, তাই ইন্দ্রিয়গুলি নিষ্ক্রয় হলে, দেহও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু সেই অবস্থায় মন সক্রিয় থাকে, যেমন নিদ্রিত অবস্থায় আমরা স্বপ্ন দেখি। কিন্তু মনেরও উর্ধ্বে হচ্ছে বুদ্ধি এবং বুদ্ধির উর্ধ্বে হচ্ছে আত্মা। তাই আত্মা যখন পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত হয়,তখন বুদ্ধি ও মন স্বাভাবিকভাবে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। ঠিক এভাবে কঠোপনিষদে বলা হয়েছে যে, ইন্দ্রিয় থেকে ইন্দ্রিয় উপভোগের সামগ্রীগুলি শ্রেয়, কিন্তু ইন্দ্রিয় উপভোগের সামগ্রীগুলি থেকে মন শ্রেয়। তাই, মন যদি সর্বোতভাবে নিরন্তর ভগবানের সেবায় নিয়োজিত থাকে, তখন ইন্দ্রিয়গুলি বিপদগ্রামী হবার আর কোন সুযোগ থাকে না।
কঠোপনিষদে আত্মাকে মহান বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই আত্মা হচ্ছে -ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়, ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির উর্ধ্বে। তাই, আত্মার স্বরুপ সরাসরি উপলব্ধি করতে পারলে সমস্ত সমস্যার সমাধাণ হয়ে যায়।
পরমার্থ সাধনে নবীন ভক্তকে সাধারণত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সমস্ত বিষয় থেকে দুরে থাকতে উপদেশ দেওয়া হয়,কেন না তার ফলে ইন্দ্রিয়গুলি ধীরে ধীরে সংযত হয়। তা ছাড়া বুদ্ধি দিয়ে মনকে তার সংঙ্কল্পে দৃঢ রাখতে হয়। বুদ্ধির দ্বারা যদি আমরা কৃষ্ণভাবনার মাধ্যমে ভগবানের চরণ-কমলে আত্মনিবেদন করি, তা হলে মন ভগবানের সেবায় নিয়োজিত হয়ে ত্রকাগ্র হয়, তখন ইন্দ্রিয়ের প্রলোভনগুলি আর মনকে বিচলিত করতে পারে না। ইন্দ্রিয়গুলি তখন বিষদাঁতহীন সাপের মতো নিষ্ক্রয় হয়ে পড়ে। কিন্তু আত্মা যদিও বুদ্ধি, মন ও ইন্দ্রিয়ের অধীশ্বর, তবুও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ না করলে, যে কোন মুহুর্তে মনের প্রভাবে বিচলিত হয়ে আত্মা অধঃপতিত হতে পারে।

লিখেছেনঃ Rajib Ghosh
Share:

১১ জুলাই ২০১৬

প্রশ্ন হচ্ছে, গৌতম বুদ্ধ কি প্রকৃতই নাস্তিক ছিলেন?

কিছু দিন আগে “কা তব কান্তা” নামক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস পড়লাম। যার মূল থিম সনাতন হিন্দুধর্মের প্রাণপুরুষ আর্চার্য শঙ্কর কে নিয়ে রচিত। উপন্যাসটির সূচনায় লেখক একটি জিনিস তুলে ধরেছেন সেটি হল, “বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ কেন হিন্দুর দশ অবতারের এক অবতার হলেন। যেহেতু, ধর্ম সংস্থাপনই হিন্দু অবতারের অবতীর্ণ হওয়ার মূল উদ্দেশ্য বা কারণ।”

এই প্রশ্নটা অনেকের মধ্যই থাকতে পারে। ধরে নেই, যেহেতু বুদ্ধদেব বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক সেহেতু সনাতন দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নাস্তিক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কি প্রকৃতই নাস্তিক ছিলেন??

উপন্যাসের ভাষায়,-- “পণ্ডিত সমাজ এর উত্তর দিয়েছেন এভাবে যে, ‘বুদ্ধদেব কখনোই নাস্তিক ছিলেন না,কারন তিনি কখনো সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যথেচ্চাচারে ভেসে যেতে বলেন নি। তিনি সারাজীবন পরম সত্যকে জানার জন্য চরম কৃচ্ছ্রসাধনে দেহ ও অস্থি পর্যন্ত বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যে বোধিলাভ করে বুদ্ধ হয়েছিলেন। সেই পরম উপলব্দিটি কি? বেদান্ত সেই উপলব্দিকেই বলেছেন নির্বিকল্প সমাধি। সেই বিন্দুতে উপনীত হওয়া, যেখানে স্রস্টা ও সৃষ্টি এক হয়ে বসে আছেন।’ বাইবেলে যে বিন্দুটিকে বলা হয় ‘ওমেগা’।”

সুতরাং, দেখা যাচ্ছে যে, নদীর যতই শাখা-প্রশাখা হোক না কেন, মিলিত কিন্তু হচ্ছে একই সাগরে অথ্যাৎ সেই “বেদান্ত”। পরবর্তী কালে এই উচ্চভাব ধারণে যারা অক্ষম তাঁরাই জোর গলার বলেছেন, ঈশ্বর বলে কিছু নেই। আমরা সবাই নাস্তিক।

বৌদ্ধতত্ত্বের বাহ্যভাব ধর্মসমন্বিত না হলেও এর অত্যুচ্চ নীতি-তত্ত্ব যে গভীর ধর্মভিত্তির ওপর তা যে কোনও সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক স্বীকার না করে পারবে না। বৌদ্ধনীতি কখনোই জঘন্য সুখবাদ বা প্রত্যক্ষবাদের মতো অধ্যাত্মহীন নয়। তাই, বুদ্ধদেব হিন্দু দশ অবতারের এক অবতার। তাঁর প্রচারিত বা উদ্ভাবিত নীতি অতিউচ্চ, অতি মহান। যার সাথে বেদান্তের সূক্ষ্ম যোগসূত্র রয়েছে।

হয়তো এই জন্যই স্বামীজী বলেছেন, ''আমাদের সমাজ জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে , অধাত্ম্য চর্চার ক্ষেত্রে অনেক উদার, যা আমাদের ধর্ম কে উন্নত করেছে । যুগে যুগে আমাদের ধর্মে বিভিন্ন সংস্কারক আবির্ভূত হন,তাই আমাদের ধর্মে এত মত, এত বিভিন্নতা।”

-জয় রায়
৩/০৬/১২
Share:

১২ জুলাই ২০১৫

সনাতন ধর্মের অতি প্রাচীন কিছু প্রশ্নঃ

১/- প্রশ্নঃ ঈশ্বর এর রূপ কি?
উত্তরঃ তিনি নিরাকার, তিনি মহা শক্তি, তিনি প্রকৃতির শক্তি। মূলত শক্তিই হলেন ঈশ্বর।
২/- প্রশ্নঃ ভগবান এর রূপ কি?
উত্তরঃ সৃষ্টি, স্থিতি তথা প্রতিপালন ও প্রলয় যাঁদের মাধ্যমে পরিচালিত; সেই ত্রিমূর্তি হলেন ভগবান। ব্রহ্মা (সৃষ্টি), বিষ্ণু (স্থিতি তথা প্রতিপালন), শিব (প্রলয়) এই ত্রিমূর্তি সনাতন মতে ভগবান। আবার ভক্ত মনে করেন নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপ হলো ভগবান; অর্থাৎ ঈশ্বরের কাজ এই ত্রিমূর্তি দ্বারা পরিচালিত হয়।
৩/ দেবতা কে?
উত্তরঃ ভগবানের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন শক্তিকে যারা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকারী হন তাঁরাই হলেন দেবতা।
৪/- প্রস্নঃ অবতার কে?
উত্তরঃ নিরাকার ঈশ্বর তথা সাকার ভগবানের নিদিষ্ট শক্তির মানব রূপ। দুষ্টের দমন, অধর্মকে দুর করে ধর্ম সংস্থাপন এর জন্য ভগবান যখন মাতৃগর্ভে জন্ম নিয়ে তাঁর লীলার মাধ্যমে অধর্মকে ধ্বংস করে ধর্ম সংস্থাপন করেন তখন তাকে অবতার বলে। নির্দিষ্ট কাজ শেষ করে তিনি মূল শক্তির সাথে একীভূত হয়েযান।
৫/- প্রশ্নঃ ঋষি কে?
উত্তরঃ সাধনা, ভক্তি ও জ্ঞানের বিকাশ দ্বারা নিরকার ঈশ্বর ও সাকার ভগবানের শক্তিকে অনুভব করেন যারা তাঁরা ঋষি। সনাতন এর সমস্ত দর্শন এই ঋষিদের জ্ঞান দ্বারা সমৃদ্ধ। যুগ ধর্ম প্রতিষ্ঠায় সনাতনের প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন সর্বপরি ধর্ম শিক্ষা ও প্রচারে তাঁদের ভূমিকা ছিল।
৬/- প্রশ্নঃ সাধক কে?
উত্তরঃ নির্দিষ্ট শক্তির স্তুতি বা ভগবান বা ত্রিমূর্তির যে কোন এক রুপের স্তুতি বা দেবতার স্তুতি বা অবতার এর প্রতি নিষ্ঠাবান হয়ে যিনি ভক্তি ভরে ইষ্টের আরাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন তিনি সাধক। তাঁরা অর্জিত জ্ঞান দ্বারা সময় ও যুগ উপযোগী মত ও পথের প্রচার করে সনাতন এর জ্ঞান কে সকলের গ্রহণ উপযোগী করে উপস্থাপন করেন।
৭/- অসুর কে?
উত্তরঃ সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের চিরন্তন নিয়মকে লঙ্ঘন করে যারা ভক্ত, মানব ও প্রকৃতির ক্ষয় সাধন করেন এবং অর্জিত শক্তির অপ-প্রয়োগ করে ঈশ্বরের সৃষ্টিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেন তাঁরা অসুর।
সনাতন হলো আদি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। মূলত সনাতন হলো জ্ঞান ও গুনের সুন্দর সমন্বয় যা চিরন্তন সত্য। জীবের ও প্রকৃতির নিয়মের চিরন্তন প্রকাশ হলো সনাতন। আমার ক্ষুদ্র চেষ্টায় আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর বের করার চেষ্টা করেছি এবং সেটা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। আমার ভুল ত্রুটি মার্জনা করবেন।
গর্বের সাথে বলুন আমারা বৈদিক, আমরা সনাতন, আমরা হিন্দু
ঈশ্বর সকলের মঙ্গল করুণ।
by-Lincon Chakraborty —
Share:

৩০ জুন ২০১৫

মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য কি ? মহাবিশ্ব আসছে কোথা থেকে এবং যাচ্ছে বা কোথায় ? মহাবিশ্বের কি কোন শুরু ছিল ? যদি থাকে তবে তার আগে কি ঘটেছিল ? কালের চরিত্র কি ? কাল কি কখনও শেষ হবে ? আমি কে ? কোথা থেকে এসেছি ? কোথায় যাব ?

মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য কি ?
মহাবিশ্ব আসছে কোথা থেকে এবং যাচ্ছে বা কোথায় ?
মহাবিশ্বের কি কোন শুরু ছিল ?
যদি থাকে তবে তার আগে কি ঘটেছিল ?
কালের চরিত্র কি ?
কাল কি কখনও শেষ হবে ?
আমি কে ?
কোথা থেকে এসেছি ?
কোথায় যাব ?

এ সকল মানুষের শাশ্বত প্রশ্ন এর সঠিক উত্তর জানবার জন্য বিজ্ঞানীরা বহুদিন যাবৎ গবেষণা করছেন। তারা ইতিমধ্যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য বিষয়ে অনেক তত্ত্ব, মতবাদ, হাইপোথিসিস, সূত্র আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানীদের অনেক আবিষ্কার আছে পরস্পর বিরোধী একটির সাথে অন্যটির মিল নেই। কিন্তু 'চিন্ময়' জগত বা আত্মা সম্পর্কে তারা নীরব। আসুন দেখি Spirutual Science কি বলে -------
================)(=====================
চিন্ময় জগতে কালের প্রভাব নাই -------
'প্রবর্ততে যত্র রজস্তমস্তয়োঃ সত্ত্বং চ মিশ্রং ন চ কালবিক্রমঃ।
ন য্ত্র মায়া কিমুতাপরে হরে- রনুব্রতা যত্র সুরাসুরার্চিতাঃ।।' ----(ভাগবত ২/৯/১০)
-
অনুবাদ -- ভগবানের সেই ধামে রজো তমোগুণ নাই, এমনকি সেখানে সত্ত্বগুনেরও প্রভাব নাই। সেখানে বহিরঙ্গা মায়াশক্তির প্রভাব তো দূরের কথা, কালেরও প্রভাব নাই। মায়া সেখানে প্রবেশ করিতে পারে না। সুর এবং অসুর উভয়ে কোনরম ভেদবুদ্ধি না করিয়াই ভগবানের পূজা করেন।
-
এই শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে, চিন্ময় জগতে কালের কোন প্রভাব নেই। কাল এক প্রকার শক্তি, এই শক্তির দ্বারা ভগবান জড় জগতসহ সবকিছু সৃষ্টি, ধ্বংস এবং নিয়ন্ত্রন করেন, কালের প্রভাবে সব কিছু পরিবর্তিত হয়, আজকের যুবক ৫০ বছর পর বৃদ্ধে পরিণত হয় কালের প্রভাবে। যেহেতু চিন্ময় জগতে কালের কোন প্রভাব নাই, তাই সেখানে সবকিছু অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে। চিন্ময় জগতে সব কিছু জীবন্ত যেখানে জড় বা প্রাণহীন কোন বস্তু নেই। আমরা জড় জগতে প্রানীর দেহে যে আত্মার প্রভাব অনুভব করি, সেই আত্মা জড় জগত থেকে সৃষ্টি হয়নি। আত্মা চিন্ময় বস্তু, এর কোন সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই। সেজন্য আত্মা চিন্ময় জগতের বস্তু অর্থাৎ আত্মা চিন্ময় জগত থেকে এই জড় জগতে এসেছে। আত্মাকে সাধারণ ভাষায় জীবন বা প্রাণ বলে। কিছু বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেছেন গভীর সমুদ্রে সূর্যলোকের প্রভাবে কতগুলি জড় বস্তুর সম্মিলনে প্রাণ বা জীবন বা আত্মা সৃষ্টি হয়েছে। আবার কেউ বলছেন পানি থেকে জীবন সৃষ্টি হয়ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, জড় বা প্রাণহীন বস্তু থেকে জীবন সৃষ্টি হতে পারে না। জীবন বা আত্মা হল উৎকৃষ্ট উচ্চ স্তরের বস্তু সেটা কখনও নিম্নস্তরের জড় বস্তু থেকে সৃষ্টি হতে পারে না। বিজ্ঞানীরা বহুদিন যাবৎ গবেষণা করছে এই মহাবিশ্বে জীবন বা আত্মা কোথা থেকে এসেছে। সেই প্রশ্নের উত্তরে ভাগবত বলছে আত্মা চিন্ময় জগত থেকে এসেছে। চিন্ময় জগতের 'চিন্ময়' ব অপ্রাকৃত বস্তু, এর সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই চিন্ময় জগত থেকে আত্মার আগমন হয়েছে এবং চিন্ময় জগতে ফিরে যাওয়া ইহার মূল লক্ষ্য-এই জন্য মানব জীবনের মূল লক্ষ্য হল শ্বাশত জীবন অর্থাৎ চিন্ময় জগতে ফিরে যাওয়া। আত্মা চিন্ময় জগত থেকে আসে ---
'অপরেয়মিতস্ত্বন্যাং প্রকৃতিং বিদ্ধি মে পরাম্।
জীবভূতাং মহাবাহো যয়েদং ধার্যতে জগৎ।।' ----- (গীতা ৭/৫)
-
অনুবাদ ---- হে মহাবহো, এই নিকৃষ্টা প্রকৃতি ব্যতীত আমার আর একটি উৎকৃষ্টা প্রকৃতি রয়েছে। সেই প্রকৃতি চৈতন্য স্বরূপা ও জীবভূতা; সেই শক্তি থেকে সমস্ত জীব নিঃসৃত হইয়া এই জড় জগতকে ধারণ করে আছে।
-
এ শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে ভগবানের অন্য একটি উৎকৃষ্টা চৈতন্য স্বরূপা অর্থাৎ চিন্ময় জগত আছে যা জীবভূত অর্থাৎ সেখান থেকে জীবন বা আত্মা এসেছে। চিন্ময় জগতকে আলোকিত করার জন্য জড় জগতের মত সূর্যালোকের প্রয়োজন নেই। সূর্যালোকের যে উৎস ব্রহ্মজ্যোতি, তার দ্বারা চিন্ময় জগত আলোকিত হয়। চিন্ময় জগতে সূর্যোলোক বা চন্দ্রালোকের প্রয়োজন নেই
'ন তদ্ ভাসয়তে সূর্যো না শশাঙ্কো ন পাবকঃ।
যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম।। ---- (গীতা ১৫/৬)
-
অনুবাদ ------ আমার সেই রম ধাম সূর্য, চন্দ্র অথবা বিদুৎ আলোকিত করিতে পারে না। সেখানে গেলে আর এই জড় জগতে ফিরিয়া আসিতে হয় না।
-
এ শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে পরমধাম বা চিন্ময় জগত সূর্য, চন্দ্র বা বিদুৎ আলোকিত করতে পারে না । চিন্ময় জগতের জলও জীবন্ত বস্তুর মত ক্রিয়া করে ।

Written by:  Prithwish Ghosh 
Share:

২৪ জুন ২০১৫

আমাদের বৈদিক শাস্ত্রে কী নেই?

ওঁ তৎসৎ, কঠোপনিষদে যম বলছেন,
শ্রেয়শ্চ প্রেয়শ্চ মনুষ্যমেত স্তো সম্পরীত্য বিবিনক্তি ধীরঃ।
শ্রেয়ো হি ধীরো অভি প্রেয়শো বৃণীতে প্রেয়ো মন্দো য়োগক্ষেমাদ্ বৃণীতে।।
অর্থাৎ শ্রে এবং প্রেয় যেন মানুষকে পরস্পর মিলিত হয়ে আশ্রয় করেন। যিনি ধীর তিনি প্রেয় অপেক্ষা শ্রেয়কে উত্তম বলে মনে করেন। কিন্তু যিনি সত্যি অল্পবুদ্ধি তিনি অস্থায়ী সুখের জন্য প্রেয়কে বেশি গুরুত্ব দেন।
আমাদের বৈদিক শাস্ত্রে কী নেই? এমন চমৎকার বাণী রয়েছে যা আমাদের সমস্ত ভুল বুঝাবুঝির নিরসন করবেন।
উক্ত বাণীর আলোকে বলি, সত্য ও হিতকর বাক্য অপ্রিয় হলেও গ্রহণ করতে হয় যেমন ঔষধ। ঔষধ কি আমাদের রুচিমত না হলেও গ্রহণ না করে পারি? না। তাহলে কেন আমরা সমাজের এত দোষ প্রত্যক্ষ করেও সবার প্রিয় থাকার লোভে নীরব থাকবো? কেন আমাদের কে মিষ্টি কথার জন্য কান পেতে থাকতে হবে? কেন অনুরোধ করতে হবে যে, অসৎ গুরুকে নিন্দা না করে কেবল বন্দনা করুন বা গুরু নিন্দা আমরা সহ্য করতে পারি না? কেন আমরা সত্য ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শকে লাইক না করে শুধু মুখের মিষ্টিকে পছন্দ করবো?
মুখের মিষ্টির চেয়ে অন্তরের মিষ্টি কি বেশি হতে পারে না?
কেন আমাদের সব কথা আপনার মনো মত না হয়ে সত্য হলেও গ্রহণ করতে পারেবন না?
তা যদি না পারেন তাহলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বড় উপাধী সত্যি ব্যাধি হয়ে দেখা দিবে না?
কেন আপনার মনমতো না হলে চলে যাবেন?
এমন ত কথা ছিল না!
যদি চলেই যান তাহলে আপনি কি ঠকবেন না ঐ ঠকবাজদের কাছে?
আমরা যে সমাজ সংস্কার ব্রত ধারণ করেছি তা অতীতে মাত্র এক এক জন বীর পুরুষের দ্বারাও সংগঠিত হয়েছিল! আমরা আজ সবাই মিলে করার কারণ সমাজে হিতকারীর চেয়ে ক্ষতিকারী বেড়ে গেছে। আপনি আমাদের সংগ পরিত্যাগ করলে নিশ্চই ওদের সঙ্গে না গিয়ে পারবেন কি? যাদের দ্বারা আপনার কোন উত্থানতো হবে না বরং ভয়ানক অধপতনই অনিবার্য!
স্বয়ং বিচার করুন।
ধন্যবাদ।
কেবল বেদানুগামীদেরই কল্যাণ প্রার্থনা করি।
কারণ এই প্রার্থনা বেদেই ধ্বনিত হয়েছে।


Arya Sebananda
Share:

পৃথিবীতে সূর্যঘড়ির কথা প্রথম কোথায় পাওয়া যায়? বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম সূর্যঘড়ি কাদের অবদান, এটি কোথায় অবস্থিত?


উত্তর: পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম সূর্যঘড়ির কথা পাওয়া যায় অথর্ববেদে। পরে ভাস্করাচার্য্য এই তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে সূর্যঘড়ি তৈরি করেছিলেন।
রাজস্থানের জয়পুরের যন্তর মন্তর কয়েকটি জ্যোতির্বিজ্ঞান যন্ত্র স্থাপত্যের সমষ্টি। ১৭২৭ থেকে ১৭৩৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মহারাজা দ্বিতীয় জয়সিংহ তাঁর নতুন রাজধানী জয়পুরে মুঘল রাজধানী দিল্লিতে তাঁরই নির্মিত যন্তর মন্তরের আদলে এটি নির্মাণ করেন।
এর মাধ্যমে স্থানীয় সময়, সূর্যের বিষুবলম্ব ও উন্নতি কোণ পরিমাণ করা যায় এমনকি এই ঘড়ির মাধ্যমে গ্রহণও নির্ধারণ করা যায়। ১৫ সেকেন্ডে মধ্যে নির্ভুল সময় নির্ণয় করা সম্ভব। এটি পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বৃহৎ সূর্যঘড়ি। এর অনুরূপ ঘড়ি মানমন্দির দিল্লি, উজ্জ্বয়িনী, মথুরাতে ও কাশীতে রয়েছে। তিনি এই রকম পাঁচটি স্থাপনা পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নির্মাণ করেছিলেন। তার মধ্যে দুটি দিল্লি ও জয়পুরে অবস্থিত। জয়পুর মানমন্দিরটি ছিল বৃহত্তম এবং এখানে তিনি ২০টি স্থায়ী যন্ত্র বসিয়েছিলেন। সূর্যের ছায়া থেকে পৃথিবীর অক্ষাংশ নির্ণয় করে এর মাধ্যমে সময় গণনা করা হয়।
এর সূক্ষ্ম সময় নির্ণয় ব্যবস্থা ও নির্ভুল হিসেবের প্রেক্ষিতে ইউনেস্কো এই সূর্যঘড়িকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় সাংস্কৃতিক সম্পত্তি রূপে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
পৃথিবীর এই বৃহত্তম সূর্যঘড়ি বৈদিক ঋষিদের অবদান।
_____________
বি.দ্র. এটি ‪#‎প্রশ্নোত্তরে‬ হিন্দুধর্ম নামক বই (প্রকাশের অপেক্ষায়) এর একটি প্রশ্ন, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের একটি প্রচেষ্টা। তাই কেউ কপি পেস্ট করে নিজেদের নামে চালাবেন না। প্রচার হোক কিন্তু ঋণ স্বীকার করুন। ধন্যবাদ।

Courtesy by: Sanjoy Sarker
Share:

১৪ মে ২০১৫

কিছু প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর

হিন্দুরা নারকেলের শুকনো খোসা দিয়ে ধূপ দেয় কেন ? 

উঃ- নারকেলের শুকনো খোসার ধোয়াতে মশা মাছি চলে যায় । এছাড়া এতে গুড়ো ধূপ যোগ করলে সুগন্ধ উৎপন্ন হয়। এই ধূম রোগ জীবানু নষ্ট করে। মশক ও মাছি বাহিত রোগের আশাঙ্কা কমে যায়। তাই হিন্দুরা নারকেলের শুকনো খোসা দিয়ে ধূপ দেয় । ঠিক এই কারনে বসন্ত রোগের সময় হিন্দুরা শুকনো নিমপাতার ধোয়া দেয়। নিম পাতা চর্ম রোগের প্রতিষেধক । একই কারনে হিন্দুরা বসন্ত রোগের সময় রোগীকে নিমপাতার বাতাস দেন ।

 হিন্দুরা ভূমিকম্পের সময় উলু ধ্বনি, শঙ্খ নাদ ও কাঁসর বাজায় কেন ? 

উঃ- হিন্দুরা ভূমিকম্পের সময় উলু ধ্বনি, শঙ্খ নাদ ও কাঁসর বাজায় । এর উদ্দেশ্য হোলো ভূমিকম্পের সময় সকলকে সতর্ক করে দেওয়া। যারা বহুতলে থাকেন তারা শুনতে পেয়ে যেনো খোলা মাঠে তারাতারি চলে আসতে পারেন । তাই ভূমিকম্পের সময় উলু ধ্বনি ও শঙ্খ নাদ ও কাঁসর বাজানো হয় । 

হিন্দুরা বইতে পূজার বেলপাতা রেখে দেয় কেন ?

 উঃ- হিন্দুরা বইতে পূজার বেলপাতা রেখে দেয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ছাত্র ছাত্রীরা সরস্বতী পূজার প্রসাদী বেলপাতা বইতে রেখে দেয়। বেলপাতা আয়ুর্বেদিক ঔষধ। এর গন্ধে বই কাটার পোকা বইতে আক্রমণ করে বই নষ্ট করতে পারে না । 

হিন্দুরা ঈশ্বরের নৈবদ্যে তুলসী পাতা ও বেলপাতা দেয় কেন ? 

উঃ- বেলপাতা ও তুলসী পাতা আয়ুর্বেদিক ঔষধ। প্রসাদে দেওয়া হয় তার কারন যাতে কোনো প্রকার জীবানু প্রসাদে না আসতে পারে । অথবা প্রসাদ গ্রহণে যেনো শরীর নিরোগ হয়। এই কারনে হিন্দুরা চরণামৃতে তুলসী ও বেলপাতা ও কর্পূর মেশান । আর তাম্র পাত্রে চরণামৃত বানান। তাম্র পাত্রের জল পান করলে পেটের অসুখ নিরাময় হয় । 

হিন্দুরা মৃতদেহ দাহ করে কেন ?

 উঃ- হিন্দুরা শব দেহ কেন দাহ করে তার প্রচুর আধ্যাত্মিক ও তত্ত্ব কথা আছে। একটি হোলো মানুষ মারা যায় নানা কারনে , কিছু রোগে। শব দাহর সাথে সাথে ক্ষতিকারক জীবানু অগ্নিতে ভস্ম হয় । ঠিক এই কারনে হিন্দুরা শবের চোখে তুলসী পত্র ও নাকে তুলো গুজে দেন। যাতে জীবানু ছড়িয়ে না যায়। তুলসী পত্র অনেক প্রকার রোগ আটকায়, তুলোর দ্বারা নাক দিয়ে জীবানু আসা বন্ধ হয় । ঠিক এই কারনে শব দাহ করে ফেরার পর আগুনের তাপ ও নিমপাতা খাওয়ার, স্নান করার বিধান আছে। আগুন জীবানু ভস্ম করে, নিমপাতা শরীরের ভেতরে জীবানুকে নাশ করে, স্নান করলে শরীর শুদ্ধ হয় ।


 হিন্দুরা উপবাস, একাদশী, বার ব্রত করে কেন ?

 ঊঃ- আমরা রোজ ভাত খাই। পেটে পরিপাক হয়। কিন্তু পেটের বিশ্রাম দরকার । তাই বার ব্রত উপবাস একাদশী করা হয়। এর ফলে পরিপাক যন্ত্র ঠিক থাকে। একদিন অন্নের বদলে ফলমূল সেবনে শরীর ভালো থাকে। বিজ্ঞানীরাও উপবাসের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন । উপবাসের সময় জল, কাঁচা দুগ্ধ পানে শরীরের বর্জ্য পদার্থ ঘাম, মল, মূত্র রূপে শরীর থেকে নিস্কাশিত হয়। তবে ঘন ঘন উপবাস ভালো না। তাই হিন্দু ধর্মে ঘন ঘন উপবাস নিষেধ করা আছে । বাতের রোগী অমাবস্যা, পূর্ণিমা তে নিশি পালন করলে লাভ হয় ।
Share:

১৩ এপ্রিল ২০১৫

"ধর্ম, সনাতন না বৈদিক - এ বিষয়ে একটু কথা"- অরুন মজুমদার



ধর্ম, সনাতন না বৈদিক - এ বিষয়ে একটু কথা?

বর্তমান সময়ে পৃথিবীর আদিমত ধর্মমত গুলির অন্যতম একটি ধর্মমতকে কখনো হিন্দুধর্ম, সনাতনধর্ম ও বৈদিকধর্ম ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। এনিয়ে মাঝে মাঝে অনেক যুবকই বিভ্রান্তিতে পড়ে থাকেন। সঙ্গতঃ কারণেই বিভ্রান্তি এসব যুবকদের মাথায় আসে। এজন্য এলেখাটি লিখতে ইচ্ছে হল। লেখাটি শতভাগ খাটি করার জন্য অতি অল্প লেখায় সূত্র প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তথাপি ধয্য ধরে পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

আসলে কোনটা ঠিক, হিন্দুধর্ম, সনাতনধর্ম না বৈদিকধর্ম? না সব গুলোই? এবিষয়ে আমার ধারণা গুলি উপত্থাপন করছি।

বর্তমান হিন্দুধর্মানুসারীদের প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ গুলির মধ্যে ৪টি বেদ, ৫২টি পুরান ও ২৬টি উপপুরান আছে। আছে উপনিষদ। এছাড়াও আধুনিক বিশ্বের উপযোগী চমৎকার একটি দর্শণ শাস্ত্র আছে যেটি প্রায় প্রতিটি হিন্দুর ঘরে লাল কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় শোভাপায়। আর সেটি হলো হলো শ্রীশ্রীগীতা। মূলতঃ শ্রীশ্রী গীতা মহাপুরান গুলোর অন্যতম মহাভারতের অর্ন্তগত শ্রীকৃঞ্ঞ ও অর্জুনের কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে সংকলন করা একটি গ্রন্থ বিশেষ। এটিতে কয়েকটি চরিত্র আছে, যাদের কথোপকথনে এতোই উচ্চমানের গভীর দর্শণ আছে যে, আধুনিক বিশ্বের মোড়ল ইংল্যান্ডর রয়্যাল স্কুল-কলেজ সহ ও বিশ্বের কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দর্শন শাস্ত্র হিসাবে পাঠ্য হিসাবে অন্তভূক্ত হয়েছে।

এর একটি নিগূঢ়কারণ আছে। কারণটি হল - শ্রীশ্রী গীতা ৭০০টি শ্লোক ১৮টি সন্নিবেশিত একটি অন্যতম গ্রন্থ, যেটি কোন বিশেষ গোষ্টির পক্ষে বক্তব্য না রেখে পৃথিবীর সকল বর্ণের মানুষের কথা বলা হয়েছে। একারণে মূলতঃ ইংল্যান্ডর রয়্যাল স্কুল-কলেজ ও বিশ্বের কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দর্শনশাস্ত্র হিসাবে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ভাবে পাঠ্য করা হয়েছে। যদি শ্রীগীতার বক্তব্যে সার্বজনীনতা না থাকতো, যদি শুধুমাত্র হিন্দুহিন্দু শব্দটি উল্লেখ করা হতো, তাহলে যত উন্নতমানেরই হোক না কেন, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার স্কুল কলেজের পাঠ্য হিসাবে স্থান পেত কি না যথেষ্ট সন্দেহের কারন আছে।

একজন যুবকের প্রশ্ন ছিলো প্রচলিত ধর্মটি প্রকৃত অর্থে হিন্দুধর্ম ও সনাতনধর্ম হবে এবিষয়ে। মজার বিষয় হলো আমরা সবাই সকলেই কম বেশী কখনো হিন্দু, কখনো সনাতন আবার কথনো বৈদিক ধর্মানুসারী নামে নিজেদের পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো হিন্দুদের ৪টি বেদ, ৫২টি পুরান, ২৬ উপপুরান, উপনিষদ ও উপনিষদ গুলির নির্যাস হিসাবে শ্রীগীতায় কখনো (১) হিন্দুধর্ম, (২) সনাতন ধর্ম (৩) বৈদিকধর্ম - এতিনটি শব্দের একটিও নেই। সঙ্গতঃ কারনে প্রশ্ন আসে তাহলে আমরা কি?

একটু গভীর গেলে লক্ষ্য করবেন, আমাদের সকল ধর্মশাস্ত্র গুলোতে দুটি শব্দের উপস্থিতি খুব বেশী লক্ষ্য করা যায়। শব্দ গুটি হলো (১) জীব, অন্যটি (২) জড়। আমরা মানুরা জড় নই, জীবের অংশে পড়ি। জীবের জীবনধারনের জন্য নিম্নোল্লিখিত চারটি জিনিষের প্রয়োজন হয় খুব মারাত্বক ভাবে। সেগুলি হলোঃ- (১) খাদ্য(Diet) -যেটি প্রতিদিন পর্যান্ত না পেলে যেকোন জীবের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। (২) বিশ্রাম(Sleep) - এটি সুস্থ থাকার সাথে সম্পৃক্ত, পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা ঘুম না হলে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। (৩) ভয়(fear) ও - খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা বা ভয়, অন্যান্যদের হাতে আক্রান্ত হবার ভয় ইত্যাদি ভয় জীবের জীবনাচরের অন্যতম অংশ। (৪) মৈথুন - এটি জীবনে আনন্দ উপভোগ এবং বংশগতি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত, যেটিকে ইংরেজীতে সেক্স, বিশুদ্ধ বাংলায় কাম বলা হয়।

সুতরাং এচারটি চাহিদা সকল জীবের আছে এবং যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন প্রয়োজন হতে পারে। তবে উপরোক্ত চারটি বিষয় উপভোগকারীদের মধ্যে আরো দশটি আলাদা লক্ষন জীবের আছে, যেগুলি কেবল মানুষই অনায়াসে রপ্ত করতে পারেন বলে মানুষকে অন্য সকল জীব থেকে আলাদা সত্বার অধিকারী ও সভ্য করেছে। ঐদশটি লক্ষন মনুসংহিতা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলি হলো - (১) সহিষ্ঞুতা, (২) ক্ষমা, (৩)দয়া, (৩) চুরি না করা, (৪) শুচিতা, (৫) ইন্দ্রিয় সংযম, (৬) জ্ঞান, (৭) সত্য (৮) ক্রোধহীনতা ইত্যাদি। সুতরাং জীব থেকে মানুষ হতে গেলে অবশ্যই উপরোক্ত দশটি গুন ধারণ করতে হবে, যেগুলি উন্নত প্রশিক্ষনের মাধ্যমেও মানুষ ব্যতিত অন্যকোন জীব বা প্রাণীর পক্ষে ধারণ করা সম্ভব নয়।

এখন আসা যাক, ধর্ম কী? ধারণ করা শব্দ থেকে ধর্ম শব্দটি এসেছে বলে অনেকে মনে করে থাকেন। সুতরাং মানুষ ধারণ করবে মনুষ্যত্ব। আর মনুষ্যত্ব নির্ভর করে মনুসংহিতায় উল্লিখিত উপরোক্ত গুন গুলির উপর। মানুষের মধ্যে যিনি উপরোল্লিখিত গুন গুলি বেশী ধারণ করেন বা যার মধ্যে এগুলোর খুব বেশী বাবে প্রকাশিত হতে দেখা যায়, তাকে সচরাচর ভাল মানুষ, ধার্মিক বলে বিবেচনা করা যায়। আমরা সাধারণতঃ নিজের অজান্তে ঐব্যক্তিকে ধার্মিক ও ধর্ম পালন করছেন বলে মনে করি। তথাপি আমরা পোষাকধারী বা লেবাসধারী কিছু কিছু ব্যক্তিদেরকেও ধার্মিক বলে সম্মান করি। মূলতঃ আমাদের চারপাশের পোষাক বা লেবাসধারী এসব মানুষরা উপরোক্ত গুন গুলি ধারণ করবেন বলে ধারনা থেকে তাদের প্রতি আমাদের সম্মানবোধ গুলি ভিতর থেকে আসে। তবে যদি ঐসব মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বে গুন বির্বজিত আচরণ আমরা লক্ষ্য করি তাহলে আরো একটি শব্দ ব্যবহার করি। আর তাহলো ধর্মান্ধ। চরম ধর্মান্ধতা হলো, যেখানে মনুষ্যত্বে সংজ্ঞা বিবর্জিত গোষ্টিভিত্তিক চিন্তা থেকে ধারণ করা সংকীর্ণতা ব্যক্তিবা গোষ্টির স্বার্থের প্রয়োজনে ইচ্ছামত ব্যবহার করা যায় এমন একটি অস্ত্র। সুতরাং কথিত ধার্মিক ও প্রকৃত ধার্মিক এর মধ্যে বহু তফাৎ আছে এটি বুদ্ধি ভিত্তিক চিন্তাশীলদের থাকা উচিত।

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই - এথেকে বুঝা যায়, জীব জগতে মানুষ এক। তথাপি যুগে যুগে বহু নামে বহু মত-পথ ও ধর্মের আগমন ঘটেটে। এগুলোই মূলতঃ ধর্ম নামে পরিচিতি লাভ করেছে। যা আসলে এগুলো কালে কালে মানুষ্য কর্তৃক সৃষ্ট বিভাজিত বহু মাত্রিক সমাজ ব্যবস্থার এক এক একটি ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ গোষ্ঠির পূণাঙ্গ পরিচিত মাত্র।

আমাদের (মানুষের) পূর্বপূরুষ আর্য ঋষিরা তপস্যাররত থাকতো সৃষ্টির কল্যানের জন্য, যেমনটি আজকের গবেষকরা গবেষনা করে থাকেন। তবে পার্থক্য হলো আজকের গবেষকরা অর্থ ও যশের জন্য গবেষনা করে থাকেন। আর আমাদের আর্যঋষিরা নাম যশ অর্থ উপার্জনের জন্য তপস্যা করতো না। বরং করতো মানব ও জগতের কল্যান কামনায়। আর্যঋষিদের ক্ষমতা ও লোক গ্রহনযোগ্যতা দেখে অনেক হিংসুটে কুটিল মানুষ ভন্ডঋষি সেজে নিজের মত মনগড়া মতবাদ ও চমৎকারিত্ব প্রদর্শন করে মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন ধর্মের নামে। এভাবে সমাজ বিভাজিত হয়ে বহু মত বা পথেরে জন্ম নিয়েছে।

এককালে ভারত বর্ষ ছিলো উন্নত দেশ। পৃথিবীর অন্যান্য অংশের মানুষ উপমহাদেশ তথা আজকের ভারতবর্ষের বাইর থেকে আসতো, যেমনটি বর্তমানে এদেশ থেকে ইউরোপ বা আমেরিয়ায় যায়। বিভিন্ন শত্রুদেশ ভারতবর্ষকে আক্রমের জন্য সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করতো, সিন্দু অঞ্চল ছিলো সেরমন এটা অঞ্চল। এসব বহিরাগতরা সেময় সময় সিন্ধুর বাসিন্দাদেরকে পরিচিত করাতো সিন্দি, হিন্দি শব্দ ব্যবহার করে, যেটি কালক্রমে হিন্দুতে পরিবর্তিত হয়ে খ্যাতি লাভ করেছে।মূলতঃ এঅঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের বুঝাতেই এগুলো ব্যবহার করা হতো। কালক্রমে ঐ সকল শব্দ পরিবর্তিত হয়ে হিন্দু শব্দের সাথে আমরা পরিচিত হই। এরপর একসময় আমরা নিজেরাই নিজেদেরকেপরিচয় করানো জন্য হিন্দু নামে পরিচয় দিতে শুরু করি।

সনাতন ও বৈদিক? সনাতন শব্দের অর্থ হলো স্বাশত, চিরন্তন, অতিপুরাতন ইত্যাদি। পূর্বজ অনেক ঋষি পন্ডিতদের মাধ্যমে সৃষ্টির আদি থেকে তিল তিল করে সিভিলাইজ হওয়া মানুষের ধারণ করা পদ্ধতিকে মূলতঃ সনাতনধর্ম বলা হয়। যেপদ্ধতি গুলি অনন্তকাল অবদি বহমান থাকবে সেগুলিই সনাতন। আর বৈদিকধর্ম ধারণার ব্যাপারটাও অনেকটা সেরকম। আবার অন্যভাবেও কথাটি দেখা যেতে পারে। তাহলো সম্ভবতঃ পৃথিবীর সবচেয়ে অতি পুরাতন ধর্মশাস্ত্র, নীতিশাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র, চিকিৎসা শাস্ত্র হলো বেদগ্রন্থ গুলি। আর অতি পুরাতন গ্রন্থ বেদানুসারে আমরা পরিচালিত হই বলেই আমাদের ধর্মাচারের পন্থাগুলিকে ধর্মকে বৈদিক ধর্ম বলা হয়ে থাকতে পারে।

কৃতজ্ঞতাঃ অরুন মজুমদার

Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।