• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

হিন্দুত্ববাদ. লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হিন্দুত্ববাদ. লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০২ সেপ্টেম্বর ২০২০

সনাতন ধর্মের পরিনতির কারণ

( সনাতন ধর্মের ধংসের জন্য ব্রাহ্মণেরা দায়ী নয়, মুলে ছিল নতুন ধর্মের প্রবর্তন তথা গৌতম বৌদ্ধের বেদ উপনিষদ গীতাকে বাদ দিয়ে নতুন মতবাদ চালু, সনাতন ধর্মাল্বীদের মধ্যে অনৈক্য, ক্ষত্রিয় রাজাদের স্বেচারিতা, অনৈক্য, যুদ্ধ ও ধর্মান্তর করণ। বিদেশী দখলদারদের হামলা, দখল বিশেষ করে মোগলদের কঠোর অত্যাচার,গণহত্যা, ধর্ষন, সর্বশেষ সেকুলার ও নাস্তিকতা)
তথ্যসুত্রঃ ভারত বর্ষের ইতিহাস।

৫৬৭ খিষ্টপূর্বাব্দ গৌতম বুদ্ধের জন্মের পর ২৯ বছর বয়সে সত্য ও জ্ঞানের সন্ধানে বাহির হন। এরপর বুদ্ধত্ব লাভ করে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ৪৮৬ খীষ্টপূর্বাব্দে নির্বাণ লাভ করেন। ৫৪০ খিষ্টপূর্বাব্দে মহাবীরের জন্ম হয় এরপরে ওনি জৈন ধর্মের প্রচল করেন। ঐ সময় সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মান্তর করনের জোড় দিয়ে শুরু করেন বৌদ্ধ ও জৈনরা। এক সময় সনাতন ধর্ম নামটি ব্রাহ্মণ্য, শৈব ধর্ম ও বৈষ্ণব ধর্মে বিভক্ত হয়ে কোন মতে চলতে থাকে। মৌর্য বংশের রাজত্বকাল ৩২৪- ১৮৬ খিষ্ট পূর্ব। (এর মধ্যে সম্রাট আশোক এর রাজত্বকাল ছিল খিষ্টপূর্ব ২৭৩ -২৩২ অব্দ।)
চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন জৈন ধর্মের অনুসারী। শেষ জীবনের ক্ষমতা ত্যাগ করে জৈন ধর্মের প্রথা অনুযায়ী সংসার ত্যাগী হয়েছিলেন।। এর পর
চন্দ্র গুপ্তের ছেলে বিন্দুসার অমিত্রঘাত উপাধি গ্রহন করে খীষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে সিংহাসন আরোহন করেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেন। বিন্দুসারের ১০১জন ছেলে, তার মধ্যে অশোক ছিলেন দ্বিতীয়। অশোক ক্ষমতা গ্রহন করেন খিষ্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তবে সম্রাট অশোকে অভিষেক সম্পূর্ণ হয় আরো চার বছর পর। সম্রাট অশোক রাধাগুপ্ত নামের এক মন্ত্রির সহায়তায় অপরাপর জন ভ্রাতাদের হত্যা করে সিংহাসন নিষ্কটক করেছিলেন। "দিব্যবদন" ও সিংহলীয় উপাখ্যান সমূহে অশোক ও তার ভ্রাতাদের মধ্যে বিরোধের কাহিনী আছে। এরপর শুঙ্গবংশ খিষ্টপূর্ব ১৮৫-৭৫ অব্দ।
এর পর সাতবাহন বংশ খ্রীঃপূঃ ২৭ অব্দ থেকে। এর পর বৈদেশিক আক্রমন। এর পর
কৃষান শাসন।
কৃষান ও অন্ধ্রবংশের পতনের পর গুপ্তবংশের উত্থান হয় ২৪০ খ্রীঃ সম্রাট হন শ্রীগুপ্ত। ২৪০ খিষ্টাব্দ থেকে গুপ্তরাজারা ভারত বর্ষে রাজত্ব করেন।

গুপ্ত বংশে প্রথম সম্রাট শ্রীগুপ্ত ক্ষত্রিয় ছিলেন তবে কোন ধর্মের সমর্থক উল্লেখ নেই। এরপর ৩৮০ থেকে ৪১৪ খিষ্টাব্দ ছিলে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য তিনিও স্বভাবত ক্ষত্রিয়। তিনি ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতি অনুগত ছিলেন। তাঁর মন্ত্রী ছিলেন বৌদ্ধ পন্ডিত বসুবন্ধু ছিলেন। ভারত বর্ষের ইতিহাসে বিক্রমাদিত্য শক্তিশালি এবং পদ্মা যমুনা ও হিমালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিক্রমাদিত্যর পর তাহার পুত্র ৪১৪-৪৫৫ পর্যন্ত কুমার গুপ্ত সম্রাট ছিলেন। এরপর কুমার গুপ্তের পুত্র ক্ষমতা নেন। তাকে ক্ষমতাচুত্য করিয়া তার বৈমাত্রের ভ্রাতা স্কন্ধগুপ্ত বিক্রমাদিত্য ৪৫৫-৪৬৭ খিষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের ঘোর অনুসারী। আর্যমঞ্জুশ্রী ও মুলকল্প গ্রন্থ স্কন্ধ গুপ্ত জ্ঞানী ও ধর্মপরায়ন বলে উল্লেখ আছে।
স্কন্ধ গুপ্তের পরবর্তী বংশধর পুরগুপ্ত, এরপর ক্রমগত বংশধর দ্বীতিয় কুমার গুপ্ত, এরপর বুধগুপ্ত, তথাগত গুপ্ত ও বালাদিত্য গুপ্ত শেষ তিন সম্রাট বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেছিলেন।
দেখা যাচ্ছে গুপ্ত বংশ প্রথমে ক্ষত্রিয় হলেও পর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করে ফলে গুপ্ত সম্রাজ্যের পতন হয় পঞ্চম শতাব্দীর শেষ দিকে।
মুলত এই গুপ্ত সম্রাটদের আমলেই কালিদাস সহ অনেক কবি লেখক ও সাহিত্যিকের জন্ম হয়। এই সময়ে বায়ুপুরাণ, মৎস্যপুরান ব্রহ্মান্ড পুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ, ভগবৎ পুরাণ সহ অনেক পুরাণ রচিত হয় এবং রামায়ণ ও মহাভারতের সংশোধন ও পরিবর্ধন করা হয় এই কারনে তখনকার সময়ের অধিকাংশ রাজা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। কেউ কেউ সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছিলেন। তখন বৌদ্ধ ধর্মের থেকে আগতদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য রামায়ন, মহাভারত ও পুরাণ গুলির এক বিরাট সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হয় যাহা নাকি হিন্দু সভ্যতার নব-রূপায়নে সাহায্য করে বলে ঐতিহাসিক গনের অভিমত।বৌদ্ধকে হিন্দুদের অবতার বলে সমযোতা করেন।

এর পর অনেক রাজা রাজত্ব করেন, এবং বিদেশি অগ্রাসন হয়েছিল।
হর্ষবর্ধন ৬০৬-৬৪৭ খিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
(৬৪৭ খিষ্টাব্দ পর্যন্ত অধিকাংশ সম্রাট বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ছিলেন।)

এর মধ্য বিদেশী আক্রমন রাজ্য দখল করে কিছু কাল। তবে কিছু সময় শুদ্র বংশ, ব্রামণ্য ধর্মের অনুসারী ও বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা ক্ষনস্থায়ী দেশ শাসন করেছিলে। ঐ সময় ৩৫০ খিষ্টাব্দে উড়িষ্যায় পল্লববংশের উত্থান হয় ওনারা ছিলে বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী। পল্লব বংশ ৭৯৬ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
আষ্টম শতাব্দী থেকে শুরু হয় আরব্য দখলদারদের হামলা দখল।
এরপর কিছুকাল হিন্দু বৌদ্ধ রাজারা কিছু অংশে রাজত্ব করলেও পরবর্তীতে মোগলদের দখলে চলে যায় এই ভারত বর্ষ ১৭৫৭ খিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এর পর থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসন। এর ভারত বর্ষের ভাঙ্গাগড়ার পর ভারতের অংশে ক্ষমতায় আসেন মুসলিমদের এজেন্ট কংগ্রেস সরকার ও কিছুকাল দলছুট সেকুলার সরকার। কংগ্রেসকে মুসলিমদের এজেন্ট এই জন্যই বলছি ঐ সময়েই মোগলদের মানব দরদী বলে ইতিহাস রচন করে অথচ মোগলদের নির্বিচারে হিন্দুদের গনহত্যা, লুট ও ধর্ষনের ইতিহাস ছিল পৃথীবীর ইতিহাসে বর্বোচিত ও জঘন্যতম একটি অধ্যায়।
মুলত ভারতের হিন্দুদের তথা সনাতন ধর্মের স্বাধিনতার সূর্য উচিত হয় বাজপেয়ির জয়লাভের পর। প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজীর ক্ষমতা লাভের পর সনাতন ধর্মের পূর্ণতা পায়।
এত গুলি খুব সংক্ষেপে আলোচনা করলাম এই জন্যে এফবিতে অনেকেই ব্রাহ্মনদের উপর চোটপাত করেন সনাতন ধর্ম ধংসের জন্যে। অথচ মৌর্য আমল থেকে প্রায় হর্ষবর্ধের সময় পর্যন্ত সনাতন ধর্মের অস্থিত্ব খুবই ক্ষিন ছিল। ঐ সময় ব্রাহ্মণ্য ধর্ম, শৈব, বৈষ্ণব ধর্ম ও শৈব ধর্মে বিভিক্ত ছিল। অষ্টম শতাব্দীতে মোগল দখদাররা নাম দেন হিন্দু ধর্ম এর পর ব্রিট্রিশ শাসন আমলে সরকারী ভাবে ঘোষনা করেন হিন্দু ধর্ম।
তাহলে ভাবুন কেন সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্য বেদ উপনিষদের চর্চা হ্রাস পেয়েছে কেন? এখানে আর একটি বিষয় বলে রাখি বৌদ্ধ সম্রাটদের শাসন আমলেই পূরাণ রচন করা হয় এদের অধিকাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়। ঐ সময় রামায়ন ও মহাভারতের সংশোধন ও পরিবর্ধন হয় এই কারনে বৌদ্ধরা অনেকেই সনাতন ধর্মে ফিরে আসছে বলে।

প্রায় ২৪০০ বছর ভারত বর্ষ ভিনদেশী গ্রীক, শক, পহ্লব, কৃষাণ, চৈনিক, মোগল ও ব্রিট্রিশদের দখল, শাসন এ ছাড়া বৌদ্ধ ও জৈন শাসন মাত্র কিছু সময় কিছু রাজ্য ক্ষত্রিয়, শুদ্র, বৈষ্ণব ও হিন্দু রাজারা শাসন করেছে। এরপর মোগলদের গণহত্যা লুট ও ধর্ষনের বন্যা। এখনো সনাতন ধর্ম ঠিকে আছে সেটাই ভাগ্যের বিষয়।
আসুন বর্ণ বিভাজন ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই, কুসংস্কার ত্যাগ করি এবং সনাতন ধর্মের বিতর্কিত গ্রন্থ সংশোধন করার ব্রতি হই এবং বেদ উপনিষদ গীতার আলোকে জীবন গড়ি।
জয় নিশ্চিত সনাতন ধর্মের হবেই।

 

Post: Sento Saha

 


 

Share:

শ্রীমন্মহর্ষি সুসিদ্ধানন্দ যতি মহারাজ এর " হিন্দু চেতনা " বইয়ের গুরত্বপূর্ণ অংশসমুহ

প্রথম চিন্তন:

১। হীন চেতনা ত্যাগ হিন্দুর পরিচয়
অক্ষয় আনন্দ আত্মা হিন্দুর উপাস্য হয়।

২। 'আমি হিন্দু' –এই অনুভূতি বা চেতনাই হিন্দুত্ববোধ।

৩। হিন্দু ধর্ম – প্রাচীনতম ধর্ম – এই চেতনা সদা রাখ।

৪। হিন্দুই ত্রিসন্ধ্যা করে/করবে, সত্য কথাই হিন্দুর প্রাণ।

৫। হিন্দুই দান করবে, ইন্দ্রিয় সংযম করবে এবং মুক্তির সাধনা করবে।

৬। গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বসবাস করাই হলো হিন্দুর স্বাভাবিক জীবন-যাপন।হিন্দু কাউকে বঞ্চনা করে না,কাউকে ঠকাই না।

৭। হিন্দুই স্বধর্ম ও আশ্রম ধর্ম রক্ষা করে।

৮। হিন্দু নিন্দা করে না,ঘৃণা করে না,দ্বেষ করে না।

৯। গুরুকরণ হিন্দুর উন্নতির লক্ষণ। হিন্দু ধর্ম বেচা-কেনা করে না।

১০। প্রকৃত হিন্দু মুনি-ঋষি-সাধু-মহাত্মাকে প্রাণের ন্যায় ভালোবাসবে ও শ্রদ্ধা করবে।

১১। হিন্দু পরলোক বিশ্বাসী । পিতৃশ্রদ্ধা-মাতৃশ্রদ্ধা-ভ্রাতৃত্ব বোধ হিন্দুর অঙ্গের ভূষণ।

১২। হিন্দু অন্যধর্মকে আঘাত করে না।কেউ হিন্দুকে আঘাত করলে তবে হিন্দু নীরবে সহ্য করবে না।

১৩। হিন্দু একেশ্বরেও যেমন বিশ্বাসী তেমনি বহু দেবতাতেও শ্রদ্ধাশীল।

১৪। হিন্দুর নিকট নারী মাত্রেই মাতা; নর-নারায়ন; জীব-শিব এবং জন-জনার্দ্দন।

১৫। হিন্দুই একমাত্র পরলোকের কড়ি সংগ্রহ করে। সৎ সঙ্গ, সাধন-ভজন হিন্দুর রক্ষা কবচ।

১৬। প্রশংসনীয় কর্ম হিন্দুই করবে তবে আত্ম প্রশংসায় থাকবে বিমুখ।

১৭। হিন্দু অদৃষ্টবাদী নহে – পুরুষকারবাদী।
আসুরিকত্ব-অলসতা-অদৃষ্টবাদ-পরনির্ভরতা হিন্দুর পতনের কারণ।

১৮। হিন্দু স্বরুপ ভুলে না।হিন্দু চিরদিনই হিন্দুধর্মকে রক্ষা করবে ও প্রসার করবে।

১৯। হিন্দু চিরকৃতজ্ঞ। অকৃতজ্ঞ ও কৃতঘ্নতা হিন্দুর ধর্ম নহে।

২০। হিন্দু অপপ্রচার করে না, জোর করে ধর্মান্তরিত করে না।

২১। হিন্দুই সদাচার – শৌচাচার রক্ষা করে।
মিথ্যাচার ও কদাচার হিন্দুই ধর্ম নহে।

২২। হিন্দুধর্ম বিজ্ঞানের চেয়েও উন্নত। বিজ্ঞান মানুষকে মুক্তি দিতে পারে না,শান্তি দিতে পারে না। কিন্তু হিন্দুধর্ম তা পারে।

২৩। হিন্দুর আত্মা অমর, অক্ষর, স্বপ্রকাশ ও আনন্দস্বরূপ।

২৪। কুযুক্তি –জীবনধর্মের প্রতিকূলবাণী হিন্দুধর্মে নাই।

২৫। নারীহরণ, বলাৎকার,অনধিকারচর্চা হিন্দুধর্মে স্বীকৃত নহে।

২৬। অবৈধ বিবাহ ও অবৈধ সন্তান উৎপাদন হিন্দুধর্মের শাস্ত্রবিরুদ্ধ।

২৭। হিন্দু অভক্ষ্য ভক্ষণ করে না,চুরি করে না,হিংসা করে না,রাগদ্বেষ করে না।

২৮। শাস্ত্রপাঠ, গীতাপাঠ,উপাসনা হিন্দু নিত্য করবে।

২৯। ব্রহ্মচর্য্য পালন হিন্দুর প্রথম ধর্ম প্রবেশিকা।

৩০।হিন্দুর গার্হস্থ্যধর্ম ভোগসর্বস্ব নহে বরং সমুচ্ছ অর্থাৎ জ্ঞান–যোগ–ভক্তি সর্বস্ব।

৩১। ত্যাগ-তিতিক্ষা-বিবেক-বৈরাগ্য হিন্দুধর্মে চির জাগ্রত। হিন্দুর রক্ত ঋষির রক্ত।

৩২। ভোগ বিলাসিতা হিন্দুর কাম্য নহে।

৩৩। অন্যায়ে প্রশ্রয় ও পাপে প্রবৃত্তি বিষয়ে হিন্দু চির নিষ্টুর।

৩৪। সাচ্চা হিন্দু সরল-সত্যবাদী-দেব-দেবী।

 

বই : হিন্দু চেতনা
লেখক : শ্রীমন্মহর্ষি সুসিদ্ধানন্দ যতি মহারাজ।

শ্রী শ্রী বারাসাত যোগাশ্রম
(বোয়ালখালী উপজেলা, চট্টগ্রাম)

 

Post collected from: Joy DhAr

Share:

২৩ আগস্ট ২০১৮

আমাদের সনাতন ধর্ম, আমাদের গর্ব

কি নেই আমাদের ধর্মে ? বেদান্ত জ্ঞান , রামায়ন ও মহাভারত এর সদাচার শিক্ষা , পুরান এর মানবিক শিক্ষা , গীতার জীবন দর্শন , চন্ডীর শক্তি তত্ত্ব ।

আমাদের সনাতন ধর্ম একমাত্র সত্য ধর্ম । আমরা হিন্দু । আমরা গর্বিত । ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি আমাদের সনাতন কূলে জন্ম দিয়েছেন । আমাদের ধর্মেই সব আছে , নীতি শিক্ষা বা সদাচার শিক্ষার জন্য অন্য ধর্মের অনুকরণ বা আদর্শ গ্রহণ না করলেও চলবে ।


আমরা সেইভৃগু , শুক্র, বিশ্বামিত্র, বশিষ্ঠ, পুলস্ত, কশ্যপ আদি মহান ঋষি মুনিদের বংশধর । ঋষি রক্তআমাদের শিরায় শিরায় বইছে । সেই মহান আচার্য গণ আমাদের জন্য বিবিধ জ্ঞান ভাণ্ডার রেখে গেছেন ।আমরা সেই জ্ঞান থাকতে অন্য জ্ঞান কেনো নেবো ।

তার সাথে আছে ভারতীয় দর্শন এমনকি চার্বাক নামক নাস্তিক দর্শন কেও আমরা আমাদের সংস্কৃতি তে স্থান দিয়েছি । আয়ুর্বেদ দিয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞান । গাছ গাছড়ার থেকে ঔষধ । যোগা দিয়েছে যোগাসন , প্রানায়াম- শরীর সুস্থ রাখার এক পদ্ধতি । এই ধর্ম এত বিশাল ও ব্যপক সব কিছুই আছে ।

এমনকি রতি শাস্ত্রের ওপর ঋষি বাৎস্যায়ন, বাভ্র রচনা করেছেন গ্রন্থ।যেহেতু ‘ধর্ম , অর্থ , কাম , মোক্ষ’ কে চতুর্বিধ ফল বলা হয় । সব এখানেই পাওয়া যাবে । তাই যে সব হিন্দু গণ অন্য ধর্মের মতামত নিয়ে সদাচার শিখতে যান – তারা গঙ্গার জল ফেলে দূরে ডোবার জল আনতে যান । পতিত পাবনী গঙ্গা থাকতে কেন আমরা সাধারন জল দিয়ে কলসি ভরবো?

এই ধর্ম সব সদাচারের স্রষ্টা । আচার্য শঙ্কর বেদান্ত জ্ঞান দিয়েছেন । মহাপ্রভু দিয়েছেন ভক্তি, ক্ষমা, ভালোবাসার আদর্শ । ক্ষমা শীলতা শিখতে হলে এখানেই শেখা যাবে । অন্য মত নিতে হবে না । ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব এসেছেন । তিনি বেদান্ত, বৈষ্ণব , তন্ত্র কে এক সুতোয় গেঁথে দেখিয়েছেন- সব সনাতন পথ সত্য ।তাঁর শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের শিখিয়েছেন ‘নিজের অন্তরের সুপ্ত শক্তিকে জাগরণের তত্ত্ব’ ।

আমি হিন্দু ।আমি গর্বিত । গর্ব করে বল আমি হিন্দু ।ভারতের দেব দেবী সত্য। তেঁনারা আমার পূজ্য । সেবা , ত্যাগ , ব্রহ্মচর্যের , হিন্দুত্বের কথা এই সন্ন্যাসী গোটা বিশ্ব মাঝে প্রচার করেছিলেন । স্বামী প্রনবানন্দ মহারাজ আশ্রম স্থাপন পূর্বক হিন্দু ধর্মের বিরাট দর্শন , ত্যাগের ভাবনা , দেশ ও ধর্মের প্রতি কর্তব্য , নিষ্ঠা , সদাচার শেখালেন ।স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী মহারাজ এলেন । তিনি ভক্তি , তন্ত্র , জ্ঞান সাধনা করে সমস্ত ব্রহ্মজ্ঞান আমাদের জন্যই রেখে গেলেন । এসেছেন লোকনাথ বাবা ।এসেছেন ঠাকুর সীতারাম ওমকার নাথ , এসেছেন তারাপীঠ ভৈরব বামাদেব , এসেছেন রাম ঠাকুর ।

এমন অনেক মহা মানব, মনিষী বৃন্দ এসে আমাদের ধর্মের মাধ্যমে আমাদের সদাচার শেখালেন । ভিন্ন মত নিয়ে নয় । গুরুদেব সুধীন কুমার মিত্র শাক্ত সাধনা করেছেন । তিনি দেখালেন এই সনাতন ধর্মের সাথে মানব ধর্মের কোন ভেদ নেই । কারন আমাদের সনাতন ধর্ম মানবিক মূল্যবোধ শেখায় , অপরকে এমনকি ভিন্ন ধর্মী কেও কাছে এনে ভালোবাসার শিক্ষা দেয় । এর দাম হিন্দু দের যদিও অনেক ক্ষতি পূরণ দিয়ে দিতে হয় বারংবার ।

তাই অন্তিমে বলি আমি আমার ধর্মের জন্য গর্বিত । আপনারা যারা নিষ্ঠাবান হিন্দু আছেন- তাঁরাও গর্ব করেন । আমরা ভিন্ন ধর্মী দের উপাসনা লয় ভাঙ্গি না । আমরা কারোর পেছনে লাগি না । আমরা বিশ্বাস করি নিজেও ভালো থাকি , অপর কেউ ভালো রাখি । কেউ পর নয় , তাই বারংবার আঘাত খেয়েও আমরা ফুল, মিষ্টি দেই । এখানেই আমাদের জয় । সব শিক্ষা আমাদের ধর্মেই আছে । একটু জানুন নিজ ধর্ম সম্বন্ধে ।

কৃতজ্ঞতাঃ Babai Basak
Share:

২৫ আগস্ট ২০১৭

আপনি কি নিজে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহীদের একজন?

১) আপনি কি হিন্দু?
২) আপনি নিজেকে ধর্মবিশ্বাসী বলে মনে করেন?
৩) আপনি কি নিজে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহীদের একজন?

উপরের তিনটি প্রশ্নের উত্তরে আপনি যদি 'হ্যাঁ' বলেন, তবে অবশ্যই এই পোস্টটি পড়ুন।
হিন্দু ধর্ম বুঝতে হলে প্রথমেই এর ঈশ্বরবাদ বুঝতে হবে, ঈশ্বর কয়জন, প্রথমেই এই প্রশ্নের উত্তর জেনে হিন্দু ধর্মে প্রবেশ করতে হবে। কারণ কেউ যদি না জানে যে ঈশ্বর কয়জন ও কি তবে ভক্তি অর্চনা করবে কাকে?

পরমাত্মা বা পরমব্রহ্ম হচ্ছেন সেই ঈশ্বর যিনি সৃষ্টির আদি হতে অন্ত পর্যন্ত আছেন এবং থাকবেন এবং তিনিই প্রকৃত আরাধ্য। ঈশ্বর, পরমাত্মা বা পরমব্রহ্ম হচ্ছেন নিরাকার, কিন্তু তিনি চাইলেই যে কোন সাকার রুপ ধারণ করতে পারেন। শ্রীকৃষ্ণকে সেই পরমব্রহ্মের এক সাকার রূপ ধরা হয় এবং পরমেশ্বর মানা হয়। এখন কেউ যদি বলেন শ্রীকৃষ্ণ না শিবই আমার কাছে পরমেশ্বর তাতেও ভুল নেই কারণ তিনি যাঁকেই ডাকুন না কেন, সেই পরেমশ্বর কেই ভজনা করছেন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কৃষ্ণ বড় নাকি শিব বড়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের সৃষ্টিখন্ডে ঈশ্বর শিবকে বলছেন " যে তোমার ও আমার মাঝে বিভেদ করবে তার মত পাপী আর পৃথিবীতে নেই"।

মূল কথা হচ্ছে ঈশ্বর একজন তিনি নিরাকার বা সাকার, আমরা যাকেই ভক্তি বা পূজা করিনা কেন তা সেই ঈশ্বরকেই করা হয়। আমারা বিভিন্ন রুপের মূর্ত্তিকে পুজা করি তা কিন্তু ঈশ্বর থেকে আলাদা মনে করে না, মূর্ত্তির মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকেই পূজা করা হয়। ঈশ্বরের বিভিন্ন রুপ কল্পনা করে আমরা পূজা করেলেও ঈশ্বর কিন্তু সেই একজনই। অনেকে প্রশ্ন করেন ভাত সোজা করে না খেয়ে এত ঘুরিয়ে খাও কেন? গীতায় ঈশ্বর বলেছেন -- "যে আমাকে যেভাবে ডাকবে আমি তাকে সেভাবেই ফলদান করব"। হিন্দু ধর্ম যে কতটা উদার তার প্রমাণ এখানেই পাওয়া যায়। আমি যেভাবে, যেরুপে তাকে ডাকব তিনি সেভাবেই আসবেন তা সে ৩৩ কোটির যে কোন একটা হোক না কেন।

আমাদের দেহে যে আত্মা আছে, তা সকল ধর্মেই বিশ্বাস করে। ঈশ্বর হচ্ছেন সকল আত্মার উৎস অর্থাৎ পরমাত্মা। আর প্রতিটি জীবের শরীরে যে আত্মা আছে তা হচ্ছে জীবাত্মা। সকল ধর্ম কর্মের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে লীন হওয়া অর্থাৎ পৃথিবী থেকে মুক্ত হওয়া। পুরষ্কার অথবা শাস্তির শেষ আছে, মানে ভাল কাজের জন্য স্বর্গভোগ আর খারাপ কাজের জন্য নরকভোগ আছে। কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করতে হয়, দুই টাকায় ভালো করে ১০ টাকার মিষ্টি খাবেন তা হবে না। পাকা হিসাবে যতটুকু ভাল ততটুকুই মিষ্টি। কিন্তু প্রধান উদ্দেশ্য কিন্তু স্বর্গ নয় সেই পরমাত্মার সাথে বিলীন হয়ে যাওয়া, এর আর কোন শেষ নাই।

আত্মার কোন ধ্বংশ বা শেষ নাই। এটা এক দেহ হতে অন্য দেহে গমন করে মাত্র। দেহের পরিবর্তন হয়, শিশু হতে কিশোর আবার কিশোর হতে যুবক, কিন্তু আত্মার পরিবর্তন নাই। গীতা অনুযায়ী মানুষ যেমন পুরাতন জীর্ণ বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে তেমনি আত্মা ও পুরাতন জীর্ন শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীরে গমন করে। একটু আধুনিক ভাবে বলা যায়, দেহ হচ্ছে প্রোগ্রাম করা কোন যন্ত্র আর আত্মা হচ্ছে এর ব্যাটারী যখন এই দুই একত্রিত হবে তখনই যন্ত্র সচল হবে এখানে ব্যাটারী দিয়ে কথা তা যে যন্ত্র বা শরীরে সেট করা হোক না কেন, এর চালনা শক্তি থাকলেই চলে।

Written by: Prithish Gosh
Share:

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

হিন্দু ধর্মশাস্ত্র


আমরা সবাই হিন্দু হয়েও মাঝেমধ্যেই শাস্ত্র নিয়ে একে অপরের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পরি, একদল বলে শাস্ত্রে অমুক লেখা আছে, আরেকদল অন্য শাস্ত্রের মাধ্যমেই অমুক শাস্ত্রবচন খণ্ডন করে। এই ব্যাপারটা কিছুটা বিভ্রান্তিকর, কোনকোন শাস্ত্র মানবো আর কোনপ্রকার মানবোনা, এইনিয়ে বির্তক থেকেই যায়।
আসলে হাজার হাজার বছর ধরে হিন্দুধর্মের পথ চলা।এই সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে অসংখ্য ঋষিরা তাদের ধর্মপিপাষার থেকে ঈশ্বর সম্পর্কিয় যে উপলব্ধি গ্রন্থের আকারে লিপিবদ্ধ করে গেছেন সেগুলিই আমাদের ধর্মীয় শাস্ত্র।তাদের মধ্যে অনেকেই ঈশ্বর উপলব্ধির নূতন নূতন পথ দেখিয়ে গেছে।হিন্দুশাস্ত্রের গ্রন্থ অনেক ও বিচিত্র।বিভিন্ন স্তরের মানুষেকে বিভিন্নভাবে ধর্মের শিক্ষা দিতে হয় বলে হিন্দুদের শাস্ত্র গ্রন্থের সংখ্যা বেড়েগেছে।তবে সবার আগে মনে রাখতে হবে এই বিভিন্ন হিন্দুশাস্ত্রের মূল হলো বেদ।
হিন্দু শাস্ত্রগ্রন্থ গুলি নিয়ে সামান্য আলোচনা করা যাক।
‪#‎বেদ‬:- হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ।ঋষিদের সাক্ষাৎ উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত বলে বেদের অপর নাম শ্রুতি, সব হিন্দুশাস্ত্রের প্রমাণ নির্ভর করে এই শ্রুতির উপর। পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থের অপেক্ষায় বেদ প্রাচীন। সংস্কৃতে "বিদ্" ধতুর অর্থ জানা।এই ধাতু থেকে নিষ্পন্ন বলে বেদ শব্দের মূল অর্থ জ্ঞান।
বেদ চারখানি ঋক্‌, সাম,যজুঃ ও অথর্ব বেদ।আবার প্রত্যেক বেদের দুটি ভাগ সংহিতা ও ব্রাহ্মণ।সংহিতা ভাগে আছে মন্ত্র বা স্তোত্র, এবং ব্রাহ্মণভাগে আছে তাদের অর্থ ও ব্যবহারের নির্দেশ।
বৈদিকযুগে প্রতিমাপূজা ছিল না।মন্ত্র দ্বারা অগ্নিতে আহুতি দেওয়াই ছিল সেযুগের ঈশ্বর আরাধনার রীতি।এই বৈদিক কর্মকে যজ্ঞ বলা হয়।বেদের ব্রহ্মণভাগে অনেক ধরনের যজ্ঞের কথা উল্লেখ আছে।সংহিতাভাগের মন্ত্রগুলি এই সমস্ত যজ্ঞের সময় পাঠ করা হয়।কোন যজ্ঞে কখন কিভাবে কোন মন্ত্র উচ্চারণ করা দরকার তা ব্রহ্মণ থেকে জানা যায়।
‪#‎উপনিষদঃ‬-
বেদের কিছু অংশের নাম উপনিষদ।বেদের শেষের দিকে আছে বলে অথবা বেদের সারাংশ বলে এর অপর নাম বেদান্ত।
বেদের যে অংশে যাজ্ঞযজ্ঞের কথা উল্লেখ আছে তাকে কর্মকাণ্ড বলে।উপনিষদ অংশের মুখ্য আলোচ্য বিষয় পারমার্থিক জ্ঞান(ব্রহ্মজ্ঞান)। তাই উপনিষদ গুলিকে জ্ঞানকাণ্ড বলা হয়।
ব্রহ্ম কোথায় এবং কিভাবে আছেন,মানুষ ও জগতের সঙ্গে তাঁর সম্বন্ধ কি, তাঁকে জানবার উপায় কি এবং প্রয়োজন বা কি এসমস্ত কথা উপনিষদ থেকে জানা যায়।
উপনিষদ অনেক।প্রত্যেকটি বেদেই কতগুলি উপনিষদ আছে।এদের মধ্যে ১১টি উল্লেখযোগ্য--- ঈশ,কেন,কঠ,প্রশ্ন,মুণ্ডক,মাণ্ডূক্য,ঐতরেয়,তৈত্তিরীয়,ছান্দোগ্য,বৃহদারণ্যক ও শ্বেতাশ্বতর।
‪#‎স্মৃতিঃ‬-
হিন্দুরা কিভাবে জীবন যাপন করবে তার নির্দেশ মনু, যাজ্ঞবল্ক্যরা গ্রন্থ রচনা করে গেছেন,হিন্দুদের পারিবারিক জীবনে কি কি অনুষ্ঠান করা উচিৎ এইসব এই গ্রন্থে লেখা আছে।
বর্ণ অনুযায়ী হিন্দুদের কি কাজ করা উচিৎ, কি কাজ করা উচিৎ নয়, তার উল্লেখ আছে।স্মৃতিগুলি সম্পূর্ণ ভাবেই শ্রুতিমূলক।তবে সামাজিক পরিবর্তনের অনুযায়ী বিধিনিষেধ ব্যবস্থাগুলি পরিবর্তন হয়েছে এবং যুগের পরিবর্তনের সঙ্গেও নতুন নতুন স্মৃতি রচনা হয়েছে।যেমন একসময় বঙ্গদেশের হিন্দুসমাজ রঘুনন্দনের স্মৃতির দ্বারা প্রভাবিত ছিল।বর্তমানে আমাদের সমাজ স্মৃতির সমাজ থেকে বহুদূরে।
‪#‎দর্শনঃ‬-
বেদবাক্যের উপর নির্ভর করে ঈশ্বর তত্ত্ব নিয়ে ৬টি স্বতন্ত্র মতবাদের সৃষ্টি। একসঙ্গে এদের ষড়দর্শন বলে।জৈমিনি,ব্যাস,কপিল,পতজ্ঞলি,গৌতম ও ক্ণাদ, এদের রচিত দর্শন গুলি যথাক্রমে পূর্বমীমাংসা,উত্তরমীমাংসা,সাংখ্য,যোগ,ন্যায় ও বৈশেষিক।
পূর্বমীমাংসায় বেদের কর্মকাণ্ড এবং উত্তরমীমাংসায় জ্ঞানকাণ্ড নিয়ে আলোচনা আছে।ব্যাসদেবের রচিত দর্শনকে বেদান্তদর্শন বা ব্রহ্মসূত্র বলা হয়।
‪#‎পুরাণ‬
দর্শনগুলি খুব কঠিন। এইগুলি কেবল পণ্ডিতদের পাঠ্য আমাদের মত সাধারণের কাছে কঠিন। জনসাধারণের জন্য হিন্দুঋষিরা পুরাণ নামে এক শ্রেণীর শাস্ত্র রচনা করেন।সরল ও মনোরম ধর্ম শিক্ষা।নানারকম গল্প ও রূপের মাধ্যমে হিন্দুদের প্রাচীন ইতিহাসের আভাস এর থেকে পাওয়া যায়।পুরাণ আঠারখানা তাছাড়া উপ-পুরাণও আছে।
‪#‎রামায়ণ‬ ও মহাভারতঃ-
পুরাণের মত হিন্দুদের সহজ জনপ্রিয় দুটি অতিপ্রয়োজনীয় শাস্ত্র রামায়ণ ও মহাভারত।বাল্মীকি ও ব্যাসদেব যথাক্রমে এই দুইখানি মহাকাব্যের রচয়িতা।এদের ইতিহাসের পর্যায়ে ফেলা হয়।
‪#‎গীতাঃ‬-
মহাভারতের একটি অংশের নাম গীতা।যুদ্ধের প্রক্কালে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বীরশ্রেষ্ঠ অর্জুন কে যে তত্ত্ব উপদেশ প্রদান করেন সেই অংশটি শ্রীমদ্ভগবদগীতা নামে প্রসিদ্ধ। উপনিষদ যেমন বেদের সার, গীতাকেও তেমন উপনিষদের সার বলা যায়।হিন্দু শাস্ত্রগুলির মধ্যে গীতাই সর্বপেক্ষা জনপ্রিয়।
প্রস্থানত্রয়ঃ-
উপনিষদ,বেদান্তদর্শন ও গীতাকে একসঙ্গে প্রস্থানত্রয় বলে।প্রস্থানত্রয় হিন্দুদের প্রধান শাস্ত্র বলে গণ্য।প্রস্থানত্রয়কে কেন্দ্র করে হিন্দুধর্মের প্রধান সম্প্রদায় গুলির মতবাদ গড়ে উঠেছে।সম্প্রদায়ের প্রবর্তক আচার্যরা এর উপর নানান ব্যাখা দিয়েছেন - দ্বৈত,অদ্বৈত,বিশিষ্টাদ্বৈত এইসকল।
তন্ত্রঃ-
ঈশ্বর কে আদ্যাশক্তিরূপে চিন্তা করে তন্ত্র ধারনা তৈরি।তন্ত্রগু

লি সাধারণত শিব ও পার্বতীর নানান কথোপকথন আকারে রচিত।কিছুর প্রশ্নকর্ত্রী পার্বতী এবং উত্তরদাতা মহাদেব, এবং অন্যগুলির প্রশ্নকর্তা শিব এবং উত্তরদাত্রী পার্বতী।প্রথমগুলিকে আগম বলে এবং শেষের গুলিকে নিগম। ৬৪ তন্ত্র আছে, এর মধ্যে --- মহানির্বাণ,কুলার্ণব,কুলসার,প্রপঞ্চসার,তন্ত্ররাজ,রুদ্রযামল,ব্রহ্মযামল,বিষ্ণুযামল অন্যতম।
‪#‎পঞ্চরাত্র‬ সংহিতা ও শৈব আগমঃ-
বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রসংহিতা ও শৈবদের শৈবাগম তন্ত্রজাতীয় শাস্ত্র।এই শাস্ত্রগুলির দাবি এই যে, বেদ অপেক্ষা পঞ্চরাত্র সংহিতা ও শৈব আগম এই যুগে(কলিযুগের) বেশী উপযোগী। আগে শাস্ত্রেগুলির মত এরা বেদমূলক নয়,তবে বেদের সঙ্গে স্পষ্ট কোন বিরোধ নেই(তবে ফেসবুকে এর পালনকারিরা বেদ বিরোধী প্রচার করেন)
প্রায় ২১৫ খানা আলাদা আলাদা পঞ্চরাত্রসংহিতা গ্রন্থের কথা শোনা যায়, --- ঈশ্বর, পৌষ্কর,পরম, সাত্বত, বৃহৎব্রহ্ম ও জ্ঞানামৃতসারসংহিতা(প্রথমখানি যামুনাচার্য,পরের তিনখানি শ্রীরামানুজাচার্য উল্লেখ করে গেছেন, শেষটি নারদপঞ্চরাত নামে পরিচিত)।
২৮ টি শৈব আগমের কথা জানা যায়,তবে বর্তমানে ২০টির কিছুকিছু অংশ পাওয়া যায় মাত্র।
শ্রীশংকরাচার্যের অদ্বৈতবাদের প্রভাবে এরা অনেকাংশ বৈদান্তিক মতে ফিরে এসেছেন।
(হিন্দুধর্ম থেকে)
Courtesy: Sumit Bhattacharya
Share:

২৬ ডিসেম্বর ২০১৫

ভক্তি কি ?

বিজ্ঞান হচ্ছে পরমতত্ত্ব। বিজ্ঞান হল সেই জ্ঞান যে জ্ঞানের উদয় হলে ‘আমি ব্রহ্ম’ এরূপ বিশ্বাসে মন দৃঢ় হয়। ব্রহ্ম ছাড়া আর অন্য কোন বস্তুর কথা মনেও আসে না এবং সেই বিজ্ঞানী মানুষের বুদ্ধি সর্বতোভাবে শুদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সেই বিজ্ঞান দুর্লভ। জগতে সেই শুদ্ধ জ্ঞানের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ কম। সেই বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানী যা এবং যেমন তা সর্বদাই শিব স্বরূপ সাক্ষাত পরাৎপর ব্রহ্ম।
কিন্তু সেই বিজ্ঞান লাভের পথ হল বিশুদ্ধ শিব ভক্তি। এই ভক্তিই হল ওই বিজ্ঞানের মাতৃ স্বরূপ যা ভোগ ও মোক্ষ রূপ ফল প্রদানকারী। আর বাবা মহাদেবের কৃপাতেই মানুষ সেই ভক্তি লাভ করতে পারে। ভক্তি ও জ্ঞানে কোন কোনও পার্থক্য নেই। ভক্ত ও জ্ঞানী উভয়েই সর্বদা সুখদায়ক হয়ে থাকেন। যিনি ভক্তির বিরোধী তাঁর জ্ঞান লাভ হয় না।

“ভক্তৌ জ্ঞানে ন ভেদো হি তৎকর্তুঃ সর্বদা সুখম্‌ ।
বিজ্ঞানং ন ভবত্যেব সতি ভক্তি বিরোধিনঃ ।।
ভক্তাধীনঃ সদাহং বৈ তৎ প্রভাবাদ্‌ গৃহেষ্বপি।
নীচানং জাতিহীনানাং যামি দেবি ন সংশয়ঃ ।।”(শিবপুরাণ রুদ্রসংহিতা)

মহাদেব মহেশ্বর সর্বদা ভক্তের অধীন থাকেন এবং ভক্তির প্রভাবে জাতি হীন নীচ মানুষদের গৃহেও তিনি অবস্থান করেন। গুণ ভেদে ভক্তি দুই রকম – সগুণা এবং নির্গুণা। যে ভক্তি শাস্ত্রবিধি দ্বারা প্রেরিত বা বৈধী অথবা হৃদয়ের সহজ অনুরাগ দ্বারা প্রেরিত বা স্বাভাবিক সেই ভক্তিই উচ্চকোটির ভক্তি। এছাড়া যে কামনামূলক ভক্তি হয়ে থাকে তা নিম্নকোটির ভক্তি। সগুণ এবং নির্গুণ ভক্তি আবার নৈষ্ঠিকী ও অনৈষ্ঠকী ভেদে দুই ভাগে বিভক্ত। নৈষ্ঠিকী ভক্তি ছয় প্রকারের এবং অনৈষ্ঠকী ভক্তি একই প্রকারের হয়। প্রকৃত বিদ্বান ব্যক্তি বিহিতা এবং অবিহিতা ভেদে নানা প্রকারের বলে মনে করে থাকেন। সগুণা এবং নির্গুণা উভয় ভক্তির নয়টি অঙ্গ।
“শ্রবণং কীর্তনং চৈব স্মরণং সেবনং তথা।
দাস্য তথার্চনং দেবি বন্দনং মম সর্বদা।।
সখ্যমাত্মার্পণং চেতি নবাঙ্গানি বিদুর্বুধাঃ।” ---------- শিবপুরাণ রুদ্রসংহিতা

শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, সেবন, দাস্য, অর্চন, সর্বদা শিব বন্দনা, সখ্য এবং আত্মসমর্পণ। এছাড়াও ভক্তির বিভিন্ন উপাঙ্গও রয়েছে।

=> যে ব্যক্তি স্থির হয়ে সমগ্র মনকে শিবকেন্দ্রিক করে আসনে উপবেশন করে শরীর ও মনের দ্বারা শিবকথা শিব কীর্তনে শ্রদ্ধা ও সম্মান জ্ঞাপন করে প্রসণ্ণতাপূর্বক সেই অমৃত সমান কথা-কীর্তন রস পান করেন তার সেই সাধনাকে বলা হয়ে থাকে শ্রবণ।
=> যিনি তার হৃদাকাশে মহাদেব মহেশ্বরের দিব্য জন্ম-কর্ম-লীলা চিন্তা করে প্রেমভরে তা উদাত্তকণ্ঠে গীত করেন তার এই ভজন সাধনকে বলা হয় কীর্তন।
=> নিত্য মহাদেব পরমপুরুষ তৎপুরুষ মহেশ্বরকে সর্বদা ও সর্বত্র ব্যাপক (সকল বস্তুর মধ্যেই তিনি বিদ্যমান) জেনে যিনি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে সব সময়ে নির্ভয়ে থাকেন তার সেই ভক্তিকে বলা হয়ে থাকে স্মরণ।
=> অরুণোদয় থেকে শুরু করে সব সময়ে প্রভুর কৃপাকে বা তার অনুকূলতাকে মনে রেখে মন-বুদ্ধি-চিত্ত-হৃদয় এবং ইন্দ্রিয়াদির দ্বারা নিরন্তর মহেশ্বরের সেবা করা হয় তাকেই সেবন নামক ভক্তি বলা হয়।
=> নিজেকে প্রভুর সেবক মনে করে অন্তর থেকে সর্বদা প্রভূ ভোলানাথের প্রিয় সম্পাদন করাকে দাস্য বলা হয়।
=> নিজ ক্ষমতা অনুযায়ী শাস্ত্রীয় বিধি দ্বারা পরমাত্মারূপী আমাকে সর্বদা পাদ্য-অর্ঘ্য ইত্যাদি ষোড়শোপচারে বা পুষ্প-গন্ধ ইত্যাদি পঞ্চোপচারে পূজন করাকেই অর্চন বলা হয়ে থাকে।
=> অন্তরে ধ্যান ও বাক্য দ্বারা স্তোত্র বন্দনামূলক মন্ত্রাদির পাঠ করতে করতে শরীরের আট অঙ্গে ভূমি স্পর্শ করে ইষ্টদেবকে নমস্কার করাকে বলা হয় বন্দন।
=> প্রাণেশ্বর মহাদেব মহেশ্বর মঙ্গল-অমঙ্গল যা কিছুই সংঘটিত করেন না কেন তা ভক্তের মঙ্গল সাধনের জন্য অন্তরের এই রকম দৃঢ় ভক্তিকে বলা হয়ে থাকে সখ্য।
=> দেহ ইত্যাদি যা কিছু বস্তু নিজের বলে মনে করা হয়, সেই সমস্ত কিছু ভগবানের প্রসন্নতার জন্য তাকে সর্ব সমর্পণ করে নিজের জন্য কিছুই না রাখাকে এমনকি শরীর নির্বাহের চিন্তা রহিত হওয়াকে বলে আত্মসমর্পণ।
শিবশক্তির এই হল নয়টি অঙ্গ। এই গুলি ভোগ ও মোক্ষ প্রদানকারী। এর দ্বারা জ্ঞান প্রকাশিত হয় এবং ভক্ত বিজ্ঞানী হয়ে ওঠে।

Courtesy by: Prithwish Ghosh

Share:

০২ ডিসেম্বর ২০১৫

গুরুনানকের গুরুভক্তি বিষয়ক একটি ঘটনা

একবার গুরুনানক তাঁর কয়েকজন শিষ্যসহ ভ্রমণ করছিলেন তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত লাহিনাও সেই দলে ছিলেন। হঠাৎ বনের মধ্যে একটি মৃতদেহ তাঁর চোখে পড়ল। পচা মৃতদেহ একটা কাপড় দিয়ে ঢাকা।

গুরুনানক সেই দুর্গন্ধময় শবটি দেখিয়ে শিষ্যদেরকে বললেন---তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে আমার কথায় পচা গলিত শবদেহ ভক্ষণ করতে পারে? গুরুর এইকথা শুনে সবাই অবোবদনে দাঁড়িয়ে রইলেন।

কেউ কেউ ভাবতে লাগলেন, গুরুজী কি আজ অপ্রকৃতিস্থ নতুবা এমন ন্যক্কারজনক প্রস্তাব কি করে করতে পারলেন? আমরা শিখ, অঘোর পন্থী ত নই ! নানক অধিকাংশ শিষ্যদের এই রকম মনোভাব বুঝে পুনরায় ঘোষণা করলেন---'নির্দ্ধিধায় যে বিনা বিচারে গুরুবাক্য পালন করতে পারে, সেই প্রকৃত শিখ।


প্রকৃত গুরুগতপ্রাণ শিখই পরম পদ অর্থাৎ 'অলখ্নিরঞ্জনতত্ত্ব' উপলব্ধির যোগ্য আধার। যারা তা পারে না, তারা গুরুর চারধারে থেকে কেবলই ভীড় বাড়ায়'। নত মস্তক সব শিষ্য নীরবে গুরুর এই ধিক্কার শুনলেন, কিন্তু তাঁর আদেশ পালন করতে এগিয়ে এলেন না। লাহিনাকে দেখা গেল, তিনি ধীরে মৃতদেহের কাছে করজোড়ে বললেন --- গুরুজী আপনি দয়া করে বলে দিন, এই মৃতদেহের কোন অংশ থেকে আমি সর্বপ্রথম খেতে আরম্ভ করব ?

লাহিনার কথা শুনে তার গুরুভ্রাতারা স্তম্ভিত। কিন্তু নানক শান্ত কণ্ঠেই উত্তর দিলেন, 'কোমরের দিক থেকেই আরম্ভ কর'। গুরুর বাক্য শেষ হতে না হতেই নির্বিকার চিত্তে লাহিনা শবদেহ কামড় দেবার জন্য হাঁ করে ঝুকে পড়লেন। কিন্তু শবদেহ থেকে চাদরের আচ্ছাদন তুলতে দেখা গেল, সেখানে থরেথরে সুমিষ্ট ফল ও মিষ্টান্ন দ্রব্য সাজানো রয়েছে।

বিস্ময়ে হতবাক শিষ্যরা ভাবলেন, ও হল সর্বশক্তিমান গুরুজীর এক অত্যাশ্চর্য বিভূতির খেলা! গুরুনানক চেলাদের ভাব-ভাবনার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে লাহিনার মাথায় হাত দিয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলতে লাগলেন---'এ আমার কোন বিভূতি নয়, তোমার গুরুভক্তির গুণেই এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে।' -------- ওঁ শ্রী গুরবে নমঃ।
Share:

হিন্দুশাস্ত্রে ৫ (পাঁচ) সংখ্যাটি এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে

হিন্দুশাস্ত্রে ৫ (পাঁচ) সংখ্যাটি এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র মতে বুধগ্রহের সংখ্যা ৫ ......

যতটুকু পেরেছি এখানে লিপিবদ্ধ করলাম ...........
আশাকরি জেনে বা স্মরণ করে আনন্দ পাবেন .......
আপনি অতিরিক্ত কিছু জানলে ..... কমেন্ট করুন ......


পঞ্চবাণ - সম্মোহন, উন্মাদন, শোষণ, তাপন, স্তম্ভন.....
পঞ্চগঙ্গা - ভাগীরথী, গোমতী, কৃষ্ণবেণী, পিনাকিনী, কাবেরী.....
পঞ্চনদী - কিরণা, ধূতপাপা, সরস্বতী, গঙ্গা, যমুনা.....
পঞ্চনদ - ঝিলম বা বিতস্তা, চন্দ্রভাগা, ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু.....
পাঁচফোড়ন - মৌরি, মেথি, কালোজিরে, জিরে, রাঁধুনি....
পঞ্চধান্য - শালি, ব্রীহি, শূক, শিম্বি, ক্ষুদ্র....
পঞ্চবটী - অশ্বত্থ, বট, বিল্ব, আমলকী, অশোক......
পঞ্চপ্রাণ - প্রাণ, অপান, সমান, উদান, ব্যান.......
পঞ্চমুক্তি - সার্ষ্টি, সারূপ্য, সালোক, সাযুজ্য, নির্বান.....
পঞ্চতীর্থ - কুরুক্ষেত্র, গয়া, গঙ্গা, প্রভাস, পুষ্কর.....
পঞ্চতিক্ত - নিম, গুলঞ্চ, বাসক, পলতা, কন্টকারী.....
পঞ্চনুন - সৌর্বচল, সৈন্ধ, বিট, ঔদ্ভিদ, সামুদ্রিক.....
পঞ্চগুণ - রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ....
পঞ্চগব্য - দধি, দুগ্ধ, ঘৃত, গোমূত্র, গোময়.....
পঞ্চভুত - ক্ষিতি, অপ্, তেজঃ, মরুত, ব্যোম....
পঞ্চ ‘ক’ - কেশ বা চুল, কাঙ্গা বা চিরুনি, কড়া বা কঙ্কণ বা বালা, কৃপাণ বা ছুরি, কাশেরা...
পঞ্চ 'ম' - মদ্য, মাংস, মত্স্য, মুদ্রা ও মৈথুন।.....
পঞ্চরত্ন - নীলকান্ত, হীরক, পদ্মরাগ, মুক্তা, প্রবাল.....
পঞ্চশস্য - ধান, যব, মাষ, তিল, মুগ......
পঞ্চামৃত - দধি, দুগ্ধ, ঘৃত, মধু, চিনি....
পঞ্চায়ুধ - তরবারি, শক্তি, ধনুক, বর্ম, পরশু বা কুঠার....
পঞ্চপল্লব - আম, অশ্বত্থ, পাকুড়, বট, যজ্ঞডুমুর.....
পঞ্চোপচার - গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য.....
পঞ্চপাণ্ডব - যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেব.....
পঞ্চকন্যা - অহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তি, তারা, মন্দোদরী....
পঞ্চ ইন্দ্রিয় - চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক.....
পাঁচ মহাসাগর - প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, সুমেরু বা উত্তর মহাসাগর, কুমেরু বা দক্ষিণ মহাসাগর....
পঞ্চ ফুলশর - অরবিন্দ, অশোক, নবমল্লিকা, শিরীষ, নীলোত্পল....
 লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

হিন্দু বাড়িতে তুলসী গাছ থাকে কেন


তুলসী (Tulsi/Holy Basil/ thai Krapho) একটি Lamiaceae family এর অন্তর্গত সুগন্ধি বীরুত্ জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম Ocimum sanctum (sanctum অর্থ পবিত্র স্থান) । হাজার হাজার বছর ধরে সাধারণত কৃষ্ণ ও রাধা তুলসী এই দুই প্রকারে প্রাপ্ত তুলসী হিন্দু গৃহে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে যেহেতু এর পিছনে রয়েছে ধর্মীয় ,পরিবেশগত ও বৈজ্ঞানিক কারণ ।
ধর্মীয় কারণ :
ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে তুলসীকে সীতাস্বরূপা , স্কন্দপুরাণে লক্ষীস্বরূপা, চর্কসংহিতায় বিষ্ণুর ন্যায় ভুমি, পরিবেশ ও আমাদের রক্ষাকারী বলে বিষ্ণুপ্রিয়া , ঋকবেদে কল্যাণী বলা হয়েছে। স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু তুলসী দেবীকে পবিত্রা বৃন্দা বলে আখ্যায়িত করে এর সেবা করতে বলেছেন।


পরিবেশগত কারণ
-------------------------
পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তুলসীগাছ একমাত্র উদ্ভিদ যা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ু বিশুদ্ধ রাখে যেখানে অন্য যেকোন গাছ রাত্রিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে তাই রাতের বেলাতে তুলসীতলায় শয়ন করাও ব্যক্তির জন্য উপকারী।এছাড়া তুলসীগাছ ভুমি ক্ষয় রোধক এবং তুলসী গাছ লাগালে তা মশা কীটপতঙ্গ ও সাপ থেকে দূরে রাখে।
বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ
--------------------------------------

*তুলসীতেEugenolঅধিক পরিমাণে থাকায় তা Cox-2 Inhibitorরূপে কাজ করে বলে তা ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
*Hypoglycemic drugs এর সাথে তুলসী খেলে তা টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগে দ্রুত গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
*তেজস্ক্রিয়তার ফেলে ক্ষতিগ্রস্থ কোষসমুহকে মেরামত করে।
*চর্বিজনিত হৃদরোগে এন্টি অক্সিডেন্টের ভুমিকা পালন করে।
*তুলসী একশেরও বেশি Phytochemicals(যেমন oleanolic acid ,beta caryophyllene ইত্যাদি)বহন করে বলে ক্যান্সার চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয়।
*তুলসীর অ্যালকোহলিক নির্যাস Immune system এর রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
*তুলসী স্নায়ুটনিক ও স্মৃতিবর্ধক।
*শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্নরোগ যেমন ব্রঙ্কাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ,হাঁপানি প্রভৃতি রোগের নিরাময়ক।
*সর্দি ,কাশি, জ্বর, বমি, ডায়ারিয়া ,কলেরা , মুখের আলসারসহ চোখের বিভিন্ন রোগে ইহা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
*দাঁতের রোগে উপশমকারী বলে টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
----------------------------------------------------------------------------------------------

অতুলনীয় তুলসী
============
তুলসী গাছ 'নারায়ণ'-এর প্রতীক। তাই আগের দিনের মতো তুলসী মঞ্চ না রাখলেও মাল্টিপ্লেক্স ফ্ল্যাটের এককোণে অনেকেই টবে করে তুলসী গাছ রেখে দেন বাড়ির মঙ্গলের জন্য। অথচ, অনেকেই হয়তো জানেন না, বাস্তুদোষ কাটাতে তুলসীর গুরুত্ব অনেক।
তুলসী অনেক রকমের হয়। যেমন, কৃষ্ণ তুলসী, রাম তুলসী, বাবুই তুলসী, বন তুলসী, জ্ঞান তুলসী ইত্যাদি। প্রত্যেকের আলাদা আলাদা গুণও রয়েছে -
রান্নাঘরের পাশে তুলসী গা রাখলে বাড়ির লোকেদের মধ্যে মিলমিশ বাড়ে।
পূর্বদিকে জানালার পাশে এই গাছ রাখলে সন্তান আপনার কথা শুনে চলবে।
অনেক চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুতেই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। বাড়ির দক্ষিণ-পূর্বদিকে তুলসী গাছ রেখে রোজ তাতে জল দিন।কিছুদিনের মধ্যেই সুফল পাবেন।
ব্যবসায় লাভ বাড়াতে নক্ষত্র কোণে তুলসী গাছ রেখে প্রতি শুক্রবার তাকে দুধ দিয়ে স্নান করান।
বসের সুনজরে থাকতে চাইলে সাদা কাপড়ে তুলসীর ১৬টি বীজ বেঁধে কোনও এক সোমবার অফিসের কোনও ফাঁকা কোণে রেখে দিন। এতে বসের সঙ্গে অনেকটাই সম্পর্কের উন্নতি হবে।
লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

২৭ নভেম্বর ২০১৫

জ্যোতিষ বিদ্যাকে বেদের চক্ষুও বলা হয়

জ্যোতিষ হলো সেই বিদ্যা, যার দ্বারা আকাশে অবস্থিত গ্রহ স্থিতির দ্বারা অতীত, ভবিষৎ এবং বর্তমান সম্বন্ধে আমরা জানতে পারি। জ্যোতিষ শাস্ত্রের অপর নাম জ্যোতিঃ শাস্ত্র। জ্যোতি শাস্ত্রের অর্থ হলো যে শাস্ত্র জীবনে আলো দেয়, প্রকাশ দেয় অর্থাৎ জ্যোতি দেয়।
.
জ্যোতিষের উৎপত্তি কবে হয়েছে এ সম্বন্ধে নিশ্চিত রূপে কিছু বলা না গেলে ও, বিশ্বের প্রাচীন গ্রন্থ বেদে জ্যোতিষের উল্লেখ আছে। জ্যোতিষ বেদেরই অংগ। বেদের ছয়টি অঙ্গ ----১) শিক্ষা ,২) কল্প, ৩) ব্যাকারণ, ৪) নিরুক্ত, ৫) ছন্দ ও ৬) জ্যোতিষ। জ্যোতিষ বিদ্যাকে বেদের চক্ষুও বলা হয়।
জ্যোতিষের উপযোগিতা বলতে গেলে এই বিশ্বসংসারের প্রতিটা মানুষ বা প্রানী গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাবের অধীন। তাদের জন্ম কোষ্ঠী অনুযায়ী প্রতিটা মানুষ পৃথক প্রকৃতির, কেউ সুন্দর কেউ অসুন্দর, কেউ মন্দ বুদ্ধি কেউ অল্প বুদ্ধ্ি, প্রত্যেকের কোষ্ঠির গ্রহ সম্নবয় অনুযায়ী তার জীবনে সুখ দুঃখের উদয় হয়। যেরূপ ঔষধি সেবন করে রোগ দূর করা যায় বা কম করা যায় সেইরূপ মানুষের জ্যোতিষিও বিশ্লেশন দ্বারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে মানুশ সুস্থ সুখী জীবন লাভ করতে পারে। কেবল মাত্র অদৃষ্টের উপর বসে না থেকে এবিদ্যা ভাগ্য ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। দৈনিক জীবনে জ্যোতিষের প্রয়োজনীয়তা অসাধারন। বিবাহ, সন্তান, ব্যবসা, চাকরী, যাত্রা, ভবন নির্মান ইত্যাদি প্রতিটা মহত্ত্বপুর্ণ জ্যোতিষ শাস্ত্রের মার্গদর্শন মানুষের জীবনে সহায়ক হয়।
জ্যোতিষের মুখ্যত দুইটি ধারা --- ১) গণিত জ্যোতিষ (Astronomy) ২) ফলিত জ্যোতিষ(Astrology)।তাই যে বিদ্যার দ্বারা মহাকাশ, নক্ষত্র ও গ্রহদের গতি অবস্থান ও চরিত্র জানা যায় সেই বিদ্যাকে গণিত জ্যোতিষ বলা হয়, আর যে বিদ্যার দ্বারা গ্রহদের অবস্থান সাপেক্ষে মানুষের জীবনে সুখ-দু:খের অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ এর অনুমান করা হয় সেই বিদ্যাকে ফলিত জ্যোতিষ বলা হয়।
আমাদের আকাশ অনন্ত কোটি নক্ষত্র দ্বারা গঠিত। কিছু কিছু নক্ষত্র সূর্যের থেকেও কয়েক গুন বড়। যারা আমাদের থেকে এত দূরে অবস্থিত যে তাদের আলো আমাদের পৃথিবীতে পৌছাতে কয়েক বছর লেগে যায়। যদিও আলোর গতিবেগ ১,৮৬,০০০ মাইল প্রতি সেকেন্ড।
অন্য তারা গুলোর মাঝেই একটি মন্ডল আছে যা সৌর মন্ডল নামে খ্যাত। যার মাঝে সুর্য আছে এবং তার চারি দিকে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ যেমন বুধ, শুক্র, বৃহ:স্পতি ইত্যাদি ঘুর্ণায়মান। এই সব গ্রহ গুলি সুর্যের শক্তিতেই তার চারিদিকে ঘুর্ণয়মান, সুর্যের পরিমন্ডলের বাইরে এরা যেতে পারবে না। সেই জন্য এই পরিমন্ডল কে সুর্য মন্ডল বা সৌর মন্ডল বলা হয়। আমাদের সম্পুর্ন ফলিত জ্যোতিষ এই সৌরমন্ডলের উপর আধারিত।

Written by :  Prithwish Ghosh
Share:

মানবদেহের সাত চক্র

দেহচক্রের কথা শুনলেই আমরা একটু চিন্তিত হয়ে যাই। মনের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন উকিঁঝুকি দিতে থাকে। আমাদের দেহে আবার চক্র আসবে কোথা থেকে? এ চক্রগুলো কোথায় থাকে, এ চক্রগুলোর কাজ কী ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকেই জানি না, আমাদের দেহে একটি দুটি নয়, সাত সাতটি চক্র আছে। আমরা বেশির ভাগ সময় অনেক গোপন সত্য জানা থেকে পিছিয়ে থাকি। আমাদের দেহের নিম্নাঙ্গে, তলপেটে, নাভিতে, হৃদয়ে, কণ্ঠে, দু চোখের মাঝে ও মাথার ওপরে আছে সাতটি চক্রের অবস্থান। চক্রগুলো হলো, মূলাধার চক্র, স্বাধিষ্ঠান চক্র, নাভিচক্র, হৃদচক্র, বিশুদ্ধ চক্র, আজ্ঞা চক্র ও সহস্রার চক্র।
-
দেহ একটা রঙের বাক্সের মতো। 'দিব্যশক্তি' শিশুর মতো এ দেহে রঙতুলি নিয়ে নানা ভঙ্গিমায় খেলা করতে থাকে। খেলার জন্য তার পছন্দের জায়গা ‘চক্র’। এক-একটি চক্র তার কাছে এক-একটি প্লে-গ্রাউন্ড। খামখেয়ালিভাবে সে চক্রে চক্রে নেচে বেড়ায়। তার নৃত্যের তালে তালে আমাদের জীবন হয়ে উঠে ছন্দোময়, প্রেমময় ও আলোময়। তাই ইংরেজি ‘হিউম্যান বিইং’ শব্দটি মানুষের জন্য সঠিকভাবে প্রযোজ্য। Human Being=`Hue+ Man+ Being’ where Hue means Color, Man means Manifestation and Being means Light. অর্থাৎ হিউম্যান বিইং অর্থ ‘রঙরূপ আলো’। প্রতিটি চক্রের সাথে দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জড়িত। যখন যে চক্রে দিব্যশক্তি খেলা করে তখন সে চক্রের ওপর ভাল-মন্দ দুরকমের প্রভাব পড়ে। যেমন, বিশুদ্ধ চক্রে খেলা করলে কথা বলার শক্তি ও গানের সুরধারা আসে। আবার সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও মন খারাপ হয়ে থাকে। এভাবে অন্যান্য চক্রের ওপরও প্রভাব ফেলে থাকে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ দিব্যশক্তির এই খেলায় এক পর্যায়ে সব মন্দ হয়ে ওঠে ভালো। এমনকি রোগ সারানোসহ বিভিন্ন মিরাকলও ঘটে।
-
এবার জানা যাক চক্র বিষয়ে -----
-
মূলাধার চক্র (Root/Ovaries/Testes)
-
মূলাধার চক্র দেহের মেরুদন্ডের শেষ প্রান্তে বা নিম্নাংশে অবস্থিত। এটিকে কুণ্ডলিনী বলে। এ চক্রের চারটি দল। এর রঙ লাল। এটি আমাদের চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ চক্রটি চেতন থেকে অবচেতন পর্যন্ত বিস্তৃত। জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধি- এ চারটির নিয়ামক এ চক্র। কামশক্তির আধার এটি। এটিতে আছে অস্থিধাতুর শক্তি। এ চক্রে দিব্যশক্তি খেলা করলে কামনা বাড়ে। জন্ম হয়। মৃত্যু হয়। রোগ হয়।
-
স্বাধিষ্ঠান চক্র (Abdomen/Pancreas glands)
-
স্বাধিষ্ঠান চক্র দেহের তলপেট বা অগ্নাশয় নিয়ে গঠিত। এ চক্রের ছয়টি দল। এর রঙ গাঢ় গোলাপি। এটি আমাদের লোভ, কামনা, বাসনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটিতে আছে মেদ ধাতুর শক্তি। এ চক্রে দিব্যশক্তির নৃত্যে কামনা বাড়ে। বাসনা বাড়ে। লোভ বাড়ে। বমি হয়। ডায়ারিয়া হয়। ভয় কাজ করে।
-
মণিপুর বা নাভিচক্র (Solar plexus/Adrenal glands)
-
মণিপুর চক্র দেহের নাভি বা বৃক্কাশয় বা পাকস্থলির নিচের শিরাজাল নিয়ে গঠিত। এ চক্রের দশটি দল। এটির রঙ বেগুনি। এটি আমাদের উচ্চ চেতনা, জীবনীশক্তি, আবেগ, বাসনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটিতে আছে মাংসধাতুর শক্তি। তেজশক্তির আধার এটি। এ চক্রে দিব্যশক্তি মণিপুরি নৃত্য করে। দিব্যশক্তির উন্মাদ নাচের তালে দেহের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। পেটের পীড়া হয়।
-
অনাহত বা হৃদচক্র (Heart/Thymus gland)
-
হৃদচক্র আমাদের বুকের মাঝখানে অবস্থিত। এ চক্রের বারটি দল। এর রঙ সোনালি-গোলাপি। এটি আমাদের আবেগ, রাগ-অনুরাগ, প্রেম, বিরহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটির অনেক গভীরে আত্মা থাকে। এটিতে আছে রক্ত ধাতুর শক্তি। এ চক্রে দিব্যশক্তির খেলায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। প্রেম-ভালবাসা হয়। বিরহ আসে। বুক-পিঠ ব্যথা করে। হৃদরোগ হয়।
-
বিশুদ্ধ চক্র (Throat/Thyroid gland)
-
বিশুদ্ধ চক্র আমাদের কণ্ঠে অবস্থিত। এ চক্রের ষোলটি দল। এর রঙ ধূসর। এটি আমাদের ভাবপূর্ণ মন ও বাহির মনকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ চক্র মানসিক শক্তি ও মনের সব ভাব প্রকাশ করে থাকে। এটিতে আছে স্নিগ্ধশক্তি। এ চক্রে শিশু খেলা করলে কথা বলার শক্তি আসে। গানের সুর আসে। সর্দি, কাশি, গলা-ঘাড় ব্যথা ও মন খারাপ হয়।
-
আজ্ঞা চক্র (Third Eye/Pineal gland)
-
আজ্ঞা চক্র আমাদের দু ভুরুর মাঝখানে অবস্থিত। এ চক্রের দুটি দল। এর রঙ সাদা। এটি আমাদের গতিময় মন, ইচ্ছা, দিব্যদৃষ্টি, মানসিক গঠন ও মনের সব চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটিতে আছে মজ্জা ধাতুর শক্তি। এ চক্রে দিব্যশক্তির খেলায় মন কাজ করে। চিন্তাশক্তি আসে। ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা আসে। কবিতা, উপন্যাস লেখাসহ সব সৃষ্টিশীল কাজ করার ক্ষমতা আসে। মাথা ঘোরায়। কখনও কখনও মাথা চিন্তাশূন্য হয়ে পড়ে।
-
সহস্রার চক্র (Crown/Pituitary gland)
-
সহস্রার চক্র আমাদের মাথার ঠিক ওপরে অবস্থিত। এ চক্রের সহস্রটি দল। এটিতে নির্দিষ্ট কোনো রঙ নেই। এটি আমাদের উচ্চ চেতনা বা অধিচেতনা, অর্ন্তদৃষ্টি, বোধিসত্ব চেতনা, দিব্য চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটির তিনটি অংশ আছে : সচ্চিদানন্দ (সৎ, চিৎ, আনন্দ), নিচ থেকে উপরে আনন্দ অংশ, এর উপরে চিৎ (দর্পণ) অংশ এবং এরও উপরে সৎ (মহাশূন্যতারুপী অন্ধকার) অংশ। এ চক্রে দিব্যশক্তির খেলায় দিব্যজ্ঞান আসে। মানুষ জাগতিক ও মহাজাগতিক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে জানতে পারে। মাথার তালু জ্বলে যায়।
আমাদের দেহের চক্রগুলো একই সাথে গোলাকার ও লম্বাকার। সব চক্রের কেন্দ্র হৃদয় বা অনাহত বা হৃদচক্র। চক্রগুলো সবসময় দেহের মধ্যে সক্রিয় থাকে। প্রতিটি চক্র অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। একটিতে কাজ হলে অন্যটির উপরও প্রভাব পড়ে। প্রতিটি চক্র দেহের সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি মানুষের ইচ্ছানুযায়ী দিব্যশক্তি কাজ করে থাকে, অন্যদিকে উল্টাটাও সত্য।
বিভিন্ন যোগী, ঋষি, সাধক-সাধিকারা এই চক্রের অনুশীলন করে থাকেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি করা কঠিন। কেউ যদি নিজে নিজে এটি করতে চান, করতে পারেন কিন্তু এতে ঝুঁকি থেকে যায়। এজন্য একজন গুরু বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির সান্নিধ্যে আসা প্রয়োজন।

Written by : Prithwish Ghosh
Share:

১৬ অক্টোবর ২০১৫

কেন আমি হিন্দু ?

আমি একজন হিন্দু, আমার জন্ম এক হিন্দু বাবা ও হিন্দু মায়ের ঘরে, তাই জন্মসূত্রে আমি একজন হিন্দু। আমার কোনো ধর্মীয় প্রবক্তা বা আমার কোনো নির্দিষ্ট একটি ধর্মগ্রন্থ নেই বরং আমার আছে শত শত, হাজার হাজার ধর্মীয় ও দার্শনিক গ্রন্থ। হিন্দু ধর্মকে বিশ্বের বর্তমান 'ধর্মমত'-গুলোর সাথে আপনি তুলনা করতে পারবেন না। কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস না করেও আপনি হিন্দু হতে পারেন। হিন্দু ধর্ম সেই সভ্যতার শুরু থেকেই চলে আসছে, টিকে আছে নানা প্রতিকূলতাকে ও সমালোচনাকে সাথে নিয়ে। আমি প্রতিনিয়ত মন্দিরে যেতাম না। আমি নিয়মিত ধর্মীয় আচার-নিষ্ঠা পালন করতাম না। কেউ আমার উপর কখনো চাপ প্রয়োগ করেনি এসব নিয়ম-নিষ্ঠা পালন করার জন্য। ছোটবেলায় ধর্মীয় উৎসবসমূহে অংশ নিতাম ও খুব উপভোগ করতাম। ঈশ্বর আমার বন্ধুর মতো। আমি ঈশ্বরকে ভয় পাই না। যদি আমি হিন্দুধর্মের কিছু আচার-নিষ্ঠাকে চ্যালেঞ্জও করি তবুও কেউ আমাকে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত করতে পারবে না বা প্রাণে মেরে ফেলবে না। কারণ একজন হিন্দু হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ও বস্তুনিষ্ঠভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে পারি, কোনো প্রকার শর্তাবলী ছাড়াই। এমনকি প্রকাশ্যে সমালোচনা করতেও পারি। আমাকে কেউ মেরে ফেলবে না। আসলে হিন্দুধর্ম কোনো ধর্মমত নয়, এক বিশ্বাস ও রীতি-নীতি। মানুষের সভ্য হবার পদ্ধতি ও 'মানুষ' হওয়ার সংস্কৃতি। এ কোনো এমন ধর্ম নয় যা কোনো এক ব্যক্তির দ্বারা প্রচারিত অথবা এর কোনো সংগঠিত সংঘ বা সমিতি নেই। হিন্দুধর্মে কোনো সংস্থাপণ বা কর্তৃত্বধারী গোষ্ঠী নেই।
আমাদের ঈশ্বর সম্পর্কে ভাবনা একজন ব্যক্তিগত ঈশ্বরের মতো নয়। এ তো আমাদের কাছে ভাবনারও অতীত যে আমি একজন 'ব্যক্তির মতো ঈশ্বর'-এর আরাধনা করব -- যিনি কিনা এমন যে, মেঘের মাঝে লুকিয়ে থেকে তার পছন্দমত 'বার্তাবাহক'-এর মাধ্যমে নির্দেশ দিচ্ছেন এমনভাবে যেন আমাদের তাকে উপাসনা করতেই হবে, আর না করলেই শাস্তি।
আসলে হিন্দুধর্ম হলো একজন ব্যক্তির ধর্ম, ব্যক্তির জন্য ধর্ম, ব্যক্তির দ্বারা ধর্ম যার শিকড় রয়েছে গীতার মতো ধর্মগ্রন্থে আর সাধনা রয়েছে চণ্ডীর মতো ধর্মগ্রন্থে। পুরো বিষয়টা হলো একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো তার নিজস্ব ব্যক্তিগত মাধ্যমে, তার নিজস্ব মানসিকতা ও অন্তর্নিহিত বিবর্তনের মাধ্যমে। কেউ কাউকেও হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত করতে পারবে না। এ কোন ধর্মমত নয়, বরং এক জীবনপ্রণালী, জীবনে চলার রীতি-নীতি সম্বলিত ব্যবস্থা। সকল কিছুই হিন্দুধর্মে গ্রহণযোগ্য কারণ, কোনো একক কর্তৃত্বধারী বা সংগঠন নেই যা এর ব্যবস্থাকে বাতিল ঘোষণা করবে বা এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন করবে। তাই একমাত্র এখানেই আপনি পাবেন জীবনের অর্থ। সৃষ্টির সকল কিছুকে ভালোবাসাই হলো পরম সত্য.......- ঈশ্বর বিরাজিত সকল কিছুতেই...... কিছুই ঈশ্বর থেকে দূরে নয় কারণ ঈশ্বর সকল কিছুতেই.... সকল জীব ও জড়কে ঈশ্বর জ্ঞানে সম্মান করা উচিত আমাদের...... এ'সবই হিন্দুধর্ম আমাদের শিক্ষা দেয়। এই কারণেই একে বলে সনাতন ধর্ম, চিরন্তন বিশ্বাস। এ এক ধর্ম নামক রীতি দ্বারা চালিত যার অর্থ 'জীবন চলা'-র প্রথা। হিন্দুধর্মের সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নিজের প্রতি সৎ থাকা। এর কোনো একক ধ্যান-ধারণা নেই। এটি সকল কিছুর কাছেই উন্মুক্ত। হিন্দুরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করে যিনি আবার নানা রূপধারণও করতে পারেন প্রয়োজন অনুযায়ী। হিন্দুদের কাছে ঈশ্বর সময়হীন ও আকারহীন। বর্তমান হিন্দুদের আদি পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস করতেন চিরন্তন সত্য ও মহাজাগতিক নিয়ম-কানুনে। এইসব সত্য বা নিয়ম-কানুন সবার কাছে উন্মুক্ত যে এ সম্পর্কে আরো গভীরে যেতে চান। কিন্তু হিন্দুদের মাঝেও এমন অংশবিশেষ রয়েছে যারা কুসংস্কারেও বিশ্বাস করে। হিন্দুধর্মের দার্শনিক দিকগুলো এসব কুসংস্কারকে ভুল প্রমাণ করে। কেউ কাউকেও হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত করতে পারবে না এ কোনো ধর্মমত নয়, এ'টা একমাত্র 'ধর্ম'।
অভারতীয়রা হিন্দু শব্দটির জন্ম দেয় সিন্ধু নদের উপত্যকায় উৎপত্তির জন্য। এর ফলে ওই অঞ্চলের মানুষদের তখন হিন্দুধর্মাবলম্বী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
ধর্মমতগুলো এক 'মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রী'-তে রূপান্তরিত হয়ে যা বিবাহ-ধর্মান্তর এসবের মাধ্যমে নিজের গোষ্ঠীর লোকসংখ্যা বাড়িয়ে 'মার্কেট শেয়ার' বাড়াতে চাইছে।
কিন্তু আমি একজন হিন্দু। আমি মানি - 'অহিংসা পরমো ধর্ম' - অসহিংসতা হচ্ছে সর্বোচ্চ কর্তব্য। আমি একজন হিন্দু কারণ হিন্দুধর্ম অহিংসতার ডাক দেয়। আমি একজন হিন্দু কারণ আমি আমার মনকে কোনো বিশ্বাস ব্যবস্থার সাথে শর্ত জুড়ে দিই না। আমি একজন হিন্দু কারণ হিন্দুধর্ম হচ্ছে জগতের প্রথম উৎপন্নিত ব্যবস্থা যা মানুষকে 'মানুষ' হ'তে শিখায়। কিন্তু কোনও একজন হিন্দু পুরুষ/মহিলা, যে তার জন্মগত ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়, সে তার নিজস্ব আদর্শ, সংস্কৃতি ও জীবনের মূল্যবোধকে মূল্য দেয় না।

লিখেছেনঃ প্রীতিশ ঘোষ (বারাসাত , পশ্চিমবঙ্গ হতে
)

Share:

০৩ অক্টোবর ২০১৫

ছোটবেলার একে চন্দ্র দুয়ে পক্ষ থেকে দশে দিক পড়তাম আসুন সেই সংখ্যাগুলোকে আর একটু ভালোভাবে জেনে নিই

ছোটবেলায় একটু কথা বলতে শিখতেই বাড়ীতে গুরুজনেরা সকাল-সন্ধ্যায় মুখে মুখে অ-আ-ক-খ আর এক-এ-চন্দ্র ইত্যাদি পড়তে শুরু করতেন। 'আবৃত্তিঃ সর্বশাস্ত্রাণাং বোধাদপি গরীয়সী'—বুঝতে না-পারলেও মুখস্থ করো। ছন্দোবদ্ধ ছড়ার মতো একে চন্দ্র দুয়ে পক্ষ থেকে দশে দিক আওড়াতে আওড়াতে দশ পর্যন্ত সংখ্যা অধিগত হয়ে যায় অনায়াসে, না-ই বা বোধগম্য হল চার বেদ পঞ্চবাণের তাৎপর্য। সেটা বয়স বাড়ার সাথে সাথে হবে। আসুন আমরা সংখ্যাগুলোকে আর একটু ভালোভাবে জেনে নিই --

 ১ এ চন্দ্র 
---------
শিশুকে 'একে চন্দ্র' বোঝানো যায় অনায়াসে—আকাশের চাঁদ দেখিয়ে। সূর্যকে দেখিয়েও শেখানো বা বোঝানো যেত। তবে চাঁদ হল শিশুর আদরের চাঁদামামা—যাকে কপালে টিপ দেবার জন্যে ডাকা হয়, যাকে ভাত বেড়ে দেওয়া যায় শিশুর ভাত খাবার থালাটির পাশে। আদরের জনকে দিয়েই একের পরিচিতি হোক, ক্রমে তাকে বিস্তৃত হতে হবে ভূমার উপলব্ধি পর্যন্ত। সূর্যের বদলে চন্দ্রকে বেছে নেবার অন্য ব্যাখ্যারও অবতারণা করা যেতে পারে। দিনের আকাশে সূর্য একাই একাধিপতি। রাত্রের আকাশে অগণিত তারার মাঝখানে চাঁদ অনন্য। সাতাশ নক্ষত্র ভার্যার একপতি হিসাবে আর যে চন্দ্রদেবের ক্ষয় রোগের কারণে স্বর্গের দেবতাদের দীপ্তি ম্লান হতে বসেছিল তাঁর মহিমা কিন্তু অপার।
 
 
২ এ পক্ষ
---------
দুয়ে পক্ষ। কী কী পক্ষ? শুক্লপক্ষ আর কৃষ্ণপক্ষ। অমাবস্যার পর থেকে দিনে দিনে চন্দ্র কলার বৃদ্ধি, শেষে পৌঁছিল পূর্ণিমাতে। এটাই শুক্লপক্ষ। পূর্ণিমার পরের প্রতিপদ থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত কৃষ্ণপক্ষ। শুক্লা একাদশীর নিশিতে নিদ্রাহারা শশীকে একলা বসে স্বপ্নপারাবারের খেয়া চালাতে দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। আবার, গাঙুরের জলে ভেলা-বাওয়া বেহুলার চোখ দিয়ে কৃষ্ণা দ্বাদশীর জ্যোৎস্নায় সোনালি ধানের পাশে অসংখ্য অশ্বত্থ বট সমন্বিত বাংলার অপরূপ রূপ দেখেছিলেন জীবনানন্দ। দুই-ই তুল্য পাখির দুই ডানার মতো। দুয়ে পক্ষ পাখির দুই পক্ষও তো হতে পারত, কিংবা আজকের রাজনীতির প্রেক্ষিতে স্বপক্ষ আর বিপক্ষ -- আমরা ওরা। কিন্তু 'দুয়ে পক্ষ'র পক্ষ এদের থেকে দুটিকে বেছে নিয়ে কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না নিশ্চয়।


 ৩ এ নেত্র
---------
'তিনে নেত্র' উচ্চারণ করে একটু থামতে হয়। নিজের দুই নেত্র বন্ধ করে তৃতীয় নেত্রের হদিশ খুঁজতে হয়। দার্শনিকরা বলেন এই তৃতীয় নেত্র
জ্ঞাননেত্র, যা দিয়ে দেখার অতীত কিছু দেখা যায়। যা দেখে শিল্পী করেন শিল্প সৃষ্টি, জ্ঞানী লাভ করেন পরমার্থ। ত্রিনেত্র হলেন মহাদেব। তাঁর তৃতীয় নয়ন থেকে বর্ষিত হয় কখনও রোষাগ্নি, কখনও করুণা আর দাক্ষিণ্য।
 


৪ এ বেদ
---------
চারে বেদ কিংবা চারে চতুর্বেদ। এর অর্থ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। বেদের অর্থ জ্ঞান। পুরুষানুক্রমে লব্ধ জ্ঞানরাশিকে সূত্র ও সংগতি অনুসারে চার ভাগে বিভক্ত করে কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন সৃষ্টি
করলেন চতুর্বেদ—ঋক্‌, সাম, যজুঃ ও অথর্ব, পৃথিবীর আদিমতম চারটি গ্রন্থ। মহিমান্বিত হলেন বেদব্যাস নামে। 'ব্যাদে সব আছে' বলে বিদ্রূপ করেছিলেন বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা সেইসব অত্যুৎসাহীদের যারা বিশ্বাস করতেন ও প্রচার করতেন যে বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক কোনো আবিষ্কারই নতুন নয়, সবই বেদে উল্লিখিত আছে। বেদে সব নেই, কিন্তু বেদে আছে মানবিক কর্মকাণ্ডকে সংহত করার নির্দেশনা, বিশ্বরহস্য উন্মোচনের প্রথম প্রচেষ্টা আর আত্মোপলব্ধির প্রয়াস। বেদের অঙ্গ হিসাবে উদ্ভূত হয়েছে উপনিষদ ও বেদান্ত, যেখানে মানবপ্রজ্ঞা আরোহণ করেছে চরমতম শিখরে।


 ৫ এ পঞ্চবাণ
---------------
পাঁচে পঞ্চবাণ। এ পঞ্চবাণের অর্থ বা মর্মগ্রহণ শিশুসাধ্য নয়। পঞ্চবাণ বা পঞ্চশর হলেন মদনদেব, কামের অধিষ্ঠাতা দেবতা। তাঁর আয়ুধ
পুষ্পধনু এবং পাঁচটি বাণ—সম্মোহন, উন্মাদন, শোষণ, তাপন ও স্তম্ভন। পর্যায়ক্রমে এগুলির প্রয়োগ জীবকুলের চিত্তে ও দেহে কী প্রভাব ফেলে এদের নামেই তার প্রকাশ। সৃষ্টিরক্ষায় মদনদেব ও তাঁর পঞ্চবাণের ভূমিকা অপরিহার্য। অসুরনিধন কল্পে কুমার কার্তিকেয়র জন্ম সম্ভাবনায় দেবতাকুলকে উদ্যোগী হতে হয়েছিল মদনদেবকে পাঠিয়ে মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ করতে। তার পরিণাম সর্বজনবিদিত। একাধারে ক্রুদ্ধ মহাদেবের রোষানলে মদনভস্ম আর ধ্যানভঙ্গ মহাদেবের অনুরাগে কুমারসম্ভব। মদনের ভস্ম বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছিল বলেই সৃষ্টিতরঙ্গ আজও অব্যাহত। শুধু জৈবিক সৃষ্টি নয়, মানবিক প্রেমভিত্তিক অজস্র সাহিত্যসৃষ্টিও। পাশ্চাত্য পুরাকাহিনিতে মদনদেবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কিউপিড (Cupid)। তাঁরও অস্ত্র পুষ্পধনু, তবে তাঁর তূণে কতগুলি বাণ তা' বলা হয়নি। তীরবিদ্ধ শিকার তাঁকে প্রশ্ন করতেই পারে 'তোমার তূণে আছে আরো কি বাণ'। মদনদেব যুবা, তাঁর পত্নী রতি। কিউপিড কিন্তু অপাপবিদ্ধ বালক। বালকবীরের বেশে বিশ্বজয় করার রাবীন্দ্রিক কল্পনা কিউপিডে মূর্ত, মদনদেবে নয়।


৬ এ ঋতু
---------
ছয়ে ঋতু -গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত। ষড়ঋতুর আবর্তে নিয়ন্ত্রিত আমাদের জীবনযাত্রা। শিশু তাই স্বাভাবিকভাবেই পরিচিত হয়ে ওঠে ঋতুগুলির সাথে।
গ্রীষ্মের পরেই আসে একটানা ঝিরঝিরে বৃষ্টি নিয়ে মেঘলা বিষন্ন হেমন্ত। মেঘ আছে, মেঘের আড়ম্বর নেই। আমাদের বর্ষা শুধু যে অন্ন জুগিয়ে চলেছে তা' নয়, তার ঘনঘটায় অভিভূত হয়েছে কবিচিত্ত—কালিদাস থেকে রবীন্দ্রনাথ। বর্ষার পর শরৎ আসে তার অমল মহিমা নিয়ে - তার সোনা রোদ্দুর, শিউলি ফুল আর ঘাসের আগায় শিশির বিন্দু, মাঠে মাঠে ধান আর 'পারে না বহিতে নদী জলভার'। স্বল্পস্থায়ী হেমন্ত ফসলে ভর্তি মাঠের উপরে সন্ধ্যাবেলায় কুয়াশার আস্তরণ টেনে মনে এঁকে যায় এক স্থায়ী চিত্রপট। পাশ্চাত্য দেশের হেমন্তের মতো গাছের পাতায় রঙের হোলিখেলা চলে না। তবু কবির নজর এড়ায় না 'দেখেছি সবুজ পাতা অঘ্রাণের অন্ধকারে হয়েছে হলুদ'।
 

৭ এ সমুদ্র
---------
সাতে সমুদ্র বললেই শিশুর কল্পনায় ভেসে ওঠে সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর পারের তেপান্তরের মাঠের কথা। সমুদ্র তার চাক্ষুষ দেখা না-থাকলেও

কল্পনা করে নিতে অসুবিধা হয় না সমুদ্র এক অনন্ত বিস্তৃতি জলরাশি। আর একটু বড়ো হয়ে পাঠ্যপুস্তক থেকে সে জানতে পারে পাঁচ মহাসাগরের কথা—অতলান্তিক মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর আর দক্ষিণ মহাসাগর। কিন্তু এই সাতসমুদ্র হল পুরাণে বর্ণিত সাত সমুদ্র—লবণ, ইক্ষুরস, সুরা, ঘৃত, দধি, ক্ষীর ও স্বাদূদক বা মিষ্টিজলের সমুদ্র। এদের ভৌগোলিক দর্শনপ্রাপ্তি সম্ভব নয়। পুরাণে এইসব দেবদুর্লভ সমুদ্রে উপনীত হবার বা সেগুলো ভোগের অধিকার নির্দিষ্ট আছে বিশেষ বিশেষ পুণ্যকর্মের অধিকারীর জন্যে।





 
 ৮ এ অষ্ট বসু
--------------
আটে অষ্ট বসু। কালীপ্রসন্ন সিংহের অনূদিত মহাভারতে পাচ্ছি 'পৃথু ইত্যাদি আট বসু', তাদের মধ্যে আর একটিমাত্র নাম—দ্যু বসু। এঁরা সকলেই দেবতা। 'সংসদ্‌ বাঙ্গালা অভিধান' জানাচ্ছে, এই অষ্টবসু দক্ষ প্রজাপতির কন্যা বসুর আট পুত্র। তাদের নাম—ভব, ধ্রুব, সোম, বিষ্ণু, অনল, অনিল, প্রত্যুষ, প্রভাস (মতান্তরে, প্রভব)।
মহাভারতের আখ্যানমতে পৃথু প্রমুখ অষ্টবসু বশিষ্ঠ মুনির সর্ব সুলক্ষণা গাভী নন্দিনীকে অপহরণ করেছিলেন দ্যু বসুর পত্নীর অভিলাষ পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে। এই পাপের জন্য বশিষ্ঠ তাঁদের মনুষ্য হয়ে জন্মানোর অভিশাপ দিয়েছিলেন। তাঁদের অনুনয়ে বশিষ্ঠ সাতজনের দণ্ড লাঘব করে জন্মের অব্যবহিত পরেই স্বর্গে ফিরে আসার অনুমতি দিয়েছিলেন, শুধু যার জন্যে এই বিপত্তি সেই দ্যু বসুর শাস্তি ধার্য হল যাবজ্জীবন মনুষ্যলোকে কালযাপন। তাঁদের অনুরোধে সুরধুনী গঙ্গা সম্মত হয়েছিলেন নরলোকে এসে তাঁদের গর্ভে ধারণ করতে। শান্তনু-পত্নী হয়ে গঙ্গা সাত সদ্যোজাত পুত্রকে এক এক করে গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। শান্তনুর বাধায় গঙ্গা অষ্টম পুত্রকে ভাসিয়ে দিতে পারেন নি, কিন্তু শান্তনুকে ত্যাগ করে স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এই অষ্টম পুত্রই দ্যু বসু—মানবজন্মে যিনি দেবব্রত, পরবর্তীকালে ভীষ্ম।

৯ এ নব গ্রহ
--------------
নয়ে নবগ্রহ। সূর্যের বা অন্য কোনো নক্ষত্রের চারপাশে পরিক্রমণকারী মহাজাগতিক বস্তুরা হল গ্রহ। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান মতে সূর্যের গ্রহরা হল—বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন আর প্লুটো। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুসারে
'নয়ে নবগ্রহের' ন'টি গ্রহ হল—সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু আর কেতু। বুঝতে অসুবিধা হয় না খালি চোখে দৃশ্যমান সাতটি উজ্জ্বল আকাশদীপ গ্রহ বলে চিহ্নিত হয়েছে, শুধু রাহু কেতু কল্পনানির্ভর। কিন্তু সেই কল্পনারও একটা ভিত্তি আছে। সারা বছরে একাধিকবার গ্রহণ লাগে সূর্যে আর চন্দ্রে। এক কালো ছায়া এসে গ্রাস করে তাদের, কখনও আংশিকভাবে, কখনও সম্পূর্ণভাবে। কী এই কালো ছায়া? তার সূত্র মিলবে সমুদ্রমন্থনের কাহিনিতে। স্বর্গচ্যুতা লক্ষ্মীকে পাতাল থেকে উদ্ধার করার জন্যে সমুদ্রমন্থনের প্রয়োজন হয়েছিল, আর সে-জন্যে দেবতাদের নিতে হয়েছিল অসুরদের সহায়তা। সমুদ্রমন্থনে উঠেছিল অমৃতভাণ্ড, যে অমৃত পান করলে অমর হওয়া যায়। তাই তার দাবিদার সুর অসুর দু-দলই। অনাচারী প্রবল দৈত্যদের অমরত্ব থেকে বঞ্চিত করতে দেবতারা সাহায্যপ্রার্থী হলেন বিষ্ণুর। বিষ্ণু মোহিনীরূপ ধারণ করে অমৃত বন্টন করতে এলেন। কমণ্ডলুর মাঝখানে প্রাচীর দিয়ে একদিকে অমৃত অন্যদিকে দুধ রেখে দুই পঙ্‌ক্তিতে উপবিষ্ট দেব ও অসুরদের মধ্যে অমৃত ও দুধ বন্টন করলেন মোহিনীরূপী বিষ্ণু। রাহু নামের এক চতুর অসুর অমৃতবন্টনে এইরকম বৈষম্যের অনুমান করে ছদ্মবেশে এসে বসেছিল দেবতাদের পঙ্‌ক্তিতে। অমৃতপাত্রে চুমুক দেবার মুহূর্তে সেটা চোখে পড়ে সূর্য আর চন্দ্রের। বিষ্ণুকে সে-সংবাদ দিতেই বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে তার মস্তক ছিন্ন করলেন। অমৃতপানের প্রভাবে মুণ্ড আর ধড় অমর হয়ে আকাশে আবর্তিত হতে লাগল—মুণ্ড রাহু নামেই, আর তার ধড় কেতু। সূর্য আর চন্দ্র তাকে চিহ্নিত করেছিল এই বিদ্বেষে রাহু তাদের পিছনে ধাওয়া করে সর্বদা, আর সুযোগ পেলেই তাদের কামড়ে ধরে বা গিলে ফেলে। কিন্তু তার কাটা মুণ্ড থেকে বেরিয়ে গিয়ে অচিরেই মুক্তি পায় সূর্য আর চন্দ্র।
রাহুর ছিন্ন ধড় কেতু এই নিয়ে মতানৈক্য আছে। অমৃত তো রাহুর গলার নীচে নামেনি, তাহলে তার ধড় অমরত্ব পায় কী ভাবে? তাছাড়া রাহুর গোত্র জৈমিনি, কেতুর গোত্র পৈতিনশ। তাই এই দুই অংশ এক দেহধারীর হতে পারে না। 'ছায়াগ্রহ' বলেও কেতুর উল্লেখ পাওয়া যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুসারে সূর্য ও চন্দ্রের মহাকাশ পরিক্রমণের কক্ষপথ দুটি যে উত্তর দক্ষিণ বিন্দুতে পরস্পরকে অতিক্রম করে যায় সেই দুটি বিন্দুই হল রাহু আর কেতু।

১০ এ দিক
-----------
দশে দিক। দিক তো চারটে - পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর আর দক্ষিণ, খুবই সঙ্গত প্রশ্ন। পূর্বদিকে সূর্য ওঠে, পশ্চিমে অস্ত যায়, শীতে উত্তুরে হাওয়া বয়, গ্রীষ্মে দখিনা। ভারতের ভৌগোলিক সীমানা জানতে বাচ্চাদের পড়তে হয় উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে মায়ানমার ও চীন, আর পশ্চিমে আরব সাগর ও পাকিস্তান। বাকি দিকগুলো লুকালো কোথায়? -- 'আছে, আছে। সেগুলো হল ঈশান, অগ্নি, নৈঋ'ত, বায়ু, ঊর্ধ্ব আর অধঃ।' সে বিস্ময়ে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকায়। অজ্ঞতা কি শুধু তার একার? বড়োরাই কি সবাই বলতে পারবে কোন্‌টা ঈশান, কোন্‌টা নৈঋ'ত? 

অগ্নিকোণ হ'ল দক্ষিণ-পূর্ব কোণ, অগ্নিহোত্রী ব্রাহ্মণদেরও সেটা ভুলে গেলে চলে না। অগ্নিকোণের অধিদেবতা হলেন অগ্নি, যজ্ঞকর্মের অগ্নিকুণ্ডের স্থাপনা করতে হয় যজ্ঞক্ষেত্রের অগ্নিকোণে। নৈঋ'ত হল দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ, যেদিকে আমাদের কেরল মালাবার উপকূল। অবশিষ্ট বায়ু তাহলে অবশ্যই উত্তর-পশ্চিম কোণ। অবিভক্ত ভারতে হাওড়া থেকে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের পেশোয়ার পর্যন্ত বায়ু বেগে বায়ুকোণের দিকে ছুটত বলেই কি ট্রেনটির নাম দেওয়া হয়েছিল 'তুফান মেল'? বাকি রইল ঊর্ধ্ব আর অধঃ। মাথার উপরে আকাশের চাঁদোয়া, আর পায়ের নীচে পৃথিবীর ভূমি যা খুঁড়তে খুঁড়তে রসাতল পাতাল পর্যন্ত পৌঁছানো যায়। মানুষের চিত্তবৃত্তিকে ঊর্ধ্বগামী করাতে হয়, অনবধানে হয় অধঃপতন—রসাতল গমন। উপর-নীচ নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন ভারতবর্ষের প্রাচীন দার্শনিকেরা।

লিখেছেনঃ Prithwish Ghosh
Share:

২৬ আগস্ট ২০১৫

দিব্যজ্ঞান নয় কাণ্ডজ্ঞান চাই

হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে অনন্ত ব্রহ্মজ্ঞ ঋষি, মহাঋষি আবির্ভূত হয়েছেন। তাদের অত্যাশ্চর্য প্রজ্ঞা পৃথিবীকে করে তুলেছে সমৃদ্ধ ও অনাবদ্য। এক ঈশ্বরবাদ, দ্বৈতবাদ, অদ্বৈতবাদ, বস্তুবাদসহ অসংখ্য মতবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হল এত ব্রহ্মজ্ঞান ও দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন ঋষি-মহাঋষি থাকতে কেন আজ হিন্দুদের এত করুন পরিণতি? কেন শত শত বছর ধরে আমরা অত্যাচারিত, নিপীড়িত হয়ে আসছি? কেন এত ঋষি-মহাঋষি, সাধুসন্ত,ব্ রহ্মজ্ঞানী, ত্রিকালজ্ঞ, সর্বজ্ঞানী, গুরু মহারাজদের জ্ঞান সাধনা আমাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে?

কারণ এসব সাধুসন্ত, গুরু মহারাজদের দিব্যজ্ঞান ছিল প্রখর সুউচ্চ। কিন্তু তারা তাদের শিষ্য পরম্পরায় একটি বিশেষ ধরণের জ্ঞানেরর সঞ্চার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা হলো কাণ্ডজ্ঞান। যা কিনা জগতের রূড় বাস্তবতার মুখোমুখি করে পৃথিবীতে মানুষের মাথা উঁচু করে বাচবার মত জ্ঞান ও শক্তি জোগায়।

আজকাল হিন্দুদের মধ্যে দেখছি দুইটি শব্দ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আর তা হল মানবতা ও সর্বধর্ম সমন্বয়। মানবতার জোয়ারে গা ভাসাতে ভাসাতে যে এদের সব কিছু ভেসে যাচ্ছে সেদিকে এদের খেয়ালই নেই।

একজন মুসলিমকে যদি প্রশ্ন করা হয় তোমার ধর্ম কি? সে সাথে সাথে উত্তর দেবে ইসলাম। একজন খৃষ্টান বা বৌদ্ধকে প্রশ্ন করলে তারাও যথারীতি নিজেকে খৃষ্টান বা বৌদ্ধ বলে পরিচয় দেবে। কিন্তু একজন হিন্দুকে যদি বলা হয় তোমার ধর্ম কি? সে উত্তর দেবে তার ধর্ম মানবতা। নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দিতে এদের লজ্জা হয়। কারণ এরা দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে। হিন্দুদের সম্পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে কোন ধারণায় এদের নেই।

পৃথিবীতে কেউ সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেনা। শুধু হিন্দুরা বলে। কিন্তু সেটা বলতে গেলেও যে আগে ভূমির দরকার, হিন্দু জনসংখ্যার দরকার এই কাণ্ডজ্ঞানটুকুও এদের নেই । বাস্তবতাবর্জিত দিব্যভাব, দূরিয় ভাব, দাঁড়িয়ে গেছে ভণ্ডামি,মিথ্যাচার আর আত্মপ্রবঞ্চনায়। এই ভাবের ঘরের লুকোচুরি গোটা হিন্দু জাতটাকে মেরুদণ্ডহীন, আত্মরক্ষায় অসমর্থ করে দিয়েছে। তাই অতীতে, বর্তমানে শুধু দেখি হিন্দু মার খায়, কাঁদে, পালায়, ধর্মান্তরিত হয়। একটি জাতের যদি আত্মরক্ষার শক্তিই না থাকে তার উচ্চ দর্শন সহস্র মহাপুরুষ থেকেই বা কি লাভ? এই রকম দুর্বল জাতকে কেউ শ্রদ্ধা করেনা, করুণা করে। এখন হিন্দুদের কেউ করুণাও করেনা, শিকার বলে মনে করে। সব শিকারীর লক্ষ্য এখন হিন্দু সমাজ।

আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ননীচোরা, বস্ত্রহরণকারী, রাধারমন, বংশীবাদক প্রেমিক করে রেখেছি। অথচ তিনি যে সুদর্শনচক্র হাতে সমগ্র পৃথিবীতে ধর্মের স্হাপনা করেছিলেন সে কথাটা ভুলেই গেছি।

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আামাদের হরিনাম করতে বললেন। আমরা হরিনামে মেতে গেলাম। তিনি বললেন "সঙ্ঘ শক্তি কলৌঃ যুগে।" কলি যুগে সঙ্ঘ শক্তি ছাড়া বাঁচা যাবে না। সে কথাটা সযত্নে বাদ দিলাম।

আমাদের এমন কোন দেবতা নেই যার হাতে অস্ত্র নেই। অথচ হিন্দু বাড়িতে ঘরভর্তি ঠাকুর দেবতা আছে,কিন্তু আত্মরক্ষার জন্য একগোছা লাঠি নেই।

এভাবে চললে কত দিনই বা সময় লাগবে হিন্দু বিলুপ্ত হওয়ার? তাই এখনো সময় আছে আসুন সংগঠিত হই, ঐক্যবদ্ধ হই। নতুবা আফসোস করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।

Courtesy by: ঘুমন্ত সনাতনের উত্থান
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।