সাধু - মনীষীবৃন্দ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাধু - মনীষীবৃন্দ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
০২ এপ্রিল ২০২০
মহান সাধক মহর্ষি বালানন্দ ব্রহ্মচারী
ভারত ত্যাগী সাধু সন্তদের দেশ। এখানে সাধুরাই মানুষকে মুক্তির পথ দেখান। এমনই একজন মহান সাধক হলেন মহর্ষি বালানন্দ ব্রহ্মচারী। উজ্জয়নীতে আবির্ভাব হয়েছিলেন এই সাধকের। অল্পকালে পিতার প্রয়ান এর পর মা নর্মদাবাঈ ছেলেকে খুব কষ্টে বড় করেন। ব্রহ্মচারীজির পূর্ব নাম পীতাম্বর । ছোট থেকেই বালকের মন উদাসী- সংসারের প্রতি নিঃস্পৃহ। শিপ্রা নদীর তীরে মন্দির আর সাধুদের সঙ্গ লাভেই বালক আনন্দে থাকতো। মা খুবুই চিন্তিত ছিলেন। ব্রহ্মচারীজির একাধিক গুরু ছিলেন। প্রথম গুরু যোগী ব্রহ্মানন্দ। দীক্ষা প্রাপ্তির পর সাধন ভজনে ব্রহ্মচারীজির দিন কাটতে থাকে। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লে অনেক সাধু সন্ন্যাসী তাঁর সাথে দর্শন লাভ করতে আসতেন । ব্রহ্মানন্দ মহারাজ তাঁর সন্ন্যাস নামকরণ করেন “বালানন্দ ব্রহ্মচারী”। এরপর তিঁনি তৎকালীন নামকরা সাধক গৌরীশঙ্কর মহারাজের কাছে শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। হিমাচল প্রদেশের কাংরা তে সেই সময়ের আর একজন সাধক গোমতীস্বামীর সাথে এই সময় বালানন্দ ব্রহ্মচারীর সাক্ষাৎ ও শাস্ত্র আলোচনা হয় । একবার ব্রহ্মচারীজী কামাখ্যা গিয়ে কলেরা তে আক্রান্ত হন। মরণাপন্ন সময়ে তিঁনি দেবীর দর্শন লাভ করেন। দেবীর কৃপায় সুস্থ হন । নর্মদা পরিভ্রমণ কালে তিঁনি সেখানে বিখ্যাত যোগী মার্কণ্ডের নিকট যোগশিক্ষা লাভ করেছিলেন ।
এরপর কাশীর দশাশ্বমেধ ঘাটের ধ্রুবেশ্বর মঠের অধ্যক্ষ দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী স্বামী রামগিরি মহারাজকে গুরুরূপে পেয়ে সেখানে বেদান্ত শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন ও বেদান্তে জ্ঞানলাভ করেন । যোগী শ্রীশ্যামাচরণ লাহিরী মহাশয়ের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিঁনি বাংলাতে নবদ্বীপ ও রানাঘাটে এসেছিলেন। রানাঘাটের তৎকালীন মহাকুমা শাসক রামচরণ বসুকে এক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন। বৈদ্যনাথ ধামে তাঁর একটি আশ্রম হয়। ব্রহ্মচারীজী ভগবান শিবের উপাসক ছিলেন। একসময় সন্তানহারানো ব্রহ্মচারীজির মা দুঃখে একটি শিবমন্দিরে গিয়ে ভগবানের কাছে অন্তরের কষ্ট নিবেদন করছিলেন। সে সময় দৈববানী হয় বৈদ্যনাথে যেতে। নর্মদা বাঈ বৈদ্যনাথে গিয়ে পুত্রকে দেখেন। শেষ জীবন তিঁনি বৈদ্যনাথ ধামে সাধন ভজনে কাটিয়ে দেন ।
বালানন্দ ব্রহ্মচারী তপসিদ্ধ যোগী ছিলেন। বহু লোকের কষ্ট উপশম নিবারণ করেছিলেন। ভক্তেরা তাঁর কাছে যেতো। অনেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণও পেয়েছিলেন। আজ বালানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের আবির্ভাব তিথি। জন্মতিথিতে প্রণাম জানাই।
বালানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের কিছু উপদেশঃ-
অহং বোধ পরিত্যাগ কর । নিজের অহং বোধটির স্থলে স্থাপিত করতে হবে ভগবানকে। নিজেকে মালিক মনে না করে মনে করতে হবে ম্যানেজার ।
সাধুর নিকট নিঃস্বার্থ মুমুক্ষু ভক্ত খুব বেশী আসে না। স্বার্থসিদ্ধির জন্যে যারা আসে তারা টেকে না। স্বার্থসিদ্ধি হলে ভাবে কাজ তো মিটে গেল, আর এখানে আসবার দরকার কি । স্বার্থ না মিটলে ভাবে, লাভ যখন কিছু হল না তখন এখানে এসে আর কি হবে ? এই জন্যই নিঃস্বার্থ , ধর্মপিপাসু কেউ এলে আমি খুশী হই । মন আনন্দে ভরে ওঠে । বুঝতে পারি এরা টিকবে , আমার উপদেশ এরা হেলায় নষ্ট করবে না ।
সাধু বলে তাঁকেই জানবে যিনি কাউকে দুঃখ দেন না। সংসাররূপ এই বাগানে তিনি ঘুরে বেড়ান, কিন্তু তার একটি পাতা ফুল তিনি ছেঁড়েন না।
সবকিছুই ভগবানের। তাই স্বয়ং ভগবানকেই যখন ভক্ত নিজের করে নেয়, তখন আর বাকী থাকে কী ? ঈশ্বরকে পাওয়ার সাথে সাথে সব পাওয়া হয়ে যায় ।
জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কর্তব্য কর্মে রত থাকবে। বিষয়ে অনাসক্ত থেকে সর্বদা ভগবদ চিন্তায় মনকে যুক্ত রাখার অভ্যাস করতে হয় ।
যে নিজেকে ভগবৎ সমীপে উৎসর্গ করে, সে সন্তোষের সঙ্গে রোগ- শোক সব ভোগ করে যায়, তার মানসিক বিকার হয় না, সমত্ববোধ হানি হয় না ।
যতদিন হৃদয় আসন স্বচ্ছ ও নির্মল না হবে- ভগবান ততদিন আসা যাওয়া করবেন- কিন্তু বসবেন না। কারণ ভগবান ময়লা আসনে বসেন না।
২৫ অক্টোবর ২০১৭
বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
♣১১৩৭ বঙ্গাব্দ বা ইংরেজী ১৭৩০ খ্রীষ্টাব্দের কথা, তৎকালীন যশোহর জেলা আর বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমা- এর চৌরশী চাকলা নামক গ্রামে শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ছিল রামনারায়ন এবং মায়ের নাম কমলা দেবী। বাবা ছিলেন একজন ধার্মীক ব্রাহ্মণ।
♣ বাবা মায়ের চতুর্থ সন্তান ছিলেন লোকনাথ বাবা। সেই সময়কার মানুষের ধ্যান ধারণা ছিল কোন এক পুত্রকে যদি সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করানো যায় তাহলে তার বংশ উদ্ধার হয়। সে জন্য রামনারায়ন তার প্রথম সন্তান থেকেই চেষ্টা করেছিলো প্রতিটি সন্তানকে সন্যাসী বানানোর জন্য। কিন্তু স্ত্রীর জন্য পারিনি। তবে চতুর্থ সন্তনের বেলায় আর সেটা হইনি। এ জন্য শ্রীরামনারায়ন লোকনাথকে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করানো জন্য ১১ বছরে উপনয়নের কার্য সমাপ্ত করে পাশ্ববর্তী গ্রামের জ্যোর্তিময় দেহধারী ভগবান গাঙ্গুলীর হাতে তুলে দেন। এ সময় লোকনাথের সঙ্গী হন তারই বাল্যবন্ধু বেনীমাধব। লোকনাথের নাম দিয়েছিলেন ভগবান গাঙ্গুলী নিজেই।
♣ উপনয়ন শেষে লোকনাথ, বেনীমাধব ও ভগবান গাঙ্গুলী পদযাত্রা শুরু করেন। বিভিন্ন গ্রাম শহর নদ-নদী জঙ্গল অতিক্রম করে প্রথমে কালীঘাটে এসে যোগ সাধনা শুরু করেন। এই রূপে গুরুর আদেশে বিভিন্ন স্থানে যোগ সাধনা ও ব্রত করে শেষ পর্যন্ত লোকনাথ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেন। তারপর শুরু হয় দেশ ভ্রমন। প্রথমে হিমালয় থেকে কাবুল দেশে আসেন। সেখানে মোল্লা সাদী নামে এক মুসলমানের সঙ্গে কোরান, বেদসহ বিভিন্ন শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করে ইসলামধর্মের তত্ত্বজ্ঞান লাভ করেন। এবার গুরুকে বাদ দিয়ে তাঁরা দুজনে পদযাত্রায় আবার দেশ ভ্রমন শুরু করেন। প্রথমে আফগানিস্থান, পারস্য, আরব, মক্কা-মদিনা, মক্কেশ্বর তীর্থস্থান, তুরস্ক, ইতালী, গ্রীস, সুইজার- ল্যান্ড, ফ্রান্স, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করিয়া দেশে ফিরে আসেন এবং পরে দেশের ভিতর হরিদ্বার, হিমালয় তীর্থ, বদ্রীনাথ, সুমেরু পর্বত, কাশিধাম ও কাবুল পরিদর্শন করেন। দিনে দিনে গুরুর বয়স একশত বছর ও শিষ্যদের বয়স পঞ্চাশ বছর হলো। গুরুদেব ভগবান গাঙ্গুলী শিষ্য দুজনকে শ্রী তৈলঙ্গস্বামীর (হিতলাল নামে যিনি পরিচিত) হাতে তুলে দিয়ে পরলোক গমন করেন। এবার লোকনাথ ও বেনীমাধব সুমেরু থেকে চন্দ্রনাথ পর্বতে আসেন। সেখান থেকে লোকনাথ ও বেনীমাধব বিভক্ত হয়ে যান। বেনীমাধবের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে লোকনাথ একা একা চলে আসেন কামাখ্যা হয়ে ত্রিপুরা জেলার দাউদকান্দি গ্রামে। সেখানে কোন এক সুভক্ষণে দেখা হয় ডেঙ্গু কর্মকারের সঙ্গে। ডেঙ্গু কর্মকারের বাড়ি কিছু দিন অবস্থান করার পর তারই সঙ্গে নারায়নগঞ্জের বারদীতে আসেন।
♣ বারদীর জমিদার নাগ মহাশয় বাবার কথা শুনে বাবার থাকার জন্য জমি দান করেন এবং বাবা নিজ পছন্দের জমিতে মহা ধুম-ধামের সাথে আশ্রম স্থাপন করেন। বাবার আশ্রমের কথা শুনে দেশ-দেশন্তার হতে বহু ভক্তগন এসে ভিড় জমাতে থাকেন। ভক্তগনের মনের অভিব্যাক্তি “তারা বাবার কাছে যাই চায় তাই পায়। এ ভাবে একটু সময়ের ব্যাবধানেই বাবার আশ্রম তীর্থভূমিতে পরিণত হয়। কোন এক সময় ভাওয়ালের মহারাজ বাবার অনুমতি নিয়ে বাবার ফটো তুলে রাখেন। যে ফটো বর্তমান ঘরে ঘরে পূজিত হয়। এ ভাবে ঘনিয়ে আসে বাবার মহাপ্রয়ানের দিন।
♣ সে দিন ছিল ১৯শে জৈষ্ঠ, রবিবার বাবা নিজেই বললেন তার প্রয়ানের কথা। এ কথা শুনে বহু নর-নারী এলো বাবাকে শেষ দর্শন করার জন্য। বাবার শেষ বাল্যভোগ নিয়ে আসেন আশ্রম মাতা। বাল্যভোগ প্রসাদে পরিণত হওয়ার পর ভক্তগন মহাআনন্দের সথে তা ভক্ষণ করিল। প্রসাদ ভক্ষণ হওয়ার পর বাবা মহাযোগে বসেন। সবাই নির্বাক অবাক হয়ে অশ্র“ সজল চোখে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন বাবার দিকে কখন বাবার মহাযোগ ভাঙ্গবে। কিন্তু বাবার ঐ মহাযোগ আর কখনও ভাঙ্গেনি। শেষ পর্যন্ত ১১. ৪৫ মিনিটে দেহ স্পর্শ করা হলে দেহ মাটিতে পড়ে যায়। ভক্তগণ কাঁদতে থাকে উচ্চস্বরে এবং বাবার শরীর মন্দির থেকে তুলে এনে বিল্বতলে রাখা হয়। দেহ সৎকারের জন্য আনা হয় থরে থরে ঘৃত ও চন্দন। বাবার কথা মতে (পূর্বের) বাবার দেহ আশ্রমের পাশে চিতায় রেখে দাহকৃত সমাপ্ত হয়। এই ধরাধাম থেকে চলে গেলেন লোকনাথ বাবা। কিন্তু রেখে গেলেন বাবার পূর্ণ স্মৃতি। আর রেখে গেলেন বাবার অমর বাণী।
‘‘ রণে বনে জলে জঙ্গলে
যখনই বিপদে পড়িবে
আমাকে স্মরণ করিও
আমিই রক্ষা করিব ’’।
☀পরম পুরুষ বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী তাঁর ভক্তদের জন্য যেসব অমৃত বাণী দিয়ে গেছেন সেগুলো অমূল্য রত্ন বিশেষ। তাঁর এ অমৃত বাণী সংসারক্লিষ্ট মানুষের মনে শান্তি ও স্বস্তি আনবে, এই আশা নিয়েই সকলের জন্য তাঁর অসংখ্য অমৃত বাণী থেকে কিছু বাণী এখানে সংকলিত হলোঃ
★ প্রত্যক্ষেই হোক্ আর পরোক্ষেই হোক্ বাক্য -মন-ইঙ্গিত দ্বারা কারও নিন্দা করা উচিত নয়।
★ নিজেকে বড় না করে তাঁকে বড় কর, নিজে কর্তা না সেজে তাঁকে কর্তা জ্ঞান করার চেষ্টা কর, তাহলেই ত্যাগ আসবে।
★ যে কারনে মোহ আসে, তা যদি জানা থাকে, আসতে না দিলেই হয়।
★ বাক্যবাণ ,বন্ধু -বিচ্ছেদবাণ এবং বিত্ত-বিচ্ছেদবাণ এই তিনটি বাণ সহ্য করতে পারলে মৃত্যুকে জয় করা যায়।
★ আমার দান ছড়ানো পড়ে আছে,কুড়িয়ে নিতে পারলেই হলো।
★ অন্ধ সমাজ চোখ থাকতে ও অন্ধের মতো চলছে।
★ যা মনে আসে তাই করবি, কিন্তুু বিচার করবি।
এবং ত্রোধ ভাল, কিন্তুু ত্রোধান্ধ হওয়া ভাল নয়।
ভালা লাগলে শেয়ার করবেন।
জয় গুরু দেব
দেব ঈশ্বর মহাদেব
জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জয়।
Courtesy by: Akash Baidya
♣ বাবা মায়ের চতুর্থ সন্তান ছিলেন লোকনাথ বাবা। সেই সময়কার মানুষের ধ্যান ধারণা ছিল কোন এক পুত্রকে যদি সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করানো যায় তাহলে তার বংশ উদ্ধার হয়। সে জন্য রামনারায়ন তার প্রথম সন্তান থেকেই চেষ্টা করেছিলো প্রতিটি সন্তানকে সন্যাসী বানানোর জন্য। কিন্তু স্ত্রীর জন্য পারিনি। তবে চতুর্থ সন্তনের বেলায় আর সেটা হইনি। এ জন্য শ্রীরামনারায়ন লোকনাথকে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করানো জন্য ১১ বছরে উপনয়নের কার্য সমাপ্ত করে পাশ্ববর্তী গ্রামের জ্যোর্তিময় দেহধারী ভগবান গাঙ্গুলীর হাতে তুলে দেন। এ সময় লোকনাথের সঙ্গী হন তারই বাল্যবন্ধু বেনীমাধব। লোকনাথের নাম দিয়েছিলেন ভগবান গাঙ্গুলী নিজেই।♣ উপনয়ন শেষে লোকনাথ, বেনীমাধব ও ভগবান গাঙ্গুলী পদযাত্রা শুরু করেন। বিভিন্ন গ্রাম শহর নদ-নদী জঙ্গল অতিক্রম করে প্রথমে কালীঘাটে এসে যোগ সাধনা শুরু করেন। এই রূপে গুরুর আদেশে বিভিন্ন স্থানে যোগ সাধনা ও ব্রত করে শেষ পর্যন্ত লোকনাথ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেন। তারপর শুরু হয় দেশ ভ্রমন। প্রথমে হিমালয় থেকে কাবুল দেশে আসেন। সেখানে মোল্লা সাদী নামে এক মুসলমানের সঙ্গে কোরান, বেদসহ বিভিন্ন শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করে ইসলামধর্মের তত্ত্বজ্ঞান লাভ করেন। এবার গুরুকে বাদ দিয়ে তাঁরা দুজনে পদযাত্রায় আবার দেশ ভ্রমন শুরু করেন। প্রথমে আফগানিস্থান, পারস্য, আরব, মক্কা-মদিনা, মক্কেশ্বর তীর্থস্থান, তুরস্ক, ইতালী, গ্রীস, সুইজার- ল্যান্ড, ফ্রান্স, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করিয়া দেশে ফিরে আসেন এবং পরে দেশের ভিতর হরিদ্বার, হিমালয় তীর্থ, বদ্রীনাথ, সুমেরু পর্বত, কাশিধাম ও কাবুল পরিদর্শন করেন। দিনে দিনে গুরুর বয়স একশত বছর ও শিষ্যদের বয়স পঞ্চাশ বছর হলো। গুরুদেব ভগবান গাঙ্গুলী শিষ্য দুজনকে শ্রী তৈলঙ্গস্বামীর (হিতলাল নামে যিনি পরিচিত) হাতে তুলে দিয়ে পরলোক গমন করেন। এবার লোকনাথ ও বেনীমাধব সুমেরু থেকে চন্দ্রনাথ পর্বতে আসেন। সেখান থেকে লোকনাথ ও বেনীমাধব বিভক্ত হয়ে যান। বেনীমাধবের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে লোকনাথ একা একা চলে আসেন কামাখ্যা হয়ে ত্রিপুরা জেলার দাউদকান্দি গ্রামে। সেখানে কোন এক সুভক্ষণে দেখা হয় ডেঙ্গু কর্মকারের সঙ্গে। ডেঙ্গু কর্মকারের বাড়ি কিছু দিন অবস্থান করার পর তারই সঙ্গে নারায়নগঞ্জের বারদীতে আসেন।
♣ বারদীর জমিদার নাগ মহাশয় বাবার কথা শুনে বাবার থাকার জন্য জমি দান করেন এবং বাবা নিজ পছন্দের জমিতে মহা ধুম-ধামের সাথে আশ্রম স্থাপন করেন। বাবার আশ্রমের কথা শুনে দেশ-দেশন্তার হতে বহু ভক্তগন এসে ভিড় জমাতে থাকেন। ভক্তগনের মনের অভিব্যাক্তি “তারা বাবার কাছে যাই চায় তাই পায়। এ ভাবে একটু সময়ের ব্যাবধানেই বাবার আশ্রম তীর্থভূমিতে পরিণত হয়। কোন এক সময় ভাওয়ালের মহারাজ বাবার অনুমতি নিয়ে বাবার ফটো তুলে রাখেন। যে ফটো বর্তমান ঘরে ঘরে পূজিত হয়। এ ভাবে ঘনিয়ে আসে বাবার মহাপ্রয়ানের দিন।
♣ সে দিন ছিল ১৯শে জৈষ্ঠ, রবিবার বাবা নিজেই বললেন তার প্রয়ানের কথা। এ কথা শুনে বহু নর-নারী এলো বাবাকে শেষ দর্শন করার জন্য। বাবার শেষ বাল্যভোগ নিয়ে আসেন আশ্রম মাতা। বাল্যভোগ প্রসাদে পরিণত হওয়ার পর ভক্তগন মহাআনন্দের সথে তা ভক্ষণ করিল। প্রসাদ ভক্ষণ হওয়ার পর বাবা মহাযোগে বসেন। সবাই নির্বাক অবাক হয়ে অশ্র“ সজল চোখে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন বাবার দিকে কখন বাবার মহাযোগ ভাঙ্গবে। কিন্তু বাবার ঐ মহাযোগ আর কখনও ভাঙ্গেনি। শেষ পর্যন্ত ১১. ৪৫ মিনিটে দেহ স্পর্শ করা হলে দেহ মাটিতে পড়ে যায়। ভক্তগণ কাঁদতে থাকে উচ্চস্বরে এবং বাবার শরীর মন্দির থেকে তুলে এনে বিল্বতলে রাখা হয়। দেহ সৎকারের জন্য আনা হয় থরে থরে ঘৃত ও চন্দন। বাবার কথা মতে (পূর্বের) বাবার দেহ আশ্রমের পাশে চিতায় রেখে দাহকৃত সমাপ্ত হয়। এই ধরাধাম থেকে চলে গেলেন লোকনাথ বাবা। কিন্তু রেখে গেলেন বাবার পূর্ণ স্মৃতি। আর রেখে গেলেন বাবার অমর বাণী।
‘‘ রণে বনে জলে জঙ্গলে
যখনই বিপদে পড়িবে
আমাকে স্মরণ করিও
আমিই রক্ষা করিব ’’।
☀পরম পুরুষ বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী তাঁর ভক্তদের জন্য যেসব অমৃত বাণী দিয়ে গেছেন সেগুলো অমূল্য রত্ন বিশেষ। তাঁর এ অমৃত বাণী সংসারক্লিষ্ট মানুষের মনে শান্তি ও স্বস্তি আনবে, এই আশা নিয়েই সকলের জন্য তাঁর অসংখ্য অমৃত বাণী থেকে কিছু বাণী এখানে সংকলিত হলোঃ
★ প্রত্যক্ষেই হোক্ আর পরোক্ষেই হোক্ বাক্য -মন-ইঙ্গিত দ্বারা কারও নিন্দা করা উচিত নয়।
★ নিজেকে বড় না করে তাঁকে বড় কর, নিজে কর্তা না সেজে তাঁকে কর্তা জ্ঞান করার চেষ্টা কর, তাহলেই ত্যাগ আসবে।
★ যে কারনে মোহ আসে, তা যদি জানা থাকে, আসতে না দিলেই হয়।
★ বাক্যবাণ ,বন্ধু -বিচ্ছেদবাণ এবং বিত্ত-বিচ্ছেদবাণ এই তিনটি বাণ সহ্য করতে পারলে মৃত্যুকে জয় করা যায়।
★ আমার দান ছড়ানো পড়ে আছে,কুড়িয়ে নিতে পারলেই হলো।
★ অন্ধ সমাজ চোখ থাকতে ও অন্ধের মতো চলছে।
★ যা মনে আসে তাই করবি, কিন্তুু বিচার করবি।
এবং ত্রোধ ভাল, কিন্তুু ত্রোধান্ধ হওয়া ভাল নয়।
ভালা লাগলে শেয়ার করবেন।
জয় গুরু দেব
দেব ঈশ্বর মহাদেব
জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জয়।
Courtesy by: Akash Baidya










