• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

বর্ন ভেদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বর্ন ভেদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০৬ এপ্রিল ২০২১

কর্ম ও গুনভেদে কেউ ব্রাহ্মন, কেউ ক্ষত্রিয়, কেউ বৈশ্য, কেউ শুদ্র। তাদের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয়।

 "শূদ্র" শব্দটি বেদে দেখা গেছে প্রায় ২০ বারের মতো। কোথাও এটি অবমাননাকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথাও বলা হয়নি শূদ্রেরা হলো অস্পর্শযোগ্য, জন্মগতভাবে এই অবস্থাণে, বেদ শিক্ষা হতে অনুনোমোদিত, অন্যান্য বর্ণের তুলনায় নিম্ন অবস্থাণের, যজ্ঞে অনুনোমোদিত ইত্যাদি।

বেদে বলা হয়েছে শূদ্র বলতে বোঝায় কঠিন পরিশ্রমী ব্যক্তি। (তপসে শূদ্রম্‌ - যজুর্বেদ ৩০.৫) একারণেই পুরুষ সুক্ত এদের ঘোষনা দিয়েছে মানব সভ্যতার কাঠামো হিসেবে।

* ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রাহ্মন এবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রাহ্মনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝার জন্য।

8 ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিত হন। (ঐতরেয়া ব্রহ্ম ২.১৯)

* সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজনব্রাহ্মণ হন।

* নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৩)

* ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.২.২) তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ ৯.২.২৩)

* হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৩.৫)

* শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৮.১) এমনকি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

* মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন।

* রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

* ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।

* ঋষি বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।

* বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।

পবিত্র বেদ ঘোষনা করেছে সাম্যের বানী ---

"অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাস

এতে সং ভ্রাতারো তাবৃধুঃ সৌভগায়

যুবা পিতা স্বপা রুদ্র

এযাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ ॥"  --  (ঋগবেদ ৫.৬০.৫)

বঙ্গানুবাদ --- "কর্ম ও গুনভেদে কেউ ব্রাহ্মন, কেউ ক্ষত্রিয়, কেউ বৈশ্য, কেউ শুদ্র। তাদের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয়। ইহারা ভাই ভাই । সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে। ইহাদের পিতা তরুন শুভকর্ম ঈশ্বর এবং জননীরুপ প্রকৃতি।পুরুষার্থী সন্তানই সৌভাগ্য প্রাপ্ত হন।"

তাহলে দেখুন,কি ভূলটাই না করে চলেছি আমরা!


লিখেছেনঃ Prithwish Ghosh

Share:

১৭ নভেম্বর ২০১৭

স্বামী প্রণবানন্দ ব্রহ্মচারীর বীরভাবাপন্ন নমশূদ্র শ্রেনীকে বিরাট হিন্দুসমাজের সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে দেন ।

নমশূদ্র সমাজ উচ্চবর্ণের হিন্দুর নিকট অবহেলিত , ঘৃণিত উপেক্ষিত । এরা ছিল অত্যন্ত সাহসী ও বীরভাবাপন্ন । চাষবাসে দক্ষ, লাঠি , ঢাল, সড়কী খেলায় ওস্তাদ । স্বামী প্রণবানন্দ ব্রহ্মচারী সেই নমশূদ্র শ্রেনীকে বিরাট হিন্দুসমাজের সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে তাদেরকে আমন্ত্রণ করে নানাভাবে উৎসাহিত করতে লাগলেন। সর্বসাধারণের সহিত এক লাইনে বসিয়ে খাওয়ানো, যাত্রাগান শিক্ষা, কৃষ্ণলীলা , বিভিন্ন পৌরাণিক যাত্রার বই তাদের মধ্যে প্রচলণ করে তাদেরকে হিন্দুভাবে অনুপ্রাণিত করতে লাগলেন । নৌকা বাওয়া, ঢাল সড়কী খেলার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের মধ্যে বীরত্বের ভাব জাগিয়ে তুলতে লাগলেন । সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারীগণকে তাদের বাড়ী পাঠাতেন । ব্রহ্মচারী দিগদের মধ্যে কেহ কেহ পূর্ব সংস্কার বশত আপত্তির সুরে বলতেন যে, “নমশূদ্রদের বাড়িতে কি যাওয়া যায় ? ওখানে কি খাওয়া যায় ? কি করে রুচী হবে ইত্যাদি।”

তখন পতিত পাবন শ্রীঠাকুর কম্বুকণ্ঠে গর্জন করে উঠতেন। বলতেন- “কেন ওরা কি মানুষ না ? ওরা কি কারো থেকে পরিষ্কার কম থাকে ? উচ্চবর্ণের হিন্দু থেকেও সর্ববিষয়ে নিষ্ঠা সম্পন্ন ওরা । আমি নিজে ওদের হাতে খাই । ওদের ঘৃণা করবার কি আছে ? এত বড় একটা নমশূদ্র সমাজকে আমরা এই হিন্দুসমাজ থেকে বাদ দিয়ে চলব ? এ আমাদের সমাজের মহাপাপ । এতবড় একটা ক্ষত্রিয় জাতিকে বাদ দিয়ে হিন্দুসমাজ দাঁড়াবে কোথায় ? মানুষ মানুষকে ঘৃণা করবার কি আছে ? বড় যে, সে যদি ছোটকে তার দোষ ত্রুটি উপেক্ষা করে তাকে সৎ আচার বিচার শিক্ষা দিয়ে উঠিয়ে নিতে না পারল তবে বড়র মহত্ত্ব কোথায় ? শুধু বড় বলিলেই কি সে বড় হয়ে যায় ? তার গুণ থাকা চাই। আমি কি কাহাকেও ভুল পথ দেখাতে পারি ? আমি আজ যে পথ দেখাচ্ছি তাই-ই অভ্রান্ত পথ । সময় হইলে তখন নিজেরা বুঝবে, ভবিষ্যতে গুরুতর বিপদ আসছে। যার জ্ঞান আছে সে বুঝবে।”

শ্রীশ্রী আচার্যদেবের দর্শনে এসে নমশূদ্র সর্দারগণ তাঁকে প্রণাম করলে তিনি তাদের সকলকে বসতে আদেশ করলেন । এত স্নেহ, ভালোবাসা, এমন প্রাণ জুড়ানো মধুর বাণী তারা যেন কোথাও পায়নি । শুধু উচ্চবর্ণের হিন্দুর কাছে কেন, এমন আদর দরদ তারা জীবনে কখনও অনুভব করেনি কোথাও । তখন লীগ মন্ত্রীসভার শাসন । সবদিক দিয়ে হিন্দুরা কোণঠাসা । যুক্তবাংলার সেদিন সর্বত্র হিন্দুরা নির্যাতিত। লীগ নমশূদ্র নেতাকে মন্ত্রীসভায় এনে নমশূদ্র সম্প্রদায়ের মনোবল আকর্ষণ করিতেছে । পতিতপাবন শ্রীঠাকুর সেদিন হিন্দুসমাজকে এই ঘোরতর বিপদ হতে উদ্ধার করলেন। উচ্চবর্ণের মধ্যে একসময় রব উঠেছিল যে “আচার্য স্বামী প্রণবানন্দজী উচ্চবর্ণের হিন্দু ও নমশূদ্রদের একত্রে বসিয়ে জাতিচ্যুত করেছেন।” পরে যখন উচ্চবর্ণের হিন্দুরা তাঁর আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও ভাব বুঝতে পারল তখন সেই ক্ষণিকের গুঞ্জন ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল ।

( শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাবমধুর লীলাপ্রসঙ্গ- স্বামী অরূপানন্দ )
Share:

২৫ আগস্ট ২০১৭

বর্ণ, সঙ্করবর্ণ ও বিবাহ


ভগবান শ্রীগীতায় বলেছেন, "আমি গুণ ও কর্মানুসারে চারি বর্ণের সৃষ্টি করেছি।" এই চারবর্ণ হলো ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র। ব্রাহ্মণের স্বভাবজ কর্ম হলো, শম, দম, তপঃ, শৌচ, ক্ষান্তি, আর্জ্জব, ঞ্জান, বিঞ্জান ও আস্তিক্যবুদ্ধি। যা সত্ত্বেও গুণময়। সত্বগুণের গৌনাধিকারে ও রজোগুণের মুখ্যাধিকারে সৃষ্ট জীব ক্ষত্রিয়। এদের কর্ম শৌর্য, তেজ, ধৃতি, দাক্ষ্য, অপলায়ন, দান ও ঈশ্বর ভাব। তমোগুণের গৌনাধিকার ও রজোগুণের মুখ্যাধিকারে সৃষ্ট জীব বৈশ্য। এদের কর্ম কৃষি, গোরক্ষা ও বানিজ্য। পরিশেষে তমোগুণের মুখ্যাধিকারে সৃষ্ট জীব হয় শূদ্র। এদের কাজ সেবা করা। তাই বলে শূদ্র ব্রাহ্মণাদির ক্রীতদাস নয়। জ্যেষ্ঠ কনিষ্ঠের সম্পর্কের মতোই।

ঋগ্বেদ-সংহিতায় একটি বিশিষ্ট মন্ত্রে বলা হয়েছে যে পরম পুরুষের মুখ হতে ব্রাহ্মণ, বাহু হতে ক্ষত্রিয়, ঊরু হতে বৈশ্য এবং চরণ হতে শুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই চতুরাঙ্গের ব্যবহার ও কর্ম অনুসারেই চতুর্বর্ণের কর্ম নির্দিষ্ট। শুধু ব্রাহ্মণ বংশোদ্ভূত হলেই যে সে ব্রাহ্মণ হবেন, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। যদি তার মধ্যে ব্রাহ্মণের গুণ-কর্ম না থাকে, তবে সে শুদ্রের হিসেবেই গন্য। পক্ষান্তরে শুদ্রের বংশোদ্ভূত হলেও যদি তার মধ্যে ব্রাহ্মণের গুণাবলী দৃষ্ট হয়, তবে সে ই ব্রাহ্মণ। এই প্রসঙ্গে মহাত্মা মনু বলেছেন, "যাঁহারা দ্বিজ বলিয়া পরিচয় দেন, তাঁহারা যদি বেদ অধ্যায়ন না করিয়া অসৎপথে চলেন, তবে বাস্তবিকই তাঁহারা শূদ্রত্ব প্রাপ্ত হন।"


মহর্ষি অত্রি স্বকীয় সংহিতায় ব্রাহ্মণকে দশ শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যা হলো, দেবব্রাহ্মণ, মুনিব্রাহ্মণ, দ্বিজব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়ব্রাহ্মন, বৈশ্যব্রাহ্মণ, শূদ্রব্রাহ্মণ, নিষাদব্রাহ্মণ, ম্লেচ্ছব্রাহ্মণ, চন্ডালব্রাহ্মণ ও পশুব্রাহ্মণ। মহর্ষি এদের স্বভাব বলেছেন এমন-

*যে ব্রাহ্মণ যথাবিধি স্নান, সন্ধ্যা, উপাসনা গায়ত্রীজপ, হোম, অতিথি সৎকার, দেবতা পূজনাদি কর্ম নিয়মিত অনুষ্ঠান করেন, তিনি দেবব্রাহ্মণ।

*যিনি উপরোক্ত গুণসম্পন্ন হয়ে বিশেষতঃ শাকপত্র ও ফলমূলাদি দ্বারা জীবিকা নির্ব্বাহ করতঃ বানপ্রস্হ অবলম্বন করেন, তিনি মুনিব্রাহ্মণ।

*যিনি দেবব্রাহ্মণের লক্ষণযুক্ত হয়ে সর্বপ্রকার বিষয়াসঙ্গ ত্যাগ করতঃ তত্ত্বানুসন্ধিৎসু ভাবে বেদান্তপাঠ ও সাংখ্যযোগ বিচার করেন, তিনি দ্বিজব্রাহ্মণ।

*যিনি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ধনুক ধরে বিপক্ষকে আঘাত করেন, তিনি ক্ষত্রিয়ব্রাহ্মণ।

* যিনি বৈশ্যোচিত কৃষি, গোপালন ও বানিজ্য করেন, তিনি বৈশ্যব্রাহ্মণ।

* যিনি লাক্ষা, লবন মিশ্রিত দ্রব্য, দুগ্ধ, ঘৃত, মদ, মৎস্য, মাংস বিক্রয় করেন, তিনি শূদ্রব্রাহ্মণ।

*যে ব্রাহ্মণ পরস্যাপহারক, উৎকোচ গ্রহণে তৎপর, ঈর্ষা অসুয়াযুক্ত, পরের অপকারী, মৎস্য-মাংসে লোলুপ, তিনি নিষাদব্রাহ্মণ।

* যে ব্রাহ্মণ বৈদিক ক্রিয়াহীন সর্ব্বধর্ম্ম বিবর্জিত, নিষ্ঠুর, সে চন্ডালব্রাহ্মণ।

* যে ব্রাহ্মণের ব্রহ্মত্ব কিছুই নাই, কেবল যঞ্জোপবিতটি সম্বল -এই দেখিয়ে 'আমি ব্রাহ্মণ' গর্ব্বিত করে বেড়ায়, পাপহেতু সে পশুব্রাহ্মণ পদবাচ্য।

বিবাহ সংক্রান্ত সম্বন্ধে আচার্য্যদের অসবর্ণে বিবাহ স্বীকৃতি দৃষ্ট হয়। অসবর্ণ বিবাহ দ্বিবিধ, অনুলম ও বিলোম। অনুলোম শাস্ত্র সম্মত বিলোম বয়াবহ। পিতা অপেক্ষা মাতা নিম্নবর্ণা এমতাবস্থায় বিবাহ
বিধিসম্মত, এতদ্বিপরিত নিষিদ্ধ। পিতা মাতা উভয়েই স্ববর্ণের হলে, তাদের জাত সন্তানকে 'সজাতিক' বলা হয়েছে।
অনুলোম বিধিতে ব্রাহ্মণ পিতা, ক্ষত্রিয় মাতার সন্তান 'মূর্ধাবসিত', ব্রাহ্মণ পিতা বৈশ্য মাতার সন্তান 'অন্বিষ্ঠ', ক্ষত্রিয় পিতা ও ও বৈশ্য মাতার সন্তান 'মাহিষ্য'। এই তিন সন্তানকে 'অনন্তরজ' সন্তান বলা হয়েছে। তবে এই তিন সজাতিক ও তিন অনন্তরজ মোট ছয় পুত্র সন্তানই দ্বিজধর্মী বলে গণ্য। তারা উপনয়নাদি সংস্কার গ্রহণ করতে পারবে।

উপনয়ন বিবাহ সংস্কারাদির যথেচ্ছতা দ্বারা নিম্নবর্ণ বা উচ্চবর্ণ বিবেচিত হবে না। গুণ ও কর্মের দ্বারাই এটা পরিস্ফুটিক হবে। উচ্চবর্ণে আরোহনেচ্ছু ব্যাক্তির গুণ কর্মাদির উন্নতি সাধনই প্রধান লক্ষ্য হওয়া
উচিত। রজস্তমোময়ী চিত্তবৃত্তিকে সত্ত্বগুণময় করতে পারলেই তার উচ্চাধিকার স্বতঃই স্বীকৃত। অহিংসা, অস্তেয়, শৌচ, সংযম, সত্য এই পঞ্চবিধ ধর্মকে মানবধর্ম বলা হয়েছে। এটা চতুর্বর্ণেরই পালনীয় বলে মনু ব্যবস্থা দিয়েছেন।

তাই আমরা সকল ভাই, বোন, বন্ধু, সন্তানসহ শুভানুধ্যায়ীদের নিকট বিনীত নিবেদন রাখি, যেখানে 'কৃষ্ণ নামে' সকল পাপ, অধর্ম, বর্ণের নিম্নতা বিদুরিত হয়, সেখানে আমরা সবাই মিলে সমস্বরে এক হয়ে যাই 'কৃষ্ণ কথামৃত' অমিয় সুধা আস্বাদন করে। নিশ্চয়ই শ্রীহরির কৃপায় সবার জীবন সুন্দরময়, মঙ্গলময় আর কল্যাণময় হয়ে উঠবে।

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!"
!!জয় শ্রীকৃষ্ণ!! জয় রাধে!!
!!জয় হোক সর্বপ্রাণীর!!

কার্টেসীঃ দেবেন্দ্র

Share:

১৬ জুন ২০১৬

বর্ণ প্রথা বনাম কৌলীন্য প্রথা --- একটি ছোট্ট আলোচনা


বাংলাদেশে আর্য সাহিত্য সংস্কৃতি জনমনে শিকড় গেড়ে দশম শতকের সেন আমলে। সেন রাজারা বাংলা দখলের পর হিন্দু সমাজের বর্ণপ্রথা, বিশেষ করে উচ্চবর্ণের শ্রেষ্ঠত্বজ্ঞাপক কৌলীন্য প্রথা কঠোরভাবে প্রবর্তন করে। এ প্রথা প্রবর্তন দ্বারা বাংলার প্রধান জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক কৃষিজীবী সম্প্রদায় স্থায়ীভাবে হিন্দু-উচ্চবর্ণের সেবাদাসে পরিণত হয়। বাঙালি সমাজ, ইতঃপূর্বে ছিল নির্ধন; তাদের মধ্যে উঁচু-নিচু বলে কিছু ছিল না। সেন যুগে পৌঁছে বাঙালির মধ্যে দেখা দিল স্পষ্ট দুই বর্ণ- কুলীন ও ইতর। উৎপাদক শ্রমজীবী হল ইতর এবং শ্রমজীবীর উৎপাদন আত্মসাৎকারী হল উচ্চবর্ণ কুলীন। বর্ণ হিসেবে কুলীনের জন্য বরাদ্দ থাকল অধ্যয়ন ও লেখাপড়া-ভিত্তিক সব পেশা আর নিম্নবর্ণ বা নিচুজাতের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হল কৃষি ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর পেশা। শুধু তাই নয়, অধ্যয়ন ও লেখাপড়া তাদের জন্য করা হল নিষিদ্ধ। ব্রাহ্মণ্য-কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তন দ্বারা বাঙালি-সমাজ স্পষ্ট দুদলে ভাগ হয়ে গেল।
বর্ণ প্রথা বলে ধর্মগ্রন্থ সমূহে কোন শব্দ নেই। আছে ‘বর্ণাশ্রম’। শাব্দিক অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ‘বর্ণ’ শব্দটি এসেছে ‘পছন্দ’ করা অর্থাৎ পছন্দ অনুযায়ী আশ্রম বা পেশা নির্ধারণ করা। কালের পরিবর্তনে বর্ণাশ্রম হয়ে গেছে বর্ণ প্রথা!
হিন্দু-সমাজে বহুল প্রচলিত ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র সম্পর্কে আমাদের ধর্মগ্রন্থে কি আছে ----
ঋগবেদের পুরুষ সুক্তের মন্ত্রে বলা আছে -----
“সেই বিরাট পুরুষের ‘ব্রাহ্মণ মুখ ছিলেন, রাজন্য বাহুস্বরূপ ছিলেন, ঊরু বৈশ্য ছিলেন, এবং পদদ্বয় হইতে শূদ্র জাত হইয়াছিলেন’
গীতায় শ্রী ভগবানের উক্তি মতে বলা হয়েছে ------ ‘আমি গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে চারি বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র) সৃষ্টি করিয়াছি’।
“একজন জ্ঞানের উচ্চ পথে(ব্রাক্ষ্মন),অপরজন বীরত্বের গৌরবে(ক্ষত্রিয়), একজন তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে(পেশাভিত্তিক), আরেকজন সেবার পরিশ্রমে(শূদ্র)। সকলেই তার ইচ্ছামাফিক পেশায়, সকলের জন্যই ঈশ্বর জাগ্রত।----- ঋগবেদ ১.১১৩.৬
-
একেকজনের কর্মক্ষমতা ও আধ্যাত্মিকতা একেক রকম আর সে অনুসারে কেউ ব্রাক্ষ্মন কেউ ক্ষত্রিয় কেউ বৈশ্য কেউ শূদ্র।---------ঋগবেদ ৯.১১২.১
ব্রাক্ষ্মণ কে?------- যে ঈশ্বরের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত, অহিংস, সৎ, নিষ্ঠাবান, সুশৃঙ্খল, বেদ প্রচারকারী, বেদ-জ্ঞানী সে ব্রাহ্মণ।----- ঋগবেদ ৭.১০৩.৮
ক্ষত্রিয় কে? ------ দৃঢ়ভাবে আচার পালনকারী, সত্কঅর্মের দ্বারা শূদ্ধ, রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন, অহিংস, ঈশ্বর সাধক, সত্যের ধারক, ন্যায়পরায়ন, বিদ্বেষমুক্ত, ধর্মযোদ্ধা, অসৎ এর বিনাশকারী সেই ক্ষত্রিয়। ------- ঋগবেদ ১০.৬৬.৮
বৈশ্য কে? ------ দক্ষ, ব্যবসায়ী, দানশীল, চাকুরীরত এবং চাকুরী প্রদানকারী। ----- অথর্ববেদ ৩.১৫.১
শূদ্র কে? ----- যে অদম্য, পরিশ্রমী, অক্লান্ত জরা যাকে সহজে গ্রাস করতে পারেনা, লোভমুক্ত, ¬ কষ্টসহিষ্ণু সেই শূদ্র। -------- ঋগবেদ ১০.৯৪.১১
-
এ হচ্ছে নির্ভেজাল যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা। যেমনভাবে এখনকার সময়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয়, যজ্ঞোপবীত দেয়া হতো বৈদিক নিয়ম অনুসারে। তাছাড়া, আচরণবিধির সাথে অসম্মতি ঘটলে যজ্ঞোপবীত নিয়ে নেয়া হতো বর্ণগুলোর। ডাক্তার এর ছেলে যেমন ডাক্তার হবেই এমন কোন কথা নেই।ডাক্তার এর ঘরে জন্ম নিলেই এম.বি.বি.এস এর সার্টিফিকেট যেমন পাওয়া যায়না ঠিক তেমন ব্রাহ্মন এর ঘরে জন্ম নিলেই ব্রাহ্মন হওয়া যায়না। বৈদিক বর্নাশ্রম ও একই।
-
বৈদিক ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে এ ধরনের -----
-
(ক) ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রাহ্মন এবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রাহ্মনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝার জন্য।
(খ) ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে যিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং নিচু চরিত্রের লোক। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিত হন। (ঐতরেয়া ব্রহ্ম ২.১৯)
(গ) সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজন ব্রাহ্মণ হন।
(ঘ) প্রীষধ ছিলেন রাজা দক্ষের পুত্র যিনি পরে শূদ্র হন। পরবর্তীতে তিনি তপস্যা দ্বারা মোক্ষলাভ করেন। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৪) যদি তপস্যা শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ হতো যেমনভাবে উত্তর রামায়ণের নকল গল্প বলে, তাহলে প্রীষধ কিভাবে তা করল?
(ঙ) নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৩)
(চ) ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.২.২)
(ছ) তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ ৯.২.২৩)
(জ) ভাগবত অনুসারে অগ্নিবেশ্য ব্রাহ্মণ হন যদিও তিনি জন্মনেন এক রাজার ঘরে।
(ঝ) রাথোটর জন্ম নেন ক্ষত্রিয় পরিবারে এবং পরে ব্রাহ্মণ হন বিষ্ণু পুরাণ ও ভাগবত অনুযায়ী।
(ঞ) হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৩.৫)
(ট) শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৮.১) এমনকি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একই ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গ্রীতসমদ, বিতব্য ও বৃৎসমতির মধ্যে।
(ঠ) মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন।
(ড) রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।
(ঢ) প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।
(ণ) ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।
(ত) বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।
(থ) বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।
চারটি বিশেষ গুণসম্পন্ন এবং বিভিন্ন মাত্রার সংযাগের ফলে চার বর্ণের মধ্যে গুণের তারতম্য দেখা যায়। প্রাচীন ভারতবর্ষের বিভিন্ন জাতের গুণ ও কর্মের ভিত্তিতে সে জাতির কর্ম উল্লিখিত চার বর্ণের কর্মের সঙ্গে মিল না থাকলে সে জাতি মিশ্র গুণসম্পন্ন ধরে নেয়া হতো। তবে এক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয় তাদের বর্ণ ও সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। মনু, যাজ্ঞবল্ক্য, গৌতম প্রভৃতি স্মৃতিকার এ নিয়ে যে মতামত দেন তা প্রণিধানযোগ্য। মনু সংহিতায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে প্রত্যেক জাতির নির্দিষ্ট বৃত্তি ছিল এবং স্মৃতিকাররা বৃত্তির ভিত্তিতে সে জাতির বর্ণ ও সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণ করে দিতেন। এর থেকে প্রমাণিত হয়, প্রাচীনকালে কিছু গুণকে উত্তম এবং কিছু গুণকে অধম বলে গণ্য করা হতো। একইভাবে কিছু বৃত্তিকে শুদ্ধ এবং কিছু বৃত্তিকে অশুদ্ধ বলে বিবেচনা করা হতো। এভাবে গুণ ও কর্মের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এ চার বর্ণের সৃষ্টি হয়।

Written by : Prithwish Ghosh

Share:

০৮ জুলাই ২০১৫

সনাতন ধর্মে বর্ণপ্রথা ( সবাই পড়ুন এবং শেয়ার করুন )



বর্ণপ্রথা-বর্তমান সময়ে হিন্দুসমাজের অন্যতম বড় শত্রু।কিন্তু প্রকৃত সত্য কি?অনেকেই হয়তো জানেন।তবু যারা জানেন না তাদের জন্য আরেকবার বেদের আলোকে আলোচনা করছি।
প্রথমেই নামের বিষয়টা খেয়াল করা যাক।মূল এবং সঠিকনাম হচ্ছে বর্ণাশ্রম।এখানে বর্ণ শব্দটি এসেছে 'Vrn' root থেকে যার অর্থ 'To choose বা পছন্দ করা অর্থাত্‍ পছন্দ অনুযায়ী আশ্রম বা পেশা নির্ধারন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে এখন একে জন্মসূত্রে বিবেচনা করা হয়।ভট্যাচার্য, চট্যপাধ্যায় নামের পাশে থাকলেই ব্রাক্ষ্মন অথবা দাস,রায় থাকলেই শূদ্র এরকম হাস্যকর কিছু ধারনা প্রচলিত।আমি বুঝিনা কি করে মানসিকভাবে সুস্থ বলে পরিচিত এই আমরা এগুলো বিশ্বাস করি!চলুন দেখা যাক বেদ এ ব্যাপারে কি বলে।

ঋগবেদ ১.১১৩.৬
"একজন জ্ঞানের উচ্চ পথে(ব্রাক্ষ্মন ,অপরজন বীরত্বের গৌরবে(ক্ষত্রিয়) , একজন তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে(পেশাভিত্তিক)­, আরেকজন সেবা এর পরিশ্রম এ(শূদ্র)। সকলেই তার ইচ্ছামাফিক পেশায়,সকলের জন্যই ঈশ্বর জাগ্রত।

ঋগবেদ ৯.১১২.১
একেকজনের কর্মক্ষমতা ও আধ্যাত্মিকতা একেকরকম আর সেঅনুসারে কেউ ব্রাক্ষ্মনকেউ ক্ষত্রিয় কেউ বেশ্য কেউ শূদ্র।
ব্রাক্ষ্মন কে?
ঋগবেদ ৭.১০৩.৮
যে ঈশ্বরের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত, অহিংস,সত্‍,নিষ্ ঠাবান, সুশৃঙ্খল,বেদ প্রচারকারী, বেদ জ্ঞানী সে ব্রাক্ষ্মন।

ক্ষত্রিয় কে?
ঋগবেদ ১০.৬৬.৮
দৃড়ভাবে আচার পালনকারী, সত্‍কর্মের দ্বারা শূদ্ধ, রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন,অহিংস,ঈ শ্বর সাধক,সত্যের ধারক ন্যায়পরায়ন,বিদ্ বেষমুক্ত ধর্মযোদ্ধা,অসত্ ‍ এর বিনাশকারী সে ক্ষত্রিয়।

বৈশ্য কে?
অথর্ববেদ ৩.১৫.১
দক্ষ ব্যবসায়ী দানশীল চাকুরীরত এবং চাকুরী প্রদানকারী

শূদ্র কে?
ঋগবেদ ১০.৯৪.১১
যে অদম্য,পরিশ্রমী, অক্লান্ত জরা যাকে সহজে গ্রাস করতে পারেনা,লোভমুক্ত কষ্টসহিষ্ণু সেই শূদ্র।

এ হচ্ছে নির্ভেজাল যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা। যেমনভাবে এখনকার সময়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয়, যজ্ঞপবিত দেয়া হতো বৈদিক নিয়ম অনুসারে। তাছাড়া, আচরণবিধির সাথে অসম্মতি ঘটলে যজ্ঞপবিত নিয়ে নেয়া হতো বর্ণগুলোর। ডাক্তার এর ছেলে যেমন ডাক্তার হবেই এমন কোন কথা নেই।ডাক্তার এর ঘরে জন্ম নিলেই এম.বি.বি.এস এর সার্টিফিকেট যেমন পাওয়া যায়না ঠিক তেমন ব্রাহ্মন এরঘরে জন্ম নিলেই ব্রাহ্মন হওয়া যায়না।বৈদিক বর্নাশ্রম ও একই।

বৈদিক ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে এ ধরনের-

(১) ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রাহ্মনএবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রাহ্মনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝারজন্য।

(২) ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে যিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং নিচু চরিত্রের লোক। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয়আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিতহন। (ঐতরেয়া ব্রহ্ম ২.১৯)

(৩) সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজনব্রাহ্মণ হন।

(৪) প্রীষধ ছিলেন রাজা দক্ষের পুত্র যিনি পরে শূদ্র হন। পরবর্তীতে তিনি তপস্যা দ্বারা মোক্ষলাভ করেন প্রায়ঃশ্চিত্তে র পরে। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৪) যদি তপস্যা শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ হতো যেমনভাবে উত্তররামায়ণের নকল গল্প বলে, তাহলে প্রীষধ কিভাবে তা করল?

(৫) নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৩)

(৬) ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.২.২)

(৭) তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ ৯.২.২৩)

(৮) ভগবদ অনুসারে অগ্নিবেশ্য ব্রাহ্মণ হন যদিও তিনি জন্মনেন এক রাজার ঘরে।

(৯) রাথোটর জন্ম নেন ক্ষত্রিয় পরিবারে এবং পরে ব্রাহ্মণ হন বিষ্ণু পুরাণ ও ভগবদ অনুযায়ী।

(১০) হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়াসত্ত্বেও। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৩.৫)

(১১) শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৮.১) এমনকি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
একই ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়াযায় গ্রীতসমদ, বিতব্য ও বৃৎসমতির মধ্যে।

(১২) মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন।

(১৩) রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(১৪) প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(১৫) ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।

(১৬) বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজেছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।

(১৭) বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।

(১৮) "শূদ্র" শব্দটি বেদে দেখা গেছে প্রায় ২০ বারের মতো। কোথাও এটি অবমাননাকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথাও বলা হয়নি শূদ্রেরা হলো অস্পর্শযোগ্য, জন্মগতভাবে এই অবস্থাণে, বেদ শিক্ষা হতেঅনুনোমোদিত, অন্যান্য বর্ণের তুলনায় নিম্ন অবস্থাণের, যজ্ঞে অনুনোমোদিত।

(১৯) বেদে বলা হয়েছে শূদ্র বলতেবোঝায় কঠিন পরিশ্রমী ব্যক্তি। (তপসে শূদ্রম্‌ - যজুর্বেদ ৩০.৫)
একারণেই পুরুষ সুক্ত এদের বলে পুরো মানব সমাজের কাঠামো।

এজন্যেই পবিত্র বেদ ঘোষনা করেছে সাম্যের বানী-
ঋগবেদ ৫.৬০.৫
অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাস
এতে সং ভ্রাতারো তাবৃধুঃ সৌভগায়
যুবা পিতা স্বপা রুদ্র
এযাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ ॥
বঙ্গানুবাদ :কর্ম ও গুনভেদেকেউ ব্রাহ্মন,কেউ ক্ষত্রিয়,কেউ বৈশ্য,কেউ শুদ্র।তাদের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয় ।ইহারা ভাই ভাই ।সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে ।ইহাদের পিতা তরুন শুভকর্ম ঈশ্বর এবং জননীরুপ প্রকৃতি ।পুরুষার্থী সন্তানকেই সুদিন প্রদান করে ।
তাহলে দেখুন কি পাপটাই না করে চলেছি আমরা!
Pritilata Waddedar
Share:

১২ এপ্রিল ২০১৫

বেদে কোনো বর্ণভেদ নেই

এটা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক যে, যে বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ে বেদ হলো সমাজের মূল ভিত্তি, সেখানে আমরা ভুলেই গেছি বেদের মূল শিক্ষাগুলো এবং নিজেদেরকে নানা ভুল-ভ্রান্তিসমূহের ধারণায় জড়িয়ে ফেলেছি যেমন, জন্মগত caste system-সহ নানারকম বৈষম্য। এরকম বিপথগামী চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা আমাদের সমাজকে ভীষণ ক্ষতিসাধন করেছে এবং বৈষম্যের সূত্রপাত ঘটিয়ে দিয়েছে। দলিত নামক জাতিচ্যুত ব্যক্তিদের আমরা দূরে ঠেলে দিয়েছি এবং এর ফলে আমাদের উন্নতি ও প্রগতির বিকাশ স্থবির হচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে হিন্দু সমাজের মূলে গিয়ে বেদকে জানা - যার ফলে আমরা আমাদের মধ্যে ভাঙা সম্পর্কগুলো পুনরায় স্থাপণ করতে পারব।

এই লেখায় আমরা চেষ্টা করব বেদ অনুযায়ী আমাদের caste system সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটন করার এবং শূদ্রের আসল অর্থ খোঁজার।

১।
প্রথমত, কোনো প্রকার হিংসা বা বৈষম্যের স্থাণ নেই বেদে যেকোনো ব্যক্তি সম্পর্কে - সে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, বা শূদ্র কিনা।

২।
Caste system প্রায় নতুন। বেদে কোনো শব্দ নেই যার অর্থ বর্ণ/জাতি হতে পারে। আসলে, caste, জাতি আর বর্ণ এগুলো এক একটি এক এক অর্থ বহন করে।

Caste হলো একটি ইউরোপীয় নবধারা যার সাথে বৈদিক সংস্কৃতির কোনো সামঞ্জস্যতা নেই।

জাতি

'জাতি'র অর্থ হচ্ছে এক শ্রেণীভুক্তকরণ যার উৎস হচ্ছে জন্মে। ন্যায় সূত্র বলেছে "সমানপ্রসাভাত্মিকা জাতিহ্‌" অথবা তারা যাদের একইপ্রকার জন্মসূত্র যা এদেরকে একটি জাতিতে সমষ্টিবদ্ধ করে।
একটি প্রাথমিক আরো বড় শ্রেণীভুক্তকরণ ঋষিদের দ্বারা করা হয়েছে চারভাবে: উদ্ভিজ (অর্থাৎ গাছপালা), আন্ডাজ (অর্থাৎ ডিম থেকে যার উৎপত্তি যেমন পাখি এবং সরীসৃপ), পিন্ডজ (স্তন্যপায়ী), উষ্মজ (তাপমাত্রা বা পরিবেষ্টনকারী আবহাওয়ার জন্য যার জন্ম যেমন ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ইত্যাদি)।
তেমনিভাবে নানাপ্রকার পশুসমূহ যেমন হাতি, সিংহ, খরগোশ ইত্যাদি তৈরি করে এক ভিন্ন 'জাতি'। একইভাবে সমস্ত মানবকুল তৈরি করে একটি 'জাতি'।
একটি নির্দিষ্ট জাতির থাকবে একই ধরনের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য যারা সেই জাতি থেকে আরেক জাতিতে পরিবর্তিত হতে পারবে না এবং ভিন্ন জাতির বাচ্চা প্রসব করতে পারবে না। অর্থাৎ, জাতি হচ্ছে ঈশ্বরের সৃষ্টি।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রেরা কোনোভাবেই ভিন্ন জাতি নয় কারণ তাদের মধ্যে জন্ম সূত্রগত বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগত কোনো পার্থক্য নেই যা তাদেরকে ভিন্ন করবে।
পরবর্তীতে 'জাতি' শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে যেকোনো প্রকার শ্রেণীভেদকরণের জন্য। তাই সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন ভিন্ন সমাজকেও ভিন্ন ভিন্ন 'জাতি' হিসেবে আখ্যা দেই। কিন্তু এ শুধু ব্যবহারের সুবিধার জন্য। আসলে আমরা মানবকুল এক জাতিরই অংশ।

বর্ণ

প্রকৃত যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র বোঝাতে তা হলো 'বর্ণ' ('জাতি' নয়)।
'বর্ণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এই চারকে বোঝাতেই নয়, বরং দস্যু ও আর্যদেরকেও।

'বর্ণ' অর্থ হচ্ছে তাহাই যাহা গ্রহণ করা হয় পছন্দের দ্বারা। তাই, যেখানে 'জাতি' ঈশ্বর দ্বারা প্রদত্ত, 'বর্ণ' হচ্ছে আমাদের নিজস্ব পছন্দগত।

যারা আর্য হতে পছন্দ করে তাদের বলা হয় 'আর্য বর্ণ'। তেমনি যারা দস্যু হতে পছন্দ করে, তারা হয় 'দস্যু বর্ণ'। একইভাবে হয় ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র।

এই কারণেই বৈদিক ধর্মকে বলা হয় 'বর্ণাশ্রম ধর্ম'। বর্ণ শব্দটি ইঙ্গিত করে যে এটির ভিত্তি হচ্ছে নিজ পছন্দকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া ও যোগ্যতা অনুসারে পরিচালিত ব্যবস্থাকে অনুমোদন দেয়া।

৩।
যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত, তারা পছন্দ করেন 'ব্রাহ্মণ বর্ণ'। যারা প্রতিরক্ষা, যুদ্ধ-বিগ্রহ পছন্দ করেন, তারা হন 'ক্ষত্রিয় বর্ণ'। যারা অর্থনীতি ও পশুপালনাদি পছন্দ করেন তারা হন 'বৈশ্য বর্ণ' এবং যারা নিয়োজিত আছেন অন্যান্য সেবামূলক কাজ-কর্মে, তারা হন 'শূদ্র বর্ণ'। এসব শুধু বোঝায় নানা ধরনের পছন্দ যেসব মানুষজন তাদের কর্মের জন্য নির্বাচন করেন এবং এর সাথে 'জাতি' বা জন্মের কোনো সম্পর্ক নেই।

৪।
পুরুষ সুক্তের অন্যান্য মন্ত্রসমূহ উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, ব্রাহ্মণ এসেছে ঈশ্বরের মুখ থেকে, ক্ষত্রিয় হাত থেকে, বৈশ্য উরু থেকে এবং শূদ্র পা থেকে। সেইভাবে এইসব বর্ণসমূহ জন্মগত। কিন্তু কোনোকিছুই এর চেয়ে বেশী ভ্রান্তিজনক হতে পারে না। আসুন দেখি কেন:

(অ)
বেদ ঈশ্বরকে বর্ণনা করে আকারহীন ও অপরিবর্তনশীল হিসেবে। এমন ঈশ্বর কিভাবে বিশাল আকৃতির মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে যদি তিনি আকারহীনই হন? (যজুর্বেদ ৪০.৮)

(আ)
যদি ইহা সত্যিই হয়, তাহলে তাহা বেদের কর্মতত্ত্বের বিরোধীতা করবে। কারণ কর্মতত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির জন্মগত পরিবার পরিবর্তিত হতে পারে তার কর্ম অনুসারে। সুতরাং একজন ব্যক্তি যে শূদ্র পরিবারে জন্ম নেয়, পরের জন্মে এক রাজার পরিবারে জন্ম নিতে পারে। কিন্তু যদি শূদ্রেরা ঈশ্বরের পা থেকে এসে থাকে, তাহলে সেই একই শূদ্র ঈশ্বরের হাত থেকে কিভাবে জন্ম নেয়?

(ই)
আত্মা হলো সময়হীন এবং কখনো জন্ম নেয় না। সুতরাং আত্মার কখনোই কোনো বর্ণ হতে পারে না। এ শুধুমাত্র যখন আত্মা জন্ম নেয় মনুষ্য হিসেবে তখনই এর সুযোগ থাকে বর্ণ বেছে নেবার। তাহলে বর্ণ দ্বারা কি বোঝানো হয় যা ঈশ্বরের একাংশ হতে আসে? যদি আত্মা ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম না নিয়ে থাকে, তাহলে কি এই বোঝায় যে আত্মার দেহ তৈরি হয়েছে ঈশ্বরের দেহের অংশ থেকে? কিন্তু বেদ অনুযায়ী, এমনকি প্রকৃতিও চিরন্তন। এবং এই একই অনু-পরমানু পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে নানা মনুষ্যের মধ্যে। তাই কৌশলগতভাবে ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম নেয়া কারো পক্ষে অসম্ভব, এমনকি আমরা যদি ধরেও নেই ঈশ্বরের দেহ আছে।

(ঈ)
উপরে উল্লেখ করা পুরুষ সুক্ত রয়েছে যজুর্বেদের ৩১তম অধ্যায়ে (এবং ঋগবেদ ও অথর্ববেদ বাদে যেগুলোতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যজুর্বেদে এ হচ্ছে ৩১.১১)। প্রকৃতভাবে এর অর্থ কি তা বোঝার জন্য, আসুন দেখি এর আগের মন্ত্রের দিকে লক্ষ্য করি ৩১.১০।
এতে প্রশ্ন করা হয়েছে - কে মুখ? কে হাত? কে উরু আর কেই বা পা?
এর পরের মন্ত্র এর উত্তর দিয়েছে - ব্রাহ্মণ হলো মুখ, ক্ষত্রিয় হলো হাত, বৈশ্য হলো উরু এবং শূদ্র হলো পা।
লক্ষ্য করুন, মন্ত্রটি কিন্তু বলছে না ব্রাহ্মণ "জন্ম নেয়" মুখ থেকে...এটি বলছে ব্রাহ্মণ "হলো" মুখ।
কারণ যদি মন্ত্রটির অর্থ হতো "জন্ম নেওয়া" তাহলে এটি উত্তর দিত না আগের মন্ত্রের প্রশ্নটির "কে মুখ?"
যেমন, যদি আমি প্রশ্ন করি "দশরথ কে?" উত্তরটি যদি হয় "রাম জন্ম নেন দশরথের ঘরে" তাহলে তা হবে অর্থহীন।

প্রকৃত অর্থ হচ্ছে:
সমাজে ব্রাহ্মণ বা বুদ্ধিজীবিরা তৈরি করে মস্তিষ্ক বা মাথা বা মুখ যা চিন্তা করে এবং বলে। ক্ষত্রিয় বা রক্ষণকর্মীরা তৈরি করে হাত যা রক্ষা করে। বৈশ্য বা উৎপাদনকারীরা এবং ব্যবসায়ীরা তৈরি করে উরু যা ভার বহন করে এবং যত্ন করে (লক্ষ্য করুন উরুর হাড় অথবা উর্বাস্থি তৈরি করে রক্ত এবং এ হচ্ছে দেহের সবচেয়ে শক্ত হাড়)। অথর্ববেদে উরুর বদলে "মধ্য" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ বোঝায় পাকস্থলী এবং দেহের মধ্যের অংশ।

শূদ্র বা শ্রমিকেরা তৈরি করে পা যা কাঠামোটিকে দাঁড় করায় এবং দেহকে চলতে সক্ষম করে।
পরবর্তী মন্ত্রগুলো আলোচনা করেছে অন্যান্য দেহের অংশ সম্পর্কে যেমন - মন, চোখ ইত্যাদি। পুরুষ সুক্ত বর্ণনা করেছে সৃষ্টির সূত্রপাত এবং তার স্থায়ী থাকা সম্পর্কে যার মধ্যে অন্তর্গত মানব সমাজ এবং বর্ণনা করেছে অর্থপূর্ণ সমাজের উপাদানসমূহকে।
তাই এ ভীষণ করুণ অবস্থা যে এমন সুন্দর সমাজ সম্পর্কে রূপক বর্ণনা এবং সৃষ্টি সম্পর্কিত বর্ণনা বিকৃত হয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে বৈদিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।
এমনকি ব্রহ্ম গ্রন্থগুলো, মনুস্মৃতি, মহাভারত, রামায়ণ এবং ভগবদগীতা বলে নাই কোনোকিছুই যার কাছাকাছি উপপ্রমেয় হতে পারে এমন অদ্ভূত যে ঈশ্বর তৈরি করেছেন ব্রাহ্মণদের তাঁর মুখ হতে মাংস ছিঁড়ে কিংবা ক্ষত্রিয়দের তাঁর হাতের মাংস থেকে বা অন্যান্যসমূহ।

৫।
তাই এটি স্বাভাবিক কেন ব্রাহ্মণরা বেদ অনুসারে সবচেয়ে বেশী সম্মান লাভ করেছে। এমনটিই হচ্ছে আজকের বর্তমান সমাজে। বুদ্ধিজীবিরা এবং অভিজ্ঞরা আমাদের সম্মান অর্জন করেন কারণ তারা তৈরি করেন দিক প্রদর্শনকারী সারা মানবতার জন্য। কিন্তু যেমনভাবে পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, বেদে শ্রমের মর্যাদা সমভাবে জোর দেওয়া হয়েছে এবং এই কারণেই কোনো প্রকার বৈষম্যের উপাদান নেই।

৬।
বৈদিক সংস্কৃতিতে সবাইকে ধরা হয় শূদ্র হিসেবে জন্ম। তারপর ব্যক্তির শিক্ষা-দীক্ষা দ্বারা সে পরিণত হয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্যতে। এই শিক্ষা-দীক্ষার পূর্ণতাকে ধরা হয় দ্বিতীয় জন্ম। একারণেই এই তিন বর্ণকে বলা হয় "দ্বিজ" বা দু'জন্মা। কিন্তু যারা রয়ে যায় অশিক্ষিত (যেকোনো কারণেই হোক) তারা সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়। তারা চালিয়ে যায় শূদ্র হিসেবে এবং করে যায় সমাজের সেবামূলক কাজসমূহ।

৭।
এক ব্রাহ্মণের পুত্র, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করতে অসমর্থ হয়, পরিণত হয় শূদ্রে। তেমনিভাবে শূদ্রের পুত্র অথবা এমনকি দস্যু, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করে, তাহলে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় কিংবা বৈশ্য হতে পারে। এ হচ্ছে নির্ভেজাল যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা। যেমনভাবে এখনকার সময়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয়, যজ্ঞপবিত দেয়া হতো বৈদিক নিয়ম অনুসারে। তাছাড়া, আচরণবিধির সাথে অসম্মতি ঘটলে যজ্ঞপবিত নিয়ে নেয়া হতো বর্ণগুলোর।

৮।
বৈদিক ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে বর্ণ পরিবর্তনের -

(ক)
ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রহ্ম এবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রহ্মকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝার জন্য।

(খ)
ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে যিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং নিচু চরিত্রের লোক। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিত হন। (ঐতরেয়া ব্রহ্ম ২.১৯)

(গ)
সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজন ব্রাহ্মণ হন।

(ঘ)
প্রীষধ ছিলেন রাজা দক্ষের পুত্র যিনি পরে শূদ্র হন। পরবর্তীতে তিনি তপস্যা দ্বারা মোক্ষলাভ করেন প্রায়ঃশ্চিত্তের পরে। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৪)
যদি তপস্যা শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ হতো যেমনভাবে উত্তর রামায়ণের নকল গল্প বলে, তাহলে প্রীষধ কিভাবে তা করল?

(ঙ)
নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৩)

(চ)
ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.২.২)

(ছ)
তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ ৯.২.২৩)

(জ)
ভগবদ অনুসারে অগ্নিবেশ্য ব্রাহ্মণ হন যদিও তিনি জন্ম নেন এক রাজার ঘরে।

(ঝ)
রাথোটর জন্ম নেন ক্ষত্রিয় পরিবারে এবং পরে ব্রাহ্মণ হন বিষ্ণু পুরাণ ও ভগবদ অনুযায়ী।

(ঞ)
হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৩.৫)

(ট)
শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৮.১)
এমনকি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
একই ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গ্রীতসমদ, বিতব্য ও বৃৎসমতির মধ্যে।

(ঠ)
মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন।

(ড)
রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(ঢ)
প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(ণ)
ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।

(ত)
বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।

(থ)
বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।

৯।
"শূদ্র" শব্দটি বেদে দেখা গেছে প্রায় ২০ বারের মতো। কোথাও এটি অবমাননাকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথাও বলা হয়নি শূদ্রেরা হলো অস্পর্শযোগ্য, জন্মগতভাবে এই অবস্থাণে, বেদ শিক্ষা হতে অনুনোমোদিত, অন্যান্য বর্ণের তুলনায় নিম্ন অবস্থাণের, যজ্ঞে অনুনোমোদিত।

১০।
বেদে বলা হয়েছে শূদ্র বলতে বোঝায় কঠিন পরিশ্রমী ব্যক্তি। (তপসে শূদ্রম্‌ - যজুর্বেদ ৩০.৫)
একারণেই পুরুষ সুক্ত এদের বলে পুরো মানব সমাজের কাঠামো।

১১।
যেহেতু বেদ অনুযায়ী চার বর্ণসমূহ বলতে বোঝায় চার প্রকারের কর্মকান্ড যা পছন্দের উপর ভিত্তি করে, একই ব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে চার বর্ণের বৈশিষ্ট্য চার ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে। এইভাবে সকলেই চার বর্ণের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সারল্যতার জন্য, আমরা বলি প্রধান পেশাকে বর্ণের পরিচয় হিসেবে। এবং এই কারণে সকল মানুষের উচিত পূর্ণভাবে চার বর্ণ হবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা, যেমনভাবে বেদের জ্ঞান আমাদের বলে। এই হলো পুরুষ সুক্তের সারাংশ।

ঋষি বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, অঙ্গীরা, গৌতম, বামদেব ও কন্ব - এরা সকলেই চার বর্ণের বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তারা বৈদিক মন্ত্রের অর্থ উদ্ভাবন করেছেন, দস্যু দমন করেছেন, দৈহিক শ্রমের কর্ম করেছেন এবং নিজেদেরকে যুক্ত করেছেন সমাজ কল্যাণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায়।
আমাদেরও উচিত এমনটিই হওয়া।

অবশেষে আমরা দেখলাম বৈদিক সমাজ সকল মানুষকে একই জাতি বা গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করে, শ্রমের মর্যাদা বহাল রাখে, এবং সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করে যাতে তারা নিজ নিজ বর্ণ গ্রহণ করতে পারে।
বেদে কোনো প্রকার জন্মগত বৈষম্যের উল্লেখ নেই।
আমরা যেন সকলে একযুক্ত হয়ে একটি পরিবারের ন্যায় একতাবদ্ধ হতে পারি, প্রত্যাখান করতে পারি জন্মগত সকল বৈষম্যকে এবং একে অপরকে ভাই-বোন হিসেবে সদ্ব্যবহার করতে পারি।
আমরা যেন সকল পথভ্রষ্টকারীদের ভুল পথে এগুনো ব্যাহত করতে পারি যারা বেদে বর্ণভেদ সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবী করে এবং দমন করি সকল দস্যু, অসুর, রাক্ষসদের।
আমরা যেন সকলে আসতে পারি বেদের আশ্রয়ে এবং একত্রে কাজ করে মানবতার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করতে পারি এক পরিবার হিসেবে।

সুতরাং বেদ অনুযায়ী কোনো বর্ণভেদ নেই।
- See more at: http://bangalihindupost.blogspot.in/2012/05/blog-post_6449.html#sthash.68focGBc.dpuf
Share:

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪

হিন্দুদের বর্ণভেদ বা বর্ণাশ্রম



হিন্দুরা চারবর্ণে বিভক্ত, বর্ণগুলো যথাক্রমে- ক) ব্রাহ্মণ বা পুরোহিত বর্ণ, খ) ক্ষত্রিয় বা যোদ্ধা বর্ণ, বৈশ্য বা ব্যবসায়িক শ্রেণীক বর্ণ এবং ঘ)শুদ্র বা কৃষি বর্ণ।
এই বর্ণগুলো প্রত্যেকটি আবার কয়েকটি উ-বর্ণে বিভক্ত। প্রথম তিনটি বর্ণের সদস্যদের দ্বিজ বা পুণর্জন্মা বলা হয়। বেদ বা ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ এবং উপনয়নের ন্যয় ধর্মীয় সংস্কার সম্পাদনের মাধ্যমে তারা দ্বিতীয় জন্ম লাভ করে। হিন্দুদের মধ্যে যে বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্কার রয়েছে তাদের মধ্যে কেবলমাত্র বিবাহ সংক্রান্ত সংস্কার ছাড়া শুদ্ররা অন্যকোন সংস্কার পালন করে না।
হিন্দুদের এই বর্ণ বা শ্রেণী বিভাগ আইনের ক্ষেত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে দত্তক পুত্রকে অবশ্যই দত্তকগ্রহণকারী পিতার বর্ণের হতে হয়। বিবাহের ক্ষেত্রেও এক মতবাদ অনুযায়ী বিবাহ পক্ষগণকে এই বর্ণভূক্ত হতে হয়। হিন্দু আইনের কতকগুলো নীতি, বিশেষ করে দত্তক গ্রহণ অনুষ্ঠানে দত্তহোম পালনের ন্যয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত নীতিসমূহ শুদ্রদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শুদ্রবর্ণ নির্ধারণে রাজকুমার লাল ব. বিশ্বেশ্বর [(১৮৮৪) ১০ ক্যাল ৬৮৮] মামলায় কোলকাতা হাইকোর্ট কায়স্থদের সাধারণভাবে শুদ্র বলে অভিহিত করেছেন; অপরদিকে তুলসীরাম ব. বিহারীলাল [(১৮৯০) ১২ এলা ৩২৮] মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট ও ঈশ্বরী প্রসাদ ব. রায়হরি প্রসাদ [(১৯২৭) ৬ পার্ট ৫০৬] মামলায় পাটনা হাইকোর্ট কায়স্থদের শুদ্র নয় বরে তিনটি দ্বিজ বর্ণের যে কোন একটির, সম্ভবত ক্ষত্রিয় বর্ণের অন্তর্ভূক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। সুবরাত্ত ব. রাধা [(১৯২৮) ৫২ বোম ৪৯৭] মামলায় বোম্বে হাইকোর্ট মারাঠাদের কিছু ক্ষত্রিয় এবং কিছু শুদ্র বর্ণভূক্ত বলে রায় দিয়েছেন। বেঙ্গলের বৈদ্যরা রাজনন্দিন ব. অশ্বিনী কুমার [(১৯৪১)১ ক্যাল ৪৫৭] মামলার এবং সদ গোপরা দূর্গাদান পান ব. সন্তোষকুমার পান [(১৯৪৫)১ ক্যাল ৬৭] মামলার রায় অনুযায়ী কার্য্যকর হয়।
Share:

সকল হিন্দুর বেদে সম অধিকার লেখক — সম্পদ দাশ ( অগ্নি সম্পদ ) , বাংলাদেশ





বেদ আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ , আমাদের কারও কারও মধ্যে একটি ধারণা আছে যে বেদে ব্রাহ্মন ছাড়া আর কারও অধিকার নাই ।এটা পুরোটাই ভুল , কারন যর্জুবেদে বলা হয়েছে –

‘ ওঁ যথেমাং বাচং কল্যানীমাবদানি জনেভ্যঃ ।বহ্ম রাজন্যাভ্যাং শূদ্রায় চার্য্যায় চ স্বায় চারণায়।।প্রিয়ো দেবানাং দক্ষিণায়ৈ দাতুরিহ ,ভূয়াসময়ং মে কামঃ সমৃধ্যতামুপ মাদো নমতু ।। ‘ — যজুর্বেদ ২৬/২

অনুবাদ :হে মনুষ্যগনআমি যেরূপে ব্রাক্ষণ ,ক্ষত্রিয় ,বৈশ্য ,শূদ্র , স্ত্রীলোক এবং অন্যান্য সমস্ত জনগনকে এইকল্যানদায়িনী পবিত্র বেদবানী বলিতেছি ,তোমরাও সেই রূপ কর । যেমন বেদবানীর উপদেশকরিয়া আমি বিদ্বানদের প্রিয় হয়েছি ,তোমরাওসেরুপ হও ।আমার ইচ্ছা বেদ বিদ্যা প্রচার হোক ।এর দ্বারা সকলে মোক্ষ এবং সুখ লাভ করুক ।

এখানে দেখা যাচ্ছে বেদের সত্যদ্রষ্টা ঋষি বলছেনব্রাহ্মণ ,ক্ষত্রিয় ,বৈশ্য ,শূদ্র স্ত্রীলোকএবং অন্যান্য সকল জনগনের জন্যই এই পবিত্র বেদবানী ।সুতরাং বেদ মন্ত্র উচ্চারণে সকলেরইসমান অধিকার । সব থেকে মজার বিষয় হল বেদের মন্ত্রদ্রষ্ট্রা ঋষিদের মধ্যে মহিলা ঋষিও রয়েছেন যেমন

১/ ১ম মন্ডল১৭৯সূক্তেরদেবতা রতি ,ঋষি অগস্ত্যের পত্নী লোপামুদ্রা ।

২/ ৫মন্ডল ২৮সুক্তেরদেবতা অগ্নী ,ঋষি অত্রিকন্যা বিশ্ববারা ।

৩/ ৮মন্ডল ৯৬ সুক্তেরদেবতা ইন্দ্র ,ঋষি অত্রি কন্যা অপালা ।

৪/ ১০মন্ডল ৩৯ ও ৪০ সুক্তেরদেবতা অশ্বিদয় ,ঋষি কক্ষিবত্ কন্য ঘোষা ।

৫/ ১০মন্ডল ৮৫সুক্ত যা বিবাহ সূক্ত বলে খ্যাততার ঋষি সাবিত্রি সূর্যা ।

৬/ ১০মন্ডল ১২৫সুক্তেরদেবতা আত্মা ,ঋষি অশ্ভৃণ কন্যা বাকৃ

৭/ ১০মন্ডল ১৮৫ সুক্তেরদেবতা সপত্নীবাধন ,ঋষি ইন্দ্রানী ।

আমরা উপরে পেলাম সাত জনমহিলা ঋষি যথাক্রমে :লোপামুদ্রা ,বিশ্ববারা ,অপালা ,ঘোষা ,সূর্যা ,বাকৃএবং ইন্দ্রানী ।আমাদের একটা প্রচলিতকথা আছে যে বেদে মেয়েদেরও অধিকার নেই ।এটা আসলে ঠিক নয় ,কারণ দেখা যাচ্ছে – বেদের মন্ত্রদ্রষ্ট্রা ঋষিদের মধ্যে নারীরাও রয়েছেন ।যাঁদের অধিকারই নাই তারা ঋষি এবং মন্ত্রদ্রষ্ট্রা হন কেমন করে ?আসলে এগুলো অসাধু মহলের কারসাজি । এসব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে ।

তাহলে উপরক্ত প্রমান অনুসারে আমরা অবশ্যইবলতে পারি বেদে সকলেরই সমান অধিকার ।
Share:

১৯ জুলাই ২০১৩

"বর্ণ প্রথার সংস্কার জরুরি কেন"




বর্ণ প্রথা শ্রী ভগবানের সৃষ্টি। কিন্তু তিনি তা গুণ কর্ম অনুসারে নির্ণয় করতে বলেছেন , বর্তমান হিন্দু সমাজের রীতি অনুসারে জন্ম অনুসারে তা নির্ণয় করতে বলেন নি। বেদ বা গীতায় জন্মসুত্রে বর্ণ নির্ণয়ের পক্ষে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ -ও নেই ।
হিন্দু সমাজের ব্যবহারিক জগতের বিধি বিধান দেশ কাল পরিস্থিতিতে মাঝে মাঝে পরিবর্তন হয়। এমন -ই এক সামাজিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সময় কিছু মানুষ জন্মানুসারে বর্ণ নির্ণয়ের প্রথা সুরু করেন। যারা সুরু করেছিলেন বা যারা কঠোর ভাবে তা মানতেন ,তাঁরা কেউ কেউ সুবিধাবাদি হলেও, সবাই খারাপ ছিলেন না। সুবিধাবাদী লোক গুলো ছাড়া বাকী যারা এই প্রথার প্রবর্তক ছিলেন তাঁরা আধুনিক অর্থনীতির ''শ্রম বিভাজন " নীতি প্রচলন করে সমাজ থেকে বেকারি উতখাত করতে চেয়েছিলেন।

Share:

০৯ জুন ২০১৩

"বেদে সকলের সমান অধিকার"



বেদ আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ,বিভিন্ন  অপপ্রচার এবং স্বার্থন্বেষি দের  চক্রান্তে আমাদের মধ্যে একটি দৃঢ়  ধারনা হয়েছে যে বেদে ব্রাহ্মন ছাড়া সকলের  অধিকার নাই এটি পুরোটাই ভুল কারনযর্জুবেদ  বলা হয়েছে;


ওঁ যথেমাং বাচং কল্যানীমাবদানি জনেভ্যঃ
বহ্ম রাজন্যাভ্যাং শূদ্রায় চার্য্যায় চ স্বায় চারণায় ।।
প্রিয়ো দেবানাং দক্ষিণায়ৈ দাতুরিহ ,
ভূয়াসময়ং মে কামঃ সমৃধ্যতামুপ মাদো নমতু ।।  (যজুর্বেদ ২৬/২)

অনুবাদ : হে মনুষ্যগন আমি যেরূপে ব্রাক্ষন ,ক্ষত্রিয় ,বৈশ্য ,শূদ্র  স্ত্রীলোক এবং অন্যান্য সমস্ত জনগনকে এই কল্যানদায়িনী পবিত্র বেদবানী বলিতেছি ,তোমরাও  সেই রূপ কর যেমন, বেদবানীর উপদেশ  করিয়া আমি বিদ্বানদের প্রিয় হয়েছি ,তোমরাও সেরুপ হও আমার ইচ্ছা বেদ বিদ্যা প্রচার হোক এর দ্বারা সকলে মোক্ষ এবং সুখ লাভ করুক
 

Share:

০৫ জুন ২০১৩

"সনাতন ধর্মে বর্ণভেদ ও পদবী বৈষম্যর ইতিহাস"


             
           সনাতন ধর্ম অতি প্রাচীন বলেই বিভিন্ন সময় এর পথ পরিক্রমায় বিচিত্র পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা বাস্তব ক্ষেত্রে ধর্মীয় নিয়ম নীতির সাথে কোন সামঞ্জস্যতা নেই


            বর্তমান হিন্দু সমাজ এখনো বর্ণভেদের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনিভারতে এক সময় বিভিন্ন শহর বন্দর ও গ্রামে তথাকথিত নিম্ন বর্ণের হরিজনকে রাস্তায় চলতে ঘণ্টা বাজাতে হতোযাতে করে কুলীন বর্ণ হিন্দুরা তাদের ছায়া মাড়াতে কিংবা স্পর্শতা থেকে নিরাপদ দূরে সরে যেতে পারেআজও সমাজের হিন্দু ব্রাহ্মণ ঘরের মেয়েকে কায়স্থ তথা বৈশ্য বা শূদ্র ঘরের ছেলে বিয়ে করতে পারতে না

Share:

১২ মে ২০১৩

"মানবের মধ্য কেহ বড় নয়, কেহ ছোট নয় এবং কেহ মধ্যম নয়"



রাজা রামমোহন রায় বেদান্ত শাস্ত্রের বাংলার অনুবাদ করতে প্রবৃত্ত হলে অনেকেই আপত্তি উত্থাপন করতে থাকেন এবং বলেন বেদের বাংলার অনুবাদ করাতে ও শুনাতে পাপ আছে। শূদ্র তা শুনলে পাতক হয়। এই আপত্তির উত্তরে রাজা রামমোহন রায় বলেন যে, যারা এরূপ আপত্তি করেন তাঁদের জানা উচিত যখন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষকরা শ্রুতি, স্মৃতি, জৈমিনিসূত্র, পুরাণ ইত্যাদি শাস্ত্র ছাত্রকে পাঠ করান, তখন বাংলা ভাষায় তাঁর ব্যাখ্যা করে থাকেন কিনা এবং ছাত্ররা এই ব্যাখ্যা শুনেন কি না? তাছাড়া মহাভারত, যাকে পঞ্চম বেদ ও সাক্ষাৎ বেদার্থ বলা হয় তার শ্লোক সকল শূদ্রের নিকট পাঠ করা হয় কি না? শূদ্রগণ সেই অর্থ ও ইতিহাস নিয়ে পরস্পরের মধ্য কথোপথন করেন কিনা? যদি তাই হয় তাহলে শূদ্রগনের বেদমন্ত্র উচ্চারণে আপত্তি কোথায় থাকলো বিষয়টি সবিনয়ে ভেবে দেখলেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। শাস্ত্রে বলা আছেঃ
Share:

০১ আগস্ট ২০১২

"বর্ণবাদ সনাতন ধর্মের বিকাশের পথে অন্তরায়"

-->

-->
হিন্দু ধর্ম এতো প্রাচীন যে এর ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক থাকা স্বাভাবিক। তবে, মানব সভ্যতার উদ্ভব ও বিকাশের ধারক ও বাহক যে সনাতন ধর্ম এই কথা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। কালস্রোতে হিন্দু রাজা-মহারাজা রাই একসময় এই ভারতবর্ষ শাসন করতো। কিন্তু, দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, ধর্মাচরন, ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং অন্যান্য স্বার্থসিদ্ধির মোহে এদের মধ্য কোন ঐক্য ছিল না। বরং বিবাদ ও কলহ প্রায় লেগেই থাকতো। আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসের নিমিত্তে ব্রাহ্মণ ও বণিক শ্রেণিকে খুশি রাখতে গিয়ে তারা প্রজাদের সুখ দুঃখের কোন খবর রাখতো না। চেঙ্গিসখান, কুবলাইখান ও হালাকুখানের বাহিনী যে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাতেও তাদের কোন বোধোদয় ঘটে নি। আর, এরপর তো পশ্চিমা দেশের মোগলরা এসে ক্ষমতাই কেড়ে নিয়ে গেল। একসময় আসলো সেন রাজাদের শাসন কাল। সেই সেন রাজাদের একজন বল্লালসেনই এই দেশে বর্তমান বর্ণভেদের বিষাক্তবীজ বপন করেছিলো। যার পরবর্তী বংশ ধর লক্ষনসেনের ভূমিকা বড়ই লজ্জাকর। এই বর্ণভেদ আজও আমাদেরকে দুর্বল করে রেখেছে। সেন রাজারা বাঙালি ছিল  না। তবুও, বর্ণভেদ প্রথা চাপিয়ে দিয়ে বাঙ্গালীদের শাসন করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এ তো গেল আমাদের পূর্ব পুরুষদের কথা।

আর, আজ আমরা অনেক চেষ্টা করছি হিন্দুদের মধ্য ধর্মীয় সচেতনতা বাড়ানোর জন্য। ফলে, হিন্দু ধর্মের প্রচার বা প্রসার কিছুটা হলেও এই বর্ণভেদ আমাদের রক্তে মিশে থাকার জন্য আমরা দুর্বলই থেকে যাচ্ছি। বর্ণভেদের পাশাপাশি আছে, তথাকতিত বিজ্ঞানবাদীদের অসীম যুক্তি। পৌরাণিক যুগে সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের পাশাপাশি বিষও উঠেছিলো। আজ বিজ্ঞানের বদৌলতে সুখ সাচ্ছন্দের পাশাপাশি যে বিষটি আমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে তা হল- ঈশ্বরে অবিশ্বাস। ঈশ্বরের বিরুদ্ধে আমাদের কত যুক্তি, কত জিজ্ঞাসা, কত প্রশ্ন; আজ আমরা বিষের জ্বালায় ছটফট করছি। মারাত্মক বিষ- ঈশ্বর সত্ত্বায় অবিশ্বাস। যারা ঈশ্বর মানেন না তাদের কত যুক্তি!! যদি বলা হয়, হরিদাস ঠাকুর দিনে ৩ লক্ষ বার কৃষ্ণ নাম করতো- এই কথা শুনে আজ আমরা ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে যাই। এটা কিভাবে সম্ভব!! অথচ, আমরা দেখছি না এই কথাটার পিছনে ভগবানের প্রতি ভক্তের কতটুকু ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। সত্যিই, আমরা অনেক যুক্তিবাদী।

 আজ ধর্ম সম্পর্কে একটা পোস্ট দিলেই সমস্ত তথাকতিত বিজ্ঞানবাদীরা ছুটে আসে তাদের হাজারো যুক্তির থালা নিয়ে। বিজ্ঞানের আলোয় তারা এতটাই আলোকিত যে, মহাভারত, রামায়ন কে পর্যন্ত অস্বীকার করে। ফেসবুক এ বসে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ ঘোষণা, কোথায় ঈশ্বর?? comment এর পর comment, comment এর পর comment করেও তাদের বোঝানো যায় না যে, ঈশ্বরকে দেখতে হলে চর্মচক্ষু নয়, জ্ঞানচক্ষু প্রয়োজন।  

অতীতের পূর্বপুরুষ ও বর্তমানের এই সব বর্ণবাদী ও বিজ্ঞানবাদী পুরুষদের জন্য আজ আমরা এক পা এগোচ্ছি তো দুই পা পিছিয়ে যাচ্ছি। তবুও, আশায় বুক বেঁধে থাকি একদিন সকল কুয়াশা ও অন্ধকার দূর হয়ে প্রকৃত সনাতন ধর্মের প্রতিষ্ঠা হবেই, হবে।   
জয় সনাতন ধর্মের জয়।।    


                  








         
Share:

৩১ জুলাই ২০১২

ছুতমার্গ- ঐক্যবোধের পরিপন্থী।

-->
-->
আমাদের সকলের মাঝেই একটা প্রশ্ন, “হিন্দুদের ঐক্য কিভাবে সম্ভব?”
উত্তর হিসেবে স্বামী বিবেকানন্দ একটা কথা সবার সামনে তুলে ধরছি। তিনি বলেছিলেন, “হিন্দুধর্ম জ্ঞানমার্গেও নয়; বিচারমার্গেও নয়; বরং ছুতমার্গে। আমার ছুঁয়ো না-আমায় ছুঁয়ো না। ছুতমার্গ একপ্রকার মানসিক ব্যাধি। ছুতমার্গ মোটেও হিন্দুর ধর্ম নয়। আমাদের কোন শাস্ত্রেই তার কোন উল্লেখ নেই। এটা একটা কুসংস্কার, যা আমাদের কর্মশক্তিকে সকল ক্ষেত্রে ব্যাহত করছে। বস্তুত, ধর্ম এখন ঢুকেছে আমাদের রন্ধনপাত্রে।” ছুতমার্গ- ঐক্যবোধের পরিপন্থী।

এই মানসিক ব্যাধি যতদিন আমাদের মধ্য থেকে না যাবে, ততদিন আমাদের ঐক্য সম্ভব নয়। আজ “জাত গেল, জাত গেল”, ধর্ম গেল, ধর্ম গেল”- এই শব্দ গুলোর জন্যই আমাদের ধর্মে এক দিকে তৈরি হয়েছে উঁচু সমাজ, অন্য দিকে নিচু সমাজ। আর, এই দুর্বল দিক দিয়েই অন্য ধর্মের প্রচার আমাদের বার বার আঘাত করছে এবং ধ্বংস লীলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই, যতদিন হিন্দুদের মাঝ থাকে জাত-পাত না যাবে, ততদিন আর যাই হোক না কেন,  ঐক্যতা সম্ভব নয়। 


জয় রায়"
 
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।