সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

ঈশ্বরের অস্তিত্ব সপক্ষে একটি যুক্তি নির্ভর রচনা

ঠিক ১ ঘণ্টা পরেই স্বামী মহানন্দের বিতর্কে অংশ নেওয়ার কথা । যারা প্রতিপক্ষ তারা নাস্তিক; বিতর্কের বিষয় – ঈশ্বরের অস্তিত্ব (পক্ষে/বিপক্ষে)।

স্বামী মহানন্দ ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য যাত্রা পথে গাছতলায় বসে পড়লেন । বিতর্ক শুরু হতে আর মাত্র ১৫ মিনিট বাকি, কিন্তু স্বামীজির দেহে ক্লান্তি না থাকা সত্ত্বেও শিষ্য ভজহরির মনে সন্দেহের দানা বাঁধল – স্বামীজি কি তাহলে যুক্তিবাদী নাস্তিকদের কাছে নিশ্চিত হারতে হবে জেনেই পরাজয় মেনে নিয়ে যাত্রাপথে বিলম্ব করছেন । স্বামী মহানন্দ তার শিষ্যের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে তাকে আশ্বস্ত করলেন কেন এই বিলম্ব সেকথা একটু পরেই বুঝতে পারবে।

এদিকে বিতর্কের মঞ্চে প্রতিপক্ষ নাস্তিকরা বিরক্তি প্রকাশ করছে । নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট অতিক্রম হয়ে গেল অথচ মূর্খ ধর্ম গুরুর কোনো দেখা নেই, হারবে জেনে গুরু বৃন্দাবনে পালিয়েছে —- এসব কথা বলতে বলতে তারা নিজেদের জয়ী ভেবে মুচকি হাসি হাসতে লাগলো ।

নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৩০ মিনিট পরে স্বামীজি বিতর্কের মঞ্চে প্রবেশ করলেন । প্রতিপক্ষ নাস্তিকরা তাদের সময়ের মূল্য বুঝিয়ে স্বামীজিকে জ্ঞান দিতে লাগলেন । স্বামীজি বললেন বিতর্কের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ ঘন্টা । আমি বিলম্ব করেছি ৩০ মিনিট । কিন্তু এই বিতর্ক আমি ৩ মিনিটেই শেষ করে দেব , সময়ের মূল্য কতখানি তা তোমাদের বোঝাবোও বটে । স্বামীজির কথা শুনে সাথে সাথে হাসির রোল পড়ে গেলো । সবাই একটু থামতেই প্রতিপক্ষের এক জন বললেন, তা স্বামীজি আপনি আগে বলুনতো আপনি যদি এতোই সময়জ্ঞান রাখেন তাহলে এখানে আসতে আপনার এত বিলম্ব হল কেনো।

স্বামীজি বললেন, তাহলে শোনো –

আমার এখানে আসার পথে একটি নদী পার হতে হয়েছিল । দুর্ভাগ্যবশত নদী পার হতে গিয়ে নৌকাটি নদীর মাঝপথে ডুবে যায় । কিন্তু মুহূর্তেই জল ভেদ করে উঠে এল বিশাল এক গাছ, গাছ নিজ থেকেই কাঠ হয়ে গেল তারপর সেই কাঠ থেকে এক নিমিষেই তৈরী হয়ে গেলো বিশাল এক নৌকা । আমি সেই নৌকায় পার হয়ে এখানে এলাম – তাই একটু বিলম্ব বৈকী!!

স্বামীজির এই কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চের সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন। কেউ হাহা কিংবা কেউ হোহো। প্রতিপক্ষ নাস্তিক বন্ধুরা বলতে লাগলেন এই বিজ্ঞানের যুগে কেউ আপনার এই মনগড়া গল্প বিশ্বাস করবে? একটা নৌকা তৈরী করতে গাছকে যন্ত্রের সাহায্যে কাঠ তৈরী করতে হয় তারপর সেই কাঠ দিয়ে কারিগরের হাতে নৌকা তৈরী হয় । মানুষের হাতের ছোঁয়া ছাড়া নৌকা তৈরী? স্বামীজি আপনি কি বলছেন!! এতো পাগলের প্রলাপ । হো হো হো হো ।

চারিদিকে যখন হৈচৈ শুরু হয়ে গেছে তখন স্বামী মহানন্দ উচ্চ -কন্ঠস্বরে বলে উঠলেন এবার থামো । সবাই স্বামীজির দিকে তাকিয়ে রইলেন। স্বামী মহানন্দ তখন বললেন – সামান্য একটি নৌকা মানুষ/কারিগর ছাড়া তৈরী হতে পারে – এটা বিশ্বাস করতে পারছো না । অথচ তোমরাই বলছ মানুষ এর মতো একটি সেরা জীব যে দেখতে পারে, চলতে পারে, শুনতে পারে, খাবার হজম করতে পারে , এর দেহের ভেতর যে সূক্ষ্মাতি-সুক্ষ্ম মানব যন্ত্র রয়েছে – কারো পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কারিগরের হাতের ছোঁয়া ছাড়াই এই মানুষ পৃথিবীতে তৈরী হয়েছে । আমি তোমাদের এই কথা কেনো গ্রহন করতে যাবো? কোন যুক্তিতে? আমার সঙ্গে দীর্ঘ ১ ঘন্টা বিতর্ক করতে চাও কিন্তু তার সারবত্তা কি? তোমাদের যুক্তি তোমরাই মানতে চাইছো না।

প্রতিপক্ষ নাস্তিকরা একে অপরের দিকে আতঙ্কের দৃষ্টিতে তাকাতে লাগলো । চারিদিকে নিস্তব্ধ নীরবতা । হঠাৎ স্বামীজির শিষ্য ভজহরির কন্ঠে ধ্বনিত হল-

জয় স্বামী মহানন্দের জয়

জয় স্বামী মহানন্দের জয়

————–বিতর্ক শেষ হয়ে গেল————–

লেখক : শ্রী শিমুল টিকাদার।

পেজ- অসিবাক(Osibak.com)

পোষ্ট সৌজন্যে- শ্রী পিনাকেশ চক্রবর্ত্তী (Pinakesh Chakraborty)

(#সকলে মনে রেখো তাঁর ইচ্ছা ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়েনা।)

জয় শ্রী রাম।

হর হর মহাদেব।
0 comments

মহামুনি ব্যাসদেব সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানুন


                                                     ব্যাসদেব কে? 
                                              কি তার জন্ম বৃত্তান্ত?
              কিভাবে ব্যাসদেব বেদগ্রন্থ ও আটারো পুরাণ রচনা করলো কি তার পূর্ণ ইতিহাস ?
              সনাতন ধর্মের গ্রন্থ ও পুরাণগুলো গদ্য আকারে না হয়ে কেন শ্লোকে রচিত হলো?

(ব্যাসদেবের জন্ম ও তার জীবন বৃত্তান্ত পর্ব ):-মহামুনি বশিষ্ঠের পুত্র শক্তি। শক্তি যখন কল্মাষপাদের হাতে মৃত্যু বরণ করলেন, তখন তাঁর একমাত্র পুত্র পরাশর তখন মাতৃগর্ভে। জন্মের পর থেকে মাতা অদৃশ্যন্তী এবং পিতামহ ঋষি বশিষ্ঠ দেবের রক্ষণাবেক্ষেণে পরাশর ক্রমে মহাপন্ডিত হয়ে উঠলেন। একদিন পরাশর মুনি নদীপার হবেন - খেয়া নৌকা চালাচ্ছে মৎস্যগন্ধা নামে এক ধীবর-পালিত কন্যা (ধীবর একজন জেলেদের রাজা, একদিন ধীবর নদীতে মাছ ধরতে যাই আর যে মাছগুলো ধরেছিলেন তার একটি মাছের ভেতরে এক কন্যা শিশু পায় তখন ধীবর সেই মেয়েটির নাম রাখে মৎস্যগন্ধা)। তখন পরাশর মুনি বলেন মাতা আমি যমুনার ওপারে যাব আমাকে কি পার করে দিবেন? মৎস্যগন্ধা বলেন হে মুনিবর আসুন। পরাশর নৌকায় উঠে বসলেন। কিছুটা দূর যাওয়ার পরপরাশর মুনি বললেন মাতা আপনার নৌকায় মাছের গন্ধ আসছে কেন? 

তখন মৎস্যগন্ধা বললেন মুনিবর মাছের গন্ধ আমার শরীর থেকে আসছে। পরাশর জিজ্ঞাসা করলো, কিভাবে? মৎস্যগন্ধা বললেন , আমার জন্ম হয়েছিল মাছের ভেতরে আর জন্ম লগ্ন থেকে আমার শরীর থেকে মাছের গন্ধ আসছে। পরাশর মুনি বললেন মাতা আপনি নদী পারে আমাকে সহায়তা করেছেন, আপনি যদি চান আপনার এই উপকারের ফলস্বরূপ আমি আপনার জন্ম লগ্ন থেকে অর্জিত করা এই মাছের গন্ধ আমার যোগ তপস্যা শক্তি তেজর্ভূষী (তেজর্ভূষী বলতে ধোঁয়া সংস্কৃত ভাষায় ধোঁয়াকে র্ভূষী বলে) দ্বারা দূর করতে পারি। মৎস্যগন্ধা তখন বললেন, আমি আপনার নিকট কৃতজ্ঞ হবো। পরাশর মুনি বললেন,কিন্তু আপনি আমার তেজর্ভূষী ধারন করতে অক্ষম হইবেন যার ন্যায় আপনার কোলে এক পুত্র সন্তানের আবির্ভাব হবে। তখন মৎস্যগন্ধা বলেন, হে মহর্ষি আমি একজন কুমারী মেয়ে। 

পরাশরমুনি বললেন, এতে আপনার কুমারীত্বের কোনও ক্ষতি হবে না। মৎস্যগন্ধা তখন আর চিন্তানা করে বললো ঠিক আছে মহর্ষি। অতঃপর পরাশর মুনি বললেন মাতা সামনে একটি দ্বীপ দেখা যাচ্ছেঐখানে নৌকা স্থির করুন, অতঃপর মৎস্যগন্ধা যমুনার মধ্যেবর্তী সেই তীরে নৌকা স্থির করলেন। নৌকার একপারে মৎস্য গন্ধা অন্য পারে পরাশর অবস্থিত ছিলেন। তত্ক্ষণাত্ মহর্ষি পরাশর নৌকার ওপার থেকেতপস্যা শক্তি দ্বারা তেজর্ভূষী উৎপক্তি করলেন এবং পরাশরের কল্যাণে ঐ কন্যার গায়ের মৎস্যগন্ধ দূর হলো-তখন তাঁর নাম হলো পদ্মগন্ধা। কিন্তু পদ্মগন্ধার কোলে এক পুত্রের আবির্ভাব হয়, তখন পরাশর ঐ পুত্রের নামে রাখে কৃষ্ণ। যমুনার মধ্যেবর্তী এক দ্বীপে জন্ম গ্রহন করেছেন ব'লে তাঁর অপর পরিচয় হলো 'দ্বৈপায়ণ'। 

মৎস্যগন্ধা ঐ পুত্রসন্তানকে নিয়ে ধীবর রাজ গৃহে চলে যায়। পদ্মগন্ধার কোলে নবজাতক দেখে ধীবর প্রশ্ন করলেন পুত্রী তোমার কোলে এই শিশু কোথায় থেকে এলো? পদ্মগন্ধা তখন বিস্তারিত খুলে বলে, কিন্তু ধীবর রাজ বলেন পুত্রী তুমি কুমারী এই শিশু তোমার কাছে থাকলে তোমার বিবাহ অসম্ভব। তখন পদ্মগন্ধা বলল পিতা আমি আর কি করতে পারতাম? ধীবর রাজ বললো, চলো পুত্রী যার শক্তিতে এই শিশু আবির্ভূত সেই কোনও সমাধান দিবে। অতঃপর ধীবর রাজ ও পদ্মগন্ধা পরাশর মুনির আশ্রমের উদ্দেশ্য প্রস্থান করলেন। আশ্রমে গিয়ে ধীবর রাজমহর্ষি পরাশর কে বোঝালেন ও পদ্মগন্ধা বললেন, মহর্ষি আমার এই পুত্র সন্তান কে আপনার রক্ষণাবক্ষেণে রাখুন তাকে আপনার মতো একজন মহর্ষি মহাপন্ডিত হিসেবে গড়ে তুলুন। 

হে মহর্ষি আমি নিরুপায় আমার এই সন্তান আমারকাছে থাকলে আমার সতীত্ব নিয়েপ্রশ্ন উঠবে। তখন মহর্ষি পরাশর বলে দাও মাতা, ঐ পুত্র হস্তান্তর করার পর পদ্মগন্ধার নাম হয় সত্যবতী (পরবত্তী কালে হস্তিনারাজ শান্তনু এই সত্যবতীকেই বিয়ে করেছিলেন)( ব্যাসের জন্ম বৃত্তান্ত কথা সমাপ্ত )(ব্যাসদেবের জীবন বৃত্তান্ত পর্ব) :-দ্বৈপায়ণ ক্রমে ক্রমে বড় হয়ে উঠেছে কিন্তু তাঁর খেলারমতি বেশি। এ নিয়ে মহর্ষি পরাশর খুব চিন্তিত দ্বৈপায়ণকে কিভাবে পাঠ্যসূচি মনোযোগী করা যায়, এমন কি মহর্ষি বহুবার বোঝাই কিন্তু দ্বৈপায়ণ কিছুতেই বুঝতে রাজি নই। লেখাপড়ায় দ্বৈপায়ণ সম্পূর্ণ অমনোযোগী। 

দ্বৈপায়ণ যখন আটবছর বয়সী তখন একদিন মহর্ষিপরাশরের পাঠশালায় সব ছাত্ররা যখন জ্ঞান পাঠে মগ্ন তখন মহর্ষি পরাশর দেখলেন দ্বৈপায়ণ ক্রিয়াকর্মে মগ্ন,অতঃপর মহর্ষি দ্বৈপায়ণকে পাঠশালা থেকে তাড়িয়ে দিলেন। মন খারাপ করেদ্বৈপায়ণ আশ্রমের পুকুর ঘাটে গিয়ে বসেন। ঠিক সেই সময় ঐখানে আশ্রমের নারীরা পুকুর থেকে জল মাটির কলসী ভর্তি করে একটা স্থানে শান্ বাধানো(অর্থাৎ পাথরের পাকা ঘাট) ঘাটে রাখে সেখান থেকে আরেক নারী কলসী তুলে নিয়ে যায়। এভাবে (দীর্ঘদিন) দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে। যখন নারীরা পুকুর থেকে চলে যাই তখন প্রায় বেলা শেষ, দ্বৈপায়ণ তখন হাতমুখ দৌত করার জন্য ঘাটে নামে। হঠাৎ দ্বৈপায়ণের দৃষ্টি পরে পুকুর ঘাটের উপর, তিনি দেখলেন শান্ বাধানো ঘাটের ক্ষয় হয়েছে। তখন তিনি ঐ ঘাট স্পর্শ করে দেখলেন, আর গভীর ভাবে চিন্তা করলেন সামান্য মাটির পাত্রের র্ঘষণে যদি শান্ বাধানো ঘাটের ক্ষয় হতে পারে, তাহলে পুনঃ চেষ্টায় আমার জড় বুদ্ধি দূর করে পাঠশালায় অন্য সব শিক্ষাথীর্দের মতো জ্ঞানী হতে পারবো না কেন। 

দ্বৈপায়ণ তত্ক্ষণাত্ আশ্রমে ফিরে গিয়ে জ্ঞান পাঠে যোগ দেয়। মহর্ষি পরাশর দেখে দ্বৈপায়ণ ফিরে এসে জ্ঞান পাঠে যোগ দিয়েছে। সেদিন থেকে শুরু হয় পাঠ্যক্রম আর ক্রমেশে দ্বৈপায়ণ পাঠশালায় সর্ব শ্রেষ্ঠ শিক্ষাথীর্র গৌরব অর্জন করে। পূর্ণ জ্ঞান অর্জনসমাপন করার পরে দ্বৈপায়ণকে মহর্ষি পরাশর ব্যাস উপাধি প্রদান করে। সেদিন থেকে তাঁর নাম হয় 'কৃষ্ণ দ্বৈপায়ণ ব্যাসদেব'। কিছুদিন পর ব্যাসদেব যোগ তপস্যায় লিপ্ত হয় এবং কঠোর তপস্যা করে। তপস্যায় ব্যাসদেব পূর্ণ রুপে আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ করে এবং নিজেকে ত্বত্ত জ্ঞানেজ্ঞানান্নীত করে মহাজ্ঞানী স্বীকৃতি অর্জন করে।
(দ্বৈপায়ণ থেকে ব্যাসদেব নামে পরিচিতি পর্ব সমাপ্ত)(সনাতন ধর্মের গ্রন্থ।।।।।

(c) Sonju KarmaKar


0 comments

আপনি জানেন কি পবিত্র গঙ্গার জন্মের ইতিহাস ?

ভারতের প্রাচীন নদী গঙ্গা বহুযুগ ধরেই পূজিত হয়ে আসছেন মাতৃদেবী রূপে। পুরাণসাহিত্যে বহুভাবে তাঁর দেবীত্ত্ব ও মহাদেবীত্ত্বে মণ্ডিত করা হয়েছে। পদ্মপুরাণের এক কাহিনী অনুসারে প্রজাপতি ব্রহ্মার আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদ্যাশক্তি থেকে উৎপন্ন হন সাতজন শক্তি – সাবিত্রী, সরস্বতী, লক্ষ্মী, উমা, শক্তিবীজা, তপস্বিনী ও গঙ্গা। 

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, দেবী গঙ্গা মূল প্রকৃতির প্রধানাংশদের অন্যতম। আবার মহাভাগবত পুরাণ মতে, মূলপ্রকৃতির বিদ্যারূপা শক্তি গঙ্গা, দুর্গা, সাবিত্রী, লক্ষ্মী ও সরস্বতী এই পঞ্চ অংশে বিভক্ত হন। জগতের কল্যানার্থে দেবী গঙ্গা মর্ত্যলোকে জন্মগ্রহণ করেন গিরিরাজ হিমালয় ও মেনকার কন্যা রূপে। গঙ্গা দেবী পার্বতীর অগ্রজা। একবার দেবতাদের অনুরোধে সঙ্গীতেশ্বর মহাদেব গান আরম্ভ করেন। সে গান শ্রবণ করে বিষ্ণুর দেহ বিগলিত হয়ে গঙ্গার জলে মগ্ন হতে থাকে। তখন ব্রহ্মা দ্রবীভূত বিষ্ণুময়ী গঙ্গাকে নিজ কমণ্ডলুতে ধারণ করেন। বামন অবতার কালে এই গঙ্গার জল দ্বারাই তিনি শ্রী হরির চরণ ধৌত করাতে গঙ্গা হন বিষ্ণুপদী। তারপর রাজা সগরের বংশধর ভগীরথের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে দেবী যখন মর্ত্যে অবতরণ করেন তখন তিনি প্রাপ্ত করেন মহাদেবের জটায় তাঁর নিত্যস্থান। এই কারণেই আমরা বহুস্থানে পার্বতী ও গঙ্গার মধ্যে এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ঈর্ষা মলিন সম্পর্ক দেখতে পাই। কিন্তু যিনি স্বীয় কণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘একৈবাহং জগত্যত্র দ্বিতীয়া কা মমাপরা’ তাঁর আবার প্রতিদ্বন্দ্বী কে?


বৃহদ্ধর্মপুরানে এক অদ্ভূত সুন্দর কাহিনী আছে। একবার দেবী পার্বতীর সখী জয়া ও বিজয়া তাঁর কাছে প্রার্থনা করেন সকল তীর্থ দর্শন ও তীর্থস্নান করাতে। দেবী তাঁদের অভিলাষপূর্তির আশ্বাস প্রদান করে তাঁদের গঙ্গাতটে নিয়ে যান ও সেখানে গঙ্গা দর্শন করিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। সখীদ্বয় বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেন যে, দেবী তাঁদের একটিমাত্র তীর্থ দর্শন কেন করালেন। দেবী পার্বতী তখন বলেন যে গঙ্গা সর্বতীর্থজননী ও সর্বধর্মের প্রসবিত্রী। তখন জয়া-বিজয়া গঙ্গাস্তুতি করেন ও অবশেষে দেবী গঙ্গা চতুর্ভুজা মকরবাহিনী রূপে আবির্ভূত হন। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিবাদি সকল দেবতা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর আরাধনা করেন ও সকল তীর্থ মূর্তিমান হয়ে গঙ্গার দেহ থেকে উৎপন্ন হয়ে আবার তাঁরই মধ্যে বিলীন হন। সব শেষে গঙ্গা ও পার্বতী হন একরূপা। জয়া-বিজয়া উপলব্ধি করেন যে গঙ্গা ও দুর্গা স্বরূপতঃ এক ও অভিন্ন।
.
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া


কার্টেসীঃ তন্ময় সরকার

0 comments

জাতপাত নিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমৎভগবতগীতায় কি বলেছেন ?


জাতপাত নিয়ে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ শ্রীমৎভগবতগীতায় বলেছেন,

চতুর্বনংময়া সৃষ্টং গুণ কর্ম বিভাগশ’ অর্থাত্ গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে চারটি বর্ণ সৃষ্টি করা হয়েছে।যারা ভালো কাজ করবে ও জ্ঞানী তারা উঁচু জাত ও যারা খারাপ কাজ করবে তারা নীচু জাত।সুতরাং জাতপাত জন্ম নয়, কর্ম অনুসারে।

আসুন এবার দেখি সনাতন সমাজে বহুল প্রচলিত ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র সম্পর্কে আমাদের পবিত্র ‘বেদ’ এ কি আছে—

ঋগবেদ ১.১১৩.৬

"একজন জ্ঞানের উচ্চ পথে(ব্রাক্ষ্মন) ,অপরজন বীরত্বের গৌরবে(ক্ষত্রিয়) , একজন তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে(পেশাভিত্তিক), আরেকজন সেবার পরিশ্রমে(শূদ্র)। সকলেই তার ইচ্ছামাফিক পেশায়,সকলের জন্যই ঈশ্বর জাগ্রত।

ঋগবেদ ৯.১১২.১

একেকজনের কর্মক্ষমতা ও আধ্যাত্মিকতা একেক রকম আর সে অনুসারে কেউ ব্রাক্ষ্মন কেউ ক্ষত্রিয় কেউ বেশ্য কেউ শূদ্র।

ব্রাক্ষ্মন কে? ঋগবেদ ৭.১০৩.৮

যে ঈশ্বরের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত, অহিংস,সত্‍,নিষ্ঠাবান, সুশৃঙ্খল,বেদ প্রচারকারী, বেদ জ্ঞানী সে ব্রাক্ষ্মন।

ক্ষত্রিয় কে?

ঋগবেদ ১০.৬৬.৮

দৃড়ভাবে আচার পালনকারী, সত্ক৮র্মের দ্বারা শূদ্ধ, রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন,অহিংস,ঈশ্বর সাধক,সত্যের ধারক ন্যায়পরায়ন,বিদ্বেষমুক্ত ধর্মযোদ্ধা,অসত্‍ এর বিনাশকারী সে ক্ষত্রিয়।

বৈশ্য কে? অথর্ববেদ ৩.১৫.১

দক্ষ ব্যবসায়ী দানশীল চাকুরীরত এবং চাকুরী প্রদানকারী।

শূদ্র কে?

ঋগবেদ ১০.৯৪.১১

যে অদম্য,পরিশ্রমী, ¬ অক্লান্ত জরা যাকে সহজে গ্রাস করতে পারেনা,লোভমুক্ত ¬ কষ্টসহিষ্ণু সেই শূদ্র।

এছাড়াও,

রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।

বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।

বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।

ঋষি বিশ্বামিত্র অব্রাক্ষণ হিসেবে জন্ম নিলেও পরে কর্ম ও জ্ঞান দিয়ে ব্রাক্ষণ হন,এছাড়া শ্রী রাম কথিত শর্বরীকে নবধারা ভক্তি জ্ঞান দিয়েছেন,ভক্ত রবিদাসকে অপমান করায় স্বর্গের ঘন্টাপর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়,ভগবান ভক্তের জাতপাত দেখেন না,দেখেন কর্ম ও ভক্তি।

অনেকে হয়তো বলবেন নীচুজাতদের নিয়ে অনেক কিছু বলা আছে।

কিন্তু দাদা,গীতায় বলা আছে জন্ম নয় কর্ম অনুযায়ী জাতপাত।মানে ভালো কর্ম উঁচু জাত ও খারপ কাজ করলে নীচু জাত।

খারপ কাজ করলে শাস্তির কথা তো সবখানেই আছে,এমনকি দেশের সংবিধানেও।

তাই আসুন জন্ম অনুসারে নয়,কর্ম অনুসারে জাপাত হয় এটাকে মানি।প্রচলিত জাতপাত প্রথাকে বিলুপ্ত করি।

শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন,এই ধর্মযুদ্ধে সাথি হোন।

পতিত পাবন শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য
0 comments

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বিষ্ময়কর অলৌকিক রহস্য !


পৃথিবীতে রহস্যের শেষ নেই। যা মানুষের মনে 
কৌতুহল তৈরি করে। 


চার ধামের মধ্যে পুরীর এই জগন্নাথ মন্দির অবশ্যই অন্যতম। সারাবছর ধরেই দেশে বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তরা জগন্নাথ দেশের দর্শনের জন্য পুরীর এই মন্দিরে এসে ভিড় জমান। এই ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দির ১০৭৮ সালে তৈরি হয়। ১১৭৪ সালে তা মেরামতের পর আজকের জগন্নাথ মন্দিরর রূপ ধারণ করে।


তাই আজ আপনাদের বলব পুরীর শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের বিস্ময়কর ও অলৌকিক রহস্য।


১. পুরীর মন্দিরের মাথায় যে পতাকাটি ওড়ে সেটি প্রতিদিন বদলানো হয়, আর এটি বদলানোর জন্য একটি ১২বছরের ছেলে লাগে যে এই পতাকাটি প্রতিদিন বদলায় |
২. এই মন্দিরের কোনো ছায়া পরে না।
৩. মন্দিরের চূড়ার পতাকা বায়ুর উল্টো দিকে ওড়ে।
৪. মন্দিরের ওপর দিয়ে কোনো বিমান,পাখি উড়ে যেতে পারে না।
৫. মন্দিরের সিংহ দ্বারে সমূদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায়।
৬. মহাপ্রসাদ রান্না হয় বিশালাকৃতির সাতটি মাটির পাত্রে একটির উপর আরেকটি একই সাথে।। কিন্তু, অলৌকিকভাবে উপরের পাত্রের রান্না শেষ হয় সবার আগে।
৭. ভক্ত সংখ্যা কম বেশি হলেও প্রসাদের কম বেশি হয় না। আজ পর্যন্ত কেউ প্রসাদ না পেয়ে ফিরে আসেনি।
৮. যে সময় মন্দিরে নিরবতা পালন করা হয়, তখন কোন পশু পাখি এমনকি টিকটিকিও শব্দ করে ডাকে না।
৯. জগন্নাথ দেবের একটা হাঁড়ির ভোগ যদি আপনারা সপরিবারে খান তবুও এইভোগ শেষ করতে পারবেননা সে যতই ছোটো ভোগের হাঁড়ি হোকনা কেনো।
১০. মন্দিরের রান্নাঘরের ভিতর দিয়ে গঙ্গানদী প্রবাহমান,যা বাইরে থেকে দেখা যায় না।

Collected from:  জানা-অজানা

0 comments

শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বিভূতি যোগে (১০ম অধ্যায়) তাঁর অনন্ত বিভূতির সামান্য কিছু উল্লেখ করেছেন (১০/২০ - ৩৯)

দেবতা

১) সমস্ত দেবতাদের মধ্যে – আমি ইন্দ্র (স্বর্গরাজ)

২) আদিত্যদের মধ্যে – আমি বিষ্ণু

৩) মরুতদের মধ্যে – আমি মরীচি

৪) রুদ্রদের মধ্যে – আমি শিব

৫) যক্ষ ও রাক্ষসদের মধ্যে – আমি

কুবের


৬) বসুদের মধ্যে আমি – আমি অগ্নি

৭) সেনাপতিদের মধ্যে – আমি

কার্তিক
৮) গন্ধর্বদের মধ্যে – আমি চিত্ররথ

৯) স্রষ্টাদের মধ্যে – আমি ব্রহ্মা

১০) দৈত্যদের মধ্যে – আমি ভক্ত

প্রহ্লাদ

১১) দণ্ডদাতাদের মধ্যে – আমি যম

১২) পিতৃপুরুষদের মধ্যে – আমি অর্যমা

১৩) সন্তান উৎপদানের হেতু – আমি কন্দর্প বা কামদেব

মুনি-ঋষি

১৪) মুনিদের মধ্যে – আমি ব্যাস

১৫) মহর্ষিদের মধ্যে – আমি ভৃগু

১৬) দেবর্ষিদের মধ্যে – আমি নারদ মুনি

১৭) সিদ্ধদের মধ্যে – আমি কপিল মুনি

১৮) পুরোহিতদের মধ্যে – আমি বৃহস্পতি

১৯) কবি বা চিন্তাবিদদের মধ্যে – আমি শুক্রাচার্য মানব এবং রাজা

২০) পাণ্ডবদের মধ্যে – আমি অর্জুন

২১) মানুষদের মধ্যে – আমি সম্রাট বা রাজা

২২) বৃষ্ণিদের মধ্যে – আমি বাসুদেব

প্রাণী

২৩) অশ্বসমূহের মধ্যে – উচ্চৈঃশ্রবা

২৪) শ্রেষ্ঠ হস্তীসমূহের মধ্যে – আমি ঐরাবত

২৫) গাভীসমূহের মধ্যে – আমি

কামধেনু

২৬) সর্পমূহের মধ্যে – আমি বাসুকি

২৭) নাগদের মধ্যে – আমি অনন্ত

২৮) জলচরসমূহের মধ্যে – আমি বরুণদেব

২৯) মৎস্যসমূহের মধ্যে – আমি মকর

৩০) পশুদের মধ্যে – আমি সিংহ

৩১) পক্ষীসমূহের মধ্যে – আমি গরুড় আইন-শৃঙ্খলা

৩২) বশীকারীদের মধ্যে – আমি কাল

৩৩) শস্ত্রধারীদের মধ্যে – আমি পরশুরাম

৩৪) বঞ্চনাকারীদের মধ্যে – আমি

দ্যূতক্রীড়া

৩৫) দমনকারীদের মধ্যে – আমি দণ্ড

৩৬) অস্ত্রসমূহের মধ্যে – আমি বজ্র

৩৭) হরণকারীদের মধ্যে – আমি সর্বগ্রাসী মৃত্যু

৩৮) সংহারকারীদের মধ্যে – আমি মহাকাল রুদ্র

গুণাবলী

৩৯) আমি জ্ঞানীদের – জ্ঞান

৪০) গুহ্যধর্মের মধ্যে – আমি মৌন

৪১) বিজয়কামীদের মধ্যে – আমি নীতি

৪২) আমি তেজস্বীদের – তেজ

৪৩) আমি নারীদের – কীর্তি, শ্রী, বাণী, স্মৃতি, মেধা, ধৃতি, ক্ষমাগুণ

৪৪) আমিই উদ্যমীদের – উদ্যম

৪৫) আমিই বিজয়

৪৬) আমি বলবানদের – বল

প্রকৃতি

৪৭) জ্যোতিষ্কসমূহের মধ্যে – আমি কিরণশালী সূর্য

৪৮) নক্ষত্রসমূহের মধ্যে – আমি চন্দ্র

৪৯) পর্বতসমূহের মধ্যে – আমি সুমেরু

৫০) স্থাবরসমূহের মধ্যে – আমি হিমালয়

৫১) জলাশয়সমূহের মধ্যে – আমি সাগর

৫২) বৃক্ষসমূহের মধ্যে – আমি অশ্বথবৃক্ষ

৫৩) পবিত্রকারীদের মধ্যে – আমি বায়ু

৫৪) নদীসমূহের মধ্যে – আমি গঙ্গা

৫৫) সৃষ্টবস্তুসমূহের মধ্যে – আমি আদি, মধ্য ও অন্ত (যেমন – ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর)

৫৬) মাসসমূহের মধ্যে – আমি অগ্রহায়ণ

৫৭) ঋতুসমূহের মধ্যে – আমি বসন্ত

৫৮) আমি অনন্ত মহাকাল

৫৯) আমি ছাড়া স্থাবর-জঙ্গম কোনো বস্তুরই অস্তিত্ব থাকতে পারে না

দর্শন

৬০) আমিই সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থানকারী পরমাত্মা

৬১) আমিই সমস্ত জীবের জীবনীশক্তি (চেতনা)

৬২) আমিই সর্বভূতের আদি, মধ্য ও অন্ত

৬৩) আমি সর্বভূতের বীজ

৬৪) ভাবীকালের বস্তুসমূহের মধ্যে – আমিই উদ্ভব

৬৫) ইন্দ্রিয়সমূহের মধ্যে – আমি মন

৬৬) ছন্দসমূহের মধ্যে – আমি

গায়েত্রী

৬৭) সমস্ত বর্ণ বা অক্ষরের মধ্যে – আমি ‘অ’

৬৮) সমাসসমূহের মধ্যে – আমি দ্বন্দ্ব সমাস

৬৯) সমস্ত বিদ্যার মধ্যে – আমি অধ্যাত্ম বিদ্যা

৭০) তার্কিকদের বাদ, জল্প ও বিতণ্ডার মধ্যে – আমি সিধান্তবাদ

৭১) সামবেদের মধ্যে – আমি বৃহৎসাম

বৈদিক মন্ত্র

৭২) সমস্ত বাক্যসমূহের মধ্যে – আমি ওঁকার

৭৩) যজ্ঞ সমূহের মধ্যে – আমি (হরিনাম) জপযজ্ঞ

৭৪) বেদসমূহের মধ্যে – আমি সামবেদ

Krishna Online.com
0 comments

ভগবদগীতা কেন অধ্যায়ন করব?

ভগবদগীতা আপনাকে নিমোক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান প্রদান করেঃ-

১। সকল শোক ও উদ্বেগ থেকে কিভাবে মুক্ত হওয়া যায়?
    (ভঃগীঃ ২/২২)

২। শান্তি লাভের জন্য স্থির মন ও দিব্য বুদ্ধিমত্তা লাভের উপায় কি?
    (ভঃগীঃ ২/৬৬)

৩। কেবল ভগবৎপ্রসাদেই কেন গ্রহণ করা উচিত?
     (ভঃগীঃ ৩/৩১)

৪। কর্তব্যকর্মে নিয়োজিত থেকে মন নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব কি?
    (ভঃগীঃ ৩/৪৩)

৫। কিভাবে জীবনে পূর্ণতা লাভ করা যায়?
    (ভঃগীঃ ৪/৯)

৬। ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ কিভাবে অর্জন করা যায়?
    (ভঃগীঃ ৪/১১)

৭। কিভাবে সদগুরু শরণাগত হতে হয়?
   (ভঃগীঃ ৪/৩৪)

৮। পাপীরা দুঃখের সাগর অতিক্রম করবে কিভাবে?
    (ভঃগীঃ ৪/৩৬)

৯। মানুষ কেন দুঃখের ফাঁদে আটকে পড়ে?
    (ভঃগীঃ ৫/২২)

১০। শান্তির সূত্র কি?
     (ভঃগীঃ ৫/২৯)

১১। মন কার শত্রু ও কার বন্ধু?
     (ভঃগীঃ ৬/৬)

১২। মন নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে শান্তি অর্জন করা সম্ভব কি?
     (ভঃগীঃ৬/৭)

১৩। চঞ্চল মনকে কিভাবে জয় করা যায়?
    (ভঃগীঃ ৬/৩৫)

১৪। পূর্ণ জ্ঞান কি?
     (ভঃগীঃ ৭/২)

১৫। কিভাবে মুক্তি অর্জন করা যায়?
     (ভঃগীঃ ৭/৭)

১৬। মায়াকে অতিক্রম করার গোপন রহস্য কি?
     (ভঃগীঃ ৭/১৪)

১৭। পাপ কত প্রকার? কিভাবে পাপকে দগ্ধীভূত করতে হয়?
      (ভঃগীঃ ৯/২)

১৮। আমাদের পরম লক্ষ্য কি?
     (ভঃগীঃ ৯/১৮)

১৯। মানুষ কি তার পছন্দমত গ্রহলোকে যেতে পারে?
      (ভঃগীঃ ৯/২৫)

২০। আমাদের অর্পিত দ্রব্যসমগ্রী কি ভগবান গ্রহন করেন?
     (ভঃগীঃ ৯/২৬)

২১। এই জড় জগতে সুখ লাভের উপায় কি?
      (ভঃগীঃ ৯/৩৪)

২২। মানব জীবনের পরম সিদ্ধি কি?
      (ভঃগীঃ ১০/১০)

২৩। আমাদের হৃদয়ে সঞ্চিত কলুষতা কিভাবে দূর করা যায়?
       (ভঃগীঃ ১০/১১)

২৪। পরম পুরুষোত্তম ভগবান কে?
      (ভঃগীঃ ১০/১২-১৩)

২৫। কৃষ্ণ অর্জুনের নিকট বিশ্বরূপ প্রকাশ করেছিলেন কেন?
       (ভঃগীঃ ১১/১)

২৬। ভগবদগীতার সার কথা কি, আমাদের ক্লেশের কারণ কি?
      (ভঃগীঃ১১/৫৫)

২৭। রজো ও তমো গুণের কারণ কি?
     (ভঃগীঃ ১৪/২৬)

২৮। আমরা কি ভগবানকে দেখতে পারি, কথা বলতে পারি এবং তাঁর কথা শ্রবণ করতে পারি?
       (ভঃগীঃ ১৫/৭)

২৯। দেহত্যাগের সময় জীব তার সাথে কি নিয়ে যায়?
       (ভঃগীঃ ১৫/৮)

৩০। কিভাবে ভগবানের কাছে পৌঁছাতে হয়?
       (ভঃগীঃ ১৮/৬৬)

আন্তজার্তিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ - ইসকন
0 comments

ধর্ম, আদর্শ, গুরু, সদগুরু, ভগবান, ঈশ্বর, হরি, নারায়ন? এসব কি অলৌকিক ব্যাপার ও শব্দ?

ধর্ম:

ধর্মই স্বাস্থ্য ও শান্তির উপকরণ পাপই রোগ ও অশান্তির মূল কারণ

ধর্ম = ধৃ + মন, ধৃ ধাতুর অর্থ হলো ধারণ করা। অর্থাৎ যাহা অস্তিত্বকে ধারণ করে।

“যে অনুশীলনা সত্তাকে ধারণ, পালন ও পোষণে সম্বর্ধিত করে তোলে, তোমার বেলায় যেমন, অন্যের বেলায়ও তেমন। এগুলি হচ্ছে ধর্মাচরণ।” (ধৃতি-বিধায়না)

যার উপর যা কিছু সব দাড়িয়ে আছে, তাই ধর্ম, আর তিনিই পরমপুরুষ। (সত্যানুসরণ)

বাঁচা বাড়ার মর্ম যা, ঠিকই জেনো ধর্ম তা।

বাচঁতে নরের যা যা লাগে, তাই নিয়েইতো ধর্ম জাগে।

অন্যে বাচায় নিজে থাকে, ধর্ম বলে জানিস তাকে। (শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র)




আদর্শ:

আদর্শ = আ + দৃশ + অল্, অর্থাৎ যার ভিতরে নিজেকে প্রতিফলিত করে দেখা যায়। আর মানুষ দেখতে পায় তার পথ যাতে জীবন বৃদ্ধিকে সহজ ও অটুট ভাবে আলিঙ্গন করতে পারে।

তাই আদর্শ মানে আয়না বা দর্পণ স্বরুপ।

“সব যা কিছু যার ভিতরবাঁচা বাড়ার উৎস

জীবন বৃদ্ধির অনুকূল হয়, তাই আদর্শ” (শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র)



গুরু:

গু = অন্ধকার আর রু =নাশ করা। অজ্ঞাণতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে যিনি নিয়ে যান, তিনি গুরু।

“বিপাক পথে হাত ধরে যে, চলার কায়দা জানিয়ে দেয়

তাকেই জানিস গুরু বলে, তাকে ধরলে নেইকো ভয়” (শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র)

যিনি জানাইতে পারেন শ্রদ্ধা, ভক্তি, স্তুতি ইত্যাদি দ্বারা কোন কিছুকে হজম করিয়া, মানুষকে তাহা বিজ্ঞাপিত করিতে পারেন, তিনি গুরু। (আলোচনা প্রসঙ্গে)




সদ্ গুরু

যার কোন মূর্ত আদর্শ কর্মময় অটুট আসক্তি সময় ও সীমাকে ছাপিয়ে তাঁকে সহজভাবে ভগবান করে তুলেছে। যার বাক্য, দর্শন ও বিজ্ঞান মনের ভালো ও মন্দ বিচ্ছিন্ন সংস্কারগুলিকে ভেদ করে ঐ আদর্শেই সার্থক হয়ে উঠেছে, তিনিই সদ্গুরু । (সত্যানুসরণ)

বাঁচা ও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলিকে যাঁর excellence এনেছেন, তিনি সদ্ গুরু। (নানা-প্রসঙ্গে)


ভগবান:

জগতের যার সমস্ত ঐশ্বর্য্য জানা, ভালবাসা ও কর্ম যার ভিতর সহজ উৎসারিত, আর যাঁর প্রতি আসক্তিতে মানুষের বিচ্ছিন্ন জীবন ও জগতের সমস্ত বিরোধের চরম সমাধান লাভ হয়, তিনিই মানুষের ভগবান। (সত্যানুসরণ)



ধনবান তিনিই যার ধন আছে। তেমনি জ্ঞানবান তিনিই যার জ্ঞাণ আছে। বান এর আগে ধন ও জ্ঞান এ দুটিই বিশেষণ পদ। তাহলে আমরা একথা নিশ্চয় বলতে পারি, ভগবান শব্দের ভগ শব্দটি একটি বিশেষণ তথা গুণবাচক শব্দ। ভগ হলো ছয়টি গুণের সমন্বয়। তাহলে চলুন দেখা যাক ঐ ছয়টা গুণ কি:

১. এশ্বর্য্য: সমগ্র ঐশ্ ে‡ র্যের ঐশ্বর্য্য, ঈশ্বরের ভাব, আধিপত্যের ভাব।

২. বীর্য্য: বিক্রম বীর, ঈর ধাতুর অর্থ হলো প্রেরণা। প্রেরণা যাতে actively move করছে, তিনি বীর।

৩. যশ: যশ্ ধাতুর অর্থ হলো বিস্তার ভাব।

৪. আশ্রয়: শ্রী ধাতু থেকে এসেছে। শ্রী ধাতুর অর্থ হলো সেবা।

৫. জ্ঞাণ: জ্ঞা ধাতু থেকে এসেছে। জ্ঞা ধাতুর অর্থ জানা।

৬. বৈরাগ্য: কোন কিছুতে রঞ্জিত না হওয়া। বি-পূর্বক রঞ্জন ধাতু, যার অর্থ সব সময় uncolored থাকা।

এই ছয়গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান তিনিই ভগবান। (নানা-প্রসঙ্গে)




ঈশ্বর:

ঈশ্বর শব্দটি এসেছে ঈশ্ ধাতু থেকে। ঈশ্ ধাতুর অর্থ আধিপত্য বা বিস্তার।

ঈশ্বর মানে ধারণ, পালন, সম্বেগ স্বতঃ উৎসারণশীল যেখানে তাই, তিনি সৎপদ অর্থাৎ সাত্বত্য অনুচলনই তাঁর স্বভাব। (আদর্শ বিনায়ক)

হরি

যিনি সবকিছু হরণ করেন তিনিই হরি। হরি মানে যিনি জগৎকে নিজের দিকে টেনে নেন।

যঃ পাপিন্যাং সর্ব পাপং হরতি হরিঃ (আলোচনা প্রসঙ্গে)

۞ আমরা একটা কথা হর-হামেশা শুনতে পাই,

‘রাখে হরি মারে কে?’

আসলে এ কথাটি আমরা যে অর্থে বলি তা কি সত্যি! তাহলে দেখি আমাদের অনুসন্ধান কি বলে।

এ কথাটির অর্থ হলো, হরিকে যে রাখে তাকে কেউ মারতে পারে না। অন্যদিকে, হরিকে যে মেরে রাখে তাকে কেউ বাচাঁতে পারে না। নিত ভোগ, অর্চ্চনা ও ইষ্টভৃতির মাধ্যমে আমাদের অন্তরের হরিকে সদা জাগ্রত ও জীবন্ত রাখতে হয়। হিন্দিতে বলা হয়, ‘যাকো রাখে সাঈয়া, মার ছাঁকে না কোঈ’।




নারায়ন

নারায়ন শব্দটি এসেছে র্না ধাতু থেকে। র্না ধাতুর অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া। আয়ন শব্দটির অর্থ পথ।

তাহলে নারায়ন শব্দটির অর্থ দাড়ায়, বৃদ্ধি পাওয়ার পথ।

Present ideal of it time যিনি, তিনিই হলেন পথ। তাকে বলা যায় নারায়ন, তাঁর Realization অনুযায়ী তিনি যে নাম দেন ঐ নাম করায় দ্রুত উন্নতি হয়। ঐ মানুষটাই হলেন নামী। তাঁর ধ্যাণ ও নাম করতে হয়, নামে শরীর মুক্তি। 
0 comments

আপনি জানেন কি ভারতের গুজরাটের দ্বারকায় অবস্থিত দ্বারকাধীশ মন্দিরটি শ্রীকৃষ্ণের প্রপৌত্র বজ্রনাভ নিজে নির্মাণ করেছিলেন??

দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকা, গুজরাট

দ্বারকাধীশ অর্থ দ্বারকার অধীশ্বর, এ নামেই এ মন্দিরে পুজিত হন শ্রীকৃষ্ণ যেটি ভারতের গুজরাটের দ্বারকায় গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত। ধারনা করে হয় এ মন্দির শ্রীকৃষ্ণের রাজত্ব দ্বারকা নগরী পত্তনের পরে নির্মাণ করা হয়। দ্বারকা নগরীর মূল অংশ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়। এ মন্দিরটি ২৫০০ বছরের পুরন, যদিও আদি মন্দিরটি আর নেই। মন্দিরটি ৭২ টি পিলারের উপর সন্নিবেশিত এবং ৫ তলা। এ মন্দিরের ধর্মীয় রীতিনীতি স্বয়ং শ্রীবল্লভাচারজ ও শ্রী ভিতেলেশান্তজি তৈরি করে দিয়ে গেছেন।

.
বর্তমান মন্দিরটি ১৬ শতকে তৈরি। বলা হয়ে থেকে আদি মন্দিরটি নির্মাণ করতে বলেন শ্রীকৃষ্ণের প্রপৌত্র বজ্রনাভ এবং যার নাম ছিল হরিগৃহ।বলা হয়ে থাকে বিশ্বকর্মা এ মন্দির নির্মাণ করেন। এ মন্দিরটি চার ধামের এক ধাম। আদিশংকরাচারজ এ মন্দিরটি দর্শন করেন, এজন্য এমন্দিরে একটি স্মারক স্থাপন করা হয়েছে। এ মন্দিরটি ১০৮ দিব্যদেশম এর একটি।

মন্দিরের দক্ষিন প্রবেশ পথকে বলা হয় স্বর্গ দ্বার, যা ৫৬ টি সিঁড়ির মাধ্যমে গোমতী নদীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। আর উত্তর দিকের প্রবেশ পথকে বলা হয় মোক্ষ দ্বার। মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের চতুর্ভুজ মূর্তি স্থাপিত যার চার হাতে শঙ্খ,চক্র, গদা ও পদ্ম। মূরতিটি কাল কোষ্ঠী পাথরে তৈরি। এ মূর্তিটি প্রায় এক বছর লুকিয়ে রাখা ছিল কারন মুসলিম শাসকরা মাঝে মাঝে এখানে হামলা করত। ১৬ শতকে মন্দিরটির পুননিরমান শেসে আবার মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এ মন্দিরটি ইউনেস্কো কত্রিক ওয়ার্ল্ড হেরিতেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত।

Jago Banglar Hindu 
0 comments

বর্ণ প্রথা ও এ বিষয়ে সবিশেষ

সকল সনাতন বন্ধুদের নমস্কার । আমাদের সনাতন ধর্মে বর্ণপ্রথা আছে। অনেক সনাতন বন্ধু ও অন্যধর্মের বন্ধুগণ এই বর্ণপ্রথা সম্পর্কে না জেনে অজ্ঞতাবশত এই বর্ণপ্রথা নিয়ে লজ্জিতবোধ করে থাকেন। সেসব বন্ধুদেরকে এই বর্ণপ্রথা সম্পর্কে জানানোর জন্যই এই লেখা।

প্রথমেই বলে নিই, হিন্দু সমাজে চারটি বর্ণ প্রচলিত আছে। যথাঃ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়,বৈশ্য ও শূদ্র। আমরা মনে করি যে, একজন ব্রাহ্মণের পুত্রই ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়ের পুত্রই ক্ষত্রিয়, বৈশ্যের পুত্রই বৈশ্য, শূদ্রের পুত্রই শূদ্র। আসলে ঘটনাটি সঠিক নয়।


এই সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে ব্রাহ্মণ কি, ক্ষত্রিয় কি, বৈশ্য কি এবং শূদ্র কি ?

ব্রাহ্মণ :- ব্রহ্মজ্ঞানে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি সত্ত্বঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত।
ক্ষত্রিয় :- শাসক বা যোদ্ধা সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি, যিনি রজঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত।
বৈশ্য :- ব্যবসায় সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি, যিনি রজঃ ও তমঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত ।
শূদ্র :- শ্রমজীবী সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন শূদ্র, যিনি তমঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত ।

অর্থাৎ ব্রাহ্মণরা তপস্যা করেন, ক্ষত্রিয়রা শাসন ও যুদ্ধ করেন, বৈশ্যরা ব্যবসায় করেন এবং শূদ্ররা শ্রমবিক্রি করে জীবনযাপন করে । আমরা এর মাধ্যমে বুঝতে পারছি যে, যে যেরকম কর্ম করবে, সে সেই উল্লিখিত বর্ণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। অর্থাৎ একজন শূদ্রের পূত্র যদি ব্রহ্মজ্ঞানে দীক্ষিত হয় তাহলে সে ব্রাহ্মণ হবে এবং ঠিক এভাবেই একজন ব্রাহ্মণের পুত্র যদি শ্রমবিক্রি করে জীবনযাপন করে তাহলে সে শূদ্র হবে। এইযে বর্ণবিভাজন-এটা কিন্তু জন্মভেদে নয় কর্মভেদে।

বর্ণপ্রথা সম্পর্কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলেছেন :-

চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ তস্য কর্তারমপিমাং বিদ্ব্যকর্তারসব্যয়ম (৪/১৩) অর্থাৎ,

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন আমি চার বর্ণের রচনা করেছি। কিন্তু আমি মানুষকে চারটি শ্রেণিতে বিভাগ করিনি। গুণের আধারে কর্মকে চারভাগে বিভক্ত করেছি। গুণ এখানে মানদন্ড। কর্ম একটাই-নিয়ত কর্ম, আরাধনা। অবস্থাভেদে এই কর্মকেই উঁচুনিচু শ্রেণিতে বিভাগ করা হয়েছে। সুতরাং ব্রাহ্মণের সন্তান হলেই যে ব্রাহ্মণ হবে এমনটি নয়। কোন শূদ্রের সন্তানও ব্রাহ্মণ হতে পারে। আবার শূদ্রের সন্তান যে শূদ্র হবে এমনটি নয়। কোন ব্রাহ্মণের সন্তান যদি শ্রমবিক্রি করে জীবনযাপন করে তাহলে সে শূদ্র বলে গণ্য হবে। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে নিজ নিজ কর্মের উপর।

 কিন্তু কালক্রমে এই বর্ণপ্রথা জন্মগত হয়ে দাঁড়ায়, যেমন – ব্রাহ্মণের সন্তান হয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়ের সন্তান হয় ক্ষত্রিয়, অনুরূপভাবে বৈশ্য, শূদ্র জন্মগত অধিকারে পরিচিত হয়। এর ফলে দেখা গেল একই পরিবারের চার সন্তান চার রকম গুণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু জন্মগত কর্মবিভাজনে তাদের চারজনকে একই কর্ম করতে হচ্ছে। ফলে কর্মের দক্ষতা এরা দেখাতে পারছে না। বর্ণভেদ পেশাগত ; অবশ্যই জন্মগত নয়। ঋগ্বেদের একটি মন্ত্রে বর্ণিত হয়েছে, একজন ঋষি বলছেন, আমি বেদমন্ত্র দ্রষ্টা ঋষি, আমার কন্যা যব ভেজে ছাতু বানিয়ে বিক্রি করে এবং আমার ছেলে চিকিৎসক। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বর্ণভেদ বংশানুক্রমিক ছিল না। যদি বংশানুক্রমিক থাকত তাহলে তার কন্যা ও পুত্র আলাদা কর্ম করত না। 

আরও একটি উদাহরণ হচ্ছে বিশ্বামিত্র। যিনি একজন ক্ষত্রিয়ের রাজপুত্র ছিলেন এবং তিনি তপস্যার বলে ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করেছিলেন। তাছাড়া বৈশ্য থেকে ব্রাহ্মণ হওয়ার উদাহরণও আমাদের সনাতন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ গুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু একালেও বংশের ভিত্তিতে বর্ণ নির্ধারিত হচ্ছে। এ-বংশানুক্রমিক বর্ণভেদ প্রথা হিন্দুধর্মাবলম্বী একত্বের জন্য প্রতিবন্ধক এবং ভ্রাতত্বের বন্ধনের প্রতিকূল। সমাজ পরিবর্তনশীলতায় এ-প্রথার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রেই সমাজের সচেতনত পরিবারগুলো এ- প্রথার গোঁড়ামির প্রতিকূলে অবস্থান নিয়ে পারিবারিক কাজ সম্পাদন করছেন। পেশাগত বর্ণভেদের মূল লক্ষ্য ছিল পেশার উৎকর্ষসাধন ও নৈতিক গুণাবলির বিকাশের মাধ্যমে সামাজিক মঙ্গলসাধন করা। কিন্তু এই বর্ণপ্রথা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সবাই এর বিরোধী। তাই এ-দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন বাঞ্ছনীয়।


#সংগৃহিত_রাজন বাবু
0 comments

কলি যুগ শেষ হলে তারপর কি হবে? মহাপ্রলয় ? আমাদের ধর্মে এ সম্পর্কে কি বলা আছে?

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর মহারাজ পরীক্ষিতের রাজত্বকালের মধ্যে কলিযুগ শুরু হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ হাজার বছর গত হয়েছে।
সুতরাং কলিযুগের আরও ৪ লক্ষ ২৭ হজার বছর বাকি রয়েছে। (১৪পৃ:)
কলিযুগের পর সত্যযুগ আসবে। (পৃ:২৫)

কলিযুগের শেষ সময়ে ভারতে সম্ভলগ্রাম নামক স্থানে শ্রীবিষ্ণুযশা নামে এক সৎ ব্রাহ্মণের পুত্ররূপে ভগবান শ্রীবিষ্ণু কল্কি নামে আবির্ভূত হয়ে কলি-কলুষিত অনাচারী জঘন্য প্রকৃতির সভ্যতাকে বিনাশ করবেন। তখন সমগ্র জগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।

শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে:
"অথাসৌ যুগসন্ধ্যায়াং দস্যুপ্রায়েষু রাজসু।
জনিতা বিষ্ণুযশসো নাম্না কল্কির্জগৎপতি:।।" (ভ: ১/৩/২৫)

অর্থাৎ, দ্বাবিংশ অবতারে যুগসন্ধিকালে শাসক সম্প্রদায় যখন দস্যুতে পরিণত হবে, তখন ভগবান
কল্কি অবতার নামে বিষ্ণুযশ নামক ব্রাহ্মণের পুত্ররূপে অবতরণ করবেন। শ্বেতঅশ্বপৃষ্ঠে আরূঢ় হয়ে অস্ত্র দ্বারা কলিকে সম্পূর্ণরূপে কর্তন করবেন সেই কল্কি অবতার। তার পর নতুন যুগের (সত্যযুগ)
সূচনা হবে। (পৃ:৬৮১)

তবে সবাই মৃত্যুবরণ করবে না। বলা হয়েছে, ‘দস্যূন্কোটিশো নিহনিষ্যতি:’ -অসংখ্য কোটি দস্যু
নিহত হবে।তারা নিহত হলে অবশিষ্ট নাগরিকেরা ভগবান কল্কির দিব্য অঙ্গ থেকে বাতাসে প্রবাহিত সুগন্ধ অনুভব করবে। তৎক্ষণাৎ তারা দিব্য পবিত্র হয়ে উঠবে। তারাই পৃথিবীতে বিপুলভাবে প্রজা সৃষ্টি করবে। তখন মানব সমাজে সত্ত্বগুণ বিশিষ্ট সন্তানদের জনম হবে। এবং সত্যযুগ শুরু হবে। (পৃ:৬৭০)

মহাপ্রলয়:

সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি এই চারি যুগ এক হাজার বার আর্তিত হলে মোট সময়টাকে এক কল্প বলে। তখন ব্রহ্মার এক দিন হয় অর্থাৎ ১২ ঘন্টা। তেমনই ব্রহ্মার এক রাত্রির পরিধিও এরই সমান। এই রকম দিন ও রাত্রি সমন্বিত বর্ষ অনুসারে ব্রহ্মা একশত বছর বেঁচে থেকে তারপর দেহত্যাগ করবেন। (পৃ:৩৩)
ব্রহ্মার মৃত্যু মানে কল্পের অবসান। অর্থাৎ মহাপ্রলয়।

এই বিষয়ে ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে:

সর্বভূতানি কৌন্তেয়
প্রকৃতিং যান্তি মামিকাম্।
কল্পক্ষয়ে পুস্তানি কল্পাদৌ বিসৃজাম্যহম্।।
(অধ্যায় ৯, শ্লোক ৭)

অনুবাদ: হে কৌন্তেয়! কল্পান্তে সমস্ত জড় সৃষ্টি আমারই প্রকৃতিতে প্রবেশ করে এবং পুনরায় কল্পারম্ভে প্রকৃতির দ্বারা আমি তাদের সৃষ্টি করি। তিনি নিজেকে এই মায়াশক্তিতে বিস্তার করেন এবং তার ফলে সমস্ত জড় জগৎ পুনরায় প্রকট হয়।

উপসংহার: কলিযুগ শেষ হলে সত্যযুগ আসবে অথবা মহাপ্রলয় হবে। তবে আমরা জানিনা যে ব্রহ্মার এখন কত বৎসর জীবন অতিবাহিত হয়েছে। আমরা শুধু জানি যে এই কলিযুগের আগে দ্বাপর, ত্রেতা ও সত্যযুগ অতিবাহিত হয়েছে। অর্থাৎ এক কল্প এখনও শেষ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে কত কল্প অতিবাহিত
হয়েছে তা আমাদের অজানা।

সুতরাং এই কলিযুগের পর সত্যযুগ আসবে অথবা মহাপ্রলয় হবে তা শুধুমাত্র এবং সম্পূর্ণভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণই অবগত।

সংগৃহীত
0 comments

পরশুরামের হাতে কুঠার কেন ?

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী শান্তি আনতে ধরিত্রিকে ২১ বার ক্ষত্রিয়শূন্য করেছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম। পুরোকালে ত্রেতা যুগের শুরুর দিকে জমদগ্নি নামে একজন বিশিষ্ঠ ব্রাহ্মণ ছিলেন।তিনি সূর্যবংশীয়কন্যা রেণুকা কে পত্নী রুপে বরণ করেণ। কিছুকাল পর তাদের ঘর আলো করে ভগবান বিষ্ণু পরশুরাম রুপে আর্বিভূত হন।

পূর্বজন্মের তপস্যার দ্বারা তারা ভগবান কে সন্তান রুপে পেয়েছে। মহর্ষি ভৃগুর (পরশুরামের প্রপিতামহ) বাক্যানুযায়ী পরশুরাম বৃত্তিতে হয়েছিলেন ক্ষত্রিয়। তাই জগতে তিনিই প্রথম যোদ্ধা ব্রাক্ষণ। পরশুরামের মা রেণুকা ছিলেন অযোধ্যার সূর্যবংশের কণ্যা। এই বংশেই রামচন্দ্রের জন্ম হয়। জমদগ্নির ঔরসে রেণুকার গর্ভে পাঁচ পুত্রের মধ্যে পরশুরাম ছিলেন কনিষ্ঠ। রেণুকা একবার চিত্ররথ নামক এক রাজাকে সস্ত্রীক জলবিহার করতে দেখে কামার্তা হয়ে পড়েন। জমদগ্নি এই দৃশ্য দেখে পুত্রদেরকে মাতৃহত্যার আদেশ দেন। পাঁচ পুত্রের মধ্যে চারজনই এতে রাজী হয়নি। পরশুরাম তার পিতার আদেশ অমান্য করবে নাকি মাতৃহত্যার বোঝা বহন করবে। উভয় সংকটে পরে যায় পরম শিবভক্ত পরশুরাম।


পরশুরাম তার মায়ের কাছে যায় এবং সবকথা খুলে বলে। তার পিতা আদেশ দিয়েছে তার শীরচ্ছেদ করবার।পরশুরামের মা ছিলেন সত্যপরায়ণা তাই তিনি তার ছেলে পরশুরামকে আদেশ দিলেন সে তার পিতার আদেশ রক্ষা করুক এবং তিনি নিজে তার মস্তক ছেদকরবার জন্য প্রস্তুত করলেন। বুকে পাথর চাপা দিয়ে একমাত্র পরশুরাম পিতার আদেশে কুঠার দিয়ে তাঁর মায়ের শিরশ্ছেদ করেন।


মাতৃহত্যাজনিত পাপে, তার হাতে ওই কুঠার সংযুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে পুত্রের কাজে জমদগ্নি খুশি হয়ে তাকে বর প্রার্থনা করতে বলেন এবং অন্য সন্তানদের অভিশাপ দেন। পরশুরাম মায়ের পুনর্জন্ম, মাতৃহত্যাজনিত পাপ ও মাতৃহত্যা স্মৃতি বিস্মৃত হওয়া, ভাইদের জড়ত্বমুক্তি, নিজের দীর্ঘায়ু ও অজেয়ত্বের বর প্রার্থনা করেন। জমদগ্নি তাঁকে সবগুলো বরই প্রদান করেন।ব্রহ্মকুণ্ডে স্নান করার পর হাত থেকে কুঠার বিচ্ছিন্ন হয়েছিল পরশুরামের। হৈহয়রাজ কার্তবীর্য জমদগ্নির হোমধেনুর গোবৎস হরণ করেছিলেন বলে পরশুরাম তাঁকে বধ করেছিলেন। কার্তবীর্যের পুত্ররা প্রতিশোধ নিতে আশ্রমে এসে তপস্যারত জমদগ্নিকে হত্যা করেন। ক্ষুব্ধ পরশুরাম একাই কার্তবীর্যের সব পুত্রকে বধ করেন। এরপর তিনি একুশবার পৃথিবী নিঃক্ষত্রিয় করেছিলেন। ক্ষত্রিয়দের রক্ত দিয়ে সমস্তপঞ্চক প্রদেশের পাঁচটি হ্রদ পূর্ণ করেন তিনি। [সমন্তপঞ্চকোপাখ্যান- দ্বিতীয় অধ্যায়- আদিপর্ব- মহাভারত] শেষে পিতামহ ঋচিকের অনুরোধে ক্ষত্রিয় হত্যা বন্ধ করেন পরশুরাম। এরপর তিনি যজ্ঞের মাধ্যমে কশ্যপকে পৃথিবী দান করে মহেন্দ্রপর্বতে বসবাস শুরু করেন।


ভীষ্ম ও দ্রোণ পরশুরামের কাছে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা করেছেন। ভাই বিচিত্রবীর্যের বিয়ের জন্য, কাশীরাজের তিন কন্যা অম্বা, অম্বিকা ও অম্বালিকাকে ভীষ্ম স্বয়ংবর সভা থেকে অপহরণ করেছিলেন। অম্বা ভীষ্মকে জানান - তিনি আগেই শাম্বরাজকে মনে মনে পতি হিসেবে বরণ করেছেন। অম্বাকে শাম্ববরাজের কাছে ভীষ্ম যাওয়ার অনুমতি দিলেও, অপহৃতা কন্যা বলে শাম্বরাজ তাঁকে প্রত্যাখান করেন। অম্বা ভীষ্মের কাছে ফিরে এসে তাঁকে বিয়ে করার অনুরোধ করলে, ভীষ্ম তা প্রত্যাখ্যান করেন। ক্ষুব্ধ অম্বা শরণাপন্ন হন পরশুরামের । পরশুরাম এসেও ভীষ্মকে এই বিয়েতে রাজী করাতে ব্যর্থ হন। এর ফলে পরশুরামের সাথে ভীষ্মের ঘোরতর যুদ্ধ হয়। ২৩ দিন যুদ্ধের পরও পরশুরাম ভীষ্মকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হন। পরে পরশুরাম মহেন্দ্র পর্বতে ফিরে যান এবং অস্ত্রলাভের জন্য মহাদেবের তপস্যা করেন। তপস্যায় খুশি হয়ে পরশুরামকে আশীর্বাদ প্রদান করেন মহাদেব । এরপর তিনি মহাদেবের আজ্ঞায় বহু দানব হত্যা করেন।


রামায়ণে আছে- পরশুরামের মৃত্যুর পূর্বেই বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রামের জন্ম হয়। রামচন্দ্র হরধনু ভঙ্গের পর সীতাসহ অযোধ্যায় ফিরে আসছিলেন। হরধনু ভঙ্গের সংবাদ পেয়ে পরশুরাম ক্রোধান্বিত হয়ে রামের মুখোমুখি হন এবং অহঙ্কারের সঙ্গে বলেন , তাঁর কাছে বৈষ্ণবধনু আছে । এই বৈষ্ণবধনু ভঙ্গ করে প্রকৃত বীরত্ব দেখানোর জন্য তিনি রামকে আহ্বান জানান। আর রাম যদি এতে ব্যর্থ হন তাহলে তাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে বলে চ্যালেঞ্জ করেন পরশুরাম। বৈষ্ণব ধনু নিয়ে পরশুরামের তপস্যার্জিত সমস্ত শক্তি বিনষ্ট করেন রাম। ফলে পরশুরামের তেজ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এরপর ইনি নির্বীর্য হয়ে রামচন্দ্রকে পূজা ও প্রদক্ষিণ করে মহেন্দ্র পর্বতে ফিরে যান। (একোনবিংশ সর্গ- বালখণ্ড- বাল্মীকি রামায়ণ)

 Sanatan Dharma - সনাতন ধর্ম
0 comments

ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের মাহাত্ম্য বর্ণনা


ঋ‌ষিগণ বল‌লেন -- বিশ্বব‌ন্দিত ভগবান শংকর ! এবার আমরা বাস‌ু‌দেব শ্রীকৃ‌ষ্ণের মাহাত্ম্য শ্রবণ কর‌তে চাই ।

ম‌হেশ্বর বল‌লেন -- মু‌নিবরগণ ! ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মার থে‌কেও শ্রেষ্ঠ । সেই সনাতন পুরুষ‌কে শ্রীহ‌রি বলা হয় । তাঁর দেহকা‌ন্তি জাম্বূনদ নামক সুব‌র্ণের ন্যায় তেজস্বী । তি‌নি মেঘবিহীন আকা‌শে উ‌দিত সূ‌র্যের ন্যায় তেজস্বী । তাঁর দশ হাত এবং সেগু‌লি মহান তেজসম্পন্ন । তি‌নি দেবতা‌দের চির শত্রু দৈত্য‌দের বিনাশকারী । তাঁর বক্ষঃস্থ‌লে শ্রীবৎ‌সের চিহ্ন শোভা পায় । তি‌নি হৃষীক অর্থাৎ ই‌ন্দ্রিয়া‌দির প্রভু হওয়ায় তাঁ‌কে হৃষী‌কেশ বলা হয় ।

সমস্ত দেবতা তাঁর পূজা ক‌রেন । ব্রহ্মা তাঁর উদর থে‌কে এবং আ‌মি তাঁর মস্তক থে‌কে উৎপন্ন হ‌য়ে‌ছি । তাঁর মাথার চুল থে‌কে নক্ষত্র ও তারা উদ্ভূত হ‌য়ে‌ছে । দেবতা এবং অসুর তাঁর দে‌হের রোম থে‌কে সৃষ্ট । সমস্ত ঋ‌ষি এবং সনাতনলোক তাঁর শ্রী‌বিগ্রহ থে‌কে উৎপন্ন । শ্রীহ‌রি স্বয়ং সমস্ত দেবতা এবং ব্রহ্মার ধাম । তি‌নিই সমস্ত জগ‌তের স্রষ্টা এবং ত্রি‌লো‌কের স্বামী ।

তি‌নিই সমস্ত চরাচ‌রের প্রাণী‌দের সংহার ক‌রেন । তি‌নি দেবতা‌দের ম‌ধ্যে শ্রেষ্ঠ , তাঁ‌দের রক্ষক এবং শত্রুসন্তপ্তকারী । তি‌নি সর্বজ্ঞ , সব‌কিছু‌তে প‌রিব্যাপ্ত , সর্বব্যাপক এবং সর্ব‌দি‌কে মুখসম্পন্ন । তি‌নিই পরমাত্মা , ই‌ন্দ্রিয়াদির প্রেরক এবং সর্বব্যাপী ম‌হেশ্বর । ত্রি‌লো‌কে তাঁর থে‌কে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই । তি‌নিই সনাতন , মধুসূদন এবং গো‌বিন্দ ইত্যা‌দি না‌মে প্র‌সিদ্ধ ।

সজ্জন‌কে সম্মান প্রদর্শনকারী এই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কুরু‌ক্ষে‌ত্রের যুদ্ধে সমস্ত রাজা‌দের সংহার করা‌বেন । তি‌নি দেবতা‌দের কার্য‌সি‌দ্ধির জন্য পৃ‌থিবী‌তে মানব - শরীর ধারণ ক‌রে আ‌বির্ভূত হ‌য়ে‌ছেন । তার শ‌ক্তি এবং সহায়তা ছাড়া দেবতারা কো‌নো কাজই কর‌তে পা‌রেন না । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সকল প্রাণীর অগ্রগণা , তাই সমস্ত দেবতা তাঁর চর‌ণে মাথা নত ক‌রে ।

দেবতা‌দের রক্ষা এবং তাঁ‌দের কার্য - সাধ‌নে রত এই ভগবান বাসু‌দেব ব্রহ্মস্বরূপ । তি‌নি ব্রহ্ম‌র্ষি‌দের সর্বদা শরণ দি‌য়ে থা‌কেন । ব্রহ্মা এবং আ‌মি ---- দুজ‌নেই তাঁর শরী‌রের ম‌ধ্যে অত্যন্ত সু‌খে অবস্থান ক‌রি । সমস্ত দেবতাও তাঁর শ্রী‌বিগ্র‌হে সুখপূর্বক বাস ক‌রেন ।

তাঁর চোখদু‌টি কম‌লের ম‌তো সুন্দর । তাঁর বক্ষঃস্থ‌লে লক্ষ্মীর বাস , তিনি সর্বদা লক্ষ্মীর স‌ঙ্গে বাস ক‌রেন । তাঁর বি‌শেষ অস্ত্র হল শার্ঙ্গধনুক , সুদর্শন চক্র , নন্দন নামক ধনুক ।তাঁর ধ্বজা‌তে গরু‌ড়ের চিহ্ন আছে । তি‌নি উত্তম শীল , শম , দম , পরাক্রম , বীর্য , সুন্দর দেহ , সুন্দর দর্শন , সু‌ডৌল আকৃ‌তি , ধৈর্য , সরলতা , কোমলতা , রূপ ও বল ইত্যাদি সদ্গুণসম্পন্ন । সর্বপ্রকার দিব্য এবং অদ্ভূত অস্ত্রশস্ত্র তাঁর কা‌ছে সর্বদা মজুত থা‌কে । তি‌নি যোগমায়াসম্পন্ন এবং সহস্র নেত্র সংব‌লিত । তাঁর কো‌নো বিনাশ নেই ।

তি‌নি উদার‌চিত্ত , মিত্র‌দের প্রশংসক , জ্ঞা‌তি এবং বন্ধু - বান্ধব‌দের প্রিয় , ক্ষমাশীল , অহংকারর‌হিত , ব্রাহ্মণভক্ত , বেদ উদ্ধারকারী , ভয়ার্ত মানু‌ষের ভয় হরণকারী ও মিত্র‌দের আনন্দবর্ধনকারী । তি‌নি সমস্ত প্রাণী‌কে শরণ প্রদান ক‌রেন , দীনা‌র্তের রক্ষায় সদা তৎপর , শাস্ত্রজ্ঞাতা , অর্থসম্পন্ন , সমস্ত জগ‌তের বন্দনীয় , শরণাগত শত্রু‌কেও আশ্রয় প্রদান ক‌রেন , ধর্মজ্ঞ , নী‌তিজ্ঞ , নী‌তিমান , ব্রহ্মবাদী এবং জি‌তে‌ন্দ্রিয় । সেই পর‌মেশ্ব‌র‌কে পূজা কর‌লে পরম ধ‌র্মের সি‌দ্ধি হয় ।

তি‌নি মহা‌তেজস্বী দেবতা । তি‌নি প্রজা‌হিতা‌র্থে ধ‌র্মের জন্য কোটি কো‌টি ঋ‌ষি সৃ‌ষ্টি ক‌রে‌ছেন । তাঁর সৃষ্ট সনৎকুমার প্রমুখ ঋ‌ষি আজও গন্ধমাদন পর্ব‌তে তপস্যায় রত আ‌ছেন , তাই ধর্মজ্ঞ উত্তম বক্তা বাসু‌দেব‌কে সর্বদা প্রণাম করা উ‌চিত । ভগবান নারায়ণ দেব‌লো‌কে সর্ব‌শ্রেষ্ঠা । যে তাঁ‌কে বন্দনা ক‌রে , তি‌নিও তার বন্দনা করেন । যে তাঁ‌কে সম্মান ক‌রে , তি‌নিও তাঁর সম্মান ক‌রেন ।

এইরূপ অর্চিত হ‌লে অর্চনা ক‌রেন , পূ‌জিত হ‌লে পূজা ক‌রেন , দর্শনকারী‌দের ওপর সর্বদা কৃপাদৃ‌ষ্টি রা‌খেন এবং শরণাগত‌কে শরণ প্রদান ক‌রেন । আ‌দি‌দেব ভগবান বিষ্ণুর এই উত্তম ব্রত । সজ্জন ব্য‌ক্তি সর্বদাই তাঁর এই ব্রত আচরণ ক‌রেন । তি‌নি সনাতন দেবতা , তাই দেবগণ সর্বদাই তাঁ‌কে পূজা ক‌রেন । যারা তাঁর অনন্যভক্ত , তাঁরা নি‌জেদের সাধনায় অনুরূপ নির্ভয়পদ প্রাপ্ত হন ।

‌দ্বিজগ‌ণের উ‌চিত মন , বাক্য ও ক‌র্মের দ্বারা সর্বদা সেই ভগবা‌নের পূজা করা , প্রণাম করা এবং যত্নসহকা‌রে উপাসনা করে দেবকীনন্দনকে দর্শন লাভ করা ।

মু‌নিবরগণ ! আ‌মি আপনা‌দের এক উত্তম মার্গ জান‌ালাম । কেবল ভগবান ভগবান বাসু‌দেব‌কে দর্শন কর‌লে আপনা‌দের সব দেবতার দর্শন লাভ হ‌বে ।

আ‌মিও মহাবরাহরূপ ধারণকারী সর্ব‌লোক‌পিতামহ জগদীশ্বর‌কে নিত্য প্রণাম ক‌রি । আমরা সকল দেবতা তাঁর শ্রী‌বিগ্র‌হে বাস ক‌রি , সুতরাং তাঁ‌কে দর্শন কর‌লে তিন দেবতার ( ব্রহ্মা , বিষ্ণু , ম‌হেশ্ব‌রের ) দর্শন লাভ হয় । এ‌তে কো‌নো স‌ন্দেহ নেই ।

ত‌পোধনগণ ! আ‌মি আপনা‌দের ওপর অনুগ্রহ ক‌রে ভগবা‌নের প‌বিত্র মাহাত্ম্য এই জন্য শোনালাম , যা‌তে আপনারা যত্ন সহকা‌রে যদু‌শ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণের পূজা ক‌রেন ।

দেব‌র্ষি নারদ বল‌লেন - প্রভ‌ু ! ভগবান শংকর হিমালয় শিখ‌রে যাঁর মাহাত্ম্য আমা‌দের ব‌লে‌ছি‌লেন , সেই ব্রহ্মভূত সনাতন পুরুষ আপ‌নিই , শ্রীকৃষ্ণ । আপনার প্রভা‌বে আর এক‌টি আশ্চ‌র্যের ব্যাপার হল এই যে আমরা আপনা‌কে দে‌খে বি‌স্মিত হ‌য়ে‌ছি এবং আমা‌দের পূর্বকথা স্মরণ হ‌য়ে‌ছে । প্র‌ভো ! দেবা‌দি‌দেব ভগবান শংকর আপনার এরূপ মাহাত্ম্যের কথা বর্ণনা ক‌রেছি‌লেন ।

জয় রা‌ধে

জয় শ্রীহরির জয় ।

জয় ভক্তগ‌ণের জয় ।
Joy Shree Radha Madhav
0 comments

সংসা‌রে প্রেম আর সুখ শা‌ন্তি কি ভা‌বে থা‌কে ?

" যখন মানুষ নি‌জের উ‌দ্দেশ্য ভু‌লে যায় , তখনই সব বাধা বিপ‌ত্তি আ‌সে । আর সে য‌দি নি‌জের উ‌দ্দেশ্যকে সব সময় ম‌নে রা‌খে যে , যাই হ‌য়ে যাক , আমা‌কে আমার পারমা‌র্থিক উন্ন‌তি কর‌তেই হ‌বে , তাহ‌লে সে এই সব দুঃখকে গণনার ম‌ধ্যেই আ‌নে না - ' মনস্বী কার্য্যার্থী ন গণয়‌তি দুঃখং ন চ সুখং ।

আর নি‌জের স্বার্থ এবং অভিমান‌ ত্যাগ হ‌লে ব্যবহা‌রের ম‌ধ্যে বাধা বা বিঘ্ন আ‌সে না । ব্যবহা‌রের ম‌ধ্যে , পরস্প‌রের ভালবাসার ম‌ধ্যে বাধা তখনই আ‌সে যখন মানুষ নি‌জের বক্তব্য বজায় রাখ‌তে চায় , নি‌জের জিদ বজায় রাখ‌তে চায় , নি‌জের স্বার্থ ও অহংকার বজায় রাখ‌তে চায় ।

অপ‌রের কি ক‌রে ভাল হ‌বে , তা‌দের কল্যাণ কি‌সে হ‌বে , তা‌দের আদর আপ্যায়ন কি ক‌রে হ‌বে , তা‌দের সুখ সু‌বিধা কি ক‌রে হ‌বে -- এ‌ই সব চিন্তা যখন নি‌জের আচর‌ণের ম‌ধ্যে প্র‌তিফ‌লিত হয় তখন সব প‌রিজন প্রসন্ন হ‌য়ে যায় । কখন‌ও কোনও প‌রিজন অপ্রসন্নও য‌দি হয় তাহ‌লেও তার অপ্রসন্নতা থাক‌বে না , স্থায়ী হয় না ।

কারণ কখনও যখন সে নি‌জের ম‌ধ্যে ঠিক বিচার ক‌রবে তখন সে বুঝ‌তে পার‌বে যে আমার মঙ্গল এই কথার মধ্যেই আ‌ছে । যেমন বালক‌দের যখন পড়ান হয় তখন তা‌দের খেলাধূলার ম‌ধ্যে মন মত্ত হ‌য়ে থাকা‌তে পড়াশুনা ভাল লা‌গে না , তা স‌ত্ত্বেও প‌রিণা‌মে তার মঙ্গলই হয় ।

এই রক‌মের কোনও ব্যাপার ঠিক হওয়া স‌ত্ত্বেও কারুর য‌দি সেটা ভা‌লো না লা‌গে , তাহ‌লে সেই সম‌য়ে ব্যাপারটা সে বুঝ‌তে না পার‌লেও , ভ‌বিষ্য‌তে সে নিশ্চয়ই বুঝ‌তে পার‌বে । ক্ব‌চিৎ কদা‌চিৎ সে য‌দি বুঝ‌তে নাও পা‌রে , তবুও আমার উ‌দ্দেশ্য এবং ব্যবহা‌রে সন্তু‌ষ্টি হ‌বে যে আ‌মি তার ভালই চাই এবং আমার ম‌ধ্যে একটা শ‌ক্তি সৃ‌ষ্টি হ‌বে যে আমার কথা সত্য এবং ন্যায়সঙ্গত ।

নি‌জে‌দের ম‌ধ্যে প্রেম থাক‌লেই সংসা‌রে সুখশা‌ন্তি থা‌কে । নি‌জের স্বার্থ আর অ‌ভিমানের ত্যাগ হ‌লেই প্রেম হয় । যখন স্বার্থ আর অ‌ভিমান থাক‌বে না তখন প্রেম ছাড়া আর কি থাক‌বে ? অপর ব্য‌ক্তি আপন স্বা‌র্থের বশীভূত হ‌য়ে কখনও য‌দি আমার সা‌থে তিক্ত ব্যবহার ক‌রে ত‌বে কখনও ম‌নে এরকম চিন্তার উদয় হ‌তে পা‌রে যে আ‌মি তো এর সা‌থে ভাল ব্যবহার করে যা‌চ্ছি তবুও এ খ‌ুশ‌ী হচ্ছে না , এখন আমি কি করব !

এই রকম চিন্তা করার কারণ হ‌চ্ছে আমার ম‌নে সূক্ষ্মভা‌বে অব‌স্থিত এক সুখ - লোলুপতা , কারণ অন্য কোনও ব্য‌ক্তি‌কে সুখী এবং প্রসন্ন দেখার ম‌ধ্যে এ‌কে রকম আত্মসুখ আ‌ছে ।
সুতরাং ম‌নের ম‌ধ্যে এই রকম সুখ - লোলুপতার চিন্তা হ‌লেই এ‌কে ত্যাগ করা উ‌চিৎ । কারণ আমার কাজ হ‌চ্ছে কেবল নি‌জের কর্তব্য ক‌রে যাওয়া , অপরের প্রাপ্য দেওয়া , তা‌দের ভালবাসা । আমার চিন্তা এবং আচর‌ণের প্রভাব তার উপ‌র প‌ড়বেই ।

ত‌বে হ্যাঁ , অন্তঃকর‌ণের ক‌ঠোরতার দরুণ ওর উপ‌রে য‌দি প্রভাব নাও প‌ড়ে , তবু নি‌জের দিক থে‌কে ভালই ক‌রে‌ছি -- এই ম‌নে ক‌রে আমার সন্তু‌ষ্টি হ‌লে আমার ভালবাসা কম‌বে না আর সংসা‌রেও সুখ শা‌ন্তি বজায় থাক‌বে । তাই কোন বিষয় সমস্যা হ‌লে চিন্তা করা প্র‌য়োজন সমস্যার শুরু কোথায় । যেখা‌নে সমস্যা সেখা‌নেই সমাধান ।

লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
0 comments

সম‌য়ের সার্থক ব্যবহার - ১

শ্রীভর্তৃহ‌রি ব‌লেন –

আদিীতাস্য গতাগ‌তৈরহরহঃ সংক্ষীয়‌তে জী‌বিতং
ব্যাপা‌রৈর্বহুকার্যভারগুরু‌ভিঃ কা‌লো ন বিজ্ঞায়‌তে ।
দৃষ্ট্বা জন্মজরা‌বিপ‌ত্তিমরণং ত্রাসশ্চ নোৎপদ্য‌তে
পীত্বা মোহময়ীং প্রমাদম‌দিরামুন্মত্তভূতং জগৎ ।।

অথাৎ , " সূ‌র্যের উদয় ও অস্ত গমনাগমন দ্বারা প্র‌তি‌দিন আয়ুক্ষয় হয়ে থা‌কে কিন্ত ব্যবসা - ব্যবহার সম্বন্ধিত অনেক গুরুভা‌রের জন্য মানুষ টের পায় না যে কতটা সময় অতিাবা‌হিত হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছে এবং জন্ম , বৃদ্ধাবস্থা , বিপত্তি ও মৃত্যু দে‌খেও তার ভয় উৎপন্ন হয় না । এইভা‌বে সমগ্র জগৎ প্রমাদরূপ মোহময় সুরা পান ক‌রে উন্মত্ত হয় অর্থাৎ সে নিজ কর্তব্যাকর্তব্যর বি‌বেক বির‌হিত হ‌য়ে প্রমত্তসম অজ্ঞান নিদ্রায় আচ্ছন্ন থা‌কে । "

এই অবস্থায় প্রমা‌দে মত্ত না হ‌য়ে সাবধা‌নে আমা‌দের বিচার কর‌া উচিাত যে আমা‌দের জীব‌নের কতটা সময় চ‌লে গেল - আয়ু কতটা ক‌মে গেল । ভে‌বে দেখ‌লে জানা যা‌বে যে আমা‌দের অনোকটা সময় কে‌টে গি‌য়েছে , যা মুখ্য উদ্দেশ্য , যা প্রথম কর্তব্য তার দি‌কে দৃ‌ষ্টি রে‌খে ত্ব‌রিৎ গ‌তি‌তে সেই প‌থে ল‌ক্ষ্যে পৌঁছ‌তে হ‌বে ।

বঙ্গদে‌শের এক ঘটনা শোনা যাক -- কতদূর সত্য জানা নেই । এক ধনী ব্যবসায়ীর গৃ‌হে এক দুগ্ধ বিক্রেতা গয়লা‌নি এল আর সে দুধ দি‌য়ে তার দাম চাইল । হিসাবরক্ষক তা‌কে বল‌লেন - ' প্রথ‌মে বাজারে ঘু‌রে আয় , ঘ‌রে যাওয়ার সময়ে পয়সা নি‌য়ে যাস । ' সেই গয়লা‌নি তখন চ‌লে গেল ও বাজা‌রের কাজ সে‌রে আবার ব্যবসায়ীর গৃ‌হে এল আর হিসাবরক্ষ‌কের কা‌ছে পয়সা চাইল । তি‌নি ব্যস্ত ছি‌লেন । দাঁড়া‌তে বল‌লেন ।

সেই গয়লা‌নি দুই তিন বার পয়সা চাইল কিন্তু হিসাবরক্ষক পয়সা দিলেন না । তখন সেই গয়লানি দুঃ‌খিত হ‌য়ে বলল - ' আর বেলা নাই । ' আমা‌কে বহুদূর যে‌তে হ‌বে সূর্য গেল ব‌লে । ' ধনী ব্যবসায়ী কা‌ছেই ব‌সে কাজ কর‌ছি‌লেন । সেই গয়লা‌নির করুণ কথাগুলি তাঁর প্রা‌ণে বাজল । তি‌নি হিসাবরক্ষক‌কে ব‌লে তার পয়সা দি‌য়ে দিলেন ।

ধনী ব্যবসায়ীর সেই কথা ম‌নে ধরল । তি‌নি তখনই হিসাবরক্ষককে বল‌লেন -- ' আমার দেনা - পাওনা বের ক‌রো ও ব্যবসা গু‌টি‌য়ে দাও । ' হিসাবরক্ষক তাঁর কথা শু‌নে আশ্চর্য হ‌লেন আর বল‌লেন -- ' আপ‌নি এমন কথা কেন বল‌ছেন ? '

ব্যবসায়ী বল‌লেন -- ' তু‌মি শুন‌লে না , গয়লা‌নি কী বলল ? ' সে বলল - ' আর‌ বেলা নাই । ' কথাটা খুব সত্য । জীব‌ন সায়া‌হ্নে এসে পৌঁ‌ছে‌ছি ভাই ! আমার আর সময় তো নেই । 'এই ব‌লে কাজকর্ম সব বু‌ঝি‌য়ে দি‌য়ে ব্যবসায়ী গৃহ ত্যাগ কর‌লেন আর নিজ শেষ জীবন অহর্নিশ হ‌রিনাম ক‌রে কাটা‌লেন ।

আমাদের এই ঘটনা‌কে বি‌শেষ গুরুত্ব সহকা‌রে অনুধাবন করা উচিবত । আমা‌দের আয়ু প্র‌তিক্ষণে ক্ষীণ হ‌চ্ছে । যার বয়স চ‌ল্লিশ - পঞ্চাশ বৎসর তার তো জীব‌নের বে‌শির ভাগ আয়ু কে‌টেই গে‌ছে কিছু অল্পই বাকি আছো । যার কম বয়স তারও নি‌শ্চিন্ত থাকবার উপায় আছেে কী ? মানবজীব‌নের পূর্ণায়ু শত বৎসর বলা হ‌য়ে থা‌কে । কিন্তু এই যু‌গে পূর্ণায়ু আয়ু পার হওয়া ক‌ঠিন ।

আজকাল তো আশি‌ বৎসর‌কেই পূর্ণায়ু ধরা উচিত এবং এই প‌রি‌মিত আয়ুর বিচা‌রে আমাদের অল্প সময়ই বাকী আছে । তাই চৈতন্যলাভ ক‌রে অতি শীঘ্র আমা‌দের আসল লক্ষ্যে পৌঁছা‌নো উচিাত । আমরা সতর্ক হ‌য়ে অব‌শিষ্ট দিন এমনভা‌বে কাটাই যা‌তে জীবন উন্নত হয় ।

তাই একটা দা‌মি কথা জে‌নে রাখা ভা‌লো যা সকল শ্রেণীর ব্য‌ক্তি করতে পা‌রে এবং তা সহজ - সরল । এতো বে‌শি বু‌দ্ধির দরকার হয় না , বে‌শি প‌রিশ্র‌মেরও দরকার নেই । নির্গুণ নিরাকার উপাসনার জন্য তীব্র বু‌দ্ধির প্র‌য়োজন হয় , এতে তাও প্রয়োজন নেই । আর তা হ‌চ্ছে ঈশ্ব‌রের প্র‌তি অন্যন্যা ভ‌ক্তি ।

সহজ ও সরল পথ হ‌লো ঈশ্বরের অনন্য ভ‌ক্তি । তা যেন অন্ধ‌কে লা‌ঠি ধ‌রে নি‌য়ে গি‌য়ে পার ক‌রে দেওয়ার মতন সহজ - সরল ও নি‌শ্চিত পথ । ভগব‌দ্ভ‌ক্তির এই পথ এতই সহজ , নিষ্কন্টক ও অন্ধকারর‌হিত যে তা‌তে কোথাও হোঁচট‌ খে‌য়ে প‌ড়ে যাওয়ার ভয় নেই ।

শ্রীমদ্ভাগব‌তে ( ১১\ ২\ ৩৪ - ৩৫ ) বলা হ‌য়ে‌ছে --

যে বৈ ভগবতা প্রোক্তা উপায়া হ্যাত্মলব্ধ‌য়ে ।

অজ্ঞঃ পুংসাম‌বিদুষাং বি‌দ্ধি ভাগবতান্ হি তান্ ।।

যানাস্থায় ন‌রো রাজন্ ন প্রমা‌দ্যেত ক‌র্হি‌চিৎ ।

ধাবন্ নিমীল্য বা নে‌ত্রে ন স্খ‌লেন্ন প‌তেদিহ ।। '

রাজন ! অজ্ঞ ব্য‌ক্তি‌দের সত্বর নি‌শ্চিতভা‌বে পরমাত্মা লা‌ভের যে উপায় ভগবান ব‌লে‌ছেন তা‌কেই তু‌মি ভগবৎ নি‌মিত্ত ধর্ম ব‌লে জান‌বে , যার আশ্র‌য়ে মানুষ কখ‌নো বিপরীতগামী হয় না । সে য‌দি সেই প‌থে চোখ বন্ধ ক‌রেও ছু‌টে চ‌লে তাও সে পিছ‌লে যায় না , প‌ড়েও যায় না । '

লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
0 comments

সম‌য়ের সার্থক ব্যবহার - ২

যে ভা‌বে ভক্তক‌বি সুরদাস‌কে পথপ্রদর্শনের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং এসে গি‌য়ে‌ছি‌লেন সেইভা‌বেই তিনি ভ‌ক্তিপ‌থের ব্য‌ক্তি‌দের স‌ঠিক পথ ব‌লে দেওয়ার জন্য স্বয়ং উপস্থিত হন । যখন ভক্ত সুরদাস বেলকাঁটা চো‌খে ফু‌টি‌য়ে ভগবা‌নের দর্শ‌নের লালসায় অর‌ণ্যে ঘুর‌ছি‌লেন তখন ভগবান বালকরূ‌পে এসে তাঁ‌কে নি‌জের হাতে মিষ্টান্ন দি‌য়ে‌ছি‌লেন । সেই দুর্লভ প্রসাদ লাভ ক‌রে সুরদাসের চিত্ত আন‌ন্দে উদ্বে‌লিত হ‌য়ে প‌ড়ে । তি‌নি জিজ্ঞাসা করায় বালক সাধারণ প‌রিচয় দি‌য়ে চ‌লে গেল ।

এক‌ দিন সেই বালক আবার এল , কথা প্রস‌ঙ্গে বৃন্দাব‌নের কথা উঠল । সে সুরদাসের লা‌ঠি ধ‌রে তাঁ‌কে পথ দেখানোর জন্য আগে আগেে চলল । সুরদাস তার হাত ধর‌লেন , ভগবা‌নের হা‌তের স্পর্শ লাভ ক‌রে দেহে যেন প্রেমান‌ন্দের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হল । তি‌নি বুঝ‌তে পার‌লেন যে বালক সাক্ষাৎ ভগবান । তি‌নি ভগবা‌নের হাত আরও জো‌রে চে‌পে ধর‌লেন কিন্তু ভগবান তো জোর ক‌রে ছা‌ড়ি‌য়ে নি‌লেন ।

তখন ভক্তক‌বি সুরদাস বললেন --

হাথ ছুড়া‌য়ে জাত হৌ নিবল জা‌নি কৈ মোহি । ‌
হির‌দৈ তেঁ জাহু‌গে মরদ ব‌দৌঁ‌গো তো‌হি ।।

' প্রাণ‌প্রিয় ! তু‌মি আমা‌কে দুর্বল জেনে হাত ছা‌ড়ি‌য়ে নিচ্ছ তাতে আর তোমার বাহাদু‌রি কি আছে ? তোমার পরাক্রম তো আমি তখন স্বীকার করব যখন তু‌মি আমার অন্তর থে‌কে চ‌লে যা‌বে । '

নি‌জের উপর কতটা বিশ্বাস । প্রে‌মের সুদৃঢ় রজ্জু‌তে ( দ‌ড়ি‌তে ) যে ঈশ্বরকে নিজ হৃদ‌য়ে বেঁ‌ধে রে‌খে‌ছে তার অন্তর থে‌কে প্রান গো‌বিন্দ কেমন ক‌রে যা‌বেন । তাঁর ভ‌ক্তি ও প্রেম দেখে ভগবান তার সম্মু‌খেই আবির্ভূত হ‌লেন আর সাক্ষাৎ দর্শন দান ক‌রে তাঁ‌কে কৃতার্থ কর‌লেন ।

ভগবা‌নের আশ্রয় নি‌য়ে যে সাধনা ক‌রে তার জন্য কত সহজ - সরল নি‌শ্চিত উপায় । ভগবান স্বয়ং গীতায় ব‌লেন --

তেষামহং সমুদ্ধর্তা মৃত্যুসংসারসাগরাৎ ।
ভবা‌মি নচিরাৎ পার্থ ময্যা‌বে‌শিত‌চেতসাম ।।
( গীতা ১২\ ৭ )

অর্থাৎ " হে অর্জুন ! সেই সকল মদ্গত‌চিত্ত ভক্ত‌কে আমি অতি্ শীঘ্রই মৃত্যুরূপ সংসার সাগর হ‌তে উদ্ধার ক‌রি । '

শুধু তাই নয় , সেই অনন্য ভ‌ক্তের যোগ‌ক্ষেমের দা‌য়িত্বও ভগবান নি‌জের উপর নি‌য়ে যান । তি‌নি ব‌লেন ---

অনন্যা‌চিন্তয়‌ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাস‌তে । ‌
তেষাং নিত্যা‌ভিযুক্তানাং যোগ‌ক্ষেমং বহাম্যহম্ ।।
( গীতা ৯\ ২২ )

অর্থাৎ ' অনন্য‌চি‌ত্তে যে ভক্তগণ আমা‌কে সর্বদা নিষ্কামভা‌বে ভজনা ক‌রেন সেই নিত্য সমা‌হিত মুমুক্ষগ‌ণের যোগ‌ক্ষেম আমি স্বয়ং বহন ক‌রি । '

এখন প্রশ্ন ওঠেন যে এই অনন্য‌চি‌ত্তে চিন্তা করবার উপায় কী ? তার জন্য অতি সহজ ও স‌র্বোৎকৃষ্ট উপায় হল -- সর্বত্র ভগবদ্বু‌দ্ধি করা । ভগবান ব‌লে‌ছেন --------------

বহূনাং জন্মানাম‌ন্তে জ্ঞানবান্ মাং প্রপদ্য তে ।
বাসুদেবঃ সর্ব‌মি‌তি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ ।‌।
( গীতা ৭\ ১৯ )

অর্থাৎ ' বহু জ‌ন্মের শে‌ষে এই জ‌ন্মে তত্ত্বজ্ঞানী পুরুষ ' সর্ব‌কিছুই বাসু‌দেব ' -- এইরূপ জে‌নে আমরা ভজনা করেন ; এইরূপ মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ । '

শ্রীরামচরিত্রমানসে শ্রীরঘুনাথ শ্রীহনুমানকে ব‌লে‌ছেন --- ‌

সো অনন্য জা‌কেঁ অসিঃ ম‌তি ন টরই হনুমন্ত ।
মৈঁ সেবক সচরাচর রূপ স্বামি ভগবন্ত । ।

অর্থাৎ ' যার বু‌দ্ধি কখ‌নো বিচ্যুত হয় না -- সতত , এভাবে অটল থা‌কে যে , এই বিশ্বচরাচর জগৎ ব‌লে দৃশ্য সব কিছুই সর্ব‌লোক ম‌হেশ্বর ভগবান শ্রীহ‌রি আর আমি- তাঁর দাস -- সেই অনন্য ভক্ত । '

শ্রীভগবা‌নের কথার উপর বিশ্বাস ক‌রে এক‌টি বি‌শেষভা‌বে বোঝবার চেষ্টা করা উচিত । যেমন সবুজ র‌ঙের চশমা পড়‌লে মানুষ সব কিছু তেমনই দেখে -- সবুজই দে‌খে , সেই ভা‌বে যে হৃদয় নে‌ত্রে হ‌রিরূপ চশমা লা‌গি‌য়ে নেয় সে সর্বত্র শ্রীহ‌রিকেই দেখ‌তে থাকে । তাই নিজ অন্ত‌রের ভাব‌কে হ‌রিময় ক‌রে নি‌তে হয় । এমন হ‌লে বাইরো থে‌কে অন্য বস্তু দেখা গে‌লেও অন্ত‌রে শ্রীহ‌রিই দেখা যে‌তে থাক‌বে ।

যেমন মৃ‌ত্তিকা নি‌র্মিত বস্তু - ঘড়া , সরা , প্রদীপ সব তত্ত্বত এক মৃ‌ত্তিকা , তদনুরূপ লৌহ নি‌র্মিত ছু‌রি , কাঁ‌চি , তরবা‌রি সকল বস্তুই লৌহ । সেইভা‌বে সম্পূর্ণ জগৎ - সমস্ত জাগ‌তিক বস্তু তত্ত্বত একমাত্র হ‌রি । এই হল বাস্ত‌বিক সিদ্ধান্ত । তা বু‌ঝে স‌চেষ্ট হ‌লে সত্বর এমন ভাব হওয়া অসম্ভব নয় ।

লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
0 comments

সম‌য়ের সার্থক ব্যবহার - ৩


অনিচ্ছা বা অপ‌রের ইচ্ছায় কৃতকর্ম‌কে ভগবা‌নের লীলা ম‌নে করুন কারণ সর্ববস্তু‌তে তো ভগবান অবস্থায় ক‌রেন । তাই তার দ্বারা কর্ম সবই ভগবা‌নের লীলা । এই ভাব আস‌তে পার‌লে পরম শা‌ন্তি সু‌নি‌শ্চিত হয় , কেবল তা আনয়‌নের প্র‌য়োজন । আপনি যে কোনো ক‌র্মে যুক্ত হতে পা‌রেন তা‌তে বলবার কিছু নেই কিন্তু অন্তরে এই ভাব রাখা প্রয়োজন ।
এতো আপনার কিছুই খরচ কর‌তে হয় না ; কর‌তেও কো‌নো প‌রিশ্রম নেই বরং তা সহজ - সরল এবং আপনার ম‌ধ্যে য‌দি কো‌নো রকম দোষও বিদ্যামান থা‌কে তাহ‌লে এই ভা‌বের ম‌ধ্যে এত শক্তি আছেি যে তাও ভস্ম ক‌রে ফেল‌বে । কেবল আপনার বু‌দ্ধি‌তে এই প‌বিত্রতম ভাব সতত জাগ্রত থাক‌তে হ‌বে যে ,____ ' সব কিছু তত্ত্বত এক হ‌রি , তাঁর দ্বারা যে কর্মসৃ‌ষ্টি হয় সবই তাঁর লীলা । '
যেভা‌বে স্বর্ণকার সুবর্ণ সহযো‌গে নানারকম অলংকার প্রস্তুত ক‌রে কিন্তু অলংকার প্রস্তুত করবার সম‌য়ে তার বু‌দ্ধি‌তে স্থির নিশ্চিত থা‌কে যে তা সুবর্ণ আর সুবর্ণ গ‌লি‌য়ে ফে‌লবার সম‌য়েও তা সুবর্ণ , এই স্থির ধারণা থা‌কে । তেমনই আমা‌দেরও ' সবই এক ভগবান ' __ এ ভা‌বে সতত অধিরষ্ঠান করা উচিাত । এখন যে আমা‌দের বু‌দ্ধি‌তে জগ‌তের নানাভাব আছে তা না হ‌য়ে এক ভগবদ্ভাব হওয়া দরকার ।
আগো বলা হ‌য়ে‌ছে যে ' স্বল্প সময় অব‌শিষ্ট আছো ' এই কথায় চি‌ন্তিত হওয়ার দরকার নেই । যেটুকু সময় অব‌শিষ্ট আছো তা‌তেই আমা‌দের উদ্ধার হওয়া সম্ভব ।
আপ‌নি হয়‌তো জিজ্ঞাসা কর‌বেন যে যার আয়ু‌তে দুই - এক দিনই অব‌শিষ্ট তার কী উদ্ধার হওয়া সম্ভব ? দু - এক দিন তো অনেকটা সময় ; যার দুই এক ঘন্টা হা‌তে আছো তারও উদ্ধার হ‌তে পা‌রে ।
ভাগবতকার ব‌লেন ----- ‌
কিং প্রমত্তস্য বহু‌ভিঃ প‌রো‌ক্ষৈর্হায়‌নৈ‌রিহ
বরং মুহূর্তং বি‌দিতং ঘ‌টেত শ্রেয়‌সে যতঃ ।।
খট্বা‌ঙ্গো নাম রাজার্সির্জ্ঞা‌ত্বেয়ত্তামিহায়ুষঃ ।
মুহূর্তাৎ সর্বমুৎসৃজ্য গতবানভয়ং হরিম্ ।। ( ২\ ১\ ১২ -১৩ )
অর্থ = ' প্রমত্ত অর্থাৎ ঈশ্বর - বিমুখ এবং বিষয়াসক্ত থে‌কে জগ‌তে বহুকাল বেঁ‌চে থাকায় কী লাভ ? আমা‌দের তো যা‌তে কল্যাণ হয় এমন ( ভগবদ্ভক্তিযুক্ত ) মুহূ‌র্তের জীবনই ভা‌লো ম‌নে হয় । খট্বাঙ্গ না‌মের রাজ‌র্ষির যখন নিজ জীব‌নের অন্ত বি‌দিত হয় তখন তি‌নি এক মুহূ‌র্তে এইখা‌নেই সর্বস্ব ছে‌ড়ে অভয়দানকারী শ্রীহ‌রি‌কে লাভ কর‌লেন । '
জ‌নৈক ক‌বি জা‌নি‌য়ে‌ছেন ---
জীবন থোড়া হী ভলা , জো হ‌রি - সু‌মিরন
হোয় লাখ বরসকা জীবনা লে‌খে ধ‌রৈ স কোয় ।।
অর্থাৎ কেবল এর একটাই শর্ত আছেে - শ্রীভগবান‌কে কখ‌নো ত্যাগ কর‌বে না । তাঁ‌কে সতত স্মরণ - মনন রাখ‌বে । ভগবান গীতা‌তে বলে‌ছেন -- ' মচ্চিত্তঃ সততং ভব ' ( ১৮\ ৫৭ ) -- চিত্ত সতত আমা‌তে সমা‌হিত রাখ‌বে ।
যে সতত ঈশ্বর‌কে স্মরণ - মনন করে তা‌কে ঈশ্বর কেমন ক‌রে ছাড়‌তে পা‌রেন ? সতত ভগবৎ - চিন্তায় নিমগ্ন ব্য‌ক্তির অন্তকা‌লে ভগবা‌নের স্মৃতি থা‌কবেই আর অন্তকা‌লে তাঁ‌কে ম‌নে থাক‌লে উদ্ধার হ‌বেই এতেণ কো‌নো স‌ন্দেহ নেই । স্বয়ং ভগবান ব‌লেন --
অন্তকা‌লে চ মা‌মেব স্মরন্মুক্ত্বা ক‌লেবরম্ ।
যঃ প্রয়া‌তি মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ ।। ( গীতা ৮\ ৫ )
অর্থাৎ ' যি‌নি মুত্যুকা‌লে আমা‌কেই স্মরণ কর‌তে কর‌তে দেহত্যাগ ক‌রেন তি‌নি আমা‌কেই লাভ ক‌রেন - এতে কো‌নো সংশয় নেই । '
আপ‌নি বল‌বেন যে সতত স্মরণ হয় না । তার কারণ এই যে , শ্রদ্ধার অভা‌বে , সতত স্মরণের রহস্য ও প্রভাব আপ‌নি জা‌নেন না । নদীতে যে ডুবে যা‌চ্ছে সে য‌দি নৌকায় দ‌ড়ি ধর‌তে পা‌রে তাহ‌লে কেউ বল‌লে সে তা কখ‌নো ছাড়‌তে পা‌রে ? কখ‌নো নয় ।
তেমনই য‌দি ভগবা‌নে আপনার বিশ্বাস থা‌কে তাহ‌লে আপ‌নি ভগবা‌নকে ছাড়‌তে পা‌রেন কী ? এই জগৎ সাগরসম । তা‌তে ভগবা‌নের চরণই সুদৃঢ় নে‌ৗকা । যে ব্য‌ক্তি ভগবা‌নের পাদপদ্ম ভ‌ক্তিভা‌বে ধারণ ক‌রে সে অনায়া‌সেই পার হ‌তে পা‌রে । সেই সর্বশ‌ক্তিমান ভগবা‌নের চরণযুগল‌কে ম‌নে ধ‌রে রা‌খো এবং সতত তার স্মরণ - মনন ক‌রো । তাই শরণাগ‌তি । তার নামই ভ‌ক্তি ।
য‌দি ব‌লেন যে সতত তাঁকে স্মর‌ণে রাখা ক‌ঠিন তাহ‌লে বলা হ‌বে যে , তা ঠিক নয় । আপ‌নি একেড় ক‌ঠিন ম‌নে ক‌রে রে‌খে‌ছেন তাই তা ক‌ঠিন ম‌নে হয় । আপ‌নি এর প্রকৃত তত্ত্ব , রহস্য ও প্রকৃত প্রেম এখ‌নো বুঝ‌তে পা‌রেননি ; য‌দি বুঝ‌তেন তাহ‌লে তা কখন‌ই ছাড়‌তে পারতেন না ।
য‌দি আপ‌নি বুঝ‌তেন যে যেই ভগবৎ - চিন্তা বন্ধ হ‌বে তখনই আপ‌নি সমুদ্রে ত‌লি‌য়ে যা‌বেন তাহ‌লে আপনার আর ভুল হ‌ত না । নিমজ্জমান ব্য‌ক্তি এই তত্ত্ব‌কে জানে যে নৌকা‌তেই তার রক্ষা সম্ভব । তাই একবার তা ধ‌রে ফেললে সে তারপর তা ছা‌ড়ে না ।
য‌দি ব‌লেন আমরা তো পাপী ও আমা‌দের উদ্ধার এত তাড়াতাড়ি কেমন ক‌রে সম্ভব , তাহ‌লে ভয় পে‌লে কি হ‌বে ।
ভগবান স্বয়ং ব‌লে‌ন --
অপির চেৎ সুদুরাচা‌রো ভজ‌তে মামন্যন্যভাক্ ।
সাধু‌রের স মন্তব্যঃ সম্যগ্ব্যব‌সি‌তো হি স । । ‌
ক্ষিপ্রং ভব‌তি ধর্মাত্মা শশ্বচ্ছা‌ন্তিং নিগচ্ছ‌তি । ‌
কৌ‌ন্তেয় প্র‌তিজানী‌হি ন মে ভক্তঃ প্রণশ্য‌তি ।। ( গীতা ৯\ ৩০ -৩১ )
অর্থাৎ ' অতিা দুরাচারী ব্যক্তিও য‌দি অনন্য ভ‌ক্তির দ্বারা আমার ভজনা ক‌রে ত‌বে তা‌কে সাধু ব‌লে জান‌বে কারণ তার সংকল্প অতি শুভ । সেই ব্য‌ক্তি শীঘ্রই ধর্মাত্মা হ‌য়ে যায় এবং শাশ্বত শা‌ন্তি লাভ ক‌রে । হে কৌ‌ন্তেয় ! তু‌মি নিশ্চিত জে‌নো যে আমার ভক্ত কখ‌নো বিনষ্ট হয় না । '
যে প্রাণপণে সাধনায় যুক্ত হয় ,সে কখ‌নো হ‌তোদ্যম হয় না । অকর্মণ্য হয় না -- গ‌ড়িম‌সি ক‌রে না , তার জন্য কোথাও কো‌নো বাধা আস‌লে‌ও ভগবা‌নের কৃপায় সে বাধা বে‌শিক্ষণ স্থায়ী হয় না । যার একমাত্র ভগবা‌নেই বিশ্বাস , যার বু‌দ্ধি‌তে এই ভাব গেঁ‌থে গি‌য়ে‌ছে যে ভগবান দ্বারাই আমার উদ্ধার হ‌বে এবং দৃঢ় বিশ্বা‌সে ভগবা‌নেরই শরণাগত হ‌য়ে‌ছে , তার কা‌ছে যত কম সময়ই থাক , সে যেমন পাপীই হোক , ভ‌ক্তির এমন শ‌ক্তি যে তার উদ্ধার হ‌য়ে যায় ।
লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
0 comments

সম‌য়ের সার্থক ব্যবহার - ৪

য‌দি ব‌লেন যে যার জ্ঞান নেই আর যে মূর্খ তারও উদ্ধার হওয়া সম্ভব ? তাহলে বলব অবশ্যই হ‌তে পা‌রে । শ্রীভগবান ব‌লে‌ছেন --- ‌

তেষাং সততযুক্তানাং ভজতাং প্রী‌তিপূর্বকম্ ।

দদামি বুুদ্ধিযোগং তং যেন মামুপয়া‌ন্তি তে ।। ( গীতা ১০\১০ )

অর্থাৎ " সর্বদা আমার ধ্যা‌নে আসক্ত এবং প্রেমপূর্বক ভজনশীল সেই ভক্তদের আমি তত্ত্বজ্ঞানরূপ যোগ প্রদান ক‌রি যা‌তে তাঁরা আমা‌কেই লাভ ক‌রেন । "

অন্যে ত্বেবমজানন্তঃ শ্রুত্বা‌ন্যেভ্য উপাস‌তে । ‌

তেহ‌পি চা‌তিতর‌ন্ত্যেব মৃত্যু শ্রু‌তিপরায়ণাঃ ।। ( গীতা ১৩\২৫ )

অর্থাৎ " আবার কেউ কেউ যারা অল্পবু‌দ্ধিসম্পন্ন , তাঁরা এইভা‌বে আত্মাকে না জান‌তে পে‌রে অন্যের কা‌ছে অর্থাৎ তত্ত্বজ্ঞ মহাপুরু‌ষের কা‌ছে শ্রবণে তদনুসা‌রে উপাসনা ক‌রেন এবং এইরূপ শ্রবণপরায়াণ ব্য‌ক্তিও মৃত্যুরূপ সংসার সাগর নিঃসংশ‌য়ে অতিক্রম ক‌রেন । "

আসল কথা হল কেউ যেমনই অজ্ঞানী অথবা মূর্খ হোক না কেন , য‌দি যে ঈশ্ব‌রের অনন্যভ‌ক্তি কর‌তে শুরু ক‌রে বা জ্ঞানী মহাত্মার কা‌ছে গমন ক‌রে কিছু শ্রবণ ক‌রে আর তদনুসা‌রে আচরণ শুরু ক‌রে তাহলে সেও পরমপদ পে‌তে পা‌রে । মূর্খ হ‌লেও চিন্তা‌ নেই তা‌কে মহাত্মা বা স্বয়ং ভগবানই জ্ঞান দান কর‌তে পা‌রেন ।

পাপী , মূর্খ হ‌লেও আয়ুর অল্পকাল অব‌শিষ্ট থাক‌লেও ভগবানের কৃপার মু‌ক্তি হ‌তে পা‌রে । কেবল এক‌টি কাজ কর‌তে হ‌বে । " ভগবান আছেন " -- এই সুদৃঢ় বিশ্বাস নি‌য়ে ওঠা বসা , ক্ষুধা - তৃষ্ণা নিবারণ, চলা - ফেরা , নিদ্রা - জাগ‌র‌ণ সর্বদা ম‌নে কর‌তে হ‌বে -- সতত ভগবান‌কে স্মরণে রাখ‌তে হ‌বে ।

আপ‌নি বল‌বেন যে নিদ্রাগমন কা‌লে তো স্মরণ হয় না । তাহ‌লে ব‌ল‌তে হয় য‌দি দি‌নে আমাদের স্মরণ - মনন চ‌লে তাহ‌লে রা‌ত্রেও তা অব্যাহত থাক‌বে কারণ যে কার্য দি‌নে করা হয় তা রা‌ত্রেও স্ব‌প্নে আস‌তে থাকে । কারণ সারা‌দিন যা নি‌য়ে চিন্তা কর‌ছেন বা যা দে‌খে‌ছেন তা নিদ্রা না গে‌লেও য‌দি দিনেও চোখ বন্ধ করেন ত‌বে তাই দেখ‌তে পা‌বেন । কেননা যা দেখলাম বা শুনলাম তা ম‌নে থে‌কে যায় বেশিসময়ের জন্য না হ‌লেও অল্পকাল পর্যন্ত তা ম‌নে থা‌কে । অতঃপর তাই বারবার সাম‌নে আস‌তে থাক‌বে ।

রা‌ত্রিকা‌লে স্মরণ যা‌তে হয় তার একটা সহজ উপায় আছের । ১০ - ১৫ মিনিট জাগ‌তিক সংকল্প প্রবাহ থে‌কে দূ‌রে গি‌য়ে একাগ্র চি‌ত্তে ভগবা‌নের নাম রূপ স্মরণ ক‌রে ও তাঁর লীলাসকল মনন কর‌তে ক‌র‌তে ঘু‌মি‌য়ে পড়ুন । তা‌তে রা‌ত্রে ভগবা‌নের স্মরণ হ‌তে থাক‌বে । য‌দি ম‌নে বিশ্বাস থাকে তবে আপ‌নি অবশ্যই তা দেখ‌তে পা‌বেন ।

আসল কথা যে , সতত ভগবান‌কে ম‌নে রাখুন , কখনো তাঁ‌কে ভুল‌বেন না । য‌দি ত্রিভুবনের রাজ্যলাভও হয় সে‌টিও অতিব নগণ্য ম‌নে ক‌রে ত্যাগ কর‌বেন কিন্তু ভগবানের স্মরণ - মনন ত্যাগ করা যা‌বে না । যদি কখনো ভগবা‌নের বিস্মরণ না হয় আর যার একমাত্র ভগবানই পরমপ্রিয় ও সর্বস্ব , সেই ধন্য ।

শ্রীমদ্ভাগবতে বলা আছে। -- ‌

ত্রিভুবন‌বিভব‌হেত‌বেহপ্যকুন্ঠস্মৃ‌তির‌জিতাত্মসুরা‌দি‌ভি‌র্বিমৃগ্যাৎ ।

ন চল‌তি ভগবৎপদার‌বিন্দাল্লব‌নি‌মিষার্ধম‌পি যঃ স বৈষ্ণবাগ্র্য়ঃ ।। ‌

বিসৃজ‌তি হৃদয়ং ন যস্য সাক্ষাদ্ধ‌রিরবশা‌ভিহি‌তোহপ্য‌ঘে‌ৗষনাশঃ ।

প্রণয়রশনয়া ধৃতাঙ্ঘ্রি পদ্মঃ স ভবতি ভাগবতপ্রধান উক্তঃ ।। ( ১১ \ ২ \ ৫৩ , ৫৪ )

অর্থাৎ " ত্রিভুব‌নের রাজ্য‌বৈভ‌বের জন্য যার ভগবৎ‌চিন্তা বি‌ঘ্নিত হয় না , যে ভগবা‌নেই মন সন্নি‌বিষ্টকারী দেবতা‌দি দ্বারা কাঙ্ক্ষিত ভগবৎ চরণকমলের স্মর‌ণে মুহূ‌র্তের জন্য‌ও বিচ্যুত হয় না , সেই ভগবদ্ভ‌ক্ত‌দের ম‌ধ্যে অগ্রগণ্য হয় । বিবশ হয়ে নাম উচ্চারণকারীরও য‌দি সম্পূর্ণ পাপ ধ্বংস ক‌রেন , সেই সাক্ষাৎ পরব্রহ্ম পর‌মেশ্বর ভক্ত‌কে কখ‌নো ত্যাগ কর‌তে পারেন না কারণ তাঁর পাদপদ্মে ভ‌ক্তের প্রেম রজ্জু ( দ‌ড়ি ) দ্বারা আবদ্ধ থা‌কে । তা‌কেই ভগবদ্ভক্ত‌দের ম‌ধ্যে শ্রেষ্ঠ বলা হয় ।

ঈশ্বর আমাদের বি‌বেক , বু‌দ্ধি ও জ্ঞান দি‌য়ে‌ছেন কেননা তিনি চান যে আমরা তার সদ্ব্যবহার ক‌রি । বুুদ্ধিমান ব্য‌ক্তি সেইই , যে নি‌জের সময়‌কে সর্বোত্তম কা‌র্যে নিযুক্ত রা‌খে , এক মুহূর্তও সময় ব্যর্থ কা‌জে নষ্ট ক‌রে না । সে যে কা‌জের জন্য এসেছে সর্বপ্রথ‌মে সেই কার্যই সম্পূর্ণ ক‌রে । কখ‌নো ক্ষ‌ত্রিকর কোনো কার্য ক‌রে না , সতত মুুক্তি লা‌ভের কার্য ক‌রে আর যা সব চে‌য়ে বে‌শি দা‌মি হয় অর্থাৎ শীঘ্র উদ্ধারকারী হয় , সেই কার্য ক‌রে ; তা‌কেই বু‌দ্ধিমান বলা হয় ।

লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
0 comments

সম‌য়ের সার্থক ব্যবহার - ৫

এক ব্য‌ক্তি জমিদা‌রের এক‌টি খ‌নি এক বৎস‌রের জন্য ঠিকা নিল । সেই খ‌নি‌তে পাথর , কয়লা ও বহুমূল্য হীরা - পান্না ভরা আছে। বি‌নিযুক্ত ব্য‌ক্তি তার থে‌কে হীরা , পান্না কেটে নি‌তে পা‌রে আবার পাথর - কয়লা কাট‌তে পা‌রে ; অথবা কে‌া‌নো কিছুই বার ক‌রে নাও কর‌তে পা‌রে অথবা তা‌তে বাইরে্র আবর্জনা ভ‌রে দি‌তে পা‌রে -- সবই তার ইচ্ছার উপর নির্ভর ক‌রে ।

জ‌মিদা‌রের দিক থে‌কে তা‌কে অনুম‌তি দেওয়া আছে‌ । কিন্তু বুদ্ধিমান ব্য‌ক্তি তো সে যে তার থে‌কে বহুমূল্য হীরা , পান্না , রত্ন বার ক‌রে । যে কয়লা বা পাথর বার ক‌রে সে তো মূর্খ আর তার থে‌কেও বড় মূর্খ সেই ব্য‌ক্তি যে খ‌নি থে‌কে কিছুই বার ক‌রে না কেবল তা‌তে বাগান তৈরী ক‌রে । আর সব থে‌কে বড় মূর্খ সে , যে তার থে‌কে কিছুই বার ক‌রে না বরং তা‌তে আবর্জনা জমা ক‌রে ।

এইভা‌বে ভগবান আমা‌দের দেহরূপ ক্ষেত্র ( জ‌মি ) দি‌য়ে‌ছেন । যে এটিও তত্ত্বত বু‌ঝে সে সর্বোত্তম কা‌জে সংযুক্ত হয় । নবধা ভ‌ক্তির ( শ্রবণ , কীর্তন , স্মরণ , পাদ‌সেবন , অর্চ্চন , আত্মনি‌বেদন , সখ্য , দাস্য , বন্দন ) নানা রক‌মের অঙ্গই নানা প্রকা‌রের রত্ন । যে সর্বাগ্রে তা আহরণ ক‌রে , সেই চতুর ।

যে এই দেহ‌কে স্ত্রী , পুত্র , ধনসম্পদ জড়ো কর‌তে ব্যবহার যে পাথর - কয়লা নিষ্কাষণকারী সম মূর্খ । যে তা সুস‌জ্জিত কর‌তে সংযুক্ত হয় সে পু‌ষ্পোদ্যান সৃ‌ষ্টিকারী সম অধি্ক মূর্খ ; আর যে তা‌তে আবর্জনা জমা ক‌রে সে আরও মূর্খ । যে সময়‌কে ছলচাতু‌রি , চু‌রি , ব্য‌ভিচার আদি পাপ কা‌র্যে ও লোক‌দের নিন্দা করা‌তে সময় ব্যয় ক‌রে , সে যেন খ‌নি‌তে আবর্জনা ভরাট ক‌রে ।

বু‌দ্ধিমান ব্য‌ক্তি সময় থাক‌তে নি‌জের কাজ গু‌ছি‌য়ে নে‌বে । দেহ তো বিনাশশীল ; যত‌দিন তার অধি‌কার পাওয়া গি‌য়ে‌ছে তত‌দিন তা টিক‌বে -- যত শ্বাসপ্রশ্বাস বাঁধা আছের ততই পাওয়া যা‌বে । তাতেই যত বে‌শি স‌র্বোত্তম কাজ ক‌রে নেওয়া যায় তাই স‌র্বোৎকৃষ্ট হ‌বে । তা নাহ‌লে সময় চ‌লে গে‌লে আপশোস ছাড়া আর কো‌নো পথ খোলা থাক‌বে না । তাই আপনি বর্তমা‌নে যে অবস্থায় আছেন বা যে বয়‌সে আছেন এখন থে‌কে ভগবদ্ভ‌ক্তি শুরু করুন । তা‌তেই আপনার মঙ্গ‌ল নি‌হিত ।

শ্রীতুলসীদাস ব‌লেন ------ ‌

সো পরত্র দুখ পাবই সির ধু‌নি ধু‌নি প‌ছিতাই ।

কাল‌হি কর্ম‌হি ইশ্বর‌হি মিথ্যা দোষ লগাই ।

আমা‌দের ভাবা উচি‌ত যে এই দেহ কেন পেলাম ! আমরা তো পে‌য়ে‌ছি ঈশ্বর লা‌ভ করার জন্য । আমা‌দের এখন যে সকল কা‌র্যে সময় কা‌টে তা প্রায় ব্যর্থই কেটে যায় ।

যে কার্য দেহ ও ইন্দ্রিয় দ্বারা হয় তার বি‌শেষ মূল্য নেই । যে কর্ম মন দ্বারা হয় তা দা‌মি হয় । আমা‌দের দেখা উচিত যে আমা‌দের মন কী কর‌ছে । আপ‌নি নিয়ম ক‌রে পূজায় ব‌সে‌ছেন কিন্তু য‌দি আপনার মন পা‌র্থিব জগ‌তে প‌রিভ্রমণ ক‌রে তাহ‌লে তা দা‌মি নয় ।

এক ক‌বি ব‌লে‌ছেন --

মালা তো করমেঁ ফি‌রৈ , জীব ফিরৈ মুখ মা‌হিঁ ।

মনুবাঁ তো চহুঁ ফিরৈ , যহ তো সু‌মিরন না‌হিঁ ।।

অতএব বিচার করা প্র‌য়োজন । ভে‌বে দেখ‌লেই বুঝা যায় যে মন ভজ‌নে এক আনাও লা‌গে না , স্বা‌র্থে _ দুই - তিন _ আনা লা‌গে আর অব‌শিষ্ট __ বা‌রো __ আনা তো ব্যর্থই যায় -- অর্থাৎ আলস্য , প্রমাদ , ভোগ , পাপ ও ব্যর্থ চিন্তায় খরচ হয় যা‌তে আমা‌দের ইহ‌লোকে লাভ হয় না পর‌লো‌কেও হয় না , উল‌টে ক্ষ‌তিই হয় ।

লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
0 comments

সম‌য়ের সার্থক ব্যবহার - ৬ ও ‌শেষ অংশ

তাই বি‌বেক দ্বারা বিচার ক‌রে নি‌জেকে শোধরাবার চেষ্টা করা উচিত । আপ‌নি এটি না কর‌লে , কে কর‌বে ? এই কাজ অতিশয় জরু‌রি আর আপ‌নার আত্মার উদ্ধার _____ সম্পদ দ্বারা , সেবক দ্বারা , বন্ধু দ্বারা বা আত্মীয়স্বজন দ্বারা _____ ক‌রি‌য়ে নেবেন তা কখ‌নো হওয়ার নয় , তা তো আপনা‌কেই কর‌তে হবে । অতএব সব কা‌জে কম গুরত্ব দি‌য়ে প্রথ‌মে এই কাজ কর‌তে হ‌বে ।

স‌ঙ্গে স‌ঙ্গে এও ম‌নে রাখ‌তে হ‌বে যে আত্মউদ্ধাররূপ এই কার্য অন্য কো‌নো যো‌নি‌তে হওয়া সম্ভব নয় । অন্য সব তো ভোগ যো‌নি । যখনই উদ্ধার হ‌বে এই মানব - জীব‌নেই হ‌তে পা‌রে , এই মানবজীবন আবার ক‌বে লাভ হ‌বে তার কো‌নো ঠিক নেই । অন্য জাগ‌তিক কা‌র্যে য‌দি কিছু বা‌কিও থা‌কে তাহলে তা আপনার উত্তরা‌ধিকারী ক‌রে নে‌বে ; আর কেউ না কর‌লেও ক্ষ‌তি নেই ।

কিন্তু সাধনায় ঘাটতি থে‌কে গে‌লে তা তো কেউ পূরণ কর‌তে পারে না । আত্মউদ্ধা‌রের একটুও অব‌শিষ্ট থে‌কে গে‌লে তা আপনার জন্য খুবই ক্ষ‌তিকর হ‌বে । আপনি জাগ‌তিক কার্য‌কেই অজ্ঞানতার বশীভূত হ‌য়ে আসল কাজ ভে‌বে ব‌সে আছেন , কিন্তু তা আপনার বিশাল ভুল । এইখা‌নকার কো‌নো বস্তু আপনার সঙ্গে যা‌বে না । আগেও আপ‌নি তা‌দের স‌ঙ্গে আনেননি এবং যাওয়ার সময়ও আপনার স‌ঙ্গে কিছুই যা‌বে না ।

মৃত্যুর পর সব এইখা‌নেই থে‌কে যা‌বে ; কেবল পাঁচ ক‌র্মে‌ন্দ্রিয় , পাঁচ জ্ঞা‌নে‌ন্দ্রিয় , পাঁচ প্রাণ মন ও বু‌দ্ধি - এই স‌তে‌রো তত্ত্ব আপনার স‌ঙ্গে যা‌বে । যা স‌ঙ্গে যা‌বে তা‌কেই ভা‌লো করবার চেষ্টা করুন । এতে উত্তম গুণ ও আচরণরূপ সম্পদ ভ‌রে নিন যা‌তে এখা‌নেই মু‌ক্তি লাভ হয় । য‌দি কো‌নো কার‌ণে কি‌ঞ্চিৎ ঘাট‌তি থে‌কে যায় তাহ‌লে যোগভ্রষ্ট হ‌য়ে প‌রের জ‌ন্মে উদ্ধার হ‌য়ে যা‌বে ।

তাই আমা‌দের অন্ত‌রে দৈবী সম্প‌দের গুণ ও আচরণই সঞ্চয় করা উচিত । আসুরী সম্পদরূপী অবগুণ ভরা তো আবর্জনা একত্র করা । যা কদর্যভাব ও নিকৃষ্ট কর্ম তা বিদূ‌রিত করা উচিত । যেমন কোনো রমণী‌কে দে‌খে আমা‌দের ম‌নে খারাপ ভাব আসে্ তাহ‌লে তা মন থে‌কে বের ক‌রে দি‌য়ে চো‌খে অঞ্জন লা‌গি‌য়ে নেওয়া উচি্ত । য‌দি তাই চিন্তা করা হয় ত‌বে কাম - ক্রোধ বৃ‌দ্ধি পা‌বে । আর কাম - ক্রোধ শুধু ধ্বংসই ক‌রে ।

অঞ্জন কী ?

ঐ রমণী‌কে _ মা , ভ‌গিনী , অথবা কন্যারূ‌পে ভাবাই অঞ্জন ধারণ করা ও দেখা । এইভা‌বে কর্ণ , বাণী আদি সকল‌কে ভগবা‌নের নাম , রূপ ও গু‌ণের শ্রবণ - কীর্ত‌নে প‌বিত্র ক‌রে দেওয়া উচি্ত আর অন্ত‌রে ভগবা‌নের নাম , রূপ , গুণ , প্রভাব , লীলা এবং ভ‌ক্তের চ‌রিত্র আদি। উত্তম বস্তু দ্বারা পূর্ণ করা উচিত । য‌দি আমরা এমন না ক‌রি তাহ‌লে আমা‌দের কল্যাণ কেমন ক‌রে হ‌বে ?

এক ক‌বি ব‌লে‌ছেন --

জাকী পূঁজী সাঁস হৈ , ছিন আবৈ ছিন জায় ।

তা‌কো ঐসো চা‌হিএ , র‌হৈ রাম লৌ লায় ।।

এই মূলধ‌নে স‌র্বোত্তম লাভ করা প্র‌য়োজন । এই মানব‌দে‌হই ক্ষেত্র অর্থাৎ কর্মভূ‌মি অন্যসব যো‌নি তা বন্ধ্যাভূ‌মি । এতে আপ‌নি মেওয়া চাষ কর‌তে পা‌রেন অাবার কোন কিছু না ক‌রে সম্প‌দের অপচয় কর‌তে পা‌রেন ।

মেওয়া কী ?

শ্রবণং কীর্তনং বি‌ষ্ণোঃ স্মরণং পাদ‌সেবনম্ ।

অর্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনি‌বেদনম্ ।।

( শ্রীমদ্ভাগবত ৭\ ৫\ ২৩ )

অর্থাৎ ' ভগবান বিষ্ণুর _ নাম , রূপ , গুণ এবং প্রভাবা‌দির শ্রবণ , কীর্তন , ভগবা‌নের পদ‌সেবা , পূজা , বন্দনা , দাসভাব , সখাভাব ও সমর্পণই - এই নয় প্রকার ভ‌ক্তি । '

এই নয় প্রকা‌রের ভ‌ক্তিই মেওয়া । ভ‌ক্তির এই নয় প্রকা‌রের অঙ্গের একটা ক‌রে নি‌লেও ভগবান লাভ হ‌বে ; আর যার এই নয়‌টি ভাব আছেন তা‌কে তো বলবার কিছুই নেই । তা তো অতিয় উত্তম ।

কেবল শ্রবণ ভ‌ক্তি দ্বারা পরী‌ক্ষিৎ ও ধুন্ধুকারী আদি ; কীর্ত‌নে নারদ , তুলসীদাস , সুরদাস , গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আদি‌ ; স্মর‌ণে ধ্রুব আদি্ ; পাদ‌সেব‌নে লক্ষ্মী , ভরত , কেবট ( নৌকা চালক ) আদি্ ; পূজা দ্বারা পৃথু , দ্রৌপদী , গ‌জেন্দ্র , ভীল রমণী , র‌ন্তি‌দেব আদিে , নমস্কা‌রের মাধ্য‌মে অক্রূর আদি , দাস্যভা‌বে হনুমান আদি , সখ্যভা‌বে সুগ্রীব , অর্জুন আদি এবং আত্ম‌নি‌বে‌দনে ব‌লি আদি ঈশ্বর লাভ ক‌রে‌ছেন ।

অতএব আমা‌দের এই কথা বিশ্বাস করে যত তাড়াতা‌ড়ি সম্ভব সেই কার্য সম্পন্ন করা উচিসত , যার জন্য আমা‌দের এই মানবজন্ম লাভ হ‌য়ে‌ছে । ভাগবতকার সাবধান ক‌রে ব‌লে‌ছেন --

লব্ধ্বা সুদুর্লভ‌মিদং বহুসম্ভবা‌ন্তে মানুষ্যমর্থদ‌মনিত্যমপীহ ধীরঃ ।

তূর্ণং য‌তেত ন প‌তেদনুমৃত্যু যাবন্ নিঃ‌শ্রেয়সায় বিষয়ঃ খলু সর্বতঃ স্যাৎ ।। ( ১১\ ৯\ ২৯ )

অর্থাৎ ' এই মানব‌দেহ অনি্ত্য হলেও পরম পুরুষা‌র্থের সাধন বা পথ । তাই বহু জন্ম পর এই দুর্লভ নর‌দেহ লাভ ক‌রে বু‌দ্ধিমান মানু‌ষের জন্য কাম্য হ‌বে যে যতক্ষণ পর্যন্ত এই দেহ আবার মৃত্যুর কব‌লে না প‌ড়ে তার ম‌ধ্যেই যত শীঘ্র নি‌জের কল্যা‌ণ হয় তার চেষ্টা ক‌রে নেওয়া কারণ বিষয় তো সকল যো‌নি‌তেই পাওয়া যায় ( তা সংগ্রহ কর‌তে এই অমূল্য সু‌যোগ কখনই হারা‌বে না ) ।

লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
0 comments

ব্রহ্মা কর্তৃক ত‌মোগুণ , র‌জোগুণ ও স‌ত্ত্বগু‌ণের কার্যা‌দির বর্ণনা - ২

ম‌হর্ষিগণ ! এবার আ‌মি তোমা‌দের র‌জোগু‌ণের স্বরূপ এবং কা‌র্যের গুণা‌দির যথাযথ বর্ণনা করব । মন দি‌য়ে শোনা -- সন্তাপ , রূপ , আরাম , সুখ - দুঃখ , শীত - গ্রীষ্ম , ঐশ্বর্য , বিগ্রহ , স‌ন্ধি , হেতুবাদ , মন অপ্রসন্ন থাকা , বল , শৌর্য , অহংকার রোষ ব্যায়ম , বিবাদ , ঈর্ষা , ইচ্ছ‌া , পরচর্চা , যুদ্ধ করা , মমত্ব‌ বোধ , কুটুম্ব পালন , বধ , বন্ধন , ক্লেশ , ক্রয় - বিক্রয় , অ‌ন্যের ক্ষ‌তি করার চেষ্টা , উগ্রতা , নিষ্ঠুরতা , চিৎকার , অ‌ন্যের দোষ দেখা , লে‌ৗ‌কিক বিষয় চিন্তা করা , অনুতাপ , অসত্যভাষণ , মিথ্যা দান , সংশয়পূর্ণ বিচার , তিরস্কার , নিন্দা , স্তু‌তি , প্রশংসা , প্রতাপ , জোর খাটা‌নো , স্বা‌র্থের জন্য কাজ , তৃষ্ণা , অপ‌রের আশ্রয়ে থাকা , ব্যবহার কুশলতা , নী‌তি , প্রমাদ , প‌রিবার এবং প‌রিগ্রহ -- এগু‌লি সবই র‌জোগুণের কার্য ।

জগ‌তে যে নারী , পুরুষ , ভূত , দ্রব্য এবং গৃহা‌দির পৃথক পৃথক সংস্কার , অবিশ্বাস , সকামভা‌বে ব্রত - নিয়মা‌দি পালন , কাম্যকর্ম , নানাপ্রকা‌রের জলাশয় খনন , স্বাহাকার , নমস্কার , স্বধাকার , বষট্কার , যাজন , অধ্যাপন , যজন , অধ্যায়ন , দান , প্র‌তিগ্রহ , প্রায়‌শ্চিত এবং মঙ্গলজনক কর্ম‌কেও রাজস ব‌লে ম‌নে করা হয় ।

" আমার বস্তু প্রাপ্তি হোক , অমুক জি‌নিস লাভ হোক " - এই প্রকার যার বিষয়া‌দি পাওয়ার জন্য আস‌ক্তিমূলক উৎকন্ঠা হয় , র‌জোগুণই তার কারণ ।

দ্রোণ , মায়া , শঠতা , মান , চু‌রি , হিংসা , ঘৃণা , প‌রিতাপ , জাগরণ , দম্ভ , দর্প , রাগ , বিষয়‌প্রেম প্র‌মোদ , দ্যূতক্রীড়া , ঝগড়া - বিবাদ করা , নারী‌দের স‌ঙ্গে সম্পর্ক বৃ‌দ্ধি , গান - বাজনা , নৃত্য - গী‌তে আসক্ত হওয়া - এগু‌লি সবই রাজস গুণ ।

যারা এই পৃ‌থিবী‌তে অতীত , বর্তমান ও ভ‌বিষ্যৎ পদা‌র্থের কথা চিন্তা ক‌রে , ধর্ম , অর্থ ও কামরূপ ত্রিব‌র্গের সেবায় ব্যাপৃত থা‌কে , ইচ্ছম‌তো আচরণ ক‌রে এবং সর্বপ্রকার ভো‌গের সমৃ‌দ্ধি‌তে আন‌ন্দিত থা‌কে , তারা র‌জোগু‌ণে আবৃত , তা‌দের অর্বাক্ স্রোতা বলা হয় ।

এরূপ লোক ইহ‌লোকে বারংবার জন্ম নি‌য়ে বিষয়জ‌নিত আন‌ন্দে মগ্ন থা‌কে এবং ইহলো‌কে ও পর‌লো‌কে সুখলা‌ভের জন্য চেষ্টা ক‌রে । মু‌নিবরগণ ! আ‌মি তোমা‌দের নানাপ্রকার রাজ‌সিক গুণ এবং তদনুকূল আচর‌ণের যথাবৎ বর্ণনা করলাম । যেসব মানুষ এই গুণাগুলি‌কে জা‌নে , তারা সর্বদা এর বন্ধন থে‌কে নি‌জে‌কে স‌রি‌য়ে রা‌খে ।

মহ‌র্ষিগণ ! এবার আ‌মি তৃতীয় উত্তমগুণ ( সত্ত্বগুণের ) বর্ণনা কর‌ছি , এই গুণ জগ‌তের সমস্ত প্রাণী‌দের হিতকারী এবং সাধুপুরুষ‌দের প্রশংসনীয় ধর্ম । আনন্দ , প্রসন্নতা , উন্ন‌তি , প্রকাশ , সুখ , কৃপণতার অভাব নির্ভয়তা স‌ন্তোষ , শ্রদ্ধা , ক্ষমা , ধৈর্য , অ‌হিংসা , সমতা , সত্য সারল্য , ক্রোধহীনতা , অ‌ন্যের দোষ না দেখা , প‌বিত্রতা , চতুরতা ও পরাক্রম -- এগু‌লি সত্ত্বগু‌ণের কার্য ।

যারা এই ধ‌র্মের আচরণ ক‌রে , তারা পর‌লো‌কে সুখভাগী হয় । মমত্ব‌বোধ , অহংকার , আশা প‌রিত্যাগ ক‌রে সর্বত্র সমদৃ‌ষ্টি রাখা এবং সর্ব‌তোভা‌বে নিষ্কাম হওয়াই সাধু পুরুষ‌দের সনাতন ধর্ম ।

বিশ্বাস , লজ্জা , তি‌তিক্ষা , ত্যাগ , প‌বিত্রতা , আলস্যবর্জন করা , কোমলতা , মোহগ্রস্থ না হওয়া , প্রাণী‌দের স‌ঙ্গে সৎ ব্যবহার , পরচর্চা না করা , হর্ষ , স‌ন্তোষ , বিস্ময় , বিনয় , সত্যব্যবহার , শা‌ন্তিক‌র্মে শুদ্ধভা‌বে প্রবৃত্ত হওয়া , উত্তম বু‌দ্ধি , আস‌ক্তি মুক্ত হওয়া , জগ‌তের ভো‌গে উদাসীনতা , ব্রহ্মচর্য , সর্বপ্রকার ত্যাগ , নির্মমতা , ফ‌লের কামনা না করা , নিরন্তর ধর্ম পালন কর‌তে থাকা -- এসবই সত্ত্বগু‌ণের কার্য ।

যারা উপ‌রিউক্ত আচরণ পালনপূর্বক এই জগ‌তে স‌ত্যের আশ্রয় গ্রহণ ক‌রে এবং বে‌দের উৎপ‌ত্তির স্থানভূত পরব্রহ্ম পরমাত্মা‌তে নিষ্ঠা রা‌খে , তা‌দেরই ধীর এবং সাধুদর্শী ব‌লে মানা হয় । এই ধীর পুরু‌ষেরা সব পাপ প‌রিত্যাগ ক‌রে শোকর‌হিত হন এবং স্বর্গ‌লো‌কে গি‌য়ে অ‌নেক শরীর সৃ‌ষ্টি ক‌রেন । সত্ত্বগুণভাবাপন্ন মহাত্মা স্বর্গবাসী দেবতা‌দের ন্যায় ঈ‌শিত্ব , ব‌শিত্ব এবং ল‌ঘিমা ইত্যা‌দি সি‌দ্ধি প্রাপ্ত ক‌রেন ।

তাঁ‌দের ঊর্ধ্ব‌স্রোতা এবং বৈকারিক দেবতা ব‌লে মানা হয় । ( যোগব‌লে ) স্বর্গলাভ হ‌লে তাঁ‌দের চিত্ত ভোগজ‌নিত সংস্কার দ্বারা বিকৃত হয় । সেইসময় তাঁরা যা চান , সেই বস্তুই পান এবং দান ক‌রেন । আমি তোমা‌দের সত্ত্বগু‌ণের কার্যা‌দি বর্ণনা করলাম । যারা এই বিষ‌য়ে ভা‌লোভা‌বে জা‌নে তারা ম‌নোবা‌ঞ্ছিত বস্তু লাভ ক‌রে এবং সেই গু‌ণের সেব‌নে রত থাক‌লে তা‌দের আর বন্ধন প্রা‌প্তি হয় না ।

লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
0 comments

ব্রহ্মা কর্তৃক ত‌মোগুণ , র‌জোগুণ ও স‌ত্ত্বগু‌ণের কার্যা‌দির বর্ণনা - ১

" ব্রহ্মা বল‌লেন - মহ‌র্ষিগণ ! তিন প্রকার গুণ যখন সাম্যাবস্থা প্রাপ্ত হয় , তখন তা‌কে বলা হয় অব্যক্ত প্রকৃ‌তি । অব্যক্ত সবই প্রাকৃত কা‌র্যে ব্যাপক , অ‌বিনাশী এবং স্থির স্বভাব‌বি‌শিষ্ট ।

উপ‌রিউক্ত তিন গু‌ণে যখন বৈষম্য আ‌সে তখন সে‌টি পঞ্চভূ‌তের রূপ ধারণ ক‌রে এবং তার থে‌কে নবদ্বারসম্পন্ন নগর ( শরীর ) উৎপন্ন হয় । এই নগ‌রে জীবাত্মা‌কে বিষয়া‌দির দি‌কে প্রে‌রিতকারী একাদশ ই‌ন্দ্রিয় থা‌কে ।

ম‌নের দ্বারা তার অ‌ভিব্য‌ক্তি হয় । বু‌দ্ধি এই নগ‌রের প্রভু । এ‌তে যে তিন‌টি স্রোত ( চিত্তরূপ নদীর প্রবাহ ) , তা সর্বদা পূর্ণ থা‌কে । এগু‌লি পূর্ণ করার জন্য তিন‌টি গুণময় না‌ড়ি আছে । তা‌দের সত্ত্ব , রজ ও তম বলা হয় । এরা পরস্পর এ‌কে অ‌ন্যের আ‌শ্রিত এবং এ‌কে অপরের সাহা‌য্যে টি‌কে থা‌কে ।

যেখা‌নে ত‌মোগুণ বাধা পায় সেখানে র‌জোগুণ বৃ‌দ্ধি পায় , যেখা‌নে র‌জোগুণকে দমন করা হয় সেখা‌নে সত্ত্বগুণ বৃ‌দ্ধিলাভ ক‌রে । তম‌কে অন্ধকাররূপ ব‌লে জান‌তে হ‌বে । এর অপর নাম মোহ । এ‌টি অধ‌র্মের দি‌কে প্রেরণ ক‌রে এবং পাপকারী‌দের ম‌ধ্যে নিশ্চিতরূপে বিদ্যমান থা‌কে । ত‌মোগু‌ণের এই স্বরূপ অন্যান্য গু‌ণের স‌ঙ্গেও মি‌শ্রিত দেখা যায় ।

র‌জোগুণ হল প্রকৃ‌তিরূপ । এ‌টি সৃ‌ষ্টির উৎপ‌ত্তির কারণ । সমস্ত প্রাণীর ম‌ধ্যেই এই প্রবৃ‌ত্তি দেখা যায় । এর দ্বারাই দৃশ্য জগ‌তের উৎপ‌ত্তি হ‌য়ে‌ছে ।

সর্ব প্রাণী‌তে স্থিত প্রকাশ অহংকারশূন্যতা এবং শ্রদ্ধা - এগু‌লি সত্ত্বগু‌ণের স্বরূপ । সাধু ব্যক্তিরা নিরহংকা‌রের প্রশংসা করে‌ছেন । এবার আ‌মি যু‌ক্তিপূর্বক , য‌থোপযুক্তভা‌বে এই তিন গুণা‌দির কা‌র্যের যথার্থ বর্ণ‌না কর‌ছি । মন দি‌য়ে শো‌নো ।

মোহ , অজ্ঞ‌ান , ত্যাগহীনতা , কর্মা‌দির সম্ব‌ন্ধে নির্ণয় কর‌তে না পারা , নিদ্রা , অহংকার , ভয় , লোভ , শোক , শুভ ক‌র্মে দোষ দেখা , স্মরণ - শক্তির অভাব , প‌রিণাম চিন্তা না করা , না‌স্তিকতা , দুশ্চা‌রিত্রা , নি‌র্বি‌শেষতা ( ভা‌লো - মন্দ বি‌বেচনার অভাব ) , ই‌ন্দ্রি‌য়ের শৈ‌থিলা , হিংসা‌দি নিন্দনীয় দো‌ষে প্রবৃত্ত হওয়া , অকার্য‌কে কার্য এবং অজ্ঞান‌কে জ্ঞান ব‌লে ম‌নে করা , শত্রুতা , কা‌জে মন না দেওয়া , অশ্রদ্ধা , মূ‌র্খের ম‌তো চিন্তা , কু‌টিলতা , কো‌নো কিছু বোঝার ক্ষমতা না থাকা , পাপ করা , অজ্ঞান , আলস্য ইত্যা‌দির জন্য দেহের জড়তা , ভাব - ভ‌ক্তি না থাকা , অ‌জি‌তে‌ন্দ্রিয়তা এবং নীচ ক‌র্মে আসক্তি - এই সবই হল ত‌মোগু‌ণের কাজ ।

এতদ্বাতীত আরও যেসব বিষয় ইহ‌লোকে নি‌ষিদ্ধ বলা হয় , সেগু‌লিও ত‌মোগু‌ণের কার্য বলে জান‌বে । দেবতা , ব্রাহ্মণ ও বে‌দের নিন্দা করা , দান না করা , অ‌ভিমান , মোহ , ক্রোধ , অসহশীলতা এবং মাৎসর্য - এসবই তামস আচরণ । ( বি‌ধি এবং শ্রদ্ধার‌হিত ) বৃথা কার্য শুরু করা , দেশ - কাল - পাত্র বিচার না ক‌রে অশ্রদ্ধা এবং অব‌হেলাপূর্বক দান করা , দেবতা ও অ‌তি‌থি‌দের না দি‌য়ে আহার করাও তাম‌সিক কার্য ।

অ‌তিবাদ , অক্ষমা , মাৎসর্য , অ‌ভিমান এবং অশ্রদ্ধা‌কে ত‌মোগু‌ণের ফল বলে মানা হয় । জগ‌তে এইরূপ আচরণ‌বিশিষ্ট এবং ধর্ম মর্যাদা ভঙ্গকারী যেসব পাপী ব্য‌ক্তি আ‌ছে , তা‌দের সকল‌কেই ত‌মোগুণী বলা হয় । এরূপ পাপী মানুষ‌দের পরবর্তী জ‌ন্মে যে যো‌নি‌তে যাওয়া অ‌নিবার্য তার পরিচয় জানা‌চ্ছি ।

এ‌দের ম‌ধ্যে অ‌নে‌কে নরকগামী হয় , আর কিছু তির্যক যো‌নি‌তে জন্মগ্রহণ ক‌রে । স্থাবর ( বৃক্ষ - পর্বত ইত্যা‌দি ) , পশু , , মালবাহী জীব , , রাক্ষস , , সর্প , , কীট - পতঙ্গ , , পক্ষী , , অণ্ডজ প্রাণী , , চতুষ্পদ প্রাণী , , মানসিক ভারসাম্যহীন , , কালা - বোবা ইত্যা‌দি ও অনন্যা যত পাপময় রোগযুক্ত ( কুষ্ঠ ইত্যা‌দি ) মানুষ , তারা সক‌লেই ত‌মোগু‌ণে আচ্ছন্ন র‌য়ে‌ছে । নিজ কর্মানুসা‌রে উপযুক্ত এইসব দুরাচারী জীব সর্বদা দুঃখে নিম‌জ্জিত থা‌কে ।

তা‌দের চিত্তবৃ‌ত্তির প্রবাহ নিম্নগামী । তাই তা‌দের অর্বাক স্রোতা বল‌া হয় । এরা সক‌লেই ত‌মোগুণী । তম ( অবিদ্যা ) , মোহ ( অ‌স্মিতা ) , মহা‌মোহ ( রাগ , আস‌ক্তি ) , ক্রোধ নামযুক্ত তা‌মিস্র এবং মৃত্যুরূপ অন্ধতা‌মিস্র - এই পাঁচপ্রকা‌রের তামসী প্রকৃ‌তি বলা হয় । বিপ্রবরগণ ! বর্ণ , গুণ , যো‌নি এবং তত্ত্ব অনুসা‌রে আ‌মি ত‌মোগুণের সম্পূর্ণ বর্ণনা করলাম ।

যা‌দের দৃ‌ষ্টি অসার ত‌ত্ত্বে নিবদ্ধ থা‌কে - এমন কোন্ ব্য‌ক্তি এই বিষয়‌কে ভা‌লোভা‌বে বুঝ‌তে পার‌বে ? এই বিপরীত দৃ‌ষ্টিই ত‌মোগু‌ণের প‌রিচয় । ত‌মোগু‌ণের স্বরূপ ও তার কার্যা‌দির নানাপ্রকার গু‌ণের যথাবৎ বর্ণনা করা হল । যে ব্য‌ক্তি এই গুণগুলি ঠিকভা‌বে জা‌নে , সে তাম‌সিক গুণ থে‌কে সর্বদা মুক্ত থা‌কে ।
লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav

0 comments

প্রকৃত ঈশ্বরভক্ত

ভারতবর্ষে হিন্দুদের মধ্যে অবতারবাদ প্রচলিত । ভক্তের দৃষ্টিতে অবতার- পুরুষগণ অসীম প্রেমস্বরূপ পরমেশ্বরের মানব- রূপধারী জীবন্ত প্রকাশ। এইজন্য ভক্তগণ তাঁহাদের সমস্ত হৃদয় – মনপ্রাণ ঢালিয়া অবতারপুরুষদের ভক্তি করেন । কোন কোনও অবতারপুরুষকে ভক্তগণ পিতা-মাতা, বন্ধু, সখা, স্বামী প্রভৃতি নানাভাবে ভালোবাসেন । সেইজন্য স্বীয় আরাধ্য দেবতা ভগবানের উদ্দেশ্যে ভালবাসেন ।

সেইজন্য স্বীয় আরাধ্য দেবতা ভগবানের উদ্দেশ্যে ভক্তরা বলেনঃ
‘ত্বমেব মাতা চ পিতা ত্বমেব, ত্বমেব বন্ধুশ্চ সখা ত্বমেব ।
ত্বমেব বিদ্যা দ্রবিণং ত্বমেব, ত্বমেব সর্বং মম দেবদেব ।।“

‘হে ঈশ্বর , তুমিই আমার পিতা, তুমিই আমার মাতা, তুমিই আমার বন্ধু, তুমি আমার সখা, তুমি আমার সমস্ত জ্ঞান ও বিদ্যা, তুমিই আমার চির ঐশ্বর্য ও সর্ববিধ সম্পদ এবং তুমিই আমার সর্বস্ব ।’

প্রকৃত ঈশ্বরভক্ত এইরূপে সমস্ত সাংসারিক সম্বন্ধকে বিস্মৃত হইয়া সেই অনির্বচনীয় পরমপ্রেমস্বরূপ ঈশ্বরের সহিত নিজের চির আত্মীয়তাকে উপলব্ধি করেন। এই বিশ্ব প্রাণতার ভাবেই তিনি ঈশ্বরের অসংখ্য ভক্তবৃন্দ- সমন্বিত আধ্যাত্মিক সম্বন্ধময় সুবিশাল পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হন। এই অবস্থাই মানবের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার জন্মলাভ । এখান হইতেই তাহার আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনা ।

সাধকের হৃদয়ে যদি বিন্দুমাত্র কপটতা , বিষয় – বাসনা অথবা স্বার্থলালসা না থাকে, যদি তাহার ঈশ্বরপ্রেম সম্পূর্ণরূপে নিস্কাম, ঐকান্তিক ও অবিশ্রান্ত হয়, তাহা হইলে সে ধর্মসাধনার এমন এক উচ্চস্তরে উপনীত হইবে যেখানে তাহার ভক্তিভাব এই প্রকার পরাকাষ্ঠা অথবা পরিপূর্ণতা লাভ করিবে । ধর্মসাধনায় যিনি সম্যকভাবে সিদ্ধিলাভ করিয়াছেন তিনিই প্রকৃতপক্ষে মানবের সদগুরু। সাধন সিদ্ধ সদগুরুর হৃদয় নির্মল , প্রশান্ত ও পবিত্র । তাঁহার অন্তর হইতে সর্বদা ঈশ্বরপ্রেমের মন্দাকিনীধারা অবারিত স্রোতে প্রবাহিত হইয়া অসীম অনন্ত সচ্চিদানন্দ সমুদ্রে মিশিতেছে ।

আর প্রকৃত শিষ্য তিনিই একমাত্র হইতে পারেন যিনি সাংসারিক বন্ধনের জালকে ছিন্ন করিয়া , নিজ পরিবারের সহিত শোনিত সম্পর্কের মমতা ত্যাগ করিয়া সদগুরুর সান্নিধ্যলাভে ও ভগবৎপ্রেমের অমৃত- আস্বাদে ধন্য ও কৃতার্থ হইয়াছেন । ঈশ্বরলাভের জন্য ব্যকুলতা ও মনের পবিত্রতা আছে বলিয়াই মুক্তিকামী ব্যক্তির অন্তরে ভক্তিভাব প্রবলভাবে জাগ্রত হয় । তাহারই ফলে তিনি ঈশ্বরদ্রষ্টা সদগুরুর সহিত একাত্মতা উপলব্ধি করিতে সমর্থ হন । এই প্রকার প্রকৃত সদগুরুই শিষ্যকে ঈশ্বরলাভের পথ ঠিকভাবে দেখাইয়া দিতে পারেন ।

( ভালবাসা ও ভগবৎপ্রেম... স্বামী অভেদানন্দ... শ্রীরামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ )
0 comments

সনাতন ধর্মে পরমেশ্বর ভগবান কে

কে পরমেশ্বর ভগবান তা জানতে হলে আমাদের বেদমাতা বা বৈদিক শাস্ত্রের সাহায্য নিতে হবে। কারন,সন্তানের পিতা কে তা মাতাই ভাল বলতে পারে। তেমনি বৈদিক শাস্ত্রসমূহই আমাদের বলে দিতে পারে, কে পরমেশ্বর ভগবান।

আসুন দেখি বৈদিক শাস্ত্রে কাকে পরমেশ্বর ভগবান বলা হয়েছে---
ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।

অনাদির্রাদির্গোবিন্দ­নঃ সর্বকারণকারণম্।। -- ব্রহ্মসংহিতা (৫/১)
অনুবাদ -- শ্রীকৃষ্ণ, যিনি গোবিন্দ নামেও পরিচিত, তিনিই হচ্ছেন পরম ঈশ্বর। তাঁর রূপ সচ্চিদানন্দময়। তিনি হচ্ছেন সব কিছুর পরম উৎস। তাঁর কোন উৎস নেই, কেন না তিনি হচ্ছেন সমস্ত কারণের পরম কারণ।

মত্তঃ পরতরং নান্যৎ কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয়।
ময়ি সর্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব।। -- গীতা ৭/৭

অনুবাদ -- হে ধনঞ্জয়! আমার থেকে শ্রেষ্ট আর কেউ নেই।সূত্রে যেমন মণিসমূহ গাঁথা থাকে, তেমনি সমস্ত বিশ্বই আমাতে ওতঃপ্রোতভাবে অবস্থান করে।

একলে ঈশ্বর কৃষ্ণ, আর সব ভৃত্য।
যারে যৈছে নাচায়, সে তৈছে করে নৃত্য।। শ্রীমহৎ ভাগবৎ ১/১/১

একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন পরম ঈশ্বর এবং অন্য সকলেই তার সেবক।তিনি যেভাবে নির্দেশ দেন,তারা সেভাবেই নৃত্য করেন।চৈ:চ:আদি-৫/১৪২

হে বসুদেব তনয় শ্রীকৃষ্ণ। হে সর্বব্যাপ্ত পরমেশ্বর ভগবান। আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। আমি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করি,কেন না তিনি হচ্ছেন প্রকাশিত ব্রহ্মাণ্ডসমূহের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের পরম কারণ।

এছাড়া আরো কিছু প্রমাণ --- আমি(শ্রীকৃষ্ণ) জড় ও চেতন জগতের সব কিছুর উৎস। গীতা-১০/৮
হে কৌন্তেয়! আমার অধ্যক্ষতার দ্বারা জড়া প্রকৃতি এই চরাচর বিশ্ব সৃষ্টি করি। গীতা-৯/১০
হে ব্রহ্মা! সৃষ্টির পূর্বে কেবল আমি ছিলাম এবং প্রলয়ের পর কেবল আমিই অবশিষ্ট থাকব। ভাগবত--২/৯/৩৩

কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ম। ভাগবত- ১/৩/২৮
হে রাজন! পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পরিকল্পনা কেউই জানতে পারে না। (ভীষ্মদেব) ভাগবত-১/৯/১৬।

শ্রীকৃষ্ণের নাম রূপ গুণ লীলা কখনও প্রাকৃত চক্ষু কর্ণ আদির গ্রাহ্য নয়।(পদ্মপুরান)

শ্রীকৃষ্ণ কারো ধ্যান/আরাধনা বা সেবা করেন না, তিনি সেবা গ্রহন করেন।

পরমেশ্বর ভগবান হলেন শ্রীকৃষ্ণ। এতে কোন সন্দেহ নেই।কারন ব্রহ্মা, শিব­, ইন্দ্রও তা স্বীকার করেছেন। সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রের প্রনেতা বেদব্যাস তা স্বীকার করেছেন। তখনকার বিশ্বের শ্রেষ্ট পণ্ডিত, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তা স্বীকার করেছেন। সারা পৃথিবীতে সনাতনধর্ম প্রচারের অগ্রদূত, শ্রীল প্রভুপাদ তা স্বীকার করেছেন। যেখানে বৈদিক শাস্ত্রসমূহ ও এতো মহান মহান ব্যাক্তিরা শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবান রূপে স্বীকার করেছেন, সেখানে আমরা কেন পারবো না, শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবান রূপে গ্রহন করতে?

★ এই লেখা যদি ভালো লাগে তো পোষ্টটি শেয়ার করে অন্য কে পেতে সাহায্য করুন।
লেখকঃ প্রীথিষ ঘোষ
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger