সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

পৃথিবীর ১ম ভাষা কি সংস্কৃত ?

“এটি একটি অত্যন্ত বিশ্ময়কর আবিষ্কার । ভারতবর্ষ, যেখানে অনেক দিগ্বিজয়ী এবং মহান মুনীগন তাদের পদচিহ্ন রেখে গেছেন কিন্তু সময় এবং প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর আদি এই ভাষা এখনও স্বমহিমায় উজ্জ্বল । এই ভাষা সকল ভাষার জনক এবং ইউরোপিয়ানরা যাকে “ক্লাসিক্যাল” এর উৎস নামে জানে । যেটির দর্শন অতি উন্নত, যে ভাষা মহাজাগতিক হিসাব নিকাশ সমাধানের ক্ষমতা রাখে ।” – রয়েল এসিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত উপরোক্ত বক্তব্যে যে ভাষার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে দৈবী ভাষা ‘সংস্কৃত’ ।


 “অরিজিন অব হিউমেন স্পিস এন্ড এফলপাকেট নামক গ্রন্থে বিখ্যাত ভাষাবিদ মরিস ফিলিপ বলেছেন, “ভাষাতত্ত্বের ইতিহাস এবং ধবনিতত্ত্বের উপর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে আমরা এ কথা দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করিতে পারি যে, “ঋগবেদ” হচ্ছে সবচেয়ে প্রাচীন শুধুমাত্র আরিয়ান গোষ্টির জন্য নয়, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য সত্য ।”

সুতরাং উপরোক্ত বক্তব্যে আমরা এই কথা বলতে পারি যে, ঋগবেদ হচ্ছে ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত প্রথম এবং প্রধান ধর্মগ্রন্থ । ঋগবেদ যেহেতু ভগবান প্রদত্ত তাই এটি ত্রুটিহীন । এছাড়া বহু পাশ্চাত্য ভাষাবিদ বিজ্ঞানীগন বেদ এবং সংস্কৃত ভাষাকে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন শাস্ত্রীয় ভাষা বলে স্বীকার করেছেন ।
সর্বপ্রথম ভাষার উৎস সন্ধানে গবেষনা করেন ডেনমার্কের ভাষাতত্ত্ববিদ রাসমাস রাসক(১৮১৮), জার্মানীর ফ্যাঞ্জ বোপ(১৭৯১-১৮৩৭), ফিক এস্ট, জেকব গ্রীম সহ আরো অনেকে । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯১৪ সালে । সে বছর থমাস ইয়ং ঘোষনা করেন যে, পৃথিবীর সকল ভাষা মূলত ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এসেছে ।


 পরবর্তীতে আধুনিক ভাষাবিদদের মতে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা গোষ্টি মূলত একটি মাত্র প্রোটো ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এসেছে এবং তারা গবেষণা করে মত প্রকাশ করেন যে, এই প্রোটো ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার উৎপত্তি এশিয়া তথা এশিয়া মাইনরে এবং এটি ৭০০০ খ্রীষ্টপূর্বেও ব্যবহৃত হত । এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভাষাতত্ত্ববিজ্ঞানীরা কিভাবে বুঝলেন যে , সকল ভাষা মূলত একটি ভাষা হতে এসেছে । প্রথমত বিজ্ঞানীরা সক্ল ভাষার মধ্যে কিছু একই ধরনের শব্দ পরিলিক্ষিত করলেন । এছাড়া তাঁরা শব্দের উৎস, ধ্বনিগত জ্ঞান ও ভাষার চারিত্রিক পরিবর্তন সবকিছু গবেষনা করে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন যে একটি ভাষার ইভালুয়েশনের মাধ্যমে অন্যান্য ভাষা এসেছে ।


গত শতাব্দীতে এশিয়ামাইনরে অবস্থিত তুর্কিস্থানে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি প্রাচীন শাস্ত্রলিপি আবিষ্কার করেন যা আনুমানিক ৬৫০০ খ্রীষ্টপূর্বের । আশ্চর্যের বিষয় ছিল যে, সেসকল শাস্ত্রে চাকা নির্মিত রথ, পশুপালন এর কথা উল্লেখ আছে, যা মূলত বেদের কৃষি-গোরক্ষা-বাণিজ্য নীতির সম্পূরক । পশ্চিমা ভাষাতত্ত্ববিদগণ বলেছেন যে, সংস্কৃত ভাষাই হচ্ছে সেই আদি অর্থাৎ প্রোটো ইন্দোইউরোপিয়ান ভাষা, যা ইন্দো উপত্যকার নিকটবর্তী অঞ্চলের মানুষেরা ব্যবহার করত ।(Source : Dravidian Origin)
গবেষকগণ বলছেন যে, ইন্দোঅঞ্চলের প্রাচীন লোকসমূহ অতি পূর্বে বর্তমান ভারতের স্বরস্বতী নদীর তীরে বাস করতেন । প্রায় ৬০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের তারা সেখানে বৈদিক সমাজ ব্যবস্থা চালুকরে । পরে সমগ্র পৃথীবীতে তাদের বিস্তৃতি ঘটে এবং সেই সাথে ভাষা হিসেবে সংস্কৃত ভাষা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে । বৈদিক যুগের কয়েকটি আর্কিটেকচার দেখে ধারণা করা যায় যে এগুলো ছিল অতি প্রাচীন সময়ের এবং সেই সাথে সেই সব আর্কিটেকচারে সংস্কৃত মন্ত্রসমূহ খোদাই করে দেখে ধারণা করা যায় যে, সংস্কৃত অতি প্রাচীন ভাষা ।

অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, সংস্কৃত ভাষা সর্বস্তরের মানুষ ব্যবহার করত না । কেবল উচ্চ স্তরের ব্রাক্ষ্মণ সম্প্রদায়রাই কেবল এই ভাষা ব্যবহার করত । অন্যান্যরা প্রাকৃত ভাষা ব্যবহার করতেন । ১৯৮০ সালের ৯ জুলাই তারিখের “টাইমস অব ইন্ডিয়া” পত্রিকায় প্রকাশিত পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সকল স্তরের এমনকি সমাজের নিম্নবর্ণের মানুষেরাও তখন সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করত । এখনও হিমালয়ে পাটান উপত্যকার নিকটে “চিনাল” নামক এক আদিবাসী সম্প্রদায় বাস করে যারা বৈদিক যুগ থেকে এখনও শুধুমাত্র সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করছে । এছাড়া “লোহার” নামক অন্য এক কামার সম্প্রদায়ও এখনো সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করছে ।
বিশ্বসেরা “এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটিনিকা” এর সংস্কৃত নামক অধ্যায়ে লেখা রয়েছে যে, উইলিয়াম স্মিথ এবং অন্যান্য গবেষকগণ মন্তব্য করছেন যে, “সংস্কৃতই হচ্ছে প্রথম ভাষা, যা ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত” ।


লেখক ডেবিড ড্রিংগার তার রচিত “দি এলফাবেট” নামক গ্রন্থে দেখিয়েছেন কিভাবে প্রত্যেকটি ভাষার ধ্বনিসমূহ মূলত একটি ধ্বনি বা বর্ণ থেকে এ
সেছে । এই গ্রন্থে তিনি প্রতিপন্ন করেছেন যে, মূলত সংস্কৃত বর্ণই পরবর্তীতে বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন ভাষায় প্রবেশ করেছে । (Source : Dravidian Origin)
আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (AL) নামক বিখ্যাত ম্যাগাজিনে নাসা গবেষক রিক ব্রিগস বলেছেন, “বিগত ত্রিশ বছর যাবৎ আমরা কম্পিউটার প্রসেসিং করার উদ্দেশ্যে একটি প্রাকৃতিক ভাষার সন্ধানে বহু সময়, অর্থ, শ্রম দিয়েছি ।

 অবশেষে প্রায় ১০০০ বছরের প্রাচীন একমাত্র সংস্কৃত ভাষাই আমাদের প্রচেষ্ঠাকে সফল করেছে । সাম্প্রতিক তথ্যমতে, নাসার বিজ্ঞানীগণ খুব শীঘ্রই ৬ষ্ঠ প্রজন্ম এবং ৭ম প্রজন্মের দ্রুত গতির সুপার কম্পিউটার নির্মাণ করতে যাচ্ছে যেটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করা হবে সংস্কৃত ভাষা দিয়ে । এই প্রজেক্টটি কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে (৬ষ্ঠ প্রজন্ম), এবং ২০৩৪ সালে (৭ম প্রজন্ম), পৃথিবীর বহু ভাষাবিদগণ ধারণা করছেন যে, নাসা এই প্রকল্প শেষ করার পর পৃথিবীতে সংস্কৃত ভাষা তুমুল জনপ্রিয় হবে এবং একটি বৃহৎ পূর্ণজাগরণ ঘটবে । নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, সংস্কৃত ভাষায় তৈরি ঐ সকল বৈদিক শব্দসমূহ জাদুর মত কাজ করবে ।”

এবার আমরা কয়েকটি ইংরেজী শব্দের উৎস সম্পর্কে জানব । যেমন – সংস্কৃত ‘মাতৃ’ শব্দটি গ্রীক ভাষায় ‘মাতির’ রূপ ধারণ করে এবং পরবর্তীতে সেটি ইংরেজী ‘মাদার’ (Mother) এ পরিবর্তিত হয় । এখানে আশ্চর্যের বিষয় এই তিনটি ভাষাতেই মাতৃ, মাতির বা মাদার একই অর্থ প্রকাশ করছে । এছাড়া বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড ডিকশেনারীতে একটি ইংরেজী শব্দ Garish এর অর্থ বলা হয় excessively bright in color, ঠিক একই গৌর (Goudy) সংস্কৃত শব্দটি ও উজ্জ্বলতা অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, এছাড়া সংস্কৃত ‘ভ্রাতা’ শব্দটি পরবর্তীতে ইংরেজীতে ‘ব্রাদার’ শব্দে রূপান্তরিত হয় ।

পরিশেষে বলছি, এখনও যাদের উক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে তারা ফিলোসোপিক্যাল রিসার্স সোসাইটির বিখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ডেন ব্রাউন কর্তৃক পরিবেশিত একটি প্রতিবেদন অবলোকন করতে পারেন ।

ব্রাউজ করুন http: //www.dailymotion.com/video/x44sh thinking-allowed-sanskrit-tradition
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংস্কৃত ভাষাকে নিয়ে বহু বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে । যেমন – আমেরিকান সংস্কৃত ইনস্টিটিউটসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কৃত ভাষা চর্চা করে যাচ্ছেন । তথ্যসূত্র – ইন্টারনেট, জার্নাল ।

শ্রীল প্রভুপাদ - “সংস্কৃত হচ্ছে সকল ভাষার মাতা । স-ং-স-কৃ-ত, শব্দটি অর্থই হচ্ছে ‘ভাষা’ । অতএব এটিই হচ্ছে প্রকৃত ভাষা যা শুধুমাত্র এই গ্রহেই নয়, সমগ্র ব্রক্ষ্মান্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে ।”

সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ইংরেজি ভাষার ক্ষুদ্র তালিকা:

Matar – মাতা, Mother - মাদার
Pitar – পিতা, Father - ফাদার
Bhrater – ভ্রাতে, Brother - ব্রাদার
Svasar – স্বসা, Sister - সিস্টার
Gyamati – জ্যামিতি, Geometry - জিওমেট্রি
Trikonmati – ত্রিকোণমিতি, Trigonometry – ত্রিগোণমিতি
Dvaar – দ্বার, Door - ডোর
Namaa – নাম, Name - নেইম
Path – পথ, Path - পাথ
Charitra – চরিত্র, Character – ক্যারেক্টার
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত আরবি ভাষার ক্ষুদ্র তালিকা
Namas – নাম, Namaz - নামাজ
Rama-dhyana – রামধন, Ramadan - রমজান
Garbha – গর্ব, Kaba - কাবা
Isa-alayam – ইসা আলাম, Islam - ইসলাম
Shraddhaa – শ্রদ্ধা, Shahada - শাহাদা
Makkheshvar – মক্কাশ্বর, Makkah - মক্কা
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ইংরেজি বার মাসের নাম
The Seventh Month – Saptan, September
The Eight Month – Astan, October
The Ninth Month – Navan, November
The Tenth Month – Dasha, December


0 comments

পরমেশ্বর ভগবানও শ্রীকৃষ্ণ


শ্রীকৃষ্ণ ও পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন অভিন্ন। তাই সমগ্র ভগবদ্ গীতায় তাঁকে ভগবান বলে সম্বোধন করা হয়েছে। ভগবান হচ্ছেন পরমতত্ত্বের চরম সীমা। পরমতত্ত্ব উপলব্ধির তিনটি স্তর রয়েছে।
১) ব্রক্ষ অর্থাৎ নির্বিশেষ সর্বব্যাপ্ত সত্তা।
২) পরমাত্মা অর্থাৎ প্রতিটি জীবের হৃদয়ে বিরাজমান পরমেশ্বরের প্রকাশ।
৩) ভগবান অর্থাৎ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
পরমতত্ত্বের এই বিশ্লেষণ সম্বন্ধে শ্রীমদ্ভগবতে (১-২-১১) বলা হয়েছে -
যা অদ্বয় জ্ঞান, অর্থাৎ এক অদ্বিতীয় বাস্তব বস্তু, জ্ঞানীরা তাকেই পরমার্থ বলেন। সেই পরমতত্ত্ব ব্রক্ষ, পরমাত্মা ও ভগবান-- এই ত্রিবিধ সংজ্ঞায় অভিব্যক্ত হয়।
------------------------------------------
এই তিনটি চিন্ময় প্রকাশ সূর্যের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়। সূর্যের ও তিনটি প্রকাশ রয়েছে, যেমন--
১) সূর্যরশ্মি।২) সূর্যগোলক। ৩) সূর্যমণ্ডল
১) সূর্যরশ্মি জানাটা হচ্ছে প্রাথমিক স্তর।
২) সূর্যগোলক সম্বন্ধে জানাটা আরও উচ্চতর স্তর।
৩) সূর্যমণ্ডলে প্রবেশ করে সূর্য সম্বন্ধে জানাটা হচ্ছে সর্বোচ্চ স্তর। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সূর্যকিরণ সম্বন্ধে জেনেই সন্তুষ্ট থাকে- তার সর্বব্যাপকতা এবং তার নির্বিশেষ রশ্মিছটা সম্বন্ধে যে জ্ঞান,তাকে পরমতত্ত্বের ব্রক্ষ উপলব্ধির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে এবং যাঁরা সূর্যমণ্ডলেরর অন্তঃস্থলে প্রবিষ্ট হয়েছেন, তাঁদের জ্ঞান পরম-তত্ত্বের সর্বোত্তম সবিশেষ রূপ সম্বন্ধে অবগত হওয়ার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তাই ভগবদ্ভক্তবৃন্দ অথবা যে সমস্ত পরমার্থবাদীরা পরমতত্ত্বের ভগবৎ-স্বরূপ উপলব্ধি করতে পেরেছেন, তাঁরাই হচ্ছেন সর্বোচ্চ পরমার্থবাদী, যদি ও সমস্ত পরমার্থবাদীরা সেই একই পরমতত্ত্বের অনুসন্ধানে রত।
সূর্যরশ্মি, সূর্যগোলক ও সূর্যমণ্ডল এই তিনটি একে অপর থেকে পৃথক হতে পারে না, কিন্তু তবুও তিনটি স্তরের অন্বেষণকারীরা সমপর্যায়ভুক্ত নন।
------------------------------------------
শ্রীল ব্যাসদেবের পিতা পরাশর মুনি ভগবান কথাটির বিশ্লেষণ করেছেন। সমগ্র ঐশ্বর্য, সমগ্র বীর্য, সমগ্র যশ, সমগ্র শ্রী, সমগ্র জ্ঞান ও সমগ্র বৈরাগ্য যাঁর মধ্যে পূর্নরূপে বর্তমান সেই পরম পুরুষ হচ্ছেন ভগবান।
কোন জীবই, এমন কি ব্রক্ষা, শিব, ণারায়ন ও শ্রীকৃষ্ণের মতো পূর্ণ ঐশ্বর্যসম্পন্ন হতে পারে না। তাই ব্রক্ষসংহিতাতে ব্রক্ষা নিজে বলেছেন যে, শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান। তিনি হচ্ছেন আদি পুরুষ, অথবা গৌবিন্দ নামে পরিজ্ঞাত ভগবান এবং তিনি সর্ব। কারণের পরম কারণ।
"ভগবতেও পরমেশ্বরের অনেক অবতারের বর্ণনা আছে। সমস্ত অবতারেরা হচ্ছেন ভগবানের অংশ অথবা তাঁর অংশের অংশ-প্রকাশ,কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান।
(ভাগবত ১-৩২৮)

Written by: Rajib Ghosh
0 comments

প্রশ্নঃ কাম ও যৌনতা কে মানব-জীবনের চির শক্র বলা হয় কেন----?


উত্তরঃ মনুস্মৃতিতে বলা হয়েছে যে, ঘি ঢেলে যেমন আগুনকে কখনও নেভানো যায়
না, তেমনই কাম উপভোগের দ্বারা কখনই কামের নিবৃত্ত হয় না। জড় জগতে সমস্ত কিছুর কেন্দ্র হচ্ছে যৌন আকর্ষণ, তাই জড় জগৎকে বলা হয় ' মৈথুনাগার' অথবা যৌন জীবনের শিকল। আমরা দেখছি, অপরাধ করলে মানুষ কারাগারে আবদ্ধ হয়, তেমনই, যারা ভগবানের আইন অমান্য করে,তারাও যৌন জীবনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে এই মৈথুনাগারে পতিত হয়। ইন্দ্রিয়-তৃপ্তিকে কেন্দ্র করে জড় সভ্যতার উন্নতি লাভের অর্থ হচ্ছে, বদ্ধ জীবদের জড় অস্তিত্বের বন্দীদশার মেয়াদ বৃদ্ধি করা। তাই, এই কাম হচ্ছে অজ্ঞানতার প্রতীক, যার দ্বারা জীবদের এই জড় জগতে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধন করার সময় সাময়িকভাবে সুখের অনুভূতি হতে পারে , কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই তথাকথিত সুখই হচ্ছে জীবের পরম শক্র।

Written by: Rajib Ghosh
0 comments

প্রশ্নঃ ইন্দ্রিয় দমন ও আত্মার স্বরুপ উপলব্ধি কিভাবে করবেন-------?

উত্তরঃ কামের নানাবিধ কার্যকলাপের নির্গম পথ হচ্ছে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি। কামের সঞ্চয় হয় আমাদের দেহে, কিন্তু ইন্দ্রিয়গুলির মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ হয়। তাই, সামগ্রিকভাবে জড় দেহের থেকে ইন্দ্রিয়গুলি শ্রেয়। আমাদের অন্তরে যখন উচ্চস্তরের চেতনার বিকাশ হয় অথবা কৃষ্ণচেতনার বিকাশ হয়, তখন এই সমস্ত নির্গম পথগুলি বন্ধ হয়ে যায়।

অন্তরে কৃষ্ণভাবনার উন্মেষ হলে পরমাত্মা বা শ্রীকৃষ্ণেরর সঙ্গে আত্মা তার নিত্য সর্ম্পক অনুভব করে, তাই তখন আর জড় দেহের অনুভূতি থাকে না। দেহগত কার্যকলাপগুলি হচ্ছে ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপ, তাই ইন্দ্রিয়গুলি নিষ্ক্রয় হলে, দেহও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু সেই অবস্থায় মন সক্রিয় থাকে, যেমন নিদ্রিত অবস্থায় আমরা স্বপ্ন দেখি। কিন্তু মনেরও উর্ধ্বে হচ্ছে বুদ্ধি এবং বুদ্ধির উর্ধ্বে হচ্ছে আত্মা। তাই আত্মা যখন পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত হয়,তখন বুদ্ধি ও মন স্বাভাবিকভাবে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। ঠিক এভাবে কঠোপনিষদে বলা হয়েছে যে, ইন্দ্রিয় থেকে ইন্দ্রিয় উপভোগের সামগ্রীগুলি শ্রেয়, কিন্তু ইন্দ্রিয় উপভোগের সামগ্রীগুলি থেকে মন শ্রেয়। তাই, মন যদি সর্বোতভাবে নিরন্তর ভগবানের সেবায় নিয়োজিত থাকে, তখন ইন্দ্রিয়গুলি বিপদগ্রামী হবার আর কোন সুযোগ থাকে না।
কঠোপনিষদে আত্মাকে মহান বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই আত্মা হচ্ছে -ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়, ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির উর্ধ্বে। তাই, আত্মার স্বরুপ সরাসরি উপলব্ধি করতে পারলে সমস্ত সমস্যার সমাধাণ হয়ে যায়।
পরমার্থ সাধনে নবীন ভক্তকে সাধারণত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সমস্ত বিষয় থেকে দুরে থাকতে উপদেশ দেওয়া হয়,কেন না তার ফলে ইন্দ্রিয়গুলি ধীরে ধীরে সংযত হয়। তা ছাড়া বুদ্ধি দিয়ে মনকে তার সংঙ্কল্পে দৃঢ রাখতে হয়। বুদ্ধির দ্বারা যদি আমরা কৃষ্ণভাবনার মাধ্যমে ভগবানের চরণ-কমলে আত্মনিবেদন করি, তা হলে মন ভগবানের সেবায় নিয়োজিত হয়ে ত্রকাগ্র হয়, তখন ইন্দ্রিয়ের প্রলোভনগুলি আর মনকে বিচলিত করতে পারে না। ইন্দ্রিয়গুলি তখন বিষদাঁতহীন সাপের মতো নিষ্ক্রয় হয়ে পড়ে। কিন্তু আত্মা যদিও বুদ্ধি, মন ও ইন্দ্রিয়ের অধীশ্বর, তবুও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ না করলে, যে কোন মুহুর্তে মনের প্রভাবে বিচলিত হয়ে আত্মা অধঃপতিত হতে পারে।

লিখেছেনঃ Rajib Ghosh
0 comments

মহাভারত থেকে কিছু দার্শণিক জীবনদর্শন মূলকতথ্য ও ব্যাখা


পুঁথি ঘেঁটে যা জানা যায়, সে সময়কার জনসংখ্যার আশি শতাংশ পুরুষ মহাভারতের ১৮ দিনের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

যুদ্ধ শেষে সঞ্জয় কুরুক্ষেত্রের সেই জায়গায় গমন করেন যেখানে যুদ্ধ হয়েছিল।


কুরুক্ষেত্রের জমিতে দাঁড়িয়ে উনি ভাবতে থাকেন, সত্যিই কি সেই জায়গার মাটি যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে,মহাপ্রতাপশালী পান্ডব এবং কৌরবদের রক্তে শুষে নিয়েছে। এই চিন্তা যখন ওনার মস্তিষ্কে বিরাজ করিছে, এক কম্পিত কন্ঠ, বৃদ্ধের কোমল ধ্বনি তাঁর কানে বেজে ওঠে। তিনি শুনতে পান,

"তুমি কখনোই সত্য জানতে পারবে না বৎস..!!"

ঘুরে দাঁড়াতে সঞ্জয় গেরুয়া বস্ত্রধারী এক বৃদ্ধকে ধুলোর স্তম্ভ থেকে উঠে আসতে দেখেন।

-আমি জানি বৎস, তুমি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বিষয় জানতে চাও কিন্তু ততক্ষণ তা তোমার বোধগম্য হইবে না, যতক্ষণ না তুমি বাস্তবে যুদ্ধটা কি বস্তু, সেটা বুঝিবে।

মৃদু হেসে বৃদ্ধ বলেন।

-তার মানে..?

-মহাভারত একটি দৃষ্টান্ত, একটি মহাকাব্য, হয়ত বাস্তব, হয়ত বা দর্শন।

মৃদু-মন্দ হেসে বৃদ্ধ সঞ্জয়ের দিকে তাকান। তাঁর মনে আরও প্রশ্ন উদ্রেক করাই বোধহয় তাঁর লক্ষ।

-আপনি দয়া করে যদি বলেন ওই দর্শন বস্তুটি কি..??

সঞ্জয় অনুরোধ করেন।

নিশ্চয়, এই বলিয়া বৃদ্ধ আরম্ভ করেন,

-পঞ্চপান্ডব আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় বই কিছু না। দৃষ্টি, ঘ্রাণ, স্বাদ, স্পর্শ ও ধ্বনি।

আর কৌরবরা কি, তা কি জান তুমি..?? দৃষ্টি সরু করে বৃদ্ধ শুধান।

কৌরব আমাদের একশতদোষ যারা নিত্য, প্রতিমুহূর্ত আমাদের ওই পাঁচ ইন্দ্রিয়কে আক্রমণ করছে। জান কখন..??

সঞ্জয় আবার মাথা নাড়েন।

-শ্রীকৃষ্ণ যখন তোমার রথের সারথি হন, তখন..!!

বৃদ্ধ ঝকঝকে হাসি হাসেন এবং সঞ্জয় এই অন্তর্নিহিত জ্ঞান প্রাপ্তিযোগে অবাক চোখে বৃদ্ধকে দেখেন।

-শ্রীকৃষ্ণ তোমার অন্তর ধ্বনি, তোমার আত্মা, তোমার পথপ্রদর্শনকারি আলোককস্তম্ভ এবং তুমি যদি তাঁর হাতে নিজেকে সমর্পিত করে দাও, তুমি চিন্তামুক্ত থাকবে জীবনে।

সঞ্জয় বোকার মত বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু শীঘ্রই আবার সামলে নিয়ে পরের প্রশ্ন করেন,

-তাহলে দ্রোণাচার্য, ভীষ্মপিতামহ কেন কৌরবের হয়ে লড়াই করলেন, যদি কৌরবরা দোষী হয়..??

ধীরে মাথা সঞ্চালন করে বৃদ্ধ বলেন,

-ইহার মানে, যখন তুমি বড় হও, তোমার ধারণা বয়স্ক মানুষদের প্রতি বদল হতে থাকে। ছেলেবেলায় যে বয়ঃজ্যেষ্টদের মনে হত তারা সঠিক, বড় হয়ে বুঝতে পার, ততটা ঠিক নন তারা। তাদেরও দোষ আছে। এবং একটা দিন আসে যখন তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের সংগ তোমার জন্যে ভাল কি মন্দ। তারপর এটাও হয়ত তুমি উপলব্ধি কর একটা সময়, তাদের সাথে লড়াই করাই তোমার জন্যে মংগলের। বেড়ে ওঠার ইহাই সবচাইতে কঠিন পক্ষ এবং সেইজন্যেই গীতার সারমর্ম জানা দরকার।

বাকরূদ্ধ হইয়া সঞ্জয় মাটির ওপর হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়েন। ইহার কারণ এই নয় যে এই বাণী ক্লান্তিজনিত তাঁর কাছে বরং এই দর্শনের মাত্রাধিকতায় তিনি আবিভূত হইয়া পড়েন।

-তাহলে কর্ণকে কি বলবেন..??

-আহ্, তুমি সর্বোত্তম প্রশ্ন সবার শেষে করেছ। কর্ণ তোমার ইন্দ্রিয়গণের ভ্রাতা। সে বাসনা। সে তোমারই এক অংশ কিন্তু সে সংগ দেয় দোষের। যদিও সে দোষীর সংগ দিয়ে মনে মনে পীড়া অনুভব করে কিন্তু নিজেকে ঠিক সাবস্ত করার জন্যে নানান যুক্তি দেয়, ঠিক যেমন তোমার বাসনা সর্বক্ষণ তোমায় যুক্তি যুগিয়ে চলে। তোমার বাসনা তোমায় মিথ্যে যুক্তি দিয়ে মন ভোলানোর চেষ্টা করেনা কি সর্বদা..??

সঞ্জয় নিঃশব্দে মাথা নাড়ান।

এক দৃষ্টিতে তিনি কুরুভুমির দিকে তাকিয়ে থাকেন। মনে তাঁর লক্ষ-কোটি চিন্তা তোলপাড় করে। প্রতিটি কথা গুছিয়ে তিনি সামঞ্জস্য তৈরি করার চেষ্টা করেন। খানিক বাদে যখন তিনি মাথা তোলেন, বৃদ্ধ তখন সেখান থেকে প্রস্থান করেছেন। ধুলোর স্তম্ভে আবার মিলিয়ে গেছেন।

পেছনে ফেলে রেখে, এক চিলতে জীবনদর্শন..!!🙏👏🙏

সংগৃহিতঃ https://www.facebook.com/Sri.Krishna.Net.1/?hc_ref=PAGES_TIMELINE


0 comments

সংস্কৃত প্রাথমিক বার্তালাপ (৫০টি বাক্য)


১। * আপনি কেমন আছেন ?
ভবান্ কথম্ অস্তি ? (পুরুষ লিঙ্গে)
ভবতী কথম্ অস্তি ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
২। * ভাল আছি।
কুশলী অস্মি। (পুরুষ লিঙ্গে)
কুশলিনী অস্মি। (স্ত্রী লিঙ্গে)
৩। * আপনার নাম কি ?
ভবতঃ নাম কিম্ ? (পুরুষ লিঙ্গে)
ভবত্যাঃ নাম কিম্ ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
৪। * আমার নাম মাধব/রাধিকা।
মম নাম মাধবঃ/ রাধিকা।
৫। * আমি অভয়/গীতা।
অহং অভয়ঃ/গীতা।
৬। * সে কে ?
সঃ কঃ ? (পুরুষ লিঙ্গে)
সা কা ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
৭। * সে রাতুল/সরস্বতী।
সঃ রাতুলঃ/সা সরস্বতী।
৮। * আজ কি বার ?
অদ্য কঃ বাসরঃ ?
৯। * আজ বৃহস্পতিবার।
অদ্য গুরুবাসরঃ।
১০। * কি করছো ?
কিম্ করোসি ?
১১। * আমি পড়ছি।
অহং পঠামি।
১২। * ঐটি কি ?
তৎ কিম্ ?
১৩। * ঐটি বই।
তৎ পুস্তকম্।
১৪। * এই আমার বন্ধু।
এষঃ মম মিত্রং।
১৫। * এই আমার বান্ধবী।
এষা মম সখী।
১৬। * আপনি কি পড়েন ?
ভবান্ /ভবতী কিং পঠতি ?
১৭। * আমি বিজ্ঞান পড়ি।
অহং বিজ্ঞানং পঠামি।
১৮। * কি খবর ?
কঃ বিশেষঃ ? কা বার্তা ?
১৯। * আপনি কোথায় যাচ্ছেন ?
ভবান্ /ভবতী কুত্র গচ্ছতি ?
২০। * কখন ?
কস্মিন্ সময়ে ?
২১। * দেরি কেন ?
কিমর্থং বিলম্বঃ ?
২২। * এটির উত্তর লিখ।
এতস্য উত্তরম্ লিখতু।
২৩। * আমি অফিসে যাচ্ছি।
অহং কার্যালয়ং গচ্ছামি।
২৪। * তোমার যা ইচ্ছা।
যথা ভবান্ ইচ্ছতি।
২৫। * এখন ?
ইদানীং কিম্ ?
২৬। * সে কখন যায় ?
সঃ কদা গচ্ছতি ?
২৭। * চিন্তা করো না।
চিন্তা মাস্তু।
২৮। * সীতা পড়ছে ।
সীতা পঠতি
২৯। * তুমি পড়ছো।
ত্বং পঠসি।
৩০। * হাঁ, তা ঠিক।
আম্, তৎ সত্যম্।
৩১। * ভুলো না।
ন বিস্মরতু।
৩২। * রামনাম অতি মধুর।
রামনাম অতি মধুরং।
৩৩। * আমাকে চেন ?
মাম্ জানাসি ?
৩৪। * কে বলছেন ?
কঃ সম্ভাষণং করোতি ?
৩৫। * আমি শিশির বলছি।
অহং শিশিরঃ বদামি।
৩৬। * প্রফুল্ল ঘরে আছে কি ?
প্রফুল্লঃ গৃহে অস্তি কিম্ ?
৩৭। * আপনার জীবন শুভ হোক।
ভবতঃ জীবনম্ শুভময়ং ভবতু।
৩৮। * চেষ্টা করব।
প্রযত্নং করোমি।
৩৯। * আজ আপনার কি কাজ ?
অদ্য ভবতঃ কার্যক্রমঃ কঃ ?
৪০। * বন্ধু, কলমটি দাও।
লেখনীং দদাতু মিত্র।
৪১। * আমি জানি না।
অহং ন জানামি।
৪২। * তারপর ?
অথ কিম্ ?
৪৩। * ওটা বল না।
তথা ন বদতু।
৪৪। * তাই হোক।
তথৈব অস্তু।
৪৫। * এটি কি ?
ইদং কিম্ ?
৪৬। * এটি খেলার মাঠ।
ইদং ক্রীড়াঙ্গণং।
৪৭। * তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।
শীঘ্রং প্রত্যাগচ্ছতু।
৪৮। * কোলাহল কর না।
কোলাহলং মা করোতু।
৪৯। * বাতি জ্বালাও।
দীপং জ্বালয়তু
৫০। * বাতি নেভাও।
দীপং নির্বাপয়তু।
সংকলন করেছেন:- রঞ্জন রাসেশ্বর দাস
0 comments

শ্রী শ্রী নৃসিংহদেবের আবির্ভাব স্হান দর্শন

চক্রবাড় নৃসিংহদেব
পুরাকালে হিরণ্যকশিপু নামে এক অত্যাচারী দৈত্য ভগবান বিষ্ণু বিদ্বেষী ছিলেন। 
No automatic alt text available.
অহোবলমের ম্যাপ
Image may contain: outdoor
নিম্ন অহোবলম
Image may contain: tree, plant, outdoor and nature
উচ্চ অহোবলয়ামের যাওয়ার রাস্তা
তিনি নিজেকে ভগবানের আসনে অধিষ্ঠিত করার মানসে মন্দর পর্বতের উপত্যকায় পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে উর্ধ্ববাহু হয়ে আকাশে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে অনাহারে অত্যন্ত কঠোর তপস্যা শুরু করলেন। সুদীর্ঘ ছত্রিশ বছর তপস্যার পর সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তাকে অবশেষে দর্শন দেন। ব্রহ্মা তাকে অমরত্ব ছাড়া যা খুশি বর চাইতে বললেন। তখন চতুর হিরণ্যকশিপু তৎক্ষণাৎ গভীরভাবে চিন্তা করে অমরত্ব কথাটি বাদ দিয়ে ছলে বলে অমরত্বের মতই বর চাইলেন। তাই সে বলতে লাগল -
- আপনার সৃষ্টির কোনও প্রাণী থেকে আমার মৃত্যু হবে না।
- গৃহের ভেতরে কিংবা বাইরে আমার মৃত্যু হবে না।
- দিন কিংবা রাতে আমার মৃত্যু হবে না।
- জল ভুমি বা আকাশে ও না।
- পশু বা মানুষের হাতে ও না।
- কোন অস্ত্রে যেন আমার মৃত্যু না হয়।
- আমি যেন ব্যাধিগ্রস্ত বা জরাগ্রস্ত না হই।
এভাবে শক্তিমান হয়ে তিনি আরো অত্যাচারী হয়ে উঠে। নিজেকে ভগবান বলে প্রচার করতে লাগলেন। তার পাঁচ বছরের প্রিয় পু্ত্র প্রহ্লাদকে পর্যন্ত তিনিই যে ভগবান তার শিক্ষা দিতে লাগলেন। কিন্তুু শিশু প্রহ্লাদ পক্ষান্তরে বিষ্ণুকেই ভগবান বলে প্রতিপন্ন করতে চাইলে হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্রুদ্ব হয়ে তার উপর অত্যাচার করতে তাকে। সত্বেও প্রহ্লাদকে ভগবান রক্ষা করলেন। এক সময় বিরক্ত হয়ে হিরণ্যকশিপু যখন জিজ্ঞেস করলেন, তোর বিষ্ণু কি এই স্তম্ভের মধ্যে ও আছে। ভক্ত প্রহ্লাদ তখন উওর দিলেন, শ্রীহরি সর্বএই বিদ্যমান, তিনি এই স্তম্ভের মধ্যে ও বিদ্যমান। হিরণ্যকশিপু তখন তার অস্ত্র দিয়ে স্তম্ভের উপর আঘাত করলে স্তম্ভ থেকে বেরিয়ে আসে ভগবান শ্রীনৃসিংহদেব। তখন অন্তরীক্ষ থেকে ব্রহ্মার বাণী সে শুনতে পেল -হে হিরণ্যকশিপু,
- নৃসিংহদেব আমার সৃষ্টির কেউ না, বরং আমিই উনার সৃষ্টি।
- গৃহের ভিতর বা বাইরে নয়, ভগবান তোমাকে চৌকাঠে মারতে যাচ্ছে।

- দিন বা রাত্রি নয়, চেয়ে দেখ এখন গোধুলী লগ্ন।
- জলে, ভূমিতে বা আকাশে নয় তুমি নৃসিংহদেবের উরুদেশে মরতে যাচ্ছ।
- পশু বা মানব নয় দেখ, নৃসিংহদেব পশু ও নয় মানব ও নয়।

- কোন অস্ত্রে নয়, বরং ভগবানের নখ তোমার শরীর বিদীর্ণ করবে এক্ষুনি।
-তুমি জরা বা ব্যাধিগ্রস্ত নও তাই তুমি এখন মৃত্যু কবলগ্রস্ত।
এভাবে ভগবান তার ভক্তকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন তাই তাকে বলা হয় বিপদভঞ্জক ভগবান নৃসিংহদেব। কেউ যদি ভক্তিভরে ভগবান নৃসিংহদেবের কাছে চরম বিপদে ও প্রার্থনা করে তবে তােক তিনি রক্ষা করেন। তার আবির্ভাবের উদ্দেশ্যই হল তার ভক্তদের সমস্ত বিপদ বা বাধাবিঘ্ন থেকে রক্ষা করা।


Image may contain: tree, plant, outdoor and nature
কথিত আছে হিরণ্যকশিপুর রাজপ্রসাদ এগুলো সব পাথরের পাহাড় হয়ে গেছে

Image may contain: plant, tree, outdoor, nature and water
প্রহ্লাদ মহারাজের গুরুকূল

Image may contain: sky, tree, cloud, outdoor and nature
নীচ থেকে উগ্র নৃসিংহ স্তম্ব দেখা যাচ্ছে যেখান থেকে নৃসিংহদেব বের হয়েছে
Image may contain: tree, plant, outdoor and nature
হিরণকশিপুর আস্তানা
Image may contain: sky, mountain, tree, outdoor and nature
এই সেই উগ্র স্তম্ভ যেখান থেকে নৃসিংহ দেব বের হয়েছেন
Image may contain: 1 person, outdoor
রক্তকুন্ড যেখানে নৃসিংহ দেব হিরণ্যকশিপুকে বধ করে হাত ধুয়েছিল
Image may contain: 1 person, standing
জয় বিজয় দ্বারপালের সাথে ছবি তুলা এটা লক্ষ্মী নৃসিংহদেবের মন্দিরের বাইরে

Image may contain: plant, tree, outdoor and nature
উগ্র স্তম্ভের পবিত্র জল উপর থেকে নিচে নামছে



Image may contain: 4 people, outdoor
অহোবলম মন্দির



লিখেছেনঃ প্রীথিষ ঘোষ
ছবিঃ সুশান্ত বন্দ
লাইক দিনঃ সনাতন সন্দেশ - Sanatan Swandesh
0 comments

যুগধর্ম হরিনাম


Image may contain: 1 person" এই কলিযুগে ভগবানের দিব্য নাম কীর্তন করা ছাড়া আর কোন ধর্ম নেই । এই দিব্য নাম হচ্ছে বৈদিক মন্ত্রের সার। এটিই সমস্ত শাস্রের মর্ম। "
এই হরিনামই হচ্ছে এই কলিযুগের যুগধর্ম। শ্রীমদ্ভাগবতে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন যুগধর্মের 
কথা বর্ণনা করা হয়েছে –
১. সত্যযুগ: বিষ্ণুর ধ্যান
২. ত্রেতাযুগ: যজ্ঞ
৩. দ্বাপরযুগ: শ্রীবিষ্ণুর অর্চন 
৪. কলিযুগ: হরিনাম সংকীর্তন

এজন্য অন্যান্য যুগে যা তাদের নিজ নিজ যুগধর্ম দ্বারা অর্জন করা যেত কলিযুগে কেবল হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার মাধ্যমে এই ফল অর্জন করা যায় । এর একটি বিশেষ কারণ মহাপ্রভু বর্ণনা করেছেন –

‘‘এই কলিযুগে, ভগবানের দিব্য নাম হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। কেবলমাত্র এই দিব্যনাম কীর্তন করার মাধ্যমে যেকোনো জীব সাক্ষাৎ ভগবানের সঙ্গ লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে। যিনি শ্রবণ কীর্তন করেন তিনি অবশ্যই উদ্ধার লাভ করেন। এই নামের প্রভাবেই কেবল সমস্ত জগৎ নিস্তার পেতে পারে। "

ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ‘শ্রীকৃষ্ণ সংহিতায়’-এ প্রসঙ্গে একটি সুন্দর বিবৃতি পাওয়া যায়। তিনি বর্ণনা করেছেন মানুষের উন্নতির স্তর বিবেচনা করে পূর্ববর্তী গ্রন্থ সংকলকগণ বিভিন্ন যুগে জীবদেরকে উদ্ধার করার নিমিত্ত ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্র নির্ধারণ করেন। এগুলুকে বলা হয় তারকব্রহ্ম নাম। যুগে যুগে জীবের অধঃপতন হয় তথাপি বিভিন্ন রসভেদে এই মন্ত্রগুলো ক্রমাগত উন্নত হয়।

সত্যযুগের মন্ত্র ছিল –
নারায়ণ পরা বেদা নারায়ণ পরাক্ষরা।
নারায়ণ পরা মুক্তি নারায়ণ পরাগতা।।

এই প্রার্থনাটির মধ্য দিয়ে নারায়ণরূপে পরম সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা শান্ত রস এবং ঈষৎ দাস রসের ভক্তি বর্তমান ছিল। 

পরবর্তী যুগ ত্রেতা যুগের তারকব্রহ্ম নাম ছিল

রাম নারায়ণ কান্ত অনন্ত মুকুন্দ মধুসূদন।
কৃষ্ণ কেশব কংসারে হরে বৈকুণ্ঠ বামন।।

এগুলর সবই ভগবানের বীরত্ব সূচক নাম।

মধুসূদন ( মধু নামক আসুরের দলনকারী) এবং কংসারী (কংসের শত্রু) যা দাস্য রসের নির্দেশক। কৃষ্ণের বন্ধুদের এভাবে সম্বোধন করা স্বাভাবিক। এভাবে ত্রেতা যুগে পূর্ণ দাস্য এবং সখ্য রসের আভাস বর্তমান ছিল। কিন্তু শ্রদ্ধার ভাবটি তখনও বর্তমান ।

দ্বাপর যুগের মন্ত্র ছিল নিম্নরূপ :

হরে মুরারে মধুকৈটভারে গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দ শৌরে।
যজ্ঞসে নারায়ণ কৃষ্ণ বিষ্ণো নিরাশ্রয়ং মাং জগদীশ রক্ষ।।

এখানে উল্লেখিত নামগুলো কৃষ্ণকে নির্দেশ করে যিনি অনাথের নাথ। এবং এ স্তরে শান্ত, দাস্য সখ্য এবং বাৎসল্য রস বিদ্যমান।

কলিযুগের তারকব্রহ্ম নাম হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র –

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর এক্ষেত্রে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের একটি বিশেষ দিক বর্ণনা করেছেন –

"এই হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ভগবানের সবচেয়ে মধুর নাম। এই মন্ত্রে মুক্তির জন্য কোনো প্রার্থনা নেই। কিন্তু এখানে প্রগাঢ় আসক্তি সমন্বিত সর্বরসের উদ্দীপন বিদ্যমান। এখানে ভগবানের কোনো বীরত্ব বা মুক্তি প্রদানের কথা উল্লেখ নেই। এই মন্ত্র কেবল তখনই প্রকাশিত হয় যখন পরমাত্মার সাথে আত্মার বন্ধন ভক্তির দ্বারা রচিত হয়। এই নাম শুধুমাত্র মাধুর্য রসের ভক্তদের জন্য। নিরন্তর এই নাম স্মরণই ভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠ আরাধনা।

গ্রন্থ : হরিনামামৃতসিন্ধু

 যুগ ধর্ম হরি নাম  " উপভোগ করো আল ্ লাহ ্ র নামে, আর আল ্ লাহ ্ র নামে, আর কোনো ধর ্ ম ছাড়া এটা হ্যারি পটার নামের একটি রাজত্বের নাম । এটা সব śāsrēra এর অর্থ."
এই হরি এই কলি ধর্মের সাথে এই কলি নাম । বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন ধর্ম বিভিন্ন ধর্মের যুগ যুগ ।
শব্দ সংক্রান্ত বিবরণ
1. সত্য যুগ: দ্য ফিট ধ্যান
2. ত্রেতা যুগ: অপারেশন সার্চলাইট
3. দ্বাপর যুগ: শ্রী বিষ্ণু arcana পা
4. টি কালী যুগ: হরি নাম sankirtan

ইহা তাদের নিজেদের নিজ নিজ নিজ জীবনের জন্য এই বছর ধরে ধর "হরে কৃষ্ণ মহা" এর জন্য এই ফলাফল জপতপ । এটা একটি বিশেষ কারণ, ঈশ্বর বর্ণনা করেছেন ।

' এই কলি বছর আল ্ লাহর নামে এই কলি নামের নামের নাম হল শ্রী কৃষ্ণ অবতার । শুধু এই দিব্য এর সাথে ঈশ্বরের সাথে কোন জীবনের জন্য, ঈশ্বরের সাথে যে কোন জীবনের জন্য তার সাথে দেখা হয় । তিনি যিনি কীর্তন করতে পারেন তার নাম নাম । এটাই বিশ্বের একমাত্র পথ তাকে পেতে পারে । " " "

ভক্তি বিনোদ ঠাকুর 'শ্রী কৃষ্ণ sanhitāẏa'-এ একটি সুন্দর বিবৃতি । তিনি অনেক ভালো কিছু কিতাব বিবেচনা করেন, বিভিন্ন বয়স saṅkalakagaṇa জীবনের জন্য বিভিন্ন বয়স saṅkalakagaṇa জীবন উদ্ধার করেন । এটা বলা হয় । তার kabrahma নাম । যুগ যুগ adhaḥpatana বাস করছে, কিন্তু এই mantragulō rasabhēdē ক্রমাগত ক্রমাগত থাকে ।

সত্য যুগের মন্ত্র ।
হল ksara.
প্রভুর রাগ থেকে মুক্তি পায় না ।।

এতে প ্ রত ্ যেক নামাযের জন ্ যে প ্ রত ্ যেক নামাযের জন ্ যে প ্ রত ্ যাবর ্ তন করা হয়, এবং বলা হয় যে,

ভোক্তা এর পরবর্তী যুগের প্রথম যুগের নাম ছিল তার নাম ।

রাম নারায়ণ কান্ত অনন্ত মুকুন্দ মধুসূদন.
হরে কৃষ্ণ কেশব kansaré baikuṇṭha বামন ।।

সকল ēgulara ঈশ্বরের শক, নাম না করার জন্য নয় ।

মধুসূদন (মধু) এবং kansārī (মধু), যা আল ্ লাহ ্ র বান ্ দা হচ ্ ছেন আল ্ লাহ ্ র বান ্ দা । কৃষ্ণ বন্ধুরা স্বাভাবিক হয়ে গেছে । এই পথে ভোক্তা দাস ও sakhya এর মধ্যে ভোক্তা ও sakhya এর ইঙ্গিত দেওয়া হয় । কিন্তু সম্মান কথা মনে হচ্ছে, এবং বর্তমান ।

দ্বাপর সময় হল মন্ত্র মন্ত্র হল:

হরে murārē হানি kaiṭabhārē গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দ saure.
এর একজনকে ।।

এই যে কৃষ্ণ উল্লেখিত নাম হল কৃষ্ণ নাম । আর এই স্তরে, শান্ত এবং sakhya bāṯsalya কাজের জন্য পাওয়া যাচ্ছে ।

তাঁর kabrahma হরে এর নামে কলি-মন্ত্র-মন্ত্র-এর নাম-মন্ত্র-এর নাম ।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।

শ্রীলা ভক্তি বিনোদ ঠাকুর এই মামলা, হরে কৃষ্ণ-হ্যারি পটার একটি বিশেষ দিক-বর্ণিত হয়েছে ।

" এই হল হরে কৃষ্ণ মহা হল ঈশ্বরের সবচেয়ে মধুর নাম । এই মন্ত্রে জন্য এই মন্ত্রে জন্য । কিন্তু সেখানে কোন আসক্তি নেই । ্ উদ্দীপন উদ্দীপন এর মত শক্তিশালী । আর এই যে, আল ্ লাহ ্ র জন ্ য, আর কোন কথা নয় । এটি হল একমাত্র মন্ত্র এবং প্রকাশ করা হয় যখন তার দ্বারা আত্মার বন্ধন হয় । এই নামটি শুধুমাত্র এই নাম-এর নাম হল এই নামে । স ্ মরণ করো, আল ্ লাহ ্ র স ্ মরণ

বই: হরি নাম
 Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
0 comments

দেবতা ও ভগবানের পার্থক্য

Image may contain: 1 person

ভগবানের সাকার স্বরূপের উপাসনা করা সর্বোত্তম বা শ্রেষ্ঠ। কিন্তু সাকার স্বরূপের যারা উপাসনা করেন তাদের মধ্যে ভগবান সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার বিভ্রান্তি-
সাধারণত হিন্দু সমাজে কিছু মানুষ দেবতা ও ভগবানের পার্থক্য জানে না। ইন্দ্র, চন্দ্র, বরুণ, শিব, দুর্গা, কালী প্রভৃতি দেবতাদের সঙ্গে বিষ্ণু, নারায়ণ, রাম, নৃ্সিংহ, বামন প্রভৃতি ভগবানের সম পর্যায়ভুক্ত বলে মনে করে থাকেন। এটি আমাদের জানা উচিত যে ভগবান ও দেবতাদের মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে। যেমন- দেবতারা হচ্ছেন ভগবানের দ্বারা নিযুক্ত এ জড়জগতের বিভিন্ন কার্য সম্পাদনের নিয়ন্ত্রণ কর্তা। যে ভাবে অগ্নি দেবতা অগ্নি নিয়ন্ত্রণ করেন; বরুণদেব জলের নিয়ন্ত্রণ করেন; বায়ু দেবতা বায়ু নিয়ন্ত্রণ করেন ইত্যাদি। শাস্ত্র অনুসারে দেবতারা জীবতত্ত্ব। যে কোন জীব ভগবান থেকে বিশেষ শক্তি প্রাপ্ত হয়ে দেবতাদের আসন গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু ভগবান জীবতত্ত্ব নন, তিনি হচ্ছেন বিষ্ণু তত্ত্ব। দেবতাদের আধিপত্য এই জড়জগতে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ভগবানের আধিপত্য বা ঐশ্বরত্বের প্রভাব জড় ও চিন্ময় জগত সর্বত্র ব্যাপ্ত। দেবতারা মানুষকে একমাত্র ভৌতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করতে পারেন, কিন্তু মুক্তি দিতে পারেন না। ভগবান জীবকে মুক্তি প্রদান করতে পারেন। দেবতারা মায়াধীন, কিন্তু ভগবান হচ্ছেন মায়াধীশ। সৃষ্টি ও প্রলয়কালে দেবতাদেরও প্রভাবিত হতে হয়, কিন্তু ভগবান নিত্য বর্তমান এবং তার ধামও নিত্য বর্তমান। এইভাবে ইন্দ্রলোক, চন্দ্রলোক প্রলয়ের সময়ে সব ধ্বংস প্রাপ্ত হবে। কিন্তু ভগবানের ধাম- বৈকুণ্ঠ, অযোধ্যা, গোলক বৃন্দাবন ইত্যাদি ধ্বংস প্রাপ্ত হবে না। ইন্দ্র, চন্দ্র প্রভৃতি দেবতাগণ প্রকৃতির তিনটি গুণ দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, রাম, নারায়ণ প্রভৃতি গুণাতীত। তাদের কার্যকলাপ প্রকৃতির তিনটি গুণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। সাধারণ মানুষ এই সমস্ত পার্থক্য বুঝতে পারে না। দেবতা ও ভগবানকে এক বা সমপর্যায় বলে মনে করে থাকে। এটি অবশ্য জেনে রাখা উচিত আমাদের বৈদিক সাহিত্যে তেত্রিশ কোটি দেবতাদের বর্ণনা করা হয়েছে। শাস্ত্রানুসারে যারা বিভিন্ন জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা বিভিন্ন ফল অতি সত্ত্বর লাভ করতে চান, তারা ভিন্ন ভিন্ন দেবতাদের উপাসনা করতে পারেন। কিন্তু সেটি বুদ্ধিমান মানুষের কাজ নয়, কেননা জাগতিক ফল অনিত্য। যারা বুদ্ধিমান ব্যক্তি তারা ভগবানের শরণাগত হন। এভাবে সমস্ত দেবতাদেরকে ভগবান বলে উপাসনা করা ঠিক নয়। তার সঙ্গে সঙ্গে এটুকুও জানতে হবে যে দেবতাদের ভগবানের সমান না হলেও তাঁরা ভগবানের অতি নিজজন, তাঁরা পূজ্য, তাই দেবতাদের শ্রদ্ধা করা মানুষের কর্তব্য। দেবতাদের পূজা করা যেতে পারে, শ্রদ্ধা করা যেতে পারে, কিন্তু ভগবানকে ভক্তি করতে হয়। এভাবে মানুষের ভগবান ও দেবতাদের মধ্যে পার্থক্য জেনে শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে ভগবানের ভক্ত হওয়া কর্তব্য। তা না হলে দুর্লভ মনুষ্য জীবনের আসল লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে না। ভগবদ্গীতায় বর্ণনা করা হয়েছে-
যান্তি দেবব্রতা দেবান্ পিতৃন্ যান্তি পিতৃব্রতাঃ।
ভূতানি যান্তি ভূতেজ্যা যান্তি মদ্যাজিনোহপি মাম্।।
(ভঃগী ৯/২৫)
দেবতাদের উপাসনা করলে দেবলোক যাবে, পিতৃপুরুষদের উপাসনা করলে পিতৃলোক যাবে, ভূত-প্রেতের পূজা করলে ভূতলোক যাবে। কৃষ্ণের উপাসনা করলে কৃষ্ণের ধামে যাবে। দেবতাদের পূজা করে দেবলোক যাবে এবং কৃষ্ণের পূজা করে কৃষ্ণ লোক যাবে- এটার মধ্যে পার্থক্য হল- দেবলোক যাওয়ার পর পুণ্য শেষ বা ক্ষয় হলে আবার মর্ত্যলোকে ফিরে আসতে হবে। ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে-“আব্রহ্মভূবনাল্লোকাঃপুনরাবর্তিনোহর্জুন” কিন্তু ভগবদ্ধামে গিয়ে ভগবানকে প্রাপ্ত হলে আর এ জড়জগতে ফিরে আসতে হবে না। “ মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”।“যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম”। এভাবে দেখানো হয়েছে জীবনের আবর্ত থেকে অর্থাৎ বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবনকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
গ্রন্থ; ভগবান কে?
শ্রীমদ্ ভক্তিপুরুষোত্তম স্বামী
প্রাপ্তিস্থান: নিকটস্থ ইসকন মন্দির


Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
0 comments

পাপমোচনী একাদশী মাহাত্ম্য

Image may contain: 2 people, people standing
যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে জনার্দন! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপা করে আমাকে বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির! আপনি ধর্মবিষয়ক প্রশ্ন করেছেন। এই একাদশী সকল পাপ থেকে নিস্তার বা মোচন করে বলে এই পবিত্র একাদশী তিথি ‘পাপমোচনী’ নামে প্রসিদ্ধ। রাজা মান্ধাতা একবার লোমশ মুনিকে এই একাদশীর কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত সেই বিচিত্র উপাখ্যানটি আপনার কাছে বলছি। আপনি মনযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন।
প্রাচীনকালে অতি মনোরম ‘চৈত্ররথ’ পুষ্প উদ্যানে মুনিগণ বহু বছর ধরে তপস্যা করতেন। একসময় মেধাবী নামে এক ঋষিকুমার সেখানে তপস্যা করছিলেন। মঞ্জুঘোষা নামে এক সুন্দরী অপ্সরা তাঁকে বশীভূত করতে চাইল। কিন্তু ঋষির অভিশাপের ভয়ে সে আশ্রমের দুই মাইল দূরে অবস্থান করতে লাগল। বীণা বাজিয়ে মধুর স্বরে সে গান করত। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধাবীকে দেখে কামবাণে পীড়িতা হয়ে পড়ে। এদিকে ঋষি মেধাবীও অপ্সরার অনুপম সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। তখন সেই অপ্সরা মুনিকে নানা হাব-ভাব ও কটাক্ষ দ্বারা বশীভূত কর। ক্রমে কামপরবশ মুনি সাধন-ভজন বিসর্জন দিয়ে তার আরাধ্য দেবকে বিস্মৃত হন। এইভাবে অপ্সরার সাথে কামক্রীড়ায় মুনির বহু বছর অতিক্রান্ত হল।
মুনিকে আচার-ভ্রষ্ট দেখে সেই অপ্সরা দেবলোকে ফিরে যেতে মনস্থ করল। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধাবী মুনিকে বলতে লাগল- হে প্রভু, এখন আমাকে নিজ গৃহে ফিরে যাবার অনুমতি প্রদান করুন। কিন্তু মেধাবী বললেন- হে সুন্দরী! তুমি তো এখন সন্ধ্যাকালে আমার কাছে এসেছ, প্রাত:কাল পর্যন্ত আমার কাছে থেকে যাও। মুনির কথা শুনে অভিশাপের ভয়ে সেই অপ্সরা আরও কয়েক বছর তার সাথে বাস করল। এইভাবে বহুবছর (৫৫ বছর ৯ মাস ৭ দিন) অতিবাহিত হল। দীর্ঘকাল অপ্সরার সহবাসে থাকলেও মেধাবীর কাছে তা অর্ধরাত্রি বলে মনে হল। মঞ্জুঘোষা পুনরায় নিজস্থানে গমনের প্রার্থনা জানালে মুনি বললেন- এখন প্রাত:কাল, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি সন্ধ্যাবন্দনা না সমাপ্ত করি, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি এখানে থাক।
মুনির কথা শুনে ঈষৎ হেসে মঞ্জুঘোষা তাকে বলল- হে মুনিবর! আমার সহবাসে আপনার যে কত বৎসর অতিবাহিত হয়েছে, তা একবার বিচার করে দেখুন। এই কথা শুনে মুনি স্থির হয়ে চিন্তা করে দেখলেন যে, তাঁর ছাপ্পান্ন বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেছে।
মুনি তখন মঞ্জুঘোষার প্রতি ক্রোধ পরবশ হয়ে বললেন- রে পাপীষ্ঠে, দুরাচারিণী, তপস্যার ক্ষয়কারীনি, তোমাকে ধিক্। তুমি পিশাচী হও। মেধাবীর শাপে অপ্সরার শরীর বিরূপ প্রাপ্ত হল। তখন সে অবনতমস্তকে মুনির কাছে শাপমোচনের উপায় জিজ্ঞাসা করল।
মেধাবী বললেন- হে সুন্দরী! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী, সর্বপাপ ক্ষয়কারিণী। সেই ব্রত পালনে তোমার পিশাচত্ব দূর হবে।
পিতার আশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী বললেন- হে পিতা! এক অপ্সরার সঙ্গদোষে আমি মহাপাপ করেছি, এর প্রায়শ্চিত্ত কি? তা কৃপা করে আমায় বলুন।
উত্তরে চ্যবন মুনি বললেন- চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী ব্রতের প্রভাবে তোমার পাপ দূর হবে। পিতার উপদেশ শুনে মেধাবী সেই ব্রত ভক্তিভরে পালন করল। তার সমস্ত পাপ দূর হল। পুনরায় তিনি তপস্যার ফল লাভ করলেন। মঞ্জুঘোষাও ঐ ব্রত পালনের ফলে পিশাচত্ব থেকে মুক্ত হয়ে দিব্য দেহে স্বর্গে গমন করল।
হে মহারাজ! যারা এই পাপমোচনী একাদশী পালন করেন, তাদের পূর্বকৃত সমস্ত পাপই ক্ষয় হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।


Courtesy by:  প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
0 comments

প্রকৃত প্রায়শচিত্তের জন্য দরকার প্রকৃত জ্ঞান

Image may contain: 1 personপ্রকৃত জ্ঞান অর্জনের কিছু পন্থা আছে।
কেউ যখন বিশুদ্ধ উপায় অবলম্বন করে তখন তাঁর কোন রোগ হয় না এবং সে কখনও অসুস্থ হয় না।
একজন মানুষের অন্তর্নিহিত জ্ঞান বিকশিত করার জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় তাঁকে বলা হয়
তপস্যা।
একজন মানুষ তপশ্চর্যা অথবা কৌমার্য ( ব্রহ্মচারী) অবলম্বনের মাধ্যমে, যোগাসন অবলম্বনের মাধ্যমে, ইন্দ্রিয়কে দমন করার মাধ্যমে, নিজের ধনদৌলত দান করার মাধ্যমে, সত্যবাদী থাকার মাধ্যমে, পরিস্কার-পরিছন্ন থাকার মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনামৃত অর্জন করতে পারে।
কিন্তু কেউ যদি যথার্থ গুরুর অধীনে কৃষ্ণভাবনামৃত অর্জন করতে চায় তাহলে তাঁর এই সব যোগাভ্যাস না করা সত্ত্বেও সে কৃষ্ণচেতনা অর্জন করতে পারবে।
কিন্তু যথার্থ গুরুর অধীনে কৃষ্ণ চেতনা অর্জন করতে গেলে কতগুলো নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে, যেমন- অবৈধ যৌনাচার, মাংস ভক্ষণ, জুয়া খেলা, নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা এবং যথার্থ বা প্রকৃত গুরুর অধীনে কৃষ্ণ চেতনা অর্জন করা।
এই সহজ পন্থাটি শ্রীরূপ গোস্বামী কর্তৃক সুপারিশ করা হয়েছে।
আমাদের সকলের কথা বলার স্বাধীনতা আছে, আমরা যখনই সুযোগ পাই তখনই কথা বলতে চাই।
কিন্তু বেশির ভাগ সময় আমরা কৃষ্ণ সম্পর্কিত কথা না বলে যতসব আজগুবি বিষয় নিয়ে কথা বলি।
এটাকে ব্যাঙের ডাকের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
ব্যাঙ সব সময় কর্কশ স্বরে ডাকে এবং সাপকে আহবান করে তাঁকে খাওয়ার জন্য।
যদিও সে বুঝতে পারে যে সে ডাকলে সাপ সেই ডাক
শূনে তাঁকে খেতে আসবে তবুও সে ডাকে।
তেমনি জড়জাগতিক বিষয়াসক্ত মানুষ এবং মায়াবাদী দার্শনিকেরা সব সময় এই ব্যাঙের মত ডেকে চলেছে।
এবং এই ভাবে তারা তাদের মৃত্যু ডেকে আনছে।
নিজের বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা মানে মৌনতা নয়
যেটা মায়াবাদীদের ভাষ্য।
মৌনতা মাঝে মাঝে উপকার করে কিন্তু বেশির ভাগ সময় ব্যর্থ প্রতীয়মান হয়।
শ্রীরূপ গোস্বামী বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করতে বুঝিয়েছেন
জড়জাগতিক আলোচনা কম করে বেশির ভাগ সময়
কৃষ্ণনাম জপ করতে হবে।
মনের অস্থিরতা তখনই দূরীভূত হবে যখন মন কৃষ্ণভাবনায় নিয়োজিত হবে।

শ্রী চৈতন্যচরিতামৃতে ( মধ্যলীলা ২২।৩১)
বলা হয়েছে...... "কৃষ্ণ হল সূর্যের মত, আর
মায়া হল অন্ধকার।
যেখানে সূর্য থাকবে সেখানে অন্ধকারের কোন অস্তিত্ব
থাকতে পারে না।"
তেমনি মনে যদি কৃষ্ণ চেতনা জাগ্রত হয় তাহলে মন আর মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়বে না।
জড়জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার সমস্ত যোগীক
প্রচেষ্টা সাধারণত খুব বেশী ফলপ্রসূ হয় না।
মনে একটি শূন্যস্থান তৈরি হলে সেই শূন্যস্থান বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়না।
মনে যদি কৃষ্ণচেতনা জাগ্রত হয় তাহলে মন আপনা থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়।


Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
0 comments

ভগবান কে?

Image may contain: 2 people, indoor
ভগবানের অনন্ত ভগবৎ স্বরূপ রয়েছে
"অনাদি অন্তরূপম আদ্যং পুরান পুরুষং...।"
ভগবানের রাম,নরসিংহ,বামন,কূর্ম ইত্যাদি অনন্ত রূপের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ রূপটি হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ।

শ্রুতি,স্মৃতি অনুসারে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরমব্রহ্ম,স্বয়ং ভগবান। ভক্ত প্রবর অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিভূতির কথা শ্রবণ করে নিজে স্বয়ং এটি স্বীকার করেছেন,

পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান ।
পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভূম ।।
(গীতা-১০/১২)

আহুসত্বআমৃষয়ঃ সর্বে দেবর্ষির্নারদস্তথা ।
অসিতো দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে ।।
(গীতা ১০/১৩)

অর্থাৎ "অর্জুন বললেন,-তুমি পরমব্রহ্ম,পরমধাম,পরম পবিত্র,পরম পুরুষ ,নিত্য,আদিদেব,অজ ও বিভু। দেবর্ষি নারদ,অসিত,দেবল,ব্যাস প্রভৃতি ঋষিরা সেই ভাবে তোমাকে বর্ণনা করেছেন এবং তুমি নিজেও এখন আমাকে তা বলছ।"

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি স্থিতি ও প্রলয়ের কর্তা। যদিও তিনি স্বয়ং এই সৃষ্টি,স্থিতি প্রলয় আদি করেন না। ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও মহেশ্বর জগতের সৃষ্টি,স্থিতি প্রলয় করেন,তবে তারা এই সব কর্ম শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা অনুসারে করে থাকেন। শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছাতেই দৃশ্যমান জগতের সৃষ্টি,পালন ও প্রলয় হয়ে থাকে।

গ্রন্থঃ ভগবান কে?


প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
0 comments

পণাতীর্থের উৎপত্তি কথা

No automatic alt text available.হরেকৃষ্ণ! শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর জননী শ্রীমতি নাভাদেবীর একবার গঙ্গাস্নানের বাসনা হয়। তিনি শেষরাতে স্বপ্নে দেখেন- তোঁর কোলের শিশুটি চতুর্ভূজ জ্যোতির্ময় সর্বমঙ্গলময় স্বয়ং মহাবিষ্ণু। এরূপ দিব্য দর্শনে শ্রীমতি নাভাদেবী তাঁর স্তবস্তুতি করেন। ঐশ্বর্য ভাবান্বিতা মাতৃদেবীকে তিনি সান্তনা প্রদান করে সমস্ত তীর্থ এনে তাতে তাঁকে স্নান করাবার কথা বলেন। শ্রীমতি নাভাদেবী নিদ্রা ভঙ্গে স্বপ্নের বিষয় স্মরণ করে চিন্তামগ্ন হন। তিনি স্বপ্নের বিষয় প্রথমে অঙ্গীকার করলেও পরে পুত্রের অনুরোধে তা প্রকাশ করে রোদন করতে থাকেন। আমি ‘পণ’ অর্থাৎ প্রতিজ্ঞঅ করে বলছি- তোমার ইচ্ছে পূরণের জন্য আমি আজ রাতে সকল তীর্থকে আনয়ন করব তাতে তুমি স্নান করবে। অদ্বৈত প্রভু রাতেই যোগাবলম্বন পূর্বক তীর্থগণকে আকর্ষন করলে, সমস্ত তীর্থ শ্রীঅদ্বৈত প্রভূর কাছে উপস্থিত হয়ে তাদের আহ্বানের কারণ জিজ্ঞেস করেন। শ্রীঅদ্বৈত প্রভু বলেন- কধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে (মহাবারুণি) তোমরা সকলে এখানে পর্বতোপরি বিহার করবে- সকলে আমার কাছে এই ‘পণ’ করো। গঙ্গা-যমুনাদি সকল তীর্থই শ্রীঅদ্বৈতাচার্য প্রভূর আজ্ঞা স্বীকার করে পর্বতে বিহার করতে থাকেন।
শ্রীদ্বৈতচন্দ্র প্রভাতকালে জননী নাভাদেবীকে বলেন- মা! পর্বতপরি সমস্ত তীর্থ এসেছে, তুমি সেখানে গিয়ে স্নান করো। শ্রীমতি নাভাদেবী কৌতুহলবশত পুত্রসহ সেখানে যান। শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্র জননী নাভাদেবীর পাশে দাঁড়িয়ে শঙ্গ-ঘন্টা বাজিয়ে ঊচ্চেঃস্বরে হরিধ্বনি করতে থাকেন। হরিধ্বনি করামাত্রই অঝোরে জলের প্রবাহ পতিত হতে থাকে। শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্র তখন বলেন, - দেখ মা তীর্থের জল পড়ছে। এখানে এখন সকল তীর্থ অবস্থান করছে। ঐদেখ মা, মেঘের মতো যমুনার জল তোমাকে ভিজিয়ে ফেলেছে, গঙ্গার পুণ্যসলিলবিন্দু তোমাকে সিক্ত করছে। এভাবে অন্যাণ্য সকল তীর্থরে পূণ্য সলিলরাশি পতিত হতে থাকে। অতি আশ্চর্য এ দৃশ্য দর্শন করে এবং পুত্রের বাক্য শ্রবণে শ্রীমতি নাভাদেবীর বিশ্বাস হয় যে, সত্য সত্যই এখানে তীর্থ সকল এসেছেন। তিনি অত্যন্ত ভক্তিভরে তীর্থসমূহকে প্রণাম করে সেই জলে স্নান করলেন। সেই থেকে এ স্থান ‘পণাতীর্থ’ নামে খ্যাত হয়। শ্রীঅদ্বৈত প্রভু কর্তৃক স্বীয় জননী নাভাদেবীর অভিলাষ পূর্ণ করার জন্য এবং তীর্থগনের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে (মহাবারুণি) এখানে আবির্ভূত হওয়ার জন্য ‘পণ’ করার কারণেই পণাতীর্থের প্রসিদ্ধি। মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদর্শীতে এখানে মেলা বসে। ঐ পূণ্য স্নানের দিনে অদ্যাপিও লক্ষ-লক্ষ তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়।


 Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
0 comments

কর্মের ফল যদি ভগবানকে নিবেদন করা না হয় সেটা নিষ্কাম কর্ম নয় নিঃস্বার্থপর নয়

Image may contain: 1 personআমি আমার জন্য করছি না। আমি নিঃস্বার্থপরভাবে জাতির সেবা করছি কিন্তু প্রভুপাদ বলছেন সেটা নিষ্কামকর্ম নয় সেটা নিঃস্বার্থপর নয়। ২ প্রকারের স্বার্থপরতা আছে। ১টা সংকুচিত স্বার্থপরতা আরেকটা প্রসারিত স্বার্থপরতা। আমি মনে মনে খুব খুশি আমি দেশের সেবা করছি নিঃস্বার্থভাবে কিন্তু তা নিঃস্বার্থপর নয়।এখানেও স্বার্থপরতা আছে। সংকুচিত স্বার্থপরতা।
বাড়িতে যদি কোন আত্মীয় স্বজন রসগোল্লা রাজভোগ নিয়ে এসেছেন তখন আমার ভাই আছে, বোন আছে, সবাই আছে কিন্তু আমি মনে করি আমি যেন বেশি খাই। ভাই বোনের সঙ্গে ঝগড়া করি আমরা। আমি বেশি খাব, এ সংকুচিত স্বার্থপরতা। আমি পাব আরকেউ পাবে না।
তারপর কি হবে? গ্রামে অনেক বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে তো কেউসাহায্য নিয়ে আসবে গ্রামে তখন চিন্তা হবে আমার বাড়ি যেন বেশি পায়। অন্য বাড়ি যেনকম পায়। একটু প্রসারিত হল আমার থেকে আমার বাড়ি।
বড় বন্যা এসেছে বহু গ্রাম ভেসে গিয়েছে। তখন আমার স্বার্থপরতা বাড়িতে সীমিত নয় আমার গ্রাম যেন বেশি পাবে। আমার গ্রামে রাস্তাঘাট হয়ে যাবে ইলেক্ট্রিসিটি হয়ে যাবে অন্য গ্রামগুলো ধুয়ে যাক। তারপর আরেকটু প্রসারিত হবে আমার দেশ যেন বেশি পাবে আমার জাতি যেন বেশি পাবে। এভাবে সঙ্কুচিত স্বার্থপরতা প্রসারিত হবে।
তাই আমরা মনে করছি নিষ্কামভাবে করছি। কিন্তু এটা নিষ্কামকর্ম নয়। নিঃস্বার্থপর নয়। আমি দেশের জন্যকরছি আমার দেশ, আমার জাতি।
খুব বেশি হলে আমরা কি চিন্তা করছি মানবিকতা। আমরা মানব সমাজের জন্য খাটব। আমি মানব সমাজের সেবার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছি। সেটাও নিঃস্বার্থপর নয়। আমি মানব সমাজের জন্য করছি কিন্তু পশুদের মুরে মুরে খাচ্ছি। আমি জীবের দয়ার কথা বলছি। ভগবান যে কোথায় আছি আমি তা পাত্তা দিতে চাই না। কিন্তু মনে মনে ভাবছি জীবের সেবা করলে ভগবানের সেবা হয়। কিন্তু এদিকে মুরগি মুরে মুরে খাচ্ছিমাছ কেটে খাচ্ছি। ওঁরা জীব না জড়? মুরগি, ছাগল, পাঁঠা। যখন আমরা বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরি তারপর কি করি আছার মেরে পিটাই তখন কি করে চটপট করে না? তারা কি আনন্দে লাফায়,নাচে- কষ্ট হয় না নেই? যদি আপনার ছেলেকে নিয়ে কেউ মাটিতে আছার মারে আপনি কি আনন্দে লাফাবেন? কষ্ট পাবেন না? কিন্তু আমরা বলছি জীবে দয়া আর এদিকে আর কি কি আছে এইগুলা গ্রহণ করছি। মনে করব না এইগুলো নিঃস্বার্থ কিছুই নয়। এইগুলোও স্বার্থপর। এসবে স্বার্থপরতা রয়েছে।
সে জন্য যেকোনো কর্মের ফল যদি ভগবানকে নিবেদন করা না হয় সেটা নিষ্কাম কর্ম নয় নিঃস্বার্থপর নয়।

Courtesy by:   প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর

0 comments

শ্রীকৃষ্ণের দিব্য গুনাবলী

Image may contain: 3 peopleশ্রীল রূপ-গোস্বামী নানা শাস্ত্র বিচার করে শ্রীকৃষ্ণের নিম্নোক্ত গুণাবলী উল্লেখ করেন  –
১) তাঁর সমস্ত শরীর অপূর্ব মাধুর্য মণ্ডিত ২)সমস্ত শুভ লক্ষন যুক্ত ৩)অত্যন্ত মনোরম ৪) জ্যোতির্ময় ৫)বলবান ৬) নিত্য নব-যৌবন সম্পন্ন ৭) সমস্ত-ভাষায় পারদর্শী ৮) সত্যবাদি 
৯) প্রিয়ভাষী ১০) বাকপটুঁ ১১) পরম পণ্ডিত ১২) পরম বুদ্ধিমান ১৩) অপূর্ব প্রতিভাশালী 
১৪) বিদগ্ধ শিল্পকলায় পারদর্শী ১৫)অত্যন্ত চতুর ১৬) পরম দক্ষ ১৭) কৃতজ্ঞ ১৮) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ১৯) স্থান ,কাল ও পাত্র সম্পর্কে বিচার করতে অত্যন্ত সুদক্ষ ২০)বৈদিক তত্ত্বজ্ঞান এর পরিপ্রেক্ষিতে দর্শন করতে আর উপদেশ দিতে অত্যন্ত পারদর্শী ২১)পবিত্র ২২ ) সংযত ২৩) অবিচলিত ২৪) জিতেন্দ্রিয় ২৫) ক্ষমাশীল ২৬) গম্ভীর ২৭)আত্ম-তৃপ্ত ২৮) সমদৃষ্টি সম্পন্ন ২৯) উদার ৩০) ধার্মিক ৩১) বীর ৩২) কৃপাময়  ৩৩ )শ্রদ্ধাবান ৩৪) বিনীত ৩৫) বদান্য ৩৬) লজ্জাশীল ৩৭) শরণাগত জীব-এর রক্ষক ৩৮) সুখী ৩৯) ভক্তদের হিতৈষী ৪০) প্রেমের বশীভূত ৪১) সর্বমঙ্গলময় ৪২) সর্বশক্তিমান ৪৩) পরম যশস্বী ৪৪) ভক্তবৎসল ৪৫) সমস্ত স্ত্রীলোকদের কাছে অতান্ত আকর্ষনীয় ৪৬) সকলের আরাধ্য ৪৭) জনপ্রিয় ৪৮) সমস্ত ঐশ্বর্য-এর অধিকারী ৪৯) সকলের মাননীয় ৫০) পরম নিয়ন্তা 

উল্লেখিত ৫০ টি গুন ছাড়া ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরও ৫ টি অতিরিক্ত গুন আছে যা কিছুটা ব্রহ্মা ও শিব এর মাঝেও আছে ঃ ৫১)অপরিবতনশীল ৫২) সর্বজ্ঞ ৫৩) চির নবীন ৫৪) সৎ ,চিৎ ও আনন্দময় ৫৫) সব রকম যোগ সিদ্ধি এর অধিকারী 
শ্রীকৃষ্ণের আরও ৫ টি গুন আছে যা নারায়ণ বিগ্রহে প্রকাশিত হয়ঃ
৫৬) অচিন্ত্য শক্তিসম্পন্ন ৫৭) তার দেহ থেকে অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ড প্রকাশিত হয় ৫৮) তিনি সমস্ত অবতারের আদি উৎস ৫৯) তাঁর দ্বারা হত শত্রুদের তিনি মুক্তিদান করেন ৬০) মুক্ত আত্মাদের তিনি আকর্ষন করেন 

এই গুন গুলো ছাড়া কৃষ্ণের আরও ৪ টি গুণ আছে যা আর কারো নেই এমন কি নারায়ণ এরও নেই সেগুলা হল ঃ ৬১) তিনি নানা রকম অদ্ভুদ লীলা বিলাস করেন, বিশেষ করে তাঁর বাল্য লীলা ৬২) তিনি অপূর্ব ভগবৎ প্রেম মণ্ডিত ভক্ত পরিবৃত ৬৩) তিনি তাঁর বাঁশি বাজিয়ে সমস্ত জীবকে আকর্ষণ করতে পারেন ৬৪) তিনি অতুলনীয় সৌন্দয মণ্ডিত


Courtesy by:  প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger