সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

এই হিন্দুদেবীর মাহাত্ম্য এতোই শক্তিশালী! মুসলিমরাও পুজো করেন

সারা বিশ্বে এমন দেবী মাহাত্ম্য আর দ্বিতীয় খুঁজে পাওয়া ‌যায় না। ‌যেখানে হিন্দুরাতো বটেই ভক্তিভরে পুজো করছেন মুসলিমরাও। না বলপ্রয়োগ করে অন্য ধর্মের মানুষদের পুজো করতে বাধ্য করা হচ্ছে এমন গল্প নয়। দেবী খাঁটি প্রচীন ভারতীয় হলেও, অধুনা কট্টর ইসলামধর্মী একটি দেশেই সগৌরবে পূজিতা হন তিনি। তাঁকে রক্ষা করার জন্য হিন্দু বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে না। বরং সর্বজাতির তিনি রক্ষা করে চলেছেন তিনি নিজ হাতে। তাঁর শরণাপন্ন হলে জীবনবোধটাই বদলে ‌যায়। কোনও অনিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

ভারতে এমন বহু জায়গা রয়েছে ‌যেখানে দেব দেবীর মাহাত্ম্য বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। তার মধ্যে বেশ কিছু জায়গা দুর্গম হলেও জনপদ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারের তরফে সাজানো হয়েছে, ‌যাতে বেশি করে প‌র্যটকেরা আসেন। কিন্তু হিঙ্গোল মাতার মন্দির তার থেকে অনেকটাই আলাদা। আলাদা ঐশ্ব‌র্যে বা বৈভবে নয়। তিনি স্বয়ং এবং তাঁর মহিমায়।
পাকিস্তান, বালুচিস্তান। আপামর বাঙালি মরুতীর্থ হিংলাজ ছবিটি দেখেননি, এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া ‌যাবে না। কিন্তু এই হিঙ্গোলমাতা বা হিংলাজ মাতা সম্পর্কে কে কতটা জানেন?
করাচি থেকে প্রায় ৩২৮ কিলোমিটার পথ। মাকরান উপকূল রাজপথ ধরে গেলে ঘণ্টা চারেকের রাস্তা। রাস্তা ভালো হলেও, দুর্গম, চারপাশে শুধু শুকনো পাহাড় আর পাহাড়। জনশূন্য পথ। দিনের বেলাতেও গা ছমছমে ব্যপার থাকবেই।

একবার ভেবে দেখুন। একটা সময় এই পথটাই অতিক্রম করতে হত পায়ে হেঁটে।বালিয়াড়ি, মরুভূমি পথ। বেশ কয়েকটা দিন ‌যেত পুণ্যর্থীদের ‌যেতে। বহু মানুষ রাস্তাতেই মারা পড়তেন এ ছাড়া দস্যুদের হানাতো ছিলই। রাস্তার মধ্যে কেউ মারা গেলে তাঁকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করা ‌যেত না। প্রিয়জনকে ছেড়ে ‌যেতে হত ধু ধু মরুপ্রান্তরেই।
বর্তমানে সেই কষ্ট আর নেই, তবু চলার পথে অনুভব করা ‌যায় কতটা কঠিন এ পথ। ভারতের ইতিহাস বলছে, নানা সময়ে বহু প্রচীন মন্দির নষ্ট হয়েছে মোগল, আফগানদের হাতে। কিন্তু এক এবং অদ্বিতীয় হিংলাজ মাতার মন্দিরকে স্পর্শ করার ক্ষমতা কারও হয়নি।
পুরাণ বলছে, এই মরুক্ষেত্রে সতীর ব্রহ্মরন্ধ্র পড়েছিল। তাই একান্ন পীঠের মধ্যে এটিই শ্রেষ্ঠ বলে ধরা হয়। সতীর ‌যত পীঠ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম পথ এটাই। এবং মানা হয় সেই কারণেই এখানকার পবিত্রতা এখনও অক্ষুণ্ণ।
এখানে দেবীর কোনও প্রথাগত মূর্তি নেই। পাহাড়ের গুহার মধ্যে অধিষ্ঠান করছেন দেবী। এই দেবীকে নিয়ে বেশ কিছু কিংবদন্তী রয়েছে। বলা হয় সর্বমনস্কামনাপূর্ণকারী দেবী। অর্থাৎ এই দেবীর কাছে ‌যা চাওয়া হয় তাই মেলে।
এখানে একটা কথা বলা ভালো, সতীর পীট নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক রয়েছে। কারণ ‌যত প্রাচীন সাহিত্য ঘাঁটা হয় তত দেবীর পীঠের সংখ্যা কমতে থাকে। কুলার্নভ তন্ত্রে সতীর ১৮টি পীঠের উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে হিংলাজ মাতা তৃতীয় স্থানে। আবার কুব্জিকা তন্ত্রে ৪২টি পীঠের কথা রয়েছে, ‌যেখানে হিংলাজ মাতা পঞ্চম স্থানে। তন্ত্রচূড়ামণিতে ৪৩টি পীঠের নাম আছে, পরে অবশ্য মোট ৫১টি পীঠের সং‌যোজন হয়।
হিংলাজ মাতা এখানে আরও বেশ কিছু নামে পরিচিত, ‌যেমন কোট্টারি, কোট্টাভি, কোট্টারিশা, ভৈরবী, ভীমলোচনা। এই দেবীকে নিয়ে বেশ কিছু কিংবদন্তি রয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ তাৎপ‌র্যপূর্ণ ব্রহ্মক্ষত্রিয়ের কাহিনী। একবার পরশুরাম ক্ষত্রিয় নিধনে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করছেন। সেই সময় তিনি একবার আসেন এই মরুতে, তখন স্থানীয় ক্ষত্রিয়রা এই দেবীর শরণাপন্ন হন। দেবীই তখন ক্ষত্রিয়দের ব্রাহ্মণ রূপ দান করে পরশুরামের হাত থেকে বাঁচান। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন জয়সেনা। ‌যিনি সিন্ধ প্রদেশের রাজত্ব করেন। কথিত আছে ক্ষত্রিয়দের শুধু বাঁচানোই নয়, পরশুরামকে এই হত্যালীলা থেকে অস্ত্র ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন স্বয়ং হিংলাজ মাতা। পরশুরামকে বলেছিলেন, প্রত্যেক মানব ব্রহ্মার সন্তান। আর ব্রহ্মত্ব আসে সুকর্মের মধ্যে দিয়ে। জাতি দাঙ্গায় ব্রহ্মত্ব প্রমাণ হয় না। পরশুরাম বুঝেছিলেন তিনি ব্রাহ্মণ সন্তান তাই তিনি ক্ষত্রিয় নিধনে নেমে আদপে ব্রহ্মহত্যাই করছেন। অগত্যা ক্ষত্রিয়হত্যা থেকে সরে আসেন তিনি।
সিন্ধ প্রদেশের প্রত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলে দেবীর বাস, অথচ তাৎপ‌র্যপূর্ণ ভাবে দেখা ‌যায় এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ, পুজাচারে মুসলিমদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। পাকিস্তানের মুসলিমরা এই দেবীকে বড়ি নানি বলে সম্বোধন করে। আর এই গুহা মন্দিরকে নানি কি হজ বলেন।
মন্দিরের কাছে আছে একটি কুণ্ড। এটিও বেশ রহস্যময়। কুণ্ডের মধ্যে অবিরাম কাদা মাটি ফুটতে থাকে। কিংবদন্তি রয়েছে, এই ফুটন্ত কুণ্ডের কাছে এসে অন্তর থেকে নিজের জ্ঞানত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করলে পাপ স্খলন হয়। বৈজ্ঞানিকদের অবশ্য ‌যুক্তি, ওই কুণ্ডের তলা থেকে কিছু রাসায়নিক গ্যাস নির্গত হয় বলেই এমন চিত্র ধরা পড়ে। স্থানীয়দের অবশ্য প্রশ্ন, এই কুণ্ড ছাড়া আশে পাশের কয়েকশো কিলোমিটার ব্যসে কেন এমন কুণ্ড দ্বিতীয় দেখা ‌যায় না? মন্দিরের কাছেই কেন? আর এই কুণ্ডের মহিমা সেতো ‌যুক্তি দিয়ে বিচার করা ‌যায় না। কিছু শিক্ষা লাভ করা ‌যায় অনুভূতি দিয়ে।
অনেকে বলেন, দেব দেবীতো সর্বত্র বিরাজ করছে, তাহলে এতো কষ্ট করে এতো দুর্গম পথ পেরিয়ে দেবীর দর্শন করতে ‌যাওয়া কেন? উত্তর একটাই, এই ‌যাত্রা জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। তুমি কি জীবনের কষ্টকর, দুর্গম পথকে অতিক্রম করতে চাও? তুমি কি সত্যি সত্যি মানব কল্যাণ পছন্দ করো? তুমি কি সত্যি সত্যি সত্যকে উপলব্ধী করতে চাও মানবজাতির স্বার্থে? তাহলে তোমাকে কষ্ট করতে হবে। সুখ স্বচ্ছন্দ্য তোমার অধিকার, কিন্তু অন্যকে কষ্ট দিয়ে নয়। হত্যা করে নয়। হ্যাঁ বধ করতে হয়েছে প্রয়োজন হলে, তবে সেটা নিজের অন্তরে থাকা অসুর এবং রাক্ষসদের। কারণ কারও ছত্রছায়ায় থেকে ‌যেমন জীবনের মূল্য বোঝা সম্ভব নয়। তেমন জীবনের ‌যাত্রাটাও অনুভব করা সম্ভব নয়। তথাকথিক ধর্ম, জাতির ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছেন একাংশ মানুষ, তাই তারাও ভিন জাতির হয়েও উপাসনা করেন বড়ি নানির।
কী অবিশ্বাস্য লাগছে? বিশ্বাস করুন, এটাই সত্যি।

Collected from: http://travelweekbazar.com/hindu-muslim-pilgrim-784759/

0 comments

শ্রীকৃষ্ণের প্রচীন নগরীর হদিশ মিলল জলের তলায়! স্বীকৃতি পুরাতত্ত্ব বিভাগের

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বাসুদেবের অস্তিত্বের কথা বিশ্বাস করেন না? কিন্তু এবার থেকে বিশ্বাস করতে হবে। শুধু তাই নয়। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসটাও নতুন করে লেখার হয়তো সময় এসেছে। পুরাণকে কল্পলোকের গল্পকথা ‌যাঁরা মানেন আসলে ‌যে তা ইতিহাসেরই প্রতিচ্ছবি এ কথা বলাই ‌যায়। অনেকে ধন্ধে রয়েছেন জলের তলায় থাকা প্রাচীন দ্বরকা নগরী কি আসলে বিষ্ণুলোক?
বহু গবেষক মনে করেন, ভারতের অন্যতম মহাকাব্য মহাভারত সত্যি ঘটনা, তার চরিত্র, কাহিনি বিন্যাস রাজনীতি আসলে সমাজ থেকেই নেওয়া, ‌তার জন্যই এই মহাকাব্য অনেকটাই সমকালীন হয়ে রয়েছে সহস্রাব্দ ধরে।
মহাভারত বা পুরাণের সূত্র মতে, পাণ্ডবদের হস্তিনাপুর জয়ের পর, শ্রীকৃষ্ণ বাসুদেব মথুরার পরিবর্তে দ্বারকা শহরে থাকতে শুরু করেন। ‌যা অধুনা গুজরাটে অবস্থিত। কিন্তু এই দ্বারকা নগরী আসলে প্রাচীন দ্বারকা নয়। এটা একটা ক্ষুদ্র অংশ বিশেষ। শ্রীকৃষ্ণের নগরী দ্বারকা বর্তমানে রয়েছে জলের তলায়। আর তার হদিশ মিলেছে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের কাছে। গুজরাটের আরব সাগরের পশ্চিমে লম্বায় ১৫ কিলোমিটার এবং চওড়ায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে ছিল প্রাচীন দ্বারকা নগরীর অস্তিত্ব। ‌যার ঐতিহাসিক প্রমাণ্য তথ্য পাওয়া গিয়েছে হালে।




প্রচীন নগরীর ‌পুরো কাঠামো ইমারৎ, অট্টালিকার স্তম্ভ, গ‌ৃহস্থের ব্যবহা‌র্য যে সমস্ত জিনিস জলের তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার C14 কার্বন ডেটিং প্র‌যুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই সমস্ত জিনিসই প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার বছরের পুরনো। অর্থাৎ এতদিন সাড়ে চার হাজার বছরের সিন্ধু সভ্যতাকে ধরে ইতিহাস তার পথ চলা শুরু করেছিল। কিন্তু এই নয়া তথ্য সেই ইতিহাসকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। মহাভারতকে ‌যদি ২৫০০ বছর আগেকার ঘটনা ধরা হয়, তার মানে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরী তার থেকেও কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন।
কী ভাবে মিলল এই নগরীর খোঁজ? ভারতের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ ওসেন টেকনোলজি সমুদ্র দূষণ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। অত্যাধুনিক স্ক্যানার ‌যন্ত্র সোনার, ‌যা জলের তলায় বহু নীচ প‌র্যন্ত শব্দ তরঙ্গের বিম পাঠাতে পারে। সেই ‌যন্ত্র মারফৎ জানতে পারে, জলের প্রায় ১২০ ফুট নীচে একটি প্রকাণ্ড জ্যামিতিক কাঠামো রয়েছে। তারই খোঁজ চালাতে গিয়ে গবেষকদের চোখ কপালে ওঠে। উঠে আসে বিশাল এক প্রচীন নগরীর তথ্য। সময়কাল পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু জিনিস, ‌যার থেকে ‌জানা ‌যায়, এই কাঠামো তৈরি হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার বছরেরও আগে।আন্তর্জাতিক ইতিহাস গবেষকদের দাবি, মেসোপটেমিয়ার সবচেয়ে পুরনো ব‌ৃহৎ নগর বলে বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। কিন্তু এই আবিষ্কার বিশ্ব ইতিহাসের পাতাকেই ঘেঁটে দিয়েছে। নতুন করে ইতিহাস লেখার প্রয়োজন রয়েছে।
ঐতিহাসিকদের মত, সময়ের সঙ্গে প্রকৃতি তার রূপ পরিবর্তন করেছে। ঠিক ‌যে ভাবে টেথিস সাগর সরে গিয়ে হিমালয়ের জন্ম নিয়েছে, ঠিক তেমনই আরব সাগর স্থান পরিবর্তন করায় একটা ব‌ৃহৎ প্রাচীন নগরী জলের তলায় চলে গিয়েছে। ‌যা বহু বছর ধরে মানুষের কাছে অধরা ছিল। তবে এখন ‌যা প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার উপর ভর করে আরও গবেষণা চালাতে হবে। ‌যে ইতিহাস মিলেছে তাকেই মাইল ফলক ধরে চললে ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখানে একটা কথা উল্লেখ্য, একাংশ পৌরাণিক গবেষকদের মত, পুরাণে বলছে, ক্ষীরপাই সমুদ্রের গর্ভে শেষনাগের উপর অনাদি অনন্তকাল ধরে অধিষ্ঠান করছেন ভগবান শ্রীবিষ্ণু সঙ্গে নারায়ণী। তাহলে কি এই আরবসাগরই পুরাণের ক্ষীরপাই? ‌যেখানে সলিল সমাধিতে রয়েছে বিষ্ণুর অন্যতম অবতার শ্রীকৃষ্ণের প্রাচীন বাসভূমি। তাহলে কি এই প্রাচীন দ্বারকা নগরী আসলে বিষ্ণুলোক? মানুন বা মানুন পুরাণ শুধু কল্পনার গল্প বলে না, হয়তো তার রহস্য উন্মোচন হয়, বহু বছর বাদে। ঈশ্বর ‌যে আছেন তার প্রমাণ দেন প্রকৃতিক গর্ভে লুকিয়ে থাকা অস্তিত্বে। তাইতো কখনও কখনও বিজ্ঞানও নিজের কাছে হেরে ‌যায়। আজ বিজ্ঞানের কাছে ‌যা সত্যি আগামিকাল তা মিথ্যে হয়ে দাঁড়ায়।

0 comments

নবগ্রহ উপাসনা

নবগ্রহ উপাসনা
========
যারা নবগ্রহের অশুভ শক্তিকে পরাভূত করে শান্তি আনয়ন করতে চান সেই সাধকের জন্য নবগ্রহ মন্ত্র ও নবগ্রহ গায়ত্রী মন্ত্র জপ করা অপরিহার্য। বিষ্ণুধর্মোত্তরে উল্লেখিত হয়েছে-----
"গোচরে বা বিলগ্নে বা সে গ্রহারিষ্টসূচকাঃ। পূজয়ে তান্‌ প্রযন্তেন পূজিতাঃ স্যুঃ শুভপ্রদাঃ।।"
অর্থাৎ--- গোচরে বা জন্মকুণ্ডলীতে যে গ্রহ অনিষ্টকারক, তার শান্তি করিয়ে প্রসন্নতা লাভ করানো প্রয়োজন। প্রসন্ন হয়ে সেই গ্রহ শুভ ফল প্রদান করেন। নবগ্রহ পূজা ও নবগ্রহের গায়ত্রী মন্ত্র জপের দ্বারা গ্রহগণের শান্তি অতি শীঘ্রই হয়ে থাকে।
Image may contain: 1 personসূর্য্য
---------
মন্ত্র - ওঁ হ্রীং হ্রীং সূর্য্যায়। জপ সংখ্যা - ৬০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ ভাস্করায় বিদ্মহে মহাতেজায় ধীমহিঃ তন্নঃ সূর্যঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ জবাকুসুমসংকাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্। ধ্বান্ত্যারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোঽস্মি দিবাকরম্॥
ইষ্টদেবতা - মাতঙ্গী।
ধারণরত্ন - চুনী, ধূপ - গুগগুল, বার - রবিবার, প্রশস্ত সময় - সকাল ১২ টা পর্যন্ত।
চন্দ্র
---------
মন্ত্র - ওঁ ঐং ক্লীং সোমায়ঃ। জপ সংখ্যা - ১৫০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ ক্ষীরপুত্রায় বিদ্মহে অমৃতত্বায় ধীমহিঃ তন্নঃ চন্দ্রঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ দধিশঙ্খতুষারাভং ক্ষীরোদার্ণবসম্ভবম্। নমামি শশিনং ভক্ত্যা শম্ভোর্মুকুটভূষণম্॥
ইষ্টদেবতা - কমলা।
ধারণরত্ন - মুক্তা, ধূপ - সরলকাষ্ঠ, বার - সোমবার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যা ৬-৯ পর্যন্ত।
মঙ্গল
----------
মন্ত্র - ওঁ হুং শ্রীং মঙ্গলায়ঃ। জপ সংখ্যা - ৮০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ অঙ্গারকায় বিদ্মহে শক্তিহস্তায় ধীমহিঃ তন্নঃ ভৌমঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ ধরণীগর্ভসম্ভূতং বিদ্যুৎপুঞ্জসমপ্রভম্। কুমারং শক্তিহস্তঞ্চ লোহিতাঙ্গং নমাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা - বগলামুখী।
ধারণরত্ন - প্রবাল, ধূপ - দেবদারু, বার - মঙ্গলবার, প্রশস্ত সময় - সকাল ১২ টা পর্যন্ত।
বুধ
-------
মন্ত্র - ওঁ ঐং শ্রীং শ্রীং বুধায়ঃ। জপ সংখ্যা - ১০০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ সৌম্যরূপায় বিদ্মহে বাণেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ বুধঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ প্রিয়ঙ্গুকলিকাশ্যামং রূপেণাপ্রতিমং বুধম। সৌম্যং সর্বগুণোপেতং তং বুধং প্রণাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা - ষোড়োশী অথবা ত্রিপুরভৈরবী।
ধারণরত্ন - পান্না, ধূপ - সঘৃত দেবদারু, বার - বুধবার, প্রশস্ত সময় - বেলা ১২টা পর্যন্ত।
বৃহস্পতি
----------------
মন্ত্র - ওঁ হ্রীং ক্লীং হুং বৃহস্পতয়ে। জপ সংখ্যা -১৯০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ আঙ্গিরসায় বিদ্মহে দণ্ডায়ুধায় ধীমহিঃ তন্নঃ জীবঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ দেবতানাং ঋষিণাঞ্চ গুরুং কনকসন্নিভম্। বন্দ্যভূতং ত্রিলোকেশং তং নমামি বৃহস্পতিম্॥
ইষ্টদেবতা - তারা।
ধারণরত্ন - পোখরাজ, ধূপ - দশাঙ্গ, বার - বৃহস্পতিবার, প্রশস্ত সময় - বেলা ১২ পর্যন্ত।
শুক্র
---------
মন্ত্র - ওঁ হ্রীং শ্রীং শুক্রায়। জপ সংখ্যা - ২১০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ ভৃগুসুতায় বিদ্মহে দিব্যদেহায় ধীমহিঃ তন্নঃ শুত্রঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ হিমকুন্দমৃণালাভং দৈত্যানাং পরমং গুরুম্। সর্বশাস্ত্রপ্রবক্তারং ভার্গবং প্রণমাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা - ভুবনেশ্বরী।
ধারণরত্ন - হীরা, ধূপ - গুগুল, বার - শুক্রবার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যাবেলা।
শনি
---------
মন্ত্র - ওঁ ঐং হ্রীং শ্রীং শনৈশ্চরায়। জপ সংখ্যা - ১০০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ সূর্যপুত্রায় বিদ্মহে মৃত্যুরূপায় ধীমহিঃ তন্নঃ সৌরিঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ নীলাঞ্জনসমাভাসং রবিপুত্রং যমাগ্রজম্। ছায়ায়া গর্ভসম্ভূতং তং নমামি শনৈশ্চরম্॥
ইষ্টদেবতা - দক্ষিণকালিকা।
ধারণরত্ন - নীলা, ধূপ - কৃষ্ণাগুরু, বার - শনিবার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যাবেলা।
রাহু
---------
মন্ত্র - ওঁ ঐং হ্রীং রাহবে। জপ সংখ্যা - ১২০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ শিরোরূপায় বিদ্মহে অমৃতেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ রাহুঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ অর্দ্ধকায়ং মহাঘোরং চন্দ্রাদিত্যবিমর্দকম্। সিংহিকায়াঃ সুতং রৌদ্রং তং রাহুং প্রণমাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা - ছিন্নমস্তা।
ধারণরত্ন - গোমেদ, ধূপ - দারুচিনি, বার - শনি/মঙ্গল বার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যাবেলা।
কেতু
---------
মন্ত্র - ওঁ হ্রীং ঐং কেতবে। জপ সংখ্যা - ২২০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ গদাহস্তায় বিদ্মহে অমৃতেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ কেতুঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ পলালধূমসঙ্কাশং তারাগ্রহবির্মদকম্। রৌদ্রং রৌদ্রাত্মকং ক্রূরং তং কেতুং প্রণমাম্যহং॥
ইষ্টদেবতা - ধূমাবতী।
ধারণরত্ন - ক্যাটস্ আই, ধূপ - মধুযুক্ত দারুচিনি, বার - শনি/মঙ্গল বার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যাবেলা।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
0 comments

আপনি জানেন কি? আদ্যাপীঠে প্রতিষ্ঠিতা আদ্যাদেবীর প্রতিমা কালীমূর্তি সদৃশ হলেও কিছু কিছু ভিন্নতা লক্ষিত হয়।



আপনি জানেন কি? আদ্যাপীঠে প্রতিষ্ঠিতা আদ্যাদেবীর প্রতিমা কালীমূর্তি সদৃশ হলেও কিছু কিছু ভিন্নতা লক্ষিত হয়। যেমন ---- কালীমূর্তি ত্রিনয়না, কিন্তু আদ্যামূর্তি দ্বিনয়না, ললাটে চোখের পরিবর্তে শুধু একটি চিহ্ন রয়েছে। কালিকাদেবীর কটিদেশে দানবহস্ত দ্বারা নির্মিত কোমরবন্ধনী চোখে পড়ে, কিন্তু আদ্যামায়ের কটিদেশ অনাবৃত। দক্ষিণাকালিকার কেশদাম উন্মুক্ত ও চরণ পর্যন্ত লম্বিত,পক্ষান্তরে আদ্যাবিগ্রহের কেশগুচ্ছ তিনটি জটায় বদ্ধ। বামদিকের ওপরের হস্তে খড়গের বদলে ভোজালি জাতীয় অস্ত্র।
উপরোক্ত বৈসাদৃশ্যের কারণে দক্ষিণাকালীর ধ্যানমন্ত্রে আদ্যাকালীর পূজা প্রশস্ত নয়, অতএব শ্রীযুক্ত কালীপদ তর্কাচার্য্য একটি নব ধ্যানমন্ত্রের প্রণয়ন করেন, যার দ্বারা আদ্যাদেবী নিত্য ধ্যাতা -------
Image may contain: 1 person, standing and indoorনীলাক্ষ-প্রস্তর-শ্যামাং শীর্ষে মুকুটমণ্ডিতাম্।
ললাটে নেত্র-চিহ্নেণ ত্রিনেত্রীকৃত বিগ্রহম্।।
অঘোরং পদ্মপত্রাভ বিশাল স্মিতলোচনাম্।
সুকৃষ্ণ প্রজ্বলদ্রূপ নেত্রদ্বয়-কনীনিকাম্।।
দৃষ্ট্যা সকরুণা-বাসাং জটা ত্রিত্বয়া শোভিতাম্।
সুপ্রসন্না মুখারভোজং নানা ভূষণভূষিতাম্।।
ঊর্ধ্ববামাকরে খড়গং নৃমুণ্ড বিভ্রতি মদঃ।
অভয়ঞ্চ বরং দক্ষ-করয়ো কথিত-ক্রমম্।।
লোলজিহ্বাং পদালম্বি মুণ্ডমালা-বিমণ্ডিতাম্।
সালঙ্কারং বরাকরাং কর কাঞ্চি বিবর্জিতাম্।।
পদ্মাকৃতি শিলাপীঠে শয়ন শিববক্ষসি।
স্থিতং দক্ষপদং নস্য তদাঃ ক্ষরৌ পরমপদম্।।
অমেয়ং অভয়ং দেবীং পরব্রহ্মস্বরূপিণীম্।
ধ্যায়েৎ আদ্যাং মনাদ্যান্তং চিৎ রূপা ধরং পরাম্।।
বঙ্গানুবাদ --- যিনি কৃষ্ণপ্রস্তরের ন্যায় কালো; রত্নখচিত মুকুট পরিহিতা; যাঁর ললাটে নয়নচিহ্ন বিদ্যমান; যে ত্রিনয়না মাতার আঁখি পদ্মপত্র সদৃশ বিশাল; যাঁর সামান্য দৃষ্টিপাত মাত্র অশেষ করুণার বর্ষণ হয়; যাঁর মস্তক ত্রিজটায় বেষ্টিত; যিনি মুখপদ্মে পরম প্রশান্তি ও ঔজ্জ্বল্য প্রদর্শন করেন; যিনি উত্থিত বামকরে অসি ও নিম্নকরে মুণ্ড এবং দক্ষিণ ঊর্ধ্বহস্তে অভয় ও নিম্নহস্তে বরমুদ্রা ধারণ করেন; যাঁর জিহ্বা লকলক করিতেছে ও যিনি মুণ্ডমালায় সজ্জিতা; যাঁর শ্রীঅঙ্গে দিব্য আভরণ কিন্তু কটিদেশ আবরণশূন্য; পদ্মাকৃতি শিলাবেদীতে শায়িত শিববক্ষের ওপরে যিনি ডানচরণ স্থাপন করেছেন ও বামপদটি রেখেছেন শিবের দক্ষিণ ঊরুতে; যিনি সর্বভয় হতে মুক্ত করেন; সেই সগুণা পরব্রহ্মস্বরূপা চিদ্রূপা অনন্ত আদ্যাদেবীকে ধ্যান করি।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
0 comments

ইংরাজী সাল নিয়ে কিছু কথা

Image may contain: one or more peopleকথায় আছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। কিন্তু, ২৫শে ডিসেম্বর, ৩১শে ডিসেম্বর, ১লা জানুয়ারীর সঙ্গে সঙ্গে ভ্যালেনটাইনস ডে, পেরেন্টস ডে, চিলড্রেন্স ডে, ফ্রেন্ডসিপ ডে’র মতো একাধিক ‘দিবস’ নিয়ে বাঙালি মাতামাতি করায়, বাঙালির পার্বণের তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে এবং বাঙালি বিজ্ঞাপনের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে৷ সাধারণত, সাবেকি বাঙালি উৎসব বলতে নববর্ষ, রথযাত্রা, দুর্গাপূজো, লক্ষীপূজো, কালীপূজো, ভাইফোঁটা, পৌষ সংক্রান্তি, নব্বান্ন, দোলযাত্রা, চৈত্র সংক্রান্তি প্রভৃতি। কিন্তু সময় বদলেছে৷ অক্ষয় তৃতীয়া, পৌষ সংক্রান্তি, নব্বান্ন, চৈত্র সংক্রান্তির মতো এরকম অনেক উৎসব আজ বাঙালীর জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অক্ষয় তৃতীয়ায় আগে কাসুন্দি বানানো হত, ১৪দিন ধরে চলত তার প্রস্তুতি, নতুন সরষে, হলুদ রোদে দেওয়া হত। বাড়িতে কদম ফুল আনা হোত, সেসব এখন অতীত। শীত কালে কলাই ডালের বড়ি দেওয়া হ'ত ইত্যাদি। যত নগরায়ন হচ্ছে, তত বাংলার নিজস্ব উৎসবগুলি কমে যাচ্ছে। আসলে এখন ইংরাজী তারিখ অনুযায়ী যেহেতু অফিসিয়াল কাজকর্ম হয় তাই বাংলা মাস নিয়ে খুব একটা কেউ মাথা ঘামায় না। বাঙালী অন্য দেশের সংস্কৄতিকে গ্রহন করছে এটা ভালো কথা, কিন্তু আক্ষেপ এটাই যে, অন্য দেশের সংস্কৄতি আমাদের সংস্কৃতির ঘাড়ে চেপে বসছে যে। ১৬ কলায় পূর্ণ হোক্ আপনার আগামী দিনের উচ্চাশা।
.
আজ ৩১শে ডিসেম্বর...... একটু বাদেই শুরু হবে ১লা জানুয়ারী, ২০১৭ সালের পথ চলা .....
অনেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভেসে চলেছেন .......
রাত জেগে পান-ভোজনানন্দে উল্লসিত কলতানে মুখরিত বাংলা ........
এই ভাবেই পশ্চিমী হাওয়ায় আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে হারাতে বসেছি .......
বাজী-পটকার শব্দে বাংলা মায়ের আর্তনাদের প্রতিবাদী কান্না ও ভাষা-শব্দ চাপা পড়ে যাচ্ছে .........
আপনি কি এতটুকু ব্যথিত?
আপনি কি সামান্যও মর্মাহত?
আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন বাংলা মায়ের কান্না? নাহ্..... আপনি শুনতে পাচ্ছেন না!
......... সময় এগিয়ে যাবে নিজের মত করে ....... আপনি তার সাথে কি গা ভাসাবেন?..... সেটা আপনার স্বাধীনতা ..... কিন্তু তা কখনই যেন উশৃঙ্খলতা যেন না হয় ............
যাই হোক্, আসুন জেনে নিই .......

ইংরাজী সাল নিয়ে কিছু কথা
====================
আমরা ইংরাজী নববর্ষ এলেই খুব মাতামাতি করি। ২০০৯ পেরিয়ে ২০১০ এ পড়লাম। এটা আমরা এখন সবাই জানি যে, যীশু খ্রীষ্টের জন্ম থেকে এই ইংরাজী সালের হিসাব চলে আসছে। যীশু খ্রীষ্টের জন্মের আগের সময়কে খ্রীষ্টপূর্ব এবং জন্মের পর থেকে খ্রীষ্টাব্দ বলা হয়।
যাই হোক, যে কোন ইংরাজী সালের শেষ থেকেই আগামী নতুন বছরের ক্যালেন্ডার নিয়ে আমরা খুব মাতামাতি করি। কে কটা ক্যালেন্ডার পাব, তাই নিয়ে চলে অলিখিত এক রেশারেশি।
আমরা চেষ্টা করি, এই ক্যালেন্ডারের ইতিহাসটা জানতে। ক্যালেন্ডার সৃষ্টির পেছনে দুইজনের নাম ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। একজন রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার, আর একজন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি। আমরা জানি, ১২ মাসে ১ বছর, বা ৩৬৫ দিনে ১ বছর। এই সাধারণ গণণাকে ইংরাজীতে “সিভিল ইয়ার”; বাংলায় “লৌকিক বছর” বলে। কিন্তু বিজ্ঞানের দৌলতে এখন আমরা জানি, পৃথিবীর সূর্য্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে, ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭.৫ সেকেণ্ড। এটাকেই “সোলার ইয়ার” বা “সৌরবছর” বলে বিজ্ঞানীরা বলেন; আর এটাকেই আসল বছর হিসেবে গণ্য করা হয়। (প্রসঙ্গত বলে রাখি, বরাহমিহির তাঁর “সূর্য্যসিদ্ধান্ত” গ্রন্থে আর পরে ৪৭৬ খ্রীষ্টাব্দে আর্য্যভট্ট কিনতু ঠিক এই হিসেবটাই দিয়ে গেছেন। মহামহোপাধ্যায় গোপীনাথ কবিরাজের গুরু বর্ধমানের শ্রী বিশুদ্ধানন্দ বলেছিলেন, হিমালয়ের আড়ালে এক গোপন জায়গায় একটি সূর্য্যমন্দির আছে। সেখানে শেখানো হয় সূর্য্যবিজ্ঞান। মহামহোপাধ্যায় গোপীনাথ কবিরাজ বেনারস সংস্কৃত কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে শেষ চাকরী করেছিলেন।)
আগে ধারণা ছিল, পৃথিবী সূর্য্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দিন নেয়। খ্রীস্টপূর্ব ৪৬ এ রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার জানতে পারলেন যে ওটা ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা হবে। তা তখনই তিনি ঘোষণা করলেন- বছর ৩৬৫ দিনই হবে, আর বাকী ৬ ঘন্টা প্রতি ৪ বছর পরে পরে ১ দিন করে যোগ হবে। ৬x৪ = ২৪ ঘন্টা = ১ দিন। প্রতি ৪ বছর অন্তর, যে বছরে এই ১ টা দিন যোগ হবে, তাকে লিপ ইয়ার বলা হবে।
সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে এই ক্যালেণ্ডারের নাম হলো- জুলিয়েন ক্যালেণ্ডার। এই ক্যালেণ্ডারের হিসেবে বছরে গড় দিন দাঁড়ালো ৩৬৫.২৫ দিন। কিন্তু, এই হিসেবটাও ভুল বলে প্রমাণিত হলো, যখন সৌর বছর ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭.৫ সেকেণ্ড বলে প্রমাণিত হলো। এবার ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা থেকে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭.৫ সেকেণ্ড বিয়োগ করলে দাঁড়ায় ১১ মিঃ ১২.৫ সেঃ। এবার ২৪x৬০x৬০=৮৬,৪০০ সেঃ,সুতরাং, দিনের হিসেবে ১১ মিঃ ১২.৫ সেঃ কে ৮৬,৪০০ ভাগ করলে হলো ০.০০৭৭৮৩৫৬ দিন(প্রায়)। তার মানে দাঁড়াল, প্রতি বছর ১১ দিন করে দিন এগোচ্ছে, কিন্তু সেটার হিসেব থাকছে না। এবার ১৭৫২ খ্রীষ্টাব্দে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরির এই হিসেব অনুযায়ী, ইংলাণ্ড ২রা সেপ্টেম্বর পরে ৩রা সেপ্টেম্বর না করে ১৩ ই সেপ্টেম্বর করে গ্রেগরিয়ান ক্যালেণ্ডার চালু করে দিল। ধীরে ধীরে পৃথিবীর সারা দেশে এটা চালু হয়ে গেল। সুতরাং আমরা এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেণ্ডারই অনুসরণ করি।

লেখকঃ প্রীথশ ঘোষ
0 comments

আসুন, দেবী ভাগবত মতে লক্ষ্মী সম্পর্কেে কি বলা হয়েছে জেনে নিই

দেবী লক্ষ্মী কমলের মতো তিনি সুন্দরী, কমলাসনে তাঁর নিবাস। কমল বা পদ্ম হল বিকাশ বা অভ্যুদয়ের প্রতীক। পুরানে আছে সাগর মন্থন কালে দেবী লক্ষ্মী সমুদ্র থেকে প্রকট হন। সাগর হল লক্ষ্মী দেবীর পিতা। সাগরেই মুক্তা, প্রবাল আদি রত্ন পাওয়া যায়। রত্ন হল ধন, যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন লক্ষ্মী। তিযে স্বর্গে তিনিই স্বর্গ লক্ষ্মী, রাজগৃহে তিনি রাজলক্ষ্মী, গৃহে তিনি গৃহলক্ষ্মী। তিনি শান্তা, দান্তা, সুশীলা, সর্ব মঙ্গলা, ষড়রিপু বর্জিতা। এক কথায় ধন, জ্ঞান, শীল– তিনেরই বিকাশ দেবী নি বিষ্ণুপ্রিয়া। তিনি শ্রী বিষ্ণুর সহধর্মিণী।

 তিনি সীতা, তিনি রাধা তথা রুক্মিণী। তিনি মহাপ্রভুর সহধর্মিণী লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। তিনি ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের সহধর্মিণী মা সারদা। শরত ঋতু তে আমরা যে দুর্গাদেবীর পূজো করি তিনিও মহালক্ষ্মী স্বরূপা। দেবী লক্ষ্মী মহামায়া আদিশক্তির এক অংশ।
যেখানে শীল ও সদাচার থাকে দেবী সেখানেই বাস করেন। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে দেবী নিজ পরিচয় দিয়েছেন -- “যে সকল গৃহে গুরু, ঈশ্বর, পিতামাতা, আত্মীয়, অতিথি, পিতৃলোক রুষ্ট হন, সে সকল গৃহে আমি কদাপি প্রবেশ করি না। আমি সে সকল গৃহে যেতে ঘৃনা বোধ করি, যে সকল ব্যাক্তি স্বভাবতঃ মিথ্যাবাদী, সর্বদা কেবল ‘নাই’, ‘নাই’ করে, যারা দুর্বলচেতা এবং দুঃশীল। 

যারা সত্য হীন, মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে, বিশ্বাসঘাতক, কৃতঘ্ন, যে সকল ব্যাক্তি সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, ভয়গ্রস্ত, শত্রু গ্রস্ত, ঋণ গ্রস্ত, অতি কৃপণ, দীক্ষা হীন, শোকার্ত, মন্দঘ্নী, স্ত্রী বশীভূত, কুলটার পতি, দুর্বাক, কলহ পরায়ণ, যারা ভগবানের পূজো ও তাঁর নাম গুন কীর্তনে বিমুখ, যারা শয়নের পূর্বে পাদপ্রক্ষালন করে না, নগ্ন হয়ে শয়ন করে, বেশী ঘুমায়, প্রভাতে সন্ধ্যায় দিবসে নিদ্রা যায়, যাদের দন্ত অপরিচ্ছন্ন, বসন মলিন, মস্তক রুক্ষ, হাস্য বিকৃত, তাদের গৃহে আমি কদাপি গমন করি না।

আমি সে সকল গৃহে বসতি করি, যে সকল গৃহ শ্বেত পারাবত অধুষ্যিত, যেখানে গৃহিণী উজ্জ্বল সুশ্রী, যেখানে কলহ নাই, ধান্য সকল সুবর্ণ সদৃশ, তণ্ডুল রজতোপম এবং অন্ন তুষহীন। যে গৃহস্থ পরিজনের মধ্যে ধন ভোগ্য বস্তুর সমান বিভাগ পূর্বক বিতরণ করেন, যিনি মিষ্টভাষী, বৃদ্ধপোসেবী, প্রিয়দর্শন, স্বল্পভাষী, অ দীর্ঘ সূত্রী, ধার্মিক, জিতেন্দ্রিয়, বিদ্যাবিনয়ী, অ গর্বিত, জনানুরাগী, পরপীড়ন বিমুখ, যিনি ধীরে স্নান করেন, চয়িত পুস্প আঘ্রাণ করেন না, সংযত এমন ব্যাক্তি আমার কৃপা পেয়ে থাকেন। শুধু অর্থ নয়, উন্নত চরিত্রও মানুষের অমূল্য সম্পদ। লক্ষ্মী দেবীর কৃপা তাঁরাই লাভ করেন যারা নৈতিক চরিত্রের অধিকারী। 

লক্ষ্মী র কৃপা সব সময় সৎ কাজেই ব্যাবহার করা উচিত। মানুষ যদি লক্ষ্মীর অপপ্রয়োগ করেন তবে অলক্ষ্মীর শাপে সে ধ্বংস হবেই। যে শুদ্ধ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী তাঁর গৃহে লক্ষ্মী অচলা হয়ে অবস্থান করেন। আর যারা ঠিক এর উল্টো তারা কর্মদোষে অলক্ষ্মীর আহ্বান করে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়। লক্ষ্মী হল ‘শ্রী’। সকল নারীর মধ্যে যে শীল ও সদাচার আছে তার মাধ্যমেই তিনি প্রকাশিতা। তাই যেখানে নারী দের প্রতি অবমাননা হয়, বা যারা নারী দের ওপর নির্যাতন করেন– সেই সব জায়গায় কখনই দেবী লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষণ হয় না।
-
লক্ষ্মীর ধ্যানমন্ত্র
===========
Image may contain: 1 person, table, food and indoor
"ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।
গৌরবর্ণাং সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্।
রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।"
অর্থ -- যাম্য করে পাশ, অক্ষমালা, সৌম্য করে পদ্ম ও অঙ্কুশ ধারিনী পদ্মাসনে উপবিষ্টা, শ্রী অর্থাৎ ঐশ্বর্য সম্পৎ ও সৌন্দর্য রূপিনী, ত্রিলোকের জননী, গৌরবর্ণা, সুন্দরী, সর্বা অলঙ্কার বিভূষিতা, ব্যগ্রহস্তে স্বর্ণ পদ্ম ধারিনী এবং দক্ষিণ হস্তে বরদানকারিনী দেবীকে ধ্যান করি। 

লক্ষ্মী দেবীর স্তোত্র
=============

“লক্ষ্মীঃ শ্রীঃ কমলা বিদ্যা মাতা বিষ্ণুপ্রিয়া সতী।
পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী।।
ভূতানামীশ্বরী নিত্যা মতা সত্যাগতা শুভা।
বিষ্ণুপত্নী মহাদেবী ক্ষীরোদতনয়া ক্ষমা।।
অনন্তলোকলাভা চ ভূলীলা চ সুখপ্রদা।
রুক্মিণী চ তথা সীতা মা বৈ বেদবতী শুভা।।
এতানি পুন্যনামানি প্রাতরুথায় যঃ পঠেৎ।
মহাশ্রিয়নবাপ্নোতি ধনধান্যকল্মষম।।”
অর্থ -- শ্রী, কমলাবিদ্যা, মাতা, বিষ্ণুপ্রিয়া, সতী, পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী, ভূতগণের ঈশ্বরী, নিত্যা, সত্যাগতা, শুভা, বিষ্ণুপত্নী, ক্ষীরোদ– তনয়া, ক্ষমা স্বরূপা, অনন্তলোকলাভা, ভূলীলা, সুখপ্রদা, রুক্মিণী, সীতা, বেদবতী– দেবীর এ সকল নাম। প্রাতেঃ উত্থান কালে যারা দেবীর এই পুন্য নামাবলী পাঠ করেন তারা বিপুল ঐশ্বর্য পেয়ে ধনী হয়ে থাকেন। অগ্নি পুরাণ মতে শ্রী বা লক্ষ্মী হলেন যজ্ঞবিদ্যা, তিনিই আত্ম্যবিদ্যা, যাবতীয় গুহ্যবিদ্যা ও মহাবিদ্যা ও তিনি।

লক্ষ্মী দেবীর প্রণাম মন্ত্র
=================

"ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।।"
-
যে দেবতার পূজা করেন, সেই দেবতার পরিচয় আগে জেনে নিতে হয়। লক্ষ্মীকে আমরা টাকাপয়সার দেবী ভাবি, আসলে লক্ষ্মীর পরিচয় শুধু ওইটুকুতেই নয়। লক্ষ্মী শুধু ধনই দেন না, তিনি জ্ঞান ও সচ্চরিত্রও দান করেন। এককথায় লক্ষ্মীপূজা করলে, মানুষ সার্বিকভাবে সুন্দর ও চরিত্রবান হয়। স্বামী প্রমেয়ানন্দ বলেছেন, ‘কেবল টাকাকড়িই ধন নয়। চরিত্রধন মানুষের মহাধন। যার টাকাকড়ি নেই সে যেমন লক্ষ্মীহীন, যার চরিত্রধন নেই সে তেমনি লক্ষ্মীছাড়া। যাঁরা সাধক তাঁরা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন মুক্তিধন লাভের জন্য।’ রূপক সাহিত্যে পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে লক্ষ্মী বলা হয়

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
0 comments

প্রণাম করার পিছনে কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে?

প্রণাম
Image may contain: one or more people=====
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা আমাদের দেশের মানুষদের কাছে একটা সাধারণ রীতি। যুগের পর যুগ ধরে এই রীতি চলে আসছে। হাত জোড় করে প্রণাম করার থেকেও আমাদের দেশের মানুষ পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা বেশি পছন্দ করেন। ছেলেবেলা থেকেই তাই বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে শেখানো হয়। বলা হয়, বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার অর্থ হল, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালোবাসার মতো অনুভূতি প্রকাশ করা। তাই বাড়িতে কোনও আত্মীয়-সজন আসলে কিংবা বয়সে বড় কারও সঙ্গে দেখা হলে আমরা সবসময় পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করি। এমনটাই আমাদের শেখানো হয় ছেলেবেলা থেকে। কিন্তু এই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে শুধু গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপণই হয় না। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার একটি বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। জানেন কি এই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার পিছনে কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে?

মস্তিষ্ক থেকে শুরু হওয়া শিরা-উপশিরা শেষ হয় হাত-পায়ের আঙুলের ডগায়। তাই একজন যখন হাত দিয়ে অপরজনের চরণ স্পর্শ করে, তখন একটি ‘সার্কিট’ শেষ হয়। বড়দের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে তাদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে, স্নেহের ভেতর দিয়ে যে ‘পজেটিভ এনার্জি’ বেরোয়, তা সঞ্চালিত হয় যে প্রণাম করছে তার শরীরে।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger