সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

নবগ্রহ উপাসনা

নবগ্রহ উপাসনা
========
যারা নবগ্রহের অশুভ শক্তিকে পরাভূত করে শান্তি আনয়ন করতে চান সেই সাধকের জন্য নবগ্রহ মন্ত্র ও নবগ্রহ গায়ত্রী মন্ত্র জপ করা অপরিহার্য। বিষ্ণুধর্মোত্তরে উল্লেখিত হয়েছে-----
"গোচরে বা বিলগ্নে বা সে গ্রহারিষ্টসূচকাঃ। পূজয়ে তান্‌ প্রযন্তেন পূজিতাঃ স্যুঃ শুভপ্রদাঃ।।"
অর্থাৎ--- গোচরে বা জন্মকুণ্ডলীতে যে গ্রহ অনিষ্টকারক, তার শান্তি করিয়ে প্রসন্নতা লাভ করানো প্রয়োজন। প্রসন্ন হয়ে সেই গ্রহ শুভ ফল প্রদান করেন। নবগ্রহ পূজা ও নবগ্রহের গায়ত্রী মন্ত্র জপের দ্বারা গ্রহগণের শান্তি অতি শীঘ্রই হয়ে থাকে।
Image may contain: 1 personসূর্য্য
---------
মন্ত্র - ওঁ হ্রীং হ্রীং সূর্য্যায়। জপ সংখ্যা - ৬০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ ভাস্করায় বিদ্মহে মহাতেজায় ধীমহিঃ তন্নঃ সূর্যঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ জবাকুসুমসংকাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্। ধ্বান্ত্যারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোঽস্মি দিবাকরম্॥
ইষ্টদেবতা - মাতঙ্গী।
ধারণরত্ন - চুনী, ধূপ - গুগগুল, বার - রবিবার, প্রশস্ত সময় - সকাল ১২ টা পর্যন্ত।
চন্দ্র
---------
মন্ত্র - ওঁ ঐং ক্লীং সোমায়ঃ। জপ সংখ্যা - ১৫০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ ক্ষীরপুত্রায় বিদ্মহে অমৃতত্বায় ধীমহিঃ তন্নঃ চন্দ্রঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ দধিশঙ্খতুষারাভং ক্ষীরোদার্ণবসম্ভবম্। নমামি শশিনং ভক্ত্যা শম্ভোর্মুকুটভূষণম্॥
ইষ্টদেবতা - কমলা।
ধারণরত্ন - মুক্তা, ধূপ - সরলকাষ্ঠ, বার - সোমবার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যা ৬-৯ পর্যন্ত।
মঙ্গল
----------
মন্ত্র - ওঁ হুং শ্রীং মঙ্গলায়ঃ। জপ সংখ্যা - ৮০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ অঙ্গারকায় বিদ্মহে শক্তিহস্তায় ধীমহিঃ তন্নঃ ভৌমঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ ধরণীগর্ভসম্ভূতং বিদ্যুৎপুঞ্জসমপ্রভম্। কুমারং শক্তিহস্তঞ্চ লোহিতাঙ্গং নমাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা - বগলামুখী।
ধারণরত্ন - প্রবাল, ধূপ - দেবদারু, বার - মঙ্গলবার, প্রশস্ত সময় - সকাল ১২ টা পর্যন্ত।
বুধ
-------
মন্ত্র - ওঁ ঐং শ্রীং শ্রীং বুধায়ঃ। জপ সংখ্যা - ১০০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ সৌম্যরূপায় বিদ্মহে বাণেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ বুধঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ প্রিয়ঙ্গুকলিকাশ্যামং রূপেণাপ্রতিমং বুধম। সৌম্যং সর্বগুণোপেতং তং বুধং প্রণাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা - ষোড়োশী অথবা ত্রিপুরভৈরবী।
ধারণরত্ন - পান্না, ধূপ - সঘৃত দেবদারু, বার - বুধবার, প্রশস্ত সময় - বেলা ১২টা পর্যন্ত।
বৃহস্পতি
----------------
মন্ত্র - ওঁ হ্রীং ক্লীং হুং বৃহস্পতয়ে। জপ সংখ্যা -১৯০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ আঙ্গিরসায় বিদ্মহে দণ্ডায়ুধায় ধীমহিঃ তন্নঃ জীবঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ দেবতানাং ঋষিণাঞ্চ গুরুং কনকসন্নিভম্। বন্দ্যভূতং ত্রিলোকেশং তং নমামি বৃহস্পতিম্॥
ইষ্টদেবতা - তারা।
ধারণরত্ন - পোখরাজ, ধূপ - দশাঙ্গ, বার - বৃহস্পতিবার, প্রশস্ত সময় - বেলা ১২ পর্যন্ত।
শুক্র
---------
মন্ত্র - ওঁ হ্রীং শ্রীং শুক্রায়। জপ সংখ্যা - ২১০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ ভৃগুসুতায় বিদ্মহে দিব্যদেহায় ধীমহিঃ তন্নঃ শুত্রঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ হিমকুন্দমৃণালাভং দৈত্যানাং পরমং গুরুম্। সর্বশাস্ত্রপ্রবক্তারং ভার্গবং প্রণমাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা - ভুবনেশ্বরী।
ধারণরত্ন - হীরা, ধূপ - গুগুল, বার - শুক্রবার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যাবেলা।
শনি
---------
মন্ত্র - ওঁ ঐং হ্রীং শ্রীং শনৈশ্চরায়। জপ সংখ্যা - ১০০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ সূর্যপুত্রায় বিদ্মহে মৃত্যুরূপায় ধীমহিঃ তন্নঃ সৌরিঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ নীলাঞ্জনসমাভাসং রবিপুত্রং যমাগ্রজম্। ছায়ায়া গর্ভসম্ভূতং তং নমামি শনৈশ্চরম্॥
ইষ্টদেবতা - দক্ষিণকালিকা।
ধারণরত্ন - নীলা, ধূপ - কৃষ্ণাগুরু, বার - শনিবার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যাবেলা।
রাহু
---------
মন্ত্র - ওঁ ঐং হ্রীং রাহবে। জপ সংখ্যা - ১২০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ শিরোরূপায় বিদ্মহে অমৃতেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ রাহুঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ অর্দ্ধকায়ং মহাঘোরং চন্দ্রাদিত্যবিমর্দকম্। সিংহিকায়াঃ সুতং রৌদ্রং তং রাহুং প্রণমাম্যহম্॥
ইষ্টদেবতা - ছিন্নমস্তা।
ধারণরত্ন - গোমেদ, ধূপ - দারুচিনি, বার - শনি/মঙ্গল বার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যাবেলা।
কেতু
---------
মন্ত্র - ওঁ হ্রীং ঐং কেতবে। জপ সংখ্যা - ২২০০০ বার।
গায়ত্রী-- ওঁ গদাহস্তায় বিদ্মহে অমৃতেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ কেতুঃ প্রচোদয়াৎ।
প্রণাম-- ওঁ পলালধূমসঙ্কাশং তারাগ্রহবির্মদকম্। রৌদ্রং রৌদ্রাত্মকং ক্রূরং তং কেতুং প্রণমাম্যহং॥
ইষ্টদেবতা - ধূমাবতী।
ধারণরত্ন - ক্যাটস্ আই, ধূপ - মধুযুক্ত দারুচিনি, বার - শনি/মঙ্গল বার, প্রশস্ত সময় - সন্ধ্যাবেলা।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
0 comments

আপনি জানেন কি? আদ্যাপীঠে প্রতিষ্ঠিতা আদ্যাদেবীর প্রতিমা কালীমূর্তি সদৃশ হলেও কিছু কিছু ভিন্নতা লক্ষিত হয়।



আপনি জানেন কি? আদ্যাপীঠে প্রতিষ্ঠিতা আদ্যাদেবীর প্রতিমা কালীমূর্তি সদৃশ হলেও কিছু কিছু ভিন্নতা লক্ষিত হয়। যেমন ---- কালীমূর্তি ত্রিনয়না, কিন্তু আদ্যামূর্তি দ্বিনয়না, ললাটে চোখের পরিবর্তে শুধু একটি চিহ্ন রয়েছে। কালিকাদেবীর কটিদেশে দানবহস্ত দ্বারা নির্মিত কোমরবন্ধনী চোখে পড়ে, কিন্তু আদ্যামায়ের কটিদেশ অনাবৃত। দক্ষিণাকালিকার কেশদাম উন্মুক্ত ও চরণ পর্যন্ত লম্বিত,পক্ষান্তরে আদ্যাবিগ্রহের কেশগুচ্ছ তিনটি জটায় বদ্ধ। বামদিকের ওপরের হস্তে খড়গের বদলে ভোজালি জাতীয় অস্ত্র।
উপরোক্ত বৈসাদৃশ্যের কারণে দক্ষিণাকালীর ধ্যানমন্ত্রে আদ্যাকালীর পূজা প্রশস্ত নয়, অতএব শ্রীযুক্ত কালীপদ তর্কাচার্য্য একটি নব ধ্যানমন্ত্রের প্রণয়ন করেন, যার দ্বারা আদ্যাদেবী নিত্য ধ্যাতা -------
Image may contain: 1 person, standing and indoorনীলাক্ষ-প্রস্তর-শ্যামাং শীর্ষে মুকুটমণ্ডিতাম্।
ললাটে নেত্র-চিহ্নেণ ত্রিনেত্রীকৃত বিগ্রহম্।।
অঘোরং পদ্মপত্রাভ বিশাল স্মিতলোচনাম্।
সুকৃষ্ণ প্রজ্বলদ্রূপ নেত্রদ্বয়-কনীনিকাম্।।
দৃষ্ট্যা সকরুণা-বাসাং জটা ত্রিত্বয়া শোভিতাম্।
সুপ্রসন্না মুখারভোজং নানা ভূষণভূষিতাম্।।
ঊর্ধ্ববামাকরে খড়গং নৃমুণ্ড বিভ্রতি মদঃ।
অভয়ঞ্চ বরং দক্ষ-করয়ো কথিত-ক্রমম্।।
লোলজিহ্বাং পদালম্বি মুণ্ডমালা-বিমণ্ডিতাম্।
সালঙ্কারং বরাকরাং কর কাঞ্চি বিবর্জিতাম্।।
পদ্মাকৃতি শিলাপীঠে শয়ন শিববক্ষসি।
স্থিতং দক্ষপদং নস্য তদাঃ ক্ষরৌ পরমপদম্।।
অমেয়ং অভয়ং দেবীং পরব্রহ্মস্বরূপিণীম্।
ধ্যায়েৎ আদ্যাং মনাদ্যান্তং চিৎ রূপা ধরং পরাম্।।
বঙ্গানুবাদ --- যিনি কৃষ্ণপ্রস্তরের ন্যায় কালো; রত্নখচিত মুকুট পরিহিতা; যাঁর ললাটে নয়নচিহ্ন বিদ্যমান; যে ত্রিনয়না মাতার আঁখি পদ্মপত্র সদৃশ বিশাল; যাঁর সামান্য দৃষ্টিপাত মাত্র অশেষ করুণার বর্ষণ হয়; যাঁর মস্তক ত্রিজটায় বেষ্টিত; যিনি মুখপদ্মে পরম প্রশান্তি ও ঔজ্জ্বল্য প্রদর্শন করেন; যিনি উত্থিত বামকরে অসি ও নিম্নকরে মুণ্ড এবং দক্ষিণ ঊর্ধ্বহস্তে অভয় ও নিম্নহস্তে বরমুদ্রা ধারণ করেন; যাঁর জিহ্বা লকলক করিতেছে ও যিনি মুণ্ডমালায় সজ্জিতা; যাঁর শ্রীঅঙ্গে দিব্য আভরণ কিন্তু কটিদেশ আবরণশূন্য; পদ্মাকৃতি শিলাবেদীতে শায়িত শিববক্ষের ওপরে যিনি ডানচরণ স্থাপন করেছেন ও বামপদটি রেখেছেন শিবের দক্ষিণ ঊরুতে; যিনি সর্বভয় হতে মুক্ত করেন; সেই সগুণা পরব্রহ্মস্বরূপা চিদ্রূপা অনন্ত আদ্যাদেবীকে ধ্যান করি।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
0 comments

ইংরাজী সাল নিয়ে কিছু কথা

Image may contain: one or more peopleকথায় আছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। কিন্তু, ২৫শে ডিসেম্বর, ৩১শে ডিসেম্বর, ১লা জানুয়ারীর সঙ্গে সঙ্গে ভ্যালেনটাইনস ডে, পেরেন্টস ডে, চিলড্রেন্স ডে, ফ্রেন্ডসিপ ডে’র মতো একাধিক ‘দিবস’ নিয়ে বাঙালি মাতামাতি করায়, বাঙালির পার্বণের তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে এবং বাঙালি বিজ্ঞাপনের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে৷ সাধারণত, সাবেকি বাঙালি উৎসব বলতে নববর্ষ, রথযাত্রা, দুর্গাপূজো, লক্ষীপূজো, কালীপূজো, ভাইফোঁটা, পৌষ সংক্রান্তি, নব্বান্ন, দোলযাত্রা, চৈত্র সংক্রান্তি প্রভৃতি। কিন্তু সময় বদলেছে৷ অক্ষয় তৃতীয়া, পৌষ সংক্রান্তি, নব্বান্ন, চৈত্র সংক্রান্তির মতো এরকম অনেক উৎসব আজ বাঙালীর জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অক্ষয় তৃতীয়ায় আগে কাসুন্দি বানানো হত, ১৪দিন ধরে চলত তার প্রস্তুতি, নতুন সরষে, হলুদ রোদে দেওয়া হত। বাড়িতে কদম ফুল আনা হোত, সেসব এখন অতীত। শীত কালে কলাই ডালের বড়ি দেওয়া হ'ত ইত্যাদি। যত নগরায়ন হচ্ছে, তত বাংলার নিজস্ব উৎসবগুলি কমে যাচ্ছে। আসলে এখন ইংরাজী তারিখ অনুযায়ী যেহেতু অফিসিয়াল কাজকর্ম হয় তাই বাংলা মাস নিয়ে খুব একটা কেউ মাথা ঘামায় না। বাঙালী অন্য দেশের সংস্কৄতিকে গ্রহন করছে এটা ভালো কথা, কিন্তু আক্ষেপ এটাই যে, অন্য দেশের সংস্কৄতি আমাদের সংস্কৃতির ঘাড়ে চেপে বসছে যে। ১৬ কলায় পূর্ণ হোক্ আপনার আগামী দিনের উচ্চাশা।
.
আজ ৩১শে ডিসেম্বর...... একটু বাদেই শুরু হবে ১লা জানুয়ারী, ২০১৭ সালের পথ চলা .....
অনেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভেসে চলেছেন .......
রাত জেগে পান-ভোজনানন্দে উল্লসিত কলতানে মুখরিত বাংলা ........
এই ভাবেই পশ্চিমী হাওয়ায় আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে হারাতে বসেছি .......
বাজী-পটকার শব্দে বাংলা মায়ের আর্তনাদের প্রতিবাদী কান্না ও ভাষা-শব্দ চাপা পড়ে যাচ্ছে .........
আপনি কি এতটুকু ব্যথিত?
আপনি কি সামান্যও মর্মাহত?
আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন বাংলা মায়ের কান্না? নাহ্..... আপনি শুনতে পাচ্ছেন না!
......... সময় এগিয়ে যাবে নিজের মত করে ....... আপনি তার সাথে কি গা ভাসাবেন?..... সেটা আপনার স্বাধীনতা ..... কিন্তু তা কখনই যেন উশৃঙ্খলতা যেন না হয় ............
যাই হোক্, আসুন জেনে নিই .......

ইংরাজী সাল নিয়ে কিছু কথা
====================
আমরা ইংরাজী নববর্ষ এলেই খুব মাতামাতি করি। ২০০৯ পেরিয়ে ২০১০ এ পড়লাম। এটা আমরা এখন সবাই জানি যে, যীশু খ্রীষ্টের জন্ম থেকে এই ইংরাজী সালের হিসাব চলে আসছে। যীশু খ্রীষ্টের জন্মের আগের সময়কে খ্রীষ্টপূর্ব এবং জন্মের পর থেকে খ্রীষ্টাব্দ বলা হয়।
যাই হোক, যে কোন ইংরাজী সালের শেষ থেকেই আগামী নতুন বছরের ক্যালেন্ডার নিয়ে আমরা খুব মাতামাতি করি। কে কটা ক্যালেন্ডার পাব, তাই নিয়ে চলে অলিখিত এক রেশারেশি।
আমরা চেষ্টা করি, এই ক্যালেন্ডারের ইতিহাসটা জানতে। ক্যালেন্ডার সৃষ্টির পেছনে দুইজনের নাম ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। একজন রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার, আর একজন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি। আমরা জানি, ১২ মাসে ১ বছর, বা ৩৬৫ দিনে ১ বছর। এই সাধারণ গণণাকে ইংরাজীতে “সিভিল ইয়ার”; বাংলায় “লৌকিক বছর” বলে। কিন্তু বিজ্ঞানের দৌলতে এখন আমরা জানি, পৃথিবীর সূর্য্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে, ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭.৫ সেকেণ্ড। এটাকেই “সোলার ইয়ার” বা “সৌরবছর” বলে বিজ্ঞানীরা বলেন; আর এটাকেই আসল বছর হিসেবে গণ্য করা হয়। (প্রসঙ্গত বলে রাখি, বরাহমিহির তাঁর “সূর্য্যসিদ্ধান্ত” গ্রন্থে আর পরে ৪৭৬ খ্রীষ্টাব্দে আর্য্যভট্ট কিনতু ঠিক এই হিসেবটাই দিয়ে গেছেন। মহামহোপাধ্যায় গোপীনাথ কবিরাজের গুরু বর্ধমানের শ্রী বিশুদ্ধানন্দ বলেছিলেন, হিমালয়ের আড়ালে এক গোপন জায়গায় একটি সূর্য্যমন্দির আছে। সেখানে শেখানো হয় সূর্য্যবিজ্ঞান। মহামহোপাধ্যায় গোপীনাথ কবিরাজ বেনারস সংস্কৃত কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে শেষ চাকরী করেছিলেন।)
আগে ধারণা ছিল, পৃথিবী সূর্য্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দিন নেয়। খ্রীস্টপূর্ব ৪৬ এ রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার জানতে পারলেন যে ওটা ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা হবে। তা তখনই তিনি ঘোষণা করলেন- বছর ৩৬৫ দিনই হবে, আর বাকী ৬ ঘন্টা প্রতি ৪ বছর পরে পরে ১ দিন করে যোগ হবে। ৬x৪ = ২৪ ঘন্টা = ১ দিন। প্রতি ৪ বছর অন্তর, যে বছরে এই ১ টা দিন যোগ হবে, তাকে লিপ ইয়ার বলা হবে।
সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে এই ক্যালেণ্ডারের নাম হলো- জুলিয়েন ক্যালেণ্ডার। এই ক্যালেণ্ডারের হিসেবে বছরে গড় দিন দাঁড়ালো ৩৬৫.২৫ দিন। কিন্তু, এই হিসেবটাও ভুল বলে প্রমাণিত হলো, যখন সৌর বছর ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭.৫ সেকেণ্ড বলে প্রমাণিত হলো। এবার ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা থেকে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭.৫ সেকেণ্ড বিয়োগ করলে দাঁড়ায় ১১ মিঃ ১২.৫ সেঃ। এবার ২৪x৬০x৬০=৮৬,৪০০ সেঃ,সুতরাং, দিনের হিসেবে ১১ মিঃ ১২.৫ সেঃ কে ৮৬,৪০০ ভাগ করলে হলো ০.০০৭৭৮৩৫৬ দিন(প্রায়)। তার মানে দাঁড়াল, প্রতি বছর ১১ দিন করে দিন এগোচ্ছে, কিন্তু সেটার হিসেব থাকছে না। এবার ১৭৫২ খ্রীষ্টাব্দে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরির এই হিসেব অনুযায়ী, ইংলাণ্ড ২রা সেপ্টেম্বর পরে ৩রা সেপ্টেম্বর না করে ১৩ ই সেপ্টেম্বর করে গ্রেগরিয়ান ক্যালেণ্ডার চালু করে দিল। ধীরে ধীরে পৃথিবীর সারা দেশে এটা চালু হয়ে গেল। সুতরাং আমরা এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেণ্ডারই অনুসরণ করি।

লেখকঃ প্রীথশ ঘোষ
0 comments

আসুন, দেবী ভাগবত মতে লক্ষ্মী সম্পর্কেে কি বলা হয়েছে জেনে নিই

দেবী লক্ষ্মী কমলের মতো তিনি সুন্দরী, কমলাসনে তাঁর নিবাস। কমল বা পদ্ম হল বিকাশ বা অভ্যুদয়ের প্রতীক। পুরানে আছে সাগর মন্থন কালে দেবী লক্ষ্মী সমুদ্র থেকে প্রকট হন। সাগর হল লক্ষ্মী দেবীর পিতা। সাগরেই মুক্তা, প্রবাল আদি রত্ন পাওয়া যায়। রত্ন হল ধন, যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন লক্ষ্মী। তিযে স্বর্গে তিনিই স্বর্গ লক্ষ্মী, রাজগৃহে তিনি রাজলক্ষ্মী, গৃহে তিনি গৃহলক্ষ্মী। তিনি শান্তা, দান্তা, সুশীলা, সর্ব মঙ্গলা, ষড়রিপু বর্জিতা। এক কথায় ধন, জ্ঞান, শীল– তিনেরই বিকাশ দেবী নি বিষ্ণুপ্রিয়া। তিনি শ্রী বিষ্ণুর সহধর্মিণী।

 তিনি সীতা, তিনি রাধা তথা রুক্মিণী। তিনি মহাপ্রভুর সহধর্মিণী লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। তিনি ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের সহধর্মিণী মা সারদা। শরত ঋতু তে আমরা যে দুর্গাদেবীর পূজো করি তিনিও মহালক্ষ্মী স্বরূপা। দেবী লক্ষ্মী মহামায়া আদিশক্তির এক অংশ।
যেখানে শীল ও সদাচার থাকে দেবী সেখানেই বাস করেন। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে দেবী নিজ পরিচয় দিয়েছেন -- “যে সকল গৃহে গুরু, ঈশ্বর, পিতামাতা, আত্মীয়, অতিথি, পিতৃলোক রুষ্ট হন, সে সকল গৃহে আমি কদাপি প্রবেশ করি না। আমি সে সকল গৃহে যেতে ঘৃনা বোধ করি, যে সকল ব্যাক্তি স্বভাবতঃ মিথ্যাবাদী, সর্বদা কেবল ‘নাই’, ‘নাই’ করে, যারা দুর্বলচেতা এবং দুঃশীল। 

যারা সত্য হীন, মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে, বিশ্বাসঘাতক, কৃতঘ্ন, যে সকল ব্যাক্তি সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, ভয়গ্রস্ত, শত্রু গ্রস্ত, ঋণ গ্রস্ত, অতি কৃপণ, দীক্ষা হীন, শোকার্ত, মন্দঘ্নী, স্ত্রী বশীভূত, কুলটার পতি, দুর্বাক, কলহ পরায়ণ, যারা ভগবানের পূজো ও তাঁর নাম গুন কীর্তনে বিমুখ, যারা শয়নের পূর্বে পাদপ্রক্ষালন করে না, নগ্ন হয়ে শয়ন করে, বেশী ঘুমায়, প্রভাতে সন্ধ্যায় দিবসে নিদ্রা যায়, যাদের দন্ত অপরিচ্ছন্ন, বসন মলিন, মস্তক রুক্ষ, হাস্য বিকৃত, তাদের গৃহে আমি কদাপি গমন করি না।

আমি সে সকল গৃহে বসতি করি, যে সকল গৃহ শ্বেত পারাবত অধুষ্যিত, যেখানে গৃহিণী উজ্জ্বল সুশ্রী, যেখানে কলহ নাই, ধান্য সকল সুবর্ণ সদৃশ, তণ্ডুল রজতোপম এবং অন্ন তুষহীন। যে গৃহস্থ পরিজনের মধ্যে ধন ভোগ্য বস্তুর সমান বিভাগ পূর্বক বিতরণ করেন, যিনি মিষ্টভাষী, বৃদ্ধপোসেবী, প্রিয়দর্শন, স্বল্পভাষী, অ দীর্ঘ সূত্রী, ধার্মিক, জিতেন্দ্রিয়, বিদ্যাবিনয়ী, অ গর্বিত, জনানুরাগী, পরপীড়ন বিমুখ, যিনি ধীরে স্নান করেন, চয়িত পুস্প আঘ্রাণ করেন না, সংযত এমন ব্যাক্তি আমার কৃপা পেয়ে থাকেন। শুধু অর্থ নয়, উন্নত চরিত্রও মানুষের অমূল্য সম্পদ। লক্ষ্মী দেবীর কৃপা তাঁরাই লাভ করেন যারা নৈতিক চরিত্রের অধিকারী। 

লক্ষ্মী র কৃপা সব সময় সৎ কাজেই ব্যাবহার করা উচিত। মানুষ যদি লক্ষ্মীর অপপ্রয়োগ করেন তবে অলক্ষ্মীর শাপে সে ধ্বংস হবেই। যে শুদ্ধ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী তাঁর গৃহে লক্ষ্মী অচলা হয়ে অবস্থান করেন। আর যারা ঠিক এর উল্টো তারা কর্মদোষে অলক্ষ্মীর আহ্বান করে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়। লক্ষ্মী হল ‘শ্রী’। সকল নারীর মধ্যে যে শীল ও সদাচার আছে তার মাধ্যমেই তিনি প্রকাশিতা। তাই যেখানে নারী দের প্রতি অবমাননা হয়, বা যারা নারী দের ওপর নির্যাতন করেন– সেই সব জায়গায় কখনই দেবী লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষণ হয় না।
-
লক্ষ্মীর ধ্যানমন্ত্র
===========
Image may contain: 1 person, table, food and indoor
"ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।
গৌরবর্ণাং সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্।
রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।"
অর্থ -- যাম্য করে পাশ, অক্ষমালা, সৌম্য করে পদ্ম ও অঙ্কুশ ধারিনী পদ্মাসনে উপবিষ্টা, শ্রী অর্থাৎ ঐশ্বর্য সম্পৎ ও সৌন্দর্য রূপিনী, ত্রিলোকের জননী, গৌরবর্ণা, সুন্দরী, সর্বা অলঙ্কার বিভূষিতা, ব্যগ্রহস্তে স্বর্ণ পদ্ম ধারিনী এবং দক্ষিণ হস্তে বরদানকারিনী দেবীকে ধ্যান করি। 

লক্ষ্মী দেবীর স্তোত্র
=============

“লক্ষ্মীঃ শ্রীঃ কমলা বিদ্যা মাতা বিষ্ণুপ্রিয়া সতী।
পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী।।
ভূতানামীশ্বরী নিত্যা মতা সত্যাগতা শুভা।
বিষ্ণুপত্নী মহাদেবী ক্ষীরোদতনয়া ক্ষমা।।
অনন্তলোকলাভা চ ভূলীলা চ সুখপ্রদা।
রুক্মিণী চ তথা সীতা মা বৈ বেদবতী শুভা।।
এতানি পুন্যনামানি প্রাতরুথায় যঃ পঠেৎ।
মহাশ্রিয়নবাপ্নোতি ধনধান্যকল্মষম।।”
অর্থ -- শ্রী, কমলাবিদ্যা, মাতা, বিষ্ণুপ্রিয়া, সতী, পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী, ভূতগণের ঈশ্বরী, নিত্যা, সত্যাগতা, শুভা, বিষ্ণুপত্নী, ক্ষীরোদ– তনয়া, ক্ষমা স্বরূপা, অনন্তলোকলাভা, ভূলীলা, সুখপ্রদা, রুক্মিণী, সীতা, বেদবতী– দেবীর এ সকল নাম। প্রাতেঃ উত্থান কালে যারা দেবীর এই পুন্য নামাবলী পাঠ করেন তারা বিপুল ঐশ্বর্য পেয়ে ধনী হয়ে থাকেন। অগ্নি পুরাণ মতে শ্রী বা লক্ষ্মী হলেন যজ্ঞবিদ্যা, তিনিই আত্ম্যবিদ্যা, যাবতীয় গুহ্যবিদ্যা ও মহাবিদ্যা ও তিনি।

লক্ষ্মী দেবীর প্রণাম মন্ত্র
=================

"ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।।"
-
যে দেবতার পূজা করেন, সেই দেবতার পরিচয় আগে জেনে নিতে হয়। লক্ষ্মীকে আমরা টাকাপয়সার দেবী ভাবি, আসলে লক্ষ্মীর পরিচয় শুধু ওইটুকুতেই নয়। লক্ষ্মী শুধু ধনই দেন না, তিনি জ্ঞান ও সচ্চরিত্রও দান করেন। এককথায় লক্ষ্মীপূজা করলে, মানুষ সার্বিকভাবে সুন্দর ও চরিত্রবান হয়। স্বামী প্রমেয়ানন্দ বলেছেন, ‘কেবল টাকাকড়িই ধন নয়। চরিত্রধন মানুষের মহাধন। যার টাকাকড়ি নেই সে যেমন লক্ষ্মীহীন, যার চরিত্রধন নেই সে তেমনি লক্ষ্মীছাড়া। যাঁরা সাধক তাঁরা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন মুক্তিধন লাভের জন্য।’ রূপক সাহিত্যে পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে লক্ষ্মী বলা হয়

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
0 comments

প্রণাম করার পিছনে কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে?

প্রণাম
Image may contain: one or more people=====
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা আমাদের দেশের মানুষদের কাছে একটা সাধারণ রীতি। যুগের পর যুগ ধরে এই রীতি চলে আসছে। হাত জোড় করে প্রণাম করার থেকেও আমাদের দেশের মানুষ পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা বেশি পছন্দ করেন। ছেলেবেলা থেকেই তাই বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে শেখানো হয়। বলা হয়, বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার অর্থ হল, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালোবাসার মতো অনুভূতি প্রকাশ করা। তাই বাড়িতে কোনও আত্মীয়-সজন আসলে কিংবা বয়সে বড় কারও সঙ্গে দেখা হলে আমরা সবসময় পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করি। এমনটাই আমাদের শেখানো হয় ছেলেবেলা থেকে। কিন্তু এই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে শুধু গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপণই হয় না। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার একটি বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। জানেন কি এই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার পিছনে কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে?

মস্তিষ্ক থেকে শুরু হওয়া শিরা-উপশিরা শেষ হয় হাত-পায়ের আঙুলের ডগায়। তাই একজন যখন হাত দিয়ে অপরজনের চরণ স্পর্শ করে, তখন একটি ‘সার্কিট’ শেষ হয়। বড়দের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে তাদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে, স্নেহের ভেতর দিয়ে যে ‘পজেটিভ এনার্জি’ বেরোয়, তা সঞ্চালিত হয় যে প্রণাম করছে তার শরীরে।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
0 comments

মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, স্তোত্রং ও ফলশ্রুতি

মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
============

ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম।
উর্বারুকমিববন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ স্বাহা।
ভাবার্থ --- হে সৃষ্টিকর্তা, ধর্তা ও হর্তা পরমাত্মন! তুমি আমাদের জন্য সুগন্ধিত, পুষ্টিকারক তথা বলবর্ধক ভোগ্য বস্তু দান করো। আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তিসহকারে তোমার ভজন করি। হে দেব! আমরা পূর্ণায়ু ও পূর্ণভোগ করেই যেন এই শরীর রূপী বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারি।
-
ব্যাখ্যা --- খরমুজ পাকলেই বিনা কষ্টে সে তার ডাল থেকে মুক্ত হয়ে যায়। হে প্রভো! আমরা যেন এই জন্ম-মৃত্যু চক্র থেকে মুক্ত হয়ে কিন্তু তোমার অমৃতময়ীস্নেহ থেকে যেন বিমুখ না হই। তোমার অমৃতধারার বরদ হস্ত সদা যেন আমাদের উপরে থাকে।


Image may contain: 1 personমহামৃত্যুঞ্জয় স্তোত্রং
==============
চন্দ্রার্কাগ্নিবিলোচনং স্মিতমুখং পদ্মদ্বয়ান্তস্থিতং
মুদ্রাপাশমৃগাক্ষসত্রবিলসত্পাণিং হিমাংশুপ্রভম্ |
কোটীন্দুপ্রগলত্সুধাপ্লুততমুং হারাদিভূষোজ্জ্বলং
কান্তং বিশ্ববিমোহনং পশুপতিং মৃত্যুঞ্জযং ভাবয়েত্ ||
রুদ্রং পশুপতিং স্থাণুং নীলকণ্ঠম উমাপতিম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১||
নীলকন্ঠং কালমূর্ত্তিং কালজ্ঞং কালনাশনম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ২||
নীলকণ্ঠং বিরূপাক্ষং নির্মলং নিলয়প্রদম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৩||
বামদেবং মহাদেবং লোকনাথং জগদ্গুরুম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৪||
দেবদেবং জগন্নাথং দেবেশং বৃষভধ্বজম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৫||
ত্র্যক্ষং চতুর্ভুজং শান্তং জটামকুটধারিণম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৬||
গঙ্গাধরং মহাদেবং সর্বাভরণভূষিতম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৭||
ভস্মোদ্ধূলিতসর্বাঙ্গং নাগাভরণভূষিতম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৮||
অনন্তমব্যযং শান্তং অক্ষমালাধরং হরম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৯||
আনন্দং পরমং নিত্যং কৈবল্যপদদায়িনম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১০||
অর্দ্ধনারীশ্বরং দেবং পার্বতীপ্রাণনায়কম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১১||
প্রলয়স্থিতিকর্ত্তারমাদিকর্ত্তারমীশ্বরম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১২||
ব্যোমকেশং বিরূপাক্ষং চন্দ্রার্দ্ধকৃতশেখরম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৩||
গঙ্গাধরং শশিধরং শঙ্করং শূলপাণিনম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৪||
অনাথঃ পরমানন্তং কৈবল্যপদগামিনি |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৫||
স্বর্গাপবর্গদাতারং সৃষ্টিস্থিত্যন্তকারণম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৬||
কল্পায়ুর্দ্দেহি মে পুণ্যং যাবদায়ুররোগতাম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৭||
শিবেশানাং মহাদেবং বামদেবং সদাশিবম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৮||
উত্পত্তিস্থিতিসংহারকর্তারমীশ্বরং গুরুম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৯||

ফলশ্রুতি
======

মার্কণ্ডেযকৃতং স্তোত্রং যঃ পঠেচ্ছিবসন্নিধৌ | তস্য মৃত্যুভয়ং নাস্তি নাগ্নিচৌরভযং ক্বচিত্ || ২০||
শতাবর্ত্তং প্রকর্তব্যং সংকটে কষ্টনাশনম্ | শুচির্ভূত্বা পথেত্স্তোত্রং সর্বসিদ্ধিপ্রদায়কম্ || ২১||
মৃত্যুঞ্জয় মহাদেব ত্রাহি মাং শরণাগতম্ | জন্মমৃত্যুজরারোগৈঃ পীডিতং কর্মবন্ধনৈঃ || ২২||
তাবকস্ত্বদ্গতঃ প্রাণস্ত্বচ্চিত্তোঽহং সদা মৃড | ইতি বিজ্ঞাপ্য দেবেশং ত্র্যম্বকাখ্যমনুং জপেত্ || ২৩||
নমঃ শিবায় সাম্বায় হরয়ে পরমাত্মনে | প্রণতক্লেশনাশায় যোগিনাং পতয়ে নমঃ || ২৪||
|| শ্রীমার্কণ্ডেযপুরাণে মার্কণ্ডেযকৃত মহামৃত্যুঞ্জয়স্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ||

লেখকঃ প্রীথিষ ঘোষ
0 comments

প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

                                               কৈলাশনাথ মন্দির   

১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।





প্রধান মন্দির- নন্দী মন্ডপ-এ লিঙাম অবস্থিত। নন্দী মন্ডপ ১৬ টি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে যার উচ্চতা ২৯.৩ মিঃ। নন্দী মডপে একটি বিশাল আকৃতির পাথরের তৈরী হাতি বিদ্যমান। একটি জীবন্ত পাথরের সেতু দ্বারা নন্দী মন্ডপ ও শিব মন্দিরের যোগাযোগ সাধিত হয়েছে। এই স্থাপনাটি তৎকালীন শিল্পীদের প্রতিভার সাক্ষর বহন করে। এই মন্দির তৈরীতে হয় ২,০০,০০০ টন পাথর কেটে, যার জন্য সময় লেগেছিল ১০০ বছর।

ইতিহাসঃ

কৈলাশ নাথ  মন্দিরটির নির্মাতার নাম  শিলালিপিতে না থাকলেও এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে এটি একটি রাষ্ট্রকূটের  রাজা  দ্বারা নির্মান লাভ করেন ।সাধারণত রাষ্ট্রকূটের রাজা কৃষ্ণকে এর নির্মাতা মনে করা হয়  দুটি লিপির  উপর ভিত্তি করে,   যেটায় মন্দিরের সাথে  "কৃষ্ণরাজা" এর (IAST Kṛṣṇarāja) (৭৫৬-৭৭৩ খ্রিস্টাব্দ)সংযোগ দেখা যায় ।

কর্করাজা-২ ( গুজরাটের একটি  শাখা রাষ্ট্রকূটের শাসক) এর বরোদা তাম্রলিপিতে (৮১২-৮১৩ খ্রিষ্টাব্দ) বর্তমান গুজরাটের একটি গ্রামে অনুদান দেবার কথা উল্লেখ আছে।  এটায় কৈলাশ নাথের  পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কৃষ্ণরাজার নাম এবং ইলোপুরা (ইলোরা) নামে একটি শিব মন্দিরেরও উল্লেখ আছে ।এটায় বলা ছিল যে, রাজা একটি বিষ্ময়কর মন্দির নির্মান করান যা দেখে দেবতা ও নির্মান শিল্পীরাও আশ্চর্য হয়ে গেলেন ।  অধিকাংশ পন্ডিত মনে করেন যে, এটি একটি তথ্যসূত্র কৈলাসনাথ শিব মন্দিরের ইলোরায় ।

কৈলাস মন্দিরের বৈশিষ্ট্যগুলোয় একাধিক স্বতন্ত্র স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শৈলীর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় । মন্দিরের এই অপেক্ষাকৃত বৃহৎ আকার ও সম্বিলিত গঠনের কারনে , কিছু পণ্ডিতগন  মনে করেন একাধিক রাজাদের রাজত্বকালে এটি নির্মান হয়েছে। কিছু মন্দিরের নির্মান শৈলী একই রকম দশাবতর গুহায় পরিলক্ষ্যিত হয় যা মন্দিরের পাশে অবস্থিত।দশাবতার গুহায় একটি শিলালিপি রয়েছে যেখানে কৃষ্ণরাজার পূর্বসূরীগন ও ভাতিজা দন্তিদূর্গার (৭৩৫-৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দ)কথা উল্লেখ রয়েছে ।H. Goetz (১৯৫২) অনুমান করেন, রাজা দন্তিদূর্গার সময় এটি নির্মান কাজ শুরু হয় এবং রাজা কৃষ্ণ তা প্রথম শেষ করেন যেটি বর্তমান মন্দির থেকে অনেক ছোট ।



                                                      ইলোরা গুহাসমূহ



ইলোরা ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গবাদ শহর থেকে ৩০ কিমি (১৮.৬ মাইল) দূরে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। রাষ্ট্রকুট রাজবংশ এই নিদর্শনের স্থাপনাগুলো নির্মাণ করেছিল। এখানে রয়েছে প্রচুর স্মৃতি সংবলিত গুহার সারি। এটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে।
ভারতের শিলা কেটে কোন কিছু তৈরি করার প্রাচীন প্রতিরূপ স্থাপত্যটি এখানে অণুসৃত হয়েছে। এখানে মোট ৩৪টি গুহা রয়েছে যেগুলো চরনন্দ্রী পাহাড়ের অভ্যন্তর থেকে খনন করে উদ্ধার করা হয়েছে। গুহাগুলোতে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের মন্দিরের স্বাক্ষর রয়েছে। ৫ম থেকে ১০ম শতাব্দীর মধ্যে এই ধর্মীয় স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল। এখানে বৌদ্ধ ধর্মের ১২টি হিন্দু ধর্মের ১৭টি এবং জৈন ধর্মের ৫টি মন্দির রয়েছে। সব ধর্মের উপাসনালয়ের এই সহাবস্থান সে যুগের ভারতবর্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন বহন করে। ইলোরা –কে ভেলুরা অথবা এলুরা বলা হয়। এটি প্রাচীন এলাপুরা নামের বিকৃত শব্দ। 

ইতিহাসঃ

ইলোরা গুহা মন্দির কালাচুরি, চালুক্য ও রাষ্ট্রকুট শাসনামলে তৈরী হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। নবম শতাব্দীতে রাষ্ট্রকুটের শাসনামলে তৈরী হয় জগন্নাথ সভা (পাচটি জৈন মন্দিরের সমষ্টি)


০১। বৌদ্ধ গুহাসমূহঃ
                                             এই গুহাসমূহ খ্রিস্টাব্দ ৫ম-৭ম শতাব্দীতে স্থাপিত হয়। ধারণা করা হয় যে, বৌদ্ধ গুহাসমূহ প্রাথমিক স্থাপনারগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। প্রথম পর্যায়ে ১-৫ নাম্বার গুহা (৪০০-৬০০ খ্রিস্টাব্দ) এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৬-১২ নাম্বার গুহা (মধ্য ৭ম-মধ্য ৮ম খ্রিস্টাব্দ)। কিন্তু বর্তমানে এইটা আধুনিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এইটা নিশ্চিত যে, হিন্দু গুয়া ( ২৭, ২৯, ২১, ২৮, ১৯, ২৬, ২০, ১৭ এবং ১৪ নাঃ গুহা) এর আগে তৈরী। সর্বপ্রথম স্থাপিত বৌদ্ধ গুহা ৬ নাম্বার গুহা ডান পাশের ৫, ২, ৩, ৫ এবং ৪, ৭, ৮, ১০ ও ৯ নাঃ ব্লক। আর সর্বশেষ স্থাপিত গুহা হল ১১ ও ১২ নাঃ গুহা। সকল বৌদ্ধ গুহা স্থাপিত হয় ৬৩০-৭০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।

এই বিশাল স্থাপনাটি বেশিরভাগ বিহার ও মঠের সমন্বয়ে গঠিত। এর মধ্যে বড়, পাহাড়ের হায়ে খোদাইকৃত বহুতল ভবন (বাসস্থান, শোবার ঘর, রান্নাঘর এবং অন্যান্য কক্ষ) বিদ্যমান। এই স্থাপনার কিছু গুহাতে পাহাড়ের গায়ে খোদাইকৃত গৌতম বুদ্ধ, বৌদিসত্তব ও পন্ডিতদের প্রতিমা সংবলিত মন্দির বিদ্যমান।

সবচেয়ে বিখ্যাত বৌদ্ধ গুহা হল ১০ নাম্বার গুহা, একটি চৈত্য হল (চন্দরশালা) অথবা ভিশভাক্রাম গুহা, যা “কারপেন্টার’স কেভ” ('Carpenter's Cave') নামে সর্বাধিক পরিচিত। এই গুহাটিতে অনেকটা গির্জার মত একটি বিশাল হল বিদ্যমান যার নাম চৈত্য, যার ছাদ এমন ভাবে খোদাইকৃত যে দেখতে অনেকটা কাঠের বিমের মত। এই গুহার ঠি মধ্যখানে একটি ১৫ ফুট লম্বা আসনকৃত বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে। অন্যান্য বৌদ্ধ গুহার মধ্যে ১-৯ নাঃ গুহা হল মঠ এবং দো-তাল (১১ নাম্বার গুহা) ও তিন-তাল (১২ নাম্বার গুহা) তিনতলা ।


০২। গুহা-১০ঃ
                        গুহা-১০ একটি বিহার যার আট ক্ষুদ্র কক্ষ বিশিষ্ট। যার চারটি ক্ষুদ্র কক্ষ সামনের দেয়ালের সাথে লাগানো বাকি চারটি ক্ষুদ্র কক্ষ পেছনের দেয়ালের সাথে লাগানো। এই গুহার সামনে একটি ক্ষুদ্র কক্ষসহ খোদাইকৃত স্তম্ভ আছে। সম্ভবত এই গুহাটি অন্যান্য বিহারের সরবরাহকৃত খাদ্য ভান্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হত।

০৩। বিশ্বকর্মাঃ
                               বৌদ্ধ গুহাসমূহের মধ্যে বিশ্বকর্মা একমাত্র চৈত্য গৃহ। এই গুহা স্থানীয়ভাবে বিশ্বকর্মা বা সুতার কা ঝপদা (Sutar ka jhopda/ carpenter's hut) নামে ডাকা হয়। এই গুহার নকশা দেখতে অনেকটা অজন্তা গুহাসমূহের মন্দিরের ১৯ ও ২৬ নাম্বার গুহার মত। ৭০০ খ্রিস্টাব্দতে এই গুহা স্থাপিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। চৈত্য গুহায় একসময় একটি বড় দেয়াল ছিল, যা বর্তমানে নেই। এই গুহার প্রধান হল একটি চক্রাকারে তৈরী এবং এর চারপাশে অষ্টভূজাকৃতির ২৮ স্তম্ভ বিদ্যমান।

০৪। হিন্দু গুহাঃ

হিন্দু গুহাসমূহ স্থাপিত হয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতাব্দীর শেষ সময়ের মধ্যে। প্রাথমিক গুহাসমূহ (১৭-২৯ নাম্বার গুহা) তৈরী হয় কালাচুরির শাসনামলে। সর্বপ্রথম নির্মান করা হয় ২৮, ২৭ ও ১৯ নাম্বার গুহা। এই গুহাগুলো নির্মাণ করা হয় প্রাথমিক পর্যায়ে নির্মিত ২৯ ও ২১ নাম্বার গুহার নির্মানের কৌশল অবলম্বন করে। ১৪, ১৫ ও ১৬ নাম্বার গুহা তৈরী হয় রাষ্ট্রকূটের শাসনামলে। সকল স্থাপনা বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও সুচারু দক্ষতার পরিচায়ক। কিছু কিছু স্থাপনা এতটাই জটিল যে এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত করতে কয়েক বংশপরাম্পরা পরিকল্পনা ও পরিচালনার প্রয়োজন হয়েছিল।



                                                    
                                                                                                 নৃত্যরত অবস্থায় শিব (১৬ নাম্বার গুহা)

০৫। দশাবতারঃ
দশাবতার (১৫ নাঃ গুহা) প্রাথমিকভাবে ছিল বৌদ্ধ মন্দির। এই মন্দিরটির গঠনগত দিক থেকে ১১ ও ১২ নাম্বার গুহার সাথে সাদৃশ্য আছে। দেয়ালের খিলান থেকে মেঝের উপরের অংশের একটি বিশাল স্থাপত্য কলা বিদ্যমান যা বিভিন্ন দৃশ্য দিয়ে সাজানো। এই দৃশ্যের মধ্যে বিষ্ণুর দশাবতার চেহারা অন্তর্ভুক্ত আছে।




                                           
                   একটি দেয়াল খোদাই শিল্প, শিবের সাথে কল্যাণাসুন্দ্রার বিবাহ এবং পার্বতী


০৬। অন্যান্য হিন্দু মন্দিরঃ  অন্যান্য উল্লেখযোগ্য হিন্দু মন্দিরগুলো হল রামেশ্বর (২১ নাম্বার গুহা), যার প্রবেশদ্বারের সম্মুখে গঙ্গা ও যমুনা মূর্তি খচিত। ধুমুর লিনা (২৯ নাম্বার গুহা) যা দকেহতে অনেকটা মুম্বাইয়ের নিকটে অবস্থিত এলিফ্যান্ট দ্বীপের গুহার মত। অপর দুইটি মন্দির হল, রাভন কি খাই (১৪ নাম্বার গুহা) এবং নীলকণ্ঠ (২২ নাম্বার গুহা) যেখানে অনেক স্থাপত্যের নিদর্শন বিদ্যমান। অন্যান্য হিন্দু গুহাগুলো হল, কুম্ভারব্দা (২৫ নাম্বার গুহা) এবং গোপেলিনা (২৭ নাম্বার     গুহা), এতে তেমন উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন নেই।                                                                                               ২১ নাম্বার গুহা




০৭। জৈন গুহাঃ 
                            ইলোরা মোট পাচটি জৈন গুহা আছে যা খ্রিষ্টীয় নবম থকে দশম শতাব্দীর মধ্যে স্থাপিত। এর সবগুলো গুহা ডিঘাম্বরা’র সাথে সম্পর্কযুক্ত। জৈন গুহাগুলো জৈন দার্শনিক ও ঐতিহ্যের ধারক। এই গুহাগুলো কঠোর তপস্যার অনুভূতির প্রতিফলন ঘটায়। কিন্তু এসব এখন অন্যান্য গুহার তুলনায় তেমন বৃহৎ নয়। কিন্তু এসব গুহা বিভিন্ন শিল্পকলার পরিচয় বহন করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জৈন মন্দিরগুলো হল ছোট কৈলাশ (৩০ নাম্বার গুহা), ইন্দ্র সভা (৩২ নাম্বার গুহা) এবং জগন্নাথসভা (৩৩ নাম্বার গুহা)। ৩১ নাম্বার গুহাও জৈন গুহা কিন্তু এটি একটি অসমাপ্ত চার স্তম্ভবিশিষ্ট্য হল এবং একটি মন্দিরের সমন্বয়ে গঠিত। ৩৪ নাম্বার গুহাটি আয়তনে ছোট যা ৩৩ নাম্বার গুহার বামদিকে অবস্থিত। অন্যান্য ভক্তিমূলক খোদাইচিহ্ন, একটি স্থান যার নাম সামভতস্বর্ণ যা ইলোরায় বিদ্যমান। সামভতস্বর্ণ জৈন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বিশেষ স্থান।

০৮। ইন্দ্রসভাঃ
                       ইন্দ্র সভা (৩২ নাম্বার গুহা) দ্বীতলবিশিষ্ট গুহা যাতে একটিমাত্র পাথর কেটে তৈরী মন্দির বিদ্যমান। এর ছাদের দেয়ালে অপূর্ব সুন্দর করে কাটা পদ্মফুল বিদ্যমান।

০৯। অন্যান্য জৈন গুহাঃ

অন্যান্য জৈন গুহাগুলোও জটিল শিল্পকলায় পরিপূর্ণ। অনেক স্থাপনার ছাদ খুবই উচ্চমানের ছবি সংবলিত, যার অনেকগুলো অংশ এখনো বিদ্যমান।

ইলোরার ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যঃ

ইলোরা ওয়েস্টার্ন ঘাটের সমতল ভূমি দখল করে গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রাচীন আগ্নেয়গিরি কর্মকান্ডের ফলে এই এলাকায় বিভিন্ন স্তরে গঠিত, যা ডেকান ফাদ (Deccan Traps )নামে পরিচিত। ক্রেটাচিয়াসের সময়, একটি আগ্নেয়গিরি ইলোরা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে গঠিত হয়েছিল।

ইলোরা বিভিন্ন খোদাইচিহ্ন

ইলোরায় খ্রিস্টাব্দ ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর অনেক খোদাইচিহ্ন বিদ্যমান। তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল রাষ্ট্রকুট দান্তিদুর্গা (৭৫৩-৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ) যা ১৫ নাম্বার গুহার মন্ডপের পেছনের দেয়ালে খোদাইকৃত। এটি খোদাই করা হয় রাষ্ট্রেকুটের বিজয়ানন্দে। কৈলাশ মন্দিরের খোদাইচিহ্নগুলো খ্রিস্টাব্দ ৯-১৫ শতাব্দীর মধ্যে অঙ্কিত। জৈন গুহার জগন্নাথসভায় তিনটি খোদাইচিহ্ন আছে। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত পার্সভান্ত মন্দিরে একাদশ শতাব্দীর একটি খোদাইচিহ্ন আছে। মহা কৈলাশ (১৬ নাম্বার গুহা) কৃষ্ণা (খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৭-৮৭ খ্রিস্টাব্দ) দিগ্বিবিজয়ী এবং দান্তিদুর্গার কাকা তার সম্মানার্থে তৈরী হয়। কার্কা II (খ্রিস্টপূর্ব ৮১২-১৩খ্রিস্টাব্দ)  এর অনুদানে ইলোরার একটি পাহাড়ে মহান স্মৃতিচিহ্ন খোদাইকৃত একটি তামার থালা স্থাপিত হয়। অজন্তা গুহার ন্যায়, ইলোরা গুহাসমূহ কখনো ধ্বংসের সম্মুখীন হয় নি। বিভিন্ন লেখা ও ভ্রমণকাহিনী থেকে পাওয়া যায় যে, ইলোরায় নিয়মিত পরিদর্শন করা হত। তার মধ্যে প্রথমে লেখা পাওয়া যায় আরব ভূতত্ত্ববিদ আল-মাসা’উদি, যা লেখা হয় খ্রিস্টাব্দ দশম শতাব্দীতে। ১৩৫২ সালে সুলতান হাসাব বাহ্মী, যিনি এই স্থানে কিছুকাল অবস্থান করেন ও পরিদর্শন করেন। অন্যান্যের মধ্যে ফিরিশ্তা, থেভেনট (১৬৩৩-১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দ), নিকালো মানাউচি (১৬৫৩-১৭০৮ খ্রিস্টাব্দ), চার্লস ওয়্যার ম্যতালেট (১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দ), এবং সেলী (১৮২৪ খ্রিস্টাব্দ)।

অন্যান্য ছবিঃ

১। কৈলাশ মন্দিরে পাথর খচিত স্তম্ভঃ

০২। একটি পাথরের সেতু নন্দী মন্ডপ ও ও প্রধান মন্দিরের যোগাযোগ রক্ষা করেছেঃ


০৩। কৈলাস স্তম্ভে খোদাইচিহ্নঃ


০৪। ইলোরা গুহার খোদাইশিল্প

০৫। সিতার পুকুর (Sita ki Nahani)

০৬। অম্বিকা মূর্তি, ৩৪ নাম্বার গুহা


0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger