সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

মৃত্যুবিজেতা- ক্ষুদিরাম বসু

রাজদ্রোহী ১৮ বছরের আসামীকে কাটগড়ায় জেরা করা হচ্ছে।
- তুমি মৃত্যুকে ভয় পাও না?
ভয় পাব কেন? আমি গীতা পড়েছি!
প্রশ্নকর্তার ভুরু কুঁচকে গেল। এরকম দুর্বিনীতকে বেশী প্রশ্ন করার আর প্রয়োজন নেই।
- আচ্ছা, তোমার শেষ ইচ্ছে কি?
আমি ভালো বোমা বানাতে পারি । আমি চাই দেশের সব ছেলেমেয়েদের বোমা বানানো শিখিয়ে দিতে।
এ কি রে বাবা! এ ছেলের তো বুকে ভয়-ডর কিছু নেই! একে তো ঝুলিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেয়া হয়েছে। এখন রায় কার্যকর করতে হব।
ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয় তাকে ১৯০৮ সালের ১১ই আগস্ট ভোর ৫টায়।
ভারতবাসী কেঁদেছিল-
'একবার বিদায় দে-মা ঘুরে আসি।
হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী।
কলের বোমা তৈরি করে
দাঁড়িয়ে ছিলেম রাস্তার ধারে মাগো,
বড়লাটকে মারতে গিয়ে
মারলাম আরেক ইংল্যান্ডবাসী।
শনিবার বেলা দশটার পরে
জজকোর্টেতে লোক না ধরে মাগো
হল অভিরামের দ্বীপ চালান মা ক্ষুদিরামের ফাঁসি
দশ মাস দশদিন পরে
জন্ম নেব মাসির ঘরে মাগো
তখন যদি না চিনতে পারিস দেখবি গলায় ফাঁসি'
লতা মুঙ্গেশকরের কন্ঠে এই গান শুনে বুকের ভেতর একবার হলেও মুচড়ে ওঠেনি এমন বাঙালি কম। আজ এই মহানায়কের জন্মদিন। ৩ ডিসেম্বর। ৩ ডিসেম্বর ১৮৮৯ সালে জন্মেছিলেম এই মৃত্যুবিজেতা- ক্ষুদিরাম বসু! ক্ষমা কোরো আমাদের।

(c)স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা
0 comments

হে পবিত্র আর্যভূমি, তোমার তো কখনও অবনতি হয় নাই। কত রাজদণ্ড চূর্ণ হইয়া দূরে নিক্ষিপ্ত হইয়াছে ।

আমরা সকলেই ভারতের অধঃপতন সম্বন্ধে শুনিয়া থাকি। এককালে আমিও ইহা বিশ্বাস করিতাম। কিন্তু আজ অভিজ্ঞতার দৃঢ়ভূমিতে দাঁড়াইয়া, সংস্কারমুক্ত দৃষ্টি লইয়া সর্বোপরি দেশের সংস্পর্শে আসিয়া উহাদের অতিরঞ্জিত চিত্রসমূহের বাস্তবরূপ দেখিয়া সবিনয়ে স্বীকার করিতেছি, আমার ভুল হইয়াছিল। হে পবিত্র আর্যভূমি, তোমার তো কখনও অবনতি হয় নাই। কত রাজদণ্ড চূর্ণ হইয়া দূরে নিক্ষিপ্ত হইয়াছে, কত শক্তির দণ্ড এক হাত হইতে অন্য হাতে গিয়াছে কিন্তু ভারতবর্ষে রাজা-রাজসভা অতি অল্প লোককেই প্রভাবিত করিয়াছে। উচ্চতম হইতে নিম্নতম শ্রেণী অবধি বিশাল জনসমষ্টি আপন অনিবার্য গতিপথে ছুটিয়া চলিয়াছে, জাতীয় জীবনস্রোত কখনও মৃদু অর্ধচেতনভাবে, কখনও প্রবল জাগ্রতভাবে প্রবাহিত হইয়াছে। শত শতাব্দীর সমুজ্জ্বল শোভাযাত্রার সম্মুখে আমি স্তম্ভিত বিস্ময়ে দণ্ডায়মান। সে শোভাযাত্রার কোন কোনও অংশে আলোকরেখা স্তিমিতপ্রায়, পরক্ষণে দ্বিগুণ তেজে ভাস্বর, আর উহার মাঝখানে আমার দেশমাতৃকা রানীর মতো পদবিক্ষেপে পশুমানবকে দেবমানবে রূপান্তরিত করিবার জন্য মহিমময় ভবিষ্যতের অভিমুখে অগ্রসর হইতেছেন; স্বর্গ বা মর্তের কোন শক্তির সাধ্য নাই—এ জয়যাত্রার গতিরোধ করে।

হে ভ্রাতৃবৃন্দ, সত্যই মহিমময় ভবিষ্যৎ! প্রাচীন উপনিষদের যুগ হইতে আমরা পৃথিবীর সমক্ষে স্পর্ধাপূর্বক এই আদর্শ প্রচার করিয়াছেঃ ‘ন প্রজয়া ন ধনেন ত্যাগেনৈকে অমৃতত্বমানশুঃ’—পারে। জাতির পর জাতি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হইয়াছে এবং বাসনার জগতে থাকিয়া জগৎ-রহস্য সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করিয়াছে। তাহারা সকলেই ব্যর্থ হইয়াছে, প্রাচীন জাতিসমূহ ক্ষমতা ও অর্থগৃধ্নুতার ফলে জাত অসাধুতা ও দুর্দশার চাপে বিলুপ্ত হইয়াছে—নূতন জাতিসমূহ পতনোন্মুখ । শান্তি অথবা যুদ্ধ, সহনশীলতা অথবা অসহিষ্ণুতা, সততা অথবা খলতা, বুদ্ধিবল অথবা বাহুবল, আধ্যাত্মিকতা অথবা ঐহিকতা—এগুলির মধ্যে কোন্‌টির জয় হইবে, সে প্রশ্নের মীমাংসা এখনও বাকি।
বহু পূর্বে আমরা এ-সমস্যার সমাধান করিয়াছি, সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের মধ্য দিয়া সেই সমাধান অবলম্বন করিয়াই চলিয়াছি, শেষ অবধি ইহাই ধরিয়া রাখিতে চাই। আমাদর সমাধান—ত্যাগ, অপার্থিবতা।
সমগ্র মানবজাতির আধ্যাত্মিক রূপান্তর—ইহাই ভারতীয় জীবন-সাধনার মূলমন্ত্র, ভারতের চিরন্তন সঙ্গীতের মূল সুর, ভারতীয় সত্তার মেরুদণ্ড-স্বরূপ, ভারতীয়তার ভিত্তি, ভারতবর্ষের সর্বপ্রধান প্রেরণা ও বাণী। তাতার, তুর্কী, মোগল, ইংরেজ—কাহারও শাসন কালেই ভারতের জীবনসাধনা এই আদর্শ হইতে কখনও বিচ্যুত হয় নাই।

ভারতের ইতিহাসে কেহ এমন একটি যুগ দেখাইয়া দিন দেখি, যে-যুগে সমগ্র জগৎকে আধ্যাত্মিকতা দ্বারা পরিচালিত করিতে পারেন, এমন মহাপুরুষের অভাব ছিল। কিন্তু ভারতের কার্যপ্রণালী আধ্যাত্মিক—সে-কাজ রণবিদ্যা বা সৈন্যবাহিনীর অভিযানের দ্বারা হইতে পারে না। ভারতের প্রভাব চিরকাল পৃথিবীতে নিঃশব্দ শিশিরপাতের ন্যায় সকলের অলক্ষ্যে সঞ্চারিত হইয়াছে, অথচ পৃথিবীর সুন্দরতম কুসুমগুলি ফুটাইয়া তুলিয়াছে। নিজস্ব শান্ত প্রকৃতির দরুন এ-প্রভাব বিদেশে ছড়াইয়া পড়িবার উপযুক্ত সময় ও সুযোগের প্রয়োজন হইয়াছে, যদিও স্বদেশের গণ্ডিতে ইহা সর্বদাই সক্রিয় ছিল। শিক্ষিত ব্যক্তিমাত্রই জানেন যে, ইহার ফলে যখনই তাতার, পারসীক, গ্রীক বা আরব জাতি এদেশের সঙ্গে বহির্জগতের সংযোগ-সাধন করিয়াছে, তখনই এদেশ হইতে আধ্যাত্মিকতার প্রভাব বন্যাস্রোতের মতো সমগ্র জগৎকে প্লাবিত করিয়াছে। সেই এক ধরনেরই ঘটনা আবার আমাদের সম্মুখে দেখা দিয়াছে। ইংরেজদের জলপথ ও স্থলপথ এবং ঐ ক্ষুদ্র দ্বীপের অধিবাসীদের অসাধারণ বিকাশের ফলে পুনরায় সমগ্র জগতের সঙ্গে ভারতেরসংযোগ সাধিত হইয়াছে, এবং সেই একই ব্যাপারের সূচনা মাত্র, বৃহত্তর ঘটনাপ্রবাহ আসিতেছে।
বাণী ও রচনা-৫।৩৭৫

(c)স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা 
0 comments

স্বামীজির উপদেশ

স্বামীজি তাঁর গুরুভাই স্বামী অখন্ডানন্দজীকে লিখছেন......
`খেতড়ি শহরের গরীব নীচ জাতিদের ঘরে ঘরে গিয়া ধর্ম উপদেশ করিবে আর তাদের অনান্য বিষয়, ভূগোল ইত্যাদি মৌখিক উপদেশ করিবে ।বসে বসে রাজভোগ খাওয়ার, আর 'হে প্রভু রামকৃষ্ণ' বলায় কোন ফল নাই, যদি কিছু গরীবদের উপকার করিতে না পারো। মধ্যে মধ্যে অন্য অন্য গ্রামে যাও, উপদেশ কর, বিদ্যা শিক্ষা দাও। কর্ম, উপাসনা, জ্ঞান—এই কর্ম কর, তবে চিত্তশুদ্ধি হইবে, নতুবা সব ভস্মে ঘৃত ঢালার ন্যায় নিষ্ফল হইবে ।গুণনিধি আসিলে দুইজনে মিলিয়া রাজপুতানার গ্রামে গ্রামে গরীব দরিদ্রদের ঘরে ঘরে ফের ।যদি মাংস খাইলে লোকে বিরক্ত হয়, তদ্দণ্ডেই ত্যাগ করিবে, পরোপকারার্থে ঘাস খাইয়া জীবন ধারণ করা ভাল। গেরুয়া কাপড় ভোগের জন্য নহে, মহাকার্যের নিশান-কায়মনোবাক্য 'জগদ্ধিতায়' দিতে হইবে ।পড়েছ, 'মাতৃদেবো ভব, পিতৃদেবো ভব';আমি বলি, 'দরিদ্রদেবো ভব, মূর্খদেবো ভব'।
দরিদ্র, মূর্খ, অজ্ঞানী কাতর—ইহারাই তোমার দেবতা হউক, ইহাদের সেবাই পরমধর্ম জানিবে।'
(c)স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা
0 comments

অভাববোধে করাটা দুর্বলতা, অভাববোধেই আমাদের ভিক্ষুক ক’রে ফেলে।

*“স্বর্গ আমাদের বাসনাসৃষ্ট কুসংস্কার - মাত্র, আর বাসনা চিরকালেই বন্ধন — অবনতির দ্বারস্বরূপ। ব্রহ্মদৃষ্টি ছাড়া আর কোন ভাবে কোন বস্তুকে দেখো না। তা যদি কর, তা হ’লে অন্যায় বা মন্দ দেখবে; কারণ আমরা যে বস্তু দেখতে পাই, তার উপর একটা ভ্রমাত্মক আবরণ প্রক্ষেপ করি, তাই মন্দ দেখতে পাই। এই-সব ভ্রম থেকে মুক্ত হও এবং পরমানন্দ উপভোগ কর। সব রকম ভ্রম থেকে মুক্ত হওয়াই মুক্তি।
এক হিসাবে সকল মানুষই ব্রহ্মকে জানে; কারণ সে জানে, ‘আমি আছি’; কিন্তু মানুষ নিজের যথার্থ স্বরূপ জানে না। আমরা সকলেই জানি যে, আমরা আছি, কিন্তু কি ক’রে আছি, তা জানি না। অদ্বৈতবাদ ছাড়া জগতের অন্যান্য নিম্নতর ব্যাখ্যা আংশিক সত্যমাত্র। কিন্তু বেদের তত্ত্ব এই যে, আমাদের প্রত্যকের ভিতর যে আত্মা রয়েছে, তা ব্রহ্মস্বরূপ। জগৎপ্রপঞ্চের মধ্যে যা কিছু সব — জন্ম, মৃত্যু, বৃদ্ধি, উৎপত্তি স্থিতি ও প্রলয় দ্বারা সীমাবদ্ধ। আমাদের অপরোক্ষানুভূতি বেদেরও অতীত; কারণ বেদেরও প্রামাণ্য ঐ অপরোক্ষানুভূতির উপর নির্ভর করে। সর্বোচ্চ বেদান্ত হচ্ছে — প্রপঞ্চাতীত সত্তার তত্ত্বজ্ঞান।
‘সৃষ্টির আদি আছে’ বললে সর্বপ্রকার দার্শনিক বিচারের মূলে কুঠারাঘাত করা হয়।
জগৎপ্রপঞ্চের অন্তর্গত অব্যক্ত ও ব্যক্ত শক্তিকে ‘মায়া’ বলে। যতক্ষণ সেই মাতৃরূপিণী মহামায়া আমাদের ছেড়ে না দিচ্ছেন, ততক্ষণ আমরা মুক্ত হ’তে পারি না।
জগৎটা আমাদের উপভোগের জন্য পড়ে রয়েছে; কিন্তু কখনও অভাববোধ ক’রে কিছু চেও না। অভাববোধে করাটা দুর্বলতা, অভাববোধেই আমাদের ভিক্ষুক ক’রে ফেলে। আমরা ভিক্ষুক নয়, আমরা রাজপুত্র!”
- স্বামী বিবেকানন্দ
....................................
[ বাণী ও রচনা ৪র্থ খন্ড ২২৮ পৃঃ ]

(c)স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা
0 comments

কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনে স্বামী বিবেকানন্দের প্রভাব

কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনে স্বামী বিবেকানন্দ কি প্রভাব রেখেছিলেন তা ফুটে ওঠে তাঁর 'বিবেকানন্দ' শিরোনামের কবিতায়। এই কবিতা খানি কবির প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'ঝরা পালকের' অন্তর্গত। আসুন পড়ে ফেলি কবিতাটি।
------------------------------------------------
বিবেকানন্দ
~~~~~~~~
জয়,—তরুণের জয় !
জয় পুরোহিত আহিতাগ্নিক, —জয়, —জয় চিন্ময়!
স্পর্শে তোমার নিশা টুটেছিলো,— উষা উঠেছিলো জেগে
পূর্ব তোরণে, বাংলা-আকাশে,— অরুণ-রঙিন মেঘে;
আলোকে তোমার ভারত, এশিয়া,— জগৎ গেছিলো রেঙে ।
হে যুবক মুসাফের,
স্থবিরের বুকে ধ্বনিলে শঙ্খ জাগরণপর্বের!
জিঞ্জির-বাঁধা ভীত চকিতেরে অভয় দানিলে আসি,
সুপ্তের বুকে বাজালে তোমার বিষাণ হে সন্ন্যাসী,
রুক্ষের বুকে বাজালে তোমার কালীয়-দমন বাঁশি!
আসিলে সব্যসাচী,
কোদণ্ডে তব নব উল্লাসে নাচিয়া উঠিলো প্রাচী!
টঙ্কারে তব দিকে-দিকে শুধু রণিয়া উঠিলো জয়,
ডঙ্কা তোমার উঠিলো বাজিয়া মাভৈঃ মন্ত্রময়;
শঙ্কাহরণ ওহে সৈনিক,— নাহিকো তোমার ক্ষয়;
তৃতীয় নয়ন তব
ম্লান বাসনার মনসিজ নাশি জ্বালাইতো উৎসব!
কলুষ-পাতকে, ধূর্জটি, তব পিনাক উঠিতো রুখে,
হানিতে আঘাত দিবানিশি তুমি ক্লেদ-কামনার বুকে,
অসুর-আলয়ে শিব-সন্ন্যাসী বেড়াতে শঙ্খ ফুঁকে!
কৃষ্ণচক্র-সম
ক্লৈব্যের হৃদে এসেছিলে তুমি ওগো পুরুসোত্তম,
এসেছিলে তুমি ভিখারির দেশে ভিখারির ধন মাগি
নেমেছিলে তুমি বাউলের দলে,— হে তরুণ বৈরাগী !
মর্মে তোমার বাজিতো বেদনা আর্ত জীবের লাগি ।
হে প্রেমিক মহাজন,
তোমার পানেতে তাকাইলো কোটি দরিদ্র-নারায়ণ;
অনাথের বেশে ভগবান এসে তোমার তোরণতলে
বার-বার যবে কেঁদে-কেঁদে গেলো কাতর আঁখির জলে,
অর্পিলে তব প্রীতি-উপায়ন প্রাণের কুসুমদলে ।
কোথা পাপী ? তাপী কোথা ?
-ওগো ধ্যানী তুমি পতিতপাবন-যজ্ঞে সাজিলে হোতা!
শিব-সুন্দর-সত্যের লাগি শুরু ক’রে দিলে হোম,
কোটি পঞ্চমা আতুরের তরে কাঁপায়ে তুলিলে ব্যোম,
মন্ত্রে তোমার বাজিলো বিপুল শান্তি স্বস্তি ওঁ!
সোনার মুকুট ভেঙে
ললাট তোমার কাঁটার মুকুটে রাখিলে সাধক রেঙে!
স্বার্থ-লালসা পাসরি ধরিলে আত্মাহুতির ডালি,
যজ্ঞের যূপে বুকের রুধির অনিবার দিলে ঢালি,
বিভাতি তোমার তাই তো অটুট রহিলো অংশুমালী!
দরিয়ার দেশে নদী!
—বোধিসত্ত্বের আলয়ে তুমি গো নবীন শ্যামল বোধি!
হিংসার রণে আসিলে পথিক প্রেম-খঞ্জর হাতে,
আসিলে করুণা-প্রদীপ হস্তে হিংসার অমারাতে,
ব্যাধি-মন্বন্তরে এলে তুমি সুধা-জলধির সংঘাতে!
মহামারী-ক্রন্দন
ঘুচাইলে তুমি শীতল পরশে, —ওগো সুকোমল-চন্দন!
বজ্র-কঠোর, কুসুম-মৃদুল,—আসিলে লোকোত্তর;
হানিলে কুলিশ কখনো, —ঢালিলে নির্মল নির্ঝর,
নাশিলে পাতক, —পাতকীরে তুমি অর্পিলে নির্ভর।
চক্র-গদার সাথে
এনেছিলে তুমি শঙ্খ-পদ্ম,—হে ঋষি, তোমার হাতে;
এনেছিলে তুমি ঝড়-বিদ্যুৎ,—পেয়েছিলে তুমি সাম,
এনেছিলে তুমি রণ-বিপ্লব,—শান্তি-কুসুমদাম;
মাভৈঃ-শঙ্খে জাগিছে তোমার নরনারায়ণ-নাম!
জয়,-তরুণের জয়!
আত্মাহুতির রক্ত কখনো আঁধারে হয় না লয়!
তাপসের হাড় বজ্রের মতো বেজে ওঠে বার-বার!
নাহি রে মরণে বিনাশ,—শ্মশানে নাহি তার সংহার,
দেশে-দেশে তার বীণা বাজে— বাজে কালে-কালে ঝঙ্কার!
------------------------------------
[জীবনানন্দ দাশ (/dʒɪbɒnʌnɒndɔː dʌʃ/) (ফেব্রুয়ারি ১৮, ১৮৯৯ - অক্টোবর ২২, ১৯৫৪; বঙ্গাব্দ ফাল্গুন ৬, ১৩০৫ - কার্তিক ৫, ১৩৬১) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক। তাকে বাংলাভাষার "শুদ্ধতম কবি" বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অগ্রগণ্য। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কবিতে পরিণত হয়েছেন। তিনি প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে অকাল মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা গ্রন্থ করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেননি। তাঁর জীবন কেটেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধকাল অনপনেয়ভাবে বাংলা কবিতায় তাঁর প্রভাব মুদ্রিত হয়েছে। রবীন্দ্র-পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসাবে তিনি সর্বসাধারণ্যে স্বীকৃত।]

(c) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা
0 comments

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস

ইনি সেই ব্যাক্তি যিনি তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, "Vivekananda entered my life." তিনি লিখেছেন, 'ত্যাগে বেহিসাবি, কর্মে বিরামহীন, প্রেমে সীমাহীন স্বামীজির জ্ঞান ছিল যেমন গভীর তেমনি বহুমুখী। ... আমাদের জগতে এরূপ ব্যাক্তিত্ব বাস্তবিকই বিরল। স্বামীজি ছিলেন পৌরুষসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ মানুষ।.... ঘন্টার পর ঘন্টা বলে গেলেও সেই মহাপুরুষের বিষয় কিছুই বলা হবে না। এমনি ছিলেন তিনি মহত্, এমনি ছিল তাঁর চরিত্র- যেমন মহাণ তেমনি জটিল। ... আজ তিনি জীবিত থাকলে আমি তাঁর চরণেই আশ্রয় নিতাম।"
ইনিই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস। তাঁর অন্তরঙ্গ বাল্যবন্ধু চারুচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ' সুভাষের সঙ্গে আবাল্য খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশেছি। তাই জোর করে বলতে পারি যে, বিবেকানন্দের প্রভাব যদি সুভাষের উপর না পড়ত তবে সুভাষ "সুভাষ" হত না, "নেতাজী" হত না। হয়ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হত কিম্বা ব্যারিস্টার হত, কিন্তু আইএনএ যে ফর্ম করেছে সেই "নেতাজী সুভাষচন্দ্র"কে আমরা পেতাম না।'
স্কুল জীবনে নেতাজী তাঁর প্রধান শিক্ষক শ্রীযুক্ত বেণীমাধব দাসের সংস্পর্শে খুব প্রভাবিত হন।
তাঁর প্রভাবেই বালক সুভাষের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, কাব্য ও সৌন্দর্যচেতনা, আদর্শবাদ ও নীতিবোধের স্ফুরণ ঘটে। কিন্তু বালক সুভাষ ব্যাকুল প্রাণে এমন একটি আদর্শের সন্ধান করছিলেন যার ওপর ভিত্তি করে সমস্ত জীবনকে গড়া যায়, যা তাঁর সমস্ত সত্ত্বাকে আলোড়িত করতে পারে।
এমন সময় এক সহপাঠীর (আত্মজীবনী মতে সহপাঠীর নাম: সুহৃদচন্দ্র মিত্র) মাধ্যমে তাঁর হাতে এল- 'স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা।' এবং তারপর............. আসুন নেতাজীর মুখেই শুনি-
"কয়েক পাতা উলটেই বুঝতে পারলাম, এই জিনিসই আমি এতদিন ধরে চাইছিলাম। বইগুলো বাড়ি নিয়ে এসে গোগ্রাসে গিলতে লাগলাম। পড়তে পড়তে হৃদয়-মন আচ্ছন্ন হয়ে যেতে লাগল। ...........
দিনের পর দিন কেটে যেতে লাগল, আমি তাঁর বই নিয়ে তন্ময় হয়ে রইলাম।............. বিবেকানন্দের প্রভাব আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিল।.... তাঁর মধ্যে আমার জীবনের অসংখ্য জিজ্ঞাসার সহজ সমাধান খুঁজে পেয়েছিলাম।"
(আত্মজীবনী: 'ভারত পথিক', পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৪)
গৈরিক বস্ত্র পরে স্বামী বিবেকানন্দ যদি বিশ্বে এত খ্যাতি পেতে পারেন তবে আমি কেন কোট প্যান্ট পড়ব? – বাল্যকালে নেতাজী সুভাষ তাঁর পিতাকে এই কথা বলেছিল, অর্চনা, ২০১১, পৃঃ ৪৬।
ছবি; বালক নেতাজি

(c) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা
0 comments

অতি কট্টরপন্থী হিন্দুদের যা হজম হয় না তাহল, স্বামিজী'র সবাইকে নিয়ে চলার, গ্রহিষ্ণুতার মতাদর্শ।

ইদানীং একটি ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে সবাই স্বামিজী'র সমালোচনা করছেন বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন আঙ্গিকে। কেউ কেউ যারা নিজেদের কট্টর হিন্দুত্ববাদী বলে দাবি করেন, তাদের মতে স্বামিজী যথেষ্ট পরিমাণে হিন্দুত্ববাদী ছিলেন না আর যেসব হিন্দুত্ববাদীরা স্বামিজী-কে আদর্শ বলে মানেন তাদেরকে প্রকৃত হিন্দুত্ববাদী বলে মনে করেন না বরং হেয়দৃষ্টিতেই দেখেন। আবার, কেউ কেউ যারা নিজেদের মুক্তমনা বলে দাবি করেন তারা সমালোচনা করে প্রাণপণে চেষ্টা করেন এটাই প্রমাণ করতে যে, স্বামিজী কোন দৈবিক সত্তা ছিলেন না, ছিলেন একজন মানুষ অথচ সমালোচনার সময়ে এমনভাবে তা উপস্থাপন করেন যেন মানুষ হিসেবে স্বামিজী'র ন্যূনতম কোন ত্রুটিই গ্রহণীয় নয়; কারণ, তিনি মানুষের স্তরে নয় তিনি অতিদৈবিক স্তরের।

দেখুন, অতি কট্টরপন্থী হিন্দুদের যা হজম হয় না তাহল, স্বামিজী'র সবাইকে নিয়ে চলার, গ্রহিষ্ণুতার মতাদর্শ। তাদের মতে, অন্য পথের অনুসারিদের ধ্বংসাত্মক কাজের প্রতিক্রিয়ায় যেহেতু এই কট্টরপন্থার উদ্ভব তাই যে কেউ গ্রহিষ্ণুতার কথা বলবেন তিনিই বর্জনীয় এবং নিন্দার্হ। কিন্তু, এরা ভুলে যান তারা যে আদর্শের নামে চালিত বলে দাবি করেন সেই 'হিন্দু' নাম বহনকারী ধর্মটি কোন প্রচলিত আচারিক ধর্ম নয় বরং একটি দর্শন যা নিয়ত পরিবর্তনীয় এবং যা কিছুই ভাল তাকে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করে নেয়ার মত শক্তিশালী, তা সেই ভালো যদি গোবরে পদ্মফুলও হয় তবুও তাকে চিনে নিয়ে গ্রহণ করতে পারে। স্বামিজী'র আদর্শিক গ্রহিষ্ণুতাও সেই দর্শনের ভিত্তিতেই বিচার করতে হবে, যেখানে নিজের স্বকীয়তাকে ভিত্তি করেই অন্যের ভালকে নিজের ভিতরে আত্মস্থ করার উদারতা আছে। আবার, স্বামিজী বারবার বলেছেন কখনোই নিজের উদারতাকে নিজের দুর্বলতা না ভাবতে। অন্যের প্রতি কোন অন্যায় বা যেছে গিয়ে অত্যাচার না করতে; কিন্তু, তাই বলে অন্য কেউ অত্যাচার করতে আসলে সেই অত্যাচারকে উদারতা দেখিয়ে সহ্য করার নামে কাপুরুষতা নয় বরং, যথাসাধ্য সাহসের সাথে তার প্রতিরোধ, প্রতিবাদ করতে। তাই, অগ্নিযুগের বিপ্লবীরা তাদের অন্যতম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দকে।

অপরদিকে, মুক্তমনারা স্বামিজী'র সমালোচনা করতে গিয়ে 'স্ববিরোধিতা'-র অভিযোগ তুলেন। তবে, তারা ভুলে যান ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে খণ্ড খণ্ডভাবে বলা কথা কখনোই একটি মানুষের আপোসকামিতাকে বা 'স্ববিরোধিতা' নামের আড়ালে ভণ্ডামিকে সূচিত করেনা। কোন প্রেক্ষাপটে একজন ব্যক্তি কি কথা বললেন, তা বিচার করতে হয় সে নির্দিষ্ট সময়ের নিরিখে। প্রত্যেক মানুষেরই অধিকাংশ কথারই কিছু না কিছু পূর্বাপর থাকে; একটি মানুষকে তাই বিচার করতে এগুলোও মাথায় রাখতে হয়। মানুষ কোন যন্ত্র নয় যার কৃত কাজ দিয়েই তার প্রকৃতি/ প্রবৃত্তি-কে এককথায় প্রকাশ যাবে, মানুষ এক জটিলতায় পূর্ণ, বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ একটি সামাজিক প্রাণি। আর, স্বামিজী'র মত একজন মহামানবকে বিচার করতে গেলে শুধু কিছু কথার বা বক্তৃতার খণ্ডাংশ নিয়ে বিচার করা একধরনের বাতুলতাই বটে; স্বামী বিবেকানন্দের জীবনকে বিচার করতে হলে তা করতে হবে তার জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, অভিজ্ঞতার বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে, সংক্ষিপ্ত কলেবরে নয়। কারণ, এতে সে বিচার অপূর্ণ থাকবে, কখনোই পূর্ণ নয়। আর একজন মানুষকে যখন আপনি মানুষ হিসেবে সমালোচনা করবেন তখন আপনি নিশ্চয়ই সমালোচনা করে এভাবে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে পারেননা যাতে সে প্রশ্ন শুনে মনে হয়, এমন 'দেবমানব'-র এই এই ত্রুটি থাকে কি করে? আপনি একজনের সমালোচনা করবেন মানুষ হিসেবে আর প্রত্যাশা করবেন ত্রুটিহীন দেবতার, এমন স্ববিরোধিতাও নিশ্চয়ই গ্রহণীয় নয়।
তাই, বলব সমালোচনা করুন তবে সেই সমালোচনা যেন কখনো অন্ধ অযৌক্তিক আক্রোশে পরিণত না হয়।

অবশেষে, আমাদের আদর্শ স্বামিজী মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি-
নমোঃ শ্রীযতিরাজায় বিবেকানন্দ সূরয়ে
সচ্চিৎসুখস্বরূপায় স্বামিনে তাপহারিণে।।

(স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা)
0 comments

১৮ই ফেব্রুয়ারীতে বাংলার আধ্যাত্মিক ভাবান্দোলনে দু'জন নক্ষত্রের আবির্ভাব

১৮ই ফেব্রুয়ারীতে বাংলার আধ্যাত্মিক ভাবান্দোলনে দু'জন নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটেছিল- যারা শুধু যে আধ্যাত্মিক ভাবপ্রবাহের সঞ্চালন করেছিলেন তা নয়, তারা বদলে ফেলেছিলেন সমসাময়িক যুগের গোটা সংস্কৃতি ও মানুষের চিন্তাধারা, এমনকি আজও তাদের জীবন ও শিক্ষা চর্চিত হচ্ছে দেশে দেশে। বিশেষত হিন্দুর ধর্ম জীবনের বিরাট অংশজুড়ে এঁদের অবস্থান। একজন মধ্যযুগে ইসলামি আগ্রাসনে বিপর্যস্ত হিন্দুর জন্য ত্রাতা হয়েছিলেন। ব্রাহ্মণ্যবাদ ও নানান অপপ্রথা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন ব্যাপক ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করে। যার হৃদয় ছিল প্রেমে পরিপূর্ণ। যার জন্য, এমনকি আমাদের হুমায়ুন আজাদের মত কট্টর আধ্যাত্মিকতা-অবিশ্বাসী মানূষকেও লিখতে হয়েছিল- 'প্রেম একবারই মানবমূর্তি ধরেছিল পৃথিবীতে শ্রীচৈতন্য রূপে'! শ্রীচৈতন্যদেব জন্মেছিলেন ১৪৮৬ সনের ১৮ই ফেব্রুয়ারী। ন্যায়শাস্ত্রের তুখোড় পন্ডিত, অদ্বৈত মতের সন্ন্যাসী হয়েও তিনি দ্বৈত পথের সাধনাকেই প্রদীপ্ত করেছিলেন।

অপরজন? উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী নবজাগরণের ইতিহাসের একটা প্রখর দ্যুতিময় নক্ষত্র, স্বদেশে বিদেশে নন্দিত। কথায় কথায় গল্প বাঁধতে পারতেন আর সেইসব গল্প দিয়ে কত জটিল তত্ত্বকথাকে মানুষের মাঝে সরল করে দিতেন। কত শত উপমা। রোঁমারোঁলা বলেছিলেন- 'এগুলো জগতের উপমা সাহিত্যের আকর'। প্রমথনাথ বিশী 'উপমা কালিদাসস্য' উলটে বলেছিলেন- 'উপমা রামকৃষ্ণস্য'! হ্যাঁ রামকৃষ্ণদেবের কথা বলছি। প্রায়-অশিক্ষিত দক্ষিণেশ্বরের এই ক্ষ্যাপা বামুনের কাছে বসে তত্ত্বকথা শুনতো কোলকাতার বিদ্বৎ সমাজ। হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি যখন ইংরেজের প্রভাবে পাশ্চাত্যের গ্রাসে তখন ইনিই এসেছিলেন প্রাচীন ভারতের বার্তা নিয়ে। আমাদের একজন 'বিবেকানন্দ' উপহার দিয়েছিলেন। শুনিয়েছিলেন 'যত মত তত পথ' এর মত উদার বাণী। শ্রীরামকৃষ্ণও জন্মেছিলেন ১৮ই ফেব্রুয়ারীতে! তবে সেটা ১৮৩৬ সালে। এই দুই ভাববাদী বাঙালী দখল করে আছেন হিন্দুর ঠাকুরঘরের উপাসনার বেদী যুগযুগ ধরে। দু'জনই মুগ্ধ করে রেখেছেন হাজার হাজার বাঙালীর বিরাট বিরাট মাথাগুলোকেও!

তাঁদের প্রেম ও করুণা, তাদের শিক্ষা ও সাধনা- যা আজও নিরবে প্লাবিত করে চলেছে আমাদের সমাজ, আমাদের দিন ও রাত, আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এই দুই মহামানবকে জন্মদিনে প্রণাম জানাই।

(c) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা
0 comments

প্রত্যেক জাতের একটা সংস্কৃতি আছে। চাইলেই উপড়ে ফেলা যায় না।

স্বামী বিবেকানন্দ লিখছেন....

'...ঐ যে হিমালয় পাহাড় দেখছ, ওরই উত্তরে কৈলাস, সেথা বুড়ো শিবের প্রধান আড্ডা। ও কৈলাস দশমুণ্ড-কুড়িহাত রাবণ নাড়াতে পারেননি, ও কি এখন পাদ্রী ফাদ্রীর কর্ম!!
ঐ বুড়ো শিব ডমরু বাজাবেন, মা কালী পাঁঠা খাবেন, আর কৃষ্ণ বাঁশী বাজাবেন,—এ দেশে চিরকাল। যদি না পছন্দ হয়, সরে পড় না কেন? তোমাদের দু-চারজনের জন্য দেশসুদ্ধ লোককে হাড়-জ্বালাতন হ'তে হবে বুঝি? চরে খাওগে না কেন?—এত বড় দুনিয়াটা পড়ে তো রয়েছে ! তা নয়। মুরদ কোথায়? ঐ বুড়ো শিবের অন্ন খাবেন, আর নিমকহারামি করবেন, ...'
(প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য)

___________________________
বুদ্ধিমান বুঝিয়া লইবেক। 😜

It's not religion or God that you should respect, Its your tradition and culture. প্রত্যেক জাতের একটা সংস্কৃতি আছে। চাইলেই উপড়ে ফেলা যায় না। তোমার যদি গা চুলকোয় তাহলে নিজেই কেন দূরে থাকো না বাপু?

(c) বিশাখদত্ত দত্ত
0 comments

Religion is a necessary thing to very few; and to the vast mass of mankind it is a luxury.

"Religion is a necessary thing to very few; and to the vast mass of mankind it is a luxury."

একমাত্র স্বামী বিবেকানন্দই হয়ত জন্মেছিলেন একজন সন্ন্যাসী হয়েও এই কথাগুলোকে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যে নির্ভয়ে বলতে! যাদের কাছে পর্যাপ্ত অন্ন নেই তাদের কাছে ধর্মের কচকচানি যে বড় রকমের বিদ্রুপ সেটা তিনি বলতে পেরেছিলেন এভাবে! বলেছিলেন- "First bread and then religion....... It is an insult to a starving people to offer them religion; it is an insult to a starving man to teach him metaphysics."

ধর্মকে আসতে হবে মানুষের কল্যাণে। লেকচারবাজীতে ধর্ম নেই!- "If a religion cannot help man wherever he may be, wherever he stands, it is not of much use; it will remain only a theory for the chosen few. Religion, to help mankind, must be ready able to help him in whatever condition he is, in servitude or in freedom, in the depths of degradation or on the heights of purity; everywhere, equally, it should be able to come to his aid."

তথাকথিত ধার্মিকদের বুঝিয়েছেন- ''Beliefs, doctrines, sermons do not make religion. It is realisation, perception of God, which alone is religion.......... Books never make religions, but religions make books. We must not forget that.............. Realisation is real religion, all the rest is only preparation — hearing lectures, or reading books, or reasoning is merely preparing the ground; it is not religion." কোন অনুভবহীন পুঁথিপড়ুয়ার বাগাড়ম্বরে ধর্ম থাকে না।

''Realisation is the soul, the very essence of religion......Realise your true nature. That is all there is to do. Know yourself as you are—infinite spirit. That is practical religion.'' অন্ধের মত কোন মতবাদের যূপকাষ্ঠে বলি হয়ে যাওয়াটাও ধর্ম নয়। কোন পুরাতন সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নয়। বরং বলতে পারা- সত্য যদি হয় তা চিরন্তন সত্যই- এই সত্যের অনুভব নিজেকেই করতে হয়- ''Religion is not only based upon the experience of ancient times, but that no man can be religious until he has the same perceptions himself.''

"The essential thing in religion is making the heart pure; the Kingdom of Heaven is within us, but only the pure in heart can see the King. While we think of the world, it is only the world for us; but let us come to it with the feeling that the world is God, and we shall have God.'' বারবার বলেছেন এই কথা! এই জগতই ঈশ্বর! অন্ধরা চিরকাল তার বিরুদ্ধে গেছে। বারবার বলেছেন পবিত্রতা ও নিঃস্বার্থপরতাই বড় ধর্ম, দরিদ্রের সেবা করাতেই ঈশ্বরের উৎকৃষ্ট পূজা! কে আর শুনেছে? সারাদিন দুষ্কর্ম আর কুচিন্তার বোঝা ভারী করে করে বছরে দু'তিনবার ঈশ্বর/আল্লাকে স্মরণ করাই যাদের কাছে ধর্ম- এসব কথা কি তাদের জন্য?

"The secret of religion lies not in theories, but in practice To be good and to do good—that is the whole of religion. 'Not be that crieth "Lord, "Lord", but he that doeth the will of the Father." সে কি কথা? ঘুষের টাকা আল্লা/ভগবানের নাম করে মন্দিরে/মসজিদে দিলেই তো ধর্ম হয়ে যায়! পুরোহিত আর মোল্লারা এসে পা চাটে! আর কি চাই বলুন ?

আজ কোন ধর্মের ঘোরে আমরা বাস করি? "We are all in the dark; religion is to us a mere intellectual assent, a mere talk, a mere nothing."

আজ থেকে ১০০ বছর আগে একজন ৩০ বছর বয়সী বাঙালী যুবক সন্ন্যাসী বিশ্ব দরবারে উন্মুক্ত করেছিলেন এই কথাগুলো! তিনি এই কোলকাতার ছেলে! যে কোলকাতা আজ ফতোয়াবাজীর প্রাণকেন্দ্র হতে চলেছে। কিন্তু এই কথাগুলো সবার জন্য।

(c) বিশাখদত্ত দত্ত 
0 comments

ব্রাহ্ম ধর্ম নিয়ে কিছু কথা

ব্রাহ্ম ধর্ম নিয়ে অনেকের কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে আবার অধিকাংশের এ নিয়ে কোন ধারণাই নেই। আমি সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু লিখছি। অবশ্যই হিন্দু ও ব্রাহ্মের তূলনামূলক আলাপই মূখ্য। যারা হিন্দু ধর্মের সাথে ব্রাহ্ম ধর্মের বিস্তর ফারাক দেখতে পান- তারা এটার নৈকট্যকে আড়াল করেন। এটা অজ্ঞতাবশত হয় সাধারণত। ব্রাহ্মধর্ম সম্পর্কে আমাদের এই অজ্ঞতার কারণ কি? মূল কারণটা হল- আমাদের বর্তমান সমাজে 'ব্রাহ্ম' বলে কোন কিছু আর বলতে গেলে নেই-ই। যদি আশেপাশে কিছু থাকত তাহলে আপনার জানার কৌতূহল হত, কৌতূহল মেটানোর সুযোগও থাকত। কিন্তু ব্রাহ্মরা নেই কেন? সেটাও আলোচনায় আসবে।

ব্রাহ্ম শব্দটা কোত্থুকে এলো? 'ব্রহ্ম' থেকে ব্রাহ্ম। রাজা রামমোহন ব্রহ্ম এর উপাসককে ব্রহ্মবাদী না বলে ব্রাহ্ম বললেন। এই ব্রহ্ম কোথায় পেলেন তিনি? আজ্ঞে বেদ থেকে। ওটা রাজা রামমোহনের নিজের সৃষ্ট কোন ধারণা নয়। বেদের ব্রহ্মকে তিনি নিজের মত করে ব্যাখ্যাও করেননি। একেশ্বরবাদী ব্রাহ্ম বলাটাও হাস্যকর; কেন না বৈদিক সনাতন ধারা কোন বহু-ঈশ্বরবাদী তত্ত্ব নয়। বরং বলা যেতে পারে তিনি ব্রাহ্ম মতে দ্বৈত বেদান্তকে মানেননি। তিনি অদ্বৈত সিদ্ধান্তকে ধরেছিলেন। বেদান্তই ছিল ব্রাহ্ম ধর্মের মূল ভিত। বেদান্ত কি? আজ্ঞে মূখ্যত উপনিষদগুলোই হল বেদান্তের প্রাণ। তাহলে হিন্দুর সাথে ব্রাহ্মের পার্থক্যটা কোথায়?

পার্থক্য দেখাচ্ছি। ব্রাহ্মধর্ম উঠে এসেছিল হিন্দু ধর্মের আচার ও প্রথাবদ্ধতার নিগড় থেকে। বহু দেবদেবী নির্ভর ধর্মাচার ভেঙে ব্রাহ্মধর্ম বলেছিল এক পরব্রহ্মের উপাসনাকেই সার করতে। প্রতিমা উপাসনারও দরকার নেই। এই মতামত একেবারেই নতুন নয় হিন্দুর ইতিহাসে। নিরাকারবাদী বৈদিক উপাসকের অভাব ছিল না কখনো। দেবদেবী অস্বীকার করলেও কেউ অহিন্দু হয় না যতক্ষণ না সে ব্যক্তি বৈদান্তিক সিদ্ধান্তকে অস্বীকার না করছে। ব্রাহ্মরা তা তো করেনি। ব্রাহ্মরা, কোলকাতার ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত বাবু সমাজ নিজেদের সাধারণ অজ্ঞ পুরোহিত শাসিত হিন্দু রীতিনীতি থেকে স্বতন্ত্র করতে বেদান্তের ব্রহ্মবাদ নিয়েই নিজেদের আলাদা করলেন। এখানে একটু পার্থক্য আছে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল- উপাসনা প্রণালীতে। ব্রাহ্ম উপাসনার ধরণ ছিল খ্রিষ্টীয়। উপাসনা গৃহও তৈরি হত গীর্জার আদলে। উপাসনার পদ্ধতিও ছিল বাইবেলের মত করেই সাজানো! এর মাধ্যমে তাদের পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ আর বৃটিশ সাহেবদের আনুকুল্য লাভের গন্ধটাই বেশী পাওয়া যেত। মোদ্দা কথা হল- তারা হিন্দুদের হাজার হাজার অপ্রোজনীয় আচার-বিচারের বালাই ছেড়ে, হিন্দু দর্শনের ব্রহ্মকে ধরেছিলেন আর তাতে একটু খ্রীষ্টিয় বাতাস বইয়ে দেন!

কিন্তু তারা অদ্বৈত বেদান্তী কখনোই হননি। তাদের উপাসনার ধারাটা ছিল দ্বৈত। তারা মনের ভেতর ব্রহ্মের সাকার প্রতিমা সাজিয়ে তাকে বাইরে নিরাকার বলে ভজনা করতেন! অদ্বৈত যেমন বলে নির্গুণ ব্রহ্ম- তিনি উপাধিরহিত, এরা তেমন বলতেন না। এরা দ্বৈতবাদের মত করেই ব্রহ্মকে মাতা, পিতা, বন্ধু, সখা, প্রভূ বলে প্রার্থনা করতেন। এতে বাঙালীর কিছু উপকার হয়েছে। কিসে উপকার জানেন? ব্রাহ্মদের মাথা থেকে এত সুন্দর সুন্দর উপাসনার গান বেরিয়েছিল, যাদের ব্রহ্মসঙ্গীত বলা হয়, এই গানগুলো ভাষার লালিত্যে অতুলনীয়। রবীন্দ্রনাথের মত মহাপ্রতিভা যেখানে গান লিখছেন, নরেন্দ্রনাথ (বিবেকানন্দ) যেখানে গাইছেন- ভাবতে পারেন কি হচ্ছিল সে পরিবেশে?

কিন্তু ব্রাহ্ম ধর্ম টিকল না কেন? এর কিছু কারণ আছে। ব্রাহ্মধর্মের বিভাজনের কথা জানেন তো? ব্রাহ্ম সমাজ ভেঙে দু'ভাগ হল। কেশব সেন, বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীরা বেরিয়ে এসে নব-বিধান ব্রাহ্ম সমাজ গড়লেন। নব-বিধান কেন? তাদের বক্তব্য ছিল- ব্রাহ্মধর্ম একটা নতুন মত। এর মধ্যে কোন হিন্দুভাব থাকবে না। অথচ ব্রাহ্মসমাজীরা তখনো তাদের সমস্ত দৈনন্দিন রীতিনীতি হিন্দু নিয়মেই করতেন। যে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িটি হয়ে উঠেছিল ব্রাহ্মসমাজের প্রাণকেন্দ্র সেটাই হয়েছিল আক্রমণের লক্ষ্য। ঠাকুরবাড়ির লোকেরা তখনো উপবীত পড়ত, হিন্দু আচার মানত নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে। আধুনিক ব্রাহ্মরা মানলেন না। বিজয়কৃষ্ণরা সইতে পারলেন না আর। পৈতা ছুঁড়ে ফেললেন। নতুন বিধান চাই আমরা। হয়ে গেল 'নব বিধান ব্রাহ্ম সমাজ'! আদি ব্রাহ্ম সমাজের চাইতে এই নববিধান ব্রাহ্ম সমাজের দ্রুতি ছিল অনেক অনেক বেশী! এর কারণ কেশব চন্দ্র সেনের মত একজন ছিল তাদের নেতা। এখানেই শেষ নয়! এখনো কিছু দেখা বাকি!

কেশব সেনের সাথে বিজয়কৃষ্ণ আর থাকলেন না! বাঙালী কোন্দল না করে কি থাকতে পারে? বিজয়কৃষ্ণ পরে আর ব্রাহ্মও থাকলেন না। তিনি ঘোর বৈষ্ণব হয়ে গেলেন। এর পেছনে রামকৃষ্ণ দেবের প্রভাব কতটা তাও ভাবার। কেশব ও বিজয় দু,জনই রামকৃষ্ণের ভক্ত ছিলেন। ব্রাহ্ম আন্দোলনে বলতে গেলে রামকৃষ্ণ পরমহংসই জল ঢালেন। কেশব নিজের দলটল ছেড়ে রামকৃষ্ণের কাছে গিয়ে পড়ে থাকতেন। রামকৃষ্ণ তাদের মজা করে বলতেন 'ব্রহ্মদত্যি!' রামকৃষ্ণের মূল শিক্ষাটা ছিল- যা ইচ্ছে কর না বাপু, শুধু আমার মতটাই ঠিক, অপরেরটা বেঠিক, শুধু আমিই ঠিক পথে আছি, আর কেউ নেই- অমন গোঁড়ামি কোরো না। তোমরা যাকে ব্রহ্ম বল আমি তাকে কালী বলি! সাপ কুন্ডলী পাকিয়ে বসে থাকলেও সাপ, হেললে দুললেও সাপ। চিনি এমনি খাও আর জলে গুলে খাও মিষ্টিই লাগবে! অর্থাৎ ব্রহ্মকে যে যেভাবেই ডাকুক না কেন- বস্তু তো এক। রামকৃষ্ণের এই 'যত মত তত পথ' দর্শন ছিল বাঙালী নবজাগরণের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী আলো! এতে ব্রাহ্মধর্মের গোঁড়ামিতে ঘা লাগে। কেশব সেনের মত প্রচারের ধারাতেও রামকৃষ্ণ বারবার আলোচিত হতেন। রামকৃষ্ণকে নিয়ে সাহেবদের পত্রিকায় কলাম লিখেছিলেন তিনি। ধীরেধীরে তিনি গোঁড়া মতবাদ থেকে সরে আসেন। তিনি রামকৃষ্ণের মতবাদ থেকেই বলতে থাকেন- যে যে মতেই ডাকো না কেন আন্তরিক হলে, ব্যকুল হলে, সবাই সত্যকে জানতে পারে।

ব্রাহ্ম ধর্মের সবচেয়ে বেশী দ্রুত বিলুপ্ত হবার কারণ হল- এটা বাবু সমাজের ধর্ম হয়েছিল। কখনো সাধারণ মানুষের কাছে তা যেতে পারেনি। আরেকটা মোক্ষম কারণ হল স্বামী বিবেকানন্দের উদয়। স্বামী বিবেকানন্দ যৌবনের শুরুর দিকে ব্রাহ্ম অনুসারী হলেও তিনি রামকৃষ্ণের শিক্ষাতেই পেয়েছিলেন নিজের পূর্ণতা। শিকাগো ধর্মসভায় বিবেকানন্দের সাফল্য ও দেশ-দুনিয়া এক করে ফেলা খ্যাতি তাকে ব্রাহ্ম সমাজের চক্ষুশূল করে ফেলে। শিকাগোতে অবস্থানরত ব্রাহ্ম প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার বিবেকানন্দের পেছনে কিরকম উঠেপড়ে লেগেছিলেন সেসব হয়ত কেউ কেউ পড়েছেন। এমনকি ঠাকুর পরিবারের বলয়টিও এই নব্য হিন্দু জাগরণকে মেনে নেয়নি। রবীন্দ্রনাথ সে সময়টাতে এই ব্যাপারে যথেষ্ট নেতিবাচক ছিলেন বলেই বোঝা যায়। রবীন্দ্রনাথের ভেতর ইতিবাচক ভাবনা আসে ভগিনী নিবেদিতার সংস্পর্শে আসার পর। তারও অনেক পর রবীন্দ্রনাথকে আমরা দেখছি রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের প্রশস্তি গাইতে। সে এক পরবর্তীকালের পরিবর্তিত রবীন্দ্রনাথ! পরিণত রবীন্দ্রনাথও।

কবিগুরু তাঁর 'গোরা' উপন্যাসে যে সমাজচিত্র এঁকেছেন, তাতে যে ব্রাহ্ম-হিন্দু দার্শনিক বাদানুবাদ দেখিয়েছেন, এবং উপন্যাসের মূল নায়ক 'গোরা' করেছেন- এর সবটার পেছনেই ভগিনী নিবেদিতার শক্তিশালী প্রভাবটা স্পষ্ট! রবীন্দ্র গবেষকরা বলেন 'গোরা' আসলে নিবেদিতার প্রতিরূপ। কিন্তু এই উপন্যাসেও কি কবিগুরু কোন সমাধানে আসতে পেরেছিলেন? শেষমেষ গিয়ে মানবধর্মে সমপর্ণ করেছেন সবাইকে। ম্রিয়মান ব্রাহ্মধর্মের যে দার্শনিক সংকীর্ণতা ছিল সেটাকে তিনি মানবধর্মের আলোতে এনে বুজিয়ে দিতে চাইলেন। বিবেকানন্দের মতাদর্শ ভারতের বুকে আছড়ে পড়াতে একদিকে যেমন গোঁড়া পুরোহিতকুলে ঘা লাগে তেমনি অপরদিকে হিন্দু-বিরোধী স্রোতগুলোতেও ভাটা পরে। বিবেকানন্দ বলেছিলেন, অন্যকে ছোট করে বড় হওয়া যাবে না, অপরের মুক্তিতেই আমাদের মুক্তি! বিবেকানন্দ বলেছিলেন, আচার-বিচার-প্রথা-পুঁথি-পত্র এমনকি মন্দির-উপাসনালয়ও ধর্ম নয়- ধর্ম অনুভবের, ধর্ম আচরণের। বিবেকানন্দ বলেছিলেন, জীবের সেবা-ই ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ উপাসনা। এর চেয়ে বড় ধর্ম নেই! বিবেকানন্দ বলেছিলেন- আমাদের জনজীবনের বহু আচারই হতে পারে একদম অকেজো, তাই বলে তাকে লাথি মেরে দূরে সরাতে হবে না, সংস্কারের নামে মানুষকে আঘাত করা কেন? মানুষকে উপযুক্ত শিক্ষা দাও, তারাই বুঝতে পারবে তাদের করণীয় কি! বিবেকানন্দ বলেছিলেন- হিন্দু শুধু একটা ধর্ম নয়, এটা এখানকার ভৌগলিক সংস্কৃতির নাম! এটাকে ছুঁড়ে ফেলে কিছু করা যাবে না এই ভূমিতে। কেউ চাইলেও পারবে না! বিবেকানন্দ বলেছিলেন, আমাদের অনেক ধর্ম হয়েছে, আমাদের এখন অন্ন চাই! আমাদের সবার আগে চাই স্বাধীনতা! আমাদের চাই শিল্প ও বিজ্ঞান! বিবেকানন্দ হিন্দুর চিরন্তন আদর্শের সাথে, হিন্দুর দর্শনের সাথে পাশ্চাত্যের ভাবনার সামঞ্জস্য করতে পেরেছিলেন। কবিগুরুর কথাতেও আমরা পেয়েছিলাম, তিনি বলছেন- রামমোহনের পর একমাত্রে বিবেকানন্দই পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে একটা সেতু হতে পেরেছিলেন!

বিবেকানন্দের এই সেতু হয়ে ওঠায় আমরা দেখেছি বহু পাশ্চাত্য নরনারীকে বেদান্তের আলোতে নিয়ে আসে, হিন্দু শিক্ষিত সমাজের ধর্ম বিমুখতাকে ভেঙে নতুন করে ভাবতে শেখায়, ব্রাহ্মদের যে হিন্দু-ধারা বিরোধী প্রচার তা একদম মুখ থুবরে পড়ে, খ্রীষ্টান মিশনারিদের ধর্মান্তরিতকরণের মহোৎসব নিষ্প্রাণ হয়ে যায়! দেশপ্রেম, মানবসেবা ও দর্শনের সাথে লোকপ্রথার এমন অভূতপূর্ব সমন্বয় বিবেকানন্দের আগে কারো ভেতর দেখা যায়নি। বিবেকানন্দের এই আবির্ভাব ব্রাহ্মসমাজকে সমাপ্ত করেছে না বলে বলা যায় আত্মস্থ করেছিল যা সে সময়ের ইতিহাস পড়লেই ভালভাবে বুঝতে পারবেন। আমার এই পোস্ট একটা প্রাইমারি স্কেচ। এতে ব্রাহ্মসমাজের উত্থান ও পতন নিয়ে কিছু ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। যাদের এই বিষয়ে আরও জানার আগ্রহ আছে তারা আশা করি নিজে থেকেই পড়াশোনা করে নেবেন আরও।

(c)
বিশাখদত্ত দত্ত
0 comments

বর্তমান পরিস্থিতিতে রামকৃষ্ণ মিশন

স্বামী বিবেকানন্দ একবার এক দুর্ভিক্ষকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ পাঠানোর জন্য বেলুড় মঠের জমি বেচে
দিতে চেয়েছিলেন। মঠ-ফট করার আগে মানুষ বাঁচানো জরুরী। আদর্শ বাঁচানোটাই জরুরী! ওটা সর্বাগ্রে দরকার। পরে গুরু-ভায়েরা বুঝিয়ে সুঝিয়ে মঠের জমি বাঁচান। স্বামীজি আজকের এই আধুনিক বেলুড় মঠ দেখে যেতে পারেননি।

৮০ এর দশকের একটা সময়ে রামকৃষ্ণ মিশন বামদের গ্রাস থেকে নিজেদের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে সরকারের কাছে নিজেদের মাইনরিটি স্ট্যাটাস চেয়ে বসে! তারা হিন্দু নয়। তারা অন্য টাইপের চিজ! তারা অন্য রকম মাইনরিটি। অবশ্য কোর্ট এই আর্জি খারিজ করে। এতে অবশ্য রামকৃষ্ণ মিশনের ভেতরেই অনেক শোরগোল হয়, ফাটলও ধরে। স্বামীজি আদর্শ বাঁচাতে জমি বেচতে চেয়েছিলেন, আর এরা জমি বাঁচাতে আদর্শ! অনেক দিন পার হয়ে গেল। এখন আর তেতো অতীত মনে করা কেন?

ভারতে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের দিনে বিবেকানন্দ একটা আইকন হয়েছিলেন। গান্ধী, নেহেরু, নেতাজী, অরবিন্দ সবার কথাতেই দেখবেন সেটা। তখন অনেক অনেক বিপ্লবী তরুন রামকৃষ্ণ মঠেও যোগ দিয়েছিলেন। সেই দিন কি আর আছে? এখনও স্বামী বিবেকানন্দের নামটা আছে অবশ্য। ওটা ভাঙিয়ে যুগের পর যুগ টিকে থাকা যাবে।

আমাকে বিভিন্ন সময় অনেকে বলেছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে রামকৃষ্ণ মিশন নিয়ে কিছু লিখতে। বর্তমান পরিস্থিতিটা কি? কেন আপনি চোখে দেখেন না? ভারতের প্রসঙ্গে পরে আসছি। বাংলাদেশে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হিন্দু নিগ্রহের যে ঘনঘোর তা আপনি টের পান না বুঝি? তা রামকৃষ্ণ মিশন কি করতে পারে? নাসিরনগরে উপজেলা পরিষদে গিয়ে সরকারি সুরক্ষায় থেকে মৌলভীবৃন্দ বেষ্টিত হয়ে রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকার সম্পাদক বলতে পারেন- 'এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা!' এর চেয়ে বেশী তারা কি করতে পারেন? চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় নিয়ে আনন্দেই তো দিনাতিপাত করছেন, করেই যাবেন। কথা হচ্ছে- তাদের কি দরকার পড়েছে কিছু বলার? মশাই যারা তাদের চর্ব্যচোষ্য জুটিয়ে যাচ্ছে তাদের অস্তিত্বই যখন বিপন্ন তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোটা শুধু দায়িত্ব-কর্তব্য না, কৃতজ্ঞতার পর্যায়েও পরে। অবশ্য রামকৃষ্ণ মিশনের ভরণ-পোষণ উঁচুতলার বাবুরা করেন। বাবুদের সাথে বেশ স্বচ্ছ একটা তেলাতেলি ভাব তাদের আছে।

দিনাজপুরে একবার কয়েকঘর হিন্দু বাড়িতে সহীহ আগুন দেবার পর সেই পরিবারগুলোকে তৎক্ষণাৎ আশ্রয় দেয় ইসকন। আমি ইসকনের ভাবাদর্শের কট্টর বিরোধী হলেও তাদের এই সৎসাহস ও সুবিবেচনার জন্য কৃতজ্ঞচিত্তে সম্মান করি। অপরদিকে রামকৃষ্ণ মিশনের স্থানীয় ব্রাঞ্চ সাহায্যে যায় ঘটনার কয়েকদিন পর। দিনাজপুরের রামকৃষ্ণ মিশন নিজেই একটা দুঃস্থ প্রতিষ্ঠান। তাদের বড়সড় ত্রাণ দেবার সামর্থ্য নেই। কিন্তু বাংলাদেশে তো আরও বুর্জোয়ানির্ভর কর্তাভজা রামকৃষ্ণ মিশনের ব্রাঞ্চ ছিল, তারা কিছু পাঠাতে পারত না? ঢাকার এক বরেণ্য সন্ন্যাসী বললেন- 'এগুলো পলিটিক্যালি এফেক্টেড এরিয়া। এখানে আমরা গেলে আমাদেরও একটা রাজনৈতিক পরিচয় বানিয়ে দেবে ওরা।' ঘেন্নায় জিভ আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল আমার! এরা বিবেকানন্দের অনুগামী?

যে সকল হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিন্দুর অর্থায়নে চলে অথচ হিন্দুর বেদনায় সামান্যতম সহানুভূতি দেখায় না, এদের অবিলম্বে বর্জন করুন। আমাদের প্রভূত আধ্যাত্মিকতা আছে। এখন অস্তিত্ব বাঁচানোটাই ফরজ! বাংলাদেশে স্বামী অক্ষরানন্দজী এবং স্বামী অমৃতত্ত্বানন্দজীর পর বিবেকানন্দের সুরে কথা বলার মত আর কোন সন্ন্যাসী দেখা যায়নি। এখন যারা আছেন এদের কেউ কেউ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কেউ কেউ মারাত্মক কপটাচারী, অনেকের কাছে ভীরুতাই ধর্মবিশেষ, যারা ভীরুতাকে সহনীয়তা বলে; আবার একদল নির্বিঘ্নচিত্ত সদাচারী কুলীন বৈরাগী- কার ঠাকুরঘরে আগুন লাগল আমার জেনে কাজ কি, আমি কলাটা পেলেই হল! এরা কোনদিন আপনার আমার মত সাধারণ মানুষের জন্য টু-শব্দ করে না। চলুন তাদের সাষ্টাঙ্গ পেন্নাম ঠুকে আসি!

ভারতে রামকৃষ্ণ মিশনের গোড়া তো বাংলা। বাংলায় রামকৃষ্ণ মিশন কখনো স্পেসিফিক্যালি হিন্দুর হয়ে কথা বলে? বলে না। সর্বধর্মসমণ্বয়ের কথা বলে। আমি এই থিওরিকে লজিক্যালি সাপোর্টও করি। তবে সর্বধর্ম সমণ্বয়ের কথা বলব আর এদিকে স্বধর্মের লোক অত্যাচারে মরবে- তা নিয়ে কিচ্ছুটি বলব না- এমন আদর্শ কি বিবেকানন্দের? নাকি ঠাকুর রামকৃষ্ণের? নাকি বেদান্তের? এখানেও একই লজিক- রামকৃষ্ণ মিশন রাজনীতির বলয়ে যাবে না? হা-হতোস্মি মহারাজ! ন্যায়ের কথা যদি রাজনীতিতেই পড়ে, সত্য যদি একটা দলের দিকেও যায়- তবে তা বলা কি অধর্ম? আবু-পাহাড়ে বসে যে বিবেকানন্দ বৃটিশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবের কল্পনা করতে পারেন, আপনি সেই বিবেকানন্দকে চেনেন তো? সন্ন্যাসী ঢাল তলোয়ার না ধরুক, অন্যায়ের বিপক্ষে দুটো মৃদু বচন তো দিতে পারেন!

পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দু সংগঠনগুলো পিঠ-বাঁচানো, গা-বাঁচানো নীতিতেই চলে। আজকে আমার লেখায় পুষ্পেন্দু বাবু কমেন্টে লিখলেন- নগর পুড়লে দেবালয় রক্ষা পায় না। এসব পেসাদভোজী ভজগোবিন্দ আর 'জয় ঠাকুর' 'জয় গুরুর' দল কবে এই সত্যকে অনুভব করবে?

(c)বিশাখদত্ত দত্ত
0 comments

জামাই ষষ্ঠী

বিগত কয়েক দশক ধরে ভাঙছে একান্তবর্তী পরিবার৷ নারীশিক্ষার প্রসার ঘটছে – কাজের জন্য বাইরে পা রেখেছে মেয়েরা৷ ধীরে ধীরে প্রকৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে মেয়েরা৷ তাই আগের মতো আজ আর বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য কোনও ছুতো খুঁজতে হয় না মেয়েদের ৷শুধু জামাই ষষ্ঠী কেন, যে কোনও দিনই চাইলে এখন বিবাহিত মেয়েরা একবার বাবা -মাকে দেখে আসতে পারে ৷ শুধু তাই নয় কোনও কোনও ক্ষেত্রে কন্যা সন্তানই তাদের বৃদ্ধ বাবা মায়ের দেখা শোনার ভার তুলে নিচ্ছে হয়তো সে বাবা মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান। ৷সেক্ষেত্রে কন্যার গৃহে থাকার সুবাদে তো প্রতিদিনই জামাইবাবাজির দর্শন পাচ্ছেন শাশুড়ি মা৷ যা দেখে কেউ কেউ মনে করেন জামাই ষষ্ঠী প্রথাটাই আজ অপ্রাসঙ্গিক ৷ কিন্তু প্রতিদিন জামাই দর্শন হলেও তার মধ্য থেকেই একটা বিশেষ দিনে জামাইকে একটু আলাদা করে দেখতে চাওয়ার শখ তো কোন শাশুড়ি মায়ের হতে পারে ৷তার আগের প্রজন্মের মানুষেরা যা শিখিয়েছেন স্থান, কাল, পাত্র বদলে গেলেও তিনি যদি নতুন আঙ্গিকে সেই ধারারাহিকতা বজায় রাখতে চান তাহলে বঙ্গজীবনে জামাই ষষ্ঠী রয়ে যাবে৷


ষষ্ঠী পুজোয় ব্রতীরা সকালে চান করে উপোস থেকে নতুন পাখার ওপর আম্রপল্লব, আমসহ পাঁচফল আর ১০৮টি দুর্বাবাঁধা আঁটি দিয়ে পূজার উপকরণের সঙ্গে রাখে। করমচাসহ পাঁচ-সাত বা নয় রকমের ফল কেটে কাঁঠাল পাতার ওপর সাজিয়ে পুজোর সামনে রাখা হয়। ধান এ পুজোর সমৃদ্ধির প্রতীক, বহু সন্তানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং দুর্বা চিরসবুজ, চিরসতেজ বেঁচে থাকার ক্ষমতার অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ দুর্বা হল দীর্ঘ জীবনের প্রতীক। শাশুড়ি-মেয়ে-জামাতার দীর্ঘায়ু কামনা করে ধানদুর্বা দিয়ে উলুধ্বনিসহ বরণ করেন। প্রবাদ আছে, যম-জামাই ভাগনা-কেউ নয় আপনা। কারণ যম মানুষের মৃত্যুর দূত। জামাই এবং ভাগনা অন্যের বাড়ির উত্তরাধিকারী। তাদের কখনও নিজের বলে দাবি করা যায় না। এদের খুশি করার জন্য মাঝে মাঝেই আদর আপ্যায়ন করে খাওয়াতে হয়। তাই মেয়ে যাতে সুখে-শান্তিতে তার দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারে এজন্য জ্যৈষ্ঠ মাসে নতুন জামাইকে আদর করে বাড়িতে ডেকে এনে আম-দুধ খাইয়ে পরিতৃপ্ত করে। আশীর্বাদস্বরূপ উপহারসমাগ্রীও প্রদান করে।


গ্রামীণ জীবনে এখনো এর সার্বজনীন আবহ দেখতে পাওয়া যায়। জামাই ষষ্ঠীর সমস্ত আয়োজন করা হয় বাড়ির জামাইকে ঘিরে। জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই আচারটি পালন করা হয় বলেই এর নাম জামাই ষষ্ঠী। অবশ্য এর অন্য নাম অরণ্য ষষ্ঠী। পুজো হয়ে থাকে ষষ্ঠী দেবীরও । ষষ্ঠী দেবী মাতৃত্বের প্রতীক। সে কারণে ষষ্ঠী প্রতিমাতে দেখা যায় তিনি কোলে সন্তান ধারণ করে আছেন। ষষ্ঠী মাতার কাছে জামাইদের জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। ষষ্ঠী পুজোর আরেকটি বিশিষ্ট দিক হচ্ছে বেড়াল সেবা । বাড়ির গৃহপালিত বেড়ালদের এদিন খুব সেবা দেওয়া হয়। কারণ বেড়াল ষষ্ঠী দেবীর বাহন। প্রথমে জামাইরা পরে বাচ্চারা এবং সবশেষে বাড়ির বাকি সদস্যরা ষষ্টির জল নেয়। দূর্বা ঘাস জলে ডুবিয়ে শরীরে ছোঁয়ানো হয়। তারপর জলে ডোবানো পাখার বাতাস করতে করতে ‘ষাট ষাট, বালাই ষাট’ মন্ত্র আওড়ানো, সবশেষে দূর্বা পুঁটুলির চাল আর গামলাতে ডোবানো ফল হাতে দিয়ে প্রাথমিক ষষ্ঠীর ইতি টানা হয়। পরে শ্বাশুড়িরা মেয়ে জামাইকে নিয়ে মন্দিরে যান তাদের ভবিষ্যৎ মঙ্গল কামনার্থে।

এর পরের পর্বটি জামাইদের জন্য খুবই লোভনীয়। এ পর্বে দুপুরের ভুড়িভোজ, সাত রকমের ভাজা, শুক্তো, মুগের ডালের মুড়িঘন্ট, বিভিন্ন মাছের বাহারি রকমের পদ, কচি পাঁঠার ঝোল, চাটনি,দই-মিষ্টি, আম কাঁঠাল আরো কতো কি! সকাল থেকে শ্বাশুড়ি মায়েরা এতোসব রান্না করেন। নিজেরা কিন্তু উপবাস থাকেন কেউ কেউ আবার নিরামিশ খান। সনাতন ধর্মাবলম্বী মতে, এই পার্বণ মূলত পরিবেশ রক্ষার্থে গাছকে দেবতা বিশ্বাসে পুজো করা। কেননা এ আয়োজনে বিবিধ গাছের ডাল যেমন দরকার হয় তেমনি এ দিনে সনাতন পরিবারে থাকে বাহারি মৌসুমি ফল। কিন্তু এখন সময়ের পরিক্রমায় ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে এ পার্বনের মূল উদ্দেশ্য, শতবর্ষী ষষ্ঠী গাছ আর পুজোর জন্য পাওয়া যায় না। জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি, যখন আম-কাঁঠালের গন্ধে চারদিক সুবাসিত, তখনই জামাই ষষ্ঠী ব্রতটি হওয়ায় এর হাওয়া ধর্মীয় গন্ডি পেরিয়ে প্রভাব ফেলে গ্রামীণ সাধারণ জনজীবনেও। এ সময় শ্বশুর বাড়িতে জামাইরা আমন্ত্রণ পান।। ঠিক পুজোর মত না হলেও বাড়িতে জামাই আদরের ঘটা পড়ে যায়।

তবে জামাইবাবাজী খালি হাতে শ্বশুরবাড়ি আসেনা এই বিশেষ দিনটিতে, যতই আত্মভোলা হোক না কেন, শাশুড়ি মায়ের জন্য শাড়ী, ঝুড়ি ভর্তি আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, পান-সুপুরী, কানকো নাড়ানো রুই-কাতল মাছ, রসগোল্লার হাঁড়ি, ছানার সন্দেশ সাথে আনতে ভোলেনা। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও জ্যৈষ্ঠ মাসে জামাতাকে বাড়িতে এনে আম-দুধ খাওয়ানোর রেওয়াজ রয়েছে। তবে জামাই ষষ্ঠীর উপাচারগুলো সব অঞ্চলে এক রকম নয়। অঞ্চল ভেদে এর ভিন্নতা রয়েছে।

__আনন্দবাজার পত্রিকা হতে সংগৃহিত
0 comments

পৃথিবীর ১ম ভাষা কি সংস্কৃত ?

“এটি একটি অত্যন্ত বিশ্ময়কর আবিষ্কার । ভারতবর্ষ, যেখানে অনেক দিগ্বিজয়ী এবং মহান মুনীগন তাদের পদচিহ্ন রেখে গেছেন কিন্তু সময় এবং প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর আদি এই ভাষা এখনও স্বমহিমায় উজ্জ্বল । এই ভাষা সকল ভাষার জনক এবং ইউরোপিয়ানরা যাকে “ক্লাসিক্যাল” এর উৎস নামে জানে । যেটির দর্শন অতি উন্নত, যে ভাষা মহাজাগতিক হিসাব নিকাশ সমাধানের ক্ষমতা রাখে ।” – রয়েল এসিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত উপরোক্ত বক্তব্যে যে ভাষার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে দৈবী ভাষা ‘সংস্কৃত’ ।


 “অরিজিন অব হিউমেন স্পিস এন্ড এফলপাকেট নামক গ্রন্থে বিখ্যাত ভাষাবিদ মরিস ফিলিপ বলেছেন, “ভাষাতত্ত্বের ইতিহাস এবং ধবনিতত্ত্বের উপর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে আমরা এ কথা দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করিতে পারি যে, “ঋগবেদ” হচ্ছে সবচেয়ে প্রাচীন শুধুমাত্র আরিয়ান গোষ্টির জন্য নয়, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য সত্য ।”

সুতরাং উপরোক্ত বক্তব্যে আমরা এই কথা বলতে পারি যে, ঋগবেদ হচ্ছে ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত প্রথম এবং প্রধান ধর্মগ্রন্থ । ঋগবেদ যেহেতু ভগবান প্রদত্ত তাই এটি ত্রুটিহীন । এছাড়া বহু পাশ্চাত্য ভাষাবিদ বিজ্ঞানীগন বেদ এবং সংস্কৃত ভাষাকে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন শাস্ত্রীয় ভাষা বলে স্বীকার করেছেন ।
সর্বপ্রথম ভাষার উৎস সন্ধানে গবেষনা করেন ডেনমার্কের ভাষাতত্ত্ববিদ রাসমাস রাসক(১৮১৮), জার্মানীর ফ্যাঞ্জ বোপ(১৭৯১-১৮৩৭), ফিক এস্ট, জেকব গ্রীম সহ আরো অনেকে । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯১৪ সালে । সে বছর থমাস ইয়ং ঘোষনা করেন যে, পৃথিবীর সকল ভাষা মূলত ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এসেছে ।


 পরবর্তীতে আধুনিক ভাষাবিদদের মতে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা গোষ্টি মূলত একটি মাত্র প্রোটো ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এসেছে এবং তারা গবেষণা করে মত প্রকাশ করেন যে, এই প্রোটো ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার উৎপত্তি এশিয়া তথা এশিয়া মাইনরে এবং এটি ৭০০০ খ্রীষ্টপূর্বেও ব্যবহৃত হত । এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভাষাতত্ত্ববিজ্ঞানীরা কিভাবে বুঝলেন যে , সকল ভাষা মূলত একটি ভাষা হতে এসেছে । প্রথমত বিজ্ঞানীরা সক্ল ভাষার মধ্যে কিছু একই ধরনের শব্দ পরিলিক্ষিত করলেন । এছাড়া তাঁরা শব্দের উৎস, ধ্বনিগত জ্ঞান ও ভাষার চারিত্রিক পরিবর্তন সবকিছু গবেষনা করে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন যে একটি ভাষার ইভালুয়েশনের মাধ্যমে অন্যান্য ভাষা এসেছে ।


গত শতাব্দীতে এশিয়ামাইনরে অবস্থিত তুর্কিস্থানে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি প্রাচীন শাস্ত্রলিপি আবিষ্কার করেন যা আনুমানিক ৬৫০০ খ্রীষ্টপূর্বের । আশ্চর্যের বিষয় ছিল যে, সেসকল শাস্ত্রে চাকা নির্মিত রথ, পশুপালন এর কথা উল্লেখ আছে, যা মূলত বেদের কৃষি-গোরক্ষা-বাণিজ্য নীতির সম্পূরক । পশ্চিমা ভাষাতত্ত্ববিদগণ বলেছেন যে, সংস্কৃত ভাষাই হচ্ছে সেই আদি অর্থাৎ প্রোটো ইন্দোইউরোপিয়ান ভাষা, যা ইন্দো উপত্যকার নিকটবর্তী অঞ্চলের মানুষেরা ব্যবহার করত ।(Source : Dravidian Origin)
গবেষকগণ বলছেন যে, ইন্দোঅঞ্চলের প্রাচীন লোকসমূহ অতি পূর্বে বর্তমান ভারতের স্বরস্বতী নদীর তীরে বাস করতেন । প্রায় ৬০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের তারা সেখানে বৈদিক সমাজ ব্যবস্থা চালুকরে । পরে সমগ্র পৃথীবীতে তাদের বিস্তৃতি ঘটে এবং সেই সাথে ভাষা হিসেবে সংস্কৃত ভাষা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে । বৈদিক যুগের কয়েকটি আর্কিটেকচার দেখে ধারণা করা যায় যে এগুলো ছিল অতি প্রাচীন সময়ের এবং সেই সাথে সেই সব আর্কিটেকচারে সংস্কৃত মন্ত্রসমূহ খোদাই করে দেখে ধারণা করা যায় যে, সংস্কৃত অতি প্রাচীন ভাষা ।

অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, সংস্কৃত ভাষা সর্বস্তরের মানুষ ব্যবহার করত না । কেবল উচ্চ স্তরের ব্রাক্ষ্মণ সম্প্রদায়রাই কেবল এই ভাষা ব্যবহার করত । অন্যান্যরা প্রাকৃত ভাষা ব্যবহার করতেন । ১৯৮০ সালের ৯ জুলাই তারিখের “টাইমস অব ইন্ডিয়া” পত্রিকায় প্রকাশিত পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সকল স্তরের এমনকি সমাজের নিম্নবর্ণের মানুষেরাও তখন সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করত । এখনও হিমালয়ে পাটান উপত্যকার নিকটে “চিনাল” নামক এক আদিবাসী সম্প্রদায় বাস করে যারা বৈদিক যুগ থেকে এখনও শুধুমাত্র সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করছে । এছাড়া “লোহার” নামক অন্য এক কামার সম্প্রদায়ও এখনো সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করছে ।
বিশ্বসেরা “এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটিনিকা” এর সংস্কৃত নামক অধ্যায়ে লেখা রয়েছে যে, উইলিয়াম স্মিথ এবং অন্যান্য গবেষকগণ মন্তব্য করছেন যে, “সংস্কৃতই হচ্ছে প্রথম ভাষা, যা ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত” ।


লেখক ডেবিড ড্রিংগার তার রচিত “দি এলফাবেট” নামক গ্রন্থে দেখিয়েছেন কিভাবে প্রত্যেকটি ভাষার ধ্বনিসমূহ মূলত একটি ধ্বনি বা বর্ণ থেকে এ
সেছে । এই গ্রন্থে তিনি প্রতিপন্ন করেছেন যে, মূলত সংস্কৃত বর্ণই পরবর্তীতে বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন ভাষায় প্রবেশ করেছে । (Source : Dravidian Origin)
আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (AL) নামক বিখ্যাত ম্যাগাজিনে নাসা গবেষক রিক ব্রিগস বলেছেন, “বিগত ত্রিশ বছর যাবৎ আমরা কম্পিউটার প্রসেসিং করার উদ্দেশ্যে একটি প্রাকৃতিক ভাষার সন্ধানে বহু সময়, অর্থ, শ্রম দিয়েছি ।

 অবশেষে প্রায় ১০০০ বছরের প্রাচীন একমাত্র সংস্কৃত ভাষাই আমাদের প্রচেষ্ঠাকে সফল করেছে । সাম্প্রতিক তথ্যমতে, নাসার বিজ্ঞানীগণ খুব শীঘ্রই ৬ষ্ঠ প্রজন্ম এবং ৭ম প্রজন্মের দ্রুত গতির সুপার কম্পিউটার নির্মাণ করতে যাচ্ছে যেটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করা হবে সংস্কৃত ভাষা দিয়ে । এই প্রজেক্টটি কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে (৬ষ্ঠ প্রজন্ম), এবং ২০৩৪ সালে (৭ম প্রজন্ম), পৃথিবীর বহু ভাষাবিদগণ ধারণা করছেন যে, নাসা এই প্রকল্প শেষ করার পর পৃথিবীতে সংস্কৃত ভাষা তুমুল জনপ্রিয় হবে এবং একটি বৃহৎ পূর্ণজাগরণ ঘটবে । নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, সংস্কৃত ভাষায় তৈরি ঐ সকল বৈদিক শব্দসমূহ জাদুর মত কাজ করবে ।”

এবার আমরা কয়েকটি ইংরেজী শব্দের উৎস সম্পর্কে জানব । যেমন – সংস্কৃত ‘মাতৃ’ শব্দটি গ্রীক ভাষায় ‘মাতির’ রূপ ধারণ করে এবং পরবর্তীতে সেটি ইংরেজী ‘মাদার’ (Mother) এ পরিবর্তিত হয় । এখানে আশ্চর্যের বিষয় এই তিনটি ভাষাতেই মাতৃ, মাতির বা মাদার একই অর্থ প্রকাশ করছে । এছাড়া বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড ডিকশেনারীতে একটি ইংরেজী শব্দ Garish এর অর্থ বলা হয় excessively bright in color, ঠিক একই গৌর (Goudy) সংস্কৃত শব্দটি ও উজ্জ্বলতা অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, এছাড়া সংস্কৃত ‘ভ্রাতা’ শব্দটি পরবর্তীতে ইংরেজীতে ‘ব্রাদার’ শব্দে রূপান্তরিত হয় ।

পরিশেষে বলছি, এখনও যাদের উক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে তারা ফিলোসোপিক্যাল রিসার্স সোসাইটির বিখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ডেন ব্রাউন কর্তৃক পরিবেশিত একটি প্রতিবেদন অবলোকন করতে পারেন ।

ব্রাউজ করুন http: //www.dailymotion.com/video/x44sh thinking-allowed-sanskrit-tradition
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংস্কৃত ভাষাকে নিয়ে বহু বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে । যেমন – আমেরিকান সংস্কৃত ইনস্টিটিউটসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কৃত ভাষা চর্চা করে যাচ্ছেন । তথ্যসূত্র – ইন্টারনেট, জার্নাল ।

শ্রীল প্রভুপাদ - “সংস্কৃত হচ্ছে সকল ভাষার মাতা । স-ং-স-কৃ-ত, শব্দটি অর্থই হচ্ছে ‘ভাষা’ । অতএব এটিই হচ্ছে প্রকৃত ভাষা যা শুধুমাত্র এই গ্রহেই নয়, সমগ্র ব্রক্ষ্মান্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে ।”

সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ইংরেজি ভাষার ক্ষুদ্র তালিকা:

Matar – মাতা, Mother - মাদার
Pitar – পিতা, Father - ফাদার
Bhrater – ভ্রাতে, Brother - ব্রাদার
Svasar – স্বসা, Sister - সিস্টার
Gyamati – জ্যামিতি, Geometry - জিওমেট্রি
Trikonmati – ত্রিকোণমিতি, Trigonometry – ত্রিগোণমিতি
Dvaar – দ্বার, Door - ডোর
Namaa – নাম, Name - নেইম
Path – পথ, Path - পাথ
Charitra – চরিত্র, Character – ক্যারেক্টার
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত আরবি ভাষার ক্ষুদ্র তালিকা
Namas – নাম, Namaz - নামাজ
Rama-dhyana – রামধন, Ramadan - রমজান
Garbha – গর্ব, Kaba - কাবা
Isa-alayam – ইসা আলাম, Islam - ইসলাম
Shraddhaa – শ্রদ্ধা, Shahada - শাহাদা
Makkheshvar – মক্কাশ্বর, Makkah - মক্কা
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ইংরেজি বার মাসের নাম
The Seventh Month – Saptan, September
The Eight Month – Astan, October
The Ninth Month – Navan, November
The Tenth Month – Dasha, December


0 comments

পরমেশ্বর ভগবানও শ্রীকৃষ্ণ


শ্রীকৃষ্ণ ও পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন অভিন্ন। তাই সমগ্র ভগবদ্ গীতায় তাঁকে ভগবান বলে সম্বোধন করা হয়েছে। ভগবান হচ্ছেন পরমতত্ত্বের চরম সীমা। পরমতত্ত্ব উপলব্ধির তিনটি স্তর রয়েছে।
১) ব্রক্ষ অর্থাৎ নির্বিশেষ সর্বব্যাপ্ত সত্তা।
২) পরমাত্মা অর্থাৎ প্রতিটি জীবের হৃদয়ে বিরাজমান পরমেশ্বরের প্রকাশ।
৩) ভগবান অর্থাৎ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
পরমতত্ত্বের এই বিশ্লেষণ সম্বন্ধে শ্রীমদ্ভগবতে (১-২-১১) বলা হয়েছে -
যা অদ্বয় জ্ঞান, অর্থাৎ এক অদ্বিতীয় বাস্তব বস্তু, জ্ঞানীরা তাকেই পরমার্থ বলেন। সেই পরমতত্ত্ব ব্রক্ষ, পরমাত্মা ও ভগবান-- এই ত্রিবিধ সংজ্ঞায় অভিব্যক্ত হয়।
------------------------------------------
এই তিনটি চিন্ময় প্রকাশ সূর্যের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়। সূর্যের ও তিনটি প্রকাশ রয়েছে, যেমন--
১) সূর্যরশ্মি।২) সূর্যগোলক। ৩) সূর্যমণ্ডল
১) সূর্যরশ্মি জানাটা হচ্ছে প্রাথমিক স্তর।
২) সূর্যগোলক সম্বন্ধে জানাটা আরও উচ্চতর স্তর।
৩) সূর্যমণ্ডলে প্রবেশ করে সূর্য সম্বন্ধে জানাটা হচ্ছে সর্বোচ্চ স্তর। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সূর্যকিরণ সম্বন্ধে জেনেই সন্তুষ্ট থাকে- তার সর্বব্যাপকতা এবং তার নির্বিশেষ রশ্মিছটা সম্বন্ধে যে জ্ঞান,তাকে পরমতত্ত্বের ব্রক্ষ উপলব্ধির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে এবং যাঁরা সূর্যমণ্ডলেরর অন্তঃস্থলে প্রবিষ্ট হয়েছেন, তাঁদের জ্ঞান পরম-তত্ত্বের সর্বোত্তম সবিশেষ রূপ সম্বন্ধে অবগত হওয়ার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তাই ভগবদ্ভক্তবৃন্দ অথবা যে সমস্ত পরমার্থবাদীরা পরমতত্ত্বের ভগবৎ-স্বরূপ উপলব্ধি করতে পেরেছেন, তাঁরাই হচ্ছেন সর্বোচ্চ পরমার্থবাদী, যদি ও সমস্ত পরমার্থবাদীরা সেই একই পরমতত্ত্বের অনুসন্ধানে রত।
সূর্যরশ্মি, সূর্যগোলক ও সূর্যমণ্ডল এই তিনটি একে অপর থেকে পৃথক হতে পারে না, কিন্তু তবুও তিনটি স্তরের অন্বেষণকারীরা সমপর্যায়ভুক্ত নন।
------------------------------------------
শ্রীল ব্যাসদেবের পিতা পরাশর মুনি ভগবান কথাটির বিশ্লেষণ করেছেন। সমগ্র ঐশ্বর্য, সমগ্র বীর্য, সমগ্র যশ, সমগ্র শ্রী, সমগ্র জ্ঞান ও সমগ্র বৈরাগ্য যাঁর মধ্যে পূর্নরূপে বর্তমান সেই পরম পুরুষ হচ্ছেন ভগবান।
কোন জীবই, এমন কি ব্রক্ষা, শিব, ণারায়ন ও শ্রীকৃষ্ণের মতো পূর্ণ ঐশ্বর্যসম্পন্ন হতে পারে না। তাই ব্রক্ষসংহিতাতে ব্রক্ষা নিজে বলেছেন যে, শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান। তিনি হচ্ছেন আদি পুরুষ, অথবা গৌবিন্দ নামে পরিজ্ঞাত ভগবান এবং তিনি সর্ব। কারণের পরম কারণ।
"ভগবতেও পরমেশ্বরের অনেক অবতারের বর্ণনা আছে। সমস্ত অবতারেরা হচ্ছেন ভগবানের অংশ অথবা তাঁর অংশের অংশ-প্রকাশ,কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান।
(ভাগবত ১-৩২৮)

Written by: Rajib Ghosh
0 comments

প্রশ্নঃ কাম ও যৌনতা কে মানব-জীবনের চির শক্র বলা হয় কেন----?


উত্তরঃ মনুস্মৃতিতে বলা হয়েছে যে, ঘি ঢেলে যেমন আগুনকে কখনও নেভানো যায়
না, তেমনই কাম উপভোগের দ্বারা কখনই কামের নিবৃত্ত হয় না। জড় জগতে সমস্ত কিছুর কেন্দ্র হচ্ছে যৌন আকর্ষণ, তাই জড় জগৎকে বলা হয় ' মৈথুনাগার' অথবা যৌন জীবনের শিকল। আমরা দেখছি, অপরাধ করলে মানুষ কারাগারে আবদ্ধ হয়, তেমনই, যারা ভগবানের আইন অমান্য করে,তারাও যৌন জীবনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে এই মৈথুনাগারে পতিত হয়। ইন্দ্রিয়-তৃপ্তিকে কেন্দ্র করে জড় সভ্যতার উন্নতি লাভের অর্থ হচ্ছে, বদ্ধ জীবদের জড় অস্তিত্বের বন্দীদশার মেয়াদ বৃদ্ধি করা। তাই, এই কাম হচ্ছে অজ্ঞানতার প্রতীক, যার দ্বারা জীবদের এই জড় জগতে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধন করার সময় সাময়িকভাবে সুখের অনুভূতি হতে পারে , কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই তথাকথিত সুখই হচ্ছে জীবের পরম শক্র।

Written by: Rajib Ghosh
0 comments

প্রশ্নঃ ইন্দ্রিয় দমন ও আত্মার স্বরুপ উপলব্ধি কিভাবে করবেন-------?

উত্তরঃ কামের নানাবিধ কার্যকলাপের নির্গম পথ হচ্ছে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি। কামের সঞ্চয় হয় আমাদের দেহে, কিন্তু ইন্দ্রিয়গুলির মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ হয়। তাই, সামগ্রিকভাবে জড় দেহের থেকে ইন্দ্রিয়গুলি শ্রেয়। আমাদের অন্তরে যখন উচ্চস্তরের চেতনার বিকাশ হয় অথবা কৃষ্ণচেতনার বিকাশ হয়, তখন এই সমস্ত নির্গম পথগুলি বন্ধ হয়ে যায়।

অন্তরে কৃষ্ণভাবনার উন্মেষ হলে পরমাত্মা বা শ্রীকৃষ্ণেরর সঙ্গে আত্মা তার নিত্য সর্ম্পক অনুভব করে, তাই তখন আর জড় দেহের অনুভূতি থাকে না। দেহগত কার্যকলাপগুলি হচ্ছে ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপ, তাই ইন্দ্রিয়গুলি নিষ্ক্রয় হলে, দেহও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু সেই অবস্থায় মন সক্রিয় থাকে, যেমন নিদ্রিত অবস্থায় আমরা স্বপ্ন দেখি। কিন্তু মনেরও উর্ধ্বে হচ্ছে বুদ্ধি এবং বুদ্ধির উর্ধ্বে হচ্ছে আত্মা। তাই আত্মা যখন পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত হয়,তখন বুদ্ধি ও মন স্বাভাবিকভাবে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। ঠিক এভাবে কঠোপনিষদে বলা হয়েছে যে, ইন্দ্রিয় থেকে ইন্দ্রিয় উপভোগের সামগ্রীগুলি শ্রেয়, কিন্তু ইন্দ্রিয় উপভোগের সামগ্রীগুলি থেকে মন শ্রেয়। তাই, মন যদি সর্বোতভাবে নিরন্তর ভগবানের সেবায় নিয়োজিত থাকে, তখন ইন্দ্রিয়গুলি বিপদগ্রামী হবার আর কোন সুযোগ থাকে না।
কঠোপনিষদে আত্মাকে মহান বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই আত্মা হচ্ছে -ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়, ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির উর্ধ্বে। তাই, আত্মার স্বরুপ সরাসরি উপলব্ধি করতে পারলে সমস্ত সমস্যার সমাধাণ হয়ে যায়।
পরমার্থ সাধনে নবীন ভক্তকে সাধারণত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সমস্ত বিষয় থেকে দুরে থাকতে উপদেশ দেওয়া হয়,কেন না তার ফলে ইন্দ্রিয়গুলি ধীরে ধীরে সংযত হয়। তা ছাড়া বুদ্ধি দিয়ে মনকে তার সংঙ্কল্পে দৃঢ রাখতে হয়। বুদ্ধির দ্বারা যদি আমরা কৃষ্ণভাবনার মাধ্যমে ভগবানের চরণ-কমলে আত্মনিবেদন করি, তা হলে মন ভগবানের সেবায় নিয়োজিত হয়ে ত্রকাগ্র হয়, তখন ইন্দ্রিয়ের প্রলোভনগুলি আর মনকে বিচলিত করতে পারে না। ইন্দ্রিয়গুলি তখন বিষদাঁতহীন সাপের মতো নিষ্ক্রয় হয়ে পড়ে। কিন্তু আত্মা যদিও বুদ্ধি, মন ও ইন্দ্রিয়ের অধীশ্বর, তবুও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ না করলে, যে কোন মুহুর্তে মনের প্রভাবে বিচলিত হয়ে আত্মা অধঃপতিত হতে পারে।

লিখেছেনঃ Rajib Ghosh
0 comments

মহাভারত থেকে কিছু দার্শণিক জীবনদর্শন মূলকতথ্য ও ব্যাখা


পুঁথি ঘেঁটে যা জানা যায়, সে সময়কার জনসংখ্যার আশি শতাংশ পুরুষ মহাভারতের ১৮ দিনের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

যুদ্ধ শেষে সঞ্জয় কুরুক্ষেত্রের সেই জায়গায় গমন করেন যেখানে যুদ্ধ হয়েছিল।


কুরুক্ষেত্রের জমিতে দাঁড়িয়ে উনি ভাবতে থাকেন, সত্যিই কি সেই জায়গার মাটি যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে,মহাপ্রতাপশালী পান্ডব এবং কৌরবদের রক্তে শুষে নিয়েছে। এই চিন্তা যখন ওনার মস্তিষ্কে বিরাজ করিছে, এক কম্পিত কন্ঠ, বৃদ্ধের কোমল ধ্বনি তাঁর কানে বেজে ওঠে। তিনি শুনতে পান,

"তুমি কখনোই সত্য জানতে পারবে না বৎস..!!"

ঘুরে দাঁড়াতে সঞ্জয় গেরুয়া বস্ত্রধারী এক বৃদ্ধকে ধুলোর স্তম্ভ থেকে উঠে আসতে দেখেন।

-আমি জানি বৎস, তুমি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বিষয় জানতে চাও কিন্তু ততক্ষণ তা তোমার বোধগম্য হইবে না, যতক্ষণ না তুমি বাস্তবে যুদ্ধটা কি বস্তু, সেটা বুঝিবে।

মৃদু হেসে বৃদ্ধ বলেন।

-তার মানে..?

-মহাভারত একটি দৃষ্টান্ত, একটি মহাকাব্য, হয়ত বাস্তব, হয়ত বা দর্শন।

মৃদু-মন্দ হেসে বৃদ্ধ সঞ্জয়ের দিকে তাকান। তাঁর মনে আরও প্রশ্ন উদ্রেক করাই বোধহয় তাঁর লক্ষ।

-আপনি দয়া করে যদি বলেন ওই দর্শন বস্তুটি কি..??

সঞ্জয় অনুরোধ করেন।

নিশ্চয়, এই বলিয়া বৃদ্ধ আরম্ভ করেন,

-পঞ্চপান্ডব আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় বই কিছু না। দৃষ্টি, ঘ্রাণ, স্বাদ, স্পর্শ ও ধ্বনি।

আর কৌরবরা কি, তা কি জান তুমি..?? দৃষ্টি সরু করে বৃদ্ধ শুধান।

কৌরব আমাদের একশতদোষ যারা নিত্য, প্রতিমুহূর্ত আমাদের ওই পাঁচ ইন্দ্রিয়কে আক্রমণ করছে। জান কখন..??

সঞ্জয় আবার মাথা নাড়েন।

-শ্রীকৃষ্ণ যখন তোমার রথের সারথি হন, তখন..!!

বৃদ্ধ ঝকঝকে হাসি হাসেন এবং সঞ্জয় এই অন্তর্নিহিত জ্ঞান প্রাপ্তিযোগে অবাক চোখে বৃদ্ধকে দেখেন।

-শ্রীকৃষ্ণ তোমার অন্তর ধ্বনি, তোমার আত্মা, তোমার পথপ্রদর্শনকারি আলোককস্তম্ভ এবং তুমি যদি তাঁর হাতে নিজেকে সমর্পিত করে দাও, তুমি চিন্তামুক্ত থাকবে জীবনে।

সঞ্জয় বোকার মত বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু শীঘ্রই আবার সামলে নিয়ে পরের প্রশ্ন করেন,

-তাহলে দ্রোণাচার্য, ভীষ্মপিতামহ কেন কৌরবের হয়ে লড়াই করলেন, যদি কৌরবরা দোষী হয়..??

ধীরে মাথা সঞ্চালন করে বৃদ্ধ বলেন,

-ইহার মানে, যখন তুমি বড় হও, তোমার ধারণা বয়স্ক মানুষদের প্রতি বদল হতে থাকে। ছেলেবেলায় যে বয়ঃজ্যেষ্টদের মনে হত তারা সঠিক, বড় হয়ে বুঝতে পার, ততটা ঠিক নন তারা। তাদেরও দোষ আছে। এবং একটা দিন আসে যখন তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের সংগ তোমার জন্যে ভাল কি মন্দ। তারপর এটাও হয়ত তুমি উপলব্ধি কর একটা সময়, তাদের সাথে লড়াই করাই তোমার জন্যে মংগলের। বেড়ে ওঠার ইহাই সবচাইতে কঠিন পক্ষ এবং সেইজন্যেই গীতার সারমর্ম জানা দরকার।

বাকরূদ্ধ হইয়া সঞ্জয় মাটির ওপর হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়েন। ইহার কারণ এই নয় যে এই বাণী ক্লান্তিজনিত তাঁর কাছে বরং এই দর্শনের মাত্রাধিকতায় তিনি আবিভূত হইয়া পড়েন।

-তাহলে কর্ণকে কি বলবেন..??

-আহ্, তুমি সর্বোত্তম প্রশ্ন সবার শেষে করেছ। কর্ণ তোমার ইন্দ্রিয়গণের ভ্রাতা। সে বাসনা। সে তোমারই এক অংশ কিন্তু সে সংগ দেয় দোষের। যদিও সে দোষীর সংগ দিয়ে মনে মনে পীড়া অনুভব করে কিন্তু নিজেকে ঠিক সাবস্ত করার জন্যে নানান যুক্তি দেয়, ঠিক যেমন তোমার বাসনা সর্বক্ষণ তোমায় যুক্তি যুগিয়ে চলে। তোমার বাসনা তোমায় মিথ্যে যুক্তি দিয়ে মন ভোলানোর চেষ্টা করেনা কি সর্বদা..??

সঞ্জয় নিঃশব্দে মাথা নাড়ান।

এক দৃষ্টিতে তিনি কুরুভুমির দিকে তাকিয়ে থাকেন। মনে তাঁর লক্ষ-কোটি চিন্তা তোলপাড় করে। প্রতিটি কথা গুছিয়ে তিনি সামঞ্জস্য তৈরি করার চেষ্টা করেন। খানিক বাদে যখন তিনি মাথা তোলেন, বৃদ্ধ তখন সেখান থেকে প্রস্থান করেছেন। ধুলোর স্তম্ভে আবার মিলিয়ে গেছেন।

পেছনে ফেলে রেখে, এক চিলতে জীবনদর্শন..!!🙏👏🙏

সংগৃহিতঃ https://www.facebook.com/Sri.Krishna.Net.1/?hc_ref=PAGES_TIMELINE


0 comments

সংস্কৃত প্রাথমিক বার্তালাপ (৫০টি বাক্য)


১। * আপনি কেমন আছেন ?
ভবান্ কথম্ অস্তি ? (পুরুষ লিঙ্গে)
ভবতী কথম্ অস্তি ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
২। * ভাল আছি।
কুশলী অস্মি। (পুরুষ লিঙ্গে)
কুশলিনী অস্মি। (স্ত্রী লিঙ্গে)
৩। * আপনার নাম কি ?
ভবতঃ নাম কিম্ ? (পুরুষ লিঙ্গে)
ভবত্যাঃ নাম কিম্ ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
৪। * আমার নাম মাধব/রাধিকা।
মম নাম মাধবঃ/ রাধিকা।
৫। * আমি অভয়/গীতা।
অহং অভয়ঃ/গীতা।
৬। * সে কে ?
সঃ কঃ ? (পুরুষ লিঙ্গে)
সা কা ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
৭। * সে রাতুল/সরস্বতী।
সঃ রাতুলঃ/সা সরস্বতী।
৮। * আজ কি বার ?
অদ্য কঃ বাসরঃ ?
৯। * আজ বৃহস্পতিবার।
অদ্য গুরুবাসরঃ।
১০। * কি করছো ?
কিম্ করোসি ?
১১। * আমি পড়ছি।
অহং পঠামি।
১২। * ঐটি কি ?
তৎ কিম্ ?
১৩। * ঐটি বই।
তৎ পুস্তকম্।
১৪। * এই আমার বন্ধু।
এষঃ মম মিত্রং।
১৫। * এই আমার বান্ধবী।
এষা মম সখী।
১৬। * আপনি কি পড়েন ?
ভবান্ /ভবতী কিং পঠতি ?
১৭। * আমি বিজ্ঞান পড়ি।
অহং বিজ্ঞানং পঠামি।
১৮। * কি খবর ?
কঃ বিশেষঃ ? কা বার্তা ?
১৯। * আপনি কোথায় যাচ্ছেন ?
ভবান্ /ভবতী কুত্র গচ্ছতি ?
২০। * কখন ?
কস্মিন্ সময়ে ?
২১। * দেরি কেন ?
কিমর্থং বিলম্বঃ ?
২২। * এটির উত্তর লিখ।
এতস্য উত্তরম্ লিখতু।
২৩। * আমি অফিসে যাচ্ছি।
অহং কার্যালয়ং গচ্ছামি।
২৪। * তোমার যা ইচ্ছা।
যথা ভবান্ ইচ্ছতি।
২৫। * এখন ?
ইদানীং কিম্ ?
২৬। * সে কখন যায় ?
সঃ কদা গচ্ছতি ?
২৭। * চিন্তা করো না।
চিন্তা মাস্তু।
২৮। * সীতা পড়ছে ।
সীতা পঠতি
২৯। * তুমি পড়ছো।
ত্বং পঠসি।
৩০। * হাঁ, তা ঠিক।
আম্, তৎ সত্যম্।
৩১। * ভুলো না।
ন বিস্মরতু।
৩২। * রামনাম অতি মধুর।
রামনাম অতি মধুরং।
৩৩। * আমাকে চেন ?
মাম্ জানাসি ?
৩৪। * কে বলছেন ?
কঃ সম্ভাষণং করোতি ?
৩৫। * আমি শিশির বলছি।
অহং শিশিরঃ বদামি।
৩৬। * প্রফুল্ল ঘরে আছে কি ?
প্রফুল্লঃ গৃহে অস্তি কিম্ ?
৩৭। * আপনার জীবন শুভ হোক।
ভবতঃ জীবনম্ শুভময়ং ভবতু।
৩৮। * চেষ্টা করব।
প্রযত্নং করোমি।
৩৯। * আজ আপনার কি কাজ ?
অদ্য ভবতঃ কার্যক্রমঃ কঃ ?
৪০। * বন্ধু, কলমটি দাও।
লেখনীং দদাতু মিত্র।
৪১। * আমি জানি না।
অহং ন জানামি।
৪২। * তারপর ?
অথ কিম্ ?
৪৩। * ওটা বল না।
তথা ন বদতু।
৪৪। * তাই হোক।
তথৈব অস্তু।
৪৫। * এটি কি ?
ইদং কিম্ ?
৪৬। * এটি খেলার মাঠ।
ইদং ক্রীড়াঙ্গণং।
৪৭। * তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।
শীঘ্রং প্রত্যাগচ্ছতু।
৪৮। * কোলাহল কর না।
কোলাহলং মা করোতু।
৪৯। * বাতি জ্বালাও।
দীপং জ্বালয়তু
৫০। * বাতি নেভাও।
দীপং নির্বাপয়তু।
সংকলন করেছেন:- রঞ্জন রাসেশ্বর দাস
0 comments

শ্রী শ্রী নৃসিংহদেবের আবির্ভাব স্হান দর্শন

চক্রবাড় নৃসিংহদেব
পুরাকালে হিরণ্যকশিপু নামে এক অত্যাচারী দৈত্য ভগবান বিষ্ণু বিদ্বেষী ছিলেন। 
No automatic alt text available.
অহোবলমের ম্যাপ
Image may contain: outdoor
নিম্ন অহোবলম
Image may contain: tree, plant, outdoor and nature
উচ্চ অহোবলয়ামের যাওয়ার রাস্তা
তিনি নিজেকে ভগবানের আসনে অধিষ্ঠিত করার মানসে মন্দর পর্বতের উপত্যকায় পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে উর্ধ্ববাহু হয়ে আকাশে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে অনাহারে অত্যন্ত কঠোর তপস্যা শুরু করলেন। সুদীর্ঘ ছত্রিশ বছর তপস্যার পর সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তাকে অবশেষে দর্শন দেন। ব্রহ্মা তাকে অমরত্ব ছাড়া যা খুশি বর চাইতে বললেন। তখন চতুর হিরণ্যকশিপু তৎক্ষণাৎ গভীরভাবে চিন্তা করে অমরত্ব কথাটি বাদ দিয়ে ছলে বলে অমরত্বের মতই বর চাইলেন। তাই সে বলতে লাগল -
- আপনার সৃষ্টির কোনও প্রাণী থেকে আমার মৃত্যু হবে না।
- গৃহের ভেতরে কিংবা বাইরে আমার মৃত্যু হবে না।
- দিন কিংবা রাতে আমার মৃত্যু হবে না।
- জল ভুমি বা আকাশে ও না।
- পশু বা মানুষের হাতে ও না।
- কোন অস্ত্রে যেন আমার মৃত্যু না হয়।
- আমি যেন ব্যাধিগ্রস্ত বা জরাগ্রস্ত না হই।
এভাবে শক্তিমান হয়ে তিনি আরো অত্যাচারী হয়ে উঠে। নিজেকে ভগবান বলে প্রচার করতে লাগলেন। তার পাঁচ বছরের প্রিয় পু্ত্র প্রহ্লাদকে পর্যন্ত তিনিই যে ভগবান তার শিক্ষা দিতে লাগলেন। কিন্তুু শিশু প্রহ্লাদ পক্ষান্তরে বিষ্ণুকেই ভগবান বলে প্রতিপন্ন করতে চাইলে হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্রুদ্ব হয়ে তার উপর অত্যাচার করতে তাকে। সত্বেও প্রহ্লাদকে ভগবান রক্ষা করলেন। এক সময় বিরক্ত হয়ে হিরণ্যকশিপু যখন জিজ্ঞেস করলেন, তোর বিষ্ণু কি এই স্তম্ভের মধ্যে ও আছে। ভক্ত প্রহ্লাদ তখন উওর দিলেন, শ্রীহরি সর্বএই বিদ্যমান, তিনি এই স্তম্ভের মধ্যে ও বিদ্যমান। হিরণ্যকশিপু তখন তার অস্ত্র দিয়ে স্তম্ভের উপর আঘাত করলে স্তম্ভ থেকে বেরিয়ে আসে ভগবান শ্রীনৃসিংহদেব। তখন অন্তরীক্ষ থেকে ব্রহ্মার বাণী সে শুনতে পেল -হে হিরণ্যকশিপু,
- নৃসিংহদেব আমার সৃষ্টির কেউ না, বরং আমিই উনার সৃষ্টি।
- গৃহের ভিতর বা বাইরে নয়, ভগবান তোমাকে চৌকাঠে মারতে যাচ্ছে।

- দিন বা রাত্রি নয়, চেয়ে দেখ এখন গোধুলী লগ্ন।
- জলে, ভূমিতে বা আকাশে নয় তুমি নৃসিংহদেবের উরুদেশে মরতে যাচ্ছ।
- পশু বা মানব নয় দেখ, নৃসিংহদেব পশু ও নয় মানব ও নয়।

- কোন অস্ত্রে নয়, বরং ভগবানের নখ তোমার শরীর বিদীর্ণ করবে এক্ষুনি।
-তুমি জরা বা ব্যাধিগ্রস্ত নও তাই তুমি এখন মৃত্যু কবলগ্রস্ত।
এভাবে ভগবান তার ভক্তকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন তাই তাকে বলা হয় বিপদভঞ্জক ভগবান নৃসিংহদেব। কেউ যদি ভক্তিভরে ভগবান নৃসিংহদেবের কাছে চরম বিপদে ও প্রার্থনা করে তবে তােক তিনি রক্ষা করেন। তার আবির্ভাবের উদ্দেশ্যই হল তার ভক্তদের সমস্ত বিপদ বা বাধাবিঘ্ন থেকে রক্ষা করা।


Image may contain: tree, plant, outdoor and nature
কথিত আছে হিরণ্যকশিপুর রাজপ্রসাদ এগুলো সব পাথরের পাহাড় হয়ে গেছে

Image may contain: plant, tree, outdoor, nature and water
প্রহ্লাদ মহারাজের গুরুকূল

Image may contain: sky, tree, cloud, outdoor and nature
নীচ থেকে উগ্র নৃসিংহ স্তম্ব দেখা যাচ্ছে যেখান থেকে নৃসিংহদেব বের হয়েছে
Image may contain: tree, plant, outdoor and nature
হিরণকশিপুর আস্তানা
Image may contain: sky, mountain, tree, outdoor and nature
এই সেই উগ্র স্তম্ভ যেখান থেকে নৃসিংহ দেব বের হয়েছেন
Image may contain: 1 person, outdoor
রক্তকুন্ড যেখানে নৃসিংহ দেব হিরণ্যকশিপুকে বধ করে হাত ধুয়েছিল
Image may contain: 1 person, standing
জয় বিজয় দ্বারপালের সাথে ছবি তুলা এটা লক্ষ্মী নৃসিংহদেবের মন্দিরের বাইরে

Image may contain: plant, tree, outdoor and nature
উগ্র স্তম্ভের পবিত্র জল উপর থেকে নিচে নামছে



Image may contain: 4 people, outdoor
অহোবলম মন্দির



লিখেছেনঃ প্রীথিষ ঘোষ
ছবিঃ সুশান্ত বন্দ
লাইক দিনঃ সনাতন সন্দেশ - Sanatan Swandesh
0 comments

যুগধর্ম হরিনাম


Image may contain: 1 person" এই কলিযুগে ভগবানের দিব্য নাম কীর্তন করা ছাড়া আর কোন ধর্ম নেই । এই দিব্য নাম হচ্ছে বৈদিক মন্ত্রের সার। এটিই সমস্ত শাস্রের মর্ম। "
এই হরিনামই হচ্ছে এই কলিযুগের যুগধর্ম। শ্রীমদ্ভাগবতে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন যুগধর্মের 
কথা বর্ণনা করা হয়েছে –
১. সত্যযুগ: বিষ্ণুর ধ্যান
২. ত্রেতাযুগ: যজ্ঞ
৩. দ্বাপরযুগ: শ্রীবিষ্ণুর অর্চন 
৪. কলিযুগ: হরিনাম সংকীর্তন

এজন্য অন্যান্য যুগে যা তাদের নিজ নিজ যুগধর্ম দ্বারা অর্জন করা যেত কলিযুগে কেবল হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার মাধ্যমে এই ফল অর্জন করা যায় । এর একটি বিশেষ কারণ মহাপ্রভু বর্ণনা করেছেন –

‘‘এই কলিযুগে, ভগবানের দিব্য নাম হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। কেবলমাত্র এই দিব্যনাম কীর্তন করার মাধ্যমে যেকোনো জীব সাক্ষাৎ ভগবানের সঙ্গ লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে। যিনি শ্রবণ কীর্তন করেন তিনি অবশ্যই উদ্ধার লাভ করেন। এই নামের প্রভাবেই কেবল সমস্ত জগৎ নিস্তার পেতে পারে। "

ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ‘শ্রীকৃষ্ণ সংহিতায়’-এ প্রসঙ্গে একটি সুন্দর বিবৃতি পাওয়া যায়। তিনি বর্ণনা করেছেন মানুষের উন্নতির স্তর বিবেচনা করে পূর্ববর্তী গ্রন্থ সংকলকগণ বিভিন্ন যুগে জীবদেরকে উদ্ধার করার নিমিত্ত ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্র নির্ধারণ করেন। এগুলুকে বলা হয় তারকব্রহ্ম নাম। যুগে যুগে জীবের অধঃপতন হয় তথাপি বিভিন্ন রসভেদে এই মন্ত্রগুলো ক্রমাগত উন্নত হয়।

সত্যযুগের মন্ত্র ছিল –
নারায়ণ পরা বেদা নারায়ণ পরাক্ষরা।
নারায়ণ পরা মুক্তি নারায়ণ পরাগতা।।

এই প্রার্থনাটির মধ্য দিয়ে নারায়ণরূপে পরম সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা শান্ত রস এবং ঈষৎ দাস রসের ভক্তি বর্তমান ছিল। 

পরবর্তী যুগ ত্রেতা যুগের তারকব্রহ্ম নাম ছিল

রাম নারায়ণ কান্ত অনন্ত মুকুন্দ মধুসূদন।
কৃষ্ণ কেশব কংসারে হরে বৈকুণ্ঠ বামন।।

এগুলর সবই ভগবানের বীরত্ব সূচক নাম।

মধুসূদন ( মধু নামক আসুরের দলনকারী) এবং কংসারী (কংসের শত্রু) যা দাস্য রসের নির্দেশক। কৃষ্ণের বন্ধুদের এভাবে সম্বোধন করা স্বাভাবিক। এভাবে ত্রেতা যুগে পূর্ণ দাস্য এবং সখ্য রসের আভাস বর্তমান ছিল। কিন্তু শ্রদ্ধার ভাবটি তখনও বর্তমান ।

দ্বাপর যুগের মন্ত্র ছিল নিম্নরূপ :

হরে মুরারে মধুকৈটভারে গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দ শৌরে।
যজ্ঞসে নারায়ণ কৃষ্ণ বিষ্ণো নিরাশ্রয়ং মাং জগদীশ রক্ষ।।

এখানে উল্লেখিত নামগুলো কৃষ্ণকে নির্দেশ করে যিনি অনাথের নাথ। এবং এ স্তরে শান্ত, দাস্য সখ্য এবং বাৎসল্য রস বিদ্যমান।

কলিযুগের তারকব্রহ্ম নাম হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র –

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর এক্ষেত্রে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের একটি বিশেষ দিক বর্ণনা করেছেন –

"এই হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ভগবানের সবচেয়ে মধুর নাম। এই মন্ত্রে মুক্তির জন্য কোনো প্রার্থনা নেই। কিন্তু এখানে প্রগাঢ় আসক্তি সমন্বিত সর্বরসের উদ্দীপন বিদ্যমান। এখানে ভগবানের কোনো বীরত্ব বা মুক্তি প্রদানের কথা উল্লেখ নেই। এই মন্ত্র কেবল তখনই প্রকাশিত হয় যখন পরমাত্মার সাথে আত্মার বন্ধন ভক্তির দ্বারা রচিত হয়। এই নাম শুধুমাত্র মাধুর্য রসের ভক্তদের জন্য। নিরন্তর এই নাম স্মরণই ভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠ আরাধনা।

গ্রন্থ : হরিনামামৃতসিন্ধু

 যুগ ধর্ম হরি নাম  " উপভোগ করো আল ্ লাহ ্ র নামে, আর আল ্ লাহ ্ র নামে, আর কোনো ধর ্ ম ছাড়া এটা হ্যারি পটার নামের একটি রাজত্বের নাম । এটা সব śāsrēra এর অর্থ."
এই হরি এই কলি ধর্মের সাথে এই কলি নাম । বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন ধর্ম বিভিন্ন ধর্মের যুগ যুগ ।
শব্দ সংক্রান্ত বিবরণ
1. সত্য যুগ: দ্য ফিট ধ্যান
2. ত্রেতা যুগ: অপারেশন সার্চলাইট
3. দ্বাপর যুগ: শ্রী বিষ্ণু arcana পা
4. টি কালী যুগ: হরি নাম sankirtan

ইহা তাদের নিজেদের নিজ নিজ নিজ জীবনের জন্য এই বছর ধরে ধর "হরে কৃষ্ণ মহা" এর জন্য এই ফলাফল জপতপ । এটা একটি বিশেষ কারণ, ঈশ্বর বর্ণনা করেছেন ।

' এই কলি বছর আল ্ লাহর নামে এই কলি নামের নামের নাম হল শ্রী কৃষ্ণ অবতার । শুধু এই দিব্য এর সাথে ঈশ্বরের সাথে কোন জীবনের জন্য, ঈশ্বরের সাথে যে কোন জীবনের জন্য তার সাথে দেখা হয় । তিনি যিনি কীর্তন করতে পারেন তার নাম নাম । এটাই বিশ্বের একমাত্র পথ তাকে পেতে পারে । " " "

ভক্তি বিনোদ ঠাকুর 'শ্রী কৃষ্ণ sanhitāẏa'-এ একটি সুন্দর বিবৃতি । তিনি অনেক ভালো কিছু কিতাব বিবেচনা করেন, বিভিন্ন বয়স saṅkalakagaṇa জীবনের জন্য বিভিন্ন বয়স saṅkalakagaṇa জীবন উদ্ধার করেন । এটা বলা হয় । তার kabrahma নাম । যুগ যুগ adhaḥpatana বাস করছে, কিন্তু এই mantragulō rasabhēdē ক্রমাগত ক্রমাগত থাকে ।

সত্য যুগের মন্ত্র ।
হল ksara.
প্রভুর রাগ থেকে মুক্তি পায় না ।।

এতে প ্ রত ্ যেক নামাযের জন ্ যে প ্ রত ্ যেক নামাযের জন ্ যে প ্ রত ্ যাবর ্ তন করা হয়, এবং বলা হয় যে,

ভোক্তা এর পরবর্তী যুগের প্রথম যুগের নাম ছিল তার নাম ।

রাম নারায়ণ কান্ত অনন্ত মুকুন্দ মধুসূদন.
হরে কৃষ্ণ কেশব kansaré baikuṇṭha বামন ।।

সকল ēgulara ঈশ্বরের শক, নাম না করার জন্য নয় ।

মধুসূদন (মধু) এবং kansārī (মধু), যা আল ্ লাহ ্ র বান ্ দা হচ ্ ছেন আল ্ লাহ ্ র বান ্ দা । কৃষ্ণ বন্ধুরা স্বাভাবিক হয়ে গেছে । এই পথে ভোক্তা দাস ও sakhya এর মধ্যে ভোক্তা ও sakhya এর ইঙ্গিত দেওয়া হয় । কিন্তু সম্মান কথা মনে হচ্ছে, এবং বর্তমান ।

দ্বাপর সময় হল মন্ত্র মন্ত্র হল:

হরে murārē হানি kaiṭabhārē গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দ saure.
এর একজনকে ।।

এই যে কৃষ্ণ উল্লেখিত নাম হল কৃষ্ণ নাম । আর এই স্তরে, শান্ত এবং sakhya bāṯsalya কাজের জন্য পাওয়া যাচ্ছে ।

তাঁর kabrahma হরে এর নামে কলি-মন্ত্র-মন্ত্র-এর নাম-মন্ত্র-এর নাম ।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।

শ্রীলা ভক্তি বিনোদ ঠাকুর এই মামলা, হরে কৃষ্ণ-হ্যারি পটার একটি বিশেষ দিক-বর্ণিত হয়েছে ।

" এই হল হরে কৃষ্ণ মহা হল ঈশ্বরের সবচেয়ে মধুর নাম । এই মন্ত্রে জন্য এই মন্ত্রে জন্য । কিন্তু সেখানে কোন আসক্তি নেই । ্ উদ্দীপন উদ্দীপন এর মত শক্তিশালী । আর এই যে, আল ্ লাহ ্ র জন ্ য, আর কোন কথা নয় । এটি হল একমাত্র মন্ত্র এবং প্রকাশ করা হয় যখন তার দ্বারা আত্মার বন্ধন হয় । এই নামটি শুধুমাত্র এই নাম-এর নাম হল এই নামে । স ্ মরণ করো, আল ্ লাহ ্ র স ্ মরণ

বই: হরি নাম
 Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger