• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

ভক্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভক্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০৫ মে ২০২২

‘রামের ইচ্ছা’ গল্পটি কি?

 একজন ভক্ত -- ‘রামের ইচ্ছা’ গল্পটি কি?

শ্রীরামকৃষ্ণ -- “..........সমস্ত তাঁকে সমর্পণ করো -- তাঁকে আত্মসমর্পণ করো। তাহলে আর কোন গোল থাকবে না। তখন দেখবে, তিনিই সব করছেন। সবই রামের ইচ্ছা।” কোন এক গ্রামে একটি তাঁতী থাকে। বড় ধার্মিক, সকলেই তাকে বিশ্বাস করে আর ভালবাসে। তাঁতী হাটে গিয়ে কাপড় বিক্রি করে। খরিদ্দার দাম জিজ্ঞাসা করলে বলে, রামের ইচ্ছা, সুতার দাম একটাকা, রামের ইচ্ছা মেহন্নতের দাম চারি আনা, রামের ইচ্ছা, মুনাফা দুই আনা। কাপড়ের দাম রামের ইচ্ছা একটাকা ছয় আনা। লোকের এত বিশ্বাস যে তৎক্ষণাৎ দাম ফেলে দিয়ে কাপড় নিত। লোকটি ভারী ভক্ত, রাত্রিতে খাওয়াদাওয়ার পরে অনেকক্ষণ চণ্ডীমণ্ডপে বসে ঈশ্বরচিন্তা করে, তাঁর নামগুণকীর্তন করে। একদিন অনেক রাত হয়েছে, লোকটির ঘুম হচ্ছে না, বসে আছে, এক-একবার তামাক খাচ্ছে; এমন সময় সেই পথ দিয়ে একদল ডাকাত ডাকাতি করতে যাচ্ছে। তাদের মুটের অভাব হওয়াতে ওই তাঁতীকে এসে বললে, আয় আমাদের সঙ্গে -- এই বলে হাত ধরে টেনে নিয়ে চলল। তারপর একজন গৃহস্থের বাড়ি গিয়ে ডাকাতি করলে। কতকগুলো জিনিস তাঁতীর মাথায় দিলে। এমন সময় পুলিশ এসে পড়ল। ডাকাতেরা পালাল, কেবল তাঁতীটি মাথায় মোট ধরা পড়ল। সে রাত্রি তাকে হাজতে রাখা হল। পরদিন ম্যাজিস্টার সাহেবের কাছে বিচার। গ্রামের লোক জানতে পেরে সব এসে উপস্থিত। তারা সকলে বললে, ‘হুজুর! এ-লোক কখনও ডাকাতি করতে পারে না’। সাহেব তখন তাঁতীকে জিজ্ঞাসা করলে, ‘কি গো, তোমার কি হয়েছে বল’। তাঁতী বললে, ‘হুজুর! রামের ইচ্ছা, আমি রাত্রিতে ভাত খেলুম। তারপরে রামের ইচ্ছা, আমি চণ্ডীমণ্ডপে বসে আছি, রামের ইচ্ছা অনেক রাত হল। আমি, রামের ইচ্ছা, তাঁর চিন্তা করছিলাম আর তাঁর নাম গুনগাণ করছিলাম। এমন সময়ে রামের ইচ্ছা, একদল ডাকাত সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। রামের ইচ্ছা তারা আমায় ধরে টেনে লয়ে গেল। রামের ইচ্ছা, তারা এক গৃহস্থের বাড়ি ডাকাতি করলে। রামের ইচ্ছা, আমার মাথায় মোট দিল। এমন সময় রামের ইচ্ছা, পুলিস এসে পড়ল। রামের ইচ্ছা, আমি ধরা পড়লুম। তখন রামের ইচ্ছা, পুলিসের লোকেরা হাজতে দিল। আজ সকালে রামের ইচ্ছা, হুজুরের কাছে এনেছে’।

“অমন ধার্মিক লোক দেখে, সাহেব তাঁতীটিকে ছেড়ে দিবার হুকুম দিলেন। তাঁতী রাস্তায় বন্ধুদের বললে, রামের ইচ্ছা, আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। সংসার করা, সন্ন্যাস করা, সবই রামের ইচ্ছা। তাই তাঁর উপর সব ফেলে দিয়ে সংসারে কাজ কর।

“তা না হলে আর কিই বা করবে?

“একজন কেরানি জেলে গিছিল। জেল খাটা শেষ হলে, সে জেল থেকে বেরিয়ে এল। এখন জেল থেকে এসে, সে কি কেবল ধেই ধেই করে নাচবে? না, কেরানিগিরিই করবে?

“সংসারী যদি জীবন্মুক্ত হয়, সে মনে করলে অনায়াসে সংসারে থাকতে পারে। জার জ্ঞানলাভ হয়েছে, তার এখান সেখান নাই। তার সব সমান। যার সেখানে আছে, তার এখানেও আছে।


Written by: Prithwish Ghosh

Share:

৩১ মে ২০১৮

ভগবদ্ভক্ত প্রহ্লাদের গু‌ণের বর্ণন‌

                                                      ওঁ ন‌মো ভগব‌তে বাসু‌দেবায়


দেব‌র্ষি নারদ বল‌লেন ---- হে যু‌ধি‌ষ্ঠির ! দৈত্যরাজ হিরণ্যক‌শিপুর বড়ই অদ্ভূত চার‌টি পুত্র ছিল । তা‌দের ম‌ধ্যে প্রহ্লাদ সর্ব - ক‌নিষ্ঠ হ‌লেও গুণবত্তায় শ্রেষ্ঠ ছি‌লেন । তি‌নি দ্বিজভক্ত , সৌম্যস্বভাব , সত্যপ্রতিজ্ঞ , জি‌তে‌ন্দ্রিয় , সর্বভূ‌তের প্র‌তি আত্মবৎ দৃষ্টিসম্পন্ন , সর্বজন‌প্রিয় এবং জীবকু‌লের প্রকৃত হি‌তৈষী ছি‌লেন ।

মান্যজ‌নের চর‌ণে সেব‌কের ম‌তো প্রণত থাক‌তেন । দ‌রিদ্র‌দের প্র‌তি তাঁর ছিল পিতৃসম স্নেহ । সমবয়সী‌দের তি‌নি ভ্রাতৃসম প্রী‌তির চ‌ক্ষে দেখতেন । আর গুরুজন‌দের তো ভগবা‌নের ম‌তো ভ‌ক্তি কর‌তেন । বিদ্যা , ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্যসম্পন্ন এবং উচ্চকুলজাত হওয়া স‌ত্ত্বেও অহংকার এবং ঔদ্ধ‌ত্যের লেশমাত্রও তাঁর ম‌ধ্যে ছিল না ।

মহৎ দুঃ‌খেও তিনি তিলমাত্র ভীত হ‌তেন না । ইহ‌লোক এবং পর‌লো‌কের সকল বিষয়ে তাঁর প্রভূত দেখা এবং শোনা অর্থাৎ প্রকৃত জ্ঞান ছিল কিন্তু সেসবই তি‌নি অসার এবং অসত্য ব‌লে ম‌নে কর‌তেন । সেইজন্য তাঁর ম‌নে কো‌নো বস্তুর প্র‌তি আকাঙ্ক্ষা ছিল না । তাই তাঁ‌র চিত্তে কো‌নো প্রকার কামনার উ‌দ্রেক হত না । অসুরকু‌লে জন্ম হওয়া স‌ত্ত্বেও তার ম‌ধ্যে আসু‌রিক প্রবৃ‌ত্তির লেশমাত্রও ছিল না ।

ভগবান যেমন অনন্তগুণসম্পন্ন , প্রহ্লা‌দেরও তেমন গুণাব‌লির কোনো সীমা ছিল না । যু‌গে যু‌গে মহাত্মা এবং ক‌বিবৃন্দ তাঁ‌কে আদর্শ হিসা‌বে গ্রহণ ক‌রে তাঁর চ‌রিত্র বর্ণনায় ব্রতী হ‌য়ে‌ছেন কিন্তু অদ্যাব‌ধি তাঁর মাহা‌ত্ম্যের সীমা নির্ণয় কর‌তে পা‌রেন‌নি ।

হে যু‌ধি‌ষ্ঠির ! সাধারণভা‌বে দেবগণ অসুর‌দের শত্রু তবু্ও ভগবদ্ভক্তদের চরিত্রগাথা শোনার জন্য আহূত সভায় তাঁরা অন্যভক্ত‌দের প্রহ্লা‌দের স‌ঙ্গে তুলনা ক‌রে তাঁ‌দের সম্মান প্রদর্শন ক‌রেন । অতএব আপনার ম‌তো অজাতশত্রু ভগবদ্ভক্ত যে তাঁর সম্মান কর‌বেন এ‌তে আর স‌ন্দেহ কী ?

তাঁর ( প্রহ্লা‌দের ) ম‌হিমা বর্ণনা করার জন্য অগ‌ণিত গুণরাশির কীর্তন বা শ্রব‌ণের কোনো প্র‌য়োজন নেই । ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের চর‌ণে জন্মগত স্বাভাবিক ভা‌লোবাসা - তাঁর ম‌হিমা প্রকা‌শের জন্য এই এক‌টি গুণই য‌থেষ্ট ।

হে যু‌ধি‌ষ্ঠির ! প্রহ্লাদ বাল্যকা‌লেই খেলাধুলা ত্যাগ ক‌রে ভগবানের ধ্যা‌নে তন্ময় হ‌য়ে নিশ্চলভা‌বে অবস্থান কর‌তেন । শ্রীকৃ‌ষ্ণের অনুগ্রহ তাঁর হৃদয়‌কে এমনভা‌বে আচ্ছন্ন ক‌রে রে‌খে‌ছিল যে জাগ‌তিক ( সুখ দুঃ‌খের ) কোনো বোধই তাঁর থাকত না । তাঁর ম‌নে হত যে ভগবান সকল সময় তাঁ‌কে নি‌বিড় অা‌শ্লে‌ষে বেঁ‌ধে রে‌খে‌ছেন তাই তাঁর শোওয়া - বসা , খাওয়া - জলপান , হাঁটা - চলা বা কথা বলার সম‌য়েও - এসব বিষ‌য়ের সম্প‌র্কে কো‌নো বোধই থাকত না ।

কখ‌নো কখ‌নো " এই বু‌ঝি ভগবান আমায় ছে‌ড়ে চ‌লে গে‌লেন " - এই ম‌নে ক‌রে তাঁর হৃদয় দুঃ‌খে এতটাই কাতর হত যে , তি‌নি উ‌চ্চৈঃস্ব‌রে ক্রন্দন কর‌তেন । আবার কখ‌নো অন্তরে ভগবান‌কে নি‌বিড়ভাবে অনুভব করে এতই আন‌ন্দিত হ‌তেন যে হা হা ক‌রে হে‌সে উঠ‌তেন । কখ‌নো ভগব‌চ্চিন্তায় এতই মধুর আ‌বে‌শে আ‌তিষ্ট হ‌তেন যে তি‌নি গাই গাই‌তেন ।

কোনোসময় হঠাৎ উৎক‌ন্ঠিত হয়ে চিৎকার ক‌রে উঠ‌তেন । কখ‌নো লোকলজ্জ‌া ত্যাগ ক‌রে প্রেমভরে নৃত্য কর‌তেন । আবার কখনো বা ভগবা‌নের লীলা চিন্ত‌নে এমন মগ্ন হ‌য়ে যে‌তেন যে নি‌জেকেই হা‌রি‌য়ে ফে‌লে ভগবা‌নের অনুকরণ কর‌তে আরম্ভ কর‌তেন । কখ‌নো অন্ত‌রে ভগবা‌নের কোমল স্প‌র্শ অনুভব ক‌রে আনন্দমগ্ন চি‌ত্তে নির্বাক হ‌য়ে শান্তভা‌বে ব‌সে থাক‌তেন । সেইসময় তি‌নি পুল‌কে রোমা‌ঞ্চিত হ‌তেন । ভা‌বে বি‌ভোর অর্ধ - নিমী‌লিত নে‌ত্রে অ‌বিচল প্রে‌মের আনন্দাশ্রু টলমল করত ।

ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের চরণকম‌লে এইরকম ঐকা‌ন্তিক ভ‌ক্তি একমাত্র ভগবদ্ভক্ত নি‌ষ্কিঞ্চন মহাত্মা‌দের সঙ্গ কর‌লেই লাভ করা যায় । কৃষ্ণ‌প্রে‌মে তি‌নি পরমান‌ন্দে মগ্ন থাক‌তেন এবং সেইসব দুর্ভাগ্য ব্য‌ক্তি যারা কুসঙ্গে প‌ড়ে মান‌সিকভা‌বে অত্যন্ত দীন হীন , তা‌দেরও বারবার শা‌ন্তি প্রদান কর‌তেন ।

যু‌ধি‌ষ্ঠির ! প্রহ্লাদ ভগবা‌নের পরম প্রে‌মিক ভক্ত , অত্যন্ত ভাগ্যশালী এবং উচ্চ‌কো‌টির মহাত্মা পুরুষ ছি‌লেন । হিরণ্যক‌শিপু এইরকম ধা‌র্মিক পুত্র‌কে অপরাধী ঘোষণা ক‌রে তাঁর অ‌নিষ্ট করার চেষ্টা কর‌তে লাগলেন ।

(C)  Joy Shree Radha Madhav
Share:

১৯ নভেম্বর ২০১৭

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম

জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর।
কৃষ্ণচন্দ্র কর দয়া করুণাসাগর।।
জয় রাধে গোবিন্দু গোপাল বনমালী।
শ্রীরাধার প্রাণধন মুকন্দ মুরারি।।
হরিনাম বিনে রে গোবিন্দু নাম বিনে।
বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে।।
দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।
না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ চরণার বিন্দে।।
কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।
মিছে মায়ায় বদ্ধ হ’য়ে বৃক্ষসম হৈনু।।
ফলরূপে পুত্র কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে।
কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে।।
যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দৈবকী উদরে।
মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে।।
বসুদেব রাখি এলো নন্দের মন্দিরে।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে।।
শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।
১ যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন।।
২ উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল।
৩ ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল।।
৪ সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।
৫ শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল রাজা ভাই।।
৬ ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী।
৭ কালসোনা নাম রাখে রাধা-বিনোদিনী।।
৮ কুজ্বা রাখিল নাম পতিত-পাবন হরি।
৯ চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন বংশীধারী।।
১০ অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।
১১ কৃষ্ণ নাম রাখেন গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া।।
১২ কন্বমুনি নাম রাখে দেব চক্রপাণী।
১৩ বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী।।
১৪ গজহস্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।
১৫ অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ন।।
১৬ পুরন্দর নাম রাখে দেব শ্রীগোবিন্দ।
১৭ দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু।।
১৮ সুদাম রাখিল নাম দারিদ্র-ভঞ্জন।
১৯ ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন।।
২০ দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন সুধীর।
২১ পশুপতি নাম রাখে গরুড় মহাবীর।।
২২ যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর।
২৩ বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গাল ঈশ্বর।।
২৪ বাসুকি রাখিল নাম দেব-সৃষ্টি স্থিতি।
২৫ ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথি।।
২৬ নারদ রাখিল নাম ভক্ত প্রাণধন।
২৭ ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ।।
২৮ সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথি।
২৯ জাম্বুবতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি।।
৩০ বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার।
৩১ অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার।।
৩২ ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।
৩৩ পঞ্চমুখে রাম নাম গান ত্রিপুরারি।।
৩৪ কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী।
৩৫ প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারী।।
৩৬ বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি-মনোহর।
৩৭ বিশ্বাবসু নাম রাখে নব জলধর।।
৩৮ সম্বর্ত্তক নাম রাখে গোবর্দ্ধনধারী।
৩৯ প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজনারী।।
৪০ অদিতি রাখিল নাম আরতি-সুদন।
৪১ গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জুন।।
৪২ মহাযোদ্ধা নাম রাখি ভীম মহাবল।
৪৩ দয়ানিধি নাম রাখে দরিদ্র সকল।।
৪৪ বৃন্দাবন-চন্দ্র নাম রাখে বিন্দুদূতি।
৪৫ বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি।।
৪৬ বাণী পতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি।
৪৭ লক্ষ্মীপতি নাম রাখে সুমন্ত্র সারথি।।
৪৮ সন্দীপনি নাম রাখে দেব অন্তর্যামী।
৪৯ পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বাম।।
৫০ পদ্মযোনী নাম রাখে অনাদির আদি।
৫১ নট-নারায়ন নাম রাখিল সম্বাদি।।
৫২ হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম।
৫৩ ললিতা রাখিল নাম বাদল-শ্যাম।।
৫৪ বিশাখা রাখিল নাম অনঙ্গমোহন।
৫৫ সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রীবংশীবদন।।
৫৬ আয়ন রাখিল নাম ক্রোধ-নিবারণ।
৫৭ চন্ডকেশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন।।
৫৮ জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্তমণি।
৫৯ গোপীকান্ত নাম রাখে সুদাম ঘরণী।।
৬০ ভক্তগণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ।
৬১ দুর্বাসা নাম রাখে অনাথের নাথ।।
৬২ রাসেশ্বর নাম রাখে যতেক মালিনী।
৬৩ সর্বযজ্ঞেশ্বর নাম রাখেন শিবানী।।
৬৪ উদ্ধব রাখিল নাম মিত্র-হিতকারী।
৬৫ অক্রুর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী।।
৬৬ গুঞ্জমালী নাম রাখে নীল-পীতবাস।
৬৭ সর্ববেত্তা নাম রাখে দ্বৈপায়ণ ব্যাস।।
৬৮ অষ্টসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর।
৬৯ সুরলোকে নাম রাখে অখিলের সার।।
৭০ বৃষভানু নাম রাখে পরম ঈশ্বর।
৭১ স্বর্গবাসী নাম রাখে সর্ব পরাৎপর।।
৭২ পুলোমা রাখেন নাম অনাথের সখা।
৭৩ রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা।।
৭৪ চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি দমন।
৭৫ পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন-রঞ্জন।।
৭৬ কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর।
৭৭ ভাণ্ডারীক নাম রাখে পূর্ণ শশধর।।
৭৮ সুমালী রাখিল নাম পুরুষ প্রধান।
৭৯ পুরঞ্জন নাম রাখে ভক্তগণ প্রাণ।।
৮০ রজকিনী নাম রাখে নন্দের দুলাল।
৮১ আহ্লাদিনী নাম রাখে ব্রজের গোপাল।।
৮২ দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি।
৮৩ জ্যোতির্ম্ময় নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি।।
৮৪ অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্রেশ্বর।
৮৫ গৌতম রাখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর।।
৮৬ মরীচি রাখিল নাম অচিন্ত্য-অচ্যুত।
৮৭ জ্ঞানাতীত নাম রাখে শৌনকাদিসুখ।।
৮৮ রুদ্রগণ নাম রাখে দেব মহাকাল।
৮৯ সুরগণ নাম রাখে ঠাকুর দয়াল।।
৯০ সিদ্ধগণ নাম রাখে পুতনা-নাশন।
৯১ সিদ্ধার্থ রাখিল নাম কপিল তপোধন।।
৯২ ভাদুরি রাখিল নাম অগতির গতি।
৯৩ মৎস্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি।।
৯৪ শুক্রাচার্য্য নাম রাখে অখিল বান্ধব।
৯৫ বিষ্ণুলোকে নাম রাখে দেব শ্রীমাধব।।
৯৬ যদুগণ নাম রাখে যদুকুলপতি।
৯৭ অশ্বিনীকুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি।।
৯৮ অর্য্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারণ।
৯৯ সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন।।
১০০ পদ্মাক্ষ রাখিল নাম ভ্রমরী-ভ্রমর।
১০১ ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচর।।
১০২ বংকচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমঞ্জরী।
১০৩ মাধুরা রাখিল নাম গোপী-মনোহারী।।
১০৪ মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্টপুরণ।
১০৫ কুটিলা রাখিল নাম মদনমোহন।।
১০৬ মঞ্জরী রাখিল নাম কর্ম্মব্রহ্ম-নাশ।
১০৭ ব্রজব নাম রাখে পূর্ণ অভিলাস।।
১০৮ দৈত্যারি দ্বারিকানাথ দারিদ্র-ভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা-নিবারণ।।
স্বরূপে সবার হয় গোলকেতে স্থিতি।
বৈকুন্ঠে ক্ষীরোদশারী কমলার পতি।।
রসময় রসিক নাগর অনুপম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম।।
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারকব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর।।
কল্পতরু কমললোচন হৃষীকেশ।
পতিত-পাবন গুরু জ্ঞান-উপদেশ।।
চিন্তামণি চতুর্ভুজ দেব চক্রপাণি।
দীনবন্ধু দেবকী নন্দন যাদুমনি।।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা।।
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার।।
শততার সুবর্ণ গো কোটি কন্যাদান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণ নামের সমান।।
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি।।
শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন।।
কৃষ্ণনাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর।।
ব্রহ্ম-আদি দেব যারেঁ ধ্যানে নাহি পায়।
সে ধন বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়।।
হিরণ্যকশিপুর উদর-বিদরণ।
প্রহ্লাদে করিল রক্ষা দেব নারায়ণ।।
বলীরে ছলীতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ।।
অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধা কৃষ্ণের চরণ।।
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণকারী নন্দের নন্দন।
মথুরায় কংস-ধ্বংস লঙ্কায় রাবণ।।
বকাসুর বধ আদি কালীয়-দমন।
নরোত্তম কহে এই নাম সংকীর্ত্তণ।

হরে কৃষ্ণ সম্প্রদায়
Share:

২৫ অক্টোবর ২০১৭

ভক্ত ও ভগবান

ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের পরম ভক্ত শ্রু‌তি‌দেব বি‌দে‌হের রাজধানী মি‌থিলাতে বাস কর‌তেন । গৃহস্থ ব্রাহ্মণ ভগবদ্ভ‌ক্তি‌তেই পূর্ণ , পরম শান্ত , জ্ঞানী ও বৈরাগ্যবান ছি‌লেন । তি‌নি কামনার‌হিত থে‌কে যা পে‌তেন তা‌তেই সন্তুষ্ট থাক‌তেন । প্রারব্ধানুসা‌রে তি‌নি জীবন ধারণ নি‌মিত্ত সামগ্রী লাভ ক‌রে আন‌ন্দে বর্ণাশ্রমো‌চিত ধর্মপালনে তৎপর থাক‌তেন । দে‌শের রাজাও ব্রাহ্ম‌ণের মতন ভ‌ক্তিমান ছি‌লেন । রাজা তখন বহুলাশ্ব ; তি‌নিও অহংকারর‌হিত ছি‌লেন । অতএব শ্রু‌তিদেব ও বহুলাশ্ব দুইজনই ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের প্রিয় ছি‌লেন ।

একবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উভ‌য়ের উপর সন্তুষ্ট হ‌য়ে দারুককে রথ আন‌তে বল‌লেন আর তা‌তে আ‌রোহন ক‌রে দ্বারকা থে‌কে বি‌দেহ দে‌শের দি‌কে প্রস্থান কর‌লেন । শ্রীভগবা‌নের স‌ঙ্গে নারদ , বাম‌দেব , অত্রি , বেদব্যাস , পরশুরাম , অ‌সিত , শুক‌দেব , বৃহস্প‌তি , কণ্ব , মৈ‌ত্রেয় , চ্যবন আ‌দি ঋ‌ষিগণও গি‌য়ে‌ছি‌লেন । প‌থে তাঁ‌দের পূজার্চনা নি‌মিত্ত নাগ‌রিকবৃন্দ ও গ্রামবাসীগণ মাঙ্গ‌লিক দ্রব্যা‌দি নি‌য়ে অপেক্ষা কর‌ছি‌লেন ।শ্রীভগবান এই সমরয় আনর্ত , ধন্ব , কুরুজাঙ্গল , কঙ্ক , মৎস্য , পাঞ্চাল , কু‌ন্তি , মধু , কেকয় , কৌশল , অর্ণ আ‌দি বহু দে‌শের নর - নারী‌দের সাক্ষাৎ দর্শন দিয়ে ধন্য ক‌রে‌ছি‌লেন । প‌থে ভক্ত‌গণ ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের সরল উন্মুক্ত হাস্য ও প্রে‌মে পূর্ণ কৃপাকটাক্ষযুক্ত বদনমণ্ড‌লের মকরন্দসুধা পান ক‌রে ধন্য হ‌য়ে‌ছি‌লেন । তি‌নি দৃ‌ষ্টিদ্বারা পরম কল্যাণ ও তত্ত্বজ্ঞানও বিতরণ ক‌রে‌ছি‌লেন । অব‌শে‌ষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বি‌দেহ দে‌শে উপ‌স্থিত হ‌লেন ।

ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের শুভাগমন বার্তা নাগ‌রিকবৃন্দ ও গ্রামবাসী‌দের পরম আ‌নন্দে প‌রিপূর্ণ ক‌রে‌ছিল । তাঁরা মাঙ্গ‌লিক দ্রব্যা‌দি স‌হিত অভ্যর্থনা করবার জন্য এ‌গি‌য়ে এ‌সে‌ছি‌লেন । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ‌কে দর্শন ক‌রে তাঁ‌দের চিত্ত ও বদনমণ্ডল প্রেমন ও আন‌ন্দে উৎফুল্ল হ‌য়ে উ‌ঠে‌ছিল । তাঁরা সেই মু‌নি‌দের ও তার স‌ঙ্গে শ্রীভগবান‌কে দে‌খে যুক্তক‌রে অবনত মস্ত‌কে প্রণাম ক‌রে‌ছি‌লেন । তাঁ‌দের দর্শন করবার পরম সৌভাগ্য লাভ ক‌রে তাঁরা ধন্য হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিলেন ।মি‌থিলা অধিপতি বহুলাশ্ব ও শ্রু‌তি‌দেব দুইজনই ভাব‌লেন যে শ্রীভগবান তাঁ‌দেরই উপর অনুগ্রহ ক‌রে পদার্পণ ক‌রে‌ছেন । তাঁরা দুই জনই শ্রীভগবা‌নের পাদপদ্মে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম ক‌রে সক‌লের স‌ঙ্গে আ‌তিথ্য গ্রহণ করবার আ‌বেদন জানা‌লেন । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দুইজ‌নেরই প্রার্থনা স্বীকার ক‌রে উভয়‌কে প্রসন্ন করবার নি‌মিত্ত একই সম‌য়ে দুইজ‌নের কা‌ছেই গমন কর‌লেন । দুইজনই ভাব‌লেন যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেবল আমার গৃ‌হেই পদার্পণ ক‌রে‌ছেন অন্য কোথাও যান‌নি ।

বি‌দেহরাজ বহুলাশ্ব স্থিতধী ব্য‌ক্তি ছি‌লেন । পর‌মেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ও ঋ‌ষিমু‌নিগণ তাঁর গৃ‌হে এ‌সে‌ছেন তা তাঁর কা‌ছে পরম গৌর‌বের ছিল । তি‌নি অ‌তি‌থিসকল‌কে অ‌তি সুন্দর আস‌নে উপ‌বেশন করা‌লেন । তখন তাঁর বি‌চিত্র দশা । প্রেমা‌তিশয্যে ও ভ‌ক্তি প্রাব‌ল্যে তি‌নি গদগদ হ‌য়ে ছি‌লেন ; নয়নযুগল প্রেমাশ্রু ক্ষরণ কর‌তে তৎপর ছিল । তি‌নি পূজ্যতম অ‌তি‌থি‌দের পাদপ‌দ্মে প্রণাম নি‌বেদন ক‌রে পাদপ্রক্ষালন কর‌লেন ও সেই পাদোদক নিজ আত্মীয়স্বজন স‌মেত মস্তকে ধারণ কর‌লেন ।অতঃপর তি‌নি শ্রীভগবানের ও ভগবদ্ভক্তস্বরূপ ঋ‌ষিদের গন্ধ মাল্য , বস্ত্র , অলংকার , ধূপ , দীপ , অর্ঘ্য , ধেনু , বৃষ আ‌দি সমর্পণ ক‌রে পূজার্চনা কর‌লেন ।

যখন সক‌লে আহার্য ধারণ ক‌রে তৃপ্ত হ‌য়ে গে‌লেন তখন তি‌নি ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের চরণযুগল নি‌জ অ‌ঙ্কে ধারণ ক‌রে তা সেবা কর‌তে কর‌তে স্তু‌তি কর‌তে লাগ‌লেন । ভক্ত যে শ্রীভগবা‌নের নিজ স্বরূপ শ্রীবলরাম , অর্ধা‌ঙ্গিনী লক্ষ্মী ও পুত্র ব্রহ্মা থে‌কে বে‌শি প্রিয় তাই প্রমাণ করবার জন্য শ্রীভগবান তাঁর মতন সাধারণ ভক্ত‌কে দর্শন দি‌য়ে‌ছেন , এই কথা বহুলাশ্ব স্বীকার ক‌রে নি‌লেন ।‌তি‌নি প্রার্থনা কর‌লেন যেন শ্রীভগবান মু‌নিঋ‌ষি‌দের স‌ঙ্গে সেইখা‌নে বসবাস ক‌রেন যা‌তে তাঁ‌দের পদর‌জে নি‌মিবংশ পবিত্র হ‌য়ে যায় । সক‌লের জীবনদাতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাজা বহুলা‌শ্বের প্রার্থনা স্বীকার ক‌রে মি‌থিলাবাসী জনগণের কল্যা‌ণে সেইখা‌নে কিছু‌দিন অবস্থান কর‌লেন ।

যেমন রাজা বহুলাশ্ব ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও মু‌নিমণ্ডল‌কে পদার্পণ কর‌তে দে‌খে আনন্দমগ্ন হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছি‌লেন তেমনই ব্রাহ্মণ শ্রু‌তি‌দেব , ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং মু‌নিদের গৃ‌হে পদার্পণ কর‌তে দে‌খে আনন্দ বিহ্বল হ‌য়ে গে‌লেন । তি‌নি প্রণাম নি‌বেদন ক‌রে নৃত্য কর‌তে লাগ‌লেন । অতঃপর শ্রু‌তি‌দেব মাদুর , পিঁ‌ড়ি , কুশাসন পে‌তে তার উপর অ‌তি‌থি‌দের উপ‌বেশন করা‌লেন , স্বাগত ভাষণ আ‌দি দ্বারা তাঁ‌দের অ‌ভিন‌ন্দিত কর‌লেন ও নিজ ভার্যা স‌হিত অ‌তি আন‌ন্দে সক‌লের পা‌দপ্রক্ষালন কর‌লেন ।মহান সৌভাগ্যবান শ্রু‌তি‌দেব ভগবান ও ঋ‌ষি‌দের পা‌দোদ‌কে নিজ গৃহ‌কে ও আত্মীয়স্বজন‌কে সি‌ঞ্চিত ক‌রে দি‌লেন । তাঁর সকল ম‌নোরথ পূর্ণ হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল । তি‌নি আন‌ন্দে মত্ত হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছি‌লেন । তদনন্তর তি‌নি ফল , গন্ধ , সুবা‌সিত জল , সুগ‌ন্ধি মৃত্তিকা , তুলসী , কুশ , কমল আ‌দি অনায়াসলব্ধ পূজাসাগ্রমী এবং সত্ত্বগুণ বৃ‌দ্ধিকারী অন্নদ্বার‌া তাঁ‌দের আ‌রাধনা কর‌লেন ।

শ্রু‌তি‌দেব নি‌জে‌কে গৃহস্থাশ্র‌মের অন্ধকার কূ‌পে পতিত ম‌নে কর‌তেন ;তি‌নি সমস্ত তীর্থ‌কে তী‌র্থের মর্যাদা প্রদানকারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর নিবাসস্থান ঋ‌ষিমু‌নি‌দের পদরজ লাভ‌কে বিশ্বাস কর‌তে পার‌ছি‌লেন না । যখন সক‌লে আতিথ্য স্বীকার ক‌রে বিশ্রাম কর‌তে লাগ‌লেন তখন শ্রু‌তি‌দেব নিজ স্ত্রী - পুত্র ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজ‌নের স‌ঙ্গে তাঁ‌দের সেবার নি‌মিত্ত উপ‌স্থিত হ‌লেন । তি‌নি ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের পাদপদ্ম ধারণ করে স্তু‌তি কর‌তে লাগ‌লেন । তি‌নি ভগবানকে কী সেবা কর‌বেন তাই জিজ্ঞাস‌া কর‌লেন ?

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বল‌লেন - ' হে শ্রু‌তি‌দেব ! এই সকল মহান মু‌নিঋ‌ষি‌গণ তোম‌ার উপর অনুগ্রহ করবার জন্যই এইখা‌নে এ‌সে‌ছেন । এঁরা পদরজ দান ক‌রে জনগ‌ণের ও লোকসমূ‌হের কল্যা‌ণের জন্যই বিচরণ করছেন , সকল‌কে প‌বিত্র কর‌ছেন । দেবতা , পুণ্য‌ক্ষেত্র এবং তীর্থ আ‌দি তো দর্শন , স্পর্শ , অর্চন আ‌দি দ্বারা ধী‌রে ধী‌রে বহু‌দিন ধ‌রে প‌বিত্র ক‌রে থা‌কে কিন্তু এই সকল মহাপুরুষগণ নিজ দৃ‌ষ্টিদান কর‌েই সকল‌কে প‌বিত্র ক‌রে থা‌কেন । দেবতা‌দি‌তে যে প‌বিত্র করবার শ‌ক্তি বিদ্যমান থা‌কে তাও এইসকল মহাপুরু‌ষের কৃপা- দৃ‌ষ্টিদা‌নে লাভ হ‌য়ে থা‌কে । জগ‌তে ব্রাহ্মণ য‌দি তপস্যা , বিদ্যা , স‌ন্তোষ , আমার উপাসনা এবং আমার ভ‌ক্তি‌তে যুক্ত থাকে তাহ‌লে তা অ‌তি উৎকৃষ্ট ।

আমার এই চতুর্ভুজরূপও ব্রাহ্মণ‌দের থে‌কে বে‌শি প্রিয় নয় কারণ ব্রাহ্মণ সর্ব‌বেদময় আর আ‌মি সর্ব‌দেবময় । বু‌দ্ধির‌হিত মানব এই কথা না জে‌নে কেবল বিগ্রা‌দি‌তেই পূজ্য বু‌দ্ধি রা‌খে এবং গু‌ণের ম‌ধ্যেও দোষদর্শন ক‌রে আমারই আত্মস্বরূপ জগদ্গুরু ব্রাহ্ম‌ণের তিরস্কার ক‌রে । অতএব হে শ্রু‌তি‌দেব ! তু‌মি এই সকল ব্রহ্ম‌র্ষি‌দের আমারই স্বরূপ জ্ঞা‌নে পূর্ণ শ্রদ্ধা সহকা‌রের পূজার্চন‌া ক‌রো । আমার পূজা তা‌তেই হ‌য়ে যা‌বে । 'ভগবান শ্রীকৃ‌ষ্ণের এই আ‌দেশ লাভ ক‌রে শ্রু‌তিদেব শ্রীকৃষ্ণ ও সেই সকল ব্রহ্ম‌র্ষি‌দের একাত্মভা‌বে আরাধনা কর‌লেন ও তাঁ‌দের কৃপায় তি‌নি ভগবদ্ স্বরূপ লাভ কর‌লেন । রাজা বহুলাশ্বও সেই একই গ‌তি লাভ করলেন । আশ্চর্য হ‌তে হয় এই দে‌খে যে , যেমন ভক্ত ভগবান‌কে ভ‌ক্তি ক‌রে তেমনই ভগবানও ভ‌ক্তদের ভ‌ক্তি ক‌রেন । ভক্তযুগল‌কে প্রসন্ন করবার জন্য শ্রীভগবান দুই ভ‌ক্তের নিকটই এককা‌লে কিছু‌দিন অবস্থান ক‌রে এক বিরল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন কর‌লেন ।

জয় ভক্তের জয় ।

জয় ভগবা‌ন শ্রীকৃ‌ষ্ণের জয় ।

জয় শ্রীরাধা‌গোবি‌ন্দের জয় ।

হ‌রি‌বোল হ‌রি‌বোল হ‌রিবোল ।

Courtesy by: Joy Shree Radha Madhav
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।