• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

জীবন দর্শন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবন দর্শন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৬ ডিসেম্বর ২০২০

আজ্ঞাচক্র

 দেবী কালীর কপালের মধ্যিখানে জ্বলজ্বল করছে তৃতীয় নয়ন। তাই তিনি ত্রিনয়নী। এই তৃতীয় নয়নেই নাকি লুকিয়ে থাকে দেবীর দিব্যদৃষ্টি!

এ তো গেল দেবীর কথা। কিন্তু, আমরা? আমার-আপনার মতো আম আদমিরও কি তৃতীয় নয়ন থাকে?

আসলে তৃতীয় চক্ষু বিষয়টা কী? সেটা আমাদের আগে একটু বুঝে নিলে ভালো হয়।

মিথোলজি অনুযায়ী যা দেবীর ত্রিনয়ন, তা বাস্তবে আসলে মনঃসংযোগের এক উচ্চতর পর্যায়। যার মাধ্যমে সে গোটা বিশ্বকে অনুধাবন করতে পারে। সোজা ভাষায় বলতে গেলে, তৃতীয় চক্ষু বা 'থার্ড আই' সাধারণ মানুষের চেতনার এক বিশেষ ক্ষমতা, যা নিয়ন্ত্রণ করবে আমার-আপনার মন ও আবেগকে। নিয়মিত কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে আমি-আপনিও সেই ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেন।


কীভাবে আপনিও পেতেতে পারেন তৃতীয় নয়ন?

-

১) ধ্যানের অভ্যাস করুন। কপালের ঠিক মধ্যিখানে একটি নির্দিষ্ট কাল্পনিক বিন্দুতে মনঃসংযোগ করার চেষ্টা করুন। আমাদের দেহে (কল্পিত) সাতরকম চক্র রয়েছে, এক-একটি চক্রের সঙ্গে শরীর, মন ও আধ্যাত্মিকতার এক একরকম যোগ। এরকমই কোনও একটি চক্রকে ভেবে মনঃসংযোগের চেষ্টা করুন।


২) ধ্যানের জায়গা নির্দিষ্ট করুন। সাধারণত প্রকৃতির মাঝে খোলামেলা জায়গায় বসে ধ্যান করলে ভালো হয়।


৩) ধ্যানে বসারও নির্দিষ্ট ভঙ্গি আছে। মেঝেতে বজ্রাসনে/সুখাসনে বসুন। শিরদাঁড়া সোজা রাখুন। হাত জড়ো করে কোলের উপর রাখুন। মাটিতে বসতে যদি খুব অসুবিধা হয়, তাহলে ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে হাঁটুন। সমস্ত চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করুন।


৪) মনঃসংযোগের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সামনে একটি জ্বলন্ত মোমবাতি রাখতে পারেন।


৫) নিজেই একটা মন্ত্র বানান। চোখ বন্ধ করে বার বার আউড়ে চলুন সেটা। মনের বলুন শান্ত হতে। মনের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ান।


৬) অন্ধকার ঘরে শুয়ে শবাসন করে শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে নাভির উচু-নিচু হওয়ার প্রতি মনোযোগ দিন।


৭) ত্রাটক ও অশ্বিনী মুদ্রা সহযোগে জপ করুন।

--- মূল কথা 'আজ্ঞাচক্র' বা গুরুশরণ নিতে হবে।

----------------------------------

[**** এগুলো শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের সাহায্য অবশ্যই নেবেন, নয়তো ক্ষতি হবে।***]

----------------------------------

উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় আজ্ঞাচক্র জাগরিত হয় আমাদের দেহস্থিত 'পিনিয়াল গ্রন্থি'-র সক্রিয়তায়। আসুন জেনে নিই পিনিয়াল গ্রন্থির বিষয়ে -----

২৪ ঘণ্টায় দেহের হরমোন ক্ষরণের চক্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এই 'দেহঘড়ি'। মানুষের মাঝে কয়েক ধরনের চক্র গড়ে উঠতে পারে। তবে আসল বিষয় লুকিয়ে রয়েছে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক অংশে। হাইপোথ্যালামাসকে বলা হয় 'Master of Glands' অর্থাৎ গ্রন্থিদের গুরু।

মানুষের চোখে বিশেষ ধরনের ফটোসেনসিটিভ কোষ রয়েছে। সাধারণ দৃষ্টিশক্তি দিতে ব্যবহৃত হয় 'রডস' এবং 'কোনস' নামের কোষ। যখন চোখে আলো আসে তখন এই কোষগুলো মস্তিস্কের হাইপোথ্যালামাস অংশকে সতর্ক করে। এরাই এ তথ্য দেয় যে এখন দিন নাকি রাত? যখন হাইপোথ্যালামাস সিদ্ধান্ত দেয় যে এটা রাত, তখন পিনিয়াল গ্রন্থি মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ করে। এটি মানুষকে ঘুম এনে দেয়।

ঘুমে আছন্ন হয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং ঘুম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেগে ওঠার কাজটা দেহের যে গ্রন্থি করে থাকে তার নাম পিনিয়াল গ্রন্থি যাকে বিজ্ঞানীগণ নাম দিয়েছে 'তৃতীয় নয়ন' হিসাবে। কারন এই গ্রন্থি আলোতে সংবেদনশীল। এই গ্রন্থি এক ধরনের হরমোন নিঃসরন করে যাকে বলা হয় মেলাটোনিন। এই মেলাটোনিন নিঃসরন হওয়ার সাথে সাথে দেহের মধ্যে এক ধরনের রাসায়নিক ক্রিয়া শুরু হয় তখন মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এই গ্রন্থিটি অন্ধকারে ক্রিয়াশীল। সাধারত সন্ধ্যা হওয়ার পর থেকে এর নিঃসরন শুরু হয় যা ভোরের আলো না দেখা পর্যন্ত চলতে থাকে। ভোরের আলো দেখামাত্র এর নিঃসরন বন্ধ হয়ে যায় তখন ঘুমন্ত মানুষ সয়ংক্রিয়ভাবে জেগে ওঠে। শহুরে মানুষ এবং গ্রামের মানুষের ঘুমের মধ্যে অনেক তফাৎ দেখা যায়। যেমন-শহুরে মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত জেগে টিভি দেখে বা বই পড়ে যার কারনে তাদের পিনিয়াল গ্রন্থি আলোর কারনে ক্রিয়াশীল হতে পারে না। পক্ষান্তরে গ্রামের মানুষেরা সন্ধ্যায় অন্ধকার হয়ে আসলে তাদের পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরন হতে শুরু করে এবং তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। শেষ রাতে ভোরের আলো দেখা গেলেই পিনিয়ালের নিঃসরন বন্ধ হয়ে যায় এবং ঘুমন্ত মানুষ এমনিতেই জেগে যায়। এটাকেই বলে 'নিদ্রার দেহ ঘড়ি'। একবার যদি আপনার দেহ ঘড়ির কার্য্যকারীতা কমে যায় তখন ঘুম আসার জন্য আপনার ভিতর অস্থিরতা দেখা দেবে এবং মানসিক চাপের সৃষ্টি হবে। এর থেকে পরিত্রান পেতে অনিদ্রা আক্রান্ত ব্যাক্তি ঘুমের পিলের দাযরস্থ হয়।

লিখেছেনঃ Prithwish Ghosh


Share:

১৩ মে ২০২০

কেও মারা গেলে তার সন্তানেরা ৩৬৫ দিন অশুচ পালন করে কিন্তু কেন ?

কেও মারা গেলে তার সন্তানেরা ৩৬৫ দিন অশুচ পালন করে । কেন ?

কারণ ৩৬৫ দিনে , ৩৬৫ ঋন শোধ হয়। এই ঋন শোধ না হলে সেই সন্তানেরা পূজা অর্চনা আদি বৈদিক কাজের যোগ্য হয় না। আসুন দেখি ৩৬৫ ঋনগুলো কি কিঃ–

১) জন্মদান , ২) মাতার গর্ভে ধারন/ পিতার বীজ স্থাপন , ৩) গর্ভকালীন কষ্ট/ পিতার গর্ভকালীন মাতাকে দেখাশোনা , ৪) গর্ভকালীন চিন্তা , ৫) শিশুর মঙ্গলের জন্য ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা , ৬) আগলে রাখা , ৭) শিশুর মঙ্গলের জন্য ব্রত করা , ৮) শিশুর কল্যাণে সাধু সেবা , ৯) শিশুর কল্যাণে মন্দির যাত্রা , ১০) উত্তম শিশু লাভের জন্য তীর্থ যাত্রা , ১১) শিশুর কল্যাণে দান করা , ১২) নিজের সুখ সুবিধা বর্জন করা , ১৩) গর্ভস্থ শিশুর সঞ্চালন সহ্য করা/ পিতার ক্ষেত্রে রাত্র জাগরণ করত মাতাকে সান্ত্বনা দেওয়া , ১৪) শিশুর জন্য অমঙ্গলের আশায় ভীত হওয়া , ১৫) দাই আনা বর্তমানে চিকিৎসক হাসপাতাল , ১৬) অসহ্য গর্ভ যন্ত্রনা/ পিতার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা , ১৭) নাড়ীচ্ছেদনের কষ্ট/ পিতার ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিক নিয়ন্ত্রন রাখা, ১৮) দাইয়ের খরচ বর্তমানে হাসপাতালের খরচ , ১৯) শিশুকে স্তন্য পান/ পিতার ক্ষেত্রে উত্তম স্তন্যদুগ্ধের জন্য মাতাকে উত্তম ভোজন প্রদান , ২০) আতুর ঘর নির্মাণ / মাতার ক্ষেত্রে আতুর ঘরে কাঁথা বিছানো , ২১) আতুর ঘর নির্মাতা ঘরামি কে অর্থ প্রদান / মাতার ক্ষেত্রে উত্তম আতুর ঘর নির্মাণ কিনা পরীক্ষা করা ২২) আতুর ঘরে রাত জেগে প্রহরা , ২৩) শৃগাল- কুকুর- মশক- মক্ষী বিতরণ , ২৪) পিতার পুত্রের মুখ দেখার ব্যাকুলতা , মাতার ক্ষেত্রে পুত্রকে প্রহরা একপাশে থেকে পীঠ ব্যাথা উপেক্ষা করে , ২৫) পিতার দোলনা নির্মাণে খরচ/ মাতার দোলনা তে দোলা তে দেওয়া , ২৬) মাতা পিতার আদর , ২৭) মাতার ঘুমপাড়ানি সঙ্গীত / পিতার বাৎসল্য বশতঃ “খোকা-খুকী” বলে সম্বোধন , ২৮) মাতার স্তন্যে শিশুর কামড় দেওয়ার যন্ত্রনা সহ্য/ পিতার ক্ষেত্রে ক্রোড়ে মল মূত্র ত্যাগ করা সহ্য করা , ২৯) সন্তানকে বড় করা/ পিতার সংসার চালানো , ৩০) সন্তানের সজ্জা করা/ পিতার খরচ , ৩১) দুজনের চোখের মণি হয়ে থাকা , ৩২) সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা , ৩৩) ক্রীড়াচ্ছলে আঘাতপ্রাপ্ত হলে মাতা- পিতার চিন্তা, ৩৪) আঘাতের পর মাতা পিতার দুঃখ, ৩৫) মাতার উৎকণ্ঠা পিতার চিকিৎসক খরচা , ৩৬) উভয়ে মিলে যত্ন করা , ৩৭) ষষ্ঠী আদি মঙ্গল ব্রতে মায়ের উপোবাস ও পিতার পূজার দ্রব্যের আয়োজন করা , ৩৮) অন্নপ্রাশনে উভয়ের দায়িত্ব ও ব্রাহ্মণকে দক্ষিণা দানে সন্তুষ্ট করা , ৩৯) দশবিধ সংস্কারে উভয়ের দায়িত্ব , ৪০) হাতে খড়িতে উভয়ের ভূমিকা, ৪১) পিতার , সরস্বতী পূজার আয়োজন – মাতার সেই পূজায় জোগারযন্ত্র যেমন নৈবদ্য- আল্পনা- পূজা দ্রব্য সাজানো , ৪২) মাতা পিতাই প্রথম বিদ্যা দেন , ৪৩) মাতার বিদ্যা বিষয়ে উৎকণ্ঠা ও পিতার উপযুক্ত গুরু পাঠশালা বর্তমানে স্কুল ও শিক্ষক অন্বেষণ , ৪৪) উপযুক্ত স্কুলে ভর্তি হবার উৎকণ্ঠা , ৪৫) বিদ্যা বিষয়ে পিতার খরচা ও মাতার যত্ন , ৪৬) শিক্ষার মান নিয়ে উভয়ের দুশ্চিন্তা , ৪৭) পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা , ৪৮) বিদ্যার্থীর খারাপ ফলে প্রতিবেশীদিগের গঞ্জনা খোঁটা সহ্য করা , ৪৯) পুত্রের মঙ্গল নিমিত্ত শাসন, ৫০) পুত্রকে সঠিক দিশা দেখানো।



৫১) অসৎ সঙ্গ থেকে চিন্তা , ৫২) অসৎ সঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উভয়ের শাসন, ৫৩) উভয়ের সঠিক দিশা দেখানো, ৫৪) সন্তানের অসুখে দুশ্চিন্তা , ৫৫) মাতার উৎকণ্ঠা ও পিতার চিকিৎসক পথ্যের খরচ , ৫৬) উভয়ের রাত্রি জাগরণ করত নিদ্রা বিসর্জন , ৫৭) উভয়ের বার ব্রত ঈশ্বরের কৃপার জন্য কৃচ্ছতা গ্রহণ , ৫৮) মাতার পথ্য রন্ধন/ পিতার সেগুলির জোগার , ৫৯) সন্তানের বমন- পূরীষ পরিষ্কার / পিতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের বিধান মাতাকে শেখানো , ৬০) সন্তানকে আশ্বাস দেওয়া, ৬১) অসুখ অন্তে সন্তানকে শাসন ও যত্নে রাখা , ৬২) পুনঃ অসুখের আশাঙ্কায় চিন্তিত হওয়া , ৬৩) উচ্চ শিক্ষার জন্য উচ্চতর টোলে / বর্তমানে আরোও বড় শিক্ষালয়ে প্রেরন , ৬৪) তত প্রেরনের জন্য নানা দুশ্চিন্তা , ৬৫) পিতার উৎকণ্ঠা ও মায়ের উৎকণ্ঠা , ৬৬) মাতার উপদেশ ও পিতার সেই সংক্রান্ত খরচা , ৬৪) উচ্চ শিক্ষালয়ে সহপাঠী হতে খতির আশাঙ্কা , ৬৫) কষ্ট মনে চেপে শিক্ষালয়ে প্রেরণ , ৬৬) সন্তানের জন্য বুকে কম্পন , ৬৭) সন্তানের জন্য বিবিধ রান্না/ পিতার ক্ষেত্রে সেগুলো ক্রয় করা , ৬৮) মাতার খাদ্য পরিবেশন/ পিতার ক্ষেত্রে সন্তানকে উত্তম দ্রব্য প্রদানের জন্য মাতাকে অনুরোধ। ৬৯) পুত্রকে বাতাস দেওয়া/ পিতার ক্ষেত্রে পুত্রকে উত্তম দ্রব্য বেশী পরিমাণে গ্রহণের জন্য অনুরোধ , ৭০) দুজনের নিকট গল্প আখ্যান শোনা , ৭১) পিতামাতার সাথে বেড়ানো , ৭২) ভ্রমণকালে পিতামাতার যত্ন পাওয়া , ৭৩) ভ্রমণে পিতার খরচ ও মাতার ক্ষেত্রে পরিপাটি করে সন্তানকে সাজানো, ৭৪) পিতা মাতার ক্রোড়ে চড়ে পরিভ্রমণ , ৭৫) খুব কষ্টে পিতামাতা হাসিমুখে সন্তানকে ক্রোড়ে নিয়ে যাত্রা করা যেমন প্রবল গরমে , ৭৬) পিতার ক্ষেত্রে সন্তানের মাথায় ছত্র ধরা , মাতার ক্ষেত্রে আঁচল । ৭৭) মাতার ক্ষেত্রে সন্তানকে স্নান – শৌচাদি করানো/ পিতার ততবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া । ৭৮) দোকান হতে উত্তম আহার্য ক্রয় করা/ মাতার ক্ষেত্রে শিশুর মুখে তুলে দেওয়া । ৭৯) পিতার সাথে মেলা ভ্রমণ / মাতার কেশ বিন্যাস ও বস্ত্র বিন্যাস করা । ৮০) নিজের কথা ভুলে সন্তানের হাত ধরে চলা, ৮১) কঠিন জায়গায় ক্রোড়ে লয়ে চলা , ৮২) কঠিন জায়গা চলার সময় চরণে কাঁদা, গরম ভাব, কণ্টক বিদ্ধ হবার কষ্ট গ্রহণ করা , ৮৩) অভাবেও সন্তানকে আহার দেওয়া , ৮৪) অভাব বুঝতে না দেওয়া , ৮৫) নিজেদের অভাব শর্তেও উত্তম খাদ্য দেওয়া , ৮৬) অভাবে সন্তানের যত্ন নেওয়া, ৮৭) কেশ বিন্যাস ও বস্ত্রের জোগান অভাবেও করা , ৮৮) অভাব বুকে চেপে রাখার বেদনা , ৮৯) নিজেরা ক্ষুধায় থাকে , ৯০) নিজেদের নতুন বস্ত্রের কথা ভুলে যাওয়া , ৯১) নিজেদের চিকিৎসার খরচা বাঁচিয়ে সন্তানের জন্য তুলে রাখা , ৯২) বহু কষ্ট সহ্য করা , ৯৩) অভাবে গৃহতে বুঝতে না দেওয়া, ৯৪) খাদ্য সংগ্রহের জন্য দূরে যাত্রা, ৯৫) খাদ্য বহনের কষ্ট, ৯৬) সন্তানদের সাথে প্রীতি ভাব মনে কষ্ট চাপা দিয়ে , ৯৭) সন্তান দুঃখে থাকলে পিতা মাতার কষ্ট , ৯৮) সন্তানের মনের ব্যাথা বোঝার জন্য আপ্রান চেষ্টা , ৯৯) সন্তানের পক্ষে থাকে , ১০০) ব্যাথা দূরীকরণের উপায় খোঁজা ।


১০১) পীড়া দূরের জন্য নানা বুদ্ধি দেওয়া । ১০২) বুদ্ধিকে কাজে লাগানোর জন্য উপায় বর্ণন , ১০৩) বুদ্ধি খোঁজার জন্য নিদ্রা ব্যাতীত রাত্র জাগরণ , ১০৪) সন্তানকে অভয় প্রদান , ১০৫) বিপদে জড়ালে পাশে থাকা, ১০৬ ) ততজনিত উৎকণ্ঠা , ১০৭) পীড়া দূরের জন্য পিতামাতার সন্তানকে সেবা , ১০৮) উত্তমরূপে যত্ন নেওয়া , ১০৯) উত্তরকালের পীড়ার জন্য চিন্তা , ১১০) সন্তানের ক্রন্দন মোচন , ১১১) ক্রন্দন থামানোর জন্য দিবারাত্র নিদ্রা ব্যতীত সেবা , ১১২) উত্তম সামগ্রী দিয়ে ভোলানোর চেষ্টা , ১১৩) ঔষধ গ্রহণের জন্য নানা কায়দা অবলম্বন , ১১৪) সন্তানের পীড়া কষ্ট সহ্য করা, ১১৫) শল্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে সন্তানের আঘাত দেখে পিতামাতার অশ্রুপাত , ১১৬) ততজনিত চিন্তায় নিজ সুখ বিসর্জন , ১১৭) কবিরাজকে বর্তমানে ডাক্তার আনয়ন , ১১৮) চিকিৎসক আনার জন্য পথে উৎকণ্ঠা নিয়ে পিতার চলা/ মাতার সন্তানকে সেবা , ১১৯) উপযুক্ত পারিশ্রামিক দেওয়া/ মাতার ক্ষেত্রে চিকিৎসককে দেবদূত জ্ঞানে আরোগ্য কামনা করা , ১২০) ভালো চিকিৎসসার জন্য উত্তম চিকিৎসক গ্রহণ , ১২১) ততজনিত অর্থ ব্যায়/ মাতার চিন্তা , ১২২) অন্যত্র গমন , ১২৩) আরোগ্যলাভের দিনের প্রতীক্ষা , ১২৪) পিতার পথ্য সংগ্রহ / মাতার সেগুলি যত্নে খাওয়ানো , ১২৫) অসুখে উভয়ের ঠাকুরের কাছে পড়ে থাকা, ১২৬) সন্তানকে কর্মের ব্যাপারে সাহায্য, ১২৭) উভয়কে কর্মের ব্যাপারে বুদ্ধি দান , ১২৮) ততজনিত সুপারিশ করা , ১২৯) পুত্রের ক্ষেত্রে সন্তানকে নিজ ব্যবসা নিয়োগ/ কন্যার ব্যাপারে সাংসারিক বিষয় জ্ঞান দান , ১৩০) পুত্রের কর্ম পরিবেশ/ কন্যার সংসার পরিবেশ নিয়ে চিন্তা , ১৩১) পুত্রের কর্মস্থান হতে দেরীতে আসার চিন্তা/ কন্যার জল আনতে দেরীতে আশাঙ্কা , ১৩২) উভয়ের বয়োঃসন্ধিকাল নিয়ে চিন্তা , ১৩৩) উভয়ের পরবর্তী সংসার জীবন নিয়ে চিন্তা , ১৩৪) উভয়ের জন্য ঘটক সন্ধান , ১৩৫) ঘটকের দক্ষিণা/ মাতার ক্ষেত্রে উৎকণ্ঠা , ১৩৬) পুত্রের জন্য স্ত্রী/ কন্যার জন্য জামাতা সন্ধান , ১৩৭) ততজনিত খরচা আদি / মাতার চিন্তা , ১৩৮) পুত্র/ কন্যার শ্বশুরকূলের আপ্যায়ণ , ১৩৯) খাতির যত্ন , ১৪০) নিজ সুখ ভুলে খাতির যত্ন করা , ১৪১) খাতির যত্নে ত্রুটি না রাখা , ১৪২) পছন্দ/ অপছন্দ নিয়ে চিন্তা , ১৪৩) পিতার ক্ষেত্রে খরচ/ মাতার ক্ষেত্রে রন্ধন দ্বারা আত্মীয়কুটুম্বের সেবাযত্ন , ১৪৪) বিবাহ সংক্রান্ত চিন্তা , ১৪৫) বিবাহ স্থির করা, ১৪৬) পুত্রের/ কন্যার বিবাহের আগে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা , ১৪৭) পূজার উপবাস কৃচ্ছতা , ১৪৮) পূজাতে ব্যায়/ জোগারযন্ত্র , ১৪৯) ব্রাহ্মণকূলের আশীর্বাদ নেওয়া , ১৫০) বিবাহের প্রস্তুতি ,

১৫১) আত্মীয় দের নিমন্ত্রণ , ১৫২) আত্মীয় দের সেবা ও খরচা , ১৫৩) আত্মীয়দিগের নানা জিনিস পত্র দেওয়া , ১৫৪) অসমর্থে ক্ষমা চাওয়া , ১৫৫) বিবাহ কালীন খরচ বা দেনাপাওনা তে বন্ধক রাখা , ১৫৬) বিবাহের দিন আগানোর সাথে সাথে নানা দুশ্চিন্তায় রাত্রি জাগরণ , ১৫৭) বিবাহ পূর্বে নানা দুঃস্বপ্নে চোখের ঘুম বিসর্জন , ১৫৮) বিবাহ সংক্রান্ত আলোচনা , ১৫৯) বিবাহে তিন জনের উপস্থিতির জন্য ভিক্ষা প্রার্থনা করা , ১৬০) পুরুত ঠাকুরকে সস্মমানে বরন , ১৬১) রান্নার বামুন ঠাকুরকে বরন , ১৬২) নাপিত ঠাকুরকে আনয়ন , ১৬১) পুরুত ঠাকুরকে বস্ত্র দেওয়া , ১৬২) শালগ্রাম নারায়ণের তুষ্টি কামনা , ১৬৩) পাচক ঠাকুরের তুষ্টি , ১৬৪) পাঁচক ঠাকুরকে পান কলা দেওয়া , ১৬৫) অগ্নিতে ব্রহ্মা- বিষ্ণু- মহেশ্বরকে আনয়নের জন্য প্রার্থনা জানানো, ১৬৬) নানা উত্তম দ্রব্য সন্ধান / রান্নার জোগার , ১৬৭) মহিলা কুটুম্বদের সম্মান মাতার/ পুরুষ কুটুম্ব দের সম্মান পিতার , ১৬৮) উভয়ের যত্নের দিক দেখা , ১৬৯) উভয়ের মন বুঝে চলা , ১৭০) উভয়ের সামনে সময়ে রঙ্গ রসিকতা , ১৭১) উভয়ের সম্মান যত্নে ত্রুটি না দেখা, ১৭২) উভয়ের সামান্য অযত্নে চাকর দিকগে বকাঝকা , ১৭৩) কুটুম্বদের নিকট বুদ্ধি প্রার্থনা , ১৭৪) বুদ্ধি শুনে চলা, ১৭৫) বুদ্ধি নিয়ে সংশয় চিন্তা , ১৭৬) নাপিত ঠাকুরকে দক্ষিণা দান, ১৭৭) নাপিত আনান ও তার সংক্রান্ত চিন্তা , ১৭৮) নাপিত বরন , ১৭৯) বিবাহে প্রীতিভোজ প্রদান , ১৮০) জামাই বরন/ বৌভাতে পুত্রবধূ বরন , ১৮১) শুশুরকূলের সকলকে বস্ত্র মিষ্ট প্রদান , ১৮২) বিবাহ সম্পন্ন , ১৮৩) শ্বশুরকূল সম্বন্ধে চিন্তা , ১৮৪) জামাতা/ পুত্রবধূ সম্বন্ধে চিন্তা , ১৮৫) তত সংক্রান্ত নানা অনর্থক আলোচনায় চিন্তা , ১৮৬) নানা দুঃস্বপ্ন রচনা , ১৮৭) কন্যা বিদায়ে ক্রন্দন/ পুত্রবধূ আনয়নে আনন্দ , ১৮৮) কন্যা বিদায়ে বরন/ পুত্রবধূ আনয়নে বরন , ১৮৯) সমন্ধীর বাড়ীতে সাবধানে যাতায়াত , ১৯০) পুত্রবধূকে নানা সুশিক্ষা প্রদান ও কন্যাকে নানা সুশিক্ষা দিয়ে প্রেরণ , ১৯১) পুত্রবধূকে সংস্কার দেওয়া , ১৯২) ঘরের জিনিস বোঝানো, ১৯৩) সংসারের ভার নিতে শেখা , ১৯৪) পুত্রবধূ ও কন্যার গর্ভের জন্য চিন্তা , ১৯৫) তার জন্য মাদুলী আনয়ন , ১৯৬) নানা ধরনের চিন্তা , ১৯৭) চিন্তায় রাত্র জাগরণ , ১৯৮) ঘন ঘন খোঁজ নেওয়া , ১৯৯) লোকের গাল খেয়ে কন্যার গৃহে গিয়ে খোঁজ , ২০০) হবু নাতি- নাতিনীর মুখ দর্শন ।

২০১) গর্ভস্থ অবস্থায় পুত্রবধূ/ কন্যার দেখাশোনা, ২০২) নানা উপদেশ দেওয়া , ২০৩) নানা ধর্মকথা শুনানো, ২০৪) ভজন সাধন , ২০৫) উপবাস ও পূজা, ২০৬) ষষ্ঠীপূজা , ২০৭) নানা জিনিস পত্র খুজে আনা ও রান্না, ২০৮) কবিরাজ বদ্যি আনয়ন , ২০৯) কবিরাজের কথায় নানা পথ্য সংগ্রহ , ২১০) সেগুলো রান্না ও পরিবেশন , ২১১) সান্ত্বনা বাক্য দেওয়া , ২১২) রাত জেগে উৎকণ্ঠা , ২১৩) বারে বারে খোঁজ নেওয়া, ২১৪) পুত্র/ জামাতার অনুপস্থিতিতে কন্যা / পুত্রবধূর দেখাশোনা , ২১৫) উভয়ের মন ভালো করা বাক্য বলা, ২১৬) ইচ্ছানুসারে গ্রহণ করার খাদ্য আনয়ন ও রন্ধন ২১৭) যত্ন করে রাখা , ২১৮) গুছিয়ে কথা বলা , ২১৯) বুকে আগলে রাখা, ২২০) জীবজন্তু থেকে রক্ষা, ২২১) তাবিজ মাদুলী এনে বেতাল কুস্মাণ্ড থেকে রক্ষা , ২২২) পুরাণের ঘটনা শোনানো, ২২৩) মন প্রফুল্লের চেষ্টা , ২২৪) মনে বিভীষিকা দূরের চেষ্টা , ২২৫) তার জন্য নানা উপমা ব্যাখান করা , ২২৬) কেশে তেল দেওয়া/ পিতার ক্ষেত্রে সেই তেল আনয়ন , ২২৭) সান্ত্বনা দেওয়া , ২২৮) অভয় দেওয়া, ২২৯) রাতে দুশ্চিন্তায় জাগরণ হয়ে থাকা, ২৩০) বারবার খোঁজ নেওয়া , ২৩১) পুত্র/ জামাতাকে অভয় প্রদান, ২৩২) পুত্র/ জামাতাকে চিন্তা থেকে বের করা , ২৩২ ) পুত্র/ জামাতার মনে আস্থা উৎপাদন , ২৩৩) শত ব্যস্ততায় তাদের সেবা, ২৩৪) পুত্র/ জামাতাকে উত্তম দ্রব্য সন্ধান , ২৩৫) আনয়ন ও রন্ধন , ২৩৬) ভয় দূর করা, ২৩৭) পুত্র/ জামাতাকে মন প্রসন্ন রাখতে বলা , ২৩৮) সেই বিষয়ে নানা প্রবোধবাক্য, ২৩৯) মনে সন্তোষ উৎপাদন , ২৪০) প্রফুল্ল ভাব বজায় রাখা , ২৪১) মনের মত জিনিস আনয়ন , ২৪২) উভয়ের শ্বশুরকূলকে প্রসন্নতা দান , ২৪৩) উভয়ের শ্বশুরকূলকে সান্ত্বনা দেওয়া , ২৪৪) উভয়ের শ্বশুরকূলকে প্রীতি প্রদান , ২৪৫ ) উভয়ের শ্বশুরকূলকে ভগবানে আস্থা রাখার পরামর্শ , ২৪৬) উভয়ের শ্বশুরকূলকে ভরসা জাগানো, ২৪৭) উভয়ের শ্বশুরকূলকে বিশ্বাস জ্ঞাপন , ২৪৮) উভয়ের শ্বশুরকূলের থেকে কুশল মঙ্গল সংবাদ নেওয়া , ২৪৯) উভয়ের শ্বশুরকূলকে সুবুদ্ধি দেওয়া, ২৫০) উভয়ের শ্বশুরকূলের মঙ্গলে খুশী হওয়া,

২৫১) আর অমঙ্গলে দুখী হওয়া , ২৫২) উভয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক , ২৫৩) উভয়ের আতিথ্যেয়তা , ২৫৪) উভয়ের যত্ন , ২৫৫) উত্তম দ্রব্য প্রেরণ , ২৫৬) উত্তম বস্তু প্রেরণ , ২৫৭) ততজনিত আনয়ন ও প্রেরণ , ২৫৮) বস্তু প্রেরণের আয়োজন , ২৫৯) তাঁদের সুখ দুঃখের সংবাদ নেওয়া , ২৬০) দুঃখ সময়ে সেখানে যাওয়া , ২৬১) অপমান হজম করা , ২৬২) সম্মান পেলে গৃহে এসে কুটুম্বের সুখ্যাতি করা , ২৬৩) নাতি নাতনীর সংবাদ শ্রবনে আনন্দ হওয়া , ২৬৪) আনন্দে সকলের নিকট প্রচার , ২৬৫) যত্ন আত্তি নেওয়া, ২৬৬) ভজন সাধন করা , ২৬৭) নাতি নাতনীর মুখ দেখে দান ধ্যান করা , ২৬৮) আনন্দ লাভ , ২৬৯) দাইকে উপযুক্ত পারিশ্রামিক দেওয়া , ২৭০) মিষ্টি বিতরণ করা , ২৭১) নাতি নাতনীর সাথে খেলা। ২৭২) নাতি নাতনীর সময় কাটানো, ২৭৩) উভয়কে যত্ন নেওয়া , ২৭৪) উভয়ের মনোরঞ্জন করা , ২৭৫) উভয়কে নানা খেলনা এনে দেওয়া, ২৭৬) নাতি নাতনীর জন্য মঙ্গল চিন্তা , ২৭৭) নাতি নাতনীর জন্য নানা দ্রব্য আনয়ন ও রন্ধন, ২৭৮) নানা দুশ্চিন্তা করা, ২৭৯) নানা চিন্তায় রাত্রি জাগরণ , ২৮০) নানা চিন্তায় খারাপ স্বপ্নে ভয় পাওয়া, ২৮১) অলীক কল্পনায় ভীত হওয়া , ২৮২) নানা ভাবে আনন্দ দেওয়া , ২৮৩) সময় কাটানো, ২৮৬) রূপকথা শোনানো, ২৮৭) যত্ন করা , ২৮৮) উত্তম ভেষজ তেল সংগ্রহ , ২৮৯) কবিরাজকে দক্ষিণা ও তেল মর্দন , ২৯০) উত্তম গো দুধের আয়োজন, ২৯১) উত্তম গোমাতা আনয়ন ও সেবা, ২৯২) উত্তম গো দুগ্ধের জন্য গোমাতার সেবা , ২৯৩) গো মাতার দুধ দোয়ানো , ২৯৪) নাতি নাতনী মুখে ভাত অনুষ্ঠান করা/ হাজির থাকা, ২৯৫) নাতি নাতনীর সুখ্যাতি করা, ২৯৬) নাতি নাতনীকে নিয়ে পাড়া বেড়ানো, ২৯৭) বৌমা/ জামাতার প্রশংসা , ২৯৮) বৌমা/ জামাতার বংশের সুখ্যাতি , ২৯৯) উভয়ের কুল নিয়ে গর্ব , ৩০০) উভয়ের কর্মের প্রশংসা ।

এবার দেখা যাক পিতা মাতার বংশে কিছু ঋন থাকে।

৩০১) পিতা/ মাতার বংশ ভূমিকা , ৩০২) উত্তম সন্তান সন্ততি জন্মের সুকৃতি , ৩০৩) উভয়ের বংশে গুরুদেবের ভূমিকা, ৩০৪) উভয়ের ঈশ্বর ভক্তি, ৩০৫) মাতার ক্ষেত্রে কুমারী কালে পুণ্যিপুকুর ব্রত,শিবরাত্রি, গোসেঁজুতি ব্রত, তুষ তুষালী ব্রত , সন্ধ্যামণির ব্রত করা/ পিতার ক্ষেত্রে ঈশ্বর ভক্তি, ৩০৬) উভয়ের ঈশ্বর ভক্তি। কারণ ঈশ্বর ভক্তি না থাকলে সুসন্তান সন্ততির জনক জননী হওয়া সম্ভব না , ৩০৭) উভয়ে গুরু কুলের ঋন, ৩০৮) পরম গুরুর ঋন, ৩০৯) পরমেষ্ঠী গুরুর ঋন , ৩১০) পরাপর গুরুর ঋন , ৩১১) গুরু পরম্পরার ঋন , ৩১২) গুরু সম্প্রদায়ের ঋন , ৩১৩) গুরুকূলের ঋন, ৩১৪) উত্তম শাস্ত্র শ্রবণে উত্তম হওয়ার ঋন, ৩১৫) উভয়ের কুলদেবতা/ কুলদেবীর ঋন , ৩১৬) উভয়ের গ্রাম দেবতা/ দেবীর ঋন , ৩১৭) উভয়ের বাস্তুপুরুষের ঋন , ৩১৮) উভয়ের ইষ্ট দেব/ দেবীর ঋন , ৩১৯) উভয়ের তীর্থ যাত্রার ঋন , ৩২০) উভয়ের সাধু সেবার ঋন, ৩২১) উভয়ের সাধুকে দানের ঋন , ৩২২) উভয়ের ভিক্ষুক ঋন , ৩২৩) উভয়ের পিতৃপুরুষের ঋন, ৩২৪) উভয়ের বাড়ীর অন্ন শস্য- যা গ্রহণে তারা নিজেদের সন্তানের জন্মের উপযুক্ত করেছেন তার ঋন , ৩২৫) উভয়ের দেহে অবস্থিত শক্তির ঋন, ৩২৬) উভয়ের বৃদ্ধির ঋন, ৩২৭) উভয়ের বিবাহ ঋন , ৩২৮) উভয়ের বিবাহের সম্বন্ধ ঘটকের ঋন, ৩২৯) উভয়ের বিবাহে ব্রাহ্মণের ঋন, ৩৩০) উভয়ের পোষ্য জীবজন্তু যেমন কুকুর বিড়াল গোমাতার ঋন, ৩৩১) পোষ্যদের আহার দেওয়ার ঋন, ৩৩৩) পোষ্যদের জল দেওয়ার ঋন , ৩৩৪) অভুক্তকে আহার দেওয়ার ঋন , ৩৩৫) তৃষ্ণার্ত কে জল দেওয়ার ঋন , ৩৩৬) পুকুর ঘাটে স্নানে বরুণ দেবতার ঋন, ৩৩৭) গঙ্গা স্নানে পুণ্যফল নেওয়ার ঋন , ৩৩৮) অগ্নির ঋন , ৩৩৯) শ্বাস গ্রহণে পবন দেবতার ঋন, ৩৪০) ভাগ্যচক্রে উভয়ের নবগ্রহের ঋন , ৩৪১) শাস্ত্র শ্রবনে নিজেদের উন্নতির ঋন, ৩৪২) তীর্থে দেবদর্শনে সুসন্তান পাওয়ার ঋন , ৩৪৩) বিভিন্ন পূজার ঋন , ৩৪৪) সন্তান ধারণের জন্য দেহ গঠনের ঋন, ৩৪৪) বিবাহ করা , ৩৪৫) দাদুদিদা বা ঠাকুরদা/ ঠাকুমার ঋন, ৩৪৬) তাহাদের যাবতীয় কর্মের ঋন , ৩৪৭) পূর্বপুরুষদের কৃৎ কর্মের ঋন, ৩৪৮) সূর্য দেবতার ঋন, ৩৪৯) মা ষষ্ঠীর ঋন , ৩৫০) মা অন্নপূর্ণার ঋন, ৩৫১) পিতার মধ্যে অবস্থিত জগতপিতা মহাদেবের ঋন, ৩৫২) মাতার মধ্যে অবস্থিত জগতজননী মা পার্বতীর ঋন , ৩৫৩) উভয়ের বাৎসল্যের ঋন , ৩৫৪) নতুন সংসারের ঋন, ৩৫৪) সোনাবলী দেবীর ঋন, ৩৫৫) সন্তান জন্মের ক্ষমতার ঋন, ৩৫৬) সন্তানকে হাটা চলা শেখানো, ৩৫৭) তুলসী দেবীর ঋন, ৩৫৮) দুই পক্ষের ঋন শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষ , ৩৫৯) পুত্র হলে গোপালের ঋন/ কন্যা জন্মে মা লক্ষ্মীর ঋন , ৩৬০) পিতামাতার মধ্যে অবস্থিত খাদ্যরূপী ব্রহ্মের ঋন, ৩৬১) শ্মশান ঋন , ৩৬২) পঞ্চভূতের ঋন, ৩৬৩) শ্মশান ভৈরবের ঋন, ৩৬৪) শ্মশান অবস্থিত দেবীর ঋন , ৩৬৫) মুক্তির জন্য শাস্ত্র বিহিত কর্মের ঋন।

এই গেলো ৩৬৫ ঋন। তবে মাতার সূচাগ্র স্তন্যুদুগ্ধের ও পিতার সূচাগ্র ঘর্মের ঋন মোচন করা সাক্ষাৎ ব্রহ্মা- বিষ্ণু- মহেশ্বরেরও অসাধ্য। এবার বুঝলেন কত প্রকার ঋন আছে আমাদের সবার।

তথ্যসূত্র:-
বিধিবিধান ও সংস্কার শ্রীব্রজেশ্বর চক্রবর্তী


Share:

২২ এপ্রিল ২০২০

সন্ধ্যা বেলায় যে কাজগুলো নিষিদ্ধ

কয়েক দশক আগেও, হিন্দু পরিবারগুলোতে প্রবীণরা সন্ধ্যার নেতিবাচক প্রভাবের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। শাস্ত্র অনুযায়ী তারা সমস্ত সদস্যদের ঘরের মন্দিরের সামনে একত্র করতেন এবং সন্ধ্যা আরতি ও শ্লোক-মন্ত্র উচ্চারণ করতেন। কিন্তু দিনদিন এই আচারগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। শ্লোকের শব্দ এখন টিভি সিরিয়ালের আড়ালে চাপা পড়েছে। মফস্বল থেকে শুরু করে ব্যস্ত শহর সব জায়গাতেই একই অবস্থা দেখা যায়। বিভিন্ন খাওয়ার দোকান, ফাস্ট ফুড, আইসক্রিমের দোকানে, সিনেমা হলে সন্ধ্যায় সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়।


আমরাও খুব খুশি সমাজের এত উন্নতি দেখে, সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একবারও কি আমরা ভাল করে খেয়াল করছি প্রদীপের তলার অন্ধকার? সঠিক নিয়মে সন্ধ্যা পূজা না করার জন্য রোগ, ব্যাধি, হতাশা, ব্যর্থতা আমাদের পিছু ছাড়ছে না। এত এগিয়েও কোথায় যেন আমরা আবার পিছিয়ে পড়ছি!

শাস্ত্রে বলা আছে, অশুভ শক্তি/নেতিবাচক শক্তি সবচেয়ে বেশি প্রকট হয় সন্ধাবেলায়। তাই নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে বারন করা হয়েছে:

• খাওয়া, ঘুমানো, পান করা

• সহবাস করা

• কোন শুভ কাজের আরম্ভ

• দূরযাত্রা

• কান্না কাটি বা দুশ্চিন্তা করা

• টাকা পয়সার লেন দেন

• কাওকে সাদা বস্তু প্রদান করা, চুল/নখ কাটা

• শপথ নেয়া, ঝগড়া করা, গালি দেয়া, মিথ্যা বলা, অশ্লীল কথা উচ্চারণ, কাওকে কষ্ট দিয়ে কথা বলা

এছাড়াও বেশ কিছু কাজ শাস্ত্রে মানা করা আছে। যেমন:

• ঘর ঝাড়ু/ মোছা - সন্ধ্যায় রজ ও তম শক্তি পরিবেশে প্রবল থাকে। এই সব কাজের মাধ্যমে রজ-তম শক্তি আমাদের শরীরকে আকর্ষণ করে শরীরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। তাই সন্ধ্যার পূর্বেই ঘর পরিষ্কার করা উচিত।

• নদী তীরে বসা (গঙ্গা ব্যতীত)

• মনে রাখতে হয় এমন কাজ করা (পড়া লেখা)

• বেদ পাঠ - সন্ধ্যা হল রাত্রির আরম্ভ কাল (প্রদোষ কাল)। বেদ অনুসারে প্রদোষ কালে বেদপাঠ ও বেদ বহন বারণ। তবে শুধু সন্ধ্যাদোষ নিবারণের নির্বাচিত মন্ত্র উচ্চারণ করা যাবে ।

• গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বারন:

- দরজার সামনে বসা

- সন্ধ্যায় গৃহপালিত পশুর ঘরে ফিরতে দেখা।

হয়তো সকল নিয়মই জড়জাগতিক যুক্তির বিচারে গ্রহণযোগ্য কি না, তা ভাবতে পারেন। কিন্তু স্মরণ রাখা উচিত যে, আমাদের জ্ঞানের সীমা অনেক সীমিত। আমাদের পূর্বতন বিদগ্ধ পণ্ডিত পূর্বপুরুষগণ তাঁদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের আলোকেই আমাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আর তা আমাদের কল্যাণের জন্যই।


Post collected from: Sourav Das





Share:

২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

ব্রিলিয়ান্ট ছেলে মেয়েগুলো দেশ বিদেশের নানা বই পড়ে কিন্তু গীতা, রামায়ন পড়েছে কি ?

কখনো খেয়াল করেছেন, আপনার পাশের বাসার ব্রিলিয়ান্ট ছেলেটি দেশ বিদেশের নানা বই পড়ে। অথচ কখনো সে গীতা, রামায়ণ কিংবা মহাভারত পড়েনি। হুমায়ুন আহমেদের হিমু, মিসির আলী কিংবা রবি ঠাকুরের "শেষের কবিতা " কতজনেই তো পড়েছে। অথচ তাদের ৫০% ও গীতা পড়েছে কি-না সন্দেহ! এদের মধ্যে অনেকেই রামায়ণ, মহাভারত চোখেও দেখেনি। প্রশ্ন হচ্ছে কেন? যার বই পড়ার অভ্যাস নেই, সে না হয় গীতা পড়েনা। কিন্তু বই পড়ুয়া ছেলেটির হাতে কেন কখনো গীতা উঠে না? যারা গীতা পড়েন বা যারা পড়েছেন, তাদের নিয়ে এই মুহুর্তে একটা জরিপ করেন। "কেন আপনি গীতা পড়েন? " এই প্রশ্নটা যদি গীতা পড়েছেন এমন কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়, তবে যদি আমি ভুল না করে থাকি তবে ৯৫% মানুষের উত্তর হবে - গীতা পড়লে পূণ্য হয়, তাই গীতা পড়ছি। আমার মনে হয় এখানেই প্রবলেমটা।

স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে সারাজীবন আপনি রাত জেগে পড়েছেন শুধু পড়লে ভালো রেজাল্ট করা যায়, এই একটা কারণেই। আর সেজন্যই একাডেমিক লাইফের পড়াগুলো আমাদের ৯০% মনেই থাকেনা। কারণ সেই জায়গায় আমাদের স্বার্থ ছিল। অথচ কোনো একটা গল্প, উপন্যাস বা সাহিত্য কিংবা অন্য যেকোনো বই একবার পড়লেই সেটা সারাজীবন মনে থাকে। কারণ সেখানে আমাদের কোনো স্বার্থ নেই। হুমায়ুন আহমেদের হিমু গল্প পড়ে কতজনই তো হলুদ পাঞ্জাবি পরে হিমু সেজেছিল। মুলত এরপর কয়েকবছর হলুদ পাঞ্জবীর বেশ প্রচলন হয়েছিল ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে। এর মানে হলো বইয়ের সে কাহিনীকে তারা নিজদের সাথে মিশিয়ে ফেলেছে। ঠিক এতটাই ভালোবাসা ছিল। গীতা পড়লে পূণ্য হবে, পূণ্য হলে মৃত্যুর পর স্বর্গে যাওয়া যাবে। শুধু এই কারণে যদি গীতা পড়ার পরামর্শ দেয়া হয়, তবে আজীবন মানুষ গীতায় পড়বে কিন্তু গীতার মর্মবাণী কেউ উপলব্দি করতে পারবেনা। স্কুলগামী ছোট শিশুটি পাপ পুণ্যের কী বুঝে? সে বুঝে হ্যারি পটার আর কার্টুন। তাকে সেভাবে বুঝান গীতা। গীতাকে পূণ্যের চাবিকাঠি হিসেবে না দেখিয়ে বরং আনন্দের উপাদান হিসেবে উপস্থাপন করা না গেলে, জেনারেশন চেঞ্জ হবে তবু গীতাপাঠে কেউ উৎসাহিত হবে না।

আপনি গল্প, উপন্যাস ভালোবাসেন? একবার রামায়ন মহাভারত নিন। এখানের কাহিনীগুলো আপনার গল্প উপন্যাসের চাইতেও বেশি ভালো লাগবে। গীতা পুরোটাই তো একটা কাহিনী। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যেসব উপদেশ দিয়েছেন বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সেসব আপনি উপন্যাস পাগল ছেলেটিকে উপন্যাসের মত করে উপস্থাপন করুন। আমি নিশ্চিত তার ভালো লাগবে। যে কবিতা ভালোবাসে তাকে গীতার শ্লোকগুলো ছন্দে ছন্দে উপস্থাপন করুন, তার ভালো লাগবে। কার্টুন পাগল শিশুটিকে আপনি ধর্মীয় ছবি দেখিয়ে দেখিয়ে গীতা বুঝিয়ে দিন। দেখবেন কখন যে আপনার ঘরের শিশুটি মীনা কার্টুনের বই পড়া শেষ করে গীতা পড়তে শুরু করে দিয়েছে।

গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন- "যে আমাকে যেভাবে ভজনা করে আমি তাকে সেভাবেই সাড়া দেই। "

_____________________

Satyajit Chakraborty
Writer, Public Spraker & Corporate Trainer.
Founder, Bangladesh Career Club
Share:

০২ ডিসেম্বর ২০১৭

ব্রহ্মা কর্তৃক ত‌মোগুণ , র‌জোগুণ ও স‌ত্ত্বগু‌ণের কার্যা‌দির বর্ণনা - ২

ম‌হর্ষিগণ ! এবার আ‌মি তোমা‌দের র‌জোগু‌ণের স্বরূপ এবং কা‌র্যের গুণা‌দির যথাযথ বর্ণনা করব । মন দি‌য়ে শোনা -- সন্তাপ , রূপ , আরাম , সুখ - দুঃখ , শীত - গ্রীষ্ম , ঐশ্বর্য , বিগ্রহ , স‌ন্ধি , হেতুবাদ , মন অপ্রসন্ন থাকা , বল , শৌর্য , অহংকার রোষ ব্যায়ম , বিবাদ , ঈর্ষা , ইচ্ছ‌া , পরচর্চা , যুদ্ধ করা , মমত্ব‌ বোধ , কুটুম্ব পালন , বধ , বন্ধন , ক্লেশ , ক্রয় - বিক্রয় , অ‌ন্যের ক্ষ‌তি করার চেষ্টা , উগ্রতা , নিষ্ঠুরতা , চিৎকার , অ‌ন্যের দোষ দেখা , লে‌ৗ‌কিক বিষয় চিন্তা করা , অনুতাপ , অসত্যভাষণ , মিথ্যা দান , সংশয়পূর্ণ বিচার , তিরস্কার , নিন্দা , স্তু‌তি , প্রশংসা , প্রতাপ , জোর খাটা‌নো , স্বা‌র্থের জন্য কাজ , তৃষ্ণা , অপ‌রের আশ্রয়ে থাকা , ব্যবহার কুশলতা , নী‌তি , প্রমাদ , প‌রিবার এবং প‌রিগ্রহ -- এগু‌লি সবই র‌জোগুণের কার্য ।

জগ‌তে যে নারী , পুরুষ , ভূত , দ্রব্য এবং গৃহা‌দির পৃথক পৃথক সংস্কার , অবিশ্বাস , সকামভা‌বে ব্রত - নিয়মা‌দি পালন , কাম্যকর্ম , নানাপ্রকা‌রের জলাশয় খনন , স্বাহাকার , নমস্কার , স্বধাকার , বষট্কার , যাজন , অধ্যাপন , যজন , অধ্যায়ন , দান , প্র‌তিগ্রহ , প্রায়‌শ্চিত এবং মঙ্গলজনক কর্ম‌কেও রাজস ব‌লে ম‌নে করা হয় ।

" আমার বস্তু প্রাপ্তি হোক , অমুক জি‌নিস লাভ হোক " - এই প্রকার যার বিষয়া‌দি পাওয়ার জন্য আস‌ক্তিমূলক উৎকন্ঠা হয় , র‌জোগুণই তার কারণ ।

দ্রোণ , মায়া , শঠতা , মান , চু‌রি , হিংসা , ঘৃণা , প‌রিতাপ , জাগরণ , দম্ভ , দর্প , রাগ , বিষয়‌প্রেম প্র‌মোদ , দ্যূতক্রীড়া , ঝগড়া - বিবাদ করা , নারী‌দের স‌ঙ্গে সম্পর্ক বৃ‌দ্ধি , গান - বাজনা , নৃত্য - গী‌তে আসক্ত হওয়া - এগু‌লি সবই রাজস গুণ ।

যারা এই পৃ‌থিবী‌তে অতীত , বর্তমান ও ভ‌বিষ্যৎ পদা‌র্থের কথা চিন্তা ক‌রে , ধর্ম , অর্থ ও কামরূপ ত্রিব‌র্গের সেবায় ব্যাপৃত থা‌কে , ইচ্ছম‌তো আচরণ ক‌রে এবং সর্বপ্রকার ভো‌গের সমৃ‌দ্ধি‌তে আন‌ন্দিত থা‌কে , তারা র‌জোগু‌ণে আবৃত , তা‌দের অর্বাক্ স্রোতা বলা হয় ।

এরূপ লোক ইহ‌লোকে বারংবার জন্ম নি‌য়ে বিষয়জ‌নিত আন‌ন্দে মগ্ন থা‌কে এবং ইহলো‌কে ও পর‌লো‌কে সুখলা‌ভের জন্য চেষ্টা ক‌রে । মু‌নিবরগণ ! আ‌মি তোমা‌দের নানাপ্রকার রাজ‌সিক গুণ এবং তদনুকূল আচর‌ণের যথাবৎ বর্ণনা করলাম । যেসব মানুষ এই গুণাগুলি‌কে জা‌নে , তারা সর্বদা এর বন্ধন থে‌কে নি‌জে‌কে স‌রি‌য়ে রা‌খে ।

মহ‌র্ষিগণ ! এবার আ‌মি তৃতীয় উত্তমগুণ ( সত্ত্বগুণের ) বর্ণনা কর‌ছি , এই গুণ জগ‌তের সমস্ত প্রাণী‌দের হিতকারী এবং সাধুপুরুষ‌দের প্রশংসনীয় ধর্ম । আনন্দ , প্রসন্নতা , উন্ন‌তি , প্রকাশ , সুখ , কৃপণতার অভাব নির্ভয়তা স‌ন্তোষ , শ্রদ্ধা , ক্ষমা , ধৈর্য , অ‌হিংসা , সমতা , সত্য সারল্য , ক্রোধহীনতা , অ‌ন্যের দোষ না দেখা , প‌বিত্রতা , চতুরতা ও পরাক্রম -- এগু‌লি সত্ত্বগু‌ণের কার্য ।

যারা এই ধ‌র্মের আচরণ ক‌রে , তারা পর‌লো‌কে সুখভাগী হয় । মমত্ব‌বোধ , অহংকার , আশা প‌রিত্যাগ ক‌রে সর্বত্র সমদৃ‌ষ্টি রাখা এবং সর্ব‌তোভা‌বে নিষ্কাম হওয়াই সাধু পুরুষ‌দের সনাতন ধর্ম ।

বিশ্বাস , লজ্জা , তি‌তিক্ষা , ত্যাগ , প‌বিত্রতা , আলস্যবর্জন করা , কোমলতা , মোহগ্রস্থ না হওয়া , প্রাণী‌দের স‌ঙ্গে সৎ ব্যবহার , পরচর্চা না করা , হর্ষ , স‌ন্তোষ , বিস্ময় , বিনয় , সত্যব্যবহার , শা‌ন্তিক‌র্মে শুদ্ধভা‌বে প্রবৃত্ত হওয়া , উত্তম বু‌দ্ধি , আস‌ক্তি মুক্ত হওয়া , জগ‌তের ভো‌গে উদাসীনতা , ব্রহ্মচর্য , সর্বপ্রকার ত্যাগ , নির্মমতা , ফ‌লের কামনা না করা , নিরন্তর ধর্ম পালন কর‌তে থাকা -- এসবই সত্ত্বগু‌ণের কার্য ।

যারা উপ‌রিউক্ত আচরণ পালনপূর্বক এই জগ‌তে স‌ত্যের আশ্রয় গ্রহণ ক‌রে এবং বে‌দের উৎপ‌ত্তির স্থানভূত পরব্রহ্ম পরমাত্মা‌তে নিষ্ঠা রা‌খে , তা‌দেরই ধীর এবং সাধুদর্শী ব‌লে মানা হয় । এই ধীর পুরু‌ষেরা সব পাপ প‌রিত্যাগ ক‌রে শোকর‌হিত হন এবং স্বর্গ‌লো‌কে গি‌য়ে অ‌নেক শরীর সৃ‌ষ্টি ক‌রেন । সত্ত্বগুণভাবাপন্ন মহাত্মা স্বর্গবাসী দেবতা‌দের ন্যায় ঈ‌শিত্ব , ব‌শিত্ব এবং ল‌ঘিমা ইত্যা‌দি সি‌দ্ধি প্রাপ্ত ক‌রেন ।

তাঁ‌দের ঊর্ধ্ব‌স্রোতা এবং বৈকারিক দেবতা ব‌লে মানা হয় । ( যোগব‌লে ) স্বর্গলাভ হ‌লে তাঁ‌দের চিত্ত ভোগজ‌নিত সংস্কার দ্বারা বিকৃত হয় । সেইসময় তাঁরা যা চান , সেই বস্তুই পান এবং দান ক‌রেন । আমি তোমা‌দের সত্ত্বগু‌ণের কার্যা‌দি বর্ণনা করলাম । যারা এই বিষ‌য়ে ভা‌লোভা‌বে জা‌নে তারা ম‌নোবা‌ঞ্ছিত বস্তু লাভ ক‌রে এবং সেই গু‌ণের সেব‌নে রত থাক‌লে তা‌দের আর বন্ধন প্রা‌প্তি হয় না ।

লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav
Share:

০১ ডিসেম্বর ২০১৭

জাতি গঠন মূলক ধর্মান্দোলনে স্বামী প্রণবানন্দ

আচার্যদেব সঙ্ঘের বিভিন্ন আশ্রমে ও কর্মকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পার্বনোৎসব ও বার্ষিক মহোৎসব গুলিকে হিন্দু সম্মেলনের আকার প্রদান পূর্বক জাতি গঠনমূলক ভাব ও আদর্শ প্রচারের কেন্দ্রভূমী করিয়া তুলিতে লাগিলেন।

সমাজ-সঙ্গঠক সর্বদ্রষ্টা ঋষিগণ যেমন ব্যাক্তিগত ও আধ্যাত্মিক চরমোৎকর্ষ সাধনের জন্য দেশ কাল পাত্র ভেদে নানাবিধ যুগোপযোগী সাধনপন্থা প্রচার করিয়াছেন; সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনকে অখন্ড অটুট ও একতাবদ্ধা করিয়া তুলিবার জন্য বিধিব্যবস্থা করিয়াছিলেন; হিন্দুর বারো মাসে তের পার্বণগুলি এবং পূণ্যক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত ধর্ম-মেলা মহোৎসবগুলির সৃষ্টি করিয়া গিয়াছেন, তেমনি- সঙ্ঘনেতা আচার্যদেব হিন্দু জাতীয়তার পুনরুদ্ধার কল্পে কালপ্রভাবে হৃতগৌরব, অর্থ- ভাব-আদর্শহীন, গতানুগতিক সেই উৎসব সম্মেলন গুলিকে পুণরায় সামাজিক ও জাতীয় ভাব ও আদর্শ প্রচার,এবং সমাজ সংস্কার ও জাতিগঠনের উদ্দেশ্যে রূপান্তরিত করিবার সঙ্কল্প করিলেন ।
১৯৩৫ সাল হইতে খুলনা সেবাশ্রমে অনুষ্ঠিত রাসপূর্ণিমার বিরাট মহোৎসবকে হিন্দুজাতি গঠন্মূলক উৎসবে পরিণত করিলেন।

সার্বজনীন বৈদিক যজ্ঞ, সমবেত পূজা, সশস্ত্র আরতি, শ্রীকৃষ্ণ পূজা, শীবপূজা ও গুরুপূজা ইত্যাদির সহিত বিরাট জনসভায় ধর্ম ও সমাজ এবং হিন্দুজাতিগঠনের সঙ্গঠনের প্রয়োজনীয়তা, হিন্দুর মিলন মন্দিরের প্রয়োজনীয়তা ও রক্ষীদল গঠন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তাবাদি চলিতে লাগিল। লাঠী, ছোরা, ঢাল শড়কী প্রভৃতি আত্ম্রক্ষামূলক ক্রীড়াকৌশল প্রদর্শণ প্রবর্তিত হইল। এই রূপে কলিকাতায় অনুষ্ঠিত শিব্রাত্রি, জন্মাষ্টমী ও কালীপূজা উৎসবকে, বাজিতপুরে অনুষ্ঠিত নীলপূজা উৎসবকে, পুরী সেবাশ্রমে রথযাত্রায় বার্ষিক উৎসব ও কাশী তীর্থাশ্রমে দুর্গাপূজা কে উপলক্ষ করিয়া জাতিগঠনমূলক সার্বজনীন হিন্দু সম্মেলনোৎসবেে রূপান্তরিত করিতে লাগিলেন ।

তিনি বলিলেন-..." আমি চাই ধর্মান্দোলন। ধর্মের ভিত্তিতে জাতি ও সমাজ গঠন। কিন্তু শুধু মুখে ধর্ম কর, ধর্ম কর বলে চেঁচালে কি হবে? আজ জাতি ও সমাজের সমনে যে সব সমস্যা তার সমাধান যদি ধর্মের মধ্যে না দেখিয়ে দেয়া যায়, তবে কে ধর্ম মানতে যাবে?.........।।"

Dhruba Chatterjee
Share:

২৩ নভেম্বর ২০১৭

হিন্দু ধর্মের সাপেক্ষে নিষিদ্ধ খাবারের সূচী

হিন্দুদের কাছে খাবার বাছাই করা একটি ব্যাক্তিগত, পরম্পরাগত ও নির্দিষ্ট মতবাদের বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। কাজেই এমন অনেক হিন্দু আছেন যারা তাদের বংশানুক্রমিক পরম্পরা ও বিশ্বাসের জন্য কিছু জিনিস খাওয়া ত্যাগ করেছে। যেমন – ভারতের অনেক বৈষ্ণব সম্প্রদায় ভুক্ত হিন্দু (উত্তর ভারত) আছেন যাদের বাড়িতে মাছ তোলা নিষিদ্ধ। আবার অনেকের হিন্দু বাড়িতে (উত্তর-পশ্চিম ভারত) মাছ মাংশ দুটোই তোলা নিষিদ্ধ। কাজেই হিন্দুদের মধ্যে পরম্পরাগত, ব্যাক্তিগত ও বিশ্বাসী মতবাদগত ফ্যাকটর গুলির উপর অনেক অংশে নির্ভর করে নিষিদ্ধ খাবার গুলি বাছাই এর ক্ষেত্রে।


তাই কারো ব্যাক্তিগত বা পরম্পরাগত পছন্দ তে হস্তক্ষেপ করার জন্য এই নিবন্ধ টি লিখা হয়নি! বরং উক্ত নিবন্ধটি সেইসব বাঙালী হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য লিখা হয়েছে যারা হিন্দু সংস্কার (সম্প্রদায় ভিত্তিক নয়) কে অবলম্বন করে চলেন এবং জানতে ইচ্ছা রাখেন কোন কোন খাবার গুলো হিন্দু শাস্ত্রের সাপেক্ষে সিদ্ধ বা নিষিদ্ধ। এখানে হিন্দু শাস্ত্র বলতে বেদ, পুরাণ ও তন্ত্রের মূল গ্রন্থ গুলি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই বৈধ-অবৈধ খাবারের সূচীটি বানানো হয়েছে।

প্রাণীজ

✫ ✫ ✫ ✫ ✫ দুধ ✫ ✫ ✫ ✫ 

  উট ও ভেড়ার দুধ পান করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২২-২৩, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১১-১২, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০

  এক খুর বিশিষ্ট প্রাণীর (যেমন – ঘোড়া) দুধ পান করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৩, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০

  গরু, মোষ, ছাগলের বাচ্চা জন্মানোর পর থেকে ১০দিন যাবৎ তাদের দুধ পান নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৪, বসিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৫, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৯, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০

  নিচুস্তরের পশু (যেমন – কুকুর, বেড়াল) ও মাংসাশী পশুর (যেমন – বাঘ, সিংহ, শৃগাল) দুধ পান নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – লৌগাক্ষিগৃহ্ম সূত্রাণি ২.১৮৪

✫ ✫ ✫ ✫ ✫ ডিম ✫ ✫ ✫ ✫ 

  হাঁস, মুরগি, ময়ুরের ডিম খাওয়া সিদ্ধ।
 তথ্যসূত্র – মানব গৃহসূত্র ১.৪.২-৪, ভেল সংহিতা – চিকিতসাস্থানম – ২৬৭, চরক সংহিতা             ২৭.৬৩-৬৪

✫ ✫ ✫ ✫ ✫ মাছ-মাংস ✫ ✫ ✫ ✫ 

  সাপ, কুমীর, ঘড়িয়াল, শুশুক, সর্প আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, অনিয়তকার মস্তক বিশিষ্ট মাছ (যেমন – ইল, কুঁচে মাছ, হাঙর, তিমি ইত্যাদি) ও জলজ শামুক, ঝিনুক, গুগলি ইত্যাদি খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪১, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৬, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.৩৮-৩৯

  বন্য মোরগ/মুরগি খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪
★ অর্থ্যাৎ গৃহপালিত মোরগ/মুরগি খাওয়া সিদ্ধ।

  যে সমস্ত পাখী শুধু তাদের পা দিয়ে মাটিতে আঁচড়ে আঁচড়ে খাবারের সন্ধান করে এবং যেসব পাখীরা লিপ্তপদী (যেমন – হাঁস) তাদের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪-৩৫, বিষ্ণু স্মৃতি LI.২৮-৩১, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৭

  রাজহাঁস, সারস, পানকৌড়ি, বক, কাক, পায়রা, টিয়া, ঘুঘু, তিতির, বাজ, চিল, শকূন, বাদুড়, ময়ূর, স্টার্লিং, দোয়েল, চড়ুই, কাঠঠোঁকরা, মাছরাঙা এবং নিশাচর পাখীর মাংশ খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪-৩৫, বিষ্ণু স্মৃতি LI.২৮-৩১, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৭, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭২-১৭৪

  মাংসাশী পাখির মাংশ আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.৩৪, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭২

  যেকোনো বিস্বাদ ও খাদ্য অনুপযোগী মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মনু স্মৃতি ৫.১১-১৭, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৪

  যে সমস্ত পশুর দুধের দাঁত ভাঙেনি তাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৫, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩০-৩১
★ অর্থ্যাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক পশুর মাংস আহার নিষিদ্ধ।

  যে সমস্ত পশুর একটি মাত্র চোয়ালে দাঁত আছে (যেমন-ঘোড়া) তাদের মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪০, মনু স্মৃতি ৫.১৪, বিষ্ণু স্মৃতি LI.৩০

  যে সমস্ত প্রাণীর পা বহু অংশে বাঁকা। যেমন শজারু, কাঁটাচয়া, শশক, খরগোশ, কচ্ছপ, গোধা, গোধিকা ইত্যাদির মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৯, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.২৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫, মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪

  গণ্ডার ও বন্য শূকরের মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫

  নরমাংস বা নরাকার যন্তুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮

  গৃহপালিত পশু, ছাগল, ভেড়ে, শূকরের মাংশ খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১-৪
★ অর্থ্যাৎ গৃহপালিত শূকরের মাংস বৈধ।

  গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯

★ গ্রাম্য শূকর বলতে ফালতু শূকরের সেইসব প্রজাতি গুলোকে বোঝানো হয়, যারা আকারে ছোটো এবং পঙ্কিল নোংরা স্থানেই শুধু বাস করে। নোংরা স্থানে থাকার জন্য এদের মাংসে কৃমিজাতীয় পরজীবীর সিস্ট থাকে যা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলে মানুষ সংক্রমিত হয়। উক্ত কারণের জন্য গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ কিন্তু গৃহপালিত শূকর নয়।

  যেকোনো মৃত প্রাণীর মাংস আহার করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৬.১৬

  বহু উপকারী গোজাতির মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮, বিষ্ণু পুরাণ ৩.৩.১৫, ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ ১.৯.৯, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৩-৪৫

  গৌর, ঘায়ল, সরাভ, ষাঁড় প্রভৃতি গো সম্প্রদায় ভুক্ত জীবের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৩, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯

  মাংসাশী প্রাণীর মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪

★ মূলত মাংসাশী প্রাণী বলতে উচ্চতর প্রাণীদের বোঝানো হয়েছে যেমন – বাঘ, সিংহ, শৃগাল, বন্য কুকুর ইত্যাদি। এদের শিকার করা কঠিন এবং মাংস নিরস, দুর্গন্ধ এবং কুরুচিকর স্বাদ যুক্ত হওয়ার জন্য পরিত্যাজ্য।

  একখুর বিশিষ্ট প্রাণীর (যেমন – উটের) মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯

  কৃষ্ণসার, নীলগাই, সাধারণ হরিণ, বন্য শূকরের মাংস খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৬

  স্বাদু ও লবণাক্ত জলের মাছ (যেমন- বিভিন্ন মেজর ও মাইনর কার্প, খাঁড়ির মাছ ইত্যাদি) আহার হিসাবে গ্রহণ করা বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৮

অন্যান্য

  মাদক দ্রব্য মিশ্রিত পানীয় নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২১

  সুরা ও সুরা প্রস্তুতের জন্য ব্যাবহৃত দ্রব্য সমূহ নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৫

  ব্যাঙের ছাতা, শালগম নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৮, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭১, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩

  যেকোনো আহারে উপযোগী বীজ, ফল, মূল, সব্জি খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – নারদ পুরাণ ১১.১২-২২

  সুস্বাদু আহারে উপযোগী রস (যেমন – খেঁজুরের রস, তালের রস, আখের রস, ডাবের জল, ফলের রস ইত্যাদি), দুগ্ধজাত পদার্থ (যেমন – দুধ, ঘি, মাখন, দই) মধু ইত্যাদি বৈধ।
তথ্যসূত্র – নারদ পুরাণ ১৮.১২-১৩

  রসুন, পেঁয়াজ, পলাণ্ডু খাওয়ার উপর বিতর্কিত বিধান আছে, কাজেই ইহা খাওয়া যেতে পারে।

★আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৬, মনু স্মৃতি ৫.৫, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ১.১৭৬, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩ অনুসারে পেঁয়াজ রসুন খেলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। অপরদিকে বৈদিক আয়ুর্ব্বেদ শাস্ত্র গুলিতে ভিন্ন চিকিৎসার কাজে পেঁয়াজ রসুনের ব্যাবহার উল্লেখ রয়েছে। কাজেই পেঁয়াজ রসুন খাওয়া কে নিষিদ্ধ বলা অযৌক্তিক।

  টকে যাওয়া (ব্যাতিক্রম – দই) বা পচে যাওয়া বা কোনো খাবারে উভয়ে মিশ্রিত খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২০, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১৫, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭

  কুকুর, বিড়াল, বানর, মহিষ প্রভৃতি বন্য প্রাণীর মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – লৌগাক্ষিগৃহ্ম সূত্রাণি ২.১৯৩, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩, মানব গৃহসূত্র ১.৪.২-৪

  যে খাবারে কোনো পশু মুখ দিয়েছে তা খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.১০, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭

  যে সব খাবারে পোকা জন্মছে তা খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৬.২৬, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭

উক্ত নিষিদ্ধতার বাইরের খাদ্য বস্তু বা আহার সামগ্রী সমূহ বৈধ, কারণ সেইসব আহার সামগ্রীর উপরে নিষিদ্ধতা আরোপ হয়নি হিন্দুশাস্ত্র সমূহে।

Writer and Editor Samir Kumar Mondal
Collect from: sanatandharmatattva.wordpress.com
Share:

১৮ মে ২০১৭

মহাভারত থেকে কিছু দার্শণিক জীবনদর্শন মূলকতথ্য ও ব্যাখা


পুঁথি ঘেঁটে যা জানা যায়, সে সময়কার জনসংখ্যার আশি শতাংশ পুরুষ মহাভারতের ১৮ দিনের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

যুদ্ধ শেষে সঞ্জয় কুরুক্ষেত্রের সেই জায়গায় গমন করেন যেখানে যুদ্ধ হয়েছিল।


কুরুক্ষেত্রের জমিতে দাঁড়িয়ে উনি ভাবতে থাকেন, সত্যিই কি সেই জায়গার মাটি যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে,মহাপ্রতাপশালী পান্ডব এবং কৌরবদের রক্তে শুষে নিয়েছে। এই চিন্তা যখন ওনার মস্তিষ্কে বিরাজ করিছে, এক কম্পিত কন্ঠ, বৃদ্ধের কোমল ধ্বনি তাঁর কানে বেজে ওঠে। তিনি শুনতে পান,

"তুমি কখনোই সত্য জানতে পারবে না বৎস..!!"

ঘুরে দাঁড়াতে সঞ্জয় গেরুয়া বস্ত্রধারী এক বৃদ্ধকে ধুলোর স্তম্ভ থেকে উঠে আসতে দেখেন।

-আমি জানি বৎস, তুমি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বিষয় জানতে চাও কিন্তু ততক্ষণ তা তোমার বোধগম্য হইবে না, যতক্ষণ না তুমি বাস্তবে যুদ্ধটা কি বস্তু, সেটা বুঝিবে।

মৃদু হেসে বৃদ্ধ বলেন।

-তার মানে..?

-মহাভারত একটি দৃষ্টান্ত, একটি মহাকাব্য, হয়ত বাস্তব, হয়ত বা দর্শন।

মৃদু-মন্দ হেসে বৃদ্ধ সঞ্জয়ের দিকে তাকান। তাঁর মনে আরও প্রশ্ন উদ্রেক করাই বোধহয় তাঁর লক্ষ।

-আপনি দয়া করে যদি বলেন ওই দর্শন বস্তুটি কি..??

সঞ্জয় অনুরোধ করেন।

নিশ্চয়, এই বলিয়া বৃদ্ধ আরম্ভ করেন,

-পঞ্চপান্ডব আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় বই কিছু না। দৃষ্টি, ঘ্রাণ, স্বাদ, স্পর্শ ও ধ্বনি।

আর কৌরবরা কি, তা কি জান তুমি..?? দৃষ্টি সরু করে বৃদ্ধ শুধান।

কৌরব আমাদের একশতদোষ যারা নিত্য, প্রতিমুহূর্ত আমাদের ওই পাঁচ ইন্দ্রিয়কে আক্রমণ করছে। জান কখন..??

সঞ্জয় আবার মাথা নাড়েন।

-শ্রীকৃষ্ণ যখন তোমার রথের সারথি হন, তখন..!!

বৃদ্ধ ঝকঝকে হাসি হাসেন এবং সঞ্জয় এই অন্তর্নিহিত জ্ঞান প্রাপ্তিযোগে অবাক চোখে বৃদ্ধকে দেখেন।

-শ্রীকৃষ্ণ তোমার অন্তর ধ্বনি, তোমার আত্মা, তোমার পথপ্রদর্শনকারি আলোককস্তম্ভ এবং তুমি যদি তাঁর হাতে নিজেকে সমর্পিত করে দাও, তুমি চিন্তামুক্ত থাকবে জীবনে।

সঞ্জয় বোকার মত বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু শীঘ্রই আবার সামলে নিয়ে পরের প্রশ্ন করেন,

-তাহলে দ্রোণাচার্য, ভীষ্মপিতামহ কেন কৌরবের হয়ে লড়াই করলেন, যদি কৌরবরা দোষী হয়..??

ধীরে মাথা সঞ্চালন করে বৃদ্ধ বলেন,

-ইহার মানে, যখন তুমি বড় হও, তোমার ধারণা বয়স্ক মানুষদের প্রতি বদল হতে থাকে। ছেলেবেলায় যে বয়ঃজ্যেষ্টদের মনে হত তারা সঠিক, বড় হয়ে বুঝতে পার, ততটা ঠিক নন তারা। তাদেরও দোষ আছে। এবং একটা দিন আসে যখন তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের সংগ তোমার জন্যে ভাল কি মন্দ। তারপর এটাও হয়ত তুমি উপলব্ধি কর একটা সময়, তাদের সাথে লড়াই করাই তোমার জন্যে মংগলের। বেড়ে ওঠার ইহাই সবচাইতে কঠিন পক্ষ এবং সেইজন্যেই গীতার সারমর্ম জানা দরকার।

বাকরূদ্ধ হইয়া সঞ্জয় মাটির ওপর হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়েন। ইহার কারণ এই নয় যে এই বাণী ক্লান্তিজনিত তাঁর কাছে বরং এই দর্শনের মাত্রাধিকতায় তিনি আবিভূত হইয়া পড়েন।

-তাহলে কর্ণকে কি বলবেন..??

-আহ্, তুমি সর্বোত্তম প্রশ্ন সবার শেষে করেছ। কর্ণ তোমার ইন্দ্রিয়গণের ভ্রাতা। সে বাসনা। সে তোমারই এক অংশ কিন্তু সে সংগ দেয় দোষের। যদিও সে দোষীর সংগ দিয়ে মনে মনে পীড়া অনুভব করে কিন্তু নিজেকে ঠিক সাবস্ত করার জন্যে নানান যুক্তি দেয়, ঠিক যেমন তোমার বাসনা সর্বক্ষণ তোমায় যুক্তি যুগিয়ে চলে। তোমার বাসনা তোমায় মিথ্যে যুক্তি দিয়ে মন ভোলানোর চেষ্টা করেনা কি সর্বদা..??

সঞ্জয় নিঃশব্দে মাথা নাড়ান।

এক দৃষ্টিতে তিনি কুরুভুমির দিকে তাকিয়ে থাকেন। মনে তাঁর লক্ষ-কোটি চিন্তা তোলপাড় করে। প্রতিটি কথা গুছিয়ে তিনি সামঞ্জস্য তৈরি করার চেষ্টা করেন। খানিক বাদে যখন তিনি মাথা তোলেন, বৃদ্ধ তখন সেখান থেকে প্রস্থান করেছেন। ধুলোর স্তম্ভে আবার মিলিয়ে গেছেন।

পেছনে ফেলে রেখে, এক চিলতে জীবনদর্শন..!!🙏👏🙏

সংগৃহিতঃ https://www.facebook.com/Sri.Krishna.Net.1/?hc_ref=PAGES_TIMELINE


Share:

০৮ মে ২০১৭

প্রকৃত প্রায়শচিত্তের জন্য দরকার প্রকৃত জ্ঞান

Image may contain: 1 personপ্রকৃত জ্ঞান অর্জনের কিছু পন্থা আছে।
কেউ যখন বিশুদ্ধ উপায় অবলম্বন করে তখন তাঁর কোন রোগ হয় না এবং সে কখনও অসুস্থ হয় না।
একজন মানুষের অন্তর্নিহিত জ্ঞান বিকশিত করার জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় তাঁকে বলা হয়
তপস্যা।
একজন মানুষ তপশ্চর্যা অথবা কৌমার্য ( ব্রহ্মচারী) অবলম্বনের মাধ্যমে, যোগাসন অবলম্বনের মাধ্যমে, ইন্দ্রিয়কে দমন করার মাধ্যমে, নিজের ধনদৌলত দান করার মাধ্যমে, সত্যবাদী থাকার মাধ্যমে, পরিস্কার-পরিছন্ন থাকার মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনামৃত অর্জন করতে পারে।
কিন্তু কেউ যদি যথার্থ গুরুর অধীনে কৃষ্ণভাবনামৃত অর্জন করতে চায় তাহলে তাঁর এই সব যোগাভ্যাস না করা সত্ত্বেও সে কৃষ্ণচেতনা অর্জন করতে পারবে।
কিন্তু যথার্থ গুরুর অধীনে কৃষ্ণ চেতনা অর্জন করতে গেলে কতগুলো নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে, যেমন- অবৈধ যৌনাচার, মাংস ভক্ষণ, জুয়া খেলা, নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা এবং যথার্থ বা প্রকৃত গুরুর অধীনে কৃষ্ণ চেতনা অর্জন করা।
এই সহজ পন্থাটি শ্রীরূপ গোস্বামী কর্তৃক সুপারিশ করা হয়েছে।
আমাদের সকলের কথা বলার স্বাধীনতা আছে, আমরা যখনই সুযোগ পাই তখনই কথা বলতে চাই।
কিন্তু বেশির ভাগ সময় আমরা কৃষ্ণ সম্পর্কিত কথা না বলে যতসব আজগুবি বিষয় নিয়ে কথা বলি।
এটাকে ব্যাঙের ডাকের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
ব্যাঙ সব সময় কর্কশ স্বরে ডাকে এবং সাপকে আহবান করে তাঁকে খাওয়ার জন্য।
যদিও সে বুঝতে পারে যে সে ডাকলে সাপ সেই ডাক
শূনে তাঁকে খেতে আসবে তবুও সে ডাকে।
তেমনি জড়জাগতিক বিষয়াসক্ত মানুষ এবং মায়াবাদী দার্শনিকেরা সব সময় এই ব্যাঙের মত ডেকে চলেছে।
এবং এই ভাবে তারা তাদের মৃত্যু ডেকে আনছে।
নিজের বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা মানে মৌনতা নয়
যেটা মায়াবাদীদের ভাষ্য।
মৌনতা মাঝে মাঝে উপকার করে কিন্তু বেশির ভাগ সময় ব্যর্থ প্রতীয়মান হয়।
শ্রীরূপ গোস্বামী বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করতে বুঝিয়েছেন
জড়জাগতিক আলোচনা কম করে বেশির ভাগ সময়
কৃষ্ণনাম জপ করতে হবে।
মনের অস্থিরতা তখনই দূরীভূত হবে যখন মন কৃষ্ণভাবনায় নিয়োজিত হবে।

শ্রী চৈতন্যচরিতামৃতে ( মধ্যলীলা ২২।৩১)
বলা হয়েছে...... "কৃষ্ণ হল সূর্যের মত, আর
মায়া হল অন্ধকার।
যেখানে সূর্য থাকবে সেখানে অন্ধকারের কোন অস্তিত্ব
থাকতে পারে না।"
তেমনি মনে যদি কৃষ্ণ চেতনা জাগ্রত হয় তাহলে মন আর মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়বে না।
জড়জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার সমস্ত যোগীক
প্রচেষ্টা সাধারণত খুব বেশী ফলপ্রসূ হয় না।
মনে একটি শূন্যস্থান তৈরি হলে সেই শূন্যস্থান বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়না।
মনে যদি কৃষ্ণচেতনা জাগ্রত হয় তাহলে মন আপনা থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়।


Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

২৩ এপ্রিল ২০১৭

হিন্দু ধর্মের ' অ-আ-ক-খ'


হিন্দু ধর্মের প্রকৃত নাম সনাতন ধর্ম । অর্থাৎ যা চিরন্তন , শাশ্বত । স্বামী বিবেকানন্দ একে সকল ধর্মের প্রসূতি স্বরূপ বলে নির্দেশ করেছেন । কারণ এই বিশ্বে প্রচলিত ধর্ম মত গুলির প্রায় সব গুলির মূল ভাব হিন্দু ধর্মে দেখা যায় । সভ্য মানব জাতির বিভিন্ন ধর্ম মত গুলির মধ্যে হিন্দু ধর্মই সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ।হিন্দু ধর্মের প্রকৃত নামসনাতন ধর্ম । অর্থাৎ যা চিরন্তন , শাশ্বত । স্বামী বিবেকানন্দ একে সকল ধর্মের প্রসূতি স্বরূপ বলে নির্দেশ করেছেন । কারণ এই বিশ্বে প্রচলিত ধর্ম মত গুলির প্রায় সব গুলির মূল ভাব হিন্দু ধর্মে দেখা যায় । সভ্য মানব জাতির বিভিন্ন ধর্ম মত গুলির মধ্যে হিন্দু ধর্মই সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ।হিন্দু ধর্মের আকর হল বেদ , যার মুখ্যতঃ দুটি অংশ - ' জ্ঞান কাণ্ড' ও 'কর্ম কাণ্ড' । 

'কর্ম কাণ্ড' যুগ ভেদে পরিবর্তন শীল । ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণ যখন বললেন - '' কলি যুগে বেদ মত চলে না '' তখন তিনি এই 'কর্ম কাণ্ড' কেই নির্দেশ করেছেন ।' জ্ঞান কাণ্ড' যুগ ভেদে অপরিবর্তনীয় । অরণ্যচারী ঋষি দের সাধনার দ্বারা আবিষ্কৃত পারমার্থিক সত্য এই ' জ্ঞান কাণ্ড' । এটি কোনও সাম্প্রদায়িক মত নয় । হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে যেমন জল হয় , এটা যেমন যে কোনও মানুষের দ্বারা পরীক্ষায় সত্য প্রমাণিত হবে , ঠিক তেমনি ' জ্ঞান কাণ্ড ' নির্দেশিত অনুভূতি সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্যে প্রযোজ্য । এখানেই হিন্দু ধর্ম সকল ধর্ম মত কে নিজের মধ্যে গ্রহণ করেছে । অথবা ঐতিহাসিক বিচারে বলতে হয় হিন্দু ধর্ম সকল ধর্ম মতের জন্ম দিয়েছে ।হিন্দু ঋষিগণ ধর্মপথ নির্দেশের সময় মানুষের রুচি ও ক্ষমতার ভিন্নতার কথা চিন্তা করেছেন , তাই মূর্তি পূজা থেকে শুরু করে নিরাকার ব্রহ্ম উপাসনা পর্যন্ত সবই হিন্দু ধর্মে স্বীকৃত হয়েছে । বিভিন্ন মাপের মানুষের জন্য একই মাপের পোশাক এই ধর্ম দেয়না ।

 হিন্দুরা নিজ নিজ রুচি ও ক্ষমতার স্তর অনুযায়ী নিজের উপযুক্ত সাধন পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন । উদ্দেশ্য সবারই এক , এবং তা হল - আত্ম জ্ঞান , অর্থাৎ স্ব-স্বরূপ কে জানা ।হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন সাধন পথ গুলিকে মুখ্যতঃ চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে । এগুলি হল জ্ঞান যোগ , কর্ম যোগ , ভক্তি যোগ ও রাজ যোগ ।জ্ঞান যোগে আত্ম বিশ্লেষণ এবং ' শ্রবণ , মনন ও নিদিধ্যাসনের ' দ্বারা ' নেতি নেতি ' বিচারের মাধ্যমে সাধক লক্ষ্যে উপনীত হন । আচার্য শঙ্কর এই সাধনা প্রচার করেছেন ।কর্ম যোগে নিষ্কাম কর্ম দ্বারা সকাম কর্ম বন্ধন কেটে সাধক লক্ষ্যে উপনীত হন । ভগবান শ্রী কৃষ্ণ অর্জুন কে কুরুক্ষেত্র প্রান্তরে কর্মযোগে উদ্দীপ্ত করেছেন ।ভক্তিযোগে প্রেমের বন্ধনে ভক্ত সাধক ঈশ্বরকে ধরার চেষ্টা করেন । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য ( মহাপ্রভু ) এই ভাবের প্রচার করেছেন ।রাজযোগে ধ্যান , প্রাণায়াম প্রভৃতি শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়ার দ্বারা সাধক স্ব-স্বরূপ লাভ করেন ।
 মহর্ষি পতঞ্জলি এই সাধন পদ্ধতি প্রচার করেছেন । পৃথক পৃথক ভাবে এই চারটি পথের সাধক অনেক ক্ষেত্রে বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন , যেমন জ্ঞান যোগ মানুষকে শুষ্ক বিচার প্রবণ করতে পারে । কর্ম যোগে কর্ম সকাম হয়ে সাধকের অবনতি ঘটাতে পারে । ভক্তি যোগে গোঁড়ামি আসতে পারে । রাজ যোগে সিদ্ধাই বা অলৌকিক ক্ষমতা লাভের দিকে মন চলে যেতে পারে । ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণ এই নবযুগের জন্য তাই নির্দেশ করেছেন যোগ - চতুষ্টয়ের সমন্বয় । স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন - জ্ঞান - কর্ম - ভক্তি অথবা রাজ যোগ এই চারটি পথের যে কোনও একটি অবলম্বন করে সাধক সিদ্ধ হতে পারেন , কিন্তু ' শ্রী রামকৃষ্ণ - রূপ মুষায় ( ছাঁচে) জীবন উৎকীর্ণ করিতে হইলে ( জীবন ঢেলে গঠন করতে গেলে ) সেই জীবনে থাকিবে - চতুর্বিধ যোগের সমন্বয় ' সমন্বয়ের PRACTICAL প্রয়োগ হিসাবে স্বামীজী তুলে ধরেছেন শিব - জ্ঞানে জীব সেবার আদর্শ । এই হল স্বামী বিবেকানন্দ নির্দেশিত 'PRACTICAL বেদান্ত' । বনের বেদান্ত এভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সমাজে ও সংসারের সর্বত্র ।

লেখক-তাপস ঘোষ
Share:

০২ জানুয়ারি ২০১৭

প্রণাম করার পিছনে কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে?

প্রণাম
Image may contain: one or more people=====
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা আমাদের দেশের মানুষদের কাছে একটা সাধারণ রীতি। যুগের পর যুগ ধরে এই রীতি চলে আসছে। হাত জোড় করে প্রণাম করার থেকেও আমাদের দেশের মানুষ পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা বেশি পছন্দ করেন। ছেলেবেলা থেকেই তাই বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে শেখানো হয়। বলা হয়, বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার অর্থ হল, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালোবাসার মতো অনুভূতি প্রকাশ করা। তাই বাড়িতে কোনও আত্মীয়-সজন আসলে কিংবা বয়সে বড় কারও সঙ্গে দেখা হলে আমরা সবসময় পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করি। এমনটাই আমাদের শেখানো হয় ছেলেবেলা থেকে। কিন্তু এই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে শুধু গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপণই হয় না। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার একটি বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। জানেন কি এই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার পিছনে কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে?

মস্তিষ্ক থেকে শুরু হওয়া শিরা-উপশিরা শেষ হয় হাত-পায়ের আঙুলের ডগায়। তাই একজন যখন হাত দিয়ে অপরজনের চরণ স্পর্শ করে, তখন একটি ‘সার্কিট’ শেষ হয়। বড়দের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে তাদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে, স্নেহের ভেতর দিয়ে যে ‘পজেটিভ এনার্জি’ বেরোয়, তা সঞ্চালিত হয় যে প্রণাম করছে তার শরীরে।

লেখকঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, স্তোত্রং ও ফলশ্রুতি

মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
============

ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম।
উর্বারুকমিববন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ স্বাহা।
ভাবার্থ --- হে সৃষ্টিকর্তা, ধর্তা ও হর্তা পরমাত্মন! তুমি আমাদের জন্য সুগন্ধিত, পুষ্টিকারক তথা বলবর্ধক ভোগ্য বস্তু দান করো। আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তিসহকারে তোমার ভজন করি। হে দেব! আমরা পূর্ণায়ু ও পূর্ণভোগ করেই যেন এই শরীর রূপী বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারি।
-
ব্যাখ্যা --- খরমুজ পাকলেই বিনা কষ্টে সে তার ডাল থেকে মুক্ত হয়ে যায়। হে প্রভো! আমরা যেন এই জন্ম-মৃত্যু চক্র থেকে মুক্ত হয়ে কিন্তু তোমার অমৃতময়ীস্নেহ থেকে যেন বিমুখ না হই। তোমার অমৃতধারার বরদ হস্ত সদা যেন আমাদের উপরে থাকে।


Image may contain: 1 personমহামৃত্যুঞ্জয় স্তোত্রং
==============
চন্দ্রার্কাগ্নিবিলোচনং স্মিতমুখং পদ্মদ্বয়ান্তস্থিতং
মুদ্রাপাশমৃগাক্ষসত্রবিলসত্পাণিং হিমাংশুপ্রভম্ |
কোটীন্দুপ্রগলত্সুধাপ্লুততমুং হারাদিভূষোজ্জ্বলং
কান্তং বিশ্ববিমোহনং পশুপতিং মৃত্যুঞ্জযং ভাবয়েত্ ||
রুদ্রং পশুপতিং স্থাণুং নীলকণ্ঠম উমাপতিম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১||
নীলকন্ঠং কালমূর্ত্তিং কালজ্ঞং কালনাশনম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ২||
নীলকণ্ঠং বিরূপাক্ষং নির্মলং নিলয়প্রদম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৩||
বামদেবং মহাদেবং লোকনাথং জগদ্গুরুম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৪||
দেবদেবং জগন্নাথং দেবেশং বৃষভধ্বজম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৫||
ত্র্যক্ষং চতুর্ভুজং শান্তং জটামকুটধারিণম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৬||
গঙ্গাধরং মহাদেবং সর্বাভরণভূষিতম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৭||
ভস্মোদ্ধূলিতসর্বাঙ্গং নাগাভরণভূষিতম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৮||
অনন্তমব্যযং শান্তং অক্ষমালাধরং হরম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ৯||
আনন্দং পরমং নিত্যং কৈবল্যপদদায়িনম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১০||
অর্দ্ধনারীশ্বরং দেবং পার্বতীপ্রাণনায়কম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১১||
প্রলয়স্থিতিকর্ত্তারমাদিকর্ত্তারমীশ্বরম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১২||
ব্যোমকেশং বিরূপাক্ষং চন্দ্রার্দ্ধকৃতশেখরম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৩||
গঙ্গাধরং শশিধরং শঙ্করং শূলপাণিনম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৪||
অনাথঃ পরমানন্তং কৈবল্যপদগামিনি |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৫||
স্বর্গাপবর্গদাতারং সৃষ্টিস্থিত্যন্তকারণম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৬||
কল্পায়ুর্দ্দেহি মে পুণ্যং যাবদায়ুররোগতাম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৭||
শিবেশানাং মহাদেবং বামদেবং সদাশিবম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৮||
উত্পত্তিস্থিতিসংহারকর্তারমীশ্বরং গুরুম্ |
নমামি শিরসা দেবং কিং নো মৃত্যুঃ করিষ্যতি || ১৯||

ফলশ্রুতি
======

মার্কণ্ডেযকৃতং স্তোত্রং যঃ পঠেচ্ছিবসন্নিধৌ | তস্য মৃত্যুভয়ং নাস্তি নাগ্নিচৌরভযং ক্বচিত্ || ২০||
শতাবর্ত্তং প্রকর্তব্যং সংকটে কষ্টনাশনম্ | শুচির্ভূত্বা পথেত্স্তোত্রং সর্বসিদ্ধিপ্রদায়কম্ || ২১||
মৃত্যুঞ্জয় মহাদেব ত্রাহি মাং শরণাগতম্ | জন্মমৃত্যুজরারোগৈঃ পীডিতং কর্মবন্ধনৈঃ || ২২||
তাবকস্ত্বদ্গতঃ প্রাণস্ত্বচ্চিত্তোঽহং সদা মৃড | ইতি বিজ্ঞাপ্য দেবেশং ত্র্যম্বকাখ্যমনুং জপেত্ || ২৩||
নমঃ শিবায় সাম্বায় হরয়ে পরমাত্মনে | প্রণতক্লেশনাশায় যোগিনাং পতয়ে নমঃ || ২৪||
|| শ্রীমার্কণ্ডেযপুরাণে মার্কণ্ডেযকৃত মহামৃত্যুঞ্জয়স্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ||

লেখকঃ প্রীথিষ ঘোষ
Share:

০২ আগস্ট ২০১৬

বর্তমানের অনেক বিষয়ের প্রতিকারে প্র্রাচীন ভারতের চাণক্যনীতি-র বক্তব্য আজও কার্যকর

চাণক্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০-২৮৩ অব্দ) ছিলেন একজন প্রাচীন ভারতীয় গুরু (শিক্ষক), দার্শনিক ও রাজ-উপদেষ্টা। তিনি প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক ছিলেন। তিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্থানে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনিই তরুণ চন্দ্রগুপ্তকে শিক্ষা দিয়েছিলেন। মৌর্য সাম্রাজ্য ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের নথিভুক্ত ইতিহাসে প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য। চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও তাঁর পুত্র বিন্দুসারের রাজ-উপদেষ্টার কাজ করেছিলেন। চাণক্যকে কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও অভিহিত করা হয়। তিনি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র-এর রচয়িতা। তাঁকেই ভারতের প্রথম অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করা হয়। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে তাঁর অর্থনীতি তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। চাণক্যকে "ভারতের মেকিয়াভেলি" বলা হয়। যদিও তিনি নিকোলো মেকিয়াভেলির ১৮০০ বছর আগের মানুষ ছিলেন। গুপ্ত রাজবংশের শাসনের শেষ দিকে তাঁর বইটি হারিয়ে যায়। এটি আবার আবিষ্কৃত হয় ১৯১৫ সালে।


অফিস-রাজনীতির শিকার? পড়ুন, কী বলছে চাণক্যনীতি :

প্রাচীন ভারতে ‘অফিস রাজনীতি’ ছিল না, এমনটা ভাবলে ভুল করবেন। মৌর্য যুগেই এক কঠোর কেন্দ্রীয় প্রশাসন ভারতে চালু হয়। পরর্তী সময়ে গুপ্ত সম্রাটরা আরও বিস্তৃত প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলেন। সেই সঙ্গে বিস্তৃতি
অব্যাহত থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যের। ফলে এই দেশে ‘অফিস জব’ যাকে বলে, তা সেই আমলেই ভাল পরিমাণেই ছিল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর এ কথা কে না জানে, অফিস থাকলেই অফিস পলিটিক্স-ও থাকে। সেই নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্তির সন্ধান রয়েছে ‘চাণক্যনীতি’-তে। ‘চাণক্যনীতি’-র ঐতিহাসিকতা নির্ণয় করার চেষ্টা করে লাভ নেই। এই নীতিবাক্য সমূহ যদি মহামতি কৌটিল্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্যের লেখা না-ও হয়, ক্ষতি নেই। এই বাণীসমূহকে প্রাচীন ভারতীয় গণ-প্রজ্ঞার প্রতিফলন হিসেবে দেখলে ভুল হবে না।

দেখা যাক অফিস-রাজনীতির প্রতিকারের বিষয়ে চাণক্যনীতি-র বক্তব্য কী।

• সততা বিষয়ে সাবধান। খুব বেশি সৎ হতে গেলে গেলে খেসারত দিতে হবে। সৎ ব্যক্তিরাই সবার আগে রাজনীতির শিকার হন।
• সততার সঙ্গে ধূর্ততার মিশেল ঘটানো একান্ত কাম্য। চোখ-কান খোলা রাখাটা তো আর অন্যায় নয়! অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। যখন সততার প্রয়োজন তখন সততা, আবার যেখানে ধূর্ততাই একমাত্র অনুসরণীয়, সেখানে সেটাই
অনুসরণ করা যুক্তিযুক্ত।
• কোনও কাজ শুরু করার আগে নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করুন—
১. কেন এই কাজটি আপনি করছেন?
২. এর ফল কী হতে পারে?
৩. এটা কী ধরনের সাফল্য আনতে সক্ষম?

• কোন কাজটি আগে করবেন, সেটা সবার আগে ঠিক করুন। সেই সঙ্গে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন কাজে কতটা সময় আপনি দেবেন এবং কেন দেবেন।
• কোনও কাজ শুরু করলে ব্যর্থতার ভয় পেলে চলবে না। পিছিয়ে এলে আপনারই ক্ষতি।
• দফতরের গোপনীতা রক্ষা করুন। সব কথ সবাইকে বলার নয়। এমনকী, নিজের স্ত্রীকেও নয়।
• দফতরের গুজব থকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন।
• দফতরের বন্ধুত্ব স্বার্থশূন্য হয় না, এটা মনে রাখবেন। সহকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেকে মিশুন।
• কোনও ভয় রেখে কাজ করবেন না। ভয় বা আশঙ্কা জাগ্রত হলেই তাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করুন।
• দেখা এবং শেখার চোখ সব সময়ে খোলা রাখুন।
• মনে রাখবেন, যে সাপ বিষধর নয়, সে-ও বিষধরের ভান করে।
• নিজের কাজের জায়গায় নিজেকে নমনীয় রাখুন।
• কোনও বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে বোকা বানাতে যাবেন না। তাঁর সঙ্গে সহজ সম্পর্কই তৈরি করুন।
• নিজের ভুল নিজে স্বীকার করুন। ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিন।
• পর্যবেক্ষণ-ক্ষমতাকে বাড়ান। ব্যক্তি এবং ঘটনা— দুটোকেই তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে দেখুন।


কোন নারীকে বিবাহ করা অনুচিত? কী বলেছেন চাণক্য?
প্রতিটি সমাজেরই নিজস্ব কিছু কহন রয়েছে বিবাহ বিষয়ে। বাংলার এক প্রচীন প্রবাদই হল— লাখ কথার বিয়ে। এই লক্ষ কথা তো খরচ হয় পরিচয়ে। কিন্তু তার পরেও তো দেখা দেয় অশান্তি। সংসার বিষময় হয়ে ওঠে কেবলমাত্র ভুল বিবাহ-সিদ্ধান্তে। সমাজ সেই সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে খানিক ভাবনা-চিন্তার অবকাশ রাখতে বলেছে বিশ্বের সর্বত্র। আমাদের দেশেও ‘চাণক্য নীতি’ নামে পরিচিত কহন খোলাখুলি জানায় বিবাহ-সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে করণীয় বিষয়ে ভাবার বিষয়ে। কোন নারীর সঙ্গে বিবাহ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া উচিত হবে না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায় চাণক্য নীতি।

দেখা যেতে পারে হাজার বছর ধরে চলে আসা সেই বিধির কয়েক ঝলক।

• সুন্দরী কি সুন্দরী নন, এ নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই চাণক্যর। তাঁর মতে কোনও নারীকে বিবাহ করার আগে তার অন্তরের হদিশ নেওয়াটা জরুরি। অন্তরের সৌন্দর্যই চানক্যের মতে শেষ কথা।
• বিবাহ করার আগে জেনে নিতে হবে সাত্রীর পরিবারের খুঁটনাটি। পরিবারের পরিচয়ই মেয়েটির প্রকৃত পরিচয়।
• রূঢ়ভাষী নারী থেকে বিবাহ-বিষয়ে দূরে থাকাই ভাল।
• সুন্দরী নারী, কিন্তু স্বভাব ছায়াচ্ছন্ন, এমন পাত্রীকে বিয়ে না করাই সাব্যস্ত।
• কোনও পরিস্থিতিতেই মিথ্যাবাদী স্ত্রীলোককে বিবাহ করা উচিত নয়।
• হবু স্ত্রী কতটা বিশ্বাসযোগ্যা, তা জেনে নেওয়াটা প্রাথমিক কর্তব্য।
• যে নারী গৃহকর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ, তার বিবাহ না করাই উচিত। আজকের দিনে উপদেশটা গায়ে লাগার মতো। তবে চাণক্যের যুগে ব্যাপারটা অপরিহার্য ছিল।
• নাস্তিক স্ত্রীলোককে কিছুতেই বিবাহ করা যাবে না।

সঠিক বন্ধু আর মেকি বন্ধুর ফারাক কোথায়? কী বলছে চাণক্য-নীতি?

ভারতীয় গণমানসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে যদি চাণক্য-নীতিকে ধরা হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা এক সামূহিক স্মৃতির কথা বলে। এই স্মৃতি এই উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই স্মৃতিই আমাদের কর্তব্য-অকর্তব্যের দিশারী হয়ে দাঁড়ায় কখনও কখনও। তাকে চাণক্য-নীতির মতো আপ্তবাক্যের স্তরে নিয়ে যায় গণচৈতন্যই। চাণক্য যদি এই কথাগুলি না-ও বলে থাকেন, তা হলেও কিছু যায়-আসে না। এই ‘চাণক্য’ আসলে ইতিহাসের নিজস্ব কণ্ঠস্বর।

চাণক্য বন্ধু ও শত্রুর ভেদকে চিহ্নিত করার উপায় বাৎলেছিলেন। সেই সঙ্গে এ-ও বলেছিলেন, কীভাবে চিনতে হয় প্রকৃত বন্ধুকে। এই পদ্ধতির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, কে প্রকৃত বন্ধু আর কে মেকি মিত্র, সেটা নির্ণয় করা। চাণক্য-নীতি সেই বিষয়ে বিশদ আলোকপাত করে। জেনে নেওয়া যাক, কী বক্তব্য এই প্রাচীন শাস্ত্রের।

• প্রকৃত বন্ধুর সবথেকে বড় লক্ষণ হল, তার স্বার্থহীনতা। লক্ষ রাখতে হবে, বন্ধু হিসেবে সে কতটা আত্মত্যাগপ্রবণ। লক্ষ্য রাখতে হবে, সে সকলের প্রতিই সমান যত্নশীল কি না। এমন মানুষকে নিশ্চিন্তে বিশ্বাস করা চলে।
• লক্ষ রাখুন, আপনার বন্ধু কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে কোনও কিছু না জেনেই মতামত তৈরি করে ফেলেন কি না। লক্ষ করতে হবে, তিনি তাঁর মতামত দ্রুত বদলে ফেলেন কি না। এবং এই মতামত কতটা সঠিক সেটা বিচার করে দেখতে হবে। সহজে মত বদলান, এমন বন্ধু থেকে সাবধান থাকাটাই শ্রেয়।
• জানার চেষ্টা করুন, আপনার বন্ধু কাদের সঙ্গে সময় কাটান। একজন মানুষের সঙ্গই তাঁর চরিত্রের আয়না। এ-ও লক্ষ করতে হবে, যাঁদের সঙ্গে সেই ব্যক্তি সময় কাটান, তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি তাঁদের সম্পর্কে কী মন্তব্য করেন। যদি তা সদর্থক হয়, তাহলে বুঝতে হবে তিনি বিশ্বাসযোগ্য।
• লক্ষ রাখতে হবে, বন্ধুটি বাক-সংযমী কি না। আত্মবিজ্ঞাপনকারী ব্যক্তি থেকে দূরে থাকাটাই কর্তব্য।    

শত্রুর দাপটে দিশেহারা? জেনে নিন কী বলছে চাণক্য-নীতি

চাণক্য-নীতির প্রাসঙ্গিকতা আজও প্রশ্নাতীত। কৌটিল্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্য স্বয়ং এই নীতি রচনা করেছিলেন কি না, সে কথা অবান্তর। এই নীতিমালায় আসলে প্রতিফলিত হয়েছে শত শত বছরের ভারতীয় প্রজ্ঞা। যে কোনও সংকটে, যেকোনও সমস্যায় চাণক্যনীতির সরামর্শ রয়েছে। কোনও বিশেষ কালের প্রেক্ষিতে এই নীতীমালাকে দেখা যাবে না। আজ, এই কর্পোরেট-বিশ্বেও চাণক্য-নীতি সমান কার্যকর বলেই মনে করেন ম্যনেজমেন্ট গুরুরা।

শত্রুতা সভ্যতায় এক অবশ্যম্ভাবী ব্যাপার। কোথা থেকে এবং কী করে শত্রুর উদয় ঘটে জীবনে, তা সব সময়ে বোঝা সম্ভব নয়। জীবনের কোনও বিশেষ পর্বে এসে দেখা যায়, তীব্র সব শত্রুতার শিকার হতে হচ্ছে। কখনও প্রতিদ্বন্দিতা, কখনও যৌন ঈর্ষা, কখনও বা বিনা কারণেই শত্রুতা মাথা চাড়া দেয়। শত্রু এবং শত্রুতা বিষয়ে চাণক্য-নীতি কী বলছে দেখা যাক।

• প্রতিটি সম্পর্কের পিছনে কোনও না কোনও উদ্দেশ্য কাজ করে। উদ্দেশ্যশূন্য সম্পর্ক হতে পারে না। বন্ধুত্ব এবং শত্রুতাও কোনও না কোনও উদ্দেশ্য দ্বারা প্রণোদিত। শত্রুতার ক্ষেত্রে সেই উদ্দেশ্যটিকে বোঝার চেষ্টা করুন।
• শত্রুর ক্ষমতার সীমা রয়েছে। তারও দুর্বলতা রয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত শত্রুর দুর্বল দিকগুলি জানতে পারছেন, ততক্ষণ শত্রুর সঙ্গে সংঘাতে না-যাওয়াই ভাল। দুর্বলতা জানা গেলে তার সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া যেতে পারে।
• শত্রুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়তেই পারেন। হারের সম্ভাবনা দেখা দিলেই সন্ধির চেষ্টা করতে হবে বলে জানাচ্ছে চাণক্য-নীতি। নিজের দুর্বলতাকে ঢাকা দিতে সন্ধি সব থেকে সম্মানজনক ব্যবস্থা।
• শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ করা কর্তব্য। রাষ্ট্রের জন্য এমন ক্ষেত্রে কড়া গুপ্তচর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে চাণক্য-নীতিতে। আর ব্যক্তিগত স্তরে প্রয়োজন সতর্কতার, একথাও বলছে চাণক্য-নীতি।


যে ৬টি প্রাণীর ঘুম কখনও ভাঙাতে নেই, কী বলছে চাণক্যনীতি ?



ভারতে প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত নৈতিক উপদেশাবলি ‘চাণক্য নীতি’ সত্যিই ‘অর্থশাস্ত্রট প্রণেতা কৌটিল্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্যের লেখা কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পার। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, ‘চাণক্য নীতি’ নামে পরিচিত নৈতিক উপদেশগুলি যথার্থই প্রাচীন। এই উপদেশগুলি আজ, এই কর্পোরেট-শাসিত বিশ্বেও দারুণভাবে সচল, একথা অনেকেই বলে থাকেন। আসলে ‘চাণক্য নীতি’ দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা গণস্মৃতির একটি দলিল। এতে যা রয়েছে, তা মানব সভ্যতারই অভিজ্ঞতার ফসল।

‘চাণক্য নীতি’-তে বহু সাবধানবাণীই উল্লিখিত রয়েছে। তার মধ্যে একটি ঘুমন্ত প্রাণী সংক্রান্ত। এখানে চাণক্য কয়েকটি ঘুমন্ত প্রাণীকে না-জাগাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই ‘প্রাণী’-রা হয়তো প্রতীক। কিন্তু চাণক্য প্রণিধানযোগ্য। দেখা যাক কী রয়েছে এই সংক্রান্ত উপদেশে।

১. সাপকে কখনও জাগাতে নেই। কারণ, ঘুম ভাঙলেই সে ছোবল মারতে পারে।
২. ঘুমন্ত রাজার ঘুম কখনও ভাঙাতে নেই। তা হলে রাজরোষে পড়তে হয়।
৩. সিংহের ঘুম ভাঙালে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিপুল।
৪. সরিসৃপের ঘুম ভাঙালে সমস্যা অনেক। তিতবিরক্ত হতে পারেন তার দ্বারা।
৫. শিশুদের ঘুম ভাঙাতে নেই। কারণ, ঘুমের ভিতরেই তারা বেড়ে ওঠে।
৬. বোকাদের ঘুমোতে দেওয়াই কাম্য। তারা জেগে থাকলে অনর্থের সম্ভাবনা।



চাণক্য নীতি দর্পণ সারাংশ:
১) যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করা উচিত।
২) সকল উদ্যোগ নির্ভর করে অর্থের ওপর। সেজন্যে সবচেয়ে অধিক মনোযোগ দেয়া উচিত খাজাঞ্চিখানার দিকে। তহবিল তসরুপ বা অর্থ আত্মসাতের চল্লিশটি পদ্ধতি আছে। জিহ্বা’র ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর আস্বাদন করা সম্ভব নয়, তেমনি কোন রাজ কর্মচারীর পক্ষে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে ফেলার ঘটনা অসম্ভব ব্যাপার। জলের নিচে মাছের গতিবিধি যেমন জল পান করে বা পান না করেও বোঝা সম্ভব নয়, অনুরূপ রাজ কর্মচারীর তহবিল তসরুপও দেখা অসম্ভব। আকাশের অতি উঁচুতেও পাখির উড্ডয়ন দেখা সম্ভব, কিন্তু রাজ কর্মচারীর গোপন কার্যকলাপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সমভাবে অসম্ভব।”
৩) বিষ থেকে সুধা, নোংরা স্থান থেকে সোনা, নিচ কারো থেকে জ্ঞান এবং নিচু পরিবার থেকে শুভলক্ষণা স্ত্রী – এসব গ্রহণ করা সঙ্গত।
৪) মনের বাসনাকে দূরীভূত করা উচিত নয়। এই বাসনাগুলোকে গানের গুঞ্জনের মতো কাজে লাগানো উচিত।
৫) যারা পরিশ্রমী, তাদের জন্যে কোনকিছুই জয় করা অসাধ্য কিছু নয়। শিক্ষিত কোন ব্যক্তির জন্যে কোন দেশই বিদেশ নয়। মিষ্টভাষীদের কোন শত্রু নেই।
৬) বিরাট পশুপালের মাঝেও শাবক তার মাকে খুঁজে পায়। অনুরূপ যে কাজ করে অর্থ সবসময় তাকেই অনুসরণ করে।
৭) মন খাঁটি হলে পবিত্র স্থানে গমন অর্থহীন।

কী বুঝলেন? সেই তেইশ শত বছর আগের উপদেশ এগুলো! একটাও আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে? নাকি আরও বেশী প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনে?

এবার আসা যাক তার রচিত বিভিন্ন শ্লোক বা উপদেশ প্রসঙ্গে-

চাণক্য শ্লোক:
১) অতি পরিচয়ে দোষ আর ঢাকা থাকে না।
২) অধমেরা ধন চায়, মধ্যমেরা ধন ও মান চায়। উত্তমেরা শুধু মান চায়। মানই মহতের ধন।
৩) অনেকে চারটি বেদ এবং ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করলেও আত্মাকে জানে না, হাতা যেমন রন্ধন-রস জানে না।
৪) অন্তঃসার শূন্যদের উপদেশ দিয়ে কিছু ফল হয় না, মলয়-পর্বতের সংসর্গে বাঁশ চন্দনে পরিণত হয় না।
৫) অবহেলায় কর্মনাশ হয়, যথেচ্ছ ভোজনে কুলনাশ হয়, যাচ্ঞায় সম্মান-নাশ হয়, দারিদ্র্যে বুদ্ধিনাশ হয়।
৬) অভ্যাসহীন বিদ্যা, অজীর্ণে ভোজন, দরিদ্রের সভায় কালক্ষেপ এবং বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা বিষতুল্য।
৭) অহংকারের মত শত্রু নেই।
৮) আকাশে উড়ন্ত পাখির গতিও জানা যায়, কিন্তু প্রচ্ছন্নপ্রকৃতি-কর্মীর গতিবিধি জানা সম্ভব নয়।
৯) আদর দেওয়ার অনেক দোষ, শাসন করার অনেক গুণ, তাই পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করাই দরকার, আদর দেওয়া নয়।
১০) আপদের নিশ্চিত পথ হল ইন্দ্রিয়গুলির অসংযম, তাদের জয় করা হল সম্পদের পথ, যার যেটি ঈপ্সিত সে সেই পথেই যায়।
১১) আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু সামনে ভাল কথা বলে, যার উপরে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ, তাকে পরিত্যাগ করা উচিত।
১২) ইন্দ্রিয়ের যে অধীন তার চতুরঙ্গ সেনা থাকলেও সে বিনষ্ট হয়।
১৩) উপায়জ্ঞ মানুষের কাছে দুঃসাধ্য কাজও সহজসাধ্য।
১৪) উৎসবে, বিপদে, দুর্ভিক্ষে, শত্রুর সঙ্গে সংগ্রামকালে, রাজদ্বারে এবং শ্মশানে যে সঙ্গে থাকে, সে-ই প্রকৃত বন্ধু।
১৫) ঋণ, অগ্নি ও ব্যাধির শেষ রাখতে নেই, কারণ তারা আবার বেড়ে যেতে পারে।
১৬) একটি দোষ বহু গুণকেও গ্রাস করে।
১৭) একটি কুবৃক্ষের কোটরের আগুন থেকে যেমন সমস্ত বন ভস্মীভূত হয়, তেমনি একটি কুপুত্রের দ্বারাও বংশ দগ্ধ হয়।
১৮) একটিমাত্র পুষ্পিত সুগন্ধ বৃক্ষে যেমন সমস্ত বন সুবাসিত হয়, তেমনি একটি সুপুত্রের দ্বারা সমস্ত কুল ধন্য হয়।
১৯) একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুণী পুত্র বরং ভাল। একটি চন্দ্রই অন্ধকার দূর করে, সকল তারা মিলেও তা পারে না।
২০) কর্কশ কথা অগ্নিদাহের চেয়েও ভয়ঙ্কর।
২১) খেয়ে যার হজম হয়, ব্যাধি তার দূরে রয়।
২২) গুণবানকে আশ্রয় দিলে নির্গুণও গুণী হয়।
২৩) গুণহীন মানুষ যদি উচ্চ বংশেও জন্মায় তাতে কিছু আসে যায় না। নীচকুলে জন্মেও যদি কেউ শাস্ত্রজ্ঞ হয়, তবে দেবতারাও তাঁকে সম্মান করেন।
২৪) গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও শিক্ষা দেন, তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই, যা দিয়ে সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে পারে।
২৫) গৃহে যার মা নেই, স্ত্রী যার দুর্মুখ তার বনে যাওয়াই ভাল, কারণ তার কাছে বন আর গৃহে কোনও তফাৎ নেই।
২৬) চন্দন তরুকে ছেদন করলেও সে সুগন্ধ ত্যাগ করে না, যন্ত্রে ইক্ষু নিপিষ্ট হলেও মধুরতা ত্যাগ করে না, যে সদ্বংশজাত অবস্থা বিপর্যয়েও সে চরিত্রগুণ ত্যাগ করে না।
২৭) তিনটি বিষয়ে সন্তোষ বিধেয়: নিজের পত্নীতে, ভোজনে এবং ধনে। কিন্তু অধ্যয়ন, জপ, আর দান এই তিন বিষয়ে যেন কোনও সন্তোষ না থাকে।
২৮) দারিদ্র্য, রোগ, দুঃখ, বন্ধন এবং বিপদ- সব কিছুই মানুষের নিজেরই অপরাধরূপ বৃক্ষের ফল।
২৯) দুর্জনের সংসর্গ ত্যাগ করে সজ্জনের সঙ্গ করবে। অহোরাত্র পুণ্য করবে, সর্বদা নশ্বরতার কথা মনে রাখবে।
৩০) দুর্বলের বল রাজা, শিশুর বল কান্না, মূর্খের বল নীরবতা, চোরের মিথ্যাই বল।
৩১) দুষ্টা স্ত্রী, প্রবঞ্চক বন্ধু, দুর্মুখ ভৃত্য এবং সর্প-গৃহে বাস মৃত্যুর দ্বার, এ-বিষয়ে সংশয় নেই।
৩২) ধর্মের চেয়ে ব্যবহারই বড়।
৩৩) নানাভাবে শিক্ষা পেলেও দুর্জন সাধু হয় না, নিমগাছ যেমন আমূল জলসিক্ত করে কিংবা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও কখনও মধুর হয় না।
৩৪) পরস্ত্রীকে যে মায়ের মত দেখে, অন্যের জিনিসকে যে মূল্যহীন মনে করে এবং সকল জীবকে যে নিজের মত মনে করে, সে-ই যথার্থ জ্ঞানী।
৩৫) পাপীরা বিক্ষোভের ভয় করে না।
৩৬) পাঁচ বছর বয়স অবধি পুত্রদের লালন করবে, দশ বছর অবধি তাদের চালনা করবে, ষোল বছরে পড়লে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মত আচরণ করবে।
৩৭) পুত্র যদি হয় গুণবান, পিতামাতার কাছে তা স্বর্গ সমান।
৩৮) পুত্রকে যারা পড়ান না, সেই পিতামাতা তার শত্রু। হাঁসদের মধ্যে বক যেমন শোভা পায় না, সভার মধ্যে সেই মূর্খও তেমনি শোভা পায় না।
৩৯) বইয়ে থাকা বিদ্যা, পরের হাতে থাকা ধন একইরকম। প্রয়োজন কালে তা বিদ্যাই নয়, ধনই নয়।
৪০) বিদ্বান সকল গুণের আধার, অজ্ঞ সকল দোষের আকর। তাই হাজার মূর্খের চেয়ে একজন বিদ্বান অনেক কাম্য।
৪১) বিদ্যাবত্তা ও রাজপদ এ-দুটি কখনও সমান হয় না। রাজা কেবল নিজদেশেই সমাদৃত, বিদ্বান সর্বত্র সমাদৃত।
৪২) বিদ্যা ব্যতীত জীবন ব্যর্থ, কুকুরের লেজ যেমন ব্যর্থ, তা দিয়ে সে গুহ্য-অঙ্গও গোপন করতে পারে না, মশাও তাড়াতে পারে না।
৪৩) বিদ্যাভূষিত হলেও দুর্জনকে ত্যাগ করবে, মণিভূষিত হলেও সাপ কি ভয়ঙ্কর নয়?
৪৪) বিদ্যার চেয়ে বন্ধু নাই, ব্যাধির চেয়ে শত্রু নাই। সন্তানের চেয়ে স্নেহপাত্র নাই, দৈবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বল নাই।
৪৫) বিনয়ই সকলের ভূষণ।
৪৬) বিষ থেকেও অমৃত আহরণ করা চলে, মলাদি থেকেও স্বর্ণ আহরণ করা যায়, নীচজাতি থেকেও বিদ্যা আহরণ করা যায়, নীচকুল থেকেও স্ত্রীরত্ন গ্রহণ করা যায়।
৪৭) ভোগবাসনায় বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়।
৪৮) মিত ভোজনেই স্বাস্থ্যলাভ হয়।
৪৯) যশবানের বিনাশ নেই।
৫০) যারা রূপযৌবনসম্পন্ন এবং উচ্চকুলজাত হয়েও বিদ্যাহীন, তাঁরা সুবাসহীন পলাশ ফুলের মত বেমানান।
৫১) যে অলস, অলব্ধ-লাভ তার হয় না।
৫২) যে গাভী দুধ দেয় না, গর্ভ ধারণও করে না, সে গাভী দিয়ে কী হবে! যে বিদ্বান ও ভক্তিমান নয়, সে পুত্র দিয়ে কী হবে!
৫৩) রাতের ভূষণ চাঁদ, নারীর ভূষণ পতি, পৃথিবীর ভূষণ রাজা, কিন্তু বিদ্যা সবার ভূষণ।
৫৪) শাস্ত্র অনন্ত, বিদ্যাও প্রচুর। সময় অল্প অথচ বিঘ্ন অনেক। তাই যা সারভূত তারই চর্চা করা উচিত। হাঁস যেমন জল-মিশ্রিত দুধ থেকে শুধু দুধটুকুই তুলে নেয়, তেমনি।
৫৫) সত্যনিষ্ঠ লোকের অপ্রাপ্য কিছুই নাই।
৫৬) সত্যবাক্য দুর্লভ, হিতকারী-পুত্র দুর্লভ, সমমনস্কা-পত্নী দুর্লভ, প্রিয়স্বজনও তেমনি দুর্লভ।
৫৭) সাপ নিষ্ঠুর খলও নিষ্ঠুর, কিন্তু সাপের চেয়ে খল বেশি নিষ্ঠুর। সাপকে মন্ত্র বা ওষধি দিয়ে বশ করা যায়, কিন্তু খলকে কে বশ করতে পারে?
৫৮) সুবেশভূষিত মূর্খকে দূর থেকেই দেখতে ভাল, যতক্ষণ সে কথা না বলে ততক্ষণই তার শোভা, কথা বললেই মূর্খতা প্রকাশ পায়।
৫৯) হাতি থেকে একহাজার হাত দূরে, ঘোড়া থেকে একশ হাত দূরে, শৃঙ্গধারী প্রাণী থেকে দশহাত দূরে থাকবে। অনুরূপ দুর্জনের কাছ থেকেও যথাসম্ভব দূরে থাকবে।

সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন যে, “দেহের সৌন্দর্যের চাইতে চিন্তার সৌন্দর্য অধিকতর মোহময় ও এর প্রভাব যাদুতুল্য।” অন্যদিকে চাণক্য ছিলেন দক্ষ পরিকল্পনাবিদ। সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন অটল এবং অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিল না তার কাছে। নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন কঠোর।

কি বুঝলেন?
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।