• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

হিন্দু নির্যাতনের চিত্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হিন্দু নির্যাতনের চিত্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০২ সেপ্টেম্বর ২০২০

সনাতন ধর্মের পরিনতির কারণ

( সনাতন ধর্মের ধংসের জন্য ব্রাহ্মণেরা দায়ী নয়, মুলে ছিল নতুন ধর্মের প্রবর্তন তথা গৌতম বৌদ্ধের বেদ উপনিষদ গীতাকে বাদ দিয়ে নতুন মতবাদ চালু, সনাতন ধর্মাল্বীদের মধ্যে অনৈক্য, ক্ষত্রিয় রাজাদের স্বেচারিতা, অনৈক্য, যুদ্ধ ও ধর্মান্তর করণ। বিদেশী দখলদারদের হামলা, দখল বিশেষ করে মোগলদের কঠোর অত্যাচার,গণহত্যা, ধর্ষন, সর্বশেষ সেকুলার ও নাস্তিকতা)
তথ্যসুত্রঃ ভারত বর্ষের ইতিহাস।

৫৬৭ খিষ্টপূর্বাব্দ গৌতম বুদ্ধের জন্মের পর ২৯ বছর বয়সে সত্য ও জ্ঞানের সন্ধানে বাহির হন। এরপর বুদ্ধত্ব লাভ করে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ৪৮৬ খীষ্টপূর্বাব্দে নির্বাণ লাভ করেন। ৫৪০ খিষ্টপূর্বাব্দে মহাবীরের জন্ম হয় এরপরে ওনি জৈন ধর্মের প্রচল করেন। ঐ সময় সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মান্তর করনের জোড় দিয়ে শুরু করেন বৌদ্ধ ও জৈনরা। এক সময় সনাতন ধর্ম নামটি ব্রাহ্মণ্য, শৈব ধর্ম ও বৈষ্ণব ধর্মে বিভক্ত হয়ে কোন মতে চলতে থাকে। মৌর্য বংশের রাজত্বকাল ৩২৪- ১৮৬ খিষ্ট পূর্ব। (এর মধ্যে সম্রাট আশোক এর রাজত্বকাল ছিল খিষ্টপূর্ব ২৭৩ -২৩২ অব্দ।)
চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন জৈন ধর্মের অনুসারী। শেষ জীবনের ক্ষমতা ত্যাগ করে জৈন ধর্মের প্রথা অনুযায়ী সংসার ত্যাগী হয়েছিলেন।। এর পর
চন্দ্র গুপ্তের ছেলে বিন্দুসার অমিত্রঘাত উপাধি গ্রহন করে খীষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে সিংহাসন আরোহন করেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেন। বিন্দুসারের ১০১জন ছেলে, তার মধ্যে অশোক ছিলেন দ্বিতীয়। অশোক ক্ষমতা গ্রহন করেন খিষ্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তবে সম্রাট অশোকে অভিষেক সম্পূর্ণ হয় আরো চার বছর পর। সম্রাট অশোক রাধাগুপ্ত নামের এক মন্ত্রির সহায়তায় অপরাপর জন ভ্রাতাদের হত্যা করে সিংহাসন নিষ্কটক করেছিলেন। "দিব্যবদন" ও সিংহলীয় উপাখ্যান সমূহে অশোক ও তার ভ্রাতাদের মধ্যে বিরোধের কাহিনী আছে। এরপর শুঙ্গবংশ খিষ্টপূর্ব ১৮৫-৭৫ অব্দ।
এর পর সাতবাহন বংশ খ্রীঃপূঃ ২৭ অব্দ থেকে। এর পর বৈদেশিক আক্রমন। এর পর
কৃষান শাসন।
কৃষান ও অন্ধ্রবংশের পতনের পর গুপ্তবংশের উত্থান হয় ২৪০ খ্রীঃ সম্রাট হন শ্রীগুপ্ত। ২৪০ খিষ্টাব্দ থেকে গুপ্তরাজারা ভারত বর্ষে রাজত্ব করেন।

গুপ্ত বংশে প্রথম সম্রাট শ্রীগুপ্ত ক্ষত্রিয় ছিলেন তবে কোন ধর্মের সমর্থক উল্লেখ নেই। এরপর ৩৮০ থেকে ৪১৪ খিষ্টাব্দ ছিলে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য তিনিও স্বভাবত ক্ষত্রিয়। তিনি ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতি অনুগত ছিলেন। তাঁর মন্ত্রী ছিলেন বৌদ্ধ পন্ডিত বসুবন্ধু ছিলেন। ভারত বর্ষের ইতিহাসে বিক্রমাদিত্য শক্তিশালি এবং পদ্মা যমুনা ও হিমালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিক্রমাদিত্যর পর তাহার পুত্র ৪১৪-৪৫৫ পর্যন্ত কুমার গুপ্ত সম্রাট ছিলেন। এরপর কুমার গুপ্তের পুত্র ক্ষমতা নেন। তাকে ক্ষমতাচুত্য করিয়া তার বৈমাত্রের ভ্রাতা স্কন্ধগুপ্ত বিক্রমাদিত্য ৪৫৫-৪৬৭ খিষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের ঘোর অনুসারী। আর্যমঞ্জুশ্রী ও মুলকল্প গ্রন্থ স্কন্ধ গুপ্ত জ্ঞানী ও ধর্মপরায়ন বলে উল্লেখ আছে।
স্কন্ধ গুপ্তের পরবর্তী বংশধর পুরগুপ্ত, এরপর ক্রমগত বংশধর দ্বীতিয় কুমার গুপ্ত, এরপর বুধগুপ্ত, তথাগত গুপ্ত ও বালাদিত্য গুপ্ত শেষ তিন সম্রাট বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেছিলেন।
দেখা যাচ্ছে গুপ্ত বংশ প্রথমে ক্ষত্রিয় হলেও পর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করে ফলে গুপ্ত সম্রাজ্যের পতন হয় পঞ্চম শতাব্দীর শেষ দিকে।
মুলত এই গুপ্ত সম্রাটদের আমলেই কালিদাস সহ অনেক কবি লেখক ও সাহিত্যিকের জন্ম হয়। এই সময়ে বায়ুপুরাণ, মৎস্যপুরান ব্রহ্মান্ড পুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ, ভগবৎ পুরাণ সহ অনেক পুরাণ রচিত হয় এবং রামায়ণ ও মহাভারতের সংশোধন ও পরিবর্ধন করা হয় এই কারনে তখনকার সময়ের অধিকাংশ রাজা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। কেউ কেউ সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছিলেন। তখন বৌদ্ধ ধর্মের থেকে আগতদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য রামায়ন, মহাভারত ও পুরাণ গুলির এক বিরাট সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হয় যাহা নাকি হিন্দু সভ্যতার নব-রূপায়নে সাহায্য করে বলে ঐতিহাসিক গনের অভিমত।বৌদ্ধকে হিন্দুদের অবতার বলে সমযোতা করেন।

এর পর অনেক রাজা রাজত্ব করেন, এবং বিদেশি অগ্রাসন হয়েছিল।
হর্ষবর্ধন ৬০৬-৬৪৭ খিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
(৬৪৭ খিষ্টাব্দ পর্যন্ত অধিকাংশ সম্রাট বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ছিলেন।)

এর মধ্য বিদেশী আক্রমন রাজ্য দখল করে কিছু কাল। তবে কিছু সময় শুদ্র বংশ, ব্রামণ্য ধর্মের অনুসারী ও বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা ক্ষনস্থায়ী দেশ শাসন করেছিলে। ঐ সময় ৩৫০ খিষ্টাব্দে উড়িষ্যায় পল্লববংশের উত্থান হয় ওনারা ছিলে বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী। পল্লব বংশ ৭৯৬ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
আষ্টম শতাব্দী থেকে শুরু হয় আরব্য দখলদারদের হামলা দখল।
এরপর কিছুকাল হিন্দু বৌদ্ধ রাজারা কিছু অংশে রাজত্ব করলেও পরবর্তীতে মোগলদের দখলে চলে যায় এই ভারত বর্ষ ১৭৫৭ খিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এর পর থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসন। এর ভারত বর্ষের ভাঙ্গাগড়ার পর ভারতের অংশে ক্ষমতায় আসেন মুসলিমদের এজেন্ট কংগ্রেস সরকার ও কিছুকাল দলছুট সেকুলার সরকার। কংগ্রেসকে মুসলিমদের এজেন্ট এই জন্যই বলছি ঐ সময়েই মোগলদের মানব দরদী বলে ইতিহাস রচন করে অথচ মোগলদের নির্বিচারে হিন্দুদের গনহত্যা, লুট ও ধর্ষনের ইতিহাস ছিল পৃথীবীর ইতিহাসে বর্বোচিত ও জঘন্যতম একটি অধ্যায়।
মুলত ভারতের হিন্দুদের তথা সনাতন ধর্মের স্বাধিনতার সূর্য উচিত হয় বাজপেয়ির জয়লাভের পর। প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজীর ক্ষমতা লাভের পর সনাতন ধর্মের পূর্ণতা পায়।
এত গুলি খুব সংক্ষেপে আলোচনা করলাম এই জন্যে এফবিতে অনেকেই ব্রাহ্মনদের উপর চোটপাত করেন সনাতন ধর্ম ধংসের জন্যে। অথচ মৌর্য আমল থেকে প্রায় হর্ষবর্ধের সময় পর্যন্ত সনাতন ধর্মের অস্থিত্ব খুবই ক্ষিন ছিল। ঐ সময় ব্রাহ্মণ্য ধর্ম, শৈব, বৈষ্ণব ধর্ম ও শৈব ধর্মে বিভিক্ত ছিল। অষ্টম শতাব্দীতে মোগল দখদাররা নাম দেন হিন্দু ধর্ম এর পর ব্রিট্রিশ শাসন আমলে সরকারী ভাবে ঘোষনা করেন হিন্দু ধর্ম।
তাহলে ভাবুন কেন সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্য বেদ উপনিষদের চর্চা হ্রাস পেয়েছে কেন? এখানে আর একটি বিষয় বলে রাখি বৌদ্ধ সম্রাটদের শাসন আমলেই পূরাণ রচন করা হয় এদের অধিকাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়। ঐ সময় রামায়ন ও মহাভারতের সংশোধন ও পরিবর্ধন হয় এই কারনে বৌদ্ধরা অনেকেই সনাতন ধর্মে ফিরে আসছে বলে।

প্রায় ২৪০০ বছর ভারত বর্ষ ভিনদেশী গ্রীক, শক, পহ্লব, কৃষাণ, চৈনিক, মোগল ও ব্রিট্রিশদের দখল, শাসন এ ছাড়া বৌদ্ধ ও জৈন শাসন মাত্র কিছু সময় কিছু রাজ্য ক্ষত্রিয়, শুদ্র, বৈষ্ণব ও হিন্দু রাজারা শাসন করেছে। এরপর মোগলদের গণহত্যা লুট ও ধর্ষনের বন্যা। এখনো সনাতন ধর্ম ঠিকে আছে সেটাই ভাগ্যের বিষয়।
আসুন বর্ণ বিভাজন ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই, কুসংস্কার ত্যাগ করি এবং সনাতন ধর্মের বিতর্কিত গ্রন্থ সংশোধন করার ব্রতি হই এবং বেদ উপনিষদ গীতার আলোকে জীবন গড়ি।
জয় নিশ্চিত সনাতন ধর্মের হবেই।

 

Post: Sento Saha

 


 

Share:

২৫ এপ্রিল ২০২০

জামালপুর জেলার অন্তর্গত মেলান্দহ থানার একটি বহু পুরানো শিব মন্দির ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দখল করে নিয়েছে পুরো দেবোত্তর সম্পদ ।

হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি শিব মন্দির মাটির সাথে গুড়িয়ে দিলো...!!!

ভয়ংকর করোনা ভাইরাসও এদের দমিয়ে রাখতে পারল না! প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জামালপুর জেলার অন্তর্গত ঢালুয়াবারি গ্রামের হাজরাবারি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (২৩-০৪-২০২০) এই জঘন্য ঘটনা ঘটেছে! লগ ডাউনের সুযোগে মেলান্দহ থানার অন্তর্গত একটি বহু পুরানো শিব মন্দির ভূমিদস্যু মৃত সেকান্দর খাঁ এর পুত্র নুরুল ইসলাম খাঁ তার দলবল নিয়া সাবল দিয়ে ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দখল করে নিয়েছে পুরো দেবোত্তর সম্পদ!

A Shiva temple, very sacred to Hindus, was demolished ... !!! The terrible corona virus could not suppress them! Incidentally, this horrible incident happened last Thursday (23-04-2020) in Hazrabari area of ​​Dhaluabari village under Jamalpur district of Bangladesh! On the occasion of the log down, Nurul Islam Khan, son of the late Sekandar Khan, a land robber of a very old Shiva temple under Melandha police station, broke into his house with his force and took possession of the whole of Debottar.

উল্লেখ্য যে ইতিপূর্বে এই মন্দির থেকে কষ্টি পাথরের মুল্যবান শিবলিঙ্গ চুরি হউয়ায় মামলা হয়। পরে মেলান্দহ থানা শিবলিঙ্গটি পুলিশ উদ্ধার করে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শিবলিঙ্গটি জামালপুর দয়াময়ী মন্দিরে হস্তান্তর করা হয় , শিবলিঙ্গ বর্তমানে দয়াময়ী মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত আছে।

It is to be noted that a case was filed earlier for stealing a precious Shivling of Kasti stone from this temple. Police later recovered the Shivling from Melandha police station. The Shivling was handed over to the Jamalpur Dayamayi temple for security reasons. The Shivling is now established at the Dayamayi temple.

আমি অ্যাড রবীন্দ্র ঘোষ - বাংলাদেশে মাইনোরিটি ওয়াচের পক্ষে এই ব্যাপারে জামালপুর জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ এনামুল হকের সঙ্গে কথা বলি (০১৭১৩০৬১১০০)। জেলা প্রশাসক মেলান্দহ উপজেলার উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ তামিম আল আমিনের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে বলেন। আমি তামিম আল আমিন সাহেবের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি তিনি ব্যাপারটা কিছুই জানেন না বলে আমাদেরকে বলেছেন!


এই দুরভাগ্যজনক ঘটনার ব্যাপারে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রেজাউল করিমের সঙ্গে আমার মোবাইলে কথা হয়, উনি আমাকে বলেছেন যে "এই ব্যাপারে কেউ মামলা দায়ের করে নি বা আমার সহযোগিতা কামনা করে নি, আমাদের করার কিছু নাই " তিনি একথা বলেছেন যে "ভারতে কি হচ্ছে আপনি দেখেন না ? " ভারতের তুলনা করা খুব অন্যায় বলে আমি ওসি সাহেবকে বলেছি এবং উনি আরো রাগ করে বললেন "বাংলাদেশের খবর নিচ্ছেন ভারতের খবর কি আপনারা রাখেন ?

তিনি (অফিসার ইনচার্জ মোঃ রেজাউল করিম) একথা বলেছেন যে, ভারতে কি হচ্ছে আপনি দেখেন না ? ভারতের তুলনা করা খুব অন্যায় বলে আমি ওসি সাহেবকে বলেছি এবং উনি আরো রাগ করে বললেন "বাংলাদেশের খবর নিচ্ছেন ভারতের খবর কি আপনারা রাখেন ? এই ধরনের সরকারী অফিসারের সাম্প্রদায়ীক মানসিকতা সংখ্যালঘুদের মন কে দুর্বল করে দেয়! জামালপুর জেলার এস , পি সাহেবকে বার বার মোবাইল করার পর উনি উনার মোবাইল ফোন(০১৭১৩৩৭৩৫৩২) ধরেন নি!

মাইনোরিটি ওয়াচ আশা করে অনতিবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে শিব মন্দির যেখানে যে অবস্থায় ছিল তা সুরক্ষার সাথে সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হোক এবং দখল উদ্ধার করে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে। প্রত্যেক হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।


গৌতম হালদার প্রান্ত
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট (প্রচার সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি)
২৫-০৪-২০২০
Gautam Haldar Pranto
Bangladesh Jatiya Hindu Mahajot (Publicity Secretary, Central Committee)
25-04-2020
২৫-০৪-২০২০
Share:

২২ এপ্রিল ২০২০

সাতকানিয়ার ধর্মপুর ইউনিয়নে শুক্লদাশপাড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও দেশত্যাগের হুমকি

সাতকানিয়ার ধর্মপুর ইউনিয়নে শুক্লদাশপাড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা । দেশত্যাগের হুমকি ও নারী-পুরুষসহ কমপক্ষে ২৫ জনকে আহত করা হয়েছে! বর্তমানে বেশ কয়েকজন হসপিটালে ভর্তি!

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের সাধুর দোকান শুক্লদাশ পাড়ায় দেশের ক্রান্তিলগ্নে লকডাউন উপেক্ষা করে ৩০ টি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত (২১ এপ্রিল) দুপুর ২ টায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও সমর্থনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশে দেশীয় অস্ত্র দা, কিরিস, ছুরি, লাটি, দিয়ে হামলা চালায় বলে ধারণা করা হয়! এই সময় হামলাকারীরা শুক্লদাশপাড়ার প্রায় ২৫ জন সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের নারী,পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুদের আহত করে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যাক্ষর্শীরা জানান স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোঃ এটিএম, মোঃ রাশেদ, মোঃ আবদুল্লাহ, মােঃ জিয়া উদ্দিন, মােঃ হাবিবুল্লাহ ও মােঃ মুসা উদ্দিন''র নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।


তারা আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হিন্দু গ্রামে পরিকল্পিত ভাবে ৭০/৮০ জনের অধিক দলবল নিয়ে অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। অধিকাংশ নারীরা এই হামলায় স্বীকার। এই হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্বে সাতকানিয়া থানায় ডায়েরী করা হয়েছে।


এই হামালায় স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে । জড়িতদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত পূর্বক শাস্তির দাবী জানান এলাকাবাসী।


 cp- Nayan Sarkar
Share:

০৫ এপ্রিল ২০২০

সিলেটের ওসমানীনগরে হিন্দুদের ত্রান দিতে নিষেধ করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।


সিলেটের ওসমানীনগরে হিন্দুদের ত্রান দিতে নিষেধ করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এমন একটি ভিডিও গত দুই দিন ধরে ফেইসবুকে ভাইরাল হলে নিন্দার ঝড় উঠে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের কারনে সারা বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশেও করোনা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। সবাইকে ঘরে থাকার নিদের্শ দিয়েছেন প্রশাসন। এমন সময় সরকারের পাশাপাশি গরীব অসহায়দের মধ্যে ত্রান বিতরণ করছেন বিত্তবানরা। করোনা ভাইরাসে দেশ যখন সংকটময় এমন সময় সাম্প্রদায়িক বিষয় তুলে আলোচনায় আসেন সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা বিএনপি নেতা ও পল্লী বিদুৎ সমিতি সিলেট -১ এর পরিচালক কামরুল ইসলাম।
তিনি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর উপজেলার স্থানীয় একটি মসজিদে সবার সাথে ত্রান বিতরণ করেন। সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে জনসমাগম করে মসজিদে ত্রাণ বিতরণে নেতৃত্ব দেন ওই বিএনপি নেতা। এসময় জনসমাগম সৃষ্টি হলে এবং মসজিদে ত্রান বিতরণের খবর পেয়ে স্থানীয় কিছু হিন্দু হতদরিদ্র মসজিদে আসেন। বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম তাদের উদ্যেশ্য করে বলেন হিন্দু কেউ এখানে আসবেন না। হিন্দু কারো নাম এই তালিকায় নেই তাই হিন্দু কাউকে ত্রান দেওয়া হবে না। ত্রান বিতরণের বিষয়টি ফেইসবুকে লাইভ করা হয় শাহ জামাল নামের এক জনের ফেইসবুক আইডি থেকে। সাথে সাথেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পরে। এবং নিন্দার ঝড় উঠে।
সুহাগ আহমদ নামের এক ব্যক্তি কমেন্ট করে বলেন, একজন বলছেন হিন্দু কেউ এখানে আসবে না হিন্দুদের নাম লিস্টে নাই আমার কথা হলো ওদের কি কারণে ত্রান দেওয়া হলো না ? একটু বুঝিয়ে বলেবেন দায় করে।চুনু মিয়া নামের আরেকজন কমেন্ট করে বলেন, এটা কোন ধরণের সাহায্য মুসলসলমান পাবে হিন্দু পাবে না?
উপজেলা ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি পাপ্পু বহ্নি বলেন, ওই বিএনপি নেতা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির নির্বাচনের সময় সকল হিন্দুদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। সবাই তাকে ভোট দিয়ে পল্লী বিদুৎ পরিচালক পদে নির্বাচিত করলেন এখন করোনা ভাইরাসের কবলে সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি যে কথা বলেছেন আসলে সেটি নিন্দনিয় ব্যাপার। আমি এই ঘটনার নিন্দা জনাই সাথে সাথে ওই ব্যক্তির স্বাস্থী চাই।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল দাশ বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাসে মাহামারিতে সারা বিশ্ব সংকটময়। এই সময়ে কে হিন্দু কে মুসলিম কে বৌদ্ধ কে খ্রিষ্টান তা দেখার বিষয় নয়। মানুষ হিসাবে মানুষের পাশে দাড়ানো কর্তব্য। হিন্দুদের ত্রান দেওয়া হবে না এই বিষয়টি যে বলেছেন আমার মনে হয় তার মস্তিস্ক বিকৃত।
এ ব্যপারে বিএনপি নেতা ও পল্লীবিদুৎ সমিতি সিলেট -১ এর পরিচালক কামরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা.তাহমিনা আক্তার বলেন, মসজিদে জনসামগম করে ত্রান বিতরণ করা ঠিক হয়নি। এই সময় কে কোন জাতি তা দেখার বিষয় নয়। ওসি সাবেক কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য।
সিলেট প্রতিদিন/এমএ
 তথ্যসুত্রঃ সিলেট প্রতিদিন
https://sylhetprotidin24.net/2020/04/04/%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0/?fbclid=IwAR10DnMtNoHvQwKvkcGi_OdcCXuB0BSn88650GHvCr2-ZJORlfeaPZpj-pQ



Share:

০৮ জুলাই ২০১৭

মনিরামপুরে মিথ্যা অভিযোগে হিন্দু শিক্ষককে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত

যশোরের মনিরামপুরে মিথ্যা অভিযোগ এনে হিন্দু শিক্ষক পরিতোষ সরকারকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ সরকারের সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তুলে। এই অভিযোগের জের ধরে শনিবার স্থানীয়রা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে প্রধান শিক্ষক ওই তালা ভেঙ্গে কক্ষে প্রবেশ করলে বিক্ষুব্ধরা তাকে অবরুদ্ধ করে মারমুখি অবস্থান নেয় এবং প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে।

প্রধান শিক্ষক পরিতোষ সরকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গত ২৯ মে ওই শিক্ষিকার ছেলে বিদেশ থেকে বাড়িতে আসায় স্থানীয় কতিপয় যুবক চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি দেখার জন্য বাড়িতে ডাকেন ওই শিক্ষিকা। এ সময় ওই শিক্ষিকার বাড়িতে কতিপয় যুবকের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরে এ ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কুৎসা রটাচ্ছে।এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দুর্গাপদ সিংহ বলেন, প্রধান শিক্ষক পরিতোষ সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। আর বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুন্তাজ মহলদার বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন খান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। রোববার সরেজমনি গিয়ে তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Share:

ধামরাইয়ের রথ যাত্রা: জঙ্গি হামলার বিতর্ক পেছনে সরিয়ে আলোচনায় রাজনৈতিক বিভেদ

উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধামরাইয়ের রথ যাত্রায় এবার কালি ছড়িয়েছে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা। তবে, এসব কিছুর পাত্তা দিচ্ছে না স্থানীয় জনগণ। তারা বলছে, রাজনৈতিক ফয়দা তুলতেই একটি মহল জঙ্গি হামলার শঙ্কা ছড়িয়েছে। প্রশাসনের দিকেও আঙ্গুল তাদের।
প্রশাসনের অতি সাবধানী অবস্থান সকলের মধ্যে আতংক ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এমনকি রথ উদযাপন কমিটি বলছে: প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে রথ টান বানচাল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো একটি মহল।

রথের উল্টো টান স্থান ধামরাই বাজার ঘুরেও দেখা গেলো একই চিত্র। সকলের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে, সেটা জঙ্গি হামলার নয়! ঢাকা ২০ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক এবং পৌর মেয়র গোলাম কবির মোল্লার রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে।

রথ যাত্রা আয়োজক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল বলেন: আমাদের বহু দিনের ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে। রথ যাত্রার আগের দিন রীতি মেনে এখানে মেলা শুরু হয়। এবারও তাই হয়ে ছিলো। তবে, পুলিশ পরদিন রবিবার হঠাৎ বাজারে চড়াও হয়ে দোকান ভাঙচুর করে। মেলা বন্ধ করে দেয়! বলা হয় এখানে জঙ্গি হামলা হতে পারে। কিন্তু এখানে অন্য ঘটনা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেলো রথ যাত্রার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যকে দাওয়াত দেওয়া হলেও, দাওয়াত পাননি মেয়র। এতেই বিরাগ ভাজন হন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেয়রের (গোলাম কবির) লোকেরাই জঙ্গি হামলার আতঙ্ক সকলের মধ্যে ছড়িয়েছে।

এব্যাপারে মেয়র গোলাম কবির মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন: প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো এবারের রথ মেলার জঙ্গি হামলা হতে পারে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে দোকান-পাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি এর বেশি জানি না।

এব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ বলেন: আওয়ামী লীগ কখনও বিভেদের রাজনীতি করে না। আমরা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। মেয়রকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন: যে কু……(অশ্রাব্য ভাষা) এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তার বিচার হবে।

সাংদের বক্তব্যের জবাবে মেয়র বলেন: তিনি (সাংসদ) আমার রাজনৈতিক অভিভাবক। তিনি যদি কিছু বলে থাকেন আমার কিছু বলার নেই।

রথ উদযাপন কমিটির আরেক নেতা সুকান্ত বনিক বলেন: আমরা কোনো বিভেদ চাই না। সহাবস্থান চাই। কিন্তু আজ যা হলো তা ভাষা প্রকাশ করা যাবে না। রাজনীতি তো মানুষের ভালোর জন্যই, সমস্যা সৃষ্টির জন্য না।

এর আগে সকালে ধামরাই থানার ওসি রিয়াজুল হক ধামরাই বাজারে এলে তার ওপর চড়াও হয় সাধারণ জনগণ। এসময় তারা কালো পতাকা ধারণ করেন। কেননা জঙ্গি হামলার কথা বলে তিনিই সকল আয়োজন পণ্ড করেছেন। যদিও জঙ্গি হামলা হতে পারে এমন কোনো তথ্য থাকার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিম।

সাধারণ মানুষও অখুশি ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক এমন আচরণে। মুক্তিযোদ্ধা দিপেন বিশ্বাস বলছেন: আমার বুদ্ধি হওয়ার পর কখনও এতো কম মানুষ দেখিনি রথ টানে। এটা নিয়ে রাজনীতি না করলেও চলতো। চারশো বছরের ঐতিহ্য আজ কালি লাগলো।

http://thebdpost.com/ধামরাইয়ের-রথ-যাত্রা-জঙ্গ
Share:

পাকিস্তানের পঞ্জাবে শত শত হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদর নোটিশ জারি পাক সরকারের

পাকিস্তানের পঞ্জাবের ভাওয়ালনগর জেলার হারুনাবাদের কয়েকশো হিন্দু পরিবারকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দিল পাক সরকার। এনিয়ে তাদের নোটিশও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওইসব পরিবার কোথায় ‌যাবেন তার কোনও কথা জানায়নি সরকার।

পাকিস্তানের দৈনির দ্যা নেশনের খবর অনু‌যা‌য়ী ১৩ জন দেওয়া পাক সরকারের ওই নোটিশে বলা হয়েছে, পঞ্জাবের জার্নায়েল সড়ক(গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড)-এর ধারে ‌যারা বসবাস করছেন তাদের সরে ‌যেতে হবে। ওইসব বাড়ি ভেঙে ফেলা হবে। ওইসব লোকজন স্বেচ্ছায় না সরলে তাদের পুলিশ নামিয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানে ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে কমবেশি এক শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। দেশভাগের পর তারা নিজেদের জায়গা ছেড়ে আসেননি। কিন্তু তাদের তার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এক সময় তাদের বিয়ে নথিভূক্ত করারও অধিকার ছিল না। তবে সম্প্রতি সেখানে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট পাস হয়েছে। ফলে কিছুটা হলেও তারা অধিকার পেয়েছেন।
এদিকে পাক সংবাদ মাধ্যমে অভি‌যোগ, একটি হাউজিং প্রকল্প হওয়ার কারণে ওইসব হিন্দুদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওইসব লোকজন সেখান গত তিরিশ বছর ধরে বসবাস করছিলেন। এনিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলেও তা কানে তুলছে না পঞ্জাব সরকার‍।

এলাকার হিন্দু সংগঠন হিন্দু বাল্মীকি মান্দারের প্রধান হরবংশ লাল মান্দারি জানিয়েছেন, সরকারের দেওয়া জমিতেই ওইসব হিন্দু পারিবার এতদিন বসবাস করে আসছেন। হঠাৎ করেই তাদের সরে ‌যেতে বলা হচ্ছে। এর জন্য ‌যেভাবে আন্দোলন করতে হয় তা করা হবে।

http://thebdpost.com
Share:

২০ মার্চ ২০১৬

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র -২০১৫ (প্রথম পর্ব)



বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র -২০১৫ (প্রথম পর্ব)



প্রিয়বালা বিশ্বাস।।
২০১৫ সালের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর কমপক্ষে ২৬২টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এ সবের অধিকাংশ একক ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার সংখ্যা কমপক্ষে ১৫৬২টি। এ সময়ে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ২৪জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৩৯জন, অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৪ জন সংখ্যালঘু নারী যাদের মধ্যে ৯টি ক্ষেত্রে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫ জন। তাদের মধ্যে ১০জন গণধর্ষণের শিকার, ২জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৪জন, তাদের মধ্যে একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসিড সন্ত্রাসের শিকার ১জন। জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ২০৯টি। এর মধ্যে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে ৬০টি পরিবার। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি। প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে ১৮০ টি।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ।



১৪টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও বিভিন্ন থানা থেকে প্রাপ্ত কেস ডকুমেন্টের ভিত্তিতে গত বছর সারাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র এটি। এসব ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতিকারীরা রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবকে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে বেশকিছু ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে দুষ্কৃতিকারীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায় জানুয়ারি মাসে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অন্যান্য মাস থেকে বেশি ঘটেছে। ৮৩টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এ মাসে। এ মাসে আক্রমণের ফলে জখম বা আহত হওয়ার ঘটনাও ছিল সবচেয়ে বেশি। জানুয়ারি মাসে আর সবচেয়ে বেশি যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয় তাহলো ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা, এরূপ ঘটনা ঘটেছে ৫৪টি। এ মাসে যশোরের স্থানীয় একজন ক্ষমতাসীন নেতার অত্যাচারে ৩১টি সংখ্যালঘু পরিবারের দেশত্যাগ এবং অন্য ৫০টি পরিবারও দেশত্যাগের পথে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এত বেশি পরিমাণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পিছনের কারণগুলো তাহলে কী?

বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনে নির্বাচন ইস্যু একটি অন্যতম বিষয়। গত বছরের ৫ জানুয়ারি ছিল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ বর্তমান মহাজোট সরকারের বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি। এই নির্বাচনের ফলাফলকে বিরোধিতা করে প্রথম থেকেই বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। ৫ জানুয়ারি থেকে তারা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচি চলাকালে সারাদেশে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসময় পেট্রোল বোমার ব্যবহার ছিল অন্যতম একটি আতঙ্কিত বিষয়। তার ঠিক একবছর আগের যদি আমরা তাকাই তবে যে বিষয়টি এখনও আমাদের সামনে দগড়গে ক্ষত হয়ে আছে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাপাতলার মালোপাড়া সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর উপর চালানো হয়েছিল নির্যাতনের নারকীয় তাণ্ডব।

একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরবর্তী সময় যশোরের অভয়নগর ছাড়াও দিনাজপুর সদরের কর্ণাই, সীতাকুণ্ড, বগুড়া, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই তাণ্ডব চালিয়েছিল নির্বাচনের বিরোধীরা। উক্ত নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে গৃহীত সরকার বিরোধী আন্দোলনেও অনুরূপভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এদেশের সংখ্যালঘুরা। এ মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে যার পরিমাণ ৮৩টি।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনের আর যে অন্যতম একটি কারণ তা হলো সম্পত্তি দখল ও উচ্ছেদের তৎপরতা। যার শিকার হন সংখ্যালঘু নারী। ধর্ষণের ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসেবেও কাজ করে থাকে ভূমি দখলের অভিসন্ধি। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিতাড়ন, উচ্ছেদ, সেই লক্ষ্যে সম্পত্তি দখল ও অন্যান্য প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ পরিলক্ষিত হয় না, রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শ থেকে বের হয়ে এসে তখন লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল, উৎখাত এবং দেশত্যাগের সর্বাত্মক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা। এরূপ উদাহরণ অনেক রয়েছে। যার একটি অন্যতম উদাহরণ গত ১৩ মার্চ, ২০১৫ সংঘটিত বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চন্দনতলা গ্রামের ঘটনা।

সেখানে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা একযোগে ১৪টি হিন্দু পরিবারের বসতবাড়িসহ ৪০ একর জমি দখলের তৎপরতায় নেমেছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের উপর যৌন হয়রানি চলছিল এমন অভিযোগ রয়েছে। স্কুল পড়ুয়া হিন্দু মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পথে উত্যক্তের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের। এমনকি এসব স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ও গৃহবধূদের নিয়মিত সন্ত্রাসীদের আস্তানায় গিয়ে দেখা করতে হতো এমন অভিযোগও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। লোকলজ্জায় এসব ঘটনা তারা কাউকে না জানিয়ে দীর্ঘদিন সহ্য করেছে। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় উক্ত এলাকার অনেকগুলো পরিবার পৈত্রিক ভিটা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহের পরিণাম ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী।

এসব ঘটনা নিগ্রহের শিকার ঐ নারীকেই শুধু আতঙ্কগ্রস্ত করে না, তার পিতা-মাতা, আত্মীয় পরিজন, নিজ সমাজÑ সকলের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের উপর প্রবলতর গ্লানি ও কালিমা লেপন করেÑ এমনটাই উপলব্ধ, অন্তত আমাদের বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায়। ফলশ্রুতিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি একসময় দেশত্যাগে বাধ্য হয়। ভূমিগ্রাসীরা তাই নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ২০১৫ সালে সংখ্যালঘু নারীকে অপহরণ, ধর্ষণ, এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ঘটেছে ৫৭টি। এর মধ্যে ধর্ষণ ২৫টি (১০টি গণ-ধর্ষণ ও ২টি ধর্ষণের পর হত্যা), অপহরণ ২৪টি, অপহরণের পর ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ৯টি। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৪জন, তাদের মধ্যে একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ১জন।

ধর্ষণ

১. গত ৭ জানুয়ারি ২০১৫ রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বৃত্তিডাঙ্গা গ্রামে দরিদ্র এক সংখ্যালঘু পরিবারের মা ও মেয়েকে গণধর্ষণের শিকার হন।

২. ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন একজন সংখ্যালঘু নারী।

৩. ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাশখালীতে ২য় শ্রেণীতে পড়ুয়া এক আদিবাসী শিশু বাড়ির পাশের দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হয়।

৪. ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আদিবাসী সাওঁতাল তরুণীকে অপহরণ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে দুই বখাটে যুবক।

৫. ৩ মে ২০১৫ রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে এক আদিবাসী নারী গণধর্ষণের শিকার হন। এ সময় তার সঙ্গী অন্য এক নারীও লাঞ্ছিত হন।

৬. ১৫ মে ২০১৫ হবিগঞ্জের মাধবপুরের পল্লী রামেশ্বরের শিল্পীরানী দাস (১৮) কে ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

৭. ২১ মে ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন একজন গারো নারী। রাতে এই ধর্ষণের ঘটনার পর মামলা করার জন্য উক্ত নারী ও তার স্বজনদের তিন থানায় ঘুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তুরাগ থানা কাছে হয় বলে মামলা করার জন্য রাত ৪টার দিকে মেয়েটিকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে যান। কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে তারা যান গুলশান থানায়। সেখানেও একই উত্তর মেলে। শেষে সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

৮. ২৭ মে ২০১৫ সিলেট জেলার বালাগঞ্জে লিপন চন্দ্র দেবের স্ত্রী সঞ্জু রানী দেব ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরবর্তীতে হামলার শিকার হয় লিপন চন্দ্র দেব ও তার স্ত্রী সঞ্জু রানী দেব।

৯. ৩ জুন ২০১৫ যশোরের চৌগাছা পৌর এলাকায় এক দলিত গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হন। এ সময় ধর্ষক মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে এবং পরে তা সিডি ও ইন্টারনেটে প্রচার করে। এর প্রতিক্রিয়ায় আত্মহত্যা করে উক্ত গৃহবধূ।

১০. ৫ জুন ২০১৫ রাত আনুমানিক ৯টায় সিলেটের বালাগঞ্জের অপর্ণা দাস ঘরের বাইরে টয়লেটে গেলে সেখান থেকে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মোঃ হিরণ মিয়া ও মোঃ শফিক আলী তাকে অপহরণ করে শফিক আলীর বাড়িতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

১১. ৯ জুলাই ২০১৫ উখিয়া উপজেলার কুতুপালং-এ অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হন ইতি বড়ুয়া।

১২. ১১ জুলাই ২০১৫ নওগাঁ জেলার ধামইরহাটের গীতা রানী রবিদাসকে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে দেলোয়ার হোসাইন (৪০)।

১৩. ২৯ জুলাই ২০১৫ খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারায় গণধর্ষণের শিকার হয় আদিবাসী তরুণী অঞ্জনা ত্রিপুরা (১৭)।

১৪. ৪ আগস্ট ও ৮ আগস্ট ২০১৫ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে ২টি শিশু (শ্রাবন্তী বাছাড় (৮) ও (হিরা রায় (৯)) মোঃ সোহরাব গাজী নামে একই ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়।

১৫. ৪ আগস্ট ২০১৫ রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির আদিবাসী ছাত্রী মিনিতা মারানকে নির্জন কক্ষে একা পেয়ে ধর্ষণ করে মোঃ আল আমীন (২২)।

১৬. ১৮ আগস্ট ২০১৫ বান্দারবানের আদিবাসী তরুণী সুবরন ত্রিপুরা (১৬) চিকিৎসার জন্য লামা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে তিনি হাসপাতালের কর্মচারীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন।

১৭. ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ রাত আনুমানিক ১১.৪৫টায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং-এ জনৈক সামসুল আলম ঘরের বেড়া ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে রুমি রানী দাস নামে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে।

১৮. ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ শনিবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জের ডাবুইর গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন জিন্নাহ (৪৫) নামে যুবলীগ কর্মী বুলি রানী নামে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।

১৯. ১ নভেম্বর ২০১৫ নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ভাতগ্রাম নিবাসী এক আদিবাসী গৃহবধূ বাজারে ঝাড়– বিক্রি করতে পাশের দক্ষিণখা গ্রামে গেলে উক্ত গ্রামের সাদেকুল ইসলাম জোর করে তাকে বড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

২০. ১১ নভেম্বর ২০১৫ বুধবার রাত ৯টার দিকে নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের বাবুবাজার এলাকায় এক সংখ্যালঘু তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। উক্ত তরুণীর বাড়ি জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামে।

২১. ২২ নভেম্বর ২০১৫ নাটোর বাগাতিপাড়ার লোকমানপুর নর্থবেঙ্গল চিনিকলের সুপারভাইজার ভবানী দাস ঘোষালের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

২২. ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলা মহালছড়ি উপজেলায় মাইসছড়ি ইউনিয়নে পাচ একর (রাবার বাগান) এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় মাইসছড়ি ইউনিয়নের লম্বাছড়া বাসিন্দা বীণা দেবী ত্রিপুরা (১৬)।

২৩. ডিসেম্বর ২০১৫-এ কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (বিএসপিআই) সড়কে হাঁটতে বের হলে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক আদিবাসী কিশোরীকে একটি অটো রিকশায় চারজন লোক তুলে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিএসপিআই সড়কের কাছে ফেলে পালিয়ে যায়।

২৪. এছাড়া ১২ অক্টোবর ২০১৫ গাজীপুর শহরের পূবাইল সাপমারা এলাকার সান্ত¡না রবিদাস নামে ৯ বছরের দলিত শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।



অপহরণ

১. ২১ জানুয়ারি ২০১৫ অপহৃত হয় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বাউরবাগ হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জোৎস্না বিশ্বাস।

২. ৪ মার্চ ২০১৫ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়মাধম গ্রামের শিল্পী রানী দাসকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দোস্ত মোহাম্মদ খান অপহরণ করে।

৩. ১৪ মার্চ ২০১৫, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী কনা রানী ব্যাপারীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ও নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহের কাগজপত্র তৈরিসহ যৌন-নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

৪. ১৭ এপ্রিল ২০১৫ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী শ্যামলী রাণী দে (১৫) অপহরণের শিকার হয়। অপহরণের পর তার জাল জন্ম-নিবন্ধন সনদপত্র তৈরি করে পূর্বের নাম গোপন করে নতুন নাম দিয়ে গত ১৯ এপ্রিল নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়।

৫. গত ২৭ মে ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় কিশোরগঞ্জের বিন্নাটি মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পিংকি রানী সূত্রধর।

৬. ৫ জুন ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় সিলেটের বালাগঞ্জের দেঘরিয়া গ্রামের অপর্না দাস। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য অপহরণকারী ও তাদের পরিবার তৎপরতা চালায়।

৭. ১৪ জুন ২০১৫ গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী সোমা রানী দাসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।

৮. ২৫ জুন ২০১৫, গাজীপুর জেলার বাগের বাজার হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তরা রানী দেবনাথকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে অপহরণকারী ও তার পরিবার অন্তরা রানীকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং অপহরণকারীর সাথে বিবাহের জন্য তৎপরতা চালায়।

৯. ১৩ জুলাই ২০১৫ খুলনার ডুমুরিয়ার সাহাপুর মধ্যমগ্রাম ডিগ্রি কলেজে ছাত্রী প্রিয়া সাহাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা

১০. ৯ জুলাই ২০১৫ কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং নিবাসী ইতি বড়ুয়া অপহরণের শিকার হন।

১১. ৩০ জুলাই ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় নারায়ণগঞ্জের আদমজী কলেজের ছাত্রী বৃষ্টি বিশ্বাস।

১২. ৩ আগস্ট ২০১৫ নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুস্মিতা সিংহ অপহরণের শিকার হয়। এই ঘটনায় অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

১৩. ২০ জুলাই ২০১৫ ভাষানটেক দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় রূপা সরকার। পরে অপহরণকারী ও তার পিতামাতা রূপাকে জোরপূর্বক এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে। এরপর রূপা সরকারের পরিবার প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয় এবং রূপা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরের ঘটনা প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই গত ২৪ আগস্ট ২০১৫ পুনরায় উক্ত অপহরণকারী আবারও তাকে অপহরণ করে।

১৪. ২৮ আগস্ট ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় চট্টগ্রাম হালিশহর গরিবে নেওয়াজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী রিংকি রানী দেবনাথ।

১৫. ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় সিলেট নাসিরাবাদ বিলপাড় নিবাসী দশমী রানী দেবনাথ (১৪)।

১৬. ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ চট্টগ্রাম হাটহাজারী সদর নিবাসী রাত্রি দাসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।

১৭. ৮ অক্টোবর ২০১৫ কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুপ্রিয়া রানী রায় অপহরণের শিকার হয়। ১০ অক্টোবর ২০১৫ তাকে জোরপূর্বক কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে দুর্বৃত্তরা।

১৮. ২০ অক্টোবর ২০১৫ গাইবান্ধা থেকে অপহৃত হয় ধাপের হাট প্রিয়বালা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না রানী। গত ১৩ নভেম্বর ২০১৫ কুমিল্লা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

১৯. ৩১ অক্টোবর ২০১৫ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ইছাকুড়ি বাকাই নিরাঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অষ্টমী রানী বালা।

২০. ৯ নভেম্বর ২০১৫ সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী মন্টি রানী সরকারকে (১৬) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে ধর্মান্তরিত করে বিবাহে বাধ্য করার অভিযোগ করে অপহৃতার পরিবার।

২১. ১৬ নভেম্বর ২০১৫ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরিকোরা গ্রামের অরি চক্রবর্তীকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের পর অপহরণকারীরা প্রচার করতে থাকে যে মেয়েটি সেচ্ছায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়েছে এবং বিয়ে করেছে। অপহৃতার গরিব পিতা আনোয়ারা থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়েটির পিতা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

২২. ২৬ নভেম্বর ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় টাঙ্গাইল ধনবাড়ি কলেজের ছাত্রী উপমা সাহা।

২৩. ২৯ নভেম্বর ২০১৫ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর সরিফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী হিরামনি অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বিবাহের তৎপরতা চালায় অপরণকারী ও তার সহযোগীরা।

২৪. ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় নোয়াখালী সৈকত ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সুমি রানী মজুমদার। গত ৯ জানুয়ারি ২০১৬ সুমির পরিবার নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুমিকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের শাস্তি দাবি করে।

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা একটি অবধারিত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় প্রতিবছর বাংলাদেশে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৫ সালে রাজধানীতে ২২৫টি সহ সারা দেশে মোট ২৮ হাজার ৯৬২টি পূজা মণ্ডপে শারদীয়া দুর্গোৎসবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় এর সংখ্যা বেড়েছে ২৬২টি। ২০১৪ সালে সারাদেশে ২৮ হাজার ৭০০টি, ২০১৩ সালে ২৮ হাজার ২০০টি, ২০১২ সালে ২৭ হাজার ৮শ’টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশে প্রতিবছর পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও ভক্ত বা পূজারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কমে যাচ্ছে সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠী। আপাতদৃষ্টিতে তাই প্রতিবছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।

আমাদের সংবিধান দেশের সকল নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার স্বীকৃতি দিলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পারে নি। ফলে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের উপর উপর্যুপরি এই হামলার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সবচেয়ে দুঃখজনক যে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ঘোষণা কিংবা তা কার্যকরের সময়েও হিন্দু মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। বিগত ৪৪ বছর ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে নি, বরং তা প্রায় প্রতি বছরই থেকেছে উদ্বেগজনক। প্রতিবছর সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরেরও মহোৎসব শুরু হয়। যা পুরো শারদীয়া দুর্গা উৎসবের যেন এক চিরায়ত কলঙ্কময় অধ্যায়। স্বাধীনতার পর এতোগুলো বছর অতিক্রান্ত হলেও এই কলঙ্ক থেকে এখনো মুক্ত হতে পারে নি অসাম্প্রদায়িক বাতাবরণের বাংলাদেশ। প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরে উল্লেখযোগ্য হারে ঘটে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। ২০১৫ সালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এসময় দুর্গাপূজা, লক্ষ্মী পূজা কালী পূজা ও জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেকারণে প্রতিমা ভাঙচুর সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও এসময় বেশি ঘটে থাকে। ২০১৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে ৩৬টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

পূজার মৌসুম ছাড়াও প্রায় সারা বছরই প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে শুধু ডিসেম্বরে কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুরের তথ্য উল্লেখ করতে চাই যে মাসে উল্লেখযোগ্য কোনো পূজার মহোৎসব ছিল না। ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২১টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।



১. ৩ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার শহরগাছী এলাকায় চন্দনা পাহাড়ী (৩২) নামের এক আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কাজিরবন কালী মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

২. ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার পর্যটন কেন্দ্র দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তজিউর মন্দির প্রাঙ্গণে রাসমেলার যাত্রা প্যান্ডেলে দুর্বৃত্তের ছোড়া হাতবোমা বিস্ফোরণে আহত হন ৯জন।

৩. ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানাধীন নিউ শহীদ লেন এলাকায় শ্রীশ্রীশ্যামাকালী বাড়ির মন্দিরে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। এ সময় মন্দিরের আসবাবপত্র ও অন্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে ৬ জন আহত হয়।

৪. ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ ডহচি গ্রামে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) মন্দিরে গুলি ও বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া ৮টার দিকে মন্দিরে কীর্তন ও ধর্মসভা চলার সময় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়।

৫. ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়রা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে শিব মন্দিরে হামলা ও ৩টি প্রতিমা ভাঙচুর করে স্থানীয় প্রভাবশালী কলিমুদ্দিন গং। হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানোর কারণে অনেকেই তাদের জমি ছেড়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছেন।

৬. ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দি গ্রামের উত্তর পাড়া সার্বজনীন মনসা মন্দিরে মনসা মূর্তি ও একই গ্রামের রামকৃষ্ণ মিশনের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

৭. ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা বাজারের শত বছরের পুরোনো সার্বজনীন কালীমন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

৮. ২০ ডিসেম্বর ২০১৫ রোববার সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বাউসী বাঙ্গালীপাড়া পদ্মা পূজা মন্দিরের পদ্মা প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

৯. ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ সোমবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গোপপাড়া গ্রামে সার্বজনীন কালীমন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে শীতলা মূর্তি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

১০. ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের রৌমারীতে উপজেলার নমদাসপাড়া গ্রামে মন্দিরের কালী, লক্ষ্মী ও শিবের মূর্তি ভাঙচুর করে।

১১.২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ি বাজারের কাছে দড়িহাসিল এলাকার মাখন লাল গোপ ও সুবল চন্দ্র গোপের বাড়ির দুটি পারিবারিক কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর হামলার ঘটনা বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য একটি উদ্বেগজনক বার্তা। এদেশের সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের পেছনের অন্যতম একটি কারণ এটি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ ত্যাগ করে থাকেন। তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করে ব্যবসা, বাড়িঘর, সম্পত্তি লুটপাট, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও মামলার হুমকিসহ হত্যার হুমকির ঘটনা ঘটে থাকে, তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। যে কারণে নিরাপত্তাহীন অসহায় পরিবারগুলো বাপ-দাদাদের চৌদ্দ গোষ্ঠীর জন্মভিটা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, রাষ্ট্র এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে কখনও দেখছে না। বরং কখনও কখনও রাষ্ট্রের মন্ত্রী, সাংসদ, জনপ্রতিনিধি বা তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় এই হামলার খবর প্রকাশিত হলেও কোনোটির আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি বরং হয়রানির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দল যখনই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে তাদের যেন এই জায়গাটিতে একটি দৃশ্যমান মিল পরিলক্ষিত হয়। একদিকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে এই সব হামলা ও নির্যাতনের বিচার হচ্ছে না। এ ধরনের ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ও ক্ষেত্র বিশেষে বিচারহীনতা এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। সরকারদলীয় কেউ এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে সেক্ষেত্রে বিচারের প্রত্যাশা আরও ক্ষীণ। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে।

২৮ অক্টোবর ২০১৫ বুধবার রাতে চাঁদা না দেওয়ার ‘অপরাধে’ ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা জেলেপাড়ায় হামলা চালায় আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডাররা। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ও পেটের সন্তান। তার পেটে উপর্যুপরি লাথির চোটে ঘটনাস্থলেই মৃত বাচ্চা প্রসব করেন তিনি। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই জীবন প্রদীপ নিভে যায় শিশুটির। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মারধরে গুরুতর আহত গৃহবধূ তুলসী রানী দাসকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও ২০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- আলোরানী দাস, জহরলাল দাস, শোভারানী দাস, বিকাশ, শুকদেব দাস ও পরিমল দাস। প্রায় ২২-২৫ জনের হামলাকারী দলটি জেলেপাড়ার ঘরবাড়িগুলোতে আচমকা ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। প্রতিবন্ধী স্বপন দাসের দোকানের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় তারা।

এ সময় তাদের ঠেকাতে পাড়ার লোকজন এগিয়ে এলে ক্যাডাররা নিরীহ সংখ্যালঘুদের মারধর শুরু করে। হামলাকারীদের হাত থেকে আহত রবীন্দ্রদাসকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তুলসী রানী দাস। এ সময় হামলাকারীরা তুলসীর তলপেট ও কোমরে উপর্যুপরি লাথি মারে। লাঠি দিয়েও তাকে মারধর করে। মুহূর্তেই রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি। পরদিন সকালে আহত তুলসীকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রায় অর্ধশত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নৌকায় ছোট ফেনী নদীতে আশ্রয় নেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জেলে পরিবারগুলো নদী থেকে বাড়ি ফিরে আসে। আর আহতরা রাতে পুলিশের সহযোগিতায় ফেনী সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এই ঘটনার কোনো বিচার এখনও হয় নি।

সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিপীড়নের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে সন্ত্রাসীরা। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। চাঁদা না পেয়ে ৯ ডিসেম্বর ২০১৫, বুধবার মধ্যরাতে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়ার পালপাড়ায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। এতে আহত হয় ৮ জন। ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনীর পালপাড়া গ্রামের গোপাল পালের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল এসকল ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে গোপাল পালের বাড়িতে হামলা করে এবং দেশীয় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেয়।

বাড়ির লোকেরা বাধা দিলে উক্ত ছাত্রলীগ নেতার পিতা স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় বন্দুক, কিরিচ ও রামদা নিয়ে তাদের ওপর আরেক দফা হামলা করে। বিমল পাল ও গোপালসহ ৮জন আহত হয়। ৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে ফেনী মডেল থানায় মামলা করা হলে সন্ত্রাসীরা বুধবার মধ্যরাতে আবারও সশস্ত্র অবস্থায় হাজির হয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেয়। এ সময় তারা বাড়ির আঙিনায় ৪টি খড়ের গাদায় আগুন দেয়। এরপর আতঙ্কে পালাপাড়ার কয়েকটি বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।

চলবে... (দ্বিতীয় পর্ব)

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ



এইবেলা/প্র.চ/এমআর
Share:

২০ অক্টোবর ২০১৫

পূজা মানে পুষ্পকর্ম- ফুলটা মলিন হয়ে গেছে, এই যা ..!

‘হে হে...হিন্দুর দেবতা যদি সত্যি থাকবে তয় হেগো দেবী ঠেকায় না ক্যান? মানুষ ভাঙ্গে ক্যামনে? কই মুসলমানের মসজিদ কেউ তো ভাঙ্গতে পারে না?’ শিক্ষক-খেলার সাথী-সহকর্মী অনেকের মুখেই এসব কথা শুনে বড় হয়েছি এবং এখন মধ্যবয়সেও একই কথা শুনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাসে প্রবীণ শিক্ষক অনায়াসে বলে ফেলেন, ‘ভালোই তো হইছে, রামুর ভাঙ্গা-চুরা কয়খান টিনের ঘর ভাঙ্গনের পর সেইহানে নতুন বিল্ডিং হইছে। হ্যাগো তো লাভই হইছে। লাভ হইছে না?’ এসব শুনেও না শোনার ভান করে থাকার অভ্যাস আজন্মের। কিল খেয়ে কিল চুরি করে থাকার মতো। ভারতের আখলাকরা নিশ্চয়ই জানেন এই কিল খেয়ে কিল চুরি করার বিষয়টা। শহরে থাকার কারণে মা পূজা করেছেন ফুল, উলুধ্বনি এবং ঘণ্টা না বাজিয়েই। তাঁর বামপন্থী সন্তানেরাও পাত্তা দেয়নি কোনদিন।



নিত্য বছর প্রতিমা ভাঙ্গে। আমাদের অধিকাংশ সাংবাদিক অবশ্য গণমাধ্যমে ‘মূর্তি ভাঙ্গা’র খবর দেন। সম্ভবত ‘প্রতিমা’ আর ‘মূর্তি’র পার্থক্য তাঁরা জানেন না, তাঁদের হাউস থেকেও শেখানো হয় না। শুনেছি ১৯৭২ সালেও অষ্টমী পূজার দিন কোথাও প্রতিমা বিসর্জন দিতে হয়েছিলো। তবুও হিন্দুরা পূজা করেন। কোন প্রতিবাদ ছাড়াই। তাঁদের অনেকেই মনে করেন, প্রতিমা আসলে ভাঙ্গা যায় না। যাঁরা বিশ্বাসী, প্রতিমা তাঁরা অন্তরে ধারণ করেন। তাই প্রতিমা ভাঙ্গলেও তাঁরা পূজা চালিয়ে যেতে পারেন। অনেক পরিবারে দুর্গা তাঁদের মেয়ে। বৎসরান্তে বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসে।

পাবনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় হিন্দু ধর্মের ক্লাস নিতেন যে অপর্ণাদি, তাঁর পৈতৃক বাড়ির পূজা দেখতে গিয়ে সে’কথা বুঝেছিলাম। আমাদের বাসায় অবশ্য সরস্বতী পূজা ছাড়া অন্য পূজার তেমন কোন আয়োজন ছিলো না। অতি সৎ সরকারী চাকুরে বাবা সব ভাইবোনকে দুর্গা পূজায় নতুন জামা দিতে পারতেন না। তখনো পূজার বোনাস শুরু হয়নি। আমরা ছোট দুই বোন জামা পেতাম, দিদি হাতে সেলাই করতো। একদিন বড় ভাইবোনদের প্রহরায় পূজা দেখতে যাওয়া ঘণ্টা দুয়েকের জন্য, আর পূজার খাওয়া-দাওয়া একদিন, বিশেষ করে বাবার অফিসের সহকর্মী এবং পাড়াপড়শিদের । এর বাইরে পূজা আমাদের কাছে তেমন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেনি। অবশ্য দিদি আর দাদারা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল আর বুয়েট থেকে বাসায় ফিরতো। পূজা বলতে ওদের ঘরে ফেরার আনন্দটুকুই। আর পূজাসংখ্যা আনন্দবাজার, শারদীয় দেশ। এই তো!

প্রতিমা ভাঙ্গার অভিযোগে কোন মানববন্ধনে কোনদিন দাঁড়ানোর তাড়না বোধ করিনি। তবে, সাতক্ষীরা, পাথরঘাটা, বেগমগঞ্জ, কর্ণেই-গড়েয়া, দিনাজপুর, নাটোরে মানুষের জীবনের উপরে যখন শুধু একটি ধর্মে বিশ্বাসী হবার কারণে অমানবিক নির্যাতন নেমে এসেছে গত বছরগুলোতে, তখন সেইসব জনপদে গেছি, দেখে এসেছি নিজের চোখে তাঁদের ভয়। লিখেছিও এক-আধটু, তবে রামুর ঘটনার পরে যেভাবে লিখেছি, অতোটা নয়। ভেবেছি, আমি কেনো লিখবো এবিষয়ে? আমার বন্ধু, সহযোদ্ধারা লিখবেন।

কটা সময়ে বিশ্বাস করতাম, যাঁদের সাথে চলি-ফিরি, যাঁদের সাথে দেশের মানুষের তাবৎ দুঃখে পীড়িত হয়ে রাস্তায় দাঁড়াই, তাঁরা নিশ্চয় সমব্যথী। আমার সেই ঘোর ভুল ভেঙ্গেছে নিজের পয়সায়, কখনো সাথে বন্ধু-সহকর্মী রোবায়েত ফেরদৌসের পয়সায় আর উদ্যোগে মঞ্চ বানিয়ে লোক ডেকে নেমন্তন্ন করে বক্তৃতা দিতে ডাকার পর। তাঁরা বেশ গলা কাঁপিয়ে বক্তৃতা করেছেন, ‘বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। জামাত-শিবির এদেশে ঘৃণ্য রাজনীতি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা জয়লাভ করবোই। ওরা গুটিকয়েক। এই দেশ ধর্মনিরপেক্ষ’ ইত্যাদি। কানে ধরেছি, আমি আর কোন মঞ্চ বানিয়ে কাউকে বক্তৃতা করার সুযোগ করে দেয়া তো দূরে থাক, আমাকে ডাকলেও আমি এধরণের কোন বক্তৃতামঞ্চের আশেপাশে যাই না অনেকদিন হলো। আমি পরিষ্কারভাবে বুঝেছি, গুটিকয়েক ধর্মান্ধ মানুষের কাজ এগুলো নয়।

আমাদের সমাজে-রাজনীতিতে-কাছের মানুষদের মধ্যেও এসব ঘটানোর পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলেই বছরের পর বছর এগুলো হতে পারছে। আর কিছু না হোক, বছরের পর বছর সব দেখেশুনেও যে নির্লিপ্তি এবং হাসিঠাট্টা করে পার করে দিচ্ছেন আমাদের বিদ্বৎ সমাজ, এটি প্রশ্রয়ের চেয়ে কিছু কম নয়। যাঁদের দেখছি প্রতিবাদ করছেন দীর্ঘকাল ধরে, এসব ঘটনা ঘটার পরে, দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে তৈরি এমনই এক বিখ্যাত প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম একবার, ‘আপনারা এদেশে থাকতে, এমন অবস্থায় এলো কীভাবে দেশ? যে প্রতিবাদ বছরের পর বছর চলার পরেও কোন পরিবর্তন হয় না, সেই প্রতিবাদ নিয়ে আমি সন্দিহান।’ সেই প্ল্যাটফর্মের সব বক্তারা নিজেদের অক্ষমতার কথা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এই স্বীকারে কী হয়? তাঁদের সমর্থিত রাজনৈতিক শক্তি-ই তো ক্ষমতায়। তবু কেনো এই নিরন্তর বলপ্রয়োগ থামে না?

আমি সত্যি-ই বিশ্বাস করি না, কোনদেশে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রেখে, অর্পিত সম্পত্তি আইন বহাল রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা মুখে বলা চলে। এদেশের হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও জাতিগত মানুষেরা বেঁচে আছেন এদেশের ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বদান্যতায়। যতদিন পর্যন্ত তাঁরা পাশের বাড়ির হিন্দু ব্যক্তির জমি বা দোকানের দিকে নজর না দিচ্ছেন, মন্দিরটা ভাঙ্গতে না চাইছেন, ততোদিন ঠিক আছে। কিন্তু একবার নজর দিলে আর রক্ষা নাই। রাষ্ট্রের কোন সুরক্ষা নেই। একটা সময়ে হিন্দু ভোটের দরকার হতো। জনসংখ্যা যখন ২৯ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পেরেছে, তখন তাঁদের ভোট কিছু মূল্য আর বহন করে না। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু-বৌদ্ধ-সাঁওতাল-চাকমা-গারো-মারমারা কী ভাবছেন, কিছু আসে যায় না। আমি বরাবর বলে এসেছি, এখনো মনে করি, এই দেশের ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা এই দেশে অন্য ধর্মের, অন্য জাতিসত্তার মানুষদের দেখতে চান কি না, দেখতে চাইলে কীভাবে কতোটা দেখতে চান, তার উপরেই নির্ভর করছে এখনো যাঁরা আছেন, তাঁরা থাকবেন, না কি এই দেশটি এক ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশ হবে। কয়েকদিন আগে মহালয়া গেলো। যতোজন পোস্ট দিয়েছেন, প্রায় সবাই লিখেছেন, এটা একটা শৈশবস্মৃতি মাত্র। এই প্রজন্মের পরে স্মৃতিটুকুও আর থাকবে না। তখন দুখজাগানিয়া পোস্টও আর কেউ দেবে না।

আমাদের এতো এতো বুদ্ধিজীবী, নোবেল পাওয়া শান্তিবাদী, পদকপ্রাপ্ত শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-মানবাধিকার কর্মী কেউ কিছু বললেন না। এই বিষয়ে লেখাও বাদ দিয়েছি কয়েক বছর হলো, এমনকি খবরগুলোর দিকে তাকাই না পর্যন্ত। কারণ সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে জানি, স্ট্যান্ডিং ম্যাটার পড়ার জিনিস না। তবুও আজ বোনপ্রতিম বন্ধু অদিতি কবির খেয়ার ফেসবুক দেয়ালে কয়েকদিন আগে শেয়ার করা দেবাশীষ দাসের এক পোস্ট দেখে দু’মিনিট সময় দিলাম।

তিনি লিখেছেন:
“আসুন গেল দুই মাসের প্রতিমা ভাঙার লিস্ট দেখুন ; উৎসব এর পরেও কি মনে আসে?
১.শেরপুরে ৪০ বছরের পুরনো মন্দিরের আসন্ন দুর্গাপূজার ৩ টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (শেরপুর নিউজ২৪ / তারিখ ১৩ই অক্টোবর ১৫) ২.ডিমলায় মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর (দৈনিক যুগান্তর/ ২রা সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৩.মধুখালীতে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর (দৈনিক যুগান্তর/ ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৪.সাভারে একটি মন্দিরের কয়েকটি মূর্তি ভাংচুর (শীর্ষ নিউজ ডট কম ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৫.হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রমের দুর্গাপূজার দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (একুশে টেলিভিশন ) ৬.নাটোরে মন্দিরের ৫টি মূর্তি ভাংচুর (মানব কণ্ঠ ১০ অক্টোবর ২০১৫) ৭.ফরিদপুরে প্রতিমা ভাংচুর (বিডি নিউজ ২৪/ ২২ সেপ্টেম্বর) ৮.সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় আসন্ন দুর্গা পূজার জন্য তৈরি ১৫টি প্রতিমা ৯.ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। (বিডি নিউজ ২৪/ ৭ অক্টোবর ২০১৫) ১০.বড়লেখায় দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (সিলেটটুডে ২৪/ ১৩ অক্টোবর ২০১৫) ১১.নাটোরের বড়াইগ্রামে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (আমাদের সময়ডট কম / ১০/১০/২০১৫) ১২.পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পশ্চিম অলিপুরা গ্রামের একটি মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (হিন্দু ওয়াপ ডট কম/১১/১০/২০১৫) ১৩.সিরাজগঞ্জে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর (বিএম দ্য রিপোর্ট ডট কম ০১/১০/২০১৫) ১৪. হিন্দু মন্দিরে হামলা,বগুড়ার গাবতলীতে কালি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর (০২/০৯/২০১৫) ১৫.ভালুকায় মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর (ভালুকা নিউজ ২৪ডট কম ১৩/১০/২০১৫) ১৬. কালিয়াকৈরে প্রতিমা ভাংচুর (চ্যানেল সেভেন ডট কম ১৩/১০/১৫) ১৭.রায়গঞ্জে প্রতিমা ভাংচুর (অনাবিল ডট কম ১৩/১০/২০১৫) ১৮. মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাঁছ বারইল গ্রামে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা -(বিডি লাভ ২৪ / অগাস্ট ২০১৫) ১৯. মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে প্রতাবনগর গ্রামে সার্বজনীন শিব মন্দিরের দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (বাংলাদেশ প্রতিদিন অগাস্ট ২০১৫) ২০. মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে প্রতাবনগর গ্রামে সার্বজনীন শিব মন্দিরের দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (খবর বিতান ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫) ২১. বাগেরহাটে সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা (বাংলা পোস্ট ২৪ ১৩ অক্টোবর ২০১৫) ২২. দাকোপে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (বিডি নিউজ ২৪) ২৩. বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। (এপ্রিল ২০১৫, বাগেরহাট ইনফো ) ২৪. দিনাজপুরে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ / উত্তর বাংলা ডট কম ) ২৫. হালুয়াঘাটে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫/ ময়মনসিংহ বার্তা ) ২৬. কাউনিয়ার অপরাজিতা কুঞ্জ মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (বরিশাল ওয়াচ ডট কম / অক্টোবর ২০১৫) .”

আমরা জানি, এটি চলমান এক প্রক্রিয়া। এর পরেও আরো আরো কতো প্রতিমা, কতো মন্দির ভাংলো। এই লেখাটি যখন লিখছি তখনো চোখের সামনে সাতক্ষীরায় তিনটি মন্দির ভাঙ্গার খবর। পূজা আর প্রতিমা ভাঙ্গাকে সমার্থক জেনেই এদেশের হিন্দুরা পূজা করেন। এইসব মানুষদের কোন অনুভূতি থাকতে পারে, আমাদের রাষ্ট্র আর সমাজ সে’কথা মনে করে না। যাঁরা সহানুভূতিশীল বলে দাবি করেন, তাঁরা বড়জোর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। অনেকের ফেসবুকেই দেখছি লিখছেন, ‘নিন্দা জানাই’। কার কাছে জানাচ্ছেন তাঁরা নিন্দা? তবুও এই নোটটি লিখতাম না, দিন তিন/চারেক আগে একটি চিঠি না পেলে।

আমার এক প্রাক্তন ছাত্রী লিখেছেন আমাকে ইনবক্সে, “ম্যাডাম, আমাদের বংশানুক্রমে চলে আসা পারিবারিক পূজা এবার আর করা হলো না। এতো বেশি চাঁদা চাইছে এলাকার লোকজন, নানাভাবে ডিস্টার্ব করছে। মহালয়ার দুই সপ্তাহ আগে আমাদের ভূঁই-এর সব কলাগাছ কেটে রেখে গেছে। আমার ভাইটা বড় হয়েছে, ওর প্রাণের ভয়ও আছে। নিজেরা ঘরেই ঘট পাতবো ঠিক করেছি। বড়মা বলেছেন, পূজা তো পুষ্পকর্ম। দেবীর শ্রদ্ধা তো কমে যাবে না। উৎসব না হয় না-ই হলো। বাবা তো আগেই গেছেন আপনি জানেন, বড় জ্যেঠুও দেহ রেখেছেন বছর তিনেক হলো। কাকারা মনখারাপ করলেও মেনে নিয়েছেন। ভাইটাকে নিয়ে বড় চিন্তা হয়। একটাই ভাই। কথায় কথায় থ্রেট দেয় ওকে। ভারতে চলে যেতে বলে।” চিঠিটা পড়ার পর খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছিলাম। আমার এই স্তব্ধ হয়ে থাকাটাও এক বিরাট ন্যাকামি। যেনো এই প্রথম শুনলাম এমন ঘটনা! নিজের ন্যাকামিতে লজ্জা পেয়ে একটু পরেই কলিম শরাফীর গান শুনে লজ্জা কাটিয়েছি সেদিন।

পূজা আসলেই পুষ্পকর্ম। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। শুধু ফুলটা মলিন হয়ে গেছে। এই মলিন ফুলে শুভেচ্ছা জানানো যায় কি না, সত্যিই আর ঠিক বুঝতে পারছি না।

[ড. কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।]
Share:

১৮ অক্টোবর ২০১৫

মূর্তি ভাঙা উৎসব!

এই সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

প্রায় দশ বছর দেশের বাহিরে থাকি। বিগত দশ বছরে বিভিন্ন সময়ে দেশে যাওয়া হলেও নানা কারণে শারদীয় এই উৎসবে কখনই দেশে যাওয়া হয়নি। দেশের পূজোর খবরা খবর রাখতে তাই দ্বারস্থ হতে হয় অনলাইন পত্রিকাগুলোর। আর সেটাই দাঁড়ালো কাল হয়ে।

গুগলে বাংলায় বাংলাদেশে দুর্গা পূজা অথবা প্রতিমা ইত্যাদি দিয়ে সার্চ দিলেই বেরিয়ে আসে সব অপ্রত্যাশিত সংবাদ। পূজার আনন্দের চেয়ে মূর্তি ও প্রতিমা ভাঙ্গার সংবাদে সয়লাব গুগল সার্চ ইঞ্জিন। কৌতূহলবশতঃ বিগত দুই আড়াই মাসের মন্দির ভাঙ্গা, প্রতিমা ভাংচুর সহ নানা ভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের সংবাদগুলো একত্রে জড়ো করতে গিয়ে দেখি এই সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। এ যেন রীতিমত এক প্রতিযোগিতা। সাথে আরও একটি জিনিস উপলব্ধি করলাম যে বড় বড় নামীদামী সংবাদপত্রগুলো খুব সযত্নে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। হয়ত তাদের মনে মূর্তি ভাঙ্গা একটি মামুলি বিষয়। এ যেনো অনেকটা মশা মেরে হাত লাল না করার মতো ব্যাপার।

তবে অনলাইনের কিছু স্থানীয় পত্রিকা ও গুটি কয়েক জাতীয় পত্রিকার বরাত দিয়ে একটি সংকলন তৈরি করলাম যা নিম্নে দেওয়া হলো :

১. শেরপুরে ৪০ বছরের পুরনো মন্দিরের আসন্ন দুর্গাপূজার ৩ টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (শেরপুর নিউজ২৪ / তারিখ ১৩ই অক্টোবর ১৫)

২. ডিমলায় মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর (দৈনিক যুগান্তর/ ২রা সেপ্টেম্বর ২০১৫)

৩. মধুখালীতে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর (দৈনিক যুগান্তর/ ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৫)

৪. সাভারে একটি মন্দিরের কয়েকটি মূর্তি ভাংচুর (শীর্ষ নিউজ ডট কম ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৫)

৫. হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রমের দুর্গাপূজার দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (একুশে টেলিভিশন )

৬ .নাটোরে মন্দিরের ৫টি মূর্তি ভাংচুর (মানব কণ্ঠ ১০ অক্টোবর ২০১৫)

৭. ফরিদপুরে প্রতিমা ভাংচুর (বিডি নিউজ ২৪/ ২২ সেপ্টেম্বর)
৮. সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় আসন্ন দুর্গা পূজার জন্য তৈরি ১৫টি প্রতিমা ৯.ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। (বিডি নিউজ ২৪/ ৭ অক্টোবর ২০১৫)

১০.বড়লেখায় দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (সিলেটটুডে ২৪/ ১৩ অক্টোবর ২০১৫)

১১. নাটোরের বড়াইগ্রামে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (আমাদের সময়ডট কম / ১০/১০/২০১৫)

১২.পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পশ্চিম অলিপুরা গ্রামের একটি মন্দিরে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (হিন্দু ওয়াপ ডট কম/১১/১০/২০১৫)

১৩. সিরাজগঞ্জে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর (বিএম দ্য রিপোর্ট ডট কম ০১/১০/২০১৫)

১৪. হিন্দু মন্দিরে হামলা,বগুড়ার গাবতলিতে কালি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর (০২/০৯/২০১৫)

১৫.ভালুকায় মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর (ভালুকা নিউজ ২৪ডট কম ১৩/১০/২০১৫)

১৬. কালিয়াকৈরে প্রতিমা ভাংচুর (চ্যানেল সেভেন ডট কম ১৩/১০/১৫)

১৭.রায়গঞ্জে প্রতিমা ভাংচুর (অনাবিল ডট কম ১৩/১০/২০১৫)

১৮. মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাঁছ বারইল গ্রামে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা -(বিডি লাভ ২৪ / অগাস্ট ২০১৫)

১৯. মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে প্রতাবনগর গ্রামে সার্বজনীন শিব মন্দিরের দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (বাংলাদেশ প্রতিদিন অগাস্ট ২০১৫)

২০. মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে প্রতাবনগর গ্রামে সার্বজনীন শিব মন্দিরের দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (খবর বিতান ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫)

২১. বাগেরহাটে সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা (বাংলা পোস্ট ২৪ ১৩ অক্টোবর ২০১৫)

২২. দাকোপে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (বিডি নিউজ ২৪)

২৩. বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। (এপ্রিল ২০১৫, বাগেরহাট ইনফো )

২৪. দিনাজপুরে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ / উত্তর বাংলা ডট কম )

২৫. হালুয়াঘাটে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫/ ময়মনসিংহ বার্তা )

২৬. কাউনিয়ার অপরাজিতা কুঞ্জ মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর (বরিশাল ওয়াচ ডট কম / অক্টোবর ২০১৫) .

২৭. সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী বারোয়ারী মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। (দৈনিক আমার দেশ /১৪ অক্টোবর ২০১৫)

২৮. ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ৫টি প্রতিমা ভাংচুর।(১৭ই অক্টোবর ২০১৫, ঢাকা নিউজ ২৪) (বাকি রয়েগেছে আরও অনেক )

যুদ্ধাপরাধীরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করেছিল, তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল এবং জোর করে কোথাও কোথাও ধর্মান্তরিত করেছিল। এসব আমাদের ইতিহাস। আমরা সব সময় এই গ্লানিকর ইতিহাসকে ভুলে থাকতে চাই। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের কৃতকর্মের ইতিহাস ভুলে যেতে দেয় না।

হিন্দুদের ওপর অত্যাচারে বেশ সুবিধা তাদের। একে তো হিন্দুরা খুবই দুর্বল- সংখ্যা এবং সাহসের দিক থেকে, অন্যদিকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশত্যাগ করাতে পারলে তাদের ফেলে রাখা সম্পদের অধিকারী হওয়ার হাতছানি থাকে।

২০০১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে এদেশে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল ১৬.৮৩ মিলিয়ন। ২০১১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ানোর কথা ছিল ১৮.২ মিলিয়ন। কিন্তু ২০১১ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায় এই সংখ্যা ১২.৩ মিলিয়নে এসে দাঁড়ালো।

১৯৪৭, ১৯৫০, ১৯৬৪, ১৯৯০, ১৯৯২ ও ২০০১, সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় ঘটেছে। বাংলাদেশে ১৯৪৭ সালের পর থেকে আজ রাত অবধি অন্যধর্মের ওপর চলমান নির্যাতন ও নিপীড়নে আজ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান-অন্যান্য বিশ্বাসের মানুষের সংখ্যা প্রায় দশ শতাংশের নীচে নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি বর্বর ক্রম: গণহত্যা বা এথনিক ক্লিনজিং যা স্পষ্টভাবেই মানবতা বিরোধী অপরাধ।

তবে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো গত দুইমাসে সারা বাংলাদেশ জুড়ে ঘটে যাওয়া এই সব সাম্প্রদায়িক ঘটনায় গ্রেফতার হয়নি একজনও। আর গ্রেফতার হলেও সেটা খুবই নগণ্য। এই বিচারহীনতা আর উস্কে দিচ্ছে এসব ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠীকে। মুখে মুখে শুধু ধর্মীয় সহাবস্থান আর সম্প্রীতির ভুয়া বুলি তুললেও কোনো রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা নেই এই সমস্যা সমাধানের। হয়নি কোনো সুস্পষ্ট আইন। হয়নি কোনো বিচার বিভাগীয় তদন্ত।

গত বছর তিনেক ধরে ধর্মানুভুতি শব্দটি সরকার এবং বিরোধী দলের সবচেয়ে মুখরোচক শব্দ হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভুতি নিয়ে কারো কোনো অনুভূতি নেই। কারণ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী জানে যে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক শুধুই একটি বিশেষে দলের জন্য, সুতরাং এ নিয়ে তাদের মাথা ব্যথার কারণ নেই। অন্যদিকে প্রগতিশীল স্যেকুলার ধ্বজাধারীরা ভাবছে আমাদের ভোট না দিয়ে এরা যাবে কোথায়।

যারা হিন্দুদের আক্রমণ করেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের বাড়িঘর, তাদের তো চিনতে কষ্ট হওয়ার কারণ নেই। তারা তো এ দেশেরই মানুষ। তাদের চিহ্নিত করে অপরাধের শাস্তি দেয়া কি একেবারেই অসম্ভব?

তবে কি কবির কথা মিথ্যা- মানুষ কি মানুষের জন্য নয়? রাষ্ট্র কি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারছে না? গুটিকতক নরপশু আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী অসাম্প্রদায়িক অস্তিত্বকে নষ্ট করে দেবে, আর আমাদের সরকার ও রাষ্ট্র শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে- এটাই কি আমাদের নিয়তি? মানুষ হয়ে আমরা মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারব না- এমন সমাজই কি আমাদের নিয়তি? এমন নিয়তিকে আমরা মেনে নিতে পারছি না।

আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ব্যাপারে ইন্ধন দান এবং হামলার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে যদি বিএনপি-জামাতকে দায়ী করা যায়, তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতা, ক্ষমতায় থেকেও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত না করা এবং উপরন্তু এই বিষয়টাকে ব্যবহার করে নোংরা রাজনীতির জন্য আওয়ামীলীগও কি দায় এড়াতে পারে?

অসীম চক্রবর্তী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী লেখক
http://www.sylhettoday24.com/opinion/details/8/250
Share:

১৪ অক্টোবর ২০১৫

আসুন গেল দুই মাসের প্রতিমা ভাংগার লিস্ট দেখুন ; উৎসব এর পরেও কি মনে আসে?

১.শেরপুরে ৪০ বছরের পুরোনো মন্দিরের আসন্ন দূর্গাপুজার ৩ টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বত্তরা। (শেরপুর নিউজ২৪ / তারিখ ১৩ই অক্টোবর ১৫)
২.ডিমলায় মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর (দৈনিক যুগান্তর/ ২রা সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৩.মধুখালীতে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর (দৈনিক যুগান্তর/ ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৪.সাভারে একটি মন্দিরের কয়েকটি মূর্তি ভাংচুর (শীর্ষ নিউজ ডট কম ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৫)
৫.হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রমের দুর্গাপূজার দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (একুশে টেলিভিশন )
৬.নাটোরে মন্দিরের ৫টি মূর্তি ভাংচুর (মানব কন্ঠ ১০ অক্টোবর ২০১৫) ৭.ফরিদপুরে প্রতিমা ভাংচুর (বিডি নিউজ ২৪/ ২২ সেপ্টেম্বর)
৮.সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় আসন্ন দুর্গা পূজার জন্য তৈরি ১৫টি প্রতিমা ৯.ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। (বিডি নিউজ ২৪/ ৭ অক্টোবর ২০১৫)
১০.বড়লেখায় দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (সিলেটটুডে ২৪/ ১৩ অক্টোবর ২০১৫)
১১.নাটোরের বড়াইগ্রামে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (আমাদের সময়ডট কম / ১০/১০/২০১৫)
১২.পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পশ্চিম অলিপুরা গ্রামের একটি মন্দিরে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। (হিন্দু ওয়াপ ডট কম/১১/১০/২০১৫) ১৩.সিরাজগঞ্জে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর (বিএম দ্য রিপোর্ট ডট কম ০১/১০/২০১৫) ১৪. হিন্দু মন্দিরে হামলা,বগুড়ার গাবতলীতে কালি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর (০২/০৯/২০১৫)
১৫.ভালুকায় মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর (ভালুকা নিউজ ২৪ডট কম ১৩/১০/২০১৫) ১৬. কালিয়াকৈরে প্রতিমা ভাংচুর (চ্যানেল সেভেন ডট কম ১৩/১০/১৫) ১৭.রায়গঞ্জে প্রতিমা ভাংচুর (অনাবিল ডট কম ১৩/১০/২০১৫)
১৮. মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাঁছ বারইল গ্রামে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর করেছে দূবৃর্ত্তরা -(বিডি লাভ ২৪ / অগাস্ট ২০১৫)
 ১৯. মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে প্রতাবনগর গ্রামে সার্বজনীন শিব মন্দিরের দু’টি মুর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (বাংলাদেশ প্রতিদিন অগাস্ট ২০১৫)
২০. মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে প্রতাবনগর গ্রামে সার্বজনীন শিব মন্দিরের দু’টি মুর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা (খবর বিতান ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫)
 ২১. বাগেরহাটে সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা (বাংলা পোস্ট ২৪ ১৩ অক্টোবর ২০১৫)
 ২২. দাকোপে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (বিডি নিউজ ২৪)
২৩. বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। (এপ্রিল ২০১৫, বাগেরহাট ইনফো )
২৪. দিনাজপুরে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (২২ সেপ্টম্বর ২০১৫ / উত্তর বাংলা ডট কম ) ২৫. হালুয়াঘাটে দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (৭ সেপ্টম্বর ২০১৫/ ময়মনসিংহ বার্তা )
 ২৬. কাউনিয়ার অপরাজিতা কুঞ্জ মন্দিরের দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর (বরিশাল ওয়াচ ডট কম / অক্টোবর ২০১৫) .

Collected from: Hindu Yoddha - হিন্দু যোদ্ধা
Share:

২৬ আগস্ট ২০১৫

সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের প্রয়োজনীয়তা

সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের প্রয়োজনীয়তা 
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটি যেমন সত্যি, তেমনি সরকার প্রধানের ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক চেতনা সত্ত্বেও এ দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়ন অব্যাহতভাবে চলছে এটিও সত্যি। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশরতœ শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গণ্য করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংখ্যালঘুরা কেন সমাজের কাছ থেকে এত বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছে? নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রায় সব সমাজেই অধিকার বঞ্চিত। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সরকার এসব বঞ্চনার কথা স্বীকার করে বঞ্চনার কারণগুলো দূর করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। আবার কোনো কোনো দেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন স্বীকারই করা হয় না। সে সব স্থানে এ ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন ও বঞ্চনা নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সেখানে সরকার এগুলো দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের নাম আসে সর্বাগ্রে। ভারতে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন হলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এগুলো স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ জন্য সে দেশে আছে নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আমাদের বাংলাদেশেও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য আছে একটি পৃথক মন্ত্রণালয়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের জন্য আছে পৃথক পৃথক ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আছে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’। কিন্তু বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ নেই। এ জন্য বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এখন জরুরি প্র্রয়োজন।

ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে, “…to ensure a more focused approach towards issues relating to the notified minority communities namely Muslim, Christian, Buddhist, Sikhs, Parsis and Jain. The mandate of the Ministry includes formulation of the overall policy and planning, coordination, evaluation and review of the regulatory framework and development programmes for the benefit of the minority communities.” ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সে দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেশ কয়েকটি গ্রুপ ও কমিশন গঠন করেছে। এসব হচ্ছে, “Expert Groups on Diversity Index”, “Sachar Committee”, “Expert Group to examine & determine the structure and functions of an equal opportunity commission”, “Ranganath Misra Commission”। এসব গ্রুপ ও কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার বেশ কিছু কার্যক্রমও গ্রহণ করেছে। ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সে দেশের সংখ্যালঘুদের স্বার্থে।

১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে এ দেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও বিতাড়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর এই বিধ্বংসী প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আশা করা গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়ন তারই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশ পুনরায় পাস্তিানি স্টাইলের শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যায়। দীর্ঘকাল পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর এ ক্ষেত্রে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল এর একটি অন্যতম উদাহরণ। কিন্তু প্রতিনিয়ত যেভাবে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে এদের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে সেগুলো দেখাশোনার জন্য ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা একান্তভাবেই প্রয়োজন। বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ‘ইকোয়ালিটি রাইটস কমিশন’ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার, যা জাতিগোষ্ঠী, ধর্মীয় অথবা ভাষাগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অবিভাজ্য অংশ। শিশুদের অধিকার, নারীর অধিকার এবং শরণার্থীদের অধিকারের মতো সংখ্যালঘুদের অধিকার হচ্ছে একটি আইনগত কাঠামো যার দ্বারা সমাজের ভঙ্গুর, অসুবিধায় থাকা অথবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমতা অর্জন করতে পারে এবং নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। আর এ জন্য অর্থাৎ বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা অতীব জরুরি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সমগ্র জীবন বঞ্চিত বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। ধর্মীয় উপনিবেশ পাকিস্তানের আজ্ঞাবহ খুনিদের হাতে সপরিবারে নিহত হওয়ার ৩৮ বছর পরে এবং তাঁর ডাইরি লেখার ৫৯ বছর পরে তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ শিরোনামে প্রকাশিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ক্ষুদ্র একটি অংশ পাঠেও জানা যায় তিনি মানুষকে তাঁর ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে না দেখে মানুষ হিসেবেই দেখার কথা বলেছেন। ফরিদপুর জেলখানায় বন্দি মৃত্যুশয্যায় শায়িত চন্দ্র বোস-এর সঙ্গে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধু বলছেন, ‘চিন্তা করবেন না, আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ।’ (পৃষ্ঠা ১৯১)

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তারিখে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির’ কথা বলেছিলেন। ‘মানুষ’ বলতে বঙ্গবন্ধু এ দেশে বসবাসকারী মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্রভৃতি সব ধর্মাবলম্বী বাঙালি-অবাঙালি সবাইকেই বুঝিয়েছেন। তাঁর জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধু এ জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপও গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট বঙ্গবন্ধুকে তাঁর আরাধ্য কাজ সমাধা করতে দেয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এ দেশে পাকিস্তানি স্টাইলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটে। ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জান-মালের ওপর আঘাত নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়।

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কি থাকতে পারবে? এ দেশে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচারী আচরণ ও সা¤প্রদায়িকতার দুর্বল শিকার অহিংস চেতনায় উদ্বুদ্ধ হিন্দু জনগোষ্ঠীর ‘জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির’ অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। পাশাপাশি ‘পরিচিত’ অথচ ‘অশনাক্ত’ শক্তির ক্ষমতা ও সম্পদের অপ্রতিহত লোভ-লালসা চরিতার্থ করার প্রয়োজনে হিন্দু জনসংখ্যার ক্রমহ্রাসমান প্রবণতাকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত এ প্রশ্নটি সর্বনাশাও বটে। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচারী আচরণের’ আশঙ্কা করেছিলেন জেমস মিল এবং তাঁর পুত্র জন স্টুয়ার্ট মিল। Considerations on Representative Government শীর্ষক ধ্রæপদী কাজে জন স্টুয়ার্ট মিল ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচারকে’ প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। একটি হচ্ছে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক স্বৈরাচার’, অপরটি হচ্ছে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের সামাজিক স্বৈরাচার’। রাজনৈতিক স্বৈরাচারের ব্যাপারটি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল এবং বিরোধী দলের পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ামূলক আচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অপরপক্ষে জন স্টুয়ার্ট মিলের ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের সামাজিক স্বৈরাচার’-এর ধারণাটিতে আমরা বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের’ প্রতি ‘ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের’ স্বৈরাচারী আচরণের মিল খুঁজে পাই। যেখানে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ তাদের লোভ-লালসা চরিতার্থের নিমিত্তে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ‘সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল’, উন্নয়নের নামে বংশানুক্রমিকভাবে সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোনোরূপ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ, ট্যুরিস্ট রিসোর্ট নির্মাণের জন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহকে তাদের পৈতৃক ভিটা-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়েদের ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি, সংখ্যালঘুদের অব্যাহত হুমকির মধ্যে রাখা, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উপাসনালয়সমূহের পবিত্রতা নষ্ট প্রভৃতি কাজে লিপ্ত হয়। সার্বিকভাবে জন স্টুয়ার্ট মিল-এর ধারণাকৃত ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বৈরাচারের’ আগ্রাসী ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব খুবই অবহেলিত অথবা শূন্যের কোঠায় আছে।

এ দেশে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার যা সচরাচর ‘সংখ্যালঘুদের’ ওপর প্রয়োগ করা হয়ে থাকে সেগুলো চারটি প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা যায়। এগুলো হচ্ছে ১. আইনগত ও সাংবিধানিক বৈরিতা, ২. সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক প্রচারণা, ৩. সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ, ৪. ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী কর্র্তৃক প্রায়শ ধর্মীয় জঙ্গিবাদী তৎপরতা। ব্রুস মজলিসের মতে জন স্টুয়ার্ট মিল-এর একটি দৃঢ় ও অপরিবর্তনীয় অভিপ্রায় ছিল আর তা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচারকে বাধাগ্রস্ত করা ও ব্যর্থ করে দেয়া এবং সভ্য ও মার্জিত ব্যক্তিবর্গ, সমাজ এবং মানবতার ‘স্বার্থসমূহের’ সম্মান রক্ষা করা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য ক্ষতিকর আইন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা বাতিল, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার কর্তৃক দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন। এ জন্য দেশে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা জরুরি।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সফলতার ফলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতি ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা চিরকাল। পর্যবেক্ষকদের অভিমত হচ্ছে, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের গৃহীত নীতি-আদর্শ ও অবস্থান তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য সংখ্যালঘুদের কাছে, এটাই এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের সমর্থনের প্রধান কারণ।’ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করার অপরাধে ধর্মীয় সংখ্যালঘু অনেককে অকথ্য নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। ১৯৭৫, ১৯৯০, ১৯৯২, ২০০১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সাল এভাবে পঁচাত্তর পরবর্তী প্রায় প্রতি বছরেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছে। সাংবাদিক কুররাতুল-আইন-তাহমিনা ‘আমরা কি করছি?’ শিরোনামে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে যেয়ে বলেছেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জোট জিতেছিল। বলা হয়, সেই উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষজনের ওপর হামলা হয়েছিল, তারা পরাজিত আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে বলে ধরে নিয়ে। বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় উপদ্রুত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তখন শুনেছিলাম, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা পলাতক আর জাতীয় নেতাদের কেউ তাদের পাশে আসেননি।’ এই পরিস্থিতি প্রত্যেক নির্বাচনের সময় চলতে দেখা যায়। পাশাপাশি প্রতিদিনই প্রায় বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন বা আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। যাদের পরিচিত লোক আছে উপরের দিকে তারা দৌড়ঝাঁপ করে এর বিহিতের ব্যবস্থা করে। আর যাদের তা নেই তারা নীরবে দেশ ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু প্রতিনিয়ত এসব ঘটনা দেখভাল করার জন্য তথা সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ২৮-এর উপ-অনুচ্ছেদ (১) এ বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।, উপ-অনুচ্ছেদ নং (২) এ বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন।’ উপ-অনুচ্ছেদ নং (৩) এ বলা হয়েছে ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোনো বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোনো নাগরিককে কোনোরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।’ উপ-অনুচ্ছেদ নং (৪)-এ বলা হয়েছে, ‘নারী বা শিশুদের অনুক‚লে কিংবা নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।’ ২৮ অনুচ্ছেদ-এর ৪ নং উপ-অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে ‘বিশেষ বিধান প্রণয়নের’ কথা। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এই চেতনার বহিঃপ্রকাশ তথা একটি বাস্তবসম্মত উদাহরণ হিসেবে আমরা গণ্য করতে পারি। তবে ‘নারী ও শিশু’ ছাড়াও ‘নাগরিকদের’ একটি ‘অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়নের’ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে অনেক আগে থেকেই। এই বিশেষ বিষয়টি হচ্ছে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা। কল্যাণকামী বাংলাদেশের সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করবেন বিবেকবান মানুষরা সেই আশাই করে।

অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী : চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
Share:

১২ জুলাই ২০১৫

প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের সেই মর্মান্তিক কাহিনী

নালন্দা ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত একটি প্রাচীন উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। প্রাচীন নালন্দা মহাবিহার বিহারের রাজধানী পাটনা শহর থেকে ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ছিল। খ্রিষ্টীয় ৪২৭ অব্দ থেকে ১১৯৭ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নালন্দা ছিল একটি প্রসিদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। এই মহাবিহারকে "ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্যতম" বলে মনে করা হয়। এখানকার কয়েকটি সৌধ মৌর্য সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন। গুপ্ত সম্রাটরাও এখানকার কয়েকটি মঠের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, গুপ্ত সম্রাট শক্রাদিত্যের (অপর নাম কুমারগুপ্ত, রাজত্বকাল ৪১৫-৫৫) রাজত্বকালে নালন্দা মহাবিহারের বিকাশলাভ ঘটে। পরবর্তীকালে বৌদ্ধ সম্রাট হর্ষবর্ধন ওপাল সম্রাটগণও এই মহাবিহারের পৃষ্ঠপোষক হয়েছিলেন।১৪ হেক্টর আয়তনের মহাবিহার চত্বরটি ছিল লাল ইঁটে নির্মিত। খ্যাতির মধ্যগগনে থাকাকালীন অবস্থায় চীন, গ্রিস ও পারস্য থেকেও শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসতেন বলে জানা যায়।
১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি মুসলমান আক্রমণকারী বখতিয়ার খিলজি নালন্দা মহাবিহার লুণ্ঠন ও ধ্বংস করেন। এই ঘটনা ভারতে বৌদ্ধধর্মের পতনের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে বিবেচিত হয়। ২০০৬ সালে ভারত, চীন,সিঙ্গাপুর, জাপান ও অন্যান্য কয়েকটি রাষ্ট্র যৌথভাবে এই সুপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টির পুনরুজ্জীবনের প্রকল্প গ্রহণ করে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম স্থির হয়েছে নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রাচীন নালন্দা মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষের নিকট নির্মিত হবে।
"নালন্দা" শব্দটির অর্থ "দানে অকৃপণ"।
চীনা তীর্থযাত্রী সন্ন্যাসী হিউয়েন সাঙ নালন্দা নামের বিবিধ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁর একটি মত হল, এই নামটি স্থানীয় আম্রকুঞ্জের মধ্যবর্তী পুষ্করিণীতে বসবাসকারী একটি নাগের নাম থেকে উদ্ভুত। কিন্তু যে মতটি তিনি গ্রহণ করেছেন, সেটি হল,শাক্যমুনি বুদ্ধ একদা এখানে অবস্থান করে "অবিরত ভিক্ষাপ্রদান" করতেন; সেই থেকেই এই নামের উদ্ভব।
সারিপুত্তর মৃত্যু হয়েছিল "নালক" নামে এক গ্রামে। কোনো কোনো গবেষক এই গ্রামটিকেই "নালন্দা" নামে অভিহিত করেন।
নালন্দা পৃথিবীর প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি এবং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও একটি। এর স্বর্ণযুগে ১০,০০০ এর অধিক শিক্ষার্থী এবং ২,০০০ শিক্ষক এখানে জ্ঞান চর্চা করত। একটি প্রধান ফটক এবং সুউচ্চ দেয়ালঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপত্যের একটি মাস্টারপিস হিসেবে সুপরিচিত ছিল।বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি ভিন্ন ভিন্ন চত্বর(compound) এবং দশটি মন্দির ছিল; ছিল ধ্যান করার কক্ষ এবং শ্রেনীকক্ষ। প্রাঙ্গনে ছিল কতগুলো দীঘি ও উদ্যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারটি ছিল একটি নয়তলা ভবন যেখানে পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হত অত্যন্ত সতর্কতার সাথেধর্মের পাশাপাশি বেদ _উপনিশদ, বিতর্ক, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, সাহিত্য, গণিত, জ্যোতিষ বিদ্যা, শিল্প কলা, চিকিৎসাশাস্ত্র সহ তৎকালীন সর্বোচ্চ শিক্ষা ব্যাবস্থার উপযোগী আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নিয়মিত পাঠ দান চলত এখানে।। তৎকালীন জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখাতেই চর্চার সুযোগ থাকায় সুদূর কোরিয়া, জাপান, চীন, তিব্বত,ইন্দোনেশিয়া, পারস্য এবং তুরস্ক থেকে জ্ঞানী ও জ্ঞান পিপাসুরা এখানে ভীড় করতেন। চীনের ট্যাং রাজবংশের রাজত্বকালে চৈনিক পরিব্রাজক জুয়ানঝাং ৭তম শতাব্দিতে নালন্দার বিস্তারিত বর্ণনা লিখে রেখে গেছেন।
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগার ধর্ম গুঞ্জ বা ধর্মগঞ্জ সেই সময়ে বৌদ্ধজ্ঞানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ভান্ডার হিসাবে সুপরিচিত ছিল। পাঠাগারে ছিল শত শত হাজার হাজার পুঁথি,। পাঠাগারের মূল ভবন ছিল তিনটি যার প্রত্যেকটি প্রায় নয়তলা ভবনের সমান উঁচু; ভবনগুলো রত্নসাগর, রত্নদধি ও রত্নরঞ্জক নামে পরিচিত ছিল।
নালন্দার লাইব্রেরী
শত শত বছর ধরে অবদান রেখে আসা একটি সভ্য, উন্নত জাতি তৈরী ও জ্ঞান উৎপাদনকারী নিরীহ এই প্রতিষ্ঠানটি ১১৯৩ খ্রষ্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী আক্রমন করে ধ্বংস করে ফেলেন। তার আক্রমনের বর্বরতা এত ভয়াবহ আকারে ছিল এ সম্পর্কে পারস্য ইতিহাসবিদ মিনহাজ তাঁর “তাবাকাতে নাসিরি” গ্রন্থে লিখেছেন “হাজার হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আগুনে পুড়িয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে সেখানে ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করেন খিলজী” এরপর আগুন লাগিয়ে দেন লাইব্রেরীর ভবন গুলোতে। লাইব্রেরীতে বইয়ের পরিমান এত বেশী ছিল যে কয়েক মাস সময় লেগেছিল সেই মহা মূল্যবান বই গুলো পুড়ে ছাই ভষ্ম হতে(জনশ্রুতি আছে ছয় মাস) খিলজী শুধু নালন্দাকে পুড়িয়ে ছাই করেন নি, একই সাথে পুড়িয়ে ছাই করেছেন একটি জাতির সভ্যতা, ইতিহাস, প্রাচীন জ্ঞান বিজ্ঞানের অমূল্য বই যা থেকে আমরা জানতে পারতাম সে যুগের ভারত বর্ষের শিক্ষার অবকাঠামো, তৎকালীন সামাজিক-সাংষ্কৃতিক অবস্থা ও প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সম্পর্কে। জাতি হিসাবেও হয়তো আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে সহস্র বছর।
সেদিন তার ধারালো তরবারির নিষ্ঠুর আঘাতে ফিনকি দিয়ে ছোটা রক্ত বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া নিরস্ত্র মানুষের আর্ত চিৎকারে ও জীবন্ত মানুষ পোড়া গন্ধের সাথে বাতাসে ভেসে আসা বাচঁতে চাওয়া ঝলসানো সাধারণ মানুষ গুলোর করুণ আর্তনাদে স্তব্ধ হয়েছিল একটি সভ্য জাতির অগ্রযাত্রা।খিলজীর এই পাশবিক নিষ্ঠুর বর্বরতাও পরিচিতি পায় এক শ্রেণীর ধর্মান্ধদের চোখে ধর্মীয় বিজয় হিসাবে! আর আমাদের পাঠ্য পুস্তক গুলোতে এই নির্মম, নিষ্ঠুর বখতিয়ার খলজিকে নায়ক হিসেবে দেখান হয়। ভাবতেই অবাক লাগে কিভাবে ইতিহাস্কে বিকৃত করা হয়। চেষ্টা করা হয়্য নালন্দার ইট কাঠ পাথরের চাপা কান্না আর আহাকার যেন আমাদের কানে না পৌছাতে পারে।
কিছু কিছু স্থাপনা এখনো টিকে আছে, যেমন নিকটবর্তী সূর্য মন্দির যা একটি হিন্দু মন্দির। মোট ১৫,০০০ বর্গ মিটার এলাকায় খননকার্য চলানো হয়েছে, অবশ্য যদি জুয়ানঝাংয়েরহিসাব সঠিক হয় তাহলে মাত্র ১০% জায়গায় এখন পর্যন্ত খননকার্য চালানো হয়েছে।
নালন্দায় এখন কেউ বাস করে না, নিকটবর্তী জনবসতি বড়গাঁও নামক গ্রামে।
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রায় সকল ধর্ম গ্রন্থের সংগ্রহ শালা। বিশেষ করে বেদ আর উপনিষদের উপর আলোচনা, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ গুলো অত্যন্ত সতর্কতা ও যত্নের সাথে সংরক্ষন করা হয়। এই পুস্তক গুলো ধ্বংসের ফলে পরবর্তীতে হিন্দু ধর্মে নানা কু প্রথা- আচার স্থান পায়। যার প্রভাব এখন রয়ে গেছে হিন্দু ধর্মে।
নালন্দায় ধর্মীয় বিজয় সফল হলেও লজ্জিত হয় মানবতা, পরাজিত হয় সভ্যতা, শৃঙ্খলিত হয় শিক্ষা।
এভাবে উগ্র ধর্মীয় উন্মাদনা, আক্রোশ, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে পৃথিবী থেকে বিলুপ্তি ঘটিয়েছিল ধর্মান্ধরা কয়েকশ বছর ধরে মানব সভ্যতাকে আলোর পথ দেখানো মানুষ গড়া্র এই কারখানাটিকে।

লেখকঃ শ্রী ইশাইমুন & Ramkrishna Bhattacharya
http://en.wikipedia.org/wiki/Nalanda
Share:

২১ এপ্রিল ২০১৫

"আজ ফরিদপুর শ্রীঅঙ্গন গণহত্যা দিবস"

১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে নরপশু পাকবাহিনী ফরিদপুর শ্রীঅঙ্গনে প্রবেশ করে কীর্তনরত অবস্থায় ৮ জন ব্রক্ষচারীকে নির্মমভাবে হত্যা করে, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জঘন্যতম নারকীয় গণহত্যার একটি।
মানবমুক্তির মহাকল্যানকারী এ আটজন ব্রক্ষচারী মাতৃভূমি ও স্বাধীনতার জন্য ঈশ্বরকে স্মরণ করতে করতে নিজেদের আত্মোৎসর্গ করেছেন। সনাতন ধর্মের এই আটজন ব্রক্ষচারীর আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাদের চরণে জানাই বিনম্র প্রণাম।

Courtesy by : Joy Ray
Share:

১৯ জানুয়ারি ২০১৫

কয়েক লক্ষ কাশ্মীরি পণ্ডিত তাঁদের নিজেদের রাজ্য থেকে বিতাড়িত

আজ ১৯শে জানুয়ারী। আজ একটি বিশেষ দিন। আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে, আজকের দিনে, ১৯শে জানুয়ারী, ১৯৯০-তে কয়েক লক্ষ কাশ্মীরি পণ্ডিত তাঁদের নিজেদের রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। তাঁদেরকে কাশ্মীর থেকে জাতিগতভাবে নির্মূল করা হয়েছিল। তাঁদের অপরাধ ছিল একটাই। তাঁরা সবাই হিন্দু ছিলেন। কারা বিতাড়িত করেছিল, সেটা না হয় উহ্যই থাক। কাশ্মীরকে একটি বিশেষ ধর্মের নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পবিত্র ধর্মীয় কাজটি (তাদের ধর্মমতে), সেই ধর্মের মানুষরা করেছিল। তবে শুধু মুখের কথায় বিতাড়িত করে নি। তার আগে তারা আরও কিছু ধর্মীয় আচার পালন করেছিল। শুধু ১৯৯০-র গণহত্যাতেই কম করে তিনশোর ওপর কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়েছিলেন, মহিলারা নির্যাতিতা হয়েছিলেন। আর এইসব ঘটেছিল স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষে। না, এই পঁচিশ বছরে কোন সরকার, কোন রাজনৈতিক দল, কোন গোষ্ঠী, কোন সংস্থা, এঁদের কাশ্মীরে, তাঁদের নিজেদের ঘরে ফেরাবার জন্য কোন সদর্থক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। অতগুলো মানুষ, অতগুলো পরিবার এই আড়াই দশক ধরে কোথায় আছে, কেমন আছে, কেমন করে তাঁদের দিন কাটছে, সেই নিয়ে দেশের মাথাদের কোন মাথাব্যাথা নেই। যত অত্যাচারিতই হোক না কেন, ওরা সবাই হিন্দু তো। তাই, ওদের জন্য কিছু করলে বোধ হয় দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো বিঘ্নিত হবে। সেই জন্যই আজ পর্যন্ত তাঁদের নিয়ে কোন ছবি, উপন্যাস, তথ্যচিত্র, গান, কবিতা, সত্যমেব জয়তে-র কোন পর্ব―কিছুই হয় নি। যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে অষ্টপ্রহর ঢেরা পেটান, অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে সামান্য সংবেদনশীল কিছু ঘটলেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন, রাস্তায় মিছিল করেন, এমনকি আদালতে মামলা পর্যন্ত করেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর হয়ে যাওয়া এতবড় অন্যায় দেখেও তারা এতবছর ধরে নিশ্চুপ কেন? কাশ্মীরি পণ্ডিতরা তো এই দেশেরই নাগরিক। না হয় তাঁরা হিন্দু, না হয় তাঁরা কাশ্মীরের আদি বাসিন্দা, না হয় তাঁরা বাইরে থেকে অনুপ্রবেশ করে আসেন নি, এইগুলোই কি তাঁদের অপরাধ? এই অপরাধেই কি তাঁদের এত বছর ধরে নিজের দেশেই নিজেদের ঘর, প্রদেশ, সংস্কৃতি ছেড়ে শরণার্থী শিবিরে উদ্বাস্তুর মত জীবন-যাপন করতে হবে? পঁচিশ বছর তো হয়ে গেল; আর কবে আমাদের দেশ সব ধর্মের মানুষের ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচার, অবিচারকে সমান চোখে দেখতে শিখবে? আর কবে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা “রাজ-তরঙ্গীনী”-র রাজ্যে ফিরতে পারবেন?

এই অনুচ্ছেদটি লেখার জন্য সে সব নিবন্ধের সাহায্য নেওয়া হয়েছেঃ
1. http://blogs.hindustantimes.com/medium-term/?p=431
2. http://www.satp.org/satporgtp/kpsgill/2003/chapter9.htm
3. http://indianexpress.com/…/fifth-column-remember-kashmiri-…/
4. http://kashmirsentinel.org/demystifying-ethnic-cleansing-a…/
5. http://www.rediff.com/…/24-years-on-nothing-ha…/20140119.htm

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=914207625279430&set=a.201113339922199.52003.100000706048227&type=1

Written by: Deep Chatterjee
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।