• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

জগন্নাথ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জগন্নাথ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০২ জুলাই ২০১৮

মহাপ্রভুর গুণ্ডিচা মার্জন

শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব আরম্ভের পূর্বদিন ‘গুণ্ডিচা মার্জন’ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। গৌড়ীয়া মতে রথযাত্রায় প্রভু জগন্নাথ তাঁর মন্দির ছেড়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে আগমন করেন । এটা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মথুরা নগর ছেড়ে বৃন্দাবনে আগমনের মতো । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ব্রজে ফিরবেন , এই কথা শ্রবন করে সবচেয়ে আনন্দিত হয়েছিলেন গোপিনীগণ ও ব্রজেশ্বরী শ্রীমতী রাইকিশোরী । মহাপ্রভুর মধ্যে রাধাভাব প্রকট, তিনি পার্ষদগণকে নিয়ে স্বহস্তে গুন্ডিচা মন্দির মার্জন করতেন। শ্রী চৈতন্য চরিতামৃতে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী এই সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন ।

মহাপ্রভু ভক্তগণের সঙ্গে নিরন্তর কীৰ্ত্তন-রঙ্গে ক্রীড়া করেন। আচাৰ্য্যাদি ভক্তগণ মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করেন, মহাপ্ৰভু সেই সেই স্থানে ভক্তগণকে নিয়ে ভিক্ষা করেন। এই মত নানা রঙ্গে কিছুদিন যাপন করলেন । ক্রমে শ্ৰীজগন্নাথ দেবের রথযাত্রার দিন উপস্থিত হল। তখন মহাপ্রভু প্রথমে কাশীমিশ্রকে ডেকে এনে তাকে দিয়ে পড়িছা পাত্র ও সার্বভৌমকে ডাকিয়ে আনলেন। মহাপ্রভু হেসে তিনজনকে বললেন — “ আপনারা আমাকে গুণ্ডিচা মন্দির মার্জনের সেবা দিন ” । মহাপ্রভু এই সেবা প্রার্থনা করলে পড়িছা বললেন, “আমরা সকলে আপনার সেবক, আপনার যা ইচ্ছা , সেই অনুযায়ী কাজ করা আমার কর্তব্য, বিশেষতঃ মহারাজ আমাকে আদেশ করেছেন , আপনার ইচ্ছার যেন যথাযথ পালন হয় । তবে প্রভু ! মন্দির-মার্জন আপনার যোগ্য সেবা নয় , এটি আপনার একটি লীলা । গুণ্ডিচা মার্জনের জন্য কলসী ও ঝাড়ু অনেক আবশ্যক , — তবে আজ্ঞা দিন আজ সেই সব জিনিস এই স্থানে নিয়ে আসি ” । এই কথা বলে পড়িছা নূতন একশত মাটির কলসী ও একশত ঝাড়ু এনে প্রভুর সামনে অপর্ণ করলেন।

পর দিন প্রাতঃকালে প্ৰভু শ্রীহস্তে নিজ ভক্তগণের অঙ্গে চন্দন লেপন করলেন । প্রত্যেকের হাতে এক একটি মার্জনী দিয়ে সকলকে সঙ্গে নিয়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে গেলেন । গুণ্ডিচা মন্দির মার্জন করতে গিয়ে প্রথমে ঝাড়ু দিয়ে মার্জন করতে লাগলেন । ভিতর মন্দির এবং উপরিভাগ সব পরিস্কার করে সিংহাসন মার্জন করে চারি ভিত শোধন করার পর শ্রীজগমোহন পরিস্কার করলেন । চারপাশে শত ভক্ত হাতে ঝাড়ু নিয়েছেন , মহাপ্রভু নিজে ভালমতে শোধন করে সকলকে শিক্ষা দিতে লাগলেন, মহাপ্ৰভু প্রেমোল্লাসে গৃহ শোধন ও কৃষ্ণ নাম করছেন এবং ভক্তগণও কৃষ্ণ নাম উচ্চারণ করতে করতে নিজেদের কাজ করতে লাগলেন । মহাপ্রভুর ধূলায় ধূসর তনু দেখতে অতীব সুন্দর, কোন কোন ভক্ত অশ্রু জলে মার্জন করছেন। অনন্তর ভক্তগণ ভোগমণ্ডপ শোধন করে প্রাঙ্গণ শোধন করলেন। ক্রমে সমুদায় গৃহ শোধন করে তৃণ, ধূলি ও কাঁকর একত্র করে ভক্তগণ নিজেদের বস্ত্রে করে পরমানন্দে তৃণ ও ধূলি সকল বাইরে ফেলতে লাগলেন ।

তখন প্রভু বললেন , কে কত মার্জন করেছ, খড়কুটা ও ধূলির পরিমাণ দেখে পরিশ্রম বিচার করব । এই বলে সকলের ঝাড়ু দেওয়া বোঝা একত্র করলেন। সবচেয়ে মহাপ্রভুর বোঝাই অধিক হল । গৃহ মধ্যে মার্জন করার পর পুনৰ্ব্বার সকলকে কাজ বণ্টন করে দিয়ে বললেন , “তোমরা সকলে সূক্ষ্ম ধূলি ও কাঁকর দূর করে ভাল করে পরিস্কার কর ” । সমস্ত বৈষ্ণব দুইবার শোধন করলেন, তা দেখে মহাপ্রভূর মন সস্তুষ্ট হল। তখন অন্য শত জন শত ঘট পূর্ণ করে এনে রাখলেন । যখন মহাপ্ৰভু বললেন ‘জল আন’ তখন ভক্তগণ মহাপ্রভুর সামনে জলপূর্ণ শত ঘট এনে দিলেন । মহাপ্রভু প্রথমে মন্দির প্রক্ষালন করলেন, তারপরে, গৃহের উর্দ্ধ, অধঃ, ভিত, গৃহের মধ্য ও সিংহাসন ধৌত করলেন, তৎপশ্চাৎ খাপরা (খোলা) ভরে জল উর্দ্ধদেশে নিক্ষেপ করে সেইজলে উৰ্দ্ধ শোধন করে ভিত প্রক্ষালন করলেন । প্রভু প্রথমে মন্দির প্রক্ষালন, তারপরে শ্রীহস্তে সিংহাসনের মার্জন করলেন। ভক্তগণ গৃহ -মধ্য প্রক্ষালন এবং নিজ নিজ হস্তে মন্দির মার্জন করতে লাগলেন । নিত্যানন্দ প্রভু, অদ্বৈতাচার্য্য, স্বরূপ ভারতী আর পুরী বিনা আর সকলে জল বয়ে আনে ।

কোন ভক্ত মহাপ্রভুর হস্তে জলঘট দেয় , কেহবা মহাপ্রভুর চরণ উপরে জল নিক্ষেপ করে গোপনে সেই জল পান করে , কেহ বা সেই জল প্রার্থনা করে এবং কেহবা সেই জল অন্যকে দান করতে লাগলেন । তাতে সমস্ত প্রাঙ্গণ জলে পরিপূর্ণ হয়ে রইল। ভক্তগণ নিজ নিজ বস্ত্রে গৃহ সংসাজ্জন এবং প্রভু নিজ বস্ত্রে সিংহাসন মাৰ্জ্জন করলেন । শত ঘট জলে মন্দির মার্জিত হল । নিজেদের মনের মত করে মন্দির শোধন করলেন , মন্দিরকে নিৰ্ম্মল শীতল ও স্নিগ্ধ করে আপনার হৃদয়কে যেন প্রকাশিত করলেন । শতশত লোক সরোবরে জল ভরেন, ঘাটে স্থান না পেয়ে কেহবা কূপে জল ভরতে লাগলেন, একশত ভক্ত পূর্ণ কুম্ভ নিয়ে আসতে লাগলেন, অার শত ভক্ত শূন্য ঘট নিয়ে যেতে লাগলেন । ঘটে ঘটে ঠোকর লেগে কত ঘট ভেঙ্গে গেল, লোকেরা আবার শত শত ঘট এনে উপস্থিত করল ।

 ভক্তগণ জল ভরেন , গৃহধৌত করেন এবং হরিধ্বনি করেন । কৃষ্ণ ও হরিধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাওয়া যায় না । ভক্তগণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে ঘট সমপর্ণ এবং কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে ঘট প্রার্থনা করতে লাগলেন । সকল কৰ্ম্মেই কৃষ্ণনাম সঙ্কেত হয়ে উঠল । মহাপ্ৰভু প্রেমাবেশে কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম উচ্চারণ করতে করতে একাকী শত লোকের কৰ্ম্ম করতে লাগলেন, শত হস্তে যেন ক্ষালন ও মার্জন করেন এবং প্রত্যেক লোকের নিকট গিয়ে তাদেরকে কার্য্যের শিক্ষা প্রদান করেন । যে ব্যক্তি ভাল কৰ্ম্ম করেন, তাকে প্রশংসা এবং মনোমত না হলে তাকে মিষ্ট ভর্ৎসনা করেন । অন্যকে বলেন ,_“ তুমি ভাল কাজ করছ , প্রভু জগন্নাথের সেবাকার্য্য কিভাবে উত্তমরূপে করতে হয় , অন্যকেও শিখিয়ে দাও ”। এই কথা শুনে সকলে সঙ্কুচিত হয়ে মনোনিবেশ সহকারে ভালভাবে কাজ করতে লাগল ৷ এর পর মহাপ্রভু জগমোহন (মন্দিরের নিকট ক্ষুদ্র মন্দির ) প্রক্ষালন করে ভোগমণ্ডপ প্রক্ষালন করলেন । তারপর নাটশালা ধুয়ে চত্বর ও প্রাঙ্গণ ধুলেন, পাকশাল , মন্দিরের চতুর্দিক এবং সমুদায় অন্তঃপুর উত্তম রূপে ধৌত করালেন ।

এই সময়ে একজন সরল বুদ্ধি গৌড়ীয়া মহাপ্রভুর চরণে এক ঘট জল অর্পণ করে সেই জল নিজে পান করল, তা দেখে মহাপ্রভুর মনে দুঃখ ও রোষ উৎপন্ন হল । যদিও মহাপ্রভু তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, তথাপি শিক্ষার জন্য বাইরে রোষ প্রকাশ করলেন ৷ 

Collected: Dolon Das
Share:

১১ জুলাই ২০১৬

রথযাত্রা নিয়ে কিছু কথা


রথযাত্রার ইতিহাস :

পুরান থেকে আমরা জানতে পারি রথ যাত্রার ইতিকথা । স্কন্দ পুরানে আমরা পাই যে ইন্দ্রদ্যম্ন নামে এক রাজা ছিলেন উত্কল রাজ্যে (বর্তমান উড়িষ্যা) তিনি ছিলেন পরম ভক্ত । তিনি একদিন স্বপ্নাদিষ্ট হন একটি মন্দির নির্মানের জন্যে ।
পরে দেবর্ষী নারদ এসে জানন স্বয়ং ব্রহ্মার ও তাই ইচ্ছা ,তিনি নিজে সেটা উদ্বোধন করবেন । এভাবে কাজ হল এবং নারদ বললেন বহ্মাকে আপনি নিমন্ত্রন করুন । পরে রাজা ব্রহ্মলোকে গেলেন এবং নিমন্ত্রন করলেন ।কিন্তু ব্রহ্ম লোকের সময় এর সাথে তো পৃথিবীর মিল নাই ।পৃথীবিতে কয়েক শত বছর পার হয়ে গেছে । ফিরে এসে রাজা দেখলেন
তাকে কেউ চেনে না । যা হোক তিনি আবার সব করলেন । দৈবভাবে রাজা জানতে পারলেন সমুদ্র সৈকতে একটি নিম কাঠ ভেষে আসবে ,সেটা দিয়েই হবে তৈরি দেব বিগ্রহ ।  পরের দিন পাওয়া গেল সেই নিম কাঠের গুল বা দারুব্রহ্ম । সেটাকে নিয়ে আসা হল প্রাসাদে । কিভাবে মূতি তৈরি হবে এই চিন্তা হচ্ছে যখন , তখন একজন অঞ্জাত পরিচয়
লোক এসে বললেন যে তার নাম বাসুদেব মহারানা তিনি বিগ্রহ তৈরি করবেন । কিন্তু নিভৃতে তৈরি করবেন ,তৈরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিরক্ত করা যাবে না মন্দিরে যাওয়া ও যাবে না ।

এদিকে মূর্তি তৈরি শুরুর কিছু দিন পর রাজা কৌতুহল সংবরন করতে না পেরে মন্দিরে যান এবং দেখেন কেউ নেই ভিতরে আর আমরা যে রূপে এখন জগন্নাথ দেব কে দেখি সেই মূর্তিটি পড়ে রয়েছে । পরে ঐ ভাবেই স্থাপিত হয় মূর্তি । ইন্দ্রদুম্ন রাজা জগনাথ দেবের মূর্তিতেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । পরবর্তিতে শ্রীকৃষ্ন এবং জগনাথ দেব একই সত্ত্বা চিন্তা করে একই আদলে তার পাশে ভাই বললাম এবং আদরের বোন সুভদ্রার মূর্তি স্থাপন করা হয় । আমাদের এখানে এক রথ যাত্রা হলেও পুরিতে তিনটি রথে হয় । প্রথমে বলরাম তার পর সুভদ্রা এবং শেষে জগন্নাথ । ১১৯৯ খ্রীষ্টাব্দে রাজা অনঙ্গভীমদেব তিন রথের রথ যাত্রা প্রচলন করেন ।

জগন্নাথদেব :

জগন্নাথ দেবের মূর্তির রুপ নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন আছে ।কেন এই রূপ তার । এখন তারই কিছু বিশ্লেষন দেখা যাক । কঠোপনিষদে বলা হয়েছে না আত্মানং রথিনং বিদ্ধি শরীরং রথমেবতু । এই দেহই রথ আর আত্মা দেহরূপ রথের রথী । আর ঈশ্বর থাকেন অন্তরে । রথ যাত্রার রুপক কিন্তু এমনই ।যাহোক তিনি আমাদের অন্তরে থাকেন । তার কোন রুপ নেই । তিনি সর্বত্র বিরাজিত অর্থাত্ ঈশাব্যাসমিদং । বেদ বলছে আবাঙমানষগোচর ,মানে মানুষের বাক্য এবং মনের অতিত । আমরা মানুষ তাই তাকে মানব ভাবে সাজাই । এবিষয়ে কৃষ্ন যজুর্বেদিয় শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের তৃতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে -
অপাণিপাদো জাবানো গ্রহীতা
পশ্যত্যচক্ষুঃ স শৃণোত্যকর্নঃ ।
স বেত্তি বেদ্যং ন চ তস্যাস্তি বেত্তা
তমাহুরগ্র্যং পুরুষং মহান্তম্ ।।

অনুবাদ :
তার লৌকিক হস্ত নাই ,অথচ তিনি সকল দ্রব্য গ্রহন করেন । তার পদ নাই অথচ সর্বত্রই চলেন । তার চোখ নাই অথচ সবই দেখন ।কান নাই কিন্তু সবই শোনেন ।তাকে জানা কঠিন ,তিনি জগতের আদিপুরুষ ।এই বামনদেব ই বিশ্মাত্মা ,তার রূপ নেই আকার নেই ।উপনিষদের এই বর্নানার প্রতিকি রুপই হল পুরীর জগন্নাথদেব ।তার পুরো বিগ্রহ তৈরি সম্ভব হয়নি .কারন তার রুপ তৈরিতে আমরা অক্ষম ।শুধু প্রতিককে দেখান হয়েছে মাত্র ।তাছাড়া ও আর একটি পৌরানিক কাহিনী আছে সেটা হল ভগবান শ্রীকৃষ্ন ১২ বছর বয়সে বৃন্দাবন ত্যাগ করেন ,তারপর তিনি আর
বৃন্দাবনে আসেন নি । কিন্তু একবার রথে করে পার্শ্ববর্তী গ্রামে এসেছিলেন বৃন্দাবনবাসি দের সাথে দেখা করতে । বৃন্দাবনবাসিরা কৃষ্নকে প্রানাধিক ভালবাসত তাই তার বিরহে তার প্রিয় জনদের অবস্থা দেখে কিছুক্ষনের জন্যে কৃষ্ন
বলরাম সুভদ্রা তিন জন নির্বাক হয়ে যান এই ভালবাসা দেখে ।তখন তাদের অমূর্ত রুপ ফুটে ওঠে । এই রূপই বর্তমান জগন্নাথ দেবের রুপ ।


রথযাত্রা এবং সামাজিক ঐক্য :

পুরীকে পুরুষত্তোম ক্ষেত্র বলা হয় ।এখানকার রথ যাত্রায় দিন কোন ভেদা ভেদ থাকে না । ধনী ,দরিদ্র ,উচু , নিচু ,সৃষ্প ,অসৃষ্প সবাই এক কাতারে ভগবানকে নিয়ে রাজ পথে নামে ।আর আমাদের মনে করিয়ে দেয় ভগবান সবার এবং সবাই কে একত্রিত হতে ।কারন ভগবান সকলের ,ভগবানে সবার সমান অধিকার ।গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সবাইকে নিয়ে কীর্তন করতে রথযাত্রা অংশ নিতেন । তাছাড়া প্রভাষখন্ড থেকে জানা যায় যে পুরিতে অভক্তু থেকে বিগ্রহ দর্শন করা যাবে না । আগে প্রসাদ থেতে হবে পরে দেব বিগ্রহ দর্শন ।এখন ও এ নিয়ম চলে আসছে ।পুরীকে শঙ্খক্ষেত্র ও বলা হয় কারন মানচিত্রে এক শঙ্খের মত দেখতে লাগে ।

এটা অতি সংক্ষেপে বর্ননা করলাম ।সকলে ভাল থাকুক জগন্নাথ দেবের কৃপা প্রাপ্ত হোক ,এই
প্রার্থনা ।সবাই কে আবার ও রথযাত্রার শুভেচ্ছা ।

জয় জগন্নাথ ,জয় সুভদ্রা ,জয় বলরাম ।

Written by:  Agni Sampad
Share:

রথযাত্রাই হল প্রকৃত জাতিসংঘ

স্মরণাতীত কাল থেকে পুরুষোত্তম ক্ষেত্র (যেটি পরিচিত শ্রীক্ষেত্র, জগন্নাথ পুরী, নীলাচল, পুরুষোত্তম ক্ষেত্র ইত্যাদি) সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভগবান জগন্নাথের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল । স্কন্ধ পুরাণ অনুসারে ভগবান জগন্নাথদেব এই জড় জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন স্বয়ম্ভু মন্বন্তরের (স্বরোচিষ মনুর রাজত্বকালে) সত্য যুগের প্রারম্ভে রথযাত্রা শুরু হয়েছিল । স্কন্ধ পুরাণে আরো উল্লেখিত আছে যে, এই রথযাত্রা ব্রহ্মার আয়ুস্কালের দ্বিতীয় পর্বের শেষ পর্যন্ত এই জড় জগৎ চলতে থাকবে ।

যা হোক পাশ্চাত্য জগতে প্রথম ভগবান জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় আজ থেকে ৩৬ বছর আগে ১৯৬৭ সালে আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে । এই সুন্দর উৎসবটির পূর্ব ইতিহাসও খুব সুন্দর এবং এর শুরুটা হয়েছিল ১৮৭০ এর দিকে । যখন ওড়িষ্যার প্রথম আইন গ্র্যাজুয়েট কেদারনাথ দত্ত যিনি সারাবিশ্বে বর্তমানে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর নামে বিখ্যাত । পুরীর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ডেপুটি কালেক্টর হয়েছিলেন । আর তখন সরকারের পক্ষ থেকে তাকে জগন্নাথ মন্দিরের আনুষাঙ্গিক দেখাশোনার ভার গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানানো হয় । এতে তিনি খুবই খুশি হয়েছিলেন ।

ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ছিলেন ভগবান শ্রী চৈতন্যমহাপ্রভুর শিক্ষা ও মহিমা প্রচারের অগ্রদূত । একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং গৃহস্থ লোক হিসেবে তার ছিল অনেক দায়িত্ব । তা সত্ত্বেও তিনি একশ’রও বেশি গ্রন্থ এবং প্রবন্ধ লিখেছেন যাতে করে শুদ্ধ ভাগবৎ ধর্ম সুরক্ষা ও প্রচারিত হয় । এমনকি তিনি এ সমস্ত গ্রন্থের অনেকগুলোই পাশ্চাত্যে পাঠিয়েছিলেন এবং পাশ্চাত্যবাসীরা সেগুলো সাদরে গ্রহণ করেছিলেন । বিশেষত জার্মান এবং আমেরিকান দার্শনিকরা ।

এরপর ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের এ প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে ভাগবত ধর্ম প্রচারের সহযোগী হিসেবে ১৮৭৪ সালে জগন্নাথ পুরীতে আবির্ভূত হয় আরেক মহান শুদ্ধভক্ত শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ । অভিজ্ঞ জ্যোতিষবিদরা এই নবজাতকের মধ্যে মহাপুরুষের বিভিন্ন লক্ষন দেখতে পান । অধিকন্তু ব্রাহ্মণ পৈতার ন্যায় গলায় নাভীরজ্জু দ্বারা মোড়ানো নিয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ।

১৮৭৪ সালে রথযাত্রায় সময় পুরীতে ভগবান জগন্নাথের রথ ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের গৃহের সামনে থেমে যায় । বিমল প্রসাদের (ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী) মাতা ভাগবতী দেবী শিশুটিকে জগন্নাথের রথের পাশে নিয়ে আসেন । ছয় মাস বয়সী সেই ছোট শিশুটি মায়ের কোল থেকে নেমে হামাগুড়ি দিয়ে ভগবান জগন্নাথকে আলিঙ্গন করতে গেলে ভগবানের গলার মালা শিশুটির গলায় এসে পরে । জগন্নাথের মহাপ্রসাদ দিয়ে শিশুটির জন্য অন্ন প্রসাদ এবং সমস্ত অন্যান্য পবিত্র অনুষ্ঠানাদি সম্পাদিত হয় ।

জীবনের শুরু থেকেই শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত ছিলেন যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত এবং তার পরবর্তী মিশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন । তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি ভারতসহ বহির্বিশ্বে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী বিভিন্ন ভাষায় প্রচার করেছিলেন । অনেক শিক্ষিত ভারতীয় এবং অনেক বিদেশীরা তার শিষ্য হয়েছিলেন । ১৯৩৩ সালে তিনি লন্ডনে তার প্রথম প্রচারক দল পাঠান । সে সময় সেখানকার একজন নাস্তিক দার্শনিক, অধ্যাপক রৌবার তাকে লিখেছিলেন, কেন তিনি শুধু শুধু কতগুলো প্রচারকদের ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছেন । তিনি বলেন তারা তাদের হৃদয়ে এক ইঞ্চি পরিমান স্থানও সেসব প্রচারকদের জন্য দেবেন না । কেননা তারা তাদের দেশের গুরুদেবের অনেক আগেই বাইরে তাড়িয়ে দিয়েছেন । শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত এর উত্তর দেন – “আমি তোমাদের হৃদয়ের এক ইঞ্চি পরিমাণ স্থান আশা করি না । পক্ষান্তরে সমগ্র ইউরোপটাই আমার চাই যেখানে অধিষ্ঠিত হবে পুরুষোত্তমের সিংহাসন ।” এভাবে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত চেয়েছিলেন সমগ্র ইউরোপকেই পুরুষোত্তম ক্ষেত্রে পরিণত হবে ।

পরবর্তী বছর ১৯৩৪ সালের ১৯মে, আলালনাথ মন্দিরে ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলেছিলেন, “আমাদের অবশ্যই ভগবান জগন্নাথকে বিমান রথে করে পূর্বসীমা (ভারত) থেকে লন্ডনে নিয়ে যেতে হবে ।” এটি তৎক্ষণাৎ ঘটেনি, কিন্তু ১৯৬০ সালে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের এই অপ্রাকৃত বাসনা পূরণ করেন তারই সুযোগ শিষ্য এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী যিনি সারাবিশ্বে শ্রীল প্রভুপাদ নামে পরিচিত এবং যিনি লন্ডনে ভগবান জগন্নাথকে পরিচয় করিয়ে রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের অনেক অনেক শহরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ।

১৯৭০ সালে ফেব্রুয়ারিতে এক চিঠিতে শ্রীল প্রভুপাদের অন্তরঙ্গজন বিখ্যাত গীতা প্রেসের প্রতিষ্ঠাতা হনুমান প্রসাদ পোদ্দারকে লিখেছিলেন, “আমার প্রিয় হনুমান প্রসাদ পোদ্দার, ইস্কনের মন্দিরগুলোতে এখন পূজিত হচ্ছে জগন্নাথ , বলদেব, সুভদ্রা এবং রাধাকৃষ্ণ । যখন আমরা প্রথম মন্দির খুলি প্রথম বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করি জগন্নাথের । আমার গুরু মহারাজ এ দেশগুলোতে জগন্নাথের মন্দির খোলার জন্য বলেছিলেন । তাই আমি সর্বপ্রথমে জগন্নাথকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই অনুপ্রাণিত হই কেননা তিনি ম্লেচ্ছদের প্রতিও দয়ালু । তারপর যথাসময়ে আমি রাধাকৃষ্ণ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করি ।”

১৯৭৩ সালে শ্রীল প্রভুপাদ আরেক চিঠিতে লিখেছিলেন, “আমি চাই আমার শিষ্যরা সারাবিশ্বে দুটি জিনিস পরিচিতি করুক তা হল রাধাচৃষ্ণের মন্দির খোলা এবং রথযাত্রা উৎসব ।” অতএব এটি নিশ্চই এমন নয় যে, পশ্চিমা বিশ্বে ভগবান জগন্নাথের পূজা এবং রথযাত্রা আকস্মিকভাবে কোন কারণ ছাড়াই আগমন ঘটছে । পক্ষান্তরে এর পেছনে ভগবান এবং তার শুদ্ধভক্তদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল যার পরিপূর্ণতা করেছেন ইস্কন প্রতিষ্ঠাতা ও আচার্য শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ।

শ্রীল প্রভুপাদ প্রথম ইস্কন প্রতিষ্ঠা করেন আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে এবং পরে আমেরিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর সানফ্রান্সিসকোতে ইস্কন সেন্টারে ১৯৬৭ এর প্রথম দিকে ভগবান জগন্নাথের অলৌকিক আগমন ঘটে । তার এক শিষ্যা মালতির একটি ষ্টোরে জগন্নাথের সন্ধান পান এরপর শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশে তার স্বামীকে জগন্নাথের অবিকল একটি মূর্তি প্রকাশ করতে বলা হয় । এরপর জগন্নাথ সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইস্কন অনুসারীদের কাছে সানফ্রান্সিসকোতে পরিচিত হয়ে উঠে “নিউ জগন্নাথপুরী” হিসেবে ।

পরবর্তীতে তারই নির্দেশনায় ১৯৬৭ সালে পশ্চিমা বিশ্বে প্রথম রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় সানফ্রান্সিসকোতে । যেটি ছিল এক বিরাট সফলতা । লোকেরা খুবই উৎষাহ সহকারে এতে স্বতস্ফূর্তভাবে যোগদান করে এক অন্যরকম দিব্য আনন্দের স্বাদ লাভ করে ।

এরপর খুব শীঘ্রই লন্ডনে রথযাত্রা পরিচিতি লাভ করে । যখন শ্রীল প্রভুপাদ এবং তার শিষ্যরা কোন নতুন স্থানে কৃষ্ণভাবনা নিয়ে আসে প্রথমে তারা সেখানে ভগবান জগন্নাথের পূজা পরিচিতি করান । ১৯৭০ এ জাপানের টোকিওতে প্রথম রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় । ১৯৭৭ পর্যন্ত শ্রীল প্রভুপাদ ব্যক্তিগতভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে লসএঞ্জেলেস, লন্ডন, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জগন্নাথপুরী (সানফ্রান্সিসকো) অংশগ্রহণ করেন ।

১৯৭২ সালের গ্রীষ্মে ফিলাডেলফিয়াতে জগন্নাথের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয় রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় । সেটি ছিল আমেরিকার পূর্ব উপকূলে প্রথম কোন রথযাত্রা এবং ফিলাডেলফিয়ার ভক্তগনের কাছে পরিচিতি পায় ‘নিউ নীলাচলধাম’ নামে । ১৯৭২ সালে আমষ্টারডামে জগন্নাথের বিগ্রহ প্রতিষ্টা করেন তিনি যেটি বর্তমানে বেলজিয়ামের রাধাদেশে পূজিত হচ্ছে ।

লন্ডনের বিশাল রথযাত্রার সময় ৭৬ বছরের বৃদ্ধ বয়েসেও ট্রাঘালগার স্কায়ার পার্কে বাহু তুলে যুবকের মত নৃত্য করেছিলেন এবং সেখানে তিনি পবিত্র নামের উপর একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন । পরদিন ‘ডেএলী গার্ডেন’ এর সামনের পৃষ্ঠায় সেই রথযাত্রার ছবি ছাপানো হয় । সেখানে মন্তব্যে লেখা হয়, It rivaled the famous column of lord neison. পরবর্তীতে শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশনায় এ রথযাত্রা পরিচিতি লাভ করে কানাডা (টরেন্টো, মন্ট্রিল), ফ্রান্স (প্যারিস), অষ্ট্রেলিয়া (মেলবোর্ন, ব্রিসবেন) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় শহরে । ১৯৭৬ সালে বিশ্বের ১০টি প্রধান শহরে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এবং মিডিয়াসহ সরকার কর্তৃক মন্তব্য করেন যে, বিশ্বের অন্যান্য উৎসবের তুলনায় এ রথযাত্রা উৎসব সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এবং সুব্যবস্থাকৃত । শ্রীল প্রভুপাদ বলেন, “এই হল প্রকৃত জাতিসংঘ (United Nations) যে প্রত্যেকেই সম্মিলিতভাবে নৃত্য করছে এবং জগতের নাথ জগন্নাথকে মহিমান্বিত করছে ।” ঐ একই বছর ১৯৭৬ সালে নিউইয়র্কের রথযাত্রায় প্রভুপাদ অংশগ্রহন করেন । তখন মিডিয়ার রিপোর্টে উল্লেখ করা, ‘East meets west on the fifth Avenue ।’ সেই রথযাত্রার পর শ্রীল প্রভুপাদ তার শিষ্য জয়ানন্দ দাসকে লিখেছিলেন, ‘অনেকদিনের আখাঙ্কা ছিল নিউইয়র্কে রথযাত্রা হবে এবং তুমি আমার সেই আকাঙ্কিত স্বপ্ন পূরণ করেছ ।’ এজন্য শ্রীল জয়ানন্দের প্রতি বিশেষ কৃপা বর্ষন করেন ।

এভাবে গত ২০ বছর ধরে কেনিয়ার মহাসমারোহ রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে । নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে শ্রীল প্রভুপাদ প্রথম জগন্নাথ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন । ২০০৩ সালে মেক্সিকোতে প্রথমে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় । ব্রাজিলসহ সাউথ আমেরিকার অনেক দেশে এ রথযাত্রা উদযাপিত হয় । আর্জেন্টিনার বুয়েন্স এয়ারসের অন্যতম একটি জনপ্রিয় রেস্তোরার নাম দেয়া হয় ‘জগন্নাথ প্রসাদম’ । একইভাবে রাশিয়ার মস্কোর আরেকটি জনপ্রিয় রেস্তোরার নাম ‘জগন্নাথ এক্সপ্রেস’ ।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং বাংলাদেশের কিছু ইস্কন মন্দিরের নাম দেওয়া হয় ‘শ্রী জগন্নাথ মন্দির’ । মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশে ইস্কনের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে সেই ১৯৮০ সাল থেকে । সুইজারল্যান্ডের জুরিখে জগন্নাথের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঐ স্থান পরিচিত হয় ‘নিউ জগন্নাথ পুরী’ হিসেবে এবং নিয়মিতই সেখানে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় । স্পেনে তিনটি শহর মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও মালাগাতে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় । ইতালীর মিলানেও এবং অবশ্যই ভারতের বহু স্থানেও এটি অনুষ্ঠিত হয় ।

শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রকটের পর তার শিষ্য, প্রশিষ্যরা সারাবিশ্বে এ ধারা অব্যাহত রেখেছে । এখন উপরোক্ত বিশ্বের স্থানগুলোর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরো অনেক অনেক দেশ ও শহর । এ সীমিত পরিসরে বিশ্বে কোথায় কোথায় জগন্নাথের রথযাত্রা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা উল্লেখ করা সম্ভব নয় এবং সে সাথে সমস্ত রথযাত্রার সম্পূর্ণ বর্ণনা দেওয়াও দুঃসাধ্য । ভগবান জগন্নাথের মহিমা তার শুদ্ধভক্তরা সর্বদা প্রসারিত করে এবং এমনকি এ ক্ষুদ্র উপস্থাপনাও কেবলমাত্র তাদেরেই কৃপার প্রতিফলন ।

ইস্কনের শ্রী জগন্নাথ রিসার্চ সেন্টার কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনের বঙ্গানুবাদ


Written by:  Sankirtan Madhab Das
Share:

ধামরাইয়ের রথযাত্রা

প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়ায় অনুষ্ঠিত হয় রথ-উৎসব। রথের ওপর দেবতাদের মূর্তি স্থাপন করে রথ চালানো হয়। জগতের নাথ বা অধীশ্বর যিনি তিনি-ই জগন্নাথ । জগন্নাথকে দেখতে পেলে জীবের আর পুনর্জন্ম হয় না। তাই হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীরা তাঁর কৃপা প্রার্থনা করেই রথযাত্রার অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। রথযাত্রার প্রধান কেন্দ্র উড়িষ্যার সমুদ্রতীরবর্তী পুরীধামের রথযাত্রার অনুসরণেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে থাকে। সে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় রথযাত্রা হলেও ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার রথযাত্রা ও রথ-উৎসবের রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। ধামরাইয়ের মাধব মন্দিরে যশোমাধব নামে একটি বিষ্ণু মূর্তি রয়েছে।

যশোপাল ছিলেন পালবংশীয় শেষ রাজা। একবার জঙ্গলে মাধবের মূর্তি পান তিনি। বিষ্ণুভক্ত যশোপাল একপর্যায়ে বিগ্রহটি নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নাম অনুসারে বিগ্রহের নাম হয়ে যায় শ্রীশ্রী যশোমাধব। পুরুষানুক্রমে যশোমাধবের রথের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন বালিয়াটির জমিদাররা। সে সময় ধামরাইয়ে যে রথ বেরোত তা উচ্চতায় ছিল ৮০ ফুট। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যশোমাধবের বিগ্রহসহ মন্দিরটি পুড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। স্বাধীনতার পর ২৭ ফুট উঁচু একটি কাঠের রথ তৈরি করে দীর্ঘদিন রথ টানা হতো। ভারত সরকারের সহযোগিতায় আদি রথের অনুরূপ একটি রথ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। যশোমাধব মন্দির থেকে রথ টেনে প্রায় ২০০ গজ দূরের অপর একটি মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে।ই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।

এই ৯ দিনই থাকে ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতা। এ উপলক্ষে রথখোলা মাঠে মাসব্যাপী চলবে রথমেলা। প্রতিবছরের মতো এবারও রথমেলায় আয়োজন করা হবে পুতুল নাচ, সার্কাস, যাত্রা, মৃত্যুকূপে মোটরসাইকেল রেস ইত্যাদি। এ ছাড়া মাটি, কাঠ, বাঁশ-বেত, পিতলসহ নানা জিনিসের তৈরি হরেক রকম পণ্য পাওয়া যাবে এ মেলায়।

Written by: Rajat Das Gupta
Share:

২০ জুন ২০১৬

আজ জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা উৎসব

জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা এবং রথযাত্রা সূর্যের অয়নপথ পরিক্রমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সূর্যের দক্ষিণায়ন যাত্রার সঙ্গে বর্ষাগমনের সম্পর্ক স্বতঃসিদ্ধ। আর বর্ষারম্ভেরই উৎসব জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। সূর্য-সপ্তাশ্ব বাহিত রথে আকাশলোক পরিক্রমণ করেন। জগন্নাথদেবও রথে আরোহণ করে গুণ্ডিচা যাত্রা করেন। অয়নপথে সূর্যের দিকে যাত্রা ও উত্তরে প্রত্যাগমন জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ইতিবৃত্ত। বলরাম ও সুভদ্রা জগন্নাথদেবের সঙ্গী। স্কন্দ পুরাণমতে, জগন্নাথদেবের সঙ্গী বলরাম বিষ্ণুর অনন্ত শয্যার অংশীদার।শ্রী জগন্নাথদেবের প্রাকট্য সম্বন্ধে কিংবদন্তি ও শাস্ত্রীয় উক্তি, উভয় বিবরণ পাওয়া যায়।



উৎকল ভাষায় রচিত 'দেউল-তোলা' নামক উড়িষ্যায় বহুল প্রচারিত একটি কবিতা গ্রন্থ থেকে শ্রী জগন্নাথদেবের প্রাকট্যের ইতিহাস প্রচারিত হয়েছে। শ্রী ব্রহ্মার প্রথম পরার্ধে চতুর্বূ্যহ-ভগবান নীলমাধবমূর্তিরূপে শঙ্খক্ষেত্র-নীলচলে পতিত-নীচকে কৃপাবিতরণার্থ অবতীর্ণ হন। দ্বিতীয় পরার্ধে মনু-সন্ধি গত হলে সত্যযুগ আরম্ভ হয়। সেই সময় শ্রী ইন্দ্রদ্যুম্ন নামে সূর্যবংশীয় এক পরম বিষ্ণুভক্ত রাজ মালবদেশের অবন্তীনগরীতে রাজত্ব করতেন। তিনি শ্রী ভগবানের সাক্ষাৎকার লাভ করার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়েছিলেন। ভগবৎপ্রেরিত কোনো এক বৈষ্ণব তখন শ্রী ইন্দ্রদ্যুম্নের রাজসভায় উপস্থিত হয়ে কথা প্রসঙ্গে শ্রী নীলমাধবের কথা বলেন। রাজা এ সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন ব্রাহ্মণকে শ্রী নীলমাধবের অনুসন্ধানে পাঠান। সবাই বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে এলেও বিদ্যাপতি অনেক কষ্টে অনেক ঘটনার পর নীলমাধবের সন্ধান দেন; কিন্তু রাজা শেষ পর্যন্ত নীলমাধবের দেখা পান না।


রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন মহারাজ শ্রী নীলমাধবের দেখা না পেয়ে অনশন করে প্রাণত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তখন জগন্নাথদেব তাকে স্বপ্নে বললেন, তুমি চিন্তা করো না, সমুদ্রের বাঙ্কিমুহান নামক জায়গায় দারুব্রহ্মরূপে ভাসতে ভাসতে আমি উপস্থিত হবো। রাজা এ-স্বপ্ন দেখার পরে সৈন্যসামন্তসহ ওই জায়গায় উপস্থিত হয়ে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মাকৃত শ্রী দারুব্রহ্মকে দেখতে পান এবং মন্দির স্থাপন করেন।রাজা দারুব্রহ্মকে মূর্তিতে প্রকট করার জন্য বহু দক্ষ শিল্পীকে আহ্বান করলেন; কিন্তু তারা কেউ দারুব্রহ্ম স্পর্শ করতে পারলেন না। তাদের অস্ত্রশস্ত্র সবই ভেঙে গেল।


অবশেষে স্বয়ং ভগবান 'অনন্ত মহারাণা' নামে আত্মপরিচয় দিয়ে একজন বৃদ্ধশিল্পীর ছদ্মবেশে রাজার দরবারে হাজির হয়ে ২১ দিনের মধ্যে দরজা বন্ধ করে বিগ্রহকে প্রকটিত করবেন, এমনটি কথা দিলেন। ওই বৃদ্ধের উপদেশানুসারে রাজা অন্য কারিগরদের তিনটি রথ তৈরি করতে বললেন। বৃদ্ধ কারিগর দারুব্রহ্মকে ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে কাজ শুরু করলেন; কিন্তু দু'সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পর কারিগরের অস্ত্রশস্ত্রের কোনো শব্দ না পেয়ে রাজা অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়লেন। শেষে মন্ত্রীর নিষেধ সত্ত্বেও রাজ্ঞীর পরামর্শানুসারে জোর করে মন্দিরের দরজা খুলে ফেললেন। সেখানে তিনি বৃদ্ধ কারিগরকে দেখতে পেলেন না। কেবল দেখলেন, দারুব্রহ্ম তিনটি শ্রীমূর্তিরূপে প্রকটিত রয়েছে। আর সামনে এগিয়ে দেখলেন, মূর্তির হাতের আঙুল ও পায়ের আঙুল প্রকাশিত হয়নি। বিচক্ষণ মন্ত্রী জানালেন, ওই কারিগর আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং জগন্নাথ।


রাজা অপরাধ করেছেন_ এই মনে করে কুশশয্যায় প্রাণত্যাগ করবেন বলে ঠিক করলেন। রাতে জগন্নাথদেব তাকে স্বপ্নে বললেন, আমি এইরূপ দারুব্রহ্ম আকারেই শ্রীপুরুষোত্তম নামে শ্রী নীলাচলে নিত্য অধিষ্ঠিত আছি।ধর্মাতিহাস থেকে জানা যায়, কাঠ দিয়ে তৈরি বিষ্ণুদেবের মূর্তির মতো জগন্নাথদেবের মূর্তিকেও পূজা করা হতো আদিকাল থেকে। জগন্নাথদেবের রথযাত্রা কত পুরনো তা না জানা গেলেও পুরীর জগন্নাথদেবের মূর্তিকেই জগন্নাথদেবের পূজার আদি বলে মনে করা হয়।


নীলাচলে বিষ্ণুর জীবন্ত মূর্তি, নীলমাধবের অন্তর্ধান ও পুরীর রাজা ইন্দ্রদ্যুস্ন কর্তৃক বিশ্বকর্মাকে দিয়ে জগন্নাথদেবের মূর্তি প্রতিষ্ঠার বিস্তারিত বিবরণ স্কন্দ পুরাণের উৎকলখণ্ডে বর্ণিত আছে। জগন্নাথদেবের ত্রিমূর্তি বলরাম সুভদ্রা ও কৃষ্ণ বা জগন্নাথ। স্কন্দ পুরাণে জগন্নাথদেব নীল মেঘের মতো বর্ণ, কাঠ দিয়ে তৈরি, শঙ্খচক্রধারী বলভদ্র ও সুভদ্রা একসঙ্গে অবস্থিত।উৎকলখণ্ডের বর্ণনা অনুযায়ী, জগন্নাথদেব শঙ্খচক্রধারী, সুতরাং দ্বিভুজ; কিন্তু প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে বিশ্বকর্মা জগন্নাথদেবের মূর্তি তৈরি করার সময় কারও প্রবেশ ছিল নিষেধ, এমনকি আদেশদাতা রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নেরও না।


বিশ্বকর্মা মূর্তি তৈরি করছেন তো করছেনই। এক দিন দুই দিন করে বেশ ক'দিন কেটে যাওয়ার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন অধৈর্য হয়ে বন্ধ দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। রাজা সেখানে দেখতে পান মূর্তির অঙ্গ অসম্পন্ন রয়েছে এবং সেখানে বিশ্বকর্মা নেই। সেই থেকেই জগন্নাথদেবের মূর্তি অসম্পন্ন।সারদা তিলকতন্ত্রে পুরুষোত্তমের ধ্যানে বিষ্ণুকে জগন্নাথদেব এবং পুরুষোত্তম বলা হয়েছে। তাই জগন্নাথদেবকে পুরুষোত্তমও বলা হয়ে থাকে।হিন্দু সমাজের প্রতিটি পূজা-অর্চনার পেছনে পুণ্যলাভের একটা ব্যাপার থাকে। জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রাও তার ব্যতিক্রম নয়। খুব সকালে উঠে জগন্নাথদেবের সঙ্গে স্নানযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার পুণ্যার্থী মনে করে থাকেন, তাদের পূর্বের যত পাপ-পঙ্কিলতা থাকে স্নানযাত্রায় অংশগ্রহণ করলেই তা বিনাশ হয়ে যায় এবং অশেষ পুণ্য অর্জিত হয়। যুগ যুগ ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ বিশ্বাস অবিচল ছিল, আছে, থাকবে।


লিখেছেনঃ তারাপদ আচার্য্য
Share:

২৭ নভেম্বর ২০১৫

সাক্ষীগোপাল কৃষ্ণের মূর্তি ও মন্দির

সাক্ষী (-ক্ষিন্) বিণ. 
> কোনো বিষয় বা ঘটনা প্রত্যক্ষকারী, প্রত্যক্ষদর্শী; 
> ঘটনা জানে এমন। [সং. 'সাক্ষাত্ দ্রষ্টা' এই অর্থে নি.]।
সাক্ষীগোপাল - বি. 
<> পুরীর নিকটবর্তী স্হানবিশেষ বা ওই স্হানে প্রতিষ্ঠিত শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহবিশেষ; 
> যে ব্যক্তি স্বয়ং নিষ্ক্রিয় থেকে অন্যের কার্যকলাপ লক্ষ করে; 
> ঘটনা দেখে অথচ পুতুলের মতো নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি।
.
পুরীর সন্নিকটে সমুদ্রতীরে সাক্ষীগোপাল কৃষ্ণের মূর্তি ও মন্দির। কীসের সাক্ষ্য দেবার সাক্ষ্যবহন করছে এই মূর্তি? তার পিছনে রয়েছে এক লোককথা। পুরীতে তীর্থ করতে এসে এক প্রৌঢ় বিপ্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর সঙ্গী এক তরুণ বিপ্র শুশ্রূষায় তাঁকে বাঁচিয়ে তুললেন। কৃতজ্ঞ প্রৌঢ় তাঁর কন্যার সঙ্গে তরুণ বিপ্রের বিবাহ দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করলেন। গ্রামে ফিরে কিন্তু ভুলে গেলেন প্রতিজ্ঞার কথা। শ্রীক্ষেত্রে উচ্চারিত প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হলে প্রৌঢ় অভিশাপগ্রস্ত হবেন, তাই তরুণ বিপ্র তাঁকে প্রতিজ্ঞার কথা মনে করিয়ে দিতে প্রৌঢ় বললেন তাঁর এই প্রতিজ্ঞা দেবার সাক্ষী আনতে পারলেই তিনি বিবাহ দেবেন। তরুণ বিপ্র জগন্নাথকে অনুনয় করল সাক্ষী হিসাবে তার সঙ্গে গ্রামে যেতে। জগন্নাথদেব রাজি হলেন এক শর্তে: তিনি তরুণ বিপ্রের পিছু পিছু যাবেন, কিন্তু সে পিছন ফিরে দেখলেই তিনি থেমে যাবেন। তরুণ প্রশ্ন করল কী করে সে বুঝবে যে জগন্নাথ তাঁকে অনুসরণ করছেন। জগন্নাথ জানালেন তাঁর চরণের নূপুরধ্বনিতেই সেটা বোঝা যাবে। যাত্রা শুরু হল। পথ চলতে চলতে নটখট নটবর কৃষ্ণের মাথায় দুষ্টুমি চাপল। কয়েক লহমার জন্যে নূপুর চেপে ধরলেন। নূপুরের আওয়াজ না শুনে আতঙ্কিত তরুণ বিপ্র পিছনে ফিরে তাকালেন। কৃষ্ণ সেখানেই দাঁড়িয়ে গেলেন। কোন অঘটন সামনে ঘটতে দেখেও যে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকে তার জন্যেই এই সাক্ষীগোপাল বিশেষণ।
-
এই মন্দিরে কখনও গেলে পাণ্ডাদের থেকে সাবধান। অযাচিত টাকা-পয়সা দেবার জন্য চাপাচাপি করে।


 লিখেছেনঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

২৬ নভেম্বর ২০১৫

নীলমাধব ও জগন্নাথ দেব ( পুরীর নীলমাধব মন্দিরের অসংখ্য ছবিসহ )

মালবরাজ ইন্দ্রদুম্ন্য ছিলেন পরম বিষ্ণু ভক্ত। একদিন এক তেজস্বী সন্ন্যাসী তাঁর রাজবাড়ীতে পদার্পণ করলেন। দেব দ্বিজে ভক্তিপরায়ন রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য পরম যত্নে সন্ন্যাসীর সেবা যত্ন করলেন। সন্ন্যাসী ভারতবর্ষের সমস্ত তীর্থের কথা বলে পুরুষোত্তম ক্ষেত্রের নীল পর্বতে ভগবান বিষ্ণুর পূজার কথা জানালেন। এখানে ভগবান বিষ্ণু গুপ্তভাবে শবর দের দ্বারা নীলমাধব রূপে পূজিত হচ্ছেন, নীলমাধব সাক্ষাৎ মুক্তিপ্রদায়ক, তিনি মোক্ষ প্রদান করেন।

সন্ন্যাসীর কথা শুনে ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য ভগবানের রূপ দর্শনে আকুল হলেন। রাজা তাঁর পুরোহিতের ভাই বিদ্যাপতিকে শবর দের রাজ্যে গিয়ে নীলমাধবের সন্ধান করে আনতে বললেন। এরপর শবর দের দেশে এসে বিদ্যাপতি শবর দের রাজা বিশ্বাবসুর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। শবর রাজা বিদ্যাপতিকে স্বাদর অভ্যর্থনা করে অতিথি চর্চার জন্য কন্যা ললিতাকে দায়িত্ব দেন। কিছুদিন থাকার পর বিদ্যাপতি শবর রাজা বিশ্বাবসুর কন্যা ললিতার প্রেমে পড়েন। উভয়ে উভয়কে ভালোবেসে ফেলেন। যার পরিণাম-স্বরূপ ললিতা অন্তঃসত্ত্বা হন। ললিতা এ কথা বিদ্যাপতিকে জানান এবং তাঁকে বিবাহ করতে বলেন। বিদ্যাপতি ললিতাকে এর বিনিময়ে নীলমাধব দর্শনের অভিপ্রায় জানান। ললিতা সে কথা শুনে বিচলিত হয় কিন্তু সে বলে এক সর্তে সে নীলমাধবকে দেখাতে পারে - বিদ্যাপতি যে পথে যাবেন সেই সময় তাঁর দুই চোখ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে অর্থাৎ কাপড়ের পট্টি বাঁধা হবে যাতে তিনি রাস্তা না দেখতে পারেন কিম্বা চিনতে পারেন। বিদ্যাপতি রাজি হয়ে যান। কিন্তু বিদ্যাপতি একটি বুদ্ধি করেন, উনি সঙ্গে করে সরষে নিয়ে যান। হাতে এক মুঠো এক মুঠো করে সরষে নিয়ে সারা রাস্তা ফেলতে ফেলতে যান। এ' সব কাজ ললিতার অগোচরেই সম্পন্ন হয়। বিদ্যাপতির উদ্দেশ্য ছিল নীলমাধবকে পুরীতে নিয়ে যাওয়া। সেই পথ চেনার জন্য উনি সরসের গাছ দেখতে দেখতে নীলমাধবের মন্দিরে পৌঁছন কিন্তু প্রভু নীলমাধব অন্তর্যামী বিদ্যাপতির হাতের নাগাল থেকে অন্তর্ধান হ'ন।
.
বিশ্ববসু কন্যা ললিতার মারফৎ বিদ্যাপতি নীলমাধব কে দর্শন লাভ করলেন বিশ্ববসুর অগোচরে। তারপর বিদ্যাপতি গিয়ে রাজাকে সব জানালেন। রাজা খবর পেয়ে সৈন্য সামন্ত নিয়ে নীলমাধবের দর্শনে আসলেন।
ইন্দ্রদুম্ন্য পুরুষোত্তম ক্ষেত্রে এসে নীলমাধব দর্শন করতে গেলে শুনলেন নীলমাধব অন্তর্ধান হয়েছেন। মতান্তরে শবর রাজ বিশ্বাবসু সেটিকে লুকিয়ে রাখেন। রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য এতে খুব দুঃখ পেয়ে ভাবলেন প্রভুর যখন দর্শন পেলাম না তখন এই জীবন রেখে কি লাভ? অনশনে প্রান ত্যাগ করাই শ্রেয় । এই ভেবে রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য কুশ শয্যায় শয়ন করলেন। সে' সময় দেবর্ষি নারদ মুনি জানালেন --- “হে রাজন তোমার প্রাণত্যাগের প্রয়োজন নাই। এই স্থানে তোমার মাধ্যমে ভগবান জগন্নাথ দেব দারুব্রহ্ম রূপে পূজা পাবেন। স্বয়ং পিতা ব্রহ্মা একথা জানিয়েছেন।”
রাজা শুনে শান্তি পেলেন। এক রাতের কথা রাজা শয়নে ভগবান বিষ্ণুর স্বপ্ন পেলেন।
স্বপ্নে ভগবান শ্রীহরি বললেন --- “হে রাজন । তুমি আমার প্রিয় ভক্ত। ভক্তদের থেকে আমি কদাপি দূর হই না। আমি সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে তোমার নিকট আসছি। পুরীর বাঙ্কিমুহান নামক স্থানে তুমি আমাকে দারুব্রহ্ম রূপে পাবে।”
রাজা সেই স্থানে গিয়ে দারুব্রহ্মের সন্ধান পেলেন। কিন্তু তাকে একচুল ও নড়াতে পারলেন না । রাজা আদেশ দিলেন হাতী দিয়ে টানতে। সহস্র হাতী টেনেও সেই দারুব্রহ্ম কে এক চুলও নড়াতে পারলো না। রাজা আবার হতাশ হলেন।
সেই সময় ভগবান বিষ্ণু স্বপ্নে জানালেন --- “হে রাজন। তুমি হতাশ হইও না। শবর রাজ বিশ্বাবসু আমার পরম ভক্ত। তুমি তাকে সসম্মানে এইস্থানে নিয়ে আসো। আর একটি স্বর্ণ রথ আনয়ন করো।”
রাজা সেই মতো কাজ করলেন। ভক্ত বিশ্বাবসু আসলেন। বিশ্বাবসু, বিদ্যাপতি আর রাজা তিনজনে মিলে দারুব্রহ্ম তুললেন। সেসময় চতুর্দিকে ভক্তেরা কীর্তন করতে লাগলো। তারপর দারুব্রহ্ম কে রথে বসিয়ে তিনজন নিয়ে এলেন।
প্রকাশ থাকে পুরীর দৈতাপতিরা ওই ব্রাহ্মণ বিদ্যাপতি এবং শবর কন্যা ললিতার বংশধর। তাই ওরা কেবল রথের সময় ভগবান জগন্নাথের সেবা করার অধিকার পান। রথে উপবিষ্ট প্রভু জগন্নাথ বলভদ্র মা সুভদ্রা এবং সুদর্শনের। এই বছরও নব-কলেবর যাত্রায় দৈতাপতিরা দারু অন্বেষণ এবং ব্রহ্ম পরিবর্তনের কাজ সমাপন করেছেন। এ ছাড়া ওনারা পুর্ব বিগ্রহদের পাতালিকরন কাজ সমাপন করেন 'কোইলি বৈকুন্ঠে' ।
রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য সমুদ্রে প্রাপ্ত দারুব্রহ্ম প্রাপ্তির পর গুণ্ডিচা মন্দিরে মহাবেদী নির্মাণ করে যজ্ঞ করলেন। যজ্ঞ সমাপ্তে দেবর্ষি নারদ মুনির পরামর্শে রাজা সেই দারুব্রহ্ম বৃক্ষ কাটিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ তৈরীতে মনোনিবেশ করলেন। এর জন্য অনেক ছুতোর কারিগর কে ডেকে পাঠানো হোলো। কিন্তু বৃক্ষের গায়ে হাতুড়ী, ছেনি ইত্যাদি ঠেকানো মাত্রই যন্ত্র গুলি চূর্ণ হতে লাগলো। রাজা তো মহা সমস্যায় পড়লেন। সেসময় ছদ্দবেশে বিশ্বকর্মা মতান্তরে ভগবান বিষ্ণু এক ছুতোরের বেশে এসে মূর্তি তৈরীতে সম্মত হলেন।
তিনি এসে বললেন- “হে রাজন। আমার নাম অনন্ত মহারাণা। আমি মূর্তি গড়তে পারবো। আমাকে একটি বড় ঘর ও ২১ দিন সময় দিন। আমি তৈরী করবো একটি শর্তে। আমি ২১ দিন দরজা বন্ধ করে কাজ করবো। সেসময় এই ঘরে যেন কেউ না আসে। কেউ যেন দরজা না খোলে।”
অপর দিকে মোটা পারিশ্রামিকের লোভে যে ছুতোররা এসেছিলো তাদের নিরাশ করলেন না অনন্ত মহারাণা।
তিনি বললেন- “হে রাজন । আপনি ইতিপূর্বে যে সকল কারিগর কে এনেছেন, তাদের বলুন তিনটি রথ তৈরী করতে।”
ছদ্দবেশী বিশ্বকর্মা ঘরে ঢুকলে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে সেখানে কড়া প্রহরা বসানো হোলো যাতে কাক-পক্ষীও ভেতরে না যেতে পারে। ভেতরে কাজ চলতে লাগলো। কিন্তু রানী গুণ্ডিচার মন মানে না। স্বভাবে নারীজাতির মন চঞ্চলা হয়। রানী গুন্ডিচা ভাবলেন -- “আহা কেমনই বা কারিগর বদ্ধ ঘরে মূর্তি গড়ছেন। কেমন বা নির্মিত হচ্ছে শ্রীবিষ্ণুর বিগ্রহ। একবার দেখেই আসি না। একবার দেখলে বোধ হয় কারিগর অসন্তুষ্ট হবেন না।”
এই ভেবে মহারানী ১৪ দিনের মাথায় মতান্তরে ৯ দিনের মাথায় দরজা খুলে দিলেন। কারিগর ক্রুদ্ধ হয়ে অদৃশ্য হোলো। অসম্পূর্ণ জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা দেবীর মূর্তি দেখে রানী ভিরমি খেলেন। একি মূর্তি! নীল নবঘন শ্যামল শ্রীবিষ্ণুর এমন গোলাকৃতি নয়ন, হস্ত পদ হীন, কালো মেঘের মতো গাত্র বর্ণ দেখে মহারানীর মাথা ঘুরতে লাগলো।
রাজার কানে খবর গেলো। রাজা এসে রানীকে খুব তিরস্কার করলেন। বদ্ধ ঘরের মধ্য থেকে এক কারিগরের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় বিচক্ষণ মন্ত্রী জানালেন তিনি সাধারন মানব না কোনো দেবতা হবেন। বিষ্ণু ভক্ত রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য তাঁর আরাধ্য হরির এই রূপ দেখে দুঃখিত হলেন। রাজাকে সেই রাত্রে ভগবান বিষ্ণু আবার স্বপ্ন দিলেন।
বললেন --- “আমার ইচ্ছায় দেবশিল্পী মূর্তি নির্মাণ করতে এসেছিলেন। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ হওয়াতে এই রূপ মূর্তি গঠিত হয়েছে। হে রাজন, তুমি আমার পরম ভক্ত, আমি এই অসম্পূর্ণ মূর্তিতেই তোমার পূজা নেবো। আমি দারুব্রহ্ম রূপে পুরুষোত্তম ক্ষেত্রে নিত্য অবস্থান করবো। আমি প্রাকৃত হস্তপদ রহিত, কিন্তু অপ্রাকৃত হস্তপদাদির দ্বারা ভক্তের সেবাপূজা শ্রদ্ধা গ্রহণ করবো। আমি ত্রিভুবনে সর্বত্র বিচরণ করি। লীলা মাধুর্য প্রকাশের জন্য আমি এখানে এইরূপে অধিষ্ঠান করবো। শোনো নরেশ -- ভক্তেরা আমার এই রূপেই মুরলীধর শ্রীকৃষ্ণ রূপের দর্শন পাবেন। যদি তুমি ইচ্ছা করো তবে ঐশ্বর্য দ্বারা সোনা রূপার হস্ত পদাদি নির্মিত করে আমার সেবা করতে পারো। ” সেইথেকে উল্টো রথের পর একাদশীর দিন তিন ঠাকুরের সুবর্ণ-বেশ রথের ওপর হয়। সেই বেশ দেখলে সাত জন্মের পাপ ক্ষয় হয় যা দেখতে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরী আসেন প্রত্যেক বৎসর।
.
আমরা দেখলাম যে ভগবান বিষ্ণু তাঁর পরম ভক্ত রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য কে স্বপ্নে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এই বলে যে তিনি সেই হস্তপদ রহিত বিকট মূর্তিতেই পূজা নেবেন। সেই স্বপ্ন পর্ব তখনো চলছে। ভক্ত ও ভগবানের মধ্যে যে ভক্তির সম্বন্ধ তা একে একে উঠে আসছে। নিদ্রিত অবস্থায় স্বপ্নে রাজা তখনও সেই ছদ্দবেশী অনন্ত মহারানার জন্য প্রার্থনা জানিয়ে বলছেন --- “হে প্রভু জনার্দন, যে বৃদ্ধ কারিগরকে দিয়ে তুমি তোমার এই মূর্তি নির্মিত করিয়াছ – আমার অভিলাষ এই যে সেই কারিগরের বংশধরেরাই যেনো তোমার সেবায় রথ যুগ যুগ ধরে প্রস্তুত করিতে পারে।” ভগবান নারায়ন তাঁর ভক্তদের খুবুই স্নেহ করেন। তাই ভগবান একে একে রাজার ইচ্ছা পূর্ণ করতে লাগলেন। এরপর ভগবান বিষ্ণু বললেন --- “হে রাজন। আমার আর এক পরম ভক্ত শবর রাজ বিশ্বাবসু আমাকে নীলমাধব রূপে পূজা করতো- তাঁরই বংশধরেরা আমার সেবক রূপে যুগ যুগ ধরে সেবা করবে । বিদ্যাপতির প্রথম স্ত্রীর সন্তান গন আমার পূজারী হবে। আর বিদ্যাপতির দ্বিতীয়া স্ত্রী তথা বিশ্বাবসুর পুত্রী ললিতার সন্তান এর বংশধরেরা আমার ভোগ রান্নার দায়িত্ব নেবে। আমি তাদের হাতেই সেবা নেবো।”
বিদ্যাপতি প্রথম রাজার আদেশে নীলমাধব সন্ধান করতে গেছিলেন শবর দের দেশে, শবর বা সাঁওতাল যাদের আমরা ছোটো জাত বলে দূর দূর করি --- শ্রীভগবান বিষ্ণু প্রথম তাঁদের দ্বারাই পূজা নিলেন। অপরদিকে তিনি তাঁদের হাতে সেবার আদেশ দিলেন। ব্রাহ্মণ ও শূদ্র জাতির একত্র মেলবন্ধন ঘটালেন স্বয়ং ভগবান। সেজন্যই বলে পুরীতে জাতি বিচার নেই। জগতের নাথ জগন্নাথ সবার। বিদ্যাপতি শবর দেশে নীলমাধবের সন্ধান করতে গিয়ে বিশ্বাবসুর দুহিতা ললিতার সাথে ভালোবাসা ও বিবাহ করেছিলেন। আর বিদ্যাপতিকে শবর দেশে পৌছানোর জন্য এক রাখাল বালক বারবার পথ প্রদর্শন করেছিলেন। সেই রাখাল বালক আর কেউ নয় স্বয়ং বৃন্দাবনের 'রাখালরাজা নন্দদুলাল'। ইন্দ্রদুম্ন্য স্বপ্নে ভগবান বিষ্ণুর কাছে প্রতিশ্রুতি দিলেন --- “হে মধূসুদন, প্রতিদিন মাত্র এক প্রহর অর্থাৎ তিন ঘণ্টার জন্য মন্দিরের দ্বার বন্ধ থাকবে, বাকী সময় মন্দিরের দ্বার অবারিত থাকবে, যাতে তোমার সন্তান ভক্তেরা তোমার দর্শন লাভ করে। সারাদিন আপনার ভোজোন চলবে। আপনার হাত কদাপি শুস্ক থাকবে না।”
ভগবান বিষ্ণু রাজাকে তাই বর দিলেন। এবার ভগবান ভক্তের পরীক্ষা নিলেন --- তিনি বললেন --- “এবার নিজের জন্য কিছু প্রার্থনা করো, তুমি আমার ভক্ত।”
প্রকৃত ভক্তেরা নিস্কাম, তাই কোনো প্রকার সুখ ঐশ্বর্য তারা চান না।
রাজা একটি ভয়ানক বর চেয়ে বললেন -- “প্রভু আমাকে এই বর দিন আমি যেন নির্বংশ হই, যাতে আমার বংশধরের কেউ যেন আপনার দেবালয়কে নিজ সম্পত্তি দাবী না করতে পারে।”
ভগবান হরি তাই বর দিলেন। জগন্নাথ মন্দিরে প্রান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা।
.
পদ্মপুরাণে লিখিত আছে ভগবান রামচন্দ্রের কনিষ্ঠ ভ্রাতা শত্রুঘ্ন এই স্থানে এসেছিলেন। ব্রহ্ম পুরাণ ও বৃহৎ নারদীয় পুরানে এই স্থানের নাম পাওয়া যায় । জগন্নাথ মন্দিরের মূর্তি প্রতিষ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয় ব্রহ্মা ব্রহ্মলোক থেকে মর্তে এসেছিলেন। তিনিই হয়েছিলেন পুরোহিত। জগন্নাথ দেব রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য কে স্বপ্নে নিত্য পূজোর নিয়মকানুন বলেছিলেন ইন্দ্রদুম্ন্য সেই মতো সব ব্যবস্থা করেন।
স্কন্দপুরান মতে শবর জাতির লোকেরা পূর্বে নীলমাধব রূপে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করতো। ব্রহ্ম পুরাণ ও বৃহৎ নারদীয় পুরান মতে শবর-গণ নীলমাধব রূপী নারায়নের পূজা করতেন ঠিকই কিন্তু তাঁর পূর্বে স্বর্গের দেবতাগণ গুপ্ত রূপে নীলমাধবের পূজা করতেন। পরে শবর গণ সেই খোঁজ পান।
জগন্নাথ দেবের সৃষ্টি সম্বন্ধে ওড়িয়া মহাভারতে এক অদ্ভুত আখ্যান আছে। লীলা সংবরণের আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৈকুণ্ঠে গমনের চিন্তা করতে লাগলেন। যদু বংশ গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হয়েছে। বলরাম ভ্রাতা যোগবলে দেহ রেখেছেন। তিনি এই ভেবে বনে গিয়ে একটি বৃক্ষে আরোহণ করে মহাভারতের কথা চিন্তা করতে লাগলেন। সেসময় তাঁর চরণ কে পক্ষী ভেবে জরা নামক এক ব্যাধ শর বিদ্ধ করলেন। বলা হয় এই ব্যাধ পূর্ব জন্মে বালী পুত্র অঙ্গদ ছিলেন। ভগবান রাম বালীকে বধ করে অঙ্গদ কে বর দিয়েছিলেন, পর জন্মে শ্রীকৃষ্ণ রূপে তিনি অঙ্গদের শরে দেহ রাখবেন। পরে শ্রীকৃষ্ণ দেহ রাখলে তাঁর দেহকে দ্বারকায় সমুদ্র তটে চন্দন কাষ্ঠে, খাঁটি গো ঘৃতে দাহ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ৬ দিন হলেও ভগবানের শরীর একটুকুও পুড়লো না।
তখন দৈববাণী হোল --- “ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই নশ্বর দেহ আগুনে দাহ করা যাবে না। এই পবিত্র দেহ সমুদ্রে বিসর্জন দাও।” ঠিক সেই মতো সমুদ্রে বিসর্জিত করা হলে সেই দেহ কাষ্ঠে রূপান্তরিত হয়ে ভাসতে ভাসতে এলো। সেই কাষ্ঠ রোহিনীকুণ্ডে পাওয়া যায়। সেই কাষ্ঠ দিয়েই জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ তৈরী হোলো।
ওড়িশা ভারতের এক প্রাচীন রাজ্য। এখানকার সংস্কৃতি ও সভ্যতা অনেক পুরানো। জগন্নাথ যেমন বৈষ্ণবদের নিকট বিষ্ণু তেমনি শাক্ত ও শৈবদের নিকট ভৈরব শিব। যে যেমন ভাবে দেখতে চায় --- জগন্নাথ তাঁর কাছে সেরূপেই প্রকাশিত হন। হরিহর অভেদ তত্ত্ব এই শ্রীক্ষেত্রে দেখা যায় । ওড়িশার নানা অঞ্চল জুড়ে বহু প্রাচীন মন্দির আছে। এগুলোর সবকটি সম্বন্ধে লেখা অসম্ভব। কি শিব মন্দির, কি শক্তিপীঠ, কি গোপাল মন্দির এমনকি বৌদ্ধ ও জৈ ধর্মের নিদর্শন ওড়িশা রাজ্য জুড়ে দেখা যায়।
জয় জগন্নাথ স্বামী নয়ন পথ গামী ............
জগন্নাথ ক্ষেত্র বা ওড়িশা বা ঔড্র দেশ বা নীলাচল ধাম অপূর্ব সুন্দর ক্ষেত্র .....
জয় জগন্নাথ .....
[সাথের ছবিটি -- নীলমাধব মন্দিরের]

লিখেছেনঃ Prithwish Ghosh
 মন্দিরের কিছু ছবি দেওয়া হলোঃ
নীলমাধব মন্দিরের ভিতরে গম্বুজের কারুকার্য্য

নীলমাধব মন্দিরের আঙিনায়  হনুমান মন্দিরে  বজরঙবলী


মহাপ্রভুর সাধন কুটির গম্ভীরায় সংরক্ষিত তাঁর ব্যবহৃত সামগ্রী


পুরীর সি-বিচ্-এ উড়িয়া মহিলারা খুব সকালেই বেলাভুমিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় রত কার্তিক-পূর্ণিমায় ছোট্ট ছেলেটা ভোরবেলা সমুদ্রে নৌকা ভাসাতে ব্যস্ত

নীলমাধব মন্দিরের প্রবেশ দ্বার
সাক্ষীগোপাল
সাক্ষীগোপাল মন্দির
হরিদাস প্রভুর সমাধি ক্ষেত্র


হরিদাস প্রভুর সাধনস্থল সিদ্ধবকুলতলা
নীলমাধব মন্দিরে বিগ্রহের ছবি তোলা নিষেধ তাই ছবি থেকে তোলা ফটোগ্রাফ্

নীলমাধব মন্দিরের চূড়া


নীলমাধব মন্দিরের আঙিনায় কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ

Share:

১৮ জুলাই ২০১৫

শ্রীজগন্নাথ পুরী (পর্ব ০২)

জগন্নাথ পুরীর আরেক নাম হল ‘শ্রীক্ষেত্র’ । শ্রী শব্দের অর্থ শ্রীদেবী বা লক্ষ্মীদেবী, যিনি ভগবান শ্রীবিষ্ণুর স্বরূপশক্তি । যে ভূমিখন্ড শ্রীশক্তির প্রভাবান্বিত, সেই ক্ষেত্র শ্রীক্ষেত্র নামে প্রসিদ্ধ ।
শ্রীদেবী শ্রীমতি রাধারাণীর অংশপ্রকাশ । যেসব ভক্তগণ মাধুর্যরসাশ্রিত, মাধুর্য রসে যারা ভগবানের আরাধনা করেন, তাদের মতানুসারে এ ক্ষেত্র সর্বোচ্চ স্তরে সেবাভাব প্রকটিত করেছেঃ মাধুর্য এবং ঔদার্য ।
শ্রীক্ষেত্র বা উৎকল ৪ ভাগে বিভক্ত, যা ভগবান বিষ্ণুর শ্রীহস্তধৃত ৪ টি অস্ত্রের দ্যোতক । এ ৪ ক্ষেত্র শঙ্খক্ষেত্র (পুরী শহর), পদ্মক্ষেত্র (কোণার্ক), চক্রক্ষেত্র (ভুবনেশ্বর) এবং গদাক্ষেত্র (যাজপুর) নামে খ্যাত । সমগ্র ক্ষেত্রমন্ডল দশ যোজন পরিধি বিশিষ্ট ।
ঐ দশ যোজন পরিধির মধ্যে অবস্থিত পুরী শঙ্খক্ষেত্র নামে বিদিত, কারণ পুরীর পরিধি শঙ্খের ন্যায় আকার-বিশিষ্ট । পুরীক্ষেত্র পাচ ক্রোশ পরিমাণ আয়তন বিশিষ্ট, এবং মধ্যে তিন ক্রোশ মহাসাগরের নীচে নিমজ্জিত, দুই ক্রোশ স্থলভূমি । পুরীর ভূভাগ স্বর্ণাভ বালুকারাশি দ্বারা আবৃত এবং এক নীলাভ পর্বত বা নীলাচল দ্বারা শোভিত । শ্রীক্ষেত্রের অন্তর্গত চারটি ক্ষেত্রের মধ্যে এ শঙ্খক্ষেত্র অত্যন্ত বিশিষ্ট, কেননা এখানে পরমপুরুষ ভগবান স্বয়ং মহাদধি বা মহাসাগরের তীরে নীল পর্বত, নীলাদ্রির উপরে তার অর্চা-বিগ্রহ স্বরূপে বিরাজ করছেন । ভগবান বলেছেন যে, এ স্থান অতি সংগুপ্ত, এমনকি ব্রহ্মার কাছেও ।
স্কন্দপুরানে লক্ষ্মীদেবী বলেছেন
পঞ্চক্রোশং ইদং ক্ষেত্রং সমুদ্রান্ত ব্যবস্থিতম্ ।
দ্বি ক্রোশং তীর্থ রাজস্য তটভূমৌ সুনির্মলম্ ।।
সুবর্ণবালুকাকীর্ণং নীল পর্বত শোভিতম্ ।
যোহসৌ বিশ্বেশ্বরো দেবঃ সাক্ষান্নারায়ণাত্মকম্ ।।
“এ ক্ষেত্র পঞ্চক্রোশ পরিমিত আয়তন বিশিষ্ট এবং সমুদ্রতীরে অবস্থিত । এই পঞ্চক্রোশের মধ্যে দ্বিক্রোশ পরিমিত স্থলভাগ সমুদ্রতট ভাগে অবস্থিত এবং সুনির্মল, অতি পবিত্র । এ স্থান স্বর্ণবর্ণ বালুকারাশি সমাবৃত এবং নীলপর্বত দ্বারা সুশোভিত । সাক্ষাৎ নারায়ণ এখানে বিশ্বেশ্বর রূপে বিরাজিত রয়েছেন ।”
এই শ্রী মন্দির বা জগন্নাথ মন্দির পাহারা দেওয়ার কাজ শিব ও হনুমানকে দিয়েছিল গত পোষ্টে আমরা কানপাতা হনুমানের কাহিনী বর্ণনা করেছিলাম আজকে আমরা আলোচনা করব বর্গী হনুমানের…
বর্গী হনুমান
জগন্নাথ মন্দিরের পশ্চিম দিকে লোকনাথ রোডে বর্গী হনুমান মন্দির অবস্থিত । পূর্বে বর্গীরা (মহারাষ্ট্রের এক জনজাতি) এই পথ দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে যেত, এর ফলে শ্রীমন্দিরে ও পুরীর মানুষদের মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি হত । এই বর্গীরা হনুমানের ভক্ত, সেজন্য তাদের পুরী প্রবেশ বন্ধ করতে এই অঞ্চলে একটি হনুমান মূর্তি মন্দিরে স্থাপন করা হয় ।
বর্গীরা হনুমান মূর্তি অতিক্রম করে যেতে অনিচ্ছুক ছিল, সেজন্য এইভাবে মহারাষ্ট্রের দুর্ধর্ষ বর্গীদের আক্রমণ থেকে পুরী রক্ষা পেয়েছিল ।
Share:

১৬ জুলাই ২০১৫

শ্রীজগন্নাথ পুরী (পর্ব ০১)


স্কন্দপুরানে (উৎকলখন্ড) উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ জগন্নাথ পুরীর পরিধি ১০ যোজন (৮০ মাইল বা ১২৮ কিঃমিঃ) অবধি বিস্তৃত এবং বালুকাময় ভূভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত । এ স্থান উড়্রদেশ বা উড়িষ্যা নামেও খ্যাত । শাস্ত্রে উৎকল দেশকে এ গ্রহের পবিত্রতম স্থান বলে বর্ণনা করা হয়েছে ।
ব্রহ্মান্ড পুরাণে বলা হয়েছেঃ
বর্ষাণাং ভারতশ্রেষ্ঠঃ দেশানাং উৎকলঃ স্মৃতঃ ।
উৎকলস্য সমদেশো দেশো নাস্তি মহীতলে ।।
অর্থাৎ “সমস্ত বর্ষসমূহের মধ্যে ভারতবর্ষ শ্রেষ্ঠ । সমস্ত দেশের মধ্যে উৎকল দেশ বা উড়িষ্যা শ্রেষ্ঠ । এই গ্রহে উৎকল দেশ বা উড়িষ্যার মতো অন্য কোনো দেশ নেই ।”
তাই আজ থেকে চেষ্টা করব আপনাদের এই পবিত্র ভূমি উড়িষ্যার সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে কিছু জানানোর জন্য যেখানে স্বয়ং ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব অবস্থান করছেন । তার মহিমা, লীলা ও যতগুলো মন্দির আছে, বা এই পবিত্র ধাম সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে ।
আজ আলোচনা করব অষ্ট মহাবীর সম্পর্কে যা নিম্নে তুলে ধরা হল====
অষ্ট মহাবীর
অষ্ট শম্ভুর (শিব) সাথে সাথে অষ্ট মহাবীর (হনুমান) পুরী ধাম রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন । এই মহাবীরগণ হচ্ছেন সিদ্ধ মহাবীর, দরিয়া মহাবীর, কানপাতা মহাবীর, বর্গী হনুমান, মসনী মহাবীর, পঞ্চমুখী মহাবীর, ফতে মহাবীর এবং শিরুলী মহাবীর ।
শ্রীমন্দিরের সুরক্ষার জন্য হনুমান মন্দিরের চার পার্শ্বেও পাহারা দিচ্ছেন । সিংহদ্বারে (জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান প্রবেশ পথ ও পূর্ব দ্বার) রয়েছেন ফতে হনুমান; পশ্চিম দ্বারে রয়েছেন বীর বিক্রম হনুমান; উত্তর দ্বারে রয়েছেন তপস্বী হনুমান এবং দক্ষিন দ্বারে রয়েছেন কানপাতা হনুমান ও বড়ভাই হনুমান ।
আজকে কানপাতা হনুমান সম্পর্কে জানব
কানপাতা হনুমান
এই হনুমানের একটি সুন্দর কাহিনী রয়েছে । মহাসাগরের তীরে জগন্নাথ মন্দির অবস্থিত । সমুদ্র মন্থনের সময় লক্ষ্মীদেবী আবির্ভূতা হন এবং ভগবান তাঁকে বিবাহ করেন । সাগর-কন্যাকে বিবাহ করার ফলে ভগবান সাগরের জামাতা হলেন, এবং মহাসাগর হলেন শ্রীজগন্নাথদেবের শ্বশুর ।
রাত্রিতে মহাসাগরের তরঙ্গমালা একটি জোরালো শব্দ করে যা সারা পুরীতে শোনা যায় । একসময় এই তরঙ্গ-শব্দ শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রবেশ করে এবং জগন্নাথের নিদ্রায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে । শ্রীজগন্নাথদেব সমুদ্রকে আদেশ করেন এমন কোনো শব্দ না করতে যা তাঁর নিদ্রায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে । কিন্তু সমুদ্র তা শুনলো না বরং তাঁর শব্দতরঙ্গ আরো বাড়িয়ে দিল । তখন জগন্নাথ হনুমানকে খবর দিল এবং বলল যাতে সমুদ্রের শব্দ মন্দিরে না আসে সেই ব্যবস্থা করতে । তখন হনুমান তার ডান কান পাতালেন এবং সমস্ত শব্দ তরঙ্গ নিজের কানে ঢুকালেন । সেই থেকে তটভূমিতে সমুদ্রের তরঙ্গ-ভঙ্গের শব্দ আর কখনো জগন্নাথের মন্দিরে প্রবেশ করেনি । শ্রীজগন্নাথ তাঁর ভক্ত হনুমানকে দক্ষিন দ্বারে পাহারায় নিয়োজিত করে বলেন যে, সে যেন সবসময় সতর্কভাবে সমুদ্রের ধ্বনির দিকে মনোযোগ রাখে এবং কোনো শব্দ যেন মন্দিরে প্রবেশ না করতে পারে তা নিশ্চিত করে । “কানপাতা” শব্দের অর্থ কানকে শব্দ শ্রবণে নিরত থাকা । সেজন্য এই দ্বারে পাহারারত হনুমানকে বলা হয় কানপাতা হনুমান ।
(চলবে......।।)

লিখেছেণঃ সংকীর্ন মাধব

Share:

৩০ জুন ২০১৫

জগন্নাথের কথা ( পঞ্চম পর্ব )

ওড়িশা ভারতের এক প্রাচীন রাজ্য। এখানকার সংস্কৃতি ও সভ্যতা অনেক পুরানো । জগন্নাথ যেমন বৈষ্ণব দের নিকট বিষ্ণু তেমনি শাক্ত ও শৈবদের নিকট ভৈরব শিব । যে যেমন ভাবে দেখতে চায়- জগন্নাথ তাঁর কাছে সেরূপেই প্রকাশিত হন। হরিহর অভেদ তত্ত্ব এই শ্রীক্ষেত্রে দেখা যায় । ওড়িশার নানা অঞ্চল জুড়ে বহু প্রাচীন মন্দির আছে । এগুলোর সবকটি সম্বন্ধে লেখা অসম্ভব । কি শিব মন্দির, কি শক্তিপীঠ, কি গোপাল মন্দির এমনকি বৌদ্ধ ও জৈণ ধর্মের নিদর্শন ওড়িশা রাজ্য জুড়ে দেখা যায় । আসুন জেনে নেই পুরীধামে কি কি দেখবার প্রধান জায়গা আছে । জগন্নাথ মন্দির দর্শন সেড়ে “মার্কণ্ডেয় পুষ্করিণী” পুরান গুলি বিশেষত স্কন্দপুরাণে লেখা আছে ভগবান হরির নির্দেশে মার্কণ্ড মুনি এই পুষ্করিণী খনন করেছিলেন , এখানে অনেক ঘাট, শিব মন্দির অষ্ট মাতৃকা মন্দির আছে । এবার দর্শনীয় স্থান ইন্দ্রদুম্ন্য সরোবর । মহারাজ ইন্দ্রদুম্ন্য অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সময় ব্রাহ্মণ দের যে গাভী দান করেছিলেন সেই গাভীগুলির ক্ষুরের আঘাতে এই পুষ্করিণী সৃষ্টি হয় ও গোমূত্র, জলে পুষ্করিণী ভরাট হয় । এই জলের দ্বারা মহাপ্রভু তাঁর পার্ষদ সহিত গুণ্ডিচা মন্দির মার্জন করতেন । এরপর “মহাদধি সমুদ্র” । পুরাণ মতে মা লক্ষ্মীর আবির্ভাব সমুদ্র মন্থন থেকে হয়েছিলো। বলা হয় এইস্থানে মা লক্ষ্মী প্রকট হয়েছিলেন । জগন্নাথের স্ত্রী লক্ষ্মী দেবীর আবির্ভাব এইস্থানে হওয়ায় ওড়িশা বাসী হাস্যচ্ছলে এইস্থান কে জগন্নাথের শ্বশুর গৃহ বলেন । এই স্থানেই মহাপ্রভু পরম ভক্ত হরিদাস ঠাকুরকে সমাধিস্থ করেন বালি দিয়ে ।
এরপর “নরেন্দ্র পুষ্করিণী” । এটিকে জগন্নাথ দেবের পিসির বাড়ী বলা হয় । পিসি হলেন কুন্তী । মহাভারতে কিছু স্থানে দেখা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কুন্তীদেবীকে ‘পিসি’ সম্বোধন করতেন । এখানে জগন্নাথ দেব এসে মালপোয়া সেবা নেন। এখানেই প্রভুর চন্দনযাত্রা হয় । তারপর আছে “শ্বেতগঙ্গা” বলা হয় এখানে মা গঙ্গা অবস্থান করেন। এখানে স্নানে গঙ্গা স্নানের ফল পাওয়া যায় । এখানে ভগবান মৎস্য ও মা গঙ্গার মন্দির আছে । এরপর স্বর্গদ্বার সমুদ্র তট । অপরূপ সৌন্দর্য মণ্ডিত সমুদ্র তট । সমুদ্র চরে বসে আপনার মন কোনো এক মধুমাখা কল্পনা লোকে চলে যাবে, হোটেলের বেলকোণি থেকে এই সমুদ্র তরঙ্গ দেখতে দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় যেনো কেটে যায়, বিরক্ত আসে না ।
এছাড়া সার্বভৌম আচার্যের বাড়ী, গম্ভীরা গুলি দর্শনীয় স্থান । এছাড়া আরোও অনেক বহু প্রাচীন মন্দির বিরাজিত । জগন্নাথ ক্ষেত্র বা ওড়িশা বা ঔড্র দেশ বা নীলাচল ধাম অপূর্ব সুন্দর ক্ষেত্র । জয় জগন্নাথ ।
( সমাপ্ত )
লেখাটি ডঃ সুমন গুপ্তের লেখা “জগন্নাথ দেবের অমৃত কথা” বইটি থেকে নেওয়া ।

লিখেছনঃ কমল
Share:

জগন্নাথের কথা ( চতুর্থ পর্ব )

সরলাদাসের ওড়িয়া মহাভারত, বলরাম দাসের ওড়িয়া রামায়ন, জগন্নাথ দাসের দারুব্রহ্মগীতা, অচ্যুতানন্দ দাসের হরিবংশ, দিবাকর দাসের জগন্নাথ চরিতামৃত, মহাদেব দাসের নীলাদ্রী মহোদয় ইত্যাদি গ্রন্থে জগন্নাথ দেব সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায়। সংস্কৃতে রচিত নীলাদ্রী মহোদয়, বামদেব সংহিতা, যাত্রা ভাগবত ইত্যাদি শাস্ত্রে জগন্নাথের কথা দেখা যায় । পদ্মপুরাণে লিখিত আছে ভগবান রামচন্দ্রের কনিষ্ঠ ভ্রাতা শত্রুঘ্ন এই স্থানে এসেছিলেন । ব্রহ্ম পুরাণ ও বৃহৎ নারদীয় পুরানে এই স্থানের নাম পাওয়া যায় ।

জগন্নাথ মন্দিরের মূর্তি প্রতিষ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয় ব্রহ্মা ব্রহ্মলোক থেকে মর্তে এসেছিলেন। তিনিই হয়েছিলেন পুরোহিত । জগন্নাথ দেব রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য কে স্বপ্নে নিত্য পূজোর নিয়মকানুনাদি বলেছিলেন । ইন্দ্রদুম্ন্য সেই মতো সব ব্যবস্থা করেন । স্কন্দপুরান মতে শবর জাতির লোকেরা পূর্বে নীলমাধব রূপে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করতো । ব্রহ্ম পুরাণ ও বৃহৎ নারদীয় পুরান মতে শবর গণ নীলমাধব রূপী নারায়নের পূজা করতেন ঠিকই কিন্তু তাঁর পূর্বে স্বর্গের দেবতা গণ গুপ্ত রূপে নীলমাধবের পূজা করতেন । পরে শবর গণ সেই খোঁজ পান । জগন্নাথ দেবের সৃষ্টি সম্বন্ধে ওড়িয়া মহাভারতে এক অদ্ভুত আখ্যান আছে । লীলা সংবরণের আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৈকুণ্ঠে গমনের চিন্তা করতে লাগলেন। যদু বংশ গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হয়েছে । বলরাম ভ্রাতা যোগবলে দেহ রেখেছেন । তিনি এই ভেবে বনে গিয়ে একটি বৃক্ষে আরোহণ করে মহাভারতের কথা চিন্তা করতে লাগলেন। সেসময় তাঁর চরণ কে পক্ষী ভেবে জরা নামক এক ব্যাধ শর বিদ্ধ করলেন ।

বলা হয় এই ব্যাধ পূর্ব জন্মে বালী পুত্র অঙ্গদ ছিলেন । ভগবান রাম বালীকে বধ করে অঙ্গদ কে বর দিয়েছিলেন , পরবর্তী কৃষ্ণ রূপে তিনি অঙ্গদের শরে দেহ রাখবেন । পরে শ্রীকৃষ্ণ দেহ রাখলে তাঁর দেহকে দ্বারকায় সমুদ্র তটে চন্দন কাষ্ঠে, খাঁটি গো ঘৃতে দাহ করার চেষ্টা করা হয় । কিন্তু ৬ দিন হলেও ভগবানের শরীর একটুকুও পুড়লো না । তখন দৈববাণী হোলো- “ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই নশ্বর দেহ আগুনে দাহ করা যাবে না। এই পবিত্র দেহ সমুদ্রে বিসর্জন দাও।” ঠিক সেই মতো সমুদ্রে বিসর্জিত করা হলে সেই দেহ কাষ্ঠে রূপান্তরিত হয়ে ভাসতে ভাসতে এলো । সেই কাষ্ঠ রোহিনীকুণ্ডে পাওয়া যায়। সেই কাষ্ঠ দিয়েই জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ তৈরী হোলো ।

( চলবে )

লিখেছনঃ কমল
Share:

জগন্নাথের কথা ( তৃতীয় পর্ব )

দ্বিতীয় পর্বে আমরা দেখেছি যে ভগবান বিষ্ণু তাঁর পরম ভক্ত রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য কে স্বপ্নে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এই বলে যে তিনি সেই হস্তপদ রহিত বিকট মূর্তিতেই পূজা নেবেন । সেই স্বপ্ন পর্ব তখনো চলছে । ভক্ত ও ভগবানের মধ্যে যে ভাগবতিক ও ভক্তির সম্বন্ধ তা একে একে উঠে আসছে । নিদ্রিত অবস্থায় স্বপ্নে রাজা তখনও সেই ছদ্দবেশী অনন্ত মহারানার জন্য প্রার্থনা জানিয়ে বলছেন- “হে প্রভু জনার্দন । যে বৃদ্ধ কারিগরকে দিয়ে তুমি তোমার এই মূর্তি নির্মিত করিয়াছ – আমার অভিলাষ এই যে সেই কারিগরের বংশধরেরাই যেনো তোমার সেবায় রথ যুগ যুগ ধরে প্রস্তুত করিতে পারে।” ভগবান নারায়ন তাঁর ভক্তদের খুবুই স্নেহ করেন। তাই ভগবান একে একে রাজার ইচ্ছা পূর্ণ করতে লাগলেন। এরপর ভগবান বিষ্ণু বললেন- “হে রাজন। আমার আর এক পরম ভক্ত শবর রাজ বিশ্বাবসু আমাকে নীলমাধব রূপে পূজা করতো- তাঁরই বংশধরেরা আমার সেবক রূপে যুগ যুগ ধরে সেবা করবে । বিদ্যাপতির প্রথম স্ত্রীর সন্তান গন আমার পূজারী হবে। আর বিদ্যাপতির দ্বিতীয়া স্ত্রী তথা বিশ্বাবসুর পুত্রী ললিতার সন্তান এর বংশধরেরা আমার ভোগ রান্নার দায়িত্ব নেবে। আমি তাদিগের হাতেই সেবা নেবো।”
বিদ্যাপতি প্রথম রাজার আদেশে নীলমাধব সন্ধান করতে গেছিলেন শবর দের দেশে , শবর বা সাঁওতাল যাদের আমরা ছোটোজাত বলে দূর দূর করি- শ্রীভগবান বিষ্ণু প্রথম তাঁদের দ্বারাই পূজা নিলেন । অপরদিকে তিনি তাঁদের হাতে সেবার আদেশ দিলেন। ব্রাহ্মণ ও শূদ্র জাতির একত্র মেলবন্ধন ঘটালেন স্বয়ং ভগবান । সেজন্যই বলে পুরীতে জাতিবিচার নেই । জগতের নাথ জগন্নাথ সবার । বিদ্যাপতি শবর দেশে নীলমাধবের সন্ধান করতে গিয়ে বিশ্বাবসুর দুহিতা ললিতার সাথে ভালোবাসা ও বিবাহ করেছিলেন । আর বিদ্যাপতিকে শবর দেশে পৌছানোর জন্য এক রাখাল বালক বারবার পথ প্রদর্শন করেছিলেন । সেই রাখাল বালক আর কেউ নয় স্বয়ং বৃন্দাবনের রাখালরাজা নন্দদুলাল । ইন্দ্রদুম্ন্য স্বপ্নে ভগবান বিষ্ণুর কাছে প্রতিশ্রুতি দিলেন- “হে মধূসুদন । প্রতিদিন মাত্র এক প্রহর অর্থাৎ তিন ঘণ্টার জন্য মন্দিরের দ্বার বন্ধ থাকবে । বাকী সময় মন্দিরের দ্বার অবারিত থাকবে , যাতে তোমার সন্তান ভক্তেরা তোমার দর্শন লাভ করে । সারাদিন আপনার ভোজোন চলবে । আপনার হাত কদাপি শুস্ক থাকবে না।”
ভগবান বিষ্ণু রাজাকে তাই বর দিলেন। এবার ভগবান ভক্তের পরীক্ষা নিলেন- তিনি বললেন- “এবার নিজের জন্য কিছু প্রার্থনা করো। তুমি আমার ভক্ত।” প্রকৃত ভক্তেরা নিস্কাম, তাই কোনো প্রকার সুখ ঐশ্বর্য তারা চান না। রাজা একটি ভয়ানক বর চেয়ে বললেন- “প্রভু আমাকে এই বর দিন আমি যেনো নির্বংশ হই । যাতে আমার বংশধরেরা কেউ যেনো আপনার দেবালয় কে নিজ সম্পত্তি দাবী না করতে পারে।” ভগবান হরি তাই বর দিলেন। জগন্নাথ মন্দিরে প্রান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা।
( চলবে )

লিখেছনঃ কমল 
Share:

১৮ জুন ২০১৫

জগন্নাথের কথা( দ্বিতীয় পর্ব )

রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য সমুদ্রে প্রাপ্ত দারুব্রহ্ম প্রাপ্তির পর গুণ্ডিচা মন্দিরে মহাবেদী নির্মাণ করে সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞ করলেন । ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় সহস্র বার ভারতবর্ষের কোনো রাজাই যজ্ঞের অশ্ব ধরতে সক্ষম হোলো না । যজ্ঞ সমাপ্তে দেবর্ষি নারদ মুনির পরামর্শে রাজা সেই দারুব্রহ্ম বৃক্ষ কাটিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ তৈরীতে মনোনিবেশ করলেন । এর জন্য অনেক ছুতোর কারিগর কে ডেকে পাঠানো হোলো । কিন্তু বৃক্ষের গায়ে হাতুরী, ছেনি ইত্যাদি ঠেকানো মাত্রই যন্ত্র গুলি চূর্ণ হতে লাগলো । রাজা তো মহা সমস্যায় পড়লেন । সেসময় ছদ্দবেশে বিশ্বকর্মা মতান্তরে ভগবান বিষ্ণু এক ছুতোরের বেশে এসে মূর্তি তৈরীতে সম্মত হলেন । তিনি এসে বললেন- “হে রাজন। আমার নাম অনন্ত মহারাণা। আমি মূর্তি গড়তে পারবো । আমাকে একটি বড় ঘর ও ২১ দিন সময় দিন । আমি তৈরী করবো একটি শর্তে। আমি ২১ দিন দরজা বন্ধ করে কাজ করবো ।

 সেসময় এই ঘরে যেনো কেউ না আসে। কেউ যেনো দরজা না খোলে।” অপর দিকে মোটা পারিশ্রামিকের লোভে যে ছুতোর রা এসেছিলো তাদের কেউ নিরাশ করলেন না অনন্ত মহারাণা । তিনি বললেন- “হে রাজন । আপনি ইতিপূর্বে যে সকল কারিগর কে এনেছেন , তাদের বলুন তিনটি রথ তৈরী করতে।” ছদ্দবেশী বিশ্বকর্মা ঘরে ঢুকলে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে সেখানে কড়া প্রহরা বসানো হোলো যাতে কাক পক্ষীও ভেতরে না যেতে পারে । ভেতরে কাজ চলতে লাগলো । কিন্তু রানী গুণ্ডিচার মন মানে না । স্বভাবে নারীজাতির মন চঞ্চলা হয় । রানী গুন্ডিচা ভাবলেন – “আহা কেমনই বা কারিগর বদ্ধ ঘরে মূর্তি গড়ছেন । কেমন বা নির্মিত হচ্ছে শ্রীবিষ্ণুর বিগ্রহ । একবার দেখেই আসি না। একবার দেখলে বোধ হয় কারিগর অসন্তুষ্ট হবেন না।” এই ভেবে মহারানী ১৪ দিনের মাথায় মতান্তরে ৯ দিনের মাথায় দরজা খুলে দিলেন । কারিগর ক্রুদ্ধ হয়ে অদৃশ্য হোলো । অসম্পূর্ণ জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা দেবীর মূর্তি দেখে রানী ভিরমি খেলেন । একি মূর্তি ! নীল নবঘন শ্যামল শ্রীবিষ্ণুর এমন গোলাকৃতি নয়ন , হস্ত পদ হীন, কালো মেঘের মতো গাত্র বর্ণ দেখে মহারানীর মাথা ঘুরতে লাগলো ।

রাজার কানে খবর গেলো । রাজা এসে রানীকে খুব তিরস্কার করলেন । বদ্ধ ঘরের মধ্য থেকে এক কারিগরের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় বিচক্ষণ মন্ত্রী জানালেন তিনি সাধারন মানব না কোনো দেবতা হবেন । বিষ্ণু ভক্ত রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য তাঁর আরাধ্য হরির এই রূপ দেখে দুঃখিত হলেন । রাজাকে সেই রাত্রে ভগবান বিষ্ণু আবার স্বপ্ন দিলেন । বললেন- “আমার ইচ্ছায় দেবশিল্পী মূর্তি নির্মাণ করতে এসেছিলেন । কিন্তু শর্ত ভঙ্গ হওয়াতে এই রূপ মূর্তি গঠিত হয়েছে । হে রাজন , তুমি আমার পরম ভক্ত । আমি এই অসম্পূর্ণ মূর্তিতেই তোমার পূজা নেবো । আমি দারুব্রহ্ম রূপে পুরুষোত্তম ক্ষেত্রে নিত্য অবস্থান করবো। আমি প্রাকৃত হস্তপদ রহিত , কিন্তু অপ্রাকৃত হস্তপদাদির দ্বারা ভক্তের সেবাপূজা শ্রদ্ধা গ্রহণ করবো। আমি ত্রিভুবনে সর্বত্র বিচরণ করি । লীলা মাধুর্য প্রকাশের জন্য আমি এখানে এইরূপে অধিষ্ঠান করবো। শোনো নরেশ । ভক্তেরা আমার এই রূপেই মুরলীধর শ্রীকৃষ্ণ রূপের দর্শন পাবেন । যদি তুমি ইচ্ছা করো তবে ঐশ্বর্য দ্বারা সোনা রূপার হস্ত পদাদি নির্মিত করে আমার সেবা করতে পারো। ”
( ক্রমশঃ)

 লিখেছনঃ কমল 
Share:

জগন্নাথের কথা (প্রথম পর্ব)

মালবরাজ ইন্দ্রদুম্ন্য ছিলেন পরম বিষ্ণু ভক্ত । একদিন এক তেজস্বী সন্ন্যাসী তাঁর রাজবাড়ীতে পদার্পণ করলেন । দেব দ্বিজে ভক্তিপরায়ন রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য পরম যত্নে সন্ন্যাসীর সেবা যত্ন করলেন । সন্ন্যাসী ভারতবর্ষের সমস্ত তীর্থের কথা বলে পুরুষোত্তম ক্ষেত্রের নীল পর্বতে ভগবান বিষ্ণুর পূজার কথা জানালেন । এখানে ভগবান বিষ্ণু গুপ্তভাবে শবর দের দ্বারা নীলমাধব রূপে পূজিত হচ্ছেন । নীলমাধব সাক্ষাৎ মুক্তিপ্রদায়ক । তিনি মোক্ষ প্রদান করেন ।
সন্ন্যাসীর কথা শুনে ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য ভগবানের রূপ দর্শনে আকুল হলেন । রাজা তাঁর পুরোহিতের ভাই বিদ্যাপতিকে শবর দের রাজ্যে গিয়ে নীলমাধবের সন্ধান করে আনতে বললেন । এরপর শবর দের দেশে এসে বিদ্যাপতি শবর দের রাজা বিশ্বাবসুর সাথে সাক্ষাৎ করলেন । বিশ্বাবসু মারফৎ বিদ্যাপতি নীলমাধব কে দর্শন লাভ করলেন । তারপর বিদ্যাপতি গিয়ে রাজাকে সব জানালেন । রাজা খবর পেয়ে সৈন্য সামন্ত নিয়ে নীলমাধবের দর্শনে আসলেন ।
ইন্দ্রদুম্ন্য পুরুষোত্তম ক্ষেত্রে এসে নীলমাধব দর্শন করতে গেলে শুনলেন নীলমাধব অন্তর্ধান করেছেন । মতান্তরে শবর রাজ বিশ্বাবসু সেটিকে লুকিয়ে রাখেন । রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য এতে খুব দুঃখ পেয়ে ভাবলেন প্রভুর যখন দর্শন পেলাম না তখন এই জীবন রেখে কি লাভ ? অনশনে প্রান ত্যাগ করাই শ্রেয় । এই ভেবে রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য কুশ শয্যায় শয়ন করলেন । সেসময় দেবর্ষি নারদ মুনি জানালেন – “হে রাজন তোমার প্রাণত্যাগের প্রয়োজন নাই ।
এই স্থানে তোমার মাধ্যমে ভগবান জগন্নাথ দেব দারুব্রহ্ম রূপে পূজা পাবেন । স্বয়ং পিতা ব্রহ্মা একথা জানিয়েছেন।” রাজা শুনে শান্তি পেলেন। এক রাতের কথা রাজা শয়নে ভগবান বিষ্ণুর স্বপ্ন পেলেন । স্বপ্নে ভগবান শ্রীহরি বললেন- “হে রাজন । তুমি আমার প্রিয় ভক্ত। ভক্তদের থেকে আমি কদাপি দূর হই না। আমি সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে তোমার নিকট আসছি। বাঙ্কিমুহান নামক স্থানে তুমি আমাকে দারুব্রহ্ম রূপে পাবে।” রাজা সেই স্থানে গিয়ে দারুব্রহ্মের সন্ধান পেলেন। কিন্তু তাকে একচুল ও নরাতে পারলেন না । রাজা আদেশ দিলেন হাতী দিয়ে টানতে । সহস্র হাতী টেনেও সেই দারুব্রহ্ম কে একচুল নড়াতে পারলো না ।
রাজা আবার হতাশ হলেন । সেই সময় ভগবান বিষ্ণু স্বপ্নে জানালেন- “হে রাজন। তুমি হতাশ হইও না । শবর রাজ বিশ্বাবসু আমার পরম ভক্ত । তুমি তাকে সসম্মানে এইস্থানে নিয়ে আসো। আর একটি স্বর্ণ রথ আনয়ন করো।” রাজা সেই মতো কাজ করলেন । ভক্ত বিশ্বাবসু আসলো । বিশ্বাবসু , বিদ্যাপতি আর রাজা তিনজনে মিলে দারুব্রহ্ম তুললেন । সেসময় চতুর্দিকে ভক্তেরা কীর্তন করতে লাগলো । তারপর দারুব্রহ্ম কে রথে বসিয়ে নিয়ে এলেন ।
(ক্রমশঃ )

লিখেছনঃ কমল 
Share:

১৫ জুন ২০১৫

নব-কলেবর বা আত্মা পরিবর্তন

জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের মূর্তি
১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।


মূর্তি তৈরির কাঠের সন্ধানে পুরোহিতরা
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ‘দ্বৈতাপতি’দের আদিপুরুষ বিশ্ববসু বহু শতাব্দী আগে প্রথম ‘নীলমাধব’ নামে জগন্নাথের পুজো করেছিলেন। পুরীর পুরোহিতদের এই বংশের বর্তমান প্রধান জগন্নাথ দ্বৈতাপতি। তাঁর কথায়, “যে বছরের আষাঢ় মাস ‘মলমাস’ অর্থাৎ একই মাসে দুবার অমাবস্যা পড়ে, সেই বছরই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের মূর্তি এবং সুদর্শন চক্র পরিবর্তন করতে হয়।” দ্বৈতাপতির পরিবারের বিশ্বাস, মূর্তি এবং চক্র তৈরীর কাঠ কোন জায়গায় পাওয়া যাবে, সেটা তাঁরা স্বপ্নে আদেশ পান। তার পরেই শুরু হয় কাজ।



হাতির শুঁড়ের চিহ্ন আছে এমন গাছের কাঠ দিয়ে মূর্তি বানানো হয়
সেইমতো এই বছর ওড়িশার পারাদ্বীপের কাছে একটি জঙ্গলে পায়ে হেঁটে পৌঁছিয়েছিলেন জগন্নাথ দ্বৈতাপতি ও তাঁর প্রায় একশো সঙ্গী। যে গাছের কাঠ দিয়ে জগন্নাথের মূর্তি তৈরী হতে পারে, তার এগারোটা বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যেমন গাছের গায়ে হাতির শুঁড় ও চোখের আকৃতি স্পষ্ট থাকতে হবে, গাছের সাথে সাপ জড়িয়ে থাকবে, উঁইয়ের ঢিপি থাকবে ইত্যাদি। “প্রায় দুমাস ধরে কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে ওই গাছ আমরা খুঁজে বার করি, তারপরে মহাযজ্ঞ এবং আরো কিচু অনুষ্ঠান করতে হয়,” বলছিলেন দ্বৈতাপতি। সেই গাছের গুঁড়ি কাঠের চাকা লাগানো গাড়িতে ভক্তরা টেনে নিয়ে আসেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে। সেখানে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মূর্তি তৈরী করা হয়। এবছর মূর্তি তৈরী শুরু হয়েছিল ৫ই জুন থেকে। নবকলেবর পরিচালনা করবেন জগন্নাথ দ্বৈতাপতি নিজেই। ব্রহ্ম পরিবর্তনের পরে নতুন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হলেও তার নির্মাণ সম্পূর্ণ হতে আরও একমাস সময় লাগবে। পুরনো বিগ্রহটি জগন্নাথ মন্দিরের কাছেই কৈলি বৈকুন্ঠের মাটিতে পুঁতে দেওয়া হবে।

◄ Please Like us :►www.facebook.com/shonatonsondesh

Share:

০২ মে ২০১৫

মঙ্গলাগিরিতে ভগবান নৃসিংহদেব

অনেকেই বলে যে, ‘পৃথিবীতে ভগবান বলতে কিছুই নেই’ । আবার অনেকে বলে, ‘ভগবানকে কেউ দেখেছে নাকি? বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে ভগবান মানে সেকেলের কাল্পনিক ধারণা মাত্র, যা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয় ।’ এই সমস্ত প্রচলিত উক্তি আমাদের সমাজে অনেকেই করে থাকে । তাদের জন্যে ‘মঙ্গলাগিরি’ এক বাস্তব প্রমাণ ।
পারমার্থিক জগতে ভক্ত এবং ভগবানের মধ্যে অপ্রাকৃতিক লীলা দর্শনের মাধ্যমে আমাদের ভক্তি কিংবা বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় । ভক্তগন পারমার্থিক জ্ঞান দ্বারা এবং পূর্বতন আচার্যদের গুণাবলী কিংবা লীলা দর্শন করে ভগবানের প্রতি বিশ্বাস সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করে । আমরা অনেকেই হয়তো সরাসরিভাবে ভগবানের লীলা উপলব্ধি করতে পারি না । কিন্তু অপ্রাকৃতিক ধাম ‘মঙ্গলাগিরি’ তে এলে যে কেউ ভক্ত এবং ভগবানের মধ্যে সাক্ষাৎ লীলা দর্শন করতে পারেন । এতে ভগবানের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রেমভক্তি বৃদ্ধি পায় ।
অর্ধসিংহ ও অর্ধ নররূপি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অবতার ভগবান নৃসিংহদেব, যিনি সত্যযুগে ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষার জন্য পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন । ভগবান নৃসিংহদেবের আবির্ভাব স্থান অহোভিলাম থেকে কিছু দূরে দক্ষিণ ভারতে মঙ্গলাগিরি ধাম অবস্থিত । এই ধামের চতুর্দিক হাতি সদৃশ । এর কারণ খুঁজে পাওয়া যায় ‘স্কন্দ পুরাণ’ হতে ।
একবার বিভিন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধক অবস্থায় জন্ম নেয় এক বালক ঋষ্যশৃঙ্গি । ঋষ্যশৃঙ্গি যখন বুঝতে সক্ষম হলেন যে তার পিতা পরিযাত্র তার প্রতিবন্ধী শরীরে জন্মগ্রহণে অসন্তুষ্ঠ, তখন তিনি পিতৃ আবাস ত্যাগ করলেন । তীর্থ পরিক্রমা কালে তিনি কৃষ্ণ নদীর দক্ষিন পার্শ্বে এসে পদিত আশ্রমে আশ্রয় নেন । তিনি যখন শুনলেন যে তার পিতা সেখানে আসছেন, তখন তিনি সেখানের লক্ষ্মীনারায়ণ বিগ্রহের কাছে প্রার্থনা করলেন তারা যাতে লক্ষ্মীনৃসিংহ রূপে অবতীর্ণ হয়ে পাহাড়ে নিত্য অবস্থান করেন । ঋষ্যশৃঙ্গির কঠোর তপস্যা ও কৃচ্ছসাধনে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান নৃসিংহদেব এই স্থানে আবির্ভূত হয়েছিলেন । ঋষ্যশৃঙ্গির স্তোত্র পাঠের কারণে উক্ত পাহাড়কে ‘স্তোত্রাদ্রি’ বলা হয় । স্তোত্রাদ্রি পাহাড়ের উপর ৬০০টি সিড়ি পাড় হয়ে উঠলে লক্ষ্মীনৃসিংহ মন্দির দর্শন করা যায় । ৬০০ সিড়ি বেয়ে উঠতেই প্রচন্ড ক্লান্তি আপনাকে অবসন্ন করতে পারে । তবে চিন্তা নেই, আপনার ক্লান্তি নিমিষেই চলে যাবে যখন আপনি এখানের এক বিশেষ প্রসাদ গ্রহণ করবেন । আখের রস, কর্পুর, এলাচ ও কালো মরিচের সমন্বয়ে তৈরি এক অপূর্ব শরবত বা পঙ্কম (তামিল ভাষায়) এখানে নৃসিংহদেবকে নিবেদন করা হয় । যে কারো নিবেদিত এই শরবত ভগবান গ্রহণ করে থাকেন এবং এজন্যে আপনাকে টিকেট সংগ্রহ করতে হবে । পাহাড়ের গুহায় অবস্থিত এই মন্দিরের বিগ্রহের নাম পঙ্কল নৃসিংহ । এই পঙ্কল নৃসিংহ হচ্ছেন স্বপ্রকাশিত বিগ্রহ যার রয়েছে বড় মুখ যা ছয়ইঞ্চি গভীর । চর্তুহস্তে এবং বিশাল মুখে তিনি সরাসরি ভোগদ্রব্য গ্রহন করে থাকেন । একটি শরবত পূর্ণ জগ নিয়ে যদি আপনি ভগবানকে নিবেদন করেন তখন পূজারী সেই শরবত ভোগ সরাসরি শঙ্গের সাহায্যে পঙ্কল নৃসিংহদেবের মুখে প্রবেশ করিয়ে দেয় । ঠিক তখন খল খল শব্দ হয় এবং ভগবান যে স্বয়ং সেই নিবেদিত জল গ্রহণ করছেন তা বোঝা যায় । কিন্তু এক সময় ঐ শব্দ আর শোনা যায় না । তখন পূজারী পঙ্কম পান করানো থেকে বিরত থাকেন । তবে এখানে আশ্চর্যের বিষয় যে, ভগবান কখনো সম্পূর্ণ পাত্রপূর্ণ শরবত গ্রহণ করেন না । তিনি ঠিক অর্ধেক গ্রহণ করেন এবং প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায় যে, প্রতিবারই যখনই ভাগবানকে ভোগ নিবেদন করা হয় তখন কেবল অর্ধেক গ্রহন করেন । পঙ্কল নৃসিংহ মূলত স্বপ্রকাশিত পাথরের বিগ্রহ, যার ডানে রয়েছে শঙ্খ এবং বামে সুদর্শন চক্রের চিহ্ন । ভক্তের প্রীতিবিধানের উদ্দেশ্য এবং নিবেদিত ভোগ্য সরাসরি গ্রহণ করার জন্য খোলা মুখমণ্ডল । যদিও প্রতিদিন এখানে প্রচুর পরিমানে সুমিষ্ট পানীয় নিবেদিত হয় তবুও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এখানে কোন পিঁপড়া নেই । এছাড়া এত গ্যালন গ্যালন পানীয় যে কোথায় যায় তা এখনো পর্যন্ত কেউ উপলব্ধি করতে পারেনি । স্কন্দ পুরাণে বলা আছে প্রতিদিন রাতে দেবদেবীরা এই নৃসিংহদেব পূজা আর স্তুতি করে থাকে যা এখনো হয়ে থাকে, সন্ধ্যার পর এই মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয় আর যখন সকালে মন্দির খোলে তখন অপূর্ব মনোহর এক সুগন্ধ ভেসে আসে, তারপ সারাদিন আর ঐ সুগন্ধ থাকে না আবার রাতে দরজা বন্ধ করলে পরেরদিন সকালে সে একই সুগন্ধ ভেসে আসে । সত্যিই আশ্চর্যকর ভগবানে নৃসিংহদেবের মহিমা ।


Written by: সংকীর্তন মাধব
Share:

১২ এপ্রিল ২০১৫

অদ্ভুত রান্নাঘর


হ্যাঁ, জগন্নাথ পুরী মন্দিরের রান্নাঘরকে বলা হয় পৃথিবীর অদ্ভুদ ও বড় রান্নাঘর । কেন এই রান্নাঘর অদ্ভুত তা আপনাদের কাছে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরছি ।

জগন্নাথ পুরীতেতো এমনিতেই জগন্নাথ অনেক লীলা করে কিন্তু তার রান্নাঘরের লীলা আমরা কম বেশি সবাই জানি ।

এই রান্নাঘরে বিবিধ দ্রব্য রান্না করার জন্য কোন বিদ্যুৎ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় না । উন্মুক্ত কাঠের আগুনের উপর অনেকগুলো তেলের ল্যাম্প বা বাতি ঝুলিয়ে রাখা হয় আর তার নিচেই সেবকরা এসেই রান্না কার্য সম্পন্ন করে ।

এ রান্নাঘরে এত দ্রুত রান্না করা হয় যে শুধুমাত্র একদিনের প্রস্তুতিতে একসাথে প্রায় দশ হাজার লোক বসে প্রসাদ পায় । আর এমনিতে পাঁচ হাজারের উপর দর্শনার্থী প্রসাদ পেয়ে থাকে ।

এই রান্নাঘরটি ৯টি ভাগে বিভক্ত । যাদের দুটি ভাগ ২৫০০ বর্গফুট করে এবং বাকি ৭টি ভাগ এ দুটির চেয়ে একটু ছোট হবে । এ রান্নাঘরে রয়েছে ৭৫২টি মাটির তৈরি চুলা যার প্রত্যেকটি দৈর্ঘ্যে তিন বর্গফুট করে এবং উচ্চতায় প্রায় ৪ ফুটেরেও

বেশি ।

তবে যেটি অদ্ভুত ব্যাপার তা হল রান্না করার বিষয়টি, চুলাগুলোতে একটির উপর একটি পাত্র বসানো হয় এভাবে প্রায় নয়টি পাত্র থাকে । শুধুমাত্র এ পাত্রগুলোর নিচে অবস্থিত আগুনের মাধ্যমেই উপরের পাত্র থেকে শুরু করে শেষে নিচের

পাত্রটির রান্না অদ্ভুদ ভাবে সম্পন্ন হয় ।
এই রান্নাঘরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত রয়েছে এক হাজার সেবক । তার মধ্যে ৫০০ সেবক রয়েছে কেবলমাত্র চুলাতে রান্না করার জন্য সহায়ককারী হিসেবে ।

এখানে কোন পুরাতন পাত্রে রান্না করা হয় না, প্রতিদিন নতুন নতুন পাত্রে রান্না করা হয়, তাই একদল খালি মাটি দিয়ে পাত্র বানায়, আরেক দল তা সরবরাহ করে রান্নাঘরে নিয়ে যায় । আরেকদল পাত্রগুলো ধৌত করে, আরেকদল পাত্রে জল

ভর্তি করে চুলাতে নিয়ে যায় তবে এখানে আরেকটি অদ্ভুত বিষয় হল রান্না করার জন্য এখানে গঙ্গা আর সরস্বতী নদী রান্নাঘরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যা বাহির থেকে দেখা যায় না যা সত্যিই অদ্ভুত !!!!

কেউ কেউ সব্জি ধৌত করছে আর কেউ কেউ সব্জি কাটছে আর কেউ মসলা তৈরি করছে ।
রান্নাঘরে যে সেবকরা থাকে তাদের বয়স যখন ১২ বছর হয় তখন থেকে তারা ট্রেনিং এ নেমে পড়ে এভাবে তারা বংশানুক্রমে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট সেবা সারাজীবন ধরে অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করে থাকে ।

এই রান্নাঘরে ১০০টির উপর আইটেম রান্না করা হয় যা দুটি ভাগে বিভক্ত । এ দুটি ভাগকে পাক্কা এবং সুক্কা নামে ডাকা হয় । পাক্কা বলা হয় সে খাবারগুলো যেগুলো সিদ্ধ করা যেমন ডাল, চাল, খিচুরী এবং সমস্ত রকমের সবজি । অপরদিকে

সুক্কা বলা হয় বিস্কিট, মিষ্টান্ন আর বিভিন্ন ধরনের পিঠা ।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, জগন্নাথের জন্য যেসমস্ত ফল ও সবজি ব্যবহার করা হয় সেগুলো দু হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি ও ফলই জগন্নাথের জন্য ব্যবহৃত হয় । অন্য কোন অঞ্চল থেকে

উৎপাদিত দ্রব্য জগন্নাথের জন্য ব্যবহার করা হয় না ।

এই পুরী জগন্নাথ স্বয়ং পরিচালনা করে আর মহা লক্ষ্মী স্বয়ং জগন্নাথের জন্য নিজ হাতে রান্না করে । তাইতো পুরীর এ রান্নাঘরকে অদ্ভুত রান্নাঘর বলেই অভিহিত করা হয় ।

written by - সুশান্ত বন্দ
Share:

২৯ জুন ২০১৪

শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা (নিজে পড়ুন ও অন্যকে শেয়ার করুন)

শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, শান্তি ও মৈত্রীর
পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই (শ্রী বিগ্রহ ) গণউত্সব লগ্নে মন্দির
ছেড়ে রাজপথে সবাইকে দর্শন দানের জন্য বেরিয়ে আসেন। সব জগতের
পরম প্রভু হচ্ছেন শ্রী জগন্নাথদেব। ভক্তদের প্রেমের
বশবর্তী হয়ে তিনি নিজেকে রাজপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভক্তদের
অনুমতি দিয়েছেন। শ্রী জগন্নাথদেব অত্যন্ত কৃপাশীল। যারা মন্দিরে তাকে দর্শন
করতে আসে না, তাদের সবাইকে কল্যাণ ঐক্য কৃপা আশীর্বাদ
করতে তিনি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। একবার শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবী সূর্যগ্রহণের
কুরুক্ষেত্রে সামন্ত পঞ্চতক তীর্থে স্নান করতে যান। এখনও
কুরুক্ষেত্রে সূর্যগ্রহণের সময় স্নান করতে বহু পুণ্যার্থী গমন করেন।
পাঁচ হাজার বছর আগে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকা থেকে গিয়েছিলেন কুরুক্ষেত্রে।
শুনে সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটলেন কৃষ্ণকে দর্শন করতে। কৃষ্ণ তখন
রথে উঠে বলেছেন, তিনি কুরুক্ষেত্র থেকে তার রাজধানী দ্বারকায় ফিরে যাবেন। সঙ্গে রয়েছেন শ্রী বলরাম ও সুভদ্রা। চারপাশে রাজপুরুষ, সৈনিক, কৃষ্ণের বেশও অন্যরকম। গোপবেশের
পরিবর্তে রাজবেশ। হাতে বাঁশির পরিবর্তে ধনুর্বাণ।
কোমরে তলোয়ার/বর্ম, মাথায় মুকুট।
কৃষ্ণকে এভাবে দেখে গোপাদের মন ভরল না। বিশেষ করে রাধারাণী বললেন, এই কৃষ্ণ আমাদের সেই কৃষ্ণ নয়।
তাকে আমরা চিনতাম, বৃন্দাবনের বনে বনে আমাদের
সঙ্গে সে লীলা খেলা করত। সেই কৃষ্ণের মাথায় ময়ূরের পাখা, তার
পরণে পীত বসন, গলায় বনমালা, হাতে বাঁশি আর এই কৃষ্ণের
পরণে তো রাজবেশ। রাধারাণীর সেই মনোভাব বুঝতে পেরে বাজবাসীরা কৃষ্ণের রথের
দড়ি ধরে। কৃষ্ণের রথের ঘোড়াগুলো ধরে টানতে টানতে নিয়ে চললেন
বৃন্দাবনের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে বলরাম, তিনিও ব্রজবাসীদের শৈশবের,
কৈশোরের সাথী। তাকেও রথে চড়ালেন। সুভদ্রা বোন, তাকেও
তারা নিয়ে চললেন। জগন্নাথপুরীর এই রথযাত্রাটি হচ্ছে গোপাদের সেই
কুরুক্ষেত্র রথযাত্রার দ্যোতিক। রথের সময় জগন্নাথ বা কৃষ্ণকে নিয়ে যাওয়া হয় নীলাচল থেকে সুন্দরাচলে। যেখানে কৃষ্ণ
ব্রজবাসীদের সঙ্গে আট দিন ছিলেন।
শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, শান্তি ও মৈত্রীর পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই (শ্রী বিগ্রহ ) গণউত্সব লগ্নে মন্দির ছেড়ে রাজপথে সবাইকে দর্শন দানের জন্য বেরিয়ে আসেন। সব জগতের পরম প্রভু হচ্ছেন শ্রী জগন্নাথদেব। ভক্তদের প্রেমের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজেকে রাজপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভক্তদের অনুমতি দিয়েছেন। শ্রী জগন্নাথদেব অত্যন্ত কৃপাশীল। যারা মন্দিরে তাকে দর্শন করতে আসে না, তাদের সবাইকে কল্যাণ ঐক্য কৃপা আশীর্বাদ করতে তিনি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। একবার শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবী সূর্যগ্রহণের কুরুক্ষেত্রে সামন্ত পঞ্চতক তীর্থে স্নান করতে যান। এখনও কুরুক্ষেত্রে সূর্যগ্রহণের সময় স্নান করতে বহু পুণ্যার্থী গমন করেন। পাঁচ হাজার বছর আগে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকা থেকে গিয়েছিলেন কুরুক্ষেত্রে। শুনে সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটলেন কৃষ্ণকে দর্শন করতে। কৃষ্ণ তখন রথে উঠে বলেছেন, তিনি কুরুক্ষেত্র থেকে তার রাজধানী দ্বারকায় ফিরে যাবেন। সঙ্গে রয়েছেন শ্রী বলরাম ও সুভদ্রা। চারপাশে রাজপুরুষ, সৈনিক, কৃষ্ণের বেশও অন্যরকম। গোপবেশের পরিবর্তে রাজবেশ। হাতে বাঁশির পরিবর্তে ধনুর্বাণ। কোমরে তলোয়ার/বর্ম, মাথায় মুকুট। কৃষ্ণকে এভাবে দেখে গোপাদের মন ভরল না। বিশেষ করে রাধারাণী বললেন, এই কৃষ্ণ আমাদের সেই কৃষ্ণ নয়। তাকে আমরা চিনতাম, বৃন্দাবনের বনে বনে আমাদের সঙ্গে সে লীলা খেলা করত। সেই কৃষ্ণের মাথায় ময়ূরের পাখা, তার পরণে পীত বসন, গলায় বনমালা, হাতে বাঁশি আর এই কৃষ্ণের পরণে তো রাজবেশ। রাধারাণীর সেই মনোভাব বুঝতে পেরে বাজবাসীরা কৃষ্ণের রথের দড়ি ধরে। কৃষ্ণের রথের ঘোড়াগুলো ধরে টানতে টানতে নিয়ে চললেন বৃন্দাবনের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে বলরাম, তিনিও ব্রজবাসীদের শৈশবের, কৈশোরের সাথী। তাকেও রথে চড়ালেন। সুভদ্রা বোন, তাকেও তারা নিয়ে চললেন। জগন্নাথপুরীর এই রথযাত্রাটি হচ্ছে গোপাদের সেই কুরুক্ষেত্র রথযাত্রার দ্যোতিক। রথের সময় জগন্নাথ বা কৃষ্ণকে নিয়ে যাওয়া হয় নীলাচল থেকে সুন্দরাচলে। যেখানে কৃষ্ণ ব্রজবাসীদের সঙ্গে আট দিন ছিলেন।

Collected from: Sumon Dutt
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।