• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

সংস্কৃত ভাষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংস্কৃত ভাষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৫ এপ্রিল ২০১৯

দেবভাষায় কথা বলে তুঙ্গ নদীর তীরের এই জনপদের সকলে

তুঙ্গ নদীর ধার ঘেঁষে ছোট্ট গ্রামে পা দিতেই মনটা আনন্দে ভরে উঠেছিল তরুণ সাংবাদিকের। নিতান্তই ছাপোষা গ্রাম, কিন্তু তার আকাশ-বাতাসে কী যেন একটা মিশে আছে, গড়পড়তা নয়, একটু অন্যরকম। হাওয়ার সঙ্গে ভেসে আসছে মিঠে কর্পূরের গন্ধ। একটা বাঁক ঘুরতেই সুব্রহ্মণ্যর মুদির দোকান। খদ্দেরদের ভিড়। ভিনরাজ্যের আগন্তুককে দেখে সাদরে দোকানে ডেকে নিলেন। হাসিমুখে প্রশ্ন, ‘‘কফি বা চায়াম, কিম ইচ্ছাতি ভব?’’ চমক লাগলেও মুখে হাসি ফুটল সাংবাদিকের। যা জেনে এসেছিলেন ঠিক তাই। একবিংশ শতকের ডিজিটাল সভ্যতার জগতে এ এক অন্য ভারত। আধুনিকতার কমতি নেই, আবার ধ্রুপদী ভাষা-সাহিত্যকেও ধারণ করে আছে অলঙ্কারের মতোই। নতুন-পুরনোর মিশেলে নিঃশব্দে বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে কর্নাটকের এই গ্রাম।

বেঙ্গালুরু থেকে যেতে হবে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। শিমোগা জেলায় পাশাপাশি গা ঘেঁষা দু’টি গ্রাম। মাট্টুর ও হোসাহাল্লি। লোকে বলে যমজ গ্রাম। মিলিয়ে ঝুলিয়ে হাজার পাঁচেক মানুষের বাস। প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে যমজ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে তুঙ্গ নদী। তুঙ্গ আর ভদ্রার মিলিত স্রোতই কর্নাটকের তুঙ্গভদ্রা। যা মিশেছে কৃষ্ণা নদীতে। নামে, প্রচারে মাট্টুরই সেরা। তবে বৈচিত্র্যে পিছিয়ে নেই হোসাহাল্লিও। এই বৈচিত্র্যটা কী, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সেটাই।



বৈচিত্র্য ঠিক বলা যায় না কিনা জানা নেই, কারণ নতুনের মোড়কে ঐতিহ্যকে হেলায় না হারিয়ে যখন আদর করে তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলা হয়, তখন সেটা আত্মসত্তার মধ্যেই কোথাও মিলেমিশে এক হয়ে যায়। যেমনটা হয়েছে মাট্টুরে, হোসাহাল্লিতে। মানুষজন এখানে সংস্কৃত ভাষায় কথা বলতে সচ্ছন্দ্য। গ্রামের নিজস্ব ভাষা অবশ্য কন্নড়। তামিল এবং খানিক তেলুগুরও চল রয়েছে। কিন্তু দোকানবাজারে, রাস্তাঘাটে, স্কুল-কলেজে, ঘরের ভিতরে ও বাইরে মাতৃভাষার মতো মুখে লেগে রয়েছে সংস্কৃত।



‘Language Of Gods’ টোলের শিক্ষকরা বলেন দেবভাষা, ছাপোষা মানুষের প্রাণের ভাষা। মুখের বুলিতেই মনের আরাম। কথায় বলে, দশচক্রে ভগবান ভূত হয় আর অব্যবহারে ভাষার ধার কমে। সময়ের বদলের সঙ্গে সঙ্গে নানা কাজে লাগানোর জন্য নিত্য মুখের ভাষাকে লেখার ভাষাতেও গড়েপিটে নিতে হয়। তবেই ভাষার প্রতি মানুষের আদর-সোহাগ জন্মায়। ঠিক এমনটাই করেছেন মাট্টুরের বাসিন্দারা। মুখের কথায়, হাতে-কলমে, শিক্ষায়-সংস্কৃতিতে এমনকি অফিসের কাজকর্মেও সংস্কৃতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাই সরকারি স্কুলকে গুরুর টোল বা পাঠশালা বলতে বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই এখানকার পড়ুয়াদের। নদীর ধারটিতে বসে চট বা মাদুর পেতে ঝরঝরে বেদের মন্ত্র আওড়াতে পারে দশ বছরের শিশুও।

গলির মোড়ে চায়ের দোকান সাজিয়ে অতিথিদের সঙ্গে নিত্য সংস্কৃতে বোলচাল চালান আরগুমাম। বলেছেন, ‘‘মারিয়াম্মা মন্দিরে ফি দিন সংস্কৃতের ক্লাস বসে। দোকানের কাজ সেরে আমি সেখানেই পড়াশোনা করতে যাই।’’

ভোরের আলো ফুটতেই কচি কচি কণ্ঠে বেদের মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে তুঙ্গ নদীর পাড়। সেখানেই জনা কয়েক ছাত্র নিয়ে গায়ত্রী বেদ পাঠাশালা চালান বর্ষীয়াণ গুরুমশাই। বেলা বাড়তে পাঠশালায় ভিড় জমান স্থানীয়রাও। নিত্যদিন গায়ত্রী বেদ পাঠশালায় আনাগোনা রুথুকুমার নায়েকের। সংস্কৃতে এখন বেশ সড়গড় রুথুকুমারের কথায়, ‘‘ভোর সাড়ে ৪টে থেকে পাঠশালা খোলে। চলে ৮টা অবধি। চট, মাদুর নিয়ে আমরা হাজির হয়ে যাই। ঠিক ঘরির কাঁটা মিলিয়ে ক্লাস নেন গুরুমশাই। সবাই এখানে মন দিয়ে ভাষাটা শেখে।’’

ভাষা শেখার জায়গা হরেক। গোটা গ্রামেই ছড়িয়ে। সরকারি স্কুল তো রয়েছেই, পাশাপাশি প্রাইভেট টিউশন করেন অনেকে। নয় নয় করেও ৩০ জন সংস্কৃত ভাষার গবেষক ও অধ্যাপক রয়েছেন। তেমনই একজন সংস্কৃতের অধ্যাপক ভানু প্রকাশ। ভাষার প্রতি গ্রামবাসীদের আগ্রহ বাড়াতে নিজের বাড়ির দরজায় বড় বড় করে লিখে রেখেছেন, ‘‘এই বাড়িতে সকলে মন খুলে সংস্কৃত চর্চা করতে পারেন। কেউ বাধা দেবে না।’’


প্রাইমারি স্কুলের প্রিন্সিপাল লক্ষ্মী দেবী সংস্কৃত ব্যাকরণে পণ্ডিত। সরকারি অনুদানে চলে তাঁর স্কুল। জানিয়েছেন, শিক্ষায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গোড়া মজবুত করতে সংস্কৃতের বিকল্প নেই। তাঁর কথায়, ‘‘স্কুলে সব বিষয়ই পড়ানো হয়। অন্যান্য ভাষাতেও ক্লাস হয়। তবে সংস্কৃতের চর্চা কিছু বেশি। আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকারা পড়ুয়াদের ছোট থেকেই এই ভাষায় স্বাবলম্বী করে তুলি। তাদের ফ্রিতে টিউশনও দেওয়া হয়।’’




মাট্টুর মানেই হল সংস্কৃত ভাষা চর্চার কেন্দ্র, ধ্রুপদী সঙ্গীতের আখড়া, বৈদিক সংস্কৃতের পীঠস্থান। নিজেদের গ্রামকে এ ভাবেই ব্যাখ্যা করেন গ্রামবাসীরা। এবং সরকারও। সালটা ১৯৮৩। সরকারি ভাবে মাট্টুরকে ‘সংস্কৃত গ্রাম’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভাষার বিপ্লব আনতে যিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁর নাম টিএন গিরিশ। সারদা ভিলসা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রায় ৩৫ বছর ধরে গ্রামের আনাচ কানাচে সংস্কৃতের বীজ বুনেছেন তিনি। যে ভাষা একসময় ছিল নিছক পৌরোহিত্যের ভাষা, উচ্চকোটির ব্রাহ্মণের একচ্ছত্র অধিকারের নিশানি, তাকেই ঘরে ঘরে সাবলীল কথ্য ভাষায় পরিণত করতে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি তাঁকে। ছাতার মতো পাশে পেয়েছিলেন সংস্কৃত ভারতীকে। এই প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে মৃতপ্রায় দেবভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে। সংস্কৃত ভারতীর চেয়ারম্যান চামু কৃষ্ণা শাস্ত্রীর উদ্যোগে মাট্টুরে চালু হয় সংস্কৃত ভাষার ক্লাস।

‘‘শুরুতেই সাফল্য পাইনি। অনেকেই মনে করেন সংস্কৃত ভাষা মৃতপ্রায়। মজার বিষয় হলো ভারতে এখনও সংস্কৃত ভাষাভাষীর সংখ্যা এক লক্ষের কাছাকাছি। বিশ্বব্যাপী প্রচার পাচ্ছে এই ভাষা। আমাদের গ্রামেও ধীরে ধীরে সংস্কৃত ভাষা সোনার খনিতে পরিণত হয়েছে,’’ জানিয়েছেন টিএন গিরিশ। তাঁর মতে, অনেকের কাছেই সংস্কৃত মানে আতঙ্ক। তাঁরা মনে করেন এটা শুধুমাত্রই পুজাপাঠের ভাষা। আড়ে বহরে ভারী, উচ্চারণে কঠিন। তবে মন দিয়ে এর স্বাদ নিতে থাকলে দেখা যাবে এই ভাষা যেমন তার ভাবে সুমধুর, তেমনি গাম্ভীর্যে অনন্য। বেদ, উপনিষদ, প্রাচীন পুঁথিপত্র থেকে মুখের বুলিতে সংস্কৃতকে স্বীকৃতি দিতে সময়টা তাই অনেক বেশিই লেগেছে বলে জানিয়েছেন গিরিশ।


২০১৮ সালের জুলাইতে মাট্টুরে গ্রাম পরিদর্শনে আসেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এখানকার সংস্কৃত চর্চা দেখে অভিভূত হয়ে তিনি টুইটারে লিখেছিলেন, ‘‘গ্রামের মানুষেরা নির্দ্বিধায় সংস্কৃতে কথা বলেন, জাতপাত, ধর্মের তোয়াক্কা না করেই।’’

মাট্টুরে যেমন কথায় ও লেখনীতে সংস্কৃতের চর্চা হয়, হোসাহাল্লিতে তেমনি হয় ধ্রুপদী সঙ্গীতের রেওয়াজ। কর্নাটকের প্রাচীন ইতিহাসকে গানের কথায় বিশেষত ধ্রুপদী সঙ্গীতের মোড়কে তুলে ধরার এই প্রথাকে বলে ‘গামাকা।’ এটি হোসাহাল্লির একটি প্রাচীন প্রথা। অনেকে বলেন ‘কাব্য বচন’, গীতিকারকে বলা হয় ‘গামাকি।’ গানের সুরে রাগের প্রাচুর্য। ‘গামাকি’ কিছুটা করে গানের সুর তোলেন, পাশে বসেই সেই কথাকে সরলভাবে বুঝিয়ে (‘ব্যাখ্যানা’) দেন অন্য একজন। সাধারণত ‘হরিশচন্দ্র কাব্য,’ ‘দেবী ভাগবত’-র মতো প্রাচীন কাব্য জায়গা করে নিয়েছে সঙ্গীতের এই ঘরানায়।



সংস্কৃত ভারতীর এক অধ্যাপকের কথায়, শুধু প্রাচীনত্বের জন্য নয়, জনপ্রিয়তার নিরিখেও সংস্কৃত ভাষা এখন আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশেষ করে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর কয়েক লক্ষ শব্দের ভাণ্ডার এসেছে এই প্রাচীন সংস্কৃত ভাষা থেকে। এর শিকড়ের সন্ধানে গবেষণা চলছে দেশে-বিদেশে। দৃষ্টান্তস্বরূপ জার্মানি। বর্তমানে জার্মানির ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রায় ১২০০টি স্কুলে সংস্কৃত পড়ানো হয়। আর সেটা পড়ানো হয় ঠিক বৈদিক যুগের একটা আবহে।


ভারতেও মোট ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে সংস্কৃত চর্চা করা হয়। যার মধ্যে—

১) রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত বিদ্যাপীঠ, তিরুপতি (অন্ধ্রপ্রদেশ), ২) রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত সংস্থান (প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়), নয়াদিল্লি, ৩) শ্রীভেঙ্কটেশ্বর বৈদিক ইউনিভার্সিটি, তিরুমালা, তিরুপতি (অন্ধ্রপ্রদেশ) ৪) কামেশ্বর সিং দারভাঙা সংস্কৃত ইউনিভার্সিটি, কামেশ্বর নগর, দারভাঙা (বিহার)৫) শ্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত বিদ্যাপীঠ, নয়াদিল্লি ৬) শ্রী শংকরাচার্য ইউনিভার্সিটি অব সংস্কৃত, কালাডি, এরনাকুলম ৭) শ্রী জগন্নাথ সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রীবিহার, পুরী ৮) জগদগুরু রামানন্দাচার্য রাজস্থান সংস্কৃত ইউনিভার্সিটি ৯) সম্পূর্ণানন্দ সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়, বারাণসী ১০) সোমনাথ সংস্কৃত ইউনিভার্সিটি, সোমনাথ, জুনাগড় (গুজরাট) ১১) উত্তরাখণ্ড সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়, হরিদ্বার ১২) কবিকুলগুরু কালীদাস সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়, রামটেক, নাগপুর ১৩) মহর্ষি পাণিনি সংস্কৃত ইবম বেদিক ইউনিভার্সিটি, উজ্জয়িনী (মধ্যপ্রদেশ, ১৪) কর্নাটক সংস্কৃত ইউনিভার্সিটি, চমরেন্দ্র সংস্কৃত মহাপাঠশালা, বেঙ্গালুরু ১৫) কুমার ভাস্কর বর্মা সংস্কৃত অ্যান্ড অ্যান্সিয়েন্ট স্টাডিজ ইউনিভার্সিটি, নলবাড়ি (অসম)।



সংস্কৃতের মতো সুপ্রাচীন ভাষাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে নরেন্দ্র মোদী সরকারও। সিবিএসই পাঠ্যক্রমে জার্মানের পাশাপাশি তৃতীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সংস্কৃতকেও।

সংস্কৃত গ্রাম হিসেবে মাট্টুর সরকারি শিলমোহর পেলেও, ভারতে আরও কয়েকটি গ্রাম রয়েছে যেখানে রীতিমতো সংস্কৃত চর্চা হয়।

দেখে নেওয়া যাক কী কী সেই গ্রাম—

প্রথমেই বলা যায় মধ্যপ্রদেশের ঝিরি গ্রাম। রাজগড় জেলার সারাঙ্গপুর তেহসিলের এই গ্রামের একটা বড় অংশ সংস্কৃতে কথা বলে। ১৬ বছর ধরে ঝিরিতে স্থানীয় ভাষার জায়গা দখল করেছে সংস্কৃত। ২০০২ সালে সংস্কার ভারতী এখানে ক্যাম্প, ওয়ার্কশপ করে।

ওড়িশার উপকূলবর্তী গজপতি জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সাসানা। গ্রামের অধিকাংশই ব্রাহ্মণ। ৫০টি পরিবারের প্রায় ৩০০ জন সদস্য নিয়মিত সংস্কৃতে কথাবার্তা চালান। সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার জন্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলও রয়েছে গ্রামে।

মধ্যপ্রদেশের কারেলি তেহসিলের বাঘুয়ার গ্রাম। সংস্কৃত এখানকার প্রথম ও প্রধান কথ্য ভাষা।

রাজস্থানের গানোরা গ্রাম। বাঁশওয়ারা জেলার ঘাটোল তেহসিলের এই গ্রামে এক সময় কথ্য ভাষা ছিল ওয়াগাড়ি। গ্রামে সংস্কৃত স্কুল তৈরির পর থেকে এখন আট থেকে আশির দেবভাষায় কথা বলতেই বেশি ভালোবাসেন।

মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার মোহাড় গ্রাম। প্রত্যন্ত এই গ্রামেও সংস্কৃত ভাষার চল রয়েছে। অধিকাংশ গ্রামবাসী তাঁদের কথ্য ভাষা ছাড়াও সংস্কৃতে পারদর্শী।

আসলে ভাষা বাঁচে ব্যবহারে। ভাষা তো বাহারি ঠুনকো গয়না নয় যে তাকে আতু-পুতু করে তুলোর আরামে বন্দি করে রাখতে হবে! ভাষা হচ্ছে শ্রমিক মানুষের মতো। তার পায়ে লাগবে ধুলো, তার গায়ে বইবে ঘাম, সে ইচ্ছে হলে একলহমায় ভারা বেয়ে উঠবে সাতমহলায়, আবার নামবে টালির ঘরে। যেখানে খুশি যেতে পারে যে-ভাষা, যেখানে খুশি কাজে লাগতে পারে যে-ভাষা সেই ভাষাই সজীব, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা। আদি ভাষা সংস্কৃতকে তাই সিন্দুকে বন্দি করে রাখা নয়, বরং মুখের ভাষাতেই বন্দি করে রেখেছে মাট্টুর-সহ দেশের এই প্রত্যন্ত কিছু গ্রাম। বোঝাতে চেয়েছে, প্রগতির সঙ্গে ধ্রুপদীয়ানার কোনও বিরোধ নেই, বরং ধ্রুপদী জ্ঞান আসলে প্রগতিরই অনুঘটক। আর সেখানেই তাদের মুন্সিয়ানা।

তথ্যসুত্রঃ চৈতালী চক্রবর্তী, দ্য ওয়াল


Share:

২৯ মে ২০১৮

সংস্কৃত কি ও কেন পড়বেন?

আমার আজকের পোস্টটাও সংস্কৃত সম্বন্ধে। অনেকটাই বড়, একটু ধৈর্য ধরে পড়তে হবে। আপনাদের ভাল লাগলে অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

                                                       সংস্কৃত কি ও কেন পড়বেন?
 
আপনি কি বাংলা বা ইংলিশ বা হিন্দি সাহিত্যের বা দর্শনের বা ইতিহাসের বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বা সমাজতত্ত্বের বা অর্থনীতির বা বিজ্ঞানের ছাত্র, শিক্ষক বা অধ্যাপক? স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়েন বা পড়ান?
আপনি কি নিজের সাব্জেক্ট ভালভাবে জানতে চান,বা নিজেকে পারফেক্ট্রূপে দেখতে চান (relative perfection), আপনার লেখালেখির মান উন্নত করতে চান?
অন্যদের কাছে বেশী গ্রহণযোগ্য হতে চান, তাহলে বন্ধু, সংস্কৃতভাষায় লেখা উক্ত সমস্ত বিষয়ে অনেক বই আছে। বইগুলো একটু পড়ে দেখুন। আশা করি আপনি হতাশ হবেন না।
(এটা সংস্কৃতের বিজ্ঞাপন নয়, প্রকৃত সত্য।)

                                                                                                         অনেকের একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে
সংস্কৃত একটা ভাষা। কিন্তু না বন্ধু,
সংস্কৃত শুধুই একটা ভাষা নয়, এটা আমাদের culture, আমাদের Identity,
আমাদের পরিচয়, আমাদের উপমহাদেশীয় জাতিসত্তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃত আমাদের গর্ব, সংস্কৃত আমাদের অলংকার, সংস্কৃত আমাদের অহঙ্কার,
আমাদের জীবনের অমৃত রসায়ন । এর রস একটু পান করে দেখুন আনন্দে বুঁদ হয়ে যাবেন। আমাদের প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ যেমন বলেছিলেন—

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি পৃথিবীর মুখ খুঁজিতে চাই না আর
তেমনি আপনিও বলবেন—
সংস্কৃতের রস আমি পান করিয়াছি , অন্য রস খুঁজিতে চাই না আর।

অন্য সকল জাতির পূর্বপুরুষেরা যখন বনে-বাদাড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াতেন,
তখন আমাদের পূর্বপুরুষেরা পৃথিবীর সর্বপ্রথম সাহিত্য ও দর্শনের উন্নত গ্রন্থ বেদ লিখে ফেলেছেন। গণিত,
জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র প্রভৃতির অনেক উন্নত চর্চা আমাদের মুনিঋষিরা করে গেছেন। পৃথিবীর সর্বপ্রথম ভাষাতত্ত্বের ও ব্যাকরণের গ্রন্থ আমাদের মনীষীদেরই রচনা। আচার্য পাণিনির ব্যাকরণ কতটা scientific তা আমরা জানি, কিন্তু আমাদের তো নিজেদের ভালটাকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবার স্বভাব আছে, যে পর্যন্ত বিদেশীরা স্বীকৃতি না দেবে, সেই পর্যন্ত আমরা তার দাম দিই না।
ঠিক আছে—আমি সেই সার্টিফিকটটাই (মূল্যায়ন) আপনাদের দেখাই---

the grammar of Panini—is one of the greatest monuments of human intelligence.’’ (Leonard Bloomfield)
—the earliest scientific work in any language any Indo-European language.’’
(Prof. R.H. Robins)

‘‘What is more, it seems that even Panini’s grammar can be interpreted as a fragment of such a ‘generative grammar’ in essentially the contemporary sense of this term.’’ (Noam Chomsky)

(সংস্কৃতে লেখা বইয়ের উপর বিদেশী স্কলারদের অসংখ্য এত ভাল ভাল সার্টিফিকেট (মূল্যায়ন) আছে যে, যারা সংস্কৃতকে অবজ্ঞা করেন,
তারা উপমহাদেশীয় হিসাবে লজ্জা পাবেন। )

আপনি কি নাস্তিক? তাহলে বেদ-উপনিষদগুলি একবার পড়ে দেখুন তো?
না না, আপনার ভয় নেই, আপনি নাস্তিকই থাকবেন, কিন্তু আপনার দৃষ্টিভঙ্গী আরো স্বচ্ছ হবে।
আপনি যদি আস্তিক হন, তাহলে বেদ-উপনিষদ-গীতা, রামায়ণ, মহাভারত পড়া ছাড়া আপনার অন্য কোন বিকল্প নেই।
আপনি কি ডাক্তারি পড়েন বা করেন বা মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে গবেষণা করেন বা কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়েন বা গবেষণা করেন? তাহলে কষ্ট করে একবার আমাদের চরকসংহিতা, সুশ্রুতসংহিতা এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থগুলি একবার পড়ে দেখুন । অঙ্ক নিয়ে যাদের কারবার তাঁরা ব্রহ্মগুপ্ত, ভাস্করাচার্য, শ্রীধরাচার্য প্রমুখের গ্রন্থ পড়ে দেখুন। আর যদি আর্কিটেক্চার নিয়ে কাজকর্ম করেন তাহলে আমদের প্রাচীন বাস্তুশাস্ত্রের বইগুলি পড়ে দেখুন। আশা করি আপনারা নিরাশ হবেন না। এই প্রসঙ্গে আপনাদের একটা তথ্য দিচ্ছি--
আপনারা নিশ্চয়ই বিখ্যাত বাঙ্গালী বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের নাম জানেন, যাঁর অনেক বিখ্যাত গবেষণা এবং উদ্যোগ বাংলার অনেক উন্নতি সাধন করেছিল সেই প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি টানা ১৫ বছর নিবিষ্টচিত্তে সংস্কৃত পড়েছেন এবং প্রাচীন রসায়ন শাস্ত্রের অনেক গ্রন্থের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন। তিনি ২০০-এর বেশী রসায়ন শাস্ত্রের গ্রন্থের কথা বলেছেন।

যারা ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব নিয়ে পড়ছেন বা পড়াচ্ছেন বা গবেষণা করছেন তাঁরা মহাভারত, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, কামন্দকীয় নীতিসার, নীতিবাক্যামৃত, শুক্রনীতিসার, মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা, পরাশর সংহিতা, বৃহস্পতি সংহিতা, বিদূরনীতি ইত্যাদি গ্রন্থ থেকে অনেক তথ্য পেতে পারেন।

যারা রাজনীতি করেন, নেতা-মন্ত্রী হন, দেশ চালান, তাদের আমি অনুরোধ করব—আপনারা উক্ত বইগুলি পড়ে দেখুন,আপনারা যে পদ্গুলিতে আসীন আছেন সেই পদের গুরুত্ব, সেই পদলাভের যোগ্যতা, কাজের ধরণ, কি কি Moral code of conduct মেনে চলতে হয়, তা যদি আপনারা অনুসরণ করেন, তাহলে সাধারণ পাবলিক আপনাদের salute জানাবে।
যারা কাব্যতত্ত্ব ও নাট্যতত্ত্ব চর্চা করেন, তাদের তো সংস্কৃত কাব্যতত্ত্ব ও নাট্যতত্ত্ব আরো ভাল করে পড়তে হবে। দীর্ঘ প্রায় ২০০০ বছর ধরে সংস্কৃতে এর আলোচনা হয়েছে। আমি কয়েকটি গ্রন্থের নাম উল্লেখযোগ্য করছি—
ভরতের নাট্যশাস্ত্র, ধনঞ্জয়ের দশরূপক, সাগরনন্দীর নাটকলক্ষণরত্নকোষ, আনন্দবর্ধনের ধ্বন্যালোক, দন্ডীর কাব্যাদর্শ, মম্মটের কাব্যপ্রকাশ, বিশ্বনাথের সাহিত্যদর্পণ, রাজশেখরের কাব্যমীমাংসা, কুন্তকের বক্রোক্তিজীবিত, জগন্নাথের রসগঙ্গাধর ইত্যাদি।
যারা দর্শন নিয়ে পড়াশুনা, গবেষণা বা শিক্ষকতা করেন, তাদের তো original সংস্কৃতে লেখা বই পড়তে হয়। যেমন—তর্কসংগ্রহ, ভাষাপরিচ্ছেদ, সাংখ্যতত্ত্ব কৌমুদী, সাংখ্যপ্রবচনভাষ্য, যোগসূত্র, বেদান্তসার, ব্রহ্মসূত্র-শাঙ্করভাষ্য প্রভৃতি। তাঁদের অনেকেরই কেবলমাত্র বাংলা বা ইংরেজি অনুবাদের উপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। ফলে মূলের রস তারা পান না।

আপনারা কি জানেন—যাকে এতদিন আমরা শুধুই ধর্মগ্রন্থরূপে মেনে এসেছি, সেই ‘গীতা’ নিয়ে এখন নতুন করে চিন্তা-ভাবনা চলছে—
কীভাবে আধুনিক ম্যানেজমেন্টে গীতার উপদেশ কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে?
যে কোন আকর গ্রন্থের বৈশিষ্টই তাই। যুগে যুগে মানুষের প্রয়োজনে তার নতুন করে মূল্যায়ন হয়, মানুষ তা থেকে বাঁচার রসদ খুঁজে পায়। সেইজন্য ক্লাসিক গ্রন্থ এবং প্রাচীন সংস্কৃতির নিত্য নতুন আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজন।
.
সংস্কৃত আমাদের জীবনে যে কতটা প্রয়োজনীয় সেই সম্বন্ধে আপনাদের কিছু তথ্য দিচ্ছি—
আপনি হয়তো কোন প্রিয়জনের শোকে মুহ্যমান, একটু থিতু হয়ে গীতার সাংখ্যযোগ, জ্ঞানযোগ অধ্যায় দুটি একটু মনোযোগ দিয়ে পাঠ করুন, দেখবেন আপনার এক অনির্বচনীয় অনুভূতি হবে। আপনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে গেছেন। শুধু তাই নয়, আপনার ভিতরেও অনেক পরিবর্তন আসবে যেটা সারা জীবন আপনাকে হিতাকাঙ্ক্ষী অভিভাবকের মতো গাইড করবে। মনে যে কোন ধরণের অশান্তি এলে গীতা-উপ নিষদ একাগ্রচিত্তে পাঠ করলে মন শান্ত হয়। এটা শুধু আমার একার কথা নয়, এটা অনেক মনীষীর উপলব্ধি।

জ্ঞানের কোন জাত নেই, ধর্ম বা সম্প্রদায়ও নেই। জ্ঞানে সকলের সমান অধিকার। তাই যে কোন লোক এই বইগুলি পড়তে পারে। পড়ে দেখুন উপকার ছাড়া অপকার হবে না। original সংস্কৃতে এবং যথাযথ উচ্চারণ করে পাঠ করলে দেখবেন মনে কি নিবিড় প্রশান্তি! আপনি হয়তো ঝিমিয়ে পড়েছেন, কাজে উৎসাহ পাচ্ছেন না, এনার্জি লস, আপনি শ্রী শ্রী চন্ডী পড়ুন, বা ঋগ্বেদের বাক্ সূক্তের মন্ত্রগুলি জোরে জোরে পাঠ করুন, দেখবেন আপনার সমস্ত জড়তা কেটে গেছে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে Music therapy, Counselling এর কার্যকারিতা এখন স্বীকার করা হয়। আমাদের বেদ,
উপনিষদ, গীতা এবং অন্যান্য অনেক গ্রন্থে যে সমস্ত মন্ত্র এবং শ্লোক আছে সেগুলির ছন্দ এবং ধ্বনিমাধুর্য অপূর্ব। এগুলির যথাযথ আবৃত্তির মাধ্যমে সেই therapy-র কাজ করা যেতে পারে।

ভাবছেন আমি কায়দা করেআপনাদের সংস্কৃত পড়ার জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করছি? তা কিন্তু একেবারেই নয়। শব্দের যে অপরিমেয় শক্তি আছে তা আমাদের প্রত্যক্ষ-লব্ধ জ্ঞান। আপনি যদি সুন্দর করে কথা বলেন, প্রিয় কথা বলেন,
দেখবেন আপনি নিজেও অন্য সকলের প্রিয় হয়ে গেছেন।
এই শব্দশক্তির বা বাক্ শক্তির গূঢ় রহস্যের কথা আমাদের দার্শনিক এবং বৈয়াকরণরা সবিস্তারে বলে গেছেন। আমি কয়েকটি লাইন আপনাদের বলছি—

‘’ইদমন্ধংতমঃ কৃৎস্নং জায়েত ভুবনত্রয়ম্।
যদি শব্দাহ্বয়ং জ্যোতিরাসংসারং ন দীপ্যতে।।
(কাব্যাদর্শ/১ম পরিচ্ছেদ)

(এই ত্রিভুবন ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকত, যদি শব্দরূপ জ্যোতি সমগ্র সংসারকে আলোকিত না করত।)

গৌর্গৌঃ কামদুঘা সম্যক্ প্রযুক্তা স্মর্যতে বুধৈঃ।
দুষ্প্রযুক্তা পুনর্গোত্বং প্রযোক্তুঃ সৈব শংসতি।।
(কাব্যাদর্শ/১ম পরিচ্ছেদ)

(বুধগণ বা পন্ডিতগণ সম্যক্ভাবে প্রযুক্ত শব্দ বা বাক্ -কে কামধেনুর মত মনে করেন। অর্থাৎ শব্দ ঠিক ঠিক ভাবে প্রয়োগ করলে তা থেকে অভীপ্সিত অর্থ লাভ করা যায়। আবার, এই শব্দই যদি ঠিকভাবে প্রয়োগ করা না হয়,
তাহলে বক্তার মূর্খতাই প্রতিপাদন করবে। )

আচার্য ভর্তৃহরি শব্দ নিয়ে অনেক গভীর দার্শনিক আলোচনা করেছেন। তাঁর বাক্যপদীয় গ্রন্থটি অনেক দার্শনিক, বৈয়াকরণ ও ভাষাতত্ত্ববিদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। এখনও এই বই নিয়ে গবেষণা চলছে।
কেউ বলেন—সংস্কৃত dead language, কেউ বলেন— living language, আমি বলি সংস্কৃত নিয়ে তর্ক করো না। সংস্কৃত ভারতের আত্মা (Soul), সংস্কৃত ভারতের চেতনা (conciousness) । সংস্কৃত ছাড়া ভারতবর্ষ অস্তিত্বহীন। আপনারা অনেকেই জানেন ভারতবর্ষকে ভালবেসে কত বিদেশী মনীষী সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিসের জন্য?
ভারতবর্ষে কী ছিল যার জন্য তাঁদের এই আত্মত্যাগ? তাঁদের জীবনব্যাপী নিরলস সাধনা? কীসের জন্য? তা হল—
ভারতবর্ষের সংস্কৃতি যা সংস্কৃতে বিধৃত।

ভারতবর্ষের প্রাচীন মুনি-ঋষিরা সুদীর্ঘকাল যাবৎ কঠোর তপস্যায় জগৎ ও জীবনের যে সুগভীর সত্য উপলব্ধি করেছিলেন, তাই সংস্কৃত ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন। যুগে যুগে সেই জীবন সত্যের সন্ধান পেতে বিদেশী পর্যটকরা এসেছেন। নিজেদের দেশে নিয়ে গেছেন আমাদের পূর্বপুরুষদের সত্যসন্ধানী আলো। এর দ্বারা তাঁরা জীবন-পথের দিশা খুঁজে পেয়েছেন।

বিশ্বমানবতাবাদ- প্রতিষ্ঠা, মানুষে মানুষে মৈত্রীস্থাপন, সমগ্র জীবজগৎ ও জড়জগৎ-এর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কস্থাপন, এককথায় সমস্ত বিশ্ববাসীর কল্যাণসাধন ভারতবর্ষের চিরন্তন সাধনা। আমাদের উপনিষদে বার বার এই কথাই ধ্বনিত হয়েছে। আমরা আমাদের গৌরবময় অতীতকে ভুলেছি বলেই আজ আমাদের এই দুর্দশা। আমাদের নীতি-নৈতিকতা আজ তলানিতে ঠেকেছে। আমাদের সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। আমরা মানবিক গুণগুলি হারিয়ে ফেলছি। সমাজের creamy layer বলে যারা সম্মানিত তাঁরাও আজ অবক্ষয়ের শিকার। এই চোরাবালিতে পড়ে আমরা যেন অসহায়ভাবে নিজেদের ধ্বংস নিজেরাই দেখতে পাচ্ছি।
এই অবস্থায় একমাত্র প্রতীকার হতে পারে যদি কালবিলম্ব না করে সংস্কৃতের ব্যাপক চর্চা শুরু করা যায়। আসুন না আমরা সবাই মিলে একটু চেষ্টা করি—
সংস্কৃত পড়ে জীবনে তার প্রয়োগ করে নিজেদের এবং সমাজকে একটু বদলাতে পারি কি না। সবশেষে প্রার্থনা করি—

‘’সমানী ব আকূতিঃ সমানা হৃদয়ানি বঃ।
সমানমস্তু বো মনো যথা বঃ সুসহাসতি।।"
(ঋগবেদ—সংজ্ঞানসূক্ত)

(তোমাদের অভিপ্রায় এক হোক, অন্তঃকরণ এক হোক, মন এক হোক, তোমরা যেন সর্বাংশে সম্পূর্ণরূপে একমত হও।)

ধন্যবাদন্তে--
শ্রী লিটন দে
সংস্কৃত বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
Share:

২০ মে ২০১৭

পৃথিবীর ১ম ভাষা কি সংস্কৃত ?

“এটি একটি অত্যন্ত বিশ্ময়কর আবিষ্কার । ভারতবর্ষ, যেখানে অনেক দিগ্বিজয়ী এবং মহান মুনীগন তাদের পদচিহ্ন রেখে গেছেন কিন্তু সময় এবং প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর আদি এই ভাষা এখনও স্বমহিমায় উজ্জ্বল । এই ভাষা সকল ভাষার জনক এবং ইউরোপিয়ানরা যাকে “ক্লাসিক্যাল” এর উৎস নামে জানে । যেটির দর্শন অতি উন্নত, যে ভাষা মহাজাগতিক হিসাব নিকাশ সমাধানের ক্ষমতা রাখে ।” – রয়েল এসিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত উপরোক্ত বক্তব্যে যে ভাষার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে দৈবী ভাষা ‘সংস্কৃত’ ।


 “অরিজিন অব হিউমেন স্পিস এন্ড এফলপাকেট নামক গ্রন্থে বিখ্যাত ভাষাবিদ মরিস ফিলিপ বলেছেন, “ভাষাতত্ত্বের ইতিহাস এবং ধবনিতত্ত্বের উপর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে আমরা এ কথা দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করিতে পারি যে, “ঋগবেদ” হচ্ছে সবচেয়ে প্রাচীন শুধুমাত্র আরিয়ান গোষ্টির জন্য নয়, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য সত্য ।”

সুতরাং উপরোক্ত বক্তব্যে আমরা এই কথা বলতে পারি যে, ঋগবেদ হচ্ছে ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত প্রথম এবং প্রধান ধর্মগ্রন্থ । ঋগবেদ যেহেতু ভগবান প্রদত্ত তাই এটি ত্রুটিহীন । এছাড়া বহু পাশ্চাত্য ভাষাবিদ বিজ্ঞানীগন বেদ এবং সংস্কৃত ভাষাকে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন শাস্ত্রীয় ভাষা বলে স্বীকার করেছেন ।
সর্বপ্রথম ভাষার উৎস সন্ধানে গবেষনা করেন ডেনমার্কের ভাষাতত্ত্ববিদ রাসমাস রাসক(১৮১৮), জার্মানীর ফ্যাঞ্জ বোপ(১৭৯১-১৮৩৭), ফিক এস্ট, জেকব গ্রীম সহ আরো অনেকে । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯১৪ সালে । সে বছর থমাস ইয়ং ঘোষনা করেন যে, পৃথিবীর সকল ভাষা মূলত ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এসেছে ।


 পরবর্তীতে আধুনিক ভাষাবিদদের মতে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা গোষ্টি মূলত একটি মাত্র প্রোটো ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এসেছে এবং তারা গবেষণা করে মত প্রকাশ করেন যে, এই প্রোটো ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার উৎপত্তি এশিয়া তথা এশিয়া মাইনরে এবং এটি ৭০০০ খ্রীষ্টপূর্বেও ব্যবহৃত হত । এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভাষাতত্ত্ববিজ্ঞানীরা কিভাবে বুঝলেন যে , সকল ভাষা মূলত একটি ভাষা হতে এসেছে । প্রথমত বিজ্ঞানীরা সক্ল ভাষার মধ্যে কিছু একই ধরনের শব্দ পরিলিক্ষিত করলেন । এছাড়া তাঁরা শব্দের উৎস, ধ্বনিগত জ্ঞান ও ভাষার চারিত্রিক পরিবর্তন সবকিছু গবেষনা করে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন যে একটি ভাষার ইভালুয়েশনের মাধ্যমে অন্যান্য ভাষা এসেছে ।


গত শতাব্দীতে এশিয়ামাইনরে অবস্থিত তুর্কিস্থানে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি প্রাচীন শাস্ত্রলিপি আবিষ্কার করেন যা আনুমানিক ৬৫০০ খ্রীষ্টপূর্বের । আশ্চর্যের বিষয় ছিল যে, সেসকল শাস্ত্রে চাকা নির্মিত রথ, পশুপালন এর কথা উল্লেখ আছে, যা মূলত বেদের কৃষি-গোরক্ষা-বাণিজ্য নীতির সম্পূরক । পশ্চিমা ভাষাতত্ত্ববিদগণ বলেছেন যে, সংস্কৃত ভাষাই হচ্ছে সেই আদি অর্থাৎ প্রোটো ইন্দোইউরোপিয়ান ভাষা, যা ইন্দো উপত্যকার নিকটবর্তী অঞ্চলের মানুষেরা ব্যবহার করত ।(Source : Dravidian Origin)
গবেষকগণ বলছেন যে, ইন্দোঅঞ্চলের প্রাচীন লোকসমূহ অতি পূর্বে বর্তমান ভারতের স্বরস্বতী নদীর তীরে বাস করতেন । প্রায় ৬০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের তারা সেখানে বৈদিক সমাজ ব্যবস্থা চালুকরে । পরে সমগ্র পৃথীবীতে তাদের বিস্তৃতি ঘটে এবং সেই সাথে ভাষা হিসেবে সংস্কৃত ভাষা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে । বৈদিক যুগের কয়েকটি আর্কিটেকচার দেখে ধারণা করা যায় যে এগুলো ছিল অতি প্রাচীন সময়ের এবং সেই সাথে সেই সব আর্কিটেকচারে সংস্কৃত মন্ত্রসমূহ খোদাই করে দেখে ধারণা করা যায় যে, সংস্কৃত অতি প্রাচীন ভাষা ।

অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, সংস্কৃত ভাষা সর্বস্তরের মানুষ ব্যবহার করত না । কেবল উচ্চ স্তরের ব্রাক্ষ্মণ সম্প্রদায়রাই কেবল এই ভাষা ব্যবহার করত । অন্যান্যরা প্রাকৃত ভাষা ব্যবহার করতেন । ১৯৮০ সালের ৯ জুলাই তারিখের “টাইমস অব ইন্ডিয়া” পত্রিকায় প্রকাশিত পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সকল স্তরের এমনকি সমাজের নিম্নবর্ণের মানুষেরাও তখন সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করত । এখনও হিমালয়ে পাটান উপত্যকার নিকটে “চিনাল” নামক এক আদিবাসী সম্প্রদায় বাস করে যারা বৈদিক যুগ থেকে এখনও শুধুমাত্র সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করছে । এছাড়া “লোহার” নামক অন্য এক কামার সম্প্রদায়ও এখনো সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করছে ।
বিশ্বসেরা “এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটিনিকা” এর সংস্কৃত নামক অধ্যায়ে লেখা রয়েছে যে, উইলিয়াম স্মিথ এবং অন্যান্য গবেষকগণ মন্তব্য করছেন যে, “সংস্কৃতই হচ্ছে প্রথম ভাষা, যা ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত” ।


লেখক ডেবিড ড্রিংগার তার রচিত “দি এলফাবেট” নামক গ্রন্থে দেখিয়েছেন কিভাবে প্রত্যেকটি ভাষার ধ্বনিসমূহ মূলত একটি ধ্বনি বা বর্ণ থেকে এ
সেছে । এই গ্রন্থে তিনি প্রতিপন্ন করেছেন যে, মূলত সংস্কৃত বর্ণই পরবর্তীতে বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন ভাষায় প্রবেশ করেছে । (Source : Dravidian Origin)
আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (AL) নামক বিখ্যাত ম্যাগাজিনে নাসা গবেষক রিক ব্রিগস বলেছেন, “বিগত ত্রিশ বছর যাবৎ আমরা কম্পিউটার প্রসেসিং করার উদ্দেশ্যে একটি প্রাকৃতিক ভাষার সন্ধানে বহু সময়, অর্থ, শ্রম দিয়েছি ।

 অবশেষে প্রায় ১০০০ বছরের প্রাচীন একমাত্র সংস্কৃত ভাষাই আমাদের প্রচেষ্ঠাকে সফল করেছে । সাম্প্রতিক তথ্যমতে, নাসার বিজ্ঞানীগণ খুব শীঘ্রই ৬ষ্ঠ প্রজন্ম এবং ৭ম প্রজন্মের দ্রুত গতির সুপার কম্পিউটার নির্মাণ করতে যাচ্ছে যেটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করা হবে সংস্কৃত ভাষা দিয়ে । এই প্রজেক্টটি কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে (৬ষ্ঠ প্রজন্ম), এবং ২০৩৪ সালে (৭ম প্রজন্ম), পৃথিবীর বহু ভাষাবিদগণ ধারণা করছেন যে, নাসা এই প্রকল্প শেষ করার পর পৃথিবীতে সংস্কৃত ভাষা তুমুল জনপ্রিয় হবে এবং একটি বৃহৎ পূর্ণজাগরণ ঘটবে । নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, সংস্কৃত ভাষায় তৈরি ঐ সকল বৈদিক শব্দসমূহ জাদুর মত কাজ করবে ।”

এবার আমরা কয়েকটি ইংরেজী শব্দের উৎস সম্পর্কে জানব । যেমন – সংস্কৃত ‘মাতৃ’ শব্দটি গ্রীক ভাষায় ‘মাতির’ রূপ ধারণ করে এবং পরবর্তীতে সেটি ইংরেজী ‘মাদার’ (Mother) এ পরিবর্তিত হয় । এখানে আশ্চর্যের বিষয় এই তিনটি ভাষাতেই মাতৃ, মাতির বা মাদার একই অর্থ প্রকাশ করছে । এছাড়া বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড ডিকশেনারীতে একটি ইংরেজী শব্দ Garish এর অর্থ বলা হয় excessively bright in color, ঠিক একই গৌর (Goudy) সংস্কৃত শব্দটি ও উজ্জ্বলতা অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, এছাড়া সংস্কৃত ‘ভ্রাতা’ শব্দটি পরবর্তীতে ইংরেজীতে ‘ব্রাদার’ শব্দে রূপান্তরিত হয় ।

পরিশেষে বলছি, এখনও যাদের উক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে তারা ফিলোসোপিক্যাল রিসার্স সোসাইটির বিখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ডেন ব্রাউন কর্তৃক পরিবেশিত একটি প্রতিবেদন অবলোকন করতে পারেন ।

ব্রাউজ করুন http: //www.dailymotion.com/video/x44sh thinking-allowed-sanskrit-tradition
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংস্কৃত ভাষাকে নিয়ে বহু বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে । যেমন – আমেরিকান সংস্কৃত ইনস্টিটিউটসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কৃত ভাষা চর্চা করে যাচ্ছেন । তথ্যসূত্র – ইন্টারনেট, জার্নাল ।

শ্রীল প্রভুপাদ - “সংস্কৃত হচ্ছে সকল ভাষার মাতা । স-ং-স-কৃ-ত, শব্দটি অর্থই হচ্ছে ‘ভাষা’ । অতএব এটিই হচ্ছে প্রকৃত ভাষা যা শুধুমাত্র এই গ্রহেই নয়, সমগ্র ব্রক্ষ্মান্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে ।”

সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ইংরেজি ভাষার ক্ষুদ্র তালিকা:

Matar – মাতা, Mother - মাদার
Pitar – পিতা, Father - ফাদার
Bhrater – ভ্রাতে, Brother - ব্রাদার
Svasar – স্বসা, Sister - সিস্টার
Gyamati – জ্যামিতি, Geometry - জিওমেট্রি
Trikonmati – ত্রিকোণমিতি, Trigonometry – ত্রিগোণমিতি
Dvaar – দ্বার, Door - ডোর
Namaa – নাম, Name - নেইম
Path – পথ, Path - পাথ
Charitra – চরিত্র, Character – ক্যারেক্টার
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত আরবি ভাষার ক্ষুদ্র তালিকা
Namas – নাম, Namaz - নামাজ
Rama-dhyana – রামধন, Ramadan - রমজান
Garbha – গর্ব, Kaba - কাবা
Isa-alayam – ইসা আলাম, Islam - ইসলাম
Shraddhaa – শ্রদ্ধা, Shahada - শাহাদা
Makkheshvar – মক্কাশ্বর, Makkah - মক্কা
সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ইংরেজি বার মাসের নাম
The Seventh Month – Saptan, September
The Eight Month – Astan, October
The Ninth Month – Navan, November
The Tenth Month – Dasha, December


Share:

১৮ মে ২০১৭

সংস্কৃত প্রাথমিক বার্তালাপ (৫০টি বাক্য)


১। * আপনি কেমন আছেন ?
ভবান্ কথম্ অস্তি ? (পুরুষ লিঙ্গে)
ভবতী কথম্ অস্তি ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
২। * ভাল আছি।
কুশলী অস্মি। (পুরুষ লিঙ্গে)
কুশলিনী অস্মি। (স্ত্রী লিঙ্গে)
৩। * আপনার নাম কি ?
ভবতঃ নাম কিম্ ? (পুরুষ লিঙ্গে)
ভবত্যাঃ নাম কিম্ ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
৪। * আমার নাম মাধব/রাধিকা।
মম নাম মাধবঃ/ রাধিকা।
৫। * আমি অভয়/গীতা।
অহং অভয়ঃ/গীতা।
৬। * সে কে ?
সঃ কঃ ? (পুরুষ লিঙ্গে)
সা কা ? (স্ত্রী লিঙ্গে)
৭। * সে রাতুল/সরস্বতী।
সঃ রাতুলঃ/সা সরস্বতী।
৮। * আজ কি বার ?
অদ্য কঃ বাসরঃ ?
৯। * আজ বৃহস্পতিবার।
অদ্য গুরুবাসরঃ।
১০। * কি করছো ?
কিম্ করোসি ?
১১। * আমি পড়ছি।
অহং পঠামি।
১২। * ঐটি কি ?
তৎ কিম্ ?
১৩। * ঐটি বই।
তৎ পুস্তকম্।
১৪। * এই আমার বন্ধু।
এষঃ মম মিত্রং।
১৫। * এই আমার বান্ধবী।
এষা মম সখী।
১৬। * আপনি কি পড়েন ?
ভবান্ /ভবতী কিং পঠতি ?
১৭। * আমি বিজ্ঞান পড়ি।
অহং বিজ্ঞানং পঠামি।
১৮। * কি খবর ?
কঃ বিশেষঃ ? কা বার্তা ?
১৯। * আপনি কোথায় যাচ্ছেন ?
ভবান্ /ভবতী কুত্র গচ্ছতি ?
২০। * কখন ?
কস্মিন্ সময়ে ?
২১। * দেরি কেন ?
কিমর্থং বিলম্বঃ ?
২২। * এটির উত্তর লিখ।
এতস্য উত্তরম্ লিখতু।
২৩। * আমি অফিসে যাচ্ছি।
অহং কার্যালয়ং গচ্ছামি।
২৪। * তোমার যা ইচ্ছা।
যথা ভবান্ ইচ্ছতি।
২৫। * এখন ?
ইদানীং কিম্ ?
২৬। * সে কখন যায় ?
সঃ কদা গচ্ছতি ?
২৭। * চিন্তা করো না।
চিন্তা মাস্তু।
২৮। * সীতা পড়ছে ।
সীতা পঠতি
২৯। * তুমি পড়ছো।
ত্বং পঠসি।
৩০। * হাঁ, তা ঠিক।
আম্, তৎ সত্যম্।
৩১। * ভুলো না।
ন বিস্মরতু।
৩২। * রামনাম অতি মধুর।
রামনাম অতি মধুরং।
৩৩। * আমাকে চেন ?
মাম্ জানাসি ?
৩৪। * কে বলছেন ?
কঃ সম্ভাষণং করোতি ?
৩৫। * আমি শিশির বলছি।
অহং শিশিরঃ বদামি।
৩৬। * প্রফুল্ল ঘরে আছে কি ?
প্রফুল্লঃ গৃহে অস্তি কিম্ ?
৩৭। * আপনার জীবন শুভ হোক।
ভবতঃ জীবনম্ শুভময়ং ভবতু।
৩৮। * চেষ্টা করব।
প্রযত্নং করোমি।
৩৯। * আজ আপনার কি কাজ ?
অদ্য ভবতঃ কার্যক্রমঃ কঃ ?
৪০। * বন্ধু, কলমটি দাও।
লেখনীং দদাতু মিত্র।
৪১। * আমি জানি না।
অহং ন জানামি।
৪২। * তারপর ?
অথ কিম্ ?
৪৩। * ওটা বল না।
তথা ন বদতু।
৪৪। * তাই হোক।
তথৈব অস্তু।
৪৫। * এটি কি ?
ইদং কিম্ ?
৪৬। * এটি খেলার মাঠ।
ইদং ক্রীড়াঙ্গণং।
৪৭। * তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।
শীঘ্রং প্রত্যাগচ্ছতু।
৪৮। * কোলাহল কর না।
কোলাহলং মা করোতু।
৪৯। * বাতি জ্বালাও।
দীপং জ্বালয়তু
৫০। * বাতি নেভাও।
দীপং নির্বাপয়তু।
সংকলন করেছেন:- রঞ্জন রাসেশ্বর দাস
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।