• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

নীতিশিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নীতিশিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০৯ জুলাই ২০১৭

নারদ ও এক শিকারী

ভগবানের নাম জপ করতে করতে নারদ মুনি একদিন গঙ্গায় স্নান করার জন্য বনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন এই সময় তিনি এক বীভৎস দৃশ্য দেখতে পেলেন।
নারদ মুনি - কে ভগবানের সৃষ্টির এই অবস্থা করলো? নিশ্চয়ই কোন দুর্বুদ্ধি বোকা এই ভয়ানক পাপ কর্ম করেছে! কিছু আত্মা প্রাণীদের উপর এমন অত্যাচারের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারময় তৈরী করছে! ---- নারদ মুনি কৃষ্ণ কর্তৃক প্রদত্ত তাঁর দিব্য বীণাতে টঙ্কার দিলেন আর তাতে সমস্ত পশুরা সেই স্থান পরিত্যাগ করলো।
শিকারী - এটি কিসের শব্দ? এটি কি ঘটছে? আমার সমস্ত পশুরাই এই স্থান থেকে চলে গেল।
নারদ মুনি - শিকারী, আমি তোমার কাছেই এসেছিলাম।
শিকারী - তুমি কে? আমি তো তোমার মত কাউকে চিনি না, তুমি আমার কাছে কি চাও?
নারদ মুনি - আমি নারদ, আমি তোমার কাছে এসেছিলাম যদি তুমি আমাকে আমার পথ চিনতে সাহায্য কর।
শিকারী - আমি একজন শিকারী আর তুমি কিনা আমার সমস্ত বন্দী পশুকে তাড়িয়ে দিলে, তুমি কেন এমন করলে?
নারদ মুনি - আমি যখন এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম যে এই সমস্ত পশু যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। এই হীন, পাপ কার্য কে করেছে?
শিকারী - পাপ কাজ! তুমি এসব কি বলছ?. আমিই তো এসব করেছি, এ সব কিছুই সঠিক আছে।
নারদ মুনি - তুমি এই দুর্বল খরগোশটিকে অর্ধমৃত কর রেখেছ আর বলছ এসবই সঠিক?
শিকারী - প্রভু, এতে পার্থক্য কোথায়, আমার পিতাই এই শিক্ষা প্রদান করেছেন, আর যখন আমি কোন খরগোশকে মৃত্যু যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে দেখি, তা আমাকে আরো বেশি আনন্দ দান করে।
নারদ মুনি - শিকারী আমি তোমার কাছে শুধু একটি জিনিসই চাই, বল তুমি আমাকে তা দান করবে।
শিকারী - আপনি কি কোন কিছু পুষতে চান? আপনি আমার বাড়িতে চলুন আমি আপনাকে হরিণ, বাঘ, যা চান না কেন তাই দিয়ে দিব।
নারদ মুনি - আমার এইসব কিছুই চাই না। আমি শুধু চাই যে, তুমি পশুদেরকে এভাবে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে রেখ না। তোমায় কষ্ট ভোগ করতে
শিকারী - কিন্তু, আমি এই কষ্ট ভোগ করতে পারবনা।
নারদ মুনি - কিন্তু এটাই ঘটবে। তোমাকে প্রত্যেক পাপ কর্মের জন্য তার ফল ভোগ করতেই হবে।
শিকারী - হে প্রভু, আমি তাহলে কিভাবে এই পাপময় কর্ম থেকে মুক্তি পেতে পারি? আমি আপনার কাছে এই মিনতি নিবেদন করছি, দয়া করে আমাকে এই অবস্থায় বিপদ থেকে রক্ষা করুন। আমাকে পথ প্রদর্শণ করান।
নারদ মুনি - আমি তোমাকে প্রকৃত পথ দেখাতে পারি, কিন্তু তোমাকে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
শিকারী - অবশ্যই প্রভু, আমি তা থেকে বিরত হবো না।
নারদ মুনি- তাহলে প্রথমেই তুমি তোমার ধনুক ভেঙ্গে ফেল।
----- শিকারী তার ধনুক ভেঙ্গে ফেলে সেই শিকারীটি এবার নারদ মুনির নির্দেশনা শুনতে লাগল। সে তার সমস্ত বল, সম্পদ-সমৃদ্ধি ফেলে মাত্র একটি বসন পরে নারদের কাছে আসল।
শিকারী - আমার অতীত ছিল রাতের ভয়ংকর স্বপ্নের মত এবং এখন আমি জাগ্রত হতে চাই। কিন্তু কিভাবে এই বদ স্বভাবগুলো থেকে মক্তি পেতে পারি।
নারদ মুনি - হে শিকারী তুমি কি জান না কৃষ্ণ কত দয়াময়। তিনিই তোমাকে সকল রকম ব্যবস্থা করে দিবেন। তুমি শুধু তাঁর চরণে আত্মসমর্পণ কর। শিকারী ও তার স্ত্রী নদীর তীরে একটি ছোট্ট কুটির তৈরী করল।
শিকারীর স্ত্রী - তুমি আমাকে অনেক আনন্দ দান করেছ। এখন কৃপা করে নারদ মুনি যা তোমাকে বলেছে তা আমাকে বল। তুমি এখন যা করছ তাই প্রকৃত মুক্তির পথ এবং আমরা এখনই কেবল মাত্র বনের অন্য পশুর থেকে আলাদা হতে পারি।
শিকারী- তুমি আমাকে আমার আধ্যাত্মিক গুরুর নির্দেশনা পালনে সাহায্য কর। তুমি আমার সাথে যোগদান কর আর আমার গুরুদেব যে পারমার্থিক সেবা প্রদান করেছেন তাতে অংশগ্রহণ কর।
শিকারী এবার ‘হরেকৃষ্ণ’ মহামন্ত্র নাম জপ করতে শুরু করল এবং তারা অন্যের দয়া নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করত। তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছুই গ্রহণ করত না।
তিনি তার বাড়িতে পরম পবিত্র তুলসী মহারাণীকে প্রতিদিন জলদান করতেন। এসব দেখে পাশের বাড়ির লোকেরা বলাবলি করতে লাগল -- আমাদের বাড়ির জানালা থেকে আমরা প্রায়ই দেখি যে তোমার স্বামী ভগবৎ ভজনা করছে, আর দেখ এমন তাঁর মুখমন্ডল কেমন জ্যোতির্ময় এবং উৎফুল্ল দেখাচ্ছে।
শিকারীর স্ত্রী - এটি সার্বিকভাবে নারদ মুনির কৃপা, ঐ তুলসী গাছটি দেখ। আমার স্বামী নারদ মুনির কাছ থেকে শুনেছে যে, শুধুমাত্র তুলসী গাছে জল সেচনের দ্বারা নিজেদের পবিত্র করে তুলতে পারা যায়। কারণ তুলসী মহারাণী ভগবানের পরমা প্রিয়া, দেখ দেখ, শিকারী এখন ভক্তে পরিণত হয়ে গেছে। গ্রামবাসী প্রত্যহ তার জন্য কিছু না কিছু খাবার নিয়ে আসত।
ভক্তবৃন্দ - সে সকল কিছুই বুঝতে পারছে, আমি বলছিলাম না আমরা খুবই ভাগ্যবান কারন আমরা এখন এমন একজনের সাক্ষাৎ পেয়েছি যিনি নারদ মুনির শিষ্য।
----- আর এরপর থেকে দশ থেকে বিশ জন প্রত্যেক দিন সেই শিকারীর সাথে প্রসাদ গ্রহণ করত।
ভক্তবৃন্দ - সবই তোমার কৃপা, আমরা তোমাকে আর কখনো পশুদের শত্রু বলব না। আমরা তোমাকে একজন সাধু বলে ডাকতে পারি। আর তোমার জন্য কিছু ফল নিয়ে এসেছিলাম।
শিকারী - দয়া করে আমাকে নারদ মুনির শিষ্য বলে ডাকলেই চলবে। আমি এর বেশি কিছুই নই।
---- একদিন নারদ মুনি এবং তার বন্ধু পর্বত মুনি সেই বনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
নারদ মুনি - পর্বত মুনি আমার এক শিষ্য এরই পাশে কোথাও বাস করে তো দেখি এখন সে কি করছে?
পর্বত মুনি- আমি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের খবুই ভালবাসি এবং তাদের দর্শনে আনন্দ উপভোগ করি, নারদ দয়া করে আমাকে সেখানে নিয়ে যাও। তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও। ঐ যে সেই শিকারী, দেখ দেখ।
শিকারী নারদ মুনিকে দেখে বললেন, “ঐ যে দেখ, আমার শ্রদ্ধেয় পরমারাধ্য শ্রী গুরুদেব আসছেন।” যখন শিকারী মাঠ পার হতে যাচ্ছিল সে দেখলো তার পায়ের ঠিক নিচে কিছু পিঁপড়া। সে বলল হে আমার প্রিয় বন্ধুরা তোমরা ভয় পেয় না, আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করব না। এই দৃশ্য দেখে নারদ মুনি বললেন তুমি সত্যই বলিহারি শিকারী, তুমিই প্রকৃত ভক্ত। এটিই কাম্য যে, কোন কৃষ্ণ ভক্ত কোন ভাবেই জীবকে কষ্ট দিতে চায় না, এমনকি একটি পিঁপড়াকেও না। শিকারী নারদ মুনির চরণে দন্ডবৎ হয়ে বললেন, “গুরুদেব আমার পিঁপড়া ব্যাথা পেত তাই কৃপা পূর্বক সেই পিঁপড়াগুলোকে সরে যেতে দিন।”
নারদ মুনি - সকল কিছু কি ঠিক মত চলছে?
শিষ্য - হ্যাঁ গুরুদেব। দেখুন তুলসী মহারাণী কিভবে বর্ধিত হচ্ছে।
মহামুনি নারদ আপনি দয়া করে আমাদের সাথে প্রসাদ গ্রহণ করুন।
পর্বত মুনি - আমি দেখছি যে তুমি এখানে ভাল আছো এবং তোমার ভক্তি জীবন খুব ভালোভাবে চলছে এবং তোমার এমন হৃদ্যতায় আমি খুব খুশি হয়েছি।
শিষ্য - মহতী আপনি জানেন যে আমরা মহানাম থেকে সকল সময়ই কৃপা পেয়ে থাকি আর এই মহামন্ত্র নারদ মুনিই আমাকে দান করেছেন। আপনি জানেন যে এই মহামন্ত্র খুবই সুমধুর আর তাই আমরা সকল সময়ই এই মহামন্ত্র জপ করতে থাকি।
---- পূর্বের শিকারী এবং তার স্ত্রী হরিনামের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে পড়ল। তারা তাদের এই অনুভূতিকে কৃষ্ণনামের মাধ্যমে উপভোগ করতে লাগল।
নারদ মুনি - সকল প্রশংসাই সমস্ত গৌরভক্তবৃন্দের। সকল প্রশংসাই ভগবান রাধাকৃষ্ণের।
পর্বত মুনি - নারদ মুনি সত্যিই তুমি একটি পরশ পাথর। তোমার স্পর্শেই আজ এই ঘৃণ্য শিকারী মানব জীবনের পরম প্রাপ্তি কৃষ্ণ প্রেম লাভ করেছে।
নারদ মুনি - তুমি কি ঠিক মত প্রসাদ পাচ্ছ প্রিয় শিষ্য?
শিষ্য - হ্যাঁ, গুরুদেব, আমি প্রত্যহ বিশজন ভক্তকে নিয়ে একত্রে প্রসাদ পাচ্ছি।
পর্বত মুনি - ঠিক আছে, এখন তুমি এবং তোমার স্ত্রী ভালভাবে কৃষ্ণ ভক্তি যাজন করো, কৃষ্ণ তোমাদের মঙ্গল এবং সুখী করুন।
শিকারী - মহৎ সাধুরা সকল সময় কৃষ্ণের কথাই বলেন। যিনি পরম ঈশ্বর ভগবান এবং দেবদেবীরাও তাঁকে জানেন, যিনি সমস্ত কিছুর পরম নিয়ন্তা। কিন্তু আমি এতই অধম যে, আমি কৃষ্ণকে জানতেও পারলাম না, ,আমি শুধুমাত্র আমার আধ্যাত্মিক গুরুর সেবা পূজা করতে পারি, যিনি আমাকে তাঁর পরম কৃপায় এই অজ্ঞতার অন্ধকারকে দূর করে, আমাকে দিব্য চক্ষুদান করেছেন।
কীর্তন - ভগবানের পবিত্র নামের গুণে শিকারীর বাড়ির আঙ্গিনা মধুর পরিবেশের সৃষ্টি, ঠিক যেন শুষ্ক মরুভূমিতে বসন্তের এক পশলা বৃষ্টি। সবাই 'হরিবোল হরিবোল' বলে চিৎকার করে উঠল।
.
.
একমাত্র নারদি পারেন এক দুর্বৃত্তকে সাধু বানাতে .......


Written by: Prithwish Ghosh
Share:

১১ জুলাই ২০১৬

পৃথিবীতে যত ধর্মসম্প্রদায় আছে, শিখদের মত এমন ভক্তিভাব বোধহয় আর কারো নেই


পৃথিবীতে যত ধর্মসম্প্রদায় আছে, শিখদের মত এমন ভক্তিভাব বোধহয় আর কারো নেই। এঁদের এই ভক্তিভাব ও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা আমাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। কত সহজভাবে ধর্মের কথাকে এরা সর্বসাধারনের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়! আমি সুযোগ হলে প্রায়ই পাঞ্জাবি চ্যানেলে গুরুবাণী কির্তন শুনি। অদ্ভুত সুরে তারা যখন 'ওয়াহিগুরু' বলে কির্তন শুরু করে, তখন মনে যে অপূর্ব ভক্তিভাব জাগে, তা মুখে প্রকাশ করা যাবেনা। পাঞ্জাবিতে লেখা গানের কথা সব বুঝিনা ঠিকই, কিন্তু তার অদ্ভুত সুর, আর গায়ক বা ভক্তদের প্রশান্ত অভিব্যক্তি এমনিই মনে শান্তি এনে দেয়।

 এমন সমবেতভাবে ভক্তিপূর্ণ আরাধনা আর কোথাও বোধহয় বর্তমানে পাওয়া যাবেনা। শিখ ধর্ম নামেই আলাদা। আসলে তা হিন্দু ধর্মের ভক্তিমার্গ ছাড়া কিছুই নয়। শিখরা সংগঠিত হয় পরে, মূলত মুঘল আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে। নানক ও পরবর্তি ১০ জন গুরুকে যিনি মানেন ও তাঁদের শিষ্যত্ব গ্রহন করেন, তিনিই শিখ। নানকের মতের সার কথা ছিল এক ঈশ্বরে অটুট ভক্তি। তত্‍কালীন আড়ম্বরপূর্ণ আচার অনুষ্ঠানের বদলে ভগবানের নামগান গাইতেন। আমাদের গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মত। শিখরা ঈশ্বরকে অকাল বলেন। যিনি কালেরও উর্দ্ধে তিনিই অকাল। আর ঈশ্বর তো তাইই! শিখদের মত এমন নিষ্ঠাভরে ধর্মপালন বোধহয় আর কেউ করেনা। এই ধর্ম তাদের দিয়েছে চরিত্রে দৃঢ়তা। ভক্তির পাশাপাশি জ্ঞান ও কর্মেও কিন্তু তারা দক্ষ। আসলে তারা যা করে, সবই ভক্তির সাথে করে। ঈশ্বরই তাদের সব। তাদের মূলমন্ত্রই হল- "এক ওংকর(ওমকার) সত্তি(সত্য) নাম!"

শিখদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ গুরু হলেন গোবিন্দ সিংহ। তিনি খালসা বাহিনির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাদের দশম ও শেষ গুরু হলেন তেগবাহাদুর, যাঁকে ঔরঙ্গজেব বন্দি করে হত্যা করেছিল।
বহু ঝড়ঝাপটা সহ্য করেও শিখরা আজও টিকে আছে এবং তাদের ধর্মকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ধর্মই তাদের শক্তির উত্‍স। তারা শিখিয়েছে ধর্মে অটুট ভক্তি কিভাবে মানুষকে গড়ে তোলে। তাই শিখরা সকলের কাছেই আদর্শ।
আসুন আমরাও একবার বলে নিই-
"সত্যনাম সত্যনাম সত্যনাম জি,
ওয়াহিগুরু ওয়াহিগুরু ওয়াহিগুরু জি।"
আমরাও যদি এভাবে আমাদের ধর্মকে রক্ষা করে চলি, তবে আমরাও সমস্ত দূর্দশা থেকে মুক্তি পাব। ঈশ্বরে অটল ভক্তি ও আস্থা রেখে তাঁর উদ্দেশ্যেই সকল কর্ম নিবেদিত হোক।




Written by :  Dhrubajyoti Pathak
Share:

আমাদের এই মানবাত্মার অগ্নী মন্ত্রে দীক্ষিত হবে

স্বামী বিবেকানন্দ একবার রাজস্থানের একটি রেলস্টেশনে বসে আছেন । তিনি ছিলেন এমন একজন যাকে দেখলেই সবাই
কথা আর মনে নেই । বৈদান্তিক সন্ন্যাসী তো তাই । এদিকে সবাই ধর্ম কথা শুনে শুনে চলে যাচ্ছেন , কেউ
তার খাবার কথা মুখেও আনছে না । এভাবে তৃতীয় দিন রাতে এক গরীব লোক সকলে চলে যাবার পর এসে বললেন স্বামীজিকে যে , মহারাজ আপনি অনবরত তিন দিন কথাই বলে চলছেন কিছুই খান নি ,আমার খুব খারাপ লাগছে । স্বামীজি বলেলন তাকে তুমি কি কিছু খেতে দেবে আমাকে । তখন সেই লোক বললেন ,তা তো চাই কিন্তু আমি চামার
কি করে আপনাকে খেতে দেই ? বলেন তো আমি আপনাকে আটা ডাল এনে দিই ,আপনি ডাল রুটি বানিয়ে খান । স্বামীজি বললেন সে হবে না তোমার তৈরি রুটি আমায় দাও তাই খাব । সে বললেন রাজা যদি জানতে পারেন নিচু হয়েও আমি এসব করেছি তবে রক্ষা নেই । স্বামীজি মানলেন না । তার রান্নাই খেলেন । এসময় এই লোকটির দয়া দেখে চোখে জল এসে গেল । ভাবলেন এই  তো ভগবান এসেছেন দীন বেশে ।
আকৃষ্ট হত ।ঐ রেলস্টেশনে সেদিন শত শত লোক স্বামীজির কাছে ধর্মকথা শুনতে আসছে । লোকে প্রশ্ন করছে আর স্বামীজি বিরামহীন ভাবে তার উত্তর দিয়ে চলছেন । এভাবে তিন দিন কেটে গেল ,স্বামীজি অভুক্তই রইলেন। তার খাবার

তিনি ভাবলেন এই সব গরীব দীন দুঃখী মানুষের মধ্যে কত মানবতা লুকিয়ে রয়েছে । এসময় কিছু লোক এটা দেখে স্বামীজিকে বললেন কি করছেন এটা নিচু লোকের হাতে খাচ্ছেন ? স্বামিজি বললেন তোমার এত বড় বড় লোক তিন দিন হল আমাকে দিয়ে কত কথা বলালে কিন্তু আমার খাবার কথা একবার ও বললে না ,খোজ ও নিলে না  ।অথচ এ ছোটলোক
হল ,আর নিজেরা ভদ্র বলে বড়াই করছ ? ও যে মনুষ্যত্ব দেখিয়েছে তাতে ও নীচ হল কি করে । এই হল কাহিনী । আসলে সনাতন ধর্মই হল মানুষের অন্তনিহিত দেবত্ত্ব কে জাগরিত করা । এ তো আজকের কথা নয় ।

শ্রীরাম গুহক চন্ডাল কে বুকে তুলে নিলেন । ভগবান শ্রীকৃষ্ন দরিদ্র সুদামাকে নিজে পা ধুইয়ে দিলেন । প্রেমের ঠাকুর
চৈতন্য কত অশুচি ,নিচু জাতি ,আসুস্থ লোকেদের নিয়ে হরিনাম সংকীর্তন করলেন ।ঠাকুর রামকৃষ্নদেব বললেন শিব ঞ্জানে জীব সেবা । তাই আমাদের এই মানবাত্মার অগ্নী মন্ত্রে দীক্ষিত হবে ।

Written by:  Agni Sampad
Share:

০৩ মে ২০১৬

এবং নারদ ও এক শিকারী


ভগবানের নাম জপ করতে করতে নারদ মুনি একদিন গঙ্গায় স্নান করার জন্য বনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন এই সময় তিনি এক বীভৎস দৃশ্য দেখতে পেলেন।
নারদ মুনি - কে ভগবানের সৃষ্টির এই অবস্থা করলো? নিশ্চয়ই কোন দুর্বুদ্ধি বোকা এই ভয়ানক পাপ কর্ম করেছে! কিছু আত্মা প্রাণীদের উপর এমন অত্যাচারের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারময় তৈরী করছে! ---- নারদ মুনি কৃষ্ণ কর্তৃক প্রদত্ত তাঁর দিব্য বীণাতে টঙ্কার দিলেন আর তাতে সমস্ত পশুরা সেই স্থান পরিত্যাগ করলো।
শিকারী - এটি কিসের শব্দ? এটি কি ঘটছে? আমার সমস্ত পশুরাই এই স্থান থেকে চলে গেল।
নারদ মুনি - শিকারী, আমি তোমার কাছেই এসেছিলাম।
শিকারী - তুমি কে? আমি তো তোমার মত কাউকে চিনি না, তুমি আমার কাছে কি চাও?
নারদ মুনি - আমি নারদ, আমি তোমার কাছে এসেছিলাম যদি তুমি আমাকে আমার পথ চিনতে সাহায্য কর।
শিকারী - আমি একজন শিকারী আর তুমি কিনা আমার সমস্ত বন্দী পশুকে তাড়িয়ে দিলে, তুমি কেন এমন করলে?
নারদ মুনি - আমি যখন এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম যে এই সমস্ত পশু যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। এই হীন, পাপ কার্য কে করেছে?
শিকারী - পাপ কাজ! তুমি এসব কি বলছ?. আমিই তো এসব করেছি, এ সব কিছুই সঠিক আছে।
নারদ মুনি - তুমি এই দুর্বল খরগোশটিকে অর্ধমৃত কর রেখেছ আর বলছ এসবই সঠিক?
শিকারী - প্রভু, এতে পার্থক্য কোথায়, আমার পিতাই এই শিক্ষা প্রদান করেছেন, আর যখন আমি কোন খরগোশকে মৃত্যু যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে দেখি, তা আমাকে আরো বেশি আনন্দ দান করে।
নারদ মুনি - শিকারী আমি তোমার কাছে শুধু একটি জিনিসই চাই, বল তুমি আমাকে তা দান করবে।
শিকারী - আপনি কি কোন কিছু পুষতে চান? আপনি আমার বাড়িতে চলুন আমি আপনাকে হরিণ, বাঘ, যা চান না কেন তাই দিয়ে দিব।
নারদ মুনি - আমার এইসব কিছুই চাই না। আমি শুধু চাই যে, তুমি পশুদেরকে এভাবে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে রেখ না। তোমায় কষ্ট ভোগ করতে
শিকারী - কিন্তু, আমি এই কষ্ট ভোগ করতে পারবনা।
নারদ মুনি - কিন্তু এটাই ঘটবে। তোমাকে প্রত্যেক পাপ কর্মের জন্য তার ফল ভোগ করতেই হবে।
শিকারী - হে প্রভু, আমি তাহলে কিভাবে এই পাপময় কর্ম থেকে মুক্তি পেতে পারি? আমি আপনার কাছে এই মিনতি নিবেদন করছি, দয়া করে আমাকে এই অবস্থায় বিপদ থেকে রক্ষা করুন। আমাকে পথ প্রদর্শণ করান।
নারদ মুনি - আমি তোমাকে প্রকৃত পথ দেখাতে পারি, কিন্তু তোমাকে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
শিকারী - অবশ্যই প্রভু, আমি তা থেকে বিরত হবো না।
নারদ মুনি- তাহলে প্রথমেই তুমি তোমার ধনুক ভেঙ্গে ফেল।
----- শিকারী তার ধনুক ভেঙ্গে ফেলে সেই শিকারীটি এবার নারদ মুনির নির্দেশনা শুনতে লাগল। সে তার সমস্ত বল, সম্পদ-সমৃদ্ধি ফেলে মাত্র একটি বসন পরে নারদের কাছে আসল।
শিকারী - আমার অতীত ছিল রাতের ভয়ংকর স্বপ্নের মত এবং এখন আমি জাগ্রত হতে চাই। কিন্তু কিভাবে এই বদ স্বভাবগুলো থেকে মক্তি পেতে পারি।
নারদ মুনি - হে শিকারী তুমি কি জান না কৃষ্ণ কত দয়াময়। তিনিই তোমাকে সকল রকম ব্যবস্থা করে দিবেন। তুমি শুধু তাঁর চরণে আত্মসমর্পণ কর। শিকারী ও তার স্ত্রী নদীর তীরে একটি ছোট্ট কুটির তৈরী করল।
শিকারীর স্ত্রী - তুমি আমাকে অনেক আনন্দ দান করেছ। এখন কৃপা করে নারদ মুনি যা তোমাকে বলেছে তা আমাকে বল। তুমি এখন যা করছ তাই প্রকৃত মুক্তির পথ এবং আমরা এখনই কেবল মাত্র বনের অন্য পশুর থেকে আলাদা হতে পারি।
শিকারী- তুমি আমাকে আমার আধ্যাত্মিক গুরুর নির্দেশনা পালনে সাহায্য কর। তুমি আমার সাথে যোগদান কর আর আমার গুরুদেব যে পারমার্থিক সেবা প্রদান করেছেন তাতে অংশগ্রহণ কর।
শিকারী এবার ‘হরেকৃষ্ণ’ মহামন্ত্র নাম জপ করতে শুরু করল এবং তারা অন্যের দয়া নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করত। তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছুই গ্রহণ করত না।
তিনি তার বাড়িতে পরম পবিত্র তুলসী মহারাণীকে প্রতিদিন জলদান করতেন। এসব দেখে পাশের বাড়ির লোকেরা বলাবলি করতে লাগল -- আমাদের বাড়ির জানালা থেকে আমরা প্রায়ই দেখি যে তোমার স্বামী ভগবৎ ভজনা করছে, আর দেখ এমন তাঁর মুখমন্ডল কেমন জ্যোতির্ময় এবং উৎফুল্ল দেখাচ্ছে।
শিকারীর স্ত্রী - এটি সার্বিকভাবে নারদ মুনির কৃপা, ঐ তুলসী গাছটি দেখ। আমার স্বামী নারদ মুনির কাছ থেকে শুনেছে যে, শুধুমাত্র তুলসী গাছে জল সেচনের দ্বারা নিজেদের পবিত্র করে তুলতে পারা যায়। কারণ তুলসী মহারাণী ভগবানের পরমা প্রিয়া, দেখ দেখ, শিকারী এখন ভক্তে পরিণত হয়ে গেছে। গ্রামবাসী প্রত্যহ তার জন্য কিছু না কিছু খাবার নিয়ে আসত।
ভক্তবৃন্দ - সে সকল কিছুই বুঝতে পারছে, আমি বলছিলাম না আমরা খুবই ভাগ্যবান কারন আমরা এখন এমন একজনের সাক্ষাৎ পেয়েছি যিনি নারদ মুনির শিষ্য।
----- আর এরপর থেকে দশ থেকে বিশ জন প্রত্যেক দিন সেই শিকারীর সাথে প্রসাদ গ্রহণ করত।
ভক্তবৃন্দ - সবই তোমার কৃপা, আমরা তোমাকে আর কখনো পশুদের শত্রু বলব না। আমরা তোমাকে একজন সাধু বলে ডাকতে পারি। আর তোমার জন্য কিছু ফল নিয়ে এসেছিলাম।
শিকারী - দয়া করে আমাকে নারদ মুনির শিষ্য বলে ডাকলেই চলবে। আমি এর বেশি কিছুই নই।
---- একদিন নারদ মুনি এবং তার বন্ধু পর্বত মুনি সেই বনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
নারদ মুনি - পর্বত মুনি আমার এক শিষ্য এরই পাশে কোথাও বাস করে তো দেখি এখন সে কি করছে?
পর্বত মুনি- আমি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের খবুই ভালবাসি এবং তাদের দর্শনে আনন্দ উপভোগ করি, নারদ দয়া করে আমাকে সেখানে নিয়ে যাও। তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও। ঐ যে সেই শিকারী, দেখ দেখ।
শিকারী নারদ মুনিকে দেখে বললেন, “ঐ যে দেখ, আমার শ্রদ্ধেয় পরমারাধ্য শ্রী গুরুদেব আসছেন।” যখন শিকারী মাঠ পার হতে যাচ্ছিল সে দেখলো তার পায়ের ঠিক নিচে কিছু পিঁপড়া। সে বলল হে আমার প্রিয় বন্ধুরা তোমরা ভয় পেয় না, আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করব না। এই দৃশ্য দেখে নারদ মুনি বললেন তুমি সত্যই বলিহারি শিকারী, তুমিই প্রকৃত ভক্ত। এটিই কাম্য যে, কোন কৃষ্ণ ভক্ত কোন ভাবেই জীবকে কষ্ট দিতে চায় না, এমনকি একটি পিঁপড়াকেও না। শিকারী নারদ মুনির চরণে দন্ডবৎ হয়ে বললেন, “গুরুদেব আমার পিঁপড়া ব্যাথা পেত তাই কৃপা পূর্বক সেই পিঁপড়াগুলোকে সরে যেতে দিন।”
নারদ মুনি - সকল কিছু কি ঠিক মত চলছে?
শিষ্য - হ্যাঁ গুরুদেব। দেখুন তুলসী মহারাণী কিভবে বর্ধিত হচ্ছে।
মহামুনি নারদ আপনি দয়া করে আমাদের সাথে প্রসাদ গ্রহণ করুন।
পর্বত মুনি - আমি দেখছি যে তুমি এখানে ভাল আছো এবং তোমার ভক্তি জীবন খুব ভালোভাবে চলছে এবং তোমার এমন হৃদ্যতায় আমি খুব খুশি হয়েছি।
শিষ্য - মহতী আপনি জানেন যে আমরা মহানাম থেকে সকল সময়ই কৃপা পেয়ে থাকি আর এই মহামন্ত্র নারদ মুনিই আমাকে দান করেছেন। আপনি জানেন যে এই মহামন্ত্র খুবই সুমধুর আর তাই আমরা সকল সময়ই এই মহামন্ত্র জপ করতে থাকি।
---- পূর্বের শিকারী এবং তার স্ত্রী হরিনামের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে পড়ল। তারা তাদের এই অনুভূতিকে কৃষ্ণনামের মাধ্যমে উপভোগ করতে লাগল।
নারদ মুনি - সকল প্রশংসাই সমস্ত গৌরভক্তবৃন্দের। সকল প্রশংসাই ভগবান রাধাকৃষ্ণের।
পর্বত মুনি - নারদ মুনি সত্যিই তুমি একটি পরশ পাথর। তোমার স্পর্শেই আজ এই ঘৃণ্য শিকারী মানব জীবনের পরম প্রাপ্তি কৃষ্ণ প্রেম লাভ করেছে।
নারদ মুনি - তুমি কি ঠিক মত প্রসাদ পাচ্ছ প্রিয় শিষ্য?
শিষ্য - হ্যাঁ, গুরুদেব, আমি প্রত্যহ বিশজন ভক্তকে নিয়ে একত্রে প্রসাদ পাচ্ছি।
পর্বত মুনি - ঠিক আছে, এখন তুমি এবং তোমার স্ত্রী ভালভাবে কৃষ্ণ ভক্তি যাজন করো, কৃষ্ণ তোমাদের মঙ্গল এবং সুখী করুন।
শিকারী - মহৎ সাধুরা সকল সময় কৃষ্ণের কথাই বলেন। যিনি পরম ঈশ্বর ভগবান এবং দেবদেবীরাও তাঁকে জানেন, যিনি সমস্ত কিছুর পরম নিয়ন্তা। কিন্তু আমি এতই অধম যে, আমি কৃষ্ণকে জানতেও পারলাম না, ,আমি শুধুমাত্র আমার আধ্যাত্মিক গুরুর সেবা পূজা করতে পারি, যিনি আমাকে তাঁর পরম কৃপায় এই অজ্ঞতার অন্ধকারকে দূর করে, আমাকে দিব্য চক্ষুদান করেছেন।
কীর্তন - ভগবানের পবিত্র নামের গুণে শিকারীর বাড়ির আঙ্গিনা মধুর পরিবেশের সৃষ্টি, ঠিক যেন শুষ্ক মরুভূমিতে বসন্তের এক পশলা বৃষ্টি। সবাই 'হরিবোল হরিবোল' বলে চিৎকার করে উঠল।
.
.
নারদ পারেন এক দুর্বৃত্তকে সাধু বানাতে ................
.
পশ্চিম বাংলাকে দুর্বৃত্তমুক্ত করতে পারবেন কি?

 লিখেছেনঃ প্রীথিশ ঘোষ
Share:

০১ এপ্রিল ২০১৬

যে দেহেই অবস্থান করুক না কেন, ভগবান সর্বক্ষণ তার সঙ্গে থাকেন

কঠোপনিষদ এবং শ্বেতাশ্বতর উপনিষদে আছে -----
'সমানে বৃক্ষে পুরুষো নিমগ্নোহনীশয়া শোচতি মুহ্যমানঃ।
জুষ্টং যদা পশ্যত্যন্যমীশমস্য মহিমানমিতি বীতশোকঃ।।'

অনুবাদ -- “দুটি পাখী একই গাছে বসে, কিন্তু যে পাখীটি ফল আহারে রত, সে তাঁর কর্মের ফলস্বরূপ সর্বদাই শোক, আশঙ্কা এবং উদ্বেগের দ্বারা মুহ্যমান। কিন্তু যদি সে একবার তার নিত্যকালের বন্ধু অপর পাখীটির দিকে ফিরে তাকায়, তবে তার সমস্ত শোকের অবসান হয়, কারণ তার বন্ধু হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান এবং তিনি সমগ্র ঐশ্বর্যের দ্বারা মহিমান্বিত।”


পদ্মপূরাণ থেকে আমরা জানতে পারি যে এই ব্রহ্মাণ্ডে মোট ৮৪ লক্ষ ধরণের জীব-শরীর বা প্রজাতি রয়েছে এদের মধ্যে --
৯ লক্ষ প্রজাতি হচ্ছে জলচর জীব,
২০ লক্ষ উদ্ভিদ প্রজাতি,
কীট-পতঙ্গ হচ্ছে ১১ লক্ষ প্রজাতির,
পাখী-প্রজাতি হচ্ছে ১০ লক্ষ,
পশু ৩০ লক্ষ প্রজাতির
এবং মানুষ ৪ লক্ষ প্রজাতির।
জীবসত্তা নানা প্রজাতির বিভিন্ন রকম জীব-শরীরে অবিরাম দেহান্তরিত হয়ে চলে, কিন্তু পরমাত্মা একান্ত সখার মতোই সর্বদাই তার সঙ্গে থাকেন; সেই জীবসত্তা মানবদেহে বা একটি কীট দেহে --- যে দেহেই অবস্থান করুক না কেন, ভগবান সর্বক্ষণ তার সঙ্গে থাকেন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে অর্জুনের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আমরা এই তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারি ---- অর্জুন হচ্ছেন ফল-আহারে রত পাখী, আর পর্যবেক্ষণরত পাখীটি হচ্ছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। যদিও তাঁরা একে অপরের বন্ধু, তবুও তাঁদের একজন হচ্ছেন প্রভু এবং অন্যজন হচ্ছেন ভৃত্য। পরমাত্মার সঙ্গে তাঁর এই সম্পর্কের কথা ভুলে যাবার ফলেই জীবাত্মা-রূপ পাখী এক গাছ থেকে অন্য গাছে, অর্থাৎ এক দেহ থেকে আরেক দেহে ঘুরে বেড়ায়। এই জড়দেহ-রূপ বৃক্ষে জীবাত্মা তার কর্মের ফল-স্বরূপ নানা রকম দুঃখ-কষ্ট ভোগ করে, কিন্তু যে মুহূর্তে সে পরমাত্মার নিত্য দাসত্ব বরণ করে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করে -- সেই মুহূর্তে সে জড়বন্ধন থেকে মুক্ত হয় এবং তার সবরকম দুঃখ-কষ্টের নিবৃত্তি ঘটে।

Written by:  Prithwish Ghosh
Share:

০২ ডিসেম্বর ২০১৫

গুরুনানকের গুরুভক্তি বিষয়ক একটি ঘটনা

একবার গুরুনানক তাঁর কয়েকজন শিষ্যসহ ভ্রমণ করছিলেন তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত লাহিনাও সেই দলে ছিলেন। হঠাৎ বনের মধ্যে একটি মৃতদেহ তাঁর চোখে পড়ল। পচা মৃতদেহ একটা কাপড় দিয়ে ঢাকা।

গুরুনানক সেই দুর্গন্ধময় শবটি দেখিয়ে শিষ্যদেরকে বললেন---তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে আমার কথায় পচা গলিত শবদেহ ভক্ষণ করতে পারে? গুরুর এইকথা শুনে সবাই অবোবদনে দাঁড়িয়ে রইলেন।

কেউ কেউ ভাবতে লাগলেন, গুরুজী কি আজ অপ্রকৃতিস্থ নতুবা এমন ন্যক্কারজনক প্রস্তাব কি করে করতে পারলেন? আমরা শিখ, অঘোর পন্থী ত নই ! নানক অধিকাংশ শিষ্যদের এই রকম মনোভাব বুঝে পুনরায় ঘোষণা করলেন---'নির্দ্ধিধায় যে বিনা বিচারে গুরুবাক্য পালন করতে পারে, সেই প্রকৃত শিখ।


প্রকৃত গুরুগতপ্রাণ শিখই পরম পদ অর্থাৎ 'অলখ্নিরঞ্জনতত্ত্ব' উপলব্ধির যোগ্য আধার। যারা তা পারে না, তারা গুরুর চারধারে থেকে কেবলই ভীড় বাড়ায়'। নত মস্তক সব শিষ্য নীরবে গুরুর এই ধিক্কার শুনলেন, কিন্তু তাঁর আদেশ পালন করতে এগিয়ে এলেন না। লাহিনাকে দেখা গেল, তিনি ধীরে মৃতদেহের কাছে করজোড়ে বললেন --- গুরুজী আপনি দয়া করে বলে দিন, এই মৃতদেহের কোন অংশ থেকে আমি সর্বপ্রথম খেতে আরম্ভ করব ?

লাহিনার কথা শুনে তার গুরুভ্রাতারা স্তম্ভিত। কিন্তু নানক শান্ত কণ্ঠেই উত্তর দিলেন, 'কোমরের দিক থেকেই আরম্ভ কর'। গুরুর বাক্য শেষ হতে না হতেই নির্বিকার চিত্তে লাহিনা শবদেহ কামড় দেবার জন্য হাঁ করে ঝুকে পড়লেন। কিন্তু শবদেহ থেকে চাদরের আচ্ছাদন তুলতে দেখা গেল, সেখানে থরেথরে সুমিষ্ট ফল ও মিষ্টান্ন দ্রব্য সাজানো রয়েছে।

বিস্ময়ে হতবাক শিষ্যরা ভাবলেন, ও হল সর্বশক্তিমান গুরুজীর এক অত্যাশ্চর্য বিভূতির খেলা! গুরুনানক চেলাদের ভাব-ভাবনার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে লাহিনার মাথায় হাত দিয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলতে লাগলেন---'এ আমার কোন বিভূতি নয়, তোমার গুরুভক্তির গুণেই এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে।' -------- ওঁ শ্রী গুরবে নমঃ।
Share:

২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

'রাজা রন্তিদেবের জীবসেবা' থেকে শিক্ষা

অনেক অনেককাল আগে এক দেশে এক রাজা ছিলেন। নাম তার রন্তিদেব। তিনি শুধু রাজা ছিলেন না, ছিলেন রাজার রাজা মহারাজা। সম্রাট। কিন্তু সম্রাট হয়েও রন্তিদেব পার্থিব বিষয়ের প্রতি আসক্ত নন। শ্রীকৃষ্ণের চরণকেই তিনি একমাত্র সম্পদ বলে জ্ঞান করেন।

শ্রীকৃষ্ণে সবকিছু সমর্পণ করে তিনি নিলেন অযাজক বৃত্তি। অযাজক বৃত্তি হচ্ছে, ভিক্ষা চাওয়া যাবে না, লোকে ইচ্ছে করে যা দেবে, তাই দিয়েই দিন যাপন করতে হবে। একবার রাজা রন্তিদেবের আটচল্লিশ দিন একনাগাড়ে অনাহারে কাটছে । তিনিও খেতে চান নি, কেউ ইচ্ছে করে কিছু দেয় নি। ঊনপঞ্চাশ দিনের দিন এক ভক্ত তাঁকে অন্ন আর পায়েস দিয়ে গেলেন। এবার তাঁর উপবাস ভঙ্গ হবে। হঠাৎ তাঁর সামনে যেন মাটি ফুঁড়ে উঠল একটি লোক। খেটে- খাওয়া, জীর্ণ চেহারা সাথে আবার একটা পোষা কুকুর। ‘ক’দিন ধরে কিছুই খেতে পাইনি, দয়া করে আমাকে কিছু খেতে দিন। আমার কুকুরটাও না খেয়ে আছে।’ বলল লোকটা। ক্ষুধার্ত লোকটির করুণ অবস্থা দেখে রাজা রন্তিদেবের চোখে জল এলো। কুকুরটি ক্ষুধায় ধুঁকছিল। তিনি যে অন্ন আর পায়েস ভিক্ষা পেয়েছিলেন, তার পুরোটাই লোকটিকে আর তার কুকুরটিকে দিয়ে দিলেন। ‘পেট ভরল না।’ -লোকটি জানাল। হাত জোড় করে জানালেন রাজা রন্তিদেব, ‘আর তো কিছু নেই, ভাই।’ এরই নাম মানবতাবোধ । গভীর মমতাবোধ থাকলে আটচল্লিশ দিন না খেয়ে থাকার পরেও খাদ্য নিজে না খেয়ে অন্যকে বিলিয়ে দেওয়া যায়। হঠাৎ আরও অবাক করা একটি ঘটনা ঘটল । রাজা রন্তিদেব দেখেন, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। ক্ষুধার্ত লোকের রূপ ধরে এসে ভগবান পরীক্ষা করেছিলেন, রাজা রন্তিদেবের মানবতাবোধ কতটুকু। সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন রাজা রন্তিদেব।


সৌজন্যে- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা স্কুল
Share:

১৫ অক্টোবর ২০১৪

প্রহ্লাদ মহারাজ কর্তৃক সহপাঠীদের উপদেশ


প্রহ্লাদ মহারাজ, যিনি ছিলেন যথার্থই মহা জ্ঞানী, তিনি তাঁর সহপাঠীদের অত্যন্ত মধুর বাক্যে সম্ভাষণ করে, হেসে জড়-জাগতিক জীবনের নিরর্থকতা সম্বন্ধে শিক্ষা দিতে শুরু করেছিলেন। তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃপাপরবশ হয়ে, তিনি তাদের নিম্নলিখিত উপদেশগুলি দিয়েছিলেন।[৭/৫/৫৫]


হে মহারাজ যুধিষ্ঠির, সমস্ত বালকেরা প্রহ্লাদ মহারাজের প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত এবং শ্রদ্ধাশীল ছিল। তাদের অল্প বয়সের ফলে, দ্বৈতভাব এবং দেহসুখের প্রতি আসক্ত শিক্ষকদের উপদেশের দ্বারা তাদের অন্তঃকরণ দূষিত হয়নি। তারা তাদের খেলার সমস্ত উপকরণ পরিত্যাগ করে, প্রহ্লাদ মহারাজের কথা শ্রবণ করার জন্য তাঁকে ঘিরে বসেছিল। তাদের হৃদয় এবং নেত্র তাঁর উপর নিবদ্ধ ছিল এবং গভীর নিষ্ঠা সহকারে তারা তাঁর দিকে তাকিয়ে তাঁর কথা শুনছিল। অসুরকুলে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও প্রহ্লাদ মহারাজ ছিলেন একজন মহাভাগবত, এবং তিনি তাদের মঙ্গল কামনা করেছিলেন। তার ফলে তিনি তাদের জড়-জাগতিক জীবনের নিরর্থকতা সম্বন্ধে উপদেশ দিতে শুরু করেছিলেন। [৭/৫/৫৬-৫৭]


দৈত্যবালকদের প্রতি প্রহ্লাদের উপদেশ


প্রহ্লাদ মহারাজ বললেন-প্রাজ্ঞ ব্যক্তি মনুষ্যজন্ম লাভ করে জীবনের শুরু থেকেই, অর্থ্যাৎ বাল্যকাল থেকেই, অন্য সমস্ত প্রয়াস ত্যাগ করে ভাগবত-ধর্ম অনুষ্ঠান করবেন। মনুষ্যজন্ম অত্যন্ত দূর্লভ, এবং অন্যান্য শরীরের মতো অনিত্য হলেও তা অত্যন্ত অর্থপূর্ণ, কারণ মনুষ্য-জীবনে ভগবানের সেবা সম্পাদন করা সম্ভব। নিষ্ঠাপূর্বক কিঞ্চিৎমাত্র ভগবদ্ভক্তির অনুষ্ঠান করলেও মানুষ পূর্ণসিদ্ধি লাভ করতে পারে। [৭/৬/১]


মনুষ্য-জীবন ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ প্রদান করে। তাই প্রতিটি মানুষের অবশ্য কর্তব্য ভগবান শ্রীবিষ্ণুর শ্রীপাদপদ্মের সেবায় যুক্ত হওয়া। এই ভগবদ্ভক্তি স্বাভাবিক, কারণ ভগবান শ্রীবিষ্ণু সকলেরই পরম প্রিয়, পরমাত্মা এবং পরম সুহৃদ্। [৭/৬/২]


প্রহ্লাদ মহারাজ বললেন-হে দৈত্য-কুলোদ্ভূত বন্ধুগণ, দেহের সঙ্গে ইন্দ্রিয়-বিষয়ের সংযোগবশত যে ইন্দ্রিয় সুখ তা যে কোন যোনিতেই পূর্বকৃত কর্ম অনুসারে লাভ হয়ে থাকে। এই প্রকার সুখ আপনা থেকেই কোন রকম প্রচেষ্টা ছাড়াই লাভ হয়, ঠিক যেমন বিনা প্রয়াসে দু:খলাভ হয়।[৭/৬/৩]




ইন্দ্রিয়সুখ ভোগ অথবা অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের মাধ্যমে জড়সুখ ভোগের প্রয়াস করা উচিত নয়, কারণ তার ফলে বাস্তবিক কোন লাভ হয় না, পক্ষান্তরে কেবল সময় এবং শক্তিরই অপচয় হয়। মানুষের প্রয়াস যদি কৃষ্ণভক্তির দিকে পরিচালিত হয়, তা হলে নি:সন্দেহে আত্ম-উপলব্ধির চিন্ময় স্তর প্রাপ্ত হওয়া যায়। অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনে যুক্ত হওয়ার ফলে কোন লাভ হয় না। [৭/৬/৪]


অতএব জড় জগতে অবস্থান কালে (ভবমাশ্রিতঃ) পূর্ণরূপে সুযোগ্য ব্যক্তির কর্তব্য সৎ এবং অসতের পার্থক্য নিরূপণ করে, যে পর্যন্ত এই পরিপুষ্ট মানব-শরীরটি রয়েছে, ততক্ষণ ভীত না হয়ে জীবনের চরম উদ্দেশ্য লাভের জন্য যত্নশীল হওয়া। [৭/৬/৫]


মানুষের আয়ু বড় জোর একশ বছর। কিন্তু যে ব্যক্তি অজিতেন্দ্রিয়, তার সেই একশ বছরের অর্ধেক সময় অনর্থক অতিবাহিত হয়, কারণ অজ্ঞানের অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে, রাত্রিবেলায় সে বার ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকে। অতএব এই প্রকার ব্যক্তির আয়ুষ্কাল মাত্র পঞ্চাশ বছর। [৭/৬/৬]


বাল্যকালে মোহগ্রস্ত অবস্থায় দশ বছর অতিবাহিত হয়। তেমনই, কৈশোরে খেলাধুলায় মগ্ন থেকে আরও দশ বছর অতিবাহিত হয়। এইভাবে কুড়ি বছর বিফলে যায়। তেমনই, বৃদ্ধ বয়সে জরাগ্রস্ত হয়ে জড়-জাগতিক কার্যকলাপ অনুষ্ঠান করতে অক্ষম হওয়ার ফলে, আরও কুড়ি বছর বৃথা অতিবাহিত হয়। [৭/৬/৭]


যার মন এবং ইন্দ্রিয় অসংযত, তার অতৃপ্ত কামনা এবং প্রবল মোহের ফলে, পারিবারিক জীবনের প্রতি সে অত্যন্ত আসক্ত হয়। এই প্রকার উন্মত্ত ব্যক্তির বাকি জীবনও বিফলে যায়, কারণ সেই কয়টি বছরেও সে ভগবদ্ভক্তিতে যুক্ত হতে পারে না। [৭/৬/৮]


গৃহস্থ-জীবনের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত কোন্ অজিতেন্দ্রিয় ব্যক্তি মুক্ত হতে সমর্থ হয়? গৃহাসক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রী-পুত্র এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের প্রতি স্নেহরূপ রজ্জুর দ্বারা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। [৭/৬/৯]


ধন মানুষের এতই প্রিয় যে, সে ধনকে মধু থেকেও মধুরতর বলে মনে করে। তাই, সে ধন সংগ্রহের বাসনা কে ত্যাগ করতে পারে, বিশেষ করে গৃহস্থ-জীবনে? তস্কর, পেশাধারী ভৃত্য (সৈনিক)এবং বণিক-এরা নিজের প্রিয়তম প্রাণকে বিপন্ন করেও অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে।[৭/৬/১০]


যে ব্যক্তি তার পরিবারের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, যার অন্তরের অন্তঃস্থল সর্বদা তাদের চিত্রে পূর্ণ, সে কিভাবে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে পারে? বিশেষত, স্নেহশীলা এবং সহানুভূতিশীলা পত্নীর নির্জন সঙ্গ স্মরণ করলে, কে তাকে পরিত্যাগ করতে পারে? শিশুদের মধুর আধো আধো বুলি স্মরণ করলে কোন্ স্নেহশীল পিতা তাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করতে পারে? বৃদ্ধ পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা এরা সকলেই অত্যন্ত প্রিয়। কন্যা বিশেষ করে পিতার অত্যন্ত প্রিয় হয়, এবং যখন সে তার পতিগৃহে চলে যায়, তখন তার কথা পিতার সব সময় মনে হয়। সেই সঙ্গ কে পরিত্যাগ করতে পারে? আর তা ছাড়া গৃহে নানা রকম ভোগের উপকরণ থাকে, গৃহপালিত পশু এবং ভৃত্য থাকে। সেই সুখ কে পরিত্যাগ করতে পারে? গৃহাসক্ত ব্যক্তির অবস্থা ঠিক রেশমকীটের মতো, যে কোষ সে তৈরি করে, সেই কোষে বন্দী হয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারে না। কেবল জিহ্বা এবং উপস্থ-এই দুটি ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তি সাধনের জন্য মানুষ এই জড় জগতের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। কিভাবে সে তা থেকে মুক্তিলাভ করতে পারে? [৭/৬/১১-১৩]


যে ব্যক্তি অত্যন্ত আসক্ত সে বুঝতে পারে না যে, তার কুটুম্ব ভরণ-পোষণে সে তার জীবনের মূল্যবান সময়ের অপচয় করছে। সে এও বুঝতে পারে না যে, পরম সত্যকে উপলব্ধি করার অত্যন্ত অনুকূল এই মনুষ্যজীবন সে অনর্থক নষ্ট করছে। কিন্তু, সে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা এবং সাবধানতার সঙ্গে দেখে যে, একটি পয়সাও যেন অনর্থক নষ্ট না হয়। এইভাবে জড় বিষয়াসক্ত ব্যক্তি নিরন্তর ত্রিতাপ দু:খ ভোগ করা সত্ত্বেও তার জড় অস্তিত্বের প্রতি বিতৃষ্ণা বোধ করে না।[৭/৬/১৪]


যদি কোন ব্যক্তি তার কুটুম্ব ভরণ-পোষণের কর্তব্যের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়, তা হলে সে তার ইন্দ্রিয়গুলি বশীভূত করতে পারে না এবং তার মন সর্বদাই ধন সংগ্রহের চিন্তায় মগ্ন থাকে। যদিও সে জানে যে পরের ধন অপহরণ করার ফলে সে আইনের দ্বারা দণ্ডিত হবে এবং মৃত্যুর পর যমরাজের আইনে দণ্ডভোগ করবে, তবুও সে ধন সংগ্রহ করার জন্য অন্যদের প্রতারণা করতে থাকে। [৭/৬/১৫]


হে বন্ধু, দানব-নন্দনগণ! এই জড় জগতে আপাতদৃষ্টিতে বিদ্বান ব্যক্তিরাও মনে করে, “এটি আমার এবং ওটি অন্যের।” তার ফলে তারা সর্বদাই অশিক্ষিত কুকুর-বিড়ালের মতো তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য জীবনের আবশ্যকতাগুলি প্রদান করার কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। তারা আধ্যাত্মিক জ্ঞান গ্রহণ করতে পারে না। পক্ষান্তরে তারা অজ্ঞানের দ্বারা মোহাচ্ছন্ন হয়। [৭/৬/১৬]


হে আমার বন্ধু দৈত্যনন্দনগণ, কোন দেশে অথবা কোন কালে ভগবৎ-তত্ত্বজ্ঞান-বিহীন ব্যক্তি নিজেকে জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত করতে পারেনি। পক্ষান্তরে সেই সমস্ত ভগবদ্বিমুখ ব্যক্তিরা জড়া প্রকৃতির নিয়মে জড় জগতের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকে। তারা প্রকৃতপক্ষে ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের প্রতি আসক্ত, এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য স্ত্রীসম্ভোগ। বস্তুতপক্ষে তারা সুন্দরী রমণীর হস্তে ক্রীড়ামৃগতুল্য। এই প্রকার জীবনের শিকার হয়ে তারা পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্রদের দ্বারা পরিবোষ্টিত হয়, এবং এইভাবে জড় জগতের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকে। যারা এই প্রকার জীবনের প্রতি আসক্ত, তাদের বলা হয় অসুর। অতএব, যদিও তোমরা দৈত্যনন্দন, সেই প্রকার ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাক এবং আদিদেব ভগবান শ্রীনারায়ণের শরণ গ্রহণ কর। কারণ নারায়ণের ভক্তদের চরম লক্ষ্য জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া। [৭/৬/১৭-১৮]


হে অসুর-নন্দনগণ, পরমেশ্বর ভগবান নারায়ণই সমস্ত জীবের মূল পরমাত্মা এবং পরম পিতা। তাই তাঁকে সন্তুষ্ট করতে অথবা তাঁর আরাধনা করতে বালক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে কারুরই কোন রকম প্রতিবন্ধকতা নেই। জীব এবং ভগবানের সম্পর্ক সর্বদাই বাস্তব, এবং তাই অনায়াসে ভগবানের প্রসন্নতা বিধান করা যায়। [৭/৬/১৯]


পরম ঈশ্বর ভগবান যিনি অচ্যুত এবং অব্যয়, তিনি বৃক্ষলতা আদি স্থাবর জীব থেকে শুরু করে ব্রহ্মা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার জীবের মধ্যে বিরাজমান। তিনি নানা প্রকার জড় সৃষ্টিতে, জড় উপাদানে, মহত্তত্ত্বে, প্রকৃতির গুণে (সত্ত্বগুণ, রজোগুণ এবং তমোগুণ), অব্যক্ত প্রকৃতিতে এবং অহংকারেও বিরাজমান। তিনি যদিও এক, তবুও তিনি সর্বত্র বিরাজমান, এবং তিনি চিন্ময় পরমাত্মা এবং সর্বকারণের পরম কারণ, যিনি সমস্ত জীবের অন্তরে সাক্ষীরূপে বিরাজ করেন। তাঁকে ব্যাপ্য এবং সর্বব্যাপ্ত পরমাত্মা বলে ইঙ্গিত করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি বর্ণনাতীত। তিনি অবিকারী এবং অবিভাজ্য। তাঁকে কেবল পরম সচ্চিদানন্দরূপে অনুভব করা যায়। নাস্তিকদের কাছে মায়ার আবরণে আচ্ছাদিত থাকার ফলে, তারা মনে করে যে তাঁর অস্তিত্ব নেই। [৭/৬/২০-২৩]


অতএব দৈত্য কুলোদ্ভুত আমার বালক বন্ধুগণ, তোমরা সকলে এমনভাবে আচরণ কর যাতে অধোক্ষজ ভগবান তোমাদের প্রতি প্রসন্ন হন। তোমাদের আসুরিক প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করে শত্রুতা এবং দ্বৈতভাব রহিত হয়ে কর্ম কর। ভগবদ্ভক্তির জ্ঞান প্রদান করে সমস্ত জীবের প্রতি তোমাদের করুণা প্রদর্শন কর, এবং এইভাবে তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হও। [৭/৬/২৪]


সর্বকারণের পরম কারণ, সবকিছুর আদি উৎস ভগবানের প্রসন্নতা বিধান করেছেন যে সমস্ত ভক্তেরা, তাঁদের পক্ষে কিছুই অপ্রাপ্য নয়। ভগবান অন্তহীন চিন্ময় গুণের উৎস। তাই, গুণাতীত ভক্তদের কাছে ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মুক্তির প্রচেষ্টা করার কি প্রয়োজন-যা প্রকৃতির গুণের প্রভাবে আপনা থেকেই লাভ হয়? আমরা ভগবদ্ভক্তেরা সর্বদাই ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের মহিমা কীর্তন করি, এবং তাই আমাদের ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ আদির বাসনা করার কোন প্রয়োজন হয় না। [৭/৬/২৫]


ধর্ম, অর্থ এবং কাম-এই তিনটিকে বেদে ত্রিবর্গ বা মোক্ষ লাভের তিনটি উপায় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এই তিনটি বর্গের মধ্যেই আত্ম-উপলব্ধির বিদ্যা, বৈদিক নির্দেশ অনুসারে কর্ম অনুষ্ঠানের পন্থা, তর্কশাস্ত্র, দণ্ডনীতি এবং জীবিকা নির্বাহের বিভিন্ন বৃত্তি নিহিত রয়েছে। এগুলি বেদ অধ্যয়নের বাহ্য বিষয়, এবং তাই আমি এগুলিকে জড়-জাগতিক বলে মনে করি। কিন্তু, পরম পুরুষ শ্রীবিষ্ণুর শ্রীপাদপদ্মে আত্ম-নিবেদনের পন্থাকে আমি দিব্য বলে মনে করি। [৭/৬/২৬]


সমস্ত জীবের শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সুহৃদ ভগবান প্রথমে এই দিব্য জ্ঞান দেবর্ষি নারদকে উপদেশ দিয়েছিলেন। নারদ মুনির মতো মহাত্মার কৃপা ব্যতীত এই জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করা অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু যিনি শ্রীনারদ মুনির পরম্পরার শরণ গ্রহণ করেন, তিনি এই গুহ্য জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। [৭/৬/২৭]


প্রহ্লাদ মহারাজ বললেন-এই জ্ঞান আমি দেবর্ষি নারদ মুনির কাছ থেকে প্রাপ্ত হয়েছি, যিনি সর্বদা ভগবানের সেবায় যুক্ত। এই জ্ঞান, যাকে বলা হয় ভাগবত-ধর্ম, তা সর্বতোভাবে বিজ্ঞানসম্মত। তা ন্যায় এবং দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, এবং সমস্ত জড় কলুষ থেকে মুক্ত।[৭/৬/২৮]


দৈত্যনন্দনেরা বলল-হে প্রহ্লাদ, তুমি অথবা আমরা শুক্রাচার্যের পুত্র ষণ্ড এবং অমর্ক ব্যতীত অন্য কোন গুরুকে জানি না। আমরা শিশু এবং তারা আমাদের নিয়ন্তা। বিশেষ করে তোমার পক্ষে, যে সর্বদা প্রাসাদে থাকে, তার মহাত্মার সঙ্গ করা অত্যন্ত কঠিন। হে সৌম্য, দয়া করে আমাদের বল কিভাবে তুমি নারদ মুনির উপদেশ শ্রবণ করেছিলে? দয়া করে আমাদের এই সংশয় দূর কর। [৭/৬/২৯-৩০]
Share:

০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

আজ উপনিষদের একটি গল্প, সংক্ষেপে আপনাদের সাথে শেয়ার করি

 এক অল্প-বুদ্ধি-সম্পন্ন যুবক, একজন মুনির নিকট গিয়ে ঈশ্বর সম্পর্কে জানতে চাইল। মুনি জিজ্ঞেস করলেন, ঈশ্বরকে তোমার কি দরকার? যদি বিশেষ কোনো দরকার না থাকে, তবে ঈশ্বর দেখা দেন না। যুবকটি উত্তরে জানাল, তার দেখার ভীষণ ইচ্ছে। দেখা চাই-ই চাই। মুনি বললেন, 'চাইলেই তো আর দেখা যায় না। দেখার জন্য ব্যাকুল হতে হয়, তবেই দেখা যায়।' যুবক বলল, আমি অনেক ব্যাকুল হয়েও কোনো ইঙ্গিত পাই নি। তিনি কোথায় থাকেন? মুনি উত্তর দিলেন,'তা কেন, তিনি তো সর্বভূতে বিরাজমান। তোমার দেখার মত চোখ এখনও জেগে ওঠেনি, তাই দেখতে পাচ্ছো না।'

নাছোড়বান্দা যুবক কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। বরং মুনিকে একটু আঘাত করেই কথা বলল। এবং বলল ' আপনি যে বলেছিলেন দেখাতে পারবেন , তবে দেখিয়ে দিন না? তবেই না বুঝব আপনি দেখেছেন এবং আপনার কথার মূল্য আছে।'

মুনি আধ্যাত্মিক শক্তি-সম্পন্ন, তিনি জানেন এই যুবকটির অন্তরে ঈশ্বর-ভাব রয়েছে এবং সে ঐ বিষয়ে অকপট। তাই তিনি যুবককে শান্ত করতে বললেন, 'আহা ধৈর্য ধরো, সবুরে মেওয়া ফলে'!! এই যুবকের ধৈর্যের বাঁধন যেন ততই টুটে যাচ্ছে। আরও বেশী অস্থির হয়ে গেল। অবশেষে মুনি তাকে, একটি দিন ধার্য করে দিলেন এবং বললেন ঐদিন দেখা মিলবেই।

যথারীতি ঠিক সময়ে সেদিন যুবক পৌঁছাল। তাকে দেখেই মুনি বললেন, 'আমি স্থির করলাম, তোমার জন্য ঈশ্বরদর্শন, স্থলের চেয়ে জলেই সহজ হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা পাবে।' এদিকে যুবকের কি আনন্দ! কি আনন্দ! আজ ঈশ্বরদর্শন হবে। মুনি যুবককে বললেন জলে নামতে, তার সাথে তিনি থাকবেন। গলা জলে নেমে যুবক অপেক্ষা করছে। মুনিও জলে নামলেন। যুবককে বললেন, 'ঐ জলে ডুব দাও। আর দেরী নেই। সময় ঘনিয়ে এসেছে।' যুবক ডুব দিল। তখনই মুনি, জলের মধ্যে ডুবন্ত অবস্থায়, যুবকের ঘাড়ে ধরে থাকলেন। কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যেই যুবকের প্রাণ যায় যায় !! সে উঠবে, কিন্তু মুনি ধরেই আছেন। অন্তিম অবস্থায় তার ঘাড় থেকে হাত সরালেন। জিজ্ঞেস করলেন, ' কি হে কেমন দেখলে?' যুবক উত্তর দিল, 'কি আর দেখব, এদিকে আমার প্রাণ যায় যায়, আমি কিছুই দেখিনি।' মুনি তখন স্নেহের সুরে ব্যাখ্যা করে বুঝালেন, ' দেখো হে, যখন হ্নদয় পূর্ণ পবিত্র হবে, সাধনায় মগ্ন হবে, আর ঈশ্বরের জন্য তোমার প্রাণ যায় যায় অবস্থা হবে, যেমনটি জলের ভিতরে থেকে বাঁচার জন্য তোমার হয়েছিল, ঠিক তখনই বুঝবে, ঈশ্বরদর্শনের সময় এসেছে এবং সকল যুক্তি-তর্ক এমনিতেই দূর হয়ে যাবে।

courtesy: Asit Ray
Share:

গুরুভক্তির জন্য মহাভারতে অমর হয়ে থাকা একটি চরিত্র হচ্ছে “একলব্য”


গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরুদেব মহেশ্বর।
গুরু রেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ ।।

গুরুভক্তির জন্য মহাভারতে অমর হয়ে থাকা একটি চরিত্র হচ্ছে “একলব্য” । একলব্য ছিল মগধের অধিবাসী নিষাদরাজ হিরণ্যধনুর পুত্র। এই নিষাদরা ছিল অনার্য জাতি বা উপজাতি। নিজের প্রতি একলব্যের ছিল গভীর আস্থা এবং সেই সাথে ছিল বিখ্যাত ধনুর্ধর হবার প্রবল বাসনা। আর সেই জন্য বনের মধ্য দ্রোণাচার্যের মাটির মূর্তি তৈরি করে দ্রোণাচার্যকে গুরু বলে বরণ করে পরম শ্রদ্ধার সাথে ধনুর্বেদ শিক্ষা অর্জন করতে থাকে।


কিন্তু একসময় দ্রোণাচার্যের আদেশেই এই একলব্য নিজের ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে গুরু দক্ষিণা দিয়েছে। মহাভারতের এই কাহিনীটি আমরা অনেকেই caste প্রথার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখে থাকি। এমনকি আমরা অনেকেই ভেবে থাকি যে, “অর্জুনকে সর্বশ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর হিসেবে তৈরি করতেই দ্রোণ পক্ষপাতমূলক ভাবে একলব্যের প্রতি এই রূপ আচরণ করেছে।” কিন্তু, বাস্তবিক অর্থে এই প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সঠিকভাবে পর্যালোচনা করলে এই কাহিনীর মধ্য দিয়ে আমরা গুরু দ্রোণাচার্যের দূরদর্শিতা ও হস্তিনাপুরের প্রতি আনুগত্যতার পরিচয় পাই। একলব্য ছিল মগধদেশের উপজাতি। এই মগধের রাজা ছিল জরাসন্ধ এবং তাঁর সেনাপতি ছিল শিশুপাল। মগধ ছিল হস্তিনাপুরের শত্রুরাজ্য; তাই হস্তিনাপুরের অন্নে প্রতিপালিত দ্রোণাচার্য চায়নি যে তাঁর বিদ্যা হস্তিনাপুরের বিপক্ষে প্রয়োগ করা হোক। ভবিষ্যতে একলব্য যাতে অজেয় হতে না পারে সেই জন্য দ্রোণ একলব্যের কাছ থেকে তাঁর ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুল গুরু দক্ষিণা হিসেবে গ্রহন করে। অতএব, বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে একলব্যের প্রতি এরূপ ব্যবহারে আমাদের দুঃখ হবে না ।

মহাভারতে অনেকবার একটা কথা বলা হয়েছে যে, “কালই মহাভারতের নায়ক।” আর এই কালের নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। ধর্মসংস্থাপনের জন্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব। কুরুক্ষেত্রের সেই ধর্মযুদ্ধে একলব্য, জরাসন্ধ কিংবা শিশুপাল; এরা প্রত্যেকেই অধর্মের সহায়ক হতো। তাই, গভীরভাবে চিন্তা করলে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, “ধর্ম রক্ষার্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছানুসারেই কালের প্রভাবে একলব্যের বীরত্ব নষ্ট হয়েছে।”


Joy Ray
Share:

০৯ অক্টোবর ২০১২

আত্মতত্ত্ব জ্ঞান :২য় পর্ব



আত্মা শরীরের হৃদ্দেশে অবস্থান করে । দেহে আত্মার অবস্থানের লক্ষন হচ্ছে দেহে পরিব্যাপ্ত চেতনা। আত্মা দেহ হতে নিষ্ণ্ক্রান্ত হলে দেহ একটি অচেতন , পচনশীল, জড়পীণ্ডে পরিনত হয়।
এই জড় জগৎ এ ৮৪ লক্ষ প্রকারের জীব যোনি রয়েছে। এদের মধ্যে কীটপতঙ্গ ১১ লক্ষ, জলচর ৯ লক্ষ, উদ্ভিদ ২০ লক্ষ, পশু ৩০ লক্ষ, পাখি ১০ লক্ষ এবং মানুষের মধ্যে রয়েছে ৪ লক্ষ প্রজাতি ।
জীবাত্মা যে শরীরের মধ্যে অবস্হান করে সেই শরীর কৌমার থেকে যৌবন, যৌবন হতে বার্ধক্য অবস্হায় ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হতে থকে। কিন্তু দেহস্ত আত্মার কোন পরিবর্তন হয় না । ঠিক যেমন পুরানো কাপড় পরিত্যাগকরে নতূন কাপড় পরিধান করা হয়,ঠিক তেমনি জীবাত্মা অব্যবহারযোগ্য জরাজীর্ণ শরীর ত্যাগ করে তার কর্ম এবং বাসনা অনুযায়ী নতুন শরীর গ্রহন করে। আত্মার এই নতুন শরীর ধারনকে বলা হয় পূনজম্ম ।
জীবের চরম লক্ষ্য হচ্ছে – পরমেশ্বর ভগবানের সংগে তার হারানো সম্পকর্কে পুনঃস্থাপন করে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হওয়া, কৃষ্ণপ্রেম লাভ করা । সর্ব আনন্দের উৎস হচ্ছেন স
চ্চিদানন্দময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ । জীব যে নিত্য আনন্দ লাভের আশা করছে, তার জন্য তাকে পরম পুরুষ ভগবানর সাথে তার নিত্য, অবিচ্ছেদ্য, প্রেমময় সম্পর্কের পুনঃস্থাপন করতে হবে।
যা অল্প সময়ের মধ্যে পাওয়া যায় কিন্তু ক্ষনস্থায়ী কিন্তু অন্তিমে দুঃখজনক তাকে প্রেয় বলে। আর যা লাভ করা পরিশ্রম সাপেক্ষ, কিন্তু চিরস্থায়ী ও সুখজনক তাকে শ্রেয় বলে। জীবনের প্রকৃত শ্রেয় হচ্ছে নিজের সরূপ প্রাপ্ত হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণারবিন্দে অহৈতুকী ভক্তিভাবে তার সেবায় নিযুক্ত হওয়া ।
জীবের দুঃখের মূল কারন কৃষ্ণবিস্মৃতি। জীব যখন কৃষ্ণের সংগে তার নিত্য সম্পর্কের কথা ভূলে যায়, তখন তার নিত্য সরূপ চিন্ময় আত্মা, এ বিষয়ে বিস্মৃতির ফলে এবং এই দেহকে আত্মবুদ্ধি করার ফলে এ জগতে জীব প্রতিনিয়ত দুঃখে জর্জরিত হয় ।

সংগ্রহ : জাগ্রত চেতনা ( ইসকন )

Share:

মহাজন উপদেশ : শ্রীব্রহ্মা

গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণুর নাভীপদ্ম থেকে ব্রহ্মার জম্ম । শ্বেত-বরাহ করে ইনি জম্মগ্রহন করেন । ব্রহ্মাই সৃষ্টির আদি জীব । পদ্ম-উপরি উপবিষ্ট ব্রহ্মার চারটি মস্তক । অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ড রয়েছে। প্রতি ব্রহ্মাণ্ডেই ব্রহ্মা রয়েছ
েন। শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, বিশমাথা, পঞ্চাশ মাথা, শত মাথা, সহস্র মাথা ও লক্ষ মাথা রয়েছে । ব্রহ্মাণ্ড সমূহও ছোট বড় আকৃতির। আমাদের ব্রহ্মাণ্ডটি সবচেয়ে ছোট । আমাদের ব্রহ্মার চরটি মস্তক ।
সৃষ্টির সমস্ত জীব হতে ব্রহ্মা বয়োবৃদ্ধ ও জ্ঞানবৃদ্ধ । প্রথমে চিন্তা করলেন, “আমি কোথা হতে এলাম । কেউ তো কোথাও নেই, কেবল আমি একা ।” ভাবলেন এই পদ্মের নাল বেয়ে নিচে নামবেন কিনা। শেষ পর্যন্ত তিনি ধ্যানস্থ হয়ে তার সৃষ্টির উৎস সম্বন্ধে সন্ধিৎসু হলেন ।
বহু বর্ষ পরে ভগবান শ্রীহরি দর্শন দান করলেন । ভগবান বললেন, হে ব্রহ্মা এই দেখো চৌদ্দ ভুবন । সমস্ত ভুবন জীবে পরিপূর্ণ কর । ভগবান শ্রীব্রহ্মার মধ্যে সৃষ্টিশক্তি সঞ্চার করলেন । ব্রহ্মা ভগবানের শক্ত্যাবেশ অবতার । সৃষ্টিকার্যে তিনি নিয়োজিত । ব্রহ্মা নিজ অঙ্গ হতে মুনি ঋষি এবং মরীচি প্রমুখ প্রজাপতির সৃষ্টি করলেন । তিনি কাউকে তপস্যা আচরণের নির্দেশ দিলেন, কাউকে বা সাংসারিক কার্যে নিয়োজিত করলেন ।
তারপর ব্রহ্মা চিন্তা করলেন আর নিজের থেকে এভাবে সৃষ্টি না করে, নারী-পুরুষের মাধ্যমে সংসার সৃষ্টি হোক । তার সংকল্প অনুসারে মানস পুত্ররূপে মনু ও মনুর অর্ধাঙ্গিনী-রূপে শতরূপাকে সৃষ্টি করলেন । তা৺রা মিলিত হয়ে প্রিয়ব্রত ও উত্তানপাদ নামে দুই পুত্র এবং আকুতি, প্রসুতি ও দেবহুতি নামে তিন কন্যার জম্ম দেন । তা৺দেরকে উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীর হাতে সমর্পণ করা হয় । ক্রমে ক্রমে ব্রহ্মার দ্বারাই সৃষ্টিকার্য ব্যাপকভাবে পরিচালিত হতে লাগল।
সৃষ্টি করবার জন্য ভগবান ব্রহ্মাকে রজোগুণ দিয়েছিলেন । রজোগুণের মধ্যে রয়েছে সংকল্প, আগ্রহ ও প্রচেষ্টা । চতুর্মুখ ব্রহ্মা রজোগুণের প্রভাবে স্থাবর, জঙ্গম, খেচর, ভূচর, জলচর, উভয়চর প্রাণী প্রজাতির সৃষ্টি করলেন । নয় লক্ষ রকমের জলজ প্রাণী, কুড়ি লক্ষ রকমের গাছপালা, এগার লক্ষ রকমের কীটপতঙ্গ, দশ লক্ষ রকমের পাখী, ত্রিশ লক্ষ রকমের গাছপালা পশু এবং চার লক্ষ রকমের মানুষ প্রজাতি সৃষ্টি করলেন ।
একদিন ব্রহ্মা অহংকার বশতঃ মনে করলেন, ‘ আমিই সবকিছু করেছি । আমিই সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা । আমিই ব্রহ্মাণ্ডের মালিক ।’
শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত আছে দ্বারকাতে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীব্রহ্মাকে আহ্বান করলেন । ব্রহ্মা এসে পৌঁছালে কৃষ্ণের দ্বারপালগণ জিজ্ঞাসে করেন, ‘আপনি কোন ব্রহ্মা ।’ ব্রহ্মা তখন বিস্মিত হয়ে বললেন, চতুর্মুখ ব্রহ্মা । তারপর সভাকক্ষে প্রবেশ করে দেখলেন বহু বহু ব্রহ্মাণ্ড থেকে আগত অসংখ্য ব্রহ্মা সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণকে প্রণতি নিবেদন করেছেন । আমাদের চতুর্মুখ ব্রহ্মা নিজেকে সবচেয়ে ছোট বলে অনুভব করলেন । শ্রীকৃষ্ণ প্রত্যেক ব্রহ্মার সঙ্গে কুশল-বার্তা জিজ্ঞাসা করে একে একে তাদের বিদায় দিলেন । তখন চর্তুমখ ব্রহ্মার বিষণ্ণ মুখ দর্শন করে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে ব্রহ্মা, বলুন আপনার কি অভিপ্রায় ?
ব্রহ্মা বললেন, আমি বড় অভিমানী, আমি মনে করেছি আমি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি । কিন্তু সেই মোহ আমার দুর হয়েছে, আমার চেয়েও অসংখ্য কোটি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি রয়েছেন, তা আমি এখন বুঝতে পারলাম । আমার এই চৌদ্দ-ভুবন বিশিষ্ট ব্রহ্মাণ্ড ছাড়াও আরও অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ড রয়েছে- এবার আমার সেই বুদ্ধি জম্মেছে । হে ভগবান, এখন আমি বুঝেছি যে, আমিই সবার চেয়ে ক্ষুদ্র, আমার চিন্তাধারা অতি তুচ্ছ । আপনি দয়া করে আমার সমস্ত অভিমান ও অহংকার দুর করুন এবং আমাকে আপনার চরণে শুদ্ধ-ভক্তি প্রদান করুন ।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে ব্রহ্মা, অভিমান অহংকার যাতে না হয় সেজন্য এখানে আহ্বান করেছি, এখন আপনার মঙ্গল হোক । তারপর ব্রহ্মা শ্রীকৃষ্ণকে প্রণতি নিবেদন করে আপন স্থান সত্যলোকে গমন করলেন ।
একসময় নারদমুনি মন্দাকিনীর তটে তপস্যা করছিলেন । কিন্তু তিনি দৈববাণী শুনতে পেলেন- ‘শ্রীহরি যদি আরাধিত না হন, তবে তপস্যার কি দরকার ? শ্রী হরি যদি আরাদিত হন তবে তপস্যারই কি দরকার ? ’ দৈববাণী শুনে নারদ শ্রীহরি স্মরণ করছিলেন, তখন পিতৃদেব ব্রহ্মাকে দেখতে পেলেন । ব্রহ্মাকে প্রণতি নিবেদন করে জলপূর্ণ নয়নে নারদ বললেন, এই দৈববাণীর অর্থ কি ?
ব্রহ্মা বললেন হে বৎস ! যদি ব্যক্তি ভক্তি সহকারে শ্রীহরির আরাধনা করেন, তবে সেই ব্যক্তির তীর্থভ্রমণ, তপস্যার প্রয়োজন নেই । ভারতবর্ষে কৃষ্ণ-মন্ত্র-উপাসক জীবন্মুক্ত ব্যক্তির তপস্যার প্রয়োজন হয় না । হে নারদ, শ্রীকৃষ্ণ নাম-মন্ত্র গ্রহণ মাত্রেই তার বংশের শত পুরুষ ও বন্ধুবান্ধবরা ও অনায়াসে পবিত্র হয় । শ্রীকৃষ্ণ সেবা থেকে অন্য কোন ধর্ম বড় নয়, অন্যকোন তপস্যা শ্রেয় নয় । কৃষ্ণ-সেবা পরায়ণ ব্যক্তিদের তপস্যার পরিশ্রম অনাবশ্যক । হে পুত্র, কৃষ্ণ-মন্ত্রে ব্রতী ব্যক্তিই মহা পবিত্র । তার তীর্থস্থান, তার অনশন, তার বেদ অধ্যয়ন বিড়ম্বনা মাত্র । হে বৎস, আগুন পবিত্র, নির্মল জল পবিত্র, ভারতবর্ষ পবিত্র এবং তীর্থস্বরূপ তুলসী-পত্র পরম পবিত্র । কিন্তু কৃষ্ণনাম পরায়ণ, কৃষ্ণ-সেবা পরায়ণ ব্যক্তি অবলীলা ক্রমে পবিত্র করেন, আর এরাও সাদরে কৃষ্ণভক্ত ব্যক্তির স্পর্শ বাঞ্ছা করেন । বসুন্ধরা হরিভক্তের পদধূলি দ্বারা তৎক্ষণাৎ পবিত্র হন । হে নারদ, জানবে যে, ব্রহ্মাণ্ডে শ্রীকৃষ্ণ-সেবক অপেক্ষা কোন বস্তু বা কোনও ব্যক্তি অধিক পবিত্র নয় ।
যে ব্যক্তি প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণ পূজা করে এবং শ্রীকৃষ্ণ-চরণামৃত ও মহা-প্রসাদ গ্রহণ করে, সেই মহা পবিত্র । হে নারদ, কৃষ্ণ ভক্ত যে বংশে জম্মগ্রহন করে সেই বংশ পবিত্র হয় । জগতে যে ব্যক্তি কৃষ্ণ-ভজনা করে না, তার তপস্যা, তার কর্মপ্রচেষ্টা তার পরিশ্রম বৃথা । গঙ্গা জল যেমন মদের ভাণ্ডকে পবিত্র করতে পারে না, সেরকম বৈদিক কর্মকাণ্ডীয় যজ্ঞ, উপবাস, তপস্যা, ব্রত, দান, শুভকর্ম- এসবই অভক্ত ব্যক্তিকে পবিত্র করতে পারে না । শ্রীকৃষ্ণে যে ভক্তিপরায়ন নয়, সেই ব্যক্তি যদি তীর্থে স্নান করতে যান তবে তীর্থ বিচলিত হন । বসুন্ধরা অভক্তের ভারে দুঃখে কম্পিত হয়ে থাকেন ।
হে বৎস, শ্রীকৃষ্ণের কথাই বেদ-শাস্ত্রের সারবস্তু । যে মহাত্মা স্বপ্নে ও জাগরণে শ্রীকৃষ্ণের চিন্তা করেন , তিনি নিষ্পাপ হয়ে জগৎকে পবিত্র করেন , ভগবানের সুদর্শন চক্র সেই আত্মাকে সুরক্ষিত করেন । শ্রীকৃষ্ণের নিরন্তর স্মরণকারী ভক্ত অপেক্ষা আত্মা, প্রাণ, দেহ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, আমি, শিব তার কাছে কিছুই পবিত্র নয় । পরম-প্রভু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভক্ত-গত প্রাণ এবং ভক্ত-গন হচ্ছেন কৃষ্ণ-গত প্রাণ । ভক্ত শ্রীকৃষ্ণকে ধ্যান করেন, শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের ধ্যান করেন ।
হে নারদ, যারা ব্রাহ্মণ অথচ কৃষ্ণ ভক্ত নয়, তারা ধর্মভ্রষ্ট পতিত জীব । কৃষ্ণভক্ত-হীন ব্রাহ্মণ অপেক্ষা স্বধর্মাচারশীল চণ্ডাল, স্লেচ্ছ এমনকি কুকুর-শুকুরেরাও ভালো । হে নারদ, ধর্মহীন ব্রাহ্মণেরা যা আহার্যরূপে গ্রহণ করা উচিত নয়, সেইগুলিও তারা ভক্ষণ করে । প্রতিদিন বিপরীত ধর্মাচার দ্বারা পতিত হয়ে চণ্ডাল অপেক্ষাও অধম হয় ।
নারদমুনি প্রশ্ন করলেন, হে পিতা, ব্রাহ্মণদের স্বধর্ম কি ? তাদের ভক্ষ্য বস্তু কি ?
ব্রহ্মা বললেন, হে পুত্র, ব্রাহ্মণদের নিরন্তর কৃষ্ণ-সেবন করাই স্বধর্ম । এই জন অন্যান্য লোকেরা ব্রাহ্মণকে সশ্রদ্ধ সম্মান জ্ঞাপন করে থাকে, ব্রাহ্মণের উচ্ছিষ্ট ও পদ-ধৌত জল পান করে থাকে । ব্রাহ্মণরা প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণকে ভোগ নিবেদন করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ-প্রসাদই তাদের আহার্য বস্তু ।
নারদমুনি প্রশ্ন করলেন, হে পিতা, ব্রাহ্মণেরা যদি প্রত্যহ কৃষ্ণ-প্রসাদ না গ্রহণ করে অন্য কোন খাদ্য গ্রহণ করে তবে দোষ কি ?
ব্রহ্মা বললেন, পণ্ডিতেরা সেই খাদ্য কে অখাদ্য বলে বর্ণনা করেছেন । সেই অন্ন বিষ্টা সম, সেই পানীয় মূত্র-সম হয় । কোল ভিন্ন স্লেচ্ছ চণ্ডালেরা ভগবানকে অনিবেদিত অন্ন, রক্তমাংস জাতীয় অমেধ্য বস্তু ভক্ষণ করে থাকে, কিন্তু ব্রাহ্মণ যদি সেই বস্তু ভক্ষণ করে তবে চণ্ডাল-ধম বলে গণ্য হয় ।





হে নারদ, এখন আমি তোমাকে যে নির্দেশ দিতে ইচ্ছা করছি, তা হল এই যে, কৃষ্ণভক্ত শিবকে গুরু-রূপে গ্রহণ করে অচিরেই কৃষ্ণদাস্য ভক্তি লাভ কর । তোমার এরকম নির্জনে বসে তপস্যা করার দরকার নেই । শ্রীকৃষ্ণ-ভক্তিই দুঃখময় সংসার-সমুদ্র উত্তীর্ণ হবার নৌকা স্বরূপ । গুরুদেব সেখানে কর্ণধার স্বরূপ । হে নারদ, তুমি যে দৈব বাণী শুনেছিলে, দেবী সরস্বতীই তোমার উদ্দেশ্যে এই কথা বলে প্রস্থান করেছেন ।
শ্রীব্রহ্মা যখন নারদকে এই সমস্ত কথা বলছিলেন, তখন ব্রহ্মার পুত্র সনৎকুমার বললেন, হে পিতা , আমি কোন কথা বুঝতে পারিনি, দয়া করে আমাকে পুনরায় বলুন । শ্রীকৃষ্ণকে যে আরাধনা করেছে তার আর তপস্যা করা অনর্থক এবং যে শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করেনি তারও তপস্যা ব্যর্থ হয়, যদি এই দুইজনই তপস্যা-রহিত হয়, তবে তপস্যার স্থান কি ধরনের লোকের প্রতি নির্দিষ্ট থাকল ?
ব্রহ্মা বললেন, হে বুদ্ধিমান, তোমাকে পুত্ররূপে পেয়ে আমার জীবন ধন্য । ‘আরাধিত’ কথাটিতে আ অর্থ বিশেষরূপে ‘রাধিত’ শব্দটি প্রাপ্তবাচক হয় । অতএব যিনি শ্রীহরিকে প্রাপ্ত হয়েছেন, তপস্যার প্রয়োজন নেই । কোনও মুঢ় ব্যক্তি, যখন শ্রীকৃষ্ণ বিমুখ, তার তীর্থ, দান, তপস্যা, পুণ্য, ব্রত তাকে পবিত্র করতে পারে না ।
সনৎকুমার জানতে চাইলেন, হে পিতা, কোন ধরনের ব্যক্তি তপস্যা করবে ?
ব্রহ্মা বললেন, যে ব্যক্তি মূঢ়তম কিংবা যে ব্যক্তি সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিলাভ করেছে, এই উভয় ব্যক্তিই সুখী । তাদের তপস্যা করার দরকার নেই । কিন্তু মধ্যম লোকেরাই তপস্যা করার অধিকারী হয়ে থাকে । মধ্যম ব্যক্তিরা যারা গৃহস্থ সাধক, সংসারে ব্যাপৃত থেকে পূর্ব কর্মের ফলভোগী হয়ে অভীস্পিত শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম পাওয়ার বাসনায় তারা তপস্যা করে ।
সনৎকুমার প্রশ্ন করলেন, হে পিতা, কি রকম তপস্যা করবে ?
ব্রহ্মা বললেন, শ্রীকৃষ্ণের সেবা, ধ্যান, নাম জপ-কীর্তন, চরণামৃত ও মহা-প্রসাদ সেবন করাই সকলের বাঞ্ছিত শ্রেষ্ঠ ধর্ম ।
-হে পিতা, অধিকাংশ লোকেরই তা হলে শ্রীকৃষ্ণ-ভক্তিমূলক তপস্যার প্রয়োজন আছে । তবুও আমার জানতে ইচ্ছে করে যে, সংসারে সব লোক কৃষ্ণ-ভজন করে না কেন ?
-হে বৎস যার বুদ্ধি পূর্বজম্মকৃত কর্মদোষে মন্দ হয়েছে এবং অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে গুরু-রূপে গ্রহণ করেছে, তারা তমোগুণের অধীন হয়ে থাকে । তার ফলে তারা ত্রিগুণের অতীত ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানতে পারে না, এমনকি জানতে আগ্রহ ও থাকে না । সংসারে সেই সব লোক তাই কৃষ্ণ-ভজন করবে না ।
-হে পিতা তাহলে সংসারের সেই সব কৃষ্ণ-বিমুখদের কিভাবে সদ্গতি হবে ?
- হে পুত্র, অজ্ঞানে বা সজ্ঞানে, সাধুসঙ্গ-ক্রমে কিংবা সৌভাগ্যক্রমে কেউ যদি অপ্রসাদভোজী না হয়ে কৃষ্ণপ্রসাদভোজী হয়, তা হলে, তার হৃদয়ে সমস্ত পাপ ক্ষয় হবে, সে দেহত্যাগের পর দিব্যরথে করে গোলোক কিংবা উৎকৃষ্ট কোনও গ্রহলোকে স্বেচ্ছামতো গমন করতে সমর্থ হবে ।
সংগ্রহ : মহাজন উপদেশ ( ইসকন্ ) 
by অমিত সরকার শুভ
Share:

মহাজন উপদেশ : শ্রীশিব

একসময়, স্বর্গের মন্দাকিনীর তীরে শ্রীনারদমুনি মহাদেবের কাছে শ্রীকৃষ্ণমন্ত্র লাভ করলেন । তারপর নারদ ও মহাদেব শিব একস্থানে এসে পৌছলেন যেখানে পার্বতীদেবী, কার্ত্তিক ও গনেশ বসেছিলেন । সেখানে মহাকাল, নন্দী, বীরভদ্র,
সিদ্ধ মহর্ষিগণ ও সনকাদি মুনিগণ এসে বসলেন ।বাক্যালাপে প্রসঙ্গ ক্রমে নারদমুনি মহাদেবকে বললেন, হে ভগবান, যে জ্ঞান কর্মফলচক্রে আবদ্ধ করায় না, যে জ্ঞান সর্ববেদের সার, সেই বিষয়ে আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে আমাকে বলুন ।
মহাদেব বললেন, হে নারদ, পঞ্চরাত্র নামে এক অনুপম জ্ঞান পূর্বে গোলকে বিরজার তটে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মাকে প্রদান করেছিলেন , তারপর নিরাময় ব্রহ্মালোকে ব্রহ্মা আমাকে সে জ্ঞান প্রদান করেন , সেই সর্ব-অভিষ্ট সর্বজ্ঞানপ্রদ প্রবিত্র জ্ঞান আমি তোমাকে দান করছি, পরে তুমি ব্যাসদেবকে প্রদান করবে । আর সেই ব্যাসদেব পরে তার পু্ত্র শুকদেবকে দান করবে ।
হে নারদ, এই জ্ঞান সবার আদি, সর্ববেদের সার, অতি মনোহর । জগৎ সংসারে যত মত আছে, যত কর্ম আছে, যত মন্ত্র আছে, যত কর্মচক্র আছে – সেই সমস্ত কিছুর সারাৎসার, সর্বকর্মচক্রের মুক্তির পন্থা হচ্ছে একমাত্র পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মসেবা । নিখিল মহাবিশ্বে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই বিদ্যমান । আর অন্য সমস্ত কিছুই তার প্রয়োজন সিদ্ধির জন্যই উৎপন্ন হয়েছে । বিশ্বের সবাই তার মায়ায় মোহিত । এক কৃষ্ণ তার অনন্ত রূপ, তার অনন্ত গুন, তার অনন্ত কীর্তি এবং তার অনন্ত জ্ঞান ।
হে নারদ, তার সৃষ্ট জড় বিচিত্র বিশ্বও অনন্ত । এই বিশ্বের সব জায়গা ক্ষুদ্র, বৃহৎ, মধ্যম নানা জাতীয় জীবে পরিপূর্ণ । সেই জীবগুলো কর্মশীল । কর্মের ফলস্বরূপ তারা সুখ দুঃখ ভোগ করছে ।
সর্বান্তরাত্মা ভগবান প্রত্যেক জীবের সাক্ষীরূপে বিদ্যমান । জীবের বুদ্ধি আছে । সেই বুদ্ধিশক্তি নিদ্রা, তন্দ্রা, দয়া, শ্রদ্ধা, তুষ্টি, পুষ্টি, হ্মমা, হ্মুধা, লজ্জা, তৃষ্ণা, ইচ্ছা, শান্তি, চিনতা, জরা, জড়া প্রভৃতি নাম ধারন করে । অনুচরেরা যেমন রাজার অনুগামী হয়, সেই রকম এই সব শক্তি জীবের অনুগামী হয়ে থাকে । চিন্তা ও জরা সর্বদা জীবের শোভা ও পুষ্টির ব্যাঘাত করে । ব্রহ্মাণ্ডমধ্যে জীব যে স্থুল দেহ ধারন করে কর্ম করছে সেই দেহটি পাঞ্চভৌতিক অর্থাৎ মাটি, জল, আগুন, বাতাস ও আকাশ দিয়ে তৈরি । এই দেহ ধ্বংস হলে দেহটি পঞ্চভূতের মধ্যে মিশে যায় । প্রায় জীবই এই জগৎ সংসারে ভ্রান্তিবশে মায়ামোহিত হয়ে রোদন করতে থাকে । কিন্তু যারা সাধু ব্যক্তি, তারা নিত্য সত্য অভয়প্রদ এবং জম্মমৃত্যুজরা-অপহারী শ্রীকৃষ্ণের চরণকমল সেবা করেন ।
হে নারদ, এই বিশ্ব স্বপ্নের মতো অনিত্য । অতএব এতে বিমোহিত না হয়ে আনন্দের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম ভজনা করো । এই হচ্ছে প্রথম জ্ঞান ।
এবার দ্বিতীয় জ্ঞানের কথা শ্রবণ করো । জ্ঞানী ব্যক্তিরা মুক্তির বাসনা করেন । সাধু পণ্ডিত ব্যক্তিদের পরমামুক্তি সততই বাঞ্ছিত । কিন্তু সমস্ত মুক্তি শ্রীকৃষ্ণভক্তির কাছে অত্যন্ত তু্চ্ছ বিষয় । মুক্তি কৃষ্ণভক্তির ষোলভাগের একভাগও আকর্ষনীয় নয় । কৃষ্ণভক্ত-সংসর্গের ফলে কারও হৃদয়ে ঐকান্তিক কৃষ্ণভক্তি জাগ্রত হয় ।
মাঠের মাঝে বৃক্ষের বীজ যেমন অঙ্কুরিত হয় জল পেলে, তেমনই হৃদয় মধ্যে ভক্তিবৃক্ষের অঙ্কুর প্রকাশিত হয় ভক্তসঙ্গ পেলে । ভক্তসঙ্গে কৃষ্ণকথা আলাপে ভক্তি জাগ্রত হয় । আবার রৌদ্র মধ্যে অঙ্কুর যেমন শুকিয়ে যায়, তেমনি অভক্তজনের সঙ্গে সর্বদা সংলাপে ভক্তি শুষ্কতা প্রাপ্ত হয় । এই জন্যে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সর্বদা ভক্তজনের সাথে আলাপ করেন ।
হে নারদ, সোনা যেমন নিকৃষ্ট ধাতুর সংযোগে মলিনতা প্রাপ্ত হয়, তেমনি সৎ ব্যক্তিও সংসারের দুর্বুদ্ধি লোকের সংস্পর্শে মন্দ হয়ে যায় ।এজন্য সর্বদা নিরন্তর ভক্তিপূর্বক শ্রীকৃষ্ণভজনে যুক্ত থাকাই কর্তব্য । ভক্তিপূর্বক কৃষ্ণভক্ত বৈষ্ণবের কাছ থেকে তার কৃষ্ণমন্ত্র গ্রহন করা উচিত । কখনও অভক্ত অবৈষ্ণবের কাছ থেকে নয় । সংসারে যারা কৃষ্ণনিন্দুক, কৃষ্ণবিমুখ, কৃষ্ণভক্ত নিন্দুক, তারা অশুচি ও পাপিষ্ঠ । কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত ব্যক্তি শত পুরুষ সহ নিজেকে উদ্ধার করে ।
by অমিত সরকার শুভ
Share:

২৯ আগস্ট ২০১২

আত্মতত্ত্ব বিজ্ঞান - ০১ পর্ব :

            আমরা চিম্নয় আত্মা, স্থুল জড় দেহ নই । আর জীবাত্মা হলো পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণের নিত্য অবিচ্ছেদ্য অংশ । ভগবান হচ্ছে পূর্ণ আর আত্মা তার অংশ । তাই জীবাত্মার নিত্য ধর্ম হচ্ছে ভগবানের সেবা করা, কেননা অংশের কাজ
হলো পূর্ণের সেবা করা । মনের ধর্ম হলো সংকল্প ও বিকল্প এবং দেহের ধর্ম হলো ভোগ আর ত্যাগ । দেহের ছয়টি পরিবর্তন হলো জম্ম-বৃদ্ধি-স্হিতি-সন্তান/সন্ততি সৃষ্টি-ক্ষয়-মৃত্যু । জীবের স্বরূপ হয় কৃষ্ণের 'নিত্যদাস' - শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ।

        আত্মার আকার চুলের অগ্রভাগের দশ হাজার ভাগের এক ভাগ । তা এতই ক্ষুদ্র যে এই জড় চক্ষু দিয়ে বা যন্ত্রের সাহায্যে আত্মাকে দর্শন করা যায় না । এ ছাড়া আত্মা জড় পদার্থ নয়, তাই জড়ীয় ইন্দ্রিয় ও যন্ত্র দিয়ে তা দেখা অসম্ভব ।

       এই জড় জগৎটি ভগবানের বহিরঙ্গা ত্রিগুনাত্মিকা মায়া শক্তির প্রকাশ । ভূমি, জল, বায়ু, অগ্নি, আকাশ, মন, বুদ্ধি এবং অহংকার - এই আটটি উপাদান নিয়ে এই জড় জগৎ তৈরী হয়েছে । পঞ্চ মহাভূত হচ্ছে - ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও বোম । ইন্দ্রিয় পাঁচটি বিষয় হলো - রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শ । পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় হচ্ছে - নাক, জিভ, চোখ, কান ও ত্বক। পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় হলো -বাক, পানি, পাদ, উপস্থ ও বায়ূ ।

      জীবের স্হূল শরীরটি ভূমি, জল, বায়ূ, অগ্নি ও আকাশ দিয়ে তৈরী । এবং সূক্ষ শরীরটি মন, বুদ্ধি ও অহংকার নিয়ে গঠিত । জীবের প্রকৃত সমস্যা হলো - জম্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু ।
(চলবে........)
অমিত সরকার শুভ

Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।