• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

জীবনাচরন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবনাচরন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১২ মে ২০২০

আসুন জেনে নেই প্রাত্যহিক জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু মন্ত্র ।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে কাজে লাগে এমন অনেক মন্ত্র রয়েছে হিন্দু শাস্ত্রে। সকল সনাতনী হিন্দুকেই এগুলো জানা এবং পালন করা উচিত। এখানে এমন কিছু মন্ত্রের সংকলন দেয়া হলো যা আপনার প্রাত্যহিক প্রয়োজন পড়ে। চলুন দেখে নেয়া যাক ঐ সকল মন্ত্রঃ

১. প্রতিদিন ঘুমাবার আগে বলুন :-
                                                             ওঁ শয়নে শ্রী পদ্মনাভায় নম:।

২. জন্ম সংবাদ শুনলে বলুন :- ( ৩ বার)
                                                                 আয়ুষ্মান ভব।

৩. মৃত্যু সংবাদ শুনলে বলুন :-
                               
                                                         "দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু"( পুরুষের ক্ষেত্রে)
                                                                 "দিব্যান্ লোকান্ সা গচ্ছতু"( নারীর ক্ষেত্রে)

৪. প্রতিদিন খাবার আগে বলুন :-
                                                                         ওঁ শ্রী জনার্দ্দনায় নম:।

৫. বিপদে বলুন :-
                                                                        ওঁ শ্রী মধুসূদনায় নম:।

৬. হিন্দু ধর্মীয় সকলকাজ শুরুর আগে বলুন :-
                                                                        ওঁ তৎ সৎ।

৭. গৃহ প্রবেশ মন্ত্র :-
                                                ওঁ শ্রী বাস্তুপুরুষায় নম:।

৮. মাতৃ প্রনাম মন্ত্র :-
                                   ভূমেগরীয়সী মাতা স্বাগাৎ উচ্চতর পিতা জননী জন্মভূমিশ্চ স্বগাদগি গরিয়সী।
                                         গর্ভ ধারণ্যং পোষ্যভাং পিতুমাতা বিশ্বস্তে।
                                        সর্বদেব সরুপায় স্তন্মৈমাএ নমঃ নমঃ।।

৯. পিতৃ প্রনাম মন্ত্র :-
                                     পিতাস্বর্গঃ পিতা ধর্মঃ পিতাহিপরমংতপঃ। ।
                                         পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রীয়ন্তে সর্বদেবতা নমঃ পিতৃ চরনেভ্য নমঃ।।

১০. শ্রীকৃষ্ণ প্রনাম মন্ত্র :-
                                  হে কৃষ্ণ করুণা সিন্ধু দীনবন্ধু জগৎপথে।
                                        গোপেশ গোপীকা কান্ত রাধা কান্ত নমহস্তুতে।।
                                 নম ব্রহ্মণ্য দেবায় গো ব্রহ্মণ্য হিতায় চ।
                                       জগদ্ধিতায় শ্রীকৃষ্ণায় গোবিন্দায় বাসুদেবায় নমো নমঃ।।

১১. শ্রীরাধারানী প্রণাম মন্ত্র :-
                                             তপ্ত কাঞ্চন গৌরাঙ্গীং রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
                                                     বৃষভানু সূতে দেবী তাং প্রণমামি হরি প্রিয়ে।।

১২. দেহ শুচীর মন্ত্র :-
                              ওঁ অপবিত্র পবিত্রোবাং সর্বাবস্থান গতহ্বপিবা।
                                    যৎ সরেত পুন্ডরিকাক্ষং স বাহ্য অভ্যান্তরে শুচি।।
                             পাপোহং পাপ কর্মাহং পাপাত্মা পাপ সম্ভাবান্।
                                    ত্রাহি মাং পুন্ডরীকাক্ষং সর্ব পাপো হরো হরি।।

১৩. গুরু প্রণাম মন্ত্র :-
                              অখন্ড মন্ডলা কারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম।
                                      তদপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ।।
                             অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া।
                                      চক্ষুরুন্মিলিত যেন তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ।।
                            গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরুদেব মহেশ্বর।
                                     গুরু রেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ।।

১৪. শ্রী পঞ্চতত্ত্ব প্রণাম মন্ত্র :-
                                      পঞ্চতত্ত্ব আত্মকং কৃষ্ণং ভক্তরূপ স্বরূপকম্।
                                        ভক্ত অবতারং ভক্তাখ্যাং নমামি ভক্ত শক্তিকম্।।

১৫. সূর্য প্রণাম মন্ত্র :-
                                  ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
                                            ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহষ্মি দিবাকরম্।।

১৬. গোবিন্দ প্রণাম মন্ত্র :-
                                           ঔঁ ব্রহ্মাণ্ড দেবায় গোব্রাহ্মণ হিতায় চঃ।
                                                    জগদ্ধিতায় শ্রীকৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমঃ।।

১৭. তুলসী প্রণাম মন্ত্র :-
                                   ঔঁ বৃন্দায়ৈ তুলসী দৈব্যে প্রিয়াঐ কেশবস্য চঃ।
                                         কৃষ্ণভক্তিপদে দেবী সত্যবত্যৈ নমঃ নমঃ।।

১৮. দুর্গা প্রণাম মন্ত্র :-
                                    সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সবার্থসাধিকে। 
                                          শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোহস্তুতে।।

১৯. শ্রীবিষ্ণু প্রণাম মন্ত্র :- ( অশ্বথ বৃক্ষমূলে জল দিয়ে)
                                                                      ওঁ অশ্বত্থ বৃক্ষরূপোহসি মহাদেবেতি বিশ্রুতঃ।
                                                                                 বিষ্ণুরপধরোহসি ত্বং পুণ্যবৃক্ষ নমোহস্ত্ত তে।।

২০. বিশ্বকর্মা প্রণাম মন্ত্র :-
                                             দেবশিল্পিন মহাভাগ দেবানাং কার্যসাধক।
                                                           বিশ্বকর্মন্নমস্তুভ্যং সর্বাভীষ্টফলপ্রদ।।

২১. গায়ত্রী প্রণাম মন্ত্র :-
                                                 ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ
                                            তৎ সবিতুর্বরেণ্যং
                                          ভর্গো দেবস্য ধীমহি
                                    ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।

২২. তুলসী পত্র চয়ন মন্ত্র :-
                                               ওঁ তুলস্যমৃতজন্মাসি সদা ত্বং কেশবপ্রিয়া।
                                                    কেশবার্থে চিনোমি ত্বাং বরদা ভব শোভনে॥

২৩. তুলসী জলদান মন্ত্র :-
                                        গোবিন্দ বল্লভাং দেবী ভক্ত চৈতন্য কারিনী।
                                             স্নাপযামি জগদ্ধাত্রীং কৃষ্ণভক্তি প্রদায়িনী।।

২৪.  তুলসীদেবীর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা মন্ত্র :-
                                                               চয়নোদ্ভবদুঃখং চ যদ্ হৃদি তব বর্ততে।
                                                                     তত্ ক্ষমস্ব জগন্মাতঃ বৃন্দাদেবী নমোহস্ততে॥

২৫.  আচমন মন্ত্র :-
                                        ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু।
                                  ওঁ তদ্বিষ্ণু পরমং পদং সদাপশ্যান্তি সুরয়।
                                       দিবিব চহ্মুরাততম।

২৬. গঙ্গা প্রনাম মন্ত্র :-
                                              ওঁ সদ্যঃপাতকসংহন্ত্রী সদ্যোদুঃখবিনাশিনী।
                                             সুখদা মোক্ষদা গঙ্গা গঙ্গৈব পরমা গতিঃ।।


২৭.  গীতা পাঠে ভুলের ক্ষমা প্রর্থনা মন্ত্র :-
                                                               নমো যদক্ষরং মাত্রাহীনঞ্চ যদ্‌ ভবেৎ ।
                                                            পূর্ণং ভবতু ত্বং সর্বং ত্বং প্রসাদাৎ জনার্দ্দন ।।


২৮. সরস্বতী দেবীর প্রনাম মন্ত্র :-
                                                           নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
                                                          বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে।


২৯.  একাদশী পারনা মন্ত্র :-
                                            একাদশ্যাং নিরাহারো ব্রতেনানেন কেশব।
                                               প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভব।।

৩০. দেহ শুদ্ধি মন্ত্র :-
                                   পাপোহং পাপ কর্মাহং পাপাত্মা পাপ সম্ভাবান্ ।
                                        ত্রাহি মাং পুন্ডরীকাক্ষং সর্ব পাপো হরো হরি ৷৷

৩১. শ্রীকৃষ্ণের চরনামৃত পান করার মন্ত্র :-
                                                               ওঁ অকাল-মৃত্যু-হরণং সর্ব্ব ব্যাধি-বিনাশনং ।
                                                                  কৃষ্ণ পাদোদকং পীত্বা শিরসা ধারয়াম্যহং ।।

৩২. শিবের প্রনাম মন্ত্র :-
                                              ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয় হে তবে।
                                                    নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতি পরমেশ্বর।

৩৩. প্রসাদ সেবন মন্ত্র :-
                                       মহাপ্রসাদে গোবিন্দে নাম-ব্রহ্মেণি বৈষ্ণবে।
                                            স্বল্প-পুণ্য বতাং রাজন্ বিশ্বাস নৈব জায়তে॥
                                 শরীর অবিদ্যা-জাল, জড়েন্দ্রিয় তাহে কাল,জীবে ফেলে বিষয়-সাগরে।
                                তা'র মধ্য জিহ্বা অতি, লোভময় সুদুর্মতি, তা'কে জেতা কঠিন সংসারে॥
                                কৃষ্ণ বড় দয়াময়, করিবারে জিহ্বা জয়, স্বপ্রসাদ-অন্ন দিলা ভাই।
                                সেই অন্নামৃত খাও, রাধাকৃষ্ণ গুণ গাও,প্রেমে ডাক চৈতন্য-নিতাই ৷৷

৩৪. পুষ্প শুদ্ধিকরন মন্ত্র :-
                                     ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে পুষ্পচয়াবকীর্নে চ হুং ফট স্বাহা।।


৩৫. নৃসিংহ প্রনাম মন্ত্র :-
                                            জয় নৃসিংহ শ্রীনৃসিংহ
                                           জয় জয় জয় শ্রীনৃসিংহ
                                           উগ্রং বিরং মহাবিষ্ণুং
                                           জলন্তং সর্বতোমুখং
                                           নৃসিংহং বিষনং ভদ্রং
                                           মৃত্যুর মৃত্যো নমাম্যহং
                                           শ্রী নৃসিংহ জয় নৃসিংহ
                                           জয় জয় নৃসিংহ
                                           প্রহ্লাদেশ জয় পদ্ম
                                           মুখো পদ্ম বৃংঙ্গম।।




Share:

২২ এপ্রিল ২০২০

কীভাবে শ্রীমদ্ভাগবতের সনাতন শিক্ষা আমাদের মৃত্যুর মোকাবিলা করতে শেখায় ?

যে মানুষ যথেষ্ট বুদ্ধিমান নয়, সে পারমার্থিক জীবন সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে পারে না। পক্ষান্তরে, সে নানা রকম অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সম্বন্ধে অনুসন্ধান করে, যার সঙ্গে তার সচ্চিদানন্দময় অস্তিত্বের কোনই সম্পর্ক নেই। জীবনের শুরু থেকেই সে তার মা, বাবা শিক্ষক, অধ্যাপক এবং অন্যান্য বহু সূত্র থেকে নানা রকম বিষয়ে
জানবার চেষ্টা করে, কিন্তু সেই সমস্ত প্রশ্নের মাধ্যমে তার প্রকৃত স্বরূপ সম্বন্ধে সে কিছুই জানতে পারে না।

পরীক্ষিৎ মহারাজ যখন জানতে পারলেন যে, সাতদিন পরে তাঁর মৃত্যু হবে, তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর রাজপ্রাসাদ এবং রাজ-ঐশ্বর্য পরিত্যাগ করে পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে পরীক্ষিৎ মহারাজ অন্তত সাতদিন সময় পেয়েছিলেন, কিন্তু আমরা যদিও জানি যে, মৃত্যু আমাদের অবশ্যম্ভাবী, তবে কখন যে তা আসবে, সেই সম্বন্ধে আমাদের কিছুই জানা নেই। আমরা জানি যে, যে কোন মুহূর্তে আমাদের মৃত্যু ঘটতে পারে। মহাত্মা গান্ধীর মতাে একজন
তথাকথিত মহাত্মা পর্যন্ত বুঝতে পারেননি যে, পাঁচ মিনিট পরেই তাঁর মৃত্যু হবে, আর তাঁর মহান পারিষদেরাও তার আসন্ন মৃত্যুকে অবলােকন করতে পারেননি।

জন্ম এবং মৃত্যু সম্বন্ধে অজ্ঞতাই পশু এবং মানুষের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে থাকে। একজন যথার্থ মানুষ তার নিজের সম্বন্ধে এবং তার স্বরূপ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। সে প্রশ্ন করে, কোথা থেকে সে এই
জীবনে এল এবং মৃত্যুর পর সে কোথায় যাবে। সে প্রশ্ন করে, যদিও সে দুঃখ চায় না, তবুও কেন সে ত্রিতাপ দুঃখের দ্বারা জর্জরিত হচ্ছে। জীবনের শুরু থেকে মানুষ তার জীবনের কত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু জীবনের যথার্থ তত্ব সম্বন্ধে সে কখনই কোন প্রশ্ন করে না। এটিই হচ্ছে পাশবিকতা। চারটি পশুপ্রবৃত্তি মানুষের মধ্যেও দেখা যায়।

সেই ব্যাপারে মানুষ এবং পশুর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। প্রতিটি জীবই আহার, নিদ্রা, ভয় এবং মৈথুনকে কেন্দ্র করে জীবন যাপন করে, কিন্তু মনুষ্য-জীবনেই কেবল নিত্য অস্তিত্ব এবং চিন্ময় সত্ত্বা সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়। তাই মনুষ্য-জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে তার নিত্য অস্তিত্ব সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা। বেদান্ত সূত্র উপদেশ দিচ্ছে
যে, সেই অনুসন্ধান এখনই করতে হবে। তা না হলে কখনই তা সম্ভব হবে না। মনুষ্য-জীবন পাওয়া সত্ত্বেও আমরা যদি আমাদের প্রকৃত স্বরূপ সম্বন্ধে অনুসন্ধান না করি, তা হলে প্রকৃতির নিয়মে
আমাদের অবশ্যই আবার পশুজীবন প্রাপ্ত হতে হবে। তখন আর আমরা প্রশ্ন করতে পারব না, ‘আমি কে? আমি কোথা থেকে এলাম? আমি কেন এখানে কষ্ট পাচ্ছি?” তাই জড়জাগতিক বিষয়ে
অনেক মূর্খ লােকদের যথেষ্ট উন্নত বলে মনে হলেও অর্থাৎ আহার, নিদ্রা, ভয়, মৈথুন ইত্যাদি বিষয়ে তাদের খুব উন্নত বলে মনে হলেও
প্রকৃতির নিয়মে মৃত্যুর হাত থেকে তারা কখনই নিস্তার পেতে পারে না। জড়া প্রকৃতি সত্ত্ব, রজ এবং তম—এই তিনটি গুণের দ্বারা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। যারা সত্ত্বগুণে জীবন যাপন করে, তারা উচ্চতর ধার্মিক জীবন প্রাপ্ত হয়; যারা রজোগুণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জীবন যাপন করে, তারা জড় জগতে যেখানে রয়েছে সেখানেই আবদ্ধ হয়ে
থাকে; আর যারা তামসিক জীবন যাপন করে, তারা অবশ্যই অধঃপতিত হয়ে নিম্নতর জীবন লাভ করে।

আধুনিক সভ্যতার পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে তা কোন শিক্ষাই প্রদান করে না। পশুর মতাে এই সমাজের মানুষেরাও জানে না যে, প্রকৃতির নিয়মে অচিরেই তাদের মৃত্যু হবে। একমুঠো সবুজ ঘাস বা তথাকথিত সুখময় জীবন পেয়ে তারা কসাইখানায় মৃত্যুর প্রতীক্ষমান পাঁঠার মতাে নির্বিকার। আধুনিক মানুষের এই দুর্দশার কথা বিবেচনা করেই আমরা ভগবৎ দর্শনের মাধ্যমে মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। এই পন্থাটি অলীক নয়।
কলহের যুগ এই যুগে মিথ্যার আবরণ উন্মােচন করে যদি আবার সত্যযুগের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়, তা হলে ভগবৎ-দর্শনের এই বাণীর মাধ্যমেই তার সূচনা হচ্ছে।

||হরেকৃষ্ণ||

Post Courtesy by:  অদ্রিজা মুর্খাজী
Share:

ত্রিসন্ধ্যা কি? নিত্য কর্ম করার নিয়ম কি?

১। সূর্যোদয়ের কমপক্ষে আধঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠতেহবে। (একে বলে ব্রাহ্ম মুহুর্তে উঠা) ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে যাদের দীক্ষা হয়েছে তারা গুরু স্মরণ করে গুরু প্রদত্ত মন্ত্র এবং যাদের দীক্ষা বা (মন্ত্র) হয়নি তারা ঈশ্বরের যে কোন নাম জপ করবেন কমপক্ষে ১০৮ বার করে যতবার বেশি করা যায় জপ করবেন ও ঈশ্বরের স্মরণ ও মনন করবেন। এটা হল ১ম (সন্ধ্যা)। এটা সূর্য উঠার আধ ঘণ্টা পর পর্যন্ত চলতে পারে। ঈশ্বরের যে কোন নামে তাঁকে ডাকতে হবে একেই বলে জপ। আর তাঁর রূপকে চিন্তা করাকেই বলে ধ্যান।



২। এভাবে স্নানের পর দুপুরে বা তার একটু আগে পরে একইভাবে কমপক্ষে ১০৮ বার করে যতবার পারবেন জপ করবেন। এভাবে ঈশ্বরের নাম করা ও তাঁর স্মরণ করা হল ২য় সন্ধ্যা।

৩। এভাবে সূর্যাস্তের অর্ধ ঘণ্টা পর থেকে শোবার আগে যে কোন সময়, তবে সন্ধ্যা আরতির সময় করা বেশী উত্তম। একই ভাবে ১০৮ বা অধিক বার তাঁর নাম জপ ও তাঁকে স্মরণ করতে হবে। এটি হল ৩য় সন্ধ্যা। এভাবে ত্রিসন্ধ্যা করা একান্ত কর্তব্য (এছাড়াও শোবার সময় উঠার সময় হাই তোলার সময়, হাঁচি, কাশিতে সর্বদা তাঁর নাম করতে হয়)। মনে রাখতে হবে ঈশ্বরকে মহিলা, পুরুষ, বৃদ্ধ, বনিতা, শরীরের যে কোন অবস্থায় যে কোন কালে, যে কোন স্থানে তাঁর নাম মনে মনে করবেন। কারণ,

শ্রীমদ্ভাগবত গীতার ৮/৫ শ্লোকে আছে-

অন্তকালে চ মামেব স্মরণ মুক্তা কলেবরম্
য়ঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং য়াতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ ।।

অর্থাৎ,
মৃত্যুকালে বা দেহত্যাগকালে যে ঈশ্বরকে স্মরণ করে বা তাঁর নাম করে সে আমার ভাব অর্থাৎ ঈশ্বরকে প্রাপ্ত হয় বা ঈশ্বর লাভ করে। মৃত্যু মানুষকে যে কোন সময় গ্রাস করে, বলে কয়ে আসে না। তাই যে কোন স্থানে দেহের যে কোন অবস্থায় মন্দিরে-শৌচালয়ে যে কোন স্থানে তাঁর নাম করা কর্তব্য। তাই সর্বদা এমনকি শৌচ কালেও ঈশ্বরকে মনে মনে ডাকা (জপ) স্মরণ (ধ্যান) করা যায়। সুতরাং যাদের দীক্ষা হয়েছে তারা তার গুরু নির্ধারিত ইষ্ট মন্ত্র জপ করবেন। যাদের দীক্ষা হয়নি তবুও তারা ঈশ্বরের যে কোন নামে জপ করতে পারে।

যেমন- ওঁ(অউম্), ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, রাম, কৃষ্ণ, রামকৃষ্ণ, হরি নারায়ণ, ইত্যাদি যে কোন নামে ডাকবেন। সঙ্গে গায়ত্রী মন্ত্র জানা থাকলে সেটি পারলে জপ করা যায়।

গায়ত্রী মন্ত্রঃ

ওঁ ভুঃ ভুবঃ স্বঃ তৎ সবিতুর্ বরেণ্যং
ভর্গদেবস্য ধীমহি ধিয়ো ইয়েনঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।

গায়ত্রীর অর্থঃ

ভুঃ ভুবঃ স্বঃ অর্থ- স্বর্গ, মর্ত্য, অন্তরিক্ষ ব্রহ্মাণ্ড যাঁর থেকে উৎপন্ন হয়েছে সেই জ্যোতির্ময় পরমাত্মার ধ্যান করি, আমাদের বুদ্ধি (মতি পরমাত্মার দিকে পরিচালিতহউক।

সর্বদা জানবেনঃ পূজার চেয়ে নামজপ বা নাম করা বড় তাঁর চেয়ে ঈশ্বরের ধ্যান করা আরো বড়। তাই জপ, ধ্যান অবশ্যই কর্তব্য। তবে বিশেষ দিনে পূজা করা কর্তব্য। জপ ধ্যান সর্বদা কর্তব্য। তাছাড়াও শয়নকালে বা উঠার সময়, হাঁচি, কাশি, হাইতোলা যে কোন সময় যে কোন কর্মের শুরুতে ও শেষে তাঁর নাম করা কর্তব্য। যেমন- গা মোড়াবার সময় রাম রাম, হরিবোল, হরে রাম, হরে কৃষ্ণ, ইত্যাদি।

তাকে হরি ওঁ তৎ সৎ নামেও ডাকা যায়। আমাদের নিজ নিজ ব্যবসা ক্ষেত্র, কর্মক্ষেত্র ও যানবাহনে চলাচলে সর্বত্র বসে বসে বা হাটতে হাটতে ত্রিসন্ধ্যার সময় হলে মনে মনে ঈশ্বরকে ডাকতে পারি ও নাম করতে পারি।

জয় শ্রীকৃষ্ণ

সবাইকে জানার জন্য শেয়ার করুন।
Share:

২৫ এপ্রিল ২০১৯

জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য

সমুদ্রের জল মেঘে পরিণত হয়,বর্ষার ধারায় মেঘ নেমে আসে এবং তার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে,পুনরায় সমুদ্রে প্রবেশ করা।তেমনই আমাদের প্রকৃত আলয় হচ্ছে ভগবদ্ধাম। আমরাও আত্মারূপে ভগবানের কাছে থেকে এসেছি। কিন্তু এখন জড়জাগতিক জীবনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছি।
এই দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে,প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া-সেটিই হচ্ছে জীবনের উদ্দেশ্য।



কেউ এখানে কোনরকম বোঝাপড়া করে,আজীবন টিকে থাকতে পারে না। কেউ মনে করতে পারে-আমি তো বেশ ভালই আছি,আমার জীবন খুব সুখের,তাই আমি চিরকাল এখানেই থাকতে চাই।

কিন্তু তুমি বেশিদিন এখানে থাকতে পারবে না। জীবনের আয়ূ শেষ হলে,তোমাকে এখান থেকে জোর করর বের করে দেওয়া হবে। তারপর পরবর্তী জীবন কেমন হবে সে সম্পর্কে তুমি কিছুই জানো না-এটিই শেখায় কৃষ্ণভাবনামৃত দর্শণ।

কৃষ্ণভাবনামৃত অর্থাৎ কৃষ্ণ (ভগবান) কথা লোকমাঝে প্রচার করার উদ্দেশ্যই ইহা-মানুষকে দুঃখ-দুর্দশাপূর্ণ জীবন থেকে মুক্তিলাভে সাহায্য করা। কিন্তু ভগবান সম্পর্কে অনভিজ্ঞ মানুষ,এই সহায়তাকে তাদের রুচিগত ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করা রূপে দর্শণ করে,ভুল বুঝে আরও বিপথগামী হচ্ছে।
কৃষ্ণ হলেন ভগবান।

তাঁর আলয় থেকেই আমরা সকল আত্মারা এসেছি। তাই
" কৃষ্ণকথা প্রচার কোন সাম্প্রদায়িক আন্দোলন নয়,এটি সকলের মঙ্গলের জন্য একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন"।

তবে কি কেউ যখন ভগবান সম্পর্কে জানতে পারবে,তখন তার জীবন আর ততটা দুঃখ-দুর্দশাপূর্ণ থাকবে না?

তাও নয়। কিছুটা জ্ঞান লাভ করলে চলবে না,পুর্ণ জ্ঞান লাভ করতে হবে।

'জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বত'

'তত্ত্বত' মানে হচ্ছে পুর্ণরূপে। আর এই পূর্ণ জ্ঞান একমাত্র ভগবদগীতায় শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা জনে-জনে গীতার জ্ঞান বিতরন করে চলেছি। আপনাদের অনুরোধ সেই শিক্ষা লাভ করে,জীবনের পূর্ণতা প্রাপ্ত হউন।

স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এই জগৎকে 'দুঃখালয়ম'- দুঃখের আলয়,এবং 'অশাশ্বতম'-অনিত্য। অর্থাৎ যাহা আজীবন নয় এইরূপে ব্যাখ্যা করেছেন।

' মামুপেত্য পুনর্জন্ম দুঃখালয়ম অশাশ্বতম
নাপ্নুবন্তি মহাত্মানঃ সংসিদ্ধিং পরমাং গতাঃ'

"যে সকল মহান ভক্তিযোগী আমাকে প্রাপ্ত হয়েছেন,তাঁরা আর কখনই দুঃখের আলয়,অশাশ্বত এই জগতে ফিরে আসবে না।"
মামুপেত্য- কেউ যদি আমার কাছে ফিরে আসে,তাঁর আর পুনর্জন্ম হবে না।

Post Courtesy: Lincon Mondal

Share:

০৩ জানুয়ারি ২০১৮

ত্রিসন্ধ্যা বা নিত্য কর্ম করার নিয়ম??

১। সূর্যোদয়ের কমপক্ষে আধঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠতে হবে। (একে বলে ব্রাহ্ম মুহুর্তে উঠা) ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে যাদের দীক্ষা হয়েছে তারা গুরু স্মরণ করে গুরু প্রদত্ত মন্ত্র এবং যাদের দীক্ষা বা (মন্ত্র) হয়নি তারা ঈশ্বরের যে কোন নাম জপ করবেন কমপক্ষে ১০৮ বার করে যতবার বেশি করা যায় জপ করবেন ও ঈশ্বরের স্মরণ ও মনন করবেন। এটা হল ১ম (সন্ধ্যা)। এটা সূর্য উঠার আধ ঘণ্টা পর পর্যন্ত চলতে পারে। ঈশ্বরের যে কোন নামে তাঁকে ডাকতে হবে একেই বলে জপ। আর তাঁর রূপকে চিন্তা করাকেই বলে ধ্যান।

২। এভাবে স্নানের পর দুপুরে বা তার একটু আগে পরে একইভাবে কমপক্ষে ১০৮ বার করে যতবার পারবেন জপ করবেন। এভাবে ঈশ্বরের নাম করা ও তাঁর স্মরণ করা হল ২য় সন্ধ্যা।

৩। এভাবে সূর্যাস্তের অর্ধ ঘণ্টা পর থেকে শোবার আগে যে কোন সময়, তবে সন্ধ্যা আরতির সময় করা বেশী উত্তম। একই ভাবে ১০৮ বা অধিক বার তাঁর নাম জপ ও তাঁকে স্মরণ করতে হবে। এটি হল ৩য় সন্ধ্যা। এভাবে ত্রিসন্ধ্যা করা একান্ত কর্তব্য (এছাড়াও শোবার সময় উঠার সময় হাই তোলার সময়, হাঁচি, কাশিতে সর্বদা তাঁর নাম করতে হয়)। মনে রাখতে হবে ঈশ্বরকে মহিলা, পুরুষ, বৃদ্ধ, বনিতা, শরীরের যে কোন অবস্থায় যে কোন কালে, যে কোন স্থানে তাঁর নাম মনে মনে করবেন।
কারণঃ

শ্রীমদ্ভাগবত গীতার ৮/৫ শ্লোকে আছে-
অন্তকালে চ মামেব স্মরণ মুক্তা কলেবরম্ য়ঃ
প্রয়াতি স মদ্ভাবং য়াতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ ।।

অর্থাৎ মৃত্যুকালে বা দেহত্যাগকালে যে ঈশ্বরকে স্মরণ করে বা তাঁর নাম করে সে আমার ভাব অর্থাৎ ঈশ্বরকে প্রাপ্ত হয় বা ঈশ্বর লাভ করে। মৃত্যু মানুষকে যে কোন সময় গ্রাস করে, বলে কয়ে আসে না। তাই যে কোন স্থানে দেহের যে কোন অবস্থায় মন্দিরে-শৌচালয়ে যে কোন স্থানে তাঁর নাম করা কর্তব্য। তাই সর্বদা এমনকি শৌচ কালেও ঈশ্বরকে মনে মনে ডাকা (জপ) স্মরণ (ধ্যান) করা যায়। সুতরাং যাদের দীক্ষা হয়েছে তারা তার গুরু নির্ধারিত ইষ্ট মন্ত্র জপ করবেন। যাদের দীক্ষা হয়নি তবুও তারা ঈশ্বরের যে কোন নামে জপ করতে পারে যেমন- ওঁ (অউম্), ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, রাম, কৃষ্ণ, রামকৃষ্ণ, হরি নারায়ণ, ইত্যাদি যে কোন নামে ডাকবেন। সঙ্গে গায়ত্রী মন্ত্র জানা থাকলে সেটি পারলে জপ করা যায়।

গায়ত্রী মন্ত্রঃ

ওঁ ভুঃ ভুবঃ স্বঃ তৎ সবিতুর্ বরেণ্যং ভর্গদেবস্য
ধীমহি ধিয়ো ইয়েনঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।

গায়ত্রীর অর্থঃ ভুঃ ভুবঃ স্বঃ অর্থ- স্বর্গ, মর্ত্য, অন্তরিক্ষ ব্রহ্মাণ্ড যাঁর থেকে উৎপন্ন হয়েছে সেই জ্যোতির্ময় পরমাত্মার ধ্যান করি, আমাদের বুদ্ধি (মতি পরমাত্মার দিকে পরিচালিতহউক।
সর্বদা জানবেনঃ পূজার চেয়ে নামজপ বা নাম করা বড় তাঁর চেয়ে ঈশ্বরের ধ্যান করা আরো বড়। তাই জপ, ধ্যান অবশ্যই কর্তব্য। তবে বিশেষ দিনে পূজা করা কর্তব্য। জপ ধ্যান সর্বদা কর্তব্য। তাছাড়াও শয়নকালে বা উঠার সময়, হাঁচি, কাশি, হাইতোলা যে কোন সময় যে কোন কর্মের শুরুতে ও শেষে তাঁর নাম করা কর্তব্য। যেমন- গা মোড়াবার সময় রাম রাম, হরিবোল, হরে রাম, হরে রাম

(C) Shornali Das
Share:

২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

ব্রিলিয়ান্ট ছেলে মেয়েগুলো দেশ বিদেশের নানা বই পড়ে কিন্তু গীতা, রামায়ন পড়েছে কি ?

কখনো খেয়াল করেছেন, আপনার পাশের বাসার ব্রিলিয়ান্ট ছেলেটি দেশ বিদেশের নানা বই পড়ে। অথচ কখনো সে গীতা, রামায়ণ কিংবা মহাভারত পড়েনি। হুমায়ুন আহমেদের হিমু, মিসির আলী কিংবা রবি ঠাকুরের "শেষের কবিতা " কতজনেই তো পড়েছে। অথচ তাদের ৫০% ও গীতা পড়েছে কি-না সন্দেহ! এদের মধ্যে অনেকেই রামায়ণ, মহাভারত চোখেও দেখেনি। প্রশ্ন হচ্ছে কেন? যার বই পড়ার অভ্যাস নেই, সে না হয় গীতা পড়েনা। কিন্তু বই পড়ুয়া ছেলেটির হাতে কেন কখনো গীতা উঠে না? যারা গীতা পড়েন বা যারা পড়েছেন, তাদের নিয়ে এই মুহুর্তে একটা জরিপ করেন। "কেন আপনি গীতা পড়েন? " এই প্রশ্নটা যদি গীতা পড়েছেন এমন কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়, তবে যদি আমি ভুল না করে থাকি তবে ৯৫% মানুষের উত্তর হবে - গীতা পড়লে পূণ্য হয়, তাই গীতা পড়ছি। আমার মনে হয় এখানেই প্রবলেমটা।

স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে সারাজীবন আপনি রাত জেগে পড়েছেন শুধু পড়লে ভালো রেজাল্ট করা যায়, এই একটা কারণেই। আর সেজন্যই একাডেমিক লাইফের পড়াগুলো আমাদের ৯০% মনেই থাকেনা। কারণ সেই জায়গায় আমাদের স্বার্থ ছিল। অথচ কোনো একটা গল্প, উপন্যাস বা সাহিত্য কিংবা অন্য যেকোনো বই একবার পড়লেই সেটা সারাজীবন মনে থাকে। কারণ সেখানে আমাদের কোনো স্বার্থ নেই। হুমায়ুন আহমেদের হিমু গল্প পড়ে কতজনই তো হলুদ পাঞ্জাবি পরে হিমু সেজেছিল। মুলত এরপর কয়েকবছর হলুদ পাঞ্জবীর বেশ প্রচলন হয়েছিল ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে। এর মানে হলো বইয়ের সে কাহিনীকে তারা নিজদের সাথে মিশিয়ে ফেলেছে। ঠিক এতটাই ভালোবাসা ছিল। গীতা পড়লে পূণ্য হবে, পূণ্য হলে মৃত্যুর পর স্বর্গে যাওয়া যাবে। শুধু এই কারণে যদি গীতা পড়ার পরামর্শ দেয়া হয়, তবে আজীবন মানুষ গীতায় পড়বে কিন্তু গীতার মর্মবাণী কেউ উপলব্দি করতে পারবেনা। স্কুলগামী ছোট শিশুটি পাপ পুণ্যের কী বুঝে? সে বুঝে হ্যারি পটার আর কার্টুন। তাকে সেভাবে বুঝান গীতা। গীতাকে পূণ্যের চাবিকাঠি হিসেবে না দেখিয়ে বরং আনন্দের উপাদান হিসেবে উপস্থাপন করা না গেলে, জেনারেশন চেঞ্জ হবে তবু গীতাপাঠে কেউ উৎসাহিত হবে না।

আপনি গল্প, উপন্যাস ভালোবাসেন? একবার রামায়ন মহাভারত নিন। এখানের কাহিনীগুলো আপনার গল্প উপন্যাসের চাইতেও বেশি ভালো লাগবে। গীতা পুরোটাই তো একটা কাহিনী। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যেসব উপদেশ দিয়েছেন বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সেসব আপনি উপন্যাস পাগল ছেলেটিকে উপন্যাসের মত করে উপস্থাপন করুন। আমি নিশ্চিত তার ভালো লাগবে। যে কবিতা ভালোবাসে তাকে গীতার শ্লোকগুলো ছন্দে ছন্দে উপস্থাপন করুন, তার ভালো লাগবে। কার্টুন পাগল শিশুটিকে আপনি ধর্মীয় ছবি দেখিয়ে দেখিয়ে গীতা বুঝিয়ে দিন। দেখবেন কখন যে আপনার ঘরের শিশুটি মীনা কার্টুনের বই পড়া শেষ করে গীতা পড়তে শুরু করে দিয়েছে।

গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন- "যে আমাকে যেভাবে ভজনা করে আমি তাকে সেভাবেই সাড়া দেই। "

_____________________

Satyajit Chakraborty
Writer, Public Spraker & Corporate Trainer.
Founder, Bangladesh Career Club
Share:

১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

ত্রিসন্ধ্যা বা নিত্য কর্ম করার নিয়ম??


১। সূর্যোদয়ের কমপক্ষে আধঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠতে হবে। (একে বলে ব্রাহ্ম মুহুর্তে উঠা) ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে যাদের দীক্ষা হয়েছে তারা গুরু স্মরণ করে গুরু প্রদত্ত মন্ত্র এবং যাদের দীক্ষা বা (মন্ত্র) হয়নি তারা ঈশ্বরের যে কোন নাম জপ করবেন কমপক্ষে ১০৮ বার করে যতবার বেশি করা যায় জপ করবেন ও ঈশ্বরের স্মরণ ও মনন করবেন। এটা হল ১ম (সন্ধ্যা)। এটা সূর্য উঠার আধ ঘণ্টা পর পর্যন্ত চলতে পারে। ঈশ্বরের যে কোন নামে তাঁকে ডাকতে হবে একেই বলে জপ। আর তাঁর রূপকে চিন্তা করাকেই বলে ধ্যান।

২। এভাবে স্নানের পর দুপুরে বা তার একটু আগে পরে একইভাবে কমপক্ষে ১০৮ বার করে যতবার পারবেন জপ করবেন। এভাবে ঈশ্বরের নাম করা ও তাঁর স্মরণ করা হল ২য় সন্ধ্যা।

৩। এভাবে সূর্যাস্তের অর্ধ ঘণ্টা পর থেকে শোবার আগে যে কোন সময়, তবে সন্ধ্যা আরতির সময় করা বেশী উত্তম। একই ভাবে ১০৮ বা অধিক বার তাঁর নাম জপ ও তাঁকে স্মরণ করতে হবে। এটি হল ৩য় সন্ধ্যা। এভাবে ত্রিসন্ধ্যা করা একান্ত কর্তব্য (এছাড়াও শোবার সময় উঠার সময় হাই তোলার সময়, হাঁচি, কাশিতে সর্বদা তাঁর নাম করতে হয়)। মনে রাখতে হবে ঈশ্বরকে মহিলা, পুরুষ, বৃদ্ধ, বনিতা, শরীরের যে কোন অবস্থায় যে কোন কালে, যে কোন স্থানে তাঁর নাম মনে মনে করবেন।

কারণঃ

শ্রীমদ্ভাগবত গীতার ৮/৫ শ্লোকে আছে-

অন্তকালে চ মামেব স্মরণ মুক্তা কলেবরম্ য়ঃ
 প্রয়াতি স মদ্ভাবং য়াতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ ।।

অর্থাৎ মৃত্যুকালে বা দেহত্যাগকালে যে ঈশ্বরকে স্মরণ করে বা তাঁর নাম করে সে আমার ভাব অর্থাৎ ঈশ্বরকে প্রাপ্ত হয় বা ঈশ্বর লাভ করে। মৃত্যু মানুষকে যে কোন সময় গ্রাস করে, বলে কয়ে আসে না। তাই যে কোন স্থানে দেহের যে কোন অবস্থায় মন্দিরে-শৌচালয়ে যে কোন স্থানে তাঁর নাম করা কর্তব্য। তাই সর্বদা এমনকি শৌচ কালেও ঈশ্বরকে মনে মনে ডাকা (জপ) স্মরণ (ধ্যান) করা যায়। সুতরাং যাদের দীক্ষা হয়েছে তারা তার গুরু নির্ধারিত ইষ্ট মন্ত্র জপ করবেন। যাদের দীক্ষা হয়নি তবুও তারা ঈশ্বরের যে কোন নামে জপ করতে পারে যেমন- ওঁ

(অউম্), ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, রাম, কৃষ্ণ, রামকৃষ্ণ, হরি নারায়ণ, ইত্যাদি যে কোন নামে ডাকবেন। সঙ্গে গায়ত্রী মন্ত্র জানা থাকলে সেটি পারলে জপ করা যায়।

গায়ত্রী মন্ত্রঃ

ওঁ ভুঃ ভুবঃ স্বঃ তৎ সবিতুর্ বরেণ্যং ভর্গদেবস্য
 ধীমহি ধিয়ো ইয়েনঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।

গায়ত্রীর অর্থঃ ভুঃ ভুবঃ স্বঃ অর্থ- স্বর্গ, মর্ত্য, অন্তরিক্ষ ব্রহ্মাণ্ড যাঁর থেকে উৎপন্ন হয়েছে সেই জ্যোতির্ময় পরমাত্মার ধ্যান করি, আমাদের বুদ্ধি (মতি পরমাত্মার দিকে পরিচালিতহউক।

সর্বদা জানবেনঃ পূজার চেয়ে নামজপ বা নাম করা বড় তাঁর চেয়ে ঈশ্বরের ধ্যান করা আরো বড়। তাই জপ, ধ্যান অবশ্যই কর্তব্য। তবে বিশেষ দিনে পূজা করা কর্তব্য। জপ ধ্যান সর্বদা কর্তব্য। তাছাড়াও শয়নকালে বা উঠার সময়, হাঁচি, কাশি, হাইতোলা যে কোন সময় যে কোন কর্মের শুরুতে ও শেষে তাঁর নাম করা কর্তব্য। যেমন- গা মোড়াবার সময় রাম রাম, হরিবোল, হরে রাম, হর

(C) Sujit Kumar Pandey 
Share:

০২ ডিসেম্বর ২০১৭

ব্রহ্মা কর্তৃক ত‌মোগুণ , র‌জোগুণ ও স‌ত্ত্বগু‌ণের কার্যা‌দির বর্ণনা - ১

" ব্রহ্মা বল‌লেন - মহ‌র্ষিগণ ! তিন প্রকার গুণ যখন সাম্যাবস্থা প্রাপ্ত হয় , তখন তা‌কে বলা হয় অব্যক্ত প্রকৃ‌তি । অব্যক্ত সবই প্রাকৃত কা‌র্যে ব্যাপক , অ‌বিনাশী এবং স্থির স্বভাব‌বি‌শিষ্ট ।

উপ‌রিউক্ত তিন গু‌ণে যখন বৈষম্য আ‌সে তখন সে‌টি পঞ্চভূ‌তের রূপ ধারণ ক‌রে এবং তার থে‌কে নবদ্বারসম্পন্ন নগর ( শরীর ) উৎপন্ন হয় । এই নগ‌রে জীবাত্মা‌কে বিষয়া‌দির দি‌কে প্রে‌রিতকারী একাদশ ই‌ন্দ্রিয় থা‌কে ।

ম‌নের দ্বারা তার অ‌ভিব্য‌ক্তি হয় । বু‌দ্ধি এই নগ‌রের প্রভু । এ‌তে যে তিন‌টি স্রোত ( চিত্তরূপ নদীর প্রবাহ ) , তা সর্বদা পূর্ণ থা‌কে । এগু‌লি পূর্ণ করার জন্য তিন‌টি গুণময় না‌ড়ি আছে । তা‌দের সত্ত্ব , রজ ও তম বলা হয় । এরা পরস্পর এ‌কে অ‌ন্যের আ‌শ্রিত এবং এ‌কে অপরের সাহা‌য্যে টি‌কে থা‌কে ।

যেখা‌নে ত‌মোগুণ বাধা পায় সেখানে র‌জোগুণ বৃ‌দ্ধি পায় , যেখা‌নে র‌জোগুণকে দমন করা হয় সেখা‌নে সত্ত্বগুণ বৃ‌দ্ধিলাভ ক‌রে । তম‌কে অন্ধকাররূপ ব‌লে জান‌তে হ‌বে । এর অপর নাম মোহ । এ‌টি অধ‌র্মের দি‌কে প্রেরণ ক‌রে এবং পাপকারী‌দের ম‌ধ্যে নিশ্চিতরূপে বিদ্যমান থা‌কে । ত‌মোগু‌ণের এই স্বরূপ অন্যান্য গু‌ণের স‌ঙ্গেও মি‌শ্রিত দেখা যায় ।

র‌জোগুণ হল প্রকৃ‌তিরূপ । এ‌টি সৃ‌ষ্টির উৎপ‌ত্তির কারণ । সমস্ত প্রাণীর ম‌ধ্যেই এই প্রবৃ‌ত্তি দেখা যায় । এর দ্বারাই দৃশ্য জগ‌তের উৎপ‌ত্তি হ‌য়ে‌ছে ।

সর্ব প্রাণী‌তে স্থিত প্রকাশ অহংকারশূন্যতা এবং শ্রদ্ধা - এগু‌লি সত্ত্বগু‌ণের স্বরূপ । সাধু ব্যক্তিরা নিরহংকা‌রের প্রশংসা করে‌ছেন । এবার আ‌মি যু‌ক্তিপূর্বক , য‌থোপযুক্তভা‌বে এই তিন গুণা‌দির কা‌র্যের যথার্থ বর্ণ‌না কর‌ছি । মন দি‌য়ে শো‌নো ।

মোহ , অজ্ঞ‌ান , ত্যাগহীনতা , কর্মা‌দির সম্ব‌ন্ধে নির্ণয় কর‌তে না পারা , নিদ্রা , অহংকার , ভয় , লোভ , শোক , শুভ ক‌র্মে দোষ দেখা , স্মরণ - শক্তির অভাব , প‌রিণাম চিন্তা না করা , না‌স্তিকতা , দুশ্চা‌রিত্রা , নি‌র্বি‌শেষতা ( ভা‌লো - মন্দ বি‌বেচনার অভাব ) , ই‌ন্দ্রি‌য়ের শৈ‌থিলা , হিংসা‌দি নিন্দনীয় দো‌ষে প্রবৃত্ত হওয়া , অকার্য‌কে কার্য এবং অজ্ঞান‌কে জ্ঞান ব‌লে ম‌নে করা , শত্রুতা , কা‌জে মন না দেওয়া , অশ্রদ্ধা , মূ‌র্খের ম‌তো চিন্তা , কু‌টিলতা , কো‌নো কিছু বোঝার ক্ষমতা না থাকা , পাপ করা , অজ্ঞান , আলস্য ইত্যা‌দির জন্য দেহের জড়তা , ভাব - ভ‌ক্তি না থাকা , অ‌জি‌তে‌ন্দ্রিয়তা এবং নীচ ক‌র্মে আসক্তি - এই সবই হল ত‌মোগু‌ণের কাজ ।

এতদ্বাতীত আরও যেসব বিষয় ইহ‌লোকে নি‌ষিদ্ধ বলা হয় , সেগু‌লিও ত‌মোগু‌ণের কার্য বলে জান‌বে । দেবতা , ব্রাহ্মণ ও বে‌দের নিন্দা করা , দান না করা , অ‌ভিমান , মোহ , ক্রোধ , অসহশীলতা এবং মাৎসর্য - এসবই তামস আচরণ । ( বি‌ধি এবং শ্রদ্ধার‌হিত ) বৃথা কার্য শুরু করা , দেশ - কাল - পাত্র বিচার না ক‌রে অশ্রদ্ধা এবং অব‌হেলাপূর্বক দান করা , দেবতা ও অ‌তি‌থি‌দের না দি‌য়ে আহার করাও তাম‌সিক কার্য ।

অ‌তিবাদ , অক্ষমা , মাৎসর্য , অ‌ভিমান এবং অশ্রদ্ধা‌কে ত‌মোগু‌ণের ফল বলে মানা হয় । জগ‌তে এইরূপ আচরণ‌বিশিষ্ট এবং ধর্ম মর্যাদা ভঙ্গকারী যেসব পাপী ব্য‌ক্তি আ‌ছে , তা‌দের সকল‌কেই ত‌মোগুণী বলা হয় । এরূপ পাপী মানুষ‌দের পরবর্তী জ‌ন্মে যে যো‌নি‌তে যাওয়া অ‌নিবার্য তার পরিচয় জানা‌চ্ছি ।

এ‌দের ম‌ধ্যে অ‌নে‌কে নরকগামী হয় , আর কিছু তির্যক যো‌নি‌তে জন্মগ্রহণ ক‌রে । স্থাবর ( বৃক্ষ - পর্বত ইত্যা‌দি ) , পশু , , মালবাহী জীব , , রাক্ষস , , সর্প , , কীট - পতঙ্গ , , পক্ষী , , অণ্ডজ প্রাণী , , চতুষ্পদ প্রাণী , , মানসিক ভারসাম্যহীন , , কালা - বোবা ইত্যা‌দি ও অনন্যা যত পাপময় রোগযুক্ত ( কুষ্ঠ ইত্যা‌দি ) মানুষ , তারা সক‌লেই ত‌মোগু‌ণে আচ্ছন্ন র‌য়ে‌ছে । নিজ কর্মানুসা‌রে উপযুক্ত এইসব দুরাচারী জীব সর্বদা দুঃখে নিম‌জ্জিত থা‌কে ।

তা‌দের চিত্তবৃ‌ত্তির প্রবাহ নিম্নগামী । তাই তা‌দের অর্বাক স্রোতা বল‌া হয় । এরা সক‌লেই ত‌মোগুণী । তম ( অবিদ্যা ) , মোহ ( অ‌স্মিতা ) , মহা‌মোহ ( রাগ , আস‌ক্তি ) , ক্রোধ নামযুক্ত তা‌মিস্র এবং মৃত্যুরূপ অন্ধতা‌মিস্র - এই পাঁচপ্রকা‌রের তামসী প্রকৃ‌তি বলা হয় । বিপ্রবরগণ ! বর্ণ , গুণ , যো‌নি এবং তত্ত্ব অনুসা‌রে আ‌মি ত‌মোগুণের সম্পূর্ণ বর্ণনা করলাম ।

যা‌দের দৃ‌ষ্টি অসার ত‌ত্ত্বে নিবদ্ধ থা‌কে - এমন কোন্ ব্য‌ক্তি এই বিষয়‌কে ভা‌লোভা‌বে বুঝ‌তে পার‌বে ? এই বিপরীত দৃ‌ষ্টিই ত‌মোগু‌ণের প‌রিচয় । ত‌মোগু‌ণের স্বরূপ ও তার কার্যা‌দির নানাপ্রকার গু‌ণের যথাবৎ বর্ণনা করা হল । যে ব্য‌ক্তি এই গুণগুলি ঠিকভা‌বে জা‌নে , সে তাম‌সিক গুণ থে‌কে সর্বদা মুক্ত থা‌কে ।
লেখকঃ Joy Shree Radha Madhav

Share:

২৮ নভেম্বর ২০১৭

হিন্দুরা কেন মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলে?

প্রায়ই আপনার মুসলমান বন্ধুদের কাছে আপনাকে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেটা হচ্ছে - হিন্দুরা কেন মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলে? কবরও তো দিতে পারতো বা অন্যকিছু করতে পারতো।মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা কি অমানবিক নয়?

আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমরা প্রশ্নটির সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হই!! প্রথমে যে ইনফরমেশনটি আপনার জানা প্রয়োজন তা হলো পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ হিন্দু-বৌদ্ধ রীতি অনুসরণ করে অর্থাত মৃতদেহ পুড়িয়ে সৎকার করে। পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি জাপান থেকে শুরু করে চীন, করিয়া, ভারত ও অনান্য জাতি এই রীতি অনুসরণ করে। তাহলে আপনি প্রথমত: পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন : ১. পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি জাপানিরা কি তাহলে অমানবিক ? পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ কি অমানবিক ? যদি এই অর্ধেক মানুষ অমানবিক হয় তবে এদের মধ্যে কেন আমরা সবচেয়ে কম হানাহানি দেখতে পাই ?

আসুন এবার প্রকৃত উত্তরের দিকে যাই।

১. হিন্দুধর্মে কবর দেয়া বা সমাধি দেয়া নিষিদ্ধ নয়। স্মৃতিশাস্ত্রে স্পষ্টভাবেই এটা অনুমোদিত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাঝে এখনও এটা প্রচলিত আছে। যেমন- নাথ বা যোগী সম্প্রদায় এবং সন্ন্যাসীদেরকে সমাধি দেয়া হয়। অনেক জায়গায় দেখা যায় কারও অপমৃত্যু হলে তার শব সমাধি দেয়া হয়, পোড়ানো হয় না।

২. আমরা কথ্য ভাষায় 'লাশ পোড়ানো' বলি, কিন্তু শাস্ত্রীয় ভাষায় এটা 'অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া'। এটা আবার কী? অন্ত+ইষ্টি=অন্ত্যেষ্টি। ইষ্টি মানে যজ্ঞ। অন্ত্যেষ্টি হলো জীবনের শেষ যজ্ঞ।
আমরা জানি, আমাদের সুপ্রাচীন পূর্বপুরুষদের বৈদিক সমাজ ছিল যজ্ঞপ্রধান। জীবনের শুরু 'গর্ভাধান' থেকে জীবনের শেষ 'দেহত্যাগ' সবই হতো ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে। জীবৎকালে প্রতিদিনই পঞ্চমহাযজ্ঞ করতে হতো (এখনও করার বিধান)। এছাড়া অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মতো বিবিধ যজ্ঞে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে 'হবি' (বর্তমানে পূজায় অর্ঘ্য নিবেদনের মতো) উৎসর্গ করা হতো। এ হলো ঈশ্বরের দেয়া জীবন ও দেহ দ্বারা ঈশ্বরের সৃষ্ট প্রকৃতির উপাদানসমূহ ভোগ করার প্রেক্ষিতে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতাপূর্বক তাঁর উপাসনা করা। তাই অন্ত্যেষ্টি তথা জীবনের শেষ যজ্ঞে ঈশ্বরপ্রদত্ত এই দেহখানি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যেই 'হবি' বা অর্ঘ্যরূপে উৎসর্গ করা হয়। এটা সত্যিই চমৎকার একটা ব্যাপার!

৩. প্রাচীন দর্শন অনুযায়ী বিশ্বচরাচর তথা আমাদের দেহও পাঁচটি ভূত বা উপাদান দ্বারা তৈরি। একে 'পঞ্চভূত' বলে। এগুলো হলো- ক্ষিতি (মাটি), অপ (জল), তেজ (আগুন), মরুৎ (বাতাস), ব্যোম (আকাশ বা শূন্যস্থান)। যারা বলেন 'মাটির দেহ' বা দেহ শুধু মাটি দিয়ে তৈরি, তাই একে মাটির সাথেই মিশিয়ে দেয়া উচিৎ, তারা অবশ্যই ভুল বলেন। বাস্তবে দেহ এই পাঁচটি উপাদানের সমষ্টি। শবদাহ করার মাধ্যমে দেহকে এই ৫টি উপাদানেই মিশিয়ে দেয়া হয় প্রত্যক্ষভাবে। দাহ শেষে অবশিষ্টাংশ জলে বিসর্জন দেয়া হয়। এজন্য শ্মশান সর্বদাই জলাশয়ের পাশে হয়ে থাকে।
অপরদিকে সমাধি বা কবর দিলে দেহ পঞ্চভূতে লীন হয় বটে, তবে পরোক্ষ ও ধাপে ধাপে। কারণ দেহ মাটির সাথে মেশে পঁচন প্রক্রিয়ায়। কোটি কোটি অনুজীব, পোকা-মাকড়ের খাবারে পরিণত হয় দেহ। এভাবে পঁচে গলে মাটিতে মেশানোই বরং দাহ করার চেয়ে বেশি অমানবিক মনে হয়।

একটা মজার তথ্য দিই। অনেক সময় আমরা বলি, লোকটা তো মরে ভূত হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে সে প্রকৃতিতে (পঞ্চভূতে) লীন হয়েছে -এটাই বুঝতে হবে।

৪. মৃত্যু হয় দেহের; আত্মার নয়। অবিনাশী আত্মা অজর, অমর, অক্ষয়, অব্যয়। এটা জগদীশ্বর পরমাত্মার অংশ। ('বিদ্রোহী' কবিতার কয়েক লাইন মনে পড়ে কি?) জড় প্রকৃতির পঞ্চভূতে গড়া দেহ ফিরে যায় পঞ্চভূতে, আর জীবাত্মা ফিরে যায় পরমাত্মাতে। (মৃত্যুর পরে অবশ্যই আর কখনোই আপনি পুরনো দেহে ফিরে আসবেন না, বা কোন প্রকার শাস্তি/আজাব ভোগ করবেন না। শবদাহ করার পরে/মাটিতে মিশে যাওয়ার পরে নিশ্চয়ই লীন হওয়া দেহকে শাস্তি/আজাব যৌক্তিকভাবে সম্ভব নয়।)

৫. মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে শোকের কোন ব্যাপার নয়। তীর্থস্থান বেনারস বা কাশীতে মৃত্যুও একটা উৎসবের ব্যাপার।
"জাতস্য হি ধ্রুবর্মৃত্যো ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ"-
গীতাঃ-(২/২৭)
যে জন্মেছে তার মৃত্যু নিশ্চিত, যে মরেছে তার জন্মও নিশ্চিত।

অতএব, অপরিহার্য কর্তব্য সম্পাদন করার সময় তোমার শোক করা উচিত নয়।।
বরং জরাজীর্ণ রোগশোকে আক্রান্ত দেহ ছেড়ে জীবাত্মার নতুন সুস্থ-সুন্দর দেহে জীবন আরম্ভের প্রাক্কালে মৃতকে হাসিমুখে বিদায় জানানোই উচিত.....।।

Collected from: Subro Nill Suvo
Share:

বৈদিক সনাতন ধর্মে(হিন্দু) বিবাহ- পর্ব ০২

বৈদিক বিবাহের সাত পাকের দ্বিতীয় পাক বাড়ানোর সময়েও বর বলেন “বিষ্ণুরূপ আমি প্রিয়ে! আমি তোমার ভার গ্রহণে সমর্থ। প্রথম উক্তির উত্তরে বধূ নিজের আনন্দ প্ৰকাশ করেন, দ্বিতীয় উক্তিতে তিনি বলেন “চিরদিন শক্তিরূপে বিরাজিব আমি তব বাম পার্শ্বভাগে। দুঃখে ধৈৰ্য ধরব, হৃষ্টচিত্ত হয়ে সুখে তোমার কুটুম্বদের নিত্য হাসিমুখে নিয়ত সেবা করব।” এই রকম ৪র্থবারে বরের উক্তি, “ধীরে সতী ধীরে। চতুর্থ চরণ ফেল, মোর গৃহ পানে চল সুখে অবহেলে তবলোকে লুকাবে আঁধারের রাত্ৰি, সকল সুখের মোর তুমি অধিষ্ঠাত্রী।” যষ্ঠ পাক বাড়ানোর সময় বধূর উক্তি “সৰ্ব্বকাৰ্য্যে তব বামে করি অধিষ্ঠান, সম্পাদিব মনের হরষে! যা করাবে তুমি, তব অনুগামী আমি-সেই ভাবে করব পালন। আমি তব অর্দ্ধাঙ্গিনী আমি তব পরিচালিকা।” সপ্তম পদ গমনেব সময় বরের উক্তি,-"প্রিয়তমে লো সঙ্গিনী। এ মহামুহুৰ্ত্তে তুমি এস সপ্তপদ। ভূ-আদি সপ্তলোকে যা কিছু সম্পদ তোমার অধীন হোক্‌। আমি বিষুরূপ! হে অনুগামিনী, তুমি বুঝে স্বরূপ, এস মোর গৃহপানে এস গৃহলক্ষ্মী।" এখানেও বধূর উক্তিও মহান। সপ্তপদ গমনের পর বর বলেন “আমরা সপ্তপদ গমন করেছি, আমরা পরস্পর পরস্পরের সখা, আমরা যেন অবিযুক্তই থাকি, যেন আমরা উভয়ে পরামর্শ ক’রে সংসার পথে বিচরণ করি’ ইত্যাদি।

বিবাহের কয়েকটি মন্ত্রে উল্লেখ আছে-শুধু অনুবাদ অংশ তুলে ধরছি-

- আমাদের মন দেহ এক হোক, আমাদের অবিভক্ত যুগল হৃদয়ের দ্বারা আমাদের জীবন-ব্রত সিদ্ধিলাভ করুক, তুমি ঋক, আমি সাম, তুমি ভূলোক, আমি দ্যূলোক, আমি মন, তুমি ভাষা। তুমি আমার অনুব্রতা হও। হে সত্যপ্রিয়ে! তুমি শ্রীরূপে, ঐশ্বর্য্যে ও পুত্র জননীরূপে প্রতিষ্ঠিতা হও। যুগল-আত্মা আমাদের অভেদ, যুগল-হৃদয় আমাদের অভেদ, নাভি, শরীরও অভেদ, তুমি আমার অনুব্রতা হও। আমার ত্বকের দ্বারা তোমার ত্বক, মাংস দ্বারা তোমার মাংস, অস্থির দ্বারা তোমার অস্থি-আমার প্রাণের দ্বারা তোমার প্রাণ ধারণ করছি। আমার ব্রতে তোমার হৃদয় সন্নিবিষ্ট কর, আমার চিত্ত তোমার চিত্ত অনুয়ায়ী হোক। একই ধ্রুব-ভূমিতে দ্যুলোক, ভূলোক ও সমস্ত জগত প্রতিষ্ঠিত সেরুপ অচর ধ্রুবরূপ পরম কল্যাণের দ্বারা এই স্ত্রী প্রতিকূলে সুপ্রতিষ্ঠিতা হয়ে বিবাহ করুক। অন্নময় দেহের দ্বারা, মণিময় প্রাণসূত্রের দ্বারা, সত্যগ্রন্থির দ্বারা আমি তোমার হৃদয় মন বেঁধে ফেলেছি, তোমার হৃদয় আমার হােক, এই আমার হৃদয় তোমার হােক।” কন্যাগৃহে বর বধূর দিকে চেয়ে, বধূর অবয়ব নিরীক্ষণ ক’রে বলেন, (‘অঘোর পতিঘ্নোষি-চতুষ্পদ’) “বধু! তুমি স্নিগ্ধদৃষ্টিসম্পন্ন হও, পতিকুলের কল্যাণদায়িনী হও, তোমার হৃদয় অমৃতে পূর্ণ হােক, তােমার দৃষ্টি জ্যোতিঃ হ্মরণ করুক, তুমি দেবভক্ত হও, তোমার কীৰ্ত্তি বিশ্বব্যাপিনী হােক, তুমি আমার প্রিয় পরিজনের এবং গবাদি পশুর আনন্দদায়িনী হও।”

বৈদিক বিবাহের রীতিনীতি অনুয়ায়ী বিবাহের পর ব্রহ্মচর্য্য অবশ্য পালনীয় ছিল, সাধারনতঃ তিনরাত্র পালনীয়, আশ্বলয়ন গৃহসূত্ৰ মতে, তিন রাত্র বা বার রাত্র, কিন্তু ঋষি কল্প সূত্ৰ প্ৰার্থী হলে বিবােহান্তে একবৎসর ব্রহ্মচৰ্য্য অবশ্য-পালনীয়। কাত্যায়ন বলেন যে একবৎসর ব্রহ্মচর্য্যই বিধি, আর ত্রিরাত্র, ছয়রাত্র বা দ্বাদশরাত্র বিকল্পে। ব্ৰহ্মপুরাণে বরকন্যার বয়স হিসাবে পৃথক পৃথক বিধান আছে। ‘হৃদয়-সম্মার্জন’ মন্ত্রে বলা হয়েছে, ‘হে বিশ্বদেবগণ’ আমাদের হৃদয় সংযুক্ত করুন, বায়ু ও ব্রহ্মা আমাদের যুগ্মহৃদয়ের ঐক্য সম্পাদন করুন, আমাদের হৃদয়মনের পূর্ণ ঐক্য সম্পাদনকারী বাক্যাবলী এই সময়ে দেবী সরস্বতী আমাদের প্রদান করুন।’ ‘সমাবেশন মন্ত্রে’র মধ্যে সন্তান উৎপাদনের একটি উদ্দেশ্য বলা হয়েছে, ‘আমি এই বিশ্বভূবনের অন্তর্গত হয়ে পিতৃলোকের তৃপ্তির জন্য জায়াতে সন্তান উৎপাদন করি…...চল আমরা দেবতার পরিচর্য্যা করি।’

বিবাহে, সামাজিক রীতি-নীতি সৰ্বস্থানে এক নয়, যা এক সমাজে দূষণীয়, অন্য সমাজে তা দূষণীয নয়। আদর্শ কোন স্থানে বহির্মুখী, কোন স্থানে অন্তর্মুখী। পিতৃ পুরুষের তৃপ্তিব জন্য—পিতৃ ঋণ হ’তে মুক্ত হওয়ার জন্য আৰ্য্য বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন, এমন কি ‘সপ্তপদী’ গমনের সঙ্গে শক্তির (কুণ্ডলিনীর) সপ্তচক্ৰ ভেদের সম্বন্ধ বৰ্ত্তমান। এ ভাব আৰ্য্য ছাড়া অন্যত্র নেই। পিতৃঋণ কখনও শোধ হয় না, কিছু পরিশোধ হয় সন্তান হ’লে। কারণ, সন্তান হ’লে তখন পিতামাতার বাৎসল্য কেমন বুঝতে পারা যায়। বিশ্বমাতার ভালবাসার কণাই মাতৃহৃদয়ে বৰ্ত্তমান। বাৎসল্যের অনুভূতি বিশ্বমাতার দিকে এগিয়ে দেয়। তাই আৰ্য্য পুত্রার্থী। মানুষ কতগুলি ঋণ নিয়ে জগতে আসে। তার মধ্যে পিতৃঋণ একটি, এই সমস্ত ঋণই পরিশোধ হয় একমাত্ৰ সন্ন্যাসে, কারণ, বিশ্বমাতার সমদৰ্শীত্ব তখন সন্ন্যাসী লাভ করেন। আৰ্য্য জাতি ছাড়া এভাবও কোন স্থানে নেই।

বিভিন্ন সভ্যতায় বিবাহেব আদর্শ মার্জ্জিত আকার ধারণ করেছে, কিন্তু এখনও সেখানে বিবাহের উদ্দেশ্য তিনটি (1) 'Procreation of Children' বা বংশবৃদ্ধি (2) 'a remedy against sin বা পাপের প্রতিষেধক (3) “to avoid fornication' বা ব্যভিচার হতে আত্মরক্ষা।
ব্রত অনুষ্ঠান সমূহ জাতির মধ্যে অধ্যাত্মশক্তির বীজ, জাতীয়ত্বের বীজ জনশক্তি ধরে বেখেছে আজও। শিক্ষিত অভিমানীদের মধ্যে ঐগুলির আদব ক’মে এলেও সৎ সন্তানের জন্য ভগবানের কাছে কামনা করেন মা।

(এই ধারাবাহিক লেখার উদ্দেশ্য, স্বজাতিয়দের নিজ ধর্ম সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। যদি আমরা আমাদের এই সংস্কৃতিকে ঠিক ঠিক লালন করি তবে এই ধর্মান্তর, সাংসারিক কলহরূপ অনেক সমস্যার অবসান ঘটবে।)

স্মৃতিকার। ভগবান মনু “আৰ্য্য’ সম্বন্ধে এই সংজ্ঞা দিয়েছেন "সৎসস্তান কামনার ফলে যার জন্ম হয়েছে, সেই আৰ্য্য”। ভগবানেব নিকট সন্তানদের কামনা না করে যাঁদের জন্ম হয় স্মৃতিকারের মতে তারা অনার্য্য। সন্তানের জন্য ভগবানের নিকট কামনা করতে হবে। অভিশাপ অসন্তোষের মধ্যে যাদের জন্ম, সংযমের অসামর্থ্য হেতু, উত্তেজনার অতর্কিত সুযোগে যারা জগতে আবির্ভূত হয়, সেই সব সন্তানের কাছে আবার কি আশা করা যায় ?”

দশরথ পুত্ৰেষ্টি যজ্ঞ করেছিলেন, পুত্ৰ পাবার জন্য। অনেক ব্রত ও অনুষ্ঠান এখন বিলুপ্ত হলেও আজও সন্তানবতী নারী ষষ্ঠী পূজাদি করেন ভবিষ্যৎ সন্তানের মঙ্গলের জন্য, তুলসী তলায় বা বিল্বমূলে বসে তিনি সন্তান না হওয়া পর্য্যন্ত নিত্য জপ ধ্যানে ব্রতী থাকেন, এছাড়া গ্রাম্য দেবতার কাছে, তীর্থ-দেবতার কাছে সন্তানের জন্য ‘মানত’ করা ত আছেই। বিবাহের মন্ত্রে আমরা দেখেছি দম্পতির সম্বন্ধ। গর্ভাধানেব মন্ত্রে, সত্ত্বগুণবিশিষ্ট আত্মানন্দময় সন্তানেব কামনা করা হয়। ঋতুমতী কন্যা ভিন্ন গর্ভাধান হয় না।

বিবাহ অনুষ্ঠানে দশবিধ সংস্কারের একটি সংস্কার গর্ভাধান, এর মন্ত্র অর্থ অনুধাবন করে দেখুন কি গভীর দর্শন এতে নিহিত-
'বিষ্ণু, তোমাব গর্ভস্থানকে শক্তি দান করুন, ত্বষ্টা তোমার গর্ভে রূপ নিৰ্ম্মাণ করুন, ভগবতী সিনী বলি। এই বধূত গর্ভাধান কর, পদ্মমালাধারী অশ্বিনীকুমারদ্বয় তোমার গর্ভাধান করুন-যে অশ্বিনীকুমারদ্ধয়ের অধিষ্ঠানে সমূৎপন্ন সন্তান দেবকুলের প্রিয়, স্বভাব-নম্র, বিনয়ী, সত্ত্বগুণযুক্ত, সম্পদশালী ও আত্মানন্দময় হয়।’
ক্রমশঃ
লেখকঃ কৃষ্ণকমল মিন্টু
Share:

বৈদিক সনাতন ধর্মে(হিন্দু) বিবাহ-পর্ব ০১

বিবাহ ইংরেজি: Marriage, matrimony বা wedlock হল একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দু'জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। আরব জাতির ধর্মের চিন্তায় বিবাহ একটি চুক্তি মাত্র (contract), বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতিভেদে বিবাহের সংজ্ঞার তারতম্য থাকলেও সনাতন ধর্মে(হিন্দু)-বিবাহের আদর্শ বৈদিক যুগ হ’তে আজ পৰ্যন্ত ঠিক চলে আসছে স্মৃতির সংস্কারে, যার মূলনীতি আজও বদলায় নি।

বর্ণাশ্ৰমধৰ্ম আলোচনায় আমরা দেখতে পাই যে ব্ৰহ্মচৰ্য্য আশ্ৰমের পর গৃহস্থ আশ্রম, এই গৃহী-জীবন ছিল কয়েক বৎসর মাত্ৰ স্থায়ী, কারণ, বৈদিক জীবন প্রণালীতে “পঞ্চাশোৰ্দ্ধং বনং ব্ৰজেৎ”, এই নিয়ম অনুসারে গৃহী বাণপ্ৰস্থ অবলম্বন করতেন। মোক্ষ প্রাপ্তিই সনাতন ধর্মে(হিন্দু)-জীবনের আদর্শ, সেই জন্য ভোগবিলাস তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারত না। তিনি জানতেন যে কিছু দিন সংসার আশ্রম করার পর তাঁকে নিত্যবস্তুর সন্ধানে তপস্যায়-ব্রত হ’তে হবে, মনকে একাগ্র অভিমুখী করতে হবে। প্রথম জীবনের শিক্ষা তাঁর সহায় হয় সর্বত্র। তিনি জানেন যে, বিবাহিত-জীবনে মোহ আনায়, দুর্বলতা আনায়, এবং সে দুর্বলতা তাকে পরিহার করতে হবে বৃহৎ উদ্দেশ্যে। লক্ষ্য স্থির থাকায় বৃদ্ধ বয়সেও তাঁর চিত্তে অবসাদ আসত না-সহজে।

জগতে ভোগের যে কোন প্রয়োজনীযতা নেই তা-নয়, ভোগের স্বরূপ-বোধ থাকা চাই, ভোগ করতে জানা চাই। নতুবা, ভোগ অভিমুখী-শক্তি বহু বিভক্ত হ’য়ে পড়লে, সহজে কেন্দ্ৰ অভিমুখী হ’তে চায় না। মোক্ষ মানে বন্ধন হ’তে মুক্তি, তাতে চাই চিত্তের স্বাধীনতা, চিত্তবৃত্তিকে একাভিমুখী করা। নারী পুরুষের বর্তমান সমস্যা সমাধানে, উভয়কে ঐ আদর্শ্যের দিক দিয়ে বুঝতে হবে।- নারীর নারীত্ব বুঝতে হবে। নারীর অন্তর্মুখী বৃত্তি সমুদায়েব পূর্ণ বিবাশ যাতে হয় তা করতে গেলে নারীকেই এ-ভাব নিতে হবে।

কেন নারী বৈদিকে শাস্ত্রে গুরুত্ববহ-

জৈব বিবর্তনে সৰ্ব্বব্যাপী চৈতন্যের প্ৰকাশ ও ব্যক্ত অবস্থা। ঐ বিবর্তনের তিনটি রূপ- সৃষ্টি, স্থিতি ও ধ্বংস। ধংস মানে নতুন সৃষ্টি। প্রথম বিকাশ সৃষ্টির দ্যোতনা , স্থিতির লক্ষণ-শৃঙ্খলা-স্থাপন, ক্রমপ্রসার ও ক্রমোন্নতি, শৃঙ্খলার বিচ্যুতি, এলোমেলো গতি, মৃত্যুর চিহ্ন। জৈব বিবর্তন হয় বৈচিত্র্যে, নানাত্ব বোধ আসে এই বিশিষ্টতায় । এই ব্যক্ত প্রকৃতি। এই লক্ষণ আক্রান্ত বলেই নারী প্রকৃতিরূপা-শক্তিরূপা। একাভিমুখী গতিকে কেন্দ্রস্থ করতে পারলে, চিত্তবৃত্তি নিরোধের ফলে যে শক্তি উদ্বুদ্ধ হয়, তাতে অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়, শ্রদ্ধা জেগে উঠে, অন্তর্নিহিত শক্তির প্রকাশ হয়। শক্তিরূপিনী নারী-সমাজে যাতে আত্মবিস্মৃতি না আসে, আত্মশ্রদ্ধা সুপ্ত হয়ে না পড়ে, তার জন্য বেদপন্থী সমাজে নারীর ‘পতি-যোগ’ সাধনাই সর্ব্বোত্তম উপায় বলে শাস্ত্রে স্বীকৃত হয়েছে।

এই ‘যোগ’ মানে, সমষ্টি বোধ আনবার জন্য একাভিমুখী গতি, স্বামী স্ত্রী- একেরই যুগ্ম প্রকাশ, আপাত প্রতীয়মান ভেদ মাত্র! সমাজ যাতে আত্মবিস্মৃত না হয়, ধ্বংসের দিকে না যায়, কালের মত যাতে সমাজের অনাদি প্রবাহ বর্ত্তমান থাকে তার জন্য সমাজকে এগিয়ে যেতে হবে আদর্শ সামনে রেখে, সর্ব্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে এই সেই প্রকৃতিরূপারই ছায়া-বহুধা বিভিন্ন শাখা প্রকাশার মূলে বিরাজিতা সেই মহামায়া।

সমাজে আদর্শ রক্ষায়, যুবক-যুবতীদের সুশৃঙ্খল রাখতে, আদর্শ চরিত্র গঠনে, উচ্ছৃঙ্খলতা রক্ষায়, সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষা করে সকলেই যেন সংযত জীবন যাপনের মাধ্যমে শান্তি লাভ করে এবং জীবন কে ধন্য করতে পারে এই ছিল লক্ষ্য।

নারী কেন আবহমান কাল থেকে পুরুষের অধীন, এর বিবাদ নিষ্প্রয়োজন। পুরুষ ও নারী, উভয় নিয়েই সমাজ। সমাজ স্থাপনের মূলে নারী, কারণ নারী থেকেই সন্তান পালন ও সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ-চেষ্টা স্ত্রীপুরুষ উভয়েরই হৃদয়ে স্থিতিশীলতার আবশ্যকতা উপলব্ধ হয়, যার ফলে মানবমনে সূক্ষ্ম বৃত্তির অভিব্যক্তি হয়-স্নেহ গ্ৰীতি করুণা প্রভৃতি দিয়ে; তাতে উন্মেষ ঘটে স্বাৰ্থ-বিসর্জন-বুদ্ধি ও ত্যাগের। সুন্দর সমাজ গঠনে নারীর প্ৰয়োজনীয়তাই বেশী; ঐ সূক্ষ্ম মনোবৃত্তিকে কাৰ্য্যকর করার জন্য, শৃঙ্খলা আনার জন্য, নারীর বুদ্ধিবৃত্তির সাহায্য সমাজে অবশ্যম্ভাবী। অথচ গোড়া থেকেই সমাজ-বদ্ধ নারী, পুরুষের অধীন থাকতে বাধ্য হয়েছে! গৰ্ভধাবণ, প্রসবভোগ ও সন্তান পালন প্রভৃতি ব্যাপারে নারী, পুরুষের ও আত্মীয় স্বজনের সাহায্য নিতে বাধ্য হন-বাৎসল্যের জন্যই মহাশক্তি নম্রা!

বৈদিক যুগে, বিবাহের মন্ত্ৰ হ’তে গৃহী জীবনে নারীর স্থান কোথায় তার আভাষ আমরা পাই, বিবাহের সময় সপ্তপদী গমনের বৈদিক মন্ত্রগুলি থেকে। এক এক চরণক্ষেপে এক একটি মন্ত্র বধূকে বলতে হয়। প্রথমে বর বধূকে সামনে পা বাড়িয়ে নিজ গৃহপানে আসতে আহ্বান করেন। বর বলেন “বিষ্ণুরূপ আমি প্রিয়ে! গৃহের সমস্ত আহার্য্য সামগ্রী তােমার সেবার জন্যই নিয়োজিত থাকবে”, “আজ হ’তে তুমি গৃহ অধিষ্ঠাত্রী হবে-প্ৰথম চরণ চালন মম গৃহপানে কর দেবী।
ক্রমশঃ
লেখকঃ কৃষ্ণকমল মিন্টু

⚠ নতুন নতুন পোষ্ট পেতে সনাতন সন্দেশ - Sanatan Swandesh
পেজটিতে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন।
 (y) যে এখনো লাইক দেন নাই তাকে অতি শীঘ্রই পেইজটিতে একটি লাইক দেওয়ার জন্য বিনম্র ভাবে অনুরোধ করছি । এবং আপনার বন্ধুদের কে ইনভাইট করার জন্য অনুরোধ করছি।
Share:

২৩ নভেম্বর ২০১৭

হিন্দু ধর্মের সাপেক্ষে নিষিদ্ধ খাবারের সূচী

হিন্দুদের কাছে খাবার বাছাই করা একটি ব্যাক্তিগত, পরম্পরাগত ও নির্দিষ্ট মতবাদের বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। কাজেই এমন অনেক হিন্দু আছেন যারা তাদের বংশানুক্রমিক পরম্পরা ও বিশ্বাসের জন্য কিছু জিনিস খাওয়া ত্যাগ করেছে। যেমন – ভারতের অনেক বৈষ্ণব সম্প্রদায় ভুক্ত হিন্দু (উত্তর ভারত) আছেন যাদের বাড়িতে মাছ তোলা নিষিদ্ধ। আবার অনেকের হিন্দু বাড়িতে (উত্তর-পশ্চিম ভারত) মাছ মাংশ দুটোই তোলা নিষিদ্ধ। কাজেই হিন্দুদের মধ্যে পরম্পরাগত, ব্যাক্তিগত ও বিশ্বাসী মতবাদগত ফ্যাকটর গুলির উপর অনেক অংশে নির্ভর করে নিষিদ্ধ খাবার গুলি বাছাই এর ক্ষেত্রে।


তাই কারো ব্যাক্তিগত বা পরম্পরাগত পছন্দ তে হস্তক্ষেপ করার জন্য এই নিবন্ধ টি লিখা হয়নি! বরং উক্ত নিবন্ধটি সেইসব বাঙালী হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য লিখা হয়েছে যারা হিন্দু সংস্কার (সম্প্রদায় ভিত্তিক নয়) কে অবলম্বন করে চলেন এবং জানতে ইচ্ছা রাখেন কোন কোন খাবার গুলো হিন্দু শাস্ত্রের সাপেক্ষে সিদ্ধ বা নিষিদ্ধ। এখানে হিন্দু শাস্ত্র বলতে বেদ, পুরাণ ও তন্ত্রের মূল গ্রন্থ গুলি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই বৈধ-অবৈধ খাবারের সূচীটি বানানো হয়েছে।

প্রাণীজ

✫ ✫ ✫ ✫ ✫ দুধ ✫ ✫ ✫ ✫ 

  উট ও ভেড়ার দুধ পান করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২২-২৩, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১১-১২, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০

  এক খুর বিশিষ্ট প্রাণীর (যেমন – ঘোড়া) দুধ পান করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৩, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০

  গরু, মোষ, ছাগলের বাচ্চা জন্মানোর পর থেকে ১০দিন যাবৎ তাদের দুধ পান নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৪, বসিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৫, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৯, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০

  নিচুস্তরের পশু (যেমন – কুকুর, বেড়াল) ও মাংসাশী পশুর (যেমন – বাঘ, সিংহ, শৃগাল) দুধ পান নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – লৌগাক্ষিগৃহ্ম সূত্রাণি ২.১৮৪

✫ ✫ ✫ ✫ ✫ ডিম ✫ ✫ ✫ ✫ 

  হাঁস, মুরগি, ময়ুরের ডিম খাওয়া সিদ্ধ।
 তথ্যসূত্র – মানব গৃহসূত্র ১.৪.২-৪, ভেল সংহিতা – চিকিতসাস্থানম – ২৬৭, চরক সংহিতা             ২৭.৬৩-৬৪

✫ ✫ ✫ ✫ ✫ মাছ-মাংস ✫ ✫ ✫ ✫ 

  সাপ, কুমীর, ঘড়িয়াল, শুশুক, সর্প আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, অনিয়তকার মস্তক বিশিষ্ট মাছ (যেমন – ইল, কুঁচে মাছ, হাঙর, তিমি ইত্যাদি) ও জলজ শামুক, ঝিনুক, গুগলি ইত্যাদি খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪১, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৬, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.৩৮-৩৯

  বন্য মোরগ/মুরগি খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪
★ অর্থ্যাৎ গৃহপালিত মোরগ/মুরগি খাওয়া সিদ্ধ।

  যে সমস্ত পাখী শুধু তাদের পা দিয়ে মাটিতে আঁচড়ে আঁচড়ে খাবারের সন্ধান করে এবং যেসব পাখীরা লিপ্তপদী (যেমন – হাঁস) তাদের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪-৩৫, বিষ্ণু স্মৃতি LI.২৮-৩১, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৭

  রাজহাঁস, সারস, পানকৌড়ি, বক, কাক, পায়রা, টিয়া, ঘুঘু, তিতির, বাজ, চিল, শকূন, বাদুড়, ময়ূর, স্টার্লিং, দোয়েল, চড়ুই, কাঠঠোঁকরা, মাছরাঙা এবং নিশাচর পাখীর মাংশ খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪-৩৫, বিষ্ণু স্মৃতি LI.২৮-৩১, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৭, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭২-১৭৪

  মাংসাশী পাখির মাংশ আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.৩৪, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭২

  যেকোনো বিস্বাদ ও খাদ্য অনুপযোগী মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মনু স্মৃতি ৫.১১-১৭, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৪

  যে সমস্ত পশুর দুধের দাঁত ভাঙেনি তাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৫, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩০-৩১
★ অর্থ্যাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক পশুর মাংস আহার নিষিদ্ধ।

  যে সমস্ত পশুর একটি মাত্র চোয়ালে দাঁত আছে (যেমন-ঘোড়া) তাদের মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪০, মনু স্মৃতি ৫.১৪, বিষ্ণু স্মৃতি LI.৩০

  যে সমস্ত প্রাণীর পা বহু অংশে বাঁকা। যেমন শজারু, কাঁটাচয়া, শশক, খরগোশ, কচ্ছপ, গোধা, গোধিকা ইত্যাদির মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৯, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.২৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫, মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪

  গণ্ডার ও বন্য শূকরের মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫

  নরমাংস বা নরাকার যন্তুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮

  গৃহপালিত পশু, ছাগল, ভেড়ে, শূকরের মাংশ খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১-৪
★ অর্থ্যাৎ গৃহপালিত শূকরের মাংস বৈধ।

  গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯

★ গ্রাম্য শূকর বলতে ফালতু শূকরের সেইসব প্রজাতি গুলোকে বোঝানো হয়, যারা আকারে ছোটো এবং পঙ্কিল নোংরা স্থানেই শুধু বাস করে। নোংরা স্থানে থাকার জন্য এদের মাংসে কৃমিজাতীয় পরজীবীর সিস্ট থাকে যা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলে মানুষ সংক্রমিত হয়। উক্ত কারণের জন্য গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ কিন্তু গৃহপালিত শূকর নয়।

  যেকোনো মৃত প্রাণীর মাংস আহার করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৬.১৬

  বহু উপকারী গোজাতির মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮, বিষ্ণু পুরাণ ৩.৩.১৫, ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ ১.৯.৯, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৩-৪৫

  গৌর, ঘায়ল, সরাভ, ষাঁড় প্রভৃতি গো সম্প্রদায় ভুক্ত জীবের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৩, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯

  মাংসাশী প্রাণীর মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪

★ মূলত মাংসাশী প্রাণী বলতে উচ্চতর প্রাণীদের বোঝানো হয়েছে যেমন – বাঘ, সিংহ, শৃগাল, বন্য কুকুর ইত্যাদি। এদের শিকার করা কঠিন এবং মাংস নিরস, দুর্গন্ধ এবং কুরুচিকর স্বাদ যুক্ত হওয়ার জন্য পরিত্যাজ্য।

  একখুর বিশিষ্ট প্রাণীর (যেমন – উটের) মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯

  কৃষ্ণসার, নীলগাই, সাধারণ হরিণ, বন্য শূকরের মাংস খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৬

  স্বাদু ও লবণাক্ত জলের মাছ (যেমন- বিভিন্ন মেজর ও মাইনর কার্প, খাঁড়ির মাছ ইত্যাদি) আহার হিসাবে গ্রহণ করা বৈধ।
তথ্যসূত্র – বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৮

অন্যান্য

  মাদক দ্রব্য মিশ্রিত পানীয় নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২১

  সুরা ও সুরা প্রস্তুতের জন্য ব্যাবহৃত দ্রব্য সমূহ নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৫

  ব্যাঙের ছাতা, শালগম নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৮, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭১, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩

  যেকোনো আহারে উপযোগী বীজ, ফল, মূল, সব্জি খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র – নারদ পুরাণ ১১.১২-২২

  সুস্বাদু আহারে উপযোগী রস (যেমন – খেঁজুরের রস, তালের রস, আখের রস, ডাবের জল, ফলের রস ইত্যাদি), দুগ্ধজাত পদার্থ (যেমন – দুধ, ঘি, মাখন, দই) মধু ইত্যাদি বৈধ।
তথ্যসূত্র – নারদ পুরাণ ১৮.১২-১৩

  রসুন, পেঁয়াজ, পলাণ্ডু খাওয়ার উপর বিতর্কিত বিধান আছে, কাজেই ইহা খাওয়া যেতে পারে।

★আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৬, মনু স্মৃতি ৫.৫, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ১.১৭৬, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩ অনুসারে পেঁয়াজ রসুন খেলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। অপরদিকে বৈদিক আয়ুর্ব্বেদ শাস্ত্র গুলিতে ভিন্ন চিকিৎসার কাজে পেঁয়াজ রসুনের ব্যাবহার উল্লেখ রয়েছে। কাজেই পেঁয়াজ রসুন খাওয়া কে নিষিদ্ধ বলা অযৌক্তিক।

  টকে যাওয়া (ব্যাতিক্রম – দই) বা পচে যাওয়া বা কোনো খাবারে উভয়ে মিশ্রিত খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২০, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১৫, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭

  কুকুর, বিড়াল, বানর, মহিষ প্রভৃতি বন্য প্রাণীর মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – লৌগাক্ষিগৃহ্ম সূত্রাণি ২.১৯৩, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩, মানব গৃহসূত্র ১.৪.২-৪

  যে খাবারে কোনো পশু মুখ দিয়েছে তা খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.১০, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭

  যে সব খাবারে পোকা জন্মছে তা খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৬.২৬, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭

উক্ত নিষিদ্ধতার বাইরের খাদ্য বস্তু বা আহার সামগ্রী সমূহ বৈধ, কারণ সেইসব আহার সামগ্রীর উপরে নিষিদ্ধতা আরোপ হয়নি হিন্দুশাস্ত্র সমূহে।

Writer and Editor Samir Kumar Mondal
Collect from: sanatandharmatattva.wordpress.com
Share:

০৫ অক্টোবর ২০১৭

ধর্ম পালন করতে গিয়ে সমালোচিত হবেন না


সাধু সাবধান! ধর্ম পালন করতে গিয়ে সমালোচিত হবেন না। কোনটি উচিত আর কোনটি অনুচিত সেগুলো ধর্ম পালনের পূর্বে চিন্তা করুন। নিজে সতর্ক হয়ে অন্যকে সতর্ক করুন।
মাঝে মাঝে কয়েকটি বিষয়ে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হই । আমরা জানি যে অধিকাংশ হিন্দু পাড়া গুলোতে সাপ্তাহিক হরিসভার আয়োজন করা হয়। যেখানে সন্ধ্যা আরতি থেকে শুরু করে গুরুর গান, গৌর আরতি, দেহতত্ত্ব, পঞ্চতত্ত্ব, ভক্তিগীতি, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও ভাগবত পাঠ সহ ভিবিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় আমি আমার নিজ এলাকা সহ বেশকিছু এলাকায় খেয়াল করি যে হরিসভার মধ্যবর্তী সময়ে মুড়ি, চানাচুর , চা, পান ইত্যাদির জল খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে উপস্থিত ভক্ত বৃন্দদের জন্য।

উক্ত খাবার গুলো খাওয়া শেষে আবার তারা হরিসভা শুরু করে। হরিসভা বলুন আর গোবিন্দের সেবা বলুন আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ভক্তি সহকারে গোবিন্দের সেবা করা এবং ঠাকুর ঘরে যদি অন্যান্য দেব-দেবী থাকে তাদের সাথে গুরু সেবা দেওয়া। পাশাপাশি কিছু ভক্তিমূলক গান, হরিনাম সংকীর্তন, গীতা পাঠ সহ ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক আলোচনা করা এবং পূজার শেষ প্রসাদ নেওয়া। এখন প্রশ্ন হলো মাঝখানে চা, মুড়ি, চানাচুর, এমনকি পান সিগারেট দিয়ে যে জলখাবারে পর্ব আয়োজন করা হয় তাকে কি আপনি ধর্ম পালন ব্যবস্থার নিয়ম হিসেবে স্বীকৃতি দিবেন নাকি নিয়মের বাহিরের কর্ম কান্ডে স্বীকার করবেন ??

আমাদের ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে খাবারের উচ্ছিষ্ট বলে একটা কথা প্রায় শুনা যায়। হরিসভার মাঝখানে এইসব মুড়ি, চানাচুর, চা, পান খেয়ে একই জায়গায় বসে মৃদঙ্গ, করতাল, কাসা, জুড়ি ও হারমুনিয়াম দিয়ে হরিনাম সংকীর্তন করা ও ধর্মীয় আলোচনার মধ্যে কতটুকু শুদ্ধতা বজায় থাকে তা আপনারই ভাল বলতে পারেন।

পরের বিষটি পড়ার পর বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কিছু নামধারী বৈষ্ণব আমাকে গালমন্দ করতে এক মিনিটও সময় নিবে না। কিন্তু তাতে কি? সঠিক নিয়মে আসার জন্য ভুলকে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। মহোৎসবে গোবিন্দ, জগন্নাথের ভোগের শেষে যে প্রসাদ ভক্তদের মাঝে বিতরন করা হয় তাই মহাপ্রসাদ। আচ্ছা, ধরুন অদ্য দিবসে আপনার বাড়িতে মহোৎসব, এক হাজার ভক্তের জন্য প্রসাদ তৈরি করতেছে পাঁচ থেকে ছয় জন বৈষ্ণব। আপনার হঠাৎ চোখে পড়লো কয়েকজন বৈষ্ণব মহাপ্রসাদ রান্নার চলাকালীন সময়ে মুখে পান সুপারি দিয়ে বেশ চিবাচ্ছে অথবা চা কিংবা কোল্ড ড্রিংকস খেয়ে প্রশান্তি নিচ্ছে। সত্যি করে বলুনতো বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখবেন?

নামধারী ঐসব বৈষ্ণবরা কি শুদ্ধতা ও সঠিক নিয়মকানুন মেনে মহাপ্রসাদ রান্না করতেছে ? নাকি শুধু ভোগের জন্য আলাদা করে পরিমাণ মতো তৈরি করে ভক্তদের জন্য চিরাচরিতভাবে সম্পূর্ণ শুদ্ধতা ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দায়িত্ব পালন করতেছে। আমি মনে করি এসবের জন্য শুধু নামধারী
বৈষ্ণবদের দোষারপ না করে নিজদেরকে (আয়োজনকারী) সচেতন হতে হবে। তাহলেই এই সীমাবদ্ধতা থেকে কাটিয়ে উঠতে পারবো আমরা। আর তা না হলে ধর্ম পালন করতে গিয়ে এই ধরনের ভুল ত্রুটি বংশ পরম্পরাক্রম যেইভাবে চলে আসতেছে সেইভাবে ভবিষৎ প্রজন্মে চলতে থাকবে।

বাপ্পী চন্দ্র কুরী।।
(সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৭)
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।