• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

অন্যান্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্যান্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

০৬ এপ্রিল ২০২১

ধর্ম্ম ও Religion

আমার ধর্ম আমাকে শিক্ষা দেয় সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির গুনগান করতে ,জীবের সেবা করতে; সেটা ক্ষুদ্র পীপিলিকা হোক বা হাতীই হোক, ঈশ্বরের সৃষ্টি ধ্বংস করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা নয়। নৈতিক মূল্যবোধই ধর্ম্ম। এক আর্থসামাজিক সমাজ থেকে অন্য সমজে তাকে পৃথক করা যায় না। ধর্ম্ম কে বাদ দিলে মানুষ পশু তে পরিণত হয়। হিন্দুশাস্ত্র তাই বলেছেন -----

-

“আহার নিদ্রা ভয় মৈথুনম্ চ সমানামেতৎ পশুভির্নরানাম্; ধর্ম্মো হি তেষাম্ বিশেষো ধর্ম্মেণ হীনাঃ পশুভিঃ সমানাঃ”। 

-

…........ অর্থাৎ আহার, নিদ্রা, ভয়, মৈথুন এই গুণগুলি মানুষের মত পশুদের ও বিশেষত্ব।। 

-

------ কেবল ধর্ম্ম ই (মনুষ্যত্ব) মানুষকে অন্য পশুদের থেকে পৃথক করে। সুতরাং ধর্ম্মবোধ (মনুষ্যত্ব) মানুষের আদিম অনুভূতি, ধর্ম্ম কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর একান্ত নয়। ধর্ম্ম ও Religeon সম্পূর্ণ পৃথক ধারণা ও তত্ত্ব। একজন ব্যক্তি মানুষের সাথে বিশ্বগোষ্ঠীস্তর অবধি মানুষ ও মনুষ্যেতর প্রাণীর একাত্মতা ও মিলনই ধর্ম্ম, পক্ষান্তরে Religion হল ধর্ম্ম পালনের গোষ্ঠীগত পদ্ধতি। Religeon মানুষ দ্বারা সৃষ্ট, প্রচারিত ও প্রসারিত। এক Religion অন্য Religion কে আক্রমণ করে, হত্যা করে বা হত্যা করতে শেখায়। কিন্তু বিশ্বধর্ম্মজননী হিন্দুধর্ম্ম, ধর্ম্মপু্স্তক বেদ-বেদান্ত-শ্রীগীতা-শ্রীচণ্ডী মানুষকে ভালবাসতে শেখায়, মানুষের আত্মিক উন্নতির কথা বলে ।

-------- জয় মা তারা .......


লিখেছেনঃ Prithwish Ghosh

Share:

১৬ ডিসেম্বর ২০২০

মৃত্যুকে কখনো এড়ানো যায় না

 একবার ভগবান বিষ্ণু বাহন গরুরকে নিয়ে কৈলাস পর্বতে এসে উপস্থিত হলেন । দ্বারে গরুরকে ছেড়ে স্বয়ং দেবাদিদেব শিবের সঙ্গে দেখা করতে ভিতরে চলে গেলেন । কৈলাসের অপূর্ব প্রাকৃতিক শোভা দেখেে গরুর মন্ত্রমুগ্ধ হয়েগেলেন । তখনই গরুরের নজর এক খুব সুন্দর পাখীর উপর পড়ল । পাখীটি এমনই সুন্দর ছিল যে গরুরের সব ধ্যান বিচার সেই পাখীটির দিকেই আকর্ষিত হতে লাগলো ।


ঠিক সেই সময় কৈলাসে যমরাজ এসে উপস্থিত হলেন এবং ভিতরে প্রবেশ করার আগে তিনি ঐ পাখীটির দিকে আশ্চর্য দৃষ্টিতে দেখলেন । গরুর বুঝেগেছেন যে ঐ পাখীটির অন্তিম সময় কাছে এসে গেছে , আর যমরাজ কৈলাস থেকে বেরিয়েই ঐ পাখীটিকে নিজের সঙ্গে যমলোকে নিয়ে যাবেন ।

গরুরের দয়া এসে গেল । এত ছোট এবং সুন্দর পাখীটিকে মরতে দেখতে পারবেননা গরুর । তাই গরুর তখন নিজের হাতের পাঞ্জায় পাখীটিকে নিয়ে কৈলাস থেকে হাজার ক্রোশ দূরে এক জঙ্গলের ভিতর এক পাহাড়ের উপর ছেড়ে দিয়ে আবার কৈলাসে ফিরে আসলেন । কিছুক্ষন পর যমরাজ যখন কৈলাস থেকে বেরিয়ে আসলেন , তখন কৌতুহল বশত গরুর যমরাজকে জিজ্ঞেসই করে ফেললেন যে , " হে যমদেব , আপনি পাখীটিকে এত আশ্চর্যপূর্ন দৃষ্টিতে কেন দেখেছিলেন ?"
উওরে যমরাজ বললেন , " হে গরুর , আমি যখন এই পাখীটিকে দেখেছিলাম , তখন আমার জ্ঞাত হয়েছিল যে এই পাখীটি কিছু সময় পরই এখানে থেকে হাজার ক্রোশ দূরে এক নাগ এই পাখীটিকে খেয়ে ফেলবে । আমি চিন্তা করছিলাম যে পাখীটি এত তাড়াতাড়ি এখান থেকে এত দূর কি করে যাবে ... ; কিন্তু এখন দেখছি এই পাখীটি এখানে নেই , তাই আমি নিশ্চিত হলাম যে সেই পাখীটির মৃত্যু হয়েছে । "
গরুর বুঝে গেছেন যে মৃত্যুকে কখনো এড়ানো যায় না , তাতে যত চালাকিই করা হউক না কেন ...।
তাই বন্ধুরা .... ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলতেন --
কর তুমি সেটা
যেটা তুমি চাও
কিন্তু হয় সেটা
যেটা আমি চাই
অতএব
কর তুমি সেটা
যেটা আমি চাই
তাহলে হবে সেটা
যেটা তুমি চাও
হরে কৃষ্ণ ... হরিবোল ...।

Post Courtesy by Sagar Bhowmick
Share:

১৯ জুন ২০২০

মানব গোত্রের কথা

গোত্র শব্দটির অর্থ বংশ বা জন্মপরম্পরা বা গোষ্ঠীকে বুঝায়। সনাতন ধর্মে গোত্র মানে একই পিতার ঔরষজাত সন্তান সন্ততি সমূহ দ্বারা সৃষ্ট বংশ পরম্পরা। বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে, একটি বংশের রক্ত প্রবাহিত হয় পুরুষ পরম্পরায়। সূতরাং, বংংশের রক্তের ধারক ও বাহক হলো পুরুষ।

  সনাতন ধর্মের বংশ রক্ষার ধারায় ছিলেন প্রথম সত্য যুগের শুরুতে ব্রহ্মার মানসখসন্তানদের মধ্যে অন্যতম ঋষিগণ। পরবর্তীতে অন্যান্য ঋষির বংশ পরম্পরাও পরিলক্ষত হয়। এই একেকজন ঋষির বংশ পরম্পরা তাঁদের নামে একেকটি গোত্র হিসেবে পরিচিত লাভ করে। সে হিসেবে একই গোত্রের বংশীয়গণ পরস্পর ভাইবোন। এমনকি একই বংশের স্বজনেরা পরবর্তীতে জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে, সাধন-ভজন, পরমেশ্বর ভগবানের বাণী প্রচারের প্রয়োজনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লে পিতার নামের সাথে গোত্র নামের গুরুত্ব প্রকাশ পায়। যেমন- ঋষি কশ্যপ মুনির বংশধরেরা নিজেদের “কাশ্যপ গোত্রস্য” বা কশ্যপ মুনির বংশ পরিচয় দিয়ে থাকেন।

এভাবে পর্যায়ক্রমে আরো অনেক গোত্রের নাম পাওয়া যায়। সনাতন ধর্মে প্রকট আছে, অহরহ যেসব গোত্র দেখা যায় তা হলো,

কাশ্যপ গোত্র,
ভরদ্বাজ গোত্র,
বশিষ্ট গোত্র,
বৃহস্পতি গোত্র,
বিশ্বামিত্র গোত্র,
জামদগ্ন্য গোত্র,
শিব গোত্র,
মৌদগল্য গোত্র,
ভার্গব গোত্র,
শান্ডিল্য গোত্র,
আলম্বায়ন গোত্র ইত্যাদি।


একই গোত্রের লোকজনকে সমগোত্র বলা হয়। সোজা কথা এরা পরস্পর নিকট-আত্মীয়। আর অন্যান্য গোত্রের লোক জনের সাথে তাঁরা পরস্পর আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ এই কারণে যে, আমরা সবাই প্রপিতামহ ব্রহ্মা থেকে এসেছি যদিও আমাদের আদি পিতা-মাতা যথাক্রমে মনু ও শতরূপা।

সমগোত্র:-

সমগোত্র মানে একই পিতৃ বংশ। যেমন কাশ্যপ গোত্র। মুনি কশ্যপ ঋষির বংশধর। ব্রহ্মার মানস পুত্রগণের থেকে আগত প্রতিটি বংশ এক একটি গোত্র বা রক্তের ধারায় প্রবাহিত। একই গোত্র চারটি বর্ণে থাকতে দেখা যায়। কারণ, একই ঋষির সন্তানরা একেক সময়ে একেক কাজে মনোযোগী হয়ে থাকে। যে শাস্ত্র অধ্যয়ণ বা বুদ্ধিভিত্তিক বা আধুনিক সমাজে যাকে বুদ্ধিজীবি বলা হয়, জীবিকা অবলম্বন করে সে ব্রাহ্মণ হিসেবে, রাজধর্ম পালনকারী ক্ষত্রিয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হলে সে বৈশ্য আর এসব পেশাগত লোকদের সেবা করেই সন্তুষ্ট অর্জনে আগ্রহীরা শুদ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে থাকে। এ গুণাবলী সমূহ কেউ জন্মে প্রাপ্ত হয় না, অর্জন করতে হয়।

তাই বর্নাশ্রম সঠিক কিন্তু বর্ণপ্রথা ভুল ও মিথ্যা যা ক্ষত্রিয় ধর্ম পালনে পুরোপুরি অপারগ রাজা বল্লাল সেন, তার রাজ অপকর্ম ঢাকতে শুরু করেছেন। ধার্মিক ও পন্ডিতদের অত্যাচার করে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করে। আর এটা পুরোপুরি কার্যকর করেছেন তারই পুত্র রাজা লক্ষ্মণ সেন।

অবশ্য বিষ্ণুপূরাণ ও ভবিষ্য পূরাণে উল্লেখিত অপকর্ম করার সাজা হিসেবে যথারীতি পরবর্তীতে শোচনীয় পরাজয় পুর্বক রাজ্য হারাতে হয়েছ তাকে! সনাতন ধর্মে নিকটাত্মীয় বা সমগোত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ। কারণ হিসে
বে বৈদিক শাস্ত্রসমূহ বিশেষ করে মনুসংহিতায় বলা হচ্ছে, একই রক্তের সম্পর্কের কারো সাথে বিবাহ হলে সন্তান বিকলাঙ্গ, শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী, মেধা ও বুদ্ধিহীন হয়। শিশু নানা রোগে জরাজীর্ণ হয়ে থাকে। তবে একান্তই প্রয়োজন হলে, পাত্র-পাত্রী না পাওয়া গেলে ১৪ জ্ঞাতি-গোষ্ঠি পেরিয়ে গেলে তখন বিবাহ করা যেতে পারে। তবে তা যথাসম্ভব এড়িয়ে চললেই ভালো।

চিকিৎসা বিজ্ঞানও এটি স্বীকার করেছে। তারা বলছেন, নিকটাত্মীয় বা কাজিন যেমন, কাকাতো, মামাতো, মাসতুতো, পিসতুতো ভাই বোনদের মধ্যে বিয়ের পরিণামে যে সন্তান হয়, তার মধ্যে জন্মগত ত্রুটি দেখা দেয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। ‍”দ্য ল্যানসেট” সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

জয় বৈদিক সভ্যতার জয়


পরমকরুণাময় গোলোকপতি সচ্চিদানন্দ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতী রাধারাণী আর সকল বৈষ্ণব ভক্ত পার্ষদদের শ্রীচরণকমলে নিরন্তর প্রার্থনা করি, সকলের জীবন যেনো রাধা-কৃষ্ণময়তায় পূর্ণ হয়ে, মঙ্গলময়, কল্যাণময়, প্রেমময়, ভক্তিময়, মুক্তিময়, শান্তিময়, সুন্দরময় এবং আনন্দময় হয়ে ওঠে সর্বদা।
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!"
!!জয় হোক সকল ভক্তদের!!
!!জয় শ্রীকৃষ্ণ!! জয় রাধে!!

Post: Debendra Biswas
Share:

পঞ্চমহাযজ্ঞ

আমাদের অগোচরে ভগবান আমাদের সমস্ত প্রয়োজনগুলি মিটিয়ে দিয়েছেন, যাতে আমরা আত্ম-উপলব্দ্ধির জন্য স্বচ্ছল জীবন যাপন করে জীবনের পরম লক্ষে পরিচালিত হতে পারি, অর্থাৎ যাকে বলা হয় জড়-জাগতিক জীবন-সংগ্রাম থেকে চিরতরে মুক্তি। আর জীবনের এই উদ্দেশ্যে সাধিত হয় যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে। সাধারণ লোকের অন্তত পঞ্চমহাযজ্ঞ নামক পাঁচটি যজ্ঞের অনুষ্ঠান করা অবশ্যই কর্তব্য। এই পঞ্চমহাযজ্ঞ হল-

১) ব্রহ্মযজ্ঞ (বা বেদাধ্যয়ন),

২) পিতৃযজ্ঞ (বা তর্পণ),

৩) দেবযজ্ঞ (হোম),

৪) ভূতযজ্ঞ (মনুষ্যেতর জীবের তৃপ্তিবিধান) এবং

৫) নৃযজ্ঞ (অতিথিপূজা)। অর্থাৎ প্রত্যেক মনুষ্য জীবনের জন্য এই পঞ্চমহাযজ্ঞ আবশ্যক, আর তবেই আমরা সত্ত্বগুণে অধিষ্ঠিত হতে পারবো।

তবে পরবর্তীতে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সব চাইতে সহজ যজ্ঞ-সংকীর্তন যজ্ঞেরর প্রবর্তন করে গেছেন। এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান যে কেউ করতে পারে এবং তার ফলে কৃষ্ণভাবনার অমৃত পান করতে পারে।
বত্রিশ অক্ষরের এই হরির নাম মহামন্ত্র-

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

Courtesy By: Bappy Kuri
Share:

২২ এপ্রিল ২০২০

মা এর গর্ভ হতে মায়া এর গর্ভে


"কয় বার এলি কয় বার গেলি, তবু তত্ত্ব না শিখিলি!
নিজের মাথা নিজে খাইলি, এই দোষ দিবি কারে ভাই?"

আমরা দশ মাস দশ দিন মাতৃগর্ভে ছিলাম। মাথা ছিলো নিচের দিকে, পা ছিলো উপরের দিকে। এভাবে আমরা বারবার কতো কষ্ট করেছি মায়ের গর্ভের মধ্যে। সে কষ্ট থেকে জীব উদ্ধার পেতে চায়, আর তখন তো কথা দিয়েছিলাম প্রভুকে।
আমরা যখন মায়ের গর্ভে ছিলাম, কতো কষ্ট তখন করেছিলাম, সেখানে আমরা ভগবানকে ডেকেছি, “প্রভু, আমি আর এ কষ্ট করতে পারছি না!”

কোনো কোনো ভাগ্যবান জীবকে মায়ের গর্ভে দেখা দেন ভগবান, “তুমি আমাকে কেন ডেকেছিলে?”
জীব তখন বলে, “প্রভু, আমি এই কষ্ট করতে পারছি না, আমাকে এখান থেকে ছেড়ে দাও!”
তখনই, ভূমিষ্ঠ হাওয়ার আগে সেই জীব কথা দেয়, “চোখ দিয়ে তোমার বিগ্রহ দর্শন করবস, মুখ দিয়ে তোমার নাম করবো, কান দিয়ে তোমার কথা শুনবো।”

সব কিছু হ্যাঁ বলে দিয়ে এসেছিলাম। ভগবান যে ইন্দ্রিয় গুলো দিয়েছেন, চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক, মন, বুদ্ধি আর অহঙ্কার সে ইন্দ্রিয়গুলো দিয়েছেন গোবিন্দের সেবা করার জন্য। এই দুটো হাত দিয়েছেন তাঁর সেবা করার জন্য। যেমন তাঁর প্রসাদ রান্না করবার জন্য, তাঁর বাসন মার্জন করবার জন্য, তাঁর মালা জপ করবার জন্য। পা দিয়েছেন তাঁর ধাম পরিক্রমা করবার জন্য, চোখ দিয়েছেন তাঁর বিগ্রহ দর্শন করবার জন্য, কান দিয়েছেন তাঁর কথা শোনবার জন্য। কিন্তু আমরা কি করেছি?

ভূমিষ্ঠ হাওয়ার পরে মায়ার কবলে পতিত হয়ে ভুলে গিয়েছি সেদিনের সেই কষ্টের ভেতর কাটানো দিনের প্রতিশ্রুতি গুলো। দোষটার কারণ আমাদের নয় কি ?
চোখটা প্রথম ভালোই ছিলো, কিন্তু যদি একটা ছানি পড়ে যায়, তখন ছানি না কেটে ছবি দেখতে পাবো না। কানও এ রকম, যখন আমরা বুড়ো হয়ে যাই, তখন ভালো শুনতে পাবো না। পায়ে যদি ব্যথা হয়ে যায়, তাহলে বিভিন্ন জায়গায়, ধাম পরিক্রমা, তুলসী পরিক্রমাও করতে পারবো না। এগুলো সব ভগবান আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা এখন কি করলাম! ওই মায়ার কবলে পতিত হয়ে পড়লাম; ভুলে গেলাম সবই!


মায়াকে কে সৃষ্টি করেছেন, ভগবান'ই তো!
"দৈবী হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্যয়া |
মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ||"
(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, ৭/১৪)


অর্থাৎ, ভগবান বলছেন, “এ মায়াকে আমি সৃষ্টি করেছি, তুমি এই মায়া জয় করতে পারবে না। তবে পারবে কখন?
‘মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ||’
অর্থাৎ, যে আমাকে প্রপদ্য করে, যে আমার চরণে শরণাগত হয়, যে আমার চরণে এসে পড়ে যায়, আমি তাকে আস্তে আস্তে মায়া থেকে রেহাই দেই।"


যখন আমার ভক্ত আমার শরণাপন্ন হয়, তখন দেখতে পেয়ে যে, ‘আমার সৃষ্টিকর্তা চলে এসেছেন’ তখন মায়া দেবী আমাদের কাছ থেকে আস্তে আস্তে পালিয়ে যায়।


‘মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ||’


মায়াকে জয় করবার জন্যই সাধু-সঙ্গ করা যায়। মায়াকে সাধু-সঙ্গ ছাড়া জয় করা যায় না। তাই আমাদের ভগবানের নববিধা ভক্তির পথ অনুসরণ করে, ভগবদ্ কর্ম, জ্ঞান আর ভক্তির মাধ্যমে এই মোহময় অনিত্য সংসারের মায়াকে অতিক্রম করতে হবে। নইলে মুক্তি সুদুর পরাহত। তাই শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর বলেছেন -


"মায়ারে করিয়া জয় ছাড়ান না যায় |
সাধু-গুরু কৃপা বিনা না দেখি উপায় ||"



Post Courtesy By: Soikot Kumar‎
Share:

সন্ধ্যা বেলায় যে কাজগুলো নিষিদ্ধ

কয়েক দশক আগেও, হিন্দু পরিবারগুলোতে প্রবীণরা সন্ধ্যার নেতিবাচক প্রভাবের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। শাস্ত্র অনুযায়ী তারা সমস্ত সদস্যদের ঘরের মন্দিরের সামনে একত্র করতেন এবং সন্ধ্যা আরতি ও শ্লোক-মন্ত্র উচ্চারণ করতেন। কিন্তু দিনদিন এই আচারগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। শ্লোকের শব্দ এখন টিভি সিরিয়ালের আড়ালে চাপা পড়েছে। মফস্বল থেকে শুরু করে ব্যস্ত শহর সব জায়গাতেই একই অবস্থা দেখা যায়। বিভিন্ন খাওয়ার দোকান, ফাস্ট ফুড, আইসক্রিমের দোকানে, সিনেমা হলে সন্ধ্যায় সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়।


আমরাও খুব খুশি সমাজের এত উন্নতি দেখে, সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একবারও কি আমরা ভাল করে খেয়াল করছি প্রদীপের তলার অন্ধকার? সঠিক নিয়মে সন্ধ্যা পূজা না করার জন্য রোগ, ব্যাধি, হতাশা, ব্যর্থতা আমাদের পিছু ছাড়ছে না। এত এগিয়েও কোথায় যেন আমরা আবার পিছিয়ে পড়ছি!

শাস্ত্রে বলা আছে, অশুভ শক্তি/নেতিবাচক শক্তি সবচেয়ে বেশি প্রকট হয় সন্ধাবেলায়। তাই নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে বারন করা হয়েছে:

• খাওয়া, ঘুমানো, পান করা

• সহবাস করা

• কোন শুভ কাজের আরম্ভ

• দূরযাত্রা

• কান্না কাটি বা দুশ্চিন্তা করা

• টাকা পয়সার লেন দেন

• কাওকে সাদা বস্তু প্রদান করা, চুল/নখ কাটা

• শপথ নেয়া, ঝগড়া করা, গালি দেয়া, মিথ্যা বলা, অশ্লীল কথা উচ্চারণ, কাওকে কষ্ট দিয়ে কথা বলা

এছাড়াও বেশ কিছু কাজ শাস্ত্রে মানা করা আছে। যেমন:

• ঘর ঝাড়ু/ মোছা - সন্ধ্যায় রজ ও তম শক্তি পরিবেশে প্রবল থাকে। এই সব কাজের মাধ্যমে রজ-তম শক্তি আমাদের শরীরকে আকর্ষণ করে শরীরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। তাই সন্ধ্যার পূর্বেই ঘর পরিষ্কার করা উচিত।

• নদী তীরে বসা (গঙ্গা ব্যতীত)

• মনে রাখতে হয় এমন কাজ করা (পড়া লেখা)

• বেদ পাঠ - সন্ধ্যা হল রাত্রির আরম্ভ কাল (প্রদোষ কাল)। বেদ অনুসারে প্রদোষ কালে বেদপাঠ ও বেদ বহন বারণ। তবে শুধু সন্ধ্যাদোষ নিবারণের নির্বাচিত মন্ত্র উচ্চারণ করা যাবে ।

• গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বারন:

- দরজার সামনে বসা

- সন্ধ্যায় গৃহপালিত পশুর ঘরে ফিরতে দেখা।

হয়তো সকল নিয়মই জড়জাগতিক যুক্তির বিচারে গ্রহণযোগ্য কি না, তা ভাবতে পারেন। কিন্তু স্মরণ রাখা উচিত যে, আমাদের জ্ঞানের সীমা অনেক সীমিত। আমাদের পূর্বতন বিদগ্ধ পণ্ডিত পূর্বপুরুষগণ তাঁদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের আলোকেই আমাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আর তা আমাদের কল্যাণের জন্যই।


Post collected from: Sourav Das





Share:

১৮ এপ্রিল ২০২০

আপনার রান্না ঘরই করোনা রোগের প্রধান চিকিৎসালয়: ডঃ বিজন শীল



ডঃ বিজন শীল জানান, যেকোনও ধরনের গলা খুশ খুশ বা কাশি দেখা দিলেই আর অপেক্ষা করা উচিত হবে না। ওটা করোনা না করোনা নয়, এ নিয়ে চিন্তা করার কোনও দরকার নেই। বরং ওই মুহূর্ত থেকে যে কাজটি করতে হবে, তা হলো আদা (জিঞ্জার) ও লবঙ্গ (ক্লোব) একসঙ্গে পিষে সেটাকে গরম পানিতে সিদ্ধ করে তার সঙ্গে কিছুটা চা দিয়ে ওটা এক কাপ মতো নিয়ে গারগল করে খেতে হবে। দিনে অন্তত তিন-চারবার এক কাপ করে এটা খেতে হবে। এর ফলে গলার ভেতরের কোষগুলোতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। এতে কোষগুলো শক্তিশালী হবে। কোষগুলোর ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোষগুলো সমর্থ হবে কোভিড-১৯ ভাইরাস যদি আক্রমণ করে, তাকে প্রতিরোধ করতে।
যাদের গলা খুশখুশ করে না বা কোনও কাশি দেখা দেয়নি, তারাও এটা নিয়মিত দিনে দুইবার অন্তত দু’কাপ খাবেন। তাতে তাদেরও ইমিউনিটি বাড়বে। এর পাশাপাশি যাদের জোগাড় করা সম্ভব, বিশেষ করে যারা গ্রামে আছেন, তারা এখন নিমপাতা পাবেন। ওই নিমপাতা একটু পানি দিয়ে পিষতে হবে। পেষার ফলে যে সবুজ রঙের রসটি বের হবে সেটার সঙ্গে গরম পানি মিশিয়ে তা গারগল করে খেতে হবে। এর ফলে গলার কোষগুলোয় রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, ইমিউনিটি বাড়বে। যা অনেক বেশি সমর্থ হবে করোনা বা কোভিড-১৯ ভাইরাসকে পরাজিত করতে।
এর পাশাপাশি তিনি ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন একগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দেন। এই ভিটামিন সি’র সঙ্গে অবশ্যই কিছুটা পরিমাণ জিঙ্ক থাকতে হবে কারণ, ভাইরাসের ‘আর ডি ডি’কে ব্লক করে দিতে সমর্থ হয় জিঙ্ক। যার ফলে ওই ভাইরাস সহজে রোগীকে আক্রান্ত করতে পারে না।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টয়লেট পরিষ্কার রাখা। কারণ, কমোড, প্যান এবং বেসিন থেকে কফ, থুতু, প্রস্রাব ও পায়খানার মাধ্যমে করোনা বা কোভিড-১৯ ছড়ায় বেশি। রোগীর কফ ও থুতুর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়।




 মুল পোষ্টঃ http://eibela.com/article/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A6%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%3A-%E0%A6%A1%E0%A6%83-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%B2%C2%A0?fbclid=IwAR2gCbGjitNXsrDInZRTDcNQ4FzMztecJ7U_9DtJ-0YcTXGLJQXg2NKpqxk
Share:

০২ মে ২০১৯

স্বপ্নে পাওয়া কষ্টি পাথরের কালী প্রতিমা উদ্ধার ঝিনাইদহ শহরের চাকলা পাড়া এলাকার নবগঙ্গা নদী থেকে

ঝিনাইদহ শহরের চাকলা পাড়া এলাকার নবগঙ্গা নদী থেকে স্বপ্নে পাওয়া কালী প্রতিমা  উদ্ধার হয়েছে। বুধবার (১লা মে) ঝিনাইদহ শহরের চাকলা পাড়া এলাকার নবগঙ্গা নদী থেকে স্বপ্নে পাওয়া কালী প্রতিমা  উদ্ধার হয়েছে। জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের চাকলা পাড়া এলাকার বাবু জোয়ারদারের আম বাগান সংলগ্ন নবগঙ্গা নদী থেকে স্বপ্নে পাওয়া কালী মুর্তী উদ্ধার করেছে এক বৃদ্ধা, তার নাম কল্যানী বিশ্বাস (৭০)।


চাকলা পাড়ার মৃত. ধীরেন গোপাল বিশ্বাসের স্ত্রী কল্যানী বিশ্বাস গত ১০/১২ দিন ধরে গভীর রাতে স্বপ্নে দেখেন ঐ কালী প্রতিমা তাকে বলছেন “আমি নবগঙ্গা নদীর সিড়িতলা ঘাটে আছি, আমাকে তুলে নিয়ে যাও” গভীর রাতে স্বপ্নে একথা শোনার পর কল্যনী বিশ্বাস ভয়ে কারো কাছে কিছু বলেনা। এক পর্যায়ে বুধবার সকালে কল্যানী বিশ্বাস তার নাতি ছেলে সোহাগ (২২)কে নিয়ে চাকলাপাড়ার নবগঙ্গা নদীর সিড়ি ঘাট এলাকায় তার মেজে মেয়ে অলকা,বৌমা মমতা ও তার ছেলে হিরোনকে নিয়ে কালী প্রতিমা খুজতে থাকে। খুজতে খুজতে কল্যানী বিশ্বাস তার স্বপ্নে দেখা কালী প্রতিমাটি পেয়ে যায়। পরে তার বড় ছেলে চাকরাপাড়ার মিলনের বাসায় কালী প্রতিমাটি রাখা হয়েছে।






এ সময় চাকালা পাড়ার শত শত উৎসুক জনগন এই মহা মুল্যবান পাথরের প্রতিমাটি দেখতে মিলনের বাড়িতে ভিড় জমায়। এ ব্যপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান সাংবাদিকদের জানান, আমি লোকমুখে ঘটনাটা শুনেছি, একটু পরে চাকলাপাড়ায় গিয়ে খোজখবর নিয়ে ব্যাবস্থা নেব। এঘটনায় এরাকাবাসীদের মধ্যে মিন্টু কুমার বিশ্বাস বলেন, এটি মহা মুল্যবান পাথরের কালী মুর্তি হতে পারে। উল্লেখ্য, কল্যানী বিশ্বাস শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার কেয়ার হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন।














তথ্যসুত্রঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ, কুয়াকাটা নিউজ
https://www.kuakatanews.com/?p=69830&fbclid=IwAR2pVw-fKWDA4ZGeuU1HUMDO-zI3B9aJPAHtVAXSideS80Emro-zbMWGVb0
Share:

০৭ জানুয়ারি ২০১৯

কর্মের ফল তো ভোগ করতেই হবে

একটি দৃষ্টান্ত হলো -
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পিতামহ ভীষ্ম , অর্জুনের বানে ভূমিতে ধরাশায়ী হয়ে প্রচন্ড বেদনায় ছটফট করছিলেন । একে একে সবাই উনাকে দেখতে আসছিলেন । একদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণও উনাকে দেখতে এলেন ।
শ্রীকৃষ্ণ কে দেখে ভীষ্ম বললেন , " হে জনার্দন , আমি পূর্ব জন্মেএমন কি পাপ করেছিলাম যে এই জন্মে এত বড় শাস্তি এত কষ্ট আমাকে ভোগ করতে হচ্ছে ?" ভগবান বললেন , " আপনি তো নিজেই পূর্ব জন্মের কথা স্মরন করতে পারেন , তাহলে আপনি নিজেই দেখুন না আপনি পূর্ব জন্মে কি পাপ করেছিলেন ? "
ভীষ্ম বললেন , " আমি তো দেখতে দেখতে গত ১০০ জনমের কর্ম দেখে ফেলেছি , কিন্তু এই ১০০ জনমের মধ্যে আমি এমন কোনো কর্ম করিনি যেটাতে আমি এত বড় শাস্তি পেতে পারি । "


ভগবান বললেন , " আপনি কৃপা করে এই ১০০ জনমের ঠিক একটি জনম আগে দেখুন ( অর্থাৎ ১০১ নং জনম ) , উওর আপনি পেয়ে যাবেন । "
তখন পিতামহ ভীষ্ম চোখ বন্ধ করে ধ্যান পূর্বক দেখতে লাগলেন - ঐ জনমে তিনি একজন খুবই ধার্মিক রাজা ছিলেন । একদিন তিনি বিশাল সৈন্যদল নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন । পথের মাঝে একটি সাপ এসে তাদের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় । এক সৈনিক এসে বললো , " মহারাজ , একটি সাপ রাস্তার মাঝে বসে আছে , কি করবো ? " রাজা বললেন , " তুমি সাপটিকে একটি লাকড়িতে বেঁধে পাশের জঙ্গলে ফেলে দাও ।"
সৈনিক তাই করলো , কিন্তু সাপটি জঙ্গলে একটি বিশাল কাঁটার ঝোপের মধ্যে আটকে গিয়ে প্রচন্ড যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে অবশেষে পাঁচদিন পর মারা গেল ।
পিতামহ ভীষ্ম তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে বললেন , " দেখলাম আমার পাপ কর্ম , কিন্তু আমিতো সাপটিকে বাঁচানোর জন্য জঙ্গলে ফেলেদিয়েছিলাম , নাহলে তো সাপটি আমার রথের চাকার নীচে চাপা পরেই মারা যেতো ।"

ভগবান বললেন , " কিন্তু আপনিতো ঐ সাপটির কি পরিনতি হলো তা একবারও ফিরে দেখলেন না বা ঐ সাপটিকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেন নি , তাই আজ আপনার এই পরিনাম । অথচ আপনার পুন্য কর্ম এত বেশী ছিল যে গত ১০০ জনমেও আপনি কোন পাপের ফল ভোগ করেন নি । "

মানুষ জেনেই হোক বা না জেনেই হোক যে কর্ম করছে তার ফল ভোগ অবশ্যই করতে হবে । কেউ এই জনমে বা কেউ পরের জনমে ভোগ করছে । কুকুর , ছাগল , বাঘ ইত্যাদি জন্তু জানোয়ারেরা পূর্ব জন্মে এই ধরনের নীচ কর্ম জেনে শুনে করেছে বলেই তারা এই রুপে অনেক যাতনার শিকার হচ্ছে ।

তাই বন্ধুরা সাবধানেই প্রত্যেকটি কর্ম করা উচিত । ভগবানের নাম স্মরন করে সর্ব কর্ম উনাতে অর্পন পূর্বকই করা উচিত ।

Post Courtesy: Sagar Bhowmick
Share:

সনাতন ধর্মে জন্মান্তরবাদের ব্যাখ্যা

সনাতন বৈদিক বা হিন্দুধর্মের জন্মান্তরবাদ (পুনর্জন্ম) সম্পর্কে  কিছু জানার জন্য আমাদের কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন। ব্যাখ্যা গুলো এমন-

  •  হিন্দুধর্ম বিশ্বাস করে যে জীবের মৃত্যুর পর জীব পুনরায় জন্মগ্রহন করে। হিন্দুধর্মে পুনর্জন্মকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিন্তু সকলেই মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে বিশ্বাসী। পুনর্জন্মের অর্থ হলো-
“জীবের মৃত্যুর পর আত্মা পুনরায় নতুন দেহ ধারণ করে”।
 
  • যদিও বহু ধর্ম পুনর্জন্মে বিশ্বাসী, তবু একমাত্র হিন্দুধর্মেই এই জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী। আত্মার নতুন দেহ ধারণের মূলে রয়েছে। আত্মা যে এক শাশ্বত সত্ত্বা, এই ধারণা। বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যেও আত্মা এক অবিনাশী সত্ত্বা- এই বিশ্বাস না থাকলে জীবের পুনর্জন্মের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সেই কারণে হিন্দু জড়বাদী তত্ত্ববাদীগণ কোন শাশ্বত আত্মার অস্তিত্বে, মুত্যু পরবর্তী জীবনে এবং আত্মার পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেনা।
  •   হিন্দুধর্মে জীবাত্মা এক অপরিবর্তনীয় সত্ত্বা। যার প্রকৃতি হলো ঐশ্বরিক। যেমন অগ্নি থেকে নির্গত অগ্নি স্ফুলিঙ্গ অগ্নির সংঙ্গে অভিন্ন, তেমনি যে জীবাত্মা ঈশ্বর থেকে উদ্ভূত সেই জীবাত্মা ঈশ্বরের সঙ্গে অভিন্ন। জীবাত্মার এই প্রকৃতি স্বীকার করে নিলেই জীবাত্মার জন্মান্তর গ্রহণ এবং জন্মান্তরের মধ্য দিয়ে তার বিবর্তনকে সমর্থন করা চলে। আত্মা নিত্য, শাশ্বত সত্ত্বা হওয়াতে, আত্মার জন্ম ও মৃত্যুকে যথাক্রমে সম্পূর্ণ নতুন প্রারম্ভ বা পরিপূর্ণ বিনাশ রূপে গ্রহণ করা চলে না। বরং জীবাত্মার পুনর্জন্ম অর্থ হলো নতুন দেহধারণ এবং মৃত্যু অর্থ হলো জীর্ণ দেহ পরিত্যাগ করাকে বোঝায়।
  •   গীতায় বলা হয়েছে-
“যেমন মনুষ জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে নতুন বস্ত্র গ্রহণ করে সেই রূপে
আত্মা জীর্ণ শরীর পরিত্যাগ করে অন্য নতুন শরীর পরিগ্রহ করে”।

আত্মার শাশ্বত প্রকৃতি যেমন জীবের জন্মান্তর গ্রহণ সম্ভব করে তোলে, ঈশ্বরের সঙ্গে জীবাত্মার অভিন্নতা জন্মান্তর গ্রহণের বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। বেদে, উপনিষদে এবং ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে যে, জীবাত্মা স্বরূপতঃ ঈশ্বরের সঙ্গে অভিন্ন। কিন্তু জাগতিক বস্তুর প্রতি আসক্তি বশতঃই আত্মাকে দেহ ধারণ করতে হয়।

  •   জীবের একাধিক জন্ম-গ্রহণের কারণ হলো তার ভোগাকাঙ্ক্ষা। গীতায় বলা হয়েছে-
“পুরুষ প্রকৃতির সংসর্গ বশতঃ প্রকৃতির গুণ অর্থাৎ সত্ত্ব, রজঃ, তমো গুণের ধর্ম সুখ দুঃখ মোহাদিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েন এবং আমি সুখী, আমি দুঃখী, আমি কর্তা, আমার কর্ম ইত্যাদি অভিমান করতঃ কর্ম নাশে আবদ্ধ হন। এই সকল কর্ম ফলভোগের জন্য তাকে বার বার জন্ম গ্রহন করতে হয়।"

সুতরাং 'এই প্রকৃতির সংসর্গ থেকে মুক্ত হতে না পরলে, তার জন্মকর্মের বন্ধন থেকে নিস্তার নেই।'

  •   আত্মা পরমাত্মা থেকে ভিন্ন এবং দেহ-মন সংগঠনের সঙ্গে অভিন্ন, এই ভ্রান্ত ধারণার জন্যই আত্মার পুনঃ পুনঃ দেহধারণ। জীবাত্মা তার যথাযথ স্বরূপ সাময়িকভাবে বিস্মৃত হয় সত্য, কিন্তু জীবাত্মার ঐশ্বরিক প্রকৃতি লুপ্ত হয় না এবং জীবাত্মাকে তার সুপ্ত ঐশ্বরিক প্রকৃতিকে লাভ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। জীব পুনঃ পুনঃ জন্ম গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার লক্ষ্য লাভ করার দিকে চালিত হয়। অর্থাৎ জীবের সঙ্গে তার ঐশ্বরিক প্রকৃতির তাদত্ম্যের উপলব্ধি- এই লক্ষ্যে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত জীবের পুনর্জন্মের নিরোধ ঘটে না। বস্তত: এই ধারণাই পুনর্জন্মের বিষয়টিকে তাৎপর্যময় করে তোলে। সকল বদ্ধ জীবই এই পুনর্জন্মের অধীন। আর পুনর্জন্ম বন্ধ বা না হওয়ার অর্থ জীবাত্মার পরমাত্মায় বিলীন বা মহামিলন হওয়া।
  •   কাজেই পুনর্জন্ম কোনী রহস্যময় অদৃষ্টের খেয়াল খুশীর ব্যাপার নয়। বরং এক ঐশ্বরিক পরিকল্পনার বা জগতের নৈতিক শৃঙ্খলার অংশ স্বরূপ। যা সকল প্রাণীতেই সংঘটিত হয়ে থাকে, তা সে বিশ্বাস করুক আর না-ই করুক।

 পরমকরুনাময় গোলোকপতি সচ্চিদানন্দ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতী রাধারাণীসহ সকল পূণ্য- মহাত্মাদের চরণকমলে সবারই মঙ্গলময়, কল্যাণময়, সুন্দরময়, শান্তিময় আর আনন্দময় জীবনের প্রার্থনা আমাদের।

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!"
!!জয় হোক সকল ভক্তদের!!
!!জয় শ্রীকৃষ্ণ!! জয় রাধে!!

Post courtesy: দেবেন্দ্র
Share:

২৩ আগস্ট ২০১৮

বঙ্গীয় হিন্দু সমাজে সামাজিক একতা এত লুপ্তপ্রায় কেনো ?

বর্তমান দিনে আমরা একটা বাস্তব কথার সাথে খুব পরিচিত:

"যদি কিছু হিন্দুর সাথে কিছু মুসলিমের ঝামেলা হয় তাহলে হিন্দুদের দল থেকে কিছু হিন্দু পলায়ন করবে আর অপর দিকে মুসলিমের দলে কিছু মুসলিম যোগ দান করবে"
যদি এর কারণ অনুসন্ধান করা যায়, তাহলে আমার মতে এর ৫টা কারণ হতে পারে:-







১. ভ্রাত্রিয়তা বোধের অভাব:-

বর্তমান বঙ্গীয় হিন্দু সমাজে সামাজিক একতা লুপ্তপ্রাপ্তির একটা প্রধান কারণ এটি। একটা উদাহরণ দিচ্ছি-
ধরুণ আমি কোনো স্থানে বিনা দোষে কোনো মুসলিম বা হিন্দুর দ্বারা অত্যাচারীত হচ্ছি। আর আপনি আমার কাছে আছেন, আর আমি আপনার কাছে সাহায্যের জন্য বার বার আবেদন করছি। আর আপনি সব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন আর মনে মনে Ignore করছেন ও সাহায্যের জন্য এগিয়েও আসছেন না। আপনি মনে মনে ভাবছেন "আমি আপনার কে হই, যার জন্য আমাকে আপনি সাহায্য করবেন"। এবার ঘটনা টিকে উল্টে দেওয়া যাক-
অত্যাচারীত হচ্ছেন আপনি আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি। আপনি আমার কাছে সাহায্য চাইছেন আর আমিও Ignore করছি। এই সময় আপনার মানসিক অবস্থা কেমন হবে আশা করছি আমাকে আর বলতে হবে না।
কিন্তু যদি আপনার ও আমার মধ্যে ভ্রাত্রিয়তা বোধ টুকু থাকতো তাহলে আপনাকে বিনা দোষে নিপীড়ন হবার কোনো প্রশ্নই থাকতো না, কারণ ভ্রাত্রিয়তা বোধের জন্য আমি আপনার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতাম। কিন্তু বর্তমানে "প্রতিটি হিন্দু পরস্পরের ভাই" এই কথা টা যেন লুপ্তপ্রায় হচ্ছে। ফলে আমাদের সামাজিক একতায় ফাটল ধরছে।বর্তমান দিনে হিন্দু সমাজে সামাজিক একতা কে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হল পরস্পরের মধ্যে সাহায্যের আদান প্রদান করা।তাই আমি প্রতিটি হিন্দুদের বলছি আপনারা যথাসাধ্য মতো অপর এক হিন্দুদের সাহায্য করুণ ও নিজেদের মধ্যে ভ্রাত্রিয়তা বোধ গড়ে তুলুন, যাতে আমরা একে অপরের সাহায্যে সময় বিনা দ্বিধাবোধে এগিয়ে আসতে পারি।চেস্টা করুন চেস্টা করতে দ্বিধাবোধ করছেন কেনো।

২. স্বার্থপরতা:-
 
বর্তমান বঙ্গীয় হিন্দু সমাজে সামাজিক একতা লুপ্তপ্রাপ্তির এটি আরেকটি কারণ। আমাদের বঙ্গীয় হিন্দু সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ আছে যাদের "নিজ স্বার্থপরতা" গুনের জন্য সামাজিক একতা ও ভ্রাত্রিয়তা বোধের মধ্যে ফাটল সৃস্টি করে। এই শ্রেণীর মানুষেরা সাহায্য নেবার সময় সবসময় প্রস্তুত কিন্তু সাহায্য দেবার সময় হাত গুটিয়ে নেবে, একমাত্র নিজের স্বার্থ ছাড়া কাউকে সাহায্য করবে না, এমন কি এই সব মানুষের দ্বারা যারা প্রতারিত হয় তাদেরও মন থেকে ভ্রাত্রিয়তা বোধ উড়ে যায় এবং সেও স্বার্থপর হয়ে উঠে। যার ফলে সামাজিক একতা ও ভ্রাত্রিয়তা বোধের লুপ্তপ্রায় ঘটে।এই শ্রেণীর মানুষদের শোধন এর জন্য আমাদের প্রতিবার এদের সামনে একটি করে বাস্তব বোধমূলক উদাহরণ তুলে ধরতে হবে, যে উদাহরণের দ্বারা সে বুঝতে পারে নিজ স্বার্থপরতার দরুণ সে কিভাবে অন্য মানুষের কাছে ছোটো হচ্ছে ও সমাজে সামাজিক একতা মধ্যে ফাটল ধরাচ্ছে। এরপর যদিও সে বুঝতে না পারে তাহলে যতটা পারবেন ওনাকে Ignore করার চেস্টা করবেন।কারণ দুস্ট গোরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।

৩. সাহসিকতার অভাব:-
 
সামাজিক একতা তৈরির জন্য সাহসিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাহসিকতার অভাবে একতা তৈরির হলেও সেটা কার্যকারী হয়ে উঠতে পারে না। আপনার মধ্যে সাহসিকতার আছে কিনা তা জানার জন্য আপনি নিজে কে ৫টি প্রশ্ন করুন:-
১) আপনি কি অন্যায় কে সহ্য করে মাথা নিচু করে বাঁচবেন না ন্যায় কে সঙ্গী করে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন ?
২) আপনার উপকারে যদি কতগুলি মানুষের উপকার হয় তবে আপনি কি সেই উপকারে উপস্থিত থাকবেন না সেখান থেকে কেটে পরবেন ?
৩) আপনি কি ঐ মানুষদের উপকার করে তাদের কাছে থেকে "একজন সত্যিকারের বন্ধু" হিসাবে পরিচিত হতে চান না "বেইমান" হিসাবে পরিচিত হতে চান?
৪) ঐ মানুষদের উপকারের জন্য যদি আপনাকে কয়েকটি আঘাত খেতে হয়, তবে আপনি কি সেখান থেকে পলায়ন করবেন না একজন সহকারী হিসাবে সেখানে উপস্থিত থাকবেন ?
৫) আপনার একটি সাহায্য যদি পরস্পরের ভ্রাত্রিয়তা বোধ সম্পর্ক কে পুনঃজীবন দিতে পারে তবে আপনি কি সেই সাহায্য করবেন ?
যদি আপনার মন আপনাকে কার্য করার জন্য উৎসাহ দেয় তাহলে আপনি নিঃসন্ধেহে একজন ন্যায়বাদী সাহসী, আর যদি বাধাদেয় তাহলে আপনি নিঃসন্ধেহে একজন দূর্বল মানসিকতা সম্পন্ন বেক্তি।আরেকটা জিনিস আমাদের ভালোভাবে মনে রাখতে হবে -"একটি লাঠি যদি অল্পচাপ পাই তাহলে সেটা ভেঙে যায় কিন্তু লাঠির সংখ্যা বাড়ানোর সাথে সাথে বেশী চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাই ও একটি অভঙ্গুর লাঠি স্তম্ভ তৈরি করে"।

৪. হিন্দু সামাজিক Cast System:-


বঙ্গীয় হিন্দু সমাজে সামাজিক একতা ভাঙনের এটা একটা প্রধান কারণ, এখনও বর্তমান দিনে বঙ্গীয় হিন্দুরা এই মিথ্যা Cust System কে মেনে চলে। কিন্তু হিন্দুধর্ম মতে Cust System এর কোনো স্থান নেই এবং প্রতিটি মানুষ সমান অধীকারী, এই Cust System এর জন্য হিন্দু্দের মধ্যে ভেদা ভেদ তৈরী হয়, একজন বলে "আমি জ্ঞানী, আমি উঁচু, আমি মাথা" অপর জন বলে "আমি জ্ঞানী, আমি উঁচু, আমি মাথা" "তুই মূর্খ, তুই নিচু, তুই ল্যাজ। এই মনোভাবের জন্য দুটি ভিন্ন Cust এর হিন্দু্দের মধ্যে একতা তৈরী হয় না। এর জন্য আমাদের এই মিথ্যা Cust System কে ভুলে, মনে রাখতে হবে স্বামী বিবেকানন্দের কথা -
"হে ভারত ভুলিও না নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত তোমার ভাই"
"হে বীর, সাহস অবলম্বন কর, সদর্পে বল-আমি ভারতবাসী, ভারতবাসী আমার ভাই"
(স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা ৬ খন্ড ২৪৯ পৃস্ঠা)
আবারও বলছি চেস্টা করুন অন্য জনকে অনুপ্রেরণা জোগান, এটা সম্ভব নয় বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না, চেস্টা করুন, আপনি কয়বার চেস্টা করেছেন ???

৫. উপযুক্ত সনাতনী শিক্ষার অভাব:-

 
বর্তমান দিনে উপযুক্ত সনাতনী শিক্ষার অভাব মানুষের অধঃপতনের একটি মুখ্য কারণ। মুসলিমরা যেমন মাদ্রাসাতে গিয়ে সঠিক ইসলামিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, স্কুল কলেজে গিয়ে ইসলামিক শিক্ষার উপর ডিগ্রী গ্রহণ করতে পারে, যার ফলে ওরা শুধু নিজের জাতি কে এগিয়ে নিয়ে যাবার উৎসাহ পাই। কিন্তু আমরা হিন্দুরা এই দিকে অনেক পিছিয়ে আছি। তাই আমরা আস্তে আস্তে লুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান সালের সাথে সাথে যত আমরা এগিয়ে যাচ্ছি তেমনি উপযুক্ত সনাতনী শিক্ষার অভাবে আমরা অন্ধকার রূপী কুসংস্কার, অনৈতিক, অধার্মিক, অমানবিক প্রবৃত্তির দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছি। ফলে সামাজিক একতা তো দূরে থাক নিজের মায়ের পেটের ভাই এমন কি নিজের জন্মদাতা বাবা মায়ের সঙ্গেও সঠিক সম্পর্ক রাখতে চাই না। ফলে সামাজিক ও পারিবারিক একতা দুটি শুন্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তাই আমি প্রতিটি হিন্দুদের বলছি- নিজ সন্তান সন্তানীদের শুধমাত্র পুঁথিগত বিদ্য না দিয়ে, উপযুক্ত সনাতনী শিক্ষায় শিক্ষিত করুন। অথ্যাৎ ভগবত গীতা বা বেদ এর জ্ঞানের সাথে পরিচয় করান, কারণ এই জ্ঞান তার ভবিষ্যৎ জীবন যাত্রার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদি সময়ের অভাব হয় তাহলে সারাদিনে একবার ভগবত গীতা বা বেদ এর একটি শ্লোক বা মন্ত্র পড়ান ও বুঝান।

এই একতা কেই ভিত্তি করে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত বহু জীবজন্তু এখনো বেঁচে রয়েছে, যদি তাদের এই একতা নস্ট হত তাহলে তাদের আর এই বর্তমান দিনে দেখা যেতোনা, এমন কি এই একতা নস্ট হবার জন্য অনেক জীবজন্তু লুপ্ত হয়ে গেছে। কারণ এদের উপর ডারউইনের যোগ্যতমের উদবর্তন (Survival of the fittest) ও প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural selection) নীতি প্রয়োগ হয়েছিল, আমরা মানুষ হলেও আমরা একটি জীব তাই এই নীতি আমাদেরও উপর প্রয়োগ হতে পারে, তাই "সাবধান"।

এখন এই বর্তমান দিনে যদি আমরা নিজেদের মধ্যে একতা গড়ে তুলতে না পারি, তবে ভবিষ্যতে আমাদের কাছে কেবল মাত্র ২টি রাস্তা খোলা থাকবে
১. কারো গোলামি করা.
২. লুপ্ত হয়ে যাওয়া.
Choice is yours?
লেখার মাধ্যমে যদি কোন ভূল হয় সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আপনার বন্ধুদের আমাদের ওয়েভসাইটে  #ইনভাইট করুন যাতে করে তারাও আপনার মত ধর্মীয় ঞ্জান অর্জনের সুযোগ পায়।

☀  হরে কৃষ্ণ  ☀

Collected:   আশীর্বাদ - Ashirbad
Share:

২৯ মে ২০১৮

কেন ক্লাবে বিয়ে নয়, আর কেনই বা মন্দির ভিত্তিক বিয়ে?

যে সমস্ত কারণে কমিউনিটি সেন্টার বা ক্লাবে বিয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্হান;-

1/ সকালে গরু কেটে যে পাত্রে রান্না হয় সেই পাত্র পরিষ্কার না করেই বিকেলে হিন্দু বিয়ের জন্য রান্না হয় ।

2/ সকালে গরুর রক্ত না শুকানোর পূর্বেই সেখানে নারায়ণ শিলা প্রতিষ্ঠিত করে বিয়ে করানো হয় ।

3/ একদিকে মাছ-মাংস খাওয়ার টেবিল সমূহ সাজানো হয়েছে, আরেকদিকে অগ্নি প্রজ্জলন করে অগ্নিকে সাক্ষী করে এবং সমগ্র দেবতাদের ডেকে এনে বিয়ের কাজ সমাধা করা হয় ।

4/ লগ্নের দিন বিয়ে করানোর কারণে ক্লাবের তুলনায় বিয়ের সংখ্যা বেশি থাকে এবং সেই কারণে বিশ হাজার টাকায় যে ক্লাব পাওয়া যায় তা এখন এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা দিতে হচ্ছে, এই টাকা তাদের হাতেই যাচ্ছে যারা আমাদেরকে ধ্বংস করছে ।

5/ একই মানুষকে সাত বার আমন্ত্রণ জানিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে যা অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া অন্য কিছু নয় ।

6/ ক্লাবের বিয়েতে খাওয়ার সময় বাইরের লোক চলে আসে, যা কন্যা পক্ষকে বহন করতে হয় ।

7/ আর্শীবাদ অনুষ্ঠান শুধু মাত্র পাঁচ থেকে দশজন বয়োজ্যেষ্ঠকে নিয়ে মঙ্গলাচরণ

সম্পন্ন করা যায় । সেখানে পাঁচশত লোককে ডেকে খাইয়ে অর্থ শ্রাদ্ধ করানো হচ্ছে, এই অনুষ্ঠানও অনেক সময় ক্লাবে হচ্ছে, যার ফলে একটি মধ্যবিত্ত কন্যাপক্ষকে অতিরিক্ত ছয় থেকে আট লক্ষ টাকা খরচ করতে হচ্ছে ।

8/ সমস্ত খরচ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কন্যা পক্ষের উপর ।

9/ পাত্রপক্ষ ইদানিং বৌভাত অনুষ্ঠান তুলে দিচ্ছে কারণ অর্থ নষ্ট হয়, কিন্তু কন্যাপক্ষের অর্থ নষ্ট করতে ক্ষতি নেই ।

এখন, আমাদের হিন্দু অভিভাবকরা টাকার অভাবে ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষিত করার সাধ্য নেই, কিন্তু মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে আপত্তি নেই। তাহলে আমরা আর কবে বুঝবো যে বিয়েটা সাত্ত্বিক ভাবে মন্দিরে করতে হবে এবং অপব্যয়টাও রোধ করতে হবে । ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করে সমাজকে শ্রেষ্ঠ করতে হবে । মন্দিরে বিয়ে করিয়ে পাত্র ও পাত্রী উভয় পক্ষ মিলে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান করলে আমাদের অপব্যয় কমবে, বিয়েটাও সাত্ত্বিক ভাবে হবে এবং মন্দিরগুলিও লাভবান হবে ।

যেমন এখন বর্তমানে ইসকনের ভক্তরা সেটা করছে।

দেখুন আমাদের সনাতন অবলম্বিদের ঘড়ে যখন একটা শিশুর জন্মের পর তার মুখে প্রথম ভাত দেওয়া হয় মন্দিরে ভগবানের বিগ্রহের সামনে।

কেন মন্দিরে ভগবানের বিগ্রহের সামনে প্রথম মুখে ভাত বা প্রসাদ দেওয়া হয়?

তার কারন শিশুটির যেন মঙ্গল হয় এবং শিশুটি যেন বড় হয়ে ভগবানের ভক্ত হয়।

আর ঠিক একই রখম বিয়েও হচ্ছে একটা মঙ্গল কাজ।

তাই আর নয় ক্লাবে বিয়ে

আসুন আমরা সবাই মিলে মন্দির ভিত্তিক বিয়ের প্রচলন করি। আর পৃথিবীর বহু দেশে যেমন ভারতে, নেপালে, পাকিস্তানে, জাপানে, মালয়েশিয়াতে, ইন্দোনেশিয়াতে এবং থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে হিন্দু বিয়েগুলি মন্দিরেই সম্পন্ন হচ্ছে । তাহলে বাংলাদেশে নয় কেন? আমরা কি তাদের চেয়ে একটু আলাদা, অবশ্যই নয় ।


আর তাই আমাদের সমাজের শিক্ষিত জ্ঞানি হিন্দুদের কাছে প্রশ্ন রইল,এই কথা গুলি একটু ভেবে দেখবেন ?

Collected
Share:

২৮ নভেম্বর ২০১৭

বৈদিক সনাতন ধর্মে(হিন্দু) বিবাহ-পর্ব ০১

বিবাহ ইংরেজি: Marriage, matrimony বা wedlock হল একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দু'জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। আরব জাতির ধর্মের চিন্তায় বিবাহ একটি চুক্তি মাত্র (contract), বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতিভেদে বিবাহের সংজ্ঞার তারতম্য থাকলেও সনাতন ধর্মে(হিন্দু)-বিবাহের আদর্শ বৈদিক যুগ হ’তে আজ পৰ্যন্ত ঠিক চলে আসছে স্মৃতির সংস্কারে, যার মূলনীতি আজও বদলায় নি।

বর্ণাশ্ৰমধৰ্ম আলোচনায় আমরা দেখতে পাই যে ব্ৰহ্মচৰ্য্য আশ্ৰমের পর গৃহস্থ আশ্রম, এই গৃহী-জীবন ছিল কয়েক বৎসর মাত্ৰ স্থায়ী, কারণ, বৈদিক জীবন প্রণালীতে “পঞ্চাশোৰ্দ্ধং বনং ব্ৰজেৎ”, এই নিয়ম অনুসারে গৃহী বাণপ্ৰস্থ অবলম্বন করতেন। মোক্ষ প্রাপ্তিই সনাতন ধর্মে(হিন্দু)-জীবনের আদর্শ, সেই জন্য ভোগবিলাস তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারত না। তিনি জানতেন যে কিছু দিন সংসার আশ্রম করার পর তাঁকে নিত্যবস্তুর সন্ধানে তপস্যায়-ব্রত হ’তে হবে, মনকে একাগ্র অভিমুখী করতে হবে। প্রথম জীবনের শিক্ষা তাঁর সহায় হয় সর্বত্র। তিনি জানেন যে, বিবাহিত-জীবনে মোহ আনায়, দুর্বলতা আনায়, এবং সে দুর্বলতা তাকে পরিহার করতে হবে বৃহৎ উদ্দেশ্যে। লক্ষ্য স্থির থাকায় বৃদ্ধ বয়সেও তাঁর চিত্তে অবসাদ আসত না-সহজে।

জগতে ভোগের যে কোন প্রয়োজনীযতা নেই তা-নয়, ভোগের স্বরূপ-বোধ থাকা চাই, ভোগ করতে জানা চাই। নতুবা, ভোগ অভিমুখী-শক্তি বহু বিভক্ত হ’য়ে পড়লে, সহজে কেন্দ্ৰ অভিমুখী হ’তে চায় না। মোক্ষ মানে বন্ধন হ’তে মুক্তি, তাতে চাই চিত্তের স্বাধীনতা, চিত্তবৃত্তিকে একাভিমুখী করা। নারী পুরুষের বর্তমান সমস্যা সমাধানে, উভয়কে ঐ আদর্শ্যের দিক দিয়ে বুঝতে হবে।- নারীর নারীত্ব বুঝতে হবে। নারীর অন্তর্মুখী বৃত্তি সমুদায়েব পূর্ণ বিবাশ যাতে হয় তা করতে গেলে নারীকেই এ-ভাব নিতে হবে।

কেন নারী বৈদিকে শাস্ত্রে গুরুত্ববহ-

জৈব বিবর্তনে সৰ্ব্বব্যাপী চৈতন্যের প্ৰকাশ ও ব্যক্ত অবস্থা। ঐ বিবর্তনের তিনটি রূপ- সৃষ্টি, স্থিতি ও ধ্বংস। ধংস মানে নতুন সৃষ্টি। প্রথম বিকাশ সৃষ্টির দ্যোতনা , স্থিতির লক্ষণ-শৃঙ্খলা-স্থাপন, ক্রমপ্রসার ও ক্রমোন্নতি, শৃঙ্খলার বিচ্যুতি, এলোমেলো গতি, মৃত্যুর চিহ্ন। জৈব বিবর্তন হয় বৈচিত্র্যে, নানাত্ব বোধ আসে এই বিশিষ্টতায় । এই ব্যক্ত প্রকৃতি। এই লক্ষণ আক্রান্ত বলেই নারী প্রকৃতিরূপা-শক্তিরূপা। একাভিমুখী গতিকে কেন্দ্রস্থ করতে পারলে, চিত্তবৃত্তি নিরোধের ফলে যে শক্তি উদ্বুদ্ধ হয়, তাতে অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়, শ্রদ্ধা জেগে উঠে, অন্তর্নিহিত শক্তির প্রকাশ হয়। শক্তিরূপিনী নারী-সমাজে যাতে আত্মবিস্মৃতি না আসে, আত্মশ্রদ্ধা সুপ্ত হয়ে না পড়ে, তার জন্য বেদপন্থী সমাজে নারীর ‘পতি-যোগ’ সাধনাই সর্ব্বোত্তম উপায় বলে শাস্ত্রে স্বীকৃত হয়েছে।

এই ‘যোগ’ মানে, সমষ্টি বোধ আনবার জন্য একাভিমুখী গতি, স্বামী স্ত্রী- একেরই যুগ্ম প্রকাশ, আপাত প্রতীয়মান ভেদ মাত্র! সমাজ যাতে আত্মবিস্মৃত না হয়, ধ্বংসের দিকে না যায়, কালের মত যাতে সমাজের অনাদি প্রবাহ বর্ত্তমান থাকে তার জন্য সমাজকে এগিয়ে যেতে হবে আদর্শ সামনে রেখে, সর্ব্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে এই সেই প্রকৃতিরূপারই ছায়া-বহুধা বিভিন্ন শাখা প্রকাশার মূলে বিরাজিতা সেই মহামায়া।

সমাজে আদর্শ রক্ষায়, যুবক-যুবতীদের সুশৃঙ্খল রাখতে, আদর্শ চরিত্র গঠনে, উচ্ছৃঙ্খলতা রক্ষায়, সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষা করে সকলেই যেন সংযত জীবন যাপনের মাধ্যমে শান্তি লাভ করে এবং জীবন কে ধন্য করতে পারে এই ছিল লক্ষ্য।

নারী কেন আবহমান কাল থেকে পুরুষের অধীন, এর বিবাদ নিষ্প্রয়োজন। পুরুষ ও নারী, উভয় নিয়েই সমাজ। সমাজ স্থাপনের মূলে নারী, কারণ নারী থেকেই সন্তান পালন ও সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ-চেষ্টা স্ত্রীপুরুষ উভয়েরই হৃদয়ে স্থিতিশীলতার আবশ্যকতা উপলব্ধ হয়, যার ফলে মানবমনে সূক্ষ্ম বৃত্তির অভিব্যক্তি হয়-স্নেহ গ্ৰীতি করুণা প্রভৃতি দিয়ে; তাতে উন্মেষ ঘটে স্বাৰ্থ-বিসর্জন-বুদ্ধি ও ত্যাগের। সুন্দর সমাজ গঠনে নারীর প্ৰয়োজনীয়তাই বেশী; ঐ সূক্ষ্ম মনোবৃত্তিকে কাৰ্য্যকর করার জন্য, শৃঙ্খলা আনার জন্য, নারীর বুদ্ধিবৃত্তির সাহায্য সমাজে অবশ্যম্ভাবী। অথচ গোড়া থেকেই সমাজ-বদ্ধ নারী, পুরুষের অধীন থাকতে বাধ্য হয়েছে! গৰ্ভধাবণ, প্রসবভোগ ও সন্তান পালন প্রভৃতি ব্যাপারে নারী, পুরুষের ও আত্মীয় স্বজনের সাহায্য নিতে বাধ্য হন-বাৎসল্যের জন্যই মহাশক্তি নম্রা!

বৈদিক যুগে, বিবাহের মন্ত্ৰ হ’তে গৃহী জীবনে নারীর স্থান কোথায় তার আভাষ আমরা পাই, বিবাহের সময় সপ্তপদী গমনের বৈদিক মন্ত্রগুলি থেকে। এক এক চরণক্ষেপে এক একটি মন্ত্র বধূকে বলতে হয়। প্রথমে বর বধূকে সামনে পা বাড়িয়ে নিজ গৃহপানে আসতে আহ্বান করেন। বর বলেন “বিষ্ণুরূপ আমি প্রিয়ে! গৃহের সমস্ত আহার্য্য সামগ্রী তােমার সেবার জন্যই নিয়োজিত থাকবে”, “আজ হ’তে তুমি গৃহ অধিষ্ঠাত্রী হবে-প্ৰথম চরণ চালন মম গৃহপানে কর দেবী।
ক্রমশঃ
লেখকঃ কৃষ্ণকমল মিন্টু

⚠ নতুন নতুন পোষ্ট পেতে সনাতন সন্দেশ - Sanatan Swandesh
পেজটিতে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন।
 (y) যে এখনো লাইক দেন নাই তাকে অতি শীঘ্রই পেইজটিতে একটি লাইক দেওয়ার জন্য বিনম্র ভাবে অনুরোধ করছি । এবং আপনার বন্ধুদের কে ইনভাইট করার জন্য অনুরোধ করছি।
Share:

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সাত প্রকার স্ত্রী কথা ও বুদ্ধের উপদেশে সুজাতার আমূল পরিবর্তন

সুজাতা ছিলেন ধনঞ্জয় শ্রেষ্ঠীর কন্যা। বিশাখার ছোট বোন সুজাতা ছোটকাল হতে অত্যন্ত মুখর দাম্ভিক ছিলেন। বিশাখার সহোদরা হলেও দু'বোনের মধ্যে স্বভাবের কোন মিল নেই। বড় বোন বিশাখা ধীরস্থির, বিদুষী, বিনীতা, শান্তশীলা ও বুদ্ধিমতি আর ছোটবোন সুজাতা ঠিক তার বিপরীত।
ধনঞ্জয় শ্রেষ্ঠী কন্যা সুজাতাকে অনাথপিণ্ডিক শ্রেষ্ঠীর বাড়ীতে বিবাহ কার্য্য সম্পন্ন করেন। সুজাতার পিতার অতুল ঐশ্বর্য্যের নিকট শ্বশুর অনাথপিণ্ডিকের সম্পত্তি কম হলেও উপেক্ষণীয় নয়। তবুও শ্বশুরকুলের বিত্ত সুজাতার মনকে সন্তোষ দিতে পারল না।

অনাথপিণ্ডিক জেতবন বিহার তৈরী করতে চুয়ান্ন কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করেন। তখন তিনি সেই সময় প্রতিদিন পাঁচশত ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান করতেন। কত কর্মচারী, দাস-দাসী রয়েছে! তবুও সুজাতার মন খুশী নয়। ধীরে ধীরে তার স্বভাব, আত্মগৌরব ও দাম্ভিকতা উন্মুখ হয়ে উঠল। পিতার সম্পত্তির গর্ব করে শ্বশুরকুলের প্রতি অমান্যতা, কর্কশ বাক্য আর উচ্চবাক্য প্রয়োগ করতে লাগল। সকলের শান্তি নষ্ট হল। শান্তিকামী সুখবিহারী অনাথপিণ্ডিক শ্রেষ্ঠীর সুখ ভেঙ্গে গেল। তাদের সুখের সংসারে অশান্তির সূচনা হল। অনাথপিণ্ডিক চিন্তিত হলেন। পুত্রবধুর কুৎসা প্রচার রটানো কি অনাথপিণ্ডিক শ্রেষ্ঠীর শোভা পায়? অগত্যা তিনি নীরবে থাকায় বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলেন।

একদিন অনাথপিণ্ডিক শ্রেষ্ঠী তথাগত বুদ্ধকে ঘরে আহারের নিমন্ত্রণ করেন। তথাগত যথাসময়ে এসে সুসজ্জিত আসনে উপবেশন করলেন। এমন সময়ে অন্তঃপুরে কলহের উচ্চ শব্দ শুনতে পেয়ে বুদ্ধ জিজ্ঞাসা করলেন। এতে শ্রেষ্ঠীর মুখ বিমর্ষ হইল। দুঃখের সাথে বললেন, ভগবান, আমার পুত্রবধু সুজাতাই যত অনর্থের মূল। ধনকুবের ধনঞ্জয় শ্রেষ্ঠীর কন্যা কিনা, তাই তার এত অহংকার বেশী! সে শ্বশুর-শ্বাশুরীকে মান্য করে না, স্বামীকে অমান্য করে, অবহেলা করে। এমনকি প্রভু! আপনাকেও সম্মান প্রদর্শনে সে আগ্রহী নয় মনে করি। অন্যজনের কথাই বা কি! তথাগত সুজাতাকে আহ্বান করলেন। সুজাতা এসে বুদ্ধকে বন্দনা করে বসে পড়ল।

 বুদ্ধ বললেন, সুজাতা! আমি এখন তোমাকে পুরুষের সাত প্রকার ভার্য্যা সম্বন্ধে বলব; (১) বধকাসমা ভার্য্যা, (২) চৌরিসমা ভার্য্যা, (৩) আর্য্যাসমা ভার্য্যা, (৪) মাতৃসমা ভার্য্যা, (৫) ভগ্নিসমা ভার্য্যা, (৬) সখীসমা ভার্য্যা ও (৭) দাসীসমা ভার্য্যা - এই সাত প্রকার ভার্য্যার মধ্যে তুমি কোন প্রকারের ভার্য্যা? সুজাতা তখন বিনীতভাবে বললেন, প্রভু! আপনি সংক্ষেপে যা বললেন তা আমি বুঝলাম না। অনুগ্রহ করে আমাকে ভালভাবে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিন আমি যাতে বুঝতে পারি। বুদ্ধ তখন বললেন, শোন সুজাতা ----

(১) যে স্ত্রী প্রদুষ্টাচিত্তা, কলহ স্বভাবা, স্বামীর অমঙ্গলকারিনী, পরপুরুষে আসক্তা, নিজের স্বামীকে অবজ্ঞাকারিনী, স্বামীর ধনসম্পদ অপব্যয়কারিনী, অর্থ না পেলে অনর্থকারিনী, স্বামীকে হত্যা করার ভয় দেখায়, এমনকি হত্যা করতেও উন্মুখ হয়, তেমন স্ত্রীকে বধকাসমা ভার্য্যা বলা হয়।

(২) যে স্ত্রী স্বামীর শিল্প-বাণিজ্য ও কৃষি কর্মের দ্বারা উৎপন্ন ধন-সম্পদ উপভোগ করে, তবুও স্বামীর সম্পদ চুরি করার ইচ্ছা করে এবং অল্প হলেও চুরি করে, যেমন- রান্নার সময় ধৌত করার জন্য যে চাউল নেয়া হয়, তা হতেও চুরি করে। আর অন্যকিছুর কথাই বা কি? সেই রকম স্ত্রীকে চৌরিসমা ভার্য্যা বলা হয়।

(৩) যে স্ত্রী নিষ্কর্মা আলস্যপরায়ণ, অধিক ভোজনকারিনী, আর্য্যের বস্তুর প্রতি অধিকার ও লোভ পরায়ণা, মুখরা, প্রচণ্ডা, দুর্ভাষিনী, বাক্যের উপর বাক্য প্রয়োগ করে, স্বামীকে অবজ্ঞা করে, জনমণ্ডলীকে পরাস্থ করার চেষ্টা করে, স্বামীর উৎসাহ উদ্যম অসহনশীলা। এই রকম স্ত্রীকে আর্য্যাসমা ভার্য্যা বলে।

(৪) স্বামীর সঞ্চিত ধন যে স্ত্রী রক্ষা করে, সর্বদা স্বামীর হিত কামনা করে ও উপকারিনী, মাতা পুত্রকে রক্ষার ন্যায় স্বামীকে রক্ষা করে, এই রকম স্ত্রীকে মাতৃসমা ভার্য্যা বলা হয়।

(৫) জ্যেষ্ঠ সহোদরের প্রতি কনিষ্ঠ ভগ্নির আদর ও সম্মান প্রদর্শনের ন্যায় যে স্ত্রী স্বামীকে প্রতি আদর সম্মান করে, স্বামীর প্রতি লজ্জাবনতা ও স্বামীর প্রতি অনুবর্ত্তনী হয়। এই রকম স্ত্রীকে ভগ্নিসমা ভার্য্যা বলে।

(৬) দীর্ঘদিন পরে সখার আগমনে সখীর আনন্দিত হবার মত স্বামী দর্শনে যে স্ত্রী আনন্দিত হয় এবং কুল মর্যাদা রক্ষাকারিনী, শীলবতী ও পতিব্রতা হয়। সে স্ত্রীকে সখীসমা ভার্য্যা বলা হয়।

(৭) যে স্ত্রী স্বামী শাসন-অনুশাসন এবং লাঠি হস্তে তর্জন-গর্জন করলেও যে স্ত্রীর চিত্ত দূষিত হয় না বা ক্রোধ হয় না, হিংসা উৎপন্ন হয় না বরং স্বামীর শাসন সহ্য করে এবং ক্রোধহীনা, শান্তশীলা ও স্বামীর আনুগত্য হয়। সে স্ত্রীকে দাসীসমা ভার্য্যা বলা হয়।

এই সাত প্রকার ভার্য্যা বিষয়ে বর্ণনা করার পর বুদ্ধ আরো বললেন “সুজাতা, যে সকল ভার্য্যা বধকা, চোরী ও আর্য্যাসমা হয়, মুখরা, প্রচণ্ডা, দুঃশীলা, লজ্জাহীনা হয় ও পরুষবাক্য প্রয়োগ করে, স্বামীকে অনাদর করে, অখাদ্য খাওয়ায়, স্বামী রোগগ্রস্থ হলে সেবা করে না, সেইসব স্ত্রী মৃত্যুর পর নরকে জন্ম নিয়ে দুঃসহ দুঃখ ভোগ করে। আর যেইসব স্ত্রী মাতৃসমা, ভগ্নিসমা, সখীসমা এবং দাসীসমা তারা মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গে উৎপন্ন হয়। সুজাতা, এই সপ্ত প্রকারের মধ্যে তুমি কোন প্রকারের ভার্য্যা? সুজাতা তখন বিনীত বাক্যে বললেন, প্রভু! অদ্য হতে আমাকে দাসীসমা ভার্য্যা বলে জানবেন। সুজাতা আবার বলে উঠল, প্রভু! আমি এতদিন অন্ধকারে আবৃত ছিলাম।

এখন আপনার দয়ায় আলোকের সন্ধান পেয়েছি। বাবার ঐশ্বর্য্যের অহঙ্কার আত্মভিমান এখন আমার ধ্বংস হয়েছে। আমার ভ্রান্তি নিরসন হয়েছে। ভগবান! মহান বৌদ্ধকুল পরিবারের কুলবধু হয়ে আমার বিচ্যুতির জন্য আমি এখন খুবই লজ্জিত, অনুতপ্ত। আপনার অমৃতবাণী আমার মনে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই বলে সুজাতা বুদ্ধের চরণ তলে ক্ষমা ভিক্ষা প্রার্থনা করলেন। আর শ্বশুর-শ্বাশুরীকে ও স্বামীর পায়ে পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।

সেই হতে সুজাতা ভদ্রা, বিনীতা, শান্তশীলা, প্রিয়ভাষিনী হলেন; মধুর মিষ্টি স্বরে সকলের প্রতি প্রাণে প্রীতি ও আনন্দ দান করতেন; ত্রিরত্নের উপাসিকা হয়ে দানে আত্মনিয়োগে রত থাকতেন, শীল সমাধিতে ও প্রজ্ঞায় অনুশীলনে তাঁর কুল মর্যাদার অক্ষুন্ন রাখতেন। অর্থাৎ সুজাতার বিভিন্ন গুণ বিদ্যমানে সবাই আনন্দমুখর হয়ে উঠল। সর্বজ্ঞ বুদ্ধের মহিমাময় প্রভাবেই সুজাতার এমন বর্ণনাতীত আমূল পরিবর্তন হল।

(c) Prithwish Ghosh
Share:

২৫ আগস্ট ২০১৭

"যজ্ঞো বৈ শ্রেষ্ঠতম কর্মম্”--- যজ্ঞই শ্রেষ্ঠ কর্ম

★(এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগলে আপনার একাধিক বন্ধুকে দয়া করে শেয়ার করুন)★

ব্রহ্মবিদরা বলে থাকেন দুটি বিদ্যা আয়ত্ত করতে হবে, 'পরা' এবং 'অপরা'। অপরা হল ঋগবেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ, শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ। আর পরা বিদ্যা হল তাই যার দ্বারা ব্রহ্মকে অধিকার করা যায়। ব্রহ্মবিদরা বলে থাকেন দুটি বিদ্যা আয়ত্ত করতে হবে, পরা এবং অপরা। অপরা হল ঋগবেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ, শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ। আর পরা বিদ্যা হল তাই যার দ্বারা ব্রহ্মকে অধিকার করা যায়।

বৈদিক সাহিত্যকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক ভাগে আছে ব্রহ্মবিদ্যা অর্থাৎ বিশ্বের মধ্যে যে অবিনাশী সত্তা প্রচ্ছন্নভাবে ক্রিয়াশীল তার সন্বন্ধে জ্ঞান সঞ্চয় করা। এই জ্ঞান লিপিবদ্ধ হয়েছিল বেদেরই অঙ্গীভূত এবং আশ্রিত এক শ্রেণীর রচনায়। তাদের আমরা উপনিষদ বলি। উপনিষদ অর্থে বুঝি বেদের প্রান্তে যা অবস্থিত। বেদান্ত অর্থেও তাই বুঝি। পরবর্তীকালের শঙ্করাচার্য প্রবর্তিত বেদান্তদর্শন এই উপনিষদ বা বেদান্তের রচনাকেই অবলম্বন করে রচিত হয়েছিল।

দ্বিতীয় ভাগে পড়ে আর সব কিছু। তাদের মধ্যে প্রথম আছে বেদের চারটি সংহিতা – ঋক্, সাম, যজু এবং অথর্ব। তারপর যেগুলি আছে সেগুলি সংখ্যায় ছ’টি এবং তাদের সাধারণ নাম বেদাঙ্গ। তারা হল শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ। তাদের কেন বেদাঙ্গ বলা হয় তা বুঝতে গেলে কিছু প্রাথমিক কথা বলার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

সনাতন বৈদিক ধর্মের প্রধান উৎস হল বিশ্বের মূল শক্তিকে শ্রদ্ধা, ভক্তি বা অর্ঘ্য নিবেদনের আকুতি। এই আকুতির প্রেরণা নানা রকম হতে পারে। বেদ অতি প্রাচীনকালে রচিত হয়েছে। সে যুগে মানুষ ভক্তের স্তরে উঠতে শেখেনি। সে যুগে দেবতার উপাসনার প্রেরণা ছিল ব্যবহারিক প্রয়োজন। বেদের যুগে উপাসনা রীতির একটি বৈশিষ্ট্য ছিল। ঠিক বলতে কি তা অনন্য-সাধারণ। এ ধরনের রীতি অন্য কোনও দেশে দেখা যায়নি। অবশ্য পারসিক সম্প্রদায় অগ্নির উপাসনা করত। তবে বৈদিক যজ্ঞরীতি ভিন্ন ধরনের।

প্রকৃতির বুকে সেকালের ঋষিগণ শক্তির বা সৌন্দর্যের উৎস আবিষ্কার করেছেন যেখানে, তার ওপরেই দেবত্ব আরোপ করে তার জন্য স্তোত্র রচনা করেছেন। এই স্তোত্রের নাম হল 'সূক্ত'। এইভাবে 'অগ্নি' দেবতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি শুধু দেবতা নন 'পুরোহিত'-ও বটেন; ফলস্বরূপ অগ্নিতেই অন্য দেবতার উদ্দেশে আহুতি দেওয়া হত। সূক্ত নিয়ে গঠিত বেদের এই মূল অংশকে বলা হয় সংহিতা। এখন শ্রদ্ধা নিবেদন বা প্রার্থনা জ্ঞাপন শুধু স্তোত্র পাঠেই হয় না। তার সঙ্গে কিছু আনুষঙ্গিক ক্রিয়া থাকে। বৈদিক যুগে সেই আনুষ্ঠানিক অংশ প্রধানতঃ রূপ নিত যজ্ঞানুষ্ঠানের। এই যজ্ঞের উপকরণ খুব সরল ছিল। একটি বেদী নির্মিত হত। তার উপর কাঠ দিয়ে আগুন জালানো হত। সেই সঙ্গে বৈদিক মন্ত্র পাঠ হত বা সুর সংযোগে গাওয়া হত। তার সঙ্গে ঘৃতের আহুতি দেওয়া হত। সোম নামে এক লতা সেকালে জন্মাত। তার রসও আহুতি হিসাবে দেবতাদের উদ্দেশ্য নিক্ষিপ্ত হত।

এখন বিভিন্ন ধরনের যজ্ঞ আছে। কোনোটিকে বলা হয় অগ্নিষ্টোম, কোনওটিকে জ্যোতিষ্টোম, কোনটিকে বিশ্বজিৎ। আবার কতদিন ধরে একটি যজ্ঞ স্থায়ী হত তার ভিত্তিতে বিভিন্ন নামকরণ হত। যেমন যে যজ্ঞ বারো দিনের বেশী স্থায়ী হত তাকে বলা হত 'সত্র'। এইসব বিষয় বিধি-নিষেধ নির্দেশ করবার জন্য ‘ব্রাহ্মণ’ শাস্ত্রের উৎপত্তি হয়। এই ব্রাহ্মণগুলিতে বিভিন্ন যজ্ঞ কি করে নিষ্পাদিত করতে হয় তার সবিস্তার বিবরণ আছে। যেমন ঋগ্বেদের অন্তর্ভূক্ত ঐতরেয় ব্রাহ্মণে রাজসূয় যজ্ঞের বিবরণ আছে। ব্রাহ্মণগুলি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

জৈমিণি বলেছেন মন্ত্রাতিরিক্ত বেদভাগের নামই ব্রাহ্মণ। (মীমাংসা সূত্র, ২।১।৩৩)। আরণ্যক ও উপনিষদ ব্রাহ্মণের অঙ্গ হলেও তাদের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য আছে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে মন্ত্র, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ এই সমগ্র বৈদিক সাহিত্যকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি কর্মকান্ড ও অপরটি জ্ঞানকান্ড।কর্মকান্ডে যজ্ঞ সম্পর্কিত বিষয়গুলি আছে। সুতরাং তার অন্তর্ভূক্ত হবে বেদের সংহিতা বা মন্ত্র অংশ এবং ব্রাহ্মণ অংশ; কারণ তাতে যজ্ঞের বিধি-নিষেধের আলোচনা আছে। জ্ঞানকান্ড হিসাবে উপনিষদেরই ভূমিকা প্রধান। যজ্ঞানুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন ভূমিকা থাকত।

যজ্ঞের সংজ্ঞা হিসাবে বলা হয়েছে ‘দেবতার উদ্দেশ্যে দ্রব্য ত্যাগ যজ্ঞ।’ অর্থাৎ যজ্ঞ করতে যে সমস্ত সামগ্রীর প্রয়োজন হতো, যেমন সমিধ বা কাঠ, আহুতির জন্য ঘৃত, সোমরস প্রভৃতি সরবরাহ করতে হত। যিনি দ্রব্য ত্যাগ করেন তিনি হলেন যজমান। অর্থাৎ তাঁরই কল্যাণ কামনায় যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হতো সুতরাং তাঁকেই এই দ্রব্যগুলি সরবরাহ করতে হত।

আর যাঁরা যজ্ঞের অনুষ্ঠান করতেন তাঁদের বলা হতো ঋত্বিক। এই ঋত্বিকদের মধ্যে আবার ভূমিকা বিভিন্ন ছিল। তার ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে শ্রেণী বিভাগ আছে। যেমন যিনি সূক্ত পাঠ করতেন তাঁর নাম হল হোতা। যিনি এই সূক্ত গান করে পাঠ করতেন তাঁর নাম হল উদ্গাতা। আর যিনি অগ্নিতে আহুতি দিতেন তাঁর নাম হল অধ্বর্যু। সুতরাং বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানে অনেকের ভূমিকা ছিল। আগুন জ্বেলে একটি ভাবগম্ভীর সমাবেশে তা অনেকের সাহচর্যে অনুষ্ঠিত হতো।

সাধারণত যজ্ঞ বলতে আমরা বুঝি একটি কুণ্ডে আগুন জ্বালিয়ে মন্ত্র পাঠ করে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য আহুতি দেয়া। বৈদিক ধর্মে এমনি নিত্য আচরিত একটি যজ্ঞ হচ্ছে হবন বা অগ্নিহোত্র। অনেক বস্তুবাদীই প্রশ্ন করতে পারেন অগ্নিহোত্র কি অর্থহীন আড়ম্বর নয়? মোটেও নয়, বরং এর মাঝে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের অন্যতম বিস্ময়।

আমাদের এ জগতে শক্তির মধ্যে তাপ শক্তি ও শব্দ শক্তি অন্যতম। যজ্ঞে এই দুই শক্তিরই সম্মেলনে আমরা অর্জন করতে পারি শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উপকারিতা। যজ্ঞে বিভিন্ন পদার্থের দহন ঐ বস্তুর অন্তর্নিহিত সঞ্চিত শক্তির উন্মোচন ও পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়ার একটি উৎকৃষ্ট প্রক্রিয়া। অন্যদিকে যজ্ঞে উচ্চারিত মন্ত্রের কম্পাঙ্ক শক্তি বহন করে এক আধ্যাত্মিক প্রেরণা।

যজ্ঞে সমিধ হিসেবে যেসব দ্রব্য ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে থাকে নানা সুগন্ধি পদার্থ, ওষধি বৃক্ষের কাঠ, পুষ্টিকর খাদ্য ইত্যাদি। আপনাদের মনে হতে পারে এসব দ্রব্য পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড, বিষাক্ত কার্বন মনো অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উৎপন্ন হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি বৈদিক কল্প ও ব্রাহ্মণ গ্রন্থের বিধি মোতাবেক সঠিক অনুপাতে জ্বালানী, দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেন এবং যজ্ঞকুণ্ড যদি শাস্ত্রীয় রীতি অনুসারে তৈরী করেন তবে কোনো বিষাক্ত গ্যাসই উৎপন্ন হবে না।

যে কার্বন ডাই অক্সাইড যজ্ঞকুণ্ডে উৎপন্ন হবে তা যজ্ঞকুণ্ডের প্রবল উত্তাপে বাষ্পের সঙ্গে ক্রিয়া করে ফরমালডিহাইড উৎপন্ন করবে যা যজ্ঞকুণ্ডের চারপাশের পরিবেশ সুগন্ধে পূর্ণ করে তুলবে। আর এই গ্যাস কেবল সুগন্ধিই নয়, বায়ুতে থাকা বিভিন্ন কীটাণু দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ যজ্ঞের মাধ্যমে আপনি পাবেন দুর্গন্ধ মুক্ত স্বাস্থ্যকর এক পরিবেশ।

আর যে অল্প পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে যাবে সেটি সালোকসংশ্লেষণ ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যাবে। যা একই সাথে বৃক্ষরাজির খাদ্য ও পরিবেশে মুক্ত অক্সিজেনের যোগান দেবে। তাই যজ্ঞ কেবল যজ্ঞকারীর নয়, বরং সমগ্র পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

অনেকে বলতে পারেন যজ্ঞে ব্যবহৃত কাঠের জন্য তো প্রচুর বৃক্ষ নিধন করতে হবে। আপনাদের জন্য বলছি বৈদিক ঋষিগণ কেবল মৃত বৃক্ষের কর্তনেরই নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই সাথে মনু আদি মহর্ষিরা ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন। তাই যজ্ঞের জন্য কোনো জীবিত বৃক্ষ কর্তনের প্রয়োজন নেই, বরং মৃত বা মৃতপ্রায় বৃক্ষের কাঠই যজ্ঞে সমিধারূপে ব্যবহৃত হবে।

বর্তমান পরিবেশ দূষণ ও রোগ মহামারীর যুগে যজ্ঞের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ড. হাফকিন বলেছেন, “ঘি এবং চিনি মিশ্রণ করে যজ্ঞে পোড়ালে যে ধোঁয়া উৎপন্ন হয় তা বিভিন্ন রোগজীবাণু ধ্বংস করে।” প্রফেসর টিলওয়ার্ড বলেন, “চিনি মিশ্রিত হবিষ্যের পরিবেশ শোধনের শক্তি রয়েছে। এটি যক্ষ্মা, মিলস, বসন্ত প্রভৃতি জীবাণুনাশক।”

গায়ত্রী পরিবার আয়োজিত গোরখপুরে অশ্বমেধ যজ্ঞ চলাকালীন সময়ে “উত্তর প্রদেশ দূষণ রক্ষা বোর্ড” এর ডিরেক্টর ড. মনোজ গর্গ একদল বিজ্ঞানী নিয়ে বেশকিছু পরীক্ষা চালান। এই পরীক্ষার ফল “অখণ্ড জ্যোতি” সাময়ীকির সেপ্টেম্বর ’৯৭ সংখ্যাতে প্রকাশ পায়।

যা যজ্ঞের ব্যাপক উপযোগিতা ফুটিয়ে তুলে। বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যজ্ঞ সম্পাদনের পূর্বে সে স্থানে বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩.৩৬ ও ১.১৬ ইউনিট এবং যজ্ঞ সম্পাদনের শেষে বিষাক্ত গ্যাস দুটির পরিমাণ কমে দাড়ায় যথাক্রমে ০.৮০ ও ১.০২ ইউনিট।

বিজ্ঞানীর দল যজ্ঞকুণ্ডের কিছু দূরে অবস্থিত জলাশয়ের জল পরীক্ষা করেও অভূতপূর্ব ফল লাভ করেন। তাঁরা দেখতে পান সংগৃহীত নমুনায় যজ্ঞের পূর্বে ব্যাকটেরিয়া ছিল ৪৫০০ এবং যজ্ঞের শেষে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কমে দাড়ায় ১২৫০।

যজ্ঞাবশিষ্ট যে ছাই বা বিভূতি ছিল তাতে মিনারেল পদার্থের পরিমাণ পরীক্ষা করে উত্তরপ্রদেশ কৃষির ডেপুটি ডিরেক্টর একে উত্তর মৃত্তিকা উর্বরকারক বলে মত দেন। ১৯৯৩-১৯৯৫ পর্যন্ত ২৭ টি যজ্ঞ ভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যার প্রত্যেকটিই বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে যজ্ঞের উপযোগিতা ব্যাপকহারে সমর্থন করে।

আপনারা অনেকেই ভূপাল ট্র্যাজেডির কথা শুনেছেন, যেখানে বিষাক্ত এমআইসি গ্যাস নির্গমনের ফলে শতশত মানুষ মারা যায় এবং সহস্র মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এই গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল মাইলের পর মাইল।

৪মে ১৯৮৫ এর দৈনিক “দ্যা হিন্দি” এর একটি প্রতিবেদন সকলকে বিস্ময়ে হতবাক করে দেয়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “দূষণ প্রতিরোধে বৈদিক উপায়।” যেখানে বলা হয় ওই গ্যাস প্ল্যান্টের খুব নিকটবর্তী সোহান লাল খুশওয়া এর পরিবারের কোনো সদস্যই ওই ঘটনার ফলে মৃত্যু তো দূরে থাক অসুস্থই হয় নি। কারণ কি? অগ্নিহোত্র। হ্যাঁ একমাত্র এই পরিবারটিই সেখানে নিয়মিত বৈদিক অগ্নিহোত্র যজ্ঞ করত। যার ফল স্বরূপ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পায় পরিবারটি। আর এই ঘটনা পরিবেশ দূষণ রোধে অগ্নিহোত্র যজ্ঞের কার্যকারিতা পুনরায় প্রতিপাদন করল। তাই তো বৈদিক ধর্ম ঘোষণা দিয়েছে “যজ্ঞো বৈ শ্রেষ্ঠতম কর্মম্”।

--------------------------------------------------------------------

বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় ---

'তারাপীঠ-কামাক্ষা সিদ্ধ TV-বাবা' মহাশয়দের ... তারাপীঠে বা নিজস্ব গৃহমন্দিরের হোমযজ্ঞ সম্পর্কে আমার কোনও জ্ঞান নেই।

এই আলোচনার সাথে কবচ্-মাদুলীর হোম-যজ্ঞ সম্পূর্ণ আলাদা।

-----------------------------------------------------------------------------

Courtesy by: Prithish Gosh

Share:

২৪ জুলাই ২০১৭

বই-এ পড়া, নিশির ডাক এর উৎপত্তি বাঙালী বিশ্বাস থেকে একটু ভিন্ন

বই-এ পড়া, নিশির ডাক এর উৎপত্তি বাঙালী বিশ্বাস থেকে একটু ভিন্ন। আদতে ব্যাপারগুলো সঠিক, তবে 'নিশি' কোন ভূত/প্রেত নয়। এইটি একটি উচ্চাটন বিধি যেইটা আন্দাজ অসম থেকে এসেছে। নিশির ডাক এর বিধি এইরকম: কোনো মুমূর্ষু ব্যক্তি, যার বাঁচার আশা নাই, তার পরিবারের লোকেরা অসম থেকে কাপালিকদের প্রেরণ করে আনেন। এইবার সেই কাপালিক বিধির দিন সন্ধ্যা কাটলে (এতে বোঝা যায় যে ব্যাপারটি ঘৃণ্য, ও অপদেবতাদের তুষ্ট করিয়ে করা, কারণ সন্ধ্যা পবিত্র সময়) কিছু মন্ত্র-পুজা করে, তারপর শহর /গ্রামের এক উচ্চস্থানে (পাহাড় জাতীয়) দাঁড়িয়ে মন্ত্রপূত ধুনো দিতে থাকে, সেই ধুনোর শক্তি নাকি সাংঘাতিক , এবং সেই ধোঁয়া পুরো গ্রামকে ঘুমে আচ্ছন্ন করে দেয়। কাপালিক এবার নিজের যা বিধি সেই করে একটি মাথাকাটা ডাবের জল অভিমন্ত্রিত করে মাঝরাত্রে বের হয়। তার সাথে পাড়ার যতলোক সবার নাম। প্রতিটি গৃহের সামনে গিয়ে সেই কাপালিক তিনবার গৃহস্বামীর নাম ধরে ডাকে, হাতে ডাব। যদি কোনো ভাগ্যহারা তিনবারের ভিতরে সাড়া দেয়, 'খপ' করে ডাবের মাথা বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই ডাবের জল মুমূর্ষু ব্যক্তিকে পান করালে সেই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে বেঁচে ওঠে এবং যিনি সাড়া দিয়েছিলেন তিনি দেহত্যাগ করেন। কিন্তু এইসব পিশাচসিদ্ধদের কারবার। বড় নোংরা, এবং ভগবান তাদের রসাতলেও স্থান দেন না। আরো শুনেছি, এই পিশাচসিদ্ধরা কখনোই সাধারণ মৃত্যু পায় না, অপঘাতে মরে।



কাপালিকদের সম্পর্কে ভারতীয় সমাজে যে সাধারণ ধারণাটি চালু রয়েছে, তার সারমর্ম এই—
• কাপালিকরা তান্ত্রিকদেরই একটা দলছুট সম্প্রদায়। তান্ত্রিকরা যদি ‘ডার্ক’ হয়ে থাকেন, কাপালিকরা আরও বেশি ছায়াচ্ছন্ন।

• কাপালিক মাত্রেই নরবলি দেন। শবসাধনা করেন।
• কাপালিকরা কালোজাদুর চর্চা করেন। তাঁরা অশুভশক্তির উপাসক।
• কাপালিকরা যে কোনও মানুষের যখন তখন ক্ষতি করতে তৎপর।
কিন্তু একথা স্বীকার করতেই হবে, বাস্তবে কোনও সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীই নিজেকে ‘কাপলিক’ বলে ঘোষণা করেন না। তান্ত্রিকরা তো ননই। পুরাণ অনুযায়ী, ত্রিজগতে একজনই ‘কাপালিক’। তিনি স্বয়ং শিব। ‘শিবপুরাণ’ থেকে জানা যায়, ব্রহ্মার সৃষ্টিতে মহাদেব মোটেই খুশি ছিলেন না। কিন্তু ব্রহ্মা তাঁর সৃষ্টি নিয়ে যথেষ্ট গর্ব পোষণ করতেন। এই গর্ব থেকেই চতুর্মুখ ব্রহ্মার শিরে আরও একটি মুণ্ড দেখা দেয়। শিব এই মুণ্ডটি কেটে ফেলেন। পরে ব্রহ্মা তাঁকে জানান, সব কিছু সৃষ্টি করলেও তিনি দুঃখ-দুর্দশা সৃষ্টি করেননি। জীবজগতের অজ্ঞতাই তাদের দুর্দশার জন্য দায়ী। শিব অনুতপ্ত হন। এবং তাঁর উপরে ব্রহ্মহত্যার পাপ এসে লাগে। প্রায়শ্চিত্তের জন্য তিনি ব্রহ্মকপালে ভিক্ষান্ন গ্রহণ করতে শুরু করেন। সেই থেকে তিনি ‘কাপালিক’ নামে পরিচিত হন।
আরও পড়ুন
শ্মশানভস্ম মাখেন, নগ্ন থাকেন, মৃতদেহ খান, তবু অঘোরীরা পূজিত হন কেন?
কাপালিক নামে ভারতে এক শৈব সম্প্রদায় বিদ্যমান। তাঁরা শিবকে আদর্শ বলে মনে করেন। কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন তাঁদের জীবনযাপনের একমাত্র পন্থা। তাঁরা গৃহত্যাগী, প্রান্তবাসী। অনেক সময়েই তাঁদের শ্মশানে বাস করতে দেখা যায়। এঁদের সাধনার একমাত্র লক্ষ্য আত্মোপলব্ধি।
এই অবসরে জেনে নেওয়া যেতে পারে কারা প্রকৃত কাপালিক।
• কাপালিকরা একধরণের তান্ত্রিক শৈব দর্শনে বিশ্বাসী।
• তাঁদের সামগ্রিক তত্ত্বধারণা ‘ভৈরবতন্ত্র’ নামের এক প্রাচীন গ্রন্থ থেকে গৃহিত।
• কাপালিকরা নরকরোটি বা নরকপাল সঙ্গে রাখেন। তাঁদের ভিক্ষাপাত্রটিও নরকপাল-নির্মিত।
• অঘোরীদের মতো তাঁরাও শ্মশানবাসী। তাঁরাও ভস্ম মাখেন। খাদ্যাখাদ্যভেদ করেন না।
• কাপালিকরা অনেক সময়েই বেদ-এর সিদ্ধান্ত মানেন না।
• তাঁরা আত্মোপলব্ধির জন্য শক্তি উপাসনা করেন। দেবীশক্তিকে তুষ্ট করে ক্ষমতালাভই তাঁদের সাধনপন্থা।
•  কাপালিকরা হঠযোগ অভ্যাস করেন। হঠযোগের মাধ্যমে শক্তি আহরণ করতে চান।
• সাম্প্রতিক গবেষণা থেক জানা যাচ্ছে, বৌদ্ধতান্ত্রিক যুগে কাপালিকদের সঙ্গে সিদ্ধাচার্যদের কিছু লেনা-দেনা হয়। এই আদান-প্রদান পরে কাপালিকতন্ত্রকে অন্য আকার দেয়।
কাপলিক সম্প্রদায় ভারতে আজও বর্তমান। তবে তাঁদের সঙ্গে কালো জাদু, অনিষ্টকর ক্রিয়া বা অভিচার ইত্যাদির কোনও সম্পর্ক নেই।
Share:

০৯ জুলাই ২০১৭

ভবিষ্যত কি?


চৈতন্যদেব থেকে শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ থেকে রবীন্দ্রনাথ --- মিল এক জায়গায়। প্রত্যেকেই তথাকথিত ধর্মসম্পর্কিত ভাবনা এবং ধারণাকে ভেঙেচুরে নতুন আলো দেখাতে চেয়েছেন। স্বাধীনতার এত বছর পরেও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের নাগরিক হিসেবে আমাদের বহুবিধ জটিল ও জরুরী প্রশ্নের একটি আমাদের ধর্মভাব নিয়ে। আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এই যে, ধর্ম মানুষকে যতখানি সম্পন্ন করে ততখানিই বিপন্নও করে।

অথচ ভারত এক স্বাধীন সার্বভৌম গণতন্ত্র। ভারত এমন এক রাষ্ট্র, যেখানে হিন্দু-মুসলমান-শিখ-খ্রিস্টান-পার্সী-বৌদ্ধ-জৈন সবাই সমান। হিন্দুরা চাইছেন বেশি করে হিন্দু হতে, মুসলমান চাইছেন বেশি করে মুসলমান হতে, খ্রিস্টান চাইছেন আরো অনেক মানুষকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করতে। এই চাওয়ার মধ্যে একটা শব্দ বারবার বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেই শব্দটি হল 'মানুষ'। একজন হিন্দু 'মানুষ', মুসলমান 'মানুষ' বা খ্রিস্টান 'মানুষ' হতে চাইলে অনেক সমস্যারই আশু সমাধান হয়।

পৃথিবীর প্রতি ধর্মের উদ্দেশ্য হয়তো সর্বজনীন কল্যাণ: ভ্রাতৃত্ব, বিশ্বমৈত্রী, শান্তি ইত্যাদি। ভালো করে নিজের ধর্মশিক্ষাটুকু অনুসরণ করলে এ সংঘাতের সমস্যা মিটে যায়।
পুজো, অর্চনা, প্রার্থনা। নিয়ম করে দিনে পাঁচবার পাঠ, উপাসনা। পোষাক থেকে শুরু করে বহুবিধ আয়োজন। নানা আচার অনুষ্ঠান। সেখানে সমর্পণের ভাবনাকে ছাপিয়ে ওঠে বাহ্যিক আড়ম্বর। মানুষের জীবনদেবতাকে নিয়ে যে ধর্ম, যে ধর্ম সেই সত্যকে নিয়ে, যা সমাজ এবং ব্যক্তিমানুষকে ‘ধারণ’ করে, সে ধর্ম কোথায়?

ঠিক এইখান থেকে আমার ধর্মজিজ্ঞাসার শুরু। বুদ্ধদেব, চৈতন্যদেব, যীশু -- সবার ভাষ্যে মিল এক জায়গায় -- 'মানুষ'-এর এক নতুন চৈতন্যলোক চাই। আবহমান কাল ধরে পৃথিবীর দাবি একটাই -- মানবতাবোধে বিশ্বাসী নতুন ‘বিশুদ্ধ’ মানুষ।

কিন্তু এই যে দিকে দিকে মানবতা বিরোধী ইসলামিক জঙ্গী আক্রমণ চলছে ISIS ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর নামে, এটা কি ধর্ম? মানবতাবোধে বিশ্বাসী নতুন ‘বিশুদ্ধ’ মানুষের কাজ? তথাকথিত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন, শিক্ষিত মানুষের প্রতিবাদ কই! ভারতবর্ষকে জঙ্গী আতুরঘর বানিয়ে ফেলেছে এরা! খাগড়াগড় এর প্রকৃষ্ট প্রমান। প্রশাসনের হাত পা বেঁধে ফেলেছে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা। থানায় পুলিশের উপর আক্রমণ এর উদাহরণ।

সত্যিই কি স্বাধীন দেশে মুক্ত ভাবে বাস করছি আমরা? আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিস্তির্ণ Border অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র-ড্রাগ-নকল টাকা-গরু পাচার চলছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মদতে ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর সক্রিয় সহযোগিতায়। পুলিশ দুস্কৃতিদের পাকড়াও করলে ঐ সম্প্রদায়ের মানুষ সংগঠিত ভাবে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় পুলিশের হাত থেকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের মদতে। মানবতা ধর্ষিত, রাজনীতি ভুলুণ্ঠিত, দলতন্ত্র নগ্ন শুধুমাত্র ভোটের স্বার্থে। হিন্দু আজ নিজভুমে পরবাসীর জীবন ধারণ করে। ভবিষ্যত কি?

Written by: Prithwish Ghosh
Share:

০৮ জুলাই ২০১৭

দিনাজপুরে হাজার বছরের সপ্তরথ মন্দির আবিষ্কার দুই মাস ধরে খনন চলছে

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় একটি সপ্তরথ হিন্দু মন্দির খুঁজে পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই খননে আবিষ্কৃত এই মন্দিরটির আনুমানিক বয়স প্রায় ১ হাজার বছর। খননকাজে নিয়োজিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ধারণা করছেন, বাংলাদেশে এটিই প্রথম আবিষ্কৃত সপ্তরথ মন্দির।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে স্থানীয়ভাবে বুড়ির থান/বুড়ি মাতারানীর মন্দির থান নামে পরিচিত এই ঢিবিটি পূর্ব-পশ্চিমে ৮০ মিটার আর উত্তর-দক্ষিণে ৬০ মিটার মাপের। খননদলের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ঢিবিটি পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের লিচু বাগানের মধ্যেও বিস্তৃত।

আবিষ্কৃত মন্দিরটি ঢিবির আকারের তুলনায় বেশ ছোট। এটি দুটি অংশে বিভক্ত। পশ্চিম দিকের অংশটি অভিক্ষেপ বিশিষ্ট শক্ত কাঠামোর (৬.২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও  ৬.২৫ মিটার প্রস্থ), মাঝখানে গর্ভগৃহ (২ মিটার দৈর্ঘ্য ও  ২ মিটার প্রস্থ)। পূর্বদিকে সংযুক্ত রয়েছে ৮ মিটার বর্গাকার একটি কক্ষ। এই কক্ষটিতে ছিল মন্দিরের মণ্ডপ।

পুরো মন্দিরটির আকার ও বৈশিষ্ট্য বুঝতে আরো সময় লাগবে বলে জানান খনন দলের পরিচালক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন। তিনি আরও জানান যে, রথ শব্দটি প্রাচীন মন্দির স্থাপত্য গঠন ও শৈলী প্রকাশকারী পরিভাষা। দেয়ালের বহির্গাত্রের উলম্ব অভিক্ষেপগুলোকে রথ বলা হয়। তিনি জানান, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, মন্দিরটি ভারতের বর্তমান উড়িশ্যায় উদ্ভুত কলিঙ্গ মন্দির স্থাপনা রীতির অনুসারী। মন্দিরটির রথবিশিষ্ট গর্ভগৃহের উপরিকাঠামো হিসেবে রেখা দেউল ধরনের শিখর ছিল বলে অনুমান করছেন ড. স্বাধীন সেন।

তিনি আরো জানান, গর্ভগৃহের কেন্দ্রে একটি সপ্তরথ অভিক্ষেপবিশিষ্ট পাথরের বেদি রয়েছে। এই বেদির পশ্চিমপাশের অর্ধবৃত্তাকার খাঁজের মধ্যে প্রতীমার নিম্নাংশ প্রবিষ্ট করে রাখা হতো। তবে খননের সময় এই জায়গাটিতে একটি ছোট মাটির তৈরি ঘট পাওয়া গেছে। এখনও বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায় প্রতীমার প্রতীকী প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে ঘট পূজা করে থাকেন। উড়িষ্যার মন্দির স্থাপত্যরীতির অনুরূপ ইট নির্মিত মন্দিরের উপস্থিতি বাংলা অঞ্চলে বিরল নয়। গত বছর কাহারোল উপজেলার মাধবগাঁওয়ে একই দল একটি নবরথ মন্দির খনন করেছিলেন।
অধ্যাপক স্বাধীন জানান যে, উপরের এই মন্দিরটি পূর্বেকার আরেকটি স্থাপনার ধ্বংসাবশেষের উপরে নির্মিত হয়েছে। ওই স্থাপনার অংশবিশেষ উন্মোচিত হওয়ায় তার প্রকৃতি ও পরিবর্তন এখনো স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয় নাই। ওই স্থাপনাগুলোর স্বরূপ উন্মোচন করতে আরো সময় প্রয়োজন।

খননদলের সহযোগী পরিচালক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান জানান, বিরল উপজেলার এই প্রত্নস্থানগুলো প্রথম শনাক্ত করেন ২০০৪-২০০৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের গবেষণা শিক্ষার্থী খন্দকার মেহবুবুল ইসলাম। তার গবেষণা ও পরবর্তী গবেষণায় এই উপজেলায় মোট ১২২ টি বিভিন্ন কালপর্বের প্রত্নস্থান চিহ্নিত করা হয়েছিল। খননকৃত প্রত্নস্থানটি পারুলগঙ্গা নামের একটি নদীর মৃত খাতের দুই পাশ ধরে রৈখিক বিন্যাসে ছড়িয়ে থাকা একটি মানববসতির অংশ ছিল। তিনি আরও জানান, এই অঞ্চলের নদীব্যবস্থার বদলের সঙ্গে এই বসতিগুলোর বিকাশ ও বিলুপ্তির ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।

খননের সহকারী পরিচালক ও পিএইচডি গবেষণা শিক্ষার্থী আবির বিন কায়সার শুভ বলেন, পুরো প্রত্নস্থানটি যথাযথভাবে খনন ও নথিভুক্তকরণ করতে আরও চার মাস সময় প্রয়োজন হবে। খননের স্তরবিন্যাস বুঝে এখানে মানুষের বসতির পরিবর্তন ব্যাখ্যা করার জন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন বলে তিনি বলেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বিরল উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে পরিচালিত এই খননে অর্থায়ন করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

এখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী, মহাস্থানগড় থেকে আসা ১৫ জন বিশেষজ্ঞ শ্রমিক ও কাহারোল থেকে আসা ২৫ জন শ্রমিক প্রত্নস্থানটি খননে অংশ নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম খননস্থলটি পরিদর্শন করে জানান, এটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআই
Share:

০৮ মে ২০১৭

কর্মের ফল যদি ভগবানকে নিবেদন করা না হয় সেটা নিষ্কাম কর্ম নয় নিঃস্বার্থপর নয়

Image may contain: 1 personআমি আমার জন্য করছি না। আমি নিঃস্বার্থপরভাবে জাতির সেবা করছি কিন্তু প্রভুপাদ বলছেন সেটা নিষ্কামকর্ম নয় সেটা নিঃস্বার্থপর নয়। ২ প্রকারের স্বার্থপরতা আছে। ১টা সংকুচিত স্বার্থপরতা আরেকটা প্রসারিত স্বার্থপরতা। আমি মনে মনে খুব খুশি আমি দেশের সেবা করছি নিঃস্বার্থভাবে কিন্তু তা নিঃস্বার্থপর নয়।এখানেও স্বার্থপরতা আছে। সংকুচিত স্বার্থপরতা।
বাড়িতে যদি কোন আত্মীয় স্বজন রসগোল্লা রাজভোগ নিয়ে এসেছেন তখন আমার ভাই আছে, বোন আছে, সবাই আছে কিন্তু আমি মনে করি আমি যেন বেশি খাই। ভাই বোনের সঙ্গে ঝগড়া করি আমরা। আমি বেশি খাব, এ সংকুচিত স্বার্থপরতা। আমি পাব আরকেউ পাবে না।
তারপর কি হবে? গ্রামে অনেক বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে তো কেউসাহায্য নিয়ে আসবে গ্রামে তখন চিন্তা হবে আমার বাড়ি যেন বেশি পায়। অন্য বাড়ি যেনকম পায়। একটু প্রসারিত হল আমার থেকে আমার বাড়ি।
বড় বন্যা এসেছে বহু গ্রাম ভেসে গিয়েছে। তখন আমার স্বার্থপরতা বাড়িতে সীমিত নয় আমার গ্রাম যেন বেশি পাবে। আমার গ্রামে রাস্তাঘাট হয়ে যাবে ইলেক্ট্রিসিটি হয়ে যাবে অন্য গ্রামগুলো ধুয়ে যাক। তারপর আরেকটু প্রসারিত হবে আমার দেশ যেন বেশি পাবে আমার জাতি যেন বেশি পাবে। এভাবে সঙ্কুচিত স্বার্থপরতা প্রসারিত হবে।
তাই আমরা মনে করছি নিষ্কামভাবে করছি। কিন্তু এটা নিষ্কামকর্ম নয়। নিঃস্বার্থপর নয়। আমি দেশের জন্যকরছি আমার দেশ, আমার জাতি।
খুব বেশি হলে আমরা কি চিন্তা করছি মানবিকতা। আমরা মানব সমাজের জন্য খাটব। আমি মানব সমাজের সেবার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছি। সেটাও নিঃস্বার্থপর নয়। আমি মানব সমাজের জন্য করছি কিন্তু পশুদের মুরে মুরে খাচ্ছি। আমি জীবের দয়ার কথা বলছি। ভগবান যে কোথায় আছি আমি তা পাত্তা দিতে চাই না। কিন্তু মনে মনে ভাবছি জীবের সেবা করলে ভগবানের সেবা হয়। কিন্তু এদিকে মুরগি মুরে মুরে খাচ্ছিমাছ কেটে খাচ্ছি। ওঁরা জীব না জড়? মুরগি, ছাগল, পাঁঠা। যখন আমরা বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরি তারপর কি করি আছার মেরে পিটাই তখন কি করে চটপট করে না? তারা কি আনন্দে লাফায়,নাচে- কষ্ট হয় না নেই? যদি আপনার ছেলেকে নিয়ে কেউ মাটিতে আছার মারে আপনি কি আনন্দে লাফাবেন? কষ্ট পাবেন না? কিন্তু আমরা বলছি জীবে দয়া আর এদিকে আর কি কি আছে এইগুলা গ্রহণ করছি। মনে করব না এইগুলো নিঃস্বার্থ কিছুই নয়। এইগুলোও স্বার্থপর। এসবে স্বার্থপরতা রয়েছে।
সে জন্য যেকোনো কর্মের ফল যদি ভগবানকে নিবেদন করা না হয় সেটা নিষ্কাম কর্ম নয় নিঃস্বার্থপর নয়।

Courtesy by:   প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর

Share:

২৩ এপ্রিল ২০১৭

এই পৃথিবী কি পূর্বে ভারতবর্ষ ছিল ??

No automatic alt text available.কখনো কি প্রশ্ন জাগে না যে, বিচিত্র রকমের স্থান বা দেশ কেন হল । কেনই বা প্রতিটি দেশ ইউরোপ আফ্রিকার মত প্রাচুর্যময় নয় । কোথাও সমৃদ্ধশালী কোথাও কোন প্রাচুর্যের ছোঁয়া নেই । এর পেছনে কিই বা কারণ থাকতে পারে । আরও একটা প্রশ্ন থাকতে পারে তা হল এসমস্ত বিচিত্র দেশের নামকরণ নিয়ে । 

তাই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বৈদিক শাস্ত্র থেকে এর সঠিক রহস্য গ্রুপের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল । বৈদিক শাস্ত্র মতে এক সময় সমগ্র পৃথিবীকেই ইলাবৃত বর্ষ বা ভারতবর্ষ নামে ডাকা হত । এই পৃথিবীর শাসনভারের দায়িত্ব ছিল ইতিহাস বিখ্যাত অনেক অনেক রাজাদের হাতে ।

এক সময় ধীরে ধীরে সেই ভারতবর্ষ ভেঙ্গে গড়ে সাতটি পৃথক মহাদেশ এবং বহু দেশ । মূলত, ককেশাস নামক স্থানকে বলা হয় শ্বেত মানবদের উৎপত্তি উৎস হিসেবে । বর্তমান বিশ্বের পশ্চিমা জগতের যেসব সাদা লোকদের দেখতে পাওয়া যায় তাদের উত্তরসূরীদের বসতি ছিল এই ককেশাস (coucasus) নামক স্থানে ।

জিউস, মোসলেম এবং খ্রিষ্টানদের মতে এ স্থানেই ছিল স্বর্গের উদ্যান এটি হল আব্রাহামের বসতভূমি । যেটিকে ইন্দো ইউরোপীয়ান ককেশিয়ানদের পিতৃভূমি হিসেবে মনে করা হয় । তৈত্তিরীয় (Aitareya) উপনিষদে এ বিষয়ে বলা হয়েছে । ব্রহ্মার পুত্র মরিচীর পুত্র ছিল কশ্যপ মুনি । ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে কশ্যপ মুনি ইন্দো-ইউরোপীয়ানদের পিতা হয়েছিলেন ।

এসমস্ত ইন্দো-ইউরোপীয়ানদের কিছু পৃথিবীর পশ্চিমে গেল আর কিছু গেল পূর্বে । কশ্যপ মুনি স্বয়ং ক্যাসপিয়ান সাগরের নিকটে ধ্যান মগ্ন হয়ছিল । যার বর্তমান নামকরণ অর্থাৎ ক্যাসপিয়ান সাগর ঐ কশ্যপ মুনির নামেই নামকরণকৃত । সূর্যদেব বিবস্বান ছিলেন কশ্যপ মুনির পুত্র যার স্ত্রী ছিলেন অদিতি । সূর্যদেবের অস্থিত্ব যে পশ্চিমা দেশেও ছিল তার প্রমাণ এখন পৃথিবীর অনেক স্থানে সূর্যদেবতাকে পূজার প্রচলন ।

কশ্যপ মুনি এবং দিতি থেকে সৃষ্ট দৈত্যরা তখন ইউরোপ জুড়ে বিস্তার লাভ করেছিল । বর্তমানের টাইটানস (Titans) এবং টিউটনস (Teutons) ডাচ এবং ডিউটস্চল্যান্ড (Deutschland) এ নামগুলো দেয়া হয়েছে ‘দৈত্য’ শব্দ থেকে । এ থেকে দৈত্যদের অবস্থান যে একসময় ছিল তার প্রমাণ মেলে । ব্রহ্মার আরেক পুত্র অত্রি থেকে সোম বা চন্দ্র হয় । চন্দ্রের পুত্র বুদ্ধের পুত্র ছিল পুরুরভ ।

এভাবে বংশানুক্রমে আয়ু নহুম এবং পরে যথাতির জন্ম হয় । যথাতির পাঁচ সন্তান ছিল । ‘যদু’ থেকে বেড়ে উঠে যদুবংশ যেখানে কৃষ্ণ বলরাম আবির্ভূত হয় এবং পুরু থেকে বেড়ে উঠে পুরুবংশ (যে বংশে কৌরব এবং পান্ডবরা জন্মেছিল) যারা হল ভীষ্ম, ধৃতরাষ্ট্র, অর্জুন, যুদিষ্টির, ভীম, দূর্যোধন এবং মহারাজ পরিক্ষিত জন্ম নেয় । পুরু তখন বর্তমান মিশর স্থানটি পেয়েছিলেন তার রাজ্যের শাসনভার হিসেবে । পুরুর পুত্র ছিল প্রভির এবং প্রভিরের পুত্র ছিল মানুষ্য (Manasyu) যাকে মেনেস নামে ডাকা হত । যিনি পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের মতে মিশরের প্রথম বংশের প্রতিষ্ঠাতা । পুরুর বংশ এভাবে ফারাও রাজা পর্যন্ত অতিবাহিত হয়েছিল ।

মিশরকে অজপতি নামে নামকরন করা হয় । এই অজ জাতের পুত্র ছিল অজপতি । অপরদিকে অজ ছিল ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের পিতামহ রামচন্দ্র আবির্ভূত হয়ছিল সূর্যবংশে, সূর্যদেবের আরেক নাম রবি । ‘র’ তখন মিশরে সূর্য বংশের একটি শাখার অন্তর্গত ছিলেন । সেখানকার রাজা হলেন রামেস । যেটি রাম-ইস ভগবান শ্রী রামচন্দ্র থেকেই নামকরণকৃত । পান্ডব পরিবারবর্গও একসময় মিশর এবং ইউরোপে এসেছিল যা এখন সাগরে নিমজ্জিত হয় । এভাবে পিরামিডের গায়ে বৈদিক সংস্কৃতির ছোঁয়া এখনও দেখতে পাওয়া যায় তার বিবরণ আমি পরবর্তী পোষ্টে দিব ।

পরবর্তীতে তারা বর্তমানের ইসরাইলে গমন করে । যেটিকে বিশ্লেষন করলে দাঁড়ায় ইশ্বরাভলয় (ভূমি) তার অর্থ ইশ্বরের বাসস্থান । সুতরাং ইসরাইল ও তখন বৈদিক সংস্কৃতির সুরে নামকরণকৃত হয়েছিল ।

যযাতির তিনজন পুত্র বর্তমান ভারতের বাইরে যে দুটি রাজ্য পেয়েছিল সেগুলো হল তুর্কি এবং তুর্বাসা । যবনরা পেয়েছিল তুর্কি এবং তুর্বাসা পেয়েছিল ফার্সিয়া ইত্যাদি । মহাভারত অনুসারে (আদিপর্ব ৮৫.৩৪) তুর্বাসা দুর্যোধনের হয়ে কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছিল ।

অপরদিকে অনু পেয়েছিল গ্রীক এবং ইতালী । পরশুরামের বংশদূতরাও একসময় মিশরের রাজা ছিলেন । পরশুরাম ও যদু বংশজাত যাদের কিছু ইউরোপ এবং এশিয়াতেও এসেছিল । এর পরবর্তীতে বৈদিক সংস্কৃতির প্রধান নীতি বর্ণাশ্রম ধর্ম বিভিন্ন কারনে হারিয়ে যায় । মহাভারত (আদিপর্ব ১৭৪.৩৮) অনুসারে ভীম এবং সহদেব পুলিন্দ (গ্রীকদের) জয় করেছিল কেননা তার ধর্ম পরিত্যাগ করেছিল এর বাইরেও বিভিন্ন দেশে বর্তমান ক্ষেত্রেও সংস্কৃতির ব্যবহারটাও অপরিসীম ।

বর্তমান ‘নরওয়ে’ দেশটির নাম সংস্কৃত শব্দ ‘নরক’ থেকে এসেছে । ‘সোভিয়াত’ এসেছে ‘শ্বেত’ থেকে । ‘রাশিয়া’ ‘ঋষি’ থেকে এসেছে, এভাবে সাইবেরিয়া শব্দটিও সংস্কৃত থেকে আগত । ‘স্ব্যান্দিনাভিয়া’ ‘স্কন্দ’ থেকে এসেছে । যিনি দেবতাদের প্রধান কমান্ডার হিসেবে ছিলেন ।

(Viking এবং king) শব্দ দুটি এসেছে সিংহ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে যে বৈদিক সংস্কৃতির বিদ্যমান ছিল তার প্রমাণ ইউরোপ জুড়ে আবিষ্কৃত কৃষ্ণ, শিব, সূর্যদেব সহ আরও বিভিন্ন মূর্তি । একসময় দেবতা এবং অসুরদের সঙ্গে প্রায় বার বার যুদ্ধ হয়েছিল । পরে ককেশাসের পূর্বদিক দেবতাদের এবং পশ্চিম দিক অসুরদের দেয় । কিছু অসুর সেখানে অবস্থান করেছিল ।

ময়দানব তখন অসুরদের রাজ ছিলেন । তার স্থায়ী বসতি ছিল আলাতল লোক (ভূমন্ডলের ১০,৮৮,০০০ কি.মি. দক্ষিনে) যেখানে ফ্লায়িং সসার নির্মিত হয় । ময়দানবের অনুসায়ী মগরা তাদের সেই বসতির স্থানকে ‘অমরক’ (Amaraka) নামে ডাকত । কেননা অসুরেরা প্রয়ই মনে করে মূত্যু তাদের কিছুই করতে পারবে না । তাই তারা তাদের মাতৃভূমিকে স্বর্গ মনে করত । আর এজন্যই এই নাম পরবর্তীতে আমেরিগো ভেসপুচ্চি (Amerigo vespucci) এটিকে বর্তমানে আমেরিকা নামে পুনস্থাপন করে ।

এভাবে বংশগত দিক বিবেচনা করলে আমরা সবাই শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের গোত্রের অন্তর্ভুক্ত । কেননা ব্রহ্মা উৎপত্তির উৎস তাই বলে । আর এ সমগ্র পৃথিবী যে একদম পুরোটাই ভারতবর্ষ ছিল তারও প্রমান খুব সহজেই পাওয়া যায় শাস্ত্র থেকে । উপরোক্ত গবেষণামূলক প্রতিবেদন থেকে অনেক গবেষকগণ স্বীকার করতে এখন আর দ্বিমত করে না ।

কার্টেসীঃ Susanta banda



(বিঃ দ্রঃ- এই প্রতিবেদনটি ছাপা হয় টাইম ম্যাগাজিন ও হিন্দু নিউসে……… তার বঙ্গানুবাদটি এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরা হল ।) http://www.gauranga.org/vedic.htm
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।