হরিরাম কীর্ত্তন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হরিরাম কীর্ত্তন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
০২ এপ্রিল ২০২০
নিত্যানন্দ প্রভুকে “দয়াল নিতাই” বলা হয় ।
নিত্যানন্দ প্রভুকে দয়ার সাগর বলা যায় । নবদ্বীপে হরিদাস ঠাকুর ও নিত্যানন্দ প্রভু হরিনাম বিতরণ করছেন । একদিনের কথা । মাতাল অবস্থায় জগাই মাধাই এর সামনা সামনি পড়লেন হরিদাস ঠাকুর ও নিত্যানন্দ প্রভু । জগাই মাধাই নিত্যানন্দ ও হরিদাস প্রভুকে দেখে মদের নেশায় গালাগালি আরম্ভ করে দিলো। এমনকি কলসির কানা দিয়ে নিতাইয়ের কপালে আঘাত করে রক্তপাত ঘটালো । কিন্তু নিত্যানন্দ প্রভুর সেদিকে কোনো নজর নেই। কপাল বেয়ে রক্তের ধারা বইছে। এই অবস্থায় হরিনাম করতে করতে নৃত্য করতে করতে বলছেন-
নেচে আয় , জগাই মাধাই ।
মেরেছ বেশ করেছ, হরি বলে নাচ ভাই ।।
নিত্যানন্দ প্রভুর আহত হওয়ার কথা কিছুক্ষণের মধ্যেই মহাপ্রভুর নিকটে পৌছালে তিঁনি ভক্তগণ সহ উপস্থিত হলেন। নিত্যানন্দ প্রভুর কপালে রক্ত দেখে মহাপ্রভু ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে জগাই মাধাইকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। নিমাইয়ের সেই রুদ্র রূপ ইতিপূর্বে ভক্তগণও দেখেন নি। উপস্থিত সকলে এই দৃশ্য দেখে চমকিত হল। প্রাণভয়ে ভীত জগাই মাধাই , মহাপ্রভুর চরণে পড়ে ক্ষমা চাইলেও মহাপ্রভু শান্ত হলেন না। এই সময় নিত্যানন্দ প্রভু স্থির থাকতে পারলেন না। জগাই মাধাইকে ক্ষমা করবার জন্য কাতর প্রার্থনা জানালেন। নিতাইয়ের প্রার্থনায় শান্ত হলেন মহাপ্রভু । ক্ষমা করলেন দুই ভ্রাতা জগাই মাধাইকে। এরপর জগাই মাধাইয়ের জীবনে অভূত পরিবর্তন দেখা গিয়েছিলো। তাঁরা ভক্ত হয়ে উঠলেন । নিত্যানন্দ প্রভুকে “দয়াল নিতাই” বলা হয় ।
ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব এই সঙ্গীতটি খুবুই আপ্লুত হয়ে গাইতেন । এই সঙ্গীত শ্রবণে ভাবস্থ হতেন । এ গানটি গৌর নিতাই কে নিয়ে।
ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব এই সঙ্গীতটি খুবুই আপ্লুত হয়ে গাইতেন । এই সঙ্গীত শ্রবণে ভাবস্থ হতেন । এ গানটি গৌর নিতাই কে নিয়ে।
তারা, তারা দুভাই এসেছে রে ।
যারা মার খেয়ে প্রেম যাচে ,
তারা, তারা দুভাই এসেছে রে ।
যারা আপনি কেঁদে জগৎ কাঁদায় ,
তারা, তারা দুভাই এসেছে রে ।।
যারা আপনি মেতে জগৎ মাতায়,
তারা, তারা দুভাই এসেছে রে ।।
যারা আচণ্ডালে কোল দেয়,
তারা, তারা দুভাই এসেছে রে ।।
যারা ব্রজের কানাই বলাই, যারা ব্রজের মাখনচোর
যারা জাতির বিচার নাহি করে,
যারা আপামরে কোল দেয়
যারা হরি হয়ে হরি বলে,
যারা জগাই মাধাই উদ্ধারিল
যারা আপন পর নাহি বাছে ।
জীব তরাতে গৌর নিতাই,
তারা, তারা দুভাই এসেছে রে ।।
২৩ আগস্ট ২০১৮
হরিনাম করলে কি ফল লাভ হয়?
একবার দেবর্ষি নারদ তাঁর আরাধ্য প্রভু নারায়ণকে জিজ্ঞাসা করলেন," হে প্রভু, হরিনাম করলে কি ফল হয়?"
জগতপালক শ্রী নারায়ণ তখন একটু হেসে নারদকে বললেন," হে নারদ, তুমি পৃথিবীতে গিয়ে যাকে সবার প্রথম দেখবে তাকে এই প্রশ্নটি করবে।তখন তুমি এর মহিমা বুঝতে পারবে। "
নারদ তখন মর্ত্যে গেলেন। মর্তে গিয়েই কিছুদুর যেতেই দেখতে পেলেন একটি গরু বিষ্ঠা ত্যাগ করেছে তার মধ্যে একটি কৃমি লাফাচ্ছে, নারদ সেই কৃমির কাছে জিজ্ঞাসা করলেন,"হে ক্ষুদ্র কৃমি, তুমি আমায় বলো যে হরিনাম করলে কি ফল লাভ হয়?"
তখন সঙ্গে সঙ্গে সেই কৃমিটি মারা গেল। নারদ ভাবল আমার কারনে হয়তো কৃমিটি মারা গেল। তিনি আবার বৈকুন্ঠে ফিরে গেলেন ফিরে গিয়ে সব জানালেন। নারায়ণ সব শুনে বললেন," হে ধর্মিক নারদ, এবার তুমি পূর্ব দিক বরাবর চলে যাও দেখবে একটা গরুর বাছুর হয়েছে তাকে এই প্রশ্নটি করো।"
নারদ তখন নারায়ণের কথা মত পূর্বদিকে গিয়ে দেখলেন সত্যিই সেখানে একটি গরুর বাছুর হয়েছে।নারদ তখন সেই সদ্যজাত বাছুরকে গিয়ে বললেন, "হে গোবৎস, হরিনাম করলে কি ফল হয়?"
বাছুরটিও তখন সাথে সাথে মারা গেল।
নারদ এবার ভয় পেয়ে গেলেন তিনি মনে করলেন আমি গোহত্যার অপরাধে অপরাধি হলাম। তিনি তাড়াতাড়ি করে বৈকুন্ঠে উপস্থিত হলেন আর নারায়ণকে সব খুলে বললেন।
শ্রীনারায়ন তখন বললেন," বৎস, তাহলে তুমি এবার দক্ষিন দিক বরাবর যাও দেখবে সেখানে রাজার একটি সন্তান হয়েছে তাকেও তুমি এই একই প্রশ্নটি করো।"
নারদ বললেন," প্রভু, এবার যে তবে আমি নর হত্যার অপরাধে অপরাধি হব!"
নারায়ন বললেন,"এবার তুমি তোমার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে।'
তখন নারদ গিয়ে রাজার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করল," হে রাজকুমার, তুমি কি জানো যে হরিনাম করলে কি ফল হয়?"
তখন ছেলেটি বলে উঠল," হে মুনিবর, আমি তো কোনদিন হরিনাম করিনি কিন্তু হরিনাম শুনে আমি কৃমি যোনি থেকে মুক্তি পেয়ে গোবৎস রুপে জন্ম গ্রহণ করলাম।গোবৎস রুপে যখন হরিনাম শুনলাম তখন মানব জনম পেলাম আর মানব হিসাবে এখন হরিনাম শুনে আমার জন্ম জন্মান্তরের মায়ার বন্ধন
ছিন্ন হয়েছে। এখন আমি মুক্তি লাভ করেছি।তাহলে আপনিই ভাবুন হরিনাম শুনে যদি আমি মুক্তি লাভ করতে পারি তবে অপরাধ শুন্য হয়ে হরিনাম করলে কি লাভ হতে পারে।"
নারদ বুঝতে পারলেন হরিনাম করলে কি ফল লাভ করা যায় তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তাই আসুন আমরা সবাই এই মধুমাখা হরিনাম জপ করি।
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।"

জয় শ্রী নারায়ন
---প্রীতিরাজ চক্রবর্ত্তী (তুষার)
★এডমিন
সনাতন কথামৃত
ব্রহ্মযোগ
সত্য সনাতন
ডেউয়াতলী লক্ষ্মী-নারায়ন অলকা মঞ্জুরী
সেবাশ্রম (DLNAMS)
ব্রাহ্মন কমিটি*এপার ও ওপার বাংলা*
★মোডারেট
সনাতনি ব্রহ্মবিদ্যা সাংসদ
জগতপালক শ্রী নারায়ণ তখন একটু হেসে নারদকে বললেন," হে নারদ, তুমি পৃথিবীতে গিয়ে যাকে সবার প্রথম দেখবে তাকে এই প্রশ্নটি করবে।তখন তুমি এর মহিমা বুঝতে পারবে। "
নারদ তখন মর্ত্যে গেলেন। মর্তে গিয়েই কিছুদুর যেতেই দেখতে পেলেন একটি গরু বিষ্ঠা ত্যাগ করেছে তার মধ্যে একটি কৃমি লাফাচ্ছে, নারদ সেই কৃমির কাছে জিজ্ঞাসা করলেন,"হে ক্ষুদ্র কৃমি, তুমি আমায় বলো যে হরিনাম করলে কি ফল লাভ হয়?"
তখন সঙ্গে সঙ্গে সেই কৃমিটি মারা গেল। নারদ ভাবল আমার কারনে হয়তো কৃমিটি মারা গেল। তিনি আবার বৈকুন্ঠে ফিরে গেলেন ফিরে গিয়ে সব জানালেন। নারায়ণ সব শুনে বললেন," হে ধর্মিক নারদ, এবার তুমি পূর্ব দিক বরাবর চলে যাও দেখবে একটা গরুর বাছুর হয়েছে তাকে এই প্রশ্নটি করো।"
নারদ তখন নারায়ণের কথা মত পূর্বদিকে গিয়ে দেখলেন সত্যিই সেখানে একটি গরুর বাছুর হয়েছে।নারদ তখন সেই সদ্যজাত বাছুরকে গিয়ে বললেন, "হে গোবৎস, হরিনাম করলে কি ফল হয়?"
বাছুরটিও তখন সাথে সাথে মারা গেল।
নারদ এবার ভয় পেয়ে গেলেন তিনি মনে করলেন আমি গোহত্যার অপরাধে অপরাধি হলাম। তিনি তাড়াতাড়ি করে বৈকুন্ঠে উপস্থিত হলেন আর নারায়ণকে সব খুলে বললেন।
শ্রীনারায়ন তখন বললেন," বৎস, তাহলে তুমি এবার দক্ষিন দিক বরাবর যাও দেখবে সেখানে রাজার একটি সন্তান হয়েছে তাকেও তুমি এই একই প্রশ্নটি করো।"
নারদ বললেন," প্রভু, এবার যে তবে আমি নর হত্যার অপরাধে অপরাধি হব!"
নারায়ন বললেন,"এবার তুমি তোমার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে।'
তখন নারদ গিয়ে রাজার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করল," হে রাজকুমার, তুমি কি জানো যে হরিনাম করলে কি ফল হয়?"
তখন ছেলেটি বলে উঠল," হে মুনিবর, আমি তো কোনদিন হরিনাম করিনি কিন্তু হরিনাম শুনে আমি কৃমি যোনি থেকে মুক্তি পেয়ে গোবৎস রুপে জন্ম গ্রহণ করলাম।গোবৎস রুপে যখন হরিনাম শুনলাম তখন মানব জনম পেলাম আর মানব হিসাবে এখন হরিনাম শুনে আমার জন্ম জন্মান্তরের মায়ার বন্ধন
ছিন্ন হয়েছে। এখন আমি মুক্তি লাভ করেছি।তাহলে আপনিই ভাবুন হরিনাম শুনে যদি আমি মুক্তি লাভ করতে পারি তবে অপরাধ শুন্য হয়ে হরিনাম করলে কি লাভ হতে পারে।"
নারদ বুঝতে পারলেন হরিনাম করলে কি ফল লাভ করা যায় তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তাই আসুন আমরা সবাই এই মধুমাখা হরিনাম জপ করি।
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।"


জয় শ্রী নারায়ন
---প্রীতিরাজ চক্রবর্ত্তী (তুষার)
★এডমিন
সনাতন কথামৃত
ব্রহ্মযোগ
সত্য সনাতন
ডেউয়াতলী লক্ষ্মী-নারায়ন অলকা মঞ্জুরীসেবাশ্রম (DLNAMS)
ব্রাহ্মন কমিটি*এপার ও ওপার বাংলা*★মোডারেট
সনাতনি ব্রহ্মবিদ্যা সাংসদ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
ভক্তিযোগই হচ্ছে ভগবানকে লাভ করার -সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা
সনাতন সন্দেশসোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০১৬ভক্তিবাদ, ভাগবত, শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, হরিরাম কীর্ত্তন
কোন মন্তব্য নেই
শ্রীমৎ ভগবদ্গীতায় চারটি যোগের কথা বলা হয়েছে ----১.কর্মযোগ
২. জ্ঞানযোগ
৩. ধ্যানযোগ
৪. ভক্তিযোগ।
-
কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ এবং ধ্যানযোগের মাধ্যমে ভগবানকে আংশিক ভাবে জানা যায়। কিন্ত ভগবদ্গীতায় ভগবান বলেছেন -- “ভক্ত্যা মামভিজানাতি” অথাৎ ভক্তির দ্বারাই ভগবানকে পূর্ণরূপে জানা যায়। তাই ভক্তিযোগই হচ্ছে ভগবানকে লাভ করার -সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা।
-
নীচে ভক্তির নয়টি পন্থা অনুশীলন করে ভগবানকে লাভ করেছেন তাঁদের দৃষ্টান্ত দেওয়া হল --
১. শ্রবণ --- মহারাজ পরীক্ষিত কেবল শ্রবণের মাধ্যমে ভগবদ্ধাম লাভ করেন। তিনি শ্রীল শুকদেবের নিকট থেকে কেবলমাত্র ৭ (সাত) দিন শ্রীকৃষ্ণ মহিমা শ্রবণ করেছিলেন।
২. কীর্তন --- শ্রীল শুকদেব গোস্বামী কীর্তনের মাধ্যমে ভগবানকে লাভ করেন। তাঁর পিতা মহান ঋষি ব্যাসদেবের নিকট থেকে লব্দ অপ্রাকৃত সংবাদ- ভগবৎ গুন অবিকৃতভাবে কীর্তনের মাধ্যমে।
৩. স্মরণ --- মহারাজ প্রহ্লাদ ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত দেবর্ষি নারদ মুনির উপদেশ অনুসারে সর্বদা ভগবানকে স্মরণের মাধ্যমে পরম গতি প্রাপ্ত হন।
৪. বন্দনা --- কেবল স্তবের দ্বারা ভগবানের বন্দনা করার মাধ্যমে অক্রুর পরমপদ প্রাপ্ত হন।
৫. অর্চন --- (পূজা)- মহারাজ পৃথু কেবল ভগবানের পূজা করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সিদ্ধি প্রাপ্ত হন।
৬. পাদসেবন (সেবা) --- সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, লক্ষীদেবী কেবল একস্থানে উপবেশন করে শ্রী নারায়ণের পাদসেবা করে সাফল্য লাভ করেন।
৭. দাস্য (আজ্ঞা পালন) --- শ্রীরামচন্দ্রের সেবক মহাভক্ত হনুমান কেবল ভগবানের আজ্ঞা পালনের মাধ্যমে পরম গতি লাভ করেন।
৮. সখ্য ( ভগবানের সঙ্গে সখ্যতা স্থাপন) --- মহাবীর অর্জুন ভগবানের সঙ্গে সখ্যতা করার মাধ্যমে পূর্ণ সিদ্ধি অর্জন করেন। অত্যন্ত প্রীত হয়ে ভগবান অর্জুন ও অর্জুনের ভবিষ্যৎ অনুগামী মানুষদের জন্য ভগবদ্গীতার অমৃতময় জ্ঞান উপদেশ করেন।
৯. আত্মনিবেদন --- মহারাজ বলি তাঁর যথা সর্বস্ব এমনকি নিজ দেহটিকে ও ভগবানকে নিবেদনের মাধ্যমে পূর্ণ সাফল্য প্রাপ্ত হন।
অম্বরীষ মহারাজ উপরোক্ত নয়টি ভক্তির পন্থাই অনুশীলন করতেন এবং এভাবেই তিনিও পরমপদ প্রাপ্ত হন।মূলতঃ সকলের হৃদয়ে ভগবানের প্রতি ভক্তি গুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু জড় জাগতিক সঙ্গের প্রভাবে তা জড় কলুষের দ্বারা আবৃত হয়ে রয়েছে। এই জড় কলুষ থেকে আমাদের হৃদয়কে নির্মল করতে হবে। তাহলে সুপ্ত কৃষ্ণ ভক্তি জাগ্রত হবে। সেটিই হচ্ছে ভক্তিযোগের পূর্ণ পন্থা। ভক্তিযোগ অনুশীলন করতে হলে সদ্গুরুর তত্তাবধানে কতগুলো বিধিনিষেধ পালন করতে হবে। যেমন - সূর্য উদয়ের পূর্বে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে আরতি করা, হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন করা। ফুল তুলে ভগবানের শ্রীচরণে নিবেদন করা, ভোগ রান্না করে তা ভগবানকে নিবেদন করা, ভক্ত সঙ্গ করা, নিরন্তর শুদ্ধ ভক্তের কাছ থেকে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবন করা, এই ভক্তিযোগ অনুশীলন করলে আমাদের হৃদয়ের কলুষতা দূরীভূত হয়। আমরা কৃষ্ণ ভক্তির স্তরে উন্নীত হতে পারি। তাই সদ্গুরুর তত্ত্বাবধানে বিধিবদ্ধ ভাবে ভক্তিযোগ অবলম্বন করলে অবশ্যই কৃষ্ণ ভক্তি লাভ করা যায়।
Written by : Prithwish Ghosh
০৮ জুলাই ২০১৫
হরেকৃষ্ণ মন্ত্র’ (Hare Krishna Mantra) নামে এই এ্যালবামটি সারা বিশ্বে রেকর্ড কপি বিক্রি
ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন একটি মিউজিক এ্যালবামের সিডির মোড়ক। ১৯৬৯ সালে বিশ্ববিখ্যাত অ্যাপেল স্টুডিও’র মাধ্যমে প্রকাশিত ‘হরেকৃষ্ণ মন্ত্র’ (Hare Krishna Mantra) নামে এই এ্যালবামটি সারা বিশ্বে প্রায় দুই লাখেরও বেশি কপি বিক্রি করে যা তৎকালীণ সময়ে একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছিল।
সেই সময় বিক্রির ক্ষেত্রে এই এ্যালবামটি চেকোস্লাভাকিয়ায় ৩ নম্বর, বৃটেনে ৯ নম্বর এবং আমেরিকা, জার্মানী, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুগোস্লাবিয়া এবং আরো অনেক দেশে এটি সেরা দশ র্যাকিং এর মধ্যে ছিল। জর্জ হ্যারিসনও ঘুনাক্ষরে ভাবতে পারেননি যে, তার গাওয়া এই অ্যালবামটি এতগুলো কপি সারা বিশ্বে বিক্রি হবে।
সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিউজিক ব্যান্ড দল হল আমেরিকার বিটলস। সেই বিটলস ব্যান্ডের একজন সদস্য হলেন জর্জ হ্যারিসন। জর্জ হ্যারিসনকে আমরা বাংলাদেশে বিশেষভাবে চিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার বিশেষ অবদানের জন্য। তার ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিখ্যাত কনসার্ট শোতে পাওয়া সম্পূর্ণ অর্থ তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সহায়তায় দান করেছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশের বন্ধু বলে সম্ভোধন করা হয়।
কিন্তু তাঁর এই বাংলাদেশ প্রীতির পেছনে মূল প্রেরণা হিসেবে ছিলেন একজন- শ্রীল প্রভুপাদ, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইস্কনের প্রতিষ্ঠাতা। শ্রীল প্রভুপাদের বিশেষ সান্নিধ্যে জর্জ, কৃষ্ণভাবনা এবং ভারতীয় দর্শনের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। এই অ্যালবামে জর্জ হ্যারিসনের সাথে শ্রীল প্রভুপাদের অনেক শিষ্যও সুর দিয়েছিলেন। কোন ভারতীয় সংস্কৃতির গাওয়া সুরের এতটা আলোড়ন সৃষ্টি ছিল বিশ্বে প্রথম।
(মাসিক চৈতন্য সন্দেশ, জুলাই’০৯ সংখ্যা, আর্কাইভস থেকে)
১৮ মার্চ ২০১৫
যুগধর্ম
যুগধর্ম হল যুগের ধর্ম। আমাদের চারটি যুগ রয়েছে যথাঃ- সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ, দ্বাপরযুগ ও কলিযুগ। বর্তমান সময় কলিযুগের অর্ন্তভুক্ত । প্রত্যেক যুগে ভগবানকে সন্তুষ্টি বিধানের জন্য আলাদা ভাবে ধর্মানুষ্ঠান করা হত। এ সম্ভন্ধে শ্রীমদ্ভাগবতের (১২/৩/৫২ শ্লোকে) শুকদেব গোস্বামী পরিক্ষিত মহারাজকে বলেন -
“ কৃতে যদ্ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং ঘজতো মখৈঃ।
দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ধরিকীর্তনাৎ ।। ”
অথাৎ, সত্যযুগে বিষ্ণুকে ধ্যান করে, ত্রেতাযুগে যজ্ঞের মাধ্যমে যজন করে এবং দ্বাপর যুগে অর্চন আদি করে যে ফল লাভ হত, কলিযুগে কেবলমাত্র “ হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র” কীর্তনে সেই সকল ফল লাভ হয়।
অথাৎ, সত্যযুগে যুগধর্ম ছিল ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করা। ধ্যানের মাধ্যমে ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানের প্রয়াস করা হত। বৈদিক শাস্ত্রমতে ধর্মের চারটি স্তম্ভ যথাঃ- সত্য, দয়া, তপ ও শৌচ।
সত্যযুুগে এই চারটি স্তম্ভই বর্তমান ছিল। তখন চারভাগ ধর্ম ছিল এবং মানুষের আয়ুষ্কাল ছিল ১ (এক) লক্ষ বছর। ভগবানকে সন্তুষ্টি করার জন্য হাজার হাজার বছর ধ্যান (তপস্যা) করা হত। ভগবানকে লাভ করা খুবই কষ্ঠসাধ্য ছিল।
ত্রেতাযুগে যুগধর্ম ছিল যজ্ঞের মাধ্যমে ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করা। বিভিন্ন রকমের উপাদান যজ্ঞের অগ্নিতে আহুতির মাধ্যমে ভগবানকে আহবান করা হত। যজ্ঞে বিভিন্ন প্রকার বৈদিক মন্ত্র উচ্চারিত হত। এই যুগে তিন ভাগ ধর্ম এবং এক ভাগ অধর্ম ছিল। মানুষের আয়ু ছিল ১০ (দশ) হাজার বছর।
দ্বাপর যুগে যুগধর্ম ছিল অর্চন। এ যুগে দুই ভাগ ধর্ম ও দুই ভাগ অধর্ম ছিল। মানুষের আয়ুস্কাল ছিল ১ (এক) হাজার বছর। মানুষ অর্চনের মাধ্যমে ভগবানকে সন্তুষ্ট করার জন্য চেষ্টা করত।
কলিযুগের যুগধর্ম হচ্ছে নাম সংকীর্তন করা। কলিযুগে তিন ভাগ অধর্ম এবং এক ভাগ ধর্ম। মানুষ অল্প আয়ূ, অল্প মেধা,কলহ প্রিয়, এবং অধার্মিক। কিন্তু কলি যুগে সবচেয়ে বড় আশীবাদ হল খুব অল্পতেই হরিনাম সংকীর্তন করার মাধ্যমে ভগবানকে লাভ করতে পারা যায়। চৈতন্যচরিত্রামৃতে বর্ণনা হয়েছে -
“ কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ অবতার।
নাম হৈতে হয় সর্বজগৎ নিস্তার ।।”
এই কলিযুগে ভগবানের দিব্যনাম “ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ” হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। কেবলমাত্র এই দিব্যনাম গ্রহন করার ফলে, যে কোন মানুষ সরাসরিভাবে ভগবানের সঙ্গ লাভ করতে পারেন। যিনি তা করেন তিনি অবশ্যই জড় জগত থেকে উদ্ধার লাভ করেন। এই নামের প্রভাবেই কেবল সমস্ত জগৎ নিস্তার পেতে পারে।
অন্যান্য যুগে অনেক বছর সাধনার ফলে যা লাভ হতো না, কলিযুগে শুধুমাত্র নিরন্তন হরিনামের মাধ্যমে তা অতি সহজেই লাভ হয়। কলিযুগে অধর্মের পরিমান বেশী থাকার ফলে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর উদারতার ফল স্বরূপ কলির পতিত জীব খুব স্বল্প প্রয়াসে ভগবানকে লাভ করছে। কলির প্রথম সন্ধ্যায় মহাপ্রভু কলির পাপাহত জীবদের মুক্তির বিধানের জন্য নবদ্বীপে আবির্ভূত হন এবং সর্বত্র হরিনাম দান করেন এবং তিনি ভবিষ্যৎ বানী করেন -
“ কৃতে যদ্ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং ঘজতো মখৈঃ।
দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ধরিকীর্তনাৎ ।। ”
অথাৎ, সত্যযুগে বিষ্ণুকে ধ্যান করে, ত্রেতাযুগে যজ্ঞের মাধ্যমে যজন করে এবং দ্বাপর যুগে অর্চন আদি করে যে ফল লাভ হত, কলিযুগে কেবলমাত্র “ হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র” কীর্তনে সেই সকল ফল লাভ হয়।
অথাৎ, সত্যযুগে যুগধর্ম ছিল ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করা। ধ্যানের মাধ্যমে ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানের প্রয়াস করা হত। বৈদিক শাস্ত্রমতে ধর্মের চারটি স্তম্ভ যথাঃ- সত্য, দয়া, তপ ও শৌচ।
সত্যযুুগে এই চারটি স্তম্ভই বর্তমান ছিল। তখন চারভাগ ধর্ম ছিল এবং মানুষের আয়ুষ্কাল ছিল ১ (এক) লক্ষ বছর। ভগবানকে সন্তুষ্টি করার জন্য হাজার হাজার বছর ধ্যান (তপস্যা) করা হত। ভগবানকে লাভ করা খুবই কষ্ঠসাধ্য ছিল।
ত্রেতাযুগে যুগধর্ম ছিল যজ্ঞের মাধ্যমে ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করা। বিভিন্ন রকমের উপাদান যজ্ঞের অগ্নিতে আহুতির মাধ্যমে ভগবানকে আহবান করা হত। যজ্ঞে বিভিন্ন প্রকার বৈদিক মন্ত্র উচ্চারিত হত। এই যুগে তিন ভাগ ধর্ম এবং এক ভাগ অধর্ম ছিল। মানুষের আয়ু ছিল ১০ (দশ) হাজার বছর।
দ্বাপর যুগে যুগধর্ম ছিল অর্চন। এ যুগে দুই ভাগ ধর্ম ও দুই ভাগ অধর্ম ছিল। মানুষের আয়ুস্কাল ছিল ১ (এক) হাজার বছর। মানুষ অর্চনের মাধ্যমে ভগবানকে সন্তুষ্ট করার জন্য চেষ্টা করত।
কলিযুগের যুগধর্ম হচ্ছে নাম সংকীর্তন করা। কলিযুগে তিন ভাগ অধর্ম এবং এক ভাগ ধর্ম। মানুষ অল্প আয়ূ, অল্প মেধা,কলহ প্রিয়, এবং অধার্মিক। কিন্তু কলি যুগে সবচেয়ে বড় আশীবাদ হল খুব অল্পতেই হরিনাম সংকীর্তন করার মাধ্যমে ভগবানকে লাভ করতে পারা যায়। চৈতন্যচরিত্রামৃতে বর্ণনা হয়েছে -
“ কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ অবতার।
নাম হৈতে হয় সর্বজগৎ নিস্তার ।।”
এই কলিযুগে ভগবানের দিব্যনাম “ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ” হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। কেবলমাত্র এই দিব্যনাম গ্রহন করার ফলে, যে কোন মানুষ সরাসরিভাবে ভগবানের সঙ্গ লাভ করতে পারেন। যিনি তা করেন তিনি অবশ্যই জড় জগত থেকে উদ্ধার লাভ করেন। এই নামের প্রভাবেই কেবল সমস্ত জগৎ নিস্তার পেতে পারে।
অন্যান্য যুগে অনেক বছর সাধনার ফলে যা লাভ হতো না, কলিযুগে শুধুমাত্র নিরন্তন হরিনামের মাধ্যমে তা অতি সহজেই লাভ হয়। কলিযুগে অধর্মের পরিমান বেশী থাকার ফলে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর উদারতার ফল স্বরূপ কলির পতিত জীব খুব স্বল্প প্রয়াসে ভগবানকে লাভ করছে। কলির প্রথম সন্ধ্যায় মহাপ্রভু কলির পাপাহত জীবদের মুক্তির বিধানের জন্য নবদ্বীপে আবির্ভূত হন এবং সর্বত্র হরিনাম দান করেন এবং তিনি ভবিষ্যৎ বানী করেন -
“ পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম
সর্বত্র প্রচার হইবে মোর এই নাম।”
সর্বত্র প্রচার হইবে মোর এই নাম।”
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর
সংগৃহীত
সংগৃহীত














