সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

জ্যোতিষ বিদ্যাকে বেদের চক্ষুও বলা হয়

জ্যোতিষ হলো সেই বিদ্যা, যার দ্বারা আকাশে অবস্থিত গ্রহ স্থিতির দ্বারা অতীত, ভবিষৎ এবং বর্তমান সম্বন্ধে আমরা জানতে পারি। জ্যোতিষ শাস্ত্রের অপর নাম জ্যোতিঃ শাস্ত্র। জ্যোতি শাস্ত্রের অর্থ হলো যে শাস্ত্র জীবনে আলো দেয়, প্রকাশ দেয় অর্থাৎ জ্যোতি দেয়।
.
জ্যোতিষের উৎপত্তি কবে হয়েছে এ সম্বন্ধে নিশ্চিত রূপে কিছু বলা না গেলে ও, বিশ্বের প্রাচীন গ্রন্থ বেদে জ্যোতিষের উল্লেখ আছে। জ্যোতিষ বেদেরই অংগ। বেদের ছয়টি অঙ্গ ----১) শিক্ষা ,২) কল্প, ৩) ব্যাকারণ, ৪) নিরুক্ত, ৫) ছন্দ ও ৬) জ্যোতিষ। জ্যোতিষ বিদ্যাকে বেদের চক্ষুও বলা হয়।
জ্যোতিষের উপযোগিতা বলতে গেলে এই বিশ্বসংসারের প্রতিটা মানুষ বা প্রানী গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাবের অধীন। তাদের জন্ম কোষ্ঠী অনুযায়ী প্রতিটা মানুষ পৃথক প্রকৃতির, কেউ সুন্দর কেউ অসুন্দর, কেউ মন্দ বুদ্ধি কেউ অল্প বুদ্ধ্ি, প্রত্যেকের কোষ্ঠির গ্রহ সম্নবয় অনুযায়ী তার জীবনে সুখ দুঃখের উদয় হয়। যেরূপ ঔষধি সেবন করে রোগ দূর করা যায় বা কম করা যায় সেইরূপ মানুষের জ্যোতিষিও বিশ্লেশন দ্বারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে মানুশ সুস্থ সুখী জীবন লাভ করতে পারে। কেবল মাত্র অদৃষ্টের উপর বসে না থেকে এবিদ্যা ভাগ্য ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। দৈনিক জীবনে জ্যোতিষের প্রয়োজনীয়তা অসাধারন। বিবাহ, সন্তান, ব্যবসা, চাকরী, যাত্রা, ভবন নির্মান ইত্যাদি প্রতিটা মহত্ত্বপুর্ণ জ্যোতিষ শাস্ত্রের মার্গদর্শন মানুষের জীবনে সহায়ক হয়।
জ্যোতিষের মুখ্যত দুইটি ধারা --- ১) গণিত জ্যোতিষ (Astronomy) ২) ফলিত জ্যোতিষ(Astrology)।তাই যে বিদ্যার দ্বারা মহাকাশ, নক্ষত্র ও গ্রহদের গতি অবস্থান ও চরিত্র জানা যায় সেই বিদ্যাকে গণিত জ্যোতিষ বলা হয়, আর যে বিদ্যার দ্বারা গ্রহদের অবস্থান সাপেক্ষে মানুষের জীবনে সুখ-দু:খের অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ এর অনুমান করা হয় সেই বিদ্যাকে ফলিত জ্যোতিষ বলা হয়।
আমাদের আকাশ অনন্ত কোটি নক্ষত্র দ্বারা গঠিত। কিছু কিছু নক্ষত্র সূর্যের থেকেও কয়েক গুন বড়। যারা আমাদের থেকে এত দূরে অবস্থিত যে তাদের আলো আমাদের পৃথিবীতে পৌছাতে কয়েক বছর লেগে যায়। যদিও আলোর গতিবেগ ১,৮৬,০০০ মাইল প্রতি সেকেন্ড।
অন্য তারা গুলোর মাঝেই একটি মন্ডল আছে যা সৌর মন্ডল নামে খ্যাত। যার মাঝে সুর্য আছে এবং তার চারি দিকে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ যেমন বুধ, শুক্র, বৃহ:স্পতি ইত্যাদি ঘুর্ণায়মান। এই সব গ্রহ গুলি সুর্যের শক্তিতেই তার চারিদিকে ঘুর্ণয়মান, সুর্যের পরিমন্ডলের বাইরে এরা যেতে পারবে না। সেই জন্য এই পরিমন্ডল কে সুর্য মন্ডল বা সৌর মন্ডল বলা হয়। আমাদের সম্পুর্ন ফলিত জ্যোতিষ এই সৌরমন্ডলের উপর আধারিত।

Written by :  Prithwish Ghosh
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger